«

»

জুলাই ১০

কাজী নজরুল ইসলাম এর ধর্ম বিশ্বাস

কাজী নজরুল ইসলাম এর ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। নজরুল অসংখ্য হামদ, নাত লিখেছেন; সাথে সাথে হিন্দু ধর্ম নিয়ে অসংখ্য কবিতা, গান লিখেছেন। তাই অনেকে সন্দেহ পোষণ করেন, উনি প্রকৃতই হিন্দু ধর্ম বিশ্বাস করতেন কিনা? নিজেরা ব্যাখ্যা দেবার আগে সবচেয়ে ভালো হয় নজরুল এ বিষয়ে কী বলেছেন সেটা পর্যালোচনা করা। কেউ কোনো সাহিত্য রচনা করে থাকলে সে বিষয়ে তিনি কি বলেছেন সেই ব্যাখ্যাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। সেই ব্যাখ্যার দ্বারা যদি প্রমাণিত হয় সেটা ইসলাম-বিরোধী তাহলে অবশ্যই সেটা ইসলাম-বিরোধী।

কালী পূজা

অনেকে অভিযোগ করে থাকেন নজরুল কালি পূজা করেছেন এবং অভিযোগটা আসে মুসলিমদের থেকেই। ‘অতীত দিনের স্মৃতি’ বই এর ৪২ পৃষ্ঠায় লেখক নিতাই ঘটক উল্লেখ করেছেন, “সীতানাথ রোডে থাকাকালীন কবিকে হিন্দুশাস্ত্র বিশেষভাবে চর্চা করতে দেখেছি। অনেকে বলেন কালীমূর্তি নিয়ে কবি মত্ত হয়েছিলেন- একথা ঠিক নয়। আমি কখনো তাঁকে এভাবে দেখিনি।” হিন্দুরাই বলছেন নজরুল পূজা করেননি, যদিও সেটা হয়ে থাকলে হিন্দুদেরই খুশী হবার কথা ছিল বেশী। এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য; তা হোলো, হিন্দুধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করা আর কালীপূজা করা এক জিনিস নয়।

হিন্দু ধর্ম বিষয়ক লেখা

এখন আমরা দেখব নজরুল হিন্দু ধর্ম বিষয়ক কবিতা, গান কেনো লিখেছিলেন। নজরুল বলেছেন, “আমি হিন্দু-মুসলমানের মিলনে পরিপূর্ণ বিশ্বাসী। তাই তাদের কুসংস্কারে আঘাত হানার জন্যই মুসলমানী শব্দ ব্যবহার করি, বা হিন্দু দেব-দেবীর নাম নিই। অবশ্য এর জন্য অনেক জায়গায় আমার সৌন্দর্যের হানি হয়েছে। তবু আমি জেনে শুনেই তা করেছি।” [শব্দ-ধানুকী নজরুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন আহমদ, পৃষ্ঠা ২৩৬,২৩৭]

এখানে নজরুল স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন হিন্দু মুসলমানের মিলনের জন্য তিনি এ কাজ করেছেন। তখনকার রাজনৈতিক আবহাওয়া সম্বন্ধে যাদের ধারণা আছে তারা জানেন কি প্রচণ্ড হিন্দু মুসলিম বিরোধ তখন বিরাজমান ছিল।

১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই ডিসেম্বর রবিবার কলিকাতা এলবার্ট হলে বাংলার হিন্দু-মুসলমানের পক্ষ থেকে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিপুল সমারোহ ও আন্তরিকতা সহকারে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, “কেউ বলেন, আমার বাণী যবন, কেউ বলেন, কাফের। আমি বলি ও দুটোর কিছুই নয়। আমি শুধুমাত্র হিন্দু-মুসলমানকে এক জায়গায় ধরে এনে হ্যান্ডশেক করাবার চেষ্টা করেছি, গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি। [নজরুল রচনাবলী – ৮, পৃষ্ঠা ৩, ৫]

 

ধর্মবিশ্বাস

 

কেউ হয়ত বলবেন, হিন্দু মুসলিম এর মিলনের জন্য উনি না হয় এমন লিখেছেন, কিন্তু এতে প্রমাণিত হয়না যে তিনি ইসলাম ধর্ম বিশ্বাস করতেন। হ্যাঁ কথা ঠিক। এর উত্তর নজরুল দিয়েছেন তাঁর ‘আমার লীগ কংগ্রেস’ প্রবন্ধের ৬১ পৃষ্ঠায় “আমার আল্লাহ নিত্য-পূর্ণ -পরম- অভেদ, নিত্য পরম-প্রেমময়, নিত্য সর্বদ্বন্দ্বাতীত। ‘ইসলাম’ ধর্ম এসেছে পৃথিবীতে পূর্ণ শান্তি সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে – কোরান মজিদে এই মাহাবাণীই উত্থিত হয়েছে। ···এক আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ প্রভূ নাই। তাঁর আদেশ পালন করাই আমার একমাত্র মানবধর্ম। আল্লাহ লা-শরিক, একমেবাদ্বিতীয়ম। আল্লাহ আমার প্রভু, রসূলের আমি উম্মত, আল-কোরআন আমার পথ-প্রদর্শক। আমার কবিতা যাঁরা পড়ছেন, তাঁরাই সাক্ষী: আমি মুসলিমকে সঙ্ঘবদ্ধ করার জন্য তাদের জড়ত্ব, আলস্য, কর্মবিমূখতা, ক্লৈব্য, অবিশ্বাস দূর করার জন্য আজীবন চেষ্টা করেছি।”

 

১৯৪০ সালে কলিকাতায় বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতিরি ঈদ-সম্মেলনে প্রদত্ত সভাপতির অভিভাষণ নজরুল বলেছিলেন, “ইসলাম জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম বলে সকলের শ্রদ্ধা অর্জন করতে পেরেছে।" [নজরুল রচনাবলী – (৭) পৃষ্ঠা ৩৩]

 

এই লেখার মাধ্যমে নজরুল নিজেকে মুসলমান হিসেবে প্রকাশ করেছেন।

 

ইসলামের পক্ষে কলম পরিচালনা করা

 

মৌলভী তরিকুল আলম কাগজে এক প্রবন্ধ লিখে বললেন কোরবানীতে অকারণে পশু হত্যা করা হয়; এমন ভয়াবহ রক্তপাতের কোনো মানে নাই। নজরুল তার জওয়াবে লিখলেন ‘কোরবানী’ কবিতা। তাতে তিনি বললেন-

 

ওরে, হত্যা নয়, এ সত্যগ্রহ শক্তির উদ্বোধন,
দুর্বল ভীরু চুপ রহো, ওহো খামখা ক্ষুদ্ধ মন।
…..এই দিনই মীনা ময়দানে
…..পুত্র স্নেহের গর্দানে
……ছুরি হেনে খুন ক্ষরিয়ে নে
রেখেছে আব্বা ইবরাহীম সে আপনা রুদ্র পণ,
ছি,ছি, কেঁপো না ক্ষুদ্র মন।
[নজরুল স্মৃতিচারণ, নজরুল একাডেমী পৃষ্ঠা ৪৩৯ ]

 

ইসলামের বিপক্ষে আক্রমণ হলে সেটার প্রতিবাদস্বরূপ নজরুল কবিতা লিখেছিলেন। ব্যাপারটা বিস্ময়ের বৈকি। যে কবিকে “কাফের” ফতোয়া দেয়া হয়েছে তিনি-ই কিনা ইসলামের পক্ষে কলম ধরেছেন!!!

 

মুসলমানের সমালোচনা করে কবিতা লিখা

 

আরো একটি অভিযোগ করা হয়, সেটা হোলো নজরুল আলেমদের সমালোচনা করেছেন, যেমন:

 

মৌ-লোভী যত মোলভী আর মোল্লারা কন হাত নেড়ে
দেব-দেবী নাম মুখে আনে সবে তাও পাজীটার যাত মেড়ে।

 

এখানে মৌলভীদের নজরুল “মৌ লোভী” বলেছেন। যারা এতে অসন্তুষ্ট তাদের এই কবিতাটা হয়ত নজরে পড়েনি:

 

শিক্ষা দিয়ে দীক্ষা দিয়ে
…. ঢাকেন মোদের সকল আয়েব
পাক কদমে সালাম জানাই
….নবীর নায়েব, মৌলভী সাহেব।

 

এখানে মৌলভী সাহেবদের নজরুল সালাম জানিয়েছেন। দুটোর মধ্যে আসলে কোনো বিরোধ নেই। বর্তমান সমাজে এটাই বাস্তব। আলেমদের মধ্যেও ভালো-খারাপ দু-ধরণের পরিস্হিতি বিদ্যমান। দুটোই নজরুল ফুটিয়ে তুলেছেন। আর মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি থাকলে সেটা বলার মধ্যে দোষের কিছু নেই। ইব্রাহিম খাঁ-র চিঠির জবাবে নজরুল সেটাই বলেছেন, “যাঁরা মনে করেন-আমি ইসলামের বিরুদ্ধবাদী বা তার সত্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছি, তাঁরা অনর্থক এ ভুল করেন। ইসলামের নামে যে সব কুসংস্কার মিথ্যা আবর্জনা স্তুপীকৃত হয়ে উঠেছে তাকে ইসলাম বলে না মানা কি ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযান? এ ভুল যাঁরা করেন, তাঁরা যেন আমার লেখাগুলো মন দিয়ে পড়েন দয়া করে-এ ছাড়া আমার আর কি বলবার থাকতে পারে?” [ইসলাম ও নজরুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, পৃষ্ঠা ৯৫]

 

আরো একটি অভিযোগ

 

অনেকে আরো একটি অভিযোগ করেন, নজরুল প্রথম দিকে হিন্দুদের খুশী করার জন্য হিন্দু ধর্ম নিয়ে কবিতা লিখেছেন, পরবর্তীতে মুসলমানদের খুশী করার জন্য ইসলাম বিষয়ক কবিতা লিখেছেন। বিষয়টি তথ্য বিভ্রাট ছাড়া আর কিছু নয়। নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্হ অগ্নিবীণা-য় ১২টি কবিতার মধ্যে ৭টি কবিতা ইসলাম-বিষয়ক। নজরুল তাঁর সমগ্র জীবনে ছিলেন অকুতোভয়। জীবনে কখনও তিনি কাউকে খুশী করার জন্য বা কাউকে ভয় করার কারণে সত্য গোপন করেননি। সুতরাং হিন্দুদের খুশী করার জন্য নিজের নীতি বিসর্জন দিবেন এটা চিন্তাই করা যায় না। এখানে আমরা একটি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখব নজরুল তাঁর সাহিত্য জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ইসলাম বিষয়ক লেখা লিখেছেন:

 

** ‘মোসলেম ভারত’-এ প্রকাশিত তাঁর প্রথম কবিতাটি ছিল ‘শাত- ইল আরব’ (মে,১৯২০)
** দ্বিতীয় কবিতা ‘খেয়াপরের তরণী’ (জুলাই ১৯২০)
** ‘কোরবানী’ ১৩২৭-এর ভাদ্রে (আগস্ট, ১৯২০)
** ‘মোহরাম’ ছাপা হয় ১৩২৭-এর আশ্বিনে (সেপ্টেম্বর ১৯২০)
** ১৯২২-এর অক্টোবরে নজরুলের যে ‘অগ্নি-বীণা’ কাব্য প্রকাশিত হয় তার ১২টি কবিতার মধ্যে ‘প্রলয়োল্লাস’, ‘বিদ্রোহী’, ‘রক্তস্বরধারিণী মা’ আগমনী’, ‘ধূমকেতু’ এই পাঁচটি কবিতা বাদ দিলে দেখা যায় বাকি ৭টি কবিতাই মুসলিম ও ইসলাম সম্পর্কিত। (১৯২২)
** আরবী ছন্দের কবিতা (১৯২৩)
** ১৯২৪-এ প্রকাশিত তাঁর ‘বিষের বাঁশীর প্রথম কবিতা ‘ফাতেহা-ই-দোয়াজ-দহম’ (আবির্ভাব-তিরোভাব) (১৯২৪)
** খালেদ কবিতা (১৯২৬)
** উমর ফারুক কবিতা সওগাতে প্রকাশিত (১৯২৭)
** জিন্জির কাব্যগ্রন্হ প্রকাশ (১৯২৮)
** রুবাইয়াত ই হাফিজ প্রকাশ (১৯৩০)
** কাব্য আমপারা (১৯৩৩)
** জুলফিকার ইসলামিক কাব্যগ্রন্হ প্রকাশ (১৯৩২)
** মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে আলা ও যাবি কে মদিনায় নাত এ রসুল প্রকাশ (১৯৩৩)
** তওফীক দাও খোদা ইসলামে নাত এর রসুল প্রকাশ (১৯৩৪)
** মক্তব সাহিত্য প্রকাশ (১৯৩৫)
** ফরিদপুর জালা মুসলিম ছাত্র সম্মিলনীতে “বাংলার মুসলিমকে বাঁচাও" অভিভাষণ পাঠ (১৯৩৬)
** ‘সেই রবিউল আউয়ালের চাদ’ নাত এর রসুল প্রকাশ (১৯৩৭)
** ‘ওরে ও মদিনা বলতে পারিস’ নাত এর রসুল প্রকাশ (১৯৩৮)
** দীওয়ান ই হাফিজ এর ৯টি গজল অনুবাদ এবং নির্ঝর কাব্যগ্রন্হে প্রকাশ (১৯৩৯)
** নতুন চাঁদ (১৯৩৯)
** খোদার রহম চাহ যদি নবিজীরে ধর নাত এর রসুল প্রকাশ (১৯৪০)
** মরুভাস্কর ( অসুস্হ হবার পরে প্রকাশিত ১৯৫০)
** রুবাইয়াত ই ওমর খৈয়াম (১৯৫৮)

 

সাহিত্যিক জীবনের প্রথম (১৯২০-১৯৪১) থেকে শেষ পর্যন্ত নজরুল অজস্র ধারায় ইসলাম বিষয়ক লেখা লিখে গিয়েছেন উপরের পরিসংখ্যান সেটাই প্রমাণ করে।

 

কিছু উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান

 

১। নজরুল বাংলা ভাষায় সর্বাধিক “হামদ-নাত” এর রচয়িতা।
২। গ্রামোফোন কোম্পানী থেকে নজরুলের হামদ-নাত যখন বের হোতো, তখন মাঝে মাঝে রেকর্ডের ওপর “পীর-কবি নজরুল” লেখা থাকত।
৩। বাংলা ভাষায় যারা হামদ-নাত রচনা করে গেছেন, তাদের মধ্যে একই সাথে হিন্দু এবং ইসলাম ধর্ম উভয় বিষয়ে পারদর্শী কেউ ছিলনা, একমাত্র ব্যতিক্রম নজরুল।
৪। একাধিক আরবী-ছন্দ নিয়ে নজরুলের অসংখ্য কবিতা আছে, বাংলা ভাষার আরও এক প্রতিভাবান কবি ফররুখ আহমদ এ বিষয়ে কারিশমা দেখাতে পারেনি।
৫। ইরানের কবি হাফিজ আর ওমর খৈয়ামের যতজন ‘কবি’ অনুবাদক আছেন তার মধ্যে নজরুল একমাত্র মূল ফারসী থেকে অনুবাদ করেছেন, বাকী সবাই ইংরেজীর থেকে।
৬। “ফারসী” এবং “আরবী”তে নজরুল এর জ্ঞান ছিল পাণ্ডিত্যের পর্যায়ে।
৭। গ্রামোফোন কম্পানি থেকে “ইসলামি গান” নজরুলের পূর্বে আর কেউ গায়নি।

 

মুজাফফর আহমদ ও নজরুল

 

নজরুলের তরুণ জীবনের কমুনিস্ট হয়ে যাওয়া বন্ধু কমরেড মুজাফফর আহমদ তাঁকে কমুনিজমে নিতে ব্যর্থ হন। তাঁর স্বপ্ন সফল হয়নি। ১৯৬৬ খৃস্টাব্দের ২রা আগস্ট কবি আবদুল কাদিরের কাছে লেখা এক চিঠির শেষে তিনি লিখেছেন,

 

"নজরুল যে আমার সঙ্গে রাজনীতিতে টিকে রইল না; সে যে আধ্যাত্নিক জগতে প্রবেশ করল তার জন্যে অবশ্য আমার মনে খেদ নেই। যদিও আমি বহু দীর্ঘ বৎসর অনুপস্থিত ছিলেম তবুও আমার মনে হয় আমি হেরে গেছি।"

 

তিনি আরো বলেছেন, "আমি তাকে যত বড় দেখতে চেয়েছিলেম তার চেয়েও সে অনেক, অনেক বড় হয়েছে।"

(নজরুল একাডেমী পত্রিকাঃ ৪র্থ বর্ষঃ ১ম সংখ্যাঃ পৃষ্ঠাঃ ১৬৪)

 

নজরুল জীবনের শেষ অধ্যায়

নজরুলের জীবনের একমাত্র সাক্ষাৎকার যেটা উনি ১৯৪০ সনে দিয়েছিলেন, চিরদিনের জন্য অসুস্হ হয়ে যাবার কিছুদিন আগে- সেখানে উনি বলেছিলেন,

"মুসলমানরা যে একদিন দুনিয়াজোড়া বাদশাহি করতে সমর্থ হয়েছিল সে তাদের ইমানের বলে। আজ আমরা ইমান হারিয়ে ফেলেছি। ইমানের প্রকৃত অর্থ ‘পরিপূর্ণরূপে আত্মসমর্পন’। ভারতে রাজা-বাদশাদের দ্বারা ইসলাম জারি হয় নাই। আর মানুষের মঙ্গলের বিধান করেছেন আউলিয়া ‘পীর’ বোজর্গান। সারা ভারতে হাজার আউলিয়ার মাজার কেন্দ্র করে আজো সেই শান্তির কথা আমরা শুনতে পাই। আমি মওলানা আকরম খাঁ ও মৌলবি ফজলুর হক সাহেবকে বলেছিলাম যে, আসুন, আপনারা সমস্ত ত্যাগ করে হজরত ওমর (রাঃ) ও আবুবকরের (রাঃ) আদর্শ সামনে রেখে সমাজে লাগি, আমি আমার সব কিছু ছেড়ে কওমের খেদমতে লাগতে রাজি আছি।” [অতীত দিনের স্মৃতি, সম্পাদনা – আব্দুল মান্নান সৈয়দ পৃষ্ঠা ১৯২,১৯৩]

 

কিছু উল্লেখযোগ্য স্মৃতিচারণ

 

দুটি ঘটনা দিয়ে আজকের লেখা শেষ করছি।

 

প্রথম ঘটনা:

নজরুল স্মৃতিচারণ বই-এ ৩১৭ পৃষ্ঠায় লেখক খান মুহম্মদ সালেক বলেন, “১৯৩৯ সালের ৫ আগষ্ট। কোলকাতা বেকার হোষ্টেলে নবীনবরণ অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি করে আনা হয়েছে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী নলিনীরঞ্জন সরকারকে। বিশিষ্ট অতিথি ছিলেন নজরুল ইসলাম আর আব্বাস উদ্দীন। অনুষ্ঠান শেষে কবিকে চা-পানের জন্য নিয়ে যাওয়া হলো হোস্টেলের কমনরুমে। কিছু ছাত্র আমাদের ঘিরে দাঁড়িয়েছিল। তারা এক টুকরো করে কাগজ কবির সামনে ধরছে আর আবদার জানাচ্ছে কিছু লিখে দেবার জন্য। কবি একটা পেন্সিল হাতে নিলেন। তারপর একজনকে লিখে দিলেন, ‘আল্লাহু আকবর।' আর একজনকে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসলুল্লাহ।’ আবার কাউকে লিখলেন, ‘খোদাকে চেনো, খোদাকে চিনবে।’ আমিও এক টুকরো কাগজ বের করে সামনে ধরলাম। তিনি লিখলেন, ‘যারা ধৈর্যশীল খোদা তাদের সহায়।’ তাঁর এ ধরণের উক্তি থেকে মনে হয়েছিল তিনি কোন পীর-দরবেশ বা অলি আউলিয়ার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করছেন।"

 

দ্বিতীয় ঘটনা:

শিল্পী আব্বাসউদ্দিন একদিন অনেক খোঁজাখুঁজি করে নজরুলকে না পেয়ে সকালে তার বাসায় গেলেন। বাসায় গিয়ে দেখলেন নজরুল গভীর মনোযোগ দিয়ে কি যেন লিখছেন। নজরুল ইশারায় আব্বাসউদ্দিনকে বসতে বললেন। আব্বাস উদ্দিন অনকেক্ষণ বসে থাকার পর জোহরের নামাজের সময় হলে তিনি উসখুস করতে লাগলেন। নজরুল বললেন, “কি তাড়া আছে, যেতে হবে?” আব্বাসউদ্দিন বললেন, “ঠিক তাড়া নেই, তবে আমার জোহরের নামাজ পড়তে হবে। আর এসেছি একটা ইসলামি গজল নেবার জন্য। গজল না নিয়ে আজ যাওয়া হচ্ছে না।” [নজরুলকে যেহেতু বাউন্ডেলে স্বভাবের কারণে পাওয়া যেত না, তাই সবাই এইভাবে লেখা আদায় করত] নামাজ পড়ার কথা শুনে নজরুল তাড়াতাড়ি একটি পরিস্কার চাদর তার ঘরের আলমারি থেকে বের করে বিছিয়ে দিলেন। এরপর আব্বাস উদ্দিন যথারীতি জোহেরর নামাজ শেষ করার সাথে সাথে নজরুল আব্বাসউদ্দিনের হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “এই নাও তোমার গজল।” আব্বাস উদ্দিন বিস্ময়ের সাথে দেখলেন তার নামাজ পড়তে যে সময় লেগেছে ঠিক সেই সময়ের মধ্যে নজরুল সম্পূর্ণ একটি নতুন গজল লিখে ফেলেছেন। নীচে গজলটি দেয়া হলো:

 

হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ
দিলাম তোমার চরণ তলে হৃদয় জায়নামাজ।

আমি গোনাহগার বে-খবর
নামাজ পড়ার নাই অবসর
তব, চরণ-ছোওয়ার এই পাপীরে কর সরফরাজ
হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।

তোমার অজুর পানি মোছ আমার পিরহান দিয়ে
আমার এই ঘর হউক মসজিদ তোমার পরশ নিয়ে;
যে শয়তান ফন্দিতে ভাই
খোদার ডাকার সময় না পাই
সেই শয়তান থাক দূরে (শুনে) তকবীরের আওয়াজ
হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।

 

আমার লেখার উদ্দেশ্য এই নয় যে, নজরুল আদর্শ মুসলমান ছিলেন কিংবা তিনি অনুসরণীয়- এটা প্রচার করা। বরং আমার লেখার উদ্দেশ্য হোলো, নজরুল বিশ্বাসে সম্পূর্ণরূপে মুসলিম ছিলেন যেটা অনেকেই সঠিকভাবে জানেন না। আশাকরি উপরের আলোচনা আমাদের নতুন করে সেটাই ভাবতে শেখাবে। এরপরও অনেকে থাকবে যারা বিদ্বেষ ছড়াবে, তাদের সম্বন্ধে নজরুল বলেছেন:

 

উহারা প্রচার করুক হিংসা বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ
আমরা বলিব, “সাম্য শান্তি এক আল্লাহ জিন্দাবাদ।”

==============================================

পরিশিষ্ট: নজরুলের কিছু ইসলাম বিষয়ক কবিতা

 

বিষয়: ইসলাম

আল্লাহ আমার প্রভু, আমার নাহি নাহি ভয়
আমার নবী মোহাম্মদ, যাহার তারিফ জগৎময়।
আমার কিসের শঙ্কা,
কোরআন আমার ডঙ্কা,
ইসলাম আমার ধর্ম, মুসলিম আমার পরিচয়।

কলেমা আমার তাবিজ, তৌহীদ আমার মুর্শিদ
ঈমান আমার বর্ম, হেলাল আমার খুর্শিদ।

‘আল্লাহ আক্‌বর’ ধ্বনি
আমার জেহাদ বাণী
আখের মোকাম ফেরদৌস্‌ খোদার আরশ যেথায় রয়
আল্লাহ আমার প্রভু, আমার নাহি নাহি ভয়।

 

বিষয়: রিজিক

আহার দিবেন তিনি, রে মন
জীব দিয়েছেন যিনি
তোরে সৃষ্টি করে তোর কাছে যে
আছেন তিনি ঋণী।

 

বিষয়: রেসালত

চলে আন্‌জাম
দোলে তান্‌জাম
খোলে হুর পরী মরি ফিরদৌসের হাম্মাম!
টলে কাঁখের কলসে কওসর ভর, হাতে ‘আব্‌-জম-জম্‌-জাম্‌’।
শোন্‌ দামাম কামান্‌ তামাম্‌ সামান্‌
নির্ঘোষি কার নাম
পড়ে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহে সাল্‌লাম!’

বারেক মুখে নিলে যাঁহার নাম
চিরতরে হয় দোজখ্‌ হারাম,
পাপীর তরে দস্তে যাহার, কওসরের পিয়ালা
হের আজ আরশে এলেন মোদের নবী কম্‌লীওয়ালা।

 

বিষয়: কালেমা শাহাদত

এসমে আজম হ’তে কদর ইহার,
পায় ঘরে ব’সে খোদা আর রসুলের দীদার
তাহার হ্রদয়াকাশে
সাত বেহেশ্‌ত ভাসে
খোদার আরশে হয় আখেরে গতি
কলেমা শাহাদাতে আছে খোদার জ্যোতি
ঝিনুকের বুকে লুকিয়ে থাকে যেমন মোতি।

 

বিষয়: কোরবানী

আল্লার নামে, ধর্মেরও নামে, মানব জাতির লাগি
পুত্রেরে কোরবানী দিতে পারে, আছে কেউ হেন ত্যাগী?
সেই মুসলিম থাকে যদি কেউ, তসলিম কবি তারে,
ঈদগাহে গিয়া তারি সার্থক হয় ডাকা আল্লারে।
অন্তরে ভোগী বাইরে যে যোগী, মুসলমান সে নয়,
চোগা চাপাকানে ঢাকা পড়িবে না সত্য সে পরিচয়!

 

বিষয়: জাকাত

দে জাকাত, দে জাকাত, তোরা দে রে জাকাত
দিল্‌ খুলবে পরে – ওরে আগে খুলুক হাত।

 

বিষয়: আরাফাত ময়দান

দুখের সাহারা পার হ’য়ে আমি
চলেছি কাবার পানে
পড়িব নামাজ মারেফাতের
আরাফাত ময়দানে।

 

বিষয়: বেহেশত

সেথা হর্দম খুশির মৌজ,
তীর হানে কালো আখির ফৌজ,
পায়ে পায়ে সেথা আর্জি পেশ,
দিল চাহে সদা দিল্‌-আফরোজ,
পিরানে পরান বাধা সেথায়
আয়, বেহেশতে কে যাবি, আয়।

 

বিষয়: জাগরণমূলক কবিতা

মোরা আসহাব কাহাফের মত
হাজারো বছর শুধু ঘুমাই,
আমাদের কেহ ছিল বাদশাহ
কোনো কালে তারি করি বড়াই,

জাগি যদি মোরা, দুনিয়া আবার
কাঁপিবে চরণে টালমাটাল
দিকে দিকে পুন জ্বলিয়া উঠেছে
দ্বীন ই ইসলামি লাল মশাল।

৩০ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. করতোয়া

    আমু ব্লগের বা বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের উচ্ছিষ্ট বিপ্লবী যারা মুজিব কোট গায়ে দিয়ে নব্য আওয়ামীলীগ সেজে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ইসলাম বিরোধী নাস্তিকতার দাওয়াত প্রচারনার কাজ করছেন তাদের জন্য কবি নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও জীবন ভূমিকা প্রকৃত-ই ধর্মনিরপেক্ষতার মাইল ফলক বটে। কিন্তু আধুনিক কমিউনিষ্ট আলীগাররা এটা অনুধাবন করতে পারে না। আমি জানি না এটা্ তারা ইচ্ছা করে করে কিনা বা অজ্ঞতার বসে করে।

  2. সাদাত

    ভালো পোস্ট। আশা করি ভালো একটি আলোচনা দেখতে পাবো।

    1. ২.১
      হাফিজ

       
      সাদাত, ব্যস্ত আছেন না সুস্হ আছেন?  পড়ার জন্য ধন্যবাদ। 
       

  3. এস. এম. রায়হান

    নজরুল অসংখ্য হামদ, নাত লিখেছে সাথে সাথে হিন্দু ধর্ম নিয়ে অসংখ্য কবিতা,গান লিখেছে। তাই অনেকে সন্দেহ পোষণ করেন, সে প্রকৃতই হিন্দু ধর্ম বিশ্বাস করত কিনা?

    দৃষ্টিকটু লাগলো।
     
    লেখাটির জন্য ধন্যবাদ, পরে পড়ব।

    1. ৩.১
      হাফিজ

       
      ঠিকই বলেছেন, তবে অনেকেই যেহেতু অভিযোগ করে তাই বিষয়টি এভাবে না উল্লেখ করে পারা গেলো না। 
       

      1. ৩.১.১
        এস. এম. রায়হান

        আমি ঠিক কী বুঝাতে চেয়েছি তা মনে হয় ধরতে পারেননি। মন্তব্যে বোল্ড করা শব্দগুলো খেয়াল করেন।

  4. ভানু ভাস্কর

    জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি যিনি, তাঁর প্রতি ক্রিয়া ও সর্বনাম প্রয়োগে আর একটু সুবিচার করা উচিৎ হত কি না প্রিয় লেখক?

    1. ৪.১
      হাফিজ

      যেমন? 

  5. এস. এম. রায়হান

    কিছু প্রশ্ন:
     
    ১। কাজি নজরুল ইসলাম স্বঘোষিত 'কাফের' বা 'মুরতাদ (ইসলামে অবিশ্বাসী)' বা 'নাস্তিক' ছিলেন কিনা।
     
    ২। তাঁকে নাকি 'কাফের' বা 'মুরতাদ' বলে ফতোয়া দেয়া হয়েছিল। এই ফতোয়া কি নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি দিয়েছিল নাকি কোন মহলের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছিল। এই ফতোয়ার উৎস-ই বা কী। উল্লেখ্য যে, জাকির নায়েককেও কিন্তু আঃ মাহমুদের এক প্রিয় ভারতীয় মোল্লা কাফের ফতোয়া দিয়েছে।
     
    ৩। ইসলাম বিরোধীরা কাজি নজরুলের একটি কবিতার দুটি লাইনের উদ্ধৃতি দিয়ে কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই নজরুলের মুখ দিয়ে বলার চেষ্টা করে যে, কোরান মানুষের বাণী। লাইন দুটি হলো-
     
    পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন
    মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন
     
    প্রশ্ন হচ্ছে-
     
    ৪। এই দুই লাইনের আগে-পরে কী আছে।
     
    ৫। এখানে ঠিক কী বুঝাতে চাওয়া হয়েছে, আর কাদের উদ্দেশ্যেই বা এই কথা বলা হয়েছে।

    1. ৫.১
      সাদাত

      রায়হান ভাই,
      নজরুল আর যাই কিছু হোন না কেন, অবশ্যই আস্তিক ছিলেন, নাস্তিক না। কাজেই তাকে নিয়ে নাস্তিকদের নাচবার কোন কারণ নাই।

      'আল্লাহকে যে পাইতে পায়'-এই গজলে নজরুল লিখেছেন-

      তর্ক করে দু:খ ছাড়া কী পেয়েছিস অবিশ্বাসী?
      কী পাওয়া দেখ না বারে হযরাতে মোর ভালোবাসি'!
      এই দুনিয়া দিবারাতি
      ঈদ হবে তোর নিত্য সাথি।

      1. ৫.১.১
        এস. এম. রায়হান

        ধন্যবাদ।

    2. ৫.২
      কিংশুক

      পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন
      মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন

              মহান আল্লাহ পাক মানুষের উপরই কিতাব নাজিল করেছেন। সকল নবী, রাসূল মানুষ ছিলেন। মানুষের হেদায়াতের জন্যই কিতাব। কোরআন শরীফ এক সম্মানিত রাসূল হযরত মো: সা: এর আনীত। কেউ আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখেনি। তাঁর রাসূলদের উপর প্রেরিত আল্লাহর বানীর উপর মানুষকে বিশ্বাস করতে হয়। আল্লাহর নবী রাসূলগণকে মেনে চলে মানুষ সারা পৃথিবীকেই পাল্টে দিতে পেরেছে। পরিবর্তণ ঘটেছে মানুষের, হেদাযেত পেয়েছে মানুষ। মানুষের জন্যই সব। ভন্ড বা কোন মূর্খের পক্ষে আল্লাহর কিতাব পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব হয়না, বাস্তবায়ন করাও সম্ভব হয়না। 

      মৌ-লোভী যত মোলভী আর মোল্লারা কন হাত নেড়ে
      দেব-দেবী নাম মুখে আনে সবে তাও পাজীটার যাত মেড়ে।

                 এধরনের নানান অভিযোগ জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ফতোয়াতেই আছে। কিন্তু তিনি কোন প্রসংগে কোন দলিলের ভিত্তিতে কি বলেন তা নিশ্চয়ই আপনি বুজতে পারেন। এক মুজতাহিদের ফতোয়াতেই যেটা ওয়াজিব আরেকজনের নিকট তা সুন্নত অন্যজনের নিকট মুস্তাহাব। একজনের ফতোয়াতে হালাল আরেকজনের ফতোয়ায় হারাম। সবাইতো তাঁদের জ্ঞানের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করে সঠিক রায়ই দেয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কি আপনার কাছে কাফের?

  6. হাফিজ

     
     
    ১। কাজি নজরুল ইসলাম স্বঘোষিত 'কাফের' বা 'মুরতাদ (ইসলামে অবিশ্বাসী)' বা 'নাস্তিক' ছিলেন কিনা
     
    কাজী নজরুল ইসলাম নিজে সারা জীবন বলে গেছেন "আমি মুসলমান"। জীবনে কখনও বলেননি আমি ধর্মনিরপেক্ষ, কিংবা হিন্দু কিংবা অন্য কিছু
     
    ২। তাঁকে নাকি 'কাফের' বা 'মুরতাদ' বলে ফতোয়া দেয়া হয়েছিল। এই ফতোয়া কি নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি দিয়েছিল নাকি কোন মহলের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছিল। এই ফতোয়ার উৎস-ই বা কী। উল্লেখ্য যে, জাকির নায়েককেও কিন্তু আঃ মাহমুদের এক প্রিয় ভারতীয় মোল্লা কাফের ফতোয়া দিয়েছে।
     
    তার বিদ্রোহী কবিতা লেখার পর অনেকে বলেছিল।  আজ কারো অস্তিত্ব পাবেননা। কোনো স্বনামধন্য আলেম, কিংবা প্রতিষ্ঠান তখন তাকে কাফের ফতোয়া দেননি। কেউ কাফের ফতোয়া দিলেই আর একজন কাফের হয়ে যায়না, যেমন জাকির নাইক, মনসুর হাল্লাজ, ইরানের কবি হাফিজ সবাইকেই কাফের ফতোয়া দেয়া হয়েছে। 
     
    "এক আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ প্রভূ নাই। তাঁর আদেশ পালন করাই আমার একমাত্র মানবধর্ম। আল্লাহ লা-শরিক, একমেবাদ্বিতীয়ম। আল্লাহ আমার প্রভু, রসূলের আমি উম্মত, আল-কোরআন আমার পথ-প্রদর্শক। " [ কাজী নজরুল ইসলাম ]
     
     
     
     
    ৩। ইসলাম বিরোধীরা কাজি নজরুলের একটি কবিতার দুটি লাইনের উদ্ধৃতি দিয়ে কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই নজরুলের মুখ দিয়ে বলার চেষ্টা করে যে, কোরান মানুষের বাণী। লাইন দুটি হলো-
     
    পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন
    মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন
     
    প্রশ্ন হচ্ছে-
     
    ৪। এই দুই লাইনের আগে-পরে কী আছে।
     
    ৫। এখানে ঠিক কী বুঝাতে চাওয়া হয়েছে, আর কাদের উদ্দেশ্যেই বা এই কথা বলা হয়েছে। 
     
     
    সম্পূর্ণ কবিতা পড়লে আপনিই বুঝতে পারবেন। 
     

  7. আপনার লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। তথ্যসূত্রসহ এরকম তথ্যবহুল লেখা আসলে আসাধারন!

    একটা ব্যাপারে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছি, এই লিংকটি দেখুন – http://www.somewhereinblog.net/blog/abu_uzair/29694231
    আমার কাছে মনে হয়েছে উনি অনেক ব্যাপারে ভুল করেছেন, তাই উনার লেখায় আপনার একটা কমেন্ট আশা করছি। আমি অতটা জানি না তাই আপনার শরণাপন্ন হলাম।
    ধন্যবাদ।
     

  8. writerershad

    ধন্যবাদ এমন একটি লেখার জন্যে। খুবই মুল্যবান একটি লেখা।

     

  9. মুহাম্মদ শাহিদ শিলন চৌধুরী

    প্রবন্ধ টি পড়ে খুব ভাল লাগলো। কাজী নজরুল ইসলাম আমার প্রিয় কবি, তাই উনার ব্যাপারে অনেক সময় অনেক কথা যখন শুনতাম খুব খারাপ লাগতো। এখন আর লাগবে না। ধন্যবাদ আপনাকে। 

  10. ১০
    Lyric Omar Faruk

    ছোট্ট খুকির মান

    ওমর ফারুক

     

    সাত সকালে ঘুমের ঘোরেে

    একলা ভাবি মনে মনে

    হতাম যদি পাখির মতো

    উড়ে যেতাম দূর বনে।

     

    পাখি হয়ে মেলে ডানা

    গেয়ে যেতাম গান

    সেই সুরে ভেঙ্গে যেত

    ছোট্ট খুকির মান!

     

    প্রকাশিত দৈনিক যায়যায়দিন

  11. ১১
    মোঃ শ্যামারুণ

    আহাম্মাদের মিম বাদ দিলে আহাদ হয়ে যায়, এ রকম অর্থবোধক একটি কবিতা নিয়ে অনেক আলেম বলেন নজরুল নাকি সর্বেশ্বরবাদী। এ ব্যাপারে যদি কিছু বলেন।

    1. ১১.১
      মশিউর রহমান

      লালন বাবা লিখেছেন, "আহাদে আহাম্মদ হল, মানুষে সাঁই জন্ম নিল। লালন মহা ফেরে পড়লো, সিরাজ সাইজির অন্ত না পাই। আহাদ শব্দটি অহেদ শব্দ থেকে উৎপন্ন। অহেদ মানে এক, আহাদ মানে একক। আল্লাহ্‌ একক। যে সাধক সাধনা বলে আল্লাহ্‌ কত্রিক প্রশংসিত হন, তিনি হন মোহাম্মদ। ঐ মোহাম্মদ আরও ওপরে উঠে আদম লেভেলে গেলে, আহাদ আর মোহাম্মদ এক হয়ে আহাম্মদ হয়ে যান। এর অর্থ, আহাদ আর আহাম্মদ প্রায় এক। মানে আল্লাহ্‌ আর আল্লাহ্‌র নবী রাসুল গুনগত ভাবে এক।

  12. ১২
    মশিউর রহমান

    দারুন লিখেছেন ভাই, খুবই তথ্য নির্ভর লেখা। ক্ষমা করবেন ভুল হলে, আমার একটা মন্তব্য দিলাম সবার জন্য। " কাজী নজরুল ইসলাম প্রকৃতই একজন সাধক ছিলেন, তাঁর ছিল পরমের সাথে বিলিন হবার সাধনা। 'পরম' যিনি, তিনি সকল ধর্মের উর্ধ্যে। উনি তাই চেয়েছিলেন সব ধর্মের মধ্যে মেলবন্ধন করাতে, সকলের পরিচয় হোক 'মানুষ', কোন ধর্মের সাইন বোর্ডের নিচে মানুষকে উনি রাখতে চান নি। কারন, পরম শক্তিধর তো মানুষ গড়েছেন, মানুষ গড়ে নিয়েছে তাঁর নিজ নিজ ধর্ম, নিজ নিজ আচার- অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠান বা স্থূল আচারের আবর্জনার বিরুদ্ধে উনি কথা বলেছেন, যা পরম কে ঢেকে রাখে প্রতিটি মানুষের মধ্যে। ধন্যবাদ সবাইকে, বিশেষ করে লেখককে।

    1. ১২.১
      প্রভাত ফেরি

      আপনি একদম সঠিক কথা বলেছেন। লালন সাইজি আর নজ্রুল একই রকম মতবাদ  এ বিশ্বাসী ছিলেন। একজনকে নাস্তিক, বেদাত, বললে আরেকজনকেও বলতে হবে। তবে সত্য এটাই যে ওনারা ই সঠিক পথে ছিলেন।  
      লেখক খুব সুক্ষ ভাবে কবি নজরুলকে মুসলমান বলেছেন, বা বানানর চেষ্টা করেছেন, উনি মুসলমান আর সাধক এর পার্থক্য বুঝেন কি না আমার সন্দেহ আছে। 

  13. ১৩
    md sahensah

    Dhonnobad eto sundor vabe sotto kotha gulu oposthapon korar jonno.

  14. ১৪
    ডাঃ জাকিরুল ইসলাম

    আলচনা গুলো সত্যি অসাধারন । এ নিয়ে রাজনিতি করার কিছু নেই।

  15. ১৫
    মো: অাজিম

    নজরুল কি অাসলে কোন পিরের কাছে গিয়েছিলো

  16. ১৬
    কামরুল শাহ

    কিছু বলার না সুদু ছেলুট মহা কবি নজরুল কে !

  17. ১৭
    এবি জায়েদ আহমদ

    নজরুল কি সত্যিই একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম ছিলেন?

    তিনি একজন হিন্দু মহিলা (প্রমিলা দেবী) কে বিবাহ করেন ও ছেলেদের নাম রাখেন হিন্দু -মুসলিম সংমিশ্রণে।

    “নজরুল সাম্যবাদের একজন অগ্রদূত
    ছিলেন। তিনি মুসলিম হয়েও চার
    সন্তানের নাম হিন্দু এবং মুসলিম উভয়
    নামেই নামকরন করেন। যেমনঃ কৃষ্ণ
    মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ (বুলবুল),
    কাজী সব্যসাচী এবং কাজী
    অনিরুদ্ধ।” (উইকিপিডিয়া)

  18. ১৮
    এম এ মান্নান

    ধণ্যবাদ ভাই এরকম একটি মূল্যবান পোষ্ট লেখার জন্য। 

  19. ১৯
    মাহফুজ

    অনেক পরে চোখে পরলেও তথ্য সমৃদ্ধ লেখাটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ-

    নজরুল কতটা প্র্যাকটিসিং ধর্মীষ্ঠ মুসলিম ছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে তিনি মুসলিম নামধারী নর-পিশাচ ছিলেন না, বরং তিনি নিশ্চয় একজন মানব দরদি সত্যান্বেষী মনুষ এবং বড় মাপের মনীষী ছিলেন। অন্তত একজন ইমানদার হিসেবে অবশেষে তিনি যেন শান্তি পান- সেই কামনা করছি।

    মানুষ মাত্রই ভুল করে। কবি- সাহিত্যিকেরাও ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তাই তাদের ভুল-ভ্রান্তি, ভাল-মন্দ রচনাকে বিচার বিশ্লেষণ করে সত্য ও সুন্দরকে গ্রহণ করাই রুচিশীল পাঠকের পরিচয় বহন করে। সমাজকে মিথ্যা ও অপসংস্কৃতির কড়াল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে জীবনের পরতে পরতে সত্যাশ্রয়ী সরল ও সুন্দর কাব্য ও সাহিত্যের শাশ্বত ফল্গুধারা অবারিতভাবে বর্ষিত হোক- সেই কামনাই করি।

    এখানে আমন্ত্রণ- মুসলিমের কবিতা

  20. ২০
    madhumangal saha

    KAJI  NAJRUL ISLAM  MANABOTAR  PUJARI TAR  LEKHA  [AMI  SHAMA MAER  KOLA BOSA  JAPI  AMAR  SHAMAR NAM  MA  HOLEN  MOR MONTRO GURU THAKUR  HOLEN  GHONOSHYAM, ,,,,  ABAR TINI  LIKHLEN  AMI  JADI  ARAB HOTAM  MODINARI POTH —————-NABI  HAJARATH,  DHORMIO DRISHTIKON THAKA NA  DHAKA  MANOBATER PUJARI BHABA  DHAKA U-CHIT

  21. ২১
    রাহাত খাঁ

    কাজী নজরুল ইসলাম কাব্যে আমপারায় নিজেকে খাদেমুল ইসলাম বলেছেন। ইসলাম সত্য, সত্য ইসলামের আদর্শ একদিন সুর্য উঠেছিল আবার সুর্য উঠবে উদিত সুর্যের দর্শনের জন্যই সত্যের পথে কাজী নজরুল ইসলাম আশিসপুষ্ট বাঙ্গালিকে জাগাবার চেষ্টা করেছিলো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।