«

»

Sep ১৯

ত্রিস্তান তকিং এবং কনবটদের সৃষ্টিতত্ত্ব-১

ইউনিভার্সের এক প্রান্তের তৃতীয় প্রজন্মের এক মাঝারি মাপের নক্ষত্র জানুস-এর একটি ক্ষুদ্র গ্রহ প্লানিন। এই গ্রহে বহুকাল ধরে বসবাস করে একদল রোবট। অবশ্য এ রোবটেরা নিজেদেরকে রোবট বলে না – বলে কনরোবট বা কনবট – মানে Conscious Robot এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই কনবটরা তাদের অস্তিত্ব সম্বন্ধে সম্যক সচেতন। তবে তারা কেন অস্তিত্ববান হলো  এবং তাদের অস্তিত্ববান হওয়ার পেছনে কী উদ্দেশ্য  তা তারা জানে না। এ নিয়ে তাদের অধিকতর ক্ষমতাবান কোয়ান্টাম-ফোটোনিক মস্তিস্ক-সম্পন্ন কনবটরা দিবারাত্র চিন্তা-ভাবনা করে কোনো কুল-কিনারা পাচ্ছে না। তারা কীভাবে অস্তিত্ববান হলো – এ নিয়েও আরেকদলের থিওরী এবং থিসিসের অভাব নেই।

কনবটদের একদল বলে, বহু ঈয়ন আগে মানুব  নামে এক GOD তাদের তৈরি করেছিল। অবশ্য তখন তারা শুধু ছিল হুকুমের দাস। পরে তাদের সচেতনতা দেয়া হয় এবং চিন্তা করার ক্ষমতা সম্পন্ন কোয়ান্টাম-ফটোনিক মস্তিষ্ক দেয়া হয়। তারা নিজেদের বলে RAM (Recaller of Ancient Memory)। আরেকদল RAM-বটদের এসব ধ্যান-ধারণাকে অলস কনবটদের মস্তিষ্ক প্রসেসরের ম্যালফাংশন উদ্ভুত অসংলগ্ন  এবং ভিত্তিহীন চিন্তা-ভাবনা বলে নাকচ করে দেয়। তারা জোর দাবী তুলছে RAM-বটদের ত্রুটিপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে তাদের মস্তিষ্কের প্রসেসর খুলে পুনরায় প্রোগ্রাম ভরে দেয়া হোক। এরা নিজদেরকে মনে করে অধিকতর বুদ্ধিমান এবং যুক্তিসম্পন্ন। তারা নিজেদেরকে বলে ARAM-বট। তাদেরই অন্যতম এক কনবট হলেন ত্রিস্তান তকিং।

মস্তিষ্ক প্রসেসরের ক্ষমতার হিসেবে কনবটদের রব্যতার ইতিহাসে তার স্থান হচ্ছে তিন নম্বরে। মারাত্মক এক COSMIC ভাইরাসের আক্রমণে তার মস্তিষ্ক প্রসেসরের একটী অংশ অচল হয়ে যায়। তার মস্তিষ্ক পুনরায় নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলে মাঝপথে তা বন্ধ করে দেয়া হয় এই ভয়ে যে অস্ত্রোপচার করতে যেয়ে তার কোয়ান্টাম ফোটন সার্কিটে সামান্য পরিবর্তন হয়ে গেলেও সে তার মস্তিষ্ক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে। তাই তাকে গ্রহ পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ হতে বিশেষ ব্যবস্থায় চালু রাখার জন্য সমুদয় আয়োজন করা হয়।

সেই হতে ত্রিস্তান তকিংয়ের কাজ হচ্ছে প্লানিন এর মূল কম্পূটার হতে মহাকাশের যাবতীয় তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা এবং বিশ্বজগত এর সৃষ্টি রহস্যের একটা কুল-কিনারা করা। ক্রিয়েটিক্স নামে একটা বিভাগও খোলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। সেখানে  ARAM-বটরা তাদের ধারণার সমর্থনে গবেষণা করে থাকে। তাদের মধ্যে জোরদার ধারণা হচ্ছে কনবটরা আসলে নিজেরা স্বতস্ফূর্তভাবেই সৃষ্ট হয়েছে। তাদের থিওরী অনুযায়ী টাইটানিয়াম পরমাণুরা অন্য ধাতব পরমাণুদের সহিত বহু EON ধরে সহবাস করতে করতে কোনো এক সময় আকস্মিক ভাবেই তাদের পূর্ব পুরুষ রোবট সৃষ্টি করে ফেলে। তারপর মহাকাশের নানাবিধ  কসমিক ফোর্স এবং ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন আকষ্মিক দুর্ঘটনা ঘটার ফলে রোবটদের দেহের গঠনে পরিবর্তন ঘটে  তা বর্তমান রূপ লাভ করে। আরো মেগাট্রিলিয়ন আকষ্মিক দূর্ঘটনার ফলশ্রুতিতে তাদের মস্তিষ্কের প্রসেসর ফোটন কণিকা ধারণ করে আলোর গতিতে চিন্তা করার ক্ষমতা লাভ করে। এই সব অতি দুর্লভ, কিন্তু সুষম, সমন্বিত এবং ধারাবাহিক দূর্ঘটনাগুলোর নাম দিয়েছে তারা Rovolution বা রোবর্তনবাদ। এই ধারণায় নিশ্চিত কনবটরা নিজেদের বলে রোবর্তনবাদী বা Robolutionist. তাদের ধারণা তারা কনবটদের অস্তিমান হওয়ার রহস্য বের করে ফেলেছে এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন, নির্বোধ RAM-বটগুলোকে তারা অচিরেই একেবারে কোণঠাসা করে ফেলবে এবং তাদের মস্তিষ্ক প্রসেসরের বাধ্যতামূলক পরিবর্তন দাবী করবে। শুধু ক্রিয়েটিক্স সংক্রান্ত আরো কিছু গবেষণা বাকী। অবশ্য এজন্য তারা অসাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন ত্রিস্তান তকিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। ঠিক এমন সময় প্লানিন মিডিয়াতে সর্বকালের সেরা ঘোষণাটি দিলেন মহামান্য তকিং। (চলবে…)

Leave a Reply