«

»

জুলাই ১৮

তুরস্কের সাম্প্রতিক ঘটনা -কিছু কথা

ভূমিকা:

সময়ের আবর্তে আজ মুসলিম বিশ্ব এমন এক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে যে সারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রে স্বৈরাচারী শক্তির কাছে সবাই বন্দী এবং তাদের কাছে মুসলিম দেশের জনতার শক্তি পরাজিত। বলতে গেলে প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের চর্চা, জনতার সেবা অর্থাৎ জনকল্যাণ সমৃদ্ধ কোন আদর্শ নাই। জনগণের সাথে শাসক গুষ্টির সম্পর্ক ক্রীতদাস বনাম প্রভু মানসিকতা যা ইলিট সমাজের মন মগজে এমন ভাবে গ্রোথিত হয়েছে যে সরকারী অফিসারকে স্যার বলে সম্বোধন না করলে তারা অপমান বোধ করেন। বাংলাদেশে এই মানসিকতা প্রচণ্ড আকারে প্রশাসনের সকল স্তরে লক্ষ্য করা যায়। ঔপনিবেশিক প্রভুদের গড়া মুসলিম দেশগুলোর সব দেশেই দেখি এই চেহারা! সরকারি চাকুরীর বড় পদে আছেন মানে আপনি জনগণের শাসক/প্রভু, আপনার হুকুমে অনেক কিছু হয়, আপনি জনতার সেবক হবেন কেন? আপনি জনগণের মাষ্টার আর তাদের কোন কাজ আপনার দফতরে হতে হলে আপনাকে কদর করা উচিৎ এবং সে কাজ দ্রুত করার জন্য স্পীড-মানি বা সোজা কথায় ঘুষ দেয়া উচিৎ কেননা এটা আপনার প্রাপ্য! যারা এটাকে দুর্নীতি বলে, ওরা অপরাধী, ওদেরকে শায়েস্তা করতে হবে। এটাই হচ্ছে প্রচলিত নর্ম, বর্তমান বাংলাদেশে যা আবার অনেক মন্ত্রীকেও বৈধতা দিতে শুনা যায়!  কিন্তু পশ্চিমা দেশে তো তা দেখা যায় না।
আপনি কাকে দোষ দেবেন? বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ তাই -ইসলামকে? ইসলামে তো দেখতে পাই ভৃত্যকে উটের পিঠে চড়ায়ে খলিফা নিচে হাঁটতে! ইসলাম তো শিক্ষা দেয় সরকারী পদে বসা মানে জনগণের আমানত ও সেবার দায়িত্বে বসা। এখানে নিজেকে প্রভু ভাবার চিন্তা আসে কিভাবে?

তুরস্কের সাম্প্রতিক ঘটনা ও বাংলাদেশ।

তুরস্ক সম্পর্কে অনেকবার বিভিন্ন ব্লগপোষ্টে কথা বলেছি। তবে আজকে আবার লিখার উদ্দেশ্য হচ্ছে তুরস্কের গত ১৫ জুলা্ই, ২০১৬ ব্যর্থ ক্যু ব্যাপারের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনতার জন্য কী শিক্ষণীয় হতে পারে সে বিষয়ে কয়েকটি কথা আলোচনা করা।

১) তুরস্কের জনগণের শক্তি দেখে পশ্চিমা মিডিয়া অবাক হলেও বাঙ্গালিদের চেতনা উত্তেজিত হতে আমরা সামাজিক মিডিয়াতে দেখেছি। তবে আমাদের এ চেতনা কিন্তু বেশী সময় থাকবে না কেননা আমরা অন্যের জন্য হলেও নিজেদের দেশের জন্য কী ভাল হবে বা কী চাইব সেটা জানতে চাই না, তাই আমার এক বন্ধুকে লিখতে দেখেছি "তুরস্কের জনতার সাহস দেখে বাঙ্গালির চ্যাতনা-দণ্ড উত্তেজিত হয়েছে!" তবে কথা হচ্ছে হঠাৎ চ্যাতনা-দণ্ড উত্তেজিত হয়েই বা কি লাভ এটা অস্থায়ী, কারণ তো আগেই বলেছি।

২) যারা ইতিহাস চর্চা করেন তারা জানেন গৌরব উজ্জ্বল ইসলামী সভ্যতায় তুরস্কের ভূমিকা কী ছিল। তুরস্কের সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এরদোগান ফেসটাইমে ভাষণে জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান এবং তার আহ্বানে হাজার হাজার মানুষ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন। তুরস্কের জনগণ আবারো দেখিয়ে দিলো অস্ত্রের চেয়ে জনতার শক্তি বেশি। সেই সাথে ষড়যন্ত্রকারীরা আবারো দেখল এরদোগানকে জনগণ কী পরিমাণ ভালবাসে।

অবশ্য এ রকম কিছু বাংলাদেশে হলে দেখা যেত যে সর্বাগ্রে খালেদা হাসিনার ফটো নিয়ে মিছিল হচ্ছে। কিন্তু তুরস্কের জনগণ জানে এরদোগানেরও ভুল থাকতে পারে, তাই বলে গণতন্ত্রের বিকল্প সামরিক শাসন নয়। এরদোগানের ফটো নিয়ে কেউ মিছিল করে নাই, তাদের হাতে ছিল তুরস্কের পতাকা, বক্তব্যে ছিল গণতন্ত্র। এখানেই হচ্ছে মূল তফাৎ।

কিভাবে জাতীয় আন্দোলন তথা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করতে হয় বাঙ্গালীদের সেই বুদ্ধি ও দূরদৃষ্টি নাই আর হবে বলেও মনে হয় না। আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ল্যাভেল প্ল্যেইং ফিল্ড তৈরি করা বড় দরকার,  না কোন বিশেষ ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসানো দরকার? আগে খেলার মাঠ তৈরি করতে হবে, তারপর খেলতে কে আসে তা দেখা যাবে। এজন্য বলেছি নিজের দেশের জন্য কী ভাল হবে, সেটা জানতে না পারলে পরিবর্তন কিভাবে আসবে? তুরস্কের জনতা সফলকাম হয়েছে কারণ তাদের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। তারা জানে একবার মিলিটারিকে বসতে দিলে তাদের ভোটের অধিকার চলে যাবে এবং গণতন্ত্র চির বিদায় নেবে। জনগণ যখন মিলিটারিকে রুখতে পারে, দরকার হলে এরদোগানেরও ভুল দেখলে তাকেও সরানো যাবে গণতান্ত্রিক উপায়ে। তুরস্ক ইউরোপের একটি মুসলিম দেশ । দেশটির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশী, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশের জন্য। কেননা তুরস্ক এমন এক ভৌগলিক অবস্থান যা এশিয়া এবং ইউরোপ, পশ্চিম ও পূর্ব ব্লক, ইউরোপীয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং মুসলিম ও খ্রিস্টান সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া, তুরস্কের সীমান্ত এশিয়া এবং ইউরোপ (জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, Nakhichevan, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, গ্রীস ও বুলগেরিয়া) আটটি দেশের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে। পশ্চিমা খ্রিস্টান সভ্যতার কাছে তুরস্কের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশী তাই তুরস্কের রাজনীতির উপর তাদের কড়া নজর সব সময়ই থাকবে। একটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্র নায়ক নিজেকে মুসলিম হিসাবে প্রকাশ করে বিশ্বের মুসলিম দেশের সমস্যা, অন্যায় অত্যাচার তথা মুসলিম স্বার্থের পক্ষে কথা বললে ও তার দেশকে সঠিকভাবে আর্থিক সমস্যার মোকাবেলা করতে দেখলে অনেক মহল আছে যারা এটা সহ্য করতে পারে না। এরদোগানের নেতৃত্বে তুরস্কের ইসলামন্থী এ.কে. পার্টির সরকারের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সফলতা হল তারা তাদের দেশকে IMF – আন্তর্জাতিক মনিটারি ফান্ড থেকে দেশকে ঋণ মুক্ত করেছে। বলেন তো বিশ্বে ২য় কোন মুসলিম দেশ আছে কি যারা নিজেদেরকে IMF এর ঋণের জাল থেকে মুক্ত করতে পেরেছে? এটা অবশ্যই বিশ্ব পুঁজিবাদী মোড়লদের ভাল লাগার কথা নয়। Turkey debt Free Organisation for Economic Co-operation and Development এর সমীক্ষায় তুরস্কের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বর্ণনা দেখা যায়।

সারাংশে একথা বলা যায় যে দেশ শাসনে এরদোগানেরও সমস্যা থাকতে পারে এবং আছেও।   আভ্যন্তারীন দিক দিকেও সমস্যা আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বিছিন্নতাবাদী কুর্দিপন্থী রাজনীতি ও সন্ত্রাসী হামলার মোকাবেলা করা। এরদোগান বুদ্ধিমত্তার সহিত তা মোকাবেলা করে যাচ্ছেন। তার দেশ ইউরোপে হলেও বাকি ইউরোপিয়ানরা তুর্কিদেরকে আপন ভাবে না, তুরষ্ক ন্যাটোর সদস্য হলেও এরদোগানকে তাদের তেমন পছন্দ নয় বুঝা যায়। কেননা সুযোগ পেলেই পশ্চিমা মিডিয়া এরদোগানের বারোটা বাজাতে নেমে পড়ে। আমেরিকার প্রখ্যাত ইসলামী স্কলারের শেখ হামজা ইউসুফের কয়েক সেকেন্ডের এই  ভিডিওটা লিংকটা শুনলে বুঝা যায় এরদোগানকে কেন তাদের অপছন্দ! https://www.youtube.com/watch?v=AuccsedIoB0


ইতিপূর্বে তুরস্কের পার্লামেন্টে এ.কে. পার্টি ও কুর্দিপন্থী বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শরণার্থী ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি চুক্তি পাস করা নিয়ে এই ঘটনা ঘটে।

গত নির্বাচন পূর্বে সেকুল্যারা যে প্রপান্ডা চালিয়েছিল তা নিচের ভিডিও থেকে বুঝতে পারবেন।

রেফারেন্স:

10 Shameful Examples of Western Media “Reporting” On Turkey Coup

 

 

২৫ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. Saiful Amin Bhuiyan Nitol

    Turkey never had democracy until the emergence of Erdogan. Turkey, like Egypt, had been clandestinely ruled for decades by an unelected unconstitutional and extra judicial clique called the Deep State. Erdogan should be awarded Nobel prize for peace for accomplishing two impossible feats for the advancement of democracy that no other statesman – living or dead – can claim. (1) Erdogan conquered the deep state, which wielded more power than God, since Ataturk and his abolition of the Caliphate. He replaced the deep state with a constitutional democratic order. Western powers till today prefers the deep state to be the guardian of democracy in Turkey, the primary reason why the coup plotters dared to overthrow and possibly kill Erdogan. All their outcry for secularism, crocodiles tears for human rights and Mayday signals for authoritarianism are as comic as Charlie Chaplin movies . (2) Erdogan harmonized Islam with democracy and capitalism, a new ideological system and world view which is feared by EU/Western powers as the biggest threat to Western domination of an unjust world and capable of replacing Western civilization resting precariously on false claims of Judeo-Christian values. There is no myth more pernicious and more deceptive than the myth that Islam is incompatible with Judeo-Christian (ethical) values and worldview. Islam is nothing more and nothing less than reconfirmation of the original Abrahamic faith which is the central theme of the Quran.

    Erdogan is a Messiah for democracy, while democracy remains hostage in the West, placed in the most advanced chemistry lab and being mutated into a Frankenstein facilitating the ascendency of hyper nationalistic fascist leaders. He is untouchable except by God only. Let the Zionist power controlling BBC get stewed in their frustrations from their failure to eliminate Erdogan by this nefarious coup attempt.

    1. ১.১
      এম_আহমদ

      A very apt and insightful sketch on Turkey, with a run of its past and present, and the position of its struggle. I enjoyed reading it.

  2. মাহফুজ

    তুরস্কের জনগণ যেন তাদের স্বাধীকার ও স্বকীয়তাকে রক্ষা করতে পারেন সেই কামনাই করছি। বিপদ এখনো কাটেনি। তাই পা সাবধানেই ফেলতে হবে। বিশেষ করে নেতৃত্ব নির্বাচনে ভুল করা চলবেনা।

    //সময়ের আবর্তে আজ মুসলিম বিশ্ব এমন এক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে যে সারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রে স্বৈরাচারী শক্তির কাছে সবাই বন্দী এবং তাদের কাছে মুসলিম দেশের জনতার শক্তি পরাজিত। বলতে গেলে প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের চর্চা, জনতার সেবা অর্থাৎ জনকল্যাণ সমৃদ্ধ কোন আদর্শ নাই।// -সহমত

    //কিভাবে জাতীয় আন্দোলন তথা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করতে হয় বাঙ্গালীদের সেই বুদ্ধি ও দূরদৃষ্টি নাই আর হবে বলেও মনে হয় না।//—-এ ধরনের সস্তা সেন্টিমেন্টের সাথে সহমত হতে পারলাম না।
    রাজনীতির ময়দানে মিনিমাম আস্থা অর্জনের চেষ্টা না করেই রাস্তায় জনতার ঢল আশা করাটা কি ঠিক? বিশেষ করে সুবিধাবাদী চক্র যখন ক্রীয়াশীল থাকে তখন তাদের অনুসারীরা ছাড়া আম জনতার ঢল আশা করাটা বোকামী। এরদোগান সাহেব ব্যক্তি হিসেবে কেমন তা আমার জানা নাই। তবে তিনি যে তার দেশের জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং জনগণের ঐক্যকে ধরে রাখতে পেরেছেন তা প্রমাণীত হয়েছে। এরূপ আস্থা পেলে প্রয়োজনে বাংলীরাও যে মাঠে নামতে পারে সে বিশ্বাস আমার আছে।

  3. Manzoor Ahmad

    তুরস্কের ঘটনা থেকে আসলে এটাও শিক্ষণীয় যে  কট্টরপন্থী মুসলিম নেতৃত্বের কোনও রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন না। মধ্যপন্থী, সহনশীলতা, খোলা মানসিকতার ও আধুনিকতার  লক্ষণ বিশেষ করে দূরদর্শিতা মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত ইসলামপন্থী বা ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পূর্ণই অনুপস্থিত। রিসেপ তায়িপ এরদোগান এবং তার দলে ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সুশাসন ও সাম্য সঙ্গে মিলিত আধুনিকতার একটি সুন্দর মিশ্রণ আছে. এই কারণে তার বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান তুরস্কের মানুষ সমর্থন করে নাই। আর কুর্দি ফ্যাক্টর সবসময় তুরস্কের স্থায়ী অস্থিরতার কারণ থাকবে।

    আজ পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশে এধরনের সামরিক অভ্যুত্থান ঘটছে দেখলে তা প্রতিহত করতে ডাক দিলে এভাবে সাড়া পাওয়া কখনও সম্ভব হবে না এবং জনগণও এভাবে রাস্তায় নামবে না। আর সে জন্য আমাদের অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত লোভী ও অদূরদর্শী এবং বিদেশী রাষ্ট্রের তাবেদার রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধন্যবাদ প্রাপ্য! তুরস্কের এই সামরিক অভ্যুত্থানের পিছনে বিদেশী কারা জড়িত তাও এখন প্রকাশ পাচ্ছে।

    1. ৩.১
      মজলুম

      কথা সত্য। মুসলিমরা যখন সুপার পাওয়ার ছিলো তখন তারা সহনশীলই ছিলো। সেই আব্বাসীয় খেলাফত, উসমানি খেলাফত ছিলো সহনশীতলার উত্তম উধাহারন। ইসতাম্বুল বিজয়ী সুলতান মুহাম্মদ ফাতেহ বা সালাহউদ্দিন আওয়ুবীরা ছিলো এর উত্তম উধাহারন। ইসতাম্বুলের দূর্গের দেয়াল ভাঙার জন্যে যে কামান লাগে, সেই রকম কামান বানানোর কারিগর ছিলো এক গ্রীক খ্রিষ্টান, তার সাহায্যেই ফাতেহ ইস্তাম্বুলের দেওয়াল ভাংতে সক্ষম হয়েছিলো। বা সেই খ্রিষ্টান মেয়েটি যে ক্রুসেড যুদ্ব করতে এসেছিলো সালাউদ্দিনের বিরুদ্বে স্বামী ও ছোট বাচ্ছা নিয়ে। এক সময় সালাদিনের সৈন্যদের হাতে সে  গ্রেফতার হয়, কিন্তু হারিয়ে যায় তার ছোট বাচ্ছাটি। সালাদিন নিজ সৈন্য দিয়ে খুঁজে নিয়ে আসলেন তার বাচ্ছাটিকে, পরে তাদের মুক্ত করে দিলেন।  সালাদিন এবং ফাতেহ, দুজনই ছিলেন সে সময়কার সকল মুসলিম ফেরকাগুলোকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার উধাহারন। সাধারন মানব মন চরমপন্হাকে গ্রহন করেনা। কট্টরপন্হা কিছু সময়, কিছু লোকের উপর প্রভাব বিস্তার করলেও সব সময়ের জন্যে, সকল মানুষের উপর হয় না। 

  4. Shahjahan Omar

    দৈনিক প্রথম আলোতে তুরস্কের ব্যর্থ সেনা অভ্যুথান নিয়ে একটা বিশ্লেষণমূলক আর্টিকেল ছাপা হয়েছে! স্বভাবতই এই আর্টিকেলটা পড়লে একজন সুস্থ বিবেকবান মানুষ উত্তেজিত হয়ে যাবে! সেখানে বলা হয়েছে, তুরস্কের সেনা অভ্যুথান ছিল ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠা ইসলামপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে অস্বস্তির বহিঃপ্রকাশ! আচ্ছা, অজনপ্রিয়তার সংজ্ঞা কি? এককভাবে ৫২ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা একজন শাসকের সামান্য টুইট কিংবা ভিডিওবার্তায় মধ্যরাতে ঘুম ছেড়ে লাখো আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা ঘর ছেড়ে খালি হাতে রাস্তায় সেনাবাহিনীর মোকাবিলা করে কিংবা ট্যাংকের সামনে শুয়ে পড়ে, সেই শাসক অজনপ্রিয়? তাহলে জনপ্রিয় কারা?  

  5. এম_আহমদ

    কিভাবে জাতীয় আন্দোলন তথা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করতে হয় বাঙ্গালীদের সেই বুদ্ধি ও দূরদৃষ্টি নাই আর হবে বলেও মনে হয় না। আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ল্যাভেল প্ল্যেইং ফিল্ড তৈরি করা বড় দরকার,  না কোন বিশেষ ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসানো দরকার?

    শুধু বলার খাতিরেই দুটি কথা বলতে যাচ্ছি। আমাদের মনে রাখা দরকার যে এখন আমাদের দেশগুলো আমেরিকান সাম্রাজ্যের অধীনে। বাংলাদেশের ব্যাপারটি আরও নাজুক এজন্য যে তা স্তরের দিক দিয়ে ভারতী ঔপনিবেশিকতার খপ্পরেও। এর চেয়ে আরও নাজুক হল এই দেশের লোকদের মানসিকতা। ‘মিথ্যা ভাষণ, প্রবঞ্চনা, চৌর্য, ছদ্ম-বৈরাগ্যভাব, চাতুর্য, সুবিধাবাদ এবং সুযোগ সন্ধান, তোয়াজ ও তদ্বির-প্রবণতা প্রভৃতির প্রাবল্য এবং আত্মসম্মানবোধের অভাব (আহমদ শরিফ, ১৯৯২), ইত্যাদিই প্রবল। তারপর আছে কিছু না করেই বীরত্ব দেখানোর প্রবণতা, যুদ্ধ না করেই কোনোভাবে যোদ্ধার গৌরব অর্জন, কোনভাবে ‘সৈনিক’ সাজা (এতে অন্যের রক্ত ঝরায়েও), নিদেনপক্ষে সুর-সৈনিক, স্বর সৈনিক, নাট্য-সৈনিক ইত্যাদি সংযুক্তিতে আসা, (তবে এক ভণ্ড যুদ্ধ আবিষ্কার করে হাজারও সৈনিকের কথা না হয় বাদই দিলাম)। তারপর আহমদ শরীফের দেখা আরেকটি অতীত সামনে রাখলে আরও বিমর্ষ হতে হয়, “প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে যেসব বণিক-পর্যটক-প্রচারক বাঙালাদেশে এসেছে তারা বাঙালীকে ভীরু, মিথ্যাভাষী, প্রতারক, কলহপ্রিয়, দরিদ্র ও চোর বলে জেনেছে” (প্রাগুক্ত) –আজ এইসব প্রকৃতি সামনে রেখেও কাজ করতে হবে। একদিন আমার ভাতিজা এসে বলল, ‘চাচা আমি তার সাথে  (একজন বাঙালীর সাথে) ট্যাক্সি রেঙ্কের মালিকের (পাকিস্তানী) খারাপ আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে মালিকের সাথে অনেক কড়া-কথা বললাম এবং আরও বিহিত কিছু করার জন্য তার সাথে (বাঙ্গালির) প্ল্যান তৈরি করলাম, কিন্তু বিকেলে দেখি মালিকের গাড়িতে বসে সে ফিসফিসি করছে আর খিতে আত্মহারা! আর মধ্যখানে আমার অবস্থানটা …!’ আমার জীবনেও এমন কয়েকটি ঘটনা রয়েছে। আমি বললাম সতর্ক থেকো, এটা জাতীয় চরিত্র। তবে শাপলা জাতীয় ফুল হলেও এটা অন্য জাতীতেও আছে।

    আজকে বাংলার প্রেক্ষিতে বাংলার চরিত্রই সামনে রেখে চলতে হবে। রাজনৈতিক সকল চিন্তা-ভাবনা সীমার মধ্যেই করতে হবে। বড় কিছু আশা করতে পারেন না।  ইসলামি রাষ্ট্র, ইসলামি খিলাফত –এগুলো বৈশ্বিক সাম্রাজ্যের অধীনে কস্মিনকালেও সম্ভব নয়, তবে অনাগত কালের লোকদের জন্য অতীতের এই ধারণাগুলো লেখনীতে (একাডেমিক আকারে) সচল রাখা যেতে পারে। কিন্তু যা চাইবার তা এই বৈশ্বিক সাম্রাজ্যের অন্তর্গত মূল্যবোধের ভিত্তিতে চাওয়া হতে হবে। গণতন্ত্রের কথা বলা যেতে পারে; সাম্যের কথা বলা যেতে পারে; ধর্মীয় সহিষ্ণুতার কথা বলা যেতে পারেন, ন্যায়-ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার কথা বলতে পারেন। এই মূল্যবোধগুলোকে আবার শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রযন্ত্রসমূহে ধারণের কথাও বলতে পারেন। মনে রাখতে হবে, ইউরোপের রাষ্ট্র ব্যবস্থা যেহেতু আধুনিক কাল থেকে (ষোল শো শতাব্দী) ইসলামী রাষ্ট্র-ব্যবস্থার অনেক মৌলিক বিধিবিধান আত্তীকরণ ও আত্মস্থ করেছে তাই এগুলোকে আপনি পুনরায় গ্রহণ করাতে মূল ধারার কিছু  বৈশিষ্ট্যে প্রত্যাবর্তন করছেন। অতঃপর আপনার সমাজে যদি এই মৌলিক নীতিগুলো প্রতিষ্ঠা করতে পারেন –তবে এটা কি সোনায় সোহাগা নয়? কাজে কাজি, নামে নয়। একটি ভূখণ্ডে ইসলাম প্রতিষ্ঠার অর্থ নীতিমালারই বাস্তবায়ন –এই আঙ্গিকের কথা বার্তায় অনেক রূপকতা থাকে, তাই শব্দের টানাটানিতে যেতে নাই। 

    কিন্তু বৈশ্বিক সাম্রাজ্য আপনাকে এগুলোও করতে দেবে না। আবার ‘প্রকাশ্যে’ এগুলোর বিরোধিতাও করতে পারবে না। আমাদের ধারণা কি এই যে বিশ্বশক্তি এরদোগানকে চায়? মোটেই না। বরং সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে জঙ্গিবাদের আওয়াজ তুলুক, ধর্মীয় উগ্রতা প্রতিহতের কর্ম পদ্ধতি হাতে নিক, গণতন্ত্র দিচ্ছি/দেব –এই আশ্বাস দিতে থাকুক এবং এভাবেই কালের যাত্রা চলতে থাকুক –এটাই তাদের কাছে শ্রেয়।  আল্লাহর মাহেরবাণীতে এরদোগান এই দফা বেঁচে গেছেন, না হলে এখন তিনি এবং তার সঙ্গীরা জেলের ভিতর থাকতেন, এবং বিচারিক-চরকা তাদের বিপক্ষে দ্রিম-দ্রিম করতে থাকত।

    আজকের মুসলিম দলগুলো উল্লেখিত মৌলিক সামাজিক নীতির ভিত্তিতে একত্রিত হোক, যে নীতিগুলো গোটা মানবতাকে ধারণ করে। আপাতত তো আপনি এগুলোই পাচ্ছেন না। আপনি কেন আকাশচুম্বী চিন্তায় দলে দলে বিভক্ত থাকবেন? মানবতাশুন্য বিরান ভূমিতে কিসের ধর্ম?

    1. ৫.১
      মহিউদ্দিন

      ধন্যবাদ ভাই, 
      খুবই সুন্দর ভাষায় আমার মনের কথাগুলা সংক্ষেপে প্রকাশ করেছেন।

      এটাই হচ্ছে কথা তাই তো দেখি একে পার্টির লোকজন ধর্মীয় পরিভাষার পরিবর্তে আধুনাকালের প্রচলিত্য শব্দ ব্যবহার করেন, তাদের পাটির নামও হচ্ছে জাস্টিক এণ্ড ডেভেলপম্যান্ট পার্টি, এখানে ইসলামি কোনো বিশেষণ নেই। তারা খিলাফত কায়েম করতেও বলেন না এবং এমন কোন ভাষায় কথা বলে না যাতে করে ইসলামের বিপক্ষের লোকজন শংকিত হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এতেও বিশ্বের বড় বড় মিডিয়া তাদেরকে সন্দেহের চোখে দেখে।

      কথা হচ্ছে, নামে কি আসে যায়, কাজ হল মূল। অযথা চিৎকার করেও কিছু হয় না, শুধু শুধু ইসলামের শত্রুদের পেনিক বাটনে চাপ দেয়া হয় এবং তাদের আক্রমণের শিকার হওয়া ছাড়া কিছু না। "ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার" হয়ে কি লাভ?  আর মিডিয়াকে  " তাণ্ডবের হুতা "বলার সুযোগ করে দিয়ে কি লাভ? 
       
      First thing’s first. ইসলাম পৃথিবীতে এখন নতুন কিছু নয়। মুল ধারার ইসলামের আদর্শ এখন লুকানো কিছু নয় এবং এর বাস্তবায়ন কোন জন গুষ্টির অর্থ সামাজিক কি পরিবর্তন আনতে পারে তা সমাজ বিজ্ঞানীরা ভালভাবেই জানেন। এখনকার অবস্থা আর রাসুলের যুগ এক নয়। কেউ ইসলাম না বুঝলে তাকে বুঝান ভাল কথা। কিন্তু রাজনীতিতে আপনার প্রাধান্য থাকতে হবে বিশ্বজনীন মৌলিক নীতিমালা যা সবারই কাম্য আর সেটা অর্জন করতে পারলেই আপনার ভাষায় আমিও বলছি, "কাজে কাজি"। অবশ্যই সোনায় সোহাগা।

      গণতন্ত্র কতটুকু ইসলামিক এবং কতটুকু নয় -সেটা আপনার একাডেমিক আলোচনায় রাখতে পারেন, কিন্তু গণতন্ত্র বর্তমান বিশ্বে বাস্তবতা, যদিও এটার সঠিক প্রতিফলন মুসলিম দেশে প্রতিষ্ঠিত না হোক  এটাই বিশ্ব মোড়লরা অন্তরে চায়। এ কথা বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। কিন্তু মুসলিম দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন তারা প্রকাশ্যে অগ্রাজ্য করতে পারবে না। অতএব সে সুযোগ আপনাকে নিতে হবে এবং আপনার লেবাস দেখে ওরা যদি আপনাকে অন্য কিছু ভাবে তাহলে সেটা পারলে বদলান, না পারলে এরদোগানের মত একজন নেতা খুঁজেন।

      তাই বর্তমান সময়ের দাবী হচ্ছে মধ্যপন্থী, সহনশীলতা, খোলা মানসিকতার ও আধুনিকতা ধারণ করেই আপনাকে অগ্রসর হতে হবে। ইসলামের বিশ্বজনীন আদর্শকে কিছুটা হলেও ধারণ করে পশ্চিমারা যদি এতটুকু অগ্রসর হতে পারে, তাহলে মুসলিমরা কেন আরো এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারবে না?

      রাসুলের যুগের সবকিছুকে এই যুগে কপি পেইষ্ট করাকে আমাদের ঈমানী জজবা ও আবেগে স্থান পেতে পারে কিন্তু সেটা যে অনেকের কাছে সেরকম মনে হয় না তা মেনেই আমাদেরকে তাদের সাথে মিলে মিশে চলতে হবে বৈষয়িক বিষয়ে। রাসুলও ইহুদীর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন।

      সে দিন ফেইস বুকে এক লোক বলছে তুরস্ক ন্যটোর সদস্য তাই এরদোগানও একজন জায়নিষ্ট, তাকে মুসলিম নেতা যারা বলে তারা গোমরাহ। আরেক জন বলে, তার চেহারায় তো তাকে মুসলিম বলে মনে হয় না! প্রথম কথা হচ্ছে ন্যটো একটি সামরিক জোট এটা আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা সিআইয়ে বা জায়নিষ্ট মোসাদও নয়। তুরস্ক তার নিরাপত্তার জন্য কোন সামরিক জোটে যোগ দিতেই পারে। আফগানিস্তানের যুদ্ধে যাওয়ার জন্য যখন তুরস্ককে চাপ দেয়া হয় এরদোগান তখন ভদ্রভাবে দু:খ প্রকাশ করে অপরাগতা জানিয়ে দেন। সম্প্রতি  তুরস্ক তাদের দেশের বৈষয়িক স্বার্থে  রাশিয়া ও ইসরাইলের সাথেও  বেশ কিছু বিষয়ে চুক্তি করেছে তাই বলে কি কোরআনের সুরা মা'য়েদার সে আয়াতকে অস্বীকার করা হয়ে গেল যেখানে অমুসলিমকে বন্ধু হিসাবে না নিতে বলেছেন মহান আল্লাহ? ফেইসবুকে একথা বলে এরদোগানের  বিরুদ্ধে বিষদগার করতেও দেখছি!  এই হচ্ছে আল্লাহর কালাম বুঝার আমাদের ব্রেইন!       

      আমরা যেন একটা গর্তে পড়ে সবাই একে অন্যের সাথে বিবাদে লিপ্ত আছি। কেউ উপরের দিকে উঠতে চাইলে তাকে টেনে-টুনে নামিয়ে দিচ্ছি।

      পশ্চিমারা এরদোগানকে কিভাবে মূল্যায়ন করে এখানে দেখতে পারেন।
      http://www.bbc.com/news/world-europe-13746679

      আর এরদোগানের বিরুদ্ধে অবৈধ সামরিক অভ্যুথান কেন আমেরিকার একটি মহলের কাম্য তা FOX TV Talk Show শুনলেই বুঝা যায়।
      https://www.facebook.com/AlmirColan.Page/videos/1198895983475174/

      1. ৫.১.১
        মজলুম

        তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য সেই ৫০ এর দশক হতে, এমনকি জার্মানীর ও আগে তুরস্ক ন্যাটোতে যোগ দেয়।  তখন জর্জিয়া দেশটি ছিলো সোভিয়েতের দখলে, মানে তুরস্কের বর্ডারে ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়ন। স্নায়ুযুদ্বে তুরস্ক ছিলো ফ্রন্ট লাইন। তুরস্কে এখনো ৫০ এর ও বেশী B-61  পরমানু বোমা রয়েছে ইনচিরলিক বিমান ঘাঁটিতে, যদিও তা আমেরিকান সৈন্যরা পরিচালনা করে এবং বোমাগুলোও আমেরিকার। এরদোগান ইচ্ছে করলেই ন্যাটো হতে বেরিয়ে যেতে পারেনা।  আফগানিস্তান যুদ্বে তুরস্ক যোগ দেয় ২০০১ এর ৭ ই অক্টোবরে  ন্যাটো সদস্য হওয়ার কারনে, কারন আমেরিকা ন্যাটোর আর্টিকল নাম্বার ৫ ডাক দেয়। এখনো আফগানিস্তানে তুরস্কের সৈন্য রয়েছে।  আর এরদোগান ক্ষমতায় আসে ২০০২ এ, অতএব তার কিছুই করার নাই। তবে ২০০৩ এর ইরাক যুদ্বে তুরস্কের কোন ঘাটি বা মাটি এরদোগান সরকার আমেরিকাকে ব্যবহার করতে দেয় নাই। সেই জ্বালা আমেরিকার এখনো আছে। ফেতুল্লাহকে দিয়ে যে ক্যু সিএইএ সাজিয়েছে, খুব অল্পের জন্যে এরদোগান বেঁচে গেছে। রাখে আল্লাহ মারে কে!  এখন দেখা যাক এই ক্যু কি ভেনেজুয়েলার হুগো শ্যাভেজের উপর করা ক্যু এর মতো আমেরিকার উপর কিভাবে ব্যাকফায়ার করে। যদিও এরদোগান বসে আছেন ২০২৩ সালের জন্যে, যখন ১০০ বছর আগে ১৯২৩ সালে পরাজিত তুর্কিদের উপর অনেকগুলো গোলামি চুক্তি পরিয়ে দিয়েছিলো বিশ্ব মাতাব্বরেরা এবং সেই ১০০ বছরের গোলামি চুক্তিগুলো শেষ হবে ২০২৩ সালে। 

      2. শামস

        গুরুত্বপূর্ণ একটা তথ্য বাদ গেছে। ৫০ বছরের বেশী সময় ধরে আইএমএফ এর যে ঋণ ছিল তা ২০১৩ সালে তুরষ্ক মিটিয়ে ফেলে। এরদোয়ান ২০০২ তে ক্ষমতায় আসার সময় ঋণ ছিল ২৩.৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার – এখন সেই নাগপাশ থেকে মুক্ত। 

        এরদোয়ান এর মতো এতো জটিল পরিস্থিতিতে খুব কম শাসক আছে, তারপর আবার মুসলিম। ভূরাজনৈতিক কারণে এশিয়া এবং ইউরোপের মাঝে, জটিল অবস্থানে। সাইপ্রাস নিয়ে গ্রীস এর সাথে দ্বন্দ্ব অনেকদিনের, তৎকালীন গ্রীস এর কনস্টানটিনোপাল এখন তুরষ্কে, পাশে রাশিয়ার হুঙ্কার, আর পাশ্চাত্যের হুকুমদারী। তার উপর দেশে শক্তিশালী সেক্যুলার গোষ্ঠী। রাষ্ট্র হিসেবে তুরষ্ক সেক্যুলার ইন্সটিটিউশন, কিছু কোড আছে যেগুলোর বাইরে এরদোয়ান কেন, তার চেয়ে অনেক ক্যারিশম্যাটিক কারো পক্ষে বুঝে চলা কঠিন। ইসলামকে পুরোপুরি সেক্যুলার বানানো কামাল আতাতূরক এর ছবি এখনো তার পেছনে সবসময় দেখা যায়। 

        এরদোয়ান এখনো নিরাপদ কিনা সেটা বলার সময় আসে নাই। তবে ফিলিস্তিনিদের যে আরো বিপদ অপেক্ষা করছে সেটা নিঃশঙ্কোচে বলা যায়। গাজার অন্যতম বড় ডোনার হল এরদোয়ান এর দল। মুরসী ক্ষমতায় এসে একমাত্র রাফা ক্রসিং খুলে দিয়েছিল, সিসি এসে সেটা বন্ধ করেই ক্ষ্যান্ত নয়, গাজার লাইফ লাইন টানেলগুলো ইসরায়েল এর সহায়তায় ধবংস করে। 

        তবে এরদোয়ান এর একচ্ছত্র ক্ষমতা তার জন্য শুভ হবার নয়। একনায়কসুল্ভ আচরণ একসময় তাকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারে। আর সেই দূরে সরানোর জন্য নিজ দেশের লোকের অভাব নেই, তার উপর আছে দোড়্গোড়ার ইউরোপ। এরদোয়ান কতটুকু খেলতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়। 

         

      3. মজলুম

        সবচেয়ে বড় যে তথ্যটা বাদ গেছে তা হলো এবারের ক্যুটা হলো ইসলামিস্ট ফেতুল্লাহ গুলেন বনাম ইসলামিস্ট এরদোগান। দুজন আগে বন্ধুই ছিলেন, এক সাথে ওদের অনেক ছবি পাবেন নেটে। রেষারেষি শুরু ২০১২  হতে। তারপর হতেই গুলের অনুসারীরা এরদোগানের সরকার উৎখাতে অনেক ষড়যন্ত্র করে। এই ক্যুতে তুর্কি সেক্যুলার এবং সেক্যুলার পার্টির লোকজন বরং এরদোগানকেই সমর্থন দিয়েছে। আর কামাল আতাতুর্ককে একেপির ডাইহার্ড সাপোর্টারকেও দেখেছি পছন্দ করতে। তুরস্কের বেশীরভাগ লোকই কামাল আতাতুর্ক  কে পছন্দ করে। তার কারন ও আছে। সংক্ষেপে বললে, সে না হলে আজকে তুরস্ক বলে কোন দেশ ও থাকতো কিনা সন্দেহ। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বে পরাজিত অক্ষশক্তির দেশগুলো মিত্র শক্তিরা দখল করে নেয়। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্বে পরাজিত হলেও মিত্রশক্তির বিরুদ্বে অভূতপূর্ব যুদ্ব করে তুরস্কের মূল ভুখন্ড রক্ষা করে আতাতুর্ক।  

  6. মহিউদ্দিন

    সদালাপের সম্মানিত পাঠক ও ব্লগারদের যারা এ পোষ্টে উৎসাহ নিয়ে মন্তব্য করে যাচ্ছেন বা করতে চাচ্ছেন সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ। সময়ের অভাবে সবাইকে আলাদা আলাদা করে জবাব দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে দুঃখিত।

    আমি মনে করি বিশ্বের চলমান ঘটনা প্রবাহের পর্যবেক্ষণে আপনাদের প্রচেষ্টা এবং মূল্যবান সময় দেয়া প্রশংসার দাবী রাখে। আমরা সবাই একে অন্যের অভিমত থেকে অনেক নতুন কিছু শিখতে পারছি। তুরস্কের সাম্প্রতিক এ ঘটনা মুসলিম বিশ্বের জন্য, বিশেষ করে তুরস্কের গণতন্ত্র রক্ষায়, নিঃসন্দেহে, এক ইতিহাস-গড়া ইভেন্ট।

    কিছুক্ষণ আগে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের লাইভ ইন্টার্ভিউ দেখার সুযোগ হয়েছিল। কেউ ইচ্ছা করলে রেকর্ড শুনতে পারেন, আল-জাজিরা ইংলিশ সাইটে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন অত্যন্ত দৃঢ়তার সহিত।

    এরদোগান তুরস্কের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় স্থান করে নিয়েছেন তাই অনেকে লিখছেন, "তিনি কামাল আতাতুর্কের ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কে ইসলামের পতাকা উড্ডয়ন করে স্বমহিমায় আবির্ভূত হয়েছেন। সকল বাধা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা তার গতি এখন দুর্নিবার-দুর্বিনীত। তিনি তুর্কি জাতির মুক্তির জন্য হাতে তুলে নেন এক আলোকবর্তিকা। তার মধ্যে যে আলোর স্ফুরণ ঘটেছে, তা অবিস্মরণীয় এবং শিক্ষণীয়। তাই কালের আবর্তনে ও প্রয়োজনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এখন নায়ক থেকে মহানায়ক।" কিন্তু তার পিছনের শত্রু শক্তি এখন অন্যভাবে কুপরিকল্পনায় ব্যস্ত।
     
     

  7. কিংশুক

    এরদোগান এখন নির্বাচিত স্বৈরাচারের মতো আচরণ করছেন । উনি ও উনার দল অনেক সংগ্রাম, আত্মদান, ধৈর্যের জিহাদ অর্থাত্ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তুরস্কের অনেক শক্তিশালী, বৃহত্  কর্মী বাহিনী সমৃদ্ধ বাম দল ও সূদীর্ঘ কালের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত  কামালিস্ট সেকুলার (সত্যিকারের সেকুলার ) , সেনাবাহিনীর সাথে জিহাদ করে এক যুগের বেশি সময় ধরে জণগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আছেন এবং সফল ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন । কিন্তু উনার দলের ক্ষমতায় আসার পিছনে গুলেন আন্দোলনের অনেক অবদান আছে। ফেতুল্লাহ গুলেন ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গকারী ব্যক্তি, ইসলামের  খাদেম। অভূত্থান ঘটালো আর্মি আর কিভাবে হাজার হাজার বেসামরিক শিক্ষক, বিচারক, সরকারি কর্মচারী বরখাস্ত হয়? তারা বিরোধী মতের হতে পারে তাই বলে তাদেরকে বরখাস্ত করা স্পষ্ট জুলুম। এই জুলুমকে সমর্থন করলে জেনারেল সিসির জুলুমের ব্যপারেও চুপ থাকতে হয় (অবশ্য সিসি গণতান্ত্রিক সরকারকে উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখল করে হাজার হাজার ব্রাদারহুড নেতা কর্মীকে জুডিসিয়াল ক্যু এর মাধ্যমে ফাঁসির আদেশ, দল নিষিদ্ধ,  সম্পদ স্কুল কলেজ বাজেয়াপ্ত করে অত্যাচারী একনায়কত্ব কায়েম করেছে)। এভাবে গণ শাস্তির মাধ্যমে এরদোগানও গণতন্ত্র, আইনের শাসনের লংঘন করছেন । সত্যের জন্য নিজের মা বাবা ছেলে মেয়ের বিরুদ্ধেও স ্বাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ কোরআন মজিদে রয়েছে । হাজার হাজার মানুষ বিচার ছাড়াই শাস্তি প াওয়ার বিরুদ্ধেও সবার প্রতিবাদ করা উচিত ।

  8. দস্তার রাজদরবার

    যাঁরা এরদোগানের কঠোরতার বিরোধিতা করেন তারা হয়তবা জানেন না তুরষ্কে সেক্যুলারদের ইতিহাস!
    ==
    তুরষ্কের কামালের শাসন চলাকালীন সময়ে টুপি মাথায় কাউকে দেখলে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হতো। স্কুলের বাচ্চাদেরকেও টুপির পরিবর্তে ইউরোপীয়দের মতো হ্যাট পড়তে বাধ্য করা হয়। কোনো এক স্কুলের বাচ্চাদের টুপি খুলে হ্যাট পড়তে দিলে বাচ্চারা তা ছুড়ে ফেলে। কামালের নির্দেশে সে স্কুলের সকল (৬০০-৭০০) শিশুকে স্কুলের পেছনে ঝর্ণার কাছে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।  

    যারা মুসলমান দাবি করেও তুরষ্কের সেক্যুলারদের প্রতি এরদোগানের কঠোরতা দেখে ইতস্তত করছে, তারা এইসব ইতিহাস জানে না। তুরষ্কে খিলাফত বিলুপ্ত করার পর কুর্দীদের একজন ধর্মীয় নেতা শেখ সাইদ পীরান তার অনুসারীদের নিয়ে ইসলামবিদ্বেষী কামালের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। কামাল (লানাতুল্লাহি আলাইহি) সেই বিদ্রোহকে কঠোর হস্তে দমন করে এবং বিদ্রোহীদের গণফাঁসি দিয়ে শহীদ করা হয়। বিদ্রোহের নেতা শেখ সাইদ পীরানকেও ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শহীদ করা হয়। (http://goo.gl/PnBT9y) ‘শেখ সাইদ রেবেলিয়ন’ নামে পরিচিত এই বিদ্রোহে কামাল প্রায় ৪০ হাজার থেকে আড়াই লাখ মুসলমানকে শহীদ করেছিল বলে উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে। 

    তুরষ্কের তিনবারের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন আদনান মেন্ডারিস। কামালের সময় হতে আরবীতে আযান দেয়া নিষিদ্ধ ছিল, আদনান মেন্ডারিস আইন পাস করে ফের আরবীতে আযান দেয়ার অধিকার ফিরিয়ে আনেন। সে কারণে সেক্যুলার আর্মি তার বিরুদ্ধে ক্যু করে তাকে উৎখাত করে। আদনান মেন্ডারিসকেও ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শহীদ করেছিল সেক্যুলাররা। 

    আজকে মুসলমানদের নেতা হিসেবে এরদোগানের কর্তব্য, পূর্বের সেক্যুলার ও নাস্তিকেরা মুসলমানদের উপর যে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল তার প্রতিশোধ নেয়া। এরদোগান যেন ইইউ আর ন্যাটোকে উপেক্ষা করে মৃত্যুদণ্ডের আইন পাশ করে সেক্যুলারদের শাস্তি দেন, মুসলমানদের সেই আহবানই জানাতে হবে। মিশরের মুরসি নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রশাসন ও মিলিটারি থেকে সেক্যুলারদের সরানোর কঠোরতা দেখাতে পারেননি, ফলশ্রুতিতে যা হওয়ার তা সবাই দেখেছে। এরদোগান নিশ্চয়ই অন্যদের মতো সেই ভুলটি করবেন না।

    1. ৮.১
      কিংশুক

      সেকুলার মানে যে ইসলামের কথা বললেই মেরে ফেলার দল তা আগে জানতাম না। এরকম মানুষ নামের পশু যে পৃথিবীতে ছিল আর তার নাম যে আতাতুর্ক তা কয়জনে জানে? কামাল আতাতুর্ককে তুরস্কের জাতির পিতা, আধুনিক তুরস্কের জনক ইত্যাদি না বলে হিটলার,  মুসোলিনি,  লেলিনদের মতো কসাই বলা উচিত । 

  9. মহিউদ্দিন

    তুরস্কে  ক্যু-প্লটারদের সফলতার ভয়াবহতা যে কি হতে পারত তুরস্কের জাতীয় স্বার্থ বিরুদ্ধে বিশেষ করে ইসলাম ও মুসলিমদের অগ্রযাত্রা রুখে দাড়াতে  তা অনুধাবন না করতে পারায় আজ অনেকেই পশ্চিমা মিডিয়ার প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাস করে আবেগে আপ্লুত হয়ে এরদোগানের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করছেন। এরা এটাও জানতে চান না যে এই ক্যু ছিল পূর্ব পরিকল্পিত অনেক বিদেশী শক্তি এর পিছনে ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরাচারী দেশগুলার পত্রিকার হেডিং ছিল যে এ ক্যু সফল হয়ে গিয়েছে বলে এবং বলা হয় "এরদোগান জার্মানিতে পালিয়ে গেছেন"!

    এরদোগান তার দেশে জরুরী অবস্থা জারী করে এই ক্যু এর পিছনে দেশের ভিতরে কারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল তাদেরকে খুঁজছেন। এদেরকে বিচারের ব্যবস্থায় আনা হবে এবং যাদেরকে সন্দেহ করা হচ্ছে এরা দুষী প্রমাণিত হলে শাস্তি দেয়ার কথা এরদোগান বলেছেন।

    পশ্চিমারা কেন তুরস্কে গণতন্ত্র বিরোধী এ ধরনের ভয়াবহ সেনা অভ্যুত্থানের ব্যাপারে নীরব বরং এ অভ্যুত্থানের পক্ষে তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন   কায়রোর আমেরিকান ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে  স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রাপ্ত মুস্তাফা সালামা। তিনি একজন মিশরীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কনসালটেন্ট এবং ফ্রি-ল্যান্স লেখক। তার লিখাটি এখানে পড়তে পারেন যদি আপনি সত্যি তুরস্কের একে পার্টি ও এরদোগানের ব্যাপারে জানতে চান।

    তুরস্কে কি হচ্ছে তা বুঝতে হলে তুরস্কের টিভি দেখতে পারেন অনলাইন

    ফাতুল্লাহ গুলান মুভমেন্ট তুরস্কে বিকৃত ইসলামী মতবাদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ধর্মীয় কাল্ট যারা প্রশাসনের সকল স্তরে বিস্তার করে আছে এদেরকে প্রশাসনের ভিতর থেকে নিশ্চিহ্ন করা এখন সময়ের দাবী তুরস্কের জাতীয় ঐক্যের খাতিরে ও অর্থনৈতিক ও ইসলামী আদর্শের উন্নয়নে যা এখন তুরস্কের মানুষ বুঝতে পারছে। এদের ঘাটি যুক্তরাষ্ট্রে এদের নেতাকে এরা মেহদী বলে দাবী করে। ভক্তরা যা বিশ্বাস করে তার সাথে মুল ধারা ইসলামের আদর্শের কোন মিল নাই। সে দিন আমার বাড়ীর পাশের মসজিদের একজন নিয়মিত মুসল্লি তুরষ্কের  ভাইয়ের কাছ থেকে ফাতুল্লাহ গুলান মুভমেন্ট কি চিজ তা বুজতে পেরেছি।  Who is Fetullah Gulen?  জানতে এখানে কিছু তথ্য আছে। এরদোগানের বিরোধিতা করার আগে আমাদেরকে অবশ্যই সঠিক তথ্য জানার দরকার। 

    এক জন মুসলিম হিসাবে যে কোন তথ্য গ্রহণে আমাদের ঐতিহ্যগত হাদিস সংগ্রহের পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার অর্থাৎ তথ্য গ্রহণে সেটা বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে আসছে কি না তা দেখা জরুরী এবং যারা তা প্রকাশ করছে তার পিছনের অতিরঞ্জিতা বা কোন এজেন্ডা আছে কিনা তা বুঝার মত বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্বতা থাকতে হবে।  

     

    1. ৯.১
      কিংশুক

      এরদোগানের গৃহীত কর্মকান্ড ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্যু রোধ করতে সহায়তা করবে নিঃসেন্দহে । কিন্তু  এসব পদক্ষেপ অবশ্যই গণতন্ত্র,  মানবাধিকার ও আইনের শাসন বিরোধী। বিরোধী মতাবলম্বীদের যেমন স্বচ্ছ নির্বাচনে বিজয়ী সরকারকে অস্ত্রের জোরে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করা শাস্তিযোগ্য  অপরাধ  তেমনি অগণতান্ত্রিক উপায়ে তার বিচার করাও সঠিক না।

  10. ১০
    Qadaruddin Shishir

    বেচারার অতি সাদাসিধে চেহারা। বাপ-মা তার নাম দিয়েছেন ‘লাল মিয়া’। অথচ সারা শরীরের মধ্যে লালচে একটি দাগও নেই! অর্থাৎ, নাম লাল মিয়া হলেও চেহারায় লালচে ভাব থাকা বাধ্যতামূলক না।
    প্রথম আলো এই সুযোগ নিয়েছে। চোখে যথেষ্ট পরিমাণ আলো নেই। রাস্তাঘাট ঠিকঠাক দেখতে পায় না। এদিকে যেতে গিয়ে ওদিকে যায়। একটা দেখে আরেকটা বলে। কিন্তু নাম দিয়েছে ‘প্রথম আলো’! এ যেন ‘অন্ধ ছেলের নাম পদ্মলোচন’!
    আজকের সংখ্যায় প্রথম আলোর একটি রিপোর্ট “এরদোয়ান এ যুগের সুলতান সুলেমান?”
    চোখে যথেষ্ট পরিমাণ আলো নেই। রাস্তাঘাট ঠিকঠাক দেখতে পায় না। এদিকে যেতে গিয়ে ওদিকে যায়। একটা দেখে আরেকটা বলে। কিন্তু নাম দিয়েছে ‘প্রথম আলো’! এ যেন ‘অন্ধ ছেলের নাম পদ্মলোচন’!
    গতকালের সংখ্যায় প্রথম আলোর একটি রিপোর্ট “এরদোয়ান এ যুগের সুলতান সুলেমান?”

    এটি কোনো অনুবাদ নয়, একেবারে স্টাফ রাইটারের দ্বারা ‘পত্রিকার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি’র লেখা। প্রাচ্যের এবং বিশেষ করে মুসলমানদের সবকিছুকে ‘নিচ এবং অচ্ছুৎ’ হিসেবে দেখে এবং দেখিয়ে আসা পশ্চিমা ন্যারেটিভভিত্তিক লেখাটির খুবই নগ্ন নেতিবাচক শিরোনাম এবং ভেতরের সার্বিক কথাবার্তা নিয়ে অনেক কিছু বলা যেত। কিন্তু এখানে ওসব নিয়ে লম্বা গিয়ে সময় নষ্ট করছি না। শুধু একটা প্যারার অংশ বিশেষ তুলে ধরছি–
    “আইএসকে তাঁর নীরব সমর্থনের কারণ হিসেবে বলা হয়, সিরিয়া ও ইরাক থেকে লুট করা জ্বালানি প্রচলিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে তুরস্কের কাছে বিক্রি করে আইএস। এতে তুরস্কের অর্থনীতি অনেকটাই স্থিতিশীল থাকে। নিত্যপণ্যের মূল্য আয়ত্তে থাকায় জনগণও প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ওপর বেশ খুশি।
    জনগণের এই সন্তুষ্টিকে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে বেশ কৌশলে কাজে লাগিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।”
    রাতকানা রোগে আক্রান্ত হলে লেখালেখির বা সমসাময়িক দুনিয়ার ঘটনাপ্রবাহের খোঁজ খবর রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হয় বলে জানা নেই। তবে ‘তথ্যকানা’ বা এ জাতীয় কোনো রাগাক্রান্ত হলে তেমন সমস্যা হতে পারে। যেমনটা এই লেখকের হয়েছে।
    তিনি বলতে চাচ্ছেন, তুরস্কের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পেছনের একমাত্র কারণটি হচ্ছে আইএস’র কাছ থেকে কমদামে তেল কেনা। আর এই কম দামে তেল কেনার উপর নির্ভর করে কম দামে নিত্যপণ্য কিনতে পারায় সেখানকার মানুষ এরদোগানের ওপর খুশি। অর্থাৎ, আইএসের তেল কম দামে কিনতে না পারলে তুরস্কের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসতো না। এবং মানুষ না খেয়ে মরতো!!
    বাস্তবতা হচ্ছে, ২০১২/১৩ সালে আইএস এর উত্থানেরও এক দশক আগে ২০০২ সালে অর্থনৈতিক দন্যতার কারণে “sick man of Europe” খেতাব বহন করা তুরস্কের ক্ষমতায় আসে এরদোগানের দল একে পার্টি। ক্ষমতায় এসে তুরস্কের ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে আইএসের কাছ থেকে তেল কেনার ঘটনা শুরু হওয়ার (অভিযোগ হিসেবে) আগেই পর পর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে গেছেন এরদোগান। জনপ্রিয়তার চরমে পৌঁছে চতুর্থবার তার দল ক্ষমতায় আসার আগে তুরস্কের ইতিহাসে প্রথম সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বিপুলভাবে বিজয়ী হয়ে যখন দেশ পরিচালনা করছেন তখন মধ্যপ্রাচ্যে আইএসর উত্থান ঘটে পুরোদমে এবং এরও অনেক পরে ২০১৫ সালের দিকে জঙ্গি গ্রুপটির কাছ থেকে ব্লাক মার্কেটে তেল কেনার অভিযোগ উঠে।
    কিন্তু প্রথম আলো তাদের স্টাফ রাইটারের দ্বারা বাঙালি পাবলিককে শিক্ষা দিচ্ছে- আইএসের ঘাড়ে ভর দিয়ে অবৈধ তেলের কারবার করে জনপ্রিয় হয়েছেন এরদোগান! আর সেই কারসাজির জনপ্রিয়তা দিয়ে ক্যু টেকিয়ে দিয়েছেন! আইএস না থাকলে ক্যু’কারীরা ঢুঁ মেরে ফেলে দিত তাকে! আর তার জনপ্রিয়ও হয়ে ওঠা হতো না!
    রাতকানাকে মলা মাছ খাওয়ালে চোখের আলো বাড়ে। কিন্তু ‘তথ্যকানা’কে কী খাওয়ালে আলোকিত হবে কারো জানা আছে?

     

    1. ১০.১
      কামাল

      প্রথম আলো মুসলিম আর ইসলামের দুষমন একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। হিন্দুত্ববাদী পত্রিকা। যারা এরদোয়ানকে পছন্দ করে না-তারা সেকুলার এন্টি ইস্লামিস্ট।

  11. ১১
    মহিউদ্দিন

    জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রিয় রাষ্ট্রপ্রধানকে পশ্চিমা মিডিয়া এভাবে পচাতে সচেষ্ট হতে দেখা যায় না যেভাবে তারা এরদোগানের পিছনে লেগেছে! অন্য কোন শাসকের ব্যাপারে এমন নজির নাই তারা যতই নিষ্ঠুর কিংবা স্বৈরাচারী হউক না কেন! 
    পরিহাসের বিষয় হচ্ছে এই একই পশ্চিমা "বিশেষজ্ঞ", "বিশ্লেষক" এবং "মন্তব্যকারীদের" উল্লাসিত ভবিষ্যতবাণী বা তথাকথিত "সুচিন্তিত মতামত" আমরা দেখতে পাই গত তুর্কি নির্বাচনে। তারা বলেছিল যে একে পার্টির  উৎখাত হয়ে যাবে কিন্তু তাদের সে ধারণা ও ভবিষ্যতবাণী সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ হওয়ায় তারা দারুণভাবে হতাশ! তাই একে পার্টির অভিযোগ হচ্ছে তুর্কি  জনগণের ক্যু বিরোধী গণতান্ত্রিক বিজয়ের পর সেই একই মহল আবারও প্রতিশ্রুতবদ্ধ হয়েছে তাদের  সম্পূর্ণ ভুল ধারণাকে মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে যে প্রেসিডেন্ট এরদোগান তুরস্কে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় লিপ্ত হয়েছেন। 
    সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র ও জনপ্রিয় ইচ্ছার অনুকূলে পরিষ্কার নীতিগত অবস্থান প্রকাশের পরিবর্তে তারা ষড়যন্ত্রকারীদের F16s দিয়ে তুর্কি সংসদ বিল্ডিংয়ে বোমাবর্ষণ এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করাকে তেমন কোন অপরাধ গণ্য না করে তাদের পক্ষ অবলম্বন করতে চাচ্ছে।এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে এই লিংকে যেতে পারেন।

    তবে গুলেনপন্থীদের সমর্থক গুষ্টি তুরস্কের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে যেভাবে  থেকে বাসা বেঁধে আছে তা থেকে কিভাবে এরদোগান মুক্ত করবেন তার দেশকে সেটাই দেখার বিষয়।  আমরা আশা করছি কারো প্রতি অবিচার না করে দেশপ্রেমিক জনতার শক্তিতেই তিনি এগিয়ে যাবেন। তুরস্কের গনতন্ত্র ও জনতার শক্তি সুদৃড় করতে এরদোগান সকল বিরোধী দল সহ যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছেন তা প্রশংসার দাবী রাখে। তুরষ্কের দেশপ্রেমিক জনতা তার ডাকে সাড়া দিয়ে এখনও প্রতিদিন লাল পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করে যাচ্ছে সারা দেশে। গণতন্ত্রের পক্ষে জাতীয় ঐক্যকে বিনিষ্ট না করতে এবং  দেশী বিদেশী শত্রুদেরকে রুখে দাড়াবার জন্য এখনও মিছিল চালিয়ে যাওযার যে প্রয়োজন তা জনগণকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন এরদোগান। দেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠান থেকে গুলেনপন্থীদের অপসারন ও ক্যুয়ের সাথে জড়িতদের কঠোর বিচার করা, সামরিক বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এরদোগান, যার কোন বিকল্প নাই। অতএব দেশকে রক্ষা, কুচক্রীদের হাত থেকে তুরস্কের গণতন্ত্রকে নিরাপদ রাখতে তাকে কঠোর নীতি অবলম্বন করতেই হবে।

     

  12. ১২
    মহিউদ্দিন

    ফেতুল্লাহ গুলেন ও এরদোগান বিরোধের নেপথ্যের কাহিনী জানতে এ লিখাটি পড়তে পারেন।
     

  13. ১৩
    মহিউদ্দিন

    প্রখ্যাত আমেরিকান ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেম শেখ হামজা ইউসুফ  তুরস্কের ব্যর্থ মিলিটারি ক্যু এবং প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ব্যাপারে এক প্রবন্ধে খুবই সুন্দর যুক্তি সমৃদ্ধ কথা রেখেছেন।
    তিনি লিখেছেন, " আমি বলতে পারি প্রেসিডেন্ট এরদোগান মহান বিপদের মুখে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি উপেক্ষা করে অপরিমেয় সাহস দেখিয়েছেন, তার দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতে। তিনি সহজেই একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল পালিয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি রাজপথে নেমেছেন এবং তিনি তাঁর দেশের জনগণের কাছ থেকে ঠিক যা আশা করেছিলেন তা তিনি নিজেও তার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে উদাহরণ  রাখতে তাঁর নিজের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান ইস্তাম্বুল শহরে মানুষের সাথে রাস্তায় নেমেছেন।  
    স্পষ্ট প্রতীয়মান তাঁর বিশাল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমা সাংবাদিকদের কটাক্ষপূর্ণ ও বিদ্রূপকারী মন্তব্য যেমন, তার "অটোমান-সম্রাটের ন্যায়" জাঁকজমক  আচরণের সম্পর্কে, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আমি বলতে পারি তাঁর অকৃত্রিম ও প্রাকৃতিক বিনয় ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছি।" 
    বিস্তারিত এখানে পড়তে পারেন।
     

  14. ১৪
    মহিউদ্দিন

    মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি দেশে সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলাকে (Military establishment) রাষ্ট্রের ভিতরে রাষ্ট্র পরিচালকদের থেকে আলাদা একটি স্বাধীন সংস্থায় পরিণত করে রাখার প্রবণতা চলে আসছে সেই ওপনেবেশিক শাসকদের আমল থেকে। তাদেরকে দেশের সিভিল সমাজ থেকে আলাদা করে একটি সুবিধাভোগী (previleged) পেশার সদস্য হিসাবে গড়ে তোলা হয়। তাদেরকে বিশেষকরে সেনাবাহিনীর অফিসারদেরকে মানসিকভাবে তৈরি করা হয় এমনভাবে যাতে তারা নিজেদেরকে সিভিল সোসাইটির ঊর্ধ্বে এক বিশেষ অভিজাত শ্রেণীর সদস্য ভাবেন! ফলে তাদের অনেকেই    দেশের স্বার্থে ত্যাগ তথা দেশ প্রেমের চেয়ে উচ্চাভিলাষী হয়ে ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়েন!

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার দেশের সেনাবাহিনীর কিছু উচ্চাভিলাষী সামরিক সদস্যের পরিচালিত সাম্প্রতিক ব্যর্থ ক্যু-র পর এবার সেনাবাহীনির আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তুরস্কের সেনাবাহিনী এখন থেকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হবে ডিফেন্স মিনিষ্ট্রির অধীনে। প্রচলিত সেনাবাহিনীর নিজস্ব মিলিটারি একাডেমী যাতে সাধারণ মানুষের ছেলেমেয়েদের ভর্তির সুযোগ ছিলনা তা বাতিল করা হবে এবং তার পরিবর্তে  জাতীয় সেনা বিশ্ববিদ্যালয় গড়া হবে এবং সেথায় শুধুমাত্র সমাজের একটি বিশেষ শ্রেণীর আধিপত্য আর থাকতে দেয়া হবে না।- বিস্তারিত এখানে পড়তে পারেন।

  15. ১৫
    মহিউদ্দিন

    তুরস্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যতার পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়েছে গত কাল রোববারের (আগস্ট ৭, ২০১৬) গণতন্ত্র ও শহীদ স্মরণী র‍্যালিতে।। ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘গণতন্ত্র ও শহীদ র‍্যালি। ইস্তাম্বুল পুলিশ বিভাগের মতে, আনুমানিক পাঁচ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় ৫০ লাখ মানুষ এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছেন।

    সমাজের বিভি্ন্ন মতের ও পেশার মানুষের এ ব্যাপক জমায়েত আধুনিক তুর্কি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে বৃহত্তম জমায়েত এবং সম্ভবত বিশ্বের অন্য কোন দেশে এত বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশ হয় নাই। মানুষের উপস্থিতি এতটাই বিশাল ছিল যে, Yenikapi মাঠে সমাবেশ মঞ্চ চারিদিকে, কেনেডি স্ট্রিট, Eminönü এবং Zeytinburnu জেলার কাছাকাছি এলাকায় জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল!

    বিশাল এ জনসমাবেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ২৫০০০ পুলিশ কর্মতৎপর ছিল, ৭২৮ জন স্বাস্থ্য কর্মীকে নিয়োগ করা হয় তাছাড়া আকাশে হেলিকপ্টার এবং পানিতে নিরাপত্তা বোটকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়। সিকিউরিটি চেকিং এর জন্য ১৬৫ নিরাপত্তা চেক পয়েন্টে এক্স-রে মেশিন ও মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহৃত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি ২৫০০ পৌর রক্ষিবাহিনী এবং ৯০০ ক্লীনার্স সেইসাথে ৫০০ সহকারী কর্মরত ছিল সমাবেশের সময়।
    ১০০ শতের অধিক স্থল অ্যাম্বুলেন্স ও একটি সমুদ্র অ্যাম্বুলেন্স এবং ২০টি অগ্নি নির্বাহক ট্রাক ছাড়াও প্রতিবন্ধীদের পরিবহনের জন্য ৫০টি বাস ব্যবহার করা হয়।
    তুরষ্কের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথমবার একই প্ল্যাটফর্মে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টি, রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (CHP র) ও স্বাধীনতা আন্দোলনে পার্টির (MHP) নেতারা এক সাথে বসেন।

  16. ১৬
    এম_আহমদ

    কোলনাইজেশন ও উদ্দেশ্য

    ১৫ জুলাই নিয়ে চিন্তা করতে আজও অনেকের শিহরণ জাগবে। যারা বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে কী ঘটছে তার কিছুটা অনুধাবন করেন, তাদের মাথায় এই ভয়-বিহ্বল প্রশ্ন আলোড়ন দিয়ে থাকবে, ‘is Turkey on its way to iraqaisation?’ এই দফা তুর্কী বেঁচে গেলেও বাংলার প্রবাদ বাক্য যেন নির্ভয় করতে চায় না: বলা হয়, ‘এক মাঘে শীত যায় না।‘

    আধুনিক কলোনাইজেশন এক অতি শক্তিশালী সাঁড়াশী প্রক্রিয়া। এর পরিবাহিকায় রয়েছে:
    (ক) আদর্শ ও তার অনুকূল শিক্ষা-সংস্কৃতি,
    (খ) মিডিয়া ব্যবস্থা,
    (গ) পোষা লোক দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা যারা কলোনিয়েল মাস্টারের মত নিজ জাতির উপর আরোপিত হয় এবং এদের পিরামিড স্ট্রাকচারকে (pyramid structure) ইউরোপ-আমেরিকায় স্থাপন করা হয় –এদের সয়-সম্পত্তি ওখানেই থাকে। এটা সাইকোলজিক্যালি এবং ব্যবহারিক দিক দিয়ে ইউরোপ আমেরিকার এক সাংঘাতিক খেলা।
    (ঘ) অতঃপর কালের ধারায় যদি কোন শাসক ভিন্ন পথে হাঁটতে শুরু করে তবে তাদেরকে হত্যা করানো এবং বিকল্প সূত্র দিয়ে, মিডিয়ার মাধ্যমে, দ্বিতীয় বা তৃতীয় পক্ষ দিয়ে প্রতিস্থাপন।
    তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্র-ব্যবস্থার সকল স্তর উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যে বিরাজিত। সব স্তরেই রয়েছে অনুপ্রবেশের নানান সন্ধিক্ষণ।

    মুসলিম সমাজ ও বাস্তবতা

    মুসলিমদের (ক) বিশ্ব মানবতা-ধারিত ধর্মীয় অনুভূতির অভাব (খ) ধর্মীয় আত্মঘাতী দ্বন্দ্ব-কলহ ও (খ) ভ্রাতৃত্ববোধের ঊর্ধ্বের ভৌগলীক জাতীয়তা সেই কলোনাইজেশনকে আরও পাকাপোক্ত করতে সহায়তা করে। প্রথম মহাযুদ্ধের পূর্বেই ভৌগলীক জাতীয়তার বীজ মুসলিম মানসে কমিউনিস্ট/সমাজতান্ত্রিক ধারায় প্রবেশ লাভ করায় উসমানী খেলাফত ভাঙা সহজ হয়েছিল। শয়তান বিভিন্ন ভূখণ্ডে এই ধারণা জাগিয়ে দিয়েছিল যে তুর্কীয় লোক শাসন ক্ষমতার প্রাণকেন্দ্রে! তোমরা আলাদা হলে তোমরাই তোমাদের ক্ষমতার অধিকারী হবে!

    কিছু করার আছে?

    আজকে সকলে নিজেদের দায়িত্ব নিজেরাই, ক্ষুদ্রাকারে, অতি ক্ষুদ্রাকারে, আঞ্জাম দিতে শিখতে হবে। নিজের আশে পাশের নানান মুসলিম দলে ঐক্যের ভাবধারা জাগাতে হবে। সবাই তাদের ভিন্নতা ত্যাগ করার দরকার নেই। তারা তাদের কাজই করুক। তবে একে অন্যের সাথে উঠাবসার মানসিকতা গড়ে উঠুক। এই বিশ্বে সব জাতের লোক আছে। সকলের সাথে যদি চলা যায় তবে ভিন্ন মতের মুসলিমদের সাথে কেন চলা যাবে না? যাবে। চেষ্টা করলেই যাবে। এই নাজুক বাস্তবতা এক দিনে আসে নি। তাই এক দিনে চলেও যাবে না। এর জন্য দশকের পর দশক কাজ করতে হবে। যতটুকু পারা যায়। চেষ্টা করলে হয়ত আগামী ৩০/৪০ বছরে মুসলিম বিশ্ব এই ন্যক্কারজনক গোলামীর জিঞ্জির ভাঙতে পারবে। তুর্কী যদি অমানিশার অতল গহ্বর থেকে এই পর্যায়ে আসতে পারে, তবে মুসলিম বিশ্বও পারবে। ধৈর্যের প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।