«

»

ফেব্রু. ২৮

পলিটিক্স, ফুটবল ও চাটুকারিতা

[Repeat post]

রাজনীতি ও ফুটবল –এই দুটি অঙ্গনের অনুসারি ও দর্শকদের মধ্যে  অনেক সামঞ্জস্য দেখা যায়। আবার এই দু’য়ের সাথে কিছু ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যও মিতালি রাখে। ইউরোপীয়ান সমাজ বিজ্ঞানীদের অনেকেই ফুটবল-খেলা ও এতে ভক্তের চরম আত্মনিয়োগকে ধর্মীয় মাত্রায় তুলনা করে থাকেন।

প্রথমে, ফুটবল ও রাজনীতি -এই দুই অঙ্গনের সমর্থক ও ভক্তদেরে নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। দ্বিতীয়টিকে খেলা না বলে ‘ফুটবল লীগ’ বলে উল্লেখ করা যাক। আপনি দেখে থাকবেন, অনেক 'বল-লীগের' সমর্থক আজীবন তাদের লীগকে (টিমকে) সমর্থন দিয়ে যায়। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, কেন? কেন একটি দলকে, মাঝে মধ্যে তাদের কার্য, সম্পাদনা ও উদ্দেশ্যের মূল্যায়ন ব্যতীরেকে, আজীবন সমর্থন দিতে হবে? আমি বলব, এখানে ‘কেন প্রশ্নের’ কোনো যুক্তি নেই। এমন যুক্তি উত্থাপনে লাভও নেই। এমনটি না করে বরং মানবের স্বভাব ও তার সামাজিক বিষয়টিকে প্রধান করে দেখুন। বলার দরকার হবে না যে মানুষ সামাজিক জীব। এ ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের দল,গোষ্ঠী ও সমাজবদ্ধ হওয়াতে যে যুক্তিহীন ভাব ও আবেগ থাকে প্রকৃতিগতভাবে খেলার বেলায়ও সেই বৈশিষ্ট্যই প্রকাশ পায়। তাই এভাবেই, যারা ফুটবল খেলা দেখতে মাঠে যান অথবা যারা টিভির সামনে বসেন, তারা সেই দল/গোষ্ঠী ভিত্তিক আবেগ প্রবণতায় নিজেদের পক্ষকে সমর্থন করেন এবং এতে করে নিজেদের টিমের বাকী সমর্থকদের সাথে একাত্মতাবোধ করেন। তারা জিতলে, পরাজিত দলের মোকাবেলায়, বিজয়ের আবেগ অনুভব করেন। খেলার মূহুর্ত্তে তাদের দল যতই খারাপ খেলুক না কেন, কখনও সমর্থন পালটিয়ে প্রতিপক্ষকে সমর্থন দিতে যাবেন না, প্রতিপক্ষ  যত ভালই খেলুক না কেন। তবে এভাবে কেন হবে, এর কারণ কি? কেন মাঠে যারা ভাল খেলছে তাদেরকে সমর্থন দেওয়া হবে না? এর উত্তরও আমাদের মানব স্বভাবে, আমাদের সমাজবদ্ধতায়, আমাদের গোত্রীয় মৈত্রীতে ও দলীয় পরিচিতিতে।

খেলার এই তুলনাতেই দেখতে পাবেন আমাদের দেশের রাজনৈতিক অবস্থা। যারা যে দল করেন, তাদের দল ময়দানে যতই খারাপ খেলুক না কেন, তাদের দলকে সর্বদাই সমর্থন দিয়ে যান। দলের নেতা নেত্রীরা চুরি-ডাকাতি করলেও, জাতীয় সম্পদের হরিলুট করলেও তাদের এই বিশ্বাস মনের গহীনে বলবৎ থাকে  যে তৃণমুল থেকে তাদের চাটুকার সমর্থকরা কোনো না কোনো উপায়ে তাদের কাজকে জাস্টিফাই করার কিছু একটা পাবে, দলের প্রতি সমর্থন হারাবে না।

এই যে প্রকৃতি –এর আলোকে একটি কথা নিশ্চিত করে বলা যায়। তাহল, কোনো একটি দল, সেটি যে দলই হোক, এই দলের মোকাবেলায় কিছু বিরূপ প্রোপাগান্ডা করলেই অথবা তাদেরকে শক্ত কথা শুনিয়ে দিলেই তারা নিজ দল ছেড়ে অন্যের দলে ভীড় জমাতে যাবে না। অন্য কারো দলীয় ধারণায় অনুপ্রাণিত হবে না। কক্ষনো না। তবে মতের পরিবর্তন যে একেবারে হয় না তাও নয়। কিন্তু সে পরিবর্তন আসে অত্যন্ত সুপ্তভাবে, যুক্তি-তর্কে পরাজিত হয়ে নয়। (আবার স্বার্থের কারণটাও বিবেচনায় আনা যেতে পারে, যুক্তি গঙ্গায় যাক, তবে প্রাক্তন চোর-ডাকু-সন্ত্রাসীরা তাদের দলের সমর্থন চির দিন দিয়ে যেতেই অনেকটা বাধ্য -এর কারণ অন্যত্র)।

ফুটবলের সাথে আরেকটি তুলনা হাজির করি। আমাদের সমাজে,  না বরং সকল সমাজের কথাই বলুন, সেখানে সেলেব্রিটি নামক কিছু প্রাণী থাকেন। তারা যেমন থাকেন সংস্কৃতির অঙ্গনে তেমনি রাজনৈতিক ও অন্যান্য অঙ্গনে। সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তির সাথে কথা বলতে, বরং বলুন সেলেব্রটির সাথে কথা বলতে, তাদের সাথে ফটো তুলতে, তাদের প্রশংসা করতে আমাদের মানসিকতায় এক ধরনের স্ফীতি কাজ করতে দেখা যায়। এতে আত্মকেন্দ্রিক ‘কিছু একটা’ প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ ‘আমি’ ঐ ব্যক্তি যে ব্যক্তি অমুক সেলেব্রিটিকে চিনি। এখানে আত্মার সুগভীরে যা লুকিয়ে থাকে তা হল ‘আমিত্ব’।

তাছাড়া কোন একটা বিশেষ দলের হয়ে মিটিং-মাটিং করতেও সেই ‘আমিত্ব’ অতি সহজে ধরা দেয়। ধরুন আমি একটি সভার আহবান করলাম। তারপর এর প্রচারণার কাজ শুরু করলাম। তারপর, বিজ্ঞাপনী লিফলেটে অথবা অন্য মিডিয়ায় প্রথমেই আমার নাম (কখনও ফটোসহ) বিষয়টি মনে রাখুন। তারপর আসল দিনটিতে যখন সভার কাজ শুরু হবে তখন ‘আমি’ হয়ত টেবিলের সামনের কাতারের প্রথম সারিতে একটি প্রধান আসন গ্রহণ করে আছি।  তারপর এক সময় ‘আমার পরিচিতি'সহ নাম ঘোষণার পর ‘আমি’ যখন বক্তৃতা দিতে শুরু করব,তখন মাশাল্লাহ ‘আমার আমিত্ব’ যেন ষোল কলায় পরিণত! তবে এতকিছুর সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদায় থেকে গেলেও ‘আমিত্বের’ তেমন কোনো কমতি নেই। আমি যদি সভাপতির পাশে বসার সৌভাগ্য অর্জন করি তাহলেও দ্বিতীয় শ্রেণীর ‘আমিত্বানুভূতি’ মোটামুটি লাভবান হয়ে যায়।

আগেই বলেছি আমরা সামাজিক জীব এবং সামাজিকতাতেই আমাদের সত্তার এক বৈশিষ্ট্য রূপায়িত হয়। আমরা আনন্দ পাই। কেউ একটা সভা-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমাদেরকে দাওয়াত দিলে আমরা কী করি? আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে, সুন্দর কাপড়-চোপড় পরে, সেজে গুজে, সেখানে গিয়ে হাজির হই। আনন্দ লাভ করি। সেখানে অনেকের বক্তৃতা দারুণ বিরক্তিকর হলেও শেষ বেলায় ভূয়সী প্রশংসা করতেও কুণ্ঠিত হই না। এগুলোর সবই সামাজিক, ভদ্রতা ও শিষ্টাচারিতার অংশ।

এই প্রসঙ্গে ব্যক্তি পূজার কথা বাদ দেয়া যায় না। ব্যক্তিপূজা মানবসত্তার রন্ধ্র ভেদ করে আছে। যেমন ফুটবলে,তেমন ধর্মে আবার সেই একই রূপ রাজনীতিতে – সর্বত্রই যেন বিস্তার করে আছে এই ‘মহান সত্তা’। মনে রাখতে হবে, পূজারীর কাছে পূজিত ব্যক্তির কোন দোষই দোষ হয় না। কোন দোষ প্রকাশিত হয়ে পড়লেও পূজারী সেই দোষকে পুষিয়ে নেয়ার মত যুক্তি খুঁজে পাবে। তাই অমুক দলের নেতা, তমুক দলের নেতা ও চেলা-চামুণ্ডাদের বিপক্ষে হাজারও কিছু প্রকাশিত হলেও পূজারীর বিশ্বাসে কোন ভাঁটা পড়বে না। আর দলীয় চাটুকার? আহা, সে যে কী সত্তা! যে জ্ঞান তার নেই, যে যুক্তির মূল ধারা সে বুঝে নি, সেই জ্ঞান, সেই যুক্তির অবতারণা করে যখন নিজেদের দলীয় মহাত্ত্ব/তাৎপর্য আর প্রতিপক্ষের কদর্য/ব্যর্থ-চিত্রের গুঞ্জরন তুলে তখন তার আপন সত্তা যেন বিমূর্ত হয়ে ওঠে, না বরং বলুন উলঙ্গ হয়ে পড়ে। এক চাটুকারের দল ধীরে ধীরে বৃদ্ধ হয়ে নিঃশেষ হয় বটে কিন্তু তাতে কি চাটুকারিতা জাতীয় পরিমণ্ডল থেকে উধাও হয়ে যায়? মোটেই না। আস্তে আস্তে তাদের স্থান দখল করে নেয় আরেক নব্য চাটুকারের দল। আর এভাবেই কালান্তরিত হয় একটি অতি মূল্যবান জাতীয় বৈশিষ্ট্য -চাটুকারিতা। এটা চলে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে।

রাজনীতিতে নিজ দলের দোষ খুবই কম থাকে। পূজারীরা প্রতিপক্ষের সকল দোষ গাট্টি বেঁধে নিজ আঙ্গিনায় সংরক্ষণ করেন। সামাজিকভাবে দেখাসাক্ষাৎ হলে এগুলো কোরান হাদিসের মত একে অন্যের সাথে আওড়িয়ে যান। প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাসী এই দলীয় ভক্তরা, বলুন ভণ্ডরা, যখন নিজেদের দলের মহিমা কীর্তন করেন এবং তাতে মানব সত্তার যে দুর্বল বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তা দেখে অনেক সময় আশ্চর্য হতে হয়।  যে একটি প্রোপাগাণ্ডা যার সত্য-মিথ্যা জানার কোন কুদরত সর্বোসাধারণের নেই, সেই বিষয়টি নিয়ে দারুণ প্রত্যয়ে যখন কেউ কথা বলে বেড়ায় বা লিখে যেতে থাকে,তখন আমাদেরকে কী বুঝতে হয়? বুঝতে হয় আমাদের সার্বিক মানবিক দুর্বলতার কথা। আমরা মানুষ। বিশ্বাস দিয়েই আমাদের মনের খেলা-নেলা,  সেটা সত্য হোক অথবা মিথ্যা। মৌলবাদী অনেক নাস্তিক বিশ্বাসের স্থান কেবল ধর্মেই মনে করে থাকেন, অথচ বিশ্বাস জোড়ে আছে আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্র। এন্ত্রোপলজিকেলি, আমরা সামাজিক ও বিশ্বাসী প্রাণী।

৮ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. এম_আহমদ

    এ লেখাটি, ২০১০ সালে অন্যত্র প্রকাশ করেছিলাম।

  2. আবদুস সামাদ

     আপনার আলোচনা ও তুলনা বেশ ভালই লাগল। আরও একটা মিলের কথা বলাযেতে পারে, ফুট বল আর রাজ নীতি তে। ফুটবলের দর্শক যেমন দল বদল করেনা, রাজনীতির সাধারণ সাপোর্টার রাও অনেকাংশে তেমনই তার দলকেই অন্ধ ভাবে সা পোর্ট  করেই যায়। কিন্তু খেলোয়াড় বা রাজ নীতির খেলোয়াড় গন স্বার্থে আঘাত লাগলে বা বেশী সুযোগ পেলে সহজেই দল বদল করে ফেলে। এক্ষেত্রেও দুটাতে মিল আছে। ধন্যবাদ।

  3. এম_আহমদ

    ফুটবলের দর্শক যেমন দল বদল করেনা, রাজনীতির সাধারণ সাপোর্টার রাও অনেকাংশে তেমনই তার দলকেই অন্ধ ভাবে সা পোর্ট  করেই যায়। কিন্তু খেলোয়াড় বা রাজ নীতির খেলোয়াড় গণ স্বার্থে আঘাত লাগলে বা বেশী সুযোগ পেলে সহজেই দল বদল করে ফেলে। এক্ষেত্রেও দুটাতে মিল আছে। ধন্যবাদ।

      হ্যাঁ ভাই আসল ব্যাপারটা ধরে ফেলছেন। 

  4. শামস

    ভাল লিখেছেন, তবে আপনি যে চিত্র তুলে ধরেছেন তা আংশিকভাবে ঠিক আছে। ফুটবল দলকে সাপোর্ট করার জন্য আদর্শ কাজ করে না, কিন্তু রাজনৈতিক দলের জন্য তা করে, তা সে যেই দলই হোক। তবে পুজিবাদী/ভোগবাদী সমাজে মানুষের আদর্শ যেমন ম্রিয়মাণ তেমনি ম্রিয়মান রাজনৈতিক দলের আদর্শও। তাই হয়ত সবকিছুকে একরকম লাগছে।
    ধন্যবাদ।
     

    1. ৪.১
      এম_আহমদ

      @শামস ফুটবল (বা সকার) খেলার পরিমণ্ডলে যে মাত্রায় দলীয় সম্পৃক্ততা, দলীয় বিভক্তি, দলীয় পক্ষে আত্মনিয়োগ, টাকা খরচ, নিজ দলের সমর্থনের জন্য নিজ ব্যয়ে দলের হয়ে অন্যান্য দেশে গমনাগমন, দলের সাথে identity খুঁজা এবং হার-জিতে চরম আবেগ অনুভব করা, প্রয়োজনে (?) প্রতিপক্ষের সাথে মারা-মারি/হাতা-হাতি করা ইত্যাদিতে সমাজ বিজ্ঞানীরা ধর্মীয় ঐকান্তিকতার ও অপরাপর কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে থাকেন। এখানে ভক্তরা আদর্শের পরিবর্তে ‘মূল্যবোধের’ কারণে তাড়িত, যে মূল্যবোধ খেলার জগতে, দলীয় ভক্তিতে নিহিত। ‘আমি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থক’ ‘আমি আর্সন্যালের সমর্থক’, ‘আমি লিভারপুল সমর্থক’ –এসব কথাতে এক ধরনের মূল্যবোধ কাজ করে যা বুঝতে দলীয় গভীরে যেতে হয়, না হলে অনুভবই করা যায় না। Soccer and identity, soccer and violence, soccer and culture ইত্যাদি গবেষণায় ধর্মীয় দিগন্তও দেখা যায়। এই বাস্তবতার কথাটি প্রথমেই উল্লেখ করেছি। তবে এই লেখাটির প্রকৃতি অত্যন্ত হাল্কা, এর সব কথা যে বাস্তবতার সাথে একদম মিল খাবে, এমনটি নয়।

  5. এম_আহমদ

    অনেক আগের এই লেখাটির সাথে একটি ভিডিও সংযোগ করতে যাচ্ছি এবং দুটি প্যারাগ্রাফটি আবার হাইলাইট করছি।

    এই প্রসঙ্গে ব্যক্তি পূজার কথা বাদ দেয়া যায় না। ব্যক্তিপূজা মানবসত্তার রন্ধ্র ভেদ করে আছে। যেমন ফুটবলে,তেমন ধর্মে আবার সেই একই রূপ রাজনীতিতে – সর্বত্রই যেন জুড়ে আছে এই ‘মহান সত্তা’। মনে রাখতে হবে, পূজারীর কাছে কোন দোষই দোষ নয়। কোন দোষ প্রকাশিত হয়ে পড়লেও পূজারী সেই দোষকে পুষিয়ে নেয়ার মত যুক্তি খুঁজে পাবে। তাই অমুক দলের নেতা, তমুক দলের নেতা ও চেলা-চামুণ্ডাদের বিপক্ষে হাজারও কিছু প্রকাশিত হলেও পূজারীর বিশ্বাসে কোন ভাঁটা পড়বেনা। আর দলীয় চাটুকার? আহা, সে যে কী সত্তা! যে জ্ঞান তার নেই, যে যুক্তির মূল ধারা সে বুঝেনি, সেই জ্ঞান, সেই যুক্তির অবতারণা করে যখন নিজেদের মহাত্ত্ব/তাৎপর্য আর প্রতিপক্ষের কদর্য/ব্যর্থ চিত্রের গুঞ্জরন তুলে তখন তার আপন সত্তা যেন বিমূর্ত হয়ে ওঠে, না বরং বলুন উলঙ্গ হয়ে পড়ে। এক চাটুকারের দল ধীরে ধীরে বৃদ্ধ হয়ে নিঃশেষ হয় বটে কিন্তু তাতে কি চাটুকারিতা জাতীয় পরিমণ্ডল থেকে উধাও হয়ে যায়? মোটেই না। আস্তে আস্তে তাদের স্থান দখল করে নেয় আরেক নব্য চাটুকারের দল। আর এভাবেই কালান্তরিত হয় অতি মূল্যবান এই জাতীয় বৈশিষ্ট্য, এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে।

    রাজনীতিতে নিজ দলের দোষ খুবই কম থাকে। পূজারীরা সংবাদ মিডিয়া থেকে কেবলমাত্র নিজ পক্ষের সংবাদাদি স্মৃতির আঙ্গিনায় সংরক্ষণ করেন। সামাজিকভাবে দেখাসাক্ষাৎ হলে এগুলো কোরান হাদিসের মত একে অন্যের সাথে আওড়িয়ে যান। প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাসী এই দলীয় ভক্তরা, বলুন ভণ্ডরা, যখন নিজেদের দলের মহিমা কীর্তন করেন এবং তাতে মানব সত্তার যে দুর্বল বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ লাভ করে তা দেখে অনেক সময় আশ্চর্য হতে হয়।  যে একটি সংবাদ সত্য না মিথ্যা -তা জানার কোন কুদরত সর্বোসাধারণের নেই, সে সংবাদটি নিয়ে দারুণ প্রত্যয়ে যখন কেউ কথা বলে বেড়ায় বা লিখে যেতে থাকে,তখন আমাদেরকে কী বুঝতে হয়? বুঝতে হয় আমাদের সার্বিক মানবিক দুর্বলতার কথা। আমরা মানুষ। বিশ্বাস দিয়েই আমাদের মনের খেলা-নেলা -সে সত্য হোক অথবা মিথ্যা। মৌলবাদী অনেক নাস্তিক বিশ্বাসের স্থান কেবল ধর্মেই মনে করে থাকেন, অথচ বিশ্বাস জোড়ে আছে আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্র। এন্ত্রোপলজিকেলি, আমরা সামাজিক ও বিশ্বাসী প্রাণী।

    ইদানীং [২০১০], বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে কিছু ইস্যু উত্তপ্ত করে দিয়েছে। এসব বিষয়ে বেশি কথা না বলে, মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকলে সহজেই দেখতে পাওয়া যাবে ফুটবল, রাজনীতি ও ধর্মে কোন ধরনের বিশ্বাস ও বৈশিষ্ট্য মানুষকে আবেগের রঙে অনুপ্রাণিত করতে পারে, মানুষকে কীভাবে এমনসব বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করতে নির্দ্বিধায় উদ্বুদ্ধ করতে পারে যে সম্পর্কে অনেক সময় তার ক্ষীণতম জ্ঞান থাকে না।

    এবারে ভিডিওটি Mind Control – Television, Sports, News Media Are Used To Manipulate & Control You!

  6. সত্য সন্ধানী

     আহমদ ভাই সালাম, পড়লাম আপনার আরেক পোষ্টের দেয়া লিংক ফলো করে আপনার এই চমৎকার লেখাটা। খুব সুন্দর মুল্যায়ন করেছেন, আসলেই দেশে রাজনীতি হয়ে গেছে ফুটবল লীগের মত।

    আবার বিশ্বকাপ ফুটবলে এই দেশের মানুষের সমর্থন দেখেন, ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা নিয়ে যেসব কাহীনি হয়, রাজনৈতিক দল গুলি নিয়েও একই জিনিস হয়। এমন কি কোন লীগের সমর্থক লগ তথা শেখ পরিবারর চুল পরিমান বিরোধিতা করলেও রাজাকার বা দালাল ট্যাগ খেয়ে যাচ্ছে আজকাল।

    আবার এদের বিপক্ষ দলগুলোর সমর্থক রাও একই ভাবে নাস্তিক বা কাফের ট্যাগ দিয়ে যাচ্ছে নিজের দলের সমর্থকদেরই যদি কেউ বিপক্ষের সামান্য প্রশংসা করছে। 

    আপনার সেই লেখায় যেটা বলতে চেয়েছিলাম, এখানে একটু বলি।জানি না আমার চিন্তাধারা কতটা সঠিক, তবে আমার মনে হয়েছে কোন সরকারই বিজাতীয় টিভি চ্যানেল গুলিকে বন্ধ করার বা লাগাম টেনে ধরার তেমন চেষ্টা করেনি।

    এই সরকারের সময় এসব বেশি হচ্ছে এটা মনে হয় সময়ের সাথে সাথে বিজাতীয় ঝোক বেড়ে যাচ্ছে এইটাই কারন। দেখা যাক অপেক্ষা করে যে ভবিষতে সরকার পরিনর্তন হলে তারা এইসব অপসংস্কৃতিকে লাগাম দিতে পারে কিনা।

    যদি সেটা না পারে তবে সেটা হবে বড় দুঃসংবাদ।

     

    তবে রাজনীতির বর্তমান অবস্থায় যে দেশে ধীরে ধীরে একটা কাল্ট আসন গেড়ে বসছে এইটা আমাকে খুব বিরক্ত করেছে।

    শেখ মুজিবর রহমান কে বাংলাদেশের জর্জ ওয়াশিংটনের মত ফাউন্ডিং ফাদার বলা যায় হয়ত, কেউ কেউ এর পক্ষে থাকবেন কেউ কেউ বিপক্ষে।

    কিন্তু কোন যুক্তিতে কিসের প্রেক্ষিতে মুজিবের পত্নীকে বংগ মাতা বলা হচ্ছে? এই ইতরামী চালু হয়েছে সম্ভবত বছর দুয়েক আগ থেকে।লক্ষ করুন এখানে বলা হচ্ছে যে মুজিব পত্নী সেই সময় স্বামী কে সব ধরনের সহায়তা করে গেছেন, তাঁর ত্যাগ তিতিক্ষা নাকি শেখা সাহেবের সব সাফল্যের উৎস ছিল! সাথে এমন আরো কিছু হাস্যকর যুক্তি দেয়া হচ্ছে তার কোন আগামাথা নেই।

    মুজিব পত্নী কোনভাবেই কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না বলেই জানি। তাঁর ত্যাগ তিতিক্ষার যে গল্প শোনানো হয় তা বেশিরভাগ বাঙালী  স্ত্রীরাই ( যদি না বখে যাওয়া হাই সোসাইটির কেউ হয়) সেরকম বা তার চেয়ে বেশি ত্যাগস্বীকার করে থাকেন।

    কাজেই মুজিব পত্নি এর চেয়ে বেশি কিছু করেন নি,আর যেটা করেছেন সব স্বামীর জন্য।

    সেখানে কিসের ভিত্তিতে বঙ্গমাতা বলা হচ্ছে? শুধুই কি স্ত্রী লিঙ্গ করা হল পিতার পত্নি হিসাবে?

    এই কাল্ট আজ বেশ শক্ত। সেক্ষেত্রে কেন শেখ সাহেবের বাবা মা জাতির দাদা, দাদী হবেন না? তারা জন্ম না দিলে,ভালমত মানুষ না করলে তো তিনি সেই অবস্থায় যেতেন না! 

    আমি ভাই এইযে বঙ্গমাতা কাল্টে খাঁটি পৌত্তলিকতার গন্ধ পাচ্ছি,মুর্তিপুজার গন্ধ পাচ্ছি। জানি না এই মন্তব্য করার জন্য আবার কি কি ট্যাগ লাগে। মনে হয় না আর এসব নিয়ে তেমন আলোচনা করার মানসিকতা থাকবে,কারন আমি সাহসী মানুষ না।আজ বললাম কারন আপনার সেই লেখাটায় ভাষা নিয়ে আলোনার সময় এটা উঠে এসেছে।  নিজের ভাল টা আমাকে বুঝে চলা লাগে।আসলে আমরা সবাই মনে হয় মজলুম।

  7. মোঃ তাজুল ইসলাম

    আহমেদ ভাই, আসসালামু আলাইকুম।
    আপনার এই লিখাটি একটি দিয়াশলাই-র কাঠি। স্বাভাবিক চিন্তায়, দিয়াশলাই-র কাঠির কোন মুল্য নেই, কিন্তু শুধু এই একটি কাঠি একটা শহরকে জ্বালিয়ে শেষ করে দিতে পারে। একটা দিয়াশলাই-র কাঠি একটা নগর ধ্বংস সহ, হাজার-লক্ষ প্রাণহানি ঘটাইতে পারে।

    আপনার লিখাটি পক্ষপাতিত্বের স্বরুপ ফুটিয়ে তুলেছেন। ২-টি বিশ্বযুদ্ধ দেখেছি, পক্ষপাতিত্বের কারনে, গোটা পৃথিবীটাই ধ্বংস হয়েছে। ২/৪/৫-টা মানুষের কামনার কাছে পুরা দুনিয়াটাই তছনছ হয়ে গেছে। মজার ব্যপার হল, আমার এক পরিচিত বর্তমান সরকারের দল সাপোর্ট করে। ছোট বেলা থেকেই দেশ-পিতার অন্ধ ভক্ত। দেশ-পিতার দল করে নিজের অনেক জীবনের অনেক কিছুই হারিয়েছেন। একই দলের উপরের মানুষদের সাথে বিরোধ-কোন্দল হওয়ায়, অনেক বছর জেলে ছিল, দল থেকে বহিষ্কার করল, এত কিছুর পরও দেশ-পিতার দল-কে এখনও আকড়ে ধরে আছে, দেশ-পিতা সম্পর্কে কিছু নিগেটিভ বললে, পারলে দাও-কুড়াল নিয়ে ঝাপিয়ে পরে। তার ব্যক্তি জীবন, সংসার জীবন নষ্ট হয়ে গেছে।

    “মিন সাররিল ওয়াস-ওয়াসিল খান্নাছ”—, পক্ষপাতিত্ব আবেগীর সাথে শয়তানের খেলা অবশ্যই মিশে আছে। শয়তান তাদের কাজকর্ম তাদের কাছে আর্কষন করে তুলে। নয়ত এত উম্মাদ হওয়ার কথা না।

    ধন্যবাদ মুল্যবান লিখাটির জন্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।