«

»

মার্চ ১৬

প্লেইজারিজাম বা কিম্ভলিকতা অথবা জ্ঞান চুরি

আমাদের দেশের অনেক কিংবা অধিকাংশ ব্যাক্তির প্লেইজারিজাম সম্পর্কে তোমন কোন আইডিয়া নেই। এই জন্যই আমার এই লেখার সূত্রপাত। বাংলা একাডিমির ইংরেজি টু বাংলা ডিকশনারীতে প্লেইজারাইজ(Plagiarize) শব্দের বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে "অন্যার ভাব, শব্দ ইত্যাদি গ্রহন করে নিজের বলে ব্যাবহার করা, কুম্ভলিতা করা"

 

প্লেইজারিজাম মূলত এক প্রকার জ্ঞান চুরি। তাই আমার লেখার শিরোনামে জ্ঞান চুরি শব্দটা উল্লেখ করেছি। আশা করি আমার লেখাটা আপনাদের উপকারে আসবে।

"এবং না করা বিষয়ের জন্য প্রশংসা কামনা করে, তারা আমার নিকট থেকে অব্যাহতি লাভ করেছে। বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব" সূরা ৩ আল ইমরান, আয়াত ১৮৮

আমরা যারা প্লেইজারিজম করি তারা মূলত না করা বিষয়ের উপর প্রসংশাকামনা করি। মূলত কাজটা আমাদেরই না, ভাল কাজটা অন্যের। লেখার সম্পূর্নতার জন্য পুরো আয়াত উল্লেখ করলাম।

"আর আল্লাহ যখন আহলে কিতাবদের কাছ থেকে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করলেন যে, তা মানুষের নিকট বর্ণনা করবে এবং গোপন করবে না, তখন তারা সে প্রতিজ্ঞাকে নিজেদের পেছনে ফেলে রাখল আর তার কেনা-বেচা করল সামান্য মূল্যের বিনিময়ে। সুতরাং কতই না মন্দ তাদের এ বেচা-কেনা।

তুমি মনে করো না, যারা নিজেদের কৃতকর্মের উপর আনন্দিত হয় এবং না করা বিষয়ের জন্য প্রশংসা কামনা করে, তারা আমার নিকট থেকে অব্যাহতি লাভ করেছে। বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।"-সূরা ৩ আল ইমরান, আয়াত ১৮৮

এই দু আয়াত থেকে এটাই পরিষ্কার হয় যে, নিজেদের খারাপ কাজের উপর আনন্দিত হওয়া যায় না, এটা এক প্রকার অন্যায় এবং না করা বিষয়ের জন্য প্রসংসাও কামনা করা যায় না। অন্যের লেখা হুবুহু নকল করে নিজের লেখা বলে প্রকাশ করে আনন্দিত হয়ে, মানুষের নিকট প্রসংসা কামনা করা যে ঐলেখার আমার লেখা, অথচ আমি গোপনে অন্যের থেকে কপি করেছি। এটা এক প্রকার অন্যায়। আসল মানুষকে গোপন করাও অন্যায়।

 

প্রচীন মুসলিম লেখকগন, প্লেইজারিজম সম্পর্কে অধিক সতর্ক ছিলেন, এবং তারা গ্রীক, ভারতীয় লেখকদের জ্ঞান অনুবাদের সময় তাদের ক্রেডিট ঠিকই দিয়েছেন। তাছাড়া, হাদিস বিশেষজ্ঞগন কার থেকে হাদিস জানলেন, সেটাও বর্ননা করেন। দুঃখের বিষয় প্রাচীন মিশরীয়, পার্সিয়ান, ব্যাবলিয়ানদের ও সাইন্টিস্ট ফিলসফার ছিল, নয়ত তারা এত বড় সভ্যতা তৈরি করতে পারত না, কিন্তু তাদের বিজ্ঞানী, দার্শনিকদের কোন পড়িচয় আমরা পাই না। Stolen Legacy বইয়ে George G. M. James এই বার্তা দেন যে "The Greeks were not the authors of Greek philosophy, but the black people of North Africa, the Egyptians." তবে তার জবাবে James's 1954 book 'Stolen Legacy' is a deliberate perversion of history to support the false claim that black Egyptians were the true originators of Greek philosophy. James's unsupported theories have been taken as fact by many people unfamiliar with Greek history. Mary Lefkowitz, Society, March-April 1994 v31 n3 p27(7) [আমার সূত্রঃ Creative Conscious Evalution, link:http://www.euvolution.com/euvolution/legacy.html ]

উপরের ইংরেজির অনুবাদঃ স্টলেন লেজাসি বইয়ে জর্জ জি এম জেমস বার্তাদেন, "গ্রিকরা গ্রিক দর্শনের লেখক নয়, তারা উত্তর আফ্রিকার কাল মানুষ, মিশরীয়" তার জবাবে মারি লেফকওয়টজ বলেন "১৯৫৪ সালের জেমসের স্টলেন লেগেসি প্রবর্তিত ইতিহাসের অংশা যা মিথ্যা ধারনাকে সমর্থন করে যে মিশরিয়রা হচ্ছে গ্রিক দর্শনের প্রকৃত লেখক। জেমসের অসমর্থিত তত্বকে অনেক মানুষেই ফ্যাক্ট  মনে করে যারা গ্রিক ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ।"

 

সে যাইহোক, আমরা উপরের তত্ব এবং এর পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা এড়িয়ে গেলাম। তাছাড়া, আমি কিছু অভিযোগ দেখেছি এই সে মুসলিম লেখকদের অনেক আবিষ্কার বা লেখা থেকে তাদের নাম মুছে দেওয়া হয়েছে অর্থ্যাত তাদের আইডিয়া ব্যাবহারের সময় ঐ সব মুসলিমদের রেফারেন্স বা ক্রিডিট দেওয়া হইনি। এই অভিযোগ কতটুকু সত্য তা নিয়ে আমি মাথা ঘাটাই নি, কারণ এর পক্ষে বিপক্ষেও বড় বিতর্ক হতে পারে। আমি শুধু আমাদের কি করা উচিত তা নিয়ের আলোচনায় আছি।

ছবিঃ ওয়েকিপিডীয়া থেকে।

(ছবিঃ ওয়েকিপেডিয়া থেকে)

 

 

প্লেইজারিজম সম্পর্কে আরো ভাল ধারনার জন্য প্লেইজারিজাম সম্পর্কে ভাল ধারনার জন্য আমেরিকার বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য তুলে ধরলামঃ

In order to clarify what is regarded as plagiarism, the Board on Judicial Affairs adopted the following statement on May 22, 2003:

"
For purposes of the Stanford University Honor Code, plagiarism is defined as the use, without giving reasonable and appropriate credit to or acknowledging the author or source, of another person's original work, whether such work is made up of code, formulas, ideas, language, research, strategies, writing or other form(s)." [Stanford University, http://studentaffairs.stanford.edu/communitystandards/integrity/plagiarism]

অনুবাদঃ এটা পরিষ্কার করার জন্য যে কি বিষয় প্লেইজারিজাম হিসাবে বিবেচ্য হবে, বিচার বিষয় সংক্রান্ত বোর্ড এই বক্তব্য গ্রহন করে মে মাসের ২২ তারিখ ২০০৩ সালে।

"স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার কোডের প্রয়োজনে, প্লেইজারিজাম কে ব্যাখ্যা করা হয়, কোন কিছু বা অন্যা কাউরো অরিজিনাল কাজ ব্যাবহার করা তার সঠিক গ্রহনযোগ্য প্রাপ্যতা স্বীকার না করে, অথবা লেখকের নাম কিংবা সূত্র উল্লেখ না করে, যেখানে এই কাজ গুলি হতে পারে কোড, ফরমোলা, আইডিয়া, ভাষা, রিসার্চ, কৌশল, লেখা অথবা অন্য কোন ফর্ম"

 

আশা করি, প্লেইজারিজম সম্পর্কে উপরের বক্তব্যে সম্পূর্ন পরিষ্কার হতে পেরেছেন। আমার সরল বক্তব্য হল, অন্য কাউরো কিছু ব্যাবহার করলে তার প্রতি কৃতজ্ঞাতা স্বীকার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহ পাকের প্রতিও কৃতজ্ঞ নয়।

ধর্মিয়ভাবে আমরা প্লেইজারিজম করতে পারিনা, তা আল কোরান ও ইসলামের বাকি অংশের উপর কম্লেক্স জ্ঞানের আলোকেই প্রমানিত হয়। তথাপি যদি আমরা লাইন বাই লাইন কৃতজ্ঞতা বলে যাই তাহলে লেখার চেয়ে নামের পরিমান বেশী হবে। মূলত আমি দেখেছি, যাই লিখি, তা কোন না কোন ভাবে অন্য কাউরো লেখার উপর, অথবা বক্তব্যের ভিত্তি করে এসেছে। তাই ঐ লেখায় সরাসরি সিগনিফিক্যান্ট যে সব লেখকের লেখা বা আইডিয়া জরিত আছে, যথা সম্ভব তাদের নাম, সূত্র উল্লেখ করি। বাকিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ইউনিভার্সালি প্রকাশ করি। আমরা ছোট বেলায় যে সব শিক্ষক এবং মা বাবার কাছ থেকে শিখেছি, সারা জীবনই তাদের ভাষা বা কোন আইডিয়া বর্ননা করার ক্ষেত্রে তাদের স্টাইল নিজের অজান্তে ফল করি, এবং তারা করেন তাদের পূর্ব পুরুষদের। অতএব, সব সময় স্বীকার করা উচিত, আমার সকল আইডিয়া ও বর্ননা অন্য কাউরো বর্নানার উপর প্রিতিষ্টিত এবং তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে আমি সবার নিকট কৃতজ্ঞ।

 

কৃতজ্ঞতাঃ [এই লেখায় একটু বড় কৃতজ্ঞতা ব্যাবহার করছি, যেহেতু এটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা নিয়েই লেখা]

উপরের সকল সূত্র, এবং http://en.wikipedia.org/wiki/Plagiarism এবং আয়াতটা শিখেছি হাসিব মামা থেকে। এবং আমার বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে প্লেইজারিজম কি তার প্রাথমিক ধারনা পেয়েছি। এবং জানা-অজানা সকল মানুষ যাদের ভাষা এবং জ্ঞান থেকে এই বিষয়গুলি জেনেছি।