«

»

Feb ১৭

বায়াজীদ পন্নীর মোজেজা –বিভ্রান্তি ও বিপর্যয়

ভূমিকা

  এ পর্যন্ত হেজবুত তাওহীদ (হেতা) নিয়ে যারা পড়াশুনা করেছেন তারা প্রধানত তিনটি বিষয়ে অবগত হয়ে থাকবেন। এক, এই দলের ধারণা হচ্ছে এই মুসলিম জাতি এছলাম বহিষ্কৃত হয়েছে (তাকফীর): তারা মুসলমান নয়, মুমিন নয়, উম্মতে মুহাম্মদী নয়। দ্বিতীয়ত, মুসলিমরা আল্লাহর অভিভাবকত্ব হারিয়েছে। তাদের উপর যে অত্যাচার নির্যাতন, ধ্বংস চলছে তা আল্লাহর শাস্তি বা আযাব। তৃতীয়টি হচ্ছে এই পথহারা, বিকৃত, ভ্রষ্ট (অ)মুসলিমদেরকে আবার হেদায়াতের পথে ফিরিয়ে আনতে আল্লাহ বায়াজীদ খান পন্নীকে এমাম বা নেতা বানিয়েছেন।

পন্নীর সাহেবের লেখা ও হেতাদের কর্মকাণ্ডের বৈশিষ্ট্যের দিকে তাকালে তা মুক্তমনাদের প্রোপাগান্ডার মত দেখায় -যেখানে ‘ক’ -এর বিপক্ষে (ইসলাম/মুসলিম) সমালোচনার ঝড় তুলে ‘খ’ –এর যুক্তি প্রদর্শন। কিন্তু ‘ক’ ভুল হলেই ‘খ’ শুদ্ধ হয়ে যায় না। ‘খ’ তার আপন কারণে ও যুক্তিতেই শুদ্ধ হতে হবে। পন্নীদের গান হচ্ছে ‘ক’ এর গান। এই গান আবেগ উত্তেজনার সাথে গেয়ে যাওয়া হয়, আবেগ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। পন্নী একজন বন্য পশু-পাখি শিকারি ছিলেন। এই শিকারে প্রাণীকে অনেক সময় প্রতারিত করতে হয়। সেই প্রতারণার স্কিল মোজেজায় সজ্জিত করে মুমিন-মুসলমানদেরকে “শিকার” করতে ব্যবহার করেছেন। মনে রাখবেন, নবীরা ছিলেন ভেড়ি ও উষ্ট্রের রাখাল –হেফাজতকারী, শিকারি নন। এই মুসলিম জাতির মধ্যে নানান সমস্যা থাকলেও তাদের হৃদয়ে আল্লাহ-রাসূলের প্রেম-ভালবাসা রয়েছে। পন্নী এবং তার দল এখন মুসলিম জাতির এই আবেগকে তাদের ভীড়ে ঢুকে, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলিম হত্যা ও নির্যাতনের আবেগ দেখিয়ে, ভুল যুক্তি ও প্রতারণায়, নিজেদের দলে ভিড়ানোর চেষ্টা করছেন। পন্নীরা বলছেন চতুর্দিকে গজব, আসুন আমাদের সাথে, একজন উদ্ধারকারী ১৩ শো বছর পরে এসেছেন, তিনিই ‘এমাম’ –তিনি বায়াজীদ খান পন্নী।

চিন্তা করুন। আইসিসের আবু বকর বাগদাদী মুসলিম বিশ্বের খলিফা! কীভাবে? সে নিজেই ঘোষণা দিয়েছে। আর বায়াজীদ পন্নী? তাকে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, এই বিশ্ব জাহানের খালেক, মালেক, মোজেজায় এমামতি দিয়েছেন। মুসলিম বিশ্বের খলিফার কর্মপদ্ধতি সবাই দেখছেন। আর পন্নীর? তাদের কাজ হচ্ছে “বালাগ” মানি তবলীগ, মানুষকে বুঝিয়ে যুক্তি দিয়ে আল্লাহর উলুহিয়তের দিকে আনা (হেজবুত তওহীদের লক্ষ্য  উদ্দেশ্য পৃ. ১৮)! এই বিশ্ব জাহানে এটা কী আর কেউ করছে? এর জন্য কী তাকফীরের প্রয়োজন?  বিশ্বের নিরিহ, নিহত, নির্যাতিত মুসলিমদের ঘাড়ে দোষ চাপানোর প্রয়োজন? না। বরং এই দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ মুসলিমগণ সে কাল থেকে এ কাল পর্যন্ত সুন্নতি তরিকায় জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাথে করে আসছেন। সেই কাজের একটি ক্ষুদ্র অংশকে পন্নীরা ‘মোজেজায়’ রি-প্যাকেজ (repackage) করেছে। It’s a trap -শিকারির জাল। চলুন, এবারে আমরা ‘ক’ ও ‘খ’ এর আলোচনায় যাই।

তাকফীর বা অমুসলিম সাব্যস্তকরণ

তাকফীর হচ্ছে অপরকে ধর্মচ্যুত দেখানো অর্থাৎ ইসলাম বহির্ভূত, বহিষ্কৃত, মুমিন নয়, মুসলিম নয় –এমন শব্দ বা সমার্থবোধক শব্দের ব্যবহারে আনা, (যা ক্ষণিকের উত্তেজনা বা মামুলি পর্যায়ের না হয়ে,  ফর্মেল বা সামাজিক রূপে আনা)। পরিভাষার দিক দিয়ে, অতি সংক্ষেপে, এমনটি হয় তাকফীরের বক্তব্য।

বায়াজীদ খান পন্নী বলেন: 

দুর্ভাগ্যবশতঃ বিশ্ব নবীর ওফাতের ৬০/৭০ বছরের পর এবলিস এই উম্মাহর আকীদায় বিকৃতি ঢুকিয়ে দিতে সমর্থ হোল।  যার ফলে এই জাতি আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ ও ৫ দফা কর্মসূচি দু’টোই ত্যাগ কোরে এছলাম ও উম্মতে মোহাম্মদী দু’টো থেকেই বহিষ্কৃত হোয়ে গেল (পন্নী. বা, খা, (২০১০), এছলামের প্রকৃত রূপ রেখা, ঢাকা: তওহীদ প্রকাশন, ১০ম প্রকাশ, পৃ. ৪৮)। 

এখানে আকীদায় বিকৃতি, এছলাম থেকে ও নবীর উম্মত থেকে বহিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং তা গোটা উম্মাহকে একত্রিভূত করে। এতে রয়েছে একটি সময় সীমা (৬০/৭০ বছর)।  ‘এবলিস’ শয়তানের মাধ্যমে  এই ‘বিকৃতি’ ও ‘বহিষ্কৃতি’ সাধিত হয়েছে।

এই উম্মত ইসলাম বহিষ্কৃত হয়েছে -এটি পন্নী সাহেব ও তার অনুসারীরা নির্দ্বিধায় এবং স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। সদালাপে পন্নীর এক অনুসারী তার ধারণা এভাবে ব্যক্ত করেন: 

ইসলাম বলতেই এরা [বর্তমানের মুসলিম জাতি] বোঝে নামাজ, রোজা, এবাদত-উপাসনা এবং জিকির-আজগার, তসবীহ-তাহলীল, ওযু, গোসল, মেসওয়াক বা লেবাসের মতো তুচ্ছ ব্যক্তিগত জিনিস। অথচ আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, দীনের ব্যক্তিগত ভাগ মেনে ও জাতীয় ও সামষ্টিক ভাগ প্রত্যাখ্যান করে এরা যে তওহীদ থেকেই বিচ্যুত হয়ে গেছে, আল্লাহর চোখে এরা আর যে মোমেন নেই, মুসলিম নেই, বরং মোশরেকে পরিণত হয়েছে সে জ্ঞান তাদের নেই (জঙ্গিবাদের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ, আদর্শিক লড়াই অপরিহার্য,   সদালাপ, লিঙ্ক এখানে)।

এখানে “আল্লাহর চোখে এরা আর মোমেন নেই, মুসলিম নেই, বরং মোশরেকে পরিণত হয়েছে” এই কথাগুলো বেশ কড়া হয়ে এসেছে। কিন্তু আল্লাহর চোখে কী আছে কী নাই, সেটা কীভাবে নিশ্চিত হয়ে বলা হয় –এমন কথায় নিহিত অসুভ সামাজিক রূপ যেকেউ অনুভব করতে পারেন। তারপর একই বাক্যে লেবাস ব্যতীত যেসব বস্তুকে তুচ্ছ বলা হয়েছে সেগুলো ইসলামে মোটেই তুচ্ছ নয়। হেতাদের ভাষায় তাদের ধর্মজ্ঞান কতটুকু তা স্পষ্ট। আবার তাদের ভাষার সাধারণী মাত্রাও (generalised character)  লক্ষণীয়।

তবে ৬০/৭০ বছর পরে ইসলাম বহির্ভূত হওয়ার নিয়ে পন্নীর কোনো অনুসারী প্রশ্নের মুখামুখি হলে তারা এই বহির্ভূত হওয়াকে ‘ধীরে ধীরে’ বহির্ভূত হওয়ার কথা বলেন। তাদের এই স্পষ্ট ৬০/৭০ বছর আর ‘ধীরে ধীরে’ ব্যাখ্যার নারিং-বিরিং পার্থক্য আমরা দেখতে পাচ্ছি কিন্তু সেই সব পার্থক্যের অসারতা আলোচনা করতে গেলে আরেকটি প্রবন্ধের প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এই জাতি আর মুমিন মুসলমান থাকে নি, এটাই কথা। যদি থাকত তবে ইউরোপের কাছে পরাজিত না, আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতেন। এই ধরণের বালখিল্যই পন্নী যুক্তি। তার এই ধারণা, বিভাজন ও পার্থক্যকরণ সম্পূর্ণ ভুল। জয়ী হলে ও জয়ী থাকলে মুমিন আর পরাজিত হলে কাফির বা অমুসলিম! এমন সরলীকরণ, এমন ব্যাখ্যা! বুদ্ধির প্রশংসা করতেই হয়।

এই জগতে আল্লাহ কাউকে চিরদিন বিজয়ী রাখেন না। জয় পরাজয়ের দিনলোকে আল্লাহ মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন ঘটিয়ে থাকেন (৩:১৪০)। আজ যারা বিজয়ী ২০০ শো বছর পরে তারা বিজয়ী থাকবে এমন নিশ্চয়তা কে দিতে পারে?

মুসলিম বিশ্বের সমস্যা নিয়ে যুগ যুগ ব্যাপী  ধর্মীয় আলেম, ইতিহাসবেত্তা, সমাজ বিজ্ঞানী –সবাই আলোচনা করে আসছেন, আমরাও করছি, সমস্যা আছে বলেই এবং ছিল বলেই। কিন্তু কেউই এই মুসলিম বিশ্ব ইসলামহারা হয়ে গিয়েছে –এমনটি বলেন নি। এমনটি যৌক্তিক তো নয়ই বরং সামাজিকভাবে সমস্যাবহুল। 

মুহাম্মদের (সা) উম্মত তাঁর মৃত্যুর ৬০-৭০ বছর পর এছলাম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে যাবে, পন্নীর এমন ধারাণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত (preposterous), অস্বাভাবিক ও উদ্ভট। এই নবীর উম্মতের এক দল সবদিন সত্যের উপর থাকবে, সত্যের পথে যুদ্ধ করবে, এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে –এই মর্মের অনেক অনেক হাদিস মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, ইবন মাযাহ, ইত্যাদি হাদিস গ্রন্থে আছে (এখানে কয়েকটি হাদিস দেখা যেতে পারে)। এই আলোচনাটি দীর্ঘ, তাই এখানে রাখতে পারব না।

১০০ বছরের আগ ও পর –এই বিভাজন বানোয়াট

পন্নীর বক্তব্য: এবলিস কর্তৃক আকীদা বিকৃতির কারণে এই জাতি এছলাম বহির্ভূত হয়েছে, তার এই কাহিনী “হঠাৎ-করে-ঘটা” বিষয়।

পন্নী বলেন:  

৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ঐ জাতিটি তখনকার দিনের অর্দ্ধেক পৃথিবী জয় কোরে আল্লাহর আইনের শাসনের অধীনে নিয়ে এলো … অর্দ্ধেক পৃথিবীতে আল্লাহর আইন প্রবর্ত্তন করার ফলে ঐ সমস্ত এলাকায় লুপ্ত হোয়ে গেলো শোষণ, অবিচার, অন্যায়, নিরাপত্তাহীনতা অর্থাৎ ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমা। প্রতিষ্ঠিত হোল সুবিচার; ব্যক্তিগত ও সমষ্ঠিগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সুবিচার ও নিরাপত্তা; এক কথায় শান্তি।

এরপর ঘোটলো এক মহাদুর্ভাগ্য জনক ঘটনা। ঐ জাতি হঠাৎ তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ভুলে গেলো (পন্নী. বা, খা, (২০১০), তওহীদ প্রকাশন, বাংলা বাজার, ঢাকা, ১০ম প্রকাশ, পৃষ্ঠা ৪-৫)।

কোন জাতি “হঠাৎ” করে তার লক্ষ্য উদ্দেশ্য ভুলে যায় না। আকিদা পরিবর্তন করে না। মানুষ যে আকিদায় পুষ্ট হয়, সে আকিদায় তার পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে ও এটা ধারাবাহিকতায় থাকে। পরিস্থিতির একান্ত প্রভাব ও নাজুকতা ব্যতীত সমাজ বা গোত্র মৌখিকভাবেও তাদের আকিদা পরিবর্তনে সায় দেয় না। পন্নীর কথাবার্তা কোনো ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার ভাষায় আসেনি, সামাজিক বিশ্লেষণেও আসে নি,  এমন কি তা সাধারণ লোকের সম্যক বিচার-বিশ্লেষণের ভিত্তিতেও নয়। আপনি বলবেন একটি জাতি ‘ইস্পাতের মত ঐক্যবদ্ধ গুণের অধিকারী’, তারপর বলবেন তারা ‘সঠিক আকিদা’ নিয়ে ‘সুবিচারের’ উপর সমাজ প্রতিষ্ঠাকারী, তারপর তারা সুষ্ঠু অর্থনীতির ভিত্তিতে সুব্যবস্থা প্রবর্তনকারী, নিরাপত্তা দানকারী এবং শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী, তারপর? তারপর তারা “হঠাৎ” উদ্দেশ্য ও লক্ষ ভুলে গেল?  অপদার্থ কথা।

হঠাতের বিভ্রান্তি

পন্নীর ধারণা যে ৬০/৭০ বছর পর সশস্ত্র জিহাদ ত্যাগ করার কারণেই মুসলিমরা এছলাম ও উম্মতে মুহাম্মদি থেকে বহির্ভূত হয়েছেন। যদি তারা এই জেহাদ জারি রাখতেন অর্থাৎ দেশের পর দেশ জয়ের ধারা জারি রাখতেন তবে সমস্ত পৃথিবীতে দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেত এবং এই পৃথিবী শান্তি নিরাপত্তায় ভরপুর হয়ে যেত। সুতরাং এই জিহাদ পরিত্যাগ করার কারণে বিশ্বে যে রক্তপাত হচ্ছে, অন্যায় অবিচার হচ্ছে, এর জন্য তারাই দায়ী। কেননা তারা নবীর সশস্ত্র জেহাদের সুন্নাহ পরিত্যাগ করেছিলেন (পন্নী. বা, খা, ইসলাম ইসলামই নয়, ঢাকা: প্রীতি প্রকাশন, পৃ.২৩৪)। এসব হচ্ছে আবালের ব্যাখ্যা, ধর্ম দর্শন, অজ্ঞের সমর শক্তি নিয়ে অভিমত প্রকাশ। পন্নীর ভুল হচ্ছে সেই সময়কে না বুঝা, আরব মানসিকতা না বুঝা, ইসলামপূর্ব যুগ না বুঝা, ইসলামপূর্ব কোরাইশ বংশের উপগোত্রীয় দ্বন্দ্ব-কলহ না বুঝা, হেজাজের গোত্রীয় সম্পর্ক না বুঝা, ইসলামপরবর্তীতে সেইসব পূর্বদ্বন্দ্বের ভিন্ন রূপ পরিগ্রহের বিষয় না বুঝা, ইসলামপূর্ব বাইজানটাইন ও পারস্য সাম্রাজ্যের পারস্পারিক যুদ্ধে উভয়ের শক্তি দূর্বল হওয়ার প্রেক্ষিত না বুঝা, ৪ খলিফার সময়, সমাজ, ও তৎপরবর্তী আভ্যন্তরীণ সমস্যা না বুঝা, প্রথম হিজরী শতাব্দীর সেনাশক্তির উপাদান, গঠন, ব্যয়ভার ও নেতৃত্বের সার্বিক শক্তিসীমা না বুঝা, সেকালের প্রতিপক্ষের শক্তির সীমা  না বুঝা ও সেই সময়ের সামরিক ও তাত্ত্বিক পরিমণ্ডল না বুঝা। এইসব অজ্ঞতা নিয়ে তিনি বসে বসে মিম্বরের বয়ান করেছেন। এলোমেলোভাবে কাল ও জাতি নিয়ে সাধারণী মাত্রায় (generalised) অপদার্থ কথা বলেছেন। মানুষের সমাজ, অর্থ-ব্যবস্থা, অর্থ-সূত্রের স্থান, কাল ও ভৌগলিক রূপ এগুলোর জটিলতা না দেখে, কোন কিছুর গভীরে না গিয়ে, সরলীকরণ করা, কোনো একটি সমাজকে দোষরূপ করা বিষয়ের জটিলতা না বুঝারই লক্ষণ। পন্নী যদি সেদিনের মুসলিম মিলিটারী ক্যাপাসিটি ও তাদের প্রতিপক্ষগুলোর ক্যাপাসিটি পরিসংখ্যাতত্ত্বসহ (statistical analysis) দেখিয়ে এসবের আলোকে মুসলিমরা কীভাবে ইচ্ছা করলেই বিশ্ব জয় করে নিতে পারতেন সেই বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা দেখাতেন তবে কোনো না  কোনোভাবে যৌক্তিকতা স্থান পেত। কিন্তু তার সেই জ্ঞান নেই –তিনি কীভাবে তা করবেন? তার কোন অনুসারী আজো যদি সেই অনুসদ্ধানে গিয়ে তা দেখিয়ে দিতে পারে তবে সার্থক হবে।

একটি হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা

পন্নী তার এই কাল বিভাজনকে জাস্টিফাই করতে একটি হাদিসকে ভুল অর্থে ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “মহানবী ভবিষ্যৎবাণী কোরেছেন –আমার উম্মাহর আয়ূ ৬০/৭০ বছর (হাদিস –আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে তিরমিযি ও ইবনে মাযাহ, মেশকাত)” (২০১০:৪৯)।  তারপর তিনি এই হাদিসের অর্থ ব্যাখ্যা করেন এভাবে: “অর্থাৎ তাঁর উম্মাহ পৃথিবীতে থাকবে ৬০/৭০ বছর, তারপর যেটা হবে সেটা নামে মাত্র উম্মতে মোহাম্মদী, সেটা প্রকৃত পক্ষে উম্মতে মোহাম্মদী নয়” (প্রাগুক্ত)।

পন্নী এই হাদিসটি বুঝতে সাংঘাতিকভাবে ভুল করেছেন। হাদিসটির বিষয় মানুষের বয়সের গড়-সীমা নিয়ে। অর্থাৎ সাধারণভাবে এই উম্মতের লোকদের আয়ুষ্কাল হবে তাদের জীবনের ষাট ও সত্তর দশকের সীমায়: ষাট বলতে ৬০-৭০ আর সত্তর বলতে ৭০-৮০।  এই হাদিসটি সেই সুদূরের অতীত থেকে আমাদের একাল পর্যন্ত এই অর্থেই বুঝা হয়েছে। তিনি কীভাবে এই ভুল করলেন যেখানে হাদিসটির বর্ণনা উম্মতের লোকদের আয়ুষ্কালের অধ্যায়ে এসেছে Chapter: What Has Been- Related About 'The Lifespan Of (The Individuals) In This Ummah Is Between Sixty And Seventy [Years]? একজন বে-উস্তাদি লোক ক্ষেত্র বিশেষে যে সাংঘাতিক ভুল করে বসতে পারে –এখানে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। 

পন্নীর কাল-বিভাজন হচ্ছে তার মোজেজার স্কিমেরই অংশ। আমরা এই স্কিমকে এবারে দেখতে যাব।

মুজেজার স্কিম ও কাহিনী

নবুয়্যতির যুগে অর্থাৎ আদম (আ) থেকে মুহাম্মদ (সা) পর্যন্ত যখন একজন নবী আসতেন তারপর তার অন্তর্ধানের পর সেই শিক্ষা ও হেদায়াত যখন বিকৃত হয়ে পড়ত, মানুষ ভ্রান্ত পথে চলত, তখন আল্লাহ আরেকজন নবী পাঠাতেন। এক নবী থেকে আরেক নবীর মধ্যবর্তী সময়টিকে বলা হয় ‘ফাতরাহ’ (فترة)।   এই ‘ফাতরাহ’ শত শত বছরের ব্যবধানে বা আরও বেশি সময়ে হত। মুহাম্মদ (সা) ও ঈসার মধ্যকার ‘ফাতরাহ’ হচ্ছে প্রায় ৬ শো  বছরের।

পন্নী যা বলছেন তা হল অতীত জাতির মত এই জাতিও বিকৃত হয়ে গিয়েছে। একটি ‘ফাতরায়’ আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।  যদি তাই হয়, তাহলে একজন নবীর প্রয়োজন। কিন্তু মুহাম্মদের (সা) পরে এই ধর্মে আর নবী নেই! এখানে সমস্যা!

এর সমাধান হচ্ছে সোজা, আল্লাহ রাসূলের দরজায় আরেকখানা গেট বসিয়ে দেয়া। তারপর জাগায় জাগায় ব্যাখ্যা দান। কোরানের ৩৩:৪০ আয়াতখানি সব কিছুর মধ্যে একটি অন্তরায়। এটিও ব্যাখ্যা করা যায়। আর তা এভাবে: মুহাম্মাদ (সা) নবীদের ‘মোহর’ –এই অর্থে যে তাঁর পরে পূর্বের অর্থের কোন নবী নেই, কিন্তু তাঁর ‘সীল-মোহরের’ আওতায় কেউ নবী হতে বাধা নেই। অর্থাৎ তার রেসালত ও নব্যুতের প্রলেপে। কাদিয়ানী ও আমেরিকার ন্যাশন অফ ইসলামে এই মর্মের অর্থ পাওয়া যায়। তবে কাদিয়ানীদের মধ্যে ৩/৪টি দল, তাদের সকলের দাবী একত্র করলে গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নবী, মসীহ, মাহদী, মুজাদ্দেদ –সব লেবলই (labels) পাওয়া যায়।

পন্নী বলছেন নবী মুহাম্মদের (সা) অন্তর্ধানের ৬০/৭০ বছর পর এই জাতি এছলাম ও উম্মতে মোহাম্মদী থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে। কালের ধারায় তারা আর আগের মুমিন মুসলমান নয়। পন্নী ও মুহাম্মদের (সা) মধ্যে যেন একটি ‘ফাতরাহ’ অনুষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। তাই হেদায়াতের জন্য আল্লাহ তাকে এমাম বানিয়েছেন, মোজেজার মাধ্যমে। এখানেই বিকৃতির কাহিনী, হেদায়াতের প্রয়োজন ও মোজেজা। এতে কৌশলে নবুয়্যতির দাবী এড়িয়ে যাওয়া হল, এবং আল্লাহর সাথে সরাসরি সম্পর্কও দেখানো হল। বলতে হয় তিনি বুদ্ধিতে খাটি বাঙালী!

আদম (আ) থেকে মুহাম্মাদ (সা) পর্যন্ত যে নবীগণ এসেছেন তাদের সাথে মোজেজা ছিল, যা অতি প্রাকৃতিক কিছু নিদর্শন, এই নিদর্শন তাদের নবুয়্যতিকে সত্যায়ন করত। ঠিক সেভাবে পন্নীর “এমামতিকে” আল্লাহ মোজেজার মাধ্যমে সত্যায়ন করেছেন। শুধু তাই নয় হেজবুত তাওহীদ যে হকের উপর এটা এবং হেজবুত তাওহীদের মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবীতে আল্লাহর সত্যদ্বীন প্রতিষ্ঠিত হবে এগুলোও সত্যায়ন করেছেন (সদালাপ লিঙ্ক)। এই মোজেজাকে পন্নীর অনুসারীরা নবীর মেরাজের তুলনায় দেখে থাকেন (প্রাগুক্ত লিঙ্ক)। পন্নীদের ধারণা তাদের দল বৈশ্বিক এবং তাদের ‘এমাম’ও বৈশ্বিক। সবকিছু মিলিয়ে তাদের শব্দটি যদিও “নবী” নয় কিন্তু নবুয়্যতির জুব্বায় “এমামতি” বলেই সহজে অনুভূত হতে পারে।

আমাদের এই লেখাটি দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। সারাংশ টানতে হবে। এটিকে ছোট ছোট করে কয়েকটি অংশে প্রকাশ করতে গেলেও সদালাপের প্রথম পাতায় এক ব্যক্তির লেখার সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। তাই অনেক বিবেচনা বাধ্য-বাধকতায় আসে। এখানে অনেক কথা স্থান দেয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এই তাকফীর, এই মোজেজা, মুসলিমগণ হত্যা-নির্যাতিত হওয়ার দোষ তাদের ঘাড়ে চাপানো, তারপর কলেমার অর্থ  বিকৃত করে তারা যে সত্য ধর্মের গল্প বলে বেড়াচ্ছে সেটা নিশ্চয় দেখতে হবে। তারা গরম গরম বক্তৃতা আর হুঙ্কারে যে ব্যাঘ্র বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে চায় তা কী সত্যিই ব্যাঘ্র বৈশিষ্ট্যের?

হেজবুত তাওহীদ, আল্লাহর আইন ও কর্মপদ্ধতি

পন্নীর মুসলিম বিশদ্গারের প্রধান কারণ হল তারা আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে মানুষের আইন মেনে নিয়েছে। এই মাশরিক  থেকে মাগরিব পর্যন্ত মানুষের আইন জারি হয়ে আছে এবং এতে তাদের মাথা ব্যথা নেই। তারা আল্লাহর আইন পুনঃ প্রতিষ্ঠা করতে জেহাদ করছে না। পন্নী দলের লেখা ও গরম গরম বক্তৃতা শোনলে মনে হতে পারে যে এই দল আল্লাহ ছাড়া আর কারও আইন মানে না, কারো কাছে মাথা নত করে না, তারা নির্ভয়, নির্ভিক। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে তারা ব্যাঘ্র জাতীয় কিছু নয়, বরং বিড়াল জাতীয়। তাও আবার বিড়াল ছানার মত।

পন্নী আল্লাহ মনোনিত। আল্লাহ ১৩ শো বছর একটি হাদিসের কর্মসূচী এছলাম বহিষ্কৃত জাতিকে ‘বুঝতে দেন নি’, এর সমঝ থেকে তাদেরকে ‘বঞ্চিত’ রেখে ‘এলহামের’ মাধ্যমে পন্নীর হৃদয়ে ‘নাজিল’ করেন (পন্নী, ২০১০:৫০)। পন্নী এরই প্রেক্ষিতে হেববুত তাওহীদ গঠন করেন। সুতরাং এই অতি গুরুত্বপূর্ণ দলটি মানুষের তৈরি করা আইনের ক্ষেত্রে কোথায় অবস্থান করে? তাদের জিহাদ কোথায়? কার সাথে?

পন্নীদের মুলনীতি ও দেশের আইন

প্রথমে তাদের মূলনীতি দেখা যাক। হেজবুত তাওহীদের চারটি মূলনীতির একটি হচ্ছে “হেযবুত তওহীদের কেউ কোনোরূপ আইনভঙ্গ করতে পারবে না!”

এখানে যে আইন মেনে চলবে বলে তারা অঙ্গীকার করছে সেটা কার আইন? আল্লাহর, না মানুষের? পন্নীদের কলেমার অর্থও এই মর্মের যে আল্লাহ ছাড়া কারও আইন মানি না। ‘তাইলে’? তাইলে তাদের অবস্থান কী বাকিদের অবস্থান থেকে ভিন্ন? না। তবে ‘ব্যাখ্যা’ আছে। ধৈর্য্য ধরুন।

 “এই কাজ করার জন্য হেজবুত তওহীদ যে প্রক্রিয়া গ্রহণ কোরেছে আল্লাহর রসূলের প্রক্রিয়া, অর্থাৎ তরিকা। তিনি কি কোরেছিলেন? মক্কী জীবনের তের বছর তাঁর আহবান অর্থাৎ বালাগ ছিলো” (পন্নী, হেজবুত তওহীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, পৃ.১৮)। অর্থাৎ হেতাগণ এখন মক্কী জীবনে! আর বাদবাকী মুসলিমরা কোথায়? চিন্তা করুন, দেখুন কীভাবে ধান্ধা রচনা হচ্ছে। হেতাগণের ‘জিহাদ’ হচ্ছে ‘আন্দোলন’, ‘নিরস্ত্র প্রচেষ্টা’! তাদের আন্দোলনকারীরা “মুজাহিদ” –আর বাকীদের তো ঈমানই নেই! মাশাল্লাহ, আল্লাহর  এমাম এখন পন্নী, কি আর কইবেন। উম্মতে মুহাম্মদি এখন বইস্যা বইস্যা মোজেজা দেখতে হবে!

হেতাগণের মূলনীতিতে রয়েছে “কেউ অবৈধ অস্ত্রের সংস্পর্শে যেতে পারবে না।” এটা এবং আগেরটা একই পর্যায়ের। দেশের কোন নাগরিক অমনিতেই আইনভঙ্গ করতে পারবে না এবং অবৈধ অস্ত্রও রাখতে পারবে না। এগুলোর ইখতিয়ার নেই। আইন তা করতে দেবে না। শাস্তি দেবে। কিন্তু কেউ যদি আগ-বেড়ে বলে, তার কাছে অবৈধ অস্ত্র নেই, তবে এখানে সন্দেহ। তার কাছে লাইসেন্স করা “বৈধ” অস্ত্র থাকতে পারে –এই ধারণা নিহিত। তারপর যারা আল্লাহ ছাড়া আর কারো আইন মানবে না, বৈধ নয় বলেই তো, তাদের অস্ত্র কোন আইনের ভিত্তিতে অবৈধ হবে? আইসিস কি তাদের অস্ত্র অবৈধ মনে করে?

পন্নীদের মৌলিক নীতির মধ্যে রয়েছে “হেজবুত তওহীদ কোনোরূপ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে না।” রাষ্ট্র কী রাজনীতির ঊর্ধ্বে? নবীর রাষ্ট্র কী রাজনীতির বাহিরে ছিল? খিলাফত কি রাজনীতির বাহিরে? কোনো দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ‘ক’ ‘খ’ ‘গ’ –এই তিন দলের রাজনীতি থাকলে কেউ যদি সেখানে নীরব থাকতে চায় বা সরে থাকতে সিদ্ধান্ত নেয় তবে এই সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক। এই নীরবতারও পরিণতি রয়েছে। সুতরাং তাদের উদ্দেশ্য, বক্তব্য মূলনীতি –এগুলো গোজামিলের, এসবের মধ্যে সমাজ ও রাজনীতির সমঝও নেই, তাদের উদ্দেশ্য অন্যকিছু হওয়াই স্বাভাবিক।  

সুতরাং দেখাই যাচ্ছে যে নীতিগতভাবে এই দল ছক্কা-মারা ভাষার আড়ালে বিড়াল ছানা। মুসলিম বিশ্ব থেকে তারা কৃত্রিম ও অযৌক্তিক কারণে আলাদা হয়েছে এবং অযথা বৈরি-আন্দোলন শুরু করেছে।

মুসলিম বিশ্বের যেসব ইসলামী দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে পন্নী এদেরকে ইউরোপীয় পদ্ধতির অনুগামী বলে উল্লেখ করেন –এরা ভ্রষ্ট। তারা যে মিটিং করে, মিসিল দেয়, শ্লোগান দেয় এগুলো তাদের আকিদা বিকৃতি এবং ইউরোপীয় তরিকা অবলম্বনে (পন্নী, ২০১০:৫০)। কিন্তু ইউটিউবে একটু সার্চ দিলে দেখা যাবে পন্নীগণও মিটিং করে, মিসিল দেয় ও শ্লোগানও দেয়। তারা পৌত্তলিক সংস্কৃতির ধারায় দলীয় সভা-সমাবেশে মৃত নেতার (পন্নীর) ছবি টাঙিয়ে ও নানান সাজ-সজ্জা ও কায়দায় নিজেদের কাজ চালায়। তাহলে বাকীদের গুনাহটা কী? গণতন্ত্র? অন্যরা গণতন্ত্রকে যদি ‘নিরাপদ’ হিসেবে বেচে নিয়ে থাকে এবং এতে ভুল করে থাকে তাহলে পন্নীদের রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনের পথ কি? তারা রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করেন –এ বিষয়ে তাদের কোন বক্তব্য নেই, আছে কেবল অন্যদের সমালোচনা।

পন্নীর এই ধারণা যে আল-হারিস আল-আশআরির (রা) কর্তৃক বর্ণীত তিরমিযি শরীফের সেই হাদিস যেখানে ৫ বিষয়ের কথা উল্লেখ হয়েছে যেমন: নেতৃ-আদেশ শোনা, মেনে চলা, জিহাদ করা, (প্রতিকূল স্থান ও মন্দ থেকে) হিজরত করা এবং জামাতবদ্ধ হয়ে থাকা -এই হাদিসটি আল্লাহ ১৩ শো বছর এই জাতিকে বুঝতে দেন নি, বঞ্চিত রেখে,  এলহামেরমাধ্যমে পন্নীর হৃদয়ে নাজিলকরেন (২০১০:৫০)। এমন দাবী পন্নীর বিরূপ  মানসিকতা ও দৈন্যতা প্রকাশ করে। এই ৫টি বৈশিষ্ট্য সকল মুসলিম সংগঠনে রয়েছে। কেউ যদি ‘হিজরত’কে নিছক অনৈতিক কাজ থেকে হিজরত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং ‘জিহাদ’কে নিছক সংগ্রাম বা প্রচেষ্টা অর্থে নেন, তবে এই ৫টি নীতি সেক্যুলার সংগঠনগুলোতেও পাবেন –কেননা এগুলো সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্য, এগুলো ছাড়া সংগঠন হয় না।  

সুতরাং হেজবুত তাওহীদ যে একটি ফিতনার ফানুস তা দিবালোকের মত স্পষ্ট। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে এই বিশ্ব মুসলিদের যে সাংগঠিক, শিক্ষাগত, প্রচারভিত্তিক, জ্ঞান-ভিত্তিক ও পারস্পারিক সাহায্যভিত্তিক কাজকর্ম রয়েছে এবং যে অবয়বের উপর তারা দাঁড়িয়ে আছেন হেজবুত তাওহীদ সেই সব কাজের তুলনায় অতি নগণ্য। এরা দাঁড়িয়েছে মুসলিমদের মধ্যে আরেকটি সংঘর্ষের ক্ষেত্র হিসেবে যাতে দ্বান্দ্বিকতায় কয়েকটি রাজনৈতিক পক্ষ লাভবান হতে পারে। বাংলাদেশে যদি মুসলিম দলগুলো মিলিত ঐক্যে কোনোদিন সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে জোরদার হয়, তবে এরাই হবে পালটা শক্তি। এই বীজ এখন অঙ্কুরিত হচ্ছে। এর গোড়ায় পানি দেয়ার লোকও রয়েছে।

উপসংহার

আমরা উপরে যে  আলোচনাটি করেছি এর আলোকে নিচের কথাগুলো বলতে যাচ্ছি।

  পন্নী যেভাবে ইসলাম ধর্ম, ইসলামের ইতিহাস ও ১৪ শো বছরের মুসলিম সমাজকে দেখেছেন  তাতে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। তিনি ৬০/৭০ বছরের যে কালীন বিভাজন করেছেন তা ভুল ও ভিত্তিহীন। এই জাতি কখনো জাতিগতভাবে ইসলাম বহির্ভূত হয় নি, আকিদা বিস্মৃতও হয় নি (বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর কথা বলছি)। বিশ্বের যেসব মুসলিম আজ হত্যা-নির্যাতিত হচ্ছে এটা তাদের “দোষের” কারণের নয়। আল্লাহ অত্যাচারীর সহায়ক নন। এগুলো হচ্ছে পন্নীর মোজেজার জাস্টিফিকেশন এবং ভুল তো বটেই।

  আজকে বাংলাদেশে পাণ্ডিত্যপূর্ণ ইসলামী জ্ঞানের অধিকারী অনেক লোক রয়েছেন এবং বিশ্বের ময়দানে রয়েছেন লোম-হর্ষক জ্ঞানের অধিকারী আলেমগণ। পন্নীর জীবনবৃত্তান্তের দিকে তাকালে তার এমন কোনো শিক্ষা ও গুণাবলীর সমন্বয় দেখা যায় না যেগুলোর আলোকে তাকে সেই আলেম শ্রেণীর কোথাও স্থাপন করা যেতে পারে এবং তাকে মুসলিম সমাজের নেতৃত্বের কেউ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। পন্নী এই অপূর্ণতাকে ‘মোজেজায়’ অতিক্রম করেছেন এবং আলেম সমাজকে ম্লান করতে তাদেরকে পুরোহিত আখ্যায়িত করেছেন। মুসলিম ঐক্যের নামে তাদেরকে বিশদগার করে অনৈক্যের এক নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন।

  ইসলামী জ্ঞানের মূলধারায় শিক্ষা অর্জন না করে, এলোমেলো পাঠের অপর্যাপ্ত  ধারণা নিয়ে পন্নী যেভাবে সাধারণী মাত্রার (generalised) মুসলিম বিশদগার, বিশেষ করে, অমুসলিম সাব্যস্তকরণসহ যে আন্দোলনের সূচনা করেছেন তা এক দিকে ধর্মীয় ও সামাজিক ভয়ানক পরিণতির বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং অন্য দিকে তার ধর্মীয় ধারণা,  ((যেমন কলেমার অর্থ এক উপাস্য (ইলাহ) মানা নয় বরং আইনদাতা মানা,অনেক ইবাদতকে তুচ্ছ ধারণা করা, নামাজকে মিলিটারি প্যারেড করা ইত্যাদি)), ও কাজ মূল ধর্মের ধারাবাহিকতা বর্জন করে স্বেচ্ছাচারী ব্যাখ্যায় চালিত হচ্ছে। জ্ঞানের ধারাকে পুরোহিতধারা বলে ম্লান করা হচ্ছে। পন্নীর এই বিকৃত পথ থেকে সব শ্রেণীর লোক বিশেষ করে যুবসমাজ, সরে থাকা উচিৎ।

  বিশ্বের পরিস্থিতি না বুঝে এবং ইসলামী জ্ঞানের ধারাবাহিকতা বঞ্চিত হয়ে যারাই নতুন কায়দায় উগ্র-আন্দোলন শুরু করেছেন তাদের কারণে মুসলিম বিশ্বে বাড়তির সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে যেমন আওলাকী, লাদীন, বাগদাদী বোকো হারাম ইত্যাদি। পন্নী আবু বকর বাগদাদী থেকে মোটেই ভিন্ন নন। তার দল এখন ‘মক্কী পর্যায়ে’। যখনই তারা এই ‘পর্যায়’ অতিক্রম করেছে বলে ঘোষণা দেবে, তখন তারা বাগদাদীর মত মুসলিম হত্যা করতে বাধা থাকবে না, কেননা মুসলিমরা তাদের দৃষ্টিতে মুসলিম নয়! কয়েকটি  গোষ্ঠীর এক সমন্বিত শ্রেণী' পন্নীদেরকে অপর মুসলিমদের দাবাতে সাহায্য করবে এবং যখন এরা বাগদাদী রূপে আত্মপ্রকাশ করবে তখন তারা ও তাদের বিদেশি শক্তি মিলে মুসলিম-মেইনস্ট্রিমের বৈশিষ্ট্যকে এই ভূখণ্ডে নির্মূল করতে নামবে। 

 শেষ পয়েন্ট। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো এখন বৈশ্বিকশক্তির দৃষ্টিতে একটি ‘সমস্যা’ হিসেবে নির্দিষ্ট (চিহ্নিত)। বাংলাদেশ সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশগুলোর অন্যতম। এই দেশের ভিতর থেকে এবং বাহির থেকে এই ‘সমস্যার’ সমাধানের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ হচ্ছে। ইসলামকে এক পেশে (marginalise) করার জন্য সাংস্কৃতিক ও জাতীয়তাবাদীসহ বিভিন্ন ধরণের ‘আর্থ-সামাজিক’ আন্দোলন চলছে। মুসলিমদের উপর ‘সাম্প্রদায়িক’ লেবেল অর্পণ এবং অনুভূতিগত “হরিজনকরণ” হচ্ছে, যাতে করে মুসলিম পরিচিতিটি তাদের মানসিকতায় সংকোচবোধের কারণ হয় এবং নিজেদের ভিতরেই সেই অনুভূতি কাজ করে যায়। শিক্ষা-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক ময়দানে 'সমন্বিত শ্রেণীটি' প্রকাশ্যভাবে বাংলাদেশের ইসলামকে ‘বাড়াবাড়ির ইসলাম’ বলে যাচ্ছে। তারা (মুসলমানদের ভিতরে এবং বাহিরে বসে) উল্লেখিত কাজগুলো কয়েক যুগ থেকেই চলিয়ে যাচ্ছে। ‘এই এছলাম সেই এছলাম নয়’ –এই আন্দোলনটি সেই স্রোতেই স্রোতগামী, যদিও কোনো এক স্থানে খানিক ভিন্ন। উল্লেখিত শ্রেণীটি মেইনস্ট্রিম মুসলিম গোষ্ঠীর মোকাবেলায় কাদিয়ানীসহ যেকোনো স্প্লিনটার গ্রুপ, এমনকি কোনো মুসাইলিমা কাজ্জাবও যদি এই ভূখণ্ডে আত্মপ্রকাশ করে, তবুও তারা মানবতাবাদী আবরণে, প্রকাশ্যে/অপ্রকাশ্যে সাহায্য করে যাবে, যাতে করে এই মেইনস্ট্রিম ছিন্ন ভিন্ন হয় এবং এক সময় যাতে প্রতিষ্ঠিত ইসলামের স্বর এই ভূখণ্ডে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতম হয়ে পড়ে।

হেজবুত তাওহীদ হচ্ছে এই মুসলিম মেইনস্ট্রিমের বিপক্ষে একটি নতুন ‘আন্দোলন’ –এদের উদ্দেশ্য ও সেই শ্রেণীর উদ্দেশ্য এক। কিন্তু যে সীমায় গিয়ে উদ্দেশ্যের ভিন্নতা আসতে পারে, সেই শ্রেণীটি জানে যে হেতাগণ কিয়ামত পর্যন্ত সেই সীমায় পৌঁছতে সক্ষম হবে না, এবং ‘হেতা-আন্দোলন’ কখনো মুসলিম জনগোষ্ঠীতে মোজেজা, তাকফীর, ভুল ইতিহাস, কোরান হাদিসের অপরিপূর্ণ জ্ঞানসহ গৃহীত হবে না। তাই এখানে থাকছে  কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা আর এক ফাঁদের পিছনে ফাঁদ। সুতরাং বর্তমান ও আগামী দিনের এই নতুন ফিতনাটির ব্যাপারে মুসলিমগণ সার্বিকভাবে সতর্ক হওয়া উচিত।

__________________________

এ বিষয়ে আমার অন্যান্য লেখা:

(১) হেজবুত তাওহীদ ও নন-পলিটিক্যাল খিলাফত

(২) বায়াজীদ পন্নীর বিভ্রান্তিতে একটি নতুন ফিতনা

(৩) হেজবুত তাওহীদ -উম্মাহ বিচ্যুত একটি পথভ্রষ্ট ধারা

(৪)  বায়াজীদ পন্নীর মোজেজা -বিভ্রান্তি ও বিপর্যয় (বক্ষস্থিত লেখা)

____________

এই দলটিকে বাংলাদেশ থেকে যারা মূল্যায়ন করেছেন এবং কিছু ডক্যুম্যান্টও করেছেন তার কয়েকটি নমুনা এখানে লিঙ্ক করলাম। এগুলোও শুনে নিতে পারেন।

https://www.youtube.com/watch?v=W9BPCXxokUs

সোনাইমুড়িতে হিজবুত তাওহিদ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ; নিহত ২-CHANNEL 24

ভন্ড হিযবুত তাওহীদের ভন্ডামী

https://www.youtube.com/watch?v=VgFvG_yIYrA

হেযবুত তাওহীদ – কেন বাতিল দল ???
https://www.youtube.com/watch?v=cl3Y97lCvCk

হিজবুত তাওহীদ মানুষকে ধর্মের নামে কিভাবে ধোঁকা দিচ্ছে
https://www.youtube.com/watch?v=Z1R2K_gtSA

১৮ comments

Skip to comment form

  1. 18
    Ivan

    হেতা গোষ্ঠীর একটাও কি নাই এসব যুক্তি খণ্ডানোর? সব কি অকাটমূর্খ? হওয়ারই কথা, তানাহলে কি আর একটা কাল্ট দলের সদস্য হয়।

    ধন্যবাদ আহমদ ভাইকে চমৎকার একটি পোস্ট দেওয়ার জন্য।
    অন্যান্য ধর্মের লোকজনদের সাথে নরম সুরে কথা বললেও এসব আনএডুকেটেড, মূর্খ, ফেৎনাবাজদের সাথে জিরো টলারেন্স।

  2. 17

    অনেক কিছু জানলাম

  3. 16
    রবীউল্লাহ নিয়াম

    এটাও কেয়ামতের একটা লক্ষণ। আল্লাই রাসূল তো বলে যে, কেয়ামতের আগে মানুষ এমন কিছু দাবী করবে যা আমরা ও শুনিনি আমাদের বাপ দাদারাও শুনিনি। সুতরাং হেতা ভাইদের কে ইসলাম ও কুরআন হাদিস সম্পর্কে আরো বিস্তারিত গবেষণা করার অনুরোধ রইলো।
    একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে তারা নিজেদের হক বলে দাবী করে অথচ তাদের দেখলে মনে হয় না কোন ইসলামী লোক। আসলে টাকার লোভ সামলানো বড়ই কঠিন।
    আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহীহ বুঝ দান করুন। লেখক ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। বিশ্লেষণ মূলক লেখা দেওয়ার জন্য।

  4. 15
    এম_আহমদ

    @ ইমরান হাসান ভাই সালাম। অনেক দিন পরে এসেছেন, আবার রেগুলার হবেন –এটাই আশা। আসলে মারদাঙ্গা নয় বরং আমাদের দায়িত্বের আঙ্গিকে কিছু লেখা।

    বায়াজীদ পন্নী জমিদার পরিবারের লোক, এটা তার ওয়েবসাইটে দেখেছি। তবে আজও তারা যদি ধনাঢ্য হন তবে হেজবুত তাওহীদ তার পারিবারিক লাঠিয়াল বাহিনী হওয়ার আরেকটা উদ্দেশ্য থেকে থাকতে পারে। কেননা বাংলাদেশে বড় বড় দলের ও কোম্পেনীর লাঠিয়াল বাহিনী থাকে।এই বাহিনীর উপর যদি ধর্মীয় রঙ ছড়িয়ে দেয়া যায়, তাহলে সোনায় সোহাগা।

    অনেকে এদের ফাণ্ডিং এর কথা চিন্তা করছেন। আমার মনে হয় তাদের ‘মানবিক’ (humanitarian) কাজের শ্লোগান, আর মানব জাতি, মানব জাতি বলে জাহির করার পিছনে বৈশ্বিক সেই সকল ফাণ্ডিং-সূত্র কৌশলে মানবিক কাজের সহায়তায় সূত্রস্থ হতে পারে এবং এটা তারা জ্ঞাতই থাকবে যে এই দল শেষ পর্যন্ত বিচ্ছিন্নবাদ ও ধর্মীয় সংঘর্ষ সৃষ্টি করবে। আবার সেই ধরণের সূত্র সরাসরি না হয়ে তৃতীয় কোন মাধ্যমে (through a conduit means) হয়ে থাকতে পারে। আল্লাহু আ’লাম।

    আর তারা উলুল আলবাব না হয়ে পারে কেমনে? পন্নীর সমাবেশে যখন মোজেজা ঘটে তখন উপস্থিত সবাইকে সেই মোজেজা আচ্ছাদিত করার কথা, সকলের অন্তর সেই মোজেজার ফয়েজ ও বরকতে পরিশুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কথা এবং সেই ফয়েজ ও বরকত নিয়ে পরবর্তীতে তারা যাদের সাথে মোলাকাত করেছে তাদেরকেও সেই ফয়েজ ও বরকতে স্নিগ্ধ করেছে!! বুঝলেন? সুতরাং তারা উলুল আলবাব না হয়ে থাকে কী করে? হায় মিরাক্কেল, হায় মিরাক্ক্যেল!

  5. 14
    ইমরান হাসান

    ভাইয়ারা , অনেক দিন পরে আসলাম । এসেই একটা মারদাঙ্গা পোস্ট পেলাম । আলহামদুলিল্লাহ আপনার এই লেখার হাত আল্লাহ জাল্লাশানুহু আরও অনেক অনেক বেশী শক্তিশালী করুন । এখন কথাতে আসি হেজবুত তাওহীদ নিয়ে । হেজবুত তাওহীদ রা নিজেদের উলুল আলবাব বলে দাবি করেন , এটা আমি তাদের একজন প্রতিনিধি আসাদ আলীর সাথে কথা বলেই জানতে পেরেছি । আর মজলুম ভাই এর উদ্দেশ্যে বলি , এই বায়োজিদ খান পন্নি ভীষণ ধনাঢ্য একজন ব্যক্তি । হয়ত সস্তা খ্যাতি বা নিজেকে রাষ্ট্রনেতার পদে দেখতে চাওয়ার খায়েশ থেকে সে এই দলের জন্মদান করেছে , এবং এদের কাজ কর্ম নতুন বোতলে পুরান মদ ।

  6. 13
    এম_আহমদ

    @ শাহবাজ

    ভাই সালাম। নিশ্চয় এই ভিডিওটি দেখছেন। ভিডিও লিঙ্ক। এক কাপ চা নিয়ে আসুন আর বসে বসে শুনুন।

    তিনি [পন্নী] ছিলেন প্রকৃত সনাতন ধর্মের অনুসারী …তার পরিচিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে দেখা হলে দুহাত তুলে নমস্কার করতেন … তিনি কোরান ও সনাতন ধর্মের গ্রন্থগুলো তার বইয়ের আলমারিতে  একই সাথে রাখতেন। বলতেন, এগুলো সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত …

    হে মনু আলাইহিস সাল্লাম, হে রামচন্দ্র আলাইহিস সাল্লাম, হে শ্রী কৃষ আলাইহিস সালাম,  যুধিষ্ঠির আলাইহিস সালাম, হে মহাবীর আলাইহিস সালাম, হে বৌদ্ধ আলাইহিস সালাম, হে ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম, হে মুসা আলাইহিস সালাম, হে দাউদ আলাইহিস সালাম, হে ঈসা আলাইহিস সালাম, হে আখেরি নবী মোহাম্মদ আলাইহিস সালাম, আপনারা সাক্ষী থাকুন, আমরা আপনাদের অনুসারী দাবীদারদের কাছে আপনাদের সনাতন ধর্মের প্রকৃত শিক্ষাকে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম (Transcription from the video)।

    শেষের লাইনটা বিদায় হজ্জের ভাষণের সাথে মনে মনে চিন্তা করুন। ভদ্রলোকের কোরান হাদিসের উপর পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই কিন্তু তার কেরিসমায় ফুলকি ঝরে।

    আরেকটি বাড়তিপয়েন্ট। পন্নীদের ৭৩ দলে বিভক্তির হাদিস নিয়ে। পন্নী ৭৩ দলের হাদিস ও একটি দল সব সময় সত্যের উপর থাকার হাদিস বুঝতে পারেন নি। যে বিজয়ী দলটির কথা বলা হয়েছে সেটি ইমাম বোখারীর (র) দৃষ্টিতে ‘আহলুল ইলম’, অর্থাৎ আলেমগণ, যাদের ব্যাখ্যাগত আওতাভূক্তিতায় বৃহত্তর মুসলিম জামাআত দাঁড়িয়ে আছে। ইমাম নববী (র)  এই জামাআতকে যোদ্ধা সম্প্রদায়, দ্বীনের ফকীহগণ, মুহাদ্দিসগণ, আধ্যাত্মিক শায়খ-মুরশিদগণ ইত্যাদির সমষ্টি বলেন।  অন্যদের দৃষ্টিতে এই জামাআত হচ্ছে ধর্মের প্রতিধানযোগ্য ইমামগণ যাদের আওতাভূক্তিতে এই সাওয়াদুল আ’যাম অর্থাৎ বৃহত্তর মুসলিম জামাত প্রতিষ্ঠিত। মুহাদ্দিস ও ফকীহদের ব্যাখ্যার আলোকে পন্নী এমন কোন আলেম নন যে তাকে সেই শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আর এই ব্যক্তি মানুষের ইমান আমল নিয়ে খেলার চাল পাতিয়েছে।

    ওয়াস-সালাম।

     

  7. 12
    এম_আহমদ

    @ মহিউদ্দিন

    ভাই সালাম। প্রথমে পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

    ইতিহাস প্রমাণ করে মুসলিম সমাজ যখন সমস্যায় পড়ে তখনই বিভিন্ন ফেরকা ও পথভ্রষ্ট দলের সৃষ্টি হয়।

    এটা ঠিকই বলেছেন। দুঃসময়ে কখনো কখনো  বিড়ম্বনাও বাড়ে। তারপর বৈশ্বিক পরাশক্তির মোকাবেলায় দাঁড়ানো এই জাতির অস্তিত্বের বিষয়টি সুন্দর বলেছেন।

    আজকে আমাদের অবস্থার সব দিক দেখতে হবে। আল্লাহর নবী (সা) আখেরি যামানার কথা বলেছেন। কিন্তু একদম সময় নির্দিষ্ট করে কিছু বলেন নি। মুসলিমদের উপর যখনই চরম দুর্যোগ এসেছে তখনই তারা আখেরি যামানার কথা স্মরণ করেছেন। এটা ভাল। কিন্তু যে কালটি নির্দিষ্ট নয়, সেটাকে আমরা নির্দিষ্ট করে হাহুতাস করা ঠিক নয়। আগামী ৫০ বছরে কী হবে আমরা জানি না। সবচেয়ে বড় কথা আমরা এই জগতে প্রাসাদ গড়তে আসি নি, এই স্থানে বেহেস্তও গড়া যাবে না। এটা উপযোগী স্থান নয়। আমরা যদি নিঃশেষ হয়ে যাই তবে বাকীরা কী এখানে চিরন্তন হবে? এই ধারার প্রশ্ন কোরানে রয়েছে। পন্নীর বস্তুতান্ত্রিক দৃষ্টি তাকে একান্ত কোকড়িয়ে দিয়েছে। শক্তি, প্রতিপত্তি –এগুলো পেলে ভাল, কিন্তু এগুলো সব সময় ঠিকিয়ে রাখা যায় না। এই জগতে অনেক বড় বড় দেশ ও সাম্রাজ্য হয়েছিল, আবার বিলীনও হয়েছে। আমাদের এই রাত আজ পোহালেও আবার রাত আসতে পারে।  এই জগত একদিন শেষ হবে, এই দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। এখানেই ইমান।

    আল্লাহ আপনাকে ভাল রাখুন, সুস্থ রাখুন –আমিন।

     

  8. 11
    শাহবাজ নজরুল

    আসাদ আলী বলেছেন মুমিন হবার প্রথম শর্ত হচ্ছে -- আল্লাহ ও রসুলের প্রতি ঈমান: তওহীদ তথা আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস রাখা, সংশয় না রাখা এবং তওহীদের ভিত্তিতে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা।

    তাই, রাম ও কৃষ্ণের ৩৩ কোটি দেব/দেবতার বহুশ্বরবাদ ও বুদ্ধের নিরীশ্ববরবাদকে একত্রে নিয়ে বায়েজিদ পন্নীর এমামতিতে সারা বিশ্বে একেশ্বরবাদী ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

  9. 10
    মহিউদ্দিন

    ধন্যবাদ এম_আহমেদ ভাইকে। হেজবুত তাওহীদ (হেতা) নিয়ে এরকম একটি লিখার দরকার ছিল। ইতিহাস প্রমাণ করে মুসলিম সমাজ যখন সমস্যায় পড়ে তখনই বিভিন্ন ফেরকা ও পথভ্রষ্ট দলের সৃষ্টি হয়।

    যাক, তবে মুসলিম সভ্যতার পুন:জাগরনের ব্যাপারে এটা স্বীকার করতেই হবে যে “উপলব্ধি এক ধরণের বাস্তবতা” (Perception is reality)। এই উম্মাহর অবয়ব অবশ্যই বাস্তব। এই বাস্তবতা কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। তাই এর উত্তম দিকগুলোর দিকেও আমাদের নজর রাখতে হবে।

    এই বিশ্ব জোড়ে এত হত্যা-নির্যাতন, নিপীড়ন সহ্য করে, খালি হাতে, পরাশক্তিদের মোকাবেলায় বিশ্বাস নিয়ে, এখনো জাতি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের এই যুগে আমাদের না আছে হাতি ঘোড়া, আর না প্রতিরক্ষা শক্তি। কিন্তু শত ঝঞ্জাটের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাতৃত্ববোধ, একের দুঃখে অন্যদের আত্মবেদনা। আমাদের এই শক্তিকে স্বীকার করতে হবে। কিন্তু সমাজ, শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা পরাধীন, তাও নিজেদের লোকদের হাতে; এবং অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও অপ্ররযাপ্ত শিক্ষার কারণে আমাদের সমাজে নানার বিভক্তি রয়েছে। কিন্তু এগুলোর পরও, আহমদ ভাই যেভাবে প্রায়ই বলেন, আমাদেরকে শান্ত মাথায়, প্রজ্ঞার সাথে কাজ করতে হবে।

    আমাদের এই ক্রান্তিকালে পন্নীদের নতুন ফিতনা, অনৈক্যের নতুন এক ধারা সৃষ্টি, নিঃসন্দেহে একটি অপপ্রয়াস। কিন্তু সকল কিছুর সাথে সাথে আমাদেরকে এই ফিতনারও মোকাবেলা করতে হবে। লেখালেখি করতে হবে। আহমদ ভাইয়ের এই লেখাটির জন্য আবারও ধন্যবাদ।

  10. 9
    এম_আহমদ

    @মাজলুম

    ভাই সালাম।

    এদের মতবাদের অযুক্তি, কুযুক্তি, কুফরী, ইসলাম বিরোধী কথার বিরুদ্ধে অবশ্যই লেখা থাকতে হবে, যা অনলাইনে নেই। তাদের মতবাদের অসারতার বিরুদ্ধে আপনার লেখা সব পোষ্ট কাজে দিবে। যে কেউ পরে গুগল সার্চ দিয়েও আপনার পোষ্ট ব্যবহার করতে পারবে ওদের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে।

    হ্যাঁ, এটা আমিও লক্ষ্য করেছি। ইন্টারনেটে এদেরকে নিয়ে পর্যাপ্ত ও যুক্তিসংগত তেমন কিছু নজরে পড়ে নি। এজন্য আমার সকল লেখায় ‘হেজবুত তাওহীদ’ ও ‘বায়াজীদ পন্নী’ –এই দুটো নামের একটি সব সময় শিরোনামে ব্যবহার করেছি যাতে করে কেউ গুগোল সার্চ দিলে এই দুটোর একটি রেঞ্জে আসে এবং একটি লেখায় ঢুকলে বাকীগুলোও দেখা যায়।

    “শিয়াদের মতো তাকিয়া করে উত্তর দিয়ে যায়” –এই বাক্যটি আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং। আমার যেন কেন মনে হয় পন্নীদের মধ্যে শিয়া-স্পর্শী কিছু উপাদান কাজ করে যাচ্ছে। কেননা শিয়াদের মধ্যে এই ধারণা রয়েছে যে ইসলাম রক্ষার জন্য আল্লাহ নবী-পরিবার থেকে ইমাম নির্বাচন করেন (লিঙ্ক) । পন্নীর সাইটে পন্নীকে নবী পরিবারের একজন বলে দেখানো হয়েছে।

    আর হ্যাঁ “কেন মুসলিমরা পরাজিত ছিলো এবং যেভাবে মুসলিমরা বিজয়ী হবে” এ বিষয়ের উপর একটি পোস্ট দিলে খুবই ভাল হয়। দোয়া রইল।

    ওয়াস সালাম। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

     

  11. 8
    এম_আহমদ

    @ সত্য সন্ধানী

    ওয়া আলাইকুম সালাম। হ্যাঁ ভাই, সচেতনতার ব্যাপারে ঠিকই বলেছেন। আজকাল সামাজিক মিডিয়ায় অনেক আলাপ-আলোচনা হয়। কিন্তু সকল আলোচনাই তথ্য ও যুক্তি প্রত্যাশা করে। সুতরাং আমরা যদি কুযুক্তির মোকাবেলায় সুযুক্তি পাই, ভুল তথ্যের মোকাবেলায় শুদ্ধ তথ্য পাই, তবেই অনেক অন্ধকার বিদূরিত হবে। এখানে সেই ধরণের প্রয়াসই চালানো হচ্ছে। আর আপনার এই কথার সাথেও একমত যে “ফেসবুকে এই লেখাগুলি সবাই মিলে শেয়ার করলে … অনেক বেশি লোক পড়তে পারবে কারণ বেশিরভাগ মানুষ ব্লগের চেয়ে ফেসবুক বেশি দেখে।” ঠিকই বলেছেন। তবে শুধু আমার লেখা নয় যেখানে অন্য কারো লেখা পাওয়া যাবে যা সত্যকে উদ্ভাসিত করে তারও লিঙ্ক দিলে সেই ধারণা প্রসারিত হবে আলোকবর্তিকা হয়ে কাজ করবে।

    আল্লাহ আপনাকে ভাল রাখুন, সুস্থ রাখুন।

     

  12. 7
    সত্য সন্ধানী

    @মজলুম:

    ভাই সালাম।
    ///আমিও একটা তথ্যভিত্তিক পোষ্ট দেবো কয়েকদিনের মধ্যে। কেন মুসলিমরা পরাজিত ছিলো এবং যেভাবে মুসলিমরা বিজয়ী হবে।//
    জি পোষ্ট দিন।সবাইকে মিলেই এদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরী করতে হবে। আমার নিজেরও ইচ্ছা ছিল এদের সাথে লাগা,কিন্তু আমার জানা শোনার লেভেল অনেক কম তাই প্রামান্য লেখা নামানোর সক্ষমতা নাই।

    আমি ভাই সাধারন পাঠক মাত্র।পড়া এবং অন্যকে পড়তে বলা ছাড়া আর কিছু করার সামর্থ্য আমার নেই! দোয়া করি আপনাদের জন্য,আল্লাহ আপনাদের প্রচেষ্টাকে সফল করুন।

    এই বিষয়ে আহমদ ভাই এর লেখা গুলি পড়েছি, ইনশাল্লাহ অন্য লেখা গুলিও পড়ব যদি আপনি সহ অন্য ভাইরা লেখেন।

    ///আল্লাহ সকল মুসলিমদের এই ইবলিশ সৃষ্ট হিজবুতি ফেতনা হতে হেফাজত করুক।///
    আমীন!

  13. 6
    সত্য সন্ধানী

    @এম_আহমদ: ভাই আসসালামু আলাইকুম
    ,
    অনেক ধন্যবাদ আপনাকে সময় ও ধৈর্য সহকারে ব্যাখা করার জন্য।
    আসলে আমিই আমার মন্তব্যের শেষ বক্তব্যে হয়ত আবেগ বশত ভুল দিকে চলে যাচ্ছিলাম। সত্যি তো এরা যাই করুক না কেন ইনশাল্লাহ মুসলিম রা এদের ফাঁদে পড়বে না (সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া),এবং কোন রাষ্ট্রীয় পতিবর্তন ত্বরান্বিত হবে না।

    তবে ফিৎনা ফ্যাসাদের পাশাপাশি এরা সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু করে দিলেই আসল বিপদ মানে আন্তর্জাতিক চক্রের নেক নজর পড়বে!

    তবে এদের ফিৎনা নিয়ে আপনি লেখা চালিয়ে যেতে থাকুন ভাইজান। এই লেখাগুলোর খুব দরকার আজ,এতে করে এই ফিৎনার প্রকোপ কমবে আশা করি,সাথে জন সচেতনতাও বাড়বে।

    যেমন এই নিয়ে আপনার ২য় লেখাটা পড়ার আগ পর্যন্ত আমি এদের সম্পর্কে কিছুই জানতাম না( প্রথম লেখাটাও পড়েছি ২য় লেখাটা পড়ার পর সেখানে দেয়া লিংক থেকে)।

    ফেসবুকে এই লেখাগুলি সবাই মিলে শেয়ার করলে আমার মনে হয় অনেক বেশি লোক পড়তে পারবে কারন বেশিরভাগ মানুষ ব্লগের চেয়ে ফেসবুক বেশি দেখে।

    আল্লাহ আপনাকে ভাল রাখুন এবং আপনার প্রচেষ্টাকে সফল করুন এই দোয়া রইল, আমীন।

  14. 5
    মজলুম

    পোষ্ট দেওয়ায় ভালো হয়েছে এবং পোষ্ট ও অসাধারন। অনেকেই বলছে এই দলের ভবিষৎত নাই, বা একটা কাল্ট দল হিসেবে থাকবে। কিন্তু আসল কথা হলো এই দলের মতবাদ যে অসার এবং কুফরী, তা নিয়ে ব্যখা করে অনলাইনে কোন লেখা নেই। এদের মতবাদের অযুক্তি, কুযুক্তি, কুফরী, ইসলাম বিরুধী কথার বিরুদ্বে অবশ্যই লেখা থাকতে হবে, যা অনলাইনে নেই। তাদের মতবাদের অসারতার বিরুদ্বে আপনার লেখা সব পোষ্ট কাজে দিবে। যে কেউ পরে গুগল সার্চ দিয়েও আপনার পোষ্ট ব্যবহার করতে পারবে ওদের ভন্ডামির বিরুদ্বে।

    হেজবুতের লোকদের ফেসবুক ঘুরে, ওদের বানানো ভিডিও দেখে যা বুঝলাম যে এটা একটা কাল্ট। সবাই একি চর্বিত চর্বন করে যাচ্ছে গরুর জাবর কাটার মতো, কোন ক্রিয়েটিভিটি নাই। বিভিন্ন জায়গা হতে বাস ভাড়া করে দিন মজুরদের ভাড়া করে সভা সেমিনার করে যাচ্ছে, ওদের টাকা দিয়ে আনা হচ্ছে সভায়। খুব ভালো টাকা পয়সার ফান্ডিং না থাকলে এইগুলা করা যায় না। যেই করুক, এদের পেছনে অনেক টাকা ব্যয় করছে, তবে ওদের রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্ট (ROI) ভালো হবে না, হেজুর সব গুলা বলদ, হালচাষের বেশি কিছু করা যাবেনা। ওদের এমাম সেলিম মনে হয় পান্নার মেয়ের জামাই। সে কথা বলে বলদের মতো, অনেকটা গর্দভ টাইপের। অবশ্য পান্না ও সেই টাইপের, তাই তার অনুসারীদের অবস্হা ও একি রকম, যেই গাছ যেমন, সেতো তেমনই ফল দিবে।

    আর এরা শিয়ালের মত, আপনার পোষ্টে এসে আপনার সাথে ডিবেট করবেনা। ওদের গোডাউনে বসে, হেজুর সবাই মিলে ধাপ্পাবাজির কন্টেন্ট লিখে এখানে এসে পোস্ট দিবে। তারপর পোস্ট দিয়ে সে হাওয়া। কেউ তার ভুল ধরিয়ে দিলে সে উত্তর দিবেনা, বা নজরুল ভাইয়ের মতো জোর করে ধরলে পরে হ্যান ত্যান করে দৌড় দেয়। বা জিয়া ভাইয়ের মতো জোর করে তিনবার কমেন্ট করে জানতে চাওয়ার পর সে এসে শিয়াদের মতো তাকিয়া করে উত্তর দিয়ে যায়। হেজবুতের চ্যালাপেলা কি তাকিয়া করলো তা আমরা দেখবোনা, আমরা দেখবো তাদের বই গুলো কি বলে।

    আল্লাহ সকল মুসলিমদের এই ইবলিশ সৃষ্ট হিজবুতি ফেতনা হতে হেফাজত করুক।

    আমিও একটা তথ্যভিত্তিক পোষ্ট দেবো কয়েকদিনের মধ্যে। কেন মুসলিমরা পরাজিত ছিলো এবং যেভাবে মুসলিমরা বিজয়ী হবে।

  15. 4
    এম_আহমদ

    @সত্য সন্ধানী: ভাই, সালাম

    এখন একটু ক্লান্ত, তবুও ভাবলাম এখানে কিছু কথা রাখি। অনেক সময় মন্তব্যের মাধ্যমেও মূল লেখার সম্পূরক কিছু বলা যায়।

    আপনি মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতি নিয়ে যে চিত্র দিয়েছেন -এরপর পরে আর কিছু সংযোগ করা জরুরি মনে হচ্ছে না। তাই আমার প্রসঙ্গ নিয়ে অন্য কিছু সংযোগ করতে যাচ্ছি।

    আজকের ফিতনার ব্যাপারে কিছু করণীয় দিক রয়েছে যেগুলো প্রজ্ঞা ও পদ্ধতিগতভাবে এড্রেস করার দাবী রাখে। এখানে দেখার বিষয় হচ্ছে পন্নী ফিতনার উপাদানগুলো কী। তারপর সেগুলোর ব্যাখ্যা হাজির করা, যাতে করে awareness সৃষ্টি হয় এবং এর মাধ্যমে সমস্যা কমে অথবা শুদ্ধ ধারণার প্রসার ঘটে।

    পন্নীদের অনেক প্রোপাগান্ডা ও ভুল সমঝ রয়েছে। এদের মধ্যে প্রধান হচ্ছে নিচের কয়টি:

    • মুসলিম জাতির আকিদা বিকৃত হয়েছে
    • তারা মুমিন মুসলিম থাকে নি
    • মুসলিমদের উপর বাইরের হত্যা নির্যাতন তাদের ধর্ম-দোষের কারণে
    • আল্লাহ তাদের উপর থেকে অভিভাবকত্ব উঠিয়ে নিয়েছেন

    এগুলোই আমি বিগত কয়েকটি ব্লগে কিছু কিছু করে এড্রেস করতে চেয়েছি। অন্যরাও এ বিষয়ে লিখা দরকার। পরের বিষয় হচ্ছে নিম্নোরূপ:

    * মুসলিম বিশ্বে আজ যেসব সমস্যা রয়েছে এবং যেগুলোর সাথে পরাশক্তির যোগসূত্র রয়েছে  সেগুলোথেকে উত্তরণের জন্য পন্নীর এমামতি কি কোনো সমাধান?
    * পন্নী বা তার দলে কি দেশ ও বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান রয়েছে?
    * তারপর তাদের ধর্মতাত্ত্বিক দৈন্যতা কি? তাদের নামাজ, মিলিটারি প্যারেড, তসবিহ তাহলীল নিয়ে তুচ্ছাতিতুচ্ছ করণ ইত্যাদি

    কিন্তু এই জগতে যেকোনো আন্দোলন শুরু হলে এর পক্ষে কিছু লোক যায় –সেটা কারো পক্ষে রোধ করে করা সম্ভব নয়।

    এবারে বিশেষ করে পন্নীদের ‘কলেমায় অর্থ’ নিয়ে সামান্য ব্যাখ্যা দিলে মনে মূল লেখার সাথে সম্পূরক হবে।

    কলেমার মূল অর্থ কি আল্লাহ ছাড়া কারো আইন মানি না?

    পন্নীর দৃষ্টিতে কলেমার ‘ইলাহ’ শব্দের অর্থ ‘আইনদাতা’, উপাস্য নয়! তার এই ধারণা সঠিক নয়। আমি ‘ইলাহ’ শব্দ ও ‘কলেমা’ নিয়ে এই ব্লগে (Link to blog) কিছু আলোচনা করেছি। অন্যত্রও করেছি। ইলাহ অবশ্যই উপাস্য। আইনদাতা, সার্বভৌম -এগুলো প্রত্যক্ষ অর্থ নয় নিহিত অর্থ। উপাস্যের মহিমা ও মর্যাদার ধারায় আসে। যে সত্তার মহিমা-গরিমার কারণে মানুষ তার উপাসনায় অনুরাগী হয়, যে সত্তাকে সে উপাসনার যোগ্য বিবেচনা করে, সেই সত্তার স্থান এতই উঁচুতে যে তার আদেশ নিষেধ মানা স্বাভাবিক ধারায় আসে। আমাদের ভাষা, আমাদের প্রথা ও প্রথা ভিত্তিক “অর্থ”, আমাদের কনভেনশনের অংশ। কোন এক ব্যক্তি তার দেশের সার্বভৌম সত্তাকে (রাজা/রাণীকে) সে মনে প্রাণে ঘৃণা করেও তার আইন মনে চলতে পারে। কিন্তু যে সত্তার মহিমা অপার, যার গুণ ও ক্ষমতা অসীম তার প্রতি বিমোহিত হয়ে যখন সে উপাসনায় ব্রতী হয়, তখন সেই সত্তাই হয় তার সবকিছু, তার মালিক, রক্ষক, আশ্রয়স্থল। তিনি সকল গুণের কারণেই উপাস্য। আইনদাতার চেয়ের উপাস্য বৃহত্তর ও বড় অর্থের।

    বিষয়টি অন্যভাবে দেখা যাক। পন্নীদের কলেমা হচ্ছে ‘আল্লাহ ছাড়া আর কারো আইন মানি না’, ‘আল্লাহ ছাড়া কাউকে সার্বভৌম মানি না’। কিন্তু এখানে তাদের সাথে বাকীদের পার্থক্য কোথায় সূচিত হয় যেখানে অন্যরা ‘সামাদ’ বলে আল্লাহকে সার্বভৌম স্বীকার করছেন, ‘হাকিম’ বলে আইন দাতা মানছেন? তাদের বানানো ব্যাখ্যার কারণে অন্যরা (অ)মুসলিম, মুসলিম নয়, আকিদা বিকৃত –এমন ধারায় চলা হবে?

    পন্নীরা যদি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কারও আইন মানি না, আল্লাহ ছাড়া কাউকে সার্বভৌম মানি না), এই কথা দৈনিক ১০০০ বার জপ করে তাহলে বর্তমান রাষ্ট্রে ও সমাজে কি কোন বিষয় ত্বরান্বিত হয় যা অন্যরা সামাদ শব্দে ও ইলাহে নিহিত অর্থে দেখলে পিছিয়ে পড়ে থাকে? কোন বস্তুর কারণে তারা মূল ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে তাদের প্রতিকূলে আন্দোলন করবে এবং মোজেজা টানবে, পন্নীর মত লোকের পিছনে ছুটবে?

    আমাদেরকে পন্নীদের সব অবস্থানকে interogate করতে হবে।

    আল্লাহ আপনাকে ভাল রাখুন, সুস্থ রাখুন, আর আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ওয়াস-সালাম।

     

  16. 3
    এম_আহমদ

    @তাজুল ইসলাম:

    তাজুল ভাই সালাম। প্রথমে পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

    আজ অনেকেই পন্নীর ধারণা দেখে বিস্মিত হচ্ছেন এবং এই বিস্ময় প্রকাশে হিমশিম খাচ্ছেন। যেখানে মুসলিমরা নির্যাতিত, আহত, নিহত হচ্ছেন, পন্নীর দল সেটাকে অন্য জাতির মাধ্যমে মুসলিমদের উপর আযাব বলে তার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখানে কয়েকটি ভুল একই সাথে হচ্ছে। প্রথমত এই অবর্ণনীয় জুলুমের জন্য মাজলুমকেই দায়ী করা হচ্ছে, এটা বুঝি এই জাতির উপর আল্লাহর শাস্তি! কিন্তু তারা unwittingly আল্লাহকে জালিমের সহায়ক করে যাচ্ছেন (নায়ূযুবিল্লাহ), অথচ আল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে তিনি জালিমদের পছন্দ করেন না, তাদের উপর লানত বর্ষণ করেন। তারপর মানুষের ফিতনাকে তারা আল্লাহর আযাব সাব্যস্ত করছেন। তারপর তারা মুসলিমদেরকে অমুসলিম বানাচ্ছেন। এগুলোর সবই কোরান হাদিসের বিপক্ষে। যে জিনিসটি পাশ কেটে যাওয়া হচ্ছে সেটি হল আজকের বিশ্বের জটিলতা, অনেক বিষয়ের অভারলাপিং, যেগুলোর সাথে সমাজ, অর্থব্যবস্থা, কালের ধারাবাহিকতা ইত্যাদির অনেককিছু জড়িত যেগুলোর বিশ্লেষণশক্তি পন্নীর ছিল না, তাই সরলীকরণ করে কিছু লোককে বিপথগামী করে দিয়েছেন।

    আল্লাহর দৃষ্টিতে সময় আমাদের মত নয়। আল্লাহ আমাদেরকে বিপদে আপদে ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন। তিনি মুমিনদেরকে বিপদ, আপদ ও ক্ষয়-ক্ষতির মোকাবেলা করাবেন বলেছেন। এতে তাদেরই ইমান, দৃঢ়তা, তায়াক্কুল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট গুণ বর্ধিত ও জড়িত হবে যেগুলোর সাথে  সমন্বিত হয়ে উত্তম জীবনবোধ আসবে। ধৈর্য মুমিনের গুণ। এটা ইমানদারদের কাজ নয় যে যেকোনো অজুহাতে কোন মুসলিম জনগোষ্ঠীকে অমুসলিম সাব্যস্ত করা, যেভাবে পন্নী ও তার দল করে যাচ্ছেন।

    আপনি হয়ত কোন এক পরিবারে আজ ইসলাম পালিত হচ্ছে না দেখে থাকবেন, কিন্তু তারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে পরিচয় দেয়। মাত্র এক বা দুই জেনারেশনের মধ্যে হয়ত দেখতে পারেন সেই বংশে হাফিজ, মুহাদ্দিস, ফকীহ, দাতা, নেক আমলদার ইত্যাদি লোক বেরিয়ে আসছে। এটা আমার নিজ জীবদ্দশায় নিজ চোখে দেখেছি।

    “কতক লোক বলে, আমরা আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি; কিন্তু আল্লাহর পথে যখন তারা নির্যাতিত হয়, তখন তারা মানুষের নির্যাতনকে আল্লাহর আযাবের মত মনে করে। যখন আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে কোন সাহায্য আসে তখন তারা বলতে থাকে, আমরা তো তোমাদের সাথেই ছিলাম। বিশ্ববাসীর অন্তরে যা আছে, আল্লাহ কি তা সম্যক অবগত নন" (২৯/১০)?

    আজ দেশে বিদেশে অনেক ফিতনা, অনেক সমস্যা। এরই মধ্যস্থলে পন্নী ফিতনা। এটাকেও প্রজ্ঞা ও সতর্কতার সাথে দেখতে হবে।

    আল্লাহ আপনাদেরকে ভাল রাখুন। আমাদের জন্যও দোয়া করবেন।

  17. 2
    সত্য সন্ধানী

    আস সালামু আলাইকুম ভাই,
    লেখাটা বড় হলেও আমি মনে করি যে কিছু বড় লেখার দরকার আছে বিষয় বস্তুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে।
    আপনার চমৎকার আর সাবলীল উপস্থাপনা ইনশাল্লাহ অনেক পাঠক কে ধৈর্য ধরে লেখা পড়তে উৎসাহিত করবে।

    এবার মুল প্রসংগে আসি, আমি ব্যক্তিগত ভাবে হেজবুতীদের কে এখন ব্রাহ্মন্যবাদী দের রোপন করা বিষ বৃক্ষ বলেই বিশ্বাস করি, যেমন আইসিস হল আসলে যায়ন বাদীদের রোপন করা বিষ বৃক্ষ।

    আইসিসের মধ্যে নাকি মোসাদ এজেন্ট ধরা পড়েছিল কোথায় যেন পড়েছিলাম।
    আর ওবামা প্রশাসন যে আইসিস দমন করার নামে উলটা আইসিস কে অস্ত্র সাহায্য দিত সেটা খবরে এসেছে এবং ধরা পড়ে গিয়ে আমেরিকা নাকি কান্না করেছে এই বলে যে সেটা নাকি ভুল করে চলে গেছে।

    তা আইসিস দমনের নামে কি হচ্ছে মধ্য প্রাচ্যে? ইরাকের তো বারোটা বেজেই গেছে, এখন সিরিয়ার দিকে হাত পড়েছে।
    তুরস্কেরও বারোটা বাজানো হচ্ছিল সেনা অভ্যুত্থান দিয়ে কিন্তু আল্লাহ বাচিয়ে দিয়েছেন জনতার সাহায্যে এরদোগান সাহেব কে বিজয়ী করে।
    তাহলে এখন কি দেখা যাচ্ছে? না যায়গায় ‘এই এছলাম সেই এছলাম নয়’ এসব ফালতু স্লোগান তুলে সেখানে জংগী তৈরী করা, এবং পরে দরকার মত সেই জংগী ধরার নামে মুসলিম দেশ গুলি আক্রমন করে দখল করা, বুদ্ধিটা মাশাল্লাহ মন্দ না।
    আর এইভাবে ইসলামী নাম দিয়ে জংগী বাদ বানিয়ে মুসলিম দের মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে ইনফেরিওরিটি কম্পলেক্সে ভোগাবার মাধ্যমে দাসে পরিনত করার চক্রান্ত টা আসলেই চমক প্রদ।
    লাভের মধ্যে আমেরিকা ইউরোপের একটা বিশাল ব্যবসা হচ্ছে আর তা হল, অস্ত্র বিক্রির ব্যবসা।যুক্ত রাষ্ট্রর কথা বাদ দিলে, ইউরোপের মধ্যে জার্মানী ছাড়া নানা ব্যবসা যেমন ধরেন ইলেক্ট্রনিক্স, গাড়ী সহ নানা ব্যবসা কিছুই তেমন ভাল না। গাড়ী জাপানের আর ইলেক্ট্রনিক্সের ব্যবসা দক্ষিন কোরিয়া তাইওয়ান এবং চীনের হাতে।
    বাকি থাকে তেলের ব্যবসা, এই তেলের ব্যবসা করার জন্য মুসলিম দের বিকল্প নাই।তাই হয় তেল দাও, না হয় সন্ত্রাসী দমন করব ( যেভাবে সাদ্দাম কে,গাদ্দাফী কে দমন করা হয়েছে)।
    আর অস্ত্র ব্যাবসার জন্য ফরজ হল ইসলামের নামে আইসিস বোকো বারাম তৈরী করা, পেট চালাতে হবে তো!

    তাই সন্ত্রাসী বানাও, আর সেটা দমন করতে মুসলিম দেশ গুলিকে অস্ত্র বেচ, অস্ত্র না কিনলে সন্ত্রাসী দমনে সহযোগিতা করা হল না বলে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেল।
    ব্যবসাও হল, মুসলিম দের পকেট ফাকা হল, অস্ত্র ব্যবসায়ীদের পকেটে ঢুকে গেল সেই টাকা।

    এর পর রাম কৃষ্ণ বুদ্ধের উপর নবুয়ত আরো না করা হলে তো শিব সেনার ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ নিয়ে অখন্ড ভারত মাতা গড়ার স্বপ্নটা পুরন হবে না।
    আমার মনে হয় ভাইজান আসল কারন এগুলাই। অস্ত্র ব্যবসা করে পেট চালানো, আর ভারত মাতার পদতলে ম্লেচ্ছ যবন জাতিকে ব্রাহ্মন দের দয়ার বাচিয়ে রাখার সুমহান (??!!) ব্রত নিয়েই এরা এগুচ্ছে।
    এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সবই খুব পরিকল্পিত ব্যাপার।

    আপনার মুল্যবান মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম।

  18. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আসসালামু আলাইকুম ভাই,
    আপনার সুন্দর বিশ্লেষণী লিখায় আমি আকৃষ্ট হই। চমৎকার উপস্থাপন। আল্লাহ্‌ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন এবং আপনার লিখার স্কিল্ড-কে আরো শক্তিশালী করুন।

    আপনার এই লিখার বিরুদ্ধেও রাকীব-গ্যাং তার ছাগলের লেদাকে পুজি করে এর বিরুদ্ধে আরেকটা লিখা দিয়ে আপপ্রচার দাড় করানোর চেষ্টা করবে। আর সেটা হলে ভালই হয়, পাঠকগন তাদের ভন্ডামী সম্পর্কে আরো জানুক।

    আপনি, মজলুম ভাই, নজরুল ভাই, মহি ভাই…. সদালপের অনেক ভাই তাদের ভন্ডামী ও ধাপ্পাবাজি ধরিয়ে দিয়েছেন। Shakil Hasan প্রেসিডেন্টের মোজেজার মাধ্যমে হেতুদের মোজেজার চেয়ে আরো শক্তিশালী করে দেখিয়ে দিয়েছেন (কুকুর-বিড়ালদেরও কিছু লজ্জ্বা থাকে)। বিদেশী ওরিয়েন্টালিষ্ট-দের কাছ থেকে যদি হেতুদের ফান্ড আসে, তাহলে পন্নী গ্যাংদের ব্রেইনে ওয়াশের সাথে আরো শক্তিশালী ভাবে অন্তর ওয়াশ হওয়া স্বাভাবিক। এরা ‘তেলাপোকা’ হয়ে বেচে থাকবে বাংলাদেশ & তার আশপাশে।

    এদের লজ্জ্বা-শরম থাকলে, অনেক আগেই সদালাপ থেকে প্রস্থান করত। কিন্তু তাদের অন্তরে এই ঈমানের অন্যতম প্রধান খুঁটিটা নেই, ইহা প্রমানের জন্য যথেষ্ট যে, এদের ঈমানও নেই।

    জগতের ঈমাম হতে হলে গ্রহন্যোগ্যতার “কোয়ালিটির স্কেল” মুতাবেক আসতে হবে এবং প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। এই বেকুব এবং বেহায়া পন্নী গ্যাংরা ছাগলের লেদার জ্ঞ্যান আর মুজেজা নিয়া আইছে বিশ্ব-কে লিড দিতে।

    আহমেদ ভাই আপনাকে ধন্যবাদ এই আর্টিকেলটি লিখার জন্য। ভাল থাকুন।

Leave a Reply