«

»

জুলাই ১০

তাঁর মুখ বন্ধ করতে হবে?

ডা. জাকির আব্দুল করীম নায়েক ইসলাম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপর বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম গবেষক ও বাগ্মীদের অন্যতম। অনন্যসাধারণ প্রতিভাধর ‘দাঈ ইলাল্লাহ’ (আল্লাহর পথের একজন প্রচারক) হিসাবে তিনি সারাবিশ্বে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন। গত শতকের মধ্যভাগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিক শায়খ আহমাদ দীদাত (১৯১৮-২০০৫) বিভিন্ন ধর্ম ও বস্ত্তগত বিজ্ঞানের সাথে তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ইসলাম প্রচারের এক নতুন ধারার প্রয়াস শুরু করেন। ডা. জাকির নায়েক এই ধারার সফল পরিণতিই কেবল দান করেন নি বরং মুসলিম সমাজে প্রচলিত নানাবিধ কুসংস্কার ও নবাবিষ্কৃত আচার-আচরণ তথা শিরক-বিদ‘আতের বিরুদ্ধেও একটি ধারার সূচনা করেছেন। অতি অল্প সময়ে তিনি ‘পীস টিভি’র অনুষ্টানের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান।

কিছুদিন আগে সদালাপে ডা: জাকির নায়েকের ব্যাপারে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছিল। তবে আজকের লিখার উদ্দেশ্য বর্তমানে মিডিয়ায় বিশেষকরে ভারত ও বাংলাদেশের একটি গোষ্ঠী ও ইসলাম বিদ্বেষী মহল তাঁকে সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে আর্টিসান রেঁস্তোরার সন্ত্রাসী হামলার সাথে যেভাবে জড়াতে চাচ্ছে সে বিষয়ে কিছু আলোচনা করা।

আসলে একজন মুসলিম হিসাবে কারো বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে দেখে নীরব থাকা অবশ্যই কোন মুসলিমের সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়। শুধু মুসলিম কেন যে কোন বিবেকবান মানুষের পক্ষে নীরব থাকা সম্ভব নয়।

বলা হচ্ছে "পিস টিভির উদ্যোক্তা জাকির নায়েকের বিতর্কিত কথায় তরুণরা জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে" কিন্তু "বিতর্কিত কোন কথা"? সেটা কেউ বলতে চায় না! কিংবা সে কথাটাইবা কি ছিল? তা মিডিয়া প্রকাশ করছে না!

তাছাড়া বলা হচ্ছে "ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে পীস টিভি’র সম্প্রচার" এ খবরটাও সম্পূর্ন সঠিক কি না তা জানার দরকার আছে বলে কারো গরজ নাই!

আমি যতটুকু জানি কয়েক বছর আগে কানাডায় এক সম্মেলনে আসতে জাকির নায়েক ভিসা পাননি একইভাবে যুক্তরাজ্য তাঁর ভিসা বাতিল করে চিঠি দিয়েছিল তবে পিস টিভি নিষিদ্ধ হওয়ার কোন খবর আমরা শুনি নাই। মালয়েশিয়ায় তিনি নিষিদ্ধ হন নি। আমি সামাজিক মিডিয়ার এমন তথ্যের উল্টোটাই দেখেছি। ফেইস বুকের এক পোষ্টে এই তথ্যের  অস্বীকৃতি এখানে দেখা যাচ্ছে।

ডাক্তার  জাকির নায়েক তাঁর ডাক্তারি পেশা ত্যাগ করে ইসলাম প্রচারে যেভাবে নিজের জীবন, সময় আর অর্থ ব্যয় করেন, তার প্রতি একজন মুসলিম হিসাবে আমার শ্রদ্ধাবোধ জাগে।  লাখ লাখ মুসলিম যেহেতু জাকির নায়েককে একজন ইসলাম প্রচারক হিসাবে জানেন এবং তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন, এমনকি ইসলাম বিষয়ে তাঁর উপস্থাপনা ও বক্তব্য শুনে প্রতিনিয়ত অসংখ্য অমুসলিম জনসম্মুখে নিজেদেরকে মুসলিম হওয়ার বাসনা প্রকাশ করছেন এবং  ডাক্তার  জাকির নায়েক তাদেরকে  শাহাদতের কলেমা পড়াতেও পিস টিভিতে দেখা যায়। আধুনিক বস্তুতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থায় ইসলামের প্রচারে নিবেদিত এরকম একজন ব্যক্তিত্বকে অবজ্ঞা করা কোন ন্যায্য কাজ হতে পারে না। কারো মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ভিন্নতা সৌন্দর্য সংযোগ করে। ইসলামেও তাই। হাদিসে ভিন্ন মতকে রহমত বলেও উল্লেখ হয়েছে।

জাকির নায়েক সাহেবের কাজের সফলতা বিশ্ব-জোড়া। কেবল ভারতে বর্ণবাদী বিদ্বেষ ও সামাজিক প্রবঞ্চনায় যারা যুগ যুগ ধরে নিষ্পেষিত এমন হাজার হাজার লোক তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিয়ে,  ইসলামের ছায়াতলে এসে, নিগ্রহ থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। ভারতে এবং গোটা বিশ্বে জাকির নায়েক সাহেবের শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় প্রচারণার সফলতা দেখে ইসলাম বিদ্বেষী মহলগুলো দারুণভাবে ক্ষুব্ধ, ভিতরে ভিতরে জ্বলে পুড়ে ছাই হচ্ছে। তাই যেকোনোভাবে তার মুখ বদ্ধ করতে চলছে তাদের পায়তারা।

ধীশক্তি সম্পন্ন যেকোনো লোকের পক্ষে এটা উপলব্ধি করা সম্ভব যে আইসিস নামের সন্ত্রাসী দলকে বিভিন্ন দেশে সৃষ্টি করা হয় বহুমুখী ষড়যন্ত্রের বীজ বপনের উদ্দেশ্যে। এসবের মধ্যে ঔপনিবেশবাদী উদ্দেশ্য অন্যতম। সন্ত্রাসবাদ একটি বাস্তবতা এবং এই ঘুড়ির সুতো তাদেরই হাতে। ঔপনিবেশিক উদ্দেশ্যের সাথেই সংযুক্ত সন্ত্রাসের বাস্তবতা কিন্তু এটিকে ইসলামের সাথে সংযুক্ত করে চালাতে লালিত হয় এক শ্রেণীর মিডিয়া। এরা নিবেদিত প্রাণ। এরা খুটে খুটে মুসলিম জাতিকে সন্ত্রাসী দেখাতে চায় এবং এই সন্ত্রাস দমনে তাদের উপস্থিতি ও প্রয়োজন দেখাতে চায়। এটা চলছে সর্বত্র।

লক্ষ্য করা যাবে যে যখনই কোন দেশে অপরাধীরা সন্ত্রাসী কাণ্ড ঘটায় সাথে সাথে আইসিস কোথাও থেকে সেই জঘন্য কর্মের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসে! আর মিডিয়া এসব খবরকে এমনভাবে প্রচার করে যাতে মুসলিম এবং ইসলামকে ভূতে ধরেছে বলে বিশ্বজুড়ে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো যায়। মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অজুহাত তৈরি হয়, তাদের দেশ দখল করা যায়, তাদের উপর বোমা ফেলা যায়। তাছাড়া, পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীর বিশেষ একটি মহল ও যুদ্ধ ব্যবসায়ীরা তাদের অস্ত্র শিল্পের মুনাফা অর্জনে মুসলিম দেশগুলোর স্বৈরাচারী শাসকদের সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে।

অন্যদিকে, অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলে থাকেন যে তৃতীয় বিশ্বের অত্যাচারী শাসকদের বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে, সময় বুঝে, covert operations বা ফল্স ফ্ল্যাগ অপারেশন ঘটানো হয়। তারপর এগুলো এমনভাবে অর্কেস্ট্রেইট করা হয় যাতে সাধারণ মানুষের কাছে মূল পরিকল্পনাকারী অদৃশ্য থাকে, এবং সর্বসাধারণ এটিকে কোনো বিশেষ গ্রুপের কাজ বলে মনে করে নেয়।

জাকির নায়েকের কোন বক্তব্য সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেয় বলে কোন প্রমাণ নেই। কিন্তু তাতে কিছুই যায় আসে না। মিডিয়া তাকে সন্ত্রাসী-সংযুক্তিতে প্রচার করতে পারাটাই সার্থকতা।  ইদানীং ঔপনিবেশপুষ্ট মিডিয়াচক্র তাই করছে।

বাংলাদেশে  ডাক্তার  জাকির নায়েকের  ভক্ত প্রচুর যা ভারতীয় বর্ণ হিন্দুরা  ভালভাবেই জানে। তা’ই ভারতে পিস টিভি নিষিদ্ধ হল। শীঘ্র তা বাংলাদেশে হয়ে যেতে পারে। কারণ বন্ধুপ্রতীম দেশের ইচ্ছা এবং বিশেষ করে বন্ধুরাষ্ট্র যখন আমাদেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কিছু করতে চায়, তখন তা তো ফেলে দেয়া যায় না! তবে বাংলাদেশে জাকির নায়েক নিষিদ্ধ হলে দেশের ভিতরের ধর্ম ব্যবসায়ী, বিশেষ করে মাজার পূজারী,পীর পূজারী ও ইসলাম বিদ্বেষী মহল খুশি হবে –একথাও আমাদের জানা।

Peace TV

মূল কথা হল গুলশান ট্রাজেডিকে হাতিয়ার বানিয়ে আজ যা করা হচ্ছে তা খুবই উদ্বেগের বিষয়। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অনেকেই হয়তবা এতে খুশী নন কিন্তু কিছু করার উপায় নাই। কারণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার যে রাস্তা ক্ষমতাসীনরা বেছে নিয়েছেন তার প্রকৃতি তারাই ভাল জানেন। একটি স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক অবস্থান এমন হওয়া উচিত যাতে জনগণের আস্থাই হবে মুখ্য হবে– কোনো বিদেশী শক্তির আস্থা নয়। কিন্তু অবস্থা আজ এলোমেলো। তাই বলতে হচ্ছে, উপায় নাই গোলাম হোসেন!

শেষ কথা

চিন্তা করুন, মক্কার প্রাথমিক যুগে শক্তিশালী কুরাইশ মুশরিকগণ কিভাবে ইসলামের অগ্র যাত্রা স্তব্ধ করতে চেয়েছিল? দৈহিক মানুষিক সামাজিক বয়কট সহ এমন কোন অত্যাচার বাকী ছিলনা যা মুসলিমদের উপর প্রয়োগ করা হয় নাই তখন। এক পর্যায়ে দুর্বল মুসলিমদেরকে বাধ্য হয়ে জন্মভূমি ত্যাগ করতে হয়ে ছিল। আল্লাহর নবীও তার জন্ম স্থান মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে এই সবই পরবর্তীতে এক সময় মুসলিম উম্মাহর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়।

সেদিন আমার এক তুরস্কের বন্ধুর সঙ্গে সামাজিক মিডিয়ায় উপরে বর্ণিত বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলাপ হচ্ছিল। তিনি বললেন আজ বাংলাদেশে যে অবস্থা চলছে তা হুবহু তুর্কির মুসলিমরা পেরিয়ে এসেছেন। অবস্থা নাকি এমন ছিল যে সেনাবাহিনীতে কার স্ত্রী সর্ট স্কার্ট না পরে লম্বা জামাকাপড় পড়ত তা দেখে পদোন্নতি হত। রমজানের সময় কার ঘরে শেষরাতে বাতি জ্বলে তা রেকর্ড করার দায়িত্ব ছিল পুলিশের। এক কথায় মুসলিম হিসাবে জীবন যাপনে সীমাহীন দুর্ভোগ ও কষ্ট স্বীকার করতে হত তাদেরকে। সেই  তুরষ্কের অবস্থা এখন কত তফাৎ। আর এ সবই সম্ভব হয়েছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যামে। সন্ত্রাসী হামলা তুরস্কেও হয়েছে কিন্তু তাই বলে তারা ইসলামী টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেয় নাই। আজ মুসলিমদের সবচেয়ে বড় কাজ হল নিজেদের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং নিজেদের মাঝের মুনাফিকদের চেহারা উন্মোচন করা। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পার্থক্যের সুযোগ নিয়ে যেসব মুসলিমরা বা মুসলিম দেশের শাসকেরা আজ  ইসলাম ও মুসলিম বিদ্ধেষীদের  গাড়ীতে (wagon)  চড়ে বসেছেন তা থেকে নেমে আসার চেষ্টা না করলে তারা নিজেরাই নিজেদের ও দেশের ধ্বংস ডেকে আনছেন একথা বুঝাতে হবে।

আজ ফেবুতে এক ভদ্রলোক লিখেছেন, "জাকির নায়েকের ইসলাম প্রচারের কর্মপদ্ধতির অবদান ও প্রভাব বুঝতে হলে ফিক্বহের কিতাব নয়; অমুসলিমদের দাওয়াত, নাস্তিক্যবাদ, ইসলামের সৌন্দর্য এসব বিষয় নিয়ে পড়তে হবে। একজন তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের ছাত্র তাঁর অবদান যতটা অনুভব করতে পারবে, সেটা আর কেউ পারবে না। সবচেয়ে বড় কথা, ভুল ও শুদ্ধ মিলিয়েই মানুষ। দুনিয়ার সব দাঈর দাওয়াহ পদ্ধতি আমার মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে, এমনটি জরুরি নয়। আজ এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার বড় বেশি প্রয়োজন বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্ধেষীদের যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে হলে।"

বাংলাদেশে জাকির নায়েক ভক্তদের পরিচালিত একটি ফেবু পেইজ 

Dr. Zakir Naik's official Facebook FB Zakir

২১ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. সত্য সন্ধানী

     সরকার কমন সেন্স হারিয়ে ফেলেছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আসলে সরকার আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যে চ্যানেল বিশুদ্ধ ইসলাম প্রচারের মহান কাজটি করে চলেছে,ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সঠিক ভাবে মানুষকে দ্বীন ইসলাম শিক্ষায় শিক্ষিত করছে, সেই চ্যানেল বন্ধের সিদ্ধান্ত? মুসলিম হিসাবে আমি বিপন্ন বোধ করছি। আশা করি সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে সরকার।

     

    1. ১.১
      মহিউদ্দিন

      সরকার কমন সেন্স হারিয়ে ফেলেছে। 

      সরকারের ভূমিকা আসলেই দু:খজনক। তারা রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য আজ চড়েছেন ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষীদের  মাল গাড়ীতে তাই জাকির নায়েকের উপর মিডিয়া ট্রায়্যল চলতেই থাকবে। তবে সাধারণ মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে এর প্রতিবাদ করতে।

      পাঠ ও মন্তব্যে জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

       

  2. Forkan

    জাকির নায়েককে  কোটি  মানুষের মন থেকে সরাতে পারবেনা।

  3. মজলুম

    গুলশানের ট্রাজেডির পর মিডিয়া জাকির নায়িককে মুরগী বানিয়ে পিস টিভিকে কোরবানী দিয়ে দিলো। সাংবাদিকরা কখনোই সমস্যার সমাধান নয় বরং সমস্যার অংশীদার। এই পাচ জঙ্গী কোন বাড়িতে এতোদিন আত্বগোপনে থেকে ট্রেনিং নিয়েছে, তার খোজ খবর এখনো পর্যন্ত পুলিশ বা সাংবাদিক নামক খবিশরা বের করতে পারেনি। খবিশেরা একটা মিথ্যাকে  বারবার প্রচার করে সেটাকেই সত্য হিসেবে দেখায়। কানাডা বা মালেয়শিয়ায় সে ব্যান না। খবিশরা প্রচার করে যে এমন কি "এমনকি মুসলিম প্রধান দেশ মালেয়শিয়ায় ও জাকির নায়িক ব্যান" ।  সত্য কথা হলো সেখানকার রুলিং সরকার তাকে আমন্ত্রন জানায় ইসলামি লেকচার দেওয়ার জন্যে। খবিশেরা ভূয়া দেশপ্রেম দেখায় সব দেশে, বস্তুত এরা যেকোনো দেশের জন্যে হুমকি সরুপ। আলহাজ্ব ইনু, নাট্যকার তারানা হালিম এবং খবিশরা মিলে ওলামা লীগের অনেকদিনের দাবী পিস টিভি বন্ধ করে দিলো। যে পিস টিভিতে শেখ ইয়াসির কাদির লেকচার প্রচার করা হয় আর আইএস অলরেডী তার মাথার দাম ঘোষনা করেছে। সে প্রশ্ন জানার ও প্রয়োজন নেই খবিশদের। জাকির নায়েক যে অনেক আগে মালেয়শিয়ায় আইএস এর বিরুদ্বে বলেছেন তাও প্রকাশ করেনা খবিশেরা, কারন ওটা প্রচার করলে তাদের খবিশি পারপোস সার্ভ হবে কিভাবে। আর ভারতীয় মিডিয়া! হুহ! এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসার মূল কারন ও এই মিডিয়া। যেহেতু মিডিয়াগুলো বড় বড় ব্যবসায়ীদের দ্বারা পরিচালিত এবং মোদী ও এই ব্যবসায়ীদের গুজরাটে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে ব্যবসা করতে দেন ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন এবং ক্ষমতার আসার পর আরও সুবিধা দিবেন বলেছেন তাই সকল মিডিয়া মোদির পক্ষেই প্রচারনা চালিয়েছে। 

    তবে জাকির নায়েকর পিস টিভি ব্যান হওয়ায় বাংলাদেশে বেশীর ভাগ গ্রুপই খুশী। ওলামা লীগ খুশি, রেজভী/বেরেলভি গ্রুপ খুশি, দেওবন্দী/কওমী গ্রুপ খুশি, মাজারী গ্রুপ খুশি, দেওয়ানবাগী খুশি, তাবলীগ জামাত খুশি, নাস্তিকেরা খুশি। আওয়ামীলীগের অনেকগুলো প্রপাগান্ডা পোস্টার আছে ঢাকায় যে "এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ" আমি বলতাম অপ্রতিরোধ্য গতিতে খাদের দিকে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশে, এখন দেখছি তার সাথে আছে মাজারপুজার দিকে, গোমরাহ এর দিকে। 

    1. ৩.১
      মহিউদ্দিন

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। কিছু কথায় মত-দ্বিমত আছে, সেটা আলাদা থাক।

      সাংবাদিকরা কখনোই সমস্যার সমাধান নয় বরং সমস্যার অংশীদার। 

      ভারতের মিডিয়া আর বাংলাদেশের মিডিয়া আজ একিই সুতায় বাঁধা বিশেষকরে ইসলাম ও মুসলিমকে বদনাম করতে। মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্ত করতে ও এ দেশকে বিশ্বে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র হিসাবে তুলে ধরতে এরা আদাজল পান করে নেমেছে।

      মূল কথা হচ্ছে যেদিকেই তাকাবেন সেদিকেই সরকারি কাজের কোন মিল পাবেন না। জঙ্গিরা কোন বাড়িতে আত্মগোপন করে ট্রেনিং নিল, অস্ত্র পেল কিভাবে, ট্রেইনিং দিল কে? এসবের কোন পাত্তা নাই। তারপর প্রতিদিন খুন খারাবি হচ্ছে –সে সবেরও কোন কূলকিনারা নাই। দেখা যাবে, ঘটনা ‘সৃষ্টি’ হচ্ছে, তারপর, একটা দিয়ে অন্যটা ঢাকা হচ্ছে -বলিউডের কায়দায়। এবারে মনে হচ্ছে একঢিলে অনেক পাখি মারা হচ্ছে। গুলশান-কাণ্ড ঢাকতে পিস-টিভি বন্ধ করে, এবং সেই সাথে হাছিল হচ্ছে একটি  বিদেশি রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য! বিস্ময়কর বিষয় হল, ভারতী গোয়েন্দা এবং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলছেন সন্ত্রাস ও গুলশান-কাণ্ডে জাকির সাহেবের সংযুক্তির কোন প্রমাণ নেই। কিন্তু মধ্যখানে টিভি বন্ধ! Does it make any sense?

  4. মহিউদ্দিন

    এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা বলতে হচ্ছে।

    বাংলাদেশের সমস্যা হচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা মনে করছেন তারা যত মিডিয়াকে এ সব কুকর্ম চালিয়ে যেতে দিবেন ততই তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত হবে এবং বিশ্ব মোড়লদের আশীর্বাদ পাবেন।

    আর  মুসলিমদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কি জানেন?

    বর্তমান বিশ্বে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষীর আসল কারণ কি সে বিষয়ে গভীর চিন্তা না করে শুধু নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্য নিয়ে তারা এত ব্যস্ত যে সমস্যার মুল কারণ না বুঝে তাদের ভিন্নমতের কারো উপর সেকুল্যার গুষ্টির বা অত্যাচারী শাসকেরা আঘাত আসলে তারা তাদের মতপার্থক্যের কারণটা সে সব লোকের উপর নির্যাতন আসার জন্য দায়ী মনে করেন এবং আম্ততৃপ্তি লাভ করেন।

    সদালাপের  লেখক লেখিকাদের প্রতি অনুরোধ রইল এ বিষয়ে আপনাদের মন্তব্য রাখতে যাতে মুসলিমদের নিজেদের মাঝে ঐক্যের দিক নির্দেশনা আসে।

  5. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    তবে জাকির নায়েকর পিস টিভি ব্যান হওয়ায় বাংলাদেশে বেশীর ভাগ গ্রুপই খুশী। ওলামা লীগ খুশি, রেজভী/বেরেলভি গ্রুপ খুশি, দেওবন্দী/কওমী গ্রুপ খুশি, মাজারী গ্রুপ খুশি, দেওয়ানবাগী খুশি, তাবলীগ জামাত খুশি, নাস্তিকেরা খুশি।

     

    – জামাতকে বাদ দিলেন কেন ভাই? জামায়াতের মুখপাত্র সাঈদীর কড়া সমালোচক মতিউর রহমান মাদানী পিস টিভির একজন নিয়মিত কন্ট্রিবিউটর। মিস করলেন নাকি এই বিষয়টা। 

    আওয়ামীলীগের সমরর্থরাই এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশী বিচলিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। 

    1. ৫.১
      মজলুম

      জামাতি ঘরানার এবং আওয়ামী ঘরানার লোকদের এই এক সমস্যা। এরা তাদের নিজস্ব কাস্টমাইজড লেন্সে সব ঘটনা প্রবাহ দেখে, তাই সেখানে সত্য খোঁজার চেয়ে নিজেদের বিশ্বাসকেই বেশী খোঁজে, তা খুঁজে পায় ও বটে! এটা সব মতবাদের মানুষদের মতো। কিছু লোক যেমন পৃথিবীর সব সমস্যার মূলে মুসলিমদের খুঁজে পায়।  কারন নিউরো সাইন্সে এটাকে বলে রেটিকুলার একটিভেটিং সিসটেম।  এজন্য বাংলাদেশে সব সমস্যার জন্যে লীগ যেমন জামাত, পাকিস্তান খুঁজে পায়, তেমনি জামাত ও দেশের সব সমস্যার মূলে লীগ ও ভারত খুঁজে পায়। এরা পৃথিবীকে দেখে সাদা এবং কালো রঙে,  ভুলে যায় যে পৃথিবীতে সাদা/কালো ছাড়াও আরো অনেক রঙ আছে। 

      এবার আপনার কমেন্টে আসি, জামাতিরা মাদানকি ঘৃনা করলেও জাকির নায়িককে পছন্দ করে। পিস টিভি বন্ধের মূল কারন হলো জাকির নায়িক, মাদানি নয়। জামাতিরা আবার দেওবন্দি/কওমীদের মতো মাজহাব নিয়ে বাড়াবাড়ি করেনা যে মাজহাব মানতেই হবে নইলে আপনি……  এবং জামাতিরা মাজারপূজার বিরোধী। জামাতিদের মূল অগ্রাধিকার থাকে সবসময় মওদুদিবাদ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন। 

      আর আওয়ামীলীগে হয়তো আপনার মতো কিছু সাপোর্টার একটু বিচলিত হয়েছে পিস টিভি বন্ধ হওয়ার কারনে। কিন্তু বেশীরভাগইতো মাজারি, বিএনপির মতো। বিএনপির ওলামা দলের সবগুলো এবং এরশাদের ওলামা পার্টির সবও মাজারি। 

      তবে পিস টিভি মূলত দেখে দেশের শিক্ষিত শ্রেনী, ওরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তা পুষিয়ে নিতে পারবে। আর অশিক্ষিত শ্রেনী সাইদী বা তারিক মনোয়ারের গাল গল্প, কিচ্ছা কাহিনীর ওয়াজ শুনে দিন পার করে দিবে। (ওরাও মাজার বিরোধী)

      1. ৫.১.১
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        তবে পিস টিভি মূলত দেখে দেশের শিক্ষিত শ্রেনী, ওরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তা পুষিয়ে নিতে পারবে। আর অশিক্ষিত শ্রেনী সাইদী বা তারিক মনোয়ারের গাল গল্প, কিচ্ছা কাহিনীর ওয়াজ শুনে দিন পার করে দিবে। (ওরাও মাজার বিরোধী)

        – আর বাংলাদেশের ইসলাম যেই তিমিরে ছিলো – সেই তিমিরেই থাকলো। 

        1. ৫.১.১.১
          মহিউদ্দিন

          আর বাংলাদেশের ইসলাম যেই তিমিরে ছিলো – সেই তিমিরেই থাকলো। 

          সঠিক বলেছেন। 

          কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হল ভারতী গোয়েন্দা এবং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলছেন সন্ত্রাস ও গুলশান-কাণ্ডে জাকির সাহেবের সংযুক্তির কোন প্রমাণ নেই। কিন্তু মধ্যখানে টিভি বন্ধ! Does it make any sense? 

          এ ব্যপারে আপনার কি পর্যব্যক্ষণ?

    2. ৫.২
      সুজন সালেহীন

      আওয়ামী লীগের নিরীহ ইসলামপ্রিয় সমর্থকরা বিচলিত হতে পারেন। কারণ তারা এতদিন শুনে এসেছিলেন। এখন প্রমাণ দেখতে পাচ্ছেন!  

  6. shahriar

    jajak-allahu khayrun, Very well said.

  7. কিংশুক

    মিথ্যা অভিযোগে পিস টিভি বন্ধ হলো। জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষের      করা অভিযোগেরঅধিকাংশই গোঁজামিল দেওয়া ও উদ্দেশে প্রণোদিত । এক সময় তাঁর লেকচার থেকেও অনেক কিছু জানতে পেরেছিলাম। নাস্তিক-ইসলাম বিদ্ধেষী ও সালাফিদের কারনেই কোরআন হাদিস সিরাত ইসলামের ইতিহাস পড়ে নিজেনিজে  সঠিক পথ খোজার চেষ্টা করতে হয়েছে এজন্য তাদের প্রতি কিছু কৃতজ্ঞতাও  আছে!  পরবর্তীতে  একসময় বুজতে পারলাম যে তিনি বাতিল আহলে হাদিস/সালাফি আকিদার।  তাঁর টিভিতে পৃথিবীর সেরা মিথ্যাবাদী ও    গরুকে নদীতে  ফেলা অর্ধশিক্ষিত মতিউর রহমান ভারতীয়রাও লেকচার দেয়। মাজহাব ও আকিদার বিষয়ে তার সাথে না মিললেও তুলনামূলক ধর্ম তত্ত্ব, কোরআনের বৈজ্ঞানিক আলোচনা ও সমসাময়িক ইসলামিক বিষয়ে তাঁর অনেক ভাল কাজ আছে। আর দশ ভাগ ভিন্ন আকিদার হলেও বাকি নব্বই ভাগ কোরআন হাদিসের আলোচনা মানুষকে দ্বিনের দিকে নিতো। তবে কোন ভাবেই জংগি বাদের দিকে নিতোনা (জংগি হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালারা হলো বিদেশের মৃত আওলাকি খারেজি গং, দেশী জসিমউদ্দিন রহমানি খারেজি গংরা। ওদের সমর্থকদের সবাই জংগি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যেকোনো সময়ে জংগিতে রুপান্তরিত হয় )। গুলশানের হামলাকারী নাদান ছেলেগুলিও নিশ্চিত খারেজি গংদের মুরিদ হয়েছিল  এবং হামলার বিষয়ে ঐ পক্ষের সর্বতোপ্রকার সাহায্য পেয়েছিল। বাংলাদেশে জেএমবি ঐ মতবাদের । আইএস এর পক্ষ হয়ে সিরিয়া থেকে হুমকি দেওয়া তিন বাংলাদেশী খারেজি যুবকের ভিডিও থেকে নিশ্চিত গুলশানের হামলাকারীরা খারেজি। সৌদি-মার্কিন,  ইরান-রাশিয়া, তুরস্ক কুর্দিদের রাজনৈতিক প্রভাবের যুদ্ধ ক্ষেত্র সিরিয়াতে  কতগুলি বাংগালী ছাগল গিয়ে নিজেরাও ধ্বংস হল, দেশে বিদেশি মারিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করলো।  সিরিয়ায় এমন এক প্রকার যুদ্ধ হচ্ছে যে রকম জানবাজি যুদ্ধ বিশ্ব আর দেখেনি কারন ঐখানকার বাম কুর্দি পেশমার্গা ইউ পি জে , শিয়া হিজবুল্লাহরা, খারেজি আইএস, নুসরা ফ্রন্ট ইত্যাদি সবাই আদর্শের জানবাজ সৈনিক। কেবল ফ্রি সিরিয়ান আর্মি সাধারণ স্বৈরাচার হটানোর জন্য কাজ করা সিরিয়ান দেশপ্রেমিক সৈনিক । পিস টিভি বন্ধ করায় আমি মনে কোন দুঃখবোধ করছি না (যেহেতু মনের উপর হাত নেই) কিন্তু অন্যায় সিদ্ধান্ত হয়েছে নিশ্চিত । আমার মনে হয় দেশের সব আলেম খুশি (তাদের বেশিরভাগ জীবনে কোন দিন পিস টিভি দেখেননি কেবল জাকির নায়েক লা মাজহাবীদের মূখপাত্র তা শুনেছেন )। রাজনৈতিক ভাবে এতে সরকারের কোনও লাভ হয়েছে কিনা বুঝতে পারছিনা তবে জংগি বাদের যে কোনও ক্ষতি হয়নি তা নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায় । সরকার আগেই ইসলাম পন্থী ইসলামিক টিভি,  দিগন্ত টিভি  বন্ধ করেছে , এখন করলো পিস টিভি । সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভোটাররা এতে খুশি হওয়ার কোনও কারন খুঁজে পাবেনা।

  8. কিংশুক

    গত একশ বছরের বেশির ভাগ যুদ্ধের জন্য বামরা দায়ী। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ায় বামরা একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না করে গণতন্ত্র থাকলে আজকে তাদের এই দশা হয়না। বাম শাসকরা একনায়ক ও ভিন্ন মতাদর্শের প্রতি অতি নিষ্ঠুর হয়, ভাগ্য ভাল জাসদ ও অন্য কোন বামরা বাংলাদেশে স্থান গাড়তে পারেনি। গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ায়  (এখন গণতন্ত্র সীমিত হলেও গণতন্ত্র নাই বলা যাবেনা) বাংলাদেশে জংগিদের কোনও ভবিষ্যত নাই।

  9. মজলুম

    মুসলিম দল গুলোর মধ্যে ঐক্য কখনোই হবেনা যতদিন ঐসব দলগুলোর অনুসারীরা ইসলাম/কোরআন/হাদিসের  চেয়েও তাদের নেতা, শাইখ, হুজুর, মুফতি, আল্লামা, পীর, ফিকহ, মাযহাব এবং লা-মাযহাবকে বেশী গুরুত্ব দিবে। 

  10. ১০
    মহিউদ্দিন

    মুসলিমদের নিজেদের মাঝে ঐক্যের গুরুত্ব অপরিসীম এ উপলব্ধি থাকলেও প্রচেষ্টা নাই এবং কারো সদিচ্ছা নাই বললেই মনে হয়! এক কথায় এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক গবেষণা এবং পর্যালোচনা। আর কি ভাবে তা সম্ভব সে ব্যাপারেও আসতে হবে বিস্তারিত দিক নিদর্শনা।

     পিস টিবি সম্পর্কে বলতে গেলেও অনেক কথা এসে যায়। বাংলা ও ইংলিশ পিস টিভির মাঝে অনেক তফাৎ লক্ষ্য করেছি। বাংলা টিভিতে যারা জড়িত আছেন তাদের অনেকেই মূর্খতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের উপস্থাপনা ইংরেজি চ্যনাল থেকে ভিন্ন পরিলক্ষিত হয় অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে বক্তব্যের উপস্থাপনার মান ও বক্তব্যের মাঝে। বেদাত আর শিরকের সতর্কতা করতে গিয়ে ওনারা যে ভাবে নিজেদের  আধ্যাত্মিক দাম্ভিকতার (spiritual arrogance) পরিচয় দিয়ে থাকেন তাতে ঐক্য থেকে অনৈক্যই ছড়ায় বেশী।

    তরিকাপন্তী পীর পূজারী ইত্যাদি মুল্লাদের নিয়ে তেমন সমস্যা নাই এ জন্য যে এদের প্রভাব অশিক্ষিত মানুষের মাঝে কিছুটা পড়লেও আধুনিক শিক্ষিত সমাজের কাছে বিশেষ করে যুব সমাজের কাছে এ সবের কোন আবেদন নাই।

    অবশ্য জাকির নায়েকের স্টাইল শুরু থেকেই  তথাকথিত সালাফি মুল্লাদের  থেকে আলাদা ছিল এজন্যই তিনি সফলকাম ছিলেন।

    সৌদি আরবের ভারতীয় সেই মতিউর রহমান মাদানি তার এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। সন্ত্রাসের উৎপত্তির মূল কারণ সম্পর্কে তার কথাবার্তা মূর্খতার চরম বহি:প্রকাশ। আসলে এরা মুসলিম বিশ্বের অত্যাচারী শাসকদের সম্পর্কে নীরব থাকতে চায় আর সমাজে ফিতনা ছড়াতে চান! তাদের মতাদর্শ একমাত্র সঠিক আর পাক-ভারতের আলেম উলেমা এমনকি মিশরের ইসলামী স্কলারদের কিংবা ইউরোপ আমেরিকার ইসলামী স্কলারদের সবাইকে  ঢালাওভাবে সমালোচনা করতে চান। 

  11. ১১
    মাহফুজ

    যে দেশের ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের মত প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালকের পদে সামীম সাহেবের মত লোকেরা থাকেন, সে দেশে ডা. জাকির আব্দুল করীম নায়েকের মত মানুষেরা ব্যান থাকাটাই স্বাভাবিক।

    তবে খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নিয়ে এই ব্যান করার ফলে জাকির সাহেবের পপুলারিটি ও প্রচার যে বাড়বে বৈ কমবে না, তা অচিরেই সবাই বুঝতে পারবেন।

  12. ১২
    Calculation

    ইসলামের পরিচয়ধারী দেওবন্দী ও মাজারপন্থী এবং ইসলামবিরোধী নাস্তিক, সেকুলার ও হিন্দুত্ববাদী এ উভয় গোত্র কিভাবে এক বিন্দুতে মিলিত হলো, তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।

    এসব দেখে সিরাজুদ্দৌলা নাটকের সেই ঐতিহাসিক ডায়ালগটাই মনে পড়ে, "মুসলমান মীরজাফর, হিন্দু জগতশেঠ, খৃস্টান রাজবল্লভ সব আজ কিসের জন্য এক হলো?"
    আহা! জগতের সবখানে সব ব্যাপারে যদি এমন অভূতপূর্ব ঐকমত্য দেখা যেত, তাহলে এই ধরণীটাতে শান্তির নহর বইতো।

     

  13. ১৩
    Calculation

    জাকির নায়েক তাঁর ইসলাম প্রচার অব্যাহত রাখতে পারলে হিন্দুস্তানের হিন্দুরা সব দলে দলে মুসলমান হয়ে যাবে, হিন্দু ভারত মুসলিম অধ্যুষিত দেশে পরিণত হবে, এমনকি হিন্দুস্তানের শাসনক্ষমতাটাও মুসলমানদের হাতে চলে যেতে পারে- এই জুজুর ভয়ের তাড়নাতেই কি এই ব্যবস্থা?

  14. ১৪
    Calculation

    সকল নবী-রসূলগণের বিরোধীরা ছিল মূলত তিনটি শ্রেণির লোক:- (১) ধর্মব্যবসায়ী, (২) কায়েমি স্বার্থবাদী রাজনীতিক, (৩) ধর্মবিদ্বেষী নাস্তিক ও পৌত্তলিক। অতএব, বর্তমানকালেও যদি কেউ নবী-রসূলগণের অনুসরণে মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দিতে ও সৎপথে আনতে সচেষ্ট হয়, তখন তার বিরোধিতাও আসবে ঐ তিন তরফ থেকেই।

    বাংলাদেশসহ ও ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মব্যবসায়ী আছে দুই কিসিমের। একদল হল ফতোয়া ব্যবসায়ী, আরেকদল হল মাজারব্যবসায়ী। প্রথম দলটির কাজ হল ফতোয়া দিয়ে বা নিজেদের ধর্মীয় ভাবমূর্তির সুবাদে মানুষের অন্ধভক্তিকে পুঁজি করে হাদিয়া-তোহফা লাভ করা। আর দ্বিতীয় দলটির কাজ হল লালসালু কাপড় টানিয়ে ওরস শরীফের নামে চান্দা তুলে ভাগবাটোয়ারা করে খাওয়া। নিজেদের মনগড়া ফেরকাবাজি ও ভ্রান্ত আকীদার দ্বারা জনগণকে বিভ্রান্ত করবার জন্য প্রয়োজন কোরআন ও হাদীসের প্রকৃত শিক্ষা থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখা, কারণ ধর্মের সঠিক রূপ জানতে পারলে মানুষ কেবল ধর্মের পথেই খরচ করবে, ধর্মের নামে যেখানে সেখানে যাকে তাকে অর্থ বিলি করবে না।

  15. ১৫
    Calculation

    জাকির নায়েকের বিরোধী ইসলামদরদীদের তরফ থেকে এই মর্মে একটা প্রশ্ন শোনা যেত যে, তিনি যদি হকপন্থীই হবেন, তাহলে হিন্দুত্ববাদী ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে নির্বিবাদে বিনা বাধায় ধর্মপ্রচার করে যাবার সুযোগ পাচ্ছেন কিভাবে? সেই প্রশ্নটির জবাব তো আজ পাওয়া গেল! কিন্তু তাদের কাছে আমাদেরও একটা প্রশ্ন ছিল, দেওবন্দী আর মাজারপন্থীরা ভারতে নির্বিঘ্নে বহাল তবিয়তে আছেন কিভাবে? যেই হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিরা ভারতীয় মুসলিম ক্রিকেটারকেও সহ্য করতে পারে না, মুসলিম ব্যক্তি কংগ্রেসের এমপি হলেও তাকে রেহাই দেয় না, সেই উগ্র হিন্দুরা ওরস শরীফ নিয়ে কোনদিন কোন ঝামেলা না পাকিয়ে থাকে কি করে? এবার আমাদের প্রশ্নের জবাবের অপেক্ষায় রইলাম।

Comments have been disabled.