«

»

জানু. ২২

সদালাপে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব

FB_IMG_1453891234629

মানুষ সৃষ্টির সূচনালগ্নে আল্লাহ যখন মালায়েকদের ডেকে বললেন আমি পৃথিবীতে আমার খলিফা সৃষ্টি করতে চাই, (বাকারা ৩০) তাতেই মালায়েকরা বুঝে গেল আল্লাহ তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে যে সৃষ্টিটি করতে চাচ্ছেন তার মধ্যে নিশ্চয়ই আল্লাহর রূহ থাকবে, আর যার মধ্যে আল্লাহর রূহ থাকবে তার মধ্যে আল্লাহর অন্যান্য সিফত বা গুণগুলোর মত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিও চলে আসবে। সে ইচ্ছা হলে আল্লাহর হুকুম মানবে, ইচ্ছা না হলে মানবে না। মানলে তো ভালোই, কিন্তু অমান্য করলে অশান্তি ও রক্তপাতে পতিত হবে। তাই মালায়েকরা একটু আপত্তির সুরে বলল- তারা তো পৃথিবীতে ফাসাদ (অন্যায়-অশান্তি) ও সাফাকুদ্দিমা (রক্তপাত) করবে। (বাকারা ৩০)

মালায়েকদের এই কথাটির মধ্যেই মানবজাতির ইতিহাসের বিরাট রহস্যটি লুকিয়ে আছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে সেই আদম (আ.) থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির প্রধান সমস্যাই ছিল এই অন্যায়-অশান্তি-রক্তপাত, যার আশঙ্কা মালায়েকরা করেছিল। যাহোক, আল্লাহ বললেন- আমি যা জানি তোমরা তা জানো না। (বাকারা ৩০) তারপর আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন। আদমের মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সেই সৃষ্টিটি হয়ে গেল আল্লাহর অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে উচ্চতা, মাহাত্ম্য, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক দিয়ে অনন্য। আল্লাহর হুকুমে সমস্ত মালায়েক আদমকে সেজদাহ করল, কেবল ইবলিশ অংহকার করে সেজদাহ করল না। (হিজর ২৯-৩১) শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ যখন ইবলিশকে বিতাড়িত ও অভিশপ্ত করলেন তখন ইবলিশ আল্লাহর কাছে চ্যালেঞ্জ করল যে, তুমি যদি আমাকে শক্তি দাও আমি মাটির তৈরি তোমার ঐ সৃষ্টিটার দেহের, মনের ভেতর প্রবেশ করতে পারি তবে আমি প্রমাণ করে দেখাব যে, ঐ সৃষ্টি তোমাকে অস্বীকার করবে, আমি তাদেরকে বিপথগামী করব (হিজর ৩৯, নিসা ১১৮-১১৯) আমি যেমন এতদিন তোমাকে প্রভু স্বীকার করে তোমার আদেশ মতে চলেছি, এ তা চলবে না। আল্লাহ ইবলিশের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন এবং আদমকে পৃথিবীতে পাঠাবার সময় স্পষ্টভাবে বলে দিলেন যে, তিনি তাঁর পক্ষ থেকে বনি আদমের জন্য হেদায়াহ বা দিক-নির্দেশনা পাঠাবেন, যারা তার অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয় নেই (বাকারা ৩৮)। কীসের ভয় নেই? ঐ যে মালায়েকরা (যাদের মধ্যে ইবলিশও ছিল) বলেছিল- মানুষ পৃথিবীতে অন্যায়-অশান্তি ও রক্তপাত সৃষ্টি করবে- সেই অন্যায় অশান্তি রক্তপাত এবং পরকালে জাহান্নামের ভয় নেই। আর যারা আল্লাহর পাঠানো হেদায়াহ অস্বীকার করবে তারা পৃথিবীতে যেমন ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমায় পতিত হবে, পরকালে জাহান্নামে জ্বলবে (বাকারা ৩৯)।

এ কারণে আল্লাহ যুগে যুগে তাঁর নবী-রসুলদের মাধ্যমে যে দ্বীন মানুষের জন্য পাঠিয়েছেন তার নাম রেখেছেন ইসলাম, বাংলায় শান্তি। দ্বীনের নাম ‘শান্তি’ রাখা হয়েছে, কারণ এই দ্বীন প্রয়োগ করলে মানবজীবনে নেমে আসবে অনিবার্য শান্তি। যে ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমার আশঙ্কা মালায়েকরা করেছিল এবং ইবলিশ আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করেছিল যে, সে হেদায়াহ থেকে সরিয়ে বনি আদমকে বিপথগামী করে ঐ ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমায় পতিত করবে, সেই ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমার হাত থেকে মানুষ রক্ষা পাবে। আর এটাই আল্লাহর অভিপ্রায়। কেননা পৃথিবীতে ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমা না থাকার মানে ইবলিশের চ্যালেঞ্জে আল্লাহর জয়। আর ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমা থাকার মানে ইবলিশের জয়। মানুষের দায়িত্বটা (এবাদত) হচ্ছে তারা আল্লাহর দেওয়া দিক-নির্দেশনা মোতাবেক পৃথিবীকে পরিচালনা করে ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত রেখে আল্লাহকে জয়ী করবে। আল্লাহ যে বললেন পৃথিবীতে খলিফা পাঠাব- খলিফার কাজ কিন্তু এটাই, শান্তি প্রতিষ্ঠিত করে আল্লাহকে জয়ী করা।

আমরা সবাই জানি ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে তওহীদ। তওহীদ অস্বীকার করা তো যাবেই না, তওহীদে কোনো অংশীদারিত্ব স্থাপন করাও শিরক, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এগুলো সবারই জানা। কিন্তু যেটা আমাদের অনেকেরই অজানা তা হচ্ছে তওহীদের উপর এই কড়াকড়ির কারণটা কী। কারণটা হচ্ছে ঐ ‘শান্তি’। আল্লাহ জানেন তাঁর হুকুম অমান্য করলে মানবজাতি অনিবারর‌্য ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমায় পতিত হবে। যেহেতু আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ বা হুকুমদাতা হিসেবে না মানলে শান্তি আসবে না, আল্লাহ বিজয়ী হবেন না, সে কারণেই তওহীদের উপর এত কড়াকড়ি। এই কড়াকড়ি মানুষের ভালোর জন্যই, মানুষের পার্থিব ও পারলৌকিক কল্যাণের জন্যই, মানুষের শান্তির জন্যই। মানবজাতির ইতিহাস আর কিছু নয়- আল্লাহর হুকুম গ্রহণ বা বর্জন ও তার পরিণতিতে শান্তি-অশান্তির ইতিহাস। এই হেদায়াহ-দালালাত, সত্য-মিথ্যা ও শান্তি-অশান্তির দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে আল্লাহ পাঠালেন বিশ্বনবীকে সমস্ত দুনিয়া থেকে ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমা দূর করে ন্যায়, শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য, ইবলিশের চ্যালেঞ্জে আল্লাহকে পূর্ণ বিজয়ী করার জন্য। আল্লাহ তাঁর উপাধি দিলেন ‘রহমাতাল্লিল আলামিন’ সারা বিশ্বের রহমত (আম্বিয়া ১০৭)। আল্লাহর রসুল তাঁর জীবদ্দশায় সারা আরব উপদ্বীপে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করার পর আল্লাহর কাছে চলে গেলেন এবং একটি জাতি তৈরি করে তাদের লক্ষ্য ঠিক করে দিয়ে গেলেন যেন ঐ জাতি তাঁর সাথে থেকে যেভাবে জীবন-সম্পদ দিয়ে সংগ্রাম করল তাঁর অবর্তমানেও সেভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যায়। বলে গেলেন- যে আমার সুন্নাহ (শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম) ত্যাগ করবে সে আমার কেউ নয় আমিও তার কেউ নই, (আবু হোরায়রা (রা.) থেকে মুসলিম, মেশকাত) অর্থাৎ সোজা ভাষায় উম্মতে মোহাম্মদী থেকে বহিষ্কার।

নেতার পৃথিবী থেকে চলে যাবার পর ঐ জাতিটি এক মুহূর্তও দেরী না করে তাদের নেতার অর্পিত দায়িত্ব অর্থাৎ সমস্ত পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ল। ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.) খলিফা হবার পর প্রথম ভাষণেই জাতিকে নেতার বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যের কথা স্মরণ করিয়ে বললেন, সংগ্রাম ছেড়ো না, যারা সংগ্রাম ত্যাগ করে আল্লাহ তাদেরকে অপদস্থ করে ছাড়েন। [১] দেখা গেল ঐ জাতির প্রচণ্ড বিস্ফোরণে মাত্র 60/70 বছরের মধ্যে অর্ধেক দুনিয়ায় ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলো। সামরিক শক্তিতে, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতায়, সর্বদিক দিয়ে  উম্মতে মোহাম্মদী তখন পৃথিবীর সুপার পাওয়ার, পৃথিবীর কর্তৃত্ব তখন এই জাতির হাতে। সুরা নুরের ৫৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ যে অঙ্গীকার করেছিলেন তার বাস্তবায়ন ঘটল তখন। মো’মেনদেরকে তিনি পৃথিবীর শাসক বানালেন, দ্বীনকে সুর্দঢ় করলেন, ভয় দূর করলেন, ‘শান্তি’ নাজেল করলেন। তবে তখনও অর্ধপৃথিবীতে চলছিল ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমা। উম্মতে মোহাম্মদী ঐ বাকি পৃথিবীতেও শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে এমনটাই কথা ছিল।

কিন্তু এমন সময় ঘটল এক দুঃখজনক ঘটনা। জাতি তার লক্ষ্য ভুলে গেল। শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছেড়ে শাসকরা মেতে উঠল সীমাহীন ভোগ বিলাসিতায়। জাতি হয়ে পড়ল গতিহীন, স্থবির। আল্লাহর রসুল যে দায়িত্ব দিয়ে জাতিটিকে গড়ে তুলেছিলেন সেই দায়িত্বই যখন এই জাতি ভুলে গেল তখন আর এরা আল্লাহর চোখে উম্মতে মোহাম্মদী রইল না। নদীর স্রোত যতক্ষণ গতিশীল থাকে ততক্ষণ কোনো ময়লা-আবর্জনা জমতে পারে না, পানি থাকে নির্মল। যখন স্রোত থেমে যায় তখন ঐ স্থবির পানিতে ময়লা-আবর্জনা জমে বিষাক্ত করে দেয়। জাতির মধ্যেও একের পর এক বিষ জন্মাতে লাগল এবার। শুরু হলো পচনের কাল। যতক্ষণ জাতির সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছিল ততক্ষণ তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ, অনৈক্য ইত্যদি সৃষ্টি হতে পারে নি। সবাই এক দেহ এক প্রাণ হয়ে কেবল সংগ্রাম করে গেছে, আর আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক বরাবরই বিজয় দান করে এসেছেন। কিন্তু এবার যখন সেই লক্ষ্যটা ভুলে যাওয়া হলো, এই প্রথম বিভিন্ন দিকে তাদের দৃষ্টি পড়তে লাগল, ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় তাদের দৃষ্টি আটকে যেতে লাগল। একদল শুরু করল দ্বীনের চুলচেরা অতি বিশ্লেষণ। জন্ম নিতে লাগল মতভেদ। সেই মতভেদকে কেন্দ্র করে গজাতে লাগল ফেরকা-মাজহাব। বিশ্লেষণ, অতি বিশ্লেষণের ফলে সহজ-সরল দ্বীন আর সাধারণ মানুষের বোধগম্য রইল না, দুর্বোদ্ধ হয়ে উঠল। তখন দ্বীন বোঝানোর জন্য অন্যান্য ধর্মের মত এই জাতিতেও গজিয়ে উঠল একদল পুরোহিত শ্রেণি। আরেকদল ব্যস্ত হয়ে পড়ল আত্মার ঘসামাজা করে কুরবিয়াত হাসিলের কাজে। ওদিকে শাসকরা তো ভোগ-বিলাসে মত্ত। আর সাধারণ লোকেরা যে যার মত জীবনপ্রবাহে গা ভাসিয়ে দিল। এভাবে চলল প্রায় কয়েক শ’ বছর। বাঁকি পৃথিবী (আজকের উন্নত ইউরোপসহ) কিন্তু ডুবে আছে অন্যায়, অবিচার, অশান্তি, রক্তপাত, বর্বরতায়। আল্লাহ হয়ত এই সময়টুকু দিয়েছিলেন যাতে এই জাতি পুনরায় তাদের আকীদা ফিরে পায়, সুযোগ দিয়েছিলেন যেন গা ঝাড়া দিয়ে উঠে পুনরায় সংগ্রাম শুরু করে। কিন্তু না, এই দীর্ঘ সময়েও জাতি শুধরোলো না। আল্লাহ বারবার করে সতর্ক করেছিলেন সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ত্যাগ করলে, অভিযানে বের না হলে মর্মন্তুদ শাস্তি দেওয়া হবে, আল্লাহর রসুল বলেছেন যারা আমার সুন্নাহ ছেড়ে দিবে তারা আমার কেউ নয় আমি তাদের কেউ নই, খলিফার দায়িত্ব গ্রহণ করেই আবু বকর (রা.) বলেছিলেন, সংগ্রাম ছাড়লে কিন্তু আল্লাহ অপদস্থ না করে ছাড়বেন না- এর কিছুই যখন জাতির মনে রইল না, সব ভুলে গিয়ে যখন তারা তর্ক-বাহাস আর ফতোবাজীতে মেতে থাকল, তখন আল্লাহ পুরোপুরি এই জাতির অভিভাবকত্ব ত্যাগ করলেন এবং তাঁর সুন্নাহ মোতাবেক, ঘোষণা মোতাবেক এদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন। যে জাতির জন্ম হয়েছিল রোমান-পারস্য পরাশক্তিদ্বয়কে একইসাথে পরাজিত করে মানবজাতির ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর বিজয় অভিযানের মধ্য দিয়ে, সেই জাতির পচন তখন এতই তীব্র আকার ধারণ করেছিল যে, অসভ্য-বর্বর চেঙ্গিস খান, হালাকু খানদের হাত থেকে দুনিয়ার মানুষকে রক্ষা করা তো দূরের কথা, ওদেরকে প্রতিরোধ করে নিজেদের স্ত্রী-পুত্র-পরিজনের জীবন রক্ষা করার সামর্থ্যও তখন এদের নেই। হালকু খানরা কচুকাটা করে গেল কিন্তু তবু এদের হুঁশ হলো না। তারা আবার ফিরে গেল সেই হুজরা, খানকায়। সেই বাহাস, তর্কাতর্কি, চুলচেরা বিশ্লেষণই শুরু হলো নতুন উদ্যোমে। ফলে এবার এলো চূড়ান্ত মার খাবার পালা। ইউরোপীয় খৃষ্টান জাতিগুলো সামরিক শক্তিবলে এবার পুরো জাতিটিকেই গোলাম বানিয়ে ফেলল। এদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সিস্টেম বদলে পাশ্চাত্যের তৈরি সিস্টেম কার্যকরী করল। যে ফিকাহর বই নিয়ে এত চুলচেরা বিশ্লেষণ, এত ফেরকাবাজী, আদালত থেকে সেই ফিকাহ-কোর’আন ছুঁড়ে ফেলে সেখানে দখলদার জাতিগুলোর তৈরি আইন-কানুন দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা হলো। সমস্ত দুনিয়ায় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা যে জাতির লক্ষ্য ছিল, সেই জাতির নিজেদের জীবনে তখন পাশ্চাত্যের সার্বভৌমত্ব কায়েম হলো। আল্লাহ আর এদের ইলাহ বা হুকুমদাতা থাকলেন না, ইলাহ হয়ে গেল ইউরোপীয়রা। যে জাতির জন্ম হলো সমস্ত পৃথিবী থেকে অন্যায়, অবিচার, শোষণ দূর করে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, খোদ সেই জাতিই ইউরোপীয়ানদের কাছে অন্যায়, অবিচার ও শোষণের শিকার হতে লাগল। উম্মতে মোহাম্মদী থেকে তো বহু আগেই তারা খারিজ হয়ে গিয়েছিল, অভিভাবক হিসেবে আল্লাহকে তারা অনেক আগেই হারিয়েছিল, এবার আর মুসলিমও রইল না, কারণ জাতিগতভাবে তারা তো তখন ইউরোপের খৃষ্টান জাতিগুলোকে তসলিম করে নিতে বাধ্য হয়েছে।

কিন্তু এই জাতির বিজয়ের ইতিহাস পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো ভালো করেই জানত। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল এই জাতিকে এমন একটি ইসলাম শিক্ষা দিতে হবে যা বাইরে থেকে দেখতে প্রকৃত ইসলামের মতই মনে হবে, কিন্তু ভেতরে, চরিত্রে, আত্মায় সেটা হবে আল্লাহ-রসুলের ইসলামের বিপরীত একটি দ্বীন। দেখতে মনে হবে সত্যিকারের বন্দুক, কিন্তু বাস্তবে সেটা যাত্রাদলের কাঠের বন্দুক। ষড়যন্ত্রমূলক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে, নিজেরা সিলেবাস ও কারিকুলাম প্রনয়ণ করে এবং নিজেরা খৃষ্টান হওয়া সত্ত্বেও মাদ্রাসার অধ্যক্ষপদে দায়িত্ব পালন করে [২] এই জাতিকে তারা প্রায় এক শতাব্দী যাবৎ এমন একটি ইসলাম শিক্ষা দিল যাতে ‘তওহীদ’ ও ‘জিহাদসহ ইসলামের বুনিয়াদী বিষয়গুলো পুরোপুরি উহ্য রাখা হলো এবং ছোট-খাটো অগুরুত্বপূর্ণ বা কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও মাসলা-মাসায়েলকেই ইসলাম বলে চালিয়ে দেওয়া হলো। ফলে জাতির সংগ্রামী চেতনা বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না। ওখান থেকে মাসলা-মাসায়েলসর্বস্ব ইসলাম শিখে যে পুরোহিত শ্রেণিটি বের হলো তাদের মগজে, চরিত্রে, মননে তখন অন্য ইসলাম। ঐ ইসলাম আর দুনিয়াকে শান্তি দিয়ে ইবলিশের চ্যালেঞ্জে আল্লাহকে জয়ী করার ইসলাম রইল না, ইসলাম হয়ে গেল জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম। মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে বড় বড় আলেম, পণ্ডিতরা নামাজ পড়িয়ে, কোর’আন খতম দিয়ে, ওয়াজ করে, তারাবি পড়িয়ে ইত্যাদিভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে লাগলেন এবং ওরিয়েন্টালিস্টদের তৈরি ওই মাসলা-মাসায়েলসর্বস্ব বিকৃত ইসলামটাই জাতিকে শিক্ষা দিতে লাগলেন।

আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলামে মো’মেন ছিলেন তারা যারা আল্লাহ ও রসুলের উপর ঈমান (তওহীদ) আনার পর আর কোনো সন্দেহ করে না এবং নিজেদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে পৃথিবীময় শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে। অন্যদিকে ব্রিটিশরা যে ইসলাম শিক্ষা দিলো অর্থাৎ আমরা আজকে যে ইসলামের ধারক সেই ইসলামে মো’মেন হিসেবে পরিগণিত হবার জন্য তওহীদ লাগে না, শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামও লাগে না, জীবন-সম্পদও উৎসর্গ করতে হয় না, শুধু দাড়ি-টুপি-জোব্বা থাকলেই হয়। বিশ্বনবীর ইসলামে ইলাহ বলতে বোঝাত সমষ্টিগত জীবনে যার হুকুম মানতে হবে, এই ইসলামে ইলাহ বলতে বোঝায় ব্যক্তিগত জীবনে যার উপাসনা করতে হবে। বিশ্বনবীর ইসলামে মুসলিম ছিলেন তারা যাদের সমষ্টিগত জীবন পরিচালিত হত আল্লাহর হুকুমের ভিত্তিতে। আল্লাহর হুকুম প্রত্যাখ্যান করলে তারা পরিগণিত হত কাফের এবং আল্লাহর হুকুমের কিছু গ্রহণ ও কিছু বর্জন করলে তারা হত মুশরিক। (বাকারা ৮৫) অন্যদিকে ব্রিটিশরা যে ইসলাম শিক্ষা দিল তাতে জাতীয় জীবন থেকে আল্লাহর হুকুমকে প্রত্যাখ্যান করে পাশ্চাত্যের তৈরি হুকুম, ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করলেও এই ইসলামের তাতে কোনো আপত্তি নেই! ওসব করেও এই ইসলামে খাঁটি মু’মিন হওয়া যায়, জান্নাতের আশা করা যায়। ঐ ইসলামে নবীর সুন্নাহ ছিল জীবন-সম্পদ দিয়ে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করতে করতে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া, আর আজকের ইসলামে নবীর সুন্নাহ হচ্ছে মিসওয়াক করা, ডান কাতে শোয়া, খাওয়ার পরে মিষ্টি খাওয়া ইত্যাদি। ঐ ইসলামে অনৈক্য সৃষ্টি করা ছিল কুফর, আজকের ইসলামে অনৈক্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বনবীর ঐ ইসলাম পৃথিবীর যেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেখানেই ন্যায়, শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আর ব্রিটিশ ইসলামের মুসলিমরা সারা পৃথিবীতে অন্যান্য জাতিগুলোর চাইতে বেশি ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাহলে এই ইসলাম কি বিশ্বনবীর আনিত প্রকৃত ইসলাম? এই জাতি কি মু’মিন, মুসলিম, উম্মতে মোহাম্মদী?

আমি জানি আমার এই বক্তব্য অনেকের পছন্দ হবে না। অজুহাত খুঁজবেন। যুক্তি দিবেন- তাহলে এই যে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন মসজিদে যাচ্ছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে, বিরাট বিরাট মসজিদ বানাচ্ছে, কলেমার জিকির করে পাড়া কাঁপাচ্ছে, তারা ইসলামে নেই? তাদের প্রতি আমার পাল্টা প্রশ্ন হচ্ছে-

১. আল্লাহ বলেছেন তিনি মো’মেনদের ওয়ালি, অভিভাবক, রক্ষক (বাকারা 257)। আল্লাহ যে জাতির অভিভাবক সেই জাতি কি তিনশ’ বছর ব্রিটিশের দাসত্ব করতে পারে? পৃথিবীর সর্বত্র তারা পরাজিত, অপমানিত, লাঞ্ছিত, নির্যাতিত হতে পারে? তাদের মেয়েরা লাখে লাখে ধর্ষিত হতে পারে? তাদের শিশুদের মৃতদেহ সাগরে ভাসতে পারে? এই জাতির পরাজয়, দাসত্ব ও লাঞ্ছনা কি এটাই প্রমাণ করে না যে, আল্লাহ আর তাদের অভিভাবক নেই, আল্লাহ তাদের ত্যাগ করেছেন?

২. আল্লাহ ওয়াদা করেছেন- তোমরা যদি মো’মেন হও তবে পৃথিবীর কর্তৃত্ব তোমাদের হাতে থাকবে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দিয়েছিলাম (সুরা নুর ৫৫)। এখন যে জাতির হাতে পৃথিবীর কর্তৃত্ব থাকা তো দূরের কথা, যাদের বিগত কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস হচ্ছে পাশ্চাত্যের খৃষ্টান জাতিগুলোর হাতে পরাজিত, গোলামী ও নির্যাতিত হবার ইতিহাস, সেই জাতিকে মো’মেন বলার অর্থ কি এটাই দাঁড়ায় না যে, আল্লাহ ওয়াদা ভঙ্গ করছেন? (নাউজুবিল্লাহ)। আর যদি আপনি বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ কখনোই ওয়াদা ভঙ্গ করেন না, তাহলে এই সত্যটি স্বীকার করতেই হবে যে, এই জাতি আর মো’মেন নয়।

এই যে এতগুলো কথা বললাম, আমার সব কথাই কিন্তু জাতিকে নিয়ে, জাতিগত প্রশ্নে। ব্যক্তিগতভাবে কোথাও এমন মানুষ থাকতে পারেন যাদের আকীদা ঠিক আছে, ঈমান ঠিক আছে এবং তারা স্বল্প পরিসরে হলেও আল্লাহর রসুলের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তেমন কেউ বর্তমানে আছেন কিনা জানি না, তবে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে মুসলিম জাতিতে এই শ্রেণিটির অস্তিত্ব আমরা ইতিহাসে পাই। ইসলামের প্রকৃত আকীদা জানা এই শ্রেণিটির অস্তিত্ব বর্তমানে যদি থাকেও, তার সংখ্যাটা হয়ত উল্লেখযোগ্য নয়। কাজেই আমরা জাতিগত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকব।

আল্লাহর রসুল একদিন বললেন- ‘অচীরেই এমন সময় আসছে যখন অন্যান্য জাতিগুলো তোমাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে ডাকবে যেমন করে খাবার সময় মানুষ একে অপরকে খেতে ডাকে। কেউ একজন প্রশ্ন করলেন- তখন কি আমরা সংখ্যায় এতই নগণ্য থাকবো? তিনি বললেন- না। তখন তোমরা সংখ্যায় অগণিত হবে, কিন্তু হবে স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মত। (হাদীস-সাওবান (রা.) থেকে আবু দাউদ, মেশকাত)। হাদীসটি খেয়াল করুন। আল্লাহর রসুল যাদেরকে স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনা বললেন তারা কি মো’মেন, মুসলিম, উম্মতে মোহাম্মদী হতে পারে? না, তারা এর কিছুই নয়। কারণ, কোনো স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনাকে দিয়ে দুনিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, আল্লাহর খেলাফত সম্ভব নয়, ইবলিশের চ্যালেঞ্জে আল্লাহকে জেতানোও সম্ভব নয়। যেহেতু সম্ভব নয়, ওই জাতির কোনো মূল্যও আল্লাহর কাছে নেই।

আজ সারা পৃথিবীতে মুসলিম নামক জাতিটির অবস্থা কী? তাদেরকে যে যেভাবে পারছে আক্রমণ করছে, দেশগুলো দখল করছে, লুট করছে, লাখে লাখে হত্যা করছে, নারীদেরকে ধর্ষণ করছে, পৈত্রিক ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করছে। পৃথিবীময় এই জাতি আজ সবচাইতে নির্যাতিত, নিপীড়িত, বঞ্চিত, অবহেলিত, পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে হাদীসে বর্ণিত স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতই। অথচ এই জাতিরই কিনা পৃথিবীকে লিড দেওয়ার কথা, পৃথিবীবাসীকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করার কথা, সমস্ত পৃথিবীতে ন্যায়, শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে ইবলিশের চ্যালেঞ্জে আল্লাহকে বিজয়ী করার কথা, পৃথিবীর জীবনকে সুন্দর করার মধ্য দিয়ে পরকালকে সুন্দরময় করার কথা। আজ তাদের এই করুণ হাল! এমতাবস্থায় যুগের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে জাতির পতনের কারণ অনুসন্ধান না করে, ইতিহাসের কোন জায়গাটিতে তারা পথ হারিয়েছে, কেন আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করছেন না, কেন তারা অন্যান্য জাতিগুলোর গোলামীতে নিমজ্জিত হয়ে আছে- এর কারণ অনুসন্ধান না করে আমরা যারা এখনও নিজেদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি, নির্লজ্জের মত নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি বলে আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছি তাদের এই আহাম্মকীপূর্ণ আত্মতুষ্টির যে কোনো মূল্য নেই, যতদিন আমরা পুনরায় আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করব না, ততদিন অন্য ধর্মের মানুষকে বর্তমানের এই নামসর্বস্ব ইসলামে প্রবেশ করিয়ে যে কোনো লাভ নেই- এই কথাটিই বোঝানোর জন্য কিছুদিন পূর্বে সদালাপে একটি পোস্ট করেছিলাম। শিরোনাম ছিল ‘ইসলাম গ্রহণের খবরে যারা খুশিতে বাকবাকুম হন।’ কিন্তু হায়রে জাতি! নিরেট সত্যটা কিছু মানুষের হজম হলো না। শুরু হলো হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের বিরুদ্ধে যাচ্ছেতাই অপপ্রচার! হেযবুত তওহীদের গুরুতর অপরাধটা হচ্ছে- কেন আমরা বিশ্ব মুসলিমের প্রতিষ্ঠিত ধর্মকে প্রকৃত ইসলাম বলি না। কেন আমরা বলি না যে, যদিও তোমরা তওহীদে নেই, সংগ্রামে নেই, শান্তিতে নেই, যদিও তোমরা পৃথিবীতে অন্যান্য জাতিগুলোর গোলামী করছো, যদিও তোমাদের দুনিয়া অত্যন্ত কুৎসিত, তথাপি তোমাদের জন্য আল্লাহ জান্নাতের গেটে লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছেন!

আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে- আমরা আজকের এই ‘বিশ্ব মুসলিমের’ পালিত ধর্মবিশ্বাসটিকে, যা তারা ইসলাম নাম দিয়ে পালন করে চলেছে সেটা যে আল্লাহ ও রসুলের প্রকৃত ইসলাম নয় এই কথাটি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উচ্চারণ করি। কেন করি? আক্রোশ মেটাবার জন্য? এই জাতির সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা আছে, সেই কারণে? না, কোনো শত্রুতা নাই, আমরা নিজেরাও তো এই মুসলিম নামধারী জাতিটিরই সদস্য। বস্তুত আমরা এই কঠোর সত্যটি উচ্চারণ করি যেন এই জাতিটির যে লক্ষ্য আল্লাহর রসুল ঠিক করে দিয়েছিলেন, সেই লক্ষ্য ভুলে তারা যে বিপরীত দিকে যাত্রা করে অনেকদূর অতিক্রম করে ফেলেছে, যেন তাদের মাথায় টোকা পড়ে, তাদের হুঁশ হয়। আমার জাতি কষ্ট পাবে, আমার জাতির সদস্যরা নিজেদেরকে অপমানিত বোধ করবে- এই যুক্তিতে যদি আমরা সত্য বলা থেকে বিরত থাকি, প্রকৃত ইসলাম ও বিকৃত ইসলামের মধ্যে স্পষ্ট বিভেদরেখা টেনে না দেই তাহলে ক্ষতিটা কার হবে? আমাদেরই তো হবে। আমরা নিজেরা আত্মতুষ্টিতে ভুগতে ভুগতেই ধ্বংস হয়ে যাব এবং যাচ্ছি। ধ্বংস হচ্ছি আর ভাবছি আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন। প্রায়ান্ধ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ও কথিত আলেমদের সত্য গোপনের কারণে আমরা বুঝতে পারছি না যে, আসলে পরীক্ষা নয়, পৃথিবীময় আমরা আমাদের কর্মফল ভোগ করছি, লানত ভোগ করছি। এ থেকে মুক্তির উপায় একটাই- ১৬০ কোটি জনসংখ্যার এই জাতিটিকে যাবতীয় ফেরকা-মাজহাব ইত্যাদি ভুলে আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। হেযবুত তওহীদ এই ডাকই দিচ্ছে।

আমার ব্লগপোস্টটিকে চ্যালেঞ্জ করে সদালাপে আরেকটি ব্লগপোস্ট করেছেন এম আহমদ। প্রথমে ভেবেছিলাম এ নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করব না। অপপ্রচার তো কতই হয়। কিন্তু যখন দেখলাম পোস্টটা স্টিকি করা হলো তখন বুঝলাম এই পোস্ট হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে নেহায়েত কারো ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ নয়! পেছনে আরও কিছু আছে। তাই পাল্টা এই লেখাটি প্রস্তুত করতে লাগলাম। ইচ্ছা করলে এম আহমদে এর লেখাটির প্রত্যেকটা লাইন ধরে ধরে জবাব দিতে পারতাম। কিন্তু দেব না। এত সময় আমার নেই এবং তার দরকারও দেখি না। আমি কেবল মোটা দাগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জবাব দিব। তার আগে যারা এখনও ‘‘বায়াজীদ খান পন্নীর বিভ্রান্তিতে একটি নতুন ফিতনা’’ – এম আহমদের এই লেখাটি পড়েন নি তারা পড়ে আসতে পারেন।

পন্নী সাহেব একটি নতুন ফিরকা বা দল তৈরি করার সাথে সাথে 'মুসলমানের মধ্যে অনেক ফিরকা রয়েছে' –এই  অভিযোগ তুলেছেন।

এম আহমদ হয়ত জানেন না হেযবুত তওহীদ কোনো ফেরকার নাম নয়। হেযবুত তওহীদকে যারা প্রচলিত ফেরকা-মাজহাবগুলোর মতই নতুন কেনো ফেরকা হিসেবে চিত্রায়িত করতে চাচ্ছেন তারা নিজেরা ভুলের মধ্যে আছেন এবং অন্যকেও বিভ্রান্ত করছেন। হেযবুত তওহীদ কোনো ফেরকা নয়, দল নয়। হেযবুত তওহীদ একটি আন্দোলনের নাম। আর এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে উম্মতে মোহাম্মদী হিসেবে যে দায়িত্ব আমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীজী অর্পণ করেছেন, যে দায়িত্বটি আমরা ১৬০ কোটি মুসলিম ভুলে বসে আছি, সেই দায়িত্ব পালন করা অর্থাৎ সারা পৃথিবীতে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা (যাতে ইবলিশের চ্যালেঞ্জে আল্লাহ বিজয়ী হন)। সুতরাং আপনাকে আমাদের এই আন্দোলনের সদস্য হিসেবে যোগ দিতেই হবে তেমন কথা আমরা বলছি না। আপনি আপনার জায়গাতেই থাকুন, কিন্তু তওহীদের ভিত্তিতে যাবতীয় ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হোন। ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ব্যক্তিগত আকীদা, ব্যক্তিগত মতামত- এইসব ব্যক্তিগত জীবনে থাকুক। এসব নিয়ে তর্কাতর্কি, মতভেদ ও অনৈক্য না করে আসুন জাতিকে বাঁচানোর জন্য সবাই একটি বিষয়ে ঐক্যমত্যে আসি যে, আমরা থাকব যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে। এটাই তওহীদ। এই তওহীদ আমাদেরকে পৃথিবীতে দিবে শান্তি, আর পরকালে জান্নাত।

কিন্তু তারা যদি কনফিউজড হয়ে  "আমাদের হয়ে" বিকৃত ইসলামের সমালোচনা করতে আসেন তবে ভুল হবে।আমরাদুধে ধোয়া হই অথবা তুলসী পাতা, সেটা আমাদের ব্যাপার। 

না, সেটা আপনাদের ব্যাপার নয়। ইসলাম আপনাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নয় যে, আপনার যা ইচ্ছা হবে ইসলামের নাম দিয়ে করবেন আর আমাদেরকে মুখ বুঁজে বসে থাকতে হবে। আল্লাহর রসুল কেবল আপনার একার জন্য প্রেরিত হন নাই। ‘‘বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল (আরাফ ১৫৮)। সুতরাং তিনি আমারও রসুল। তিনি যে দ্বীন এনেছেন সেটা আমারও দ্বীন। আমি আমার রসুলের উম্মত। উম্মতে মোহাম্মদী হিসেবে ইসলামের নামে চলা যেকোনো অনাচার, যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা কেবল আমার অধিকারই নয়, আমি তা করতে বাধ্যও।

মুক্তমনা বড় ধাপ্পা অভিজিৎ রায়েরবিশ্বাসের ভায়ারাসনামের একটি কৌশল ছিল। কোথাও কোনো ঘটনাদুর্ঘটনায় কোনো মুসলিম জড়িত পাওয়া গেলেইবিশ্বাসের ভায়ারাসপ্রমাণিত হয়েছে বলে ব্লগ লিখত। পন্নীর ছেলেপুলেরা অভিজিৎ রায়ের মত মুসলিম অধ্যুষিত বা মুসলিম দেশে কোনো ঘটনাদুর্ঘটনায়মুসলিম সংযোগপেলেইএই এছলাম সেই এছলাম নয়প্রমাণিত বলে শোরগোল তুলে। অমুসলমানদের মত তারাও বিশ্বের আধুনিক  'সন্ত্রাসজঙ্গিবাদকে এই ধাঁচে মুসলিমদের উপর প্রক্ষেপণ করে।

মুক্তমনা দাবিদার ইসলামবিদ্বেষীদের সাথে হেযবুত তওহীদের তুলনা চলে না। ইসলামবিদ্বেষীরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িকতার জন্য দায়ী করে ইসলামকে, আল্লাহকে, রসুলকে। তারা কোর’আন-হাদীসের, ইসলামের ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝাতে চায় যে, বিশ্বনবীও সন্ত্রাসী ছিলেন, জঙ্গি ছিলেন, সাম্প্রদায়িক ছিলেন, ইসলাম ধর্মই সন্ত্রাসী ধর্ম ইত্যাদি। তারা বর্তমানের মুসলিমদেরকে দায়ী করে না, দায়ী করে আল্লাহর রসুলকে, দায়ী করে কোর’আনকে। অন্যদিকে আমরা হেযবুত তওহীদ আমাদের লেখায়, বক্তৃতায়, প্রচার-প্রচারণায় বারবার যেটা বলে আসছি তা হচ্ছে- এই সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদির জন্য বিশ্বনবীর আনিত প্রকৃত ইসলাম দায়ী নয়। আমার রসুল ও তাঁর আসহাবগণ জঙ্গিবাদী কাজ করেন নি, তারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা করেন নি। তারা ধর্মের নাম করে নিরীহ মানুষ হত্যা করেন নি। ঐ ইসলাম ছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত মানবজাতির মুক্তির উপায়। কিন্তু সেই ইসলাম আজ নেই। আজকের যে জঙ্গিবাদ, যে সন্ত্রাসবাদ, যে ধর্মব্যবসা, যে সাম্প্রদায়িকতা, তা ইসলামের গত ১৩০০ বছরের বিকৃতির ফল। এ কথা বলে আমরা জাতিকে আহ্বান জানাই যেন, সবাই পুনরায় বিশ্বনবীর আনিত সেই প্রকৃত ইসলামের স্বরূপ উপলব্ধি করে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন এবং ধর্মের নামে চলা যাবতীয় অধর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আল্লাহ, রসুল ও ইসলামের উপর যে অপবাদ রটানোর চেষ্টা করছে ইসলামবিদ্বেষীরা, সেই চক্রান্ত রুখে দিতে পারেন। এই সহজ-সরল কথাটি না বুঝতে পারার কারণ কী? অজ্ঞতা? নাকি বিদ্বেষ?

লেখক কয়েকটি ভিডিওর লিংক দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি ভিডিওতে ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার মনের মাধুরী মিশিয়ে হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে যত কথা বলেছেন তার স্বপক্ষে কোনো প্রকার দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনের বিন্দুমাত্র প্রয়োজনীয়তাও উপলব্ধি করেন নি। অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার হলেও সত্য তার ঐ ভিত্তিহীন বক্তব্যটিই এম আহমদের লেখার স্বপক্ষে বিশাল ডকুমেন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা কোনো মুসলিম ব্যক্তির আচরণ হতে পারে কিনা, কোনো মুসলিম ব্যক্তি শোনা কথায় বিশ্বাস করে তা অন্যত্র বলে বেড়াতে পারে কিনা সে প্রশ্ন আমি পাঠকদের কাছেই রাখতে চাই। বাকিগুলো তালাশের মিথ্যাচারের ভিডিও। ইসলামের ব্যাপারে এলার্জিপ্রবণ মিডিয়ার কাছে এর বেশি কিছু আশা করার নেই। তালাশের এই পুরো এপিসডটিই মিথ্যাচারে ভরা। একই ঘটনা নিয়ে মিথ্যাচার চালিয়েছিল বৈশাখী টেলিভিশনও। [৩] আমরা মামলা করেছিলাম। কিছুদিন আগে বৈশাখী টিভির ঐ সাংবাদিক আমাদের কাছে অনুতপ্ত হয়ে মামলা তুলে নেবার অনুরোধ করেছেন। তালাশের বিরুদ্ধেও মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। তবে ইতোমধ্যেই আমরা তালাশের ঐ প্রোগ্রামটির জবাব দিয়ে পাল্টা আরেকটি ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করেছি। [৪]

এবারে মো’জেজা প্রসঙ্গ:

এই বিশ্ব মুসলিমের আকিদা অনুযায়ী মোজেজা কেবল নবীরাসূলদের ক্ষেত্রেই ঘটে।

বিশ্ব মুসলিম কোনো আকীদা পোষণ করলেই তা সত্য বলে ধরে নিতে হবে? কোর’আন-হাদীসের কোথায় আছে যে, মো’জেজা কেবল নবী রসুলদের ক্ষেত্রেই ঘটে? কোর’আনে তো মো’জেজা শব্দটাই নাই। হাদীসেও কোথাও এমন কথা বলা হয় নাই যে, মোজেজা আল্লাহ কেবল নবী-রসুলদের বেলাতেই ঘটান, নবী-রসুল না হলে মোজেজা ঘটে না। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী তাঁর সারা জিন্দেগীতে কখনও কোনো লেখায়, কোনো কথায় নিজেকে নবী দাবি করেন নি। বরং তাঁর লেখা বইগুলোতে, ভাষণের সিডিতে অনেকবার তিনি এই কথা বলেছেন যে, তিনি কোনো নবী নন, রসুল নন, এমনকি পীর-ফকিরও নন। [৫] তিনি অতি সাধারণ একজন মানুষ। তা সত্ত্বেও জোর করে তাকে নবুয়্যতের দাবিদার বানানোর অপচেষ্টা কেন? অপপ্রচার বিশ্বাসযোগ্য করার জন্যই কি এত বড় মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হলো?

এম আহমদের ব্লগপোস্ট ও তার কমেন্ট/রিপ্লাইগুলো পড়ে বুঝতে পারলাম মো’জেজা বিষয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে অনেকের মধ্যে। এর নিরসন দরকার। আসলে মো’জেজা শব্দটি কেবল নবী-রসুলদের বেলাতেই প্রযোজ্য- ব্যাপারটা তা নয়। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত বলার আগে মাওলানা এস এম মতিউর রহমান নূরী সাহেবের ‘মো’জিযাতুন্নবী’ বইয়ের একটি উদ্ধৃতি খেয়াল করুন। তিনি লিখেছেন-

পবিত্র কোর’আন হাদীসের কোথাও মো’জেজা শব্দটির প্রয়োগ বা ব্যবহার হয় নাই। উহার পরিবর্তে এই পর্যায়ের ব্যাপারসমূহের নিমিত্ত আয়াত (নিদর্শন), বোরহান (অকাট্য দলিল প্রমাণ) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এই শব্দদ্বয় সংশ্লিষ্ট অর্থকে অতি চমৎকারভাবেই প্রকাশ করিয়া থাকে। প্রাচীনকালের হাদিস বিশারদগণ উহার পরিবর্তে দলিল বা আলামত (চিহ্ন, নিশান) শব্দ ব্যবহার করিয়াছেন। আর এই দুইটি শব্দ পুতঃপবিত্র কোরআনে ব্যবহৃত শব্দের সমার্থবোধক। [৬]

অর্থাৎ নিদর্শন বোঝাতে আল্লাহ মো’জেজা শব্দ ব্যবহার করেন নি। অলৌকিক হোক বা লৌকিক, যে ঘটনা বা বিষয়ের দ্বারা আল্লাহর নিদর্শন প্রকাশ পায়, আল্লাহর পরাক্রম, অস্তিত্ব, মাহাত্ম্য ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা যায় সেগুলো বোঝাতে আল্লাহ কোর’আনে শব্দ ব্যবহার করেছেন আয়াত ও বোরহান। দু’টো উদাহরণ দিব। একটি অলৌকিক ঘটনা, অপরটি লৌকিক। উভয়ক্ষেত্রেই আল্লাহ শব্দ ব্যবহার করেছেন আয়াত।

১. সে (ফেরাউন) বলল, যদি তুমি কোনো আয়াত (নিদর্শন) নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা উপস্থিত কর যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকো। তখন তিনি (মুসা) নিক্ষেপ করলেন নিজের লাঠিখানা এবং তৎক্ষণাৎ তা জলজ্যান্ত এক অজগরে রূপান্তরিত হয়ে গেল (আরাফ ১০৬-১০৭)। (অলৌকিক ঘটনা)

২. নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা’আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে। (লৌকিক ঘটনা)

তাহলে মো’জেজা কী?

মো’জেজা হচ্ছে অলৌকিক ঘটনা, যা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মকে লঙ্ঘন করে। পানিতে নামলে পানি আপনাকে ডুবিয়ে দেবে, আগুনে হাত দিলে আগুন আপনার হাত পুড়িয়ে ফেলবে- এগুলো প্রাকৃতিক সত্য। হবেই। কিন্তু হঠাৎ আপনি একদিন পানিতে নামার পর দেখা গেল পানি আপনাকে ডুবাল না, আগুন আপনাকে পোড়াল না- এটাই মো’জেজা। মো’জেজা আল্লাহ ঘটান। কেন ঘটান সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ঘটাতে পারেন। কিন্তু সত্য হচ্ছে- মো’জেজা ঘটান আল্লাহ। যার সাথে মো’জেজা ঘটে বা যাকে দেখানোর জন্য মো’জেজা ঘটানো হয় হয়ত তিনি জানেনও না একটু পর কী ঘটতে যাচ্ছে।

এখানে কারামতির ব্যাপারে দু’টো কথা না বললেই নয়। অনেকে পীর-দরবেশদের কারামতির সাথে মো’জেজাকে গুলিয়ে ফেলেন। দু’টোকে একই বিষয় মনে করেন। পার্থক্য হিসেবে বলেন যে, নবীদের সাথে ঘটলে সেটা মো’জেজা, আর অন্যদের বেলায় কারামতি। আসলে কিন্তু তা নয়। কারামতি আর মোজেজা দু’টো ভিন্ন জিনিস ঠিকই, তবে এই ভিন্নতা নবী হওয়া বা না হওয়ার ভিত্তিতে নয়, অন্য কারণে। সেটা হচ্ছে- কারামতির সাথে আল্লাহ সরাসরি সম্পর্কিত নন। পীর দরবেশরা কঠোর সাধনা করে আত্মার শক্তি বৃদ্ধি করতে করতে এমন পর্যায়ে যান যে, নিজেরাই অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারেন। পানির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন, ফুঁ দিয়ে আগুন জ্বালাতে পারেন। এইসব অলৌকিক ঘটনা কখন ঘটানো হবে তা ঐ পীর-দরবেশরাই ঠিক করেন। কারণ বিষয়টা তাদের ইচ্ছাধীন। অন্যদিকে মো’জেজা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। যার সাথে মো’জেজা ঘটে তিনি হয়ত নিজেও জানেন না আরেকটু পর তাঁর সামনেই একটি অলৌকিক ঘটনা আল্লাহ ঘটাতে যাচ্ছেন। যেমন সমুদ্র ভাগ হবার একটু আগেও মুসা (আ.) জানতেন না কীভাবে তিনি সঙ্গীদের নিয়ে নীলনদ পার হবেন। আল্লাহ করেছেন তাই ঘটেছে, আল্লাহ না চাইলে কারো কিছু করার ছিল না। এটা মো’জেজা।

অর্থাৎ দু’টি বিষয় স্পষ্টভাবে বোঝা গেল,

১. মো’জেজা শব্দটি কোর’আনে নেই। কোর’আনে আল্লাহর নিদর্শন বোঝাতে আয়াত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং মো’জেজা শব্দটির ইসলামীকরণ এবং আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে কেবল নবী-রসুলদের সাথে সম্পর্কিত ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলার সুযোগ নেই। আপনি ইসলামীকরণ করতে পারেন ‘আয়াত’ শব্দটিকে।

২. ইতিহাসে অনেক নবী-রসুলের সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহ অনেক ঘটনা ঘটিয়েছেন যা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে ঘটার কথা নয়। যেহেতু প্রকৃতির নিয়মকে লঙ্ঘন করেছে, কাজেই ওগুলো যে মো’জেজা ছিল তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আল্লাহ কেবল নবী-রসুলদের বেলাতেই মো’জেজা ঘটান, নবী-রসুল না হলে তার সাথে মো’জেজা ঘটবেই না। বস্তুত আল্লাহ যার সাথে ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা মো’জেজা ঘটাতে পারেন, যে কোনো উদ্দেশ্যে ঘটাতে পারেন। বিষয়টা পুরোপুরি আল্লাহর ইচ্ছাধীন।

অতএব,

যেহেতু অলৌকিক ঘটনা বা মো’জেজা কেবল নবী-রসুলদের সাথেই ঘটে না, নবী-রসুল না হলেও আল্লাহ চাইলে কোনো ব্যক্তির সাথে অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারেন, কাজেই কারো সামনে অলৌকিক ঘটনা (মো’জেজা) ঘটেছে বলে দাবি করলেই এ কথা বলার অবকাশ নেই যে, ঐ ব্যক্তি নিজেকে নবী দাবি করেছেন, বা ইসলামপরিপন্থী কথা বলছেন।

২০০৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে হেযবুত তওহীদের একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী’র ভাষণ চলাকালে অল্প সময়ের মধ্যে আল্লাহ অনেকগুলো অলৌকিক ঘটনা তথা মো’জেজা ঘটান। যেহেতু মো’জেজা ঘটেছে কাজেই সেটা গোপন করার কিছু নেই। আমরা ঘটনাগুলো লিখিত বই আকারে প্রকাশ করেছি। মানুষ জানছে, বিচার-বিশ্লেষণ করছে, সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আপনিও জানুন, পারলে অন্যকেও জানান। না বুঝলে প্রশ্ন করুন। প্রশ্ন করতে যদি আত্মসম্মানে লাগে তবে চুপ থাকুন। কিন্তু বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। ফেতনা দূর করুন, আপত্তি নাই, কিন্তু ফেতনা দূর করার অজুহাতে দয়া করে নিজেই ফেতনা ছড়াবেন না। আল্লাহ হাফেজ।

 

ফুটনোট:

[১] দেখুন- ইসলামের ইতিহাস, ইফাবা, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৫।

[২] ১৮৫০ সালে কলকাতায় আলীয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে বড় লাট লর্ড ওয়ারেন হেসটিংস। এই আলীয়া মাদ্রাসার প্রথম অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন একজন বৃটিশ খৃষ্টান, নাম ড.এ. স্প্রিঙ্গার এম.এ। তারপর একাধিক্রমে ২৬ জন খ্রিস্টান ৭৬ বৎসর (১৮৫০-১৯২৭) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে আসীন থেকে এই মুসলিম জাতিকে ইসলাম শিক্ষা দেয়। [দেখুন- আলীয়া মাদ্রাসার ইতিহাস, মূল- আ: সাত্তার, অনুবাদ- মোস্তফা হারুণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ এবং Reports on Islamic Education and Madrasah Education in Bengal by Dr. Sekander Ali Ibrahimy (Islami Foundation Bangladesh)। এটা শুধু আমাদের এই উপমহাদেশেই ঘটেছে তা নয়, একই পলিসি ইউরোপীয়ানরা তাদের অধিকৃত অন্যান্য অঞ্চলগুলোতেও কার্যকর করে। ষড়যন্ত্রমূলক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের ‘ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্রমূলক শিক্ষাব্যবস্থা’ বইটি ডাউনলোড করুন।

[৩] ভিজিট করুন- হেযবুত তওহীদের আমীরের করা মানহানী মামলায় জামিন নিলেন বৈশাখী টিভির মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।

[৪] ভিডিও দেখুন- হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে তালাশের মিথ্যাচারের জবাব।

[৫] দেখুন- হেযবুত তওহীদের প্রকাশিত বই- ‘‘আল্লাহর মোজেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা’’, ৫৬ পৃষ্ঠা।

[৬] দেখুন- মোজেজাতুন্নবী, মাওলানা এস এম মতিউর রহমান নূরী, মো’জেজার পরিভাষা, ০৭ পৃষ্ঠা।

 

৩৪ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. তাহের

    ধন্যবাদ।

  2. Raju

    উচিৎ জবাব।

  3. শাহবাজ নজরুল

    ফেরকা না আন্দোলন তা নির্ণয়ের ভার পাঠকদের উপর ছেড়ে দেন। আপনি আপনার যুক্তিগুলো উপস্থাপন করুন আর উঠে আসা প্রশ্নগুলোর জবাব দিন।

    আমার একেবারে মৌলিক সেন্স বলে যে আপনারা ফেরকা। যদি ফেরকা না হবেন তবে এই প্রশ্ন গুলোর জবাব দেন।

    ১. আপনারা সাধারণ মসজিদে নামাজ পড়েন না কেন?
    ২. আপনারা প্রচলিত নামাযের পদ্ধতি পরিবর্তন করেছেন কেন?
    ৩. আপনারা কেন মনে করেন যে ইমাম বেতন নিয়ে কাজ করতে পারবেন না – যেখান আবু বকর (রা.) সহ বেশিরভাগ খলিফা বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন?

  4. শাহবাজ নজরুল

    আরেকটা একেবারে মৌলিক প্রশ্ন করি – সহজ জবাব দেবেন। আপনারা ‘ইমাম’ কে ‘এমাম’ বলেন কেন?

  5. শাহবাজ নজরুল

    যুক্তি ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করছেন ভালো কথা – কিন্তু এই কথাটির মধ্যে কি কিসের যুক্তি আছে?

    কারামতির সাথে আল্লাহ সরাসরি সম্পর্কিত নন। পীর দরবেশরা কঠোর সাধনা করে আত্মার শক্তি বৃদ্ধি করতে করতে এমন পর্যায়ে যান যে, নিজেরাই অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারেন। পানির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন, ফুঁ দিয়ে আগুন জ্বালাতে পারেন।

    কিভাবে একজন দরবেশ পানির উপর হেঁটে যেতে পারেন, আল্লাহর ইচ্ছে ছাড়া? আধ্যাত্মিক সাধনা দিয়ে কিভাবে সম্ভব একেবারে সরাসরি ফিজিক্সের তত্ত্বের বিপরীতে যাওয়া?

  6. Shakil_hasan

    ঐক্যবদ্ধ???
    কিভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব?
    কাদিয়ানীরা যেখানে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নবী মানে, শিয়াদের অধিকাংশের আক্বীদার ঠিক নেই, চরমোনাই, দেওয়ানবাগী, আটরশী, আহলে কুরান, বেরলভী প্রভিত্তি ভ্রান্ত ফিরকার অভাব নাই। সব একতাবদ্ধ কিভাবে সম্ভব?

    আর আপনারা হেজবুত তওহীদ তো ইদানীং ফতোয়া দেওয়াও স্টার্ট করেছেন।
    দেখলাম হাটুর উপর প্যান্ট পড়ে ফুটবল খেলা, গিটার, তবলা নিয়ে সংগীত চর্চা ইত্যাদিকে হালাল হিসাবে প্রচার করছেন।

    আর যে মোজেজার প্রমাণ দিয়েছেন ঐরকম হিসাবে অনেক মুজেজাই ঘটে।
    এই নেন উদাহরণঃ

    “মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে এরা দুজনই ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে বিস্ময়কর হলো এদের দুজনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও মৃত্যুর মধ্যে অলৌকিক সাদৃশ্য আছে।

    এরা দুজনই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ষাটের দশকে অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন নির্বাচিত হন ১৮৬০ সালে এবং জন এফ কেনেডি নির্বাচিত হন এর ঠিক ১০০ বছর পর অর্থাৎ ১৯৬০ সালে। এরা দুজনেই আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় উভয় প্রেসিডেন্টের পাশেই ফার্স্ট লেডীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উভয় জনের বেলায়ই উপস্থিত ছিলেন জেলার গভর্ণর ও তাদের পত্নীরা। উভয় জনের ক্ষেত্রেই গুলি প্রেসিডেন্টের মস্তক ভেদ করে পাশে উপবিষ্ট গভর্ণরের শরীরে আঘাত করে। তবে উভয়েই তারা প্রাণে বেঁচে যান এবং উভয় জনের বেলায় ফার্স্ট লেডীরা এবং গভর্ণরের স্ত্রীরা অক্ষত ছিলেন।
    উভয় প্রেসিডেন্ট নিহত হওয়ার পর তাদের স্ব স্ব ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং পরের নির্বাচনে যথাক্রমে ১৮৬৯ ও ১৯৬৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এটাও হয়েছিলো একশ বছরের ব্যবধানে।

    উভয়ের হত্যাকারীর মধ্যে ছিলো আশ্চর্য রকমের মিল। যেমন উভয়ের হত্যাকারীর মধ্যে বয়সের ব্যবধান ছিলো ১০০ বছর। উভয় হত্যাকারীই বিচার শেষ হবার আগেই অন্য আততায়ীর দ্বারা নিহত হয়। উভয় হত্যাকারীর নামের অক্ষর (ইংরেজী বানানে) ছিলো ১৫টি করে অক্ষর। যেমন – প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের হত্যাকারীর নাম ছিলো John Wilkes Booth এবং জন এফ কেনেডির হত্যাকারীর নাম Lee Harvey Oswald মোট ১৫টি অক্ষর।

    নিহত উভয় প্রেসিডেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্টের নাম ছিলো জনসন। অর্থাৎ আব্রাহাম লিংকনের ভাইস প্রেসিডেন্টের নাম ছিলো এন্ড্রু জনসন এবং জন এফ কেনেডির ভাইস প্রেসিডেন্টের নাম ছিলো জন লিন্ডন বি জনসন। জনসন বানান লিখতেও সাতটি করে অক্ষর দরকার হয়। এই উভয় জনসনের বয়সের ব্যবধানও ছিলো ১০০ বছর। যেমন এন্ড্রু জনসনের জন্ম ১৮০৮ সালে এবং লিন্ডন বি জনসনের জন্ম হয়েছিলো ১৯০৮ সালে।
    লিংকন ও কেনেডি এই দুটি নামের বানান লিখতেও সাতটি করে অক্ষরের দরকার হয়। যেমন- Lincoln এবং Kennedy.

    আব্রাহাম লিংকনের সেক্রেটারির নাম ছিলো কেনেডী এবং জন এফ কেনেডীর সেক্রেটারীর নাম ছিলো লিংকন। এছাড়াও উভয় প্রেসিডেন্ট ছিলেন মানবতাবাদী এবং দাসপ্রথার বিরোধী।”

    সংখ্যাভিত্তিক মিরাকেল।
    আসেন এইবার লিংকন আর কেনেডিরে মুজিজাপ্রাপ্ত হিসাবে গ্রহণ করি।

  7. Shakil_hasan

    @শাহবাজ নজরুল: ভাই একটা অফ টপিক।
    অনেকদিন ধরেই আপনার কোন লেখা পাই না। ফিজিক্সের উপর কয়েকটা লেখা লেখেন।আব্দুল্লাহ সাঈদ ভাইও অনেকদিন অনুপস্থিত।বিবর্তনবাদ নিয়েও নতুন কিচ্ছু পাই না দীর্ঘদিন।
    সদালাপের সাইন্স ডিপার্টমেন্টটা অনেকদিন কেমন খালি খালি।

  8. মজলুম

    পান্না গ্যাংয়ের ধাপ্পাবাজির বিরুদ্বে সংক্ষিপ্ত কিছু লাইন।
    যেহেতু পান্না গ্যাংয়ের বিদেশী ফান্ড আছে তাই বসে বসে শীবের বিশাল গীত গাওয়া, আম গাছ, গাব গাছ মিলিয়ে কানাকে হাই কোর্ট দেখানোর মতো করে কন্টেন্ট লিখতে পারে। আমাদের মতো লোকদের কাজ করে খেতে হয় তাই বিশাল কন্টেন্ট লেখার সময় হয় না। তাই এই ফেরকাবাজিটা পাঠকে ধরিয়ে না দিলেই নয়।

    মালায়েক বা ফেরেশতাদের ব্যাপারে পান্না গ্যাংয়ের সল্পিত জ্ঞান

    ফেরেশতারা কেনো আল্লাহ কে বলেছেন যে মানুষ জাতি সৃষ্টি করলে তা খুন খারাবি বা ফেৎনা ফাসাদ করবে? তার মানে নয় ফেরেশতাদের অগ্রিম জ্ঞান ছিলো বা তাদের রেশনালিটি ছিলো বরং মানব সৃষ্টির আগে আল্লাহ জ্বিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেই জ্বিন জাতি ভয়াবহ খুন খারাবি আর ফেৎনা ফাসাদে জড়িত ছিলো। পরে আল্লাহ ফেরেশতা পাঠিয়ে ওদের দমন করেন।

    হালাকু খানের বর্বরতার কথা বলে এদিক সেদিক চলে গেলেন। তো হালাকু খানদের কারা মোকাবেলা করে আইন জালুতে পরাজিত করেছে। মুসলিমদের ভাগ্য ভালো যে সেই সময় মামলুকদের মত শাসকরা ছিলেন যারা আইয়ুবী পরবর্তী চেঙ্গিস খান, হালাকু খানদের সহ ক্রুসেডারদের পরাজিত করছেন। পান্না গ্যাংরা ঐ সময় থাকলে যখন মুসলিম বিশ্ব তছনছ হয়ে গিয়েছিলো চেঙ্গিস খান, হালাকু খানদের আক্রমনে, এরা তখন শুধু ফেরকাবাজি করতো এই বলে যে এই ইসলাম শেষ হয়ে গেছে, আল্লাহ এই জাতির উপর মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। মুসলিম বিশ্বে তখন তাতারি মঙ্গলদের আক্রমন আর গনহত্যা এতো ভয়াবহ ছিলো যে মুসলিমরা মনে করতো শেষ যামানা এসে গেছে, এখন ইমাম মাহদির আসার সময় হয়ে গেছে।

  9. মজলুম

    পান্না গ্যাংয়ের ধাপ্পাবাজির বিরুদ্বে সংক্ষিপ্ত কিছু লাইন।
    যেহেতু পান্না গ্যাংয়ের বিদেশী ফান্ড আছে তাই বসে বসে শীবের বিশাল গীত গাওয়া, আম গাছ, গাব গাছ মিলিয়ে কানাকে হাই কোর্ট দেখানোর মতো করে কন্টেন্ট লিখতে পারে। আমাদের মতো লোকদের কাজ করে খেতে হয় তাই বিশাল কন্টেন্ট লেখার সময় হয় না। তাই এই ফেরকাবাজিটা পাঠকে ধরিয়ে না দিলেই নয়।

    মালায়েক বা ফেরেশতাদের ব্যাপারে পান্না গ্যাংয়ের সল্পিত জ্ঞান

    ফেরেশতারা কেনো আল্লাহ কে বলেছেন যে মানুষ জাতি সৃষ্টি করলে তা খুন খারাবি বা ফেৎনা ফাসাদ করবে? তার মানে নয় ফেরেশতাদের অগ্রিম জ্ঞান ছিলো বা তাদের রেশনালিটি ছিলো বরং মানব সৃষ্টির আগে আল্লাহ জ্বিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেই জ্বিন জাতি ভয়াবহ খুন খারাবি আর ফেৎনা ফাসাদে জড়িত ছিলো। পরে আল্লাহ ফেরেশতা পাঠিয়ে ওদের দমন করেন।

    হালাকু খানের বর্বরতার কথা বলে এদিক সেদিক চলে গেলেন। তো হালাকু খানদের কারা মোকাবেলা করে আইন জালুতে পরাজিত করেছে। মুসলিমদের ভাগ্য ভালো যে সেই সময় মামলুকদের মত শাসকরা ছিলেন যারা আইয়ুবী পরবর্তী চেঙ্গিস খান, হালাকু খানদের সহ ক্রুসেডারদের পরাজিত করছেন। পান্না গ্যাংরা ঐ সময় থাকলে যখন মুসলিম বিশ্ব তছনছ হয়ে গিয়েছিলো চেঙ্গিস খান, হালাকু খানদের আক্রমনে, এরা তখন শুধু ফেরকাবাজি করতো এই বলে যে এই ইসলাম শেষ হয়ে গেছে, আল্লাহ এই জাতির উপর মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। মুসলিম বিশ্বে তখন তাতারি মঙ্গলদের আক্রমন আর গনহত্যা এতো ভয়াবহ ছিলো যে মুসলিমরা মনে করতো শেষ যামানা এসে গেছে, এখন ইমাম মাহদির আসার সময় হয়ে গেছে।

  10. ১০
    মজলুম

    উম্মতে মোহাম্মদী থেকে তো বহু আগেই তারা খারিজ হয়ে গিয়েছিল, অভিভাবক হিসেবে আল্লাহকে তারা অনেক আগেই হারিয়েছিল, এবার আর মুসলিমও রইল না, কারণ জাতিগতভাবে তারা তো তখন ইউরোপের খৃষ্টান জাতিগুলোকে তসলিম করে নিতে বাধ্য হয়েছে।

    মুসলিমদের ভাগ্য ভালো যে কলোনিয়ালিজম পিরিয়ডে পান্না গ্যাংরা ছিলোনা,
    পান্না গ্যাংদের ধর্মিয় জ্ঞানের মতো ইতিহাস জ্ঞান ও কম। ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ সহ সব ক্রুসেডে মুসলিমদের হাতে পরাজিত হয়ে তারা ইউরোপে ফিরে গিয়ে অরিয়েন্টালিজম নামে রিচার্স সেন্টার খোলে। পরে অরিয়েন্টালিজম এর হাত ধরে এরা উপনিবেশিক বাদ শুরু করে। এই উপনিবেশিকবাদের সময় সুদুর মরক্কো হতে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত ইসলামিস্ট লোকেরাই ইউরোপিয় উপনিবেশিকবাদকে মোকাবেলা করেছে। ভারত উপমহাদেশে দেওবন্দের লোকেরাই ২০০ বছর ধরে লড়াই করে গেলো ব্রিটিশদের বিরুদ্বে, ছিলেন সাইয়েদ আহমাদ শহিদ। লিবিয়াতে উমর মোখতার ইটালিয় উপনিবেশিবাদের বিরুদ্বে। রাশিয়ান জার সম্রাজ্রের বিরুদ্বে ককেশাসে ছিলেন ইমাম শামিল। ফ্রান্স উপনিশেবিশিকবাদের বিরুদ্বে আলজেরিয়ার আমির আব্দুল কাদের। সোমালিল্যান্ডের ইবন আব্দুল হাসান। ব্রিটিশ ও ফ্রান্স উপনিশেবিশিকবাদের বিরুদ্বে সিরিয়ার স্বাধিনতা সংগ্রামি ইজ্জাদিন আল কাশেম, যার নামে হামাসের মিলিটারি উইংসের নামকরন করা আছে এখন। এই সকম ইসলামিস্টরাই ছিলেন উপনিবেশিকবাদিদের বিরুদ্বে জানবাজ যোদ্বা, যাদের আত্বত্যাগে আজ মুসলিম বিশ্ব উপনিবেশিকবাদদের হাত হতে মুক্ত।

    আমাদের ভাগ্য ভালো যে ঐ সময় পান্না গ্যাং ছিলোনা, নইলে ওদের বিরুদ্বে লড়াই না করে ফেরকাবাজি করে বেড়াতো যে তোমরা আসল মুসলিম না, আসল মুসলিম হলে উপনিবেশিকবাদ তোমাদের দেশ দখল করতো না।

  11. ১১
    মজলুম

    ঐ ইসলামে নবীর সুন্নাহ ছিল জীবন-সম্পদ দিয়ে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করতে করতে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া, আর আজকের ইসলামে নবীর সুন্নাহ হচ্ছে মিসওয়াক করা, ডান কাতে শোয়া, খাওয়ার পরে মিষ্টি খাওয়া ইত্যাদি। ঐ ইসলামে অনৈক্য সৃষ্টি করা ছিল কুফর, আজকের ইসলামে অনৈক্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

    চালনি কয় সুঁইরে, তো যে ছেদা আছে। আরেকজনের বউ ভাগিয়ে নিয়ে, হাতুড়ি আর রড দিয়ে উনারা পান্না গ্যাঙইসম এর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। মসজিদে নামাজ না পড়ে, কমেডি স্টাইলে নামাজ পড়ে এরা ঐক্য এর কথা বলছে, হাসবো না কাদবো এখন, বলে ওহে পান্না গ্যাং! যে নামাজ আল্লাহর রাসূল, সাহাবী, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়িনদের কেউই পড়েনি।

    এবার পান্না গ্যাংদের মূল থিম বা তাদের নতুন ধর্মের মূল পয়েন্ট গুলো দেখা যাক।

    ১. আল্লাহ বলেছেন তিনি মো’মেনদের ওয়ালি, অভিভাবক, রক্ষক (বাকারা 257)। আল্লাহ যে জাতির অভিভাবক সেই জাতি কি তিনশ’ বছর ব্রিটিশের দাসত্ব করতে পারে? পৃথিবীর সর্বত্র তারা পরাজিত, অপমানিত, লাঞ্ছিত, নির্যাতিত হতে পারে? তাদের মেয়েরা লাখে লাখে ধর্ষিত হতে পারে? তাদের শিশুদের মৃতদেহ সাগরে ভাসতে পারে? এই জাতির পরাজয়, দাসত্ব ও লাঞ্ছনা কি এটাই প্রমাণ করে না যে, আল্লাহ আর তাদের অভিভাবক নেই, আল্লাহ তাদের ত্যাগ করেছেন?

    পান্না গ্যাংয়ের মূল যুক্তি হলো মুসলিমরা যদি আল্লাহর অভিভাবক হতো তাহলে ব্রিটিশরা কেনো তাদের তিনশো বছর গোলামিতে রাখবে। এই যুক্তি হলো সাধারন মানুষদের মগজ ধোলাই করে পান্না গ্যাংইসলমে ভেড়ানো।

    আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনি ভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্যে! তোমরা শোনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী। সূরা বাকারাহঃ২১৪।

    আমি আগেই বলেছি পান্না গ্যাংয়ের ইসলামি জ্ঞান অনেক কম। ইসলাম ধর্মে সবচেয়ে বেশী নির্যাতিত হয়েছে কারা? সবচেয়ে বেশী অপদস্ত করা হয়েছে কাদের? তারা হলেন নবী ও রাসূল (সঃ) রা। তারপর কাদের? তারপর হলেন যারা নবীদের পরে ইমানি শক্তি বেশী। আর যাকে আল্লাহ যতবেশী ভালোবাসেন তাকে ততবেশী কষ্ট এই দুনিয়েতে দিয়ে পরীক্ষা করেন। শুধু আদম এবং সোলাইমান (আঃ) ছাড়া সকল নবীরাই চরমভাবে নির্যাতিত হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে জঘন্য ভাবে। স মিলের করাত দিয়ে দুই ভাগ করা হয়েছে নবীদের, লোহার চিরুনী দিয়ে তাদের শরীরের গোশত উপড়ে ফেলা হয়েছে।

    কারন আল্লাহ তাদের সবচেয়ে বেশী ভালোবাসেন, তাই তাদের সবচেয়ে বেশী পরিক্ষা করেন। মক্কি সূরা গুলো দেখেন(এই টপিকে আরেকদিন বলবো)।

    এখন নবী রাসূলদের উপর এই নির্যাতনে পান্না গ্যাংরা কি মনে করে যে আল্লাহ তার অভিভাবকিত্ব উঠিয়ে ফেলেছেন নবীদের উপর হতে?

    এখন কথা হলো মুসলিমদের উপর কেন দুনিয়াতে আযাব, গজব নেমে আসবে? কেন ফেতনা নেমে আসবে? এই ফেতনা হলো মুসলিমদের যাচাই বাচাই করার জন্যে। ফেতনা শব্দটা আরবী ফিতেন শব্দ হতে এসেছে। স্বর্নকারকে আরবীতে ফিতেন বলা হয়। সে যেভাবে স্বর্ন হতে ধুলাবালি মুক্ত করে স্বর্নকে খাঁটি করেন, তেমনি এই ফেতনা দিয়ে দুনিয়াতে ইমান ওয়ালা মুসলিমদের ফেরকাবাজি পান্নাগ্যাংদের মতো লোকদের হতে আলাদা করেন।

  12. ১২
    মজলুম

    ২. আল্লাহ ওয়াদা করেছেন- তোমরা যদি মো’মেন হও তবে পৃথিবীর কর্তৃত্ব তোমাদের হাতে থাকবে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দিয়েছিলাম (সুরা নুর ৫৫)। এখন যে জাতির হাতে পৃথিবীর কর্তৃত্ব থাকা তো দূরের কথা, যাদের বিগত কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস হচ্ছে পাশ্চাত্যের খৃষ্টান জাতিগুলোর হাতে পরাজিত, গোলামী ও নির্যাতিত হবার ইতিহাস, সেই জাতিকে মো’মেন বলার অর্থ কি এটাই দাঁড়ায় না যে, আল্লাহ ওয়াদা ভঙ্গ করছেন? (নাউজুবিল্লাহ)। আর যদি আপনি বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ কখনোই ওয়াদা ভঙ্গ করেন না, তাহলে এই সত্যটি স্বীকার করতেই হবে যে, এই জাতি আর মো’মেন নয়।

    পান্না গ্যাংয়ের আরেক ধাপ্পাবাজি। আল্লাহ এখানে মোমেন বলেছেন, কিন্তু মুসলিম বলেন নাই। পান্না গ্যাংদের আগে মুমিন ও মুসলিমদের মধ্যকার পার্থ্ক্য জেনে নিতে হবে। হতে পারে মোমেনদের সংখ্যা কম তাই বিজয় হচ্ছেনা, কিন্তু মুসলিমরা অমুসলিম হয়ে যায় নি, তারা ঠিকই মুসলিম আছে। এই আয়াতের ব্যাপারে জানতে ইবনে কাসীর এর তাফসীর দেখো।

    এবার দেখি পান্না গ্যাংদের আরেক ধাপ্পাবাজি

    আল্লাহর রসুল একদিন বললেন- ‘অচীরেই এমন সময় আসছে যখন অন্যান্য জাতিগুলো তোমাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে ডাকবে যেমন করে খাবার সময় মানুষ একে অপরকে খেতে ডাকে। কেউ একজন প্রশ্ন করলেন- তখন কি আমরা সংখ্যায় এতই নগণ্য থাকবো? তিনি বললেন- না। তখন তোমরা সংখ্যায় অগণিত হবে, কিন্তু হবে স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মত। (হাদীস-সাওবান (রা.) থেকে আবু দাউদ, মেশকাত)

    ধাপ্পাবাজির জন্যে পুরা হাদিসটাও কোট করলোনা। পুরা হাদিস হলো, অচীরেই এমন সময় আসছে যখন অন্যান্য জাতিগুলো তোমাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে ডাকবে যেমন করে খাবার সময় মানুষ একে অপরকে খেতে ডাকে। কেউ একজন প্রশ্ন করলেন- তখন কি আমরা সংখ্যায় এতই নগণ্য থাকবো? তিনি বললেন- না। তখন তোমরা সংখ্যায় অগণিত হবে, কিন্তু হবে স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মত। তোমাদের অন্তর হবে দূর্নিতীগ্রস্হ। সাহাবীরা প্রশ্ন করলো দূর্নিতীগ্রস্হ টা কি? তখন আল্লাহর রসুল বলেন, দুনিয়ার প্রতি আসক্তি আর মৃত্যুভীতি। মুসলিমদের অন্তর কলুষিত হলেও, বা তাদের ইমান কম হলেও তারা কিন্তু অমুসলিম হয়ে যায় নি বা তাদের ইসলাম বিকৃত হয়ে যায় নি। হয়তো তারা ইসলাম কম অনুসরন করছে। নইলে সেদিন আল্লাহর রাসূল বলে দিতেন যে তখন মুসলিমরা আর মুসলিমরা থাকবেনা বা তাদের ইসলাম বিকৃত হয়ে যাবে। (আর পান্না গ্যাং সহীহ ইসলাম নিয়ে আসবে)

    রাসূল (সঃ) বলেছেন তোমরা, মানে সাহাবীদেরকে বলতে গিয়ে বর্তমান মুসলিমদের কথা বলছেন। তিনি বলেন নি যে তখন মুসলিমরা আর মুসলিম থাকবেনা, বা ইসলাম বিকৃত হয়ে যাবে।

    হযরত আলি(রঃ) এর খিলাফতের সময় এক লোক এসে বললো, হে আলী, খলিফা আবু বকর আর উমর (রঃ) এর সময় কতো শান্তি ছিলো, কিন্তু উসমান (রঃ) আর তোমার খেলাফত কালে কেন এতো অশান্তি, ফেতনা আর ফ্যাসাদ। হযরত আলি(রঃ) তখন বললো যে, কারন হলো খলিফা আবু বকর আর উমর (রঃ) এর সময় আমার মতো লোকেরা তাদের অধিনে কাজ করতো। কিন্তু উসমান (রঃ) আর আমার খেলাফতের সময় তোমাদের মতো লোকেরা আামাদের অধীনে কাজ করে।

    হযরত আলি(রঃ) এর মতো বলতে গেলে বলতে হয় যে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের এই দুরাবস্হার জন্যে পান্না গ্যাং এর মতো লোকেরাই দায়ী।

  13. ১৩
    মজলুম

    এমতাবস্থায় যুগের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে জাতির পতনের কারণ অনুসন্ধান না করে, ইতিহাসের কোন জায়গাটিতে তারা পথ হারিয়েছে, কেন আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করছেন না, কেন তারা অন্যান্য জাতিগুলোর গোলামীতে নিমজ্জিত হয়ে আছে- এর কারণ অনুসন্ধান না করে আমরা যারা এখনও নিজেদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি, নির্লজ্জের মত নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি বলে আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছি তাদের এই আহাম্মকীপূর্ণ আত্মতুষ্টির যে কোনো মূল্য নেই, যতদিন আমরা পুনরায় আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করব না, ততদিন অন্য ধর্মের মানুষকে বর্তমানের এই নামসর্বস্ব ইসলামে প্রবেশ করিয়ে যে কোনো লাভ নেই- এই কথাটিই বোঝানোর জন্য কিছুদিন পূর্বে সদালাপে একটি পোস্ট করেছিলাম। শিরোনাম ছিল ‘ইসলাম গ্রহণের খবরে যারা খুশিতে বাকবাকুম হন।’ কিন্তু হায়রে জাতি! নিরেট সত্যটা কিছু মানুষের হজম হলো না। শুরু হলো হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের বিরুদ্ধে যাচ্ছেতাই অপপ্রচার! হেযবুত তওহীদের গুরুতর অপরাধটা হচ্ছে- কেন আমরা বিশ্ব মুসলিমের প্রতিষ্ঠিত ধর্মকে প্রকৃত ইসলাম বলি না।

    পান্না গ্যাংয়ের ধাপ্পাবাজি একটার পর আরেকটাকে অতিক্রম করে। পশ্চিমা অমুসলিমরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলে অবশ্যই খুশী হওয়ার কারন আছে, সেটা দালাল হেজবুতরা না বুঝলেও চলবে। মুসলিমরা বর্তমানে শিক্ষায়, টেকনলোজী, অর্থনীতি, সামরিক সহ সব দিক দিয়েই পশ্চিমাদের দিক হতে অনেকগুন পিছিয়ে আছে। তো এই পিছিয়ে পড়া জাতিটার ধর্ম কে যখন উন্নতির শিখরে থাকা পশ্চিমারা যখন গ্রহন করে তখন অবশ্যই খুশি হওয়ার কারন আছে। কি পেল এই পিছিয়ে পড়া জাতির ইসলাম ধর্মে যে তার ধর্ম ছেড়ে দিলো। অবশ্যই ইসলামে কিছু আছে, যা পশ্চিমা লোকটা বুঝেছে, অমুসলিম লোকটা বুঝেছে কিন্তু মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়ে পান্না গ্যাংয়ের মত অনেকেই না বুঝার ভান করে আছে বা তা নিয়ে নতুন ফেরকা সৃষ্টি করছে।

    পৃথিবীতে এই উধাহারন শুধু ইসলাম ধর্মেই আছে যে বিজিত জাতিরা পরাজিত জাতির ধর্ম ইসলামকে গ্রহন করে। এই যে হালাকু খানের তাতারী মঙ্গলীয়রা মুসলিম বিশ্বকে তছনছ করে দিয়ে, মুসলিমদের পরাজিত করে। পরে এই বিজিত তাতারী মঙ্গলরাই পরাজিত মুসলিমদের ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে মুসলিম বিশ্বকে নতুন করে গড়ে তুলে। ইসলামের একটা নিজস্ব আত্ব শক্তি আছে, বাহির হতে তাকে সাহায্য করতে হয়না, সে নিজ থেকেই স্পুরিত হয়।

  14. ১৪
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @ মজলুম

    আপনি আগে সুধী সমাজে কীভাবে ভদ্র ভাষায় কথা বলতে হয়, কীভাবে ভিন্নমতের মানুষকেও শ্রদ্ধা করতে হয়, বিদ্বেষ চেপে রাখতে হয়, সেসব আদব-কায়দা শিখে আসুন। তারপর আপনার সাথে আলোচনায় যাব।

  15. ১৫
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @সদালাপ কর্তৃপক্ষ,

    এই ব্লগের নাম ‘সদালাপ’। সাধারণত এখানে যে আলাপ হয় সেটাকে সদালাপ বলতে কারো দ্বিধা থাকার কথা নয়। প্রায় সবাই চেষ্টা করেন সুস্থ ভাষা প্রয়োগ করতে, সহনশীল আচরণ করতে এবং ভদ্রতা বজায় রেখে কোনো বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করতে। কিন্তু ধানের মধ্যে যেমন চিটা থাকে, তেমনি এখানকার মুক্ত চিন্তার সুস্থ ব্লগারদের পাশাপাশি আমি দুই একজন উগ্র স্বভাবের ব্লগার পাচ্ছি, যারা ভিন্নমতের মানুষের প্রতি ন্যুনতম ভদ্রতা প্রদর্শনের প্রয়োজনবোধ করেন না। আমার আদর্শের বিরুদ্ধে তিনি হাজার কথা বলুন, আপত্তি নাই, কিন্তু তিনি ব্যক্তি আক্রমণ কেন করবেন? একজন সম্মানিত ব্যক্তির নাম বিকৃত করা কোন শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে?

    ইসলামবিদ্বেষীরা যেভাবে নোংরা ভাষা প্রয়োগ করে আমাদের প্রাণপ্রিয় রসুলকে আঘাত করে, এবং সেইসব নোংরামীকে ইসলামবিদ্বেষী ব্লগগুলো প্রমোট করে, তার সাথে আমাদের পার্থক্য রইল কোথায়? আশা করি এইসব নোংরা স্বভাবের ব্লগারদেরকে উপযুক্ত চিকিৎসা দান করে সুস্থ করে তোলা হবে, নইলে তারা যে ভাগাড়ের উপযুক্ত সেখানে পাঠানো হবে।

  16. ১৬
    মজলুম

    আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে- আমরা আজকের এই ‘বিশ্ব মুসলিমের’ পালিত ধর্মবিশ্বাসটিকে, যা তারা ইসলাম নাম দিয়ে পালন করে চলেছে সেটা যে আল্লাহ ও রসুলের প্রকৃত ইসলাম নয় এই কথাটি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উচ্চারণ করি। কেন করি? আক্রোশ মেটাবার জন্য? এই জাতির সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা আছে, সেই কারণে? না, কোনো শত্রুতা নাই, আমরা নিজেরাও তো এই মুসলিম নামধারী জাতিটিরই সদস্য। বস্তুত আমরা এই কঠোর সত্যটি উচ্চারণ করি যেন এই জাতিটির যে লক্ষ্য আল্লাহর রসুল ঠিক করে দিয়েছিলেন, সেই লক্ষ্য ভুলে তারা যে বিপরীত দিকে যাত্রা করে অনেকদূর অতিক্রম করে ফেলেছে, যেন তাদের মাথায় টোকা পড়ে, তাদের হুঁশ হয়। আমার জাতি কষ্ট পাবে, আমার জাতির সদস্যরা নিজেদেরকে অপমানিত বোধ করবে-

    আহারে! শয়তানের মত এমন রসালো ভাবে বিষ পরিবেশন করছে, বলছে দেখে মনে হবে কুমিল্লার রসমলাই। বিদায় হজ্জের ভাষনে আল্লাহর রাসূল(সঃ) এই জাতির প্রতি দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন যে কি করলে এই জাতির পতন হবে আর কি করলে এই জাতির উন্নতি হবে, তাই আমাদের নতুন করে পান্নামুজ্জামানের মত ভন্ডের দরকার নাই। যারা মসজিদে নামাজ পড়েনা, নামাজ নিয়ে কমেডি করে, যেই নামাজ আল্লাহর রাসূল বা সাহাবিরা কেউই পড়েনি, সেইগুলো করে মূল ইসলামকে বিকৃত করে ইসলামের হিতাকাংখী সাজতে চায়।

  17. ১৭
    মজলুম

    একজন সম্মানিত ব্যক্তির নাম বিকৃত করা কোন শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে?

    দুঃখিত, ধান্ধাবাজ, ফেরকাবাজ পান্না ও তার গ্যাংকে আমি ধাপ্পাবাজ ই বলবো। কোদাল কে কোদালই আমি বলবো। অভিজিত রায়ের মুরিদদের কাছেও অভিজিত রায় একজন সম্মানিত লোক। কিন্তু আমি তাকে ধাপ্পাবাজ বলবো, কারন সে ধাপ্পাবাজি করে। আর ধাপ্পাবাজদের ভালো নাম বলা তো দূরে থাক, ওদের ধাপ্পাবাজ না বললে তা হবে নৈতিকতার পরিপন্হি। চোরদের চোর না বলা, ডাকাতদের ডাকাত না বলাও একটা অপরাধ। যদিও চোর ও ডাকাতরা মনে করে যে তাদের চোর বা ডাকাত বলে ডাকলে তাদের প্রেস্টিজ এ লাগে। সত্য গোপন করাও একটা অপরাধ।

  18. ১৮
    মজলুম

    এম আহমদ হয়ত জানেন না হেযবুত তওহীদ কোনো ফেরকার নাম নয়। হেযবুত তওহীদকে যারা প্রচলিত ফেরকা-মাজহাবগুলোর মতই নতুন কেনো ফেরকা হিসেবে চিত্রায়িত করতে চাচ্ছেন তারা নিজেরা ভুলের মধ্যে আছেন এবং অন্যকেও বিভ্রান্ত করছেন। হেযবুত তওহীদ কোনো ফেরকা নয়, দল নয়।

    পাবনার পাগলা গারদের পাগলরাও নিজেদের পাগল বলে স্বীকার করেনা। আর পান্না গ্যাং ও নিজেদের ফেরকাবাজ বলে স্বীকার করেনা।

  19. ১৯
    মজলুম

    ইসলাম আপনাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নয় যে, আপনার যা ইচ্ছা হবে ইসলামের নাম দিয়ে করবেন আর আমাদেরকে মুখ বুঁজে বসে থাকতে হবে। আল্লাহর রসুল কেবল আপনার একার জন্য প্রেরিত হন নাই। ‘‘বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল (আরাফ ১৫৮)। সুতরাং তিনি আমারও রসুল। তিনি যে দ্বীন এনেছেন সেটা আমারও দ্বীন। আমি আমার রসুলের উম্মত। উম্মতে মোহাম্মদী হিসেবে ইসলামের নামে চলা যেকোনো অনাচার, যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা কেবল আমার অধিকারই নয়, আমি তা করতে বাধ্যও।

    সেই জন্যেইতো এখন ধাপ্পাবাজ পান্না গ্যাঙ্গের সকল ধাপ্পাবাজি ধরিয়ে দিচ্ছি। ফেরকাবাজি করে অজ্ঞ লোকদের ইসলাম হতে দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে চাায় পান্না গ্যাঙ্গ। তাকিয়া করে লাভ নাই, ধাপ্পা দের দৌড়ানির উপর রাখা হবে।

  20. ২০
    মজলুম

    আজকের যে জঙ্গিবাদ, যে সন্ত্রাসবাদ, যে ধর্মব্যবসা, যে সাম্প্রদায়িকতা, তা ইসলামের গত ১৩০০ বছরের বিকৃতির ফল। এ কথা বলে আমরা জাতিকে আহ্বান জানাই যেন, সবাই পুনরায় বিশ্বনবীর আনিত সেই প্রকৃত ইসলামের স্বরূপ উপলব্ধি করে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন এবং ধর্মের নামে চলা যাবতীয় অধর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আল্লাহ, রসুল ও ইসলামের উপর যে অপবাদ রটানোর চেষ্টা করছে ইসলামবিদ্বেষীরা, সেই চক্রান্ত রুখে দিতে পারেন। এই সহজ-সরল কথাটি না বুঝতে পারার কারণ কী? অজ্ঞতা? নাকি বিদ্বেষ?

    পান্না গ্যাং লিডারকে গত ১৩০০ বছর ধরে কোন দায়িত্বে না দিয়ে ১৯৯৮ সালে কেন আল্লাহ মোজেজার মাধ্যেমে এমামুজ্জামান বানালো। গত ১৩০০ বছরের বিকৃত ইসলামের কি হবে এখন, ঐ ১৩০০ বছরের সব মুসলিমরা তো তাহলে জাহান্নামি! ফেরকাউজ্জামান পান্না ওদের জন্যে কিছু করবে নাকি? তাছাড়া আমার কি হবে? আমি যে ইমামুজ্জামান পান্না কে ফেরকাউজ্জামান বলছি মানে এই জামানার ফেরকাবাজ।

  21. ২১
    মজলুম

    মুক্তমনা দাবিদার ইসলামবিদ্বেষীরা এক অন্ধ, হেযবুত তওহীদের সাথে যারা ঐসব ইসলামবিদ্বেষীর তুলনা করে তারা আরেক অন্ধ। অন্ধ না হলে তারা বুঝত যে, ইসলামবিদ্বেষীরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িকতার জন্য দায়ী করে ইসলামকে, আল্লাহকে, রসুলকে। তারা কোর’আন-হাদীসের, ইসলামের ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝাতে চায় যে, বিশ্বনবীও সন্ত্রাসী ছিলেন, জঙ্গি ছিলেন, সাম্প্রদায়িক ছিলেন, ইসলাম ধর্মই সন্ত্রাসী ধর্ম ইত্যাদি। তারা বর্তমানের মুসলিমদেরকে দায়ী করে না, দায়ী করে আল্লাহর রসুলকে, দায়ী করে কোর’আনকে। অন্যদিকে আমরা হেযবুত তওহীদ আমাদের লেখায়, বক্তৃতায়, প্রচার-প্রচারণায় বারবার যেটা বলে আসছি তা হচ্ছে- এই সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদির জন্য বিশ্বনবীর আনিত প্রকৃত ইসলাম দায়ী নয়।

    পান্না গ্যাঙ্গের সাথে অভিজিত গ্যাংয়ের মিল হলো ওরা দুই গ্যাং ই মনে করে যেখানে সেখানে কোন হামলা হলেই তা মুসলিমরাই করেছে। পান্না গ্যাং আহমেদ ভাইয়ের টোন বুঝে উঠতে পারেনি। তবে পান্না গ্যাংয়ের সাথে দেওয়ান ভাগী গ্যাংয়ের মিল আছে। দুই গ্যাংই মনে করে বর্তমান ইসলাম ইসলাম নয়, মুসলিমদের ঐ দুই গ্যাংকে এমাম বলে মেনে নিতে হবে। দুই গ্যাংই (শয়তানি) মোজেযা পেয়েছে বলে দাবী করে।

  22. ২২
    Shahriar

    মজলুম ভাই,
    চমতকার জবাব দিচ্ছেন। এই ভণ্ডদের থেকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের দূরে রাখো।

  23. ২৩
    মুনিম সিদ্দিকী

    জনাব মোহাম্মদ আসাদ আলী সাহেব,

    আমাকে আহ্বান করেছেন তার এই ব্লকটি পড়ার জন্য। যদিও আমার সময় হাতে নেই, তারপরও উনার দাওয়াতকে রক্ষা করতে আমি দীর্ঘ সময় নিয়ে পড়েছি।  জনাব মোহাম্মদ আসাদ আলী সাহেবকে বিনয়ের সহিত জানাচ্ছি, হিজবুত তাওহিদের নাম শুনলেও তাদের আদর্শ কি উদ্দেশ্য কি তা আমি জানিনা, এবং জানতেও উতসাহী ছিলামনা। যার জন্য আপনাদের কথিত আন্দোলন সম্পর্কে আমার নুন্যতম ধারনা নেই।

    যাই হোক আপনি আমাকে পড়তে আমন্ত্রণ করেছেন তাই আপনার আমন্ত্রণের সম্মান জানিয়ে আমি তা পড়েছি। প্রথম বলছি আপনি উল্লেখ করেছেন যে আজকের পৃথিবীতে রাসুল সাঃ ইসলাম চালু নেই। তার সাথে আমি দ্বিমত করছিনা। কিন্তু বর্তমান ইসলামকে পুরো বাতিল বলতে পারছিনা। আমার বিচারের বর্তমান পৃথিবীতে দূর্বল ঈমানের ইসলাম চালু আছে বলে আমি বিশ্বাস করি।

    সাধারণত; সদালাপে যারা লিখেন, যারা পড়েন তারা ভালোভাবেই জানেন বর্তমান ইসলাম রাসুল সাঃ এর আমলে পালিত সেরূপ ইসলাম নয়। তাই ইসলামে ডেফিনেশন দিতে এই ব্লগকে এত লম্বা করার দরকার ছিলোনা। এম আহমদ ভাইয়ের সাথে যে বিষয় নিয়ে আপনার দ্বিমত আছে তা নিয়ে আপনার জবাব সরাসরি উপস্থাপন করলে আমাদের এত সময় বিনষ্ট হতে পারতোনা।

     যে কথা বলতে যাচ্ছি তার জন্য দয়াকরে মনঃক্ষুণ্ণ হবেননা। দীর্ঘ প্রবন্ধ বা ব্লগ লেখার মত শিল্পদক্ষতা আপনার লেখার মধ্যে পাওয়া যায়না, বলে আপনার এত দৈঘ্য ব্লগ পড়তে গিয়ে পাঠকদের বিরাট ধর্য্যের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। লেখার গতিশীলতা না থাকার বোর হয়ে যাচ্ছে , যার ফলে আপনার লেখার যৌক্তিকতা পাঠকের হৃদয়ে গিয়ে কোন ম্যাসেজ রাখতে পারছেনা।

    যেহেতু আমি আপনাদের সম্পর্কে জানিনা সেহেতু এই নিয়ে আমি কোন কথা বলতে পারছিনা। মন্তব্য নং ১২ তে আপনি সদালাপ এডমিনের কাছে আপিল করেছেন, যেন সদালাপে কোন ব্যক্তিকে নিয়ে আক্রমণ করে কথা বলা না হয়। আমিও আপনার সাথে একমত, আমি আপনার মতের পথে বিরোধিতা করে যুক্তিপূর্ণ ভাষায় কথা বলে পারি কিন্তু কোন ভাবেই কোন ব্যক্তি বা কোন দল বা কোন ধর্মকে আক্রমন করে কথা বলতে পারিনা। দেখুন ভাই আপনি এই আবেদন করা আগেই আপনার এই ব্লগে যে বললেন মুক্তমনা দাবিদার ইসলামবিদ্বেষীরা এক অন্ধ, হেযবুত তওহীদের সাথে যারা ঐসব ইসলামবিদ্বেষীর তুলনা করে তারা আরেক অন্ধ। , এই উক্তির মাধ্যমে আপনি তো নিজেই সদালাপ না করে ডাণ্ডালাপ করে গেলেন?

    কোন ব্যক্তির একটি মাত্র ব্লগ পড়ে বা একটি দুটি কমেন্ট পড়ে তাকে নন্দ বানিয়ে ফেলা ইসলামের ন্যায় বিচার হতে পানে। যেমন আপনি যদি আমাকে বিচার করতে চান তাহলে গভীর মনোযোগ দিয়ে আমার অনেকগুলো ব্লগ পড়তে হবে, তাহলে আপনি আমাকে বুঝতে পারবেন,। আর যদি না পড়েন তাহলে আমাকে ভুল বুঝে যাবেন।

    ইসলাম যুদ্ধ আর বিচারের রায় কার্যকর করার জন্য চরম পন্থার নির্দেশ দিলেও বাকি সব কাজের জন্য মধ্যপন্থা অবলম্বনের জন্য তাগিদ দিয়েছে। এরজন্য আল্লাহ ইসলামকে মধ্যপন্থিদের ধর্ম বলেছেন।আর মুসলিমরা মধ্যপন্থী জাতি। ইসলামে চরম পন্থায় কোন সুযোগ নেই।

    আমাদের এম আহমদ ভাই, দীর্ঘ দিন থেকে সে ১২ বছরের অধিক সময় থেকে তিনি ভার্চুয়াল জিহাদির দায়ীত্ব পালন করে আসছেন। তিনি এন্টি ইসলামি, আর মুক্তমনাদের ত্রাস।তিনি দ্বিন ইসলামকে রক্ষার জন্য নিজের জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করে চলছেন। কাজেই তাকে সম্মান দিয়েই তার সাথে আপনার বহাস করার দরকার। আপনার প্রোপিকে যে ছবি দেখছি তা যদি আপনার এই সময়ের হয়ে থাকে তাহলে আপনি আহাদ ভাইয়ের পুত্র সম বয়সী হবেন। ইসলাম বয়োজষ্ঠদেরকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। ছোটদের প্রতি স্নেহর সহিত কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছে।

    @ মজলুম সাহেব, আস সালামু আলাইকুম, ভাই অনুরোধ করবো আপনার উপস্থাপনার ভাষতে একটু বরফ ঢালুন।দেখুন আল্লাহ আমাদের বলেছেন, তোমরা বাতিলদের (অমুসলিমদের) প্রভু বা তারা যাকে উপাসনা করে তাদেরকে মন্দ ভাষায় উল্লেখ করবেনা, যদি করো আর তার প্রতিক্রিয়ায় যদি তারা তোমার হক আল্লাকে গালি দিতে পারে। ভাই মজলুম আমরা যদি বিধর্মীদের প্রতি সহানুভুতিশীল ভাবে কথা বলতে পারি তাহলে ভাই আসাদ আলীর আন্দোলনী ভাইদের সাথে কেন সহনশীল ভাবে কথা বলতে পারিনা? তাদেরকে ধরে নেন, ব্লাক মুসলিম, কাদিয়ানী মুসলিম বা বাহাই মুসলিম, শিয়া মুসলিম, দ্রুজ মুসলিম, ইয়াজিদি মুসলিমদের মত আরেক মহযাবের মানুষ। আমাদের সবার উচিত সুন্দর ভাষা কথা বলা। একমাত্র ভালোবাসা পারে দুই বিপরীত পথে মানুষকে এক করতে। ধন্যবাদ।

  24. ২৪
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @মুনিম সিদ্দিকী ভাই,

    সুন্দর মন্তব্যটি করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আমার পোস্টের যে বাক্যটির ব্যাপারে আপনি আপত্তি করেছেন সেটা আমি এডিট করব ইনশা’আল্লাহ।

    লেখাটা অনেক দীর্ঘ হয়েছে, অনেক কথা ঢুকেছে যা হয়ত আপনার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত মনে হয়েছে। কিন্ত আমার আগের কয়েকটি ব্লগপোস্ট ও তার কমেন্টগুলো যদি খেয়াল করেন তাহলে বুঝবেন আমি কেন লেখার পরিধি এত দীর্ঘ করেছি। আর লেখার শিল্পমান নিয়ে আমার কিছু বলার নাই। আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করি, বাকিটা আল্লাহ ভরসা।

  25. ২৫
    শামস

    হিজবুত তাওহীদ নিয়ে কোন ধারণা নেই, তবে বিচ্ছিন্নভাবে তাদের সম্পর্কে সামান্য কিছু জেনেছিলাম, তাদের বিচিত্রভাবে সালাত আদায়ও দেখা হয়েছে। শিয়াদের একেবারে অন্যরকম নামাজ প্রায়ই দেখা হয়, কিছু ইরানি শিয়ার বদৌলতে। তবে তারা সাধারণত সুন্নী ইমামদের পিছনে জামাত পড়ে. কিন্তু হিজবুত তাওহীদের লোকেরা তাদের বাইর অন্য ইমামদের পিছনে পড়ে কিনা জানি না.

    যাক, আপনার লেখাটির উপর চোখ বুলিয়ে দেখলাম, আপনি আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। অবশ্য সেটিকে যথার্থ মনে হয়নি।

    আপনি বলেছেন

    "আল্লাহ বলেছেন তিনি মো’মেনদের ওয়ালি, অভিভাবক, রক্ষক (বাকারা 257)। আল্লাহ যে জাতির অভিভাবক সেই জাতি কি তিনশ’ বছর ব্রিটিশের দাসত্ব করতে পারে? পৃথিবীর সর্বত্র তারা পরাজিত, অপমানিত, লাঞ্ছিত, নির্যাতিত হতে পারে? তাদের মেয়েরা লাখে লাখে ধর্ষিত হতে পারে? তাদের শিশুদের মৃতদেহ সাগরে ভাসতে পারে? এই জাতির পরাজয়, দাসত্ব ও লাঞ্ছনা কি এটাই প্রমাণ করে না যে, আল্লাহ আর তাদের অভিভাবক নেই, আল্লাহ তাদের ত্যাগ করেছেন?
    ২. আল্লাহ ওয়াদা করেছেন- তোমরা যদি মো’মেন হও তবে পৃথিবীর কর্তৃত্ব তোমাদের হাতে থাকবে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দিয়েছিলাম (সুরা নুর ৫৫)। এখন যে জাতির হাতে পৃথিবীর কর্তৃত্ব থাকা তো দূরের কথা, যাদের বিগত কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস হচ্ছে পাশ্চাত্যের খৃষ্টান জাতিগুলোর হাতে পরাজিত, গোলামী ও নির্যাতিত হবার ইতিহাস, সেই জাতিকে মো’মেন বলার অর্থ কি এটাই দাঁড়ায় না যে, আল্লাহ ওয়াদা ভঙ্গ করছেন? (নাউজুবিল্লাহ)। আর যদি আপনি বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ কখনোই ওয়াদা ভঙ্গ করেন না, তাহলে এই সত্যটি স্বীকার করতেই হবে যে, এই জাতি আর মো’মেন নয়।" 

    আমার প্রশ্ন আপনাকে কে বলল যে তিনি মো'মেনদের অভিভাবকত্ব ত্যাগ করেছেন? আপনি কি এমন কোন আয়াত, বা হাদিস দেখতে পারেন যে আল্লাহ বলেছেন যে তিনি কোন কোন সময় মুমিনদের অভিভাবকত্ব ত্যাগ করেন?

  26. ২৬
    শামস

    কোন দল বা মত খারাপ হলেই রূঢ় বা বাজে আচরনের এর উপযুক্ত হয়ে যায় না, আর নিজে ঠিক বাকি সব বেঠিক এ ধরণের মানসিকতাও স্থান না দেয়াটাই সবার জন্য ভালো। আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থানে আরও সংযত হই.

  27. ২৭
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @শামস

    আমার প্রশ্ন আপনাকে কে বলল যে তিনি মো'মেনদের অভিভাবকত্ব ত্যাগ করেছেন? আপনি কি এমন কোন আয়াত, বা হাদিস দেখতে পারেন যে আল্লাহ বলেছেন যে তিনি কোন কোন সময় মুমিনদের অভিভাবকত্ব ত্যাগ করেন?

    না ভাই, আমি কোথাও বলি নাই যে, আল্লাহ মো’মেনদের অভিভাবকত্ব ত্যাগ করেছেন বা কখনও কখনও করেন। আমি বোঝাতে চেয়েছি যে, আল্লাহ বর্তমানের এই জাতির অভিভাবকত্ব ত্যাগ করেছেন। আর তার দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, এই জাতি জাতিগতভাবে মু’মিন নয়।

  28. ২৮
    শামস

    @মোহাম্মদ আসাদ আলী:
    @মোহাম্মদ আসাদ আলী:
    আপনার লেখা থেকে কোট করা
    “১. আল্লাহ বলেছেন তিনি মো’মেনদের ওয়ালি, অভিভাবক, রক্ষক (বাকারা 257)। আল্লাহ যে জাতির অভিভাবক সেই জাতি কি তিনশ’ বছর ব্রিটিশের দাসত্ব করতে পারে? পৃথিবীর সর্বত্র তারা পরাজিত, অপমানিত, লাঞ্ছিত, নির্যাতিত হতে পারে? তাদের মেয়েরা লাখে লাখে ধর্ষিত হতে পারে? তাদের শিশুদের মৃতদেহ সাগরে ভাসতে পারে? এই জাতির পরাজয়, দাসত্ব ও লাঞ্ছনা কি এটাই প্রমাণ করে না যে, আল্লাহ আর তাদের অভিভাবক নেই, আল্লাহ তাদের ত্যাগ করেছেন?”

    সূরা বাকারা থেকে উদ্বৃত করলেন “আল্লাহ মোমেনদের অভিভাবক”, প্যারার শেষে বলেছেন “এই জাতির পরাজয়, দাসত্ব ও লাঞ্ছনা কি এটাই প্রমাণ করে না যে, আল্লাহ আর তাদের অভিভাবক নেই, আল্লাহ তাদের ত্যাগ করেছেন?” এটা দ্বারা আল্লাহ মোমেনদের অভিভাবক নেই তাদের ত্যাগ করেছেন, সেটা না বললে এই আয়াতটাকে এখানে টেনে আনছেন কেন?

    আমার প্রশ্ন আবারো – আল্লাহ কোন জাতির অভিভাবকত্ব ত্যাগ করেছেন? আর আল্লাহ যে অভিভাবকত্ব ত্যাগ করেন কুরআন ও হাদিস থেকে উদাহরণ দিন!

  29. ২৯
    মজলুম

    @মুনিম সিদ্দিকী: এই পোষ্ট দেওয়ার আগে তার আরেক পোষ্টে আমি তাকে বলেছি সে ৬ বছরের শিশু নয়, তাকে বুঝানোর কিছু নেই। সে বুঝে শুনে এই ফেরকা ছড়াচ্ছে, তাই তার বিরুদ্বে আমার কমেন্ট হবে আক্রমনাত্বক। কুফফার তো বাইরের শক্তি তাকে দেখা যায়, বুঝা যায় কিন্তু ফেরকা ছড়িয়ে এরা ইসলামকে ভিতর হতে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

    যারা বলছে বর্তমান ইসলাম বিকৃত ইসলাম এবং মুসলিমরা সব অমুসলিম হয়ে গেছে। গনহারে সব মুসলিমকে কাফির না বলে একটু ঘুরিয়ে বলছে। সেই জন্যে এরা মসজিদে নামাজ পড়েনা, আলাদা পড়ে। সকল মুসলিমকে অমুসলিম বলা আক্রমনাত্বক নয়, রুঢ় ও নয়। গত ১৩০০ বছরের ইসলামকে বিকৃত ইসলাম বলা আক্রমনাত্বক নয়, রুঢ় ও নয়। কিন্তু ওদের “ধাপ্পাবাজ” আর “গ্যাং” বলা হয়ে যায় আক্রমনাত্বক এবং রুঢ়।

    আর ব্লাক মুসলিম, হোয়াইট মুসলিম, ব্রাউন মুসলিম সবই এক জিনিস, কালারের ভিত্তিতে ইসলাম ধর্ম হয় না। হয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে। কাদিয়ানি আর শিয়ারা নিজেদের মুসলিম দাবী করলেও ঠিক কি রকম বিশ্বাস ধারন করে তাতে দেখা যায় ওরা কতটুকু মুসলিম। আর বাহাই, দ্রুজ এবং ইয়াজিদিরা ভিন্ন ধর্মের। তারা নিজেরাই নিজেদের মুসলিম দাবী করেনা, আমরা কেন তাদের মুসলিম বলবো।

    আর ভালোবাসা? আপনার নিজের সন্তানকে কে কি সম সময় আদর করেন, ভালোবাসেন? কখনো কখনো তাকে ধকম দিতে, বকা দিতে হয়, সেটা তার ভালোর জন্যেই, পরিবারের ভালোর জন্যে, সমাজের ভালো জন্যে, ধর্মের ভালোর জন্যে।

    বাই দ্যা ওয়ে আমি আমার আক্রমনাত্বক মন্তব্যকে কখনোই ডিফেন্ড করবোনা। আমি বলছিনা যে তা ঠিক আছে। এবং আমিও ভুল করি।

  30. ৩০
    shahriar

    Well said মজলুম bhai.

    jajak-allah khairan

  31. ৩১
    ফাহাদ

    @শামস: আস সালামু আলাইকুম, ভাই জানার খুব আগ্রহ ছিল, হিযবুত তাওহীদ এর আন্দোলন কারিরা কেমন করে নামায পড়েন? কোন লিনক থাকলে দিন যদি না থাকে তো অনুগ্রহ করে একটু বর্ণনা দিবেন? ধন্যবাদ

  32. ৩২
    Md Amir

    ধন্যবাদ মাজলুম ভাই।

  33. ৩৩
    সাইফুল ইসলাম

    দীর্ঘ সময় নিয়ে লেখাটা পড়লাম। যারা স্বার্থপর ও স্বার্থবাদী ও যারা নিজেদেরকে সমাজে ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি করে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় ও যারা নিজেদের ধর্মব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে চায় তারাই এইধরনের লেখার বিরোধিতা করবে। লেখাটি খুবই ভাল লেগেছে যদিও অনেক বড়। তবে মন দিয়ে ঠিকমত পুরোটা বুঝে পড়লে হৃদয় প্রসারিত হবে।

    1. ৩৩.১
      মুনিম সিদ্দিকী

      কি বলতে চাচ্ছেন কিছু তো বুঝা যাচ্ছেনা!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।