«

»

Jan ২৭

হেজবুত তাওহীদ – উম্মাহ বিচ্যুত এক ভ্রষ্ট ধারা

20170126 ponni ver.2ভূমিকা

একজন সাবেক সেক্যুলার রাজনীতির নেতা, একজন ঐতিহাসিক জমিদার পরিবারের লোক,  একজন বন্য পশু শিকারী, রায়ফেল হাতে দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে শিকারের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি, ‘বাঘ-বন-বন্দুক’ নামক পুস্তক প্রণেতা, একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বায়েজীদ খান পন্নী (১৯২৫-২০১২), যিনি  'বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য  করেও কোন সফলতার মুখ দেখেন নি',  তিনি জীবনের শেষভাগে এসে মুসলিম বিশ্বের মূল ধারা বিবর্জিত হয়ে হেজবুবত তাওহীদ নামে একটি দল গঠন করেন এবং ‘মোজেজার’ মাধ্যমে আল্লাহ তাকে বিশ্ব মুসলিমের ইমাম’তি' দিয়েছেন বলে দাবী করেন। তার বক্তব্য ইসলাম ধর্ম নাকি সমূলে বিকৃত হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়। এই ধর্ম বিগত ১৩ শো বছর ধরে বিকৃত। বিশ্বের ইসলামবিহীন১৬০ কোটি নামের-মুসলিমতার ইমামতি স্বীকৃতির মাধ্যমে আবার হেদায়াতে ফিরে আসতে পারেন। তার দরজা দিয়েই এখন মুহাম্মাদের (সা) ধর্মে ঢুকতে হবে। কেননা তিনি আল্লাহ মনোনীত এমাম

যদিও কোরান হাদিসে মোজেজার মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমের নেতা বা ইমাম হওয়ার কোন দলিল নাই এবং চার খলিফার কেউই মোজেজার মাধ্যমে নিয়োজিত হন নি এবং এই উম্মাহ সমূলেইসলাম-বিবর্জিত পথভ্রষ্ট হবে এমন কথা কোরান হাদিসে নাই; উলটা কিয়ামত পর্যন্ত সত্যের উপর থাকার দলিল রয়েছে। সুতরাং পন্নী সাহেবের অল্প বিদ্যার আন্দোলন এক ভয়ংকর ফিতনার বিষয় হয়েছে। 

বায়েজীদ পন্নী ২০১২ সালে মরে গেলেও তার প্রচারিত ফিরকা বা ধর্মের কিছু প্রচারক মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিশদগারকে তাদের ফিতনা প্রচারের কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বাংলাদেশে কেউ তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে গেলেই মিথ্যা এলজাম (লেভেল) অর্পণ, অতি পরোক্ষ ও সূক্ষ্ম হুমকি, তীর্যা এমন কি মামলা-হামলার উল্লেখ করে তাদেরকে চুপকরে দেওয়ার কৌশল দেখা যায়।

বেশ কিছু কাল থেকে তাদের কয়েকজন প্রচারক বৈশ্বিক ঘটনা প্রবাহের অবতারণায় মুসলিম বিশ্ব বিকৃত, ভ্রষ্ট, বিপথগামী, আল্লাহ পরিত্যক্ত, অভিশপ্ত ইত্যাদি ধারণা সদালাপে প্রচার করতে দেখা যায়। আমাদের চোখের সামনে দম্ভের সাথে উম্মাহ-বিশদগার ও মিছামিছি বর্ণনায় মুসলিম বিশ্বের বিরূপ চিত্রায়ন দেখতে দারুণ দৃষ্টিকটু মানায়।

ইদানীং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা নিয়ে তারা একটি বিস্ময়কর এবং চরম আপত্তিকর কথা উত্থাপন করেছেন। এই বিশ্বের আনাচে কানাচে যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন এবং  এই কাজে যেসব মুসলমানরা মেহনত করছেন উভয়টিই বেহুদা। গোটা জিনিসটিই নাকি অযৌক্তিক! এই ধর্মান্তর স্থগিত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কারণ আগে পন্নীর এমামতি’ আসতে হবে। এর মাধ্যমে বিপথগামীতার মধ্যে বিভেদরেখা টানা হবে! এর সাথে আরও নাদানি যুক্তি রয়েছে। তাদের ধারণা মুসলিমদের চলতি ভ্রষ্ট ধারায় নতুন মুসলমান হওয়া এবং সংখ্যা বৃদ্ধিতে সম্মান ও প্রতিপত্তি বাড়ছে না, মানব জাতীর কোন লাভ হচ্ছে না। বরং সংখ্যার সাথে সাথে কেবল একটা জিনিসই বাড়ছে- সেটা হচ্ছে মুসলিমদের প্রতি নির্যাতন, নিপীড়ন, লাঞ্ছনা আর অপমানের মাত্রা।

এই ধরণের বালখিল্য, শিশুসুলভ, ধর্মজ্ঞানহীন, পন্নী বিভ্রান্তির প্রচারণা দেখলে কে কতটুকু নীরব থাকতে পারবে সেটাই হয় কথা। আবার কাদের সাথে কোন ভাষায় কথা বলা হবে এবং কোন ধরণের যুক্তি প্রয়োগ করা হবে, সেটাও জটিলতায় কম নয়। 

গত ১২/১৪ দিন আগে পন্নীদের ব্যাপারে একটি লেখা প্রকাশ করি (লিঙ্ক এখানে)। এটা নাকি অপপ্রচারহয়েছে। এর সাথে সদালাপও প্রলিপ্ত (implicated) যা পরে দেখানো হবে। তবে আমাকে চুপ" থাকতে হবে।

তারা একটি জবাবও লিখেছেন। এতে ‘অপপ্রচার’ বলে যা চিহ্নিত করে জবাব সাজিয়েছেন সেগুলো আবার সামনে আনলে দেখা যাবে ঘটনা উলটা, স্ত্য নয় – বরং অপব্যাখ্যা। তাদেরই  এলজাম দেয়ার “অপকৌশল”।

আমরা এখন পন্নী ফিতনার অসার জবাব সম্বলিত লেখাটি বিবেচনা করতে যাচ্ছি।

পন্নীবাদীদের জবাব  

জবাবনামক লেখাটি ছিল সুদীর্ঘ। বেশিক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকাতে পারি না বলে লেখাটি প্রিন্ট করলে দেখা গেল মাশাল্লাহ ১২ পৃষ্ঠার দস্তাবেজ কিন্তু হলেই বা কী যদি যথাযথ (to the point) হত। আমাদের কথা সেই প্রিন্টেড কপি সামনে রেখেই আসবে। 

লেখাটির প্রথম ৭ পৃষ্ঠা আদম সৃষ্টির বয়ান ও ব্যাখ্যা। এই এছলাম সেই এছলাম নয় এই কাহিনী সম্বলিত। মুসলিম উম্মাহ মুসলিম থাকে নাই। এরা আর মুমিন জাতি নয়!! কীযে ফিতনা! লক্ষণীয়, এমন ধারণা ও বর্ণনায় কুফরি রয়েছে। সর্বোপরি গোটা বয়ান হচ্ছে আবালের ইতিহাস দর্শন ও অনভিজ্ঞের ধর্ম প্রচার। ঈসায়ী ধর্মের আনাড়িদের যুক্তিচর্চার মত –“ঈশা কি মিথ্যাবাদী না আল্লাহর পুত্র?” তিনি কোনোটিই নন। কিন্তু নাদানের সেই জ্ঞান নেই। অনুরূপভাবে আনাড়ি যুক্তিতে চলেছে মুসলিম বিশ্বের আলেমদের উপর সাধারণী মাত্রার বিশদগার, মুসলিম বিশ্বকে বিকৃত, ভ্রষ্ট, ‘অমুসলিমবলা আর গুল্ম প্রহার’ (beating the bush)

সব কিছুর পরতে পরতে রয়েছে পন্নীবাদের ভুল পাঠ, বালখিল্য, গাভীর প্রস্রাবে ভাসমান পাতায় উপবিষ্ট কীটের সামুদ্রিক নাবিকবিদ্যা (navigation)! কত যে ভুল! এসব নিয়ে পরে লিখব বলে আশা রাখি, ইনশাল্লাহ। Now let me get the primary matter out of the way. 

অবশিষ্ট ৫ পৃষ্ঠার দুই পৃষ্ঠা ব্যাপী মোজেজার ভুল বয়ান আর অর্ধ-পৃষ্ঠায় ফুট-নোট, অর্ধ-পৃষ্ঠায় তার “দলের” ভুল ব্যাখ্যা আর বাদ বাকীতেও সংযোজিত হয়েছে 'মুসলিমনামধারীদের' উপর আরও কিছু বিশদগার।

অতঃপর যে অংশে আমার লেখাকে এড্রেস করা হবে সেখানে যাওয়ার আগেই লেখকের বেলুনের বাতাস যেন নিঃশেষ হয়ে আক্রোশ ও দাম্ভিকতায় প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এটা না পয়েন্টগুলো বুঝতে সাহায্য করেছে আর না যথার্থ উত্তর দিতে। যে কয়টি উত্তর দেয়া যাবে বলে তারা মনে করেছিলেন সেগুলো অপর্যাপ্ততা, অর্থহীনতা ও আক্রোশি ভাষায় খেই হারিয়েছে। জবাবের কথাগুলো নিম্নরূপ:

(১) আমাদের কথা ছিল পন্নীর দল একটি ফিরকা

পন্নীদের উত্তর হচ্ছে এটা কোনো ফিরকা নয়, দল’ও নয়, এটি একটি আন্দোলনতারপর তাদের ধারণা ও কর্মের বয়ান। কিন্তু এগুলোই তাদেরকে ফিরকা-বন্দী করেছে। মোজেজায় প্রাপ্ত এমামতি, নবীর দরজায় গেট বসানো, গোটা মুসলিম জাতিকে অমুসলিম ঘোষণা, অন্যরা এখন মুসলমান হওয়ার দরকার নেই, পন্নীর এমামতির স্বীকৃতি দিয়ে বর্তমান ভ্রষ্টতায় বিভেদ টানতে হবে, তারপরেই এই ধারায় ধর্মান্তর এর সবই এই দলকে একটি ভয়ঙ্কর ফিরকায় পরিণত করে।

'আমরা ফিরকা নই' বললেই ফিরকার বাস্তবতা তিরোহিত হয়ে যায় না। আন্দোলন বললেও না। কোন ‘আন্দোলনই কখনো এলোমেলোভাবে (haphazard) হয় না। বরং শৃঙ্খলার জন্য ‘দলগতরূপেই হতে হয়। আন্দোলনেই থাকে দল। পন্নীর এটা আন্দোলন হলেও ফেরকা, দল।

অধিকন্তু নামের দিক দিয়ে হেজবুত তাওহীদ হচ্ছে তাওহীদের দল”, বা তাওহীদপন্থী দল”, এটা হারাকাতুত তাওহীদনয়। আরবিতে হারাকাহ-حركة’ হচ্ছে আন্দোলন  তাছাড়া মুসলিম বিশ্বে, শেষ নবীর পর, মোজেজার মাধ্যমে ইমাম হওয়ার কোনো প্রথা নেই। এটা কোরান সুন্নাহ বহির্ভূত, এটি একটি নির্ঘাৎ ফিরকা, নতুন দল।

সকল মুসলমান পথহারা, পথভ্রষ্ট, বিকৃত হয়ে যাবার কোনো ধারণা কোরান সুন্নাহ ভিত্তিক নয়। মুসলিম বিশ্বকে সার্বিকভাবে ইসলাম বহির্ভূত হওয়ার এলজাম দেয়া কুফরি। ১৬০ কোটি লোক ইসলাম থেকে সরে গিয়েছে এই ধারণা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এমন বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ফিরকার সাথে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক নেই। বায়েজীদ পন্নীর ফিরকা হচ্ছে শয়তাদের ফাঁদ। তাদের নিজেদের স্বীকারোক্তিটিতে তারা এই উম্মাহর অংশ নয়,এত্থেকে সরে গিয়েছে (deviated)

আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতকে কখনো পথভ্রষ্টতায় একত্রীভূত করবেন না। আল্লাহর হাত (বৃহত্তর) মুসলিম জামাআতের উপর। যে বা যারা এত্থেকে সরে যাবে সে বা তারা অগ্নিতে প্রবেশ করবে (ইবন ওমর/তিরমিজি) 

এখনো সময় আছে। এখনও এই দলের লোকেরা তাওবাহ করে বিশ্ব মুসলিমের কাতারে আসাই শ্রেয়। নতুবা তাদের পায়ে তারাই কোড়ল মারবে। এই ফিরকা ধর্মীয় জ্ঞান বিবর্জিত। এটা কীভাবে হয় যে এই বিশ্বের বড় বড় আলেম পন্নীর পিছনে গিয়ে দাঁড়াবে? সে কে? হায়, জগত! কী বিস্ময়কর এই বিভ্রান্তি! মনে রাখতে হবে কোন বিষয়ে আবুল-তাবুল কিছু বলে ফেললে তা জবাব হয়ে যায় না, অন্যদের উপর অভিযোগের সুর তোললেও তাতে কিছুই প্রতিষ্ঠা হয় না।

(২) প্রসঙ্গ: "আমরা সদালাপে নাকি মুক্তমনায়?" লেখকের প্রথম জবাব, "আমরা মুসলমানরা দুধে ধোয়া তুলশী পাতা?" দ্বিতীয় জবাব, "ইসলাম আপনাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নয়"

আমার লেখায় কোথাও ইসলামকে আমাদের  পৈতৃক সম্পত্তি দাবী করি নি। বরং পন্নী প্রচারকের এই উক্তি: আমরাদুধে ধোয়া ও তুলসী পাতা? –এর সাথে সংশ্লিষ্ট ধাপ্পাবাজিকে সামনে আনা হয়েছিল। বায়াজীদ পন্নীর বিভ্রান্তিতে একটি নতুন ফিতনালেখাটির ‘সদালাপ’ উপশিরোনামের অংশটি আবার পড়ে দেখা যেতে পারে।

আমাদের কথা ছিল লেখকের আমরাশব্দের ব্যবহার সঠিক হয় নিকেননা আমরা” (মুসলমানরা) পন্নীর ফিতনায় নেই এবং পন্নীর দৃষ্টিতে আমরা বিকৃতইসলামের লোক। আমরা পন্নীকে, আমাদের ধর্মীয় দৃষ্টিতে, সত্যবাদী মনে করি না এবং, ‘এমামতো দূরে থাক, তাকে ধর্মজ্ঞানশুন্য ফিতনা মনে করি। সুতরাং পন্নীর লোকজন তাদের নিজেদের সমালোচনাকরতে পারেন, আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু তারা যদি কনফিউজড হয়ে  "আমাদের হয়ে" সমালোচনা করতে আসেন তবে ভুল হবে। এই যুক্তিধারা না বুঝে “ইসলাম আপনাদের পৈতৃক সম্মতি নয়” বলে ফালতু লম্ফ দেয়া হয়েছে।

(৩) অভিজিতের ভায়ারাস ও 'এই এছলাম সেই এছলাম নয়'

অভিজিত ও পন্নীবাদীরা দুই ক্যাম্পের লোক হলেও কৌশল প্রয়োগে সামঞ্জস্যশীল। এই সামঞ্জস্য খোলাসা করলে পন্নীবাদীদের স্বরূপ ও প্রকৃতি উন্মোচিত হয়।  তাই এখানেই তুলনা।

আধুনিক বিশ্বের অস্ত্রবাণিজ্যে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবাদে জড়িত কোন মুসলিম পেলেই অভিজিত যেভাবে বিশ্বাসের ভায়ারাসপ্রতিষ্ঠিত বলে প্রোপাগান্ডা করত, মুসলিমদের উপর সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চাপাত, ঠিক তেমনি পন্নীর ধর্মে ধর্মান্তরিতরাও সেই একইভাবে, একই বস্তুকে সামনে এনে  এই এছলাম সেই এছলাম নয় বলে শোরগোল তোলে এবং সন্ত্রাস/জঙ্গিবাদও প্রক্ষেপণ করে। উপমার স্থান এখানে। উভয় দলই ইসলামের ইতিহাসকে ভুল অর্থে ব্যাখ্যা করে।

যদি বিদ্বেষকেএখানে সংযুক্তিতে টানা হয়, তবে পন্নীর দলকে সহজেই বিশ্ব মুসলিম বিদ্বেষী দেখানো যেতে পারে। সুতরাং সেদিকে না গিয়ে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রক্ষেপণ ও এই এছলাম সেই এছলাম নয়প্রদর্শনে সীমাবদ্ধ থাকাটাই ভাল।

পরন্তু মুক্তমনারা কখনো মুসলিমদেরকে কোনো স্বাতন্ত্র্যে রেখে আক্রমণ করে না।  কেননা অভিজিতের ভাইরাসের উপমা বায়োলজিক্যাল। বায়োলজিক্যাল সত্তা হিসেবে মুসলিমরাই টার্গেট বা নিশানা এদেরকে কোরান সুন্নাহর সঠিক” বিশ্বাসের ভায়ারাস জঙ্গিবাদী করেছে। আর একই জিনিস পন্নীবাদীদের কাছেও। তবে এই অর্থে যে এদেরকে বরং কোরান সুন্নাহর বেঠিক” বিশ্বাসে জঙ্গিবাদী করেছে। বস্তুত, যা লাউ তা’ই কদু। তারপর “এই এছলাম সেই এছলাম নয়এক্ষেত্রে মুসলিম মুখোশে মুসলিমদের উপর আক্রমণ নাস্তিকদের চাইতেও ক্ষতিকর হতে পারে।

সুতরাং মুসলিম উম্মাহকে সামনে রেখে, অর্থাৎ ভিকটিমের দৃষ্টিতে এই উভয় সম্প্রদায়ের পার্থক্যের বিষয় ভিন্ন। যদিও একদলের দাবী তারা বিশ্বাসী, তবে আব্দুল্লাহ বিন উবাইরাও মুসলিম বলে পরিচিত ছিল। আর অন্য দলের দাবী তারা অবিশ্বাসী। কিন্তু অভিযোগ প্রক্ষেপণ ও বিশদগারে তারা একই কাতারের। এখানেই তুলনা ও তার যথার্থতা।

পন্নীবাদীদের যেসব লিখিত কথা ও ভিডিও বক্তব্য রয়েছে সেগুলো স্পষ্টভাবে এই তুলনাকে বলিষ্ঠ করে। সুতরাং অন্যদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ না করে অজ্ঞ-মূর্খতার সঠিক স্থান নিজেদের বক্তব্য, ধারণা ও বিশ্বাসে অনুসন্ধান করলে তাদেরই লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই।

(৪) মোজেজার বয়ান

এক্ষেত্রে পন্নীবাদীদের প্রথম কথা হচ্ছে, “বিশ্ব মুসলিম কোনো আকিদা পোষণ করলেই তা সত্য বলে ধরে নিতে হবে?” অর্থাৎ তারা বিশ্ব মুসলিমের আকিদার ধার ধারে না। এটা এভাবে যে কোরান অনলিদের সাথে হাদিসের কথা বলে যেভাবে কোনো লাভ নেই কেননা তারা হাদিসের ধার ধারে না, সেভাবে পন্নীদের সাথে মুসলিম বিশ্বে ধারিত মোজেজার অর্থ নিরর্থক কেননা মুসলিম বিশ্ব পথভ্রষ্ট।

তাহলে পন্নীদের মোজেজাটা কি?

মোজেজা হচ্ছে অলৌকিক ঘটনা, যা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মকে লঙ্ঘন করে। পীর দরবেশরা নিজেরাই অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারেন। … পানির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন, ফুঁ দিয়ে আগুন জ্বালাতে পারেন। এইসব অলৌকিক ঘটনা কখন ঘটানো হবে তা ঐ পীর-দরবেশরাই ঠিক করেন। কারণ বিষয়টা তাদের ইচ্ছাধীন।

মোজেজা ও পীরের কারামতির পার্থক্য এই দিয়ে বুঝানো হল যে প্রথমটি ঘটে আল্লাহর ইচ্ছায় আর দ্বিতীয় ঘটে পীরের ইচ্ছায়! এটাই হল আবালদের সংজ্ঞা দান। অলৌকিক ঘটনার কোনটি আল্লাহ ইচ্ছায়, আর কোনটি পীরের ইচ্ছায় এর কি কোন সূচক থাকবে, না যার যা ইচ্ছা সেটা দাবী করলেই যথেষ্ট? এই ব্যাখ্যা ও বাস্তবতা এই জগতে সমস্যা বাড়াবে না কমাবে? 

পন্নীদের দাবী পন্নীর ১০ মিনিটের বক্তৃতার মোজেজা ঘটেছে। কী মোজেজা? সেখানে নীরবতা ছিল। কেন? কাক ও কুকুরগুলো শয়তান দেখে হাফ ছেড়ে পলায়ন করেছিল? বাচ্চারা চিৎকার করে নাই। কেন? মাসূম বাচ্চারা কার চেহারায় কী যে দেখেছিল, কেবল তারাই জানে আর আল্লাহ জানেন। আমার আগের লেখায় লুতফুন্নেসা নামের একজন মন্তব্যকারী উল্লেখ করেছেন যে এক অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের তুমুল হৈচৈ চলাকালে কবি নির্মলেন্দু গুণ স্ট্যাজে আসন গ্রহণ করলে সাথে সাথে এক পিনপতন নীরবতা বিস্তার করে। বাচ্চারা নীরব! ওখানে কী হয়েছিল? মোজেজা? তারপর পন্নীর প্যান্ডেলে ১০ মিনিট ব্যাপী কারো ফোন রিং করে নাই। মোজেজা?

তারপর কোনো কারণে বাতাস শীতল অনুভূত হয়েছিল। অনেকের কাছে নাকি ১০ মিনিট মাত্র ১ মিনিট অনুভূত হয়েছিল। এগুলো মোজেজা! এই মোজেজা কার উপর নাজিল হল? তারপর এই মোজেজা কী বলে গেল? এটাকে কীভাবে এবং কোন অর্থে ধারণ করা হবে? এটা অমনিতেই বানোয়াট কিছু, না পন্নী ভন্ডপীরদের মত কোনোভাবে নিজ লোকদের দিয়ে অর্কেস্ট্রেট করে নিল এবং কিছু লোক দিয়ে কিছু সাজেসশনকে সার্কুলেট করে দিল? তারপর তা কি শিষ্যদের তিলিসমা হল? যেমন একজন বলতে পারে, ‘আমি তো এইমাত্র মিরাক্ক্যেল অনুভব করলাম, কী মহান সেই মিরাক্কেল, তুমি নিশ্চয় তা অনুভব করেছো, তাই না?” “হ্যাঁ হ্যাঁ ভাই, তাই তো, আমিও যেন তাই অনুভব করলাম।তারপর আর যায় কই? কয়েকদিনের ভিতরেই মুখে মুখে মিরাক্ক্যেল! পন্নীর বক্তৃতার ৪ মাসের মধ্যে সেই মিরাক্ক্যেলের সাথে গাণিতিকভাবে সংখ্যা বিভাজনেরও কিছু আবিষ্কার হয়ে যায়!

কিন্তু এই মিরাক্কেল কীভাবে গোটা মুসলিম জাহানকে পন্নীর সংযুক্ত করে, বা তাদের বিশ্বাসের ব্যাপার করে? কীভাবে পন্নীকে এমামঘোষণা করে? এই ১০ মিনিট ও বিশ্ব জাহানের এমামতি’ –এই দুটি বিষয় কীভাবে সন্দেহাতীতভাবে সংযুক্ত হয়? এই সংযুক্তি ও এর ব্যাখ্যা কার হাতে? কে এই বৈধতার মালিক? কাদের হাতে মুসলিম জাহানের দায়িত্ব? এমন মোজেজা ও দাবী কি অন্যরা করতে পারে না? প্রত্যেক প্রতারকের শিষ্যরা যদি তাদের এমামেরমোজেজা সত্যায়ন করে, এবং বিশ্ব মুসলিমের দায়িত্ব নিজ হাতে তোলে নেয়, তবে কে বা কারা সেই মোজেজাগুলোর সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করবে? শয়তানরা এই পথ বেঁছে নিলে বিশ্বে কি শান্তি-ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব? মানুষ কতটুকু বেকুব হলে এই শয়তানী ফাঁদে পা দিতে পারে একটু চিন্তা করুন।

তারপর নির্লজ্জতার কথা চিন্তা করুন। আবালের দল যখন জ্ঞান দিতে আসে এবং সন্ত্রাসীদের মত আপনাকে চুপথাকতে বলে তখন আপনি কী করবেন? শুধু তাই নয় এর সাথে অন্যদেরকে যখন প্রলিপ্ত (implicate) করে তখন তা কী দারুণ খারাপ দেখায় না?

আমাদেরকে চুপ থাকতে হবে!

পন্নীর মোজেজার দাবী আমাকে বুঝানো যাবে না তাই ধাপে ধাপে গিয়ে শাসিয়ে দেয়া হল। “আপনিও জানুন, পারলে অন্যকেও জানাননা বুঝলে প্রশ্ন করুন। প্রশ্ন করতে যদি আত্মসম্মানে লাগে তবে চুপ থাকুনকিন্তু বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। ফেতনা দূর করুন, আপত্তি নাই, কিন্তু ফেতনা দূর করার অজুহাতে দয়া করে নিজেই ফেতনা ছড়াবেন না। আল্লাহ হাফেজ।”

এখানে আমি তো বিস্মিত! এটা যেন অনেকটা সন্ত্রাসের মত, বা শক্তিতে প্রতিষ্ঠিত অথোরিটেটিভ কথা! “চুপ”!! লেখকই জানেন, তিনি শুধু জ্ঞানের অধিকারীই নন, বরং অথোরিটেটিভ পজিশনে। আমাকে তার কাছ থেকে জানতে হবে। নতুবা “চুপ” থাকতে হবে!

এতক্ষণ পর্যন্ত, পন্নীদের ১২ পৃষ্ঠা অতিক্রম করে আসলেও, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো আক্রোশ ও অপপ্রচার না দেখলেও অনেক দাম্ভিকতা ও রূঢ় শাসন দেখতে পেয়েছি।

দাম্ভিকতা

এই দাম্ভিকতা পন্নীদের একটি আচরণ। অন্যদেরকে চুপ করে দেয়া। এভাবে না হয় সেভাবে। তালাশ” –এর টিম [বাংলাদেশের একটি টিভি ডক্যুম্যান্টরি] যখন পন্নী ফিতনার অনুসন্ধান করে তখন ফিতনা-দল তাদের উপর মামলা দায়ের করে। বাংলাদেশে এখন মামলা-হামলার যুগ। তারপর তালাশের ভিডিও সামনে রেখে পন্নীর দল নিজেরাই আরেকটি ভিডিও নিজেদের মতকরে তৈরি করে ইউটিউবে ছাড়ে।

তাদের ভিডিওতে তালাশ টিমের উপর আক্রমণাত্মক ভাষা জুড়ে এবং স্থানভেদে মিথ্যার অভিযোগ প্রলিপ্তিতে। এক পর্যায়ে তারা এভাবে প্রশ্ন ছুড়ে: রত্নার [অনুসন্ধানে জড়িত পন্নী দলের সদস্যা] মাদকাসক্ত স্বামীর সাথে তালাশেরকি সম্পর্ক” –এতে অনায়াসে মাদকের সাথে ও রত্নার স্বামী সাথে অনুসন্ধানীদেরকে ইমপ্লিকেশনের মাধ্যমে কালারিং করে।

পন্নীর মোজেজার বক্তব্যকে তালাশের ডক্যুম্যান্টারি একস্থানে খানিক এডিট করলে এটাকে তারা তথ্য-সন্ত্রাসহিসেবে উল্লেখ করে! মূল ভাষ্য ও স্কয়ার বন্ধনীতে  এডিটেড অংশ দেখুন (আন্ডার-লাইন করা), তারপর চিন্তা করুন এই ফিতনারা কীভাবে দাম্ভিকতার সাথে অগ্রসর হচ্ছে।

পন্নী: মহাসত্য পেয়েও যেখানে নবী-রাসূলদের মধ্যে অনেকে ব্যর্থ হইছেন, পারেন নাই, সেখানে আমি কে, [আমি কেউ না, কিছুই না], সেটা এই মোজেজা দিয়ে আল্লাহর রহমে, আল্লাহ অবসান করে দিলেন আমার, “করো, হবে 

যেকোনো উপস্থাপনায় প্রয়োজনে উদ্ধৃতি সংক্ষেপ করা হয় এটা একটি প্রথাগত নিয়ম। উপরে আমি কেকথাতে আমি কেউ না’, নিহিত রয়েছে। এই অংশ এডিট করলে  তা কীভাবে তথ্য সন্ত্রাস হয়? এভাবেই তারা মিথ্যা এলজাম দিয়ে, মামলা-হামলা করে অন্যদেরকে চুপরাখতে চায়।

কিন্তু সবাই তো চুপথাকার মত নয়। পন্নীর নিজ বাড়ীর মসজিদের ইমাম পন্নীকে দাজ্জালবলেছেন। তিনি পন্নীর বিষয় আঁচ করতে পেরে দাজ্জালের এই দলথেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু পন্নীবাদীরা এটাকে ন্যায় ও সত্য ছেড়ে দেয়াহিসেবে উল্লেখ করে।

অবশেষে সদালাপ ও ‘পেছনে আরও কিছু’

আমার লেখাটি ছাপা হলে পরবর্তীতে পন্নী দলের আরেকটি লেখা ছাপানো হয়। সম্ভবত তাদের কথাবার্তা আশে পাশে রাখার উদ্দেশ্যে -আল্লাহ আলেমুল গায়েব। কিন্তু পরে সদালাপ কর্তৃক আমার লেখাটি স্টিকি করা হয়। এতে লেখাটি দৃষ্টিপটে থেকেই যায়। পরের যেকোনো লেখা এর নিচ দিয়েই যেতে থাকে।

পন্নীর লেখক প্রথমে ভেবেছিলেন আমার লেখার উত্তর দেবেন না। তারপর? তারপর তিনি নিজেই বলছেন, “কিন্তু যখন দেখলাম পোস্টটা স্টিকি করা হলো তখন বুঝলাম এই পোস্ট হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে নেহায়েত কারো ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ নয়! পেছনে আরও কিছু আছে। তাই পাল্টা এই লেখাটি প্রস্তুত করতে লাগলাম।”

এই অংশটি পড়ে লেখকের বিবেক দেখে না হেসে পারলাম না। এই তিনটি বাক্যের সংশ্লেষ যে কী হয় তা কি একটি বারও মাথায় আসে নি? লেখাটি স্টিকি করা হয়ে গেলে এর পিছনের যে আরও কিছুবুঝা হল, সেটি তো ভাল বুঝনয়। বিবেক সম্মতও নয়। আর এই প্রেক্ষিতে সদালাপে হেজবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব’ –এমন শিরোনামও ভাল হয় নি। অসংসগত (inappropriate) তো বটেই।

তারপর দ্বিতীয় বাক্য লেখাটিকে আক্রোশ সাব্যস্ত করে এবং সেই আক্রোশ থেকে আমাকে অসম্পৃক্ত করে। তাহলে এই লেখার আক্রোশ ও অপপ্রচার কোথায় গিয়ে সম্পৃক্ত হয়? মাশাল্লাহ দারুণ বুদ্ধি। এই বুদ্ধির প্রশংসা করতে হয়। এমন বুদ্ধির লোকেরা পন্নীর মোজেজা চালাচ্ছে; মুসলমানদের সাধারণী মাত্রায় অমুসলমান বানাচ্ছে; জঙ্গি সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করছে; আলেম উলামাদেরকে পুরোহিত শ্রেণী বলছে; ইতিহাস ও ধর্মতত্ত্বে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ছাড়াই যথেচ্ছভাবে বয়ান দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এসবের মধ্যে স্থূলদর্শীতার অতি নিম্ন মাত্রা দেখে সত্যিই বিস্মিত হতে হয়!

_____________________

দ্রষ্টব্য:  এর পরবর্তী লেখায় পন্নীর ভুল ধারণা, ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা ও মোজেজার কৌশলগত বিষয় দেখানো হবে ইনশাল্লাহ।

আমার অন্যান্য লেখা:

(১) বায়াজীদ পন্নীর বিভ্রান্তিতে একটি নতুন ফিতনা

(২) হেজবুত তাওহীদ ও নন-পলিটিক্যাল খিলাফত

(৩) হেজবুত তাওহীদ -উম্মাহ বিচ্যুত একটি পথভ্রষ্ট দল (বক্ষস্থিত লেখা)

____________

এই দলটিকে বাংলাদেশ থেকে যারা মূল্যায়ন করেছেন এবং কিছু ডক্যুম্যান্টও করেছেন তার কয়েকটি নমুনা এখানে লিঙ্ক করলাম। এগুলোও শুনে নিতে পারেন।

https://www.youtube.com/watch?v=W9BPCXxokUs

সোনাইমুড়িতে হিজবুত তাওহিদ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ; নিহত ২-CHANNEL 24

ভন্ড হিযবুত তাওহীদের ভন্ডামী

https://www.youtube.com/watch?v=VgFvG_yIYrA

হেযবুত তাওহীদ – কেন বাতিল দল ???
https://www.youtube.com/watch?v=cl3Y97lCvCk

হিজবুত তাওহীদ মানুষকে ধর্মের নামে কিভাবে ধোঁকা দিচ্ছে
https://www.youtube.com/watch?v=Z1R2K_gtSA

১৮ comments

Skip to comment form

  1. 18
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আরেকজন বিখ্যাত ইসলামিক সংস্কার পন্নী পাওয়া গেছে। পন্নীর চেলা গোয়ার আসাদ আলী যেমন দুনিয়ার সকল মুসলিমদের এক করে ফেলবে বলে লম্পঝম্প করেছিল, উনিও তাই দাবী করেন।

    https://m.youtube.com/watch?v=1QLY1i_tPVc

  2. 17
    সত্য সন্ধানী

    @এম_আহমদ:
    সালাম ভাই, ////
    আমি এই ফিতনাকে ছোট করে দেখছি না। কেননা প্রত্যেক ফিতনা ছোট করে শুরু হয় এবং এর পিছনের অন্যান্য মহল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইন্ধন যোগায়। /// সহমত আপনার সাথে।

    http://www.shodalap.org/asadali/33609/#comment-40945 এখানে হিন্দু দেব দেবীদের উপর দরুদের ফজিলত দেখেই প্রমান হয় যে এরা সম্ভবত কয়েক শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ফিৎনা।
    কাদিয়ানী ফিৎনার চেয়ে এটাকে আমি বড় বই ছোট বলব না।কাদিয়ানীরা গোলাম আহমদ কে শেষ নবী মেনে যেমন কাফের হয়ে গেছে, এই হিজবুতী রা রাম কৃষ্ণ বুদ্ধের উপর দরুদ পড়ার পর আর মুসলিক থাকতে পারে বলে মনে হয় না আমার।

    বুদ্ধ তবু ঐতিহাসিক ব্যক্তি, কিন্তু রাম বা কৃষ্ণকে নিয়ে ইতিহাস মনে হয় না শিবসেনাও বানাতে পেরেছে। আর এরা (হিজবুতিরা) তাদের জীবনী (?) পর্যালোচনা করে এদের নবী ঘোষনা করে দরূদ পড়ছে, নাউজুবিল্লাহ।

  3. 16
    এম_আহমদ

    @সত্য সন্ধানী:
    ভাই সালাম। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

    আমি এই ফিতনাকে ছোট করে দেখছি না। কেননা প্রত্যেক ফিতনা ছোট করে শুরু হয় এবং এর পিছনের অন্যান্য মহল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইন্ধন যোগায়। বিশেষ করে এমন পক্ষ/পক্ষসমূহ যারা ধর্মীয় ফিতনার প্রচার ও প্রসার চায় এজন্য যে এগুলোর আলোকে তাদের নিজেদের এজেন্ডাকে বার বার সামনে আনতে পারে।

    আর হ্যাঁ, এই কাজে মজলুম ভাই, শাহবাজ ভাই ও আরও অনেকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন। তাদের উত্থাপিত প্রশ্নাবলী ও যুক্তিগুলো অত্যন্ত জোরালো। আমরা সবাই নিজেদের বিবেকের তাড়নায় যতটুকু পারছি বলছি ও লিখছি। তাই সবার জন্য দোয়া করবেন। সমাজিক সমস্যা লাঘবের জন্য ছোট-বড় সব কাজই কল্যাণের পথে।

  4. 15
    সত্য সন্ধানী

    সালাম আহমদ ভাই।সময়োপযোগী অসাধারন লেখা আপনার কাছ থেকে পাই।
    এটা আসলে বাতিল আর হকের দ্বন্দ,আর মুসলিম রা হকের পথেই থাকবে ইনশাল্লাহ।
    আল্লাহ আপনার প্রচেষ্টাকে সফল করুন এই দোয়া করি।

    সাথে এই পোষ্ট আর অন্য লেখাতে ‘মজলুম’ ভাইয়ের শানদার মন্তব্যও অব্যাহত থাকুক। ফিৎনাবাজ দের কোন ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই তথাকথিত সভ্যতার দোহাই দিয়ে। কাটা তুলতে কাটা ব্যবহার করাই উত্তম আমার মতে।

  5. 14
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    মজলুম ভাই, অনেক ধন্যবাদ দেওয়ানবাগীর লিংক দেওয়ার জন্য। আপনার দেওয়া লিংক থেকে এবং নেটে আরো সার্চ দিয়ে আরো অনেক ভন্ড পীরদের মোজেজার মাধ্যমে জগতের ঈমাম ও পথপদর্শক-দের দাবিদার সম্পর্কে জানা গেল।

    বাংলাদেশ তো দেহি, ফেরকাবাজের গোডাউন লইয়া বইছে। সবাই মোজেজার দাবীদার, মোজেজা নিয়া কামড়া-কামড়ি শুরু হইছে চারপাশে। আরে এই কি অবস্থা? দেওয়ানবাগীদের কথাবার্তা স্পষ্টই শির্ক। অন্যান্য ফেরকাবাজদের একই অবস্থা।

    হেজু তওহীদ সহ, দেওয়ানবাগী, চরমোনাই, আটরশি…. সকল ফেরকাবাজ বাবাদের একসাথে করার বন্দোবস্ত করে দেওয়া খুব জরুরী। তারা সবাই মোজেজার দাবীদার, আগে নীজেরা নীজেদের সমাধান করুক, কে সঠিক?

    দেশে এই মোজেজা সার্কাজম দেখে আমি হতভম্ব, মর্মাহত। নবীজির আদর্শ কই আর কি হচ্ছে এই চারপাশে?

  6. 13
    shahriar

    @মজলুম:

    Jajak-allah khairan মজলুম bhai.

  7. 12
    মজলুম

    @shahriar:
    ইবনে কাসিরের বইটা ১৪ খন্ডে সমাপ্ত। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদ করা ১০ খন্ড এখানে পাবেন। আল-ফিতান পাবেন এই জায়গায় ইংরেজীতে।

  8. 11
    নীল

    @মুনিম ভাই, @ফারুক ভাই কি আর ব্লগে আসে?

  9. 10
    shahriar

    @মজলুম:

    dear মজলুম

    শেষ বইটা আল-ফিতান নামে বাজারে আছে। can you please upload or pdf web site url of that book.

    jajak-allah khairan.

  10. 9
    এম_আহমদ

    এক সাথে প্রতিমন্তব্য

    @ তাজুল ভাই

    সালাম। পন্নীবাদীদের ব্যাপারটা বহুরূপী। এরা খিলাফত চায় কিন্তু তাদের নীতিমালায় লিখেছে, “হেযবুত তওহীদ কোনো রাজনীতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে না!” তাদের কাছে দুনিয়ার মুসলিমরা ভ্রষ্ট কারণ তারা অনৈসলামি আইন মেনে নিয়েছে। কিন্তু তাদের কলেমার মূল ব্যাখ্যা ‘কারও আইন মানি না’ আবার মূলনীতিতে লিখা, “হেযবুত তওহীদের কেউ কোনোরূপ আইনভঙ্গ করতে পারবে না?” আইন তো আপনি অমনিতেই ভঙ্গ করতে পারবেন না -এটা লিখে রাখার কী আছে? আর খোদা ছাড়া অন্যের আইন যদি মেনে চলবেন, তবে অপর মুসলিমদের উপর বিশদ্গার কেন? আপনি রাজনীতিও করবেন না, প্রচলিত আইন মেনেও চলবেন, আর দোষ সারা অন্যদের, তাই তাদের উপর ঢালবেন জ্বালাময় বিশদগার!  এগুলো কেমন বিষয়? কেন বৈপরীত্য?

    @ জনী সাহেব

    পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমার এনার্জি অপরাপর অনেক ভাইদের চাইতে কম। অনেকে অনেক কাজে জড়িত থাকার পরেও তারা ব্যাপকভাবে অনেক লোকের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেন। আমার যেন এটা হয়ে উঠে না। দোয়া করবেন আল্লাহ যাতে আরও শক্তি ও সামর্থ্য দেন। দোয়া করি আল্লাহ যেন আপনাকে ভাল রাখেন, সুস্থ শরীরে রাখেন। আমীন।

    @ মুনিম ভাই

    মুনিম ভাই, সালাম। প্রথমে পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। পরের কথা হচ্ছে ধর্ম বিশ্বাস এমন এক শ্রেণীর বিষয় যা এক পর্যায়ে যুক্তিকে স্পর্শ করে এবং অন্য পর্যায়ে সরলভাবে যুক্তিকে এড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্বাসের একটি স্থান (আমার ধারণায়) যুক্তির ঊর্ধ্বে, (এই জটিলতার ব্যাখ্যা নিয়ে সদালাপে আমার লেখা রয়েছে), তাই বিশ্বাসের ব্যাপারে কেউ বিভ্রান্ত যুক্তিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে গেলে তাকে ফিরিয়ে আনা আল্লাহ হাতে। এখানে ভ্রষ্ট বিশ্বাস ও ভ্রষ্ট যুক্তি একই সাথে কাজ করে যেতে পারে কেননা উভয় বিষয় একই নিক্তিতে সমন্বিত।

    আমি চেষ্টা করেছি আমার লেখায় ‘ব্যক্তি-নামে’ সরাসরি ব্যক্তিকে এড্রেস না করতে। একান্ত যেখানে বাক্য তার অর্থ প্রকাশের জন্য ব্যক্তির ইঙ্গিত চায় সেখানে তাই করেছি এবং বক্তব্যকে তাদের দলগত আকারে স্থাপন করার চেষ্টা করেছি।

    আমার লেখার উদ্দেশ্য আমাদের পক্ষের যুবশ্রেণীর সতর্কতামূলক। এই প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে অপর দলের ব্যক্তি আমার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ। এই বিবেচনায় আমার লেখা সাজানো। তবে প্রত্যেক লেখকের ভিন্ন মত ও প্রাধান্য থাকতে পারে। এটা স্বাভাবিক। আপনার মন্তব্যের আলোচ্য ব্যক্তি যখন আপনার সাথে কিছুটা হলেও পরিচিত তাই আপনি ব্যক্তি পর্যায়ে স্নেহসূলভ যুক্তিতে তার সাথে কথা বলে দেখতে পারেন। আমার দোয়া রইল। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়াতের উপর রাখুন –এই দোয়া করি।

    @ মহি ভাই

    সালাম মহি ভাই।

    তাদের বুলি, "ইসলাম হচ্ছে অন্যায় অত্যাচারের বিপক্ষে বলার ধর্ম, আমরা সেটাই বলতে চাই, তাই আমাদের সাথে আসুন"। এই ধরণের সরল মাত্রার কথায় কিছু আবেগি যুবককে তাদের দলে ভিড়াতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। যেভাবে বর্তমান সন্ত্রাসীরা করে বলে শুনা যায়।

    আপনার এই কথাটি যথার্থ এবং এটি আমাদের অন্য যুবকদের জন্য বিপদ ও ফিতনা। ইসলামের নামে আধুনিক হিংস্র ব্যাখ্যা ভাল নিয়তে আধুনিক শিক্ষিতদের কিছু লোকদের কাছ থেকেও আসছে। লাদীন, আওলাকীরা ধর্ম তত্ত্বের গভীরে যেতে পারে নি। তবে আধুনিক শিক্ষিত সবাই এই দোষে দুষ্ট নন বরং অনেকে গভীর জ্ঞানের পরি রাখতে সক্ষম হয়েছেন। পন্নীর ধর্ম পাঠ অত্যন্ত দুঃখজনক। তার পশ্চিমা সভ্যতাকে দাজ্জাল সাব্যস্তকরণ তার ধারাবাহিকতায় সন্ত্রাসের উষ্কানীরূপ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। সভ্যতার বিষয়টি সাদা-কালোর মত নয়। দাজ্জালের বিষয় আজকাল যেভাবে ব্যাখ্যা হচ্ছে তা দেখে কখনো কখনো বিস্মিত হতে হয়। কোন জটিল বিষয়কে একান্ত সরলীকরণ ভয়ানক রূপ লাভ করতে পারে।

    @ মজলুম ভাই

    ভাই সালাম। আপনার "কভার্ট, ডাইভার্ট, রিভার্স" এর মাধ্যমে ইসলামকে গোলামির ধর্মে রূপান্তরিত করার যে ধারাবাহিক ঐতিহাসিকতার যুক্তি এনেছেন তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ। কালের ধারায় উম্মাহ অনেক  কণ্ঠকাকীর্ণ  পথ দীর্ঘ অতিক্রম করেছে; এবং ঠিকেই আছে; অনেক বড় বড় শক্তি সমন্বিতভাবে, আহযাব যুদ্ধের মত বেষ্টনীতে রেখে, চক্রান্ত ও আক্রমণ করেছে এবং ধারাবাহিকতায় করেও যাচ্ছে, কিন্তু এই উম্মাহ আল্লাহর ইচ্ছায়  ঠিকে আছে এবং ইনশাল্লাহ এই অমানিশা এভাবে থাকবে না। এটাই আমাদের বিশ্বাস।  এই কমেন্টটির সাথে আরও সামান্য সংযোগ করে একটি আলাদা ব্লগ দিতে পারেন। 

    কুইলিয়াম ফাউন্ডেশনের মাজিদ নায়াজ এক সময় চরমপন্থি ছিল। এখন সে আরেক নিক্তিতে চরম। একটি 'বিশেষ পক্ষ' তাকে রিক্রুট করেছে। বলা যায় যে চরমপন্থা মূলত এক বিশেষ ধরণের মানসিক বিষয়। এর সাথে যখন নিরাশা, অধৈর্যতা সংযুক্ত হয় তখন বিষয়টি তার ষোল-কলার দিকে বা আপন বিকাশের পথে হাঁটে। ঈমান কিন্তু ধৈর্যের সাথে, আশার সাথে। এই গুণদ্বয় বিচ্ছিন্ন হলেই বিপদ।

    পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

     

  11. 8
    মজলুম

    @মুনিম সিদ্দিকী: আপনি ইবনে কাসিরের বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্হ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া পড়ে নিন। এই সিরিজের বই গুলো মহাবিশ্বের সৃষ্টি হতে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের কথা ইসলাম অনুযায়ী ব্যাখা করা হয়েছে। সব না পড়তে পারলেও এই সিরিজের শেষ বইটা আল-ফিতান নামে বাজারে আছে। বা গুগল দিয়ে বাংলা পিডিএফ ও পেতে পারেন। এগুলো পড়লে কোন ফেরকাই কাউকে পথভ্রষ্ট্র করতে পারবেনা। মুসলিমদের আল্লাহ সাহায্য করবে যখন মুসলিমরা কিছু করতে এগিয়ে। মুসলিমরা তাদের ভাগের গুলো করলে আল্লাহ ও তার নিজের ভাগের গুলো দিয়ে সাহায্য পুরা করে দেবেন। সব যদি আল্লাহ করে দেন তাহলে মুসলিমদের কি কাজ এই দুনিয়াতে? এই বিষয়ে সামনে একটা পোষ্ট দেওয়ার ইচ্ছা আছে তাই কমেন্ট আর বড়ো করলাম না।

  12. 7
    Fazle hassan siddiqui

    খুবই গুরুত্বপূর্ণ লেখা। এদের পরিচয় আরও ব্যাপকভাবে প্রকাশ হওয়া দরকার। দু:খের ব্যাপার সাধারণ জনগণ অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছে। অথচ এদের সঠিক রাস্তায় আনবেন কিভাবে? এদের দলে ঢুকার সময় আপনি বিশ্বাস করে নিচ্ছেন এরা বাদে বাকি সবাই বিকৃত ইসলাম নিয়ে চলছে। তবুও মেহনত দরকার, দোয়ার দরকার।

  13. 6
    মজলুম

    ৯০ এর দশকে কম্যুনিজমের পতনের পর লুটেরা সম্রাজ্যবাদের চোখে ইসলামই একমাত্র বাঁধা হিসেবে দেখা দেয়। উপনিবেশিক আমলে এই ইসলামই তাদের একমাত্র কাঁটা হিসেবে দেখা দিয়েছে। একটা উদাহরণ দিচ্ছি, ১৭০০ শতাব্দীতে স্পেন ফিলিপাইন দখল করলে স্থানীয়রা স্পেনের সাথে যুদ্ধ করা তো দূরের কথা উল্টা তাদের এনিমিজম ধর্ম ছেড়ে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। ফিলিপাইনের মিন্দানাও প্রদেশ ১২০০ শতাব্দীতে মুসলিম হওয়ায় তারা খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহণ করা দূরের কথা, তারা ৩০০ বছর যুদ্ধ করে গেছে স্পেনের সাথে। পরে ১৮৯৯ সালে স্পেনকে তাড়িয়ে ফিলিপাইনকে আমেরিকা তাদের উপনিবেশিকে পরিণত করে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত। আবারো এই নতুন উপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে লড়ে গেছে ফিলিপাইনের মিন্দানাও প্রদেশের মুসলিমরা। ব্যাপারটা সিম্পল, ইসলাম থাকলে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ হবেই লুটেরাদের বিরুদ্ধে।

    তাই লুটেরারা এই ইসলামকে নিষ্প্রাণ করে দিতে চায়। ইসলাম থাকবে নামে, ঈদ, চাঁদ,নামাজ, রোজা, ইফতার চলবে, কিন্তু মুসলিমদের নন-ভায়োলেন্ট হতে হবে। মিলিয়ন মিলিয়ন মুসলিমকে হত্যা করা হবে, কিন্তু মুসলিমদের নন-ভায়োলেন্ট হতে হবে। মুসলিমদের সম্পদ লুটতরাজ করা হবে, তাদের দেশ দখল করা হবে, কিন্তু মুলিমদের সব ভায়োলেন্স ছাড়তে হবে। ড্রোন, বিমান, ক্ষেপনাস্র দিয়ে তাদের যখন মন চায় তখন হত্যা করা হবে, কিন্তু মুসলিমরা আহ! উহ! ও করতে পারবেনা। ম্যালকম এক্স আকা মালেক শাহবাজ বলেছিলো, সাদা আমেরিকানরা আমাদের কালো লোকদের হত্যা করে আর বলে “we should suffer peacefully” সেই জন্যে উনাদের এমন ইসলামের দরকার যেই ইসলামে জুলুম আর জালিমের বিরুদ্বে কোন প্রতিবাদ, প্রতিরোধ হবেনা।

    আমেরিকান থিন্ক ট্যান্ক রেন্ড কর্পোরেশান সেই রকম ইসলামের ভার্সন তৈরী করে প্রচার করছে। এই ইসলাম হলো মড্রেট ইসলাম যা পশ্চিম ফ্রেন্ডলী(পড়েন গোলামী) হবে। এই বইয়ে অজিত মানের উপদেশ হলো মুসলিমদের উপর ভয়াবহ ভাবে সাইকোলোজিক্যাল ওয়ারফেয়ার করা, মুসলিমদের মাঝে মিসআইডেন্টিফিকেশান তৈরী করা। সেই ইসলামে যোগ দিয়েছে পেনসেলভেনিয়ায় থাকা গুলেন। তার অনুসারীদের বলা হয় গুলেনিস্ট। যারা নিজেদের গুলেনিস্ট মুভমেন্ট এর লোক বলে। এই গুলেন মুভমেন্ট কিছুদিন আগে তাদের প্রভুদের নির্দেশে তুরস্কে এরদোগানের একেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্যু করে। কারন এরদোগান লুটেরাদের কথায় উঠবস করেনা, পশ্চিমাদের হিপোক্রেসীগুলো ধরিয়ে দেয়। ক্যুয়ের দিন রাতে ওদের দেওয়া স্টেটম্যান্টে দেখা যায় উনাদের সরকার হবে পশ্চিমা ফ্রেন্ডলী(পড়েন গোলামী)। তাছাড়া গুলেন মুভমেন্টের বই, আর্টিক্যাল পড়লেই বুঝা যায় তারা কোন ইসলাম চায়। এই গুলেন ১৯৯৮ সালে ক্লিনটনের সাহায্যে আমেরিকায় গিয়ে এই গোলামি ইসলাম প্রচার করে। বাংলাদেশে ১৯৯৮ সালে গড়া হেজবুত তাওহীদের বই আর্টিক্যাল ও দেখি সুর একই। উনারা ও রেন্ড কর্পোরেশনের ইসলাম কে গ্রহণ করে নিয়েছে। অজিত মানের বই অনুযায়ী মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করছে এবং মিসআইডেন্টিফিকেশন তৈরী করছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন এনজিও কর্তৃক অনেক মুসলিমদেশে এই রকম রেন্ড কর্পোরেশনের ইসলামকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কভার্ট, ডাইভার্ট, রিভার্স এর মাধ্যমে যেখানে যেভাবে পারছে এই গোলামি ভার্সনের ইসলামকে প্রচার করা হচ্ছে।

    লন্ডনে একটা আছে মজিদ নেওয়াজ আর তার কুইলিয়াম ফাউন্ডেশান। ব্রিটিশ সরকার হতে মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং সহ আমেরিকার ডানপন্হী, রেসিস্ট, টি পার্টি হতে ফান্ডিং পায়। শুধু তাই না, মজার ব্যাপার হলো স্যাম হ্যারিস নামক উগ্রবাদী নাস্তিকবাদ প্রচারকারী ও ২০,০০০ ডলার অনুদান দেয় কুইলিয়াম ফাউন্ডেশনে। সদালাপের অনেকেই জানেন এই স্যাম হ্যারিস কে। বাংলাদেশের উগ্রবাদি নাস্তিক মুক্তমনা অভিজিত গ্যাংদের দীক্ষাগুরু হলো এই স্যাম হ্যারিস। যেই লোক ইসলামের সাথে যুদ্ব চায়, ইরাক যুদ্ধের পক্ষে, মুসলিমদের উপর নির্যাতনের পক্ষে কথা বলে খোলাখুলিভাবে। এখানে মনে রাখবেন, কুইলিয়াম ফাউন্ডেশান কিন্তু ডাইরেক্ট ইসলামের বিরুদ্ধে স্যাম হ্যারিসের মতো বলেনা। সুগার কোটিংয়ের মতো ভেতরে ভিতরে বিষ, বাইরে সুগার। এসবই হলো তাদের কভার্ট, ডাইভার্ট, রিভার্সের মাধ্যেমে ইসলামকে গোলামি ধর্মে রূপান্তর করা। এই গুলেন মুভমেন্ট, হেজবুত তাওহীদ, কুইলিয়ান ফাউন্ডেশান, মুক্তমনা সবই হলো একি খেলার বিভিন্ন চরিত্র।

  14. 5
    মহিউদ্দিন

    তাজুল ভাইয়ের কথার সুরে বলতে চাই আপনি একটি ভাল উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। আপনার প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম আল্লাহ কবুল করুন -সে দোয়া রইল।

    এই হিজবুত তাওহীদ আসলেই মূল স্রোতের ইসলাম থেকে আলাদা। এদেরকে সম্ভবত বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি ধর্মীয় কাল্ট বলাই সঠিক হবে। তারা তা হতে চায় হয়ত দুই কারণে:

    * প্রথম, ইসলামের নামে তাদের মনগড়া একটি নতুন ধর্ম সৃষ্টি করে মুসলিমদের মাঝে ফিতনা সৃষ্টি করা এবং

    * দ্বিতীয়ত, "এ এসলাম সে এসলাম নয়” বলে তাগুতি শক্তির গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার আশা যাতে করে মূল ধারার ইসলামের বিপক্ষে কাজ করতে সেকুল্যার ও ধর্মনিপেক্ষতাবাদীদের সহযোগীতা পাওয়া

    তাদের বুলি, "ইসলাম হচ্ছে অন্যায় অত্যাচারের বিপক্ষে বলার ধর্ম, আমরা সেটাই বলতে চাই, তাই আমাদের সাথে আসুন"। এই ধরণের সরল মাত্রার কথায় কিছু আবেগি যুবককে তাদের দলে ভিড়াতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। যেভাবে বর্তমান সন্ত্রাসীরা করে বলে শুনা যায়।

    কিন্তু মূল কথা চিন্তা করা যাক। বিশ্ব মুসলিমের সমস্যা কি এতই মামুলি যে পন্নীকে এমাম স্বীকার করে নিলেই তাদের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়? এটা কি কোন মেজিকের ব্যাপার? এমন সরলীকরণকৃত অভিযোগ ও আক্রমণের মাধ্যমে তারা সদালাপে বাসা বাঁধতে সুযোগ পাবে এটা তারা ভাবছে কেন? সদালাপ থেকে সুযোগ নিতে চাইবে আবার সদালাপ কেন্দ্রিক অপপ্রচার বলে বিরাগী সুরে ব্লগ লিখতেও এগিয়ে আসবে, এটা কেমন কথা? যে ব্যক্তি এখানে লিখেন তিনি তাদের সিন্ডিকেটের লোক। তিনি তাদের দলের নেতাদের সাথে পরামর্শ করেই এখানে আগমন করেছেন বলে আমার বিশ্বাস। ইন্টারনেট থেকে যা কিছু দেখা যাচ্ছে তাতে তাদের এমামুজ্জামান মৃত পন্নীর কোনো সুষ্ঠু ধর্ম জ্ঞান প্রকাশ পাচ্ছে না। মুসলিম বিশ্বে তার যোগ্যতা বা ক্রিডেন্সিয়্যলও নাই। আমার কাছে এটা কাদিয়ানিদের মত একটি ফেতনা ছাড়া অন্য কিছু মনে হয় না। আল্লাহ ভাল জানেন।

  15. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    বহুদিন হয় সদালাপে আসতে পারি না। তবে মাঝে মাঝে সদালাপের ফীডলাইনে চোখ বুলিয়ে যাই, দেখতে পাই অন্যান্য ভাইয়েরা ঠিকই সদালাপকে প্রাণবন্ত করে রেখেছেন। জনাব আসাদ আলীর অনুরোধে এসেছিলাম, উনার দীর্ঘ ব্লগ আমি পড়েছি। নির্মম সত্য এই যে, হেযবুত নিয়ে কোন আগ্রহ পাইনি তাই তাদের কার্যকলাপ আমি জানতে চেষ্টা করি নি। তাই তারা কারা, কি তাদের আকিদা -তা আমি জানিনা।

    এই সদালাপে একের পর এক আহমদ ভাই যে সমস্ত হেযবুত বিষয়ক ব্লগ তৈরি করছেন, তাও পড়া হয়নি। তবে আসাদ আলী সেই ব্লগ আর আজকের আপনার এই ব্লগ পড়ে বুঝতে পারছি, মুসলিমদের অতি ক্ষুদ্র একাংশর চরম হতাশা থেকে হিযবুত তাওহীদের আবির্ভাব ঘটেছে। নিশ্চয় আপনারা জানেন যে, ইসলামের ইতিহাসে এই ধরণের উগ্রবাদীতার উদ্ভব নতুন কিছু নয়। হযরত উসমান রাঃ আমলেও চরম হতাশা থেকে উগ্রবাদীদের উদ্ভব হয়েছিল, যার ফলে প্রথম বারের মত এক মুসলিম আরেক মুসলিমকে কতল করতে তলোয়ারকে খাপ থেকে বের করেছিলো। সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত সে তলোয়ার আর খাপে ফিরে যায়নি।

    ইসলামের ইতিহাসে আলী রাঃ বনাম মুয়াবীয়া রাঃ এর মধ্যে সিফফিনের সন্ধির ঘটনায় সময়ও একদল চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে উগ্রবাদী হয়ে যায়। ইসলামের ইতিহাসে সেই উসমান রাঃ আমল থেকে এখন পর্যন্ত মুসলিম মুসলিমদের জবাই করতে তখনি দ্বিধা করে না, যখন মুসলিমদের মধ্যে একদল ইসলামের পরাজয় দেখে দেখে চরম হতাশ হয়ে উগ্রবাদীতার পথে পা বাড়ায়। তারা ভাবে তলোয়ার দিয়েই তারা খাটি ইসলামকে আবার পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। ইসলামের উগ্রবাদীতা, বিশেষ করে তরুণ যুবক মুসলিম ভাইয়েরা, অমুসলিম শক্তির হাতে ইসলামের এই ক্রমাগত পরাজয়, ফিলস্তিন, আফগানিস্তান,ইরাক, ইন্ডিয়া, বার্মা, ফিলিপিনো ইত্যাদি দেশে স্বজাতি ভাইদের মুসলিমদের পড়ে পড়ে মার খাওয়া্র সংবাদ, মুসলিম মা বোনদের ধর্ষণের সংবাদ শুনে তারা অস্থির হয়ে যায়। তাদের চিত্ত নিসপিস করে। তারা মেনে নিতে পারেনা। তারা ভাবে, ইসলাম যদি আল্লাহর মনোনিত ধর্ম হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহর তরফ থেকে কেন এত শতক ধরে মুসলিমদের সাহায্য আসছেন না? আল্লাহ তো আদাম আঃ নুহ আঃ সোলাইমান আঃ ইব্রাহিম আঃ মুসা আঃ মুহাম্মদ সাঃকে সাহায্য করেছেন বিজয়ী করেছেন। তাহলে এখন কেন মুসলিমদেরকে বিজয়ী করছেন না? আল্লাহর কাছ থেকে কোন সাহায্য না পাওয়ার এই হতাশা থেকে তাদের মনে সন্দেহ আসে, তাহলে কি আমরা যারা নিজদেরকে মুসলিম ভাবছি আদৌ আমরা ইসলামে নেই? যে ভাবে ১৪ শত বছর আগে যখন এক এক করে খ্রিষ্টান শাসিত অঞ্চল মুসলিমদের দখলে চলে যেতে থাকে তখন খ্রিষ্টানরাও হতাশা হয়ে এই ভাবে ভেবেছিলো যে গড তাদেরকে ত্যাগ করেছেন, কারণ তারা গডের নির্দেশিত পথ থেকে সরে এসেছিলো। আজকের হতাশাগ্রস্থ মুসলিম যুবকদের মনে এই ধরনের আত্মজীজ্ঞাসার উদ্ভব হচ্ছে, ফলে তাদের মনে বিশ্বাস হয়ে যায় যে প্রচলিত ইসলাম আসল ইসলাম নয় , মুসলিমরা আসল ইসলাম ত্যাগ করার ফলে আল্লাহ এই জাতিকে বিজয়ী করে দিচ্ছেন না। আর এর জন্য মুসলিম জাতি এই ভাবে জিল্লতির ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। শিয়া সুন্নি মাহযাবী লা মাহযাবী আমরা যে ফেরকার মুসলিম আছিনা কেন, এটি তো আমরা অস্বীকার করতে পারি ন।  খলিফায়ে রাশিদুনের আমলের পর থেকে ইসলাম ধীরে ধীরে মূল ইসলাম থেকে দূরে চলে আসছে। যুগ যুগ ধরে ইসলামের গায়ে সেঁওলা জমে জমে আমরা মূল ইসলামকে হারিয়ে ফেলেছি। আমরা সেঁওলাকে এখন মূল ইসলাম বলে সে মত আমাদের প্রতিদিনের কার্যকলাপ পরিচালিত করে যাচ্ছি।

    তবে আমি হেযবুতদের মত বলবো না পৃথিবীর সব মুসলিমরা ইসলাম ত্যাগ করে ফেলেছেন। আমি বলবো না ইসলামের খাটি অনুসারী আজ একজনও পৃথিবীতে নেই। আমি বলবো না যে আমাদের আলাদা ভাবে নামাজ পড়তে হবে। এই প্রবণতা তো শিয়াদের প্রবণতা ইসলাম যেটুকু আছে সেটুকু ধ্বংস করে দেবার আত্মবিনাসী পথ। আমি এইটি বলতে পারি আমাদের মুসলিমরা আল্লাহতে বিশ্বাস করে, রাসুল সাঃ এর রেসালত বিশ্বাস করে ঠিক কিন্তু জীবন ধারণের বেলা ১০০ ভাগ ইসলামের নির্দেশ মানে না। আজকে মুসলিমদের বেশির ভাগের ইসলামের প্রান্তিক অবস্থানে তাদের ফাসিক মুসলিম বলা যেতে পারে। কিন্তু ইসলাম ত্যাগী মুরতাদ বলা যাবে না। আমার মনে হয় না আসাদ আলী কোন পেইড লোক। আমার মনে হয় আসাদ আলীও মুসলিমদের এই চরম জিল্লতি দেখে দেখে হতাশ হয়ে পড়া এক বিভ্রান্ত যুবক, পান্না সাহেবের বিভ্রান্ত তরিকায় গিয়ে যোগ দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস আসাদা আলী আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস রাখেন, রাসুল সাঃ কে মুহব্বত করেন, বিশ্ব মুসলিমের কল্যাণ কামনা করেন। আমার বিশ্বাস আসাদ আলী ইসলামকে তার প্রবল ভালবাসার কারণে, সঠিক পথ না পেয়ে বিভ্রান্ত পথে পা দিয়ে ফেলেছেন। আমার অনুরোধ থাকবে আপনাদের কাছে  -আসাদ আলী আমাদের সন্তান সমতুল্য বা ছোট ভাইয়ের সমতুল্য, এই তরুনকে আঘাত না দিয়ে, তার দেয়া আঘাতকে মুখ বুঝে সহ্য করে, তাকে নম্র ভাবে বুঝানোর প্রচেষ্টা জারি রাখুন। আল্লাহ চাইলে তিনি হয়তো আবার তাকে মূল ইসলামের পথে ফিরে আনতে পারেন।

    মা আস সালামা, আমার বক্তব্যে আপনারা কেউ যদি আঘাত প্রাপ্ত হোন, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ আমাদেরকে সদা সর্বদা সত্যের উপর থাকতে সাহায্য করুন। আমিন।

  16. 3
    জনী

    বরাবর প্রিয় বিজ্ঞ লেখক মনোওয়ার আহমদ আবারো অসাধারণ লিখেছেন। আফসোস মনোওয়ার আহমদ বড়ই ব্যস্ত লোক, যোগাযোগ রাখলে হয়তো ভালোই হতো। দু একবার অবশ্যই ইমেল চালাচালি হয়েছে।

  17. 2
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আহমেদ ভাই,
    ইসলাম বিদ্বেষী এবং ইসলাম ফেরকাবাজ-দের বিরুদ্ধে আপনার লিখা বরাবরই অসাধারন এবং প্রতিষ্ঠিত। গভীর চিন্তা, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, উপস্থাপন… ভীতরের চিত্র সুন্দর এবং চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেন। আল্লাহ্‌ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন এবং সুস্থ রাখুন।

    আপনি আপনার বিগত ৩-টি লিখায় হেজু তাওহীদের সব বিস্তারিত বলেছেন। আসলে হেজু তাওহীদের ভন্ডামী/ধাপ্পাবাজি যে কেউ সহজে বুঝে ফেলবে। এটা সহজ কারন, তাদের কথাবার্তা, আচরনেই সব পরিষ্কার। দুনিয়ার ধান্ধায় এদের অন্তর আবৃত এবং ব্রেইন ওয়াস। জ্ঞ্যান যে অল্প পরিমানও নেই, তা আপনি & মজলুম ভাই ভাল করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

    পুরাতন ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে একজন হেজু তওহীদের সাথে পরিচয় হয়। কমান্ডিং-র সাথে কুচকাওয়াজ করে নামাজ আদায় করলেন। কৌতুহলবশত হয়ে আলাপ হয়। তিনি জানালেন, মক্কা-মদীনা সহ সকল ঈমাম মুসলমান নয়। তারা নবী(স)-র দেখানো পথ থেকে সকল ঈমাম বিচ্যুত। তারা তলোয়ারের মাধ্যমে জিহাদ করে “বাইতুল মোকারম মসজিদ” দখল করবেন। নবী(স) তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করেছেন, তাই তারা তলোয়ার দিয়ে জিহাদ করবেন। কথাবার্তায় সুস্থতা দেখা যায় নাই। এদের মনে হল, সীমালঙ্গনকরী জঙ্গী। অনেকটা ISIS টাইপ জঙ্গী।

    “লজ্জ্বাশীলতা” ঈমানের অন্যতম প্রধান খুটি। এই হেজু তাওহীদের লজ্জ্বা-শরম নেই, এদের বুঝিয়ে লাভ হবে না। According to মজলুম ভাই, এদের অর্থের যোগান যদি বাহির থেকে আসে, তাহলে এই বিষাক্ত সাপ-কে সহজেই ধরাশায়ী করা যাবে না। এই দেশের বেশীর ভাগ মানুষ দরিদ্র। দরিদ্রতার ছিদ্র দিয়ে ঢুকে এই দেশের মানুষদের গ্রাস করবে সহজেই।

    আল্লাহ্‌-র কাছে দোয়া, পৃথিবীর সকল ফেরকাবাজদের শুভবুদ্ধি উদয় হোক।

  18. 1
    এম_আহমদ

    এই দলটি এখনো মূলধারায় ফিরে আসা অনেকটা সহজ ও সম্ভব। কিন্তু এক জেনারেশন অতিক্রান্ত হবে আর কখনো সম্ভব হবে না। একটি কাল্ট হিসেবে চলতে থাকবে।

Leave a Reply