«

»

Oct ২১

কুরআনের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর মিথ্যাচারের জবাব

A person does not stop being knowledgeable as long as he seeks knowledge. The moment he thinks that he is knowledgeable, he becomes ignorant.’  Abdullah Ibn Mubarak অর্থাৎ -একজন লোক ততোক্ষণ পর্যন্ত জ্ঞানী হওয়া থেকে নিবৃত্ব হয় না,যতক্ষণ পর্যন্ত সে জ্ঞান সন্ধান করতে থাকে।যে মুহূর্তে সে নিজেকেই জ্ঞানী মনে করে,তখনই সে হয় অজ্ঞ।

ইংরেজিতে একটি কথা আছে –Many men, many minds.(যত লোক, তত মত।)

আপনি যদি একটি বই দশজন ব্যক্তিকে দেন এবং পড়া শেষ করার পড় যদি বইটির ব্যপারে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে বলেন,তবে সবার কাছ থেকে একই মতামত না পাওয়াটাই স্বাভাবিক।তাদের মধ্যে কার মতামতটা গ্রহন করবেন তা নির্ধারন করার জন্য কয়েকটি বিকল্প থাকতে পারে যেমনঃ

১.যে মতামতটি সংখ্যা গরিষ্ঠের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তাকে গ্রহন করা।

২.বইটির বিষয়ের সাথে অনেকটাই সম্পর্কিত মতামতকে গ্রহন।

কিন্তু একজন বিচারক হিসেবে যে কাজটি করবে তার কিন্তু উক্ত বইটি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞান রাখতে হবে নইলে তার পক্ষে এই কাজটি মোটেই করা সম্ভব হবে না।

সাহিত্য সমালোচক হতে গেলেও সাহিত্য সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হয় অন্যের দ্বাড় করা(Secondary Source)  সমালোচনা পড়ে পড়ে অভ্যস্ত হয়ে সাহিত্য সমালোচক হওয়া যায় না তাহলে কিন্তু স্বয়ং নিজেই সমালোচনার পাত্র হয়ে যাওয়ার সম্ভবনাই বেশি।

যাইহোক, প্রতিটি মানুষেরই মুক্তচিন্তার অধিকার রয়েছে।বিশ্বটাকে তার নিজের মত করে ভেবে একটা সিদ্ধান্তে পৌছানো এবং সেই অনুযায়ী তার বিশ্বাস গড়ে তুলবে তাতে কারো কোন বাধা থাকবে না। কিন্তু যখন মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে মিথ্যাচার করার মাধ্যমে অন্যের পবিত্র এবং প্রমাণিত সত্য বিশ্বাসকে  আঘাত করা হয় তখন তা হয় একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে।

জনাব আকাশ মালিক মুসলিম বিশ্বাসীদেরকে প্রার্থণা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মিথ্যাচার করেছেন।তিনি নামাজে যে ফাতিহা পাঠ করা হয় তাকে কোরানের অংশ নয় বলে দাবী করেছেন।তার বই থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হলঃ

যাহোক,সুরা ফাতিহা পাঠ করলে প্রশ্ন দেখা দেয়,আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত ৬-৭ লাইনের ছোট্ট প্রার্থনাটিতে তিনটি গুণবাচক নাম ‘রহমান’ (পরম করুণাময়), ‘রহিম'(পরম দয়াময়) এবং মালিক (প্রভু) দেখতে পাওয়া যায়৷ সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ  আল্লাহ কি ‘নিজের ঢাক নিজে পেটাতে'(গুণকীর্তন করতে) পারেন তাঁর প্রত্যাদেশে? তারপর ‘আমরা তোমারই উপাসনা করি,তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি…৷এটা কি আল্লাহর বক্তব্য না মানুষের?

আশা করি নিচের কোরানের আয়াতটি পড়ে তিনি এ বিষয়ে আর মিথ্যাচার করবেন নাঃ

وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِّنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ

And indeed, we have bestowed upon you seven of Al-Mathâni (the seven repeatedly recited Verses), (i.e. Sûrat Al-Fâtiha) and the Grand Qur’an.

অর্থ – আমি আপনাকে  বার বার পঠিতব্য সাতটি আয়াত বিশিস্ট (সূরা ফাতিহা) এবং মহান কোরআন দিয়েছি। সূরা হিজর (আয়াত ৮৭)

পাঠল দেখুন যে নিজেকে যখন সর্ব জ্ঞানী হিসেবে জাহির করে তখন যে সে নিজেই অজ্ঞ হিসেবে গণ্য হয় এবং অন্যের সমালোচনা পড়ে পড়ে যখন কেউ সমালোচক হয় তখন যে সে নিজেই সমালোচনার পাত্র হয় আকাশ মালিককে দেখলেই তা পরিষ্কার হয়ে যায়।আবু রুশদ হওয়ার লালসায় তার মিথ্যাচার মনে হয়  অতীতের সকল মিথ্যাবাদিদেরকেও লজ্জায় ফেলে দিয়েছে আর তাই বিপ্লব পালের মত ব্যক্তিও তাকে স্যালুড জানিয়ে পোস্ট দেন আর মুক্তমনারা কিছু হলেই “যে সত্য বলা হয় নি” বইটি পড়ার পরামর্শ দেন।

আসলে তার লেখা পড়লে কোরানের সে আয়াতটিই মনে পড়েঃ

وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ

অর্থ – যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়,আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই,অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী।সূরা যুখরূফ (আয়াত ৩৬)

অন্যভাবে বলা যায়,যে কোরানুল কারীম থেকে অন্ধ হয়ে থাকবে,তার উপর শয়তান কর্তৃত্ব করবে।

১৪ comments

Skip to comment form

  1. 10
    কুফুরি হয়নি শেষ

    সত্য লিখেছেন আপনাকে ১০০০০০০০০ বার, অসংখ্য বার ধন্যবাদ

  2. 9
    সাদাত

    ভালো লিখেছেন, জিয়া ভাইও এ নিয়ে লিখেছেন।
    এই বিষয়টা নিয়ে আমার লিখার ইচ্ছে ছিল। এখন আর দরকার দেখছি না। তবে হেডিংটা এমন হওয়া উচিত যাতে কেউ এই অভিযোগের উত্তর নেটে খুঁজতে চাইলে সহজে খুঁজে পায়, যেমন-
    “সূরা ফাতিহা সংক্রান্ত একটি অমূলক অভিযোগের উত্তর”।

    1. 9.1
      ফোরকান

      @সাদাত: ধন্যবাদ আপনার সুপরামর্শের জন্য।

  3. 8
    শামস

    মানুষের জানা দরকার।

  4. 7
    কিংশুক

    সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। আজকাল দেখা যাচ্ছে, ইসলামবিরোধী বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী চক্রের (এদের বেশীরভাগই পৃথিবী থেকে ইসলামকে দূর করে দিতে বদ্ধপরিকর, কিন্তু নিজেদের ধর্ম, মতের-পথের বিন্দুমাত্র ত্রুটি স্বীকার করেতে রাজি নয়। বলা যায়, স্বার্থান্ধ।) হাইপোথিসিস ধার করে নিজেদের ইসলাম বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাহির করার লোকের অভাব ঘটছেনা। অথচ তাদের করা প্রত্যেকটা অভিযোগ যে, অজ্ঞতা, মিথ্যাচারের উপর প্রতিষ্ঠিত তা খুব ভালোভাবে প্রমান করে দেয়া যায়। গোয়েবলিসীয় কায়দায় এক মিথ্যা বারবার, গায়ের জোরে প্রতিষ্ঠিত করার মিশনে উনারা সবাই তৎপর। যে পরিমান মিথ্যাচার, ঘৃনা তারা ছড়িয়েছে এবং সবাই জোটবদ্ধভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে লেগেছে তারপরও দেখেন ইসলাম কিন্তু মোটেই নত হয়ে মিথ্যায় বিলীন যায়নি। মহা মহা পরাশক্তি যারা পৃথিবীকে হাজার বার ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে, সমস্ত পৃথিবী যাদের হাতের মুঠোয় তাদের সবাইকে ব্যাবহার করেও ইসলামের শত্রুরা ইসলামের কিছুই করতে পারেনি, বরং বিপরীতে হিত হয়ে গেছে। তারা পূর্বের তুলনায় অনেক দূর্বল হয়েছে, অন্যদিকে ইসলাম আগের চাইতে ভালো অবস্থানে চলে গিয়েছে। যাই হোক, তাদের অপততপরতা, মিথ্যাচার থেকে আমাদের নিজেদের সতর্ক থাকতে হবে। আপনার প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ।

    1. 7.1
      ফোরকান

      @কিংশুক: এই ধরুন সূরা ফাতিহা নিয়ে যে প্রকাশ্য মিথ্যাচার করা হয়েছে তা প্রমাণসহ তাদের কাছে এর সত্যতা হাতে ধরিয়ে দেয়া সত্বেও কিন্তু তারা মেনে নেবে না।বরং নির্লজ্জের মত নিজেদের পোস্টে তা প্রদর্শন করতে থাকবে. লক্ষ্য হচ্ছে কোন ধর্মজ্ঞানশুন্য শিকার পাওয়া যায় কিনা?

      আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

  5. 6
    ফোরকান

    “সাহিত্য সমালোচক হতে গেলেও সাহিত্য সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হয় অন্যের ধার করা (Secondary Source) সমালোচনা পড়ে পড়ে অভ্যস্ত হয়ে সাহিত্য সমালোচক হওয়া যায় না তাহলে কিন্তু স্বয়ং নিজেই সমালোচনার পাত্র হয়ে যাওয়ার সম্ভবনাই বেশি।”

    আমার এই লেখার মাধ্যমেইতো বলেছি অন্যের ধার করা সমালোচনা পড়ে তারা ইসলামের সমালোচক হয়েছেন।

  6. 5
    এস. এম. রায়হান

    দাঁড়ি ও কমা’র পর কোন গ্যাপ দিচ্ছেন না কেন। আগের পোস্টে আমার একটি লেখা মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য বলেছিলাম-

    http://www.shodalap.org/?p=4902

  7. 4
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আকাশ মালিক মুসলিম বিশ্বাসীদেরকে প্রার্থণা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মিথ্যাচার করেছেন।তিনি নামাজে যে ফাতিহা পাঠ করা হয় তাকে কোরানের অংশ নয় বলে দাবী করেছেন।

    -- এইটা আকাশ মালিকের আবিষ্কার না। প্রথম এই মতবাদ প্রচার শুরু করেছে অভিজিত রায়।

    অন্য ব্লগে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম -- পড়তে পারেন।

    http://www.amarblog.com/eskimo/posts/130958

    1. 4.1
      এস. এম. রায়হান

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:

      প্রথম এই মতবাদ প্রচার শুরু করেছে অভিজিত রায়।

      এটা কিন্তু তারও আবিষ্কার না। খ্রীষ্টান মিশনারীরা অনেক আগে থেকেই এগুলো প্রচার করে আসছে।

      1. 4.1.1
        সরোয়ার

        @এস. এম. রায়হান:

        হাটে হাড়ি ভেংগে দিলেন মশাই!

  8. 3
    আব্দুস সামাদ

    চোরা না শৌনে ধর্মের কাহিনী। ওদের কথা বললে ওরা ভাবে তাদের প্রচার হচ্ছে। অতএব ঐ চ্যাপ্টার বন্ধ করুন। ধন্যবাদ।

  9. 2
    সত্তুক

    সুরা ফাতিহা
    بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِِ
    পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু
    আয়াত নং ১
    الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
    সমস্ত প্রসংশা একমাত্র আল্লাহ তা’য়ালার জন্য ।

    আয়াত নং ২
    الرَّحْمـنِ الرَّحِيمِ
    যিনি পরম করুনাময় ও অশেষ দয়ালু।

    আয়াত নং ৩
    مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
    যিনি বিচার দিনের মালিক।

    আয়াত নং ৪
    إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
    আমরা তোমারই এবাদত করি এবং তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

    আয়াত নং ৫
    اهدِنَـا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ
    তুমি আমাদের সরল এ সহজ পথ দেখাও।

    আয়াত নং ৬
    صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ
    তাদের পথ যাদের তুমি অনুগ্রহ দান করেছ ।

    আয়াত নং ৭
    غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلا الضَّالِّينَ َ
    তাদের পথ নয়,(যারা) অভিশপ্ত এ পথহারা হয়েছে।

    “ফাতিহা” শব্দটি আরবী, বাংলা পরিভাষায় এটি “ভূমিকার” অর্থ প্রকাশ করে। নির্ভরযোগ্য হাদীসের ভাষ্যে জানা যায় যে, সর্ব প্রথম পূর্ণাঙ্গ সুরা হিসেবে এ সুরাই নাযিল হয়। মুলতঃ এ সুরা একটি প্রার্থনা। কোরআনের প্রথমে এ সুরাকে স্থান দিয়ে এ শিক্ষাই দেয়া হয়েছে যে, এ গ্রন্থ হতে উপকৃত হতে হলে প্রথমে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতে হয়। বস্তুত এ সুরা মানুষের পক্ষ থেকে একটি প্রার্থনা বিশেষ আর পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান আল-কোরআন হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ হতে এই প্রার্থনার জবাব।

    কোরানের আয়াতটি পড়ে তিনি এ বিষয়ে আর মিথ্যাচার করবেন নাঃ
    وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِّنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ
    আমি আপনাকে বার বার পঠিতব্য সাতটি আয়াত বিশিস্ট (সূরা ফাতিহা) এবং মহান কোরআন দিয়েছি।( সূরা হিজর -আয়াতঃ ৮৭)

    আশা করা যায় এখন আকাশ মিয়ার সাথে সাথে অন্য মিয়ারাও আর এই ব্যপারটা নিয়া দ্বিধা-দ্বন্দে পরবে না।

    ধন্যবাদ সুন্দর পোস্ট এর জন্য।

  10. 1
    বুড়ো শালিক

    ভালো লাগলো। তবে আসলে এই লোক পুরাই গনকেইস! তাই তার জন্য নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করার কোন মানে দেখি না।

Leave a Reply