«

»

জুন ২৬

আধুনিক সমাজের শান্তি -বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের বাস্তবতা

[ছোট লেখা]

আজকের সমাজের অবস্থা জানতে হলে তার প্যাথোলজির দিকে তাকাতে হবে। আমেরিকায় প্রত্যেক ১৭ মিনিটে এক জন লোক আত্মহত্যা করে এবং এভাবে বৎসরে ৩০,০০০ হাজারের বেশি লোকের আত্মাহুতি ঘটে। এর পিছনে থাকে নানান নৈরাশ্য, মনঃপীড়া আর মুক্তির প্রত্যাশায় মাদক সেবন। (দেখুন মতপ্রণীত ‘আত্মহত্যা ও বিশ্বাস’)। আমাদের ব্রিটেনের অবস্থা এত্থেকে দূরে নয় বরং আশেপাশে -অনেক পরিসংখ্যান আবার শঙ্কিত করে তুলে। ব্রিটেনে প্রতি ৩ বিয়ের দুটি ভেঙ্গে যায়। এক বিরাট সংখ্যক লোক নানান ধরণের মানসিক সমস্যায় (ডিপ্রেশনে) ভোগেন এবং সমস্যা লাঘবের জন্য এন্টি ডিপ্রেসেন্ট সেবন করেন। ধনতান্ত্রিকদের পরিবেষ্টনে সর্বসাধারণ নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ ও বিত্ত সংরক্ষণে ইঁদুরের দৌড়ে ব্যস্ত। মিথ্যাচার, ঠকা-ঠকি, ওয়াদা খেলাফি, অপরের অধিকার নষ্ট ও আত্মসাৎ -এগুলো হচ্ছে সামগ্রিক বাস্তবতা। সর্বত্র চাচা আপনা জান বাঁচা।

রাজনৈতিক দলগুলো কর্পোরেট সত্তাসমূহের ক্রীড়নক। এখানে কেবল ধাপ্পাবাজি, ভাষার মারপ্যাঁচ আর ভিতরে মিথ্যাচার। সার্বিক বাস্তবতা এই যে সকলের মুখের ভাষা জুড়ে আছে গণতন্ত্র, অধিকার, সমতা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা, প্রগতি। কিন্তু এগুলোর ভিতরের বাস্তবতা ও প্রকৃতি বুঝার সক্ষমতা সর্বসাধারণের নেই। যারা বিগত ৩ শো বছর ধরে এগুলো চালিয়ে দিয়েছে তাদের কাছে এসবের প্রকৃতি সর্বসাধারণে ব্যাখ্যা করার গরজ নেই, কেননা এতে থলের বিড়াল নিজেরাই বের করে দিতে হয়। আজ, পতঙ্গ যেভাবে অগ্নিতে ঝাঁপ দেয়, সেভাবে সর্বসাধারণ আধুনিকতার ম্যাজিক্যাল শব্দ ও ধারণায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে। স্বামী-স্ত্রী নিজেদের সমতা ও স্বাধীনতা প্রয়োগ করতে গিয়ে সর্বদা ঝগড়ার স্থানে; কর্মস্থানে দ্রুত উন্নতির জন্য করাপশন; উন্নতির জন্য স্বামী –স্ত্রী দিন-রাত কাজে ব্যস্ত আর শিশু-বাচ্চারা কেয়ার ওয়ার্কারের লালনে। কেউ কেউ ক্ষমতার বাইরের সম্পদের জগত ঠিকিয়ে রাখতে হিমসিম খাচ্ছেন। এসবের মানসিক প্রতিক্রিয়া জীবনকে দুর্বিষহ, অশান্ত করছে। আবার হঠাৎ করে বিরাট অঙ্কের টাকা পেলে দ্রুত মুক্তি ঘটবে –এই আশায় জুয়া (gambling) খেলায় এক গোষ্ঠী এডিক্টেড, আর সামাজিক ব্যাধি যতই বাড়ছে, জুয়াও দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। আগে পুরুষেরা জুয়া খেলতেন, এখন নারীরাও আক্রান্ত। আগে জুয়া ছিল হাই-স্ট্রিটে। এখন তা কম্পিউটার, টিভি ও ফোনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে। নানান বিজ্ঞাপন “আশার” চিত্র দেখিয়ে নিরাশায় সর্বনাশ করছে। যা বলছি তার সবকিছু ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় জড়িত, একটির সাথে অন্যটি সম্পর্কশীল।  

বিশ্বাসের জগতের ঘটনা কী? বিগত ৩ শো বছর ধরে বিশ্বাসের সমাজ আধুনিকতাবাদের (modernism) সয়লাবে কোথাও অনেকটা নির্মূল হয়ে গিয়েছে এবং কোথায় জরাগ্রস্ত হয়ে আছে। উপরের চিত্র সেই প্যাথোলজি বহন করে। ভাঙ্গা সমাজের বিশ্বাসের টুকিটাকি এখানে সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

বিশ্বাসের জীবন বিশ্বাসে নিয়ন্ত্রিত হতে হয়। বিশ্বাসের প্রতিটি কর্ম বিশ্বাসের বাইরের জগত বা অবিশ্বাসের দৃষ্টিকোণ থেকে ‘সন্দেহ’ করা যেতে পারে –যেমন আল্লাহ সত্যি সাহায্য করলেন, না ওখানে মূলত কোনো সাহায্য আসেনি, এমন সন্দেহের অসংখ্য স্থান থাকতে পারে। কেননা, অদৃশ্য খোদার অস্তিত্ব যেমন, তার গুণও তেমন, তার সাহায্যের স্বরূপও তেমন। এগুলো বিশ্বাসের বিষয়।

ইসলাম ধর্মে খোদাতে বিশ্বাসের প্রকৃতি হচ্ছে ‘আমি আল্লাহতে বিশ্বাস করলাম তিনি যেমন তেমনি’ অর্থাৎ এখানে তুলনার কিছু নেই। তিনি অতুলীয়। তাই বলে আমরা থাকি তিনি তেমনি যেমনিভাবে তার জন্য শোভা পায়। আর বিশ্বাস তো বিশ্বাসই। এখানে শান্তির বিষয় মূলত দৃঢ় প্রত্যয়ের বা বিশ্বাসের বিষয়। এই শান্তি আসে মানসিক বাস্তবতায় ও চরিত্রে আত্মস্থ হয়ে। আজ এই বিশ্বাস বা প্রত্যয়ের দৃঢ়তা হারিয়ে আধুনিক সমাজের কী হয়েছে? এটি ভাবনার বিষয়। সমাজের প্যাথোলজিক্যাল ফিরিস্তি দেখলে তা অনেকটা প্রস্ফুটিত হয়।

এবারে দেখুন, যে বিশ্বাস জীবনে শান্তি আনবে, সেই বিশ্বাস কতটুকু রয়ে গিয়েছে? আমার দৃষ্টিতে এর পরিমাণ নেহায়েত কম। এই বিশ্বাসের মাত্রা বাড়াতে এর চাষ করতে হয়। এটাকে শিক্ষা-দীক্ষায় পেতে হয়। এটা সাধনা ও তপস্যায় অর্জিত হতে হয়। বাচ্চা-বয়স থেকে মনোমানসিকতাকে সেভাবে প্রোগ্রাম করতে করতে হয়। তা না হলে, বিশ্বাস মুখেই থেকে যায়। মুখ থেকে হৃদয় প্রবেশ প্রবেশ করানো কঠোর সাধনা সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। এই যে প্রকারে কথাগুলো বলছি সেভাবে কাজ না করলে ঈমানের সার্থক স্থানে উপনীত হওয়া যায় না। আর সেই স্থানে উপনীত না হলে মুখের বিশ্বাস, মুখেই থেকে যায়। আর এর বাস্তবতা এও হতে পারে যে অবিশ্বাসী জীবনের যত ধরণের জ্বালা ও ভোগান্তি আছে, মৌখিক অর্থের ‘বিশ্বাসীরাও’ সেগুলো থেকে মুক্তি পাবেন না। যখন ক্রাইম ও ভোগান্তির সয়লাব দু’ তীরেই সমভাবে পাওয়া যাবে, তখন অনেকের কাছে এটাই অনুভূত হতে পারে যে বিশ্বাস অবিশ্বাসে কোনো পার্থক্য নেই -বিশ্বাস যেন নিছক “পরিচিতি”। আজকের এই বাস্তবতা আমাদের সমাজের লোকদের কাজ-কর্ম ও কথাবার্তায় প্রকাশ পাচ্ছে।  কিন্তু এই পরিণতি থেকে কী পরিত্রাণ আছে? অর্থাৎ এই স্থূলধর্মী বা মৌখিক বিশ্বাসের বাস্তবতা থেকে কী মুক্তি পাওয়ার পথ আছে?

হ্যাঁ, আছে। কিন্তু সেই পারপ্তির সম্ভাবনা বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ক্ষীণ বা ক্ষীণতম (হয়ত একটু বেশি নেতিবাচক করে বলছি) । আজ প্রতিকূলতা সার্বিক, বৃহত্তর সমাজের আচরণ ও ধ্যান ধারণা সর্বত্র প্রবল ও প্রভাব-বিস্তারকারী। এত্থেকে বেরিয়ে আসতে পারিপার্শ্বিকতা থেকে যে সাহায্যের প্রয়োজন সেটা পাওয়া যাবে না। কারণ আধুনিকতা সর্বগ্রাসী হয়ে পড়েছে। ধরুন কেউ সেই বিশ্বাসের বাস্তবতা সমাজে প্রতিষ্ঠা করার আওয়াজ তুলল। কিন্তু দেখবেন, আপনিই তখন হয়ত এর প্রথম সমালোচক হয়েছেন। আপনিই আহবানকারীর মধ্যে ছিদ্র দেখবেন। কারণ আপনি হয়ত না-বুঝে গণতান্ত্রিক/সমাজতান্ত্রিক আদর্শের লোক। আপনি সব ধর্মের দোহাই তুলবেন। তারপর এটাই দেখাতে চাইবেন যে ধর্ম-টর্ম করে কোন লাভ নেই, লাভ কেবল নিজ দলের আদর্শিক ভিত্তিতে সেক্যুলার সমাজ প্রতিষ্ঠায়। অথচ আপনার সেক্যুলার ব্যবস্থা বিশ্বকে দোযখ বানিয়ে দিয়েছে কিন্তু তা দেখতে পাচ্ছেন না। আপনি আবার বিশ্বাসের অনুকূলবর্তি শিক্ষা ও নৈতিকতার চরম বিরোধীও হতে পারেন। আপনার ধারণায় হয়ত বিশ্বাসের শিক্ষা বাচ্চাদের মানসিকতাকে “প্রোগ্রাম” করে ফেলে। কিন্তু আপনি যে ‘বিশ্বাসে’ “প্রোগ্রামড” হয়ে আছেন এবং আপনার শ্রেণী ও সমাজ যেভাবে রূপায়িত হয়ে আছে, তাতে কী শান্তি বিরাজ করছে? সামাজিক প্যাথোলজি কী দেখাচ্ছে? আপনি কী আধুনিক সমাজ দর্শনের খোদাহীনতার পরিণতি বুঝতে পেরেছেন?

আজ বিশ্বাসের অভাবে মানুষের মূল্যবোধ অনেকটা উলটপালট হয়ে গিয়েছে তাই তারা যন্ত্রণায় পীড়িত। অবিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত স্বর্গ-সমাজের (আধুনিকতাবাদী) আশা মানুষকে ৩ শো বছরে ধীরে ধীরে এই যে স্থানে হাজির করেছে, তা এক ধরণের দোযখ। আবার যারা এই আধুনিকতার ভিতরে, এই সমাজ-শিক্ষার আওতায় বড় হয়ে নিজেদেরকে “বিশ্বাসী” ভাবছেন, তারাও এই অশান্তির অনল থেকে মুক্ত নন, কেননা এই বিশ্বাস যেন   সেই বিশ্বাসের মত নয়।

[দ্রষ্টব্য: এই লেখায় সামগ্রিকতা দেখাতে দু/একটি স্থানে ‘সাধারণী’ দৃষ্টিভঙ্গি টানা হয়েছে।]

১৪ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. মহিউদ্দিন

    আধুনিক বিশ্ব আসলে প্রধানত পশ্চিমা জড়বাদী বা বস্তুতান্ত্রিক জীবন বিশ্বাসে চলে এবং যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুতগতিতে অবশ্য এ জন্য প্রযুক্তি ও মিডিয়া একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে, যদিও প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও তথ্য প্রবাহের অবাধ বিস্তারের সুযোগ আল্লাহর এক বিরাট নিয়ামত কিন্তু মানুষ এই নিয়ামতকে সঠিকভাবে কাছে লাগাতে না পারায় কিংবা এ প্রযুক্তির চাবিকাঠি সঠিক নেতৃত্বের জন গুষ্টির কাছে না থাকায় হয়েছে এ দুরবস্থা! 

    1. ১.১
      এম_আহমদ

      ভাই, যেটুকু বলেছি তা যেন গদ্য কবিতার ন্যায় সামাজিক বাস্তবতার উপর বিলাপ (lamentation)। আজ পশ্চিমা জড়বাদ, তাদের মিডিয়া ও প্রযুক্তির শক্তি আপাতত এক পাশে রেখে আরও কিছু দেখার প্রয়োজন রয়েছে। আমারা কোথায় আছি তা কি দেখতে হবে না? আমাদের দুর্বলতা কি অন্যের সমালোচনায় ঘোচে যাবে? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কি বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জের উপযোগী স্কলারশিপ ও নেতৃত্ব গড়তে সক্ষম হচ্ছে? আমরা সমালোচনা করি না অপরাপর অনেক বিবেচনায়। কিন্তু কোথাও না কোথাও থেকে সেই আলোচনা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সবাই রাজার রাজত্বে ও ভিন্ন ভিন্ন দলীয় insularity –এর প্রেক্ষিতে এবং, বিশেষ করে, রাষ্ট্রশক্তির প্রতিকূলতায় তা কিভাবে আসতে পারে?

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  2. এম_আহমদ

    আমাদের অশান্তির মূল কারণ হলো আমরা সত্য হতে অনেক দূরে ছিটকে পড়েছি। ধর্ম-কর্ম, কথায় ও কাজে সর্বত্র শুধু মিথ্যার ফুলঝুরি। … মিথ্যা কিন্তু মিশে আছে সবখানে … আর এই মিথ্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদেরকে মূলের দিকে ফিরে যেতে হবে, তা চিনতে ও জানতে হবে। গোড়ায় গলদ থাকলে আগায় পানি ঢেলে কখনোই ভাল ফল মিলবে না।

    কিছু কথা বেশ সুন্দর বলেছেন। তবে যে অংশটি নির্বাচন করেছি সে বিষয়ে আমার কিছু কথা আছে। আমার কাছে “সত্য” বিষয়টি সহজ কথা নয়। অনেক জটিল। আমি কেবল মূলের দিকে ফিরে যাওয়াতে সমস্যার সমাধান দেখি না। মূলে যেতেই তো সমস্যা। বরং রূঢ়ভাবে বলতে গেলে মূল থেকেই তো পার্থক্য উৎসারিত হচ্ছে। আপনি আমার ইসলামী শারিয়া ও বুঝের ভুল,  ধর্ম ও সংস্কৃতিতে পোশাক, প্রতীক ও চিরন্তনতা, মুক্তমনা ও নাস্তিক মিলিট্যান্সি ইত্যাদিতে ভাষার প্রকৃতি, রূপকতা, দ্ব্যর্থতার স্থান, বহুবাচক অর্থ ইত্যাদি নিয়ে অনেক কথা বলেছি, হয়ত দেখে থাকবেন। আমাদের ধর্মীয় দলাদলির স্থান হচ্ছে মূলত কোরান ও সুন্নাহর ভাষার প্রকৃতিতে এবং স্থান ও কালের প্রেক্ষিতে (সকল ধর্মের দলাদলিতেও এমন অবস্থা খোঁজে পাবেন)। এটা এক কঠিন সত্য। আমি ভেবেছিলাম এক সময় এই বিষয়ের উপর একটি পুস্তক প্রণয়ন করব যাতে ব্যাপারটা প্রশস্ত করে এবং সকল দিক ঠিক-ঠাক করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বলা যায়। কেননা কথাটা অমনি শুনলে যে কেউই ক্ষেপে ওঠতে পারে। কিন্তু পার্থক্যের স্থান, বহুবাচক অর্থ, প্রেক্ষাপটের ভিন্নতা ইত্যাদি থাকা সত্ত্বেও কোরান ও সুন্নাহ দলাদলি নির্দেশ করে না। এই সুক্ষ্ণ স্থানটিও ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। ভাষার প্রকৃতি বুঝা, দ্বিমত উপলদ্ধি করা ইত্যাদিতে অর্থের প্রাচুর্য রয়েছে যদিও তা কর্ম-ক্ষেত্রে ঐক্যের বিঘ্নতা সৃষ্টি করে। কেবল “অথোরিটিই” পার্থক্যের প্রেক্ষিতকে প্রতিস্থাপিতরূপে গ্রহণ করে সবাইকে ঐক্যের প্লাটফর্মে স্থাপন করতে পারে। এজন্যই ইসলামী রাষ্ট্র, শারিয়া, শুরা ইত্যাদির সামাজিক অবস্থান। কিন্তু আপনি তো সেখানে যেতে পারছেন না। এখানে ডিম/মুরগির সমস্যা, কোনটি আগে, কোনটি পরে। কেবল কোরান ও সুন্নার দিকে আহবান করলেই সবকিছু ঠিক-ঠাক হয়ে যাবে না। আপনার দ্বিমত যখন কোরান ও সুন্নাহ নিয়েই হচ্ছে তখন আবার কোরান ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যাবার আহবানে কোন লাভ নেই। কোরান তাই “অথোরিটি” নির্দেশ করছে, উলুল আমরদের আনুগত্যের কথা বলছে। এটা বিবেচনার বিষয় [ফা’তাবিরূ ইয়া উলিল আলবাব, হে অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন সম্প্রদায় তোমরা এটা বিবেচনা, এ নিয়ে চিন্তা কর] আমার বৈধ (রাজ)নীতি সিয়াসাহ শারয়িয়্যাতে এ নিয়ে কিছু আলোচনা করেছি।

    ঐক্য বলতে আমি সবার মত পথ (দ্বিমত ইত্যাদি) ছেড়ে দিয়ে “আমাদের দলে চলে আসা” বুঝি না, যেমন সালাফি, আহলে হাদিস এবং আরও অনেক ক্ষুদ্র বৃহৎ ‘একদর্শি’ আংশিকতায় গঠিত ধর্মীয় দল রয়েছেন যাদের কথাবার্তায় তা বুঝা যায়। তাদের শেষ কথা যেন এই, ‘আপনারা সবাই আমাদের সাথে চলে আসুন, তবেই ঐক্য সৃষ্টি হবে।’ আজ রাষ্ট্র, বা অথোরিটির অভাবেও এমন আহবান হতাশা ব্যঞ্জক। আজকে ঐতিহাসিকতা আমাদেরকে যেখানে এনে দাঁড় করিয়েছে সেখান থেকে যার যার স্থানে থেকে ঐক্যের সৌহার্দ ও পারস্পারিক সহানুভূতির ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া উপায় নেই।               

    পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

    1. ২.১
      এম_আহমদ

      জনাব, অযথা খেপলেন। আমি আপনি দলে ভেড়াতে বলেছেন এমনটি তো বলিনি, বরং এটা ছিল আপনার সাথে আমার আলোচনার অংশ মাত্র -আমার অভিমত, উদাহরণ। তবে এখন বলতে পারি আপনি স্পেসিফিক্যালি কাউকে দলে ভেড়ানোর কথা না বললেও আপনার মন্তব্যের “ধারণা” আপনার একার নয়, এমন ধারণা আরও অনেকের রয়েছে, এবং এদিক থেকে এই ধারণার একটি সামষ্ঠিকতা রয়েছে এবং আপনার মন্তব্যে অবশ্যই সেই ধারণার দিকে আহবান বিবেচনা করা যেতে পারে। “সত্য ও মূলের দিকে ফিরে যাওয়া বলতে মূলত আমি আল্লাহর সহজ সরল বিধান কোরআনের দিকে ফিরে যাওয়াকেই বোঝাতে চেয়েছি। এরপর সুন্নাহ ও অন্যকিছু। কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক না হলে কোন কিছুতেই আমার কোন আপত্তি নেই। আর সাংঘর্ষিক হলে সবই আমার কাছে মূল্যহীন” –আপনার “সরল বিধানের দিকে” সবাই কেন যেতে পারছে না? কেন সবাই ‘“সত্য” হতে অনেক দূরে ছিটকে” পড়েছে’?  আমার মনে হয় এটা সার্কুলার বিতর্ক। কেন আপনি বুঝতে পারেন এবং বাকিরা বুঝতে পারে না?

      ‘আল্লাহ অন্য বান্দাদের চয়ন করে নেয়ার’ অর্থটা কি? এখানে, বর্তমানের কোরান ও সুন্নাহর ভিত্তিতে সেই ধারণা আসছে, না আরও কোনো নবী পাঠানোর মাধ্যমে? 

      1. ২.১.১
        sotto

        না ভাই, রাগ করব কেন? সেই দল যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন, আমি তাদের সাথেই আছি যারা আল্লাহর কিতাবের দিকনির্দেশনাকে উপেক্ষা বা অতিক্রম কোরে অন্য কোন পুস্তিকার অনুকরণে বিশ্বাসী নয়। কারণ স্বয়ং আল্লাহতায়ালা তাঁর কিতাবে সেই শিক্ষাই দিয়েছেন-

        (০৬:১১৪) অর্থ- (বল) "তবে কি আমি আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কোন শালিস বা বিচারক অনুসন্ধান করব? অথচ তিনিই তো তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন (হক-না-হক পৃথক করার এবং ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা, ভাল-মন্দের মাঝে ফয়সালা করার মত অকাট্য সত্য নির্দেশ সম্বলিত আলাদা আলাদা অধ্যায়ে বিভক্ত কোরে) বর্ণিত এ কিতাবটি।" এবং আমি যাদেরকে কিতাব প্রদান করেছি, তারা অবশ্যই জানে যে, এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব, তুমি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।
        (০৬:১১৫) অর্থ- এবং তোমাদের প্রতিপালকের প্রতিটি বাণী সত্য ও ন্যায় বিচারে পরিপূর্ণ; তাঁর বাণী সমূহের কোন পরিবর্তনকারী নেই এবং তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
        (১২:১১১) অর্থ- বস্তুত তাদের কাহিনীতে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। এটা (কোরআন) কোন মনগড়া হাদিছ (কথা বা গল্প) নয়, কিন্তু এটি এর পূর্বেকার (কিতাবের) সমর্থন এবং এতে প্রত্যেক বিষয়ের (মধ্যকার হক-না-হক পৃথক করার মত অকাট্য সত্য নির্দেশ/ ফয়সালার) বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে/ প্রকাশ করা হয়েছে এবং এটি পথনির্দেশ ও রহমত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য।
        (৪৫:০৬) অর্থ- এগুলো আল্লাহর আয়াত বা নিদর্শন, যা আমরা আবৃতি করে শুনাই তোমার কাছে সত্যতা সহকারে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর আয়াত বা নিদর্শনের পরে কোন্ হাদিছে (কথায় বা গল্পে) তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে?

        (৪৫:০৬) নং আয়াতের মাধমে মহান আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে হাদিছ কিংবা কোন আয়াতের ব্যাখ্যার সঠিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ণয়ের শিক্ষা দিয়েছেন। আর এই শর্ত অনুসারে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন হাদিছ বা আয়াতের ব্যাখ্যার মূল বক্তব্য আল-কোরআনে উল্লেখিত মৌল নির্দেশ ও নীতির সাথে বিন্দুমাত্র সাংঘর্ষিক না হয় কিংবা মূল ভাবকে উপেক্ষা কোরে ভিত্তিহীন তথ্য, বক্তব্য বা মুখরোচক কাহিনী সাজিয়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা না হয়। যদি আল-কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয় তাহলে বুঝতে হবে যে, সেই হাদিছ বা আয়াতের ব্যাখ্যা সঠিক নয়। সেক্ষেত্রে সেই হাদিছের সূত্র যেমনই হোক না কেন এবং উক্ত তফসিরবিদ যত বড় নামকরা ব্যক্তিত্বই হোক না কেন, হাদিছের সেই বক্তব্য বা সাংঘর্ষিক ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করার তো প্রশ্নই আসে না, বরং অবশ্যই পরিহার করতে হবে। তা না হলে গোমরাহী ছাড়া কিছুই মিলবে না-

        (০২:১৭৫) অর্থ- এরাই হল সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করেছে এবং (খরিদ করেছে) ক্ষমা ও অনুগ্রহের বিনিময়ে আযাব। অতএব, তারা দোযখের উপর কেমন ধৈর্য্য ধারণকারী।     
        (০২:১৭৬) অর্থ- আর এটা এজন্যে যে, আল্লাহ নাযিল করেছেন সত্যপূর্ণ কিতাব। আর যারা কেতাবের মাঝে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে নিশ্চয়ই তারা জেদের বশবর্তী হয়ে অনেক দূরে চলে গেছে।  

        …………………….  

        মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা রাসূল (সাঃ) এর উপরে যে কিতাব নাযিল করেছেন, সেই কিতাবের মৌল নির্দেশনা হুবহু সেভাবেই প্রচার ও পালন করা ছাড়া বিন্দুমাত্র এদিক সেদিক করার বা যোগ-বিয়োগ করার কোন এখতিয়ার সেই নবীকেও দেয়া হয় নাই। তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে যেটুকু স্পেশাল অধিকার দেয়া হয়েছে তা স্পষ্টভাবে কিতাবেই উল্লেখ করা হয়েছে, যেন সুযোগ সন্ধানীরা অপব্যবহার করতে না পারে। এর বাহিরে আল্লাহর নামে অতিরিক্ত কিছু রচনা করার অধিকারও নবীর ছিলনা, বরং কঠোরভাবে হুশিয়ার করে দেয়া হয়েছিল-
        (৬৯:৪০) অর্থ- নিশ্চয়ই এই কোরআন একজন সম্মানিত রসূলের আনীত।     
        (৬৯:৪১) অর্থ- এবং এটা কোন কবির কালাম নয়; তোমরা কমই বিশ্বাস কর।       
        (৬৯:৪২) অর্থ- এবং এটা কোন অতীন্দ্রিয়বাদীর কথা নয়; তোমরা কমই অনুধাবন কর।     
        ধন্যবাদ-
        (৬৯:৪৩) অর্থ- এটা বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ।     
        (৬৯:৪৪) অর্থ- সে যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত,     
        (৬৯:৪৫) অর্থ- তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম,     
        (৬৯:৪৬) অর্থ- অতঃপর কেটে দিতাম তার গ্রীবা।     
        (৬৯:৪৭) অর্থ- তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না।     
        (৬৯:৪৮) অর্থ- এটা খোদাভীরুদের জন্যে অবশ্যই একটি উপদেশ।     

        ………………………….

        আমরা সর্বশেষ নবীর (সাঃ) এর উম্মত। মহান আল্লাহতায়ালা বিশ্বাসীদেরকে তাঁর বিধানের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধুমাত্র নামধারী মুসলিম হয়ে আল্লাহর কিতাবের বিধানকে কম-বেশি করার কারণে আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে। তিনি জালিমদের মোটেই বরদাস্ত করেন না। তাই আমাদের অবহেলা কিংবা অযথা বাড়াবাড়ির কারণে অগত্যা তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে কাদেরকে চয়ন করবেন এবং কিভাবে করবেন, তা তিনিই ভাল জানেন এবং সেই সক্ষমতাও তিনিই রাখেন-

        (০৪:১৩৩) অর্থ- হে মানুষ, তিনি যদি ইচ্ছা করেন, তিনি তোমাদেরকে সরিয়ে দিতে পারেন এবং অন্যদেরকে নিয়েও আসতে পারেন; এবং আল্লাহর সে ক্ষমতা রয়েছে।     
        (০২:৭৯) অর্থ- অতএব তাদের জন্যে আফসোস! যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ-যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে।     

        ……………………………..

        অনেক বলে ফেললাম। মনে কষ্ট পেলে ক্ষমা করবেন। ধন্যবাদ-

      2. ২.১.২
        এম_আহমদ

        @sotto:

        জনাব সত্য সাহেব, আমি আপনার আর্গুমেন্ট ধরতে পারছি না। আপনি যে আয়াতগুলো উল্লেখ করেছেন মুসলিম বিশ্ব কি এগুলো না বুঝার কারণে দলে দলে বিভক্ত, না এই আয়াতগুলোর সমঝ ও ব্যাখ্যার ভিন্নতার কারণে? শুধু এই আয়াতগুলো আপনার উপস্থাপনেই আপনার সমঝ ও ব্যাখ্যার অবস্থান প্রকাশ করছে। যেমন এখানে ‘হাদিসের’ অর্থ বলতে আপনি যে রিং আরোপ করেছেন সেটা আপনারই রিং। আমার এখন বিতর্কের ইচ্ছা মোটেই নেই। তবে সারাংশে অনেক কথা বলেছেন, সেগুলো তো সকলেই কথা। সকল দলই বলে কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ফিরতে হবে, আল্লাহর বিধানকে মানতে হবে। কিন্তু তবুও কেন এত দল? আবার উল্লেখ করি, “সরল বিধানের দিকে” সবাই কেন যেতে পারছে না? কেন সবাই ‘“সত্য” হতে অনেক দূরে ছিটকে” পড়েছে’?   কেন আপনি বুঝতে পারেন এবং বাকিরা বুঝতে পারে না? এখনও কিন্তু সেই সার্কুলার কথা হচ্ছে। “আমরা সর্বশেষ নবীর (সাঃ) এর উম্মত। মহান আল্লাহতায়ালা বিশ্বাসীদেরকে তাঁর বিধানের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন” –এসব কথা সকলেরই।
        এই প্রসঙ্গ ছাড়া অন্য কোনো কথা থাকলে বলতে পারেন। এটা এখানেই থাক। ধন্যবাদ।

  3. এম_আহমদ

    @sotto:

    জনাব সত্য। আপনি বাদ দেবেন না। আমি যদি আপনার হাদিসে ‘রিং’ আছে বলে উল্লেখ করি, সেটা আমার অবজারভেশন, এতে আপনাকে ‘কোনো দোষে দুষ্ট, অথবা দোষমুক্ত’ কোনোটি বুঝায় না। আপনি বার বার ভাষার ব্যবহারিক রূপ বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন আর এই অবস্থায়ও কোরানের মত একটি মহান পুস্তকের সমঝ নিয়ে উদ্ধৃতি মারছেন। ‘হাদিস’ বলতে এখানে কোরান কাদের কথা কোন প্রসঙ্গে বলছে? এটাকে সামনে রেখে দুনিয়ার সকলের কথা বাদ দেয়া এবং জ্ঞানী, আলেমা ওলামা – এমন সকলের কথাও বাদ দেয়ার অর্থ হয়? এখানে কি নবীর হাদিসও অন্তর্ভূক্ত?

    তারপর ‘যারা তারার’ নামে একটি প্রেক্ষিত তৈরি করে আমাকে উপদল সমর্থনের বয়ান শুনাচ্ছেন, আর আয়াতের পর আয়াত শুনাচ্ছেন, এতে আপনার কোরানের জ্ঞান প্রকাশ পাচ্ছে না। মানুষ কেন কোরান থেকে ভিন্ন অর্থ গ্রহণ করবে সেই উত্তরের স্থান হচ্ছে কোরানের টেক্সটের প্রকৃতি, প্রসঙ্গ ও পটভূমির সমঝ উপলব্ধির উপর। আপনার আলোচনায় এসবের কোনো স্থান নেই, ধারণাও নেই। এতে সততই প্রকাশ পায় যে ভাষা বিজ্ঞান, অর্থ ও অর্থ গ্রহণের সাইকলোজি সম্পর্কে  আপনার কোনো দখল নেই। তাই যা জানেন না তাত্থেকে চোখ বুজে ‘কিতাব ছেড়ে অন্য কিছুকে প্রাধান্য বলে’ উড়িয়ে দিয়ে বাইবেল থামারদের মত প্রসঙ্গ-বহির্ভূতভাবে উদ্ধৃতির ফুলঝুরি ছাড়ছেন। আপনি বার বার যা করছেন, তাতে কী ধরে নেবো, আপনি কি আমাকে কোরান শেখাচ্ছেন? আমি স্ট্রিট কর্ণারের ধর্মীয় বয়ান শুনি না। আপনি পথভ্রষ্ট হোন অথবা কোরানের নামে নতুন কোনো দলের লোক হোন, তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। যাদেরকে আপনি দল, উপদল ভেবে থাকতে পারেন, তারাও কোরানে ও সুন্নায় ফিরে যাওয়ার বয়ান করে। আপনি এসব বাস্তবতার অর্থ বুঝতে পারেননি। আপনার কাছে একমাত্র বয়ান হচ্ছে বাপদাদাদের ধর্মীয় পথ অবলম্বনের বয়ান। কোরান নাজিলের যুগে সমাজ তাওহীদ, রেসালাত ও আখেরাতের উপর ছিল না। সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থের পার্থক্যগত স্থান বাহিরে রেখে আমার সাথে কোনো আলোচনার দরকার নেই। ভাল থাকুন।

    1. ৩.১
      sotto

      @ এম_আহমদ
      জনাব, এত প্রশ্ন নিয়ে আপনি পথ চলেন কেমনে? তাও আবার ঘুরে ফিরে একই ধরনের প্রশ্ন। এমন হলে তো আসল পথ ছেড়ে নকল পথে হারিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।‘

      ’হাদিস’ বলতে এখানে কোরান যা বলছে- আমিও তাই বলছি। আপনি নিজেই বুঝতে না পেরে বার বার একই কথা ও প্রশ্ন আওড়াচ্ছেন।
      আমি তো আগেই বলেছি- //কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক না হলে কোন কিছুতেই আমার কোন আপত্তি নেই। আর সাংঘর্ষিক হলে সবই আমার কাছে মূল্যহীন। আর যদি এ দুয়ের মাঝে থাকে তাহলে তা পরতে পরতে পরখ করে দেখতে আমি বদ্ধপরিকর।//

      কোরানের টেক্সটের প্রকৃতি, প্রসঙ্গ ও পটভূমি নিয়ে আপনি মহা দন্দে আছেন!? থাকবারই তো কথা। কারণ আপনি তো আমার চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞান রাখেন। আমি মুখ্য মানুষ বিধায় সোজা কথা সহজভাবে বুঝে নিতে আমার কোন অসুবিধা হয়না। স্পষ্ট ও স্বচ্ছ কোরআনের কথা স্ট্রিট কর্ণারে হোক বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটরিয়ামে হোক- আমি শুনি। কিন্ত তাই বলে ভাষা বিজ্ঞান, অর্থ ও অর্থ গ্রহণের সাইকলোজির প্যাঁচ কোষে তথাকথিত জ্ঞানী, আলেমা ওলামা ও নবীর হাদিছের নামে ফাঁকা বয়ান আমার আবার ধাতে সয়না।

      কোরান নাজিলের যুগে সমাজ তাওহীদ, রেসালাত ও আখেরাতের উপর ছিল না- আর এখন তো থেকেও না থাকারই মত। তখন দু-চারটে দল ছিল, আর এখন তো অগনিত। তাই আমি কোরানে ও সুন্নায় ফিরে যাওয়ার বয়ান করিনা, বরং আমি আগে কোরআনের দিকে ফিরে যাওয়ার কথা বলি, তারপর সুন্নাহ ও অন্যকিছু। কিন্তু তাও আবার সাংঘর্ষিক হলে চলবে না।
      ধন্যবাদ- শুভকামনা।

      1. ৩.১.১
        এম_আহমদ

        @sotto:

        (১) দেখেন, আপনি এখানে ফাতরামি করছেন। আপনার প্রথম কথা ছিল সত্য ও মূলের দিকে প্রত্যাবর্তন। আমি বলেছি যে কোরান সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়ার কথা সব দলই বলে থাকে। মানুষের চিন্তা ও সমঝের পার্থক্যের স্থান অনেক জটিল এবং বিশেষ করে টেক্সটের পাঠ ও অর্থ গ্রহণে। আমি “সত্য” বিষয়টিও জটিল বলেছি। আপনি বলছেন আপনি ‘মুখ্য’ লোক। কিন্তু এই মুখ্যতা নিয়ে কেন বিতর্ক করবেন? আপনার কাছে যা পানির মত সহজ তা অন্যদের কাছে নাও হতে পারে।আমি মানুষের পার্থক্য বিসর্জন দিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠার কথা বলতে পারি না –কেননা এটা মূখ্যদের কাজ। এই কথাই ব্যাখ্যা করেছি। কোরান সুন্নাহর ভাষার প্রকৃতির কথা বলেছি। ভাষা বিজ্ঞানের কথা বলেছি। আপনি এসব বুঝতে পারেননি। উলটা ১৫/২০ খানা আয়াত উদ্ধৃতি করে যা বুঝেননি তা’ই আমাকে বুঝাতে চেয়েছেন। আপনার দৃষ্টিতে সব দল বাপদাদার পথ ত্যাগ করে ‘মূলের’ দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। কিন্তু যাদের বাপদাদা এবং যাদের সন্তানগণও যখন এই একই মূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করার ওয়াজ করে, তখন সেখানে যে ‘মূল’ বিষয়টিই আলোচ্য বিষয় হয়ে পড়ে এই কথাটি আপনি বুঝতে পারছেন না। এখানে ভাষা বিজ্ঞান, টেক্সটের প্রকৃতি, মানুষের সমঝ ও সমঝের প্রকৃতি যে আলোচ্য হয়ে পড়ছে, এইটুকুও আপনার বিবেচনায় নেই।

        (২) আমি যদি ‘হাদিসের’ অর্থ ‘না বুঝে’ প্রশ্ন করে থাকি, তবে আপনি তো তার উত্তর দেবেন। আমি কি কোরানের সাথে হাদিসে সাংঘর্ষিক বিষয়ে প্রশ্ন করেছি? প্রশ্ন আবার পড়েন। আপনি ভাষার অর্থ বুঝবেন না, প্রশ্নের প্রেক্ষিত বুঝবেন না, কিন্তু বিতর্ক করতে থাকবেন, কেন? আবার, পালটা প্রশ্ন করলে বলবেন, ‘এত প্রশ্ন নিয়ে আমি চলি কিভাবে?’ আমি কিভাবে চলি সেটা কি আপনার কাছে জবাবদিহি করতে হবে? আপনি ‘মুখ্য’ লোক হলে আমার কোনো অসুবিধা নেই যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে যন্ত্রণা দিতে না আসবেন। যারা ভাষা বিজ্ঞান, অর্থ ও অর্থ গ্রহণের সাইকোলজির প্যাঁচ বুঝতে ব্যর্থ এবং যারা জ্ঞানী, আলেম-ওলামাদেরকে বাদ দিয়ে মুর্খামির মাধ্যমেই কোরান বুঝতে চায় আপনি তো তাদের সাথেই কথা বলবেন। আপনি স্ট্রিট কর্নারের কথা শুনেন ওটাই আপনার সমাজ হতে পারে -এতেও আমার কোনো আপত্তি নেই। নবীর হাদিস যখন আপনার কাছে ‘ফাঁকা বয়ান’ এবং এই ফাঁকা বয়ান যখন আপনার ধাপে সয় না, তখন আমার সাথে কথা বলবেন কেন? আপনার কি খেয়ে ধেয়ে কোনো কাজ নেই?

        (৪) কোরানের টেক্সটের প্রকৃতি, প্রসঙ্গ ও পটভূমি নিয়ে আমি কোন কোন দ্বন্দ্বে আছি এবং সেগুলো কিভাবে ‘মহা’ প্রকৃতির হয়ে ওঠে? এগুলো একটা একটা করে উল্লেখ ও ব্যাখ্যা করুন। আপনার ঔদ্ধত্য তো চরম।

        (৫) আপনি কোরান ও সুন্নায় ফিরে যাওয়ার বয়ান করেন না, আগে কোরআনের দিকে তারপর সুন্নাহ ও অন্যকিছু। কিন্তু তাও আবার (সুন্নাহ কোরানের সাথে) সাংঘর্ষিক হলে চলবে না। আপনাকে আগে একবার প্রশ্ন করেছিলাম, আপনি কোন মহাবিদ্যালয় থেকে ইসলামের তালিম গ্রহণ এখানে এসে তৎপরতা চালাচ্ছেন, কিন্তু সেই উত্তর না দিয়ে শুধু বলেছিলেন যে আপনার লেখায়ই সেই ইঙ্গিত পাওয়া যাবে, বা এমন ধরণের কিছু। আমি বলেছিলাম, আমি তো কোন ইঙ্গিত পাই নি। এবারে সেই একই প্রশ্ন আবার করছি, আপনি কি হাদিসের   সঠিক/বেঠিকের এনালিসিস ও নির্ধারণের যোগ্য লোক? কোন হাদিসের গ্রন্থ আপনার কাছে সহিস? কোনো বিশেষ গ্রন্থ যদি না থাকে, তবে আপনি কি নিজে সহিস হাদিসের কোনো সংকলন করেছেন?

        (৬)আপনি কি কোরান ছাড়াও নবীর বাণীকে ধর্মের অংশ মনে করেন?

  4. মুহাম্মদ হাসান

    সূরা ৪৫:৬ এর একটু ব্যাখ্যা এখানে  করেছিলাম, দেখতে পারেন (http://www.shodalap.org/muhammad-hasan/24730/)।

  5. এম_আহমদ

    @sotto:

    আপনার কথার উত্তর স্কয়ার বন্ধনীর ভিতরে দেয়া। যাবেন তো এগুলো শুনে যাবেন।

    মি. ঘুরে ফিরে বারবার একই প্রশ্ন করা [কারণ হচ্ছে মূর্খ যখন উত্তর দিতে পারে না, তখন তাকে আগের কথা বার বার বলতে হয়। আরবরা বলে 'আত-তিকরারু ইউয়াল্লিমুল হিমার/পুনরুক্তি গর্দভকেও শেখাতে পারে। ] ও কথা বলাও কিন্তু একটা সাইকোলজিকাল সমস্যা [মানব-গর্দভকে লক্ষ্য করে সমাজ বলে থাকে  ‘নাচতে না জানলে ওঠানের দোষ। আপনি বিদ্যা অর্জন না করে বিদ্যাকেই দোষ ভাবেন। গর্দভ আর কে হতে পারে] । যাদের এই সমস্যা আছে তারা কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করাকে ফাতরামো ভাবতে পারেন! [না, মিথ্যা বলছেন, নিজের জন্য convenient কথা ‘বানিয়ে’ নিয়েছেন। এখানে কোরানের আয়াত নয়, বরং আপনি হচ্ছেন সমস্যা। টেক্সটের প্রকৃতি, প্রসঙ্গ ও পটভূমিকে সমস্যা ভাবা, এই সব বিদ্যাকে কোরানের সমঝের সাথে সাংঘর্ষিক ভাবা, অপরকে দল-উপদলের সমর্থক ভাবা, যারা 'মূলের' উপর আছে তাদেরকে আবার মূলের দিকে ফিরার আহবান –এসব এবং কোনো একটি বিষয়কে না বুঝে অন্য বিষয়ের সাথে জোড়ে দেয়া -এগুলোতেই হচ্ছে ফাতরামির স্থান। এই কয়টি মন্তব্যে এধরণের ভাষিক অনেক বিভ্রান্তি দেখিয়েছেন। হাদিসের রিং থেকে পড়ে দেখুন। এতকিছুর পরও বিতর্ক করে যাচ্ছেন, কোরান শেখাচ্ছেন।] কারণ তারা তো নবীর বাণীর নামে কিছু পেলেই আল্লাহর বাণী কোরআন কি বলে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই সেই হাদিছকে ইসলাম ধর্মের অংশ হিসেবে মেনে নিতে অভ্যস্ত। [আপনি ধাপ্পাবাজ। আমি কোরানকে “ভ্রুক্ষেপ” করে হাদিস মানার প্রশ্ন করি নি। আপনি ভ্রুক্ষেপকে “সংযুক্ত” করে এখানে হাদিস না-মানা কোরান-অনলি মূর্খদের ধারণা reverberate করে এই প্রেক্ষিতে হাদিস ইসলাম ধর্মের অংশ  নয় বলতে চাচ্ছেন। আপনি কোথায় এসেছেন? কাদেরকে ধোঁকা দিতে চাচ্ছেন? আপনার ধারনা কি আমাদের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে না?] এটাও কিন্তু একটা মহা সাইকোলজিকাল সমস্যা [আপনার বটে!]। যাদের এ সমস্যা আছে তারা হয়ত বুঝতেই পারেন না যে, মহাবিদ্যালয় থেকে নেয়া তালিম ও সার্টিফিকেট তাদেরকে মূল থেকে অনেক দূরে ও জটিল পথে নিয়ে যাচ্ছে [বিদ্যা অর্জন বুঝি কোরান থেকে মানুষকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে? কোরানও বুঝি বিদ্যা অর্জনের বিপক্ষে? বিষয়টি আর কত নীচে যেতে হবে? মুর্খামি যখন আপনার বিদ্যা হয়ে পড়েছে, তখন নিজের ‘গর্তেই’ থাকুন, অন্যদেরকে বিদ্যা দেবার স্পর্ধা দেখাবেন না]। সেইদিন তাদের এই সার্টিফিকেটের অহংবোধ তাদের মুখের সামনে ছুঁড়ে ফেলা হবে [যে আলিমদের প্রশংসা কোরানে এসেছে, তাদেরও কিয়ামতে উলটা অপদস্থ করবেন –এটা মুর্খামি। বিদ্যা আপনাতেই অহংকার হয়ে পড়ে না। মুর্খামিকে ধারণ করে বিদ্যার ব্যাপারে এই হচ্ছে আপনার অবস্থান! আপনি একজন ফালতু লোক। পড়াশুনা নেই, কিন্তু বিদ্বান! এটা তো আপনারই অংহকার, না জানার কারণে তা বুঝতে পারছেন না]। কোরানের টেক্সটের প্রকৃতি, প্রসঙ্গ ও পটভূমি নিয়ে কিছু দন্দ কিংবা ছন্দ থাকতেই পারে [আমার প্রশ্ন কি এটা ছিল? কোরানের টেক্সটের প্রকৃতির সাথে কোরানের দ্বন্দ্ব থাকতে পারে? কী রে মূর্খ! সেগুলো যে কি তা কি বলতে হবে না? প্রশ্ন এতো এখানেই ছিল]। কিন্তু সেটা মূলে ফেরার জন্য মোটেই কোন অন্তরায় নয় বলেই আমি বিশ্বাস করি। [তারপর আমি কোন কোন দ্বন্দ্ব আছি –এই প্রশ্নের উত্তর কই? শুনেন, এসবই হচ্ছে ফাতরামি, আপনি বুঝতে পারছেন না। উলটা কোরান পাঠকে জড়াচ্ছেন।  প্রশ্নও বুঝবেন না উত্তরও দিতে পারবেন না, উপরন্তু কেন বার বার প্রশ্ন করা হয় এটাও ধরতে পারেন না, এমন অবস্থায় কোরানের পণ্ডিত এবং বিতার্কিক!] সার্টিফিকেটধারী ফাঁকা ও জটিল বয়ান এবং বাপদাদার পথ ত্যাগ করতে না পারলে মূলের দিকে ফেরার কথা বলা কবি- সাহিত্যিকদের কল্পনা মাত্র এবং এটাই মূল সমস্যা [যাদের বাপদাদা মূলের উপর আছে তারা কোন্‌ মূলের দিকে ফিরবে? তাও আবার করতে না পারলে বুঝি তারা কবি ও সাহিত্যিক হয় ওঠে? কত্তবড় মূর্খ!] মনে রাখবেন, মুর্খামির মাধ্যমে যেমন কোরআন বোঝা যায় না, [এটি তো আমারই কথা। কোরানের ভাষা বুঝতে হবে, তার পটভূমি বুঝতে হবে, রাসূলের ব্যাখ্যা বুঝতে হবে, হাদিস মানতে হবে, সাহাবিদের ব্যাখ্যা বুঝতে হবে। এইসব বিদ্যা মাধ্যমেই সার্টিফিকেট পাওয়া যায়, সার্টিফিকেট হচ্ছে তার অর্জনের প্রমাণ] তেমনি সার্টিফিকেট গলায় ঝুলিয়েও তা সম্ভব নয় [আপনি পথে পা বাড়াননি, সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারেন নি -একজন ব্যর্থ ভ্যাগাবণ্ড। সার্টিফিকেট আপনার কাছে মূল্যহীন এটা আপনার ব্যাপার কিন্তু জন্য বিদ্যার অঙ্গন বর্জিত হতে পারে না]। যারা এমনটি করেন- তারা হয় নাস্তিক হয়ে যান, নয়ত স্বার্থবাদী ধর্মান্ধ সেজে দিন কাটান [বিদ্যা অর্জনের সাথে নাস্তিকতার সম্পর্ক নেই, এটা আপনার গোয়ার্তমি ধারণা। এটা কোরানের ধারণা নয়। বিদ্যা অর্জন করলেই মানুষ স্বার্থান্বেষী হয়ে পড়ে না। এটাও কোরানের ধারণা নয়। আপনি নিরেট পাগল। এসব হচ্ছে আপনার প্রলাপ]। একদল [কোন্‌ দল?] কোরআনকে সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করেন, [কোন দল কোরানকে “সম্পূর্ণরূপে” বর্জন করেছে? –আপনি তো লাগছে একজন মানসিক রুগী] আর আরেকদল নিজেদের মতবাদকে কোরআন হিসেবে প্রচার করতে গলদঘর্ম হন, কোরআনের সরল বাণীি তখন তাদের আর ভাল লাগেনা। [তারা কারা এবং তাদের কোন কোন ধারণা ‘কোরান হিসেবে’ প্রচার করেছেন?]।  আমার কথা তো আপনার কাছে ফাতরামো ঠেকছে- তাই আপানতত 'সালাম'  [একটা পাগল দরজা থেকে সরে পড়লে আল্লাহর শুকরিয়া।]

  6. আহমেদ শরীফ

    যে বিশ্বাস জীবনে শান্তি আনবে, সেই বিশ্বাস আজ কতটুকু আছে? আমার দৃষ্টিতে নেহায়েত কম। এই বিশ্বাস চাষ করতে হয়; শিক্ষা-দীক্ষায় পেতে হয়; সাধনা-তপস্যায় অর্জিত হতে হয়। বাচ্চা-বয়স থেকে মনোমানসিকতা সেভাবে প্রোগ্রাম করতে করতে হয়। তা না হলে, বিশ্বাস মুখেই থেকে যায়, অথবা ভিতরে প্রবেশ করা কঠোর সাধনা সাপেক্ষ হয়। এটা না করলে বিশ্বাসের সার্থক স্থানে উপনীত হওয়া যায় না। আর সেই স্থান উপনীত না হয়ে মুখের বিশ্বাস, মুখেই থেকে যায়। আর এতে বাস্তবতা এও হতে পারে যে অবিশ্বাসী জীবনের যত ধরণের জ্বালা ও ভোগান্তি আছে, মৌখিক অর্থের ‘বিশ্বাসীরাও’ সেগুলো থেকে মুক্তি পাবেন না। যখন ক্রাইম ও ভোগান্তির সয়লাব দু’ তীরেই সমভাবে পাওয়া যাবে, তখন অনেকের কাছে এটাই অনুভূত হতে পারে যে বিশ্বাস অবিশ্বাসে কোনো পার্থক্য নেই -বিশ্বাস যেন নিছক “পরিচিতি”। আজকের এই বাস্তবতা আমাদের সমাজের লোকদের কথাবার্তায় আমরা দেখতে পাচ্ছি।

     

    খুব সুন্দর লিখেছেন।

    একদম আসল জায়গায় ফোকাস করা হয়েছে। মূল সমস্যাই হচ্ছে 'ঈমান' এ। এটি যারা উপলব্ধি করতে পারবেন না বা চাইবেন না তিনি জন্মসুত্রে মুসলিম বা অমুসলিম যেই হন না কেন _ সাধারণভাবে ইসলামের আসল রহস্য বুঝতে সক্ষম হবেন না।

    একচুয়ালি ইসলাম একটা সুনির্দিষ্ট জীবনবিধান, একটা সবিশেষ পদ্ধতির নাম। এই পদ্ধতির আনুগত্য করতে করতেই ধীরে ধীরে সব পরিষ্কার হতে থাকে। আল্লাহর পরিচয় লাভ, আখেরাতের বাস্তবতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হওয়া, সুন্নাতের পরিচয়, আমাল ও আমালের ইহ-পরজাগতিক পরিণাম সম্মন্ধে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা _ এসব ইসলামের আন্তরিক একনিষ্ঠ অনুসরণের মাধ্যমেই একমাত্র লাভ হওয়া সম্ভব। ইসলাম এমনই প্রত্যক্ষ ব্যবহারিক একটি পদ্ধতি।

    প্র্যাক্টিসিং ইসলাম থেকে যারা দূরে থাকেন বা যারা পুরোপুরিই অবিশ্বাসী তারা হাজার লক্ষ বইপত্র পড়েও যে ইসলামের জগতে প্রবেশ করাই সম্ভব নয় ধারণা তো দূরের কথা _ এই সত্যটি দূর্ভাগ্যজনকভাবে উপলব্ধি করতে কিছুতেই সক্ষম হন না। সক্ষম হওয়ার কোন প্রশ্নও ওঠে না কারণ সেটি একটি অসম্ভব চেষ্টা। হেদায়েতের গোপন দরজা খোলা আল্লাহ ছাড়া আর কারো পক্ষেই সম্ভব নয়, সেই দরজা খোলার জন্য বান্দার আনুগত্য, ত্যাগতীতিক্ষা, কুরবানি শর্ত।

    দুনিয়ার অন্যান্য বিষয়ের মত এখানেও একনিষ্ঠ কষ্টসাধ্য সাধনার বিনিময়ে মিলবে ফল, সাধনা নেই তো হেদায়েতও নেই। আল্লাহর নিজেরই কথা _ 'ওয়াল্লাজিনা জাহাদু লানা ফি না, লানাহদিয়াল্লাহুম সুবুলানা'। অর্থাৎ 'যে আমার পথে মুজাহাদা(বিধিবদ্ধ নিয়মে কষ্ট-সাধনা) করবে তার জন্যে হেদায়েতের সমস্ত রাস্তা(আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছানোর সঠিক রাস্তা) আমি খুলে দেব।'

    1. ৬.১
      এম_আহমদ

      @আহমেদ শরীফ: ভাই, সালাম ও রমজান মোবারাক। দোয়ায় একটু স্মরণ করবেন। তাৎপর্যপূর্ণ এই মন্তব্যটির জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  7. এম_আহমদ

    আধুনিক জীবনের অর্থটা কীরূপ? এই ভিডিওটি দেখুন।

Comments have been disabled.