«

»

জানু. ৩১

প্রার্থনা মঞ্জুর

ভালবাসার গল্প শোনো, সত্যিকারের গল্প,
সত্যকথা হৃদয় কাড়ে যদিও তা হয় অল্প।
 গল্প শেখায় জীবন কি তা, জীবন হলেও স্বল্প,
এই পৃথিবীর সবার জীবন একেকটা এক গল্প;
শুনুন তবে বলি এবার সত্যিকারের গল্প।

সে ছিল এক এতিম শিশু রোগে শোকে দুষ্ট,
জীবন তাহার ছোট্ট থেকে তাহার প্রতি রুষ্ট।
 জন্ম পরে রোগের বাসা ধরে তাহার বক্ষ,
ব্যথায় শিশু কাতরে উঠে কাঁপায় বাড়ির কক্ষ ।
 দাদী তাহার বৃদ্ধা অতি, নয়তো অত শক্ত,
কাতরে ওঠা হাহাকারে চোখে জমে রক্ত।
 এতিম শিশুর কষ্ট দেখে অশ্রু আসে চক্ষে,
মনের মাঝে ভাবনা আসে জীবন কি তার পক্ষে?
বড় বড় চিকিৎসকে গিয়েও আশা নষ্ট,
এদিক শিশু বুকের ব্যথায় পাচ্ছে ভীষণ কষ্ট।
 চিকিৎসকে বলছে তারে দেখান ডক্টর ঈশানকে।
 আল্লাহ মহান তার ওসিলায় বাঁচান অনেক প্রাণকে।
 কিন্তু তাহার দেখা পাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য,
ছমাস আগে নাম লেখাতে সবাই যেন বাধ্য।
 এতিম শিশুর দিনে দিনে কষ্ট যেন বাড়ছে,
জীবন যেন মৃত্যুর সাথে বারেবারে হারছে।
 বৃদ্ধা দাদী কিই বা করে ধৈর্য্য ধরে আগায়,
দুঃখগুলো মনের মাঝে অশ্রুসাগর জাগায়।
 হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেল সেদিন,
বৃষ্টি এল, বজ্র এল রহম হয়ে যেদিন।
 বিমানখানা নামল তখন অচেনা এক গ্রামে,
বজ্র তখন বাজছে যেন পড়ছে বাড়ি ড্রামে।
 এমন জোরে বর্ষা এল বলা ভীষণ ভারি,
কিছু লোকে ছুটে গেল অচেনা এক বাড়ি।
 বয়স্ক এক বুড়ি মাতা দরজা খুলে দিল,
হাসিমুখে মানুষগুলো মেহমান করে নিল।
 নামাজ শেষে যখন তারা ফিরবে বিমান কাছে,
চোখ পড়িল একটি শিশু কাঁদছে তাদের পাছে।
 নামাজ পড়ে বৃদ্ধা মাতা এল তাদের পাশে,
এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসিল দারুণ দীর্ঘশ্বাসে।
 এই শিশুটি কাঁদছে কেন কি হয়েছে বলুন,
দেখছি আমি শিশুটিকে আমার সাথে চলুন।
 বৃদ্ধা দাদী অশ্রু ফেলে বলল সবই খুলে,
একটি চিকিৎসকই আছে এই দেশের এককূলে।
 সেই তো পারে এই শিশুকে দিতে সঠিক সেবা,
তিনি ছাড়া সঠিক ঔষধ দিবে তাকে কে বা?
লোকটি বলে নাম কি তাহার ওগো বুড়ি মাতা?
ঈশান তাহার নামটি বলে কাঁদছে চোখের পাতা।
 নামটি শুনে লোকটি অবাক, অশ্রু তারো চোখে,
কেঁদে বলে আমিই ঈশান, এসেছি তার দুঃখে।
 বুড়ি মাতা শুনে তখন পড়ল আকাশ থেকে,
উঠল তখন সকলজনে আল্লাহ বলে হেঁকে।
 বুড়ি মাতা কেঁদে বলেন করছি শুধুই দোয়া,
আল্লাহ তুমি দয়া করো, দাও গো প্রেমের ছোঁয়া।
 এই বিপদে সাহায্য দাও, বাঁচাও এতিম শিশু,
আর পারি না সইতে দেখে কষ্ট দিবানিশু।
 শুনে গায়ের লোমের কাটা উঠল খাড়া হয়ে,
দোয়াই তবে আজকে এল বৃষ্টি বাদল নিয়ে?
হঠাৎ করেই নীল আকাশে বজ্র তুফান এল?
এই শিশুটির জন্য আমায় বাসায় পৌছে দিল?
নামল বিমান আকাশ থেকে এই শিশুটির তরে?
অলৌকিক এক শক্তি আমায় নিল গাঁয়ের ঘরে?
আল্লাহ তিঁনি অতি মহান, সর্ব কাজের দ্রষ্টা,
চাইলে তিঁনি সবই পারেন, তিঁনি সবার স্রষ্টা।
 বাসেন তিঁনি অনেক ভাল সৃষ্টি তাঁহার যত,
সর্ব ডাকের জবাব দিবেন হলে অনুগত।

N.B: কবিতাটি একটা বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। ঘটনাটি আমি ভূবনবিখ্যাত স্কলার Mufti Ismail menk এর "Allah loves you" নামক লেকচার থেকে শুনেছি। ঘচনাটা শোনার পর আমি এত প্রভাবিত হয়েছি যে এই ঘটনাকে ঘিরে আমি দুটি কবিতা রচনা করেছি। এই ঘটনায় আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি কত দয়াময় তা চমৎকারভাবে ফুঁটে উঠেছে। আর তাঁর অসীম শক্তির প্রমাণ করছে। ঘটনাটি Menk, my favourite scholar, তার এক আরবের স্কলারের কাছ থেকে শুনেছেন। তিনি শুনেছেন সরাসরি Dr Eshan এর কাছ থেকে। আমি জানি না তিনি কে? তবে নেট ঘেটে দেখলাম Dr. Afshin Eshan নামে একজন বড় Cardiac আছেন। আমার মনে হয় উনিই সেই ব্যক্তি। তার ছবিটাও কবিতার সাথে পোস্ট করলাম। যাতে করে কবিতার ঘটনাটা কেউ অলৌকিক বা কল্পনা না ভাবে। আর লেখকের উপর যেন এমন ধারনা না জন্মায় যে তিনি অবাস্তব কোন ঘটনাকে প্রচার করে বেড়ান। আল্লাহকে সর্ব প্রশংসা যিঁনি আমার মত এক নগণ্য লেখককে দিয়ে এত বড় একটা কাজ করিয়েছেন। মনে করছিলাম পারব কিনা কাজটা? তবুও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাকে লেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। এজন্য তাঁর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া। আলহামদুলিল্লাহ। পাঠকদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ কয়েকবার হৃদয় দিয়ে পড়ুন কবিতাটি, দেখবেন বিশ্বাসটা আরো বেড়ে যাবে। সকলকে অগ্রিম শুকরিয়া। জাযাকাল্লাহু খাইরান।

১ মন্তব্য

  1. মহিউদ্দিন

    কবিতাটি সুন্দর হয়েছে। ভাল লাগল।
    সে লেকচারটি আমিও শুনেছি সম্ভবত বছর খানিক আগে। আসলে আল্লাহর দরবারে দো’য়ার বা প্রার্থনার শক্তি অপরিসীম। দো’য়ার বরকতে মানুষের আশা পূরণের এমন অনেক ঘটনা আছে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়।

    আমরা অনেকেই যে দো’য়ার ব্যাপারে একবারে বিস্মৃত তা বলা যায় না কিন্তু দোয়ার গুরুত্ব যে কত অসীম একজন মুমিনের জীবনে তা অনেক সময় আমরা খেয়াল করি না। আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা প্রতিনিয়ত দো’য়া করে থাকলেও এই দোয়া অধিকাংশ সময়ই নিতান্ত আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া কিছু নয়। প্রায়ই দেখা যায় যখন আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, তখন একেবারে শেষ অবলম্বন হিসেবে দোয়ার কাছে আশ্রয় গ্রহণ করি। আর এটাও লক্ষণীয় যে হর হামেশা আমাদের কাজ কর্মে এবং কথাবার্তায় দোয়াকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়। ভাবখানা এমন যে পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত নৈরাশ্য, হতাশা ও ব্যর্থতার মোকাবিলায় দোয়া যেন এক ব্যর্থ ও অনাবশ্যক আকুতি। দোয়াকে সত্যি ফলপ্রসূ বা কবুল হতে হলে দোয়াকে তার সঠিক মর্যাদা দিয়েই করতে হবে। তখন দেখবেন দোয়া সফল হচ্ছে। আল্লাহর কাছ থেকে কিছু পেতে হলে অবশ্যই কায়মনবাক্যে দোয়া করতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক তার নবী রসুলদের অনেক দোয়ার কথা উল্লেখ করেছে এবং তা যে কবুল করেছেন সে ইতিহাসও বর্ণনা করেছেন।
    যখন নমরুদ তার দলবল দিয়ে হজরত ইব্রাহিমকে (আ:) বিশাল অগ্নি কুণ্ডলে ছুড়ে ফেলে দেয় তখন তিনি বলেছিলেন, হাসবি আল্লাহ ও নিয়া’মাল ওকিল –
    (আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি বিষয়ক সেরা কার্যনির্বাহী).” । আল্লাহ বলেন ইব্রাহিমও তাঁর সাথীরা আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন,
    “রাব্বানা আলাইকা তাওয়াক্কালনা ওয়াইলাইকা আনাবনা ওয়া ইলাইকাল ‍মাসির।” বঙ্গানুবাদঃ হে আমার রব! আমরা তো তোমারই উপর নির্ভর করছি এবং তোমারই অভিমুখী হয়েছি এবং প্রত্যাবর্তন তো তোমারই নিকট । (সুরা মুমতাহিনা, আয়াত -৪) তখন আল্লাহ সে দোয়া কবুল করে আগুনকে কি করেছিলেন আমরা জানি।(Surah al-Anbiyaa 21:69-70)

    হজরত মুসা (আ:) যখন মিশরে ফেরআউনের শাস্তি থেকে বাঁচতে নি:শ্ব ফেরারির জীবন যাপন করছিলেন তখন তিনি দোয়া করেন
    ” রাব্বি ইন্নি লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকির ।” অর্থ: হে আমার প্রতিপালক ! আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করবেন আমি তার প্রার্থী । (সুরা আল কাসাস ২৪) তখন আল্লাহ সাথে সাথে তাঁকে কিভাবে ৮ বছর বিপদমুক্ত করে দিতে কি উত্তম ব্যবস্থা করে দেন আমরা জানি।

    বিশ্ব বিখ্যাত সহী হাদিস গ্রন্থের রচয়িতা ইমাম বোখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বাল্যকালে তাঁর পিতাকে হারান তখন তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন কিন্ত একমাত্র তার মায়ের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে দোয়ার বরকতে তিনি দৃষ্টি শক্তি আবার ফিরে পান সে তথ্য ইমাম বুখারীর জীবনীতে পাওযা যায়।
    Hafidhh Ibn Kathir and Hafidhh Ibn Hajar al Asqalani both write:
    Imam Bukhari had lost his sight in his days as a youth, and his mother used to pray to Allah vigorously for the return of her son’s sight. One night in her dream, she saw the Prophet Ibrahim, upon whom be peace, who told her that Allah had accepted her prayers because of her tears in them in front of Allah and her son’s sight would be return’. When Imam Bukhari awoke in the morning, his eyesight had returned. [Tahrikh Ibn Kathir, under biography of Imam Bukhari, and Muqadimah Fath al Bari, biography of Imam Bukhari]

    এসবই দোয়ার শক্তি। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আজ যে দুর্ভোগ ও বিপর্যয়ের শিকার সে প্রেক্ষিতে রাসুল (স:) সেই প্রশ্নটি আজ মনে পড়ে। একদিন রাসুল মোহাম্মদ (সা.) কিছু দুর্যোগপীড়িত মানুষের এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন যাওয়ার পর বললেন, ‘তারা আল্লাহপাকের কাছে রহমত ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করে না কেন?

    আল্লাহ আমাদের সবাইকে যেন সে রকম দোয়া করার তৌফিক দেন যা আমাদের জন্য আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে আসবে অশেষ রহমত ও বরকত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।