«

»

ফেব্রু. ২৬

দেশ-সেবার নামে প্রতারনা

মানুষ কিভাবে কর্ম করে? কর্ম(আমলনামা) কোথা থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়? খুব সহজ প্রশ্ন। সকল মানুষ একমত, কর্ম নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্ক থেকে। শরীর ও পঞ্চইন্দ্রিয়সহ জীবনের সবকিছু মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করছে। মানুষের বুঝশক্তি/জ্ঞ্যান তাই বলে। বিজ্ঞানও তাই বলে। কিন্তু যারা আধ্যাত্মিক জ্ঞ্যানের অনুশীলন ও সাধনা করে, তাদের কাছে এই প্রশ্ন মোটেই সহজ নয় এবং তারা এই প্রশ্নের উত্তর সহজে দিতে চাইবে না। কারন, এর উত্তর অত্যান্ত জটিল। তবে আধ্যাত্মিক সাধকগন অনেকেই অনেকটা একমত, কর্ম নিয়ন্ত্রণ হয় “অন্তর” থেকে। এই অন্তরই ইহজীবনের সকল কর্মের চাবি। প্রত্যেক মানুষের মস্তিষ্ক – অন্তরের উপর দাঁড়িয়েই তার পূর্ন জীবন অতিবাহিত করে চলছে। এই মস্তিষ্ক কি ভঙ্গিমাতে এবং সময় নিয়ে অন্তরের বাহনের(দয়া, ভালবাসা, ঘৃণা, রাগ, লোভ, অহংকার…) উপর দাঁড়িয়ে থাকে, সেই ভঙ্গিমার উপর নির্ভর করেই তৈরী হয় “স্বভাব”। এই পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের ৭০০ কোটি মস্তিষ্ক নীজ নীজ অন্তরের উপর ৭০০ কোটি ভঙ্গিমাতে দাঁড়িয়ে আছে। একজনের ভঙ্গিমার সাথে অন্য জনের মিল নেই। আর এর জন্যই দুনিয়ার একজনের স্বভাবের সাথে অন্য কারো  মিলে না। আবার, মস্তিষ্ক সব সময় অন্তরের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে চায় না, সে বিশ্রাম চায়। মস্তিষ্ক যখনই অন্তরের সংস্পর্শ ছাড়ে, তখনই আমরা ঘুমের স্তরে চলে যাই। আবার মস্তিষ্ক যখন অন্তরের সংস্পর্শে আসে, তখন আমরা জাগ্রত হই অর্থাৎ দুনিয়ায় ফিরে আসি। যতসামান্য কথা যা বলা হয়েছে, তাও পূর্ন নয় – শুধু আবরনটা বলার চেষ্টা হয়েছে। এই বিষয়টি বিশাল এবং জটিল, আমরা আর আগাব না। বিষয় বস্তুতে ফিরে যাই।

 

পূর্বের দিনগুলোতে পরিবার, আত্মীয়স্বজনদের মাঝে শান্তিপুর্ন, সৌহার্দ সম্পর্ক সুন্দরতা প্রকাশ করত। দুঃখ-কষ্টের মাঝেও মানুষের মুখে শান্তিময় হাসি থাকত। বর্তমানে টেকনোলজির যুগে এই সুন্দরতা তেমন দেখতে পাওয়া যায় না। চারিদিকে ঘৃণা, বিদ্বেষ আর ঈর্ষার চাষ আর অনুশীলন। চারিদিকে কামড়াকামড়ি। কে কারে ঠকিয়ে উপরে উঠবে সেই প্রতিযোগীতা। সামাজিকতার জন্য মিল থাকলেও, একজন আরেকজনের দৃষ্টির আড়াল হলেই বিষাক্ত সর্প হয়ে উঠে। আসল চেহারা প্রকাশ হয় পৈতৃক সম্পদের বন্টনে। কেউ কাউকে অনু পরিমান ছাড় দিতে রাজি নয়। মুহুর্তেই ভাইবোনদের মাঝে দাউ-কুড়াল নিয়ে হাজির, একজন আরেকজনকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে তৎপর  হয়ে উঠে। অনেক পরিবার সদস্য সারাজীবনেও তারা নীজেদের একে-অপরের চেহারা দেখে না, কোর্টে মামলা-মোকাদ্দমা চলেতেই থাকে অথচ তারা নামাযী, হাজী, আল্লাহ্‌ওয়ালা। বার্ধক্যের দরুন এক পা কবরে চলে গেছে অথচ নীজের চাওয়া-পাওয়ার একটু কমতি হলে তাদের তর্জন-গর্জনে চারিদিক কাপিয়ে তুলে। এরা ৩২ আনা-কে ১৬ আনা বুঝে, অর্থাৎ ৩২ আনা দিলে তারা সেটাকে ১৬ আনা হিসেবে গননা করে। সময় আর সুযোগ পেলে তারাও হিটলার, চেঙ্গিস খান, হালাগু খা বা রামিসিস-টু হয়ে উঠত, তাতে সন্দেহ নেই।

 

গনতন্ত্র!!! গনতন্ত্র??? গনতন্ত্র জিনিষটা কি? বাংলাদেশে কত পারসেন্ট রাজনীতিবিদ পাওয়া যাবে যারা ‘গনতন্ত্র’-র মানে বুঝে? “গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাজনীতি করে”- এমন একজন রাজনীতিবিদ পাওয়া যাবে এই স্বাধীন বাংলায়? আছে কি? যারা নীজেকে দেশপ্রেমিক, গনতন্ত্র রক্ষাকারী, মানুষের জন্য রাজনীতি… এইসব দাবী করেন, নিঃসন্দেহে এটা তাদের মিথ্যা দাবী এবং খেয়াল-খুশী আর মনগড়া কথা। সত্যের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে কে আছেন এই চ্যেলেঞ্জের সামনে দাঁড়াবে? আছে কেউ? হক কথা বলার দরুন, যে কেউ যেকোন মুহুর্তে পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে যেতে পারে। যারা ক্ষমতার গদিতে বসেন, তারা মনে করেন এই বাংলাদেশ ও দেশের জনগন তাদের বাপ-দাদা-তালইদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। “সকল ক্ষমতার উৎস জনগন”- এই মিথ্যা তারা তাদের ঢাল স্বরুপ ব্যবহার করেন। ক্ষমতা তাদের, আইন তাদের, পুলিশ-র‍্যাব তাদের, জেল-জরিমানা তাদের, বন্দুক-কামান তাদের, সশস্র বাহিনী তাদের, এলাকার গুন্ডা-মাস্তান-মদমাইশ তাদের… এই পরিস্থিতিতে কিভাবে কথা হবে? জোর যার, মুলুক তার। জ্ঞ্যানী ব্যক্তিরা বলেন, “বাবা, চুপ থাক। এইসব বলতে নেই। হক কথা বললে তোমার জীবন মুহুর্তেই নাশ হয়ে যাবে। পুলিশ/র‍্যাব বা এলাকার সংসদ সদস্যের লোক দ্বারা তোমার জীবন হারাবে”।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ দেশের প্রতিটি সরকারী পোষ্টে নিয়োগ বানিজ্য। যারা ঘুষ দিয়ে পুলিশে চাকরী নেন, সে কেমন করে সৎ থাকে? শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা দেওয়া। LGED ভবনের চেয়ারটি সাউথ আফ্রিকার কিম্বারলীর ডায়মন্ড খনির চেয়েও বেশী মুল্যবান। নয়ত দলের মহাসচিব, সাধারণ সম্পাদকদের জন্য এই পদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগেই তার জন্য বরাদ্দ থাকে কি করে? পুলিশ ও র‍্যাব বাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্বে। তারা কর্তব্য-কর্মে কতটুকু আন্তরিক? এমন একজন পুলিশ বা র‍্যাব আছেন যিনি আচারন ও কথাবার্তায় সৎ, বিনয়ী এবং নম্র? আছে কি বাংলাদেশে? সকলকে দেখা যায়, রুক্ষ মেজাজ, উগ্রতা। তারা সরকারের এবং নীজেদের দাস এবং সেবক, জনগণের নয়। তারা নীজেদের মনে করে জনগনের প্রভূ, সেবক নয়। তাই এমন প্রভূত্ব এবং নোংরা আচরন, সর্বদা  হেয় করে কথা বলা। সংসদ সদস্যদের মেজাজের রুক্ষতা আরো ভয়ংকর এবং কঠিন। এদের বাপ-দাদারা কখনো ভদ্রতা, নম্রতার আচরন করেনি, শালীনতা ভজায় রেখে মানুষের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শিখেনি। সচিবেরা দেশের আসল মাথা। উনারাই দেশকে পরিচালিত করছেন। অনেক সচিবরা টাকার বিনিময়ে বা সুন্দরী মেয়ের সাথে রাত কাটানোর বিনিময়ে দেশ কার্য্যাদি পরিচালিত করেন, আর এই হলে দেশ ধ্বংসের দিকে যাওায়াই স্বাভাবিক, আর হচ্ছেও তাই। হাজার হাজার কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত হচ্ছে। কেন এত লোটপাট?  

 

সোমালিয়ার মুদ্রার নাম কি, কঙ্গোর রাজধানীর নাম কি? এই সব অবান্তর এবং বেকুবী প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে দেশের সচিব পদগুলো দখল থাকলে, দেশ কিভাবে উন্নত হওয়ার আশা করে? যিনি দেশপ্রধান তাকে অবশ্যই বুঝতে হবে, কোন কোন মানুষের মস্তিষ্ক কোন ভঙ্গিমাতে অন্তরের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। এই সূক্ষ্ম বিচক্ষন জ্ঞ্যান যদি দেশপ্রধানের না থাকে, তাহলে একটা দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুন তার থাকে না। তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হবেই। আমলা-মন্ত্রীদের মানবিকতা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম না থাকলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার আশা করা বোকামী ছাড়া আর কিছু নয়। একজন দেশপ্রধান কতটুকু সাফল্য দেখাতে পেরেছেন এই বিষয়ে?

 

দেশের মানুষের জীবন যাত্রার মান খুবই নিম্নমানের, খুবই কষ্টদায়ক। খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান মৌলিক প্রয়োজনটুকু মিটাতে কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। এই অনুভূতি এবং জ্ঞ্যান রাজনীতিবিদদের নেই। থাকলেও কোন পরোয়া নেই। “তুই মরলে আমার কি…”- এই হচ্ছে তাদের মন-মানসিকতা। মানুষের জীবন আর কলার খোসা তাদের কাছে একই জিনিষ। মীরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, উমিচাদ… ২৬০ বছর আগে এই বাংলাকে কিয়ামত পর্যন্ত প্রকৃতির “বিশ্বাসঘাতকতা”র কাছে বিক্রি করে গেছে। সাথে আরও কিছু দিয়েছেন চামচামি, লোটপাট, প্রতারনা… আর সাথে চিরতরে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন সবচেয়ে দামী জিনিষ, তা হল “লজ্জ্বাশীলতা”। এই বাঙালী জাতির লজ্জ্বা-শরম নাই। রাজনীতিবিদরা দেশের মানুষেদের সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ আর কর্তব্য-কর্মে বেঈমানী আর আমানত খিয়ানত করে চলছে প্রতি মুহুর্তেই। কারন রাজনীতিবিদদের অন্তরে লজ্জ্বা-শরম সম্পূর্নরুপে অনুপস্থিত। একজন দেশপ্রধান দেশের জন্য সাফল্য অর্জন করতে হলে, নিঃসন্দেহে তা হবে আমলা-মন্ত্রী-পুলিশসহ সকল মানুষদের অন্তরে ‘লজ্জ্বাশীলতা’ প্রতিষ্ঠা করা নয়ত তারা তাদের কর্তব্য-কর্মে কখনই আন্তরিকতা এবং সচেতন হবে না। আর বাংলাদেশের জন্য ইহাই হবে একজন দেশপ্রধানের সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য।

 

বাস্তবতা এতই কঠিন যে মানুষেরা এখন স্বার্থের জন্য নীজ রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে, নীজ রক্তকে অস্বীকার করে। কেউ কারো জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে চায় না, এমনকি এটা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও খুব লক্ষ্য করা যায়। এই লিখার দ্বিতীয় প্যার‍্যায় অল্প কিছু উল্লেখ করা হয়েছে। আর আমাদের দেশের রাজনীতিবিদগন দেশ ও দেশের মানুষদের “সেবা” করার জন্য নীজেদের মধ্যে, নীজেদের দলের মধ্যে, তারপর বিরুধী দলের মধ্যে কোন্দল, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, মারামারি, খুনাখুনিতে লিপ্ত। তারা সবাই সেবা করতে চায়। এই সেবা কোন “সেবা”? এই “সেবা”-র সংজ্ঞা কি? কেন তারা সেবা করতে চায়? রাজনীতিবিদ-দের এই প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে জনগনের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে হবে। 

১৪ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. এম_আহমদ

    ||এই বাঙালী জাতির লজ্জা-শরম নাই||

    ‘তেলের’ বিষয়টি জ্ঞাত। তবে আজ একটি “তৈলবৎ” শব্দ শিখে এলাম। এটি হল ‘মুজিবী শুভেচ্ছা’। তাই সবাইকে মুজিবী শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে মন্তব্যটি করছি।

    মানুষের জীবন দর্শন ভুল ব্যাখ্যার চালিত হলে তার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে যে চরম অনৈতিকতা প্রবেশ করতে পারে, তাকে পশু করে দিতে পারে, এই লেখাটি সেই উদাহরণ ও ব্যাখ্যা এনেছে। বস্তুতে প্রাণ নেই, বস্তুতান্ত্রিকতা অন্তঃসারশূন্য। মানুষ গরীব হয়েও মানুষ থাকতে পারে। প্রেম থাকতে পারে, ভালবাসা থাকতে পারে, মূল্যবোধ থাকতে পারে। কিন্তু ‘আত্মা’ হারালে সে মানুষ থাকে না। পশু হয়। নিরঙ্কুশ বস্তুর প্রাচুর্যে কেবল দোযখই সৃষ্টি হতে পারে। এক সময় মন্দ কাজ মন্দ বিবেচিত হত। ঘোষ বাম হাতের ব্যাপার ছিল। এখন ডান হাতের। ‘কারণ রাজনীতিবিদদের অন্তরে লজ্জা-শরম সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত।’ তবে আরও কারণ আছে।

    1. ১.১
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      আহমেদ ভাই, ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। লিখতে হলে, সুন্দর চিন্তা করতে হয় কিন্তু তা করিনি। পুলিশের কিছু চরম নোংরামির অভিজ্ঞতা হওয়ায়, এই লিখাটি হঠাৎ লিখে ফেললাম। আর হঠাৎ তাড়াতাড়ি লিখলে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইনফো মিস হয়ে যায়। ৭১-এ পাক বাহিনী যেভাবে আচরন করেছে, বর্তমান পুলিশদের আচরন সেই পর্যায়ে যাচ্ছে। 

      হা, শুধু লজ্জ্বাশীলতাই দায়ী নয়। আরো অনেক কিছুই ইহার সাথে জরিত। ঐ পয়েন্টগুলোও বলা দরকার ছিল। ইনশাআল্লাহ বলব পরে আরেক লিখায়।

      আপনাকে অনুরোধ করি আপনার মতামত জানানোর জন্য। ভাল থাকুন।

  2. মহিউদ্দিন

    ভাই আপনার লিখার জন্য ধন্যবাদ। আপনি বাস্তব সমস্যা তুলে ধরেছেন সে জন্য আপনাকে প্রশংসা করছি। আমার বিশ্বাস এ জাতীয় চিন্তাভাবনা আজ অনেকের মনেই জাগছে। কিন্তু সমস্যা হল এর থেকে মুক্তির উপায় কি সেটা ভাবতে হবে।
    তাই দেশ ও জাতী কিভাবে এই অনৈতিকতার গহ্বর থেকে বের হতে পারে তা নিয়ে কিছু বলার অনুরোধ রইল।

    1. ২.১
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      মহি ভাই, সালাম।

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ইনশাআল্লাহ সকল রাজনীতিবিদদের কলিজা ধরে টান দিব সময়মত। তাদের অন্তরে বসবাসরত শয়তান জনসম্মুখে প্রকাশ করব।

      মাত্র একজন দেশপ্রধান দক্ষিন কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালওয়েশিয়া-কে উন্নতের শিখরে নিয়ে গেছেন খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে। এইরকম সৎ, বিচক্ষন, জ্ঞ্যানী একজন দেশপ্রধান দরকার, বাংলাদেশ-কে সেই রকম দেশের মত উন্নত করতে।
       
      ২৬০ বছর যাবত আমরা বাঙালী জাতি শুধু নিম্নগামী হচ্ছি। পৃথিবীব্যাপী এই জাতি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাসের কাজ করে। আর কত কাল এই জাতি দাস হয়ে থাকবে?

      দোয়া এবং আশাকরি, আল্লাহ্‌ একটা উত্তম সমাধান দিবেন, পথ দেখাবেন।

  3. মোঃ তাজুল ইসলাম

    @সম্পাদক সাহেব,
    আসসালামু আলাইকুম। নামের পাশে (সম্পাদনা প্রকাশনা) কথাট কেন আসে? দয়াকরে এর কারন জানাবেন।
    ধন্যবাদ।

  4. মহিউদ্দিন

    @ তাজুল ইসলাম
    আপনি সাইটে লগইন থাকলে আপনার নিজের লিখার নামের পাশে (সম্পাদনা প্রকাশনা) কথাটা থাকে। লগ ইন না করে দেখেন।

    1. ৪.১
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      মহি ভাই, ধন্যবাদ।

  5. মোঃ জামিল উদ্দিন

    “তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইবনা কেন?” উক্তিটি প্রদানকারীর নাম ভুলে গেছি।
    খুব ইচ্ছা করে, কিন্তু আসলে কি ইচ্ছা করে? আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান বলে “হিংসা আর লোভ” না থাকলে হয়তো অনেকটা এগিয়ে থাকতাম।

  6. এম_আহমদ

    @তাজুল ইসলাম:
    তাজুল ভাই, একটি উপাদান ব্যাখ্যা করি। আমার শেষ বাক্যটি বক্তব্যের অলংকারমূলক একটি উপাদান। এর অর্থ এই নয় যে আপনার লেখাটি ‘কারণ’ উপস্থাপন করতে কমতি করেছে। মোটেই না। ‘আরও কারণ আছে’ বলতে এখানে উহ্যতায় অনুসন্ধিৎসু কৌতূহল রেখেছে। এভাবে ক্ষুদ্র কিছু দিয়ে প্রশস্ত কিছু বলে যাওয়া হয়।

    ৭১-এ পাক বাহিনী যেভাবে আচরণ করেছে, বর্তমান পুলিশদের আচরণ সেই পর্যায়ে যাচ্ছে (মন্তব্য)।

    ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ দেশের প্রতিটি সরকারী পোষ্টে নিয়োগ বানিজ্য। যারা ঘুষ দিয়ে পুলিশে চাকরী নেন, সে কেমন করে সৎ থাকে? শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা দেওয়া’ (ব্লগ)।

    ‘জোর যার, মুলুক তার। জ্ঞ্যানী ব্যক্তিরা বলেন, “বাবা, চুপ থাক। এইসব বলতে নেই। হক কথা বললে তোমার জীবন মুহুর্তেই নাশ হয়ে যাবে। পুলিশ/র‍্যাব বা এলাকার সংসদ সদস্যের লোক দ্বারা তোমার জীবন হারাবে’ (ব্লগ)।

    আজ আস্তে আস্তে হলেও বাস্তবতা দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। স্বাধীনতার পর হতে যে হাজার হাজার লোক হত্যা হচ্ছে, প্রতি বৎসর, প্রতি মাস, প্রতি দিন, এগুলোও একাত্তরের তুলনায় এসে যাচ্ছে। আসতেই হবে। এদের জীবনও কোনো জীবনের চাইতে কম হতে পারে না। এদের সন্তান-সন্তিনী, এদের পরিবার-পরিজনের উপর ফলিত প্রভাব -সবগুলো দেখতে হবে। এসব বস্তুতান্ত্রিকতার ফল। তারপর এই যে হাজার হাজার নারি ধর্ষিতা হয়, প্রতি বৎসর, প্রতি মাস, প্রতি সপ্তাহ, যখন এদের জীবন বিপন্ন হয়, যাদের পরিবার পরিজন কাঁদে, এগুলোও আসতে হবে। এদের সম্মান সম্ভ্রম কারো চাইতে কম নয়। তারপর নির্যাতন। তারপর পঙ্গু-করণ। তারপর … তারপর …। এসবও বস্তুতান্ত্রিকতার ফল। আজ একাত্তরের তুলনায় এগুলো আসতে হবে। তুলনাই অনেক বস্তু সুস্পষ্ট করে। এই তুলনা যত বেশি আসবে ততই বিভিন্ন শ্রেণীর মুখোশ উন্মোচিত হবে। কারা হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, নিপীড়নের উপর নির্বাক থাকে কিন্তু একাত্তর পেলেই সবাক হয় –এই সত্যটি ভেসে উঠবে। ঘটনা হোক একাত্তরের বা হাজার বছর আগের, অথবা পরের, কিন্তু এসবের সাথে জড়িত হচ্ছে “অন্তর্দৃষ্টি” হারানো বস্তুবাদ, উপভোগ অথবা জাহেলি আবেগ। লিখতে থাকুন। কথার ধারা বেয়ে কথা আসবে। তখন দেখা যাবে অনেক কারণের পিছনে ‘আরও কারণ আছে’ –সবকিছুতেই আছে “অন্তরের” কাহিনী।

    ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  7. মোঃ তাজুল ইসলাম

    শ্রদ্ধেয় পাঠক,
    লিখায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যার‍্যা সংযোজন করতে ভুলে গিয়েছিলাম। সেই প্যার‍্যা সংযুক্ত করে দেওয়া হল।
    ধন্যবাদ।

  8. মোঃ তাজুল ইসলাম

    বাংলাদেশে সময়ের পরিবর্তনে যে যখনই ক্ষমতার গদিতে বসুক, সবার চরিত্র এক, স্বভাব এক, কামনা এক। তাদের কারো নীতিতে কোন পার্থক্য নেই। সবাই “খাই-খাই” ধান্ধাবাজী। নিচের লিংক বর্তমান চিত্রের ছোট একটা নমুনা।

    http://m.prothom-alo.com/opinion/article/1095415/খুনোখুনির-রাজনীতি

  9. madhumangal saha

    Apnader des kintu ager thake anake valo

  10. ১০
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @Saha:
    ভাল না হয়ে যায় কোথায়? আজ না হয় কাল ভাল যে হতেই হবে। পরিবর্তনই প্রকৃতির খেলা।

    ভারত যুক্তরাষ্ট্র-কে প্রভু হিসেবে স্বীকার করেছে এই শর্তেই যে আশপাশের পাকিস্তান-সহ সকল রাষ্ট্র-র উপর খোদাগিরী করবে। কিন্তু সুবিধা করতে পারতেছে না। খোদ নেপাল-কেই ধরে সুবিধা করতে পারছে না। মীরজাফর & গ্যাং-দের কল্যানে এই বাংলাদেশের চামচামি, প্রতারনার দরজা খুলে আছে বিধায়, ভারত এই দেশ থেকে সুবিধা ভোগ করতেছে।

    today or tomorrow বাংলাদেশের উত্তর & পুর্ব 7 sisters ভারত থেকে আলাদা হবে। আলাদা হবে সাউথ ইন্ডিয়া(অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গা, কর্ণাটক, কেরেলা, তামিলনাড়ু)। সাউথ ইন্ডিয়ানরা কখনই নর্থ ইন্ডিয়ানদের পছন্দ করে না। ইতিহাস তারা ভুলে নাই। দক্ষিন ভারতীয়দের জ্ঞ্যাতি-গোষ্ঠী/স্বজনদের একটা বিরাট অংশ মালওয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরে। এই জাতির মনোনিবেশ সেই দিকে। তারা আলাদা হবে সময়ের ব্যবধানে। আলাদা হবে জম্মু & কাশ্মীর। তারপর ইষ্ট ইন্ডিয়া বাধ্য হবে ওয়েষ্ট ইন্ডিয়া থেকে আলাদা হবে কারন অত্যাচার আর শোষন সহ্য করা সহজ ব্যপার না। মোম্বাই-দিল্লীর অধিবাসীরা কলিকাতা অধিবাসীদের এখনই যথেষ্ট হেয় করে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে।

    যেই দেশের মানুষ মোট জনসংখ্যার ৩ ভাগের ১ ভাগ খোলা আকাশের নীচে প্রকৃতির কাজ সাড়ে, তারা খোদাগিরী করতে চায়। তাদের এই ভ্রম তাড়াতাড়ি কেটে যাবে।

    আপনাদের শুভ-বুদ্ধির উদয় হবে খুব শীঘ্রই।

  11. ১১
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @Saha,
    I deleted your comment. Next you will not allow to comment in my section. You are an arrogant and under age.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।