«

»

অক্টো. ২৯

পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী- বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.)

প্রাক ইসলামী আরবরা ছিল ভিখিরির জাত। ন্যূনতম সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক শক্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নৈতিকতাবোধ, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা, মানবিক উৎকর্ষতা, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, ঐক্যচেতনা ইত্যাদি কিছুই তাদের ছিল না। শুধু ছিল বংশানুক্রমিক গৃহযুদ্ধ, গোত্রে গোত্রে হানাহানি, রক্তারক্তি, শত্রুতা, সীমাহীন অজ্ঞানতা, কুসংস্কার, ধর্মবাণিজ্য, জেনা-ব্যাভিচার, চুরি, ডাকাতি, লুটতরাজ, হুজুগপ্রবণতা, মাদকাসক্তি, দাসপ্রথা, কন্যাশিশু হত্যা, নারী নির্যাতন ইত্যাদি। অর্থাৎ ভালোর মধ্যে কিছু না থাকলেও খারাপের মধ্যে কিছুই বাদ ছিল না তাদের। সেই চরম অনৈতিকতা ও বর্বরতায় লিপ্ত লোকগুলোকেই মাত্র ২৩ বছরের মধ্যে বিশ্বনবী কোথায় নিয়ে দাঁড়া করালেন এবং তাঁর দেখানো পথনির্দেশ মোতাবেক তাঁর ওফাতের পর মাত্র কয়েক দশক না পেরোতেই ঐ আরবরাই তরতর করে উন্নতির কোন শিখরে গিয়ে পৌঁছল সে ইতিহাস আমরা সবাই জানি। ভুখা-নাঙ্গা আরবদের এই যে অকল্পনীয় মহাবিস্ফোরণ- এর জ্বালানি যুগিয়েছেন মাত্র একজন মানুষ, তিনি বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.)। আর তা করতে গিয়ে ঐ মহাবিপ্লবী মানুষটিকে একটি চরম পশ্চাদপদ জাতির প্রতিটি দিকে, প্রতিটি অঙ্গনে প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতার সাথে ‘অসম্ভব গতিশীল’ পদচারণা করতে হয়েছে। একটি শিশুর জন্মপ্রক্রিয়া থেকে মৃত্যুপরবর্তী অন্তেষ্টিক্রীয়া পর্যন্ত- মানবজীবনের হেন দিক নেই যা নিয়ে তাঁকে ভাবতে হয় নি, কথা বলতে হয় নি।

তাঁকে ভাবতে হয়েছে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে, পররাষ্ট্রনীতি ও স্বরাষ্ট্রনীতি নিয়ে, অর্থনীতি নিয়ে, সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে, পারিবারিক বন্ধন নিয়ে, এমনকি ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমস্যা নিয়েও। তাঁকে ইহকালের পাশাপাশি সমাধান দিতে হয়েছে পরকালের, দেহের পাশাপাশি আত্মার। হাজারো সমস্যা তাঁর সামনে হাজির করা হত। যার যত প্রশ্ন ছিল তাঁর সামনে অবলীলায় বলে ফেলতে পারত। যার যত দাবি-দাওয়া, প্রত্যাশা থাকত অকাতরে উত্থাপন করত। একেক মানুষের চিন্তাধারা, বিশ্বাস, কর্মজীবন ছিল একেকরকম। ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের রীতি-নীতি ছিল ভিন্ন ভিন্ন। ওদিকে শত্রুশিবির গমগম করত ধারাবাহিক যুদ্ধের আয়োজনে। কখনও কখনও জাতির অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে যেত, যেমন খন্দকের যুদ্ধ বা অবরোধ! তথাপি শত প্রতিবন্ধকতার প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে তিলে তিলে তিনি একটি জাতি গঠন করলেন। প্রথমত ভিন্নমতের, ভিন্ন বিশ্বাসের, ভিন্ন সংস্কৃতির, ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের ও ভিন্ন জীবিকার মানুষগুলোকে কিছু ন্যূনতম শর্তের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করলেন, তারপর একটু একটু করে গড়ে তুললেন জাতির রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, সামাজিক ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসাব্যবস্থা, বাজারব্যবস্থা, পারিবারিক ব্যবস্থা ইত্যাদি। তাঁকে অনৈক্যপ্রবণ মানুষগুলোর মধ্যে ঐক্যের চেতনা জাগাতে হয়েছে। বিশৃঙ্খল মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ শেখাতে হয়েছে। ঔদ্ধত্য ও অবাধ্যপ্রবণদের আনুগত্যপরায়ণ করতে হয়েছে। জ্ঞানচর্চাবিমুখ একটি জাতিকে জ্ঞান-বিজ্ঞানমুখী করতে হয়েছে। যে অস্ত্র ব্যবহৃত হত কেবলই প্রতিশোধমূলক শত্রুতার কাজে, সে অস্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়েছে মানুষের কল্যাণের পথে।

এ গেল একটি দিক, বাহ্যিক দিক। অন্য দিকটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। জাতির বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়েও আত্মিক পরিবর্তন বেশি জরুরি এটা আল্লাহর রসুল ভালোভাবেই জানতেন। তিনি জানতেন যাদের নিয়ে তাঁর পথ চলা তারা খুব বেশিদিন হয় নি জাহেলিয়াতের যুগ অতিক্রম করেছে। সেই জাহেলিয়াত যাতে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে তারও নিশ্চয়তা বিধান করতে হয়েছে তাঁকে। ভোগ্য দ্রব্য-সামগ্রির বস্তু হিসেবে বিবেচিত হত নারীরা। সেই নারীদের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে তাঁকে। কেবল ব্যাভিচার নিষিদ্ধকরণই তাঁর শেষ কথা ছিল না, কোন প্রক্রিয়ায় সামাজিক-পারিবারিক জীবন দূষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ হবে সে উপায়ও তুলে ধরতে হয়েছে তাকে। যে সমাজে দাসীদেরকে মনে করা হত নিছক যৌন সামগ্রী, মনরঞ্জনের বস্তু, সেই সমাজকেই বিশ্বাস করাতে হয়েছে দাসীরাও তোমাদের মতই রক্ত-মাংসের মানুষ, তাদেরও হৃদয় আছে, তাদেরও দুঃখ-কষ্টবোধ আছে। তারা যন্ত্র নয়। তোমরা যে আল্লাহর সৃষ্টি, তারাও সেই আল্লাহর সৃষ্টি। সব মানুষ এক পিতা-মাতা আদম হাওয়ার সন্তান, আল্লাহর চোখে সবাই সমান। এই বিশ্বাস পোক্ত করার জন্য তিনি নিজেই একজন দাসীকে, মারিয়া কিবতিয়াকে (রা.) বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন।

আল্লাহর রসুল জানতেন কেবল দাসমুক্তির ব্যবস্থা করাই একমাত্র সমাধান নয়। ঐ মুক্তদাসেরা যতদিন সমাজের আর দশজন মানুষের মতই সমমর্যাদা ভোগ না করছে ততদিন লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। ফলে দাসদের সমমর্যাদা নিশ্চিত করার মনস্তাত্ত্বিক এই লড়াইতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই মহামানব এমন কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন যা বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে চিরদিন। মক্কা বিজয়ের দিনে অর্ধনগ্ন হাবশী বেলালকে (রা.) ক্বাবার ছাদে উঠিয়ে বিশ্বনবী কোরাইশ আভিজাত্য ও অহংকারের মূলে প্রচণ্ড চপেটাঘাত করে বুঝিয়ে দিলেন- ‘‘এই হচ্ছে ইসলাম। এই হচ্ছে ইসলামের মূল্যবোধ। তোমরা যাদেরকে মানুষই মনে করতে না তারা আমার আল্লাহর কাছে এই ক্বাবার চাইতেও বেশি প্রিয়।’’ একইভাবে জীবনের শেষ পর্যায়ে উপনীত হয়ে বাঘা বাঘা কোরাইশ ও আনসারদেরকে রেখে ওসামা বিন যায়েদকে (যার পিতা এক সময় দাস ছিলেন) যুদ্ধের সেনাপতি বানানোর ঘটনাই কি কম তাৎপযপূর্ণ? এর মাধ্যমে রসুল উম্মতের জন্য আরও এক প্রস্থ শিক্ষা রেখে যান যে, ইসলামে নেতৃত্বের যোগ্যতা বংশীয় আভিজাত্য দিয়ে নয়, দক্ষতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এগুলো একেকটি ঘটনা নয়, একেকটি মাইলফলক।

ক্বাবার ছাদে বেলাল (রা.)

এটা ইতিহাস যে, অসম্ভব প্রতিভার অধিকারী কার্ল মার্ক্স সারাটা জীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করে মানবজীবনের কেবল অর্থনৈতিক মুক্তির একটি তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। সে তত্ত্বও ভারসাম্যপূর্ণ নয়, সম্পূর্ণ আত্মাবিবর্জিত সুতরাং অপ্রাকৃতিক। অথচ বিশ্বনবী কেবল অর্থনীতি নয়, কেবল জাতীয় নীতি নয়, কেবল আইন-কানুন-দণ্ডবিধি নয়, কেবল প্রশাসন পরিচালনা নয়, কেবল নারী অধিকার নিশ্চিতকরণ নয়, কেবল শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতকরণ নয়, কেবল মানুষের জৈব চাহিদা পূরণ নয়, কেবল আধ্যাত্মিক চাহিদা পূরণ নয়, কেবল ইহকালীন মুক্তি নয়, বরং মানবজাতির ‘সামষ্টিক’ জীবনের ‘পূর্ণাঙ্গ’ ও ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ দিক-নির্দেশনা দান করেছেন এবং মাত্র ২৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে নিজ হাতে সেটার বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে গেছেন। জাহেলিয়াতের সমুদ্র থেকে আস্ত একটি জাতিকে একাই তীরে টেনে তুলেছেন। এ যেন কল্পনার পরিধিকেও ছাড়িয়ে যায়!

ইদানীং একটি শ্রেণি গজিয়েছে তারা অভিমানে গাল ফোলান আল্লাহর রসুল দাসপ্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন না কেন, বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করলেন না কেন, যুদ্ধ-রক্তপাত নিষিদ্ধ করলেন না কেন ইত্যাদি নিয়ে। আল্লাহর রসুল কী কী করেন নি- এ নিয়ে গবেষণা করে মাথা খারাপ করার দরকার পড়ত না যদি তারা বুঝতে সক্ষম হতেন তিনি কী কী করেছিলেন, কোন অসাধ্যগুলো তাঁকে সাধন করতে হয়েছিল মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে। নারী অধিকারের প্রসঙ্গে বলতে হয়- ইউরোপে ফরাসি বিপ্লব হয়ে যাবার পরও নিছক ভোটদানের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করে নারীদেরকে গিলোটিনে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তখন পর্যন্ত ইউরোপের অবস্থাই যদি এমন শোচনীয় হয় তবে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে কী ছিল তা সহজেই অনুমান করা যায়। আর অষ্টাদশ বা উনবিংশ শতাব্দীর নারীরাই যদি এমন ব্রাত্যদশা ভোগ করে তবে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগের একটি বর্বরতম জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীরা কত বঞ্চিত ও অবহেলিত দিনাতিপাত করত তাও অনুমেয়। সেই অবস্থা থেকে বিশ্বনবী নারীদেরকে কোন অবস্থানে উন্নীত করেছিলেন তা ইতিহাস। জাতীয় ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ তো নিশ্চিত হয়েছিলই, এমনকি বিশ্বনবী নারীদেরকে নিয়ে যুদ্ধ পর্যন্ত করেছেন। নারী-পুরুষ একসাথে মসজিদে নববীতে সালাহ কায়েম করত। একসাথে হজ্ব করত। একসাথে বসে রসুলের আলোচনা, বক্তৃতা শুনত, কিছু জানার থাকলে প্রশ্ন করে জেনে নিত। একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়েও রসুলের সাথে নারীদের পরামর্শ করার ঘটনা জানা যায়। মসজিদে নববীর পাশে যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছিল যার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন একজন নারী, রুফায়দাহ (রা.)। হযরত উমার (রা.) এর খেলাফতের সময় বাজার দেখাশোনা করার দায়িত্ব পালন করেছেন একজন নারী, শেফা (রা.)। ওহুদ যুদ্ধে উম্মে আম্মারা (রা.) মুসলিম বাহিনীর পক্ষে যে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন তার বিবরণ দিয়েছেন আল্লাহর রসুল স্বয়ং।

ইয়ারমুক যুদ্ধে অস্ত্র হাতে মুসলিম নারী যোদ্ধা।

 

ওহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তে উম্মে আম্মারা (রা.) অসাধারণ বীরত্বের সাথে লড়াই করেন। পরবর্তীতে রসুলাল্লাহ (সা.) তার যুদ্ধের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

এ ইতিহাসগুলো কীভাবে নারীবাদীদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায় আমার বুঝে আসে না। এতবড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন করলেন যে মানুষটি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাসূচক একটি শব্দ উচ্চারণ না করলেও কেন তিনি তেরোটি বিয়ে করলেন- এ নিয়ে হাজার হাজার লাইন লেখা হচ্ছে অবিরত। অথচ রসুল (সা.) না এলে তেরোটি বিয়ে কেন, নিছক একজন গোত্রপতি তেরশত যৌনদাসী রাখলেও কারও কিছু বলার ছিল না। ভুলে যাচ্ছেন কেন, ঐ যুগে দাস-দাসীর পরিমাণ দিয়ে সামাজিক মর্যাদা নির্ণিত হত।

একইভাবে রসুল (সা.) দাসপ্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন নি বলে যারা চেঁচিয়ে গলা ফাটাচ্ছেন তারাও অতি প্রায়ান্ধ দৃষ্টিভঙ্গি ত্যাগ করতে পারলে রসুলাল্লাহ দাসপ্রথার মূলে যে শক্ত কুঠারাঘাত করেছেন এবং মালিক-শ্রমিক সম্পর্ককে আধুনিক মূল্যবোধের ছাঁচে নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়েছেন তা স্পষ্ট দেখতে পেতেন। যে মূল্যবোধ তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন তা আজকের যুগেও কেউ কল্পনা করতে পারে? মাত্র তিনটি শর্ত-

ক. কাউকে শ্রম দিতে বাধ্য করা যাবে না,

খ. শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি তার ঘাম শুকোনোর আগেই পরিশোধ করতে হবে,

গ. নিজে যা খাবে, পরবে, শ্রমিককেও তা খেতে ও পরতে দিতে হবে।

এই মূল্যবোধের কানাকড়িও কি আজকের কথিত আধুনিক সভ্যতায় বাস্তবায়িত হয়? হয় না। আল্লাহর রসুল দাসপ্রথাকে প্রতিস্থাপিত করেছিলেন মালিক-শ্রমিক ভ্রাতৃত্বমূলক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে, সেই সাথে ‘‘আল্লাহর চোখে সবাই সমান’’- এই মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে। অন্যদিকে যারা ইসলামে দাসপ্রথার গন্ধ শুঁকে বেড়াচ্ছেন তাদের পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মালিক-শ্রমিক সম্পর্কে ভালোবাসার, ভ্রাতৃত্বের, ত্যাগের কোনো স্থান নেই। এখানে মালিক-শ্রমিকের সম্পর্ক শত্রুতার, বিদ্বেষের ও তীক্ততার। আদী দাসপ্রথার গায়ে রঙচঙ মেখে স্বাধীনতার মোড়ক পরিয়ে রাখা হলেও এই ভণ্ডামীর বিরুদ্ধে যারা একটি বর্ণও লেখার প্রয়োজনবোধ করেন না তারাই যখন ইসলামে দাসপ্রথা আবিষ্কারের অভিলাসে ইতিহাস ছাঁকতে বসেন তখন বিষয়টি হাস্যকর দেখায়। দাসপ্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেই কি সমস্যার সমাধান হয়ে যেত? আমেরিকায় দাসপ্রথা নিষিদ্ধ ও সাদা-কালোর ব্যবধান আইন করে অস্বীকার করা হয়েছে কয়েক শতাব্দী আগে। কিন্তু সাদা-কালোর ব্যবধান দূর করা সম্ভব হয় নি আজও। আজও সাদারা কালোদের হত্যা করলে বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামতে হয়। মনে রাখতে হবে- আইন করে মানসিক পরিবর্তন ঘটানো যায় না। অথচ বিশ্বনবীর দায়িত্ব ছিল মানুষের বাহ্যিক ও আত্মিক পরিবর্তন ঘটানো।

হাজারটা আইন করলেও এ সমস্যার সমাধান হবে কি?

আল্লাহর রসুলের সংগ্রামী জীবনকে যারা সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন তারা জানেন দাসপ্রথার মূলে ইসলাম কতটা শক্ত আঘাত হেনেছিল। সারা জীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি যে বিস্ময়কর জাতিটি গঠন করেছিলেন, তাঁর ওফাতের পর অর্ধদুনিয়ায় যে জাতি ন্যায়, সুবিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জাতিটি যদি হঠাৎ লক্ষ্য ভুলে না যেত, তাহলে ঐ সময়ই পৃথিবী থেকে দাসপ্রথাসহ যাবতীয় কুপ্রথার কবর রচিত হয়ে যেত তাতে সন্দেহ নেই। আজকে যারা নারীমুক্তির আন্দোলন করছেন তাদেরও স্বপ্নপূরণ হয়ে যেত তখনই। দুর্ভাগ্যক্রমে তা হয় নি। হয় নি যে, তার জন্য কি বিশ্বনবী দায়ী? কতটা অন্ধ হলে, কতটা বিবেকবোধ লুপ্ত হলে, কতটা সংকীর্ণমনা হলে মানবতার কল্যাণে একজন মানুষের সারা জীবনের অকৃত্রিম সাধনা ও আত্মত্যাগকে ভুলে গিয়ে, তাঁর নেতৃত্বাধীন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবকে পাশ কাটিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত বিয়ে-সাদী ইত্যাদি নিয়ে সমালোচনায় মুখর হওয়া যায়?

সত্যিই এ অন্ধত্বের কোনো তুলনা হয় না! কোনো উপমা হয় না!

১৬ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. মাহফুজ

    হাঁ, নিঃসন্দেহে রাসূল (সাঃ) তাঁর উপরে অর্পিত নবুয়তের দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবেই পালন করেছিলেন।

    আপনি বলেছেন- //কিন্তু তাঁর ওফাতের পর অর্ধদুনিয়ায় যে জাতি ন্যায়, সুবিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জাতিটি যদি হঠাৎ লক্ষ্য ভুলে না যেত//

    হাঁ, যদি ভুলে না যেত তাহলে তো ভালই হত। কিন্তু এই ভুলে যাওয়া লক্ষ্যটা কি? হারান গৌরব ফিরে পাবার এবং স্বপ্নপূরণ ও দুর্ভাগ্য দূর করার উপায়ই বা কি?

    অন্যের দিকে আঙ্গুল তুলে কি হবে? আমাদের নিজেদের মাঝেই তো হাজারও রকমের গলদ। নিজেদের গলদগুলো নিজেদেরকে বোঝার এবং তা থেকে সঠিক পথে আসার ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে সুযোগ পেলে নিন্দুকেরা তো নিন্দা ছড়াবেই।

  2. এম_আহমদ

    “প্রাক ইসলামী আরবরা ছিল ভিখিরির জাত”, এই কথাটি কোথায় পেলেন? এই জাতি কাদের কাছে ভিক্ষা করত? কীভাবে এবং কোথায় করত?  কথাটি এভাবে বলাতে racism প্রকাশ পায় এবং তা ঐতিহাসিকভাবে ভুলও। এটা বর্তমান সরকারের প্রাক্তন নাস্তিক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকির কথার মত শুনিয়ে যায়। এভাবে বলা ঠিক নয়। তারপর, তাদের “নৈতিকতাবোধ, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা, মানবিক উৎকর্ষতা, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, ঐক্যচেতনা ইত্যাদি কিছুই তাদের ছিল না” –এটাইবা কোথায় পেলেন? এই প্রেক্ষিতে আপনি একটি জাতির ঐতিহাসিকতা ও সত্তাগত বিষয় নিয়ে একদম সাধারনী ও সস্তা কথা বলে গেলেন -হোক না তারা পৌত্তলিক। দানাদানি, হানাহানি, কুসংস্কার জেনা-ব্যভিচার, চোরা-চুরি কোন জাতিতে ছিল না এবং এখন কি নাই? দাসপ্রথা তো সব দেশেই ছিল। কন্যাশিশু হত্যার বিষয়টি ছিল একান্ত ও নিতান্ত বিরল। কন্যাশিশু হত্যা হতে থাকলে এই জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকত কীভাবে? কোরানের ৮১/৮ আয়াত এটাকে ব্যাপক হিসেবেই উল্লেখ করে নি।

    ইতিহাসের স্পেসিফিক স্থানসমূহের কথা স্পেসিফিক, ও রিফাইন্ড হয়ে আসতে হয়। যেমন জাহিলিয়াতের বিষয়টি। ইসলাম ও আরবের ইতিহাসের পরিভাষায় ‘জাহেলিয়াত’ বলতে সাধারণ অর্থের অজ্ঞ-মূর্খতা, জ্ঞানহীনতা বুঝায় না। এটা আরবদের “ওহীভিত্তিক” জ্ঞানের অভাব (একান্তভাবে পরকাল, এক আল্লাহ ও জবাবদিহিতা) ও অনুপস্থিতির মোকাবেলায় ব্যবহৃত পরিভাষা। আবু জাহিল বলতে মূর্খ বা জ্ঞানহীন বুঝায় না। বরং আবুল হাকামের ওহীভিত্তিক জ্ঞানকে কঠোরভাবে উড়িয়ে দেয়া ও এর চরম বিরোধিতার মোকাবেলায় ব্যবহৃত ভাষ্য বুঝায়। এখন কেউ যদি প্রাক-ইসলামি জাহেলি যুগকে অজ্ঞ-মূর্খতার যুগ বুঝায় তাহলে তা ভুল হবে। এটা অহীর আলোর মোকাবেলায় কেউ কেউ অন্যান্য ভাষায় অন্ধকারের যুগ হিসেবে দেখান। এটি প্রথমে ব্যাখ্যা না করলে অন্ধকার বলতে বিদেশি পাঠকদের ভুল ধারণা দিতে পারে।

  3. শামস

    ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। 

    সময়ের অভাবে আপনার আগের লেখাগুলো পড়ার সুযোগ হয়নি, আশা করি, সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পড়তে পারবো।

    লেখার শিরোনাম দেখেই মূলত কোতুহলী হলাম। আপনি মুহম্মদ (সাঃ) কে বিপ্লবী বলেছেন, সে কারণেই মূলত কৌতুহল। আপনি সম্ভবত কোন আলেম, যারা মুহম্মদ (সাঃ) কে বিপ্লবী বলে তাদের থেকে কোন ধারণা পেয়েছেন, ভুল হলে শুদ্ধ করে দিবেন। যাই হোক, এ ব্যাপারে আমি যে দুএকজন আলেম এর কথা শুনেছি, তারা বরং তাকে বিপ্লবী বলার বিরুদ্ধে। এর যুক্তিগ্রাহ্য কারণও আছে।

    প্রশ্ন হলো, মুহম্মদ (সাঃ) কি কোন নতুন জীবণ বিধান এনেছেন, যা বিপ্লবীরা করে থাকেন ?

    বিপ্লবের একটা ধর্ম আছে, এটা ক্ষণস্থায়ী, একসময় নিঃশেষ হয়ে যায়। মুহম্মদ (সাঃ) এর 'বিপ্লব' কি বিপ্লবের এই ধর্ম থেকে ভিন্ন?

    নবুয়ত লাভের আগের সময়কে বাদ দিলেও, নবুয়তের পর মুহম্মদ (সাঃ) দীর্ঘ ২৩ বছর যাবত মানুষের মধ্যে কাজ করেছেন, তাদের আল্লাহর বিধানের দিকে ধাবিত করার জন্য। তিনি যেভাবে সমাজ পরিবর্তন করেছেন, বিপ্লবীরা কি সেভাবে করে?

    বিপ্লবের পরের কথাই ধরুন, লেলিন, মাওসেতুং এরাতো বিপ্লবী, এদের বিপ্লবের বলি হয়েছে লক্ষ লোক, এর দ্বারা স্বল্প সময়ের জন্য একটা নতুন সমাজ কাঠামো দাঁড় করেছিলেন। মুহম্মদ (সাঃ) কি সেরকম সাময়িক উজ্জীবিত কোন সমাজ কাঠামো তৈরী করেছিলে?

    বিপ্লবের উচ্ছাস একসময় নিজেই যেখানে নিঃশেষ হয়ে যায়, সেখানে দীর্ঘ ১৪০০ বছর পরে মুহম্মদ (সাঃ) এর প্রভাব যেখানে ক্রমাগত বাড়তির দিকে, সেখানে তাকে বিপ্লবী বলেন কিভাবে?

    ভালো থাকুন।

     

  4. kadir

    মারিয়া কিবতিয়াকে (রা.) বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন।er proman ki diben. ibn kathir, ibn saad er mote tara silo concubine. er biye er jonno koto den mohor diyesilen tini

  5. anis

    নবুয়ত লাভের আগের সময়কে বাদ দিলেও, নবুয়তের পর মুহম্মদ (সাঃ) দীর্ঘ ২৩ বছর যাবত মানুষের মধ্যে কাজ করেছেন, তাদের আল্লাহর বিধানের দিকে ধাবিত করার জন্য। তিনি যেভাবে সমাজ পরিবর্তন করেছেন, বিপ্লবীরা কি সেভাবে করে?

  6. Mamun Ahmed

    মারিয়া কিবতিয়া কে আমাদের নবিজী কি বিয়ে করেছিলেন না করেন নি?না করলে কেন করেন নি?আমি অনেক chasta korao ans ta pai ni,jana thakla comments plz.

    1. ৬.১
      মুনিম সিদ্দিকী

      http://www.shodalap.org/munim/21422/

      এই ব্লগ পড়ে দেখুন। উত্তর মিললেও মিলতে পারে। ধন্যবাদ।

    2. ৬.২
      মাহফুজ

      @Mamun Ahmed,
      এ বিষয়ে এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। একবার ঘুরে আসতে পারেন- 33) At-Tahrim, Hazera & Maria / সূরা আত-তাহরীম, হাজেরা ও মারিয়া
      লিংক- https://sites.google.com/site/everlastingheavenlylight/the-truth-has-arrived-satya-samagata/33-at-tahrim-hazera-maria-sura-ata-taharima-hajera-o-mariya

  7. Reza Ahmed

    Multiple Scholars and authors have mentioned Maria al Qibtiyya as one of the concubines of the Prophet Muhammad (saw).

    The Holy Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) did not marry Mariyah al Qibtiyyah, rather she was a concubine who was given to him by al-Muqawqis, the ruler of Egypt. That took place after the treaty of al Hudaybiyah. Mariyah al-Qibtiyyah was a Christian,then she became Muslim (may Allaah be pleased with her).
    [Ibn Saad, The Life of Prophet]

    The Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) lodged her –meaning Mariyah al Qibtiyyah and her sister – with Umm Sulaym bint Milhaan, andthe Messenger of Allaah entered upon them and told them about Islam. He took Mariyah as a concubine and moved her to some property of his in al-‘Awaali… and she became a good Muslim. AlTabaqaatal-Kubra, 1/134-135
    Mariyah died during the caliphate of ‘Umar ibn al-Khattaab in Muharram of 16 AH. ‘Umar gathered the people himself to attend her funeral, and he led the funeral prayer for her.She was buried in al-Baqee’. Ibn ‘Abd al-Barr, Al-Isti’aab, 4/1912

    The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) had four concubines, one of whom was Mariyah. Ibn al-Qayyim, biography. Abu ‘Ubaydah said: He had four (concubines): Mariyah, who was the mother of his son Ibraaheem; Rayhaanah; another beautiful slave woman whom he acquired as a prisoner of war; and a slave woman who was given to him by Zaynab bintJahsh. [Zaad al-Ma’aad]

    1. ৭.১
      মাহফুজ

      @Reza Ahmed
      মারিয়া কিবতিয়া (রাঃ) কখনই রাসূলের (সাঃ) উপপত্নী ছিলেন না। উপপত্নী গ্রহণ করা অর্থাৎ বিবাহ ছাড়াই কোন নারীকে স্ত্রী-রূপে ব্যবহার করা রাসূলের (সাঃ) জন্য শোভা পায়না। ইসলামপূর্ব যুগে যেমন এটির প্রচলন ছিল, তেমনি এখনকার তথাকথিত প্রগতিবাদীদের মধ্যে এর প্রচলন আছে। কারণ আল-কোরআনের নির্দেশনা অনুসারে যে কোন মুসলিমের জন্য (তিনি যেই হোক না কেন) এটি অবশ্যই হারাম।
      উপঢৌকন হিসেবে প্রেরিত মারিয়া “মা-মালাকাত-আইমানুহুম” অর্থাৎ ”তাঁর ডান হাতের অন্তর্ভূক্ত” নারীদের একজন ছিলেন। তিনি পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। পরস্পরের সম্মতি ছিল বলেই পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা অনুসারে মোহরানা ছাড়াই তিনটি শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে রাসূল (সাঃ) এবং তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।
      বিস্তারিত এখানে-https://sites.google.com/site/everlastingheavenlylight/the-truth-has-arrived-satya-samagata/33-at-tahrim-hazera-maria-sura-ata-taharima-hajera-o-mariya

  8. Reza Ahmed

    @ জনাব মাহফুজ : আপনার দেয়া লিংকটির কোথাও প্রমান করে না যে মারিয়া কিবতিয়া নবীর স্ত্রী ছিলেন, ররচং হাতসাফাই মূলক।

    রাসুলের জীবন রচনাকারী ইসলামের অতি প্রাথমিক যুগের সোর্স/কমেনটেটর’দের বর্ণনা থেকে জানা যায় মারিয়া কিবতিয়া রাসুলের স্ত্রী নয়, রক্ষিতা। Ibn Saad- The Life of Prophet, AlTabaqaatal-Kubra, 1/134-135, Zaad al-Ma’aad, এদের কথা বাদ দিয়ে আমরা আপনার কথা বিশ্বাস করবো কেন? তাছাড়া একজন ন্যায়ের সাধক নবীর পক্ষে উপঢৌকন হিসেবে নারী গ্রহন করা কতটা নৈতিক?? প্রকৃত সত্য জানতে চাই।। ধন্যবাদ।

    1. ৮.১
      মাহফুজ

      Mr. Reza Ahmed
      আপনি বলেছেন- //রাসুলের জীবন রচনাকারী ইসলামের অতি প্রাথমিক যুগের সোর্স/কমেনটেটর’দের বর্ণনা থেকে জানা যায় মারিয়া কিবতিয়া রাসুলের স্ত্রী নয়, রক্ষিতা। Ibn Saad- The Life of Prophet, AlTabaqaatal-Kubra, 1/134-135, Zaad al-Ma’aad,//

      একবার বললেন মারিয়া কিবতিয়া রাসূলের (সাঃ) (concubine) উপপত্নী ছিলেন। এবার বলছেন তিনি রাসুলের স্ত্রী নয়, রক্ষিতা ছিলেন। সত্যকে ভোজবাজি ভেবে মিথ্যার পেছনে ছুটলে মানুষ এমনটি বলতেই পারে।
      এবার দয়া করে বলবেন কি- concubine & Kept অর্থাৎ উপপত্নী ও রক্ষিতার মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য আছে কি?

      আপনি বলেছেন- //এদের কথা বাদ দিয়ে আমরা আপনার কথা বিশ্বাস করবো কেন? তাছাড়া একজন ন্যায়ের সাধক নবীর পক্ষে উপঢৌকন হিসেবে নারী গ্রহন করা কতটা নৈতিক?? প্রকৃত সত্য জানতে চাই।। ধন্যবাদ।//

      প্রকৃত সত্য জানতে চাইলে অন্তরে ইমান সহকারে এদের-ওদের কথা বাদ দিয়ে সর্বপ্রথমে মাহন স্রষ্টার বাণীকে অনুধাবন করার প্রচেষ্টা নিতে হবে। এর ফলে স্রষ্টা সেই ইমানদারের অন্তরে এমনই খাঁটি ও পোক্ত মানদন্ড প্রতিষ্ঠিত করে দেবেন, যা তাকে কোনটা সত্য ও কোনটা মিথ্যা তা বোঝার মত যোগ্য করে তুলবে।

      আশাকরি ইমান সহকারে ও স্বচ্ছ অন্তরে আবারও নিচের লিংকের বক্তব্য এবং আপনার মন্তব্যের বিস্তারিত জবাবটা অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন।
      লিংক- https://sites.google.com/site/everlastingheavenlylight/the-truth-has-arrived-satya-samagata/33-at-tahrim-hazera-maria-sura-ata-taharima-hajera-o-mariya
      ধন্যবাদ-

  9. মাহফুজ

    Mr. Reza Ahmed
    আপনি বলেছেন- //রাসুলের জীবন রচনাকারী ইসলামের অতি প্রাথমিক যুগের সোর্স/কমেনটেটর’দের বর্ণনা থেকে জানা যায় মারিয়া কিবতিয়া রাসুলের স্ত্রী নয়, রক্ষিতা। Ibn Saad- The Life of Prophet, AlTabaqaatal-Kubra, 1/134-135, Zaad al-Ma’aad,//

    একবার বললেন মারিয়া কিবতিয়া রাসূলের (সাঃ) (concubine & Kept) উপপত্নী ছিলেন। এবার বলছেন তিনি রাসুলের স্ত্রী নয়, রক্ষিতা ছিলেন। সত্যকে ভোজবাজি ভেবে মিথ্যার পেছনে ছুটলে মানুষ এমনটি বলতেই পারে।
    এবার দয়া করে বলবেন কি- concubine & Kept অর্থাৎ উপপত্নী ও রক্ষিতার মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য আছে কি?

    আপনি বলেছেন- //এদের কথা বাদ দিয়ে আমরা আপনার কথা বিশ্বাস করবো কেন? তাছাড়া একজন ন্যায়ের সাধক নবীর পক্ষে উপঢৌকন হিসেবে নারী গ্রহন করা কতটা নৈতিক?? প্রকৃত সত্য জানতে চাই।। ধন্যবাদ।//

    প্রকৃত সত্য জানতে চাইলে অন্তরে ইমান সহকারে এদের-ওদের কথা বাদ দিয়ে সর্বপ্রথমে মাহন স্রষ্টার বাণীকে অনুধাবন করার প্রচেষ্টা নিতে হবে। এর ফলে স্রষ্টা সেই ইমানদারের অন্তরে এমনই খাঁটি ও পোক্ত মানদন্ড প্রতিষ্ঠিত করে দেবেন, যা তাকে কোনটা সত্য ও কোনটা মিথ্যা তা বোঝার মত যোগ্য করে তুলবে।

    আশাকরি ইমান সহকারে ও স্বচ্ছ অন্তরে আবারও নিচের লিংকের বক্তব্য এবং আপনার মন্তব্যের বিস্তারিত জবাবটা অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন।
    লিংক- https://sites.google.com/site/everlastingheavenlylight/the-truth-has-arrived-satya-samagata/33-at-tahrim-hazera-maria-sura-ata-taharima-hajera-o-mariya
    ধন্যবাদ-

  10. ১০
    Reza Ahmed

    না @ মাহফুজ সাহেব, আমি সেই বিতর্ক করছি না। আসলে Concubine, উপপত্নী, রক্ষিতা, নারী উপঢৌকন, মা-মালাকাত-আইমানুহুম, যৌনদাসী, ডান হাতের অধিকারভুক্ত……… এসবই সমার্থক অনৈতিক/গহির্ত শব্দ।

    আপনি বলেছেন- “প্রকৃত সত্য জানতে চাইলে অন্তরে ইমান সহকারে এদের-ওদের কথা বাদ দিয়ে সর্বপ্রথমে মাহন স্রষ্টার বাণীকে অনুধাবন করার প্রচেষ্টা নিতে হবে। এর ফলে স্রষ্টা সেই ইমানদারের অন্তরে এমনই খাঁটি ও পোক্ত মানদন্ড প্রতিষ্ঠিত করে দেবেন, যা তাকে কোনটা সত্য ও কোনটা মিথ্যা তা বোঝার মত যোগ্য করে তুলবে।”
    দুঃখিত, অপনি “এদের-ওদের” বলতে কি বুঝাতে চাচ্ছেন!! তাহলে কি আমরা ধরে নিব ইসলামের আদি যুগে The Life of Prophet narrators(নবীজীর জীবন রচনাকারী) ইসলাম ধর্মে নিবেদিত ইবনে সাদের মত পন্ডিত ব্যাক্তিদের ঈমান/আমান দুর্বল ছিল যে কারনে তাদের কথা বাদ দিয়ে শুধু আপনার কথা বিশ্বাস করতে হবে!!!??? কি অদ্ভুত কথা বলছেন আপনি।

    আমি রাসুলের প্রকৃত জীবন জানতে চাই, তবে সত্য গোপন করে নয়। সত্য গোপন করে ইসলাম তথা নবীজীকে জানা যাবে কি? উত্তর দিন। ধন্যবাদ।
    .

    1. ১০.১
      মাহফুজ

      Mr. Reza Ahmed
      কে আদি যুগে নবীজীর জীবন রচনা করল আর কে পরে করল, সেটা আমার কাছে মূল বিষয় নয়। একজন বিশ্বাসীর কাছে সত্যের মাপকাঠি হলো পবিত্র কোরআন। সুতরাং সত্য গোপন করা হলো, নাকি মিথ্যার প্রতিপালন করা হলো তা বুঝতে হলে সর্বপ্রথমে সেই মানদণ্ডকে অনুধাবন করার চেষ্টা নিতে হবে। তা না হলে সবই গরমিল ঠেকবে। নিবেদিত পন্ডিত ব্যাক্তি হোক বা হোক নামকরা ইাতহাসবীদ বা তফসিরবীদ। তাদের কোন বক্তব্য ও কর্ম যদি সেই শর্ত পূরন করতে না পারে, তাহলে কোরআন নির্দেশিত সত্যের মানদন্ড অনুসারে আমার কাছে তাদের পার্থিব মর্যাদা, সেই বক্তব্য ও কর্ম কোন গুরুত্বই বহন করেনা। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে, রাসূলের (সাঃ) জীবনে মহান স্রষ্টা প্রেরিত জীবন বিধান পবিত্র কোরআনের মৌল নির্দেশনা বহির্ভূত কোন আদর্শ ও কর্ম নেই। সুতরাং দুঃখ পেলেও এই মানদণ্ডে “এদের-ওদের” এর মধ্যে আমি এবং আপনিও পরে যেতে পারি।

      হাঁ, Concubine, উপপত্নী, রক্ষিতা, নারী উপঢৌকন, যৌনদাসী………এই শব্দগুলোকে মোটামুটি সমার্থক অনৈতিক/ গহির্ত শব্দ বলা যেতেই পারে। যদিও আদিকাল থেকেই সমাজে শুধু এই শব্দগুলো নয়, বরং এর সাথে সম্পৃক্ত কর্মেরও প্রচলন রয়েছে। কিন্তু মা-“মালাকাত-আইমানুকুম অর্থাৎ ডান হাতের অধিকারভুক্ত” শব্দটি যে এগুলোর মধ্যে পরেনা, পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবেই তা তুলে ধরা হয়েছে। (৫:৫) ও (৪:২৫) নং আয়াত লক্ষ্য করলেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, মা-মালাকাত-আইমানুকুম অর্থাৎ ডান হাতের অধিকারভুক্ত কোন নারীকে Concubine, উপপত্নী, রক্ষিতা, নারী উপঢৌকন, যৌনদাসী ইত্যাদি অনৈতিক কর্মে অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং বিবাহ করার ও বিবাহ দেয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশেষ ভাবে লক্ষ্যনীয় যে, এই আয়াতদুটিতে কিন্তু fornication এবং secret concubines/ paramours হিসেবে ”মা-মালাকাত-আইমানুকুম” শব্দটি ব্যবহার না করে musāfiḥātin ও akhdānin শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে (৪:২৫) নং আয়তটিতে malakat-aymānukum দেরকে বিয়ে করার কথাই বলা হয়েছে এবং তাদের সাথে musāfiḥātin ও akhdānin এর মত ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।

      Pickthall: (5:5) This day are (all) good things made lawful for you. The food of those who have received the Scripture is lawful for you, and your food is lawful for them. And so are the virtuous women of the believers and the virtuous women of those who received the Scripture before you (lawful for you) when ye give them their marriage portions and live with them in honour, not in fornication, nor taking them as secret concubines. Whoso denieth the faith, his work is vain and he will be among the losers in the Hereafter.

      Shakir: (4:25) And whoever among you has not within his power ampleness of means to marry free believing women, then (he may marry) of those whom your right hands possess from among your believing maidens; and Allah knows best your faith: you are (sprung) the one from the other; so marry them with the permission of their masters, and give them their dowries justly, they being chaste, not fornicating, nor receiving paramours; and when they are taken in marriage, then if they are guilty of indecency, they shall suffer half the punishment which is (inflicted) upon free women. This is for him among you who fears falling into evil; and that you abstain is better for you, and Allah is Forgiving, Merciful.

      শুধু তাই নয়, প্রথাগত কারণে কোন সমাজের নারীদেরকে Concubine, উপপত্নী, রক্ষিতা, নারী উপঢৌকন, যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও মুসলিমদের জন্য সেই নারীদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা নেয়ার দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর কিভাবে নিতে হবে তা শুধু মুখের কথায় নয়, বরং মানবতার মুক্তিদূত মুহাম্মদ (সাঃ) তার নিজের জীবনে পালন করে দেখিয়ে দিয়েছেন। অথচ আমরা সেই আদর্শের বিন্দুমাত্র অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছি। উল্টো এমন সব ইতিহাস চর্চা করছি ও তার উদাহরণ দিতে চাইছি যা আমদেরকে সত্য ও সৎকর্ম থেকে অনেক দূরে ঠেলে দিচ্ছে। এভাবে কোন নারীকে সহজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে উল্টো তাকে Concubine, উপপত্নী, রক্ষিতা, নারী উপঢৌকন, যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করার ব্যবস্থাকে যেন পাকাপোক্ত করা হচ্ছে। কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী এরূপ বিভ্রান্তি ইমান ও আখলাক উভয়ের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর।

      আপনি আপনার বিশ্বাস মত চলতে থাকুন। সঠিক পথ দেখানোর মালিক তো মহান আল্লাহতায়ালা।
      ধন্যবাদ-

    2. ১০.২
      এম_আহমদ

      @Reza Ahmed:

      আমার তো যেন ধারণা হয় আপনি এখানকার পুরাতন বহুরুপী এক নিক। তো সেটা বাদ দিয়ে আসল কথায় যাওয়া যাক।

      উদ্ধৃতি: “আসলে Concubine, উপপত্নী, রক্ষিতা, নারী উপঢৌকন, মা-মালাকাত-আইমানুহুম, ডান হাতের অধিকারভুক্ত……… এসবই সমার্থক অনৈতিক/গহির্ত শব্দ”

      প্রশ্ন: “অনৈতিক”, “গর্হিত” কেন? কোন আইন বা নৈতিকতার ভিত্তিতে? কোন সামাজিক প্রেক্ষিতের নৈতিকতা?

Comments have been disabled.