«

»

নভে. ০৭

“আর যারা কূফরী করেছে এবং আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলেছে তারাই দোজখী”।

(ডঃ ইসরার আহমদ সাহেবের ‘বয়ানুল ক্বোরআন’ এর ডিভিডি এর ধারা বাহিক বংলা অনুবাদ)
============================================================================

আল মায়ীদা রুকু;-১১ আয়াত;-৭৮-৮৬ কোরানের কথা-১০৩

হজরত দাউদ আঃ এর মুখজবানীতে আল্লাহ তালা পথ ভ্রষ্টদের অনেক তিরষ্কার করে ছিলেন, যা ওল্ড টেষ্টামেন্টে পাওয়া যায়। আবার হজরত ইশা আঃ এর দ্বারা ভ্রষ্ট ও ভ্রষ্টকারী ইহুদী আলেম গনকেও তিরষ্কার করিয়েছেন যার আলামত নিউ টেষ্টামেন্টে পাওয়া যায়;-

৭৮/لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُواْ يَعْتَدُونَ
অর্থাৎ;-বনী ইস্রাইলের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল, দাউদ আঃ ও ইশা ইবনে মরিয়ম আঃ এর কথায় তাদের লানত করা হয়েছিল। এটা এ কারণে যে, তারা না ফরমানী করেছিল ও সীমা লঙ্ঘন করেছিল।
৭৯/كَانُواْ لاَ يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُواْ يَفْعَلُونَ
অর্থাৎ;-তারা যা অন্যায় কাজ করত, তা থেকে তারা পরষ্পরকে বারণ করত না। কতই না নিকৃষ্ট ছিল তারা যা করত।

দ্বীনের শিক্ষাই হচ্ছে নিজে সৎকর্ম কর, অসৎ কর্ম হতে বিরত থাক ও অপরকেও সেই মত করতে বল। অন্যত্র বলা হয়েছে, তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে অন্যকে ভাল কাজের নির্দেশ ও মন্দ হতে বিরত রাখার জন্য। পোপ, বিশপ ও পাদ্রী গন সঠিক বিষয় গুলি জেনেও অন্যদের বলেন না বরং তাদের অন্ধকারেই রেখেছেন, ঠিক তেমনই কিছু আওলীয়া দরবেশ, পীর ও আলেম গনও নিজেদের পদ মর্যাদা, শান শওকত বজায় রাখতে অনেক গর্হীত কাজকে বাধা দেন না।

৮০/تَرَى كَثِيرًا مِّنْهُمْ يَتَوَلَّوْنَ الَّذِينَ كَفَرُواْ لَبِئْسَ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ أَنفُسُهُمْ أَن سَخِطَ اللّهُ عَلَيْهِمْ وَفِي الْعَذَابِ هُمْ خَالِدُونَ

অর্থাৎ;-আপনি তাদের অনেক কে কাফেরদের অভিভাবকত্বে দেখবেন। কতই না মন্দ কাজ যা তারা নিজেদের জন্য অগ্রবর্তী করেছে।যে কারণে আল্লাহ তাদের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন, আর তারা চিরকাল আজাবের মধ্যে থাকবে।

যাদের সাথে আন্তরীক বন্ধুত্ব বা অভিভাবক হিসাবে মানতে নিষেধ করা হয়েছে, তাদের সাথে সেই কাজ করা মানেই আল্লাহর বিরধিতা করা। এবং এটাই না ফরমানী। তাদের জন্য আজাব নির্ধারত হয়েই থাকবে।

৮১/وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِالله والنَّبِيِّ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاء وَلَـكِنَّ كَثِيرًا مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ
অর্থাৎ;-যদি তারা আল্লাহর প্রতি, তার রসুলের প্রতি ও তার প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তার প্রতি ইমান আনত, তবে তারা কাফেরদেরকে অভিভাবক হিসাবে গ্রহন করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই ফাসেক।
যারা প্রকৃত ইমানদার, তারা একমাত্র আল্লাহর উপরই আস্থা রাখে। আল্লাহকেই প্রকৃত বন্ধু মনে করে। আর যারা এমন না করে অন্য কিছু করে, তাদের মুমিন হওয়ার দাবী বৃথা। বিশ্ব মুসলীম দের উচিৎ এই আয়নায় নিজেদের ছবি গুলো যাচাই করে নেওয়া।

৮২/لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُواْ الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُواْ وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُمْ مَّوَدَّةً لِّلَّذِينَ آمَنُواْ الَّذِينَ قَالُوَاْ إِنَّا نَصَارَى ذَلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لاَ يَسْتَكْبِرُونَ
অর্থাৎ;-আপনি সকল মানুষের মধ্যে মুমিনদের প্রতি অধিক শত্রুতা পোষণ কারী পাবেন ইহুদী ও মুশরীকদের। আর মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বে মুমিনদের অধিক নিকটবর্তী পাবেন তাদের যারা বলে আমরা ‘নাসারা’। কারণ তাদের মধ্যে রয়েছে অনেক আলেম ও দরবেশ, আর তারা অহংকার করেনা।
আল্লাহ বলেন, শত্রুতার দিক দিয়ে মুসলমানদের অধিক শত্রু হল, ইয়াহুদ আর মুশরীক বা হুনুদ।(হিন্দু)। ইহুদী আর মুশরীক গনই ছিল তৎকালে মুসলীমদের প্রধান শত্রু।বর্তমানে বিশ্বাসের দিক দিয়ে হিন্দুরাও যোগ দিয়েছে। আবার বন্ধু হিসাবে নাসারা বা খ্রীষ্টানদের বেশ কাছের বলা হয়েছে।কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, তাদের মধ্যে অনেক আলেম ও আওলীয়াও রয়েছে। সুরা বাক্বারার ১০৫ নং আয়াতে এমন কথারই ইঙ্গীত রয়েছে। মদীনায় মোনাফেকরা সকলেই ছিল ইহুদী সম্প্রদায়ের। ইহুদী আলেম গনই ষড়যন্ত্র করে হজরত ইশা আঃ কে ফাঁসিয়ে ছিল।

আমরা জানি নাজ্জাসী খ্রীষ্টান ছিলেন। তিনি মোহাজীর মুসলীমদের তাঁর দেশে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছিলেন। নজরাণের দুই ভাই খ্রীষ্টান, ৭০ জন সঙ্গী সহ মদীনায় রসুল সঃ এর দরবারে ইসলামের ব্যাপারে জানতে এসেছিলেন। বেশ কিছুদিন থেকে গিয়ে ছিলেন। কিন্তু কোন অন্যায় আচরণ করেননি। কিশোর মোহাম্মদ সঃ কে যিনি নবী বলে ভবিষ্যত বাণী দিয়েছিলেন ও শত্রুর আক্রমন থেকে সতর্ক করে ছিলেন, সেই পাদ্রী বুহাইরাও খ্রীষ্টান ছিলেন।

৮৩/وَإِذَا سَمِعُواْ مَا أُنزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَى أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُواْ مِنَ الْحَقِّ يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
অর্থাৎ;-আর তারা যখন শোনে, রসুলের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তা, তখন আপনি তাদের চোখ অশ্রু বিগলিত দেখতে পাবেন। কারণ তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে। তারা বলে, হে আমাদের রব, আমরা ইমান এনেছি, সুতরাং আপনি আমাদের সত্য স্বীকারকারীদের তালিকা ভুক্ত করে নিন।

এ আয়াতটির পিছনেও একটি ঘটনা রয়েছে, তা হল, ইসলামের প্রাথমীক অবস্থায়, মক্কার মুশরীকদের অত্যাচারে কিছু সাহাবী রসুলের অনুমতিক্রমে হাবশায় হিজরত করেন। সেখানে তাঁরা দ্বীনের আলোচনা করতেন, তাতে বেশ কিছু লোক আকৃষ্ট হয়েছিল। মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের পর ঐ সাহাবীগণ ফিরে আসেন, তারও পরে হাবশা হতে ৭০ জন লোক মদীনায় রসুলের দরবারে আসেন। তাঁদের সামনে পবিত্র কোরআন তেলাওত করা হলে, তারা আবেগে অশ্রু বিগলিত হন ও আল্লাহর কাছে তাদের নাম বিশ্বাসী বা মুমিনদের তালিকা ভুক্ত করার জন্য আবেদন করেন। পর পর তিনটি আয়াতে তাদের কথাই বলা হয়েছে।

৮৪/وَمَا لَنَا لاَ نُؤْمِنُ بِاللّهِ وَمَا جَاءنَا مِنَ الْحَقِّ وَنَطْمَعُ أَن يُدْخِلَنَا رَبَّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصَّالِحِينَ
অর্থাৎ;-আমাদের কি ওজর থাকতে পারে যে, আমরা আল্লাহর প্রতি ও যে সত্য আমাদের কানে এসেছে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব না এবং এ আশা করবনা যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে সৎ লোকদের সাথে প্রবিষ্ট করবেন।
৮৫/فَأَثَابَهُمُ اللّهُ بِمَا قَالُواْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاء الْمُحْسِنِينَ
অর্থাৎ;-অতঃপর আল্লাহ এ উক্তির প্রতিদান স্বরূপ এমন উদ্দান দিবেন, যার তলদেশে নির্ঝরিনী সমুহ প্রবাহিত হবে। তারা তন্মধ্যে চিরকাল অবস্থান করবে।এটাই সৎ কর্মশীলদের প্রতিদান।

৮৬/وَالَّذِينَ كَفَرُواْ وَكَذَّبُواْ بِآيَاتِنَا أُوْلَـئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
অর্থাৎ;-আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যাবলেছে তারাই দোজখী।

২ মন্তব্য

  1. শাহবাজ নজরুল

    চলুক। কিছুটা অনিয়মিত হয়ে পড়েছি ইদানিং। তবে সময় সুযোগ পেলে আপনার সিরিজটা পড়ে নেই আগেই।
     
     
     

    1. ১.১
      আবদুস সামাদ

      আপনাকে ধন্যবাদ। আমি নিজেও অনিয়মিত হয়ে পড়েছি, তবে সিরিজ তার গতিতেই চলছে। প্রকাশে অনেক পিছনে আছি। ভাল থাকেন।

Comments have been disabled.