«

»

Jun ১২

মুসলমানদের সাদৃশ্য (পোষাক) কি???

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন,

"তার কথার চাইতে আর কার কথা উত্তম হতে পার? যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নেক আমল করে এবং ঘোষণা করে আমি মুসলমানের অন্তর্ভূক্ত।" (সূরা হা-মীম আস-সাজদা: ৩৩)

আল্লাহ তা’আলা এখানে আমাদের জানাচ্ছেন যে,

“ঘোষণা করে আমি মুসলমানের অন্তর্ভূক্ত”

একজন মুসলমান কিভাবে ঘোষণা করবে যে সে একজন মুসলমান? এটা কি মাইক দিয়ে প্রচারের বিষয় নাকি তার পোষাক-আশাক, চাল-চলন দিয়ে মানুষ বুঝে নেবে যে সে একজন মুসলমান?

অবশ্যই পোষাক-আশাক, চাল চলন দিয়ে!!!

কিন্তু মুসলমানদের পোষাক-আশাক কি? আসলেই কি মুসলমানদের আলাদা কোন পোষাক-আশাক আছে? আসুন এই প্রশ্নের উত্তর হযরত উমর রা. প্রণিত চুক্তিনামা থেকে জানার চেষ্টা করি।

দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর রা.-এর যুগে যখন ‘নাজরান’ শহরের খৃস্টানরা সন্ধিতে রাজি হল এবং কর দিতে সম্মত হল তখন তারা হযরত উমর রা.-এর সাথে একটি চুক্তিনামা করেছিল। সেই চুক্তির অংশবিশেষ এই-

بسم الله الرحمن الرحيم، هذا كتاب لعبد الله عمر أمير المؤمنين من نصارى مدينة كذا كذا، لما قدمتم سألناكم الأمان لأنفسنا وذرارينا وأهل ملتنا وشرطنا لكم على أنفسنا أن لا نحدث في مدينتنا ولا فيما حولها ديرا ولا كنيسة … ولا نتشبه بهم (المسلمين) في شيء من لباسهم من قلنسوة ولا عمامة.

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

এ অমুক শহরের নাসারাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন উমরের সাথে লিখিত চুক্তি। যখন আপনারা (মুসলমানগণ) আমাদের শহরে এলেন তখন আমরা আপনাদের নিকট আমাদের, আমাদের সন্তান-সন্ততি ও স্বধর্মের লোকদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করেছি। আমরা নিজেদের উপর এ শর্ত গ্রহণ করছি যে, এ শহরে এবং এর আশপাশে আমরা কোনো গির্জা তৈরি করব না … এবং আমরা মুসলমানদের পোশাক-টুপি, পাগড়ি ইত্যাদিতে সাদৃশ্য গ্রহণ করব না …।-সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস : ১৯১৮৬

চুক্তিনামার এ অংশে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়:

এক. টুপিকে মুসলমানদের পোশাক বলা হয়েছে। যেমন পাগড়িকে বলা হয়েছে। একটি বস্ত্তর কতটুকু প্রচলন হলে তা একটি দল বা গোষ্ঠীর সাথে সম্বন্ধ করা হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

দুই. টুপিকে একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তিনামায় উল্লেখ করা দ্বারা সহজেই অনুমান করা যায়, সে যুগে মুসলমানদের নিকট টুপির গুরুত্ব কেমন ছিল এবং তার প্রচলন কত ব্যাপক ছিল।

তিন. এ চুক্তিনামা যখন লেখা হয় তখন বহু সাহাবী জীবিত ছিলেন। ইতিহাসে এমন একটি বর্ণনাও নেই যে, তাদের কেউ এ বিষয়ে আপত্তি করেছেন; বরং পরবর্তী খলীফাগণও এ চুক্তি বলবৎ রেখেছেন। এমনকি হযরত আলী রা.-এর যুগে নাসারারা এ চুক্তির কোনো একটি বিষয়ে কথা বলতে এসেছিল। তখন তিনি তাদেরকে সাফ বলে দেন-

إن عمر كان رشيد الأمر، لن أغير شيئا صنعه عمر

নিশ্চয়ই উমর সঠিক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি যা করেছেন আমি তার কিছুই কোনোরূপ পরিবর্তন করতে পারব না।

হযরত উমর রা.-এর এ চুক্তিনামাটিকে যিম্মীদের ক্ষেত্রে শরীয়তের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উসূল বা মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। পরবর্তী যুগের আলিম-মনীষী ও মুসলিম খলীফাগণ যিম্মিদের সাথে কোনো চুক্তিনামা করলে এর শর্তগুলোকে মানদণ্ড হিসেবে সামনে রাখতেন।

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. বলেন, এ শর্তগুলো এতই প্রসিদ্ধ যে, এগুলোর সনদ উল্লেখের প্রয়োজন নেই। কেননা ইমামগণ তা সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন ও এগুলো দ্বারা প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। আর হযরত উমর রা.-এর এসব শর্ত ছিল তাঁদের কিতাবে ও মুখে মুখে। পরবর্তী খলীফাগণ তা বলবৎ রেখেছেন এবং এর অনুসরণ করেছেন। -আহকামু আহলিয যিম্মাহ, পৃষ্ঠা : ৪৫৪

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. এ কিতাবটি শুধু হযরত উমর রা.-এর এ চুক্তিনামার শরহ বা ব্যাখ্যাতেই প্রণয়ন করেছেন।

যাহোক, উপরোক্ত উদ্ধৃতি থেকে বোঝা যায়, সকল যুগেই টুপি-প‍াগড়ি মুসলমানদের পোশাক ছিল। আশা করি, খিলাফতে রাশিদা-যুগের এ চুক্তিনামা দেখার পর কারো কোনো সংশয় থাকবে না। কোনো হাদীস বা আছারে টুপির কথা উল্লেখিত না হলেও এ দলীলটিই যথেষ্ট হত।

"——- আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আর এসব লোকই কল্যাণপ্রাপ্ত হবে।" [সূরা নূরঃ ৫১]

৩ comments

  1. 3
  2. 2
    sotto

    মুসলিমের পোষাক-আশাক, চাল-চলন আর টুপি-পাগড়ি কি এক বিষয় হলো!!??
    টুপি-পাগড়ি পরিহিত কোন ছদ্মবেশী মুসলিম নামধারী চুরি করলে তাকে চোরই বলা হবে।
    কিন্তু পোষাক-আশাক, চাল-চলনে আল-কোরআনের নির্দেশ ও রাসূলের (সাঃ) এর আদর্শ অনুসরণ করলে কোন ব্যক্তি টুপি কিংবা পাগড়ি না পড়লেও তাকে মুসলিমই বলা হবে।

  3. 1
    mdmasumbillah

    ধন্যবাদ ভাই আমি এটা প্রথম জানলাম

Leave a Reply