«

»

নভে. ০৭

আত্মহত্যা ও বিশ্বাস

ভূমিকা

কোনো মানুষ কেবল তখনই আত্মহত্যা করতে উদ্যোত হতে পারে যখন তার নিরাশা অত্যন্ত চরমে পৌঁছে; যখন আশার কোনো আলো তার হৃদয়ে অনুভূত হয় না; যখন তার অস্তিত্ব ও সত্তার কোন মূল্যবোধ অবশিষ্ট রয়েছে বলে অনুভূত হয়না; অর্থাৎ যেসব ‘মূল্যের’ ভিত্তিতে সে এতদিন অস্তিত্বে ছিল এবং যেসব ‘মূল্য-বোধের’সাথে তার সত্তার পরিচিতি ছিল, সেই মূল্যে-নির্ধারিত ‘পরিচিতি’এখন নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে; এখন তার বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই।

এই ছোট্ট প্রবন্ধে ব্যক্তির প্রকৃতিজাত-স্পৃহা ও সামাজিক মূল্যবোধের মধ্যে যে পার্থক্য থাকে, সেই পার্থক্য এবং আল্লাহতে বিশ্বাসের অভাবে মানুষ কেন আত্মহত্যার কিনারায় উপনীত হতে পারে -তা নিয়ে আলোচনা করব।

প্রথমেই বলে রাখি ‘আশা’ হচ্ছে ঈমানের এক প্রধান অংশ (আল্লাহর অনুগ্রহের আশা, তাঁর উদ্ধারের আশা)। আল্লাহ বলেন, ‘হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না’ (৩৯:৫৩)। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না’ (৪:২৯)। যখন কেউ আত্মহত্যা করে তখন সে ঈমানের পরিধীর বাইরে গিয়েই করে, অর্থাৎ সে ঈমানশুন্য হয়ে পড়ে। আত্মহত্যাকারী এক ব্যক্তির জানাযা নবী (সা.) পড়েন নি। এতেই ঈমানের সাথে বিষয়টির সম্পর্ক স্পষ্ট হয়। তবে জানাযা করার ফতোয়াও আছে।   

বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও পরিচিতি

বিশ্বাস  হচ্ছে মানুষকে হতাশা ও নিরাশা থেকে বাঁচানোর এক অতি মূল্যবান উপাদান। মানুষ সামাজিক জীব এবং সমাজবদ্ধ জীবনে তার কিছু পরিচিতি আসে। সমাজ কিছু মূল্যবোধের উপর গঠিত হয় এবং প্রত্যেক ব্যক্তি শৈশব থেকে সেই মূল্যবোধে প্রবেশ করতে থাকে। ভাষাই এর প্রধান বাহন। এই মাধ্যমে সম্ভবত আড়াই থেকে সাড়ে তিন বৎসর বয়সেই তার ‘আমিত্ব’ (I-ness), অর্থাৎ তার নিজেকে আলাদা-সত্তা অনুভব করতে শুরু করে। সে নিজ নামে অন্যদের থেকে আলাদা –এই বুঝ পেতে থাকে। কিন্তু এই আমিত্বটাও বহুলাংশে সামাজিক (সেটা দীর্ঘ আলোচনা বিধায় আপাতত এক পাশে রাখা যাক)। সামাজিক সিস্টেমে পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রবেশের সাথে সাথে সে সামাজিক মূল্যবোধকে আত্মস্থ করে।       

বয়সের সাথে সাথে ব্যক্তির অস্তিত্বের অনুভূতি ও তার সামাজিক মূল্যবোধের অনুভূতি নিবিড় হতে থাকে। এই মূল্যবোধের ভিত্তিতে তার নৈতিক-জীবন গড়ে তুলে। এর মধ্যে নিহিত যে আদর্শ সে তা তারই আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে (বিশেষ করে যে সামাজিক গ্রুপে সে থাকে সেই গ্রুপের আদর্শে); এবং এরই সাথে নিজের আত্মপলব্ধির সচেতনতা অনুভব করে; তার পরিচিত ব্যক্তিবর্গ তাকে  সেই সংশ্লিষ্ট বিশ্বাস, কর্ম ও আদর্শের সংযুক্তিতেই চিনে থাকে। সমাজের সাথে সম্পর্কিত তার এই পরিচিতি তার সত্তাগত হয়। কিন্তু তার বায়োলজিক্যাল প্রকৃতি এবং সমাজে-সৃষ্ট-পরিচিতি (নৈতিকতা, মূল্যবোধ ইত্যাদি) প্রধানত এমনভাবে জড়িত নয় যেভাবে বীজের সাথে বীজের সত্ত্বার সম্পর্ক। ভাল এবং মন্দের ব্যাপার মূলত আপেক্ষিক। তবে, কিছু মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই যেন ভাল দেখায় এবং কিছু খারাপ -এটা লক্ষণীয়। ভাল লোক ভাল কাজ করতেই স্বাচ্ছন্দবোধ   করে। অর্থাৎ 'ভাল' এটা যেন তার প্রকৃতিতে লেখা' বা সহজাত। কিন্তু এই দিকটি আবার অন্য ধরণের আলোচনা আহবান করে। কিন্তু আমরা শুধু সামাজিক গঠন-প্রকৃতিতে যে মানসিকতা ও সত্তাজাত পরিচিতি আসে সেখানেই থাকতে চাইব।

সামাজিক নৈতিকতা ও পরিচিতি

আল্লাহ তা’আলা মানুষের সমাজিক জীবনকে শৃঙ্খলে আনতে এবং ব্যক্তি ও সমাজের নিরাপত্তা বিধান করতে নৈতিকতার এহসাস দান করেছেন। ভাল কাজ করতে এবং মন্দ থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। এটাই হয়েছে ভাল মন্দের রূপরেখা। আল্লাহর আদেশ নিষেধের আলোকে মানুষ ভাল-মন্দের বিষয়টিকে আরও প্রশস্ত করেছে। ভাল-মন্দের পিছনে বৈক্তিক ও সামাজিক ন্যায়-পরায়ণতা, সামাজিক সুশৃঙ্খলতা ও নিরাপত্তার বিষয় স্থাপন করেছে। এসব জিনিসের কিছু বস্তু আপেক্ষিক এবং কিছু বস্তু চিরন্তন। চিরন্তন শুধু সেই অর্থে যে অর্থে আমাদের মানবতা জাগতিক অস্তিত্বে জড়িত। এখানে যে কথাটি বলা হচ্ছে তার  নির্যাস হল ব্যক্তি যে আদর্শ ও মূল্যবোধের সত্ত্বায় নিজের সত্তা উপলব্ধি করে সেই উপলব্ধি ও পরিচিতি তার বায়োলজিক্যাল ‘প্রকৃতি’ থেকে ভিন্ন। মনে করুন এক ব্যক্তির সাথে একটি সুন্দরী, গুণবতী মেয়ের সম্পর্ক হয়েছে। তার মন-প্রাণ এখন ঐ মেয়েটাকে পেতে চায়। বায়োলজিক্যালি তার প্রকৃতিতে এমন বস্তু রয়েছে যা তাকে ঐ মেয়েটির সাথে মিলিত হতে স্পৃহা জাগ্রত করছে। তার দেহ-প্রকৃতির প্রজননগত স্পৃহা তাকে সেদিকে টানছে। কিন্তু এখন তার পরিচিতি, বৈক্তিক-সামাজিক অবস্থান এবং ঐ মেয়েটির নিজ পরিচিতি ও তার বৈক্তিক-সামাজিক অবস্থান সেই ‘প্রকৃতিজাত-স্পৃহার’ অন্তরায় হতে পারে। এভাবে তার মন অনেক জিনিস চাইতে পারে, যেগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিতে মন্দ এবং যেগুলো তার ‘পরিচিতির’ প্রতিকূলে। মানুষ এখানেই আটকা পড়ে। এখানেই মানবের জাতিগত (as a species)  সমস্যা। চুরি, বদমাশি, রাহাজানি, ডাকাতি: বড় পাপ, ছোট পাপ, গোপন পাপ, প্রকাশ্য পাপ ইত্যাদি।

পরিচিতির সংস্পর্শে প্রকৃতিজাত স্পৃহা ও নৈতিক সংঘাত

মনে রাখতে হবে যে যে সত্তাগত-পরিচয়ে সে সমাজে পরিচিত, এর অতি গভীরে রয়েছে কিছু ধারণা, কিছু বিশ্বাস। অর্থাৎ সে যদি ঐ মেয়েটির সাথে গোপনে মিলিত না হয়, অথবা সে যদি ব্যাঙ্কের টাকাটা আত্মসাৎ না করে, তাহলে এই আত্মসংযতিতে তার সামাজিক পরিচিত অক্ষুন্ন থাকবে। এমন কাজ না-করাতেই তার সামাজিক ও 'বিশ্বাসে-ধারিত ভাল’ নামক মূল্যবোধের বস্তু নিহিত। আর এই ধারিত-নৈতিকতার ভিত্তিতে বিজড়িত হয়ে তার সত্তার এহসাস বা অনুভূতি প্রকাশ লাভ করেছে এবং তার ‘পরিচিতিও’ এর সাথে জড়িত হয়ে আছে।  সমাজ ‘জানে’ যে অমুক সেই ‘ভাল’ লোক, সেই গুণে গুণান্বিত –এই মূল্যেই সে পরিচিত। কিন্তু প্রবৃত্তির কাছে ঐ মেয়েটির সাথে শয়ন করা এবং টাকাটা লুট করে নেয়ার পক্ষে হয়ত প্রবণতার অধিক ঝোঁক, এটা সেই সামাজিক নৈতিকতার ঊর্ধ্বের ‘ভাল’, এবং প্রবৃত্তিগত স্থানে কাঙ্খিত, তবে যদি কেউ না দেখে থাকে (এটাকে স্বার্থের ভাল বা শয়তানী বস্তু বলতে পারেন)। অর্থাৎ যদি তার নফসের দৃষ্টিতে এটা তার জন্য ভাল যদি না এই কাজটি সমাজের চোখে ধরা না পড়ে! এখানে বিশ্বাসী 'ভাল' ও অবিশ্বাসী 'ভাল'-এর মধ্যে পার্থক্য আসে। বিশ্বাসী তার নিজ প্রবৃত্তির দাবীর প্রতিকূলে গিয়ে 'না-দেখা' খোদার বিশ্বাসে উদ্ভূদ্ধ হয়ে, পরকালে প্রাপ্তির আশায়, সেই মন্দ থেকে নিবৃত্ত হয়, যদিও সামাজিক ভয় আরেকটা বাড়তি উপাদান হিসেবে কাজ করে থাকে।  

প্রকৃতিগত এবং সামাজিক এই দুইয়ের সংঘাত এবং মানসিকতার পরিবর্তন

এখানে লক্ষণীয়, ব্যক্তি সত্তার ‘প্রকৃতিগত’ ও ‘সমাজগত’ অনুভূতির মধ্যে যে সংঘাত থাকে তা বাস্তব এবং চিরন্তন। এর মধ্যে আরেকটি বস্তুও জড়িত। প্রথমত ব্যক্তি-মানুষ এক ‘দুর্বল সত্তা’ (‘মানুষকে দুর্বল অবস্থায় সৃষ্টি করা হয়েছে’, ৪:২৮)। মানসিকভাবে তার চৈতন্য বা সজ্ঞা সব সময় একই অবস্থানে থাকে না। সকালে, বিকালে, দুপুরে, রাতে তার চিন্তা-চেতনা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। তার শরীর ও চিন্তা-যন্ত্র তথা মস্তিষ্ক এক নরম বস্তু বা উপাদান। তার শরীর ও মনে সবলতা, দুর্বলতা আসে যায়। সে সর্বদা একই চেতনায় থাকে না। ভিন্ন চেতনায় সে ভিন্ন ধরণের যৌক্তিতা অনুভব করে। তাই তার জীবনের ঘটনা এমন হতে পারে যে সে তার দুর্বল মুহূর্তে এমনসব কাজ করে ফেলতে পারে যা তার ব্যক্তি ও সামাজিক পরিচিতির সাথে সাংঘর্ষিক। এটা নানানভাবে ঘটে যেতে পারে: জেনে-শোনে, বেখেয়াল-বশত, প্রবৃত্তির তাড়নায় ইত্যাদিতে।

মানসিক বন্দীদশা, পরিচিতির তিরোধান ও আত্মহতা

কোন ব্যক্তি যদি এমন কিছু অনৈতিক/নেতিবাচক কাজে জড়িয়ে পড়ে (যা অতি স্বাভাবিক) যা তার পরিচিতির সাথে সাংঘর্ষিক এবং সেই কাজ যদি তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলে এবং যদি সেই বিজড়িত অবস্থা ব্যাপক জটিলতার সৃষ্টি করে, তবে সে এক সময় নিজেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবেলায় ‘বন্দী’ হিসেবে দেখতে পাবে।

সে জানে তার কাজ সমাজে প্রকাশ পেলে তার ‘পরিচিতি’ নিঃশেষ হয়ে যাবে। এই অবস্থায় তার চোখ যেদিকে প্রসারিত হবে সেদিকেই সে হয়ত মুক্তির দরজা বন্ধ দেখতে পাবে। এখানে হয়ত কিছুকাল বিমর্ষ (depressed) থাকবে, তারপর কোনো এক চরম মূহুর্তে ‘আত্মহত্যার’ কথা বিবেচনা করবে। এই পর্যায় হচ্ছে চরম ‘নিরাশার’। অর্থাৎ তার সামনে আশার কোন আলো নেই। সে যে সত্তা ছিল তা বিলীন হয়ে গিয়েছে, তাই মৃত্যুই তার কষ্ট থেকে নিবৃত্তির একমাত্র পথ। আত্মহত্যার মুহূর্তে মানুষ ঈমান-শূন্য থাকে।

আল্লাহ-নির্ভরশীলতা, আশা ও জীবন

ঈমানকে বুঝার অনেক স্থান রয়েছে এবং আত্মহত্যার স্থানটি হচ্ছে সেই সমঝের এক অতি স্পষ্ট স্থান। এখানে, বিশ্বাসের আঙ্গিনায় জীবন-মৃত্যুর কোলাহল অতি নিকট থেকে দেখা যায় এবং ইতিবাচক বিশ্বাস ও নেতিবাচক বিশ্বাসকে তাদের উন্মুক্তরূপে দেখা যায়। এখানে বাস্তবতা চিত্রায়িত হয়।

বলেছি, আল্লাহতে বিশ্বাস যে কয়টি স্তম্ভে ধারিত তাদের মধ্যে আশা অন্যতম। আল্লাহর উপর আশা রাখা, ভরসা করা, তার উপর চরম মুহূর্তেও আস্তায় ঠিকে থাকা এগুলো হচ্ছে প্রকৃত ঈমান। আগুনে ঢুকে (মুসা [আ.]) ঈমানদার, পুত্রের গলায় ছুরিকা চালিয়েও (পিতা-পুত্র, ইব্রাহীম-ইসমাঈল [আ].) ঈমানদার। এভাবে, বড় বড় নবীদের এবং অনেক ঈমানদের জীবন কাহিনী ঈমানের দিগন্ত বুঝার প্রেক্ষিত বহন করে। সব সময়, এবং বিশেষ করে, চরম মুহুর্ত্তে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল (নির্ভর) করতে মু’মীনরা দোয়া করে যান। এই মুহুর্ত্তে প্রয়াত কবি মতিউর রহমান মল্লিকের একটি ইসলামী গজলের প্রথম দুটি লাইন মনে পড়ছে:

আমাকে দাও সে ঈমান আল্লাহ মেহেরবান

যে ঈমান ফাঁসীর মঞ্চে ও সংকটে গায় জীবনের গান

আমাকে দাও সে ঈমান আল্লাহ মেহেরবান।।

বিশ্বাসের স্থান মানব প্রকৃতির মূল সমঝ থেকে এসেছে। বিশ্বাসের বই-পুস্তক যেহেতু সাধারণত দার্শনিক ভাষায়  ব্যক্ত হয়ে আসে না, (এবং বিশ্বাসের দিক থেকে এর একটা কারণও রয়েছে –সে আলোচনা ভিন্ন) তাই আমরা মানব প্রকৃতির আলোচনা সেই নিরিখে পাই না, পাই ধর্মীয় ভাষায়, আধ্যাত্মিকতার নিরিখে।

বিশ্বাসের শিক্ষা ও আদমের কাহিনী

আল্লাহ মানুষকে বিশ্বাসের দিকে আহবানের সাথে সাথে তার সৃষ্টির মূলকথা বলেছেন -আদম সৃষ্টির কাহিনী বলেছেন। আদম সৃষ্টির কাহিনীকে এমনভাবে ব্যাখ্যা-বর্ণনায় এনেছেন যাতে তার বিশ্বাস ও ধর্ম-জ্ঞান সমৃদ্ধ হয়, বায়োলজি বা অন্য কোনো বিজ্ঞান শিখানোর আকারে নয়। এই কাহিনী-বর্ণনাতে এসেছে আদমের ‘জ্ঞান’ ও তাঁর বিপুল জ্ঞান-সত্ত্বেও তাঁর দুর্বলতা, (‘আমি ইতিপূর্বে আদমকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে দৃঢ়তা পাইনি’ (২০:১১৫), তাঁর স্মৃতি-বিস্মৃতি। তাঁকে যা না-করা উচিৎ ছিল তিনি তা করে ফেলার কাহিনী। তাঁর প্রকৃতির দুর্বলতা ও সবলতার কাহিনী। তাঁকে যখন বলা হল, 'তোমাকে যা না-করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, তুমি তা করে ফেলেছো।' তখন তিনি  বিচলিত হয়ে পড়েন। তাঁর মনের শান্তি চলে যায়, তিনি অশান্ত, উদগ্রীব হয়ে ওঠেন, মনের জ্বালায় বিদগ্ধ হতে থাকেন। তাঁর ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া বাস্তবে রূপায়িত হয়ে পড়ে। কিন্তু এখন তিনি কী করবেন, তাঁর যে দুর্বলতা সেই দূর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। আল্লাহ তাঁকে প্রথম জ্ঞান দানের পর এবারে দ্বিতীয় জ্ঞান দেন। তাঁর অশান্তি লাঘবের জন্য তাঁকে প্রত্যাবর্তনের (তওবার) পথ নির্দেশ করেন। অর্থাৎ এখানে এই ভুলের প্রতিক্রিয়ায় ও প্রভাবে পড়ে থাকলে হবে না, ভুল হয়েছে হোক। ভুলটাও প্রকৃতিজাত। আমি মানা করেছিলাম, তুমি ভুল করেছো, এখন আমার দিকে প্রত্যাবর্তন কর, আবার ভুল হোক, আমার ফিরে এসো, আবার ভুল হোক আবার ফিরে এসো, তারপর আবার –কিন্তু কখনো নিরাশ হয়ো না (কোরান)। নিরাশ কেবল শয়তানই হয়। শয়তান শব্দের আরেকটি অর্থ হচ্ছে যে চরমভাবে নিরাশ হয়ে গিয়েছে। একমাত্র পথভ্রষ্টরাই আল্লাহর রহমাত থেকে নিরাশ হতে পারে (১৫:৫৬)। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না’ (১২:৮৭)।

আদম থেকে এবং আদমের কাহিনী থেকে আমাদের বিশ্বাসের শুরু। এই কাহিনীতে আমাদের ধর্মের সার-নির্যাস রয়েছে। ইউরোপীয় দর্শনে আমরা (মানব জাতি) যেভাবে আজ পর্যন্ত যত বিদ্যা অর্জন করেছি তা প্রাচীন গ্রিক-দর্শনের, বিশেষ করে প্ল্যাটো/এরিস্টেটলিয়ান দর্শনের, অসংখ্য ফুট-নোট হিসেবে বিবেচনা করতে পারি, তেমনি সকল নবীর কাহিনী ও শিক্ষা আদমের কাহিনীর ফুট-নোটস হিসেবে দেখা যেতে পারে, যদিও অনেক পার্থক্যের স্থান রয়েছে।

বিশ্বাসেই জীবন

আমরা আবার আগের স্থানে ফিরি। বিশ্বাসের সাথে আমরা নিজেদের সত্তার যে পরিচিতি ঘটাই তা সর্বদাই ‘জীবন’ দান করে। সর্বদাই আলো দিয়ে যায়, সর্বদাই ‘নিরাশা’ থেকে মুক্তির পথ দেখায়। প্রত্যহ প্রকৃতি-তাড়িত ভুল থেকে শুদ্ধের ধারণায় নিয়ে আসে। নামাজে যাওয়া বা নামাজ পড়তে যাওয়াতে প্রত্যাবর্তন (তওবা) বুঝায়; এখানে এই অর্থ নিহিত: আদম তুমি ফিরে এসেছো, আবার এসো। তোমার প্রকৃতিতে ভাল-মন্দের রূপরেখা টানা হয়েছে, তুমি ভুলের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবে না, তোমার আদর্শ ও বিশ্বাসের স্থানে তুমি সর্বদা ‘পাথরের-মত’ শক্ত হয়ে থাকতে পারবে না, তোমার মস্তিষ্ক-যন্ত্র পাথরের  মত (অপরিবর্তীত) নয়। তুমি দুর্বল, তোমার চৈতন্য (সজ্ঞা) দিনে দুপুরে ভিন্ন ভিন্ন মানসিক স্থানে বিচরণ করে, তুমি ভুল করবে কিন্তু শয়তানের মত জেদি হয়ে ওঠবে না। আর প্রত্যেক প্রত্যাবর্তনে (নামাজে, রোজায়, হজ্জে যাকাতে, জিকির আযকারে) বিনয়ী হবে, কেবল আমারই দিকে নিরঙ্কুশভাবে নিবেদিত হবে। অর্থাৎ গাদ্দারি থাকবে না: আমি ব্যাঙ্কের টাকাটা এখন মেরে নেব এবং পরে হজ্জ করে রেহাই পেয়ে যাব, উদ্দেশ্য প্রণোদিত এমন কাজ প্রত্যাবর্তন নয়, এটা শয়তানি। আদমের ঘটনা এমন ছিল না।

আদমের বিবরণে মানবিক যে বৈশিষ্ট্যের সন্ধান পাওয়া যায় সেখানে তাঁর ভুল, তাঁর সংশোধন, তাঁর বিনয়, তাঁর বিশ্বাস ও আনুগত্য রয়েছে –এগুলো ধর্মের যে এহসাস প্রতিষ্ঠা করে সেটাই হচ্ছে আমাদের ধর্ম। আল্লাহ রাসূল (সা.) বলেন, দ্বীন হচ্ছে ‘নাসিহাহ’, অর্থাৎ ধর্ম হচ্ছে বিশুদ্ধ ইচ্ছা, বিনয়, sincerity। এই দ্বীনেই ব্যক্তির মানসিক সুস্থতা, তার নিরাশার মুক্তি, খোদা-নির্ভরশীলতা ও তার আশাবাদ নিহিত। কেবল সেই সমাজই শান্তির সমাজ হতে পারে যে সমাজের ব্যক্তিগুলোর মন সুস্থ, যারা বাবা আদম ও মা হাওয়ার বিনয় ও প্রত্যয়ে নিজেদের জীবন গড়েন -যারা শয়তানের উদ্ধত পথে নয়। মানব জাতির মুক্তি তাই বিশ্বাসে।  -সমাপ্ত-

দ্রষ্টব্য: 

এই লেখাটির সাথে বিষয়গতভাবে সংশ্লিষ্ট আরেকটি লেখা এখানে রয়েছে, চাইলে দেখতে পারেন। লিঙ্ক: আধুনিক সমাজের শান্তি -বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের বাস্তবতা।

 

পরিশিষ্ট:

_______________

এখানে আলাদা আরেকটি বিষয় সংযোগ করতে যাচ্ছি। একটি ধর্মীয় সমাজের অনেক লোক ও তাদের পরিবার মূলত তাদের ধর্মের সাথে পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে সমন্বিত নাও থাকতে পারে। এতে ঐতিহাসিক ও সামাজিক কারণ থাকতে পারে। এমন ক্ষেত্রে তাদের জীবনে ধর্ম কেবল ‘ছায়ার’ মতই থাকতে পারে। মুসলিম সমাজের অবস্থা এই দাঁড়িয়েছে যে অনেক মুসলিম দেশের বড় এক অংশ হয়ত নামাজ পড়ে না, অনেকে রোজা রাখে না, হজ্জ করে না, কেউ কেউ মদ খায়, সূদের ব্যবসায় করে। এদের অনেকের জীবনে ধর্ম-কর্মের নাম নিশানাও নাই। এমন মুসলিম সমাজে ইসলাম ধর্মের মূল্যবোধ বুঝার জরিপ চালালে সেই তথ্যে যে মূল্যবোধ আসতে পারে তা আদপে ইসলামী নাও হতে পারে। মুসলিম সমাজের এমন ধর্মীয় অবস্থা যে কেউই চোখ খুললে দেখতে পাবেন। কিন্তু এই দুর্বল পর্যায়ের জনগোষ্ঠীতেও (অর্থাৎ যারা ইসলামী জীবন পদ্ধতি থেকে অনেক দূরে, যারা নামাজ-রোজাহীন)  আত্মহত্যা বিষয়ক কোনো চালানো-জরিপে অপরাপর অনেক সমাজের তুলনায় ব্যাপক ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।

কামাল ও লওয়েন্থাল (রয়্যাল হলোওয়ে ইউনিভারসিটি অফ লন্ডন) কিছু মুসলিম ও হিন্দু যুবক-যুবতীদের মধ্যে একটি জরিপ চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে মুসলিমদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা হিন্দুদের চেয়ে কম। তাদের স্টাডিতে ইনিচেনের (Ineichen, 1998) জরিপ-সিদ্ধান্তের উদ্ধৃতি আনেন এবং উল্লেখ করেন যে হিন্দুদের তুলনায় মুসলমানরা নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে বেঁচে থাকতে অধিক যুক্তি দেখেন। তারা এক্ষেত্রে আত্মহত্যার প্রতি ইসলামের নিষেধাজ্ঞার প্রতিফলন দেখেন। তারা হাসান (Hassan, 1983) এর স্টাডি থেকে উল্লেখ করেন যে মুসলমানদের তুলনায় হিন্দুদের পুনর্জন্মবাদের ঐতিহ্য আত্মহত্যার ক্ষেত্রে কম নিবৃত্তিকর। অপর দিকে মুসলিম বিশ্বাসে আত্মহত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 

তাছাড়া হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থাদি মুসলমানদের মত একক নয় (যেমন কোরান)। তাদের স্টাডিতে উল্লেখ করা হয় যে প্রাথমিক বেদিক-যুগে আত্মহত্যার অনুমোদন ছিল, যা পরবর্তী উপনিষদগুলোতে নিষিদ্ধ করা হয় এবং আত্মহত্যায় মৃত ব্যক্তির পরকালীন নাজাত লাভ অস্বীকার করা হয় (Ladha et al, 1996)।  

 

Reference

Kamal, Z and Loewenthal, K.M. (No Date). Suicide Beliefs and Behaviour among Young Muslims and Hindus in the UK. Available: http://digirep.rhul.ac.uk/items/8f0def71-8625-dffa-6164-020f85f5df5a/3/. Last accessed 20 Oct 2012.

২২ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. এম_আহমদ

    সারাংশ: ঈমান হচ্ছে জীবন সঞ্জীবনী। ঈমান সব সময়ই মানুষের মনে আশার আলো সঞ্চার করে; যে কঠিন অবস্থায় আল্লাহ অন্য কোন পথ খুলে দিতে পারেন, যে মুক্তাতি-পথের কথা ব্যক্তির চিন্তা-বিবেচনার বাইরে থাকতে পারে। মানুষ ভবিষ্যৎ জানে না, এই মুহুর্ত্তে সে যে নিরাশায় ভুগতে পারে, আল্লাহ তাতে ভিন্ন রঙ সংযোগ করতে পারেন। কেবল ‘বিশ্বাসে’ই মুক্তি, অবিশ্বাসে নয়। তাই যুগে যুগে মানুষ বিশ্বাসের দিকে আহবান করেছে। বিশ্বাসেই ব্যক্তি ও সমাজের মূল্যবোধ রচনা করতে চেয়েছে। বিশ্বাসই তার জীবনের রক্ষা-কবচ। 

  2. শাহবাজ নজরুল

    ভালো লিখেছেন। ঈমানের দেয়া আশা একটা বড় জিনিস। আমাদের নাস্তিক ভাইদের বড় হতাশার বিষয় হচ্ছে, জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে না পাওয়ার মধ্যে। যখন তারা দেখে যে জীবনের উদ্দেশ্য কেবল এক্ট্রপি বাড়ানো, তখন বড় ধরনের হতাশাগ্রস্ত নাস্তিকেরা অনেক সময় আত্নহত্যার পথ বেছে নেয়। 'মনা'তে ইশ্বরহীন নিকে একজন লিখতেন। একদিন দেখলাম তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কেন আত্মহত্যা করেছেন তা পুরোপুরি না জানতে পারলেও জীবনের উদ্দেশ্য না দেখতে পাবার হতাশা বড় একটা কারণ – এমনটা ধারণা করা যেতে পারে।
     
    পরে আবার আসছি ইনশাল্লাহ।
     

  3. এস. এম. রায়হান

    চিন্তাজাগানিয়া পোস্ট। ভাল লাগলো। তবে টাইপোর কারণে কিছু কিছু জায়গায় পড়তে সমস্যা হচ্ছে।
     
    @শাহবাজ নজরুল,

    আমাদের নাস্তিক ভাইদের বড় হতাশার বিষয় হচ্ছে, জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে না পাওয়ার মধ্যে।

    হেঃহেঃ তারাও নিজেদের মতো করে জীবনের উদ্দেশ্য বের করছে!

    1. ৩.১
      এম_আহমদ

      পাঠ অ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। লেখাটি আবার পড়লাম এবং কিছু স্থান এডিট করলাম। কিছু কিছু বাক্যে loose ends ছিল, এগুলোও পরিপাটি করলাম। আবারও ধন্যবাদ। 

  4. মুনিম সিদ্দিকী

    ভাল বিষয়  তবে বুঝতে গেলে মাথা তো ঘামাতে হবে। হ্যাঁ আশার অপর নাম জীবন ! যারা পরকালের বিশ্বাস করেন তারা চরম হতাশার মধ্য দিয়ে শান্তনা পেতে পারেন, এই জীবনে বঞ্চিত হলেও আগামী জীবনে নিশ্চয় এর সুফল লাভ হবে।  তবে এইটি সত্য যে, যেখানে ইসলাম মাইনরিটি সেখানে বসবাসরত মুসলিম পরিবার ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সে যে মুসলিম এবং তাঁর যে নিজস্ব একটি জীবন ধারন গত পথ আছে সে তা মনে রাখে। কিন্তু যারা মুসলিম প্রধান দেশে বাস করেন তখন তারা আর এমন করে প্রশ্নের মুখামুখি হোন না বা নিজে যেমন চিন্তা করেন না তেমন করে বাচ্চাদেরকাছেও প্রকাশ করেন না।
    আমি মনে করি এই আমরা যেমন করে বিভক্ত ভারতে নিজদেরকে মুসলিম ভাবতাম তেমন করে পাকিস্তান আমলে ভাবতে হয় নাই, ঠিক তেমন করে পাকিস্তান আমলে যে ভাবে নিজদেরকে বাংগালী ভাবতাম এখন বাংলাদেশে সে ভাবে ভাববার প্রয়োজন পড়ছেনা। পাকিস্তান আমলে নব্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত মুস্লিম নিজেরা ইসলামের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ার কারণে বাংগালী মুসলিমদের সন্তানরা ইসলামী চিন্তা চেতনা থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল। এখন বাংলাদেশ আমলে সেই সন্তানের সন্তানেরা আরো অনেক দূরে চলে গিয়েছে, তেমন করে পাকিস্তান আমলে আমরা যতটুকু বাংগালী ছিলাম, বাংলাদেশ হবার পর তা ভুলে গেলাম, তাইতো আমাদের ছেলে  সন্তানরা বাংগালিত্ব শুধু কিছু মেলা জাতীয় উৎসবের মধ্যে পালন করলেও বাকি সময় হিন্দিয়ানী আর ইউরোপীয় চিন্তা চেতনায় ভেসে বেড়ায়। যেখানে পাকি আমলে আমরা উর্দুকে বিজাতিয় ভাষা বলে প্রত্যাখান করলেও এখন আমাদের সন্তানদের মুখ দিয়ে হিন্দি আর ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে দেখায় যাচ্ছে। আমরা যেন শিকড় বিহীন হয়ে যাচ্ছি, যত শিকড় বিহীন হচ্ছি ততই আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধ থেকে তারা দূরে সরে চলে যাচ্ছে, এখন তাদের মধ্যে চরম বস্তুবাদী চিন্তা চেতনা, আর এই অবস্থায় তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করলে তারা তো কোন আশার পথ খুজে পায়না।

    1. ৪.১
      শাহবাজ নজরুল

      পাকিস্তান আমলে আমরা যতটুকু বাংগালী ছিলাম, বাংলাদেশ হবার পর তা ভুলে গেলাম, তাইতো আমাদের ছেলে সন্তানরা বাংগালিত্ব শুধু কিছু মেলা জাতীয় উৎসবের মধ্যে পালন করলেও বাকি সময় হিন্দিয়ানী আর ইউরোপীয় চিন্তা চেতনায় ভেসে বেড়ায়।

      অসাধারণ … http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif

  5. এম_আহমদ

    আমাদের ছেলে  সন্তানরা বাংগালিত্ব শুধু কিছু মেলা জাতীয় উৎসবের মধ্যে পালন করলেও বাকি সময় হিন্দিয়ানী আর ইউরোপীয় চিন্তা চেতনায় ভেসে বেড়ায়।

    ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দু, নাস্তিক ও পৌত্তলিক মুসলিমদের সমস্যা দেখা দেয় তখন যখন আরবী, ফারসী বা উর্দূ শব্দের ব্যবহার আসে। হিন্দি/ইংরজি হলে তাদের সমস্যা নেই। আমাদের এক কবিতা-বৈঠকে ফররুখ আহমদের 'পাঞ্জেরী' কবিতা পাঠ হলে বাংলাদেশ থেকে আসা নব-প্রজন্মের একজন গ্রাজুয়েট প্রথমে শব্দটির অর্থ বুঝেনি, তারপর এই শব্দটির ব্যবহারে তার আপত্তি ছিল! আপনাদের জাতীয় উন্নতি আজ 'ইর্ষার' বস্তু!

  6. এম_আহমদ

    তবে এইটি সত্য যে, যেখানে ইসলাম মাইনরিটি সেখানে বসবাসরত মুসলিম পরিবার ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সে যে মুসলিম এবং তাঁর যে নিজস্ব একটি জীবন ধারন গত পথ আছে সে তা মনে রাখে। কিন্তু যারা মুসলিম প্রধান দেশে বাস করেন তখন তারা আর এমন করে প্রশ্নের মুখামুখি হোন না বা নিজে যেমন চিন্তা করেন না তেমন করে বাচ্চাদেরকাছেও প্রকাশ করেন না।

    হ্যাঁ, এটাও একটি সত্য কথা। আবার দেখুন, অতি অল্প সংখ্যক নাস্তিকরা একটি বড় জনগোষ্ঠীকে নানা দিকে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তারা তা দেখেও যেন দেখতে চাচ্ছে না।  

  7. মহিউদ্দিন

    আবার দেখুন, অতি অল্প সংখ্যক নাস্তিকরা একটি বড় জনগোষ্ঠীকে নানা দিকে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তারা তা দেখেও যেন দেখতে চাচ্ছে না।

    একেবারে খাটি কথা!  কয়জনইবা এভাবে চিন্তা করে?
    আসলে আমরা মুসলিমরা হচ্ছি এখন শুধু কালচালের মুসলিম। আর যারা নিজেদেরকে বিশ্বাসীদের দলে মনে করেন তারাও আছেন বিভ্রান্তিতে।
    কিভাবে আবার ঘুরে দাড়ানো যায় সেটাই এখন বড় প্রশ্ন?

  8. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    দারুন একটা বিষয় নিয়ে এসেছে। আত্নহত্যার কারন নিয়ে নানান জন নানান কথা বলে। টরন্টোয় ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে আত্নহত্যা ঠেকানোর জন্যে ব্রীজের উপর বেরিয়ার তৈরী হয়। ইরাকে আমেরিকান সৈন্যদের মৃত্যুর অন্যতম কারন আত্নহত্যা।  কিন্তু এর প্রতিকার কোথায়?
     
    একটা চমকপ্রদ তথ্য দেখচ্ছিলো আমার ছেলে – সেইটা শেয়ার করি – বিশ্বের দেশওয়ারী আত্নহত্যার তালিকায় চোখ বুলালের দেখবেন – সাবেক কমিউনিস্টদেশগুলোতে আত্নহত্যার হার সবচেয়ে বেশী। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানীরা কোন ভাবেই বলবে না ধর্মহীন করে একটা সমাজকে কিভাবে আত্নহননের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। 

    1. ৮.১
      মুনিম সিদ্দিকী

      কিন্তু সমাজবিজ্ঞানীরা কোন ভাবেই বলবে না ধর্মহীন করে একটা সমাজকে কিভাবে আত্নহননের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

       
      হ্যা একদম সত্য কথা। পড়েছি জাপানেও নাকি কিশোর কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। জাপানও চরম বস্তুতান্ত্রিক দেশ।

    2. ৮.২
      এম_আহমদ

      সমাজবিজ্ঞানীরা কোন ভাবেই বলবে না ধর্মহীন করে একটা সমাজকে কিভাবে আত্নহননের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। 

      আজ বিশ্ব মানবতা এক চরম দুর্যোগের শিকার। ইউরোপ আমেরিকায় ক্রেডিট-ক্রাঞ্চ নামক সৃষ্ট অর্থনৈতিক দুর্যোগের কারণে এবং সামগ্রীক অর্থনৈতিক মান্দার কারণে অনেক চাকুরি হারিয়ে, বাড়ি-ঘর হারিয়ে আত্মহত্যা করছে। কৌশলে এই পরিধীতে গবেষণা এড়িয়ে চলা হচ্ছে। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। 

  9. sami23

    @আহমদ ভাই সালাম
    লেখাটি দারুণ প্রশংসাযোগ্য।ভাই লেখাটি দুখণ্ড সিরিজ ও আত্মহত্যার প্রতিকার যোগ করলে ভালো হত। বিশেষ করে যেখানে আত্মহত্যা মাএা দিন দিন বেড়ে চলেছে,জীবনে আত্মহত্যা করতে চাইনি এরকম মানুষের সংখ্যা খুবই কম।যখন আশাহীনতা, হতাশা,অপরাধ বোধ,অপমান,প্রতিশোধ স্পৃহা ইত্যাদি উপাদান গুলা মানুষের জীবনটাকে অর্থহীন তুলে তখন,মানুষ তার জীবন থেকে মুক্তি পেতে চায় তখন আত্নহত্যা দিকে ঝুঁকে থাকে।এই প্রবণতা  নাস্তিকদের মধ্যেয়ে বেশ, যারা সামাজিক ও অর্থনৈতিক এবং মানসিক  ভাবে রীতিমত পর্যদুস্ত।বর্তমান যুগে সবদেশে নাস্তিক আত্নহত্যা হার বেশি এক মাএ জাপান ব্যতীত। মজা একটা তথ্য হল যে,যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বিশ মিনিটে একজন আত্মহত্যা করে এবং দেখা যায় তারা প্রতি দুইশ জনে একজন সফল হয়।বিশেষ করে মেয়েদের আত্নহত্যা প্রবণতা লক্ষ্য কররা মত।আমাদের মুসলিম বিশ্বে ধমই কঠোরতা কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা হার খুবই কম।এ সম্পর্কে আল্লাহ তালা বলেন “অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের প্রাণও সম্পদকে তাদের জন্য জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয়ে করে নিয়েছেন”।
                                                                               সূরা তাওবা-১১১

    1. ৯.১
      এম_আহমদ

      আমাদের মুসলিম বিশ্বে ধমই কঠোরতা কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা হার খুবই কম।এ সম্পর্কে আল্লাহ তালা বলেন “অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের প্রাণও সম্পদকে তাদের জন্য জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয়ে করে নিয়েছেন”।

      হ্যাঁ, সুন্দর বলেছেন। এতাই কথা।  লেখাটি দু-খণ্ডে দিলে ভাল হত। কিন্তু হয় কি, একটা লেখার পর, পরবর্তী অংশ লেখাতে যাওয়া হয় না। নানান সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে ব্লগের এই অবস্থা এই যে সকাল বেলায় ঢুকে দেখবেন একটা চাঞ্চল্যকর হয়ে বিরাজ করছে। তারপর একটার পর আরেকটা উত্তর দিতে গিয়ে অনেক মূল বস্তুর ফকাস হারিয়ে যায়। তবে দেখা যাক ভবিয্যতে অন্যভাবে করা যাবে।
       
      পাঠ অ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
       

  10. ১০
    রাতুল

     
    আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন সুন্দর করে আশার বাণী শুনানোর জন্যে। আমি দীর্ঘদিন ধরে কুরআন ও হাদিসের আলোকে মানুষকে আশাহত না হওয়ার ব্যাপারে করণীয় কিছু লেখা খুঁজছিলাম। মনে হল, আমার সে আশা অনেকাংশে পূর্ণ হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছি। ডাক্তার ও দেখিয়েছি। কিন্তু খুব একটা ভালো ফল পাচ্ছিনা। আর এ সমস্যা আদৌ সারবে কিনা তা আল্লাহ্‌ পাক ভালো জানেন। এর পেছনে আমার মনসতত্ত্ব ও সব সময় নেগেটিভ। মনে হয়, এ সমস্যা নিয়ে আমাকে বাকি জীবন পার করতে হবে। এজন্যে অধিকাংশ সময় হতাশা কাজ করে মনের ভিতরে। মাঝে মাঝে নানান ধরণের আজে-বাজে চিন্তা ও ভর করে। তখন, আশার বাণী আমার সামনে চলার পথটাকে কিছুটা হলে ও মসৃণ করে এবং আমাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। 

    1. ১০.১
      এম_আহমদ

      শুনে মর্মাহত হলাম। তবে বেশি বেশি দোয়া করবেন। একটি দোয়া কোন নিরলে নিভৃতে বসে বার বার পড়তে থাকবেন। তারপর আপনার যে সমস্যা তা সাদা কাগজে সংক্ষীপ্তভাবে লেখখবেন। কোন্ সমস্যার স্থান কোথায় -তা লেখবেন। কোন্ সমস্যার সাথে কোন সমস্যা জড়িত -তা লেখবেন। এতে এক ধরণের পরিত্রাণ অমনিতে আসবে। তবে লেখাগুলো পরে ছিড়ে ফেলবেন যেন কেউ দেখতে না পায়। লেখার মানিটা হচ্ছে, আপনার মনের সমস্যা কাগজে ধারণ করা। চোখ যাতে তা দেখতে পায়। এই দেখা থেকে মাইন্ড অন্যভাবে চিন্তার করার সুযোগ পাবে।
      দোয়া রইল। বেশি বেশি নামাজ পড়বেন।    

  11. ১১
    আব্দুল হক

    যারা ধর্ম প্রচার প্রসার ও ইহুদি নাসারা কাফের নিধন কল্পে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে নিজেদের জীবন বিসর্জন দেয়, তাদেরকে কি আত্মঘাতী বলা হবে নাকি শহিদ বলা হবে ? এ ব্যপারে বিস্তারিত ব্যখ্যা কি ?

    1. ১১.১
      এস. এম. রায়হান

      হিন্দুমনারা কবে থেকে ইহুদি, নাসারা, ও কাফেরদের দায়িত্ব পেয়েছে। এ ব্যাপারে হিন্দু ধর্ম কী বলে। হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী গৌতম বুদ্ধ স্বর্গে নাকি নরকে যাবে।

  12. ১২
    এম_আহমদ

    গত সপ্তাহে বিখ্যাত ফিল্ম অভিনেতা রবিন উইলিয়াম আত্মহত্যা করেন। নিশ্চয় সবাই শুনেছেন। এপ্রসঙ্গে আমার এই লেখাটি যারা পড়েননি তারা পড়ে দেখতে পারেন। একটু ভিন্ন আঙ্গিকে এই লেখাটিও, “আধুনিক সমাজের শান্তি -না বিশ্বাসে, না অবিশ্বাসে” পাঠ করা যেতে পারে।  তাছাড়া পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট খেলোয়াড় ইমরান খানের কিছু অভিমত আজ একটি লেখায় পড়লাম যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আজকাল অনেক লেখা লিঙ্ক করে দেয়ার প্রয়োজন হয় না, কেননা সবাই সেগুলো কোনো না কোনো উপায়ে পড়ে থাকেন, তবুও দিলাম। এখানে, "কেন ইসলামের পথে এসেছি -ইমরান খান"

      আজকের তথাকথিত “মানবতাবাদী” নাস্তিক্য ও সেক্যুলারবাদের সর্বগ্রাসী সয়লাবের মধ্যে যখন কিছু দীপ্ত-চিত্ত সাহসিকতা দেখান তখন তা আলোর দেয়ালীতে কিছু রসদ সঞ্চার করে।

  13. ১৩
    এম_আহমদ

    এই অন্তঃসারশূন্য সমাজ ব্যবস্থা আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে? 

    "আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা। নারী-পুরুষ, উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে শিশুরা পর্যন্ত বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। সামান্য অজুহাত বা হতাশা থেকে তাদের ভেতর জন্ম নিচ্ছে আত্মহত্যা নামক ভয়ঙ্কর অপরাধের উপসর্গ। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই সমাজের উচ্চশিক্ষিত, বিত্তবান পরিবারের সদস্য বা শোবিজ তারকারা। আর হঠাৎ করে এ প্রবণতা বৃদ্ধির নেপথ্যে সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীরা ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাওয়া ও স্যাটেলাইট আগ্রাসনকে দায়ী করেছেন।" বাকিটুকু এখানে  দেখুন, বাড়ছে তারকাদের আত্মহত্যা

     

  14. ১৪
  15. ১৫
    এম_আহমদ

    বিগত ২০১৫ সালে ইউকেতে ৬,১৮৮ জন লোক আত্মহত্যা করেছে বলে রেজিস্টার করা হয়। ২০১৬ সালের স্ট্যাটিস্টিক্স এখনো নজরে পড়ে নি।  আজকের কর্পোরেট মিডিয়া মানুষকে কেবল তাই দেখায় যা তাদের এবং তাদের টাকায় বসানো সরকারের অনুকূলে হয়। আজ বিবাহ ভাঙ্গন, ভাঙ্গা পরিবারের সন্তান-সন্তিনী ও তাদের পীড়িত মানসিকতা এগুলো কীভাবে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, কীভাবে বস্তুতান্ত্রিকতা মানুষকে অমানুষ বানাচ্ছে, কীভাবে বৃদ্ধাশ্রমে নরনারী মানসিক পীড়ায় ভুগছে –এসব থেকে মানুষের দৃষ্টি এড়ানো হচ্ছে।

    এই লেখাটি ২০১২ সালের। এর পরে যারা সদালাপ পড়ছেন তাদের কারো ইচ্ছা হলে লেখাটি পড়তে পারেন, এজন্য এটাকে আবার হাইলাইট করছি। এই লেখাটির সাথে বিষয়গতভাবে সংশ্লিষ্ট আরেকটি লেখা রয়েছে, সেটিও চাইলে দেখতে পারেন। লিঙ্ক: আধুনিক সমাজের শান্তি -বিশ্বাসে ও অবিশ্বাসের বাস্তবতা।

     

Comments have been disabled.