«

»

মার্চ ২৩

লালন উৎসব ও আধ্যাত্মিকতা

সকাল বেলা চলে এলাম কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে হানিফের টিকিট নিলাম। বাংলাদেশের সবকিছুর দাম লাফে লাফে বাড়তেছে। আগে মানুষ ডাকাতি করত ধারালো অস্ত্র, আগ্নেয়াস্রর মাধ্যমে। এখন সময়ের পরিবর্তনের সাথে ডাকাতির ধরনও পরিবর্তন হয়েছে। জিনিষপত্রের দাম বাড়িয়ে, ভেজাল জিনিষ দিয়ে, ওজনে কম দিয়ে, যাতায়তের লাগামহীন ভাড়া বাড়িয়ে, কৃত্তিম নম্র কথার মাধ্যমে, কলমের মাধ্যমে…… ডাকাতি করে যাচ্ছে। জনগনের মাল যেমন লোটপাট হচ্ছে, তেমনি নিজেরাও আছে নিরাপদে।  দেশ ভদ্র ডাকাত ও প্রতারকে ভর্তি। কল্যাণপুর থেকে বাস ছাড়ল সকাল ১০ টায়  আর কুষ্টিয়ায় পৌঁছালাম বিকেল ৪ টায়। হানিফ কাউন্টারের পাশের হোটেলে একটা রুম ভাড়া নিলাম। লালন উৎসব উপলক্ষে হোটেলগুলো বাড়তি ব্যবসা করাটাই স্বাভাবিক। গোসল সেরে আসরের নামাজ শেষ করে, মেলার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরলাম। খুব বেশী দূর নয়। ১৫ মিনিটে রিক্সায় চড়ে চলে এলাম লালনের মাজারে। প্রচুর মানুষের সমাগম। রকমারি মিষ্টান্ন খাবার, ফার্নিচারের দোকান, শাড়ি-লুঙ্গি-কাপড়ের দোকান, কম্বলের দোকান… সব পিছনে ফেলে সামনে এগুলাম। লালনের মঞ্ছ পেলাম। মঞ্ছ সুন্দর করে সাজানো কিন্তু কোন লোক নেই মঞ্ছে।  মঞ্ছের বাম পাশে প্রায় ২৫০/৩০০ লোক। ৭/৮ জন করে গ্রুপ করে বসা। কল্কির মাধ্যমে গাঁজা সেবন চলছে। গাঁজা সেবনের ধরন ছিল অদ্ভুদ।  এই সেবনকারীদের পাশেই বসা পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাব বাহিনী। বোঝা গেল এখানে গাঁজা সেবন বৈধ। একজনকে জিজ্ঞেস করে লালনের মাজারের অবস্থান জেনে ওইদিকে এগুলাম। কৌতুহল বশত জিজ্ঞেসা করি, এখানে কি এইভাবে সবসময় গাজা সেবন চলে? দাঁত বের করে আনন্দময় হাসি দিলেন আর বললেন, আসর এখনো শুরু হয়নি, আসর শুরু হবে রাত ১১-টার পর। ১১-টা পরের আসর দেখার কৌতুহল অনুভব করলাম।   প্রধান ফটক পার হওয়ার পর দেখতে পেলাম প্রচুর খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়া ছড়ানো-ছিটানো। মানুষের পায়ের যাতাকলে  পিষ্ট হয়ে খাবারগুলোর এই অবস্থা। সামনে যাওয়ার পর পেলাম একটা জটলা। ২৫/৩০ জন মানুষ গোল হয়ে কিছু একটা দেখছে। আমিও কাছে গিয়ে উকি দিলাম।একজন লম্বা দাঁড়ি ও চুলওয়ালা লোক দাঁত দিয়ে মুরগী ছিলে কাঁচা মাংস খাচ্ছে, এই দৃশ্য দেখছে সবাই। দেখার পর পেট মোচর দিয়ে উঠল। ফটকের  বাম পাশ থেকে শুরু করি।  বিশাল গানের আসর। প্রায় ২০০ লোক হবে, ওই আসরে ২/৩ জন বিদেশী লোকও দেখলাম, ইংলিশ বলে মনে হল, তারাও গান উপভোগ করছে। তার পাশে খাবার তৈরি হচ্ছে অনেক বিশাল আকারের পাতিলে। পাতিলের সংখ্যা অনেক। তবে খাবারের পরিবেশটি স্বাস্থ্যসম্মত মনে হয়নি।  সামনে এগুতে থাকলাম। ১৫/২০ জন করে গ্রুপ। কোন কোন গ্রুপে গান হচ্ছে আবার কোনটার সবাই ঘুমুচ্ছেন। ঘুমানোর গ্রুপে কয়েকজন বেহুশের মত ঘুমুচ্ছেন, তার মুরিদ যন্ত্রের মত শরীর, হাত, পা টিপে যাচ্ছে।  কেউ কেউ ঘুমাচ্ছেন এবং বসে আছেন উলঙ্গ, অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায়। মেয়ে, মহিলা, শিশু তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন, আফ্রিকার জংগল-সহ গোপনাংগ সব দেখা যাচ্ছে,  তাদের কোন  অনুভুতি নেই। সব সাধু নামধারীদের কমন হল লম্বা চুল, লম্বা দাঁড়ি, এক রঙের (বিশেষ করে কমলা রঙ) লুঙি-পাঞ্জাবী আর হাতে জলন্ত সিগারেট।

এবার লালনের মাজারে দৃষ্টি দিলাম। বিশাল লাইন নিয়ে পুরুষ-মহিলা  দাড়িয়ে আছে ভেতরে যাওয়ার জন্য। পুরুষ-মহিলা ঠেসাঠেসি করে সম্মুখভাগ-পশ্চাতভাগ লাগিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, যা দেখতে দৃষ্টিকটু লাগছে। অত্যান্ত আদবের সহিত তারা ভিতরে গমন করছে, চুমু খাচ্ছে, হাত তুলে দোয়া করছে, হাত দিয়ে কবর ছুয়ে নিজের মাথা থেকে শুরু করে বুক, পেট মুখমণ্ডল অর্থাৎ হাত যতটুকু পর্যন্ত পৌঁছে ততটুকু পর্যন্ত ঘষাঘষি করছে। ঘষাঘষি শেষে মুখমণ্ডল সামনে রেখে পিছন দিক দিয়ে হেঁটে আসে। এটা ‘বাবা’-র প্রতি আদব।

এই অসুস্থ পরিবেশ দেখে খারাপ লাগা শুরু করল। যেই উদ্দেশ্যে এখানে আসা সেটা অনেকটা বিফলে যাচ্ছে। যেই সব সাধু সন্নাসিরা বসে আছে, তাদের সাথে কিভাবে কথা বলি? যদি কোন কথা তাদের মতের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে বিপদ। বিপদ না সেটা হবে মহাবিপদ। জান নিয়ে ফিরা মুশকিল হবে।

অনেক ঘুরাঘুরি করে একজনকে সুবিধাজনক মনে হল কথা বলার। গম্ভীর, কথাবার্তায় ভাল। তার কাছে গিয়ে বসলাম। শুরু করলাম কথাপোকথন।

          আমিঃ লালন কি প্রচার করে গেছেন?

           সেঃ নিজকে চিনা।

          আমিঃ সেটা কিভাবে করেছেন?

          সেঃ আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে।

          আমিঃ আত্মশুদ্ধি বলতে কি বুঝায়?

          সেঃ নিজের আত্মাকে পবিত্র করা।

          সেঃ  এই যে আপনি খাচ্ছেন, মজা করছেন সেটাই। আপনি কার জন্য করছেন?

          আমিঃ আমি আমার প্রয়োজনের জন্য করছি।

          সেঃ মুচকি হাঁসি। শব্দ নেই।

পাশের আরেকজন সাধু আমাদের কথায় যোগ দিলেন। কথা শুরু করলেন।

          আমিঃ লালন কি ধর্ম পালন করতেন?

          তারাঃ মানব ধর্ম।

          আমিঃ আপনারা কি একই ধর্মের অনুসারি?

          তারাঃ হ্যাঁ।

          আমিঃ আমাকে বলুন, লালনের শিক্ষায় কি আদর্শ রয়েছে?

          তারাঃ  আপনাকে পীর ধরতে হবে?

          আমিঃ পীর ছাড়া কি শিক্ষা নেওয়ার কোন উপায় নেই।

          তারাঃ না।  

          আমিঃ আপনারা কি কোরআন মানেন?

          তারাঃ হ্যাঁ, মানি।

          আমিঃ কোরানে কোথায় বলা আছে, পীর ধরতে হবে

          তারাঃ কোরানে বলা আছে, আল্লাহ-র রজ্জু তোমরা শক্ত করে ধর। রজ্জু হচ্ছে বাইয়াত। হযরত মোহাম্মদ (স) আল্লাহর কাছে গিয়ে বাইয়াত গ্রহন             করেছেন। তিনি শিক্ষা দিয়ে গেছেন তাঁর মুরিদদের। এই ভাবেই সকল মুরিদেরাই পীরের কাছ থেকে সবাই বাইয়াত গ্রহন করেছেন।    

         আমিঃ কোরআনের কোথাও পীর ধরতে হবে, এমন কথা বলা নেই। রজ্জু(৩:১০৩) বলতে কোরআন বুঝানো হয়েছে, বাইয়াত নয়। আর হেদায়েত আল্লাহর          ব্যপার। আল্লাহ কাকে হেদায়েত করবেন শুধু তিনি জানেন।  আল্লাহ বলেছেন ২৯:৬৯, ৯৬:১৯ কিভাবে আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া যাবে। কোন পীর            হেদায়েত করতে পারেন, এমন কোন দলিল তো পাই নাই। ইমাম গাজ্জালি তাঁর ‘কিমিয়াত সাদাকাত’ বইতে আরও স্পষ্ট করেছেন। ‘পীর’ হচ্ছে স্বয়ং আল্লাহ। কোন মানুষ কখনও পূর্ণাঙ্গ পীর হতে পারে না। গাজ্জালি আরও বলে গেছেন, ‘বিনা উস্তাদে নিজ সাধনার মাধ্যমে যে জ্ঞ্যান অর্জন করা যায়, তা পীর হতে প্রাপ্ত জ্ঞ্যানের চেয়েও অনেক অনেক বেশী’।

(পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইনি। জিজ্ঞেষ করিনি নবি(স) আল্লাহর কাছে বাইয়াত গ্রহন করেছেন কোথায় পেলেন)

তারাঃ  মুচকি হাঁসি।

আমিঃ আপনারা কি জন্মান্তরে বিশ্বাস করেন?

তারাঃ হ্যাঁ।

আমিঃ কেন?

তারাঃ আপনি আপনার ইচ্ছায় এখানে এসেছেন। পূর্ব জন্মে আপনার মুক্তি হয়নি। আপনি যখন পবিত্রতার সাথে পাপমুক্ত জীবনযাপন করবেন সাথে নিজের পরম আত্মার সান্নিধ্য তৈরি করতে পারবেন, তবেই আপনার মুক্তি। বেহেস্ত বা দোযখ বলে কিছু নেই। পরম আত্মার সাথে মিলিত হওয়াই মূল লক্ষ্য।

জিব্রাইল(আঃ) নবি(স)-র কাছে আসলেন, জিজ্ঞেষ করলেন, তুমি কি আল্লাহকে দেখেছ? বলল, না। নবি(স) বললেন, তুমি যাও পর্দা উঠিয়ে দেখে এস। জিব্রাইল গেলেন গিয়ে দেখলেন যে, পৃথিবীতে নবি(স) যে ভাবে পাগড়ী বাঁধতে দেখেছেন ঠিক সেই একই নবি(স) পর্দার ভিতরে পাগড়ী বাধতেছেন।  অর্থাৎ পৃথিবীর নবি(স) আর উপরের আল্লাহ একই।

(কথা শুনার পর ধৈর্য হারিয়ে ফেললাম। আমার কথা বলার  উদ্দেশ্যই ব্যর্থ।)

          আমিঃ আত্মাকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করেন?

          তারাঃ আত্মা ১৮টি তক্তায় বিভক্ত।   

          আমিঃ তক্তা কি জিনিষ?

          তারাঃ বাবার ৪, মার ৪, আল্লাহর ১০ এই হল ১৮। এই ১৮টি নিয়ে মানব আত্মা গঠিত। পীরগন আত্মাকে বিভক্ত করেন না। তাই তারা সংসার    করেন না। সন্তান উৎপাদন করেন না।  ‘বাবা’-রা সব সময় জীবিত। তারা সব জায়গাতেই ঘরাফেরা  করে।

          আমিঃ  মারেফতের গোপনে কি আছে? পীর কি শিক্ষা দেয়?

          তারাঃ আবার মুসকি হাঁসি। আপনাকে পীর ধরতে হবে, নয়তো আপনি জ্ঞ্যান পাবেন না।

          আমিঃ প্রতিটি মানুষ যখন পরম আত্মার সাথে মিলিত হয়, তখন সে ২-টা “আমি”-কে একসাথে দেখতে পায়। পৃথিবীর আমি অর্থাৎ এই যে আমি           খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি, পরিবারের সাথে ভালবাসা, দয়া, মায়া শেয়ার করছি, চাকুরী করছি, বাস্তবতার তিতা গ্রহন করছি এটা পুরুটাই আপেক্ষিক এবং             বিভ্রান্তি। আর পরম আত্মাটাই হল আসল  ‘আমি’। আর এই ২ আমির মাঝে রয়েছে মাঠ। আর এই মাঠেই সবাই সবার মত খেলা করে যাচ্ছে।             স্বামী বিবিকানন্দ ‘ঈশ্বর’-কে পেয়ে গেছি বলে লাফাচ্ছে, বৌদ্ধদেব 'তরি' বাজাচ্ছে, কেউ মূর্তি পূজা আবিষ্কার করছে, লালন গান গাইতেছে, কেউ             নিজেকে আল্লাহ বলতেছে, কেউ নিজেকে ইমাম মেহেদী দাবি করতেছে……। অর্থাৎ যে যেভাবে এই মাঠের ভিতরে খেলা করতেছে, সে সেভাবেই           নিজেকে নিয়া ভাবতেছে।

         তারাঃ তারা দুজনেই মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

(তাদের মাথে নেড়ে আমাকে সম্মতি জানানোতে বিস্মিত হলাম। তারা আমার কথা কি বুঝল? ভেবেছিলাম হয়ত আক্রমনের শিকার হব, কিন্তু তা হল না)

আমিঃ মানুষ যখন পরম আত্মার সাথে মিলিত হয়, তখন তাঁর পঞ্চ ইন্দ্রিয় কাজ করে না। তাঁর অনুভুতি থাকে না। সে যে শরীরের ভিতরে আবদ্ধ থাকে সে তা বুঝতে পারে না। কারন, ওই স্তরটি কোন টাইম এবং স্পেস ডাইমেনশনে থাকে না। পরম আত্মার সাথে যখন মিলিত হয়, মানুষের অন্তরে এমন শান্তি অনুভব হয়, তা একমাত্র স্বর্গতুল্য। পৃথিবীর যিনি এই স্বাদ গ্রহন করেছে, সে অবশ্যই আর কখনই এই পৃথিবীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করবে না। কিন্তু তাকে জীবন ধারন করতে হবে। সংসার করতে হবে। কর্ম করতে হবে, এটাই বিশাল এক সত্য। এক সত্যকে আরেক সত্যের পর্দা দিয়ে ঢেকে আছে। আর সব কিছু করতে হবে নবি(স)-র দেখানো পথ অনুসারে। নয়তো ‘সিরাতুল মুস্তকিম’ পাওয়া যাবে না। আর ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’-ই একমাত্র গ্রহণযোগ্য আল্লাহর রাস্তা। আর ইহা অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নঃ কেন একমাত্র নবি(স)-ই সত্য নবী? বাকি সব কেন মিথ্যা?  এই প্রশ্নের উত্তর নিজের ভিতরের সত্যের প্লাটফর্ম থেকে বের করতে হবে। কারন “সত্য” এবং “জ্ঞ্যান” সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেকের ভিতরে স্থাপন করে দিয়েছেন। যার ইচ্ছা সত্যকে নিজে নিজের বিবেকের কাছে প্রতিষ্ঠিত করুক।  

আসর থেকে উঠে এলাম। তাদের ধন্যবাদ জানাই যে, উনারা নম্রভাবে কথা বলেছেন। উগ্র মুসলিম নামধারী দাঁড়ি-টুপি ওয়ালা এক শ্রেনীর উগ্র মোল্লাদের মত বাড়াবাড়ি করেনি। নিজ থেকে কিছু বলার ইচ্ছে ছিল না কিন্তু তারা নবিজি(স)-কেও মানে আবার হিন্দু ধর্ম বুকে ধারন করে আছে। রাসুল ও আল্লাহকে এক করে ‘নুরে মুহাম্মদী’ বানিয়ে শিরকে লিপ্ত। তাই পরম আত্মা সম্পর্কে ২টি কথা তাদের সাথে শেয়ার করলাম। তাদের সাথে কথাকোপনের আরও কিছু কথা হয়ত উল্লেখ করত পারিনি। মাগরিবের নামাজের পর হোটেল ফিরে এলাম। বিশ্রাম নিয়ে রাত ১০-টার বাসে ঢাকা চলে এলাম।  

 

৫ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    লালন একটা পরিষ্কার কাফের এবং তাকে যারা অনুসরণ করবে তারাও কাফের।খালি গাঁজা খেয়ে নেশা করা আর উলঙ্গ চলাফেরা করাকে মানবধর্ম বলে প্রচার করা-বাহ কী সুন্দর!এগুলোকে শুধু লাঠিপেটা করা উচিত।লালনের মাজার হচ্ছে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় গাঁজার আসর। 

     

    বাউলতন্ত্রের মূলনীতি সম্পর্কে জানলে তো আপনার গা গুলিয়ে উঠবে।এরা মানুষের বীর্য এবং রজঃস্রাবের রক্ত খাওয়াকে স্বাভাবিক মনে করে।বাউলতন্ত্র মানেই হচ্ছে অবাধ যৌনতা।সেখানে কোনো বাছবিচার নেই।এরা হচ্ছে শয়তানের উপাসক।  

     

    শেষ প্যারায় আপনার কথাগুলো ক্লিয়ার করে অবস্থান পরিষ্কার করেন। 

  2. Najibullah

    আল্লাহ পাকের নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম বা জীবনব্যাবস্থা হলো ইসলাম, আমাদের বাঙ্গাল নাস্তিকরা নাক-চোখের পানি এক করে সারাদিন এ ইসলাম এর বিরুদ্ধে খিস্তি খেউড় করলেও তারা কিন্তু লালন/বাউল দর্শনকে অপার্থিব পূণ্যময় পূজনীয় হিসেবে ঈমান রাখে, তাই আসুন আমরা তাদের এ পরম ভক্তিমুলক বাউল দর্শনকে একটু জেনে নেই।

    সাঁই শব্দটি স্বামী শব্দের অপভ্রংশ। যেমন হিন্দুরা তাদের একটি উপাধি গোস্বামীকে গোসাঁই বলে ডাকে। স্বামী শব্দের অর্থ গুরু, প্রভু ইত্যাদি। অশিক্ষিত এবং ইতর জীবনাচরণে অভ্যস্ত বাউলরা লালনকে সাঁই বলে ডাকে। কিন্তু লালনকে ভদ্রসমাজে সুফী দরবেশ হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টায় রয়েছে একটি গোষ্ঠী। তারা লালনের নামের শেষে ‘শাহ’ লাগিয়ে দিয়েছে, যে শব্দ মুবারক মুসলিমরা তাদের পীর সাহেব উনাকে সম্বোধন করতে ব্যবহার করে।

    বাউল মতবাদ সহজিয়া বৈষ্ণব মতবাদ থেকে এসেছে। বাউলরা এরকম জীবনযাপন করেও। লালন যে কাজটা করেছিল, তা হলো ছূফী কবিতায় ইশারা করার যে বিষয়টি, সেটি সে তার গান লেখায় ব্যবহার করে। সে ইসলামী শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে দেহতত্ত্বের বিষয়গুলো ইশারা করেছে। ইসলামী ভাবধারায় সে সহজিয়া বৈষ্ণব মতকে উপস্থাপন করেছে। ফলে ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ কথাটি দ্বারা মুসলমানরা বিভ্রান্ত হয়, কারণ গানের বিষয়টি আদৌ আখিরাত সম্পর্কিত নয়। এই বিভ্রান্ত হওয়াটা থেকে মুসলমানদের দূরে থাকতে হবে।

    তার গানে যে ‘আল্লাহ’ ‘রাসূল’ শব্দের উল্লেখ রয়েছে, তা সে খুব কদর্য্য অর্থে ব্যবহার করেছে। কারণ সহজিয়া বা দেহতত্ত্বে দেহই সবকিছু। এটাকে খুশি রাখতে পরকীয়া তো কিছুই নয়। এবং এই দেহের সৃষ্টি হলো পুরুষের স্খলিত তরলের উসীলায়। ওটাকেই তারা বলে সৃষ্টিকর্তা। তারা বলে থাকে, বীজমে আল্লাহ (নাউযুবিল্লাহ), বাউল গবেষক ডক্টর উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য বাউলধর্ম সম্পর্কে বলেছে, “বাউলগণ পুরুষদের বীজরূপী সত্ত্বাকে ঈশ্বর বলে। বাউলদের মতে এই বীজসত্ত্বা বা ঈশ্বররস ভোক্তা, লীলাময় ও কাম ক্রীড়াশীল।”

    পশুরা তাদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী চালিত হয়ে থাকে। আর দেহতত্ত্বে বিশ্বাস স্থাপনকারী বাউলরা, কতগুলো সমাজচ্যুত পশু ব্যতীত কিছু নয়। মুসলমানদে কে এদের থেকে সাবধান থাকা উচিত।

    বাউল সম্প্রদায়ের গুরু হল লালন। লালনের কিছু কিছু গানে আল্লাহরাসূল প্রভৃতি শব্দ থাকায় অনেকে লালন ও তার অনুসারী বাউলদের অনৈসলামিক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। মুসলমানরা যখন লালনের অনুসারী বাউলদের অসামাজিক কাজের বিরোধিতা করে তখন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের গুটিকয়েক সমাজচ্যুত বাউলদের জন্য সইতে হয় সাম্প্রদায়িকতার অপবাদ। যারা বাউলদের পক্ষাবলম্বন করছে তারা কি জানে বাউল তত্ত্বের উদ্দেশ্য কি? বাউল নামটি এসেছে বা’ল বা হোবল দেবতার নাম হতে। এবং বাউল তত্ত্বের বাইরে হল ইসলামের ভেক বা ছদ্মবেশ, ভেতরে রয়েছে রাধাকৃষ্ণের কাহিনীনির্ভর বৈষ্ণব বা সহজিয়া মতবাদ। গুরুরতি সাধন করা বা গুরুর মলমূত্র বীর্য রজঃপান বাউলমতে দীক্ষা নেয়ার প্রথম ধাপ(নাউযুবিল্লাহ)। লালনের অধিকাংশ গান রাধাকৃষ্ণ দেহসাধনা নিয়ে লেখা, দু একটি গানে ইসলামের কথা যা আছে তাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইসলামের জন্য অবমাননাকর। হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে আমাদের দেশে একটি গুজব রয়েছে আর তা হল তিনি প্রথম জীবনে ছিলেন ডাকাত, পরে আউলিয়া হন। কিন্তু কথাটি সর্বৈব মিথ্যা। তিনি ছিলেন আওলাদে রাসূল মাদারজাদ ওলীআল্লাহ, উনার যামানার মুজাদ্দিদ। আর এ গুজবের হোতা হল লালন তথা বাউল সম্প্রদায়। লালনের গানে আছে

    নিজাম নামের বাটপার সেতো পাপেতে ডুবিয়া রইত

    তার মনে সুমতি দিলে,কুমতি তার গেল চলে

    আউলিয়া নাম খাতায় লিখিলে, জানা গেল এই রহমই

    বাউলতত্ত্ব বইতে রয়েছে ““ব্রাহ্মণ্য, শৈব ও বৌদ্ধ সহজিয়া মতের সমবায়ে গড়ে উঠেছে একটি মিশ্র মত। যার নাম নাথপন্থা। দেহতাত্ত্বিক সাধনাই এদের লক্ষ্য। (নাথপন্থা এবং সহজিয়া) এ দুটো সম্প্রদায়ের লোক একসময় ইসলাম ও বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়, কিন্তু পুরনো বিশ্বাস-সংস্কার বর্জন করা সম্ভব হয়নি বলেই ইসলাম ও বৈষ্ণব ধর্মের আওতায় থেকেও এরা পুরনো প্রথায় ধর্ম সাধনা করে চলে”

    বস্তুতঃ বাউলরা হল মুসলমানের ছদ্মবেশে হিন্দু বৈষ্ণব, যারা মুসলমানের ঈমান কেড়ে নিতে চায়। তারা আল্লাহরাসূলের কথা বলে পুরোন প্রথা তথা রাধাকৃষ্ণের দেহতত্ত্বের সাধনা করে। যবনলালন মুসলমানদের প্রতি কীরূপ মনোভাব পোষণ করতো তা কিন্তু তার গানেই রয়েছে। লালন তার গানে সাধারণত কখনোই মুসলমানদের মুসলমান বলে সম্বোধন করতোনা, করতো যবন বলে(নাউযুবিল্লাহ)। সে হিন্দুদের হিন্দু বলত, বৌদ্ধদের বৌদ্ধ বলত, খ্রিস্টানদের বলত খ্রিস্টান। কিন্তু এক মুসলমানকে সর্বদা বলত যবন। এ অবমাননাকর উপাধি সর্বদাই সে মুসলমানদের জন্যই ব্যবহার করতো, অন্য কারো জন্য নয়। যেমন লালনসমগ্র(আবদেল মাননান,প্রকাশক নালন্দা) এর স্থুলদেশ অধ্যায়ের ৩৮ নম্বর গানে রয়েছে

    জাত বলিতে কি হয় বিধান

    হিন্দু যবন বৌদ্ধ খৃস্টান

    এরকম আরো বহু গান রয়েছে যার উদ্ধৃতি দিলে লেখার কলেবর বেড়ে চলবে। সে তার সাঁই বা যাকে মুর্শিদ মানতো তাকেও যবন বলতো। কারণ তার মুর্শিদের নাম ছিল সিরাজ সাঁই, সে ছিল মুসলমান ঘরের সন্তান। তার গানে (স্থূলদেশ ৫২ নং)রয়েছে

    ভক্তের দ্বারে বাঁধা আছে সাঁই

    হিন্দু কি যবন বলে

    জাতের বিচার নাই

    অর্থাৎ লালনকে যতই অসাম্প্রদায়িক প্রমাণের চেষ্টা গন্ডমূর্খরা করুক না কেন, সে কিন্তু এমন একটি মতবাদ প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছে যেখানে মুসলমান তো বটেই এমনকি মুসলমান সাঁইকেও হতে হয় অপমানিত। লালনের যে গানটিকে(স্থুলদেশ ৩৫ নং) পুঁজি করে লালনভক্তরা তাকে অসাম্প্রদায়িক প্রমাণের চেষ্টা চালায় তা হলো

    এমন মানব সমাজ কবে গো সৃজন হবে

    যে দিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খৃস্টান

    জাতিগোত্র নাহি রবে

    এ গানটিতেই কেবল মুসলমান শব্দের দেখা মেলে, কিন্তু কখন? যখন মুসলমান জাতির বিনাশ কামনা করা হয়! নাউযুবিল্লাহ। লালনের কোন গানে মুসলমানকে মুসলমান বলার সম্মানটুকু দেয়া হয় নাই। যাও একবার বলা হয়েছে, তাও ধ্বংস কামনা করে। চৈতন্যদেবের মত বৈষ্ণব(হিন্দুধর্মের একটি ফেরকা) ধর্মপ্রচারকের যে স্বভাব তার পুরোটাই লালনের মধ্যে ছিল। চৈতন্যদেব বৈষ্ণবমত গ্রহণকারী মুসলমান ঘরের মুরতাদকেও যবন বলে হিন্দুদের তুলনায় নিকৃষ্ট গণ্য করতে ছাড়তো না, তাদের মত গ্রহণ করলেও তাদের অন্তর্ভূক্ত গণ্য করত না। অর্থাৎ তারা যতই উদারতার ভেক ধরুক না কেন তাদের অন্তর গরলে পরিপূর্ণ। উল্লেখ্য লালন নিজেও ছিল চৈতন্যদেবের অনুসারী। প্রত্যেক বৈষ্ণবধর্মপ্রচারকের স্তুতি লালনের গানে আছে। নিমাই, নিতাই, গৌর বা চৈতন্যদেব প্রত্যেকের ছানাছিফত সে করেছে। এবং এত বেশি করেছে যে লালনসমগ্র গ্রন্থে নিমাইলীলা, নিতাইলীলা, গৌরলীলা এ তিন ধর্মপ্রচারকের নামে তিনটি আলাদা আলাদা অধ্যায় রয়েছে। কিন্তু বাউলরা পাগড়ি পরে, দাড়ি রাখে, লুঙ্গি পরে। যা বৈষ্ণবরা করে না। পাগড়ি দাড়ি লুঙ্গির আড়ালে তারা বৈষ্ণবসাধনা করে।

    অর্থাৎ লালন কখনোই অসাম্প্রদায়িক নয়। সে হল দুরাচার যবন অনুপ্রবেশকারী, যে ইসলামের ভেক ধরে মুসলমানদের সর্বনাশ করতে উদগ্রীব থাকতো। শুধু তাই নয়, লালনের সাথে সুসম্পর্ক ছিল ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের, যে ঠাকুর পরিবারের সদস্য ইসলামবিদ্বেষী যবন রবীন্দ্রনাথ! যারা বাউল সম্প্রদায়ের ইতিহাস জানেন তারা অনেকেই মানবেন, এদেশের মুসলমানদের পথভ্রষ্টকারী যেসব মতবাদ ছিল তার মধ্যে বাউল মতবাদ অন্যতম। উনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে প্রায় সকল মুসলিম লেখকগণ মুসলমান সমাজে বাউল মতের বিধ্বংসী প্রভাব দেখে এ মতবাদের বিরুদ্ধে লিখে গিয়েছেন।

    কোলকাতার যবনরা আমাদের দেশে লালন মতবাদের প্রচারপ্রসারে উদগ্রীব। কিছুদিন আগেই কোলকাতার কিছু যবন এদেশে ‘মনের মানুষ’ নামে একটি সিনেমা করে গিয়েছে। এর কারণ লালন মতবাদ হল ইসলামের ছদ্মবেশে রাধাকৃষ্ণ তথা হিন্দুদের মতবাদ। এদেশে এখন ব্যান্ডসংগীতের নাম দিয়ে কৃষ্ণকীর্তন করা হয়। রাস্তাঘাটের গানের দোকান থেকে কৃষ্ণলীলার গান ভেসে আসে, যা এখন দেশের মানুষের কাছে দুঃখজনকভাবে স্বাভাবিক। এবার নববর্ষে চারুকলার শিক্ষার্থীরা ভার্সিটি এলাকার দেয়াল কৃষ্ণের ছবি দিয়ে ভরে ফেলেছে, যা কিছুদিন আগেও ছিল অকল্পনীয়। এদেশের সংবিধান সংস্কৃতি মানুষের চিন্তাচেতনা থেকে যারা ইসলামকে উঠিয়ে দিতে চায় তারা জানে, একদিনে এ মহাযজ্ঞ সম্ভব নয়। এজন্য তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, বাউল মতবাদের আড়ালে মুসলমানদের মনমগজে ঢুকিয়ে দিচ্ছে কৃষ্ণের অভিশপ্ত পরকীয়ার শিক্ষা। স্লো পয়জনিংয়ের মতো হিন্দুরা আমাদের মুসলমানিত্বকে আমাদের মধ্যে থেকে কেড়ে নিয়ে হিন্দুধর্মের দীক্ষা দিচ্ছে, কথিত সংস্কৃতির নামে। সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা মুনাফিকরাও তা চায়। এজন্য কিছুদিন আগেই এপ্রিল মাসে রাজবাড়ীর পাংশায় বাউলদের কথিত সাধুসঙ্গে তাদের চুলদাড়ি কেটে নেয়ার পরই সরকার তৎপর হয়ে উঠল। কথিত সুশীল সমাজ এবং লালনের গান গেয়ে জীবিকা অর্জনকারী ব্যান্ড গায়করা বিক্ষোভে ফেটে পড়ল। প্রথম আলোর মত সাম্প্রদায়িক ইসলামবিদ্বেষী পত্রিকাগুলো বাউলদের সপক্ষে লেখা শুরু করল। ফলশ্রুতিতে সরকার বাউলদের জন্য ৯৭ শতাংশ মুসলমানের টাকায় চালিত পুলিশ প্রশাসন দিয়ে পুনরায় বাউল গায়কদের সাধুসঙ্গের আয়োজন করল। অথচ চুলদাড়ি কেটে নিয়েছিল আওয়ামীলীগেরই তৃণমূল নেতাকর্মীরা, মিডিয়াকর্মীরাও কবুল করেছে বাউলদের অসামাজিক কার্যের বিরুদ্ধে মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে স্থানীয় লোকদেরও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। স্থানীয়রাই উদ্যোগী হয়ে বাউলদের জটাদাড়ি কেটে নিয়েছিল(সুন্নতী দাড়ি নয়), কারণ বাউল সম্পর্কে আরেকটি বিষয় হলো তারা গাঁজায় আসক্ত, যুবসমাজ থেকে তারা তাদের নিজেদের উত্তরসূরি বেছে নেয়। এজন্য তারা নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে বাউলদের জটা কেটে,দাড়ি সিনা পর্যন্ত কেটে ইমাম দিয়ে তওবা পড়িয়েছিল, যেন বাউলরা সৎপথে ফিরে আসে। কিন্তু সরকার আসল বাউলদের ত্রাণকর্তারূপে, আবারও বসল সাধুসঙ্গ। যারা সাধুসঙ্গ সম্পর্কে জানে তারা বলেছে, সাধুসঙ্গ হলো বাউলদের কুকর্মের আনুষ্ঠানিক মহাযজ্ঞ। অর্থাৎ তাদের নাপাক বস্তু ভক্ষণ এবং কৃষ্ণের অনুকরণে তারা যে অবাধ মেলামেশা করে তার আসর। সাধুসঙ্গে সকালে মাইকে গান হয়, রাতে সমস্ত বাতি নিভিয়ে হয় জেনার আসর।নাউযুবিল্লাহ।

    বাউল সম্প্রদায় সম্পর্কে যারা পড়াশোনা করেছেন তাদের কাছে প্রয়াত লেখক আহমদ শরীফের “বাউল তত্ত্ব” এবং লালন একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডক্টর আনোয়ারুল করিমের “বাংলাদেশের বাউল- সমাজ, সাহিত্য ও সংগীত” নামের বই দুটো খুবই পরিচিত। বাউল শব্দটির উৎস ও এই সম্প্রদায়ের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে ডক্টর আনোয়ারুল করিম তার বাংলাদেশের বাউল বইতে যা লিখেছেন তার সারাংশ হল, প্রাচীন প্যালেস্টাইন এর রাসসামরায় বা’আল নামের একজন প্রজনন দেবতার উপাসনা করা হতো। তৌরাত, ইঞ্জিল(বাইবেল), কোরান মজিদসহ সকল ধর্মগ্রন্থেই এই দেবতাকে তীব্র নিন্দা করা হয়েছে এবং তার উপাসনা থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মূলত বা’আল প্রজনন-দেবতা হওয়ায় মৈথুন বা যৌনাচার এই ধর্মের অঙ্গীভূত হয়ে পড়ে। এই বা’আল ধর্ম একসময় এ উপমদেশীয় অঞ্চলেও ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে এ অঞ্চলে ইসলামের সুফীবাদী মতবাদের প্রচার-প্রসার ঘটার পর সম্ভবত ইসলাম ও পৌত্তলিকতা উভয় মতবাদের সংমিশ্রণে একটি নতুন লোকধর্মের উদ্ভব ঘটেছিল যার উপরিভাগে ছিল মুসলিম সূফীবাদের প্রাধান্য, অভ্যন্তরে ছিল তন্ত্র ও যোগনির্ভর দেহজ সাধনা। তাই তার ধারণা মতে কালক্রমে এই বা’আল লোকধর্মই পরবর্তীতে বাউল লোকধর্মে পরিণত হয়েছে এবং লোকনিরুক্তি অনুসারে বাউল শব্দটি বা’আল>বাওল>বাউল এভাবে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে। (বা.বা পৃষ্ঠা ১৩৩-১৪৫) ডা. আহমদ শরীফ তার “বাউলতত্ত্ব” বইটিতে বাউল ধর্মমত সম্পর্কে বলেন, “ব্রাহ্মণ্য, শৈব ও বৌদ্ধ সহজিয়া মতের সমবায়ে গড়ে উথেছে একটি মিশ্রমত যার নাম নাথপন্থ। …দেহতাত্ত্বিক সাধনাই এদের লক্ষ্য। (নাথপ্নথ এবং সহজিয়া) এ দুটো সম্প্রদায়ের লোক একসময় ইসলাম ও বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়, কিন্তু পুরনো বিশ্বাস-সংস্কার বর্জন করা সম্ভব হয়নি বলেই ইসলাম ও বৈষ্ণব ধর্মের আওতায় থেকেও এরা পুরনো প্রথায় ধর্ম সাধনা করে চলে, তার ফলেই হিন্দু-মুসলমানের মিলিত বাউল মতের উদ্ভব। তাই হিন্দু গুরুর মুসলিম সাগরেদ বা মুসলিম গুরুর হিন্দু সাগরেদ গ্রহণে কোন বাধা নেই। তারা ব্রাহ্মণ্য ধর্ম ও শরিয়তী ইসলামের বেড়া ভেঙে নিজের মনের মত করে পথ তৈরি করে নিয়েছে। এজন্য তারা বলে,

    “কালী কৃষ্ণ গড খোদা/কোন নামে নাহি বাধা

    মন কালী কৃষ্ণ গড খোদা বলো রে।” (বাউলতত্ত্ব পৃঃ ৫৩-৫৪)।

    সাধারণ জনারণ্যে বাউলরা নাড়ার ফকির নামে পরিচিত। ‘নাড়া’ শব্দটির অর্থ হল শাখাহীন অর্থাৎ এদের কোন সন্তান হয়না। তারা নিজেদের হিন্দু মুসলমান কোনকিছু বলেই পরিচয় দেয়না। লালন শাহ ছিলেন বাউলদের গুরু। লালনকে বাউলরা দেবতা জ্ঞানে পূজা করে। তাই তার ‘ওরসে’ তাদের আগমন এবং ভক্তি অর্পণ বাউলদের ধর্মের অঙ্গ। (বা.বা পৃঃ ১৪) লালন শাহের অনুসারীদের একটি অংশ ১৯৮৬ সালের মার্চ মাসে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে একজন মুসলমান অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বাউল। আমাদের ধর্ম আলাদা। আমরা না-মুসলমান, না-হিন্দু। আমাদের নবী সাঁইজি লালন শাহ। তাঁর গান আমাদের ধর্মীয় শ্লোক। সাঁইজির মাজার আমাদের তীর্থভূমি।।…আমাদের গুরুই আমাদের রাসুল। …ডক্টর সাহেব [অর্থাৎ উক্ত মুসলিম অধ্যাপক] আমাদের তীর্থভূমিতে ঢুকে আমাদের ধর্মীয় কাজে বাধা দেন। কোরান তেলাওয়াত করেন, ইসলামের কথা বলেন… এ সবই আমাদের তীর্থভূমিতে আপত্তিকর। আমরা আলাদা একটি জাতি, আমাদের কালেমাও আলাদা –লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লালন রাসুলুল্লাহ।“ (দ্রঃ সুধীর চক্রবর্তী, ব্রাত্য লোকায়ত লালন, ২য় সংস্করণ, আগস্ট ১৯৯৮ পৃঃ ৪-৯৫)

    বাউল সাধনায় গুরুশ্রেষ্ঠকে ‘সাঁই’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাধনসঙ্গিনীকেও গুরু নামে অভিহিত করা হয়। মূলত সাধনসঙ্গিনীর সক্রিয় সাহায্য ব্যতীত সাধনায় সিদ্ধী লাভ করা যায় না। তাই তাকে ‘চেতন গুরু’ বলা হয়। বাউলরা বিশ্বাস করে গুরুর কোন মৃত্যু নেই। তিনি কেবল দেহরক্ষা করতে পারেন। তিনি চিরঞ্জীবী। বাউলরা মন্দিরে কিংবা মসজিদে যায়না। জুম্মার নামায, ঈদ এবং রোযাও পালন করেনা। তারা তাদের সঙ্গিনীকে জায়নামাজ নামে অভিহিত করে। বাউলরা মৃতদেহকে পোড়ায়না। এদের জানাজাও হয়না। হিন্দু মুসলমান নামের সব বাউলদের মধ্যেই এই রীতি। এরা সামাজিক বিবাহ বন্ধনকেও অস্বীকার করে। নারী-পুরুষের একত্রে অবাধ মেলামেশা এবং বসবাসকে দর্শন হিসেবে অনুসরণ করে। (বা.বা পৃঃ ১৫-১৭)

    বাউল সাধনা মূলত একটি আধ্যাত্বসাধনা, তবে যৌনাচার এই সাধনার অপরিহার্য অঙ্গ। ড. আহমদ শরীফের ভাষায় কামাচার বা মিথুনাত্বক যোগসাধনাই বাউল পদ্ধতি। বাউল সাধনায় পরকীয়া প্রেম এবং গাঁজা সেবন প্রচলিত। বাউলরা বিশ্বাস করে যে, কুমারী মেয়ের রজঃপান করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধক তৈরী হয়। তাই বাউলদের মধ্যে রজঃপান একটি সাধারন ঘটনা। এছাড়া, তারা রোগমুক্তির জন্য স্বীয় মুত্র ও স্তনদুগ্ধ পান করে। সর্বরোগ থেকে মুক্তির জন্য তারা মল, মুত্র, রজঃ ও বীর্য মিশ্রণে প্রেমভাজা নামক একপ্রকার পদার্থ তৈরি করে তা ভক্ষণ করে। একজন বাউলের একাধিক সেবাদাসী থাকে। এদের অধিকাংশই কমবয়সী মেয়ে। (বা.বা পৃ ৩৫০, ৩৮২)

    “আমরা বাউল। আমাদের ধর্ম আলাদা। আমরা না-মুসলমান, না-হিন্দু। আমাদের নবী সাঁইজি লালন শাহ। তাঁর গান আমাদের ধর্মীয় শ্লোক। সাঁইজির মাজার আমাদের তীর্থভূমি।।…আমাদের গুরুই আমাদের রাসুল। …ডক্টর সাহেব [অর্থাৎ উক্ত মুসলিম অধ্যাপক] আমাদের তীর্থভূমিতে ঢুকে আমাদের ধর্মীয় কাজে বাধা দেন। কোরান তেলাওয়াত করেন, ইসলামের কথা বলেন… এ সবই আমাদের তীর্থভূমিতে আপত্তিকর। আমরা আলাদা একটি জাতি, আমাদের কালেমাও আলাদা –লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লালন রাসুলুল্লাহ।“ (দ্রঃ সুধীর চক্রবর্তী, ব্রাত্য লোকায়ত লালন, ২য় সংস্করণ, আগস্ট ১৯৯৮ পৃঃ ৪-৯৫)

    1. ২.১
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      @Najibullah ভাই,

      আপনার দেওয়া বই ২ টি-র নাম পূর্বে পেলে হয়ত কষ্ট করে কুষ্টিয়া যেতে হত না। উম্মাদ শ্রেণীর মানুষ ছাড়া কেউ লালনভক্ত হয় না। আপনার এই মন্তব্ব্য থেকে অনেক কিছু জানতে পারলাম। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।   

    2. ২.২
      প্রশান্ত আত্মা

      Najibullah ভাই,

      আপনার মন্তব্যটা থেকে অনেক কিছু জানলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ 

  3. ibn zabir

    God is one.All nations like hindu.muslim,buddha etc are worshipping him.

Comments have been disabled.