«

»

জুলাই ০৮

মুহাম্মাদ (সা.) কি এক রাতে নয় জন স্ত্রীর সাথে সহবাস করতেন?

ইসলাম-বিদ্বেষীদের খুব প্রিয় মুখরোচক একটি অভিযোগ হচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একরাতে নয় জন স্ত্রীর সাথে সহবাস করতেন। এই লেখাতে আমরা সেই অভিযোগকে যাচাই করে দেখবো।

প্রথমে নিচের হাদিসটা দেখুন-

আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক রাতে তাঁর সব স্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করতেন এবং সই সময় তার নয় জন স্ত্রী ছিল। [সূত্র: সহিহ বুখারি, আরবী: ২৮৪, ইংরেজি: ১।৫।২৮২, সুন্নাহ.কম: ৫।৩৬]

খুব স্বাভাবিক ব্যাপার, একজন দায়িত্বশীল স্বামীর জন্য তার সব স্ত্রীদের সাথে দিনে/রাতে একবার সাক্ষাত করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা দাঁড়ালো ইংরেজি অনুবাদক যখন এ সংক্রান্ত অন্য দুটি হাদিসের অনুবাদে ব্র্যাকেটে এই সাক্ষাতকে ‘have sexual relation with’ দ্বারা ব্যাখ্যা করলেন:

Narrated Anas:
The Prophet I used to go round (have sexual relations with) all his wives in one night, and he had nine wives. [Bukhari  Vol.7, Book 62, No.: 6]

Narrated Anas bin Malik:
The Prophet used to pass by (have sexual relation with) all his wives in one night, and at that time he had nine wives. [Bukhari  Vol.7, Book 62, No.: 142]

ইংরেজি অনুবাদক সম্ভবত প্রভাবিত হয়েছেন নিচের হাদিস দ্বারা:

কাতাদা (রা.) হতে বর্ণিত:

আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, “নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] দিনে এবং রাতে চক্রাকারে তাঁর সকল স্ত্রীদের সাথে সাক্ষাত করতেন এবং তাঁরা সংখ্যায় এগারো জন ছিলেন।” আমি আনাসকে জিজ্ঞেস করলাম, “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কি এই পরিমাণ শক্তি ছিল? আনাস (রা.) উত্তর দিলেন, “ আমরা বলতাম যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ত্রিশ জনের শক্তি দান করা হয়েছে।” আর সাঈদ কাতাদা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আনাস (রা.) তাঁকে শুধু নয়জন স্ত্রীর কথা বলেছেন। [সূত্র: সহিহ বুখারি, আরবী: ২৬৮, ইংরেজি: ১।৫।২৬৮, সুন্নাহ.কম: ৫।২১]

যদিও এই হাদিসেও সহবাসের কোন উল্লেখ নাই, তবুও যেহেতু শক্তির প্রসঙ্গ এসেছে তাতে হয়ত ইংরেজি অনুবাদক ধরে নিয়েছেন এখানে সাক্ষাত বলতে সহবাসকে বুঝানো হয়েছে। কেননা সহবাসের ক্ষেত্রেই শক্তির প্রসঙ্গ আসতে পারে, শুধু সাক্ষাতের ক্ষেত্রে শক্তির প্রসঙ্গ আসার কথা না। আমি যদিও নিশ্চিত নই যে আসলেই আনাস বিন মালিক (রা.) এখানে সাক্ষাত বলতে সহবাসকে বুঝিয়েছেন কিনা কেননা সেক্ষেত্রে তিনি সরাসরি সহবাসের কথা উল্লেখ করলেই পারতেন; তথাপি তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি আসলেই আনাস বিন মালিক (রা.) এখানে সাক্ষাত বলতে সহবাসকেই বুঝাতে চেয়েছেন। এবার আসুন হাদিসটা একটু ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করি।

খুব সঙ্গত প্রশ্ন হচ্ছে:

আনাস বিন মালিক (রা.) এই কথা কার কাছ থেকে শুনেছেন, স্বয়ং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট হতে, না তাঁর কোন স্ত্রীর নিকট হতে?

এই হাদিসে এ-সম্পর্কে কোন বক্তব্য নাই। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর স্ত্রীগণ ব্যতিত অন্য কারো পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে, তাঁরা স্বামী-স্ত্রী সাক্ষাতকালে সহবাস করেছিলেন কিনা।

কাজেই আমরা যুক্তিসংগত ভাবেই ধরে নিতে পারি যে, যদি আনাস বিন মালিক (রা.) এই হাদিসে সহবাসকেই ইঙ্গিত করে থাকেন- তবে সেটা তার নিজস্ব ধারণা। সেই ধারণা ঠিকও হতে পারে, বেঠিকও হতে পারে। তবে আমরা খুব দৃঢ়তার সাথেই এই ধারণাকে ভুল বলতে পারি।

কেন?

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য পর্যায়ক্রমে একদিন/একরাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। এটা সুবিদিত এবং এ সংক্রান্ত হাদিসের কোন অভাব নেই, উদাহরণ হিসেবে নিচের হাদিসটি পেশ করা হলো:

যখনই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন সফরে যেতে চাইতেন, তিনি লটারি করতেন যে কোন স্ত্রী তার সঙ্গী হবে। যার নাম আসতো তিনি তাকেই নিতেন। তিনি তাদের প্রত্যেকের জন্য একদিন এবং একরাত নির্দিষ্ট করে দিতেন। কিন্তু সাওদা বিনতে জামআ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর স্ত্রী আয়শা(রা.)-কে তার (ভাগের) দিন এবং রাত দান করেছিলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে খুশি করার জন্য। [সূত্র: সহিহ বুখারি, আরবী: ২৫৯৩, ইংরেজি অনুবাদ: ৩।৪৭।৭৬৬, সুন্নাহ.কম: ৫১।২৭]

দিন-রাত বণ্টনের এই বিষয়টিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এতটাই গুরুত্ব দিতেন যে অসুস্থ মৃত্যুপথযাত্রী অবস্থায়ও স্ত্রীদের অনুমতি ব্যতিত তিনি এর অন্যথা করেন নাই:

আয়শা (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুস্থতার সময় তাঁর স্ত্রীদেরকে ডাকালেন। তাঁরা একত্রিত হলে তিনি বললেন: ‘আমি তোমাদের সকলের সাথে সাক্ষাত করতে অক্ষম। তোমরা যদি আমাকে আয়শার সাথে অবস্থান করার অনুমতি দিতে মনস্থ করো, তবে দিতে পারো।’ কাজেই তাঁরা তাকে অনুমতি দিলেন। [সূত্র: সুনান আবু দাউদ, আরবী: ১২।২১৩৭, ইংরেজি অনুবাদ: ১১।২১৩২, সুন্নাহ.কম: ১২।৯২]

কাজেই এক স্ত্রীর জন্য বরাদ্দকৃত সময়ে তিনি অন্য স্ত্রীদের সাথে সহবাস করবেন, এটা কিছুতেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

তবে কি- যে দিন এক স্ত্রীর পালা আসতো, সেদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্য কোন স্ত্রীর সাথে সাক্ষাতও করতেন না? অবশ্যই করতেন, নিশ্চয়ই করতেন এবং প্রত্যেকের সাথেই সাক্ষাত করতেন। কিন্তু অন্য কোন স্ত্রীর সাথে ঐ দিনে/রাতে সহবাস করতেন না। না এটা আমার গলাবাজি নয়, আমার ব্যক্তিগত কোন ধারণাও নয়, বরং একেবারে ঘরের মানুষের মুখের কথা। শুনুন তাহলে-

হিশাম ইবনে উরওয়াহ তার পিতা হতে বর্ণনা করেন:

আয়শা (রা.) বলেন: হে আমার ভাতিজা! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)আমাদের সাথে তার অবস্থানের সময়কে ভাগ করার ব্যাপারে আমাদের কোন একজনকে অন্য জনের ওপর প্রাধান্য দিতেন না। এটা খুব কমই হতো যে কোনদিন তিনি আমাদের সাক্ষাত দেন নাই। তিনি সহবাস ব্যতিরেকে প্রত্যেক স্ত্রীর কাছে আসতেন যতক্ষণ না যার দিন ছিল তার কাছে পৌঁছতেন এবং তার সাথে রাত কাটাতেন। [It was very rare that he did not visit us any day (i.e. he visited all of us every day). He would come near each of his wives without having intercourse with her until he reached the one who had her day and passed his night with her.] [সূত্র: সুনান আবু দাউদ (হাদিসের প্রাসঙ্গিক অংশ), আরবী: ১২।২১৩৫, ইংরেজি অনুবাদ: ১১।২১৩০, সুন্নাহ.কম: ১২।৯০]

নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এঁর একেবারে ঘরের মানুষ আয়শা (রা.) এঁর এই বক্তব্যের পর, অন্য কারো বক্তব্য বা ধারণার আর কোন সুযোগ অবশিষ্ট থাকে না। কাজেই এক রাতে নয় জনের সাথে সহবাস করার গল্পটা একেবারেই ভিত্তিহীন।

————————

আমার প্রত্যুত্তরসমূহ

২১ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    এই ধরনের চিন্তা করা এক ধরনের বিকৃতি। যারা করে তারাও জানেন। 
    লেখার জন্যে ধন্যবাদ। 

    1. ১.১
      সাদাত

      সাধারণ মুসলিমরা যাতে ধোঁকা না খান, সেজন্যই এই পোস্ট। ধন্যবাদ।

  2. এস. এম. রায়হান

    ইসলাম-বিদ্বেষীদের খুব প্রিয় মুখরোচক একটি অভিযোগ হচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একরাতে নয় জন স্ত্রীর সাথে সহবাস করতেন।

    প্রথমত, এই ধরণের কোন ইঙ্গিত কোরআনে নেই।

    দ্বিতীয়ত, হাদিসের আলোকে আপনি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে এই অভিযোগের জবাব দিয়েছেন।

    তৃতীয়ত, তর্কের খ্যাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয় যে নবীজী (সাঃ) সত্যি সত্যি এক রাতে নয় জন স্ত্রীর সাথে সহবাস (স্রেফ সাক্ষাৎ নয়) করতেন সেক্ষেত্রে ইসলামে অবিশ্বাসীদের গাত্রদাহ হবে কেন? ওদের ধর্মের কোথায় লিখা আছে এক রাতে নয় জন স্ত্রীর সাথে সহবাস করা পাপ বা অন্যায় বা হারাম? কারো যদি এক রাতে নয় জন স্ত্রীর সাথে সহবাস করার মতো ক্ষমতা থাকে সেক্ষেত্রে ইসলামে অবিশ্বাসীদের সমস্যা কোথায়? তারা কি আসলে ঈর্শান্বিত?

    1. ২.১
      সাদাত

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  3. Riaz

     
    কাতাদা (রা.) হতে বর্ণিত:

    আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, “নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] দিনে এবং রাতে চক্রাকারে তাঁর সকল স্ত্রীদের সাথে সাক্ষাত করতেন এবং তাঁরা সংখ্যায় এগারো জন ছিলেন।” আমি আনাসকে জিজ্ঞেস করলাম, “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কি এই পরিমাণ শক্তি ছিল? আনাস (রা.) উত্তর দিলেন, “ আমরা বলতাম যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ত্রিশ জনের শক্তি দান করা হয়েছে।” আর সাঈদ কাতাদা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আনাস (রা.) তাঁকে শুধু নয়জন স্ত্রীর কথা বলেছেন। [সূত্র: সহিহ বুখারি, আরবী: ২৬৮, ইংরেজি: ১।৫।২৬৮, সুন্নাহ.কম: ৫।২১]

    বাংলায় স্ত্রী সহবাসের একটি শালীন ভাষা আছে, তিনি তার স্ত্রীর উপর গমন করিলেন, বা স্ত্রী সাক্ষাত করিলেন রাত্রি বেলা, তিনি একরাতে তার সকল স্ত্রীর নিকট গমন করিলেন কি বুঝায়? এখন নবীর ক্ষেত্রে ত শালীনতা বজায় রাখতে হবে নাকি?? কি মনে হয়, কাজেই অর্থের এদিক ওদিক না করে যা স্পষ্ট বুঝান হয়েছে বুঝে নিন। হাদিস তো আর নীলক্ষেতের সস্তা বই নয়, আশা করি যা বোঝার বুঝে গিয়েছেন।

    1. ৩.১
      সাদাত

      ধন্যবাদ পোস্ট পড়া এবং কমেন্ট করার জন্য।
      আপনার নবীপ্রীতিকে সাধুবাদ জানাই।
      আমার বক্তব্য হচ্ছে:
      ১. সহবাস অশালীন শব্দ জানা ছিল না!!
      ২. উম্মুল মুমিনিন(রা.) এবং সাহাবা(রা.) অপেক্ষা আমার নবীপ্রীতি এবং পরহেযগারী অধিক নয়।
      আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

  4. ফুয়াদ দীনহীন

    এখানে ইসলাম বিদ্বেষীরা সুযোগ মত মুসলিমদের ২টি বিষয়ে গোল দেয়-

    নম্বর ১: রাসূল সাঃ যদি নয় জন স্ত্রীর সাথে সহবাসও করেন, তাতেও তিনি অবৈধ কাজ করেননি। কারণ তারা সকলেই রাসূল সাঃ এর বিবাহিত স্ত্রী। এই পয়েন্টাই কিছু সংখ্যাক বিভ্রান্ত হবার জন্য অজুহাত খোজা ব্যক্তিদের মাথায় ঢুকে না।

    নম্বর ২: এটা রাসূল সাঃ এর নিজের বক্তব্য না। তারা যে ভুলটা প্রথমেই করেন, তাহল বুখারি শরিফ কে আল কুরানের মত বই মনে করেন। বুখারী শরীফে কি আছে না আছে, তার চেয়ে এককটা হাদিস একেকটা আলাদা ভাবে বিবেচ্য। এখানে বুখারি শরিফ ধর্ম গ্রন্থ নয়। হাদিসটাই ইম্পোর্ট্যান্ট, বুখারি শরিফটা না। বুখারি শরিফের বাহিরেও সহী হাদিস আছে। যেখানে উপরের রেওয়াতটা নিজেই রাসূলের বক্তব্য না, সেটাকে জোর করে রাসূলের বক্তব্য বানিয়ে দিবার মানে নাই। বরং এটা সম্পূর্ণ আনাস রাঃ এর নিজস্ব বক্তব্য। তিনি যা বুঝেছেন তাই বলেছেন। তিনি পরিষ্কার যা দেখেছেন, মানে তাদের নিকট যেতে দেখেছেন, তাই বলেছেন। এখন এই কথাকে অপলজিক দ্বার করিয়ে, গমনকে (মনগড়া) সেক্স বলে দিলেই হবে না।

    1. ৪.১
      সাদাত

      যাদের অন্তর বিদ্বেষে ভরপুর থাকে, লজিক তাদের মাথায় থাকে না, থাকে মুখে এবং চাপায়।
      আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  5. সরোয়ার

    ইসলাম বিদ্বেষীদের ইস্যুর কোন অভাব হয় না!  বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য ধন্যবাদ।

    1. ৫.১
      সাদাত

      তাদের তো কাজই এটা।
      শয়নে, স্বপনে, দিনে, রাতে একটাই ভাবনা- ইসলামের দোষ কিভাবে বের করা যায়?

  6. এম_আহমদ

    1. ৬.১
      সাদাত

      ধন্যবাদ।

  7. শাহবাজ নজরুল

    অসাধারণ সাদাত ভাই। এভাবে ছোটো ছোটো করে আপনি ইসলাম বিদ্বেষীদের অমূলক অভিযোগ গুলির জবাব দিচ্ছেন – যা বেশ কাজের। আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য্য দান করুন। আরো লিখতে থাকুন।
     

    1. ৭.১
      সাদাত

      দুআ এবং উৎসাহের জন্য ধন্যবাদ।

  8. মুনিম সিদ্দিকী

    একাধিক বৈধ স্ত্রী থাকলে তাদের সাথে একদিনে যৌন মিলন করলে কি কোন অনৈতিকতা আছে?
     
    ২য়তঃ ঠিক কোন সময় রাসুল সাঃ ঘরে ৯ জন স্ত্রী ছিলেন?  ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে নয় কি? সেই সময়টি ছিল ইসলামের ইতিহাসের এক ব্যস্ততম বছর। রাস্ট্রীয় কাজে রাসুলের এত ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছিল যার কারণে আল্লাহ রাসুল সাঃ স্ত্রীদের সাথে পালা প্রথা থকে রাসুল সাঃকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তাই সেই সময়ে রাসুল সাঃ এক সাথে ৯ স্ত্রীর সাথে পালা করে সময় দেবার কথা শুনলে অবাক হতেই হয় বৈকি!!!! ( আল্লাহ ভাল জানে) । ধন্যবাদ।

    1. ৮.১
      সাদাত

      @মুনিম সিদ্দিকী:

      প্রথমত,

      বিষয়টা অনৈতিকতার নয়, বাস্তবতার।

      ইংরেজি অনুবাদটা খেয়াল করুন:
      Narrated Anas:
      The Prophet  used to go round (have sexual relations with) all his wives in one night, and he had nine wives. [Bukhari  Vol.7, Book 62, No.: 6]

      'used to' বলতে অভ্যস্ততা বুঝায়। অর্থাৎ প্রতিরাতে/প্রতিদিনে সব স্ত্রীর সাথে সহবাস করতেন বলে বুঝা যাচ্ছে। এটা স্পষ্টতই বাস্তবতার পরিপন্থী। কেননা, রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এঁর রাত্রিযাপনের যে চিত্র আমরা হাদিস থেকে পাই এই বক্তব্য তার সাথে মেলে না। নয় জন স্ত্রীর সাথে আধা ঘন্টা করে সময়ও যদি এই কাজে ব্যয় করা হয় সাড়ে ৪ ঘন্টা সময় লাগবে। তাহলে কখন তিনি পা ফেটে যাবার মতো সময় ধরে নামায পড়তেন?

      [Bukhari  Vol.6, Book 60, No.: 361 ]
      Narrated Aisha:
      The Prophet used to offer prayer at night (for such a long time) that his feet used to crack. I said, "O Allah's Apostle! Why do you do it since Allah has forgiven you your faults of the past and those to follow?" He said, "Shouldn't I love to be a thankful slave (of Allah)?' When he became old, he prayed while sitting, but if he wanted to perform a bowing, he wound get up, recite (some other verses) and then perform the bowing.

       রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে এগারো রাকাত নামাযের ২২টি সেজদার প্রতিটিতে ৫০ আয়াত পড়ার মতো সময় ব্যয় করতেন, ৫০ আয়াত পড়তে ৫ মিনিট লাগলেও তো শুধু সেজদাতেই প্রায় দুই ঘন্টা সময় লাগতো। কিরাত, রুকুতে তাহলে কত সময় লাগতো?

      [Bukhari  Vol.2, Book 16, No.: 108 ]
      Narrated 'Aisha:
      Allah's Apostle used to pray eleven Rakat at night and that was his night prayer and each of his prostrations lasted for a period enough for one of you to recite fifty verses before Allah's Apostle raised his head. He also used to pray two Rakat (Sunna) before the (compulsory) Fajr prayer and then lie down on his right side till the Muadh-dhin came to him for the prayer.

      এমন বর্ণনাও পাওয়া যায়, উনি রাতের নামাযে এক রাকাতে খুব ধীরগতিতে সূরা বাকারা, সূরা নিসা এবং আল-ই-ইমরান পড়তেন। দাঁড়ানো অবস্থায় যত সময় দিতেন, রুকু, কওমা, সেজদায় অনুরূপ সময় ব্যয় করেন:

      [Muslim Sharif :  Book: 4, Chapter: 119, Number: 1697 ]
      Hudhaifa reported: I prayed with the Apostle of Allah (may peace be upon him) one night and he started reciting al-Baqara. I thought that he would bow at the end of one hundred verses, but he proceeded on; I then thought that he would perhaps recite the whole (surah) in a rak'ah, but he proceeded and I thought he would perhaps bow on completing (this surah). He then started al-Nisa', and recited it; he then started Al-i-'Imran and recited leisurely. And when he recited the verses which referred to the Glory of Allah, he glorified (by saying Subhan Allah-Glory to my Lord the Great), and when he recited the verses which tell (how the Lord) is to be begged, he (the Holy Prophet) would then beg (from Him), and when he recited the verses dealing with protection from the Lord, he sought (His) protection and would then bow and say: Glory be to my Mighty Lord; his bowing lasted about the same length of time as his standing (and then on returning to the standing posture after ruku') he would say: Allah listened to him who praised Him, and he would then stand about the same length of time as he had spent in bowing. He would then prostrate himself and say: Glory be to my Lord most High, and his prostration lasted nearly the same length of time as his standing. In the hadith transmitted by Jarir the words are:" He (the Holy Prophet) would say:" Allah listened to him who praised Him, our Lord, to Thee i the praise."

      আবার এই রাতের নামায তিনি সাধারণত পড়তেন শেষের দিকে, তার আগে ঘুমিয়ে নিতেন এবং সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়তেন:

      [Bukhari  Vol.2, Book 21, No.: 247 ]
      Narrated Al-Aswad:
      I asked 'Aisha "How is the night prayer of the Prophet?" She replied, "He used to sleep early at night, and get up in its last part to pray, and then return to his bed. When the Muadh-dhin pronounced the Adhan, he would get up. If he was in need of a bath he would take it; otherwise he would perform ablution and then go out (for the prayer)."

      হতে পারে কদাচিৎ কোন রাতে/দিনে বিশেষ কোন প্রয়োজনে সব স্ত্রীর সাথে নবীজি(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহবাস করলেও করে থাকতে পারেন, কিন্তু সেটাকে রেগুলার প্রাকটিস হিসেবে চিত্রিত করার কোন সুযোগ নাই। আর আমার লেখার উদ্দেশ্যও এই অমূলক চিত্রণকে খণ্ডন করা।

    2. ৮.২
      সাদাত

      দ্বিতীয়ত,
      ৯ জন স্ত্রী ছিল উনার জীবনের শেষ চার বছরে। আল্লাহ পাক শেষের দিকে পালা পরিবর্তনের সুযোগ দান করেছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পালা প্রথা বাদ দিয়েছিলেন, এই কথা ঠিক নয়। নিচের হাদিস গুলো থেকে তো উনার জীবনের একেবারে শেষ সময়ের প্রাকটিসটা খুব ভালোভাবেই বুঝা যাচ্ছে:
      [Bukhari  Vol.5, Book 59, No.: 731 ]
      Narrated Urwa:
      'Aisha said, "Allah's Apostle in his fatal illness, used to ask, 'Where will I be tomorrow? Where will I be tomorrow?", seeking 'Aisha's turn. His wives allowed him to stay wherever he wished. So he stayed at 'Aisha's house till he expired while he was with her." 'Aisha added, "The Prophet expired on the day of my turn in my house and he was taken unto Allah while his head was against my chest and his saliva mixed with my saliva." 'Aisha added, "Abdur-Rahman bin Abu Bakr came in, carrying a Siwak he was cleaning his teeth with. Allah's Apostle looked at it and I said to him, 'O 'AbdurRahman! Give me this Siwak.' So he gave it to me and I cut it, chewed it (it's end) and gave it to Allah's Apostle who cleaned his teeth with it while he was resting against my chest."
       
      আয়শা (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুস্থতার সময় তাঁর স্ত্রীদেরকে ডাকালেন। তাঁরা একত্রিত হলে তিনি বললেন: ‘আমি তোমাদের সকলের সাথে সাক্ষাত করতে অক্ষম। তোমরা যদি আমাকে আয়শার সাথে অবস্থান করার অনুমতি দিতে মনস্থ করো, তবে দিতে পারো।’ কাজেই তাঁরা তাকে অনুমতি দিলেন। [সূত্র: সুনান আবু দাউদ, আরবী: ১২।২১৩৭, ইংরেজি অনুবাদ: ১১।২১৩২, সুন্নাহ.কম: ১২।৯২]
      যদি শেষের দিকে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পালা প্রথাকে মেইনটেইন না করতেন তবে আয়েশা(রা.) এঁর ঘরে অবস্থানের জন্য অন্য স্ত্রীদের অনুমতির কী প্রয়োজন ছিল?
      আবার একই কথার পুনারাবৃত্তি করছি:
      হতে পারে কদাচিৎ কোন রাতে/দিনে বিশেষ কোন প্রয়োজনে সব স্ত্রীর সাথে নবীজি(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহবাস করলেও করে থাকতে পারেন, কিন্তু সেটাকে রেগুলার প্রাকটিস হিসেবে চিত্রিত করার কোন সুযোগ নাই। আর আমার লেখার উদ্দেশ্যও এই অমূলক চিত্রণকে খণ্ডন করা।
      ধন্যবাদ।

  9. ইমরান হাসান

    আসলে আবুল কাশেম এর এই লেখাটা দেখার পরে আমার আর এতটাই ঘৃণা লেগেছিল যে এর জবাব দেয়াটাও আমি প্রয়োজন মনে করিনি। কি বলব আর সে আপ্রান চেষ্টা করেছে বাৎস্যায়ন এর কামসুত্র এর যে দাগ টা হিন্দুদের উপরে আছে সেটাকে মুসলিমের উপরে দিতে। তাকে আসলে নিকৃষ্ট বলা হলে নিকৃষ্ট এর অপমান করা হবে। 
     
    আপনার এই কথাটা সবথেকে চমৎকার লেগেছে আমার কাছে 
    হতে পারে কদাচিৎ কোন রাতে/দিনে বিশেষ কোন প্রয়োজনে সব স্ত্রীর সাথেনবীজি(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহবাস করলেও করে থাকতে পারেনকিন্তু সেটাকে রেগুলার প্রাকটিস হিসেবে চিত্রিত করার কোন সুযোগ নাই। আর আমার লেখার উদ্দেশ্যও এই অমূলক চিত্রণকে খণ্ডন করা।

    1. ৯.১
      সাদাত

      তাদের অমূলক প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য, হয়তো আজ, নয়তো কাল।
      ধন্যবাদ আপনাকে। 

  10. ১০
    শাফিউর রহমান ফারাবী

    ভাইয়া এই লেখাটাকে কেন্দ্র করে আমি একটা status দিব।

  11. ১১
    এস. এম. রায়হান

    মুক্তমনাদের গুরুজীর ধর্মের কিছু ভার্স:

    ১.১ শষ্যক্ষেত্র অত্যন্ত অশ্লীল ও কুৎসিত কিছু একটা। কেন? কারণ, কোরআনে স্ত্রীদেরকে শষ্যক্ষেত্র বলা হয়েছে।

    ১.২ পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করা অত্যন্ত অশ্লীল ও কুৎসিত একটি কাজ। কেন? কারণ, ইসলামের নবী তাঁর পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন।

    ১.৩ পুরুষের এক সাথে একাধিক স্ত্রী থাকা হারাম। কেন? কারণ, ইসলামের নবীর এক সাথে একাধিক স্ত্রী ছিল।

    ১.৪ এক রাতে একাধিক স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়া (সহবাস বা সাক্ষাৎ যা-ই হোক না কেন) হারাম। কেন? কারণ, ইসলামের নবী এক রাতে একাধিক স্ত্রীর সাথে মিলিত হতেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।