«

»

জানু. ১৭

রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে কি আলাদা করা সম্ভব?

download

গতকাল একটি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বললেন, ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করতে হবে। ধর্ম থাকবে মনের ভেতরে এবং মসজিদের মত পবিত্র জায়গায়। তাই রাষ্ট্রীয় অঙ্গনে ধর্মের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। তাহলেই নাকি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে মুক্ত করার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ যদি গড়া যায় তাতে আমার আপত্তি থাকার কথা নয়। আমিও চাই এমন একটি সমাজ, এমন একটি জাতি, যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, ঘৃণা ও বিদ্বেষের চর্চা হবে না। সকল ধর্মের মানুষ সম-অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বেঁচে থাকবে। কিন্তু একটি বিষয় আমার বুঝে আসে না ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করা হবে কীভাবে?

সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণা প্রথম গৃহীত হয় ইউরোপে ষোড়শ শতাব্দীতে। আর আমাদের উপমহাদেশে তা আমদানি হয় ঔপনিবেশিক আমলে, ইংরেজদের মাধ্যমে। সেই ষোড়শ শতাব্দী থেকে আজকের দিনটি পর্যন্ত রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক রাখার প্রচেষ্টা কিন্তু কম হয় নি। মনে করা হয়েছিল রাষ্ট্রটা ধর্মমুক্ত করে ফেলতে পারলেই ধর্ম কোণঠাসা হয়ে পড়বে সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে। তারপর সময়ের সাথে সাথে পুরোপুরি হারিয়ে যাবে। তা যে হয়নি, বরং বর্তমানে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলোই যে কোনঠাসা অবস্থায় উপনীত হয়েছে, আর ধর্ম রূপ নিয়েছে পৃথিবীর এক নম্বর ইস্যুতে তা বলাই বাহুল্য। আজকে ইউরোপের প্রত্যেকটি রাষ্ট্র ধর্ম ইস্যুতে উন্মাতাল। জ্বলছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ক্ষমতায় বসেছে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। আর যে আমেরিকা সারা বিশ্বের মানুষকে মানবাধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতার ছবক দিয়ে বেড়াত, সে দেশের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা এখন বড় অনুঘটকে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ গত চারশ’ বছরের প্রচেষ্টা কার্যত নিষ্ফল হয়েছে এ কথা বলাই যায়। এর কারণ কী?

আসলে সেক্যুলারিজমের তত্ত্ব সফল করতে হলে মানুষকে পুরোপুরি ধর্মহীন করে ফেলতে হবে। কিন্তু মানুষকে ধর্মহীন করার প্রচেষ্টা সফল হবার নয়। কারণ দেহ-আত্মার সমন্বয়ে মানুষ। দেহের চাহিদা পূরণ করাই তাই যথেষ্ট নয়, তার আত্মিক চাহিদাও পূরণীয়। যুগ যুগ ধরে মানুষের এই আত্মিক চাহিদা পূরণ করে আসছে ধর্ম। আমাদের ভারতবর্ষের কথাই ধরা যাক। এখানকার মানুষের রক্তের কণিকায় মিশে আছে ধর্মবিশ্বাস। তাদের চিন্তা-চেতনা ধর্মকেন্দ্রিক। তারা উপোস থেকে দিনের পর দিন কাটাতে পারে, কিন্তু ধর্মবিশ্বাস ছাড়তে পারে না। এখানকার সংস্কৃতি, রীতি-নীতি, প্রথা-পরম্পরা, ইতিহাস-ঐতিহ্য সবকিছুর সাথে ওতোপ্রোতভাবে ধর্ম জড়িয়ে আছে। প্রাগৈতিহাসিক আমল থেকে তারা ধর্মের অনুশাসন মেনে অভ্যস্ত। পাশ্চাত্যের মানুষগুলোর মত তারা পার্থিব উন্নতিকেই জীবনের একমাত্র সফলতা মনে করে না। জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই তাদের শেষ কথা নয়। পাশ্চাত্যের গর্বের বিষয় যদি হয় আধুনিক প্রযুক্তি, প্রাচ্যের গর্বের বিষয় তাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী ধর্মাদর্শ। তাদের কাছে দুনিয়ার চেয়ে পরকাল দামী। তারা স্রষ্টার সান্নিধ্য চায়, আত্মার পরিতৃপ্তি চায়। ধর্ম তাদের এই চাহিদা পূরণ করে, আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি দান করে। এ কারণে কয়েক শতাব্দীর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মবিশ্বাসে এতটুকু চিড় ধরে নি। উল্টো সেক্যুলারিজমের হালে পানি নেই আজ।

রাষ্ট্রকে ধর্মমুক্ত করবেন কীভাবে যখন রাষ্ট্র চালায় জনপ্রতিনিধিরা, আর জনপ্রনিধি নির্বাচন করে ধর্মবিশ্বাসী ভোটাররা। সেই ভোটারদেরকে মই হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো। মানুষের ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হয়। একই ধর্মনিরপেক্ষ সিস্টেমের অধীনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া সত্ত্বেও ধর্মভিত্তিক দলগুলো খাঁটি মো’মেন বনে যায়, আর অন্যান্য দলগুলোকে বলা হয় কাফের। তারা অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর মতই হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও, পোড়াও, ভাঙচুর করে তার নাম দেন জিহাদ, আর ভোটযুদ্ধের ব্যালট পেপারকে বলেন জান্নাতের টিকিট। অর্থাৎ যে ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে পরিত্যাগ করে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে নির্বাসন দেয়া হয়েছিল তা আর ব্যক্তিগত জীবনে থাকল না। রাষ্ট্র যখন ধর্মকে অবজ্ঞা করে দূরে সরিয়ে দিল, সেটাকে লুফে নিল ধর্মব্যবসায়ীরা। রাষ্ট্র যখন মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে সঠিক খাতে কাজে লাগাল না, ধর্মব্যবসায়ীরা তখন সেটাকে নিজেদের স্বার্থোদ্ধারের মাধ্যম বানিয়ে নিল। মানুষ ধর্মের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। মানুষের ঈমান এক মহাশক্তি। সেই মহাশক্তিটি উঠে গেল একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর হাতে।

আজ পর্যন্ত ধর্মের নামে যত দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়েছে, নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরেছে, সবকিছুর ঘুড়ির নাটাই ছিল এই গোষ্ঠী। তারা বিভিন্ন ইস্যুতে ইত্তেজনার পারদ চড়ায়, ইসলাম গেল ইসলাম গেল জিগির তুলে মানুষকে উন্মাদনায় মাতায়, জ্বালাও-পোড়াও-ভাঙচুর করে, পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তবু রাষ্ট্র তাদেরকে তোয়াজ করে চলতে বাধ্য হয় কারণ ঐ ঈমান নামক মহাশক্তি তাদের হাতে। তাহলে রাষ্ট্র সেক্যুলার থাকতে পারল কি?

আবার যারা সেক্যুলারিজমে বিশ্বাসী বলে নিজেদের দাবি করেন তাদেরকে কিন্তু দিনশেষে ধর্মবিশ্বাসী মানুষের কাছেই যেতে হয়। মানুষের নার্ভ বুঝতে হয়। জনগণকে বোঝাতে হয় আমরা ধর্মের বিপক্ষের শক্তি নই, আমরাও ধর্ম মানি। এই দ্যাখো আমরা নামাজ পড়ছি, হজ্বে যাচ্ছি, ইজতেমার মুনাজাতে অংশ নিচ্ছি, পীরের মাজারে যাচ্ছি, কোর’আন তেলাওয়াত করছি ইত্যাদি। নেতার ধর্মকর্মের ছবি প্রচার করেন কর্মীরা। ধর্মবিশ্বাসী মানুষের সাথে ধার্মিকতার এই অভিনয় না করলে তারা ভোট পাবেন না। কারণ তাদের বিরুদ্ধে ধর্মভিত্তিক দলগুলো তো কাফের, নাস্তিক ফতোয়া দিয়েই রেখেছে। এই ফতোয়ার আঘাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য তারা কেউ রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করেন, কেউ সংবিধানে আল্লাহর নাম লেখেন, কেউ মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। সেক্যুলার রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা মসজিদ-মাদ্রাসা-মন্দির কমিটির সভাপতি হন, সদস্য হন। তাহলে রাষ্ট্রকে ধর্মের বাইরে রাখা গেল কি?

সত্য হচ্ছে- রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করা যায় নি, যাবেও না। মাঝখান থেকে সাধারণ মানুষ কেবল প্রতারিত হচ্ছে। প্রতারিত হচ্ছে ধর্মভিত্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষ উভয়পক্ষের কাছেই। এই প্রতারণার ইতি টানতে হবে এখন। মানুষকে ব্যাপকভাবে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা দিতে হবে। তাদের ঈমানকে আর ভুল খাতে প্রবাহিত হতে দেওয়া যাবে না। ঈমান নামক মহাশক্তিকে ফেলে রাখা উচিত হবে না। মানুষের ঈমানকে আর খাটো করে দেখার অবকাশ নেই, অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। বরং ঈমানকেও রাষ্ট্রের কল্যাণে, মানবতার কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। 

ধর্ম এসেছে মানুষের কল্যাণের জন্য। যারা ধর্মকে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ইত্যাদি স্বার্থ হাসিল করে, অকল্যাণ ঘটায়, মানবতার ক্ষতি করে তারা যে ধর্মের পক্ষশক্তি নয় সেটা সাধারণ মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে। মানুষ আল্লাহর খলিফা। আল্লাহ যেমন সারা সৃষ্টিজগতকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত করেন, মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে তেমনি শান্তিপূর্ণভাবে পৃথিবীকে পরিচালনা করা। এটাই মানুষের এবাদত। কাজেই যে কাজে, যে কথায়, যে আচরণে, যে সিদ্ধান্তে সমাজের শান্তি নষ্ট হয়, মানবতা ক্ষতিগ্রস্থ হয় সে কাজ ইসলামের কাজ হতে পারে না- এই বোধ সাধারণ ধর্মবিশ্বাসী মানুষের মধ্যে জাগ্রত করতে হবে।

এই যে এতকিছু করতে হবে বলছি, করবেটা কে? আসলে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে রাষ্ট্রকেই। আমরা হেযবুত তওহীদ আমাদের সাধ্য মোতাবেক চেষ্টা করছি মানুষকে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা দিতে। এখন রাষ্ট্রকেও এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্র যদি এখনও ধর্মকে অবজ্ঞা করে দূরে সরিয়ে রাখে তাহলে রাষ্ট্রেরও ক্ষতি ধর্মেরও ক্ষতি। আর যদি ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা দিয়ে ধর্মবিশ্বাসী জনগণকে যাবতীয় ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে তাহলে রাষ্ট্রেরও লাভ, ধর্মেরও লাভ। তখন রাষ্ট্রকে আর ধর্মবিশ্বাসী মানুষ নিয়ে চিন্তিত থাকতে হবে না, ধর্মবিশ্বাসী মানুষও রাষ্ট্রকে শত্রু মনে করবে না। রাষ্ট্র ও ধর্ম উভয়েরই লক্ষ্য হবে কেবলই মানবতার কল্যাণ।

২২ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    খৃষ্টান ধর্মের নামে যা হচ্ছিলো তাতে রাষ্ট্রকে তাদের প্রভাব মুক্ত করা জরুরী ছিলো। সেইটা অবশ্যই ইউরোপে কার্যকরী হয়েছে। সমস্যা হচ্ছে উদোর পিন্ডি বুঁদোর ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে সেকুলারিজমের নামে – গ্যালিলিওর ঘটনাকে ব্যবহার করার হচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে – প্রকৃতপক্ষে ইসলামই জ্ঞান চর্চার পক্ষে সবচেয়ে জোরালো অবস্থানে আছে। যদিও দেখা যায় জ্ঞানে অভাবে অনেক মুসলিম পন্ডিত জ্ঞান বিজ্ঞানে চর্চার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন – যা বিপজ্জনক ভাবে খৃষ্টান পন্ডিতদেরই অনুকরন মাত্র।

    রাষ্ট্র ধর্ম থেকে আলাদা করার চেয়ে বরঞ্চ ধর্মকে মুল থেকে বিচ্ছিন্ন করে শুধুমাত্র সংস্কৃতি এবং উৎসবে পরিনত করে রাষ্ট্রের অংশই করা হয়েছে এবং হচ্ছে। যেমন ইসা (আঃ) এর শিক্ষা থেকে খৃষ্টিয়ানিটি আলাদা করে খৃষ্টমাস, ইস্টার ইত্যাদি পালন হয়ে বিপুল উৎসাহে এবং প্রধান বানিজ্যিক উৎসব হিসাবে। তেমনি বাংলাদেশেও দেখি গরু কোরবানী বা ইফতার পার্টির রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্টতা – যা ইসলাম থেকে আলাদা করা হচ্ছে মুসলিমদের। দেখবেন ইসলামে আপত্তি থাকলেও ঈদের নাটক বানানো আর বাণিজ্যে আপত্তি নেই নাস্তিকদেরও।

    যাই হোক – আপনি মনে হয় হিজবুত তাওহীদ নামে একটা সংগঠনের পক্ষ প্রচারনায় নেমেছেন। এইটা আমার মতে বিভক্তির জন্ম দেয়। যখন কেউ একদলকে সঠিক বলে – কার্যত অন্য গোষ্ঠিকে বেঠিক বলা হয় – এইটা বিপজ্জনক কাজ – কারন বিচারের মকো কঠিন কাজটা করার চেয়ে নিজেদের কাজের উপরই গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে বিবেচনা করা সঠিক মনে করছি।
    ধন্যবাদ।

  2. করতোয়া

    রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে যেমন আলাদা করা সম্ভব না তেমনি ধর্ম থেকে মানুষকেও আলাদা করা সম্ভব না। তার প্রমান এ্যামেরিকা। আসছে ২০ শে জানুয়ারীতে বিশ্বের সবাই দেখবেন যে কিভাবে সকুলার এ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট সেকুলার “বাইবেল” এর উপর হাত রেখে শপত নেন। রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করার প্রকল্পটা আসলে স্বল্প কিছু মানুষ কর্তৃক সংখ্যাগোষ্ঠী মানুষের অধিকারকে জোড়পূর্বক দাবিয়ে রাখার একটা প্রপাগান্ডা। সেকুলার যেমন ইউরোপে সাকসেস হতে পারেনি বরং ধর্মীয় ফ্যানাটিজমকে উৎসাহিত করেছে, তেমনি এ্যামেরিকাতেও। বাংলাদেশেও এটা দিন দিন বাড়ছে বৈ কমছে না।

  3. মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যটি করার জন্য। প্রথম দুই প্যারার সাথে পূর্ণ সহমত, তবে শেষের প্যারায় আপত্তি আছে। আমি হেযবুত তওহীদের প্রচারণায় নামি নাই। এই ব্লগে আমার অনেকগুলো লেখা পোস্ট করেছি। তার মধ্যে অধিকাংশ লেখাতেই হেযবুত তওহীদের নাম নেই। বাকি যেই লেখাগুলোয় হেযবুত তওহীদের নাম আছে সেখানে হেযবুত তওহীদে যোগদান করার জন্য কাউকে আহ্বান করা হয় নাই, কেবল হেযবুত তওহীদ কী করে, কী বলে এক কথায় হেযবুত তওহীদের বক্তব্য কী সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি বিভিন্ন সময় এবং তার দরকার আছে বলেই করেছি। হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে অনেক অপপ্রচার চালু রয়েছে। যারা অপপ্রচারগুলো ছড়ায় এবং যারা তাতে বিভ্রান্ত হয় তাদের প্রায় সবাই না জেনে, না বুঝে এসব করে। সে সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, হেযবুত তওহীদের বক্তব্য পরিষ্কারভাবে যাতে মানুষ বুঝতে পারে সেজন্যই কোনো কোনো পোস্টে হেযবুত তওহীদের নাম টানতে হয়। এতে অন্যায়ের কিছু দেখি না।

    আপনি বলেছেন কেউ যখন একদলকে সঠিক বলে, কার্যত অন্য গোষ্ঠীকে বেঠিক বলা হয়।

    আমার প্রশ্ন হলো- তাই বলে দুনিয়ায় ন্যায়-অন্যায়ের বাছ-বিচার থাকবে না? সত্য-মিথ্যার পার্থক্য থাকবে না? ন্যায়কে ন্যায় বলব না? অন্যায়কে অন্যায় বলব না? ন্যায়-অন্যায়ের দ্বন্দ্বে আমি যেটাকে ন্যায় মনে করব তার পক্ষাবলম্বন করব না? সবাই তো ন্যায় (আপনার ভাষায় সঠিক) হতে পারে না, তাই নয় কি?

  4. মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @করতোয়া,

    রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে যেমন আলাদা করা সম্ভব না তেমনি ধর্ম থেকে মানুষকেও আলাদা করা সম্ভব না।

    সুন্দর বলেছেন। পুরো কমেন্টের সাথেই সহমত।

  5. মজলুম

    মূল কমেন্ট: আপনার এই ভন্ড দলে যোগ দেওয়ার আহবান সদালাপে লেখে কাজ হবেনা। এখানে মোটামুটি সবার ইসলাম সম্পর্কে ভালো ধারনা আছে। আপনার এই পোষ্টগুলো প্রিন্ট করে অজো পাড়া গাঁয়ে গিয়ে বিতরন করুন যেখানে সাধারন মানুষের ইসলাম সম্পর্কে ধারনা কম।

    সাইড কমেন্ট: ইউরোপের রাজারা পাদ্রীদের রাজ্যের কাজে নাক না গলানোর জন্যে বলতো ধর্ম ও রাষ্ট আলাদা বিষয়। কারন হলো পাদ্রীরা নারী ভোগ, সম্পদ আহরন ও নিজেদের মন যা চাইতো তাই করতো ধর্মের নাম দিয়ে। হোলি গোষ্টের ছোয়ায় তারাও হলি গড হয়ে যেত। তারা যা বলতো তাই খোদার কথা হতো। তারা বাইবেল কে সংযোজন বিয়োজন করতো নিজেদের মতো করে।

    কিন্তু ইসলাম ধর্মে তার সুযোগ নেই। এখানে কেউ মনগড়া কিছু বললেই তা গ্রহন করা হয় না। তা কোরান ও হাদিসস অনুযায়ী হতে হবে। এই যে আপনাদের ফেরকাবাজ ভন্ড বায়োজিদ পান্না এক নতুন ফেরকার জন্ম দিলো যার নাম হিজু তাওহিদ। সে নিজেও শিরক করছে, অন্যদেরও শিরকে লিপ্তে করছে। মানুষের বউকে ভাগিয়ে নিয়ে, সংসার ভেঙে, ছেলে মেয়ে হতে আলাদা করে ভয়াবহ পরিস্হিতির তৈরী করেছে। একগাদা বই পুস্তক, ভিডিও নিয়ে এই ফিরকার আভির্বাব, মুসলিমদের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভন্ডামী প্রচার করছে।
    এখন ভন্ড পান্না এন্ড কোং মানুষের দৌড়ানির উপর আছে। ঠিক এই কারনেই ইসলাম ধর্ম খ্রিষ্ঠান ধর্মের মতো নয় যে নতুন কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করতে হবে।

    আর শেষ কথা হলো ইসলাম চলবে তার আপন গতিতে, আমি বা আপনি সে ইসলামিক ট্টেনে উঠি বা না উঠি, আমারা সেই ট্রেইন কে হেল্প করি বা না করি। এটা আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা, সে তার ধর্মকে জীবিত রাখবেন। আমরা ইসলামিক ট্রেনে উঠলে আমাদের লাভ, না উঠলেও ইসলামিক ট্রেনের কোন ক্ষতি নেই, সে চলবেই কেয়ামত পর্যন্ত।

  6. শাহবাজ নজরুল

    আমরা হেযবুত তওহীদ আমাদের সাধ্য মোতাবেক চেষ্টা করছি মানুষকে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা দিতে।

    আপনারা ছাড়া আর কেউ কি আছেন যারা ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা দিতে পারে? এখানে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা বলতে কি ইসলামেরও প্রকৃত শিক্ষা বোঝাচ্ছেন? আরেকটি পোষ্টে আহমেদ ভাই আপনাদের গ্রূপকে ফিরকা বলেছেন। ঐখানে গিয়ে তার বক্তব্যের প্রত্যুত্তর দিচ্ছেন না কেন?

  7. মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @শাহবাজ নজরুল,

    আপনারা ছাড়া আর কেউ কি আছেন যারা ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা দিতে পারে?

    অবশ্যই আমরা ছাড়াও অনেক মানুষ থাকতে পারেন যারা ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা জানেন এবং জাতিকে সে শিক্ষা দিতে সচেষ্ট আছেন।

    এখানে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা বলতে কি ইসলামেরও প্রকৃত শিক্ষা বোঝাচ্ছেন?

    জ্বি, ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা বলতে অন্যান্য ধর্মসহ ইসলামেরও প্রকৃত শিক্ষা বোঝাচ্ছি।

    আরেকটি পোষ্টে আহমেদ ভাই আপনাদের গ্রূপকে ফিরকা বলেছেন। ঐখানে গিয়ে তার বক্তব্যের প্রত্যুত্তর দিচ্ছেন না কেন?

    যথাসময়ে প্রত্যুত্তর দেওয়া হবে।

  8. মজলুম

    জ্বি, ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা বলতে অন্যান্য ধর্মসহ ইসলামেরও প্রকৃত শিক্ষা বোঝাচ্ছি।

    অন্য ধর্মগুলো তো সম্পূর্ন বিকৃত হয়ে গেছে, সেটার আসল ফর্ম কেউ অনুসরন করতেছেনা। এখন বায়াজিদ গ্যাং ইসলামকেও সেই রাস্তায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে।

    যথাসময়ে প্রত্যুত্তর দেওয়া হবে।

    হেজবুতের সব সাঙ্গোপাঙ্গো নিয়ে কন্টেন্ট লেখায় ঝাপিয়ে পড়ুন, কানাকে হাইকোর্ট দেখানোর স্টাইলে কন্টেন্ট এনে কপি পেষ্ট করুন সদালাপে।

    ঢাকার বায়ূ দূষন, পানি দূষন, শব্দ দূষন আর যানজট নিয়ে কয়েক লাইন লিখে উপসংহারে এসে লিখবেন, সবাই দলে দলে হেজবুতে যোগ দিন তাহলে ঢাকার সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

  9. মজলুম

    জ্বি, ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা বলতে অন্যান্য ধর্মসহ ইসলামেরও প্রকৃত শিক্ষা বোঝাচ্ছি।

    অন্য ধর্মগুলো তো সম্পূর্ন বিকৃত হয়ে গেছে, সেটার আসল ফর্ম কেউ অনুসরন করতেছেনা। এখন বায়াজিদ গ্যাং ইসলামকেও সেই রাস্তায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে।

    যথাসময়ে প্রত্যুত্তর দেওয়া হবে।

    হেজবুতের সব সাঙ্গোপাঙ্গো নিয়ে কন্টেন্ট লেখায় ঝাপিয়ে পড়ুন, কানাকে হাইকোর্ট দেখানোর স্টাইলে কন্টেন্ট এনে কপি পেষ্ট করুন সদালাপে।

    ঢাকার বায়ূ দূষন, পানি দূষন, শব্দ দূষন আর যানজট নিয়ে কয়েক লাইন লিখে উপসংহারে এসে লিখবেন, সবাই দলে দলে হেজবুতে যোগ দিন তাই ঢাকার সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

  10. ১০
    মজলুম

    ব্লোক কোট হচ্ছেনা, আগের দুই কমেন্ট সহ এই কমেন্ট ডিলিট করে দিন। @ সম্পাদক

  11. ১১
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @মজলুম

    আপনার সমস্যাটা কী খুলে বলুন তো? কোথায় বলেছি হেযবুত তওহীদে যোগ দিতে হবে। হেযবুত তওহীদের প্রসঙ্গ তো আপনারাই তুলছেন বারবার। আর হেযবুত তওহীদ ইসলামকে অন্যান্য ধর্মগুলোর মত করতে চাচ্ছে এইসব অর্থহীন, যুক্তিহীন কথাবার্তা কেমনে বলতে পারেন? আপনি কি মুসলমান?

  12. ১২
    মজলুম

    @মোহাম্মদ আসাদ আলী: ফেরকাবাজরাই আমার সমস্যা। আপনার পোষ্ট গুলোর মর্মবাণীই হলো পান্না গ্যাং এর দলে যোগ দিতে হবে, কারন আমাদের ইসলাম হলো বিকৃত ইসলাম। পান্না গ্যাং এর লেখালেখিতে দেখা যায় ওরা প্রকৃত ইসলামকে বিকৃত করতে চায়। আর আপনি ৬ বছরের শিশু নন। জেনে শুনেই এই ফেরকাবাজি করছেন তাই আপনাকে বুঝানোর কিছু নেই, আপনার বিরুদ্বে আমার কমেন্ট হবে আক্রমনাত্বক। পুরান পাগলে ভাত পায়না আর নতুন পাগলের আমদানি। পুরান ফেরকাবাজদের জ্বালায় অস্হির আর পান্না গ্যাং আসছে নতুন ফেরকা নিয়ে।

  13. ১৩
    শাহবাজ নজরুল

    অবশ্যই আমরা ছাড়াও অনেক মানুষ থাকতে পারেন যারা ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা জানেন এবং জাতিকে সে শিক্ষা দিতে সচেষ্ট আছেন।

    বর্তমান বিশ্বের ৫ ব্যক্তির নাম করুন যারা হিজবুত তওহীদে নেই কিন্তু আপনার মতে সঠিক ইসলামী পথে আছেন।

  14. ১৪
    শাহবাজ নজরুল

    এখন কমেন্টে  সরাসরি ব্লককোট দেয়া যাচ্ছেনা মনে হচ্ছে। তবে ব্লককোটের HTML কন্সট্রাক্ট ব্যবহার করে দেখতে পারেন –

    "<blockquote>" কমেন্ট "</blockquote>" [কোটেশন মার্ক বাদ দেবেন ]

  15. ১৫
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @ শাহবাজ নজরুল, সারা দেশে আমাদের বক্তব্য শোনার পর লক্ষ লক্ষ মানুষ আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে যাবতীয় ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন। তারা হেযবুত তওহীদে যোগ দেন নি, যোগ দিতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতাও তাদের সামনে তুলে ধরি নাই আমরা। কেবল একটি বিষয় তাদেরকে বলে দিয়েছি- আপনারা যে সত্য জানলেন সেটা অন্যদেরকে জানাবেন। আপনারা যাবতীয় ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, অন্যদেরকেও ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সংগ্রাম করবেন। আমরা মনে করি এই লক্ষ লক্ষ মানুষ সঠিক ইসলামে আছেন।

  16. ১৬
    শাহবাজ নজরুল

    আপনি আমার প্রশ্ন বুঝতে পারেন নাই। আমি প্রশ্নটা আরেকটু গুছিয়ে বলছি। ৫ জন লোকের নাম যখন চেয়েছি তার মানে এই নয় যে ৫ জন আমি জনতার নাম চেয়েছি। আমি ৫ জন মাশহুর আলেমের নাম চেয়েছি – যারা বলেছেন হিজবুত তাওহীদের পথ সঠিক। যেমন ধরেন, জাকির নায়েক, শেখ কারাদাওয়ী, শেখ উথাইমিন, শেখ বিন বাজ, শেখ হামজা ইউসুফ … প্রমুখ, কিংবা অন্তত সুন্নি স্কুলের authority হিসেবে পরিচিত যেকোনো ৫ জন।

    পরন্তু যে লিংক দিলেন তাতে মঞ্চে মনে হয়না হিজবুত তওহীদের লোক ছাড়া কাউকে দেখা যাচ্ছে।

  17. ১৭
    মজলুম

    @শাহবাজ নজরুল: সে কি জবাব দিবে, ওর জ্ঞান তো কপি পেস্ট। ওর বসেরা যেই সব কন্টেন্ট দেয়, ঐ গুলোই কপি পেষ্ট করে।

  18. ১৮
    মজলুম

    @মোহাম্মদ আসাদ আলী: শিয়ালে কুমিরের একটা বাচ্ছাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়ে ৭ টা বানানোর মতো হেজবুতে লকখো! লকখো! লোকের সমাবেশ।

  19. ১৯
    মহিউদ্দিন

    @ মজলুম ভাই,
    আপনি ঠিকই বলেছেন এরা ইসলাম বুঝে না।
    মুসলিমদের কোন এক যুগের বিপর্যয়ের কাহিনী বা অবস্থাকে আবেগ জড়িয়ে মাতম করে ইসলামকেই বদলিয়ে দিতে বা ইসলামের নামে ফিতনা তৈরিতে তৎপর কোন গোষ্ঠিকে কোন অবস্থায় সমর্থন করা যায় না।

    আসলে এ দুনিয়ায় আবহমান কাল থেকে সত্য মিথ্যার সংগ্রামের প্রকৃতি এবং মানুষের জীবনের উত্তান পতন ইত্যাদির ধারনা ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে কিভাবে যাচাই করতে হবে বা বুঝতে হবে সে যোগ্যতা যে নাই সেটাই এদের লিখনিতে প্রকাশ পায়। 

    বান্দার ভুলের জন্য আল্লাহ তাকে পরীক্ষায় ফেলতে পারেন। এটা ব্যক্তি পর্যায়ে যেমন হয় তেমনি সমষ্টিগত জীবনেও হতে পারে। তাই বলে আল্লাহ আমাদের অভিভাবকত্ব ছেড়ে দিয়েছেন ভাবা হবে কুফরি চিন্তা । 

    "But when He tries him and restricts his provision, he says, "My Lord has humiliated me." (৮৯-১৬ আল ফজর)

  20. ২০
    মজলুম

    @মহিউদ্দিন: মুসলিমদের বর্তমান অবস্হা বর্ননা করে কয়েক লাইন আবেগী লেখা লিখে উনাদের দলে মানুষদের ভেড়ানোর চেষ্টা। গনহারে সব মুসলিমকে কাফির না বলে পাশ কাটিয়ে এখন আর কেউ মুসলিম নাই বলে প্রচার। সবাইকে গনহারে কাফির বললে যে ডাইরেক্ট ব্লো ব্যাক খাবে, সেই জন্যে ঘুরিয়ে বলছে। এদের আইডিয়লজি পুরাই খাপছাড়া, সেটা ইসলাম, ইতিহাস বা লজিক যাই হোক। দুনিয়া হলো একটা পরিক্ষা কেন্দ্র, দুনিয়াকে মানুষদের পরিক্ষা করার জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। সেটা কোরান ও হাদিস দিয়ে অনেকভাবে প্রমানিত। ধন্যবাদ

    https://www.youtube.com/watch?v=AWe6B4zMpq0

  21. ২১
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @ মজলুম

    ঈসা ও দাউদ (আ.) এর প্রদত্ত অভিশাপে ইহুদিরা হাজার হাজার বছর ধরে পৃথিবীর সর্বত্র যে লাঞ্ছনাময় জীবন কাটিয়েছে সেটাও কি পরীক্ষা ছিল? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত পৃথিবীময় জাতিগতভাবে ইহুদিদের অবস্থা কত করুণ ছিল তা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। শাস্তি আর পরীক্ষার মধ্যে পার্থক্য না বুঝলে কিছু করার নাই।

  22. ২২
    মজলুম

    @মোহাম্মদ আসাদ আলী: এত কম জ্ঞান আর কম জানা শুনা নিয়ে ফেরকাবাজি করতে গিয়া ধরা খাচ্ছো বারবার। ইসরাইল জাতি অনেক নবীকে হত্যা করেছে। মূসা (আঃ) এদের ফেরাউন হতে উদ্বার করে নদী পার করে দিলে এরা আবার গরুর বাছুর পূজা শুরু করে। মূসা (আঃ) যখন ইসরাইলীদের বললেন আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন আমরা ফেরাউনের বিরুদ্বে যুদ্ব করবো। তখন ইসরাইলিরা বললো তুমি, তোমার আল্লাহ আর জিব্রাইল গিয়ে যুদ্ব করো ফেরাউনের সাথে, আমরা পারবোনা। ঠিক এই কথা মনে করে বদর যুদ্বের আগে সাহাবীদের উদ্দেশ্য করা ভাষনে রাসূল(সঃ) একটু ইতস্তত করছিলেন, যে এরাও কি সেই বনী ইসরাইলিদের মতো বলবে নাকি যে তুমি, তোমার আল্লাহ আর জিব্রাইল গিয়ে যুদ্ব করো কুরাইশদের সাথে। তখন মেকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রাঃ) দাড়িয়ে গিয়ে বললেন। হে রাসুলল(সঃ) আমরা ইসরাইলীদের মতো করবোনা। আমরা আপনার সাথী হয়ে কুরাইশদের বিরুদ্বে লড়তে থাকবো যতক্ষন পর্যন্ত না আমাদের চোখের পাতা নড়ে। তার কথা শুনে আল্লাহর রাসূল খুব খুশি হয়ে গেলেন। ইবনে আসওয়াদ (রাঃ) ছিলেন মুহাজির। এবার রাসুল (সঃ) আনসারদের দিকে তাকালেন। আনসার সাহাবী সাদ ইবনে মাজ দাড়িয়ে বললেন, হে রাসূল, আমরা আপনাকে বিশ্বাস করি। যদি আপনি আমাদের নির্দেশ দেন লোহিত সাগর পাড়ি দেওয়ার জন্যে, আমরা তাই করবো।
    এটা হলো মুহাম্মদ(সঃ) এর উম্মতের সাথে ইসরাইলীদের পার্থক্য।

    ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে। সূরা তওবাঃ ৩০

    তাহলে কোরান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে ইহুদীরা ওযাইর কে বলছে আল্লাহর পু্ত্র, তারা শিরক করছে। আর এরা আগের কাফেরদের মত কথা বলছে, আল্লাহ এদের ধংস করুন কারন এরা উল্টা পথে যাচ্ছে। তাদের কুফরীর কারনে আল্লাহ তাদের অভিশাপ দিচ্ছেন। যারা মুসলিম ই নয়, ওদেরকে আবার কিসের পরিক্ষা দিবেন আল্লাহ? আল্লাহ পরিক্ষা করেন তার প্রিয় লোকদের, মুসলিমদের, কাফির অভিশপ্তদের নয়। সেই জন্যেই ঐ পোষ্টে বলেছি মক্কি সূরা গুলো পড়ে আসো। নবী রাসূলদের জীবন দেখো। ওদের উপর কি ভয়াবহ বিপদ নেমে আসতো, একটা শেষ হওয়ার আগে আরেকটা নামতো। সব বাদ দিয়ে শুধু মুহাম্মদ(সঃ) এর জীবন পড়লেই চলতো।

    আপনাদের মতো মক্কার কাফির রাও বলতো যে এই লোক কেমনে নবী হয়। মা নাই, বাপ নাই, গরীব, নিরক্ষর। সমাজে যার কোন প্রতাপ নাই, প্রতিপত্তি নাই। যেই লোক পরপর দুই দিন পেট ভরে খেতে পারতো না। মাসের পর মাস চলে যেতো শুধু একটু খেজুর আর দুধ খেয়ে। তার উপর যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতো, এদের বেশীর ভাগই ছিলো কালো লোক, দাস দাসী, গরীব,অসহায়, সমাজের নির্যাতিত লোকগুলো। মান্যগন্য লোকদের সংখ্যা খুবই কম, যেমন আবু বকর(রঃ), উমর(রাঃ) ও হামজা (রাঃ)। বিখ্যাত তাঈ গোত্রের দানশীল হাতেম তাঈ একবার দেখতে আসছিলেন মক্কার মুসলিমদের। তারপর তিনি বললেন এরা দাবী করে এরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্মের লোক, কিন্তু এরা দেখি গরীব, আর এই জায়গায় দেখি ১ দেরহামের জন্যে মানুষ মানুষকে খুন করে।

    তার কথা শেষ হলে, রাসূল(সঃ) বলতে শুরু করলেন, হে হাতেম তাঈ, যদি তোমার হায়াত থাকে তাহলে তুমি দেখতে পাবে সূদুর হীরা শহর হতে নারীরা একলা এসে কাবা শরীফ তাওয়াফ করবে কোন ভয় ভীতি ছাড়া। যদি আরো হায়াত থাকে তাহলে দেখতে পাবে, পারস্য সম্রাট কিসরা হরমুজের ধনভান্ডারের হীরা, মনি, মুক্তা মানুষকে দুই হাত ভরে দিলেও নিতে চাইবে না। মানে মানুষ তখন এত ধনী হবে। হাতেম তাঈ(রঃ) পরে মুসলিম হয়েছেন এবং ঐ দুই ভবিষৎতবানী দেখেছেন।

    অবস্হা যতই খারাপ হোক, মুসলিমদের কখনোই নিরাশ হওয়া যাবে না। কারন আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হওয়া কুফরী।

    এবং তাদের দিক থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেনঃ হায় আফসোস ইউসুফের জন্যে। এবং দুঃখে তাঁর চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে গেল। এবং অসহনীয় মনস্তাপে তিনি ছিলেন ক্লিষ্ট।তারা বলতে লাগলঃ আল্লাহর কসম আপনি তো ইউসুফের স্মরণ থেকে নিবৃত হবেন না, যে পর্যন্ত মরণপন্ন না হয়ে যান কিংবা মৃতবরণ না করেন। তিনি বললেনঃ আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যা জানি, তা তোমরা জান না। বৎসগণ! যাও, ইউসুফ ও তার ভাইকে তালাশ কর এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায়, ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না। সূরা ইউসুফঃ ৮৪-৮৭

    https://www.youtube.com/watch?v=Rg0fWGAiMZI

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।