«

»

মার্চ ১৬

নারী পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক না প্রতিদ্বন্দ্বী

প্রতি বছরের মত এবারও "আন্তর্জাতিক উইমেন্স ডে" তথা নারী দিবস পালিত হয়ে গেল গত ৮ই মার্চ । এবারের ২০১৭ সালের নারী দিবসের আলোচ্য প্রসঙ্গ বিষয় ছিল "বিশ্বের পরিবর্তিত কর্মক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা"। তবে আমি এখানে নারী দিবস, নারীর অধিকার অর্জন ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে কিছু কথা রাখতে চাই। বিশেষ করে ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন ধর্মে বা মানব সভ্যতায় নারীর অধিকার তথা সমাজে নারীর অবস্থান ও মর্যাদা কিভাবে চলে আসছে এবং আধুনিক সমাজেই বা নারীর অধিকার ও সম্মান সত্যিকার অর্থে কতটুকু রক্ষা হচ্ছে সে প্রেক্ষাপটে আলোচনার দরকার আছে। আজকাল নারী অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ আসলে অনেকের মনে যে ধারণা বদ্ধমূল হয়ে আছে তা হল যুগে যুগে ধর্মই নারীর মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল এবং সে তালিকায় ইসলাম হচ্ছে বিরাট অপরাধী !

তবে আধুনিক এ সভ্যতায় মুসলিম ছাড়া অন্যদের কাছে যেহেতু  এখন ধর্মের তেমন কোন গুরুত্ব নেই তাই অনেকের দৃষ্টিতে মুসলিমদেরকে তাদের ধর্মের সব "দুর্বলতা" স্বীকার করে মুসলিম সমাজে বাস্তব জীবনে ইসলামকে সম্পর্কহীন করতে হবে। কেননা সে মহলে অনেকের কথা হচ্ছে  নারীর অধিকার ও সম্মান সুপ্রতিষ্ঠিত করতে ইসলাম হচ্ছে এখন বড় অন্তরায়! তাই  দেখা যায় মুসলিম দেশগুলোর পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থার কিছু সামাজিক কুসংস্কারকে পুঁজি করে বিভিন্ন গল্প, নাটক, সাহিত্য ও লেখালিখি দিয়ে চলছে ইসলাম বিরোধী ক্রুসেড। যার ফলে আধুনিক শিক্ষিত শ্রেণীর বেশীর ভাগ মানুষের মনে নানা কারণে ইসলামে নারীর অবস্থান সম্পর্কে নেতিবাচক উপলব্ধি এখন একটি বাস্তবতা হয়ে আছে!

তবে প্রচলিত এ ধারণার বিপরীতে প্রায়ই ইসলামের পক্ষে অনেক কিছু ঘটে যায় যার রহস্য অনেকেই বুঝতে অপারগ । তাই আমরা খবরে দেখি মুসলিম অধ্যসিত দেশে যদি আধুনিক শিক্ষিত মহিলারা কোরআন হাদিস নিয়ে ইসলাম বুঝার উদ্দেশ্য কোথায় জড়িত হয় তখন তাদেরকে সন্দেহের চোখে দেখা হয় এবং পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে জেলে ঢুকায়! আবার পশ্চিমা দেশের জরিপে দেখা যায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে মহিলাদের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশী! (ডেইলি মেইলের রিপোর্ট।)

সম্প্রতি হলিউড বিনোদন/ছায়াছবি শিল্পী ও সেলিব্রেটি মহিলা লিন্ডসে লোহান "নারী দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত তার ইনষ্টগ্রাম পোষ্টে মহা নবী মোহাম্মদ (স:) একটি উদ্ধৃতি দেয়ায় মেইন স্ট্রিম মিডিয়ায় গুজব রটেছে যে লিন্ডসে হয়ত ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে যাচ্ছেন! (ইন্ডিপেন্ডেন্টের রিপোর্ট সূত্র:)

ডেইলি মেইল লিখছে, "সম্প্রতি জল্পনা চলছে যে লিন্ডসে ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অভিনেত্রী বলেন, কুরআন পাঠে তিনি মনে সান্ত্বনা পেয়েছেন" ( "It has been speculated recently that Lindsay had converted to Islam after the actress said she found solace reading the Qur'an.") বিস্তারিত এখানে

লিন্ডসে লোহান মুসলিম হবেন কি না জানিনা তবে শেষ পর্যন্ত তিনি যদি মহান আল্লাহর হেদায়েত পাওয়ার সৌভাগ্যে পান এবং ইসলাম কবুল করেন তাতে অবাক হওয়ার কিছু নয় কেননা বর্তমান বিশ্বে লিন্ডসে লোহানের মত এরকম সেলিব্রেটিদের ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার উদাহরণ নতুন নয়। নারী দিবস উদযাপনের সময় এরকম একটি খবর আমার কাছে ইস্টারেষ্টিং মনে হল তাই উল্লেখ করলাম। আসলে কোরআন পড়ে এবং ইসলামে নারী অধিকার সম্পর্কে অবগত হয়ে ও আল্লাহর নবীর বাণী পড়ে ইসলাম বিদ্বেষী এত অপপ্রচারের মাঝে এখনও ইসলাম সম্পর্কে পশ্চিমা মহিলাদের যে কৌতূহল বাড়ছে এটাই তার একটি প্রমাণ।

ধর্মই নারীর অধিকারে প্রতিবন্ধক

বিশ্বের সব ধর্মে নারীর অধিকার নিয়ে অলোচনা করতে অনেক সময়ের দরকার যার অভাবে আমি অতি সংক্ষেপে কয়েকটি কথা হাইলাইট করলাম।

হিন্দুধর্মে নারীর মর্যাদা।

হিন্দু সমাজের সেই প্রাচীন কাল থেকে নারীদের প্রতি যে আচরণ ছিল তা কোন অবস্থায় মানবিক বলা যায় না। ভারতে একটি হিন্দুত্ব (Hinduism) বা পৌত্তলিক ধর্ম  প্রতিষ্ঠিত ছিল। জাতিভেদ প্রথার পুরুষ শাসিত বৈদিক সমাজ থেকে বিকশিত মনু রাষ্ট্রের ধর্ম বিধান ছিল,

  • স্বাধীনতার লাভের জন্য নারীরা কখনোই উপযুক্ত নয়. নারী যতদিন পুরুষের আজ্ঞাবহও হয়ে থাকবে ততদিন তাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা করা যাবে।"
  • নারীরা কোন শিক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম ছিল না এবং এর পরিবর্তে, তারা বাড়িতে থাকার এবং গার্হস্থ্য দক্ষতা শিখতে হত।
  • স্বামীর মৃত্যুর সাথে স্ত্রীকেও স্বামীর চিতায় আগুনে জীবন্ত জ্বলে মরতে হত যাকে বলা হয় সতীদাহ প্রথা অর্থাৎ হিন্দু বিধবা নারীদের স্বামীর চিতায় সহমরণে বা আত্মাহুতি দেবার ঐতিহাসিক প্রথা। (অবশ্য, যা রাজা রামমোহন রায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই প্রথা বন্ধ হয় ব্রিটিশ আমলে।)
  • দু-পরিবারের মধ্যে সমঝোতা করতে আয়োজিত বিবাহ (Arranged marriages) চালু ছিল।
  • নারীর কোন সরকারী প্রশাসনে অংশগ্রহণ করতে পারতোনা, সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারতোনা।
  • এবং যাজক (ব্রাহ্মণ) পদে উঠতে পারতো না।

খ্রিস্টধর্মে নারীর অবস্থান

প্রাচীন খ্রিস্টধর্মে নারীকে মানুষের চেয়ে অধম ভাবা হত এবং সে হিসাবে আচরণ করা হত এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে এখানে দেখুন ।"খ্রিস্টান ধর্মে নারী নির্যাতন এর বিধিসম্মত করা" (The Legitimization of the Abuse of Women in Christianity) বইটি পড়লে আরো জানতে পাবেন।

ইহুদী ধর্মে নারীর অবস্থান

ইহুদী ধর্মেও নারীকে সম্পত্তি হিসাবে বলা হয়েছে এবং বিবাহের পর সে সম্পত্তির মালিকানা স্বামীর।- The woman is property, whose ownership is transferred to the husband upon marriage. ইসরাইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক হারেট্জ পত্রিকার ডিসেম্বর ৩০, ২০১১ তারিখের সংখ্যায় Yossi Sarid লিখিত এক নিবন্ধের শিরোনাম ছিল, "অর্থোডক্স ইহুদীধর্মে নারীকে গণ্য করা হয় নোংরা ক্ষুদ্র জিনিসের সাথে। – "orthodox-judaism-treats-women-like-filthy-little-things" তাদের দর্শন হচ্ছে যদি নদীতে এক সাথে এক পুরুষ ও এক মহিলাকে ডুবতে দেখা যায় তখন নারীর আগে পুরুষকে উদ্ধার করতে হবে! নারীর আগে পুরুষকে বাঁচাতে হবে" এটি হচ্ছে ইহুদীধর্মে নারীর অবস্থান! (সূত্র) 

ইসলামে নারীর অবস্থান

  • "অতঃপর তাদের পালনকর্তা তাদের প্রভু তাদের দোয়া (এই বলে) কবুল করে নিলেন যে, আমি তোমাদের কোন পরিশ্রমকারীর পরিশ্রমই বিনষ্ট করি না, তা সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রীলোক। তোমরা পরস্পর এক ( সুরা ৩: ১৯৫)। 
  • " ইসলামে নারী সম্পত্তি এবং উত্তরাধিকার অধিকার ভোগ করে । নারী তার নিজের পৃথক ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন (কুরআন 4: 7) – (ইসলাম ছাড়া এমন কোন ধর্ম নারীকে এই অধিকার দান করেছে?)
  • মুসলিম নারী তার পছন্দ অনুযায়ী যে কোন মুসলিমকে বিয়ে করতে পারে. তার মা-বাবা তার জন্য কোন পাত্রের প্রস্তাব নির্বাচন করলেও মেয়ের সম্মতি গ্রহণ করা আবশ্যক. কোরান (4: 24-25)। 

আজ থেকে ১৪০০ শত বছর আগে ইসলাম নারীকে যে অধিকার দিয়েছে তা পশ্চিমা দেশে বলতে গেলে এক শতাব্দী আগেও তা ছিল না।

  • মার্কিন দেশে সর্ব প্রথম মিসিসিপি স্টেটে নারীরা তাদের নিজেদের নামে সম্পত্তির মালিক হতে সক্ষম হন ১৮৩৯ সনে। এটা আমেরিকার প্রথম রাষ্ট্র যেখানে নারী উত্তরাধিকার অধিকার অর্জনে সক্ষম হয়।
  • ১৮৪৪ সালে আমেরিকায় বিবাহিত মহিলার নিজস্ব নামে ব্যবসা করার অধিকার অর্জন করেন।
  • আর বলতে গেলে কেবল এই সে দিন মহিলাদের নিউইয়র্ক রাষ্ট্রে পেটেন্ট রাইট দাবী করার অধিকার মিলে! (অগাস্ট ১১, ২০১৪)
  • কানাডায় নারীরা ভোটাধিকার পান ১৯১৬ সনে। ১৯২১ সনে হাউস অব কমন্সে এগনেস MacPhail প্রথম নারী নির্বাচিত হন। কানাডার নারী অধিকার অর্জনের টাইম লাইন এখানে দেখুন

বর্তমান মুসলিম দেশের বাস্তবতা।

ইসলামে নারীর অধিকার ও মর্যাদার যে উচ্চ অবস্থান আছে এবং ঘরের বাহিরে যুদ্ধের ময়দানে, শিক্ষা ক্ষেত্রে কিংবা অর্থনীতিতে কিংবা বাজার নিয়ন্ত্রণে যা আমরা কোরআন হাদিসে এবং রাসুলের সময় কালের এবং সাহাবীদের সময়ের ইতিহাসে দেখতে পাই তা আজ মুসলিম বিশ্বে কেন অনুপস্থিত?  কেন সে অবস্থার এত অবনতি তা নিয়ে ভাবতে হবে।

মুসলিম দেশে মহিলারা বাহিরে গিয়ে সব কাজে এমন কি ধর্ম বিরোধী অপকর্মে যোগ দিতে বাঁধা নাই কিন্তু পারেনা শুধু ধর্মীয় কাজে অংশ গ্রহণ করতে।কিন্তু সত্যিকার মুসলিমার জন্য জন্য মসজিদে নামাজ পড়ার জায়গা রাখা হয় না বরং সেথায় যেতে নিষেধ, তাদেরকে ইসলামের দ্বা'য়ী হতে উৎসাহ দেয়া হয়না অর্থাৎ ইসলামের প্রচারে বা ইসলামী আন্দোলনে সামনের কাতারে আসা নিষেধ, ইসলামের কোন মিটিং বা আলোচনা সভায় তাদেরকে বলতে দেয়া হয়না। এক কথায় ইসলামের জ্ঞান চর্চায় তাদের সঠিক সুযোগ না্ই। আর তা দেখে ইসলাম নারীর জীবনকে সীমিত করতে চায় এ ধরনের ভুল ধারনা তো আসবেই অনেকের মনে।

আজ মুসলিম দেশে তথাকথিত মুসলিম "ধার্মিক পুরুষের" অভাব নাই যারা মনে করেন যে নারীদেরকে যদি ঘরের ভিতর বন্ধী করে রাখা যায় তাহলে পৃথিবী এক পুণ্য স্থানে পরিণত হতে দেরী হবে না। আজ ইসলামকে যারা নেতৃত্ব দেন তারাও দুনিয়ার বাস্তবতা বুঝতে রাজি না এবং কোরআন হাদিসে এবং রাসুলের সময়ে এবং সাহাবীদের  ইতিহাসে নারীদের সমাজে যে ভুমিকা ছিল তা জানতে চান না। ফলে মুসলিম দেশে নারী পুরুষের সমন্বয়ে একটি ন্যায় নীতি ভিত্তিক ভারসাম্য পূর্ণ সমাজ গঠনের কোন প্রচেষ্টা নাই। অথচ এরকম একটি সমাজ গড়তে পারলে তা হতে পারত বিশ্বের জন্য  অনুকরণীয়। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে নারীকে পণ্য হিসাবে ব্যবহারের যে কালচার চলছে এবং যার প্রভাব মুসলিম দেশেও বিস্তৃত করা হচ্ছে তার বিপরীতে সে প্রচেষ্টা  দিয়ে একটি সুস্থ ও সঠিক বিকল্প ব্যবস্থা মুসলিম সমাজে সৃষ্টি করা সম্ভব ছিল ।

দু:খের বিষয় হল মুসলিম সমাজ  আজ ইসলামের আদর্শ থেকে দুরে! রুপক  অর্থে মুসলিম উম্মাহকে যদি বলা যায় একটি দালান তবে সে ভবনে আজ ঘুমিয়ে আছে সব মুসলিম। আর ভবনের দেয়ালে কোথায় কি ফাটল বা ছিদ্র আছে তা এখন একেবারে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারছে ইসলামের দুষমনেরা যা দিয়ে তারা আঘাত হানছে মুসলিম উম্মাকে ধ্বংস করতে, তাদের মাঝে বিভক্তি আনতে, নিজেদের মাঝে দাঙ্গা ফ্যাসাদ করাতে, ধর্মের নামে অধর্মকে ছড়াতে এবং তারা সফলও হচ্ছে।কেননা মুসলিমরা তাদের সে ভবনের ফাটল বা ছিদ্র মেরামত করতে ইচ্ছুক নয়।

অতএব সমাজে নারীর ভুমিকা ও ক্ষমতায়নে রাসুলের সময়ের ও সাহাবীদের সময়ের সে ইতিহাস নতুন করে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই সাথে পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থার সকল কুসংস্কারকে বিসর্জন দিতে হবে।

সমাজে নারী পুরুষের ভূমিকার ব্যাপারে আধুনিক সমাজ নারীকে পুরুষের  প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলতে যেভাবে প্ররোচনা করে এবং নারীবাদীরাও সে চক্রান্তের শিকার তার বিপরীতে ইসলামের দর্শন হল এ ভূমিকা হবে একে অন্যের পরিপূরক হয়ে, প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে নয়।

 

পাঠক/পাঠিকার খেদমতে অনুরোধ থাকল রাসুলের সময়ের ও সাহাবীদের সময়ের সে ইতিহাসের কিছুটা আন্দাজ পেতে হলে  টরন্টো শহরের প্রখ্যাত প্রবীন ইমাম শেখ আহমেদ কুট্টির কয়েকটি কথা শুনেন যা তিনি গত সাপ্তাহে জুম্মার খুতবায় বলেছিলেন

আধুনিক লাইফ স্টাইল নারীকে  কি দিয়েছে?

  • আজ নারীকে পুরুষের সামনে ফ্যসনের নামে এমন বেশে আসতে উৎসাহ করা হয় যেন নারী কয়েক খণ্ড মাংসের সত্তা যা কেবল সময় সুযোগে পুরুষের ভোগের উপাদান হতে পারে এবং পুরুষের কুনজরের আকর্ষণ বাড়াতে পারে!
  • আজ কত নারী প্রতিনিয়ত কাটাতে হচ্ছে অসুখী জীবন কখনও চাকুরীর খাতিরে, কখনও দু:স্থ বিবাহিত জীবনে যেখানে স্বামী তাকে ছেড়ে ব্যস্ত থাকে অন্য যুবতীর সাথে সম্পর্ক স্থাপনে।
  • আধুনিক যুগের নারী কখনও এত ব্যস্ত নিজের চাকুরী বা পেশায়, এত জর্জরিত যে নারী হিসাবে তার জীবনের সহজাত প্রাকৃতিক চাহিদা বা মাতৃত্বের দায়িত্বটুকু পূরণেও অসহায়!

আমার পয়েন্ট হল- নারী স্বাধীনতা হিসাবে যা প্রদর্শিত হচ্ছে তা সবসময় যে তা নয় এবং 'নারী অধিকার' বা নারীর স্বাধীনতা বলে যা চালিয়ে দেয়া হচ্ছে তা নারীর জন্য সবচেয়ে অমর্যাদাকর, স্ব-অপমানকর এবং আত্মসম্মান হারানো আচরণ সে বিষয়ে নারীকে পরিকল্পিত ভাবে উদাসীন রাখা হচ্ছে।

পরিশেষে সামাজিক মিডিয়ায় নারী দিবস সম্পর্কে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী নারীবাদী এক ভদ্র মহিলার একটি ফেবু পোষ্টের মন্তব্য দেখলাম যার কিছু অংশ এখানে উল্লেখ করছি।

"নারী দিবস হল নারীর প্রতি চরম বৈষম্য। তাকে আলাদা করে দেখানো । তাকে দুর্বল শ্রেণীভুক্ত করা । পুরুষের তুলনায় নিচু করা । দয়ার পাত্র বানানো। মাসুম বাচ্চা বানানো। নারী দিবসের চেয়ে অপমান নারীর জন্য ২য় কিছু নেই। কারণ নারীকে সেদিন পৃথিবীর সামনে উৎসব করে আলাদা করা হয় । বরং প্রয়োজন পুরুষ দিবস। কারণ পুরুষ যা করে, যে কাজে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়, নারীর তুলনায় কিছুই নয়। তারপরেও তার জন্য কেন নারী দিবস বানিয়ে অপমান?"

*******************************************

রেফারেন্স:

Woman's Role in the Islamic Civilization

Yossi Sarid,

Rights of Hindu women VS rights of Muslim women  

ইসলামের প্রাথমিক যুগের মহান মহিলারা -Great Women of Islam

৫ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    তথ্যবহুল লেখা – ভাল লাগলো। ধন্যবাদ।

    একটু সংযোজ করতে চাই – রাজা রামমোহনের জন্মের আগেই ভারতের কিছু মানুষ সতীদাহ প্রথা বাতিল করেছে – তা করেছে ইসলামকে তাদের জীবন দর্শন হিসাবে গ্রহনের কারনে। তেমনি ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগেই ভারতের একদল মানুষ বিধবা বিবাহ চালু করেছে – কারন তারা ইসলাম অনুসরন করতো। বস্তুত ইসলামের প্রভাবেই ভারতের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে – প্রবল বর্ণবাদী সমাজের কঠিন বাঁধন আলগা হয়ে গেছে – ফলে সমাজবিদরা তাদের ধর্মকে টিকিয়ে রাখার জন্যে তাদের বর্ণবাদী – নারী বিদ্বেষী নীতিগুলো পরিবর্তন করেছে।

    অন্য একটা বিষয়ও আছে – মুসলিম প্রধানদেশগুলোতে শিক্ষার অভাবে নারীদের প্রতি সহিসংতার একটা চিত্র আমরা দেখি। মালালাকে তাদের দেশের মুসলিম ভাইরাই কুপিয়ে শত্রুদের হাতে তুলে দিয়েছে। তেমনি অনারকিলিং থেকে শুরু করে নারী রিরোধী ঘটনার বিষয়গুলো এড়াতে পারবো না আমরা।

    সবচেয়ে মজা বিষয় হলো বাংলাদেশের মতো একটা মুসলিম প্রধান দেশের শাসন কর্তৃত্ব গত তিন দশক ধরে নারীদের হাতে – এই বিষয়টা পশ্চিমা সমাজ সচেতন ভাবে এড়িয়ে যায়।

    বস্তুত নারীকে শুধুমাত্র যুবতী নারী হিসাবে বিবেচনা করেই নারীবাদীদের যত হৈ চৈ – সিলেকটিভ এবরশন থেকে শুরু করে ওল্ডহোমে নারীদের অসন্মানজক জীবনযাপনের বিষয়ে নারীবাদীদের প্রবল নীরবতাই দেখা যায়। বস্তুত নারীবাদ হলো বানিজ্যিক পন্যের প্রচার বানানোর জন্যে এবং ভোগ্যপন্য বানানো জন্যে পুঁজিবাদে অগ্রবর্তী বাহিনী। তাদের চটকদার কথার ফাঁদে পড়ে নারীরাই সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্চে – হারাচ্ছে সন্মান – নষ্ট হচ্ছে সমাজের মৌলিক কাঠামো – পরিবারগুলো। এর ফলাফল দেখা যাবে পশ্চিম ইউরোপের ডেমগ্রাফিতে।

    ধন্যবাদ।

    1. ১.১
      মহিউদ্দিন

      পাঠ ও সম্পূরক তথ্য সহ মন্তব্যের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

  2. মহিউদ্দিন

    ইসলামে নারীর অধিকার ও মর্যাদার যে উচ্চ অবস্থান আছে এবং ঘরের বাহিরে যুদ্ধের ময়দানে, শিক্ষা ক্ষেত্রে কিংবা অর্থনীতিতে কিংবা বাজার নিয়ন্ত্রণে যা আমরা কোরআন হাদিসে এবং রাসুলের সময় কালের এবং সাহাবীদের সময়ের ইতিহাসে দেখতে পাই তা আজ মুসলিম বিশ্বে কেন অনুপস্থিত? "

    কথাগুলো একটু বিস্তৃত করা যায়। আমরা যদি রাসুল (স:) এর সময়ের ইতিহাসে যাই, আমরা জানতে পারি মদিনায় নবী গৃহ তখন ছিল খুবই ব্যস্ত একটি পারিবারিক নিবাস, মোহাম্মদ (স:) পরিবারের প্রধান সে সমাজের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রধান, নানা উদ্দেশ্য লোকেরা নবীর সাক্ষাতের আশায় প্রতিনিয়ত সেখানে যেত, সেথায় ছিল অনেক লোকের আসা যাওয়া (full of traffic) সেখানে ছিলেন নবী পত্নীগন যারা ছিলেন উম্মে মুমেনিন। প্রশ্ন হচ্ছে তাঁদেরকে আল্লাহ কি বারণ করেছিলেন তাঁরা যেন কারো সাথে কথা না বলেন? বরং আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন কিভাবে কথা বলতে, পবিত্র কোরাআনেই তো তা দেখা যায়।

    মা আয়েশা অতি কোমল বয়সে রাসুলাল্লাহর ঘরে স্ত্রী হিসাবে এসেছিল আর রাসুল (স:)ইন্তেকালের পরে্ তিনি একজন বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী মহিলা হিসাবে ইসলামের জ্ঞানের জগতে খ্যাতি লাভ করেন। অসংখ্য আলেম উলেমা তখনকার যুগে মা আয়েশা (রা:) কাছে থেকে কোরআন হাদিসের জ্ঞান অর্জন করেন এবং ইসলামী আইনের কোন ব্যাখ্যা জানতে তাঁর মতামত নেয়া হত। বড় বড় খলিফা যেমন আবু বকর, উসমান, ওমর, আলির (রা:) শাসনকালে তিনি স্বাধীনভাবে ফতোয়া ও ফিকাহ শাস্ত্রে অভিমত রাখতেন যা ইসলামের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। তাছাড়া তিনি যুদ্ধেও যে নেতৃত্ব দিয়েছেন সে উদাহরণও বিদ্যমান আছে ইতিহাসে। 
     
    হযরত ওমর (রা:) শাসন আমলে মহিলারা মসজিদে দাড়িয়ে খলিফাকে প্রশ্ন করার অধিকার রাখতেন এবং  ওমর (রা:) মদিনায় পণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে বাজার পরিদর্শনে একজন মহিলাকে বাজার নিয়ন্ত্রক (superintendent) নিয়োগ করেছিলেন সে ইতিহাসও আমরা জানি। অতএব মুসলিম সমাজে মহিলারা ঘরে বন্ধী ছিলেন না তারা বাহিরে যেতেন সর্বত্র। উপরে প্রদত্ত রেফারেন্স তালিকায় ইসলামের প্রাথমিক যুগের মহান মহিলা ব্যক্তিত্যের নাম দেয়া আছে। তাদের জীবনি পড়লে কি দেখা যায়?

    কেউ হয়তবা বলতে পারেন পারেন তখন সমাজ ছিল ভিন্ন।পরবর্তীকালে সমাজের নিরাপত্তার অভাবে আমাদের কিছু আলেম উলেমারা বাধ্য হয়ে অতিরক্ষনশীল সংস্কৃতি চালু করেন যার ফলে মহিলাদেরকে একঘরে করার প্রবণতা এসেছে। কিন্তু সমাজ দূষিত হয়ে গিয়েছে বলে মহিলারা ঘরে বন্ধী থাকলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ভেবে তথাকথিত  আদর্শবাদী পুরুষেরা হাত ধুয়ে বসে থাকতে পারেন না। বরং সমাজকে বদলাতে প্রথমে যে অধ্যাত্মিক ও বুদ্ধি-ভিত্তিক পরিবর্তন আনতে হবে সে সংগ্রামে মহিলাদেরকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। আর তা মহিলাকে ঘরমূখী করে তা সম্ভব নয় বিশেষ করে বর্তমান যুগে।

    বলা যেতে পারে মহিলারা যে একবারে ক্ষমতায়ন হচ্ছেন না তেমন নয়। বাংলাদেশে গত কয়েক দশক থেকে দুই মহিলা রাজনীতির ড্রাইভিং সিটে আছেন যেমন বর্তমান প্রধান মন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেত্রী সবাই মহিলা এবং স্পিকারও একজন মহিলা তবে প্রশ্ন হতে পারে দেশ শাসনে তারা ইসলামের ন্যায় নীতি ভিত্তিক এবং দূর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক আদর্শ কতটুকু পালন করেছিলেন বা করছেন? একজন আদর্শিক মুসলিমার চরিত্র বা রোল মডেল হিসাবে তারা কতটুকু প্রতিনিধিত্ব করেন? সে প্রশ্ন আসতেই পারে।

    তবে প্রশ্ন হচ্ছে সে জন্য দায়ি কে? আমি বলব সে জন্য ইসলামী নেতৃত্ব অনেকাংশ দায়ী! সেটা অবশ্য এখানে অন্য প্রসঙ্গ ভবিষ্যতে কোন দিন সে বিষয়ে আলাপ হতে পারে।

  3. এম_আহমদ

    মুসলিম দেশে মহিলারা বাহিরে গিয়ে সব কাজে এমন কি ধর্ম বিরোধী অপকর্মে যোগ দিতে বাঁধা নাই কিন্তু পারেনা শুধু ধর্মীয় কাজে অংশ গ্রহণ করতে। কিন্তু সত্যিকার মুসলিমার জন্য জন্য মসজিদে নামাজ পড়ার জায়গা রাখা হয় না বরং সেথায় যেতে নিষেধ, তাদেরকে ইসলামের দ্বা’য়ী হতে উৎসাহ দেয়া হয়না অর্থাৎ ইসলামের প্রচারে বা ইসলামী আন্দোলনে সামনের কাতারে আসা নিষেধ, ইসলামের কোন মিটিং বা আলোচনা সভায় তাদেরকে বলতে দেয়া হয়না। এক কথায় ইসলামের জ্ঞান চর্চায় তাদের সঠিক সুযোগ না্ই। আর তা দেখে ইসলাম নারীর জীবনকে সীমিত করতে চায় এ ধরনের ভুল ধারনা তো আসবেই অনেকের মনে।

    মুসলিম মহিলারা বাহিরে গিয়ে কাজ করতে বাধা আছে কী নাই বা কতটুকু আছে বা কতুটুকু নাই –এই বিষয়টি আপনি কোন কালে বসে, কোন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সামাজিক প্রেক্ষিতে বিবেচনা করছেন তার উপর নির্ভরশীল। এক সময় পৃথকীকরণ (segregation) বলিষ্ঠ ছিল, এখন তা ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে। কেন? আমি সংক্ষেপে একটি ভিন্ন প্রেক্ষিত উত্থাপন করছি।
    একটি দেশের উৎপাদনের ব্যবস্থাপনার প্রেক্ষিতে শ্রমের যে বিভাজন (division of labour) হয় সেটি সামাজিক প্রথাসমূহকে প্রভাবিত করে। ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের পর হতে পর হতে, ধীরে ধীরে বিবর্তিত হয়ে, উৎপাদনের প্রকৃতি ও ক্ষেত্র ভিন্নভাবে তৈরি হয়েছে এবং এই ক্ষেত্র ও প্রকৃতির উৎপাদন ব্যবস্থা এখন বৈশ্বিক হয়ে পড়েছে। এই বিবর্তিত আর্থ-ব্যবস্থা নারী পুরুষ উভয়কে কর্মস্থানে আহবান করে। এটা প্রাচীন ব্যবস্থার মত নয় যেখানে পুরুষ ঘরের বাইরে কাজ করবে এবং নারীরা ঘর-সংসার পরিচালনা ও পরিচর্যা করবে। টেকনো-উৎপাদন ব্যবস্থা এখন ভিন্ন। কার্ল মার্ক্সের থিওরি ছিল যে দেশের economic mode of production সমাজের সব প্রথা অর্থনৈতিক এই অনুজ্ঞার প্রেক্ষিতে বিবর্তিত হতে হয়। মার্ক্সের অপরাপর ধারণা যা’ই হোক আমি মনে করি তার এই ধারণাটি চিরন্তন।

    আজকের বিশ্বের নারীর জন্য যদি পুরুষের পাশে একই কর্মস্থানে কাজ করার অনুজ্ঞা প্রবল হয়ে পড়ে তবে নারীরা তাই করবে। মুসলিম নারীরাও করবে। ইসলামের অনেক কিছুতে দুই বা ততোধিক ধারণা সমর্থনের টেক্সট পাওয়া যায়। তাই ব্যক্তি ও সমাজের প্রয়োজনে যে অনুজ্ঞা হাজির হবে, সেটাকে সামনে রেখে কিছু টেক্সটকে প্রায়রিটাইজ (prioritise) করা হবে। মনে রাখতে হবে প্রয়োজনের নাম ‘বাবাজি’। এক সময় সমাজের আর্থিক ব্যবস্থাপনা বা উৎপাদনের প্রকৃতি যখন পুরুষকে আহবান করেছে তখন নারীর ঘরে থাকার টেক্সট (the text of the Quran and Hadith) ব্যবহৃত হয়েছে। এর অনুকূলে যুক্তি ও ধর্মতত্ত্ব ব্যবহৃত হয়েছে। আজ বৈশ্বিক অর্থ-ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকৃতি নারীকে কর্মক্ষেত্রে আহবান করছে, তাই মুসলিম নারীরা ধর্মতাত্ত্বিক পূর্ব যুক্তি ও পূর্বের ব্যবহৃত টেক্সটের পরিবর্তে নতুনভাবে প্রায়োরিটাইজ করা টেক্সটের ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় সাড়া দিয়ে আসতে একটু দেরি হচ্ছে মাত্র -এই যা। এই কথাগুলো প্রশস্ত করতে দীর্ঘ লেখার দরকার কিন্তু সেই ইচ্ছা নেই।

  4. মহিউদ্দিন

    আজকের বিশ্বের নারীর জন্য যদি পুরুষের পাশে একই কর্মস্থানে কাজ করার অনুজ্ঞা প্রবল হয়ে পড়ে তবে নারীরা তাই করবে। মুসলিম নারীরাও করবে।

    মুসলিম দেশে তা যে হচ্ছে না এমন নয়। অনেক দেশে নারীরা রাষ্ট্র প্রধানও হচ্ছেন। কিন্তু কেন কীভাবে হচ্ছেন সেটাও দেখতে হবে। এটা কাকতালীয় না কোন দেশের রাজনৈতিক তথা গণতান্ত্রিক পরিপক্বতা, না পরিবারতন্ত্রের অভিশাপ না অন্য কিছু ইত্যাদি অনেক প্রশ্নও আসতে পারে। আমার কাছে এগুলো ব্যতিক্রম বা আলাদা ঘটনা। কথা হচ্ছে সমাজের অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ফ্রোরের কাজ কিংবা কর্পোরেট জবের কর্মক্ষেত্র হউক না কেন সেখানে পেশাগত উন্নয়নে সাধারণ মহিলাদের জন্য রাস্তা কতটুকু মসৃণ? আর ঘরের বাহিরে মহিলাদের নিরাপত্তা কতটুকু আছে সেটাও দেখার বিষয়। নারীর অধিকার সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়িত করতে পশ্চিমা বিশ্বের উৎপাদনের ব্যবস্থাপনা যে জীবন দর্শনে বাস্তবায়িত তা থেকে মুসলিম বিশ্বে আলাদা হতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।