«

»

মার্চ ০৩

বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু’ নির্যাতন ও আমার চিন্তা ভাবনা

ডিস্ক্লেইমার: লেখার শিরোনামে ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটা ব্যবহার করেছি অবস্থার প্রেক্ষিতে। লেখার কোথাও এই শব্দের ব্যবহার না করার জন্য সচেষ্ট থাকবো।

সাইদির বিচারের রায়ের পর থেকেই জামাত-শিবিরের তাণ্ডবে কাঁপছে বাংলাদেশ। আমি একটা জিনিস বুঝি না, অন্য ধর্মের মানুষদের উপর তাদের আক্রোশ কীসের? সাইদি নিজে মুসলিম, যারা তার বিচার করেছে, সেই সরকার ও প্রোসিকিউশনের অধিকাংশ লোক মুসলিম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম। সাইদির বিচারে খুশি হওয়া মানুষদের (আমি নিজেও তাদের একজন) একটা বড় অংশ মুসলিম। যে দেশে ৯০% এর বেশি লোক মুসলিম, সে দেশে উভয় পক্ষেই বেশিরভাগ লোক মুসলিম হবে, সেটাই স্বাভাবিক। এখানে ঠিক কী কারণে জামাত-শিবির অন্য ধর্মের মানুষদের উপর খেপে উঠলো, বুঝতে পারছি না। এই লেখায় সেটা বোঝারই একটু চেষ্টা চালাবো। আর এই ক্রান্তিলগ্নে কী করা যায়, তার উপর কথা বলবো।

প্রমাণিত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার অপরাধের যৌক্তিক ও দেশের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগে গণজাগরণ শুরু হবার পর থেকেই জামাত-শিবির আন্দোলনকে নস্যাতের পরিকল্পনা করে চলেছে। একবার লাকি আক্তার ও অন্যান্য মেয়েদের নামে কুৎসা রটিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইলো, আবার সেই লাকিই যখন ছাত্রলীগের হামলার স্বীকার হলো, তখন ছাত্রলীগের বিরোধিতা করতে গিয়ে লাকিকে প্রায় বোন বানিয়ে ফেলে আর কি! কুৎসিত ব্লগার, লেখক নামের কলঙ্ক থাবা বাবাকে হত্যা করেও তারা আন্দোলনকে বিভাজিত করতে চেয়েছিলো। এমনকি দেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ আর পুলিশকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে চেয়েছিলো, কিছুটা সফলও হয়েছিলো সে যাত্রা। এরপরে এলো সেই রায়, যার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলো সমগ্র দেশবাসী। সাইদির বিচারের রায়ের পর জামাত-শিবির আঘাত করলো ঠিক সেই স্টাইলে, যেমনটা তারা করেছিলো ১৯৭১ সালে। ভাংচুর শুরু করলো ‘মালাউন’দের ঘরবাড়ি, মন্দির। যদি তাদের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানো, তাহলে ঠিক কীভাবে ৯০% মুসলিম আর ১০% অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে একটা দাঙ্গা বাঁধানো সম্ভব, সেটা আমি বুঝে পাই না। আমার ধারণা, দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এমনকি এই অরাজকতা সৃষ্টির জন্য তারা অন্য ধর্মের মানুষের নামে ফেইসবুকে ফেইক প্রোফাইল খুলে সেসব প্রোফাইল দিয়ে ঐ ধর্মের মানুষদেরও উস্কে দিচ্ছে। আমার ধারণা, জামাতের এসব ফেইক প্রোফাইল থেকে এখন গণহারে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে আজেবাজে কথা লেখা হবে, আর জামাতের কিছু মুসলিম নিক দিয়ে তা ছড়িয়ে দেয়া হবে ফেইসবুকে, যাতে সাধারণ মুসলিমরা হিন্দুদের উপর খেপে উঠে। কিন্তু তাদের এই মাস্টার প্ল্যান আমরা ভেস্তে দিতে পারি সামান্য একটু সচেতনতা দেখিয়ে। যেকোনো ছবি, লেখা বা স্ট্যাটাস শেয়ার করার আগে সেটা একটু যাচাই করে নিলেই কিন্তু এরকম অযাচিত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

এ তো গেলো ভার্চুয়াল লাইফে সচেতনতা বাড়ানোর কথা। রিয়েল লাইফে কী করা উচিত? যার যেভাবে সাধ্য, ঐক্যবদ্ধ হয়ে নাশকতার চেষ্টায় লিপ্তদের প্রতিহত করা উচিত। একজন মানুষ, মুসলিম, বাংলাদেশি কোন পরিচয়েই আরেক ধর্মের মানুষের বাড়ি বা উপাসনালয় ভাঙ্গা সমর্থন করা যায় না। সাহাবীদের জীবনে এরকম অসংখ্য ঘটনা পাওয়া যাবে, যেখানে তাঁরা নিজেরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রক্ষা করেছেন অন্য ধর্মের মানুষের ঘরবাড়ি, উপাসনালয়। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমরের (রা) শাসনামলে মিশরের গভর্নর ছিলেন হযরত আমর ইবন আস (রা)। একবার তাঁর কাছে এক খ্রিস্টান পাদ্রি অভিযোগ নিয়ে আসলো যে যীশুর এক মূর্তির নাক ভাঙ্গা হয়েছে। অপরাধীকে খুঁজে বের করে তার নাক কেটে দিতে হবে। আমর (রা) তাঁকে বললেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু তদন্ত করে কোন সুরাহা করতে পারলো না আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। অপরাধীকে ধরা গেলো না। তখন সেই পাদ্রি দাবি করলো, অপরাধী খুঁজে বের করতে ব্যর্থ গভর্নরের নাক কাটা উচিত এবং কাজটা করবে সে নিজে। চিন্তা করেন, সেই সময়ের প্রতাপশালী মুসলিম খিলাফতের একজন গভর্নরের কাছে সে এই দাবি জানালো! আর গভর্নর কী করলেন? ব্যর্থতার দায় মাথা পেতে নিয়ে তার সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলেন! নির্দিষ্ট দিন সবার সামনে আমরের (রা) নাক কাটার ঠিক আগের মুহূর্তে জনসমাগম হতে এক লোক বলে উঠলেন, “আমিই যীশুর নাক ভাঙ্গার জন্য দায়ী। তবে তা ইচ্ছাকৃত ছিলো না। যীশুর মূর্তির নাকের উপর এক পাখি বসে ছিলো। আমি তা যীশুর প্রতি অপমানসূচক মনে করেছিলাম ও তীর মেরে পাখিটাকে মারতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু তীর পাখির গায়ে লাগার ঠিক আগ মুহূর্তে পাখিটা উড়ে যায় আর তীর লেগে যীশুর নাক ভেঙ্গে যায়। তারপর ভয়ে আমি সেখান থেকে পালিয়ে যাই ও এই কথা গোপন করি। কাজেই, নাক যদি কাটতেই হয় তবে নিরপরাধ আমরের (রা) না, আমার নাক কাটা হোক।” অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার এই অনন্য উদাহরণ দেখে সেই খ্রিস্টান পাদ্রি ইসলাম গ্রহণ করেন। আমরা কি আজ হযরত আমর ইবন আসের (রা) উদাহরণ থেকে অন্য ধর্মের প্রতি শুধু সহিষ্ণুতাই না, শ্রদ্ধার শিক্ষা নিতে পারি না? অন্য ধর্মের উপাসনালয় ভাঙ্গার সময় আমরা যদি চুপ থাকি, তাহলে নিজের ধর্মের প্রতি অবমাননার সময় আমরা কোন মুখে বিচার চাই? ওদের কি ধর্মানুভূতি বলতে কিছু নাই? আল্লাহর রাসূল (স) ও তাঁর সাহাবীরা যেখানে অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীলতা দেখানোর শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সেখানে অন্য ধর্মের অবমাননা দেখে চুপ করে থাকা, সাধ্যমতো প্রতিবাদ না করা কি রাসূল (স) ও সাহাবীদের প্রতিও একধরণের অপমান না?

জামাত-শিবিরের তাণ্ডব প্রতিরোধে সরকারের কি কোনই দায়িত্ব নাই? অসাম্প্রদায়িক ইমেজের আওয়ামী লীগ সরকার ঠিক কী করছে, বুঝতে পারছি না। যদি পুলিশ দিয়ে কাজ না হয়, তাহলে দেশের সবচেয়ে ভালো ‘এনকাউন্টার’ এক্সপার্ট র‍্যাবকে মাঠে নামানো উচিত বলে মনে করি। যারা এভাবে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করছে, হত্যার চেয়েও জঘন্য ফিতনা-ফাসাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের সাথে কঠোর থেকে কঠোরতর আচরণই করা উচিত। দেশকে যেকোনো রকম অরাজক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করা উচিত।

সবশেষে অন্য ধর্মের বন্ধুদের প্রতি একটা অনুরোধ, তারা যেন জামাত-শিবির আর ইসলামকে এক করে না দেখে। কিন্তু জামাত-শিবিরের হিংস্রতা আর শান্তির ধর্ম ইসলাম যে এক না, তা কিন্তু প্রমাণের দায়িত্ব আমাদেরই। যারা ফিলিস্তিনে মুসলিমদের উপর হামলা হলে প্রতিবাদ করেন (প্রতিবাদ করা অবশ্যই উচিত, আমি নিজেও করি ও করবো), কিন্তু এখন নীরবতা পালন করছেন, তারা ঠিক কীজন্য এটা করছেন, আমার বোধগম্য না। আমরা যদি জামাত-শিবিরের এই নৃশংসতার প্রতিবাদ না করি, আর এজন্য যদি অন্য ধর্মের মানুষরা জামাত-শিবিরকেই ইসলাম বলে ভুল বুঝে, দায়ভার সম্পূর্ণ আমাদের। তাই তাদেরকে জামাত-শিবির আর ইসলাম গুলিয়ে না ফেলার অনুরোধ জানানোর আগে নিজেদের উচিত জামাত-শিবিরের এমন অনাচারের প্রতিবাদ করা।

আল্লাহ আমাদের সবার সহায় হোন। আল্লাহ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে সব ধরণের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন, ঠিক যেমনটা করেছিলেন ১৯৭১ সালে।

৩৮ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. এস. এম. রায়হান

    সদালাপে পুনঃস্বাগতম!
     
    লেখার প্রায় প্রতিটা লাইনের সাথে একমত, শুধুমাত্র নিচের কথা ছাড়া- 

    এমনকি এই অরাজকতা সৃষ্টির জন্য তারা অন্য ধর্মের মানুষের নামে ফেইসবুকে ফেইক প্রোফাইল খুলে সেসব প্রোফাইল দিয়ে ঐ ধর্মের মানুষদেরও উস্কে দিচ্ছে। আমার ধারণা, জামাতের এসব ফেইক প্রোফাইল থেকে এখন গণহারে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে আজেবাজে কথা লেখা হবে, আর জামাতের কিছু মুসলিম নিক দিয়ে তা ছড়িয়ে দেয়া হবে ফেইসবুকে, যাতে সাধারণ মুসলিমরা হিন্দুদের উপর খেপে উঠে।

    প্রমাণ ছাড়া এই ধরণের বক্তব্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আমরা যেনো অতি আবেগের বশে এমন কিছু না বলি যেটিকে রেফারেন্স বানিয়ে প্রমাণিত ভণ্ডরা জল ঘোলা করতে পারে।

    1. ১.১
      বুড়ো শালিক
      এমনকি এই অরাজকতা সৃষ্টির জন্য তারা অন্য ধর্মের মানুষের নামে ফেইসবুকে ফেইক প্রোফাইল খুলে সেসব প্রোফাইল দিয়ে ঐ ধর্মের মানুষদেরও উস্কে দিচ্ছে।

      এটার প্রমাণ আমি পেয়েছি। বেশ কয়েকটা হিন্দু নিক থেকে উস্কানি মূলক কথাবার্তা ছড়ানো হচ্ছে। একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই প্রমাণ পেয়ে যাবেন। অলরেডি গতকাল এক হিন্দু (!) প্রোফাইল থেকে এক শিশুর ছবি ছড়ানো হয়েছে, যেটা আসলে রোহিঙ্গাদের দাঙ্গার সময়কার, আমাদের এখনকার দাঙ্গার না। আসলে এরকম দাঙ্গা যারা ছড়ায়, তাদের কাজের গতি-প্রকৃতি সবসময়ই একই রকম। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেখেছিলাম, অনেকেই অনেক ভুয়া ছবি (যেমন আফ্রিকার বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ছবি) ব্যবহার করে মানুষের সহানুভূতি আদায় করার চেষ্টা করছিলো।

      আমার ধারণা, জামাতের এসব ফেইক প্রোফাইল থেকে এখন গণহারে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে আজেবাজে কথা লেখা হবে, আর জামাতের কিছু মুসলিম নিক দিয়ে তা ছড়িয়ে দেয়া হবে ফেইসবুকে, যাতে সাধারণ মুসলিমরা হিন্দুদের উপর খেপে উঠে।

      এটা আমার ধারণা, প্রমাণসাপেক্ষ না। জামাতিরা যেভাবে ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহারের প্রমাণ ও পরিচয় যুগে যুগে দিয়ে আসছে, তাতে এহেন ধারণা মোটেই অতিরঞ্জিত না বলেই আমার মনে হয়। বরং এরকম কিছু যদি আসলেই হয়, তাহলে তা কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে, তা নিয়ে চিন্তা করা সচেতন মানুষ হিসাবে আমার-আপনার সবারই উচিত বলে মনে করি।
      যারা চাঁদের বুকে সাইদির ছবি দেখতে পায়, যারা সাইদির রায়ের বিরোধিতা করে ফেরেস্তাদের মিছিল দেখতে পায়, তারা ধর্মকে যাচ্ছেতাইভাবে অপমান করছে ও করে যাবে, এটা আর নতুন কী?
      সদালাপে স্বাগতম জানানোর জন্য ধন্যবাদ।

      1. ১.১.১
        এস. এম. রায়হান

        আমার উদ্ধৃত অংশকে দুই ভাগে ভাগ করে ভালো করেছেন। সত্যি বলতে, আমি আসলে দ্বিতীয় অংশের উদ্ধৃতি দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কপি করতে যেয়ে পুরো অংশটাই কপি করে ফেলেছি। প্রথম অংশের ব্যাপারে আমি আসলে প্রমাণ চাচ্ছি না, যেহেতু কিছু হিন্দু সাউণ্ডিং ফেক প্রোফাইল আমারো নজরে পড়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখবেন এই ধরণের ফেক প্রোফাইল থেকে মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে রিভার্স মন্তব্য করা হয়, হিন্দু বা হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক প্রপাগাণ্ডা ছড়ানো হয় না কিংবা এমনকি হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীর ভাণও করা হয় না; যেভাবে মগাচিৎ রায় ও তার কিছু মুরিদ মুসলিম সাউণ্ডিং নাম নিয়ে মুসলিম ভাণ করে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক প্রপাগাণ্ডা ছড়ায়। আশা করি ব্যাপারটা বুঝাতে পেরেছি।

        এজন্য আমি আসলে নিচের অংশের পক্ষে প্রমাণ চাচ্ছিলাম-

        আমার ধারণা, জামাতের এসব ফেইক প্রোফাইল থেকে এখন গণহারে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে আজেবাজে কথা লেখা হবে…

        চাঁদের বুকে সাইদির ছবি (!) দেখতে পাওয়া [গুজবে বিশ্বাসীর সংখ্যা সারা পৃথিবীতে নেহায়েত কম নয়। অনেক শিক্ষিত-সচেতন লোকজনও গুজবে বিশ্বাস করে], সাইদির রায়ের বিরোধিতা করে ফেরেস্তাদের দেখতে (!) পাওয়া, আর ফেক প্রোফাইল থেকে ইসলাম নিয়ে আজেবাজে কথা বলা যে এক নয় তা আশা করি আপনিও স্বীকার করবেন। একজন ইসলামে বিশ্বাসী – তা যতই খারাপ বা আন-প্র্যাকটাইজিং মুসলিম হোক না কেনো – উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্তত ইসলাম নিয়ে আজেবাজে কথা বলতে পারে না বলেই যে কোনো ইসলামে বিশ্বাসীর দৃঢ় বিশ্বাস। এর পরও এমন উদাহরণ যদি সত্যি সত্যি থেকে থাকে তাহলে সেটা হবে খুবই অস্বাভাবিক একটা ঘটনা। ফলে অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কোনো গোষ্ঠির বিরুদ্ধে – এমনকি শত্রু হলেও – এই ধরণের অভিযোগকে নীতিগতভাবে সমর্থন করা যায় না।

        1. ১.১.১.১
          বুড়ো শালিক
          এই ধরণের ফেক প্রোফাইল থেকে মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে রিভার্স মন্তব্য করা হয়, হিন্দু বা হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক প্রপাগাণ্ডা ছড়ানো হয় না কিংবা এমনকি হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীর ভাণও করা হয় না

          আমি কিন্তু এটা বলি নাই। বলেছি কিছু হিন্দু নিক থেকে মুসলিম বিদ্বেশ ছড়ানো হবে/হচ্ছে, যাতে সাধারণ মুসলিমরাও একসময় হিন্দুদের উপর খেপে যায়।

          একজন ইসলামে বিশ্বাসী — তা যতই খারাপ বা আন-প্র্যাকটাইজিং মুসলিম হোক না কেনো — উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্তত ইসলাম নিয়ে আজেবাজে কথা বলতে পারে না বলেই যে কোনো ইসলামে বিশ্বাসীর দৃঢ় বিশ্বাস।

          আসলে এই বিশ্বাসটা জামাত-শিবির সম্পর্কে আমার তেমন একটা নাই। আমার মতে ইসলামকে হাস্যকর বানানো আর ইসলাম নিয়ে আজে বাজে কথা বলা মোটামুটি কাছাকাছি পর্যায়ের অপরাধ। কারণটা নিচে ব্যাখ্যা করছি:
           
          আমার কথা হচ্ছে, যারা সাইদির ছবি বা ফেরেস্তাদের মিছিল নিয়ে হোক্সটা বানিয়েছে (খেয়াল করেন, যারা ছাগলের মতো না বুঝে ছড়াচ্ছে, তাদের কথা বলছি না, যারা অন দ্য ফার্স্ট প্লেস বানিয়েছে, তাদের কথা বলছি), তারা কি সেটা আসলেই বিশ্বাস করে বানিয়েছে? আমার তো তা মনে হয় না। আমি মনে করি সচেতনভাবেই তারা এক কাজটা করেছে। একটা ডাহা মিথ্যা জিনিসকে যারা ধর্মের (!) নামে জায়েজ করে ফেলতে পারে, তারা অনেক কিছুই পারে বলে মনে করি। আমি মনে করি এরা ফেইক প্রোফাইল খুলে ধর্মকে গালিও দিতে পারে। যুক্তি তো তাদের হাতে সবসময়ই রেডি, "যা করি, ইসলামের জন্য করি।" এরা বরং স্পষ্ট বিরুদ্ধবাদীদের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। আরেকটা উদাহরণ দেই। আপনাকে কেউ যদি প্রকাশ্যে গালি-গালাজ করে, তাহলে আপনার সম্মান বেশি নষ্ট হবে, নাকি আপনার হয়ে আজগুবি কথা বার্তা (যেমন চাঁদে আপনার ছবি দেখা গেছে বা ইত্যাদি) বললে আপনার সম্মান বেশি নষ্ট হবে? আমি তো মনে করি দ্বিতীয় কাজে আপনার সম্মান বেশি যাবে। কারণ প্রথমটা করলে লোকে এমনিতেই আপনার পক্ষে চলে যাবে, আপনার প্রতি সহানুভূতি দেখাবে। আর দ্বিতীয়টা আপনাকে সবার কাছে হাস্যকর করে তুলবে। জামাত-শিবির ঠিক এই কাজটাই করছে। তারা ইসলামের পক্ষে (আসলে তাদের নেতার পক্ষে, কিন্তু ভাব নিচ্ছে ইসলামের পক্ষে) এমন হাস্যকর কথাবার্তা ছড়াচ্ছে যে ইসলাম মানুষের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হচ্ছে। আর তারা এই কাজটা জেনে বুঝেই করছে, তাদের নেতাকে বাঁচানোর জন্য। এতে ইসলামের বারোটা, নাকি চৌদ্দটা বাজলো, তাতে তাদের কিছু কখনো আসে যায় নাই, কখনো আসবে যাবেও না। নিশ্চয়ই শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর এহেন শয়তান আমাদের গোপন শত্রু। আমার মতে প্রকাশ্য শত্রু অপেক্ষা গোপন শত্রু অনেক বেশি ক্ষতিকর। আশা করি যে কেউ একমত হবেন।
           
          হ্যাঁ, আপনার কথা যদি সত্যি হয়, আমার ধারণা যদি ভুল হয়, অর্থাৎ জামাত-শিবির যদি ফেইক প্রোফাইল খুলে দাঙ্গা বাড়ানোর চেষ্টা না করে, তাহলে আমার চেয়ে বেশি খুশি আর কেউ হবে না।

      2. ১.১.২
        শামস

        বিশ্বাস করা ও প্রচার করা লোক এখানেও পাওয়া যাবে। আমুতেঃ
         
         

        বেগম জিয়া তুমি কি এই ছবিটি দেখেছ?…..এটি তোমার জিঘাংসারই প্রতিচ্ছবি….তোমাকে ধিক্কার..

      3. ১.১.৩
        এস. এম. রায়হান

        চাঁদের বুকে সাইদির 'ছবি' দেখতে পাওয়ার পেছনের রহস্য-
         
        "স্থানীয় লোকজন জানান, রাত ১২টার পর সাতকানিয়ার বোয়ালীপাড়া, সামিয়ারপাড়া, খলিফাপাড়া, রুজমপাড়াসহ আশপাশের অনেকগুলো মসজিদ থেকে চাঁদে সাঈদীকে দেখা যাচ্ছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। যে যেখানে আছে, সবাইকে বাইরে বেরিয়ে আসতে বলা হয়। এরপর শত শত লোক বাইরে বেরিয়ে সাঈদীর মুক্তি ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল করে।"
         
        http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-03-03/news/333589

        1. ১.১.৩.১
          বুড়ো শালিক

          সাতকানিয়ায় কারা যে এটা ছড়াইছে, সেটা বুঝাই যায়। ১৯৭০ এর ইলেকশনেও আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে যে দুইটা আসন পায় নাই, তার একটা এই সাতকানিয়ায়! wink
          জামাতের এই দুর্দিনেও সাতকানিয়ার এমপি জামাতী! wink

          1. শামস

            জানতাম না! )ঃ

             

  2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    অনেকদিন পর একটা দারুন এবং সময়পযোগী লেখার জন্যে ধন্যবাদ।
    কোন যুক্তিতে শিবির দেশে এই তান্ডব চালাচ্ছে বুঝতে অপরাগ। 

    আল্লাহ আমাদের সবার সহায় হোন। আল্লাহ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে সব ধরণের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন, ঠিক যেমনটা করেছিলেন ১৯৭১ সালে।

    আমিন।

  3. শামস

    লেখাটি সদালাপে দেখে ভালো লাগলো। এই সময়ে এ ধরণের একটি লেখার দরকার ছিলো।
     
    খুব ভালো বলেছেনঃ

    অন্য ধর্মের উপাসনালয় ভাঙ্গার সময় আমরা যদি চুপ থাকি, তাহলে নিজের ধর্মের প্রতি অবমাননার সময় আমরা কোন মুখে বিচার চাই? ওদের কি ধর্মানুভূতি বলতে কিছু নাই? আল্লাহর রাসূল (স) ও তাঁর সাহাবীরা যেখানে অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীলতা দেখানোর শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সেখানে অন্য ধর্মের অবমাননা দেখে চুপ করে থাকা, সাধ্যমতো প্রতিবাদ না করা কি রাসূল (স) ও সাহাবীদের প্রতিও একধরণের অপমান না?
     

  4. শামস

    আরেকটা কথা। নৈতিক দিক থেকে, মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রতিবাদটা অবশ্যই থাকবে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে মূল প্রতিবাদটা যদি সংখ্যালঘুদের কাছ থেকে না আসে তাহলে শেষপর্যন্ত সেটা তাদের খুব একটা সাহায্য করবে না। পৃথিবীতে যেখানেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে কিছু হয়েছে, প্রতিবাদটাও প্রথমেই হয়েছে মুসলিমদের পক্ষ থেকেই, মুসলিমরা অনেকসময়ই অন্য ধর্ম থেকে সহানুভুতি পেয়েছে, যেমন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনেক অমুসলিমকে দেখেছি সহমর্মিতা জানাতে। 
    হামলার পরপর অনেক হিন্দু সংগঠন একসাথে হয়ে প্রতিবাদ করেছে, সেটা খুব কম দেখা যায়। সংখ্যালঘু হিসেবে তাদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে বা হচ্ছে তার জন্য তারা যদি নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ করে তাহলে সেটা অধিকাংশ লোকেরই নৈতিক সমর্থন পাবে। লক্ষ্য রাখতে হবে সেটা যেনো কোন রাজনীতির পাকে না পড়ে বা কেউ তাদের রাজনৈতিকভাবেও ব্যবহার করতে পারে।
    ধন্যবাদ।
     

    1. ৪.১
      বুড়ো শালিক

      প্রতিবাদ করার মতো অবস্থা থাকতে হবে তো? মুসলিমদের কমিউনিটি অনেক বড়। বিভিন্ন জায়গা, দেশ থেকে প্রতিবাদ আসবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হিন্দুদের কমিউনিটি ছোট। জামাত-শিবিরের কল্যানে (!) তা আরো ছোট হচ্ছে। এখন তারা যে অবস্থায় আছে, তাতে তারা আসলে কতটুকু সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ করতে পারবে, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন!
       
      আর ভাই, মুসলিমদের মধ্যে যারা প্রতিবাদ করার, তারা কিন্তু এমনিতেই করবে। ওদের প্রতিবাদের জন্য অপেক্ষা করবে না। তবে হ্যাঁ, ওরা নিজেরাও যদি প্রতিবাদ করে, তাহলে তা আরো জোরদার হবে, বলার অপেক্ষা রাখে না।

  5. আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    বুড়ো শালিক ভাই, কয়েকটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন, যেটা জামাত শিবিরের পক্ষ থেকে আসছে।

    ১) মন্দিরে হামলা যে জামাত শিবির চালাচ্ছে এর প্রমাণ কি? 
    ২) যেখানে প্রায় প্রতিদিনই পুলিশ গুলি করে জামাত শিবিরের লোকদের মারছে এ অবস্থায় হিন্দুদের বাড়িতে আক্রমন করে নিজেদের উপর পুলিশ ও সরকারের আক্রশ আরও বাড়িয়ে তোলা হবে, এ বিষয়টি কতটা যুক্তিযুক্ত?
    ৩) যে কালের কণ্ঠ, ্প্রথমআলো কয়েকদিন আগে থাবাবাবাকে মুসলিম বানানোর জন্য মিথ্যাচার করছিল তাদের রিপোর্ট যে বিশ্বাসযোগ্য  তা কিভাবে প্রমাণ করবেন?
    ৪) জামাত শিবিরকে যেহেতু বহির্বিশ্ব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী রাজনীতির দল হিসেবে জানে, সেহেতু জামাত শিবির প্রকারান্তরে ইসলামকে সাম্প্রদায়িক বানানোর জন্য প্রজন্ম চত্বরের নাস্তিক ও বামরাই যে এ প্রচেষ্টা করছে না, এ সম্ভাবনাকে কিভাবে নাকচ করবেন?

    1. ৫.১
      বুড়ো শালিক

      ১) বাংলাদেশের সবগুলো মেইন স্ট্রিম মিডিয়ায় এই তথ্য প্রচারিত হচ্ছে। অন্য কারো কোন মোটিভ থাকতে পারে বলেও মনে হয় না। আর জামাত-শিবিরের ট্রেড মার্ক হচ্ছে 'সংখ্যালঘু' নির্যাতন। তারা ১৯৭১ এ এমনটা করেছিলো, ২০০১ এ ইলেকশনে জেতার পর করেছিলো, আবার এখনো করবে/করছে, এটা আর নতুন কী?
      ২) জামাত-শিবির কি যুক্তি মেনে কাজ করে বলে আপনার মনে হয়? আগে ফ্যাক্ট, তারপর যুক্তি, তাই না ভাইয়া?
      ৩) তাদের রিপোর্টে ঘাপলা থাকতে পারে, আমি অস্বীকার করি না। কিন্তু তাদের রিপোর্টের বাইরে আর আছে আমারদেশ, নয়াদিগন্ত, সংগ্রাম, ইনকিলাব ইত্যাদি যারা জামাত-শিবিরের পক্ষে চিহ্নিত এবং ভুয়া রিপোর্ট দিয়া (এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কাবার ইমামদের নিয়ে একটা রিপোর্ট) হাতে নাতে ধরা খাওয়া পেপার। এদেরকে চেয়ে কণ্ঠ বা আলু বেশি বিশ্বাসযোগ্য, অ্যাট লিস্ট আমার কাছে।
      ৪) এটা অতিকল্পনা বলেই মনে করি। প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ কোন নির্দিষ্ট দলের না। এখানে সর্বস্তরের মানুষ শামিল হয়েছে। বামদের এখানে আলাদা কোন স্থান নাই বলেই মনে করি। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই, বামরাই আন্দোলন পরিচালনা করছে, তাহলে এবার আপনার কাছে আমার প্রশ্ন। শাহবাগে আজ পর্যন্ত কয়টা বোমা ফুটাইছে বামরা? কয়টা গাড়ি ভাংছে? কয়টা বিল্ডিং পুড়াইছে? যারা ৩০ দিনেও এর কিছুই করে নাই, শুধু নাইচা-গাইয়া টাইম পাস করছে (এতো নরম কর্মসূচি দেয়ার জন্য আমি নিজেই পারসোনালি তাদের উপর বিরক্ত), তারা সাইদির রায়ের পরে এইরকম দাঙ্গা শুরু করবে? এইটা কোন যুক্তিতে পড়ে, সেটা আগে কন আমারে।
       
      এখন আমারে বলেন, যে প্রশ্নগুলা করলেন, সেগুলা কি জামাত-শিবিরের প্রশ্ন, নাকি আপনার প্রশ্ন? আপনার নিজের 'যুক্তিযুক্ত' প্রশ্ন হইলে আপনার নিজের মধ্যেই ঘাপলা আছে। সেক্ষেত্রে আমি আপনার সাথে ভবিষ্যতে এক লাইনে কথা চালাবো। আর যদি আপনার নিজের প্রশ্ন না হয়, যদি জামাতের প্রশ্ন আমার কাছে পৌঁছায় দিয়া থাকেন, তাইলে আপনারে একটা পরামর্শ দেই। জামাত-শিবিররেই তাদের 'যুক্তিযুক্ত' প্রশ্ন করতে দেন। তাদের হইয়া আপনি প্রশ্নগুলা কইরেন না। তাইলে মানুষ কিন্তু আপনারেই জামাত-শিবির ভাইবা বসতে পারে! খুউব খিয়াল কইরা! wink

  6. আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    বাংলাদেশে সংঘর্ষ সম্পর্কে আলজাজিরা রিপোর্ট:

    http://www.facebook.com/photo.php?v=546201428744007
    http://www.facebook.com/photo.php?v=546281302069353
    http://www.facebook.com/photo.php?v=546578975372919
     

  7. নির্ভীক আস্তিক

    ভেবেছিলাম একটি পোস্ট দিব। কিন্তু সময় আর সাহস দুটোরই অভাব। তাই সংক্ষেপে মন্তব্যেই বলে দিয়ে যাই।

    সেই সহস্র বছর আগে যখন মানুষের জাতীয়তার কান্ডারি ছিলনা তখন মুসলমানদের অনেক খলিফা ও ব্যক্তিবরগদের সম্প্রদায়িক ধ্বজার ধার না ধেরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চশিরে অবস্থান নেয়ার অজস্র ঘটনা দেখতে পাই। অপর সম্প্রদায়ের প্রতি সহিষ্ণু আচরনের অভাব নেই ইতিহাসের পাণ্ডুলিপিতে।  আজ ভূগোলের কাধে চেপে আমরা নিজেদের সীমা নির্ধারণ করেছি। আমাদের মধ্যে আজ কেউ কেউ বলছে "আমি আগে মুসলিম তারপর বাংলাদেশী।" আর অনেকে বলছে "আপনি আগে বাংলাদেশী তারপর মুসলিম" ।  কিন্তু আমি বলছি "আমি একইসাথে একজন বাংলাদেশী এবং মুসলিম। ঠিক যেমনটি আপনি একজন বাংলাদেশী এবং হিন্দু অথবা একজন বাংলাদেশী এবং নাস্তিক।" এরপরেও মাঝে মাঝে ভাবতে ভাল লাগে যখন আমি কেবল বাংলাদেশের না হয়ে পুরো এশিয়া মহাদেশের, এবং যখন আমি কেবল এশিয়া মহাদেশের না হয়ে পুরো বিশ্বের।

    সে যাই হোক,  এই মিশ্র জাতীয়তার  উপর আমাদের মূল্যবোধ সক্রিয় থাকার ফলে ইসলামের ধ্বজা ধরে একই দেশের নিরপরাধ ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের উপরে অত্যাচার চোখের সামনে নিশ্চুপে দাড়িয়ে থেকে দেখা মুসলমানদের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। সঠিক ধর্মীয় শিক্ষার অভাব এবং একই সাথে ধর্মীয় কুশিক্ষা এর জন্য দায়ী অনেকাংশেই, আর যারা এই ধর্মীয় কুশিক্ষার প্রচলক তারাও ধর্মেরেই বাহক । বুহুবার ঘটে যাওয়া এসকল অন্যায় অবিচারের জন্য শুধুমাত্র অনুশোচনা আর অপরাধীর প্রতি মুখ নিঃসৃত ধিক্কার  কেবল দুর্বল ঈমানের পরিচায়ক যে তাই নয়, তা আমাদের ইসলামের পূর্ব ইতিহাসকে বগলে চেপে ধরে গুনগুন আওয়াজ "দেখ দেখ ঐ দেখা যায়, ইসলামের মহত্ত গগন কিনারায়" কে উল্টো বিদ্রুপাত্নক বানিয়ে দেয়। একজন হিন্দু\বৌদ্ধ আমার কোরআন বা হাদিস এর সাস্থ্যবান কিতাব গুলো পড়ে ইসলাম জানার আগে তারা যা কেবলমাত্র জানে তা হল "ইসলাম একটি ধর্মের নাম।" কিন্তু এর মূল্যবোধ সমাজের মনুসত্য পরিবর্তনের জন্য উর্বর মানিসকতা তৈরিতে সক্ষম কিনা তার উত্তর তারা খুজবে এর মূল্যবোধের ধারকদের কার্যকরণের মাধ্যমে, "তুই ব্যাটা মালাউন"- এই উক্তির সীমানার মধ্যে।

    হযরত মুহাম্মদ(সঃ) কে অপমান করে কোণ কুৎসিত মন্তব্য করাকে আমরা যেমন ঘৃণা করি,  ইসলামের দোহাই দিয়ে ঐ একই সম্মানিত ব্যাক্তি ও তাঁর অনুসারী খলিফাদের আদর্শকে অপমান করা নেকরেদের ঘৃণা করে তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম হিসেবেই রাজপথে প্রতিবাদ করতে আমাদের এত আপত্তি কিসের? এত সঙ্কোচ কিসের ? ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের উপর এহেন অত্যাচারের  ঘটনা বারংবার ঘটার পরেও এদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে লালা ব্যানারে "ইসলামের বিধি অনুযায়ী ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অত্যাচারীদের মৃত্যুদণ্ড চাই"- এই স্লোগান আসে নেই কেন ? সেই আওয়াজ কেবল "সদালাপের" ব্লগারদের কন্ঠে সীমাবদ্ধ থাকার কারন ?  ৯০% মুসলিমের এই বাংলাদেশে আমরা মুসলমানরাই মুসলমানদের আদর্শকে নিকুচি করে বিদীর্ণ করছি বার বার কিন্তু এর বিরুদ্ধে আমরা মুসলিম হিসেবেই সংঘবদ্ধ হিসেবে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছিনা কেন?

    বেশ বেশ, মেনে নিলাম এসকল ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগমুহূর্তে আমাদের কিছুই করার থাকেনা। কিন্তু ঘটনা ঘটার পর আমদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে তো কোন সমস্যা নেই। এসকল গরীব নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ী ইসলামের দোহাই দিয়ে পুরিয়ে দেয়ার পর আমরা মুসলমানরা কোণ স্থায়ী আর্থিক সাহা্য্যের ব্যবস্থা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারি। আমরা তাদের ঘরবাড়িগুলো নতুন ছাঊনি দিয়ে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করে দিতে পারি। তাদের জীবন ব্যবস্থাকে এই পুনরায় গড়ে দেয়া  কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, কোণ সুনামের লোভে নয় বরং  পাওনাদারের পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার দায়ে ,  অপরাধীদের দ্বারা নিগৃহীত ইসলামের আদর্শকে পূর্ণগঠনের দায়ে, আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের দায়ে।  মুসলিম একদল তবলীগ জামায়াত এবং অনেক মুসলিম যারা তবলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট নই নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে দেশ থেকে দেশান্তরে ঘুরে বেরান মুসলমানদেরকেই আল্লাহ্‌র পাথে ডাকতে, তাদের দিয়ে ৫ ওয়াক্ত নামায আদায় করার জন্য দায়বদ্ধ করতে। এদের অধিকাংশরাই দিন আনে দিনে খায় এরকম দিনমজুর, কৃষক, রিকশাওয়ালা, কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা ।   নিজেদের অর্থ খরচ করে ইসলামের আদর্শকে বুকে চেপে ধরে মানুষকে সৎ পথে ডাকা আর অসৎ কাজ থেকে দূরে থাকার এই আহবান তারা অপরাপরের জন্য নয়, নিজেদের প্রয়োজনে করেন। এই মুসলমানতো আমরাই। সংখ্যালঘিষ্ঠ দের প্রতি আমাদের দেখানো সহমর্মিতা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আমাদের দায়বদ্ধতাকে সামনে রেখে তা পূরনের জন্য এগিয়ে আসাই হতে পারে বাংলাদেশের সীমানার ধার ঘেষে অবস্থিত দেশগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের উগ্র আচরনের প্রতি উদার চটকানা।

    আমার বিশ্বাস  আমি আমার উচ্চারনের ধ্বনিগুলোর সাথে আমাদের এই ৯০% মুসলমানদের প্রতিধ্বনির ঐকতান তূর্যনিনাদে শুনতে পাব- "We Muslim don't  require a title of  'Humanist' like those people, what we do is far beyond the humanism they ever could show." 

    1. ৭.১
      বুড়ো শালিক
      হযরত মুহাম্মদ(সঃ) কে অপমান করে কোণ কুৎসিত মন্তব্য করাকে আমরা যেমন ঘৃণা করি,  ইসলামের দোহাই দিয়ে ঐ একই সম্মানিত ব্যাক্তি ও তাঁর অনুসারী খলিফাদের আদর্শকে অপমান করা নেকরেদের ঘৃণা করে তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম হিসেবেই রাজপথে প্রতিবাদ করতে আমাদের এত আপত্তি কিসের?

       
      বুলস আই। আমিও এটাই বলতে চাই। যারা ইসলামের বাইরে থেকে ইসলামকে অপমান করে, তাদের চেয়ে বরং যারা ইসলামের ভেতরে থেকে ইসলামকে অপমান করে, তাদেরকে বেশি প্রতিহত করা উচিত।

    2. ৭.২
      এস. এম. রায়হান

      ভালো বলেছেন। তবে একটি জায়গায় চোখ আঁটকে গেল-

      এসকল গরীব নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ী ইসলামের দোহাই দিয়ে পুরিয়ে দেয়ার পর আমরা মুসলমানরা কোণ স্থায়ী আর্থিক সাহা্য্যের ব্যবস্থা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারি।

      এই কথা কোথায় পেলেন? কে বা কারা বলেছে যে তারা ইসলামের দোহাই দিয়ে গরীব নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ী পুড়িয়ে দিচ্ছে?

  8. AMI BANGALI

    THANKS FOR YOUR PUBLICATION.

  9. রনবীর সিং

    ফিলিস্তিনে মুসলমান নিধন হলে বাংলাদেশে আপনারা প্রতিবাদ শুরু করেন, আর আপনাদেরই প্রতিবেশী হিন্দুদের ঘরবাড়ী পোড়াচ্ছে আপনারা কোথায় প্রতিবাদ করলেন ? তাহলে আপনারা মুসলমানরা কি এটাই বিশ্বাস ও মনে করেন যে প্রতিবেশী হিন্দুদের চাইতে ফিলিস্তিনীরা আপনাদের বেশী আপনজন ?
    হিন্দুরা কিন্তু বহিরাগত নয়। এটা তাদেরই দেশ। আপনাদের পূর্বপুরুষরা সবাই হিন্দু ছিল। আজকে আপনারা মুসলমান। ইসলামই এদেরকে আলাদা করে দিয়েছে,  আর তাদের মধ্যে রোপন করেছে ঘৃণার বীজ। সেই ঘৃণা আপনারা উগরে দিচ্ছেন আপনাদেরই রক্ত সম্পর্কিত ভাইদের উপর। এটাই কি ইসলামের শিক্ষা?
    পক্ষান্তরে আপনারা যাদেরকে ইহুদি নাসারা বলেন ,তাদের দেশে কি রকম জামাই আদরে মুসলমানরা বসবাস করছে। সেসব মুসলমানরা কিন্তু সেখানে অভিবাসী, স্থানীয় বাসিন্ধা নয়। তারপরেও তারা সেখানে জামাই আদরে আছে। এমন কি বহু মুসলমান সেসব দেশে নানারকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত হওয়ার পরেও সেখানে মহা সুখে আছে। যেখানেই মুসলমান সেখানেই অশান্তি , সেখানেই গ্যাঞ্জাম। তাহলে আপনাদের মতে একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলাম আপনাদেরকে ভাল মানুষ বানাল কোথায় ?কোন ধর্ম শান্তির কি না , তা প্রমানিত হয় সে ধর্মের লোকজন কি আচরণ করে তার ওপর। ইসলাম শান্তির ধর্ম- এই বিজ্ঞাপনটা কোটি কোটি বার প্রচার করলে সেটা কি শান্তির ধর্ম হয়ে যাবে ? শান্তির ধর্ম প্রমানিত হবে যদি আপনারা শান্তিপূর্ণ আচরন করেন তবেই। আপনারা কবে সেই শান্তিপূর্ণ আচরন করবেন বলতে পারেন ? আমরা আর আপনাদের বিজ্ঞাপন শুনতে চাই না, চাই আপনাদের ব্যবহার।
    ভাল থাকবেন।
     

    1. ৯.১
      আহমেদ শরীফ

      হিন্দুরা কিন্তু বহিরাগত নয়। এটা তাদেরই দেশ। আপনাদের পূর্বপুরুষরা সবাই হিন্দু ছিল। আজকে আপনারা মুসলমান। ইসলামই এদেরকে আলাদা করে দিয়েছে,  আর তাদের মধ্যে রোপন করেছে ঘৃণার বীজ। সেই ঘৃণা আপনারা উগরে দিচ্ছেন আপনাদেরই রক্ত সম্পর্কিত ভাইদের উপর। এটাই কি ইসলামের শিক্ষা?

       
      সমস্যাটা বাহ্যতঃ সাম্প্রদায়িক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে 'রাজনৈতিক'। এখানে আদতে ইসলামকে টেনে কোন লাভ নেই। যারা এসব ঘটাচ্ছে তারা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে সময়সুযোগ অনুযায়ী নিজেদের নিকৃষ্ট-ইতর ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করছে। এরা কোনভাবেই সাধারণ মুসলমানদেরও প্রতিভূ নয়, ইসলামের তো নয়ই। যারা করছে তারা ইসলামের জন্য করছে না, হিন্দুসমাজ সাধারণতঃ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় তাই বিরোধীশিবিরের ভোটব্যাংকের ওপর প্রতিহিংসা এই সুযোগে চরিতার্থ করার প্রয়াস পাচ্ছে, মাঝখান থেকে 'রাজনৈতিক দাঙ্গা'র অজুহাতে অবাধে লুটপাট-ধর্ষণ-ভাঙ্গচুর-হত্যার মহোৎসব চালাচ্ছে। হিন্দুরা সংখ্যালঘু ও দূর্বল হওয়ায় এই নিকৃষ্টতম শ্রেণীর ছিঁচকে 'দুষ্কৃতিকারীরা' রাজনৈতিক কাভার ব্যবহার করে এটা ঘটাতে পারছে। নাগরিক হিসেবেই আমাদের এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত।

      তবে এটাও বলতে হয় যে সরকারেরও খুব উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী কোন ভূমিকা পরিদৃষ্ট হয় নি এ ব্যাপারে। তাৎক্ষণিক দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি প্রদানের জ্বলজ্যান্ত কিছু উদাহারণ সৃষ্টি করা দরকার ছিল এ ব্যাপারে, সেটা না করাটা ভুল হয়েছে। 'সংখ্যালঘু নির্যাতন যে ভয়ংকর গুরুতর বিষয়' এটা কঠিন দৃষ্টান্তমূলক কিছু শাস্তি দিলেই মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেত। সেটা যদি আওয়ামী লীগই সরকারে থেকে করতে না পারে তাহলে আর কে করবে এই দেশে। সরকারের 'শক্তিশালী' ভূমিকা গ্রহণ এ ব্যাপারে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ বয়ে আনতে পারে, পাশাপাশি গণসচেতনতা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কাজটিও করে যেতে হবে। আমাদের মুসলিমপ্রধান দেশে হিন্দু নির্যাতন করলে প্রতিক্রিয়া হিসেবে পার্শ্ববর্তী হিন্দুপ্রধান ভারতে মুসলিম নির্যাতন শুরু হয়ে যেতে পারে _ এই বোধ সাধারণ মুসলিমদের আছে, এছাড়াও আবহমান কাল ধরে সর্বধর্মী সহাবস্থানের সংষ্কৃতিতে এদেশের লোক বংশ পরম্পরায় অভ্যস্ত, সমস্যা তাদের নিয়ে নয়। এক শ্রেণীর ছিঁচকে সুযোগসন্ধানী অপরাধপ্রবণ লোকেরা 'রাজনৈতিক পরিচয়' এর ছদ্মবেশ ব্যবহার করে এসব অপকর্ম সময়সুযোগমত চালায়। সরকার বিবৃতি না দিয়ে দ্রুত তৎপরতার সাথে শক্ত ব্যবস্থা নিলে এসব অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাবে।

      1. ৯.১.১
        রনবীর সিং

        সমস্যাটা বাহ্যতঃ সাম্প্রদায়িক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে 'রাজনৈতিক'। এখানে আদতে ইসলামকে টেনে কোন লাভ নেই।

        আমার মনে হয় আপনি বিষয়টিকে অতি সরলভাবে দেখলেন ও ব্যখ্যা করলেন।আসলে এ সমস্যা রাজনৈতিক তো বটেই তার চেয়ে বেশী সাম্প্রদায়ীক তথা ধর্মীয়।জামাত শিবিরের লোকজন শুক্রবারে মসজিদে নামাজ পড়ে তার পর নারায়ে তকদির , আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে হিন্দুদের ঘরবাড়ী মন্দিরে ভাংচুর লুট তরাজ চালাল আগুন ধরাল। এ ধরনের ঘটনা ব্যপকভাবে ঘটেছে সে সব অঞ্চলে জামাত শিবিরের প্রভাব বিরাট। যারা আক্রমন করেছে তাদের অধিকাংশই হলো মাদ্রাসার ছাত্র।  তাহলে এসব ছাত্ররা কোন ধরনের ইসলাম শিক্ষা গ্রহন করে এভাবে নিরীহ হিন্দুদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ল ? তাদের নেতারা বলার সাথে সাথেই নিশ্চয়ই কেউ একাজ করবে না। এর জন্যে তাদেরকে আগে মগজ ধোলাই করতে হয়েছে ধর্মীয় শিক্ষায়। তো কি সেই ধর্মীয় শিক্ষা? খোদ সে শিক্ষার মধ্যে এধরনের উপাদান না থাকলে খালি বানিয়ে বানিয়ে বলে নিশ্চয়ই এতগুলো ছাত্রকে মগজ ধোলাই করা যায় না। বাংলাদেশে যে জে এম বি , বাংলা ভাই বা শায়খ আব্দুর রহমান জন্ম নিয়েছিল তাদের আদর্শ তারা কোথা থেকে পেয়েছিল? বর্তমানে তালেবান , আল কায়েদা , লস্কর ই তাইবা , তাহরিক ইসলাম, মুসলিম ব্রাদারহুড এরা কোথা থেকে তাদের শিক্ষা পায় ? এদের উগ্র ধর্মীয় আদর্শের ভিত্তিটা কি ? তার পরেও এর জন্য সত্যিকার যদি ধর্মীয় শিক্ষা বা সাম্প্রদায়ীক চেতনা কাজ না করে থাকে , তাহলে দেশের কোথাও তো এর বিরুদ্ধে আপনাদের মত উদার মুসলমানদের কোন প্রতিবাদ দেখা গেল না। এসবের মানে কি ?আসল সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে বিষয়টার এরকম অতি সরলীকরন বক্তব্য আপনার বা আপনাদের কাছ থেকে আশা করি নি।

        1. ৯.১.১.১
          আহমেদ শরীফ

          আপনি নিজেই সরল রাজনৈতিক হিসেবের ব্যাপারটাকে 'জটিল' করে তুলে ধরতে চাইছেন, কেন সেটা আপনিই হয়তো ভাল বলতে পারবেন। বিজেপি-শিবসেনা যেমন যতটা ধর্মীয় তার চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক সাফল্যাভিলাষী উগ্রবাদি দল, যারা ধর্মকে নিছক 'ব্যবহার' করে, ব্যবহার করে ঘরে তুলতে চায় 'রাজনৈতিক' ফায়দা। 'রাজনৈতিক' ফায়দার কারণে বিশেষ বিশেষ মহল ও তাদের সংশ্লিষ্ট সহযোগীরা লাভবান হয়। এই রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে কখনো 'ধর্ম', কখনো 'জাতিয়তাবাদ', কখনো চলমান অন্য কোন ই্যসু যখন যেটা 'পাবলিক খায়'। এরা বাইরেও নির্দিষ্ট দলের কিছু দৃষ্টিভঙ্গি কিছু মূল্যবোধ-সংষ্কৃতি আছে যার প্রকাশ বিভিন্ন সময় ইচ্ছা-অনিচ্ছায় হয়েই যায়। নিজস্ব চরিত্র বা রাজনৈতিক চরিত্র মানুষ সবসময় লুকাতে পারে না। সেটা দিয়ে পুরো একটা দেশ বা সম্প্রদায়ের চরিত্রকে কিন্তু বিচার করা যায় না। শিবসেনা প্রধান বাল থ্যাকারে একবার বলেছিল 'মুসলিমদের লাথি মেরে বের করে দিতে হবে' _ কিন্তু এই মানসিকতা সারা ভারতবর্ষের নয় এবং সেটা কেউ মনেও করেনি।

          একইভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে বা হচ্ছে সেটা সুনির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট কিছু হিসেবনিকেশের বহিঃপ্রকাশ। এসবের প্রতিবাদ হয় নি সেটা ভুল দেশজুড়েই প্রতিবাদ হয়েছে, হচ্ছে। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ যারাই হোক 'সাধারণ মানুষ' এর অত্যাচার-নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশের জনগণ সবসময়ই সোচ্চার।

          তবে আগেই যেমন বলেছি শুধু 'প্রতিবাদ' এ কিচ্ছু হবে না এখন প্রয়োজন শক্তভাবে 'প্রতিরোধ'। সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মুসলিম জনতাকে এগিয়ে এসে সম্মিলিত দূর্বার অসাম্প্রদায়িক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সেজন্যে এখন সচেতনতা সৃষ্টিতে এগিয়ে আসতে হবে। সঙ্গে সরকার যদি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে 'দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের কিছু উদাহারণ সৃষ্টি করে তাহলে সর্বস্তরের প্রতিরোধ 'লৌহ যবনিকা'য় রুপ নেবে।

          1. রনবীর সিং

            তার মানে আপনি বলতে চাইছেন হিন্দুদের ওপর আক্রমনের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই? আপনি যদি দেখেন ভারতে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা যে হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুসলমানরাই সেটা শুরু করে। যেমন কিছুকাল আগে যে দাঙ্গা হয় একটা ট্রেনে মুসলমানরা প্রথমে আগুন দিয়ে শুরু করেছিল তারপর হিন্দুরা মুসলমানদের ওপর ব্যপকভাবে আক্রমন করে, এখানে শুরুটা করেছিল মুসলমানই। শুধু এটা না , প্রায়ই দেখা যায় মুসলমানরাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রথম আক্রমন কারী।মুসলমানদের এরকম অনাহুত ঘটনা দেখে বাল থ্যকারে রেগে গিয়ে বলতেই পারে ওকথা। বাংলাদেশে এমন কোন ইতিহাস নেই যে হিন্দুরা কখনো আগে কোন আক্রমন করেছে বা কোন গন্ডগোল বাধিয়েছে। তাহলে তাদের ওপর সময়ে সময়ে আক্রমনের কারন কি? বাংলাদেশে হিন্দুরা যদি আগে আক্রমন করত বার বার , আপনারা কি অবস্থা করতেন হিন্দুদের একবার ভেবেছেন ? আপনি কি ইসলামে অমুসলিমদের সাথে সহাবস্থান করতে বলা হয়েছে এরকম কোন বিধান দেখাতে পারেন ? আমি শুনেছি ইসলাম অমুসলিমদের সহ্য করে না , আর তাই তাদেরকে উচ্ছেদ করা হত্যা করাকে এটা ইসলামিক দায়ীত্ব মনে করে , এটা নাকি জিহাদের অঙ্গ।

          2. আহমেদ শরীফ

            আপনি আমার বক্তব্যের মূল সুরটি মনে হয় খেয়াল করেন নি। সাধারণ জনগণ, তারা মুসলিম হোক বা হিন্দু _ রাজনীতি বা ধর্মকর্ম কোনটাই খুব বেশি করে না। অস্তিত্বরক্ষার্থে জীবনসংগ্রামের যান্ত্রিক নৈমিত্তিকতার দায় উদ্ধারেই তাদের জীবনিশক্তি নিঃশেষ হতে থাকে। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় হিসেবনিকেশের শুভংকরের ফাঁকি তলিয়ে বোঝা বা সেসব অংক কষার মত পর্যাপ্ত সময় তাদের নেই।

            সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে 'ইসলামবিদ্বেষীদের ওপর হামলা' প্রসঙ্গেই আসুন। এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য যে কয়টা হামলা হয়েছে সবই মুসলিম সমাজের মুসলিম নামধারী ইসলামবিদ্বেষীদের ওপর। যেমন 'থাবা বাবা' ওরফে রাজিব হায়দার শোভন, 'নাস্তিক নবী' ওরফে সানিউর রহমান বা আসিফ মহিউদ্দিন ওরফে মগাচিপ। অনলাইনে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা/বাঙ্গালিয়ানা' র নামে ইসলামবিদ্বেষীতার পাঁচন সুকৌশলে মিশিয়ে দেয়ার মূল রসায়নবিদ কিন্তু আদতে হিন্দুরাই। 'আমারব্লগ' 'মুক্তমনা' ইত্যাদি ব্লগ যেগুলো ইসলামবিদ্বেষীতার নরকতূল্য অন্ধকূপ সেগুলোর মালিক/পৃষ্ঠপোষক/প্রশাসক/সঞ্চালক কিন্তু সনাতনধর্মীরাই। জানামতে এখনো পর্যন্ত তাদের কারো ওপর বড় ধরণের হামলা কিন্তু হয় নি। অনলাইনে-ব্লগে-ফেসবুকে সনাতনধর্মীদের বিশ্বাসকে ব্যঙ্গ করে মুসলিমদের পোস্ট দিতে বা পেজ খুলতে দেখা যায় না। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অনায়াসে 'মুক্তচিন্তা'র দোহাই দিয়ে যত্রতত্র ইসলাম ও মুসলিমের বিরুদ্ধে সমালোচনা-বিষোদগার-কুৎসা রটনা করে চলেছেন। লক্ষ্য করলে দেখবেন, শুধু ব্লগেই নয়, ফেসবুক পেজগুলোতে যত 'এথিস্ট গ্রুপ' আছে সেগুলোতে অজস্র-অসংখ্য হিন্দু আইডিধারীরাই কদর্য ভাষায় ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাকেই জীবনের ব্রত করে নিয়েছে। শিক্ষিত হিন্দুরা যে খুবই নিরীহ এবং নির্দোষ তাতে আর সন্দেহ কি!

            বাল থ্যাকারের পক্ষে সাফাই গাওয়াটা আপনার জাত্যাভিমানের পরিচয়ই বহন করে। আমি বোঝাতে চেয়েছি উগ্র সাম্প্রদায়িকতা উপমহাদেশের একটা অভিশাপ এবং এটা ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে সারা উপমহাদেশ জুড়েই আছে। আমাদের এখানে জামাত-বিএনপি যারা 'মুসলিম জাতিয়তাবাদ' এর কথা বলে তাদের অতি উৎসাহী কিছু অনুসারীদের দ্বারাই এসব সংগঠিতভাবে সংঘটিত হয় যা এক ধরণের 'রাজনৈতিক অপসংষ্কৃতি' এবং এসবের বিরুদ্ধে সার্বজনীন প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। সেজন্যে ইসলামের সমালোচনা না করে কায়েমী স্বার্থরক্ষাকারী ধর্মব্যবসায়ী ওইসব রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে যারা এসবের নীরব প্রশ্রয়দাতা ও পৃষ্ঠপোষক।    

            http://www.slnewsonline.net/ltte_atrocities_genoside_of_muslims.asp

            http://www.nytimes.com/2002/03/01/world/hindu-rioters-kill-60-muslims-in-india.html

            http://www.huffingtonpost.com/2011/11/09/india-hindus-convicted_n_1083624.html

            http://en.wikipedia.org/wiki/2002_Gujarat_violence

            http://www.loonwatch.com/2013/01/sri-lanka-muslims-forced-out-of-their-homes-anuradhapura-malwathu-oya/

            httpv://www.youtube.com/watch?v=hCKyEO0kNls

    2. ৯.২
      মুনিম সিদ্দিকী

      সব কিছুরই জনক থাকে সেই ভাবে সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গার জনকও আছে। আমাদেরকে এর জনক খুজে দেখতে হবে।  এর শুরু হয়েছিল সেই ১৯০৬ সালের পর থেকে বঙ্গভঙ্গ নামক আন্দোলন থেকে। যদি সেদিন বাঙ্গালী মুসলিমদেরকে দাবিয়ে রাখার প্রচেষ্টা না নেয়া হত তাহলে তো এই উপমহাদেশে কোন সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি হতোনা।
      ৪৭ এ ভারত ভাগ হবার আগে কংগ্রেস এবং মুসলিমলীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে হিন্দু মুসলিম যে যে অংশে অবস্থান করছেন  সে সে অংশ নিয়ে গঠিত রাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। দেশ দুটি দুই ধর্মের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দিয়ে ভাগ হলেও রাষ্ট্র হবে ধর্মনিরপেক্ষ।
      সোরোয়ার্দী বসুর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বৃহত্তর বাংলা গঠণ করা যায়নি, কারণ বর্ণবাদি হিন্দুরা মুসলিম গরিষ্ঠ দেশে বাস করতে রাজি ছিলনা। সে কারণে ভারত ভাগের সাথে সাথে হিন্দুরা পশ্চিম বংগ, আসাম, ত্রিপুরায় অবস্থিত বাঙ্গালী মুসলিমদেরকে আক্রমণ করে তাঁদের বাড়ি ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয় যার ফলে ঐ সব এলাকা থেকে বাঙ্গালী মুসলিমরা সব কিছু ফেলে শুধু প্রাণ হাতে নিয়ে তদান্তিন পূর্ব পাকিস্তানে এসে রিফুজি হিসাবে আশ্রয় নিয়েছিল। নিউটনের ৩য় সূত্র হিসাবেই ঐ সকল রিফুজিরা এদেশের হিন্দুদের উপর প্রতিশোধ নিতেই আক্রমণ করেছিল। এবং এখনও বাংলাদেশে যদি কখনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা হয় তাহলে খোজ নিলেই দেখতে পারবেন যারা ঐসবে জড়িত তাঁরা সকলই ঐ পাড় থেকে বিতাড়ির রিফুজিদের বংশধর।
      কাজেই এইটির মধ্যে ইসলাম খুজতে যাবেন না। এই গুলো স্রেফ প্রতিহিংসার ফল। যা আপনার পূর্বসুরীরা সৃষ্টি করেছিলেন।

      1. ৯.২.১
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        এবং এখনও বাংলাদেশে যদি কখনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা হয় তাহলে খোজ নিলেই দেখতে পারবেন যারা ঐসবে জড়িত তাঁরা সকলই ঐ পাড় থেকে বিতাড়ির রিফুজিদের বংশধর। 

        কাদের কথা বললেন মুনিম ভা্ই। খালেদা জিয়া, হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এরা কিন্তু ঐ পাড় থেকে আসা মানুষ। তাদের বংশধরদের কথাই বললেন নাকি? তাইতো দেখছি এদের অনুসারীও সাম্প্রদায়িক চিন্তা অধিকারী হয়। 

  10. ১০
    বুড়ো শালিক

    @ মিঃ সিং

    আপনি যদি দেখেন ভারতে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা যে হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুসলমানরাই সেটা শুরু করে। যেমন কিছুকাল আগে যে দাঙ্গা হয় একটা ট্রেনে মুসলমানরা প্রথমে আগুন দিয়ে শুরু করেছিল তারপর হিন্দুরা মুসলমানদের ওপর ব্যপকভাবে আক্রমন করে, এখানে শুরুটা করেছিল মুসলমানই।

     
    অসাধারণ! তার মানে আপনি বলতে চাইছেন, আপনার ভাষায় 'মুসলিমরা' ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয়ার কারণে গুজরাটে হিন্দুরা যে মুসলিমদের অন্তস্বত্তা মায়ের পেট কেটে ভ্রূণ বের করে পুড়িয়ে মেরেছে, মেয়েদের স্তন কেটে তা দিয়ে ফুটবল খেলেছে, সেসব জায়েজ?! তা তো তারা "একটু রেগে গিয়ে করতেই পারে"! ভাগ্যিস, আপনি বাংলাদেশে 'সংখ্যালঘু'! 'সংখ্যাগুরু' হলে আপনি যে কী করতেন, আল্লাহ মালুম! আপনার জন্য ফেইসবুকের এক মেমের ভাষায় বলতে হয়, "Go home, you are drunk!" আর মতিকণ্ঠের ভাষায়, "আপনি অদ্ভুদ!"
     

    মুসলমানদের এরকম অনাহুত ঘটনা দেখে বাল থ্যকারে রেগে গিয়ে বলতেই পারে ওকথা।

     
    যেকোনো অবস্থায় বাল থ্যাকারেকে সমর্থন জানানো আসলে সমর্থনকারীর উগ্র সাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার বহিপ্রকাশ ছাড়া কিছুই না। আসলে কী জানেন, ল্যাঞ্জা থাকলে বের হবেই হবে। শত চেষ্টা করেও আপনি সেই ল্যাঞ্জা ঢাকতে পারবেন না। বাংলা ব্লগের এই কথাটা একটা চিরন্তন সত্যি কথা, "ল্যাঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড!" কথাটা কেন এসেছে জানেন? ছাগলের লেজ দেখেছেন কখনো? এটা সাধারণত উপরের দিকে উঠে থাকে [ছবি দ্রষ্টব্য]।  ছোটবেলায় কুরবানির খাসির ক্ষেত্রে অনেক বার চেষ্টা করেছি, লেজটাকে হাত দিয়ে নামিয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু কিছুতেই নামতো না। নামালেই আবার উঠে পড়ে। তো আপনি এই কথার মাধ্যমে আপনার উগ্র সাম্প্রদায়িক ফড়ফড়ানি ল্যাঞ্জা বের করে দিয়েছেন। নেক্সট টাইম, আরেকটু রয়ে সয়ে, ঠিকাছে?
    ল্যাঞ্জা

    1. ১০.১
      রনবীর সিং

       বাজে কথা বলা ও আজে বাজে যুক্তি দেয়াই আপনাদের কাজ ? আমি বলেছি গুজরাটে যে দাঙ্গা হয়েছিল সেটা হিন্দুরা নয় , মুসলমানরাই প্রথম বাধিয়েছিল। ২৭ শে ফেব্রুয়ারী'২০০২ তারিখে গোধরাতে সবরমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে একদল উসৃংখল মুসলমান আক্রমন করে ও তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় যাতে ৫৮ জন মানুষ মারা যায়। এ ঘটনার ফলশ্রুতিতে গুজরাটে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
      সূত্র:http://en.wikipedia.org/wiki/2002_Gujarat_violence
      হিন্দু প্রধান দেশে মুসলমানরা একটা ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মানুষ মারার পর সেখানে কি হিন্দুরা চুপ থাকবে? আর একবার দাঙ্গা শুরু হলে কি কারও হুশ থাকে? তখন আর কেউ মায়ের পেটের শিশুর কথা ভাবে ? কি সব উদ্ভট কথা বলছেন? আপনি যদি ভারতে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা দেখেন দেখবেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুসলমানরাই তার উস্কানি দাতা বা তারাই প্রথম শুরু করে। ইসলামি জঙ্গী জোশ তাদের এতটাই মারাত্মক যে তারা মনে করে সেটা করলে বিরাট বীর হিসাবে আখ্যায়িত হবে। বার বার এভাবে মুসলমানরা সেখানে গন্ডগোল গ্যঞ্জাম করবে , আর এর পরে ওদের নেতা তো বলতেই পারে – সব মুসলমানকে ভারত থেকে খেদিয়ে দেয়ার কথা। অন্তত: তার এ ধরনের উগ্র কথা বলার পিছনে একটা কারন বিদ্যমান।  পক্ষান্তরে বাংলাদেশে কি হিন্দুরা আপনাদের মুসলমানকের কোন বাড়ী বা মসজিদ আক্রমন করেছে আগে যে আপনারা বাঘের মত হুংকার দিয়ে হিন্দুদের বাড়ী ঘর উপাসনালয়ে আক্রমন করলেন। আপনার বক্তব্য অনুযায়ী হোক সেটা রাজনৈতিক, কিন্তু এটা কোন ধরনের কথা যে সম্পূর্ন বিনা কারনে বিনা উস্কানিতে আপনারা নিরীহ হিন্দুদের বাড়ী ঘর উপাসনালয় আক্রমন করবেন ? তারপরেও যারা আ্ক্রমন করেছে তারা তো বলেছেই – বাংলাদেশ থেকে চলে যেতে। কেন হিন্দুরা কি অপরাধ করল যে তাদেরকে বাপ দাদার ভিটা ছেড়ে চলে যেতে হবে ? এখন কল্পনা করুন, হিন্দুরা যদি প্রায়ই নানা রকম গন্ডগোল ফ্যাসাদ তৈরী করত যেটা মুসলমানরা প্রায়ই ভারতে করে থাকে , আপনারা কি করতেন হিন্দুদের সাথে ? কি বলতেন তাদেরকে ? বাল থ্যকারে তো শুধুমাত্র বলেছে, আর আপনারা করে সেটা দেখাতেন। কোন কিছুই ছাড়া যা দেখিয়ে চলেছেন, কিছু করলে তো কি করতেন তা কল্পনা করতেও শিউরে উঠতে হয়। 
      এই একবিংশ শতাব্দিতে এ ধরনের বর্বতা বা অসভ্যতা কাউকে মানায় না। সুতরাং এসব সময় থাকতে বাদ দিন।

      1. ১০.১.১
        বুড়ো শালিক
        হিন্দু প্রধান দেশে মুসলমানরা একটা ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মানুষ মারার পর সেখানে কি হিন্দুরা চুপ থাকবে? আর একবার দাঙ্গা শুরু হলে কি কারও হুশ থাকে? তখন আর কেউ মায়ের পেটের শিশুর কথা ভাবে ?

         
        ল্যাঞ্জা সামলে দাদা! এভাবে কইলে যে লোকে নিন্দে করবে গা!
         
        তো দাদা, এই পোস্টে তো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথাই বলা হয়েছে, তাই না? এখানে আপনার এতো জ্বলুনি-পড়ুনি কেন বলুন দিকিনি?!

        1. ১০.১.১.১
          রনবীর সিং

          তো দাদা, এই পোস্টে তো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথাই বলা হয়েছে, তাই না? এখানে আপনার এতো জ্বলুনি-পড়ুনি কেন বলুন দিকিনি?!

          সত্য কথা বললেই ল্যঞ্জা বেরিয়ে পড়ে ? শব্দ কি এই একটাই জানেন নাকি ?
          সম্প্রীতির কথা মুখে বললে হবে ? আর আমার আসল প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেলে কি হবে ? গুজরাটে কারা দাঙ্গা আাগে বাধিয়েছিল ? হিন্দুরা নাকি মুসলমানরা ? এ প্রশ্ন থেকে সরে গেলে তো চলবে না দাদা। মারামারি কাটাকাটি বাধাবেন আপনারা , আর সেটাও বাধাবেন আপনাদের ধর্মের নামে , এর প্রতিরোধ করতে গেলেই দোষ দিয়ে দেবেন প্রতিরোধ কারীর ওপর, এ ধরনের কাঁচা খেলা কি এ যুগে চলে ? সেটা মোহাম্মদের যুগে ভাল কাজ দিত কিন্তু এ যুগে নয়। হিন্দুরা বাংলাদেশে কার পাকা ধানে মই দিয়েছে শুনি ? বার বার একই প্রশ্ন করার পরেও কেন উত্তর নেই ?
          খালি মুখে মুখে সম্প্রীতির কথা বললে হবে ? যারা আল্লাহু আকবর বলে হিন্দুদের বাড়ী ঘরে মন্দিরে ঝাপিয়ে পড়ে সেটা কি শুধুই রাজনৈতিক? ধর্মের সাথে কোনই সংস্রব নেই ? এ ধরনের সস্তা কথা বললে এযুগে কেউ বিশ্বাস করবে ? বাংলাদেশে প্রতি বছর যে হাজার হাজার ওয়াজ মাহফিল হয়, কখনো সেখানে গিয়ে দেখেছেন কি বলে তারা ? সেখানে বক্তারা নানা কায়দায় ভিন্ন ধর্ম ও মানুষদেরকে চুড়ান্ত অপমান , গঞ্জনা আর বিশ্রি ভাষায় গালাগালি করে। ইসলাম যদি এতই শান্তির ধর্ম হয় আর অন্য ধর্মের প্রতি সহন শীল হয় তো ওয়াজে যারা এ ধরনের ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করে ,তারা সেগুলো কি বানিয়ে বানিয়ে করে নাকি তা কোরান হাদিস থেকেই করে ? এভাবে শাক দিয়ে আর কতদিন মাছ ঢাকবেন ? একবার চিন্তা করুন , আপনারা যেভাবে জিহাদী জোশে অমুসলিমদের ওপর ঝাপিয়ে পড়েন এই এক বিংশ শতাব্দিতে , ঠিক একই কায়দায় আপনাদের দেখানো পথে যদি অমুসলিমরা আপনাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে তাহলে কি ঘটবে ? ভাবছেন সেটা কোন দিন হবে না , তাই না ? আপনাদের এ ধারনাটাই ভুল। কারন মানুষের সহ্যের একটা সীমা আছে। সারা দুনিয়ায় আপনারা ইসলামের নামে যে বিশৃংখলা , সন্ত্রাসী কান্ড করছেন তাতে সারা দুনিয়ার মানুষের ধৈর্য কিন্তু আস্তে আস্তে কমে আসছে। দুনিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখুন , কথাটা সত্য কি না। সুতরাং নিজেদের স্বার্থেই ভদ্র ও সভ্য হয়ে যাওয়া দরকার দাদা।
           

          1. বুড়ো শালিক

            আপনি যে একটা গণ্ডমূর্খ, সেটা বারবার আপনার কথায় ফুটে উঠছে। আর এটাও ফুটে উঠছে যে আপনার সম্বল কেবল একটা অনেক লম্বা, ভেজা স্যাঁতসেঁতে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা সুতি কাপড়ের ত্যানা। এবার তাহলে লাইনে আসেন। আলোচনা করি। পিছলাইলে গদাম দেয়া হবে।
             

            মারামারি কাটাকাটি বাধাবেন আপনারা , আর সেটাও বাধাবেন আপনাদের ধর্মের নামে

             

            আপনারা যেভাবে জিহাদী জোশে অমুসলিমদের ওপর ঝাপিয়ে পড়েন এই এক বিংশ শতাব্দিতে , ঠিক একই কায়দায় আপনাদের দেখানো পথে যদি অমুসলিমরা আপনাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে তাহলে কি ঘটবে ?

             

            সারা দুনিয়ায় আপনারা ইসলামের নামে যে বিশৃংখলা , সন্ত্রাসী কান্ড করছেন তাতে সারা দুনিয়ার মানুষের ধৈর্য কিন্তু আস্তে আস্তে কমে আসছে।

             
            এখানে আপনার সাথে কথা বলছেন ব্লগার আহমেদ শরীফ আর বলছি আমি। কাজেই, আপনারা শব্দটা আমাদের ঘাড়ে বর্তায়। এখন আপনি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাবেন, কোথায় আমি বা আহমেদ মারামারি কাটাকাটি বাঁধিয়েছি। যদি প্রমাণ দেখাতে না পারেন, তাহলে এখানে নাকে খত দেবেন ও ক্ষমা চাইবেন। আর যদি আপনারা বলতে আপনি মুসলিম সম্প্রদায়কে বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে এরকম চরম সাম্প্রদায়িক স্টেরিওটাইপিং করার জন্য ক্ষমা চাইবেন।
             
            আমার পোস্টের প্রসঙ্গ গুজরাট না। প্রসঙ্গ বাংলাদেশ। অতএব, বাংলাদেশে থাকেন। আপনি নিজেই ভারতে চলে যাচ্ছেন বারবার। টেনে ধরে দেশে নিয়া আসছি। বুঝতে পেরেছেন? আর আপনার ঘটে যদি সামান্য পরিমাণ ঘিলু থাকতো, তাহলে বুঝতে পারতেন, এই পোস্টে হিন্দুদের পক্ষে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে কথা বলে হয়েছে।
             
            এই পোস্টে সাম্প্রদায়িক অশান্তির সমালোচনা করা হয়েছে। কোন জায়গায় দাঙ্গা বাঁধলে কোন অবস্থাতেই পোস্টের লেখক বা কমেন্টকারীর উপর তার দায়ভার বর্তায় না। এতোটুকু বোঝার বুদ্ধি না থাকলে স্কুল পাস দেন আগে। এখন আপনি উপরে আমার করা তিনটা প্রশ্নের জবাব দিবেন। তা না হলে ব্যক্তিগত আক্রমণের দায়ে আপনি সদালাপের কোন নীতি লঙ্ঘন করছেন কিনা, তা দেখার জন্য অ্যাডমিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

          2. নির্ভীক আস্তিক

            @রনবির সিং
             

            সম্প্রীতির কথা মুখে বললে হবে ? আর আমার আসল প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেলে কি হবে ? গুজরাটে কারা দাঙ্গা আাগে বাধিয়েছিল ? হিন্দুরা নাকি মুসলমানরা ? এ প্রশ্ন থেকে সরে গেলে তো চলবে না দাদা। মারামারি কাটাকাটি বাধাবেন আপনারা , আর সেটাও বাধাবেন আপনাদের ধর্মের নামে , এর প্রতিরোধ করতে গেলেই দোষ দিয়ে দেবেন প্রতিরোধ কারীর ওপর, এ ধরনের কাঁচা খেলা কি এ যুগে চলে ? সেটা মোহাম্মদের যুগে ভাল কাজ দিত কিন্তু এ যুগে নয়।
             

            আপনি কেবল ২০০২ এর গুজরাট ঘটনা দেখবেন কেন ?  ১৯৯২ সালের ভিসাব হিন্দু পরিষদ এর ইন্ধনে ঘটা হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা, ১৯৮৪ তে হাশিমপুরের ৪২ মুসলিম গনহত্যার ঘটনা, ১৯৮২ সালে হিন্দুদের  Anti-Shikh মুভমেন্ট দেখবেন না ?  কোনকিছু কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের লোক মস্তানি করে করতে চাইলেই পুরো সম্প্রদায়ের উপর আক্রমন রীতিসিদ্ধ হয়ে যায় না।  গেল বছর এই বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া দিনাজপুরে কিছু মস্তান হিন্দু মুসলমানদের নিজস্ব জমিতে মসজিদ বানাতে বাধা দিয়েছে, কিন্তু তার প্রতিউত্তর স্বরূপ অই অঞ্চল এর উগ্র মুসলমানদের দ্বারা ৩০ টি নিরপরাধ হিন্দুদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করা রীতিসিদ্ধ হয়ে যায়নি।  তাই আমরা মুসলমানরাই তার সমালোচনা করেছি, তাদের শাস্তির দাবি করেছি যার উদাহারন এই পোস্ট, আরো দেখুন এখানে-
            http://www.shodalap.org/zia1307/13834

            কিন্তু আপনি নিজে হিন্দু হয়ে উগ্র হিন্দুদের প্রতি সাফাই গাইছেন এবং উগ্র হিন্দুদের কাজ আর তাদের প্রতি আপনার এই সাফাই গীতার দর্শন অনুযায়ী রীতিসিদ্ধ কিনা বললে পরে মস্তকে জ্বালা পোরা বেরে যাবে সহস্র গুন।

            আপনি যদি ইসলাম আর মুহাম্মদের আদর্শ বুঝতে উগ্র মুসলমানদের Act বুঝেন, তাহলে আমাদেরো হিন্দুত্ব বলতে বর্ণবাদী এবং উগ্র হিন্দুদের Act,  নাস্তিক্য বলতে দুনিয়া থেকে ১০০ মিলিয়ন মানুষ কে উধাও করে দেয়া, সমকামিতা আচার্যের আর বর্ণবাদের প্রতি সাফাই গাওয়া মৌলবাদী নাস্তিকদের Act হিসেবে বুঝতে সমস্যা হবে না। পৃথিবীটা গোল আর আমরা বৃত্তাকার ভূমির উপর দাড়িয়ে। কেন্দ্রে আসা অনেক কঠিন।

            নীচে আহমেদ শরীফ ভাইয়ের মন্তব্যের একটি অংশ আবারো একটু আপনাকে চেখে দেখার আমন্ত্রণ রইল-
             

            কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি না করে বরং আসুন রাজনীতিবিদদের ভরসায় বসে না থেকে আমরা ঐক্যমত্য গড়ে তুলে 'সাধারণ নাগরিক' কে নিয়েই প্রতিরোধ গড়ে তুলি। 'সাম্প্রদায়িকতা' র বিষবৃক্ষ উৎপাটনে সচেষ্ট হই, এ ব্যাপারে এখনো অনেক কাজ করার আছে, কাজ না করে পরষ্পর দোষারোপের বস্তাপচা সংষ্কৃতি কোন সুফল বয়ে আনতে পারবে না।
             

      2. ১০.১.২
        আহমেদ শরীফ

        আমি প্রকৃত চিত্রটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি কিন্তু সংক্ষুদ্ধ থাকার কারণে, অথবা ইচ্ছাকৃত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একই বিষোদগারে একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি বার বার করে যাচ্ছেন এবং বক্তব্যে অন্তহীন নালিশই শুধু পুনরুক্ত হচ্ছে, যেখানে আমি সমস্যার উৎস-প্রকৃতি নির্ধারণ এবং করণীয় সমাধানের দিকনির্দেশ করেছি।

         
        উগ্র সাম্প্রদায়িকতা উপমহাদেশের একটা অভিশাপ এবং এটা ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে সারা উপমহাদেশ জুড়েই আছে। আমাদের এখানে জামাত-বিএনপি যারা 'মুসলিম জাতিয়তাবাদ' এর কথা বলে তাদের অতি উৎসাহী কিছু অনুসারীদের দ্বারাই এসব সংগঠিতভাবে সংঘটিত হয় যা এক ধরণের 'রাজনৈতিক অপসংষ্কৃতি' এবং এসবের বিরুদ্ধে সার্বজনীন প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। সেজন্যে ইসলামের সমালোচনা না করে কায়েমী স্বার্থরক্ষাকারী ধর্মব্যবসায়ী ওইসব রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে যারা এসবের নীরব প্রশ্রয়দাতা ও পৃষ্ঠপোষক।

        বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে বা হচ্ছে সেটা সুনির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট কিছু হিসেবনিকেশের বহিঃপ্রকাশ। এসবের প্রতিবাদ হয় নি সেটা ভুল দেশজুড়েই প্রতিবাদ হয়েছে, হচ্ছে। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ যারাই হোক 'সাধারণ মানুষ' এর অত্যাচার-নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশের জনগণ সবসময়ই সোচ্চার।তবে আগেই যেমন বলেছি শুধু 'প্রতিবাদ' এ কিচ্ছু হবে না এখন প্রয়োজন শক্তভাবে 'প্রতিরোধ'। সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মুসলিম জনতাকে এগিয়ে এসে সম্মিলিত দূর্বার অসাম্প্রদায়িক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সেজন্যে এখন সচেতনতা সৃষ্টিতে এগিয়ে আসতে হবে। সঙ্গে সরকার যদি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে 'দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের কিছু উদাহারণ সৃষ্টি করে তাহলে সর্বস্তরের প্রতিরোধ 'লৌহ যবনিকা'য় রুপ নেবে।

         
        যে কোন দূর্যোগ-গন্ডগোল-গোলযোগের সময় দেখা যায় সবার অলক্ষ্যে কিছু 'সুযোগসন্ধানী' 'স্বার্থান্বেষী মহল' চুপচাপ নিজেদের সেইসব এজেন্ডা-মিশন বাস্তবায়নে তৎপর হয়, যেসব এজেন্ডা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তারা সেভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে না, যেভাবে 'ঘোলাপানিতে মাছ শিকার' এর মত ঘোলাটে পরিস্থিতিতে পারে। নিজেদের মিশন-এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার নেশায় মত্ত হয়ে তারা বৃহত্তর জনস্বার্থ-জাতিস্বার্থ জলাঞ্জলি দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। পেশাদার ইসলামবিদ্বেষীরা গণজাগরণ মঞ্চের ১২টা বাজিয়েও এখনো নিরস্ত হয় নি পুরোপুরি, ঘৃণার চাষাবাদ করেই চলেছে, যার কিছু আভাস এই ব্লগেও দৃশ্যমান। বিভিন্ন ব্লগে এখনো ছদ্মনামের আড়ালে থেকে হুংকার-আস্ফালন করে যাচ্ছে কিছু কিছু লোক, 'আসল নামধারী' অগ্রদূতদের সামনে বিপদের সম্ভাবনা বর্ধিত হচ্ছে তার তোয়াক্কা না করেই, এদের কৃতকর্মের ফলে মূল বৃহত্তর আন্দোলন যে আজ আঁতুড়ঘরে মরতে বসেছে সে খেয়াল রাখার সময় বা ফুরসত তাদের নেই।
         
        স্পষ্টভাবে বলার পরও যদি না বোঝেন তাহলে কিছু করার নেই। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি না করে বরং আসুন রাজনীতিবিদদের ভরসায় বসে না থেকে আমরা ঐক্যমত্য গড়ে তুলে 'সাধারণ নাগরিক' কে নিয়েই প্রতিরোধ গড়ে তুলি। 'সাম্প্রদায়িকতা' র বিষবৃক্ষ উৎপাটনে সচেষ্ট হই, এ ব্যাপারে এখনো অনেক কাজ করার আছে, কাজ না করে পরষ্পর দোষারোপের বস্তাপচা সংষ্কৃতি কোন সুফল বয়ে আনতে পারবে না।

  11. ১১
    রাজদরবার

    আমি রণবীর সিংয়ের কথার তীব্র প্রতিবাদ করছি। 
    আমেরিকার খৃস্টানদের কেউ সেখানকার আদিবাসীদের উত্তরসূরী বলবে না, রেড ইন্ডিয়ানদের উত্তরসূরী বলবে না। তারা আমেরিকাকে শাসন করেছে মাত্র তিনশ বছর।
     
    সেখানে ভারতকে আটশ বছর ধরে শাসন করা মুসলিমদের হিন্দুদের বংশধর বলাটা নির্লজ্জ মিথ্যাচার । হিন্দুরা আমাদের পূর্বপুরুষ নয়, আমাদের পূর্বপুরুষদের গোলাম ছিল মাত্র।

    1. ১১.১
      নির্ভীক আস্তিক

      হিন্দুরা আমাদের পূর্বপুরুষ নয়, আমাদের পূর্বপুরুষদের গোলাম ছিল মাত্র।

      ধিরে বলেন, ধিরে। গোলাম ছিল এই শব্দ ব্যবহারের অর্থ কি ? ব্লগ জগতে হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষি মনোভাব নিয়ে আজে বাজে মন্তব্য করার লোকের কম নেই। আপনি মুসলমান হয়ে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন অথচ যাচ্ছেতাই ভাবে অযাচিত ভাষা ব্যবহার করছেন। মুসলমানদের ব্যাপারে গোলামি করার উদাহরন কি টানা যাবে না ? শব্দ ব্যবহারে সচেতন হোন। অন্যরা আপনার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্য করলেও আপনি-আমি সভ্য হয়ে থাকলে সেই একি কদর্য ভূমিকায় অংশগ্রহন করতে পারি না। আর কোরানের আদেশ অনুযায়ীতো নয়ই ।

      1. ১১.১.১
        বুড়ো শালিক

        হ, আপনে এই কথার প্রতিবাদ করলেও ভবঘুরে সিংএর মনে হইবো আপনে উগ্র মুসলিম। আপনেই গুজরাটে ট্রেনে আগুন দিছিলেন। যতোসব আজাইরা উদ্ভট রামছাগলের দল। এইসব কুযুক্তিওয়ালা পাবলিকের সাথে আসলে কথা কইতে যাওয়াই বৃথা। দেখেন না উপরে? চিবি দিয়া ধরার পরে পিছলাইছে?!

      2. ১১.১.২
        রাজদরবার

        আপনাদের লুতুপুতু ভাব দেখে ব্লগীয় হিন্দুরা বড়ই আহ্লাদিত হয় আর দ্বিগুণ তিনগুণ উৎসাহে মুসলিমদের ইতিহাস ঐতিহ্যের বিকৃতিসাধনের প্রচেষ্টায় হায়েনার মত ঝাপিয়ে পড়ে।

        একটি বিষয় কি জানেন? সেটা হল ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের হিন্দু রাজাদের উৎখাত করে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেখানে আগে থেকেই বৈদিক নিয়মের প্রচলন ছিল। কিন্তু বাঙালি হিন্দুদের কাহিনী আলাদা, কারণ বাঙালি জাতিগতভাবেই বেদবিরোধী। হিন্দুধর্ম এখানে সেনরাজারা চাপিয়ে দিয়েছিল, উত্তরভারত থেকে কিছু পাচাটা ব্রাহ্মণ আমদানি করেছিল হিন্দুধর্মের প্রচারপ্রসারের জন্য। সেই সেনরাজারা ছিল অবাঙালি। সেই মাথা নত করা ব্রাহ্মণ আর কিছু নিচুজাতের হিন্দুর উত্তরপুরুষ বর্তমান বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়। অর্থাৎ বাঙালি হিন্দুর  জন্মই হয়েছে প্রজা হিসেবে। অদ্যবধি তারা প্রজা হিসেবেই রয়েছে। বাঙলার নিরঙ্কুশ শাসন তাদের ভাগ্যে কখনো জোটেনি কারণ তাদের গায়ে রাজার রক্ত নেই।

        শুধু তাই নয়, ইতিহাসের পরিক্রমায় শুধুমাত্র একাত্তর বাদে সর্বদা তারা ভিনজাতির সামনে মাথা নত করেছে, বাংলার স্বাধীনতার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। পলাশীর প্রান্তর, সিপাহী বিদ্রোহ, বঙ্গভঙ্গ, সাতচল্লিশ; সবজায়গায় বাঙালি হিন্দু পূর্ববঙ্গের স্বার্থের বিরোধিতা করেছে। শুধুমাত্র একাত্তর বাদে।

        এজন্য তারা একাত্তরের প্রসঙ্গ সর্বদা সামনে আনতে চায় তাদের অন্যান্য রেকর্ড ধামাচাপা দেয়ার জন্য।
        এজন্যই আমি এদের বলেছি গোলাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।