«

»

Dec ২৫

মানবতা বিরুধী অপরাধে প্রতিমন্ত্রী কায়সারের রায় হয়েছে

বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী কায়সার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন। জানা যায়, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজস্ব রাজাকার বাহিনী তৈরি করেছিলেন। সদালাপের সাবেক সম্পাদক আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন ভাইও সৃতিচারণ করে লিখেছিলেন "একজন যুদ্ধাপরাধী এবং একটি পরিবার" । সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ গঠিত হয়েছিল তা( যুগান্তর, যেসব অভিযোগে দন্ডিত কায়সার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে)  নিম্নরূপঃ 

  1. একাত্তরের ২৭ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের পুলিশ ফাঁড়ি ও ইসলামপুর গ্রামের কাজীবাড়িতে শাহজাহান চেয়ারম্যানকে হত্যা, নায়েব আলী নামের একজনকে জখম ও লুটপাট করে কায়সার ও তার লোকজন।
  2. মাধবপুর বাজারের পশ্চিমাংশ ও পার্শ্ববর্তী কাটিয়ারায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে সৈয়দ কায়সার ও তার লোকজন। এ সময় প্রায় ১৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  3. একাত্তরের ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার কৃষ্ণনগর গ্রামের অহিদ হোসেন পাঠান, চেরাগ আলী, জনাব আলী ও মধু সুইপারকে হত্যা করে কায়সার ও তার লোকজন। তাদের বাড়িঘরে লুটপাট করার পর আগুন দেয়া হয়।
  4. কায়সার ও তার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৮ এপ্রিল মাধবপুর বাজারের উত্তর-পূর্বাংশে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তারা পূর্ব মাধবপুরের আবদুস সাত্তার, লালু মিয়া ও বরকত আলীকে হত্যা করে এবং কদর আলীকে জখম করে। (প্রমানিত হয়নি)
  5. একাত্তরের ২৯ এপ্রিল দুপুর থেকে বিকালের মধ্যে হবিগঞ্জ সদরের শায়েস্তাগঞ্জ খাদ্যগুদাম এবং শায়েস্তাগঞ্জ পুরানবাজারের রেলব্রিজ এলাকায় আবদুল আজিজ, আবদুল খালেক, রেজাউল করিম, আবদুর রহমান এবং বড়বহুলা এলাকার আবদুল আলী ওরফে গ্যাদা উল্লাহ, লেঞ্জাপাড়া এলাকার মাজত আলী ও তারা মিয়া চৌধুরীকে আটক করে নির্যাতনের পর হত্যা করে কায়সার বাহিনী।
  6. একাত্তরের ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যার পর হবিগঞ্জ সদরের পুরানবাজার পয়েন্টে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ এবিএম মহিউদ্দিনের বাড়িতে হামলা হয়। এ ছাড়া লস্করপুর রেললাইনের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে সালেহ উদ্দিন আহমেদ এবং হীরেন্দ্র চন্দ্র রায়কে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করে কায়সার বাহিনী।
  7. সৈয়দ কায়সার ও তার বাহিনী একাত্তরের ৩০ এপ্রিল হবিগঞ্জ সদরের এনএনএ মোস্তফা আলীর বাড়িসহ ৪০-৫০টি বাড়িঘর, দোকানপাটে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ অভিযোগে তাকে দেয়া হয়েছে ৭ বছরের কারাদণ্ড।
  8. মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ মে চুনারুঘাট থানার চাঁদপুর চা বাগানে সাঁওতাল নারী হীরামণিকে ধর্ষণ করে কায়সার বাহিনী। কায়সার এ সাঁওতাল নারীকে ধর্ষণে সহায়তা করেছিলেন।
  9. একাত্তরের ১৫ মে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরের লোহাইদ এলাকার আবদুল আজিজ, আবদুল গফুর, জমির উদ্দিন, আজিম উদ্দিন, এতিমুনেছা, নূর আলী চৌধুরী, আলম চাঁনবিবি ও আবদুল আলীকে হত্যা করে কায়সার বাহিনী।
  10. কায়সার ও তার বাহিনী আগস্টের মাঝামাঝি কোনো একদিন মাধবপুর থানার বেলাঘর ও জগদীশপুর হাইস্কুল থেকে আতাব মিয়া, আইয়ুব মিয়া, মাজেদা বেগমকে অপহরণ করে। একপর্যায়ে মাজেদাকে ধর্ষণ করা হয়।
  11. একাত্তরের ২৩ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হরিপুর থানার নাসিরনগরের গোলাম রউফ মাস্টার ও তার পরিবারের লোকজনদের ওপর নির্যাতন চালায় সৈয়দ কায়সার ও তার বাহিনী। একপর্যায়ে মুক্তিপণ আদায় করে তার বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ অভিযোগে তাকে দেয়া হয়েছে ৫ বছরের কারাদণ্ড।
  12. একাত্তরের ১৩ জুন হবিগঞ্জ সদর, মোকাম বাড়ি, শায়েস্তাগঞ্জ থানার আর অ্যান্ড এইচ ডাকবাংলো এবং মাধবপুর থানার শাহাজীবাজার এলাকায় হামলা চালায় কায়সার ও তার বাহিনী। এ সময় শাহ ফিরোজ আলী নামের একজনকে অপহরণের পর নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।
  13. একাত্তরের ১৮ আগস্ট হবিগঞ্জের নলুয়া চা বাগান থেকে মহিবুল্লাহ, আবদুস শহীদ, আকবর আলী, জাহির হোসেনকে অপহরণ করে নরপতিতে আবদুস শাহীদের বাড়ি ও রাজেন্দ্র দত্তের বাড়িতে স্থানীয় শান্তি কমিটির কার্যালয় এবং কালাপুরের পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যায় কায়সার বাহিনী। অপহৃতদের আটকে রেখে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।
  14. একাত্তরের ২৯ সেপ্টেম্বর মাধবপুরে সোনাই নদীর ব্রিজ এলাকা থেকে সিরাজ আলী, ওয়াহেদ আলী, আক্কাস আলী, আবদুল ছাত্তারকে অপহরণ করে নিয়ে যায় কায়সার ও তার বাহিনী। তাদের আটকে রেখে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।
  15. অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি কোনো একদিন সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরে শালবন রঘুনন্দ পাহাড় এলাকায় শাহাপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনকে অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। (প্রমাণিত হয়নি)
  16. কায়সার ও তার বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৫ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাটপাড়া থানার দাউরা, নিশ্চিন্তপুর, গুটমা, বুরুঙ্গা, চিতনা, নূরপুর, ফুলপুর, জেঠাগ্রাম, পাঠানিশা, কুলিতুণ্ডা, আন্দ্রাবহ, তিলপাড়া, কমলপুর, গঙ্গানগর, বাঘি, শ্যামপুর, কুয়ারপুর, নোয়াগাঁও, কুণ্ডা, লক্ষ্মীপুর, করগ্রামের ১০৮ জন গ্রামবাসীকে হত্যা করে।

এর মধ্যে ৭টি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদন্ড এবং ৪টি অভিযোগে আমৃত্য সাজা এবং দুটি থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আমরা কোন ব্যাক্তি বিদ্দেষ কিংবা জাতি বিদ্দেষ কিংবা দল বিদ্দেষে আক্রান্ত নই। আমরা চাই সঠিক বিচার যে বিচারে কোন পক্ষপাত করা হয় না এবং যে বিচার কোন রাজনিতিক উদ্দোশ্যে করা হয় না। তিনি তাহার কর্মের কারণে সাজা পেয়েছেন। জিয়া ভাইয়ের পোস্টে তাহার মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তি সময়ে খারাপ মানুষ হিসাবে দেখতে পাই না, যা দেখতে পাই, তাতে দেখা যায় তিনি প্রতিবেশীদের সাহিত ভালই ব্যাবহার করতেন। যুদ্ধ সব কিছু উল্টিয়ে দিয়েছে, তাকে খারাপ করে তুলেছে। এ জন্য যারা যুদ্ধ বাধায়, তাদের দায় সর্বাপেক্ষা বেশী।

 

 

৭ comments

Skip to comment form

  1. 3
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    কিছুদিন আগে আপনার পোস্টটা পড়েছিলাম। আল্লাহ তালার অসীম মেহেরবানী যে সৈয়দ কায়সারের মতো একজন শক্তিশালী মানুষ বিচারের মুখোমুখি হয়েছে এবং দোষী সাব্যস্থ হয়েছে। সত্য বলতে কি -- যদি এই বিচার না হতো অনেক প্রশ্নের উত্তর হয়তো পেতাম না।

    মুনীম ভাই যে ভাবে যুদ্ধের বিষয়ে ধারনা দিচ্ছেন তা বিপজ্জনক -- যুদ্ধের বিষয়ে শরীয়া আছে এবং তা সুষ্পষ্ট। সেখানে বাড়ী বাড়ী গিয়ে মানুষ ধরে এনে নদীতে নামিয়ে গুলি করা আর মেয়েদের অন্যের ভোগের জন্যে তুলে দেওয়া কোন ভাবেই যুদ্ধের মধ্যে পড়েনা। সাধারন সময়ের জন্যে এইগুলো ফৌজদারী অপরাধ -- কিন্তু যুদ্ধের সময় বিশেষ শক্তির ছত্রছায়ায় বিচারহীন ভাবে এই অপরাধ করার ফলে মানুষের নূন্যতম ডিগনেটি থাকে না -- সেইটাই যুদ্ধাপরাধ -- যার বৃহত্তর পরিসরে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সৈয়ধ কায়সাররা ৭৫ এর হত্যাকান্ডের সুযোগে সমাজে ফিরে এসেছিলো -- ফলে ন্যায় আর অন্যায় একাকার হয়ে গিয়েছিলো -- আল্লাহ ইচ্ছায় অন্যায়কে ন্যায় থেকে আলাদা করেছে এ্ই বিচার।

    এখানে আমার ব্যক্তিগত কিছু কথাও এসে গিয়েছিলো। কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ঘটনার বিচার নিয়ে তেমন চিন্তিত না। আব্দুর রাজ্জাক আমার বাবা। যিনি পাক-বাহিনীর হাতে আটক হয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছিলেন -- সেইটাও হয়তো আল্লাহ ইচ্ছায়। দীর্ঘ দুই মাস শ্রীমংগলের আমি ক্যাম্পে আটক থাকার পর একজন বিহারীর সহায়তায় আব্বা মুক্তি পান ( এই বিহারী ভদ্রলোকের নাম ছিলো হাফিজ, যাকে আব্বা মার্চ এপ্রিল (মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে) আমাদের বাসায় লুকিয়ে রেখেছিলেন। মুক্তির পর থেকে আমরা আরো আমার বাবাকে কাছে পাইনি -- কারন উনি বছরের অধিকাংশ সময় পিজি হাসপাতালের কেবিনে থাকতেন এবং প্রচন্ড অসুস্থ অবস্থায় ১০ বছর বেঁচে ছিলেন। 

    ব্যক্তিগত বিষয়গুলো কখন বলিনা -- এতে মানুষের করুনার উদ্রেগ হয়। আমার বিশ্বাস একজন যুদ্ধাহতের জন্যে করুনা খুবই অপমানের বিষয়। যে দেশে আলবদর রাজাকাররা মাথা উঁচু করে চলে -- সেখানে একজন যুদ্ধাহতের জন্যে করুনা পাওয়ার মতো অপমানজনক বিষয় এড়ানোর জন্যে গোপনে থাকাই শ্রেয়। তবে আজ যেহেতু সৈয়ধ কায়সারের মতো শক্তিশালী অপরাধীরা আদালতে দোষী প্রমানিত হয়েছে -- তাই আমার বাবার কথা বলতে তেমন দ্বিধা নেই। 

    আশা করি অনেকের কৌতুহল মিটবে। ধন্যবাদ সবাইকে।  

  2. 2
    মুনিম সিদ্দিকী

    ফাতমী আপনিও তো হবিগঞ্জের লোক। আপনার বাবা চাচার কাছ থেকে সৈয়দ কায়সারের ৭১এর ভুমিকা সম্পর্কে কিছু জানান নি?

    এখন তো যুদ্ধ নেই তারপরও বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষকেদমন করে যে ভাবে পুলিশ র‍্যাব আর ছাত্রলীগের সহায়তা নেয়া হচ্ছে, তাতে কত মানুষ নিহত হচ্ছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, পুঙ্গু করা হচ্ছে, নারীরা ধর্ষিতা হচ্ছে। তখন তো যুদ্ধ ছিলো, যুদ্ধের নিয়ম হচ্ছে মারো নয় মরো। তো এখন যে স্বাধীন দেশে যা হচ্ছে তার কি কোন দিন বিচার হবেনা? যারা ৪৩ বছর পর ঠাণ্ডা লোহা গরম করে যে উদাহরণ দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের দ্বারা এখন স্বাধীন দেশে যা হচ্ছে তার জন্য তাদেরও একদিন তা যত বিলম্ব হয়না কেন, বিচারে আওয়তায় আসতে হবে।

    1. 2.1
      ফাতমী

      @মুনিম সিদ্দিকী,

      হ্যা, ভূমিকা সম্পর্কে আগেই জেনে নিয়েছি, তাছাড়া, আমার হাউজ মেইট একদম তার এলাকার মানুষ, এবং আমার হাউজমেইট এ ব্যাপারে লেখা না দিতেই বলেছিলেন, কারণ আসামী অনেক শক্তিশালী, সব জায়গায় তার লোকজনে ভর্তি। কিন্তু তবুও সাহস করে, আমি সুক্ষ ধর্মিয় দায়িত্ব থেকে লিখেছি, যেটা আল্লাহ পাক ভাল করেই জানেন। আপনি আমার লেখাগুলি লক্ষ্য করলে দেখবেন, আমি অন্য কোন রাজাকারদের নিয়ে পোস্ট দেই নাই, কারণ আমি তাদের সম্পর্কে জানি না। আমি বিচারের পক্ষে, কিন্তু ন্যায়বিচারের পক্ষে, অবিচারের পক্ষে নই। আপনি দেখে থাকবেন জিয়া ভাইয়ের স্ট্যাটাসে উল্লেখ করে ছিলাম সাঈদির বিপক্ষে যে সব প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল, এগুলোর উপর আমি ব্যাক্তিগত ভাবে সন্তুষ্ট হতে পারি নাই। যাইহোক, আপনি নিজেকে বর্তমান সিরিয়ায় কল্পনা করুন, যেখানে বাসার আল আসাদের কসাই বাহিনী আপনার ভাইয়ের পুরো পরিবারকে হত্যাকরেছে, কিন্তু আপনার ছোট ভাতিজা কোন মতে বেঁচে গিয়ে মরুভূমিতে পিপাসায় কাতর হয়ে বেহুশ হয়ে আছে। তাহলে বুঝোতে পারবেন বিচার বিষয়টা কি? আর যুদ্ধের কথা বলছেন? সেটা কার বিরুদ্ধে? নিজ জনগন!!!! তাছাড়া, আপনি মুক্তিযুদ্ধকে বিচার করেন নিজের আশে-পাশের দেখার ভিত্তিতে, কিন্তু দেশটা অনেক বড়, আপনার পাশে যা ঘটেছে, অন্য জায়গায় তা অন্যরকম ঘটেছে বা ঘটতে পারে, যেটা আপনি বিবেচনায় আনতে পারছেন না।

       

       

      1. 2.1.1
        নির্ভীক আস্তিক

        ধন্যবাদ ফাতমী ভাই আপনার clarification এর জন্য। মুনিম সিদ্দিকি ভাইয়ের করা প্রশ্নে আমিও কিছুটা উদ্বেলিত ছিলাম। মনে হয়েছিল, উনি কোনভাবেই যুদ্ধাপরাধি এসকল ব্যক্তিবর্গের অন্যায় মেনে নিতে পারছেন না। ব্যক্তিগত ভাবে আমি এইসকল দায়ী ব্যক্তিদের অপরাধকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বিপক্ষ জামাত-শিবির কে Blacking এর মাধ্যমে গনবিদ্বেষ পোষনের বিপক্ষে। কিন্তু তাদেরকে যদি সামেন এগিয়ে যেতেই হয় তবে নেতৃস্থানীয় এসকল ব্যক্তিদের অপরাধ কে মেনে নিয়ে তাদের নেতৃত্ব বাদ দিয়ে,  নতুন একটি এজেন্ডা নিয়ে হাজির হওয়া প্রয়োজন যাতে  করে সাধারন মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পরিস্ফুটিত হয় এবং ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার প্রতি তাদের Active কার্যবিধি থাকে। আমার নিজেরো অনেক জামাত-শিবির  বন্ধুরা রয়েছেন যাদেরকে আমি অনেক ভাল হিসেবে দেখেছি, ইসলাম ও ন্যায়-নীতির ব্যাপারে মহাপ্রান। এবং যতদূর জানি এদের মধ্যে একটি দল আছে যারা এই সমালোচিত নেতৃত্বের বেরি ভাঙ্গতে চাইছেন, কিন্তু দলীয় Commitment এর জন্য পারছেন না ।   What is truth is always a truth. অন্যায়কে অন্যায় দিয়ে দমন করা যায় না। যার যতটুকু দোষ ততটুকু স্বীকারতো করতেই হবে। যেমনঃ সাঈদির বিচার যে নিছক একটি প্রহসন তার অনেক প্রমান রয়েছে। এই ভিডিওটি দেখুনঃ https://www.youtube.com/watch?v=JfFauch8wE4 অথচ আমি আমাদেরি মধ্যে অনেককে বলতে শুনেছি তিনি "রাজাকারই" ছিলেন না। "তিনি রাজাকার ছিলেন কিন্তু যুদ্ধাপরাধ বলতে আমরা যা বুঝি তার এমন কিছু তিনি করেননি" -- এই কথাটুকু এভাবে বলতেই অনেকের আপত্তি।

  3. 1
    মজলুম

    আলহামদুলিল্লাহ! কিন্তু কায়সারের দুর্ভাগ্য যে মুসলিম লীগ বিলীন হয়ে গেছে নয়তো তাকে ইসলামি সৈনিক, ইসলামি সিপাহসালার সহ টাইটেলের পর টাইটেল দিয়ে বিশেষায়িত করা হতো। তার জন্যে তিনদিন হরতাল হতো, গাড়ি, বাড়ি জ্বলত, ভাঙত, রেল লাইন উপড়ে ফেলা হতো, মানুষ জ্বালিয়ে হত্যা করা হতো! আরো কতো কি।
    বা এ কায়সার সে কায়সার নয়, গণ্ডগোলের সময় তিনি কোন অপকর্মে জড়াননি, কায়সার হত্যা হলো জুডিশিয়াল কিলিং, ভারতের ষড়যন্ত্র, (জামাতে) ইসলাম ধ্বংসের ষড়যন্ত্র!!!!  ব্লা ব্লা ব্লা

    বই দ্যা ওয়ে, প্লীজ একটু জানানতো  ১)-ঐ পোষ্টের রাজ্জাক সাহেবের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলো?   
    ২)- রাজ্জাক সাহেবের সাথে জিয়া ভাইয়ের সম্পর্ক কি?

    1. 1.1
      নির্ভীক আস্তিক

      @মজলুম ভাই, http://www.shodalap.org/zia1307/10982/  এই পোষ্টে জিয়া ভাই যা বলেছেন তাতে মনে হল রাজ্জাক সাহেবকে আর খুজে পাওয়া যায় নি অথবা এরকম কিছু। মুনিম সিদ্দিকি ভাইয়ের মন্তব্যগুলোও দেখতে পারেন। আমারো ধারনা, জিয়াউদ্দিন ভাইয়ের সাথে উক্ত ব্যক্তির নিকট আত্নীয়াতার সম্পর্ক থেকে থাকতে পারে। কিন্তু অই পোষ্টে জিয়াউদ্দিন ভাইকে জিজ্ঞাসা করা হলেও  তিনি এ বিষয়ে কিছু জানাননি।

       

    2. 1.2
      সর্বসম

      আইএস সমর্থক ব্লগারদের আওয়ামী সুরে সুর মেলানো থেকেই বোঝা যায় যে, আইএস ইসরাইলের সৃষ্টি। ইহুদীবাদী ও সেকুলারবাদীদের মূল লক্ষ্য যেমন ইসলাম ও মুসলমানদের ধ্বংস করা, তেমনি আইএসের লক্ষ্যও ইসলামকে পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করা। মুসলিম দেশগুলোতে গৃহযুদ্ধ ও মুসলমানদের মাঝে পারস্পরিক ফেতনা-ফাসাদ ছড়িয়ে দিয়ে ইসলামকে ধ্বংস করার এই মিশনে কেউ নেমেছে সেকুলারিজমের নামে, আবার কেউ নেমেছে ইসলামের নামে। কেউ ব্যবহার করছে ভাষা ও ভূখণ্ডের শ্লোগান, কেউ তুলছে ফেরকা ও মাযহাবের শ্লোগান। আইএস-জেএমবি আর ঘাদানিক-গণজাগরণ মঞ্চ উভয়ের উৎপত্তি একই জায়গা থেকে, উভয়েরই ব্রেন ওয়াশ হয়েছে একই গুরুর স্কুলে। তাইতো দেখা যায়, এই তোতা পাখিদের কাছে বাগদাদীর নামে যত অভিযোগ সব মিথ্যা ও বানোয়াট মনে হয়, কিন্তু সাঈদীর নামে যা কিছু শোনে সবই নির্ভেজাল সত্য মনে হয়। এদের মতে, আইএসের সম্পর্কে জানতে হলে উভয় পক্ষের স্টেটমেন্ট নিতে হবে, কিন্তু জামাত-শিবির সম্পর্কে যে যা বলবে সবই ওহী হিসেবে মানতে হবে।

Leave a Reply