«

»

জানু. ০৭

ধর্ষণের বিচার সংক্রান্ত ইসলামের আলোচনা

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

  • ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি কি?
  • ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণে কি কি প্রয়োজন?
  • মেডিক্যাল টেস্ট কি ইসলামে গ্রহনযোগ্য?

ইসলামে দৃষ্টিতে ধর্ষণে দুইটি অপরাধ হয়, যথাক্রমে ১ ব্যাবিচার (যে ধর্ষণ করে তার দিক থেকে) ২ জুলুম বা কাউরো থেকে অন্যায়ভাবে কিছু কেড়ে নেওয়া। এখানে ধর্ষিত ব্যাক্তি সম্পূর্ণ নিরাপরাদ।

ক্লাসিক্যাল থট এবং ক্লাসিক্যাল শাস্তিঃ

প্রথম অপরাদের শাস্তিঃ অনেক আলিমের মত অনুসারে, বিবাহিত ব্যাক্তির ব্যাবিচারের সর্ব্বোচ্চ শাস্তি পাথর ছুড়ে মৃত্যুদন্ড। ২য় অপরাধের শাস্তিঃ আর্থিক জরিমানা, "দেনমহর" জরিমানা করা হবে।  হযরত আলী রাঃ এবং ইমাম মালিক রঃ ফয়সালা এটিই। তবে, ইমাম আবু হানিফা রঃ মতে মৃত্যুদন্ডই যতেষ্ট। কিন্তু কোন কোন বিশেষ পরিবেশে প্রথম মতামতই বেশী গ্রহনযোগ্য, কারণ অপরাধকে বিভক্ত করলে দুইটি অপরাধে পরিনত হয় এবং মোহরানা দেওয়ার ফলে বাচ্চার পিতার পড়িচয় জানা থাকায় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার দাবী করার সুযোগ তৈরি হবে, এবং যদি ভিক্টিমের আর্থিক ক্ষতি হয়ে থাকে সেটাও পূরণ হবে। তবে এটি আদালতের বিবেচ্য বিষয়।

প্রমাণে কি কি প্রয়োজনঃ

ধর্ষণের অভিযোগ করার জন্য কোন সাক্ষি দরকার নেই, ভিকটিমের অভিযোগই যতেষ্ট। এবং এমন কি ভিক্টিমের পড়িচয় গোপন রাখা যাবে।

narrated by Wa’il ibn Hujr:

When a woman went out in the time of the Prophet (PBUH) for prayer, a man attacked her and overpowered [raped] her. She shouted and he went off, and when a man came by, she said: ‘That [man] did such and such to me.’ And when a company of the Emigrants came by, she said: ‘That man did such and such to me.’ They went and seized the man whom they thought had had intercourse with her and brought him to her. She said: ‘Yes, this is he.’ Then they brought him to the Apostle of Allah (SWT).

When he [the Prophet (PBUH)] was about to pass sentence, the man who [actually] had assaulted her stood up and said: ‘Apostle of Allah, I am the man who did it to her.’ He [the Prophet (PBUH)] said to her: ‘Go away, for Allah (SWT) has forgiven you [for mistakenly identifying the wrong man].’ But he told the man some good words [Abu Dawud said: meaning the man who was accidentally seized], and of the man who had had intercourse with her, he said: ‘Stone him to death.’ He also said: ‘He has repented to such an extent that if the people of Medina had repented similarly, it would have been accepted from them.’ -4366, Sunan Abu-Dawud

অনুবাদঃ জৈনেক মহিলা নবীর ইবাদতের সময় কালে বাহিরে গেলে একজন মানুষ তাকে আক্রমণ করল এবং উপরে উঠে (ধর্ষণ করল) গেল। ঐ মহিলা চিল্লি দিল এবং সে পালালো এবং একজন মানুষ আসলে, ঐ মহিলা উত্তর করল ওমুক আমার উপর এই এই করেছে, এবং কিছু মুহাজির আসলেও ঐ মহিলা বলল, ওমুক আমার উপর এই এই করেছে। তারা খোজ করলেন এবং ধরলেন যাকে ভাবলে সে যৌন কাজ করেছে এবং উক্ত মহিলার নিকট আনা হল। ঐ মহিলা উত্তর দিলে, "হ্যা এই সে" তারা অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে আল্লাহ পাকের রাসূল সাঃ এর নিকট নিয়ে আসলেন।

যখন তিনি (রাসূল সাঃ) রায় দিতে গেলেন, ওমনি একজন মানুষ যে সত্যিই ঐ মহিলাকে অসম্মান করেছিল সে দাঁড়ালো এবং বলল, হে আল্লাহ পাকের রাসূল আমিই সেই ব্যাক্তি যে ঐকাজ এই মহিলার উপর করেছি। তিনি (রাসূল সাঃ) ঐ মহিলাকে বললেন তুমি চলে যাও, আল্লাহ (সুবাহানাতালা) তোমাকে মাফ করেছেন। কিন্তু তিনি তাকে(আবু দাঊদ বলেছেন, যাকে ভুল করে ধরা হয়ে ছিল তাকে) কিছু ভাল কথা বললেন, এবং যে ব্যাক্তি ঐ মহিলাকে অসম্মান করেছিল তিনি বললেন, তাকে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হল। তিনি আরো বললেন, সে এতই অনুশোচিত হয়েছে যে, যদি মদিনার মানুষ তওবা করে তবে সকলের তওবাই কবুল হবে (‘He has repented to such an extent that if the people of Medina had repented similarly, it would have been accepted from them.)

এখানে দেখা যাচ্ছে, ধর্ষিত ব্যাক্তির একক অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। এবং এর ভিত্তিতে শাস্তিও দেওয়া প্রায় হচ্ছিল। এমনকি যদি ভিক্টিম ভুলবসত অন্য কাউকে অপরাধী বলে অভিযুক্ত করে, তাহলেও ধর্ষিত ব্যাক্তি সম্পূর্ন মুক্ত। এবং পড়িচয় গোপন রাখা হয়েছে।

যেহেতু অপরাধী সিলেকশনে মানুষ ভুল করতে পারে, সেহেতু অপরাধীকে পেতে অন্যান্য পথ অবলম্বন করতে হবে। যাতে সঠিক অপরাধিকে পাওয়া যায় এবং শুধু মাত্র প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত শাস্তি দিতে পারবে। ব্যাবিচারের সর্ব্বোচ্চ শাস্তি দিতে হলে সর্ব্বোচ্চ প্রমাণ প্রয়োজন, অর্থ্যাত চার জন চাক্ষুশ সাক্ষী। কিন্তু চার জন সাক্ষি না পাওয়া গেলেও যতটুকু প্রমাণ হয় ততটুকুর ভিত্তিতে আদালত শাস্তি দিতে পারবে, কিন্তু সর্বোচ্চটি নয়। যেমন, ভারতের বাসে ঘটা ধর্ষনের মামলায় সর্ব্বোচ্চ শাস্তি আসবে। কারণ অভিযুক্তরা নিজেরাই স্বীকার গিয়েছে এবং তারা চারের অধিক। সেখানে আরো সাক্ষিও ছিল।

মেডিক্যাল টেস্টঃ 

মেডিক্যাল টেস্ট নিজে কোন সাক্ষি নয়, কিন্তু যিনি মেডিক্যাল টেস্ট করবেন, তিনি নিজে সাক্ষি হতে পারবেন। অর্থ্যাত, তিনি যদি মেডিক্যাল পরিক্ষা থেকে কনফিডেন্ট হন যে ওমুক তমুককে ধর্ষণ করেছে। তাহলে তিনি আদালতে এ ব্যাপারে সাক্ষি দিতে পারবেন। সাধারণ মানুষে কে কি বলল সেটা গ্রহনযোগ্য নয়। তবে যেহেতু ১০০% কনফিডেন্স হওয়া সম্ভব হয় না, সেহেতু সাক্ষী যতটুকু কনফিডেন্স ততটুকু বর্ননা করবেন, যেমন ধরেন, আমি ৯৫% কনিফিডেন্ট যে তমুক ঐ কাজ করেছে।

"তারা বললঃ পিতাঃ আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করতে গিয়েছিলাম এবং ইউসুফকে আসবাব-পত্রের কাছে রেখে গিয়েছিলাম। অতঃপর তাকে বাঘে খেয়ে ফেলেছে। আপনি তো আমাদেরকে বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী। এবং তারা তার জামায় কৃত্রিম রক্ত লাগিয়ে আনল। বললেনঃ এটা কখনই নয়; বরং তোমাদের মন তোমাদেরকে একটা কথা সাজিয়ে দিয়েছে। সুতরাং এখন ছবর করাই শ্রেয়। তোমরা যা বর্ণনা করছ, সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্য স্থল" -আল কুরান, সূরা ইউসুফ আয়াত (১৭-১৮)

"Deep down in the heart Jacob knew that his beloved son was still alive and that his other sons were lying. He held the blood stained in his hands, spread it out and remarked: "What a merciful wolf! he ate up my beloved son without tearing his shirt!" Ibn Kathir

অনুবাদঃ ঋদয়ের গভীর থেকে ইয়াকুব আঃ জানতেন যে তাহার সন্তান এখনো জীবিত আছে এবং বাকি সন্তানরা মিথ্যা বলছে। তিনি রক্তটাকে হাতের মধ্যে নিলেন এবং আলাদা করলেন এবং বললেন, "কত ক্ষমাশীল বাঘ, সে আমার প্রিয় ছেলেকে খেয়ে ফেলল তার পড়নের কাপড় না ছিড়েই"

এখান থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, আলামত দেখে, পূর্বে কি ঘটেছিল তার বের করা যায় কারন ইউসুফ আঃ এর পিতা ইয়াকুব আঃ তার জ্ঞান থেকে আলামত বিবেচনা করে দেখেছেন যে ইয়াকুব আঃ এর বাকি ছেলেদের কথা প্রাপ্ত আলামতের সাহিত সামঞ্জস্য নয়। এভাবে বিভিন্ন অপরাদের বিশ্লেষন আলামত থেকে করা যায়।

"ইউসুফ (আঃ) বললেন, সেই আমাকে আত্মসংবরণ না করতে ফুসলিয়েছে। মহিলার পরিবারে জনৈক সাক্ষী দিল যে, যদি তার জামা সামনের দিক থেকে ছিন্ন থাকে, তবে মহিলা সত্যবাদিনী এবং সে মিথ্যাবাদি।"-আল কুরান, সূরা ইউসুফ আয়াত (২৬) 

এখানে জৈনেক ব্যাক্তি কিভাবে সাক্ষি দিল? উত্তরঃ তার জ্ঞানের ভিত্তিতে। যেহেতু মেডিক্যাল টেস্ট মানুষের অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান, সেহেতু সেই জ্ঞানও ব্যাবহার যোগ্য। এখানে, সরল থেকে জটিলে যাওয়া হয়েছে কিন্তু বিষয় একই। যেমনঃ সরল ১+১=২, জটিল ১০০+২০০+৯৯=৩৯৯। যেহেতু জ্ঞানটা কোন মানুষ কর্তৃক অর্জন করতে হয়, এবং আলামত নিজে যেহেতু কথা বলতে পারে না, সেহেতু, উপরুক্ত আলোচনা থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, মেডিক্যাল টেস্ট নিজে কোন সাক্ষি নয়, কিন্তু যিনি মেডিক্যাল টেস্ট করবেন, সেই বিশেষজ্ঞ নিজে সাক্ষি হতে পারবেন।

 

 

যাইহোক, আমজনতার কাছে প্রশ্ন থাকলো, যা্রা ন্যায় এবং অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যার্থ হয়, তাদের আইন ব্যাক্ষা করার যোগত্যা আদও আছে কি? কে কি বলল, কোন নাস্তিক যে কিনা কোরানেই বিশ্বাস করে না সে কি ব্যাক্ষা দিল তাতে কি যায় আসে যায়?

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে রহমত ও জ্ঞান দান করুন, এবং ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করার যোগ্যতা দান করুন। আমিন।

 

[বিদ্রঃ লেখাটি সম্মানিত লেখক এস এম রায়হান ভাইকে উতসর্গ করা হল]

১৪ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. আবদুস সামাদ

     জনাব, কোর আনে ধর্ষণের বিষয়ে অনেক আয়াত আছে৷ আপনি তা না এনে হাদীশ নিয়ে ব্যস্ত হয়েছেন৷ বিষয়টি বোধগম্য হলনা৷ আবার ইউসুফ আঃ এর বিষয়টি কোরআন দিয়ে বুঝিয়েছেন৷ সমন্বয় করতে পারলামনাা৷ শুধু অনুরোধ ইসলামকেে হেয় করার চিন্তা করবেন না আর শরিয়তককে কোরআনের সাথে রাখার চেষ্টা করবেন, কঠিন বা সহজ করার প্রয়োজন নেই৷ ধন্যবাদ৷

    1. ১.১
      নির্ভীক আস্তিক

          জনাব, কোর আনে ধর্ষণের বিষয়ে অনেক আয়াত আছে৷ আপনি তা না এনে হাদীশ নিয়ে ব্যস্ত হয়েছেন৷

      আমার জানামতে ধর্ষণের এর ব্যাপারে নেই। তবে কোন নারীকে যদি মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয় তার বিরুদ্ধে রয়েছে। যেমনঃ

      এবং  যারা সতী নারিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয় কিন্তু চার জন সাক্ষী হাজির করেনা – তাদের ৮০ টি বেত্রাঘাত কর এবং তাদের কোনরূপ সাক্ষী ভবিষ্যতে গ্রহণ করনা।
       –(An-Nur 24:5)

    2. ১.২
      ফাতমী

      @আবদুস সামাদ,

      ভাই, আপনার প্রশ্ন আমি বুঝোতে পারছি না। আমিও তো আল কোরান থেকেই প্রমাণ দিলাম, সাথে অন্যান্য রেফারন্সও দিলাম। শুধু পোস্ট একটা ধারায় সাজানো হয়েছে যেন মানুষ সহজে বুঝোতে পারে। তাছাড়া, আমি ভুল ভরা একজন সাধারণ মানুষ মাত্র। আল্লাহ পাকই সব থেকে ভাল জানেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

  2. নির্ভীক আস্তিক

    ধর্ষণের ক্ষেত্রে মৌলবাদী নাস্তিক এবং পৌত্তলিকরা( দুই ঈশ্বর বাদী ও বহু ঈশ্বর বাদী ) যে সমালোচনাটি করে থাকেন তা হচ্ছে "ভিক্টিম কে 8 জন সাক্ষি এনে প্রমান করতে হয় তিনি ধর্ষিত হয়েছেন " । অবশ্য এদের এই ধারনার জন্য reference হিসেবে কাজ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা Websites আর এর Wikipedia নামের  তথ্য ভান্ডার। একটি নমুনা দেখুনঃ Women In Islam আর্টিকেলটির শিরণাম Women in Islam হলেও এর অনেক তথ্যই আসলে নারীদের প্রতি কিছু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর treatment হিসেবে দেখিয়েছে যা অনেকটা Cristiniaty কে USA দিয়ে অথবা হিন্দুত্ব কে বর্তমান মোদির ভারত দিয়ে অথবা অনেক নাস্তিকদের প্রিয় মৌলবাদী দর্শন Communism কে Capitalism এর ধারক ও এর দাসত্ব করে এরকম কিছু Communist দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করার মত শুনায়।  

    এই article টির একটি Section: Sexual_crimes দেখুনঃ
     

    In Islam, sexual intercourse between a Muslim woman and any man to whom she is not married is zina, a religious crime.[94][95] This includes extramarital sex, premarital sex and rape. It is listed as a hadd crime, i.e. a crime against God (murder of a Muslim; theft of a Muslim's property; zina; consumption of alcohol or other intoxicants; and apostasy).[96][97] The punishment in Islam for unlawful sex is fixed at a 100-lash public flogging, or stoning to death.[98] Accusing anyone of sex crime or rape, without proper witnesses, is also a hadd crime.[99]

    Zina cannot be alleged by any woman or man without four male Muslim eyewitnesses or without confession in court by the man who committed zina.[94][95][100] This sharia requirement of four eyewitnesses severely limits a woman's ability to press rape charges, a crime often committed without eyewitnesses

    লক্ষ্য করুনঃ প্রথমে ধর্ষণ কে 'জিনা' এর পর্যায়ে আনা এরপর কাউকে "জিনা" এর দায়ে দোষি সাব্যস্ত করার জন্য চারটি সাক্ষির দরকার এরকম একটি সরলীকরনের মাধ্যমে এই মূল্যবোধ যে অনেকক্ষেত্রে ধর্ষককে বাচিয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে এমন একটি অনুসিদ্ধান্তে পোঁছানো। এভাবেই ইসলামী মূল্যবোধের মূল উৎস কোরান আর সুন্নাহের উল্লেখিত সরাসরি Context কে উপেক্ষা করে তথ্য বিভ্রাটের মাধ্যমে বিভ্রান্তি করার চেষ্টা চলছে এই মৌলবাদী নাস্তিক আর প্যাগান সম্প্রদায়ের লোকগুলো। এতে অবশ্য সহায়ক ভূমিকা পালন করছে  ইসলামের ধারক ও বাহক হিসেবে নিজেদের স্বীকৃতি দেয়া কিছু দেশের মৌলবাদী মুসলিম আর তাদের প্রদত্ত আইন।  Wikipedia তে উল্লেখিত এই তথ্য যে কতটুকু বিভ্রান্তিমূলক তার প্রমান পাওয়া যায় কিছু প্রগতিশীল শিক্ষিত নারিদের লিখিত বক্তব্য থেকেইঃ

     Do Women Need Four Witness to Prove Rape?
    Rape: Fallacies of the four witness requirement?

    এদের ধন্যবাদ দেই এজন্য যে তাদের এই লেখা আমাদেরকে এসকল রুক্ষ মৌলবাদী সম্প্রদায়ের লোকদের  এরকম ফালতু প্রচারের পেছণে অহেতুক সময় ব্যয় করা থেকে রক্ষা করছে।  Wikipedia এর মূলহোতারা অবশ্য বলেছেন এর Article গুলোকে কোন source of information হিসেবে ব্যবহার না করতে বরং Source of Reference হিসেবে। কিন্তু Article এর লেখক তাতে সম্মান না দেখিয়ে ইসলামর চোখে নারীকে দেখতে যেয়ে এর মূল Source গুলোকে Reference হিসেবে না দিয়ে অনেক জায়গায়তেই পাশ কাটিয়ে গেছেন নির্লজ্জভাবে।   তবে যেহেতু Wikipedia একটি open book of information যাতে যেকেউ তথ্য দিয়ে অবদান রাখতে পারেন, এটাতে আমদেরও অবদান রাখার প্রয়োজন। 

    আপনি একটি জিনিস লক্ষ্য করে দেখবেনঃ "For performing Adultery hundred slash of public flogging or stoning to death penalty for participant( which includes both male and female)" কে এরা একটু যোগ-বিয়োগ  করে এভাবে প্রচার করে "In islam they stone Women to death for performing adultery". নারী এদের কাছে পুরুষদের একটি প্রতিযোগী Race, এই Women শব্দের পেছনে লুকিয়ে থাকতে এদের একটু আলাদা আকুতি, পাবলিক সেন্টিমেন্ট কে নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে এদের বিদ্বেষী দর্শনের প্রতি সহানুভূতি কুড়ানোর একটু আকাঙ্খা।  
     

      

    1. ২.১
      ফাতমী

      @নির্ভীক আস্তিক,

      ভাই,

      আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। পৃথিবীতে বহু মানুষ, কোটি কোটি মন, একটা মন আরেকটা মনের থেকে আলাদা। আসলে এক একটা মানুষই এক একটা দুনিয়া। এত মানুষের বহু কোটি মতামত থাকবেই। আমাদের উচিত প্রকৃত বিষয় সুন্দর করে তুলে ধরা। তাহলেই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারব।

    1. ৩.১
      ফাতমী

      @মাহফুজ,

      ধন্যবাদ মাহফুজ ভাই। আমি একটা লেখা পড়েছি।

  3. শাফিউর রহমান ফারাবী

    এটা নিয়ে আমার একটা লেখা আছে http://www.facebook.com/note.php?note_id=882663941746835

  4. Monowar Bin Zahid

    আমি একটা বিষয় বুঝতে পারছি না। দয়া করে যদি বুঝিয়ে দেন তাহলে ভালো হয়।

    যদি ২ জন মিলে ব্যাভিচার করে তাহলে তারা সেটা লুকিয়ে করে যাতে কেউ দেখতে পারে না। তবুও এটা প্রমাণ করতে গেলে ৪ জন সাক্ষী লাগবে। আবার ধর্ষনের ক্ষেত্রে ভিক্টিম চিৎকার করবে তাই ধর্ষন চুপে চুপে হয় না তবুও এটা প্রমাণ করতে কোনো সাক্ষী লাগবে না। যেখানে সাক্ষী থাকাটা স্বাভাবিক ওখানে লাগবে না আর যেখানে অস্বাভাবিক সেখানে ৪ জন সাক্ষী।

    1. ৫.১
      নির্ভীক আস্তিক

      আমি উত্তরটি আমার বুঝ থেকে দিচ্ছি।  হযরত মুহাম্মদ (সঃ) যখন ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি দিচ্ছিলেন তখন যিনি অপরাধ করেছিলেন তিনি উঠে নিজের দায় স্বীকার করেন তাই সাক্ষীর প্রয়োজন হয়নি। প্রথমক্ষেত্রে অবশ্য তিনি ধর্ষিতার অভিযোগ শুনেই  ধর্ষিতা যাকে সনাক্ত করেছিলেন(ভুল ভাবে) তাকে শাস্তি দিতে চান। এখানে উক্ত নারী যে ধর্ষিত হয়েছিল তা কিভাবে সনাক্ত হয়েছে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। হতে পারে বিশ্বস্ত সত্যবাদী হিসেবে অই নারীর কোন খ্যাতি রয়েছে। ঘটনার পরিসমাপ্তি কিন্তু আমাদের সেই তথ্যই সাক্ষ্য দেয়। ধর্ষণের ক্ষেত্রে সাক্ষি লাগবে কি লাগবেনা তার সরাসরি কোন বাধ্যতামূলক statement আমার জ্ঞান মতে আমরা কোরআন এবং হাদিস থেকে পাই না। সেক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ বিচারকদের সুচিন্তার উপর নির্ভর করছে বলে প্রতীয়মান হয়। এখন চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেকদূর এগিয়েছে। তাই কেউ ধর্ষণ এর অভিযোগ আনলে তাকে ভালভাবে যাচাই করার সুযোগ রয়েছে, যা আগে ছিল না।

      ব্যাভিচার যে নর বাঁ নারী করেছেন তা যদি কারো অগচোরে করে থাকেন যেখানে আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্যকেউ সাক্ষী নেই, সেক্ষেত্রেতো ব্যাপারটি এমনিযে আমরা তা জানিনা এবং আসলে এই ঘটনা ঘটেনিঃ An event doesn't occur if it doesn't have any real spectator। এমন ব্যাভিচারীরা নিজেরাই দায় স্বীকার করলে সেটি ভিন্ন কথা। আপনি যেমনটি বললেন, "সেটা লুকিয়ে করে যাতে কেউ দেখতে পারে না", সেক্ষেত্রে আপনার আমার অজানা হওয়ার মত ব্যাপারটি যদি আমি আপনি প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দাবি করি তবে তা আমাদের প্রমাণ করতে হবে কিভাবে সেটি দৃষ্টিগোচর হল এবং সেটি শুধু আমার আর আপনার কাছেই কিনা?

      1. ৫.১.১
        Monowar Bin Zahid

        @নির্ভীক আস্তিক
        আপনি স্বীয় বুঝ থেকে উত্তর দিলেও আমার মনে হয়েছে যে কথাটা যৌক্তিক। আসলে বিষয়টা এমন হতে পারে যে ঐ নারীর কথার পক্ষে কোনো প্রমাণ তার কাছে ছিলো। তবে এই যুগের মানুষের নেই সাহাবা (রা) দের যুগের মতো সততা। তাই কোনো নারী যদি কোনো পুরুষের উপর ধর্ষনে অভিযোগ করে তবে তার ব্যাপারে কি পরিমান প্রমাণ দরকার তা কাযী (বিচারক) নিণয় করবেন।

      2. ফাতমী

        @Monowar ভাই,

        ব্যাবিচার ও ধর্ষণ দুটি আলাদা অপরাধ। সাধারণত, ব্যাবিচার লুকিয়ে করার অর্থ হল, আপনি ব্যাবিচারকে অন্যায় মনে করেন। এই লুকিয়ে করার জন্য সমাজের সরাসরি ক্ষতি হয় না। কিন্তু প্রকাশ্যে সাক্ষি রেখে ব্যাবিচার করার অর্থ হলঃ আপনি ব্যাবিচারকে অন্যায় মনে করেন না এবং সমাজে এর প্রচারণা করেন। পুরো সমাজ ব্যাবস্থাকে নষ্ট করার ও আইনকে বৃদ্ধাংগুলি দেখানোর সম্মিলিত অপরাধ হল, "চারজন সাক্ষি রেখে ব্যাবিচার করা"। চারজন সাক্ষি রাখার আরেকটা কারন হল, মহিলাদের সম্মান রক্ষ্যা করা, কারণ কতিপয় লোক বিনা প্রমাণে মহিলাদের ব্যাপারে আজব ও অন্যায় মূলক কথা প্রচার করতে ভালবাসে। তারা যাতে এই কাজ না করে, সে জন্যই চারজন সাক্ষির বিধান রাখা হয়েছে।

         

        ধর্ষণে জলুম থাকে, একজন আরেকজনের উপর জুলুম করে। এ জন্য এই অপরাধে একজন মজলুম এবং একজন জালিম। (এই অপরাধ অনেকটা "খুন" এর মত। খুন হলে, একজন সাক্ষির সাক্ষ্যও বিবচনায় আনতে হবে) মজলুম যখন অভিযোগ করে, তখন প্রামণের প্রয়োজন পরে না, মানে অভিযোগ আমলে আনবেন। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যাক্তি আসলেই দোষী কিনা সেটা বের করার জন্য অন্যান্য পদ্ধতি অবলম্বন করবেন। তথাপি, অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ পাওয়া না গেলে কোন প্রকাশ শাস্তি আসবে না। কিন্তু মজলুমের অভিযোগ সত্য বলে ধরা হবে যদিও প্রমাণের অভাবে জালিম শাস্তির বাহিরে থেকে যাবে। মজলুম আগে মিথ্যাবাদী কিংবা সত্যবাদী কোন পড়িচয়ে পড়িচিত সেটা বড় বিবেচ্য বিষয় নয়, তথাপি বার বার একই এঘটনা ঘটতে থাকলে, "মিথ্যা-অপবাদের" বিষয় আমলে এনে নতুন তদন্ত কর যাবে।

         

        তবে, সর্বদাই মজলুমকে রক্ষ্যা করা আইনের মূল কাজ। কারণ শক্তিশালী ব্যাক্তি তার অধিকার নিজ ক্ষমতা বলে আদায় করে নেয়। সব কিছুই, আল্লাহ পাক ভাল জানেন।

  5. Monowar Bin Zahid

    @ফাতমী ভাই
    জাযাকাল্লাহ খাইরান। এখন বিষয়টা অনেকটা বুঝে এসেছে। কেউ কেউ আল ক্বুরআনে থাকা ‘হুর’ শব্দের অর্থ করতে গিয়ে এই বিষয় টাকে গুলিয়ে গুলিয়ে পাক বানিয়ে দেন আর আমিও ঐ পাকে পরে গিয়েছিলাম।

  6. রিজভী আহমেদ খান

    http://www.shodalap.org/rk-rizvi/28593/
    এটা পড়লে পুরো বিষয় ক্লিয়ার হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।