«

»

নভে. ১৩

ইসলামী রাজনীতির ব্যর্থতা: গলদ কোথায়? (পর্ব ০৯)

রসুল (সা.) যখন তওহীদের ভিত্তিতে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যের ডাক দিলেন মক্কায় তখন কিন্তু হাজারো সমস্যা। অশিক্ষা, কুশিক্ষা, অনৈক্য, দারিদ্র্য, মাদক, নারী নির্যাতন, চুরি-ডাকাতিসহ শত শত সামাজিক ও জাতীয় সমস্যা তখন আরব সমাজকে গিলে খাচ্ছিল। কিন্তু ওসব সমস্যার সমাধান করা নিয়ে আল্লাহর রসুল খুব ব্যতিব্যস্ত হয়েছিলেন বলে ইতিহাসে পাওয়া যায় না। এখানেই বর্তমানের ইসলামী দলগুলোর অনেক বোঝার বিষয় আছে। মক্কার শিক্ষা-দীক্ষাহীন বর্বর আরবদেরকে শিক্ষিত বানানোর কোনো উদ্যোগ কিন্তু আল্লাহর রসুল নিলেন না। তিনি ইসলামী জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার জন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোনো কোচিং সেন্টার গড়লেন না অথবা কোনো এনজিও বা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করলেন না। অর্থনৈতিকভাবে জাতিকে স্বাবলম্বী করার জন্য ব্যাংক-বীমাজাতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানও স্থাপন করলেন না। কিংবা কোনো পঙ্গু আবাসন কেন্দ্র, এতিমখানা, মাদক নিরাময় কেন্দ্র ইত্যাদিও বানালেন না। আবার ওই সময় কারও ব্যক্তিগত অন্যায়-অপরাধের বিরুদ্ধেও কঠোরতা দেখান নি তিনি। মদ হারাম হয়েছে মদীনায়, তার আগে পর্যন্ত সাহাবীদের মধ্যেও অনেকে মদ্যপান করতেন এবং মদ পান করাকে কোনো অন্যায় মনে করতেন না। চুরি, ব্যাভিচারের শাস্তির বিধানও এসেছে মদীনায়। তার আগ পর্যন্ত ১৩ বছর যাবৎ কাফের-মোশরেকরা তো দূরের কথা ঈমানদারদের মধ্যেও কেউ চুরি করল কিনা, কেউ ব্যাভিচার করল কিনা, কেউ সুদ খেল কিনা, কেউ ঘুষ খেল কিনা তা নিয়ে রসুলাল্লাহ ব্যতিব্যস্ত হন নি। তিনি কেবল ন্যায়-অন্যায়ের জ্ঞান দান করেছেন মানুষকে। সত্য থেকে মিথ্যাকে আলাদা করেছেন। তারপর ডানে-বামে না তাকিয়ে তিনি একনিষ্ঠভাবে, একাগ্রচিত্তে (হানিফ) কেবল মানুষকে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে। কারণ আর কিছু নয়, তিনি জানতেন মানুষ যদি তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় অর্থাৎ আল্লাহর সার্বভৌমত্ব গ্রহণ করে নেয়, তাহলে আর কাউকে বলে বলে সংশোধন করা লাগবে না। ঐ সিস্টেমটাই মানুষের সমস্ত ক্ষেত্রকে আমূল পাল্টে দিবে। তখন আর আলাদা করে এতিমখানা, পঙ্গু আবাসন, বৃদ্ধাশ্রম ইত্যাদি বানানোর দরকার পড়বে না, বরং এতিমদেরকে লালন-পালন করাকে মানুষ নিজেদের ঈমানী দায়িত্ব মনে করবে, পিতা-মাতার সেবাকে এবাদত মনে করা হবে, অভাবগ্রস্থ-রোগগ্রস্থ মানুষের সেবা করতে পারাকে সৌভাগ্য মনে করবে। সুদখোর-ঘুষখোরের বিরুদ্ধে রাত জেগে ওয়াজ-নসিহত করার দরকার হবে না, মাদকের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করা লাগবে না, কারণ তখন মানুষ সুযোগ পেলেও সুদ খাবে না, মদের বোতল স্পর্শ করবে না। কালেভদ্রে দুই একজন অপরাধ করে ফেললেও কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও স্বচ্ছ আইনের শাসনের কারণে যথাযথ শাস্তি সে পেয়ে যাবে। তাই আল্লাহর রসুল প্রাথমিকভাবে কেবল তাদেরকে একটি সাধারণ কথার উপর ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছেন যে, ‘আমরা ন্যায় ও সত্যের অনুগত হব, অন্যায় অসত্য পরিহার করব, আল্লাহ ছাড়া কারও সার্বভৌমত্ব মানব না’। আর এখানেই ছিল কোরাইশদের ঘোরতম আপত্তি। তারা যে সমাজকাঠামো তৈরি করে রেখেছিল তাকে সোজা ভাষায় বলতে গেলে- ‘ঐ সমাজের ইলাহ ছিল কোরাইশ পুরোহিতরা, আর দ্বীন ছিল কোরাইশ পুরোহিতরা যা বলবে তা পালন করা।’ এর বিপরীতে আল্লাহর রসুল যখন আল্লাহকে ইলাহ হিসেবে ঘোষণা করলেন এবং আল্লাহর প্রেরিত দ্বীনের আগমনী বার্তা শোনালেন স্বভাবতই রসুলের বিরোধিতা করা ছাড়া কোরাইশদের আর কোনো পথ রইল না। সত্য গ্রহণ করার তাদের জন্য অসম্ভব ছিল কারণ তাতে ক্ষমতা, অর্থবিত্ত হারাতে হত। বিশেষত মান-মর্যাদা ধুলায় লুটত। ফলে স্বার্থচিন্তা তাদেরকে অন্ধ করে দিল। এ কারণেই ধর্মব্যবসা আল্লাহর চোখে অতি ঘৃণিত কাজ। যারা ধর্মকে পার্থিব স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম বানিয়ে নেয় তাদের আত্মা মরে যায়। মহৎ কোনো কাজ তাদের দ্বারা আর সম্ভব হয় না। এটা প্রাকৃতিক সত্য। এ কথা ১৪০০ বছর আগে যতটা সত্য ছিল, বর্তমান কালেও ততটাই সত্য। প্রত্যেক নবী-রসুল তাদের কওমকে এ কথা বলেছেন যে, তারা সত্য প্রচারের কোনো বিনিময় বা মজুরি চান না।
কোরাইশরা দু’টি উপায় বের করল। একটি উপায় হচ্ছে- মুসলমানদেরকে নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে ইসলাম ত্যাগ করতে বাধ্য করা ও অন্যদেরকে ইসলাম গ্রহণে বিরত রাখা, অপরটি হচ্ছে- যে কোনো কিছুর বিনিময়ে রসুলের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া যেন তিনি চুপ থাকেন। এই লক্ষ্যে কোরাইশরা তাদের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি উতবা ইবনে রাবিআ’কে পাঠাল রসুলের কাছে। সে গিয়ে রসুলকে বলল, ‘মোহাম্মদ, তুমি তো আমাদেরই লোক। কত উচ্চ বংশে তোমার জন্ম তুমি তো জানই। কত পুরনো খান্দানী ঘর তোমাদের। তুমি তোমার জাতির কাছে এসেছো এক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়ে। কিন্তু তুমি তাদের জীবনধারাকে উপহাস করছো, বলছো তারা নাকি অবিশ্বাসী। আমার কথা শোনো। কতগুলো প্রস্তাব এনেছি। এর যে কোনোটা তুমি গ্রহণ করতে পার।’’ রসুলাল্লাহ প্রস্তাবগুলো শুনতে চাইলেন। সে বলল ‘তুমি যদি টাকা চাও তোমাকে মক্কার সবচেয়ে বিত্তশালী লোক বানিয়ে দিব, যদি নারী চাও তবে কোরাইশদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বিয়ে করতে পার। আর যদি ক্ষমতা চাও, তবে তোমাকে আমাদের বাদশাহ বানিয়ে দিব।’’ এ প্রস্তাবের জবাবে আল্লাহর রসুল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন যে, তিনি দৌলত চান না, নারী চান না এবং তিনি সাম্রাজ্যের ভিখিরিও নন। তিনি আল্লাহর বার্তাবাহক। তিনি এমন উপদেশবাণী নিয়ে এসেছেন যা গ্রহণ করলে সবারই ইহকাল ও পরকাল শান্তিপূর্ণ হবে। 
রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করা ও ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়া যে এক জিনিস নয় তা বুঝতে এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি বিশেষভাবে মূল্যায়নের দাবি রাখে। যারা হেকমতের দোহাই দিয়ে অনায়াসে ইসলামের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে আর দশটা রাজনৈতিক দলের মত যে কোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করেন, তাদের বোঝা উচিত যে, মক্কার মোশরেক নেতারা যখন রসুলকে আরবের বাদশাহ বানাতে প্রস্তাব দিয়েছিল এই শর্ত্তে যে, তিনি (সা.) তাদের দেব-দেবীগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলবেন না, তখন তিনি ‘হেকমতের’ কথা চিন্তা করলে এই ভাবতে পারতেন যে, আরবের বাদশাহ হলে আমি যা করতে চাই তা অনেক সহজ হয়ে যাবে। কারণ তখনকার দিনের বাদশাহী আজকের দিনের বাদশাহদের মত ছিলো না, তখনকার দিনের রাজা-বাদশাহরা ছিলেন সর্বেসর্বা, তাদের হুকুমই ছিলো আইন। মানুষের প্রাণের মালিক ছিলেন রাজা-বাদশাহরা। হাজার মানুষের মাথা কাটার হুকুম দিলেও তা বিনা প্রশ্নে কাটা হতো। (চলবে)

(পর্ব ০৮)

১৪ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. Habib Bin Abdus Sobhan

    খুবই যুক্তিসংগত লেখা ভাই।

  2. মাহফুজ

    মানুষকে ন্যায়-অন্যায়ের জ্ঞান দান এবং ন্যায় ও সত্যের পথে ঐক্যের আহ্বান জানানোর ব্যাপারে তো কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু সম্পূর্ণ কোরআন নাযিল হয়ে যাওয়ার পরও দুষ্টের দমনে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু শিষ্টের পালন করলেই কি তা ইসলাম কায়েমের জন্য যথেষ্ট হবে?

    1. ২.১
      মোহাম্মদ আসাদ আলী

      @ মাহফুজ

      কোর’আন নাজেল হয়ে গেছে মানে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করার ব্যাপারে মো’মেনদের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়ে গেছে। তারা আর এই দায়িত্ব থেকে পলায়ন করতে পারবে না। কিন্তু যখন আপনি বাস্তব জীবনে এই দায়িত্ব পালন করতে যাবেন তখন ঐ দায়িত্ব পালনের যে পূর্বশর্তগুলো আল্লাহর রসুল তথা মোমেনরা ১৪০০ বছর আগে পূরণ করেছিলেন আপনাকেও তা পূরণ করে আসতে হবে। কোর’আন একবারে নাজেল হতে পারত, কিন্তু হয় নি। কোর’আন নাজেল হয়েছে প্রয়োজন অনুসারে। আল্লাহর রসুল যেদিন নবুয়্যত লাভ করলেন সেদিনই যদি তাঁকে সমগ্র কোর’আন দিয়ে দেয়া হত, তবে তিনি সমগ্র কোর’আনের বাস্তব প্রয়োগ ঘটাতে পারতেন কি? পারতেন না। আজকে কালের একটি বিন্দুতে দাঁড়িয়ে আমরা যদি রাতারাতি কোর’আন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখি, তবে সেটা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য। দীর্ঘ ১৩ বছর যাবৎ ন্যায়-অন্যায়, ধর্ম-অধর্ম, সত্য-মিথ্যার জ্ঞান দেওয়া ও আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানানোর ফলস্বরূপ এমন একটি অবস্থা সৃষ্টি হলো যে, কোর’আন তথা আল্লাহর হুকুম মোতাবেক জীবনযাপন করার জন্য একটি জাতি মানসিকভাবে প্রস্তুত হলো। তারা সিদ্ধান্ত নিল- আমরা আল্লাহ যা বলেন, আল্লাহর রসুল যা বলেন সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করব। অতঃপর আল্লাহ একের পর এক কোর’আনের বিধানগুলো দান করেছেন এবং আল্লাহর রসুল তার বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। আমাদের কাছে তেমন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ জাতি কই? নেই এবং যেহেতু নেই সুতরাং আগে ঐ শর্তটি পূরণ করাই আমাদের ধ্যান-জ্ঞান হওয়া উচিত। তা না করে গরমকালে এসে যতই শীতের ওয়াজ করুন লাভ হবে না। যেখানে মানুষ ইসলাম নাম শুনলে আৎকে উঠে, যেখানে আল্লাহু আকবার বলে নিরীহ মানুষ জবাই দেওয়া হয়, রাতের আধারে জেহাদী জোশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়, লুটপাট করা হয়, সেই সমাজের মানুষকে আগে জানাতে হবে ইসলামী কী, কেন, কীভাবে। জানাতে হবে কোনটা ধর্ম কোনটা অধর্ম। জানাতে হবে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা। যতদিন তাদের কাছে সত্য-মিথ্যা স্পষ্ট না হচ্ছে, ন্যায়-অন্যায় স্পষ্ট না হচ্ছে, ধর্ম-অধর্ম স্পষ্ট না হচ্ছে ততদিন কোরআনের আইন, ইসলামের শাসন- ইত্যাদি প্রসঙ্গ টানাটাই অবান্তর। আশা করি বোঝাতে পেরেছি।

  3. কিংশুক

    আপনার এক লেখায় বলেছিলাম এ কমেন্টই শেষ কমেন্ট। কিন্তু বাধ্য হয়ে আবার একটি কমেন্ট করতে হচ্ছে ।এক লেখাটি  সম্পূর্ণ মাথা মোটা জংগিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া অবার্চিনের লেখা। হাবীবুল্লাহ,সাইয়েদুল আম্বিয়া, আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হযরত মোহাম্মদ সাঃ কে যখন দুনিয়াতে পাঠানো হয় তখন সারা দুনিয়ায় তাওহীদ হারিয়ে গিয়ে প্যাগানরাতো অবশ্যই এমনকী খ্রিস্টান, ইহুদিরাও শিরকে লিপ্ত হয়েছিল,  তাদের তাওহিদি কালামুল্লাহ পরিবর্তন করে দিয়ে নিজেদের মনমতো অনেক কিছু সংযোজন বিয়োজন করে নিয়েছিল। আল্লাহ্ দেওয়া বিধিবিধান অমান্য করে চলতো। এসব কারনে তাওহিদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও দ্বিন কায়েমের জন্য শ্রেষ্ঠ নবী, নবীদের নবী হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর আগমন ঘটেছিল। কোরআন, হাদিসের কোথাও সূস্পষ্ট ভাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য নবী সাঃ এর আগমনের উল্লেখ নাই বরং কোরআন হাদিসের বারংবার  আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য মানা , হযরত মোহাম্মদ সাঃ কে সত্য নবী রাসূল হিসাবে বিশ্বাস করা, ঈমান আনা ও সৎ কাজ করার নির্দেশ ও তাতেই জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে । সমাজে দ্বিন কায়েম হলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম কায়েম হতেও পারে নাও হতে পারে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম কায়েমের মিশন শুধু হাবীবুল্লাহ সাঃ কেনো কোনও নবীরই ছিল না । ছিল তাওহিদ প্রতিষ্ঠা ও দ্বিন কায়েমের মিশন। মাথা মোটা জংগিগুলা এক লাফে গাছের মগডালে উঠতে চায়।এখন তো সারা বিশ্বে দেড়শো কোটি তাওহিদে বিশ্বাসি মুমিন রয়েছে । তাদের অধিকাংশই অতি পাপী বান্দা। তাতে তারা কাফের হয়ে যায়নি, গুনাগার মুসলমান হয়েছে ।এখন দেড়শো কোটি মুসলমানের বিশ্বের সাথে তাওহিদ কি তাই না জানা হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর জামানার এমন তুলনা কোনও বিজ্ঞ ব্যক্তি করতে পারেনা। বর্তমান বিশ্বে মুসলিমদের যতো দূর্গতি এর অন্ততঃ অর্ধেকের জন্য   দায়ী অতি পন্ডিত খালি কলসী কুমিরকে নদীতে নামানো জংগি ছাগলরা। 

  4. মোহাম্মদ আসাদ আলী

    . . . এসব কারনে তাওহিদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও দ্বিন কায়েমের জন্য শ্রেষ্ঠ নবী, নবীদের নবী হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর আগমন ঘটেছিল।

    আমার লেখাতেও তো এই কথাই বোঝানো হয়েছে। নিচের লাইনটি খেয়াল করুন- 

    . . .তিনি জানতেন মানুষ যদি তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় অর্থাৎ আল্লাহর সার্বভৌমত্ব গ্রহণ করে নেয়, তাহলে আর কাউকে বলে বলে সংশোধন করা লাগবে না। 

    তাহলে আপনি আমার লেখায় কী ভুল পেলেন? আবার আপনি বলেছেন-

    … কোরআন, হাদিসের কোথাও সূস্পষ্ট ভাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য নবী সাঃ এর আগমনের উল্লেখ নাই 

    এবার আমার লেখা থেকে নিচের লাইনটি খেয়াল করুন- 

    রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করা ও ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়া যে এক জিনিস নয় তা বুঝতে এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি বিশেষভাবে মূল্যায়নের দাবি রাখে।

    অর্থাৎ আমার লেখাতেও এটা পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে যে, প্রচলিত অর্থে ইসলামী রাষ্ট্র বলতে যা বোঝানো হয় বিশ্বনবীর আগমনের উদ্দেশ্য সেটা ছিল না। আমি তো আপনার বক্তব্য আর আমার বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্টত সাংঘর্ষিক কিছু খুঁজে পাচ্ছি না, অথচ আপনি আমাকে আক্রমণ করে এতগুলো লাইন লিখে ফেলেছেন। আমার এই লেখায়, শুধু এই লেখায় নয়, আমি সারা জিন্দেগীতে যত লেখা লিখেছি তার মধ্যে িএকটি লেখাও কি দেখাতে পারবেন যেটা একজন মানুষকে জঙ্গি হবার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করে? পারলে দেখান। আর যদি দেখাতে না পারেন তাহলে ‘‘জঙ্গিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া অর্বাচীনের লেখা’’- এ কথা প্রত্যাহার করুন। 

     

    আর একটি কথা, আপনি আমার পোস্টগুলোতে কমেন্ট না করলে আমার লেখালেখি বৃথা হয়ে যাবে না। আল্লাহ হাফেজ।

    1. ৪.১
      মাহফুজ

      @ কিংশুক ও মোহাম্মদ আসাদ আলী,

      *গ্রীক দার্শনিক এরিষ্টটলের মতে- "স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনের জন্য কতিপয় পরিবার ও গ্রামের সংগঠনে গঠিত সংগঠনই রাষ্ট্র।"

      *মার্কিন প্রেসিডেন্ট উইলসনের মতে- “মানবজাতির অংশ বিশেষকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে দেখা গেলে তাকে রাষ্ট্র বলে।”

      *রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে- "রাষ্ট্র হচ্ছে সরকার প্রণীত আইন দ্বারা পরিচালিত একটি সংগঠন, যার কর্তৃত্বমূলক ক্ষমতা রয়েছে এবং যা নির্দিষ্ট ভূখন্ডে বসবাসরত নাগরিকদের উপর বলবৎ হয়।"

      *অধ্যাপক গার্নারের মতে- "রাষ্ট্র হল বহুসংখ্যক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত এমন এক সমাজ, যা  বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত এবং যাদের সুসংগঠিত সরকার আছে, যে সরকারের প্রতি ঐ জনসমাজ স্বভাবতই অনুগত।"

      সুতরাং রাষ্ট্র-বিজ্ঞানের পরিভাষায় সার্বিক বিচারে রাষ্ট্রের উপাদান মোট চারটি-

      ১) নির্দিষ্ট ভূখন্ড, ২) স্থয়ী জনসমষ্টি, ৩) সরকার ও ৪) সার্বভৌমত্ব।

       

      হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আরব ভূখণ্ডের মাঝে  যে (উম্মত) সম্প্রদায়/ জনসমষ্টি/ জাতির প্রতিনিধিত্ব করতেন তার মাঝে উপরে উল্লেখিত এই উপাদানগুলোর কোন কমতি ছিল কি?

      যদি না থাকে তাহলে তিনিও পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত জীবন বিধানের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন যে রাষ্ট্রটি কায়েম করেছিলেন সেটিকে ইসলামি রাষ্ট্র বলা যেতেই পারে।

      সুতরাং ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যাবেই না এমন কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। বর্তমানেও যদি কোন ভূখণ্ডের মুসলিম জনগোষ্ঠি পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত জীবন বিধানের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য সচেষ্ট থাকেন, তাতে নিশ্চয় কোন বাধা থাকার কথা নয়। আর যদি তা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন, তাহলে সেটিকেও ইসলামি রাষ্ট্রই বলা হবে।

      1. ৪.১.১
        মোহাম্মদ আসাদ আলী

        সুতরাং রাষ্ট্র-বিজ্ঞানের পরিভাষায় সার্বিক বিচারে রাষ্ট্রের উপাদান মোট চারটি-

        ১) নির্দিষ্ট ভূখন্ড, ২) স্থয়ী জনসমষ্টি, ৩) সরকার ও ৪) সার্বভৌমত্ব।

        বিশ্বনবী যে জাতিটি গঠন করেছিলেন তার কোনো ‘নির্দিষ্ট’ ভূ-খণ্ড ও ‘স্থায়ী’ জনসমষ্টি ছিল না এবং এই না থাকাটাই স্বাভাবিক। কেননা তিনি এসেছেন সমস্ত মানবজাতির জন্য, সমগ্র পৃথিবীর জন্য। তিনি যে সত্য এনেছেন তা যতদিন সমগ্র পৃথিবীময় প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন তাঁর উপাধি ‘রহমাতাল্লিল আলামিন’ অর্থবহ হয় না। রাষ্ট্র কথাটি এলেই নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও নির্দিষ্ট জনগনের প্রসঙ্গ  এসে পড়ে। ইসলামী রাষ্ট্র বলতে বর্তমানে যা বোঝানো হয় তাও রাষ্ট্রের প্রচলিত সংজ্ঞার ভেতরেই ঘুরপাক খায়, এর ঊর্ধ্বে উঠতে পারে না। অথচ ইসলাম হচ্ছে সার্বজননীন বা বৈশ্বিক দ্বীন। আমি ইসলামী রাষ্ট্র কথাটির বিরোধিতা করছি কোন দৃষ্টিকোণ থেকে আশা করি বোঝাতে পেরেছি।

      2. মাহফুজ

        হাঁ অবশ্যই তিনি ‘রহমাতাল্লিল আলামিন’। তবে প্রাথমিক অবস্থায় তিনি যে আরব ভূখণ্ডের মধ্যেই পবিত্র কোরআনের জীবন বিধান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেটাও তো সত্য। কেউ এই ঐতিহাসীক সত্যকে অস্বীকার বা বিরোধীতা করতে চাইলেই তা মিথ্যা হয়ে যাবে না। তবে তাঁর সেই বিশ্বজনিন রাষ্ট্রের সুবাতাস সর্বত্র সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হলে এ পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা মুসলিমদেরকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় মুহাম্মদ (সাঃ) এর আমলে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ইসলামী রাষ্ট্রটির মডেল অনুসারে অগণিত রাষ্ট্র গড়ে তোলার সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে। এক সময় সেই অগণিত রাষ্ট্র একত্রে মিলিত হয়ে এক সুবিশাল ইসলামি রাষ্ট্র গঠিত হতেই পারে।

      3. কিংশুক

        আপনার সাথে একমত। আল্লাহ্ তায়ালাই রাজত্ব দেওয়ার মালিক। তিনি তাঁর হাবীবকে নবুওয়াত,রিসালাত ও মদিনা-মক্কার রাজত্ব দান করেছিলেন । তবে ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় গতানুগতিক কোনও রাজা হওয়া যায়না। মুসলমান দের নেতা হওয়া যায় যিনি আল্লাহর বান্দা হিসাবে,  খলিফা হিসাবে দেশবাসীর সেবা করবেন। দেশের সম্পদের সবার সমান অধিকার থাকবে, কল্যাণ কামী রাষ্ট্র হিসাবে দরিদ্র,  এতিম, বিধবা, বেকার, বৃদ্ধদের রাষ্ট্রীয় সাহায্য,  ভাতা ইত্যাদি থাকবে। দেশের খলিফা, গভর্নর রাও দেশের দরিদ্র মানুষের সমপর্যায়ের দরিদ্রদের মতো থাকবে। মোট কথা বিলাসিতা বাদ দিয়ে প্রত্যেকের অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। এ ব্যবস্থা সাম্যবাদী কমুনিস্টদের চাইতেও সাম্যবাদী । কমুনিজমে যেমন পুঁজির শোষণ থেকে শ্রমিকের মুক্তির দিকনির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয় ইসলামি শাসন ব্যবস্থায়  মানুষকে শক্তিশালী,  বিত্তশালী মানুষের শোষন থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষের দাস না বানিয়ে আল্লাহর দাস বানানো হয়। কমুনিজমে কেবল সর্বহারা শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ব্যবসায়ী, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত কে খতম করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ইসলামি শাসনতন্ত্রে সকল শ্রেণীর মানুষের ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণ করা হয়। যে কোরআনকে আল্লাহর বানী হিসাবে বিশ্বাস করবে তাঁকে চোরের হাতকাটা,  ব্যাভিচারের  শরিয়া ভিত্তিক  শাস্তির চাইতে সেকুলার আইন বেশী মানবিক,  বেশি কার্যকরী মনে করার কোনও সুযোগ নেই । তবে ইসলামি রাষ্ট্র সন্ত্রাসের মাধ্যমে হয়না, যখন আবার সাহাবা রাঃ এর মতো ঈমানি শক্তিতে বলিয়ান আল্লাহ্ ভীরু মুসলমান তৈরি হবে তখন রাজত্ব আল্লাহ্ ই দান করবেন । যখন মুসলমানদের অধিকাংশই চোর, বাটপাড়, দূর্নীতিবাজ, ঘুষ সুদ খোর, নৈতিক চরিত্রহীন ভোগবাদী তখন এক লাখ লাদেনের পক্ষেও আল্লাহর সাহায্য পাওয়া সম্ভব হবেনা। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কস্মিনকালেও বিজয় আসবেনা।

         

  5. মাহফুজ

    @ মোহাম্মদ আসাদ আলী,
    আল-কোরআন থেকে যে নির্দেশনা পাওয়া যায়-
    সূরা আল ইমরান
    (৩:১০৪) আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা জাতি/ সম্প্রদায়/ দল থাকা উচিত যারা নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং নিবৃত্ত করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম।
    (৩:১১০) তোমরাই হলে সর্বোত্তম (উম্মত) জাতি/ সম্প্রদায়/ দল, মানুষের কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং নিবৃত্ত করবে অন্যায় কাজ থেকে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর আহলে-কিতাবরা যদি ঈমান আনতো, তাহলে তা তাদের জন্য মঙ্গলকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু তো রয়েছে ঈমানদার আর অধিকাংশই হলো পাপাচারী।          
    সূরা আত তাওবাহ
    (৯:৭১) আর মু'মিন পুরুষরা ও মু'মিন নারীরা পরস্পরের সহায়ক/ সহযোগী। তারা নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং নিবৃত্ত করবে অন্যায় কাজ থেকে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।     

    সুতরাং মু'মিন হতে হলে অবশ্যই এক আল্লাহর প্রতি ইমান আনতে হবে ও নিজে সৎ থাকতে হবে। অপরকে সৎ কাজের আহ্বান ও নির্দেশ দান এবং অসৎ কাজ থেকে নিবৃত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এর জন্য মুখ, কলম, মিডিয়া ও দুষ্টের দমনের জন্য প্রয়োজনে সাধ্যমত শক্তি প্রয়োগেরও প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া অন্য কোন থিউরি গ্রহণযোগ্য নয়।

    1. ৫.১
      কিংশুক

      একমত।

      1. ৫.১.১
        মাহফুজ

        @ কিংশুক,

        বাহ! সুন্দর বলেছেন

        ইসলামি রাষ্ট্র তথাকথিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে হয়না। তবে এরজন্য ইমানি শক্তিতে বলীয়ান হয়ে জিহাদ ও কিতাল করার জন্য মানসিক ও সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করারৈ বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রকৃত ইসলামি রাষ্ট্রে সকল অন্যায় ও অবিচার দূরীভুত হবে এবং ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। লোকদেখানো বোলচাল ও বিলাসিতা নয়, বরং মানবতা ও সকল মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

        ধন্যবাদ-

      2. কিংশুক

        একমত।

  6. Reza Ahmed

    আইএস কি ইসলামী রাষ্ট্র? কেন নয়?? পরিস্কার করে বলবেন। ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।