«

»

মার্চ ০৫

কেন কোরআনের মতো একটি গ্রন্থ মানুষের পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয় (পর্ব-২)

এই বিংশ শতাব্দীতে কোরআন যে আল্লাহর বাণী সেটা দাবি করতে চাইলে, এমন কোন প্রমাণ পত্র থাকতে হবে যেটি নিশ্চিত ভাবে প্রমাণ করবে পবিত্র কোরআন আদৌ কোন মানুষের পক্ষে রচনা করা সম্বব নয়। পবিত্র কোরআনের সূরাগুলোর অসাধারন গাণিতিক বিন্যাস অত্যন্ত পরিষ্কার ভাবে প্রমাণ করছে যে , এই গ্রন্থটি মহা বুদ্ধিমান একজন ঈশ্বরের পক্ষ থেকে প্রেরিত এবং এটি সম্পুর্নরুপে একটি অবিকৃ্ত গ্রন্থ। কোরআন চ্যালেঞ্জ করেছে, পারলে মানুষ এই কিতাবের মত করে সূরা রচনা করে নিয়ে আসুক—

এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মতো একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো। [সুরা বাকারা: ২৩]

কোরআনের মত করে অসাধারন গাণিতিক বিন্যাস রক্ষা করে একটি গ্রন্থ রচনা করা , শুধু ১৪০০ বছর আগেই নয়, বরং বর্তমান কালেও কোন মানুষ অথবা বিজ্ঞানীর পক্ষেও সম্ভব নয়।

কিন্তু কেন সম্ভব নয়? আসুন সেটাই দেখা যাক।

আমরা জানি সূরা মুদ্দাসিরের ৩০ নং আয়াতে বলা আছে –

"তার উপর রয়েছে ঊনিশজন"

এটি একটি সাংকেতিক ভাষা । কোর আনকে সাজানো হয়েছে এই ১৯ এর বিন্যাসে এবং সেটি অবিশ্বাস্য ভাবে।

আমরা যদি ১১৪টি সূরাকে মোট ছয়টি ভাগে ভাগ করি এবং প্রতিভাগে থাকে ১৯টি করে সূরা তাহলে দেখবো প্রতিভাগের ১৯ট সূরার মধ্যে জোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরা কয়টি আর বেজোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরা কয়টি এবং দেখবো ছয়টি ভাগের মোট ১২টি ঘরে জোড় বেজোড়ের মাঝে কি অপূর্ব সমন্বয় ও ছন্দ সৃষ্টি হয়েছে।

নীচের চার্টে

১ম সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার সিরিয়াল নাম্বার।
২য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার নাম।
৩য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার আয়াত সংখ্যা।
৪র্থ সারিতে দেয়া হয়েছে বেজোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরাসমূহের সংখ্যা।
৫ম সারিতে দেয়া হয়েছে জোড় আয়াত বিশীষ্ট সূরাসমূহের সংখ্যা।
(ছবি কিছুটা ছোট দেখালে কি বোর্ডের ctrl বাটন চেপে ধরে উপরের ডান দিকে যেই বাটনে যোগ চিহ্ন আছে সেটা দু’তিনবার চাপুন তাহলে ওয়েব পেজটি আকারে বড় হয়ে যাবে।)a2a3

সত্যিই অপূর্ব! ছয় ভাগের ১২টি ঘরের কোথাও ছন্দ পতন হয়নি। প্রত্যেক ঘরেই বেজোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরার মোট সংখ্যা একটি জোড় সংখ্যা, আর প্রত্যেক ঘরেই জোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরার মোট সংখ্যা একটি বেজোড় সংখ্যা। জানি আপনি এখন বলবেন যে, যদিও জোড় ও বেজোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরাগুলোর মাঝে সুন্দর গাণিতিক ছন্দ পাওয়া গেছে কিন্তু এটাকে মিরাকেল বলা যায়না; কেননা এরকম মানুষের পক্ষেও করা সম্ভব। আপনার একথার জবাবে, আমি বলবো যে, হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, এরকম মানুষের পক্ষে করা সম্ভব। কিন্তু সম্ভব থাকলেও বাস্তবে কোন মানুষ আসলে এটা করেনি।ঐ সময়কার ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য থেকে এটাই পরিষ্কার বুঝে আসে। এখানে, আমি এখন সামনে এই চার্টের মধ্যে আরো গাণিতিক ছন্দ , জোড় বেজোড়ের আরো জটিল তাল বা সিমেট্রি বা ভারসাম্য প্রদর্শন করে এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করবো যে, এরকম করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, কমপক্ষে ঐ জামানায় যখন কোন ক্যালকুলেটর বা কম্পিউটার ছিলোনা। চলুন সামনে অগ্রসর হই।

আমরা জানি, জোড় আর বেজোড়কে চার রকমে সাজানো যায়। জোড়-জোড়, জোড়-বেজোড়, বেজোড়-বেজোড়, বেজোড়-জোড়।

এবার আমরা আমাদের কোরানিক চার্টের ছয় ভাগের প্রতিভাগের ১৯ টি সূরার মাঝে এমন সব সূরাগুলো চিহ্নিত করবো যাদের সিরিয়াল নাম্বারও জোড় এবং আয়াত নাম্বারও জোড়। এরপর দেখবো প্রতিভাগে এই সূরাগুলোর মাঝে কোন গাণিতিক ছন্দ পাওয়া যায় কিনা।

নীচের চার্টে
১ম সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার সিরিয়াল নাম্বার।
২য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার নাম।
৩য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার আয়াত সংখ্যা।
৪র্থ সারিতে দেয়া হয়েছে সিরিয়াল নাম্বার ও আয়াত নাম্বার দুটোই জোড় এমন সূরাসমূহের মোট সংখ্যা।
৫ম সারিতে দেয়া হয়েছে ঐ সূরাগুলোর আয়াতসমূহের মোট যোগফল।

a4a5

প্রিয় পাঠক! আমরা আবারো দেখতে পেলাম জোড় বেজোরের অপূর্ব ছন্দায়ন। ৬টি ভাগের ১২টি ঘরের কোন একটি ঘরেও ছন্দ পতন হয়নি। প্রতি ক্ষেত্রেই জোড় সিরিয়াল নাম্বার ও জোড় আয়াত নাম্বার বিশিষ্ট সূরাগুলোর মোট সংখ্যা একটি বেজোড় সংখ্যা। পাঠক! এবার এটাকে আগেরটার সাথে মিলিয়ে চিন্তা করুন। একই চার্টে দুই দিক থেকে ছয়টা বা বারোটা ঘরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা, ছন্দ রক্ষা করা কিন্তু বেশ কঠিন। যাইহোক এখনো আমি মিরাকেল বলে দাবী করছিনা। চলুন সামনে অগ্রসর হই। দেখা যাক আমাদের জন্য আরো কি ছন্দ অপেক্ষা করছে।

এবার আমরা এই একই চার্টে এমন সব সূরাসমূহকে চিহ্নিত করবো, যেগুলোর সিরিয়াল নাম্বার জোড় কিন্তু আয়াত নাম্বার বেজোড়, এরপর দেখবো প্রতিভাগে এরকম সূরা মোট কয়টি আছে এবং এগুলোর মাঝে জোড় বেজোড়ের কোন ছন্দ পাওয়া যায় কিনা তাও দেখবো।

নীচের চার্টে
১ম সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার সিরিয়াল নাম্বার।
২য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার নাম।
৩য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার আয়াত সংখ্যা।
৪র্থ সারিতে দেয়া হয়েছে এমন সূরাসমূহের মোট সংখ্যা যেগুলোর সিরিয়াল নাম্বার জোড় আর আয়াত নাম্বার বেজোড়।
৫ম সারিতে দেয়া হয়েছে ঐ সূরাগুলোর আয়াতসমূহের মোট যোগফল।

a6

a7

আবারো আমরা দেখতে পেলাম দারুণ ছন্দের মিল। একবার জোড় আরেকবার বেজোড়। কোন একটি ঘরেও ছন্দ রক্ষা না হলে কিন্তু ভেঙ্গে যেতো এই গাণিতিক সিস্টেম। তখন আগের দুইবার যেই গাণিতিক ছন্দ পাওয়া গিয়েছিলো সেটারও কোন মূল্য থাকতো না। প্রিয় পাঠক এখন আপনি কি বলবেন? একই চার্টে তিন দিক থেকে ছয়টি বা বারোটি ঘরে জোড় বেজোড়ের গাণিতিক ছন্দ রক্ষা করা কিন্তু বিরাট কঠিন কাজ। কোন মানুষ যদি তার বইয়ের মাঝে কোন গাণিতিক মিল রাখতে চায়, তাহলে নিশ্চয়ই সে এত কঠিন রাস্তা অবলম্বন করবেনা বরং আরো অনেক সহজ রাস্তা বেছে নিবে। কাজটি যে কত কঠিন , ঝামেলাপূর্ণ আর সময়সাপেক্ষ এটা আপনার তখনই বুঝে আসবে যখন আপনি নিজে এমন ছন্দ রক্ষা করে কোন কিতাব বা বই লিখতে যাবেন। কিতাব আর মনে হয় লেখা হবেনা, গাণিতিক ছন্দ রক্ষা করতে গিয়েই জীবন পার হয়ে যাবে। যাইহোক আমি এখনো মিরাকেল দাবী করছিনা। চলুন সামনে চলুন। আপনিই বলবেন মিরাকেল হয়েছে কি হয়নি।

এবার আমরা এই একই চার্টে এমন সব সূরাসমূহকে চিহ্নিত করবো, যেগুলোর সিরিয়াল নাম্বার ও আয়াত নাম্বার দুটোই বেজোড়,এরপর দেখবো প্রতিভাগে এরকম সূরা মোট কয়টি আছে এবং এগুলোর মাঝে জোড় বেজোড়ের কোন ছন্দ পাওয়া যায় কিনা তাও দেখবো।

নীচের চার্টে
১ম সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার সিরিয়াল নাম্বার।
২য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার নাম।
৩য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার আয়াত সংখ্যা।
৪র্থ সারিতে দেয়া হয়েছে এমন সূরাসমূহের মোট সংখ্যা যেগুলোর সিরিয়াল নাম্বার ও আয়াত নাম্বার দুটোই বেজোড় ।
৫ম সারিতে দেয়া হয়েছে ঐ সূরাগুলোর আয়াতসমূহের মোট যোগফল।

a8a9

এবার কিন্তু আমার মনে হয় কোন নাস্তিকও আশ্চর্য না হয়ে পারবে না। আবারো সেই ছন্দের হিল্লোল বয়ে গেলো পুরো ছয়টি ভাগ জুড়ে। এই নিয়ে আমরা চতুর্থবার জোড় বেজোড়ের ছন্দ রক্ষা পেতে দেখলাম। এবারও কোন একটি ঘরেও ছন্দের ব্যাঘাত ঘটলো না। প্রিয় পাঠক আপনি কি চিন্তা করতে পারছেন যে, শুরুর দিকের সহজ কাজটি এখন কত জটিল আর কঠিন হয়ে গেলো। একই চার্টে চার দিক থেকে, সিরিয়াল ও আয়াত নাম্বারের মাঝে, জোড় আর বেজোড়ের অটুট ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে । খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার! তাই না? এর চেয়েও আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো এখনো এমন কাউকে পাওয়া যাবে, যারা বলবে যে এটা এমনি এমনি হয়ে গেছে বা কোন মানুষ করেছে। ঠিক আছে, দেখা যাক আমরা তাদের জন্য সামনে আরো কিছু পাই কিনা?

এবার আমরা এই একই চার্টে এমন সব সূরাসমূহকে চিহ্নিত করবো, যেগুলোর সিরিয়াল নাম্বার বেজোড় কিন্তু আয়াত নাম্বার জোড়,এরপর দেখবো প্রতিভাগে এরকম সূরা মোট কয়টি আছে এবং এগুলোর মাঝে জোড় বেজোড়ের কোন ছন্দ পাওয়া যায় কিনা তাও দেখবো।

নীচের চার্টে
১ম সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার সিরিয়াল নাম্বার।
২য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার নাম।
৩য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার আয়াত সংখ্যা।
৪র্থ সারিতে দেয়া হয়েছে এমন সূরাসমূহের মোট সংখ্যা যেগুলোর সিরিয়াল নাম্বার বেজোড় কিন্তু আয়াত নাম্বার জোড় ।
৫ম সারিতে দেয়া হয়েছে ঐ সূরাগুলোর আয়াতসমূহের মোট যোগফল।

ab2ab3

সত্যিই বিস্ময়কর! কিভাবে সম্ভব!! কমপক্ষে একটা ঘরে হলেও তো ছন্দ পতন হতে পারতো। কিন্তু না, হয়নি। কেননা এই সিস্টেম কোন মানুষ করেনি, করেছেন সর্বজ্ঞানী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। এই নিয়ে পঞ্চমবার হলো। মোট পাঁচটি দিক থেকে একই চার্টে জোড় বেজোড়ের অপূর্ব ছন্দায়ন আমরা দেখতে পেলাম।

উপরে এতক্ষণ যা হয়েছে এতটুকু করাই নিঃসন্দেহে অতি কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ, এর উপর আমরা এখন নীচে এমন একটি চার্ট নিয়ে আসবো যেটা চুড়ান্তভাবে প্রমাণ করবে যে, জোড় বেজোড়ের এই অপূর্ব গাণিতিক ছন্দ কোন মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এটা শুধুমাত্র মহাজ্ঞানী, মহা ক্ষমতাবান এক আল্লাহ পাকের পক্ষেই সম্ভব।

এবার আমরা উপরের চার্টটিকে দুই ভাগ করবো। বাম দিকে থাকবে শুধু বেজোড় সিরিয়ালের ৫৭টি সূরা আর ডান দিকে থাকবে শুধু জোড় সিরিয়ালের ৫৭টি সূরা। এরপর আবার আগের মত চার্টটিকে মোট ছয়টি ভাগে ভাগ করবো , প্রতিভাগে থাকবে ১৯টি করে সূরা। এরপর দেখবো প্রতিভাগে বেজোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরা কয়টি আর জোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরা কয়টি।

নীচের চার্টে দুইটি ভাগ আছে। উভয় ভাগেই
১ম কলামে আছে সূরার সিরিয়াল নাম্বার
২য় কলামে আছে সূরার আয়াত নাম্বার
৩য় কলামে আছে বেজোড় আয়াতবিশিষ্ট সূরাসমূহের মোট সংখ্যা
৪র্থ কলামে আছে জোড় আয়াতবিশিষ্ট সূরাসমূহের মোট সংখ্যা

ab4

১১৪ সূরার কোরানিক চার্টের উপর দিয়ে জোড় বেজোড়ের ঢেউ খেলিয়ে আবারো বয়ে গেলো মন জুড়ানো হিমেল মিরাকেল।প্রতিভাগেই বেজোড় আয়াতবিশিষ্ট সূরা সমুহের মোট সংখ্যা একটি জোড় সংখ্যা আর জোড় আয়াতবিশিষ্ট সূরাসমূহের মোট সংখ্যা একটি বেজোড় সংখ্যা।

চাক্ষুষ গাণিতিক প্রমাণের আলোকে এখন এটা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, কোরআনের এই গাণিতিক সিস্টেম কোন মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয়, এটা শুধুমাত্র গণিতের যিনি স্রষ্টা,সেই মহাজ্ঞানী আল্লাহ পাকের পক্ষেই সম্ভব। আরো প্রমাণ হলো যে, কোরআনের সূরা সমূহের সিরিয়াল এবং আয়াত নাম্বার সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এবং আরো প্রমাণ হলো যে, এই জটিল গাণিতিক সিস্টেম যেহেতু অক্ষুন্ন আছে, অতএব কোরআনে ১৪০০ বছরেও কোন পরিবর্তন হয়নি। কেননা যিনি সিস্টেম করেছেন, তার পরে যদি অন্য কারো হাত এতে লাগতো তাহলে ভেঙ্গে যেতো এই অপূর্ব জটিল সিস্টেম। এসবই প্রমাণিত হলো চাক্ষুষ গাণিতিক ভিত্তির আলোকে। এখন যদি কেউ এসেঅদেখা, অস্পষ্ট ইতিহাসের আলোকে প্রমাণ করতে চায় যে, কোরআনে পরিবর্তন হয়েছে , তাহলে এটাই বুঝা যাবে যে, এই ইতিহাস মিথ্যা বা ভুল বা অসম্পূর্ণ বা ইতিহাস যদি কিছু ঠিক হয়েও থাকে, তাহলে ইতিহাস বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভুল হয়েছে বা সঠিক ইতিহাস থেকে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চাক্ষুষ প্রমাণের সামনে অদেখা প্রমাণ কোন মূল্যই রাখেনা।

এখন আমরা নশ্চিতভাবে বলতে পারি , পবিত্র কোরআন এক অতি বুদ্ধিমান মহান ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত গ্রন্থ , যেটি নাযীলের পর থেকে সামান্যতম বিচ্যুতি সাধিত হয় নি।

শেষ করছি কোরআনের বাণী দিয়ে–

وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ. لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ.

আর এটি নিশ্চয় এক সম্মানিত গ্রন্থ। বাতিল এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না, না সামনে থেকে, না পিছন থেকে। এটি প্রজ্ঞাময়, সপ্রশংসিতের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত’-(সূরা ফুস্সিলাত , ৪১-৪২)।

 

সূত্র- 

http://www.amazing19.com/

ব্লগার– ডাকছে মরন)

 

২৬ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. মুহাম্মাদ হাসান

    আসসালামুয়ালাইকুম,

    আসা করি কিছু মনে করবেন না । এই তথা কথিত ১৯ মিরাকলে অনেক সমস্যা আছে । শুধু একটা উদাহরণ দিচ্ছি যেমন হাফিয উসমান সুরা মাইদার আয়াত  সংখ্যা করেছেন ১২৩ টি যার ফলে পুরো সূত্রটাই ধসে পরবে যেটা প্রচলিত আয়াত সংখার চেয়ে ৩টা বেশী । এরকম আরও অনেক উদাহরণ আছে । এই তথাকথিত ১৯ মিরাকলের আবিষ্কারক রাশাদ খলিফা তার এই তত্ত্বকে প্রমাণ করার জন্য কুরআনের আয়াতকে অনেক সময় বাদ দিয়েছেন আবার কখন নিজের থেকে আয়াত যোগ করেছেন । পরবর্তীতে তিনি নিজেকে নবী বলেও দাবী করেছেন । তিনি হাদিসকে স্বীকার করতেননা এবং আজ তার অনুসারিরাও হাদিসকে স্বীকার করে না । যারা নিজেরদেরকে আহলে কুরআন বলে অভিহিত করে । এই ১৯ মিরাকলের বিস্তারিত ভ্রান্তির খণ্ডন করেছেন ডক্টর বিলাল ফিলিপ্স তার "The Quran's Numerical Miracle: Hoax and Heresy" বইয়ে । Google search করলে বইটি পাবেন ইনশাআল্লাহ্‌ ।  

    1. ১.১
      আরিফ

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। আমি পোস্টে যে তথ্য উপস্থাপন করেছি তা রশিদ খলিফার নয়।  কোরআনের এই অবিশ্বাস্য গাণিতিক বিন্যাসটি অল্প কয়েকবছর আগে Kourosh Jamneshan  নামক একজন খুজে পেয়েছেন। তিনি চার্টের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে তা তুলে ধরেছেন।

      এই তথা কথিত ১৯ মিরাকলে অনেক সমস্যা আছে । শুধু একটা উদাহরণ দিচ্ছি যেমন হাফিয উসমান সুরা মাইদার আয়াত  সংখ্যা করেছেন ১২৩ টি যার ফলে পুরো সূত্রটাই ধসে পরবে যেটা প্রচলিত আয়াত সংখার চেয়ে ৩টা বেশী । এরকম আরও অনেক উদাহরণ আছে ।

      — আপনার এই মন্তব্য থেকে বুঝা যাচ্ছে কোরআন সম্পর্কে আপনার তেমন ধারনা নেই। কোরানের আয়াতের সংযোজন- বিয়োজন করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তাফসির এ জালালাইন শরীফে স্পস্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-  কোরানের আয়াতগুলোর পর্যায়ক্রম মুহাম্মদ সা উল্লেখ করে গেছেন। কোরান সারা পৃথিবীব্যাপী এমনই একটি বহুল পঠিত গ্রন্থ যে এটির সামান্যতম পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাছাড়া অন লাইনেও কোরানের অনেক কপি সংরক্ষিত আছে। সেখান থেকে দেখে নিন – কোন সূরায় আয়াতের সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয়েছে কি না। 

      কিভাবে কোরানে অত্যন্ত সুবিন্যস্ত গাণিতিক বিন্যাস রক্ষা করা হয়েছে এবং তা বহুবার ঘটেছে তাই চার্টের আকারে দেখান হয়েছে। মিরাকল বা হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা এক, দুই অথবা তিনবার ঘটতে পারে, কিন্তু বারবার বা বহুবার নয়। 

      গাণিতিক বিন্যাস রক্ষা করে কোরান রচনার চেষ্টা করা হয়েছে এমন কোন উদাহরন কিন্তু কেউ দিতে পারবে না।

      1. ১.১.১
        মুহাম্মদ হাসান

        আপনার এই মন্তব্য থেকে বুঝা যাচ্ছে কোরআন সম্পর্কে আপনার তেমন ধারনা নেই।

        জী ভাই, কুরআন সম্পর্কে একটু  জানার চেষ্টা করছি আরকি । জাযাকাল্লাহ খাইর উৎসাহিত করার জন্য । 

        কোরআনের এই অবিশ্বাস্য গাণিতিক বিন্যাসটি অল্প কয়েকবছর আগে Kourosh Jamneshan  নামক একজন খুজে পেয়েছেন।

        আমি যতটুকু জানি রাশাদ খালিফা অনেক আগেই এই তত্ত্বের আবিস্কার করেছিলেন । হবে হয়ত Kourosh Jamneshan নতুন কিছু বের করেছেন । Kourosh Jamneshan এর বিষয়ে বা কুরআনের বিন্যাসের বিষয়ে এখানে আমার কিছু লেখার নাই । তবে আপনাকে অনুরোধ করব সুরা ফাতিহাকে  বাংলাদেশে ছাপানো একটা বাংলায় অনুবাদ করা কুরআনের সাথে ইংলিশ একটা অনুবাদ করা কুরআনের  সংগে তুলনা করার জন্য । আর আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলীর ইংলিশ অনুবাদ সুরা মাইদার প্রথম দুটা আয়াতের কমেন্ট পড়ে দেখবেন ।  

      2. আরিফ

        দেখুন কোরানের এই বিন্যাস কে বের করেছেন এটি বড় কথা নয়। এ কথা অন্তত প্রমাণিত যে, পবিত্র কোরানের একটি বিশ্বয়কর গাণিতিক বিন্যাস আছে , যে জটিল বিন্যাসটি কেউ করতে গেলে শুধু একটি-দুটি নয় বরং বহুবার কোরানের আয়াতের পরিবর্তন সাধন করতে হবে। আপনি দয়া করে আরেকবার চার্টগুলোর দিকে চোখ বুলিয়ে নিন। এরকম বিন্যাস রক্ষা করতে চাইলে কম্পিউটার, নিদেন পক্ষে ক্যালকুলেটরের সাহায্য নিতে হবে।

        হযরত উসমান (রা) এর সময় থেকে পুর্নাঙ্গ লিখিত কোরানের কপি বহু যায়গায় সংরক্ষিত আছে। যদি কোন পরিবর্তন করতেই হয়, তবে তা সেই সময় থেকেই করতে হবে। কোন গাণিতিক বিন্যাস তৈ্রী করার জন্য কোরানে পরিবর্তন করা হয়েছে , এমন কোন ইতিহাস কেউ দেখাতে পারবে না।

        আমি যতটুকু জানি রাশাদ খালিফা অনেক আগেই এই তত্ত্বের আবিস্কার করেছিলেন ।

        হ্যা আপনি ঠিকই বলেছেন। রাশাদ খিলিফা ১৯ ভিত্তিক একটি গাণিতিক বিন্যাস খুজে পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এই পোস্টে উল্লেখিত বিন্যাসটি সম্পর্কে কোন ধারনা দিতে পারেন নি।  সম্পুর্ন কোরানের সূরা ও তার আয়াত সংখ্যার মধ্যে একটি ১৯ ভিত্তিক অসাধারন বিন্যাসের এই ধারনা অতি সম্প্রতি পাওয়া গেছে।

        তাছাড়া কোরানে ১৯ ও জোড়-বেজোড়ের ব্যাপারে ধারনা অনেক আগেই থেকেই আল্লাহ জানিয়েছেন দুটো আয়াতের মাধ্যমে–

         

        "তার উপর রয়েছে ঊনিশজন" ( মুদাসসির ৩০)

         

        শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার, যা জোড় ও যা বিজোড় ,এর মধ্যে আছে শপথ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্যে। [সুরা ফা’জর: ৩-৫]

        এতসব কিছুর পরও যদি কারো মনে হয় কোরানে আসলেই কোন গাণিতিক মিরাকেল নেই তাহলে তার জন্য দুঃখ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। ভালো থাকুন। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন।

         

      3. মুহাম্মদ হাসান

        দেখুন কোরানের এই বিন্যাস কে বের করেছেন এটি বড় কথা নয়।

        আমার ভুল হতে পারে তবে আজ পর্যন্ত যেসব গানিতিক "মিরাকল" আবিষ্কৃত হয়েছে সবগুলোই ভুল এবং ভুয়া প্রমানিত হয়েছে ।  কারন এই তথাকথিত পণ্ডিতরা তাদের সুত্রকে মেলানোর জন্য যা করতে হয় তাই করেন, নিজেদের ইচ্ছামত যোগ, বিয়োগ, ভাগ ইত্যাদি করেন । Kourosh Jamneshan এর মিরাকেলও যে এর ব্যাতিক্রম হবে না এটা সেটা চিন্তার বিষয়  । আর কুরআনের বিন্যাস এখানে একটি বিশাল ফ্যক্টর কারন যেখানে দুই ধরনের বিন্যাস আছে সেখানে এধরনের ছক বাঁধা সুত্র প্রমানিত করা সম্ভব না । 

        এতসব কিছুর পরও যদি কারো মনে হয় কোরানে আসলেই কোন গাণিতিক মিরাকেল নেই তাহলে তার জন্য দুঃখ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

        গানিতিক মিরাকেল থাকতে পারে কিন্তু এখন পর্যন্ত যেসব আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলো ভুল এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রমানিত হয়েছে ।  আপনি যদি Kourosh Jamneshan এর এই মিরাকেলের উপর পুরোপুরি convinced হয়ে থাকেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার । তবে আমার মত মানুষের প্রতি এজন্য দুঃখ প্রকাশ করা কতটুকু সমীচীন সেটা বোধগম্য নয় । যাইহোক, আমি এবিষয়ে আর কোন কমেন্ট করে আপনার বিশ্বাস এবং পরিশ্রমের উপর আঘাত হান্তে চাচ্ছিনা । যদি আঘাত পেয়েও থাকেন দয়াকরে মাফ করে দিবেন । আলাহ আপনাকে জাযাখাইর দান করুন ।  

  2. এস. এম. রায়হান

    প্রাসঙ্গিক বিষয়ে "এথিয়িস্ট বাংলাদেশ" গ্রুপে নাস্তিকদেরকে প্রশ্ন করে একটি পোস্ট দিয়েছি। এখানে দেখুন।

    1. ২.১
      আরিফ

      নাস্তিকদের ইদানিং চাক্ষুশ প্রমাণ দেখালেও কোন লাভ হচ্ছে না। তারা নিজেদেরকে উন্নত শ্রেণীর প্রাণি ভেবেই বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করে ,আশরাফুল মাখলুকাত ভেবে নয়। 

      যাদের পারলৌকিক জবাবদিহিতার কোন ভয় নেই, যাদের নিদৃষ্ট কোন আদর্শ নেই , তারা যচ্ছে -তাই জীবন-জাপন করবে এটাই স্বাভাবিক। যারা নাস্তিকতার মধ্যে শান্তির পথ খুজে তারা তসলিমা নাসরিন , থাবা বাবা আর আসিফ মহিউদ্দিনের ব্যাক্তিগত জীবন একটু নেড়ে-ঘেটে দেখুক, তাহলেই সব বুঝে আসবে। 

  3. আরিফ

    @মুহাম্মদ হাসান

    বেশ, আপনি ধরেই নিয়েছেন , অতীতে যেহেতু গাণিতিক মিরাকেল ভুল প্রমাণিত হয়েছে, তাই আর কখনই এরকম মিরাকেল হতে পারে না বা পারবে না। তাই নয় কি।

    ঠিক আছে , তাহলে এই পোস্টে উল্লেখিত তথ্যে কোন ভুল আছে কি না বা কোন প্রতারনার আশ্রয় নেয়া হয়েছে কি না সেটা প্রমাণ করুন। যদি তা পারেন, তাহলে বিনীত ভাবে ক্ষমা চাইব, আর পোস্ট বাতিল করে দিব।

     

    1. ৩.১
      মুহাম্মদ হাসান

      সুরা মাইদার দুটি বিন্যাস আছে যেটা আমার প্রথম পোস্টে বলেছিলাম এতে ১২৩ আয়াত করা হয়েছে যার ফলে এই মিরাকলের হিসাব মিলবে না।

      1. ৩.১.১
        আরিফ

        বুঝতে পেরেছি, কোরানের আয়াতগুলো সুনির্দিষ্ট এবং এর একটি গাণিতিক বিন্যাস আছে সেটি আপনি কিছুতেই মানতে রাজী নন।

        এখন দয়া করে মহান আল্লাহ কি দাবী করেছেন সেটা দেখুন–  

        আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক। [সুরা হিজর: ৯]

        আর এটি নিশ্চয় এক সম্মানিত গ্রন্থ। বাতিল এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না, না সামনে থেকে, না পিছন থেকে। এটি প্রজ্ঞাময়, সপ্রশংসিতের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত’-(সূরা ফুস্সিলাত , ৪১-৪২)।

        অতঃপর আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। [সুরা কিয়ামা’ত: ১৮]  

        কেয়ামতের দিন বের করে দেখাব তাকে একটি কিতাব, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। [সুরা বনী-ইসরাঈল: ১৩]  

        এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। কোরআন ওহী, যা প্রত্যাদেশ হয়। তাঁকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী ফেরেশতা, [সুরা নাজম: ৩-৫]

        আশা করি উপরের আয়াতগুলো থেকে আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে , আল্লাহ দাবী করেছেন যে তিনি এক শক্তিশালী ফেরেশতার মাধ্যমে কোরান নাযীল করেছেন, এতে কোন কিছু অনুপ্রবেশ করতে পারবে না এবং তিনিই এর সংরক্ষনকারী। একজন ঈমানদার বান্দা হিসেবে আল্লাহর কথার উপর পূর্ন আস্থা রাখি।

        আপনি কিন্তু আপনার নিজের পোস্টেই উল্লেখ করেছেন–

        ওহী আসার পর মুহাম্মাদ(সঃ) তার সাহাবিদেরকে বলেদিতেন কোন সুরার পর কোন সুরা এবং কোন আয়াতের পর কোন আয়াত আসবে অর্থাৎ কুরআনের সম্পূর্ণ বিন্যাস কিভাবে হবে তা রাসুল(সঃ) তার জীবদ্দশায় তার সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং আমাদের কাছে সেভাবেই পৌঁছেছে ।  প্রশ্ন হলঃ রাসুল(সঃ) কুরআনের বিন্যাস সম্পর্কে জানলেন কিভাবে? আল্লাহ তো কুরআনের মধ্যে রাসুল(সঃ) কে বলে দেইনি কোন সুরার পর কোন সুরা এবং কোন আয়াতের পরে কোন আয়াত বসবে ।  তাহলে আল্লাহ তার রাসুল (সঃ)কে কিভাবে এই আদেশ দিলেনসুতরাং, আল্লাহ এই আদেশ দ্বিতীয় প্রকারের ওহীর মাধ্যমে রাসুলকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যেটাকে হাদিস বলা হয় ।    

        এর পরও কিভাবে  আপিনি দাবী করেন একই সূরার  ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যার আয়াত থাকতে পারে ?

        এবার দেখুন পৃথিবীর প্রধান কোরান শরীফগুলোর বিন্যাস-

        ইবনে কাসীর

        মারেফুল কোরান

        জালালাইন শরীফ

        Abdul Daryabadi  Dr. Mohsin  Mufti Taqi Usmani Pickthal  Yusuf Ali 

        এরপরও যদি আপনি আপনার দাবীতে অবিচল থাকেন — তবে আপনাকে বলব — "সালাম"      

      2. মুহাম্মদ হাসান

        আসসালামুয়ালিকুম, 

        ভাই, আমি আগের পোস্টে বলেছিলাম "আমি এবিষয়ে আর কোন কমেন্ট করে আপনার বিশ্বাস এবং পরিশ্রমের উপর আঘাত হান্তে চাচ্ছিনা । যদি আঘাত পেয়েও থাকেন দয়াকরে মাফ করে দিবেন । আলাহ আপনাকে জাযাখাইর দান করুন" আমি চাচ্ছিলামনা যে সদালাপের পাঠকরা আমাদের কমেন্ট পড়ে বিভ্রান্ত হোক । কিন্তু এখন অবস্থা এমন পর্যায়ে এসেছে যে এ বিষয়ে কিছু না বললেই নয় । আপনার প্রথম কমেন্ট "আপনার এই মন্তব্য থেকে বুঝা যাচ্ছে কোরআন সম্পর্কে আপনার তেমন ধারনা নেই" পড়ে ধরেনিয়েছিলাম আপনি কুরআন সম্পর্কে খুবই জ্ঞান রাখেন । আসা করি আমার ধারনা এখনও ঠিকই থাকবে ইনশাআলাহ । যদিও আমি জানিনা এ ধরনের কমেন্ট কতটা ইসলাম সম্মত । আপনি আমাকে চিনেননা জানেননা কখনও দেখেননি অথচ আমার একটা কমেন্টের উপর ভিত্তি করে আমার জ্ঞানের দৈর্ঘ্য প্রস্থ বলে দিলেন । তবে আমি এ ধরনের কমেন্ট খুব আনন্দের সাথেই গ্রহন করি কারন এগুলো আমাকে উৎসাহ দেয় । 

        বুঝতে পেরেছি, কোরানের আয়াতগুলো সুনির্দিষ্ট এবং এর একটি গাণিতিক বিন্যাস আছে সেটি আপনি কিছুতেই মানতে রাজী নন।

        এই কথাটা ঠিকনা, আমি আগের পোস্টে পরিষ্কার বলেছিলাম "গানিতিক মিরাকেল থাকতে পারে কিন্তু এখন পর্যন্ত যেসব আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলো ভুল এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রমানিত হয়েছে" এটাও বলেছিলাম যে "আপনি যদি Kourosh Jamneshan এর এই মিরাকেলের উপর পুরোপুরি convinced হয়ে থাকেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার"  । এই " ১৯ মিরাকেল " মানা বা না মানা কোন আকিদাগত বিষয় না । কেউ না মানলে সে কি কাফির বা মুনাফিক হয়ে যাবে? কিন্তু আপনার কমেন্ট পড়ে মনে হচ্ছে এটা সাবাইকে মানতে হবে । 

        কুরআনের, যের, যবর, পেশ, আয়াত নম্বর, সুরা বিভাজক, ৭ মানযিল এবং ৩০ পারা এগুলো সবই রাসুল(সঃ) মৃত্যুর অনেক পরে করা হয়েছে যাতে করে পড়তে শুবিধা হয় । উল্লেখ্য, এসব দ্বারা কুরআনের মূল text এর কোন পরিবর্তন হয়না, এগুলো শুধুই মাত্র পড়ার সুবিধার্থে বিশেষ করে যারা মখস্থ করতে চান আর অনারবদের জন্য । আর ঠিক এই কারনেই, যখন আয়াত নম্বর বসানো হয় তখন কোন কোন পণ্ডিত কোন কোন আয়াতকে ভেঙ্গে দুই আয়াত কেউ কেউ আবার ওই একই আয়াতকে একটি আয়াত হিসেবে গননা করেছেন । কেউ কেউ বিসমিল্লাহকে প্রত্যেক সুরার শুরুতে একটি স্বতন্ত্র আয়াত হিসেব গননা করেছেন যেমন ইমাম শাফঈ এদের মধ্যে অন্যতম যেটা অন্যরা করেননি । কেউ কেউ সুরা ফাতিহার শেষ আয়াতটিকে দুটি আয়াত হিসেবে গননা করেছেন, যেমন ইমাম আবু হানিফা এদের মধ্যে অন্যতম । আপনাকে আগের একটা পোস্টে অনুরোধ করেছিলাম  "আপনাকে অনুরোধ করব সুরা ফাতিহাকে  বাংলাদেশে ছাপানো একটা বাংলায় অনুবাদ করা কুরআনের সাথে ইংলিশ একটা অনুবাদ করা কুরআনের  সংগে তুলনা করার জন্য । আর আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলীর ইংলিশ অনুবাদ সুরা মাইদার প্রথম দুটা আয়াতের কমেন্ট পড়ে দেখবেন"  উল্লেখ্য আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলীর অরিজিনাল অনুবাদ দেখবেন দয়াকরে । আয়াত সংখ্যার ব্যাপারে ইবনে কাসির  তার তাফসির (আনুবাদঃ ডঃ মুহাম্মাদ মুজীবুর রহমান) গ্রন্থের প্রথম ভলিউমের ৫০ পৃষ্ঠায় বলেছেন "কুরআন করিমে মত আয়াত ৬(ছয়) হাজার । এর চেয়ে বেশী আছে কিনা সে বিষয়ে কুরআন বিশেষজ্ঞদের মাঝে মতভেদ আছে । কারো কারো মতে এর চেয়ে বেশী নেই । কেউঃ কেউ বলেছেন যে, ছয় হাজারের চাইতে আরও দু'শ চারটি আয়াত বেশি আছে । কেউ কেউ মত ছয় হাজার দু'শ চৌদ্দটির কথা উল্ল্যেখ করেন । আবার কেউ দু'শ উনিশটি, কেউ দু'শ পঁচিশটি এবং কেউ দু'শ ছাব্বিশটির বেশী কথা উল্ল্যেখ করেন" । দুঃখের বিষয় হল আপনি আমাকে ইবনে কাসির দেখতে বললেন অথচ আমাকে বলার আগে আপনি নিজে একবার পড়ে দেখলেন না! 

        আপনি কিন্তু আপনার নিজের পোস্টেই উল্লেখ করেছেন–

        আমার লেখার সাথে আয়াত সংখ্যার কোন বিষয় জড়িত আছে বলে আমি উল্ল্যেখ করিনি । উদাহরণ স্বরূপ ধরুন সুরা ফাতিহার শেষ আয়াতটি । আপনি যদি এটাকে দুটি আয়াতও করেন তারপর এটার বিন্যাসের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না । আয়াত সংখ্যার সাথে কুরআনের বিন্যাসের কোন সম্পর্ক নেই । মূল বিষয় হল যে কোন সুরার আয়াতের ধারাবাহিকতা যেটা কারো বদলানের ক্ষমতা নেই কারন সেটা আল্লাহ নিজে ওহীর মাধ্যমে রাসুলকে জানিয়ে দিয়েছেন এবং রাসুল সেভাবেই তার সাহাবিরদেরকে শিক্ষা দিয়েছিলেন । 

        এরপরও যদি আপনি আপনার দাবীতে অবিচল থাকেন — তবে আপনাকে বলব — "সালাম"

        মুছলিম ভাই হিসাবে একটা অনুরোধ করছি, এত জলদি কাউকে বিচার করবেন না এটা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী । আমরা এখানে লেখালেখি করি আল্লাহকে খুশি করার জন্য এখানে আমাদের ব্যাক্তিগত কোন স্বার্থ জড়িত নেই । আমাদের উচিৎ একজন আরেকজনকে ইসলামকে ভাল ভাবে জানার জন্য সাহায্য করা, নিজেরদের মাঝে কাদা ছুড়াছুড়ি করলে সেটা শুধু শয়তানেরই হাসির খোরাক হবে । আমার কোন কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে ভাই হিসাবে ক্ষমা করে দিবেন । আল্লাহ্‌ আমাদেরকে সবাইকে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা করুন । আমিন । 

  4. কবরের ডাক

    আরিফ ভাইকে অনেক ধন্যবাদ কোরআনের গাণিতিক মিরাকেল নিয়ে সদালাপে পোষ্ট দেয়ার জন্য। তবে সূত্র উল্লেখ করতে গিয়ে একটু ভুল হয়ে গিয়েছে। এই ২য় পর্বের সূত্র হলো এই সাইটটি   http://www.symmetricbook.com/ 

    @ ভাই মুহাম্মদ হাসান! আপনি বলেছেন  

     শুধু একটা উদাহরণ দিচ্ছি যেমন হাফিয উসমান সুরা মাইদার আয়াত  সংখ্যা করেছেন ১২৩ টি যার ফলে পুরো সূত্রটাই ধসে পরবে যেটা প্রচলিত আয়াত সংখার চেয়ে ৩টা বেশী ।  

     

    ভাই পুরো সূত্রটা ধ্বসে পরবে হাফিয উসমানের কেরাতে বা গণনা অনুসারে।  প্রচলিত কেরাত বা গণনায় ধ্বসে পরবে না। আমরা আমাদের যুক্তি দিয়েছি এক ক্ষেত্রে, আর আপনি কথা বলছেন আরেক ক্ষেত্র নিয়ে। আমরা যেই কেরাত নিয়ে কথা বলছি সেটার ক্ষেত্রে যুক্তি প্রমাণের আলোকে বলুন যে, এই গাণিতিক সজ্জা এমনি এমনি হওয়া সম্ভব কিনা বা কোন মানুষের পক্ষে করা সম্ভব কিনা। কোথায় কোন শায়েখ বা খলীফা কি বললো বা না বললো সেসব না দেখে এখানে  চাক্ষুষ যেটা দেয়া হয়েছে সেটা নিয়ে নিজে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন, যাচাই করুন। 

    কেউ যদি আমাদের এই গাণিতিক মিরাকেলের যুক্তি খন্ডন করতে চায় তাহলে তাকে আমাদের  যুক্তির ভিত্তি খন্ডন করতে হবে অন্য প্রমাণিত ভিত্তির আলোকে। ভিত্তি খন্ডন না করে এদিক সেদিক বিভিন্ন কথা বলে লাভ নেই। নীচে এই গাণিতিক মিরাকেলের যুক্তির ভিত্তি এবং সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নেয়া সিদ্ধান্ত সামু ব্লগ থেকে এখানে উল্লেখ করছি। 

    আমাদের যুক্তির প্রথম ভিত্তি ছিলো যে, একই নিয়মে অগ্রসর হয়ে বারবার একই ঘটনা রিপিট হচ্ছে। অতএব এটা একটা সুশৃঙ্খল সিস্টেম। এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত ছিলো যে, এরকম সুন্দর সিস্টেম কখনো এমিন এমনি ঝড়েবক হতে পারে না। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন বইয়ে হয়নি। খৃষ্টানরা গত ৩০ বছরে বহু বইয়ে খুঁজেও এমন কোন গাণিতিক সাদৃশ্য কোন বইয়ে খুঁজে পায়নি। তবে ছোটখাট, খাপছাড়া কিছু গাণিতিক সাদৃশ্য পেয়েছে। এছাড়া এটা সিমপ্লি কমনসেন্স দিয়েই বুঝা যায় যে, এরকম সুন্দর সিস্টেম কোনদিনও এমনি এমনি হতে পারেনা। কাউকে মাথা খাটিয়ে করতে হবে। প্রশ্ন হলো কোরআনের এই গাণিতিক সিস্টেমটা বানালো কে? 

    এরপর আমাদের যুক্তির দ্বিতীয় ভিত্তি ছিলো যে, কোরআনের গাণিতিক সিস্টেমটি অকল্পনীয় জটিল । এর উপর দাঁড়িয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত ছিলো যে, এটা কোন মানুষের করেনি।আর গাণিতিক জটিলতার ভিত্তি ছাড়াও এই ২য় সিদ্ধান্তের পক্ষে কিছু ঐতিহাসিক ভিত্তিও আছে। যেমনঃ 

    ১- আমাদের নবী (সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লেখাপড়া জানতেন না, এমনকি ঐ জামানার আরবের বেশীরভাগ মানুষই লেখাপড়া জানতো না, এর উপর অংক ও গণনায় ছিলো আরো বেশী দুর্বল। 

    ২- ঐ জামানায় কোন গণনা করার যন্ত্র ছিলোনা। 

    ৩- তারা যদি এই গাণিতিক সিস্টেম বানাতো তাহলে তারা এটা গর্ব করে প্রচার করতো আর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতো যে, কোরআনে এমন অলৌকিক গাণিতিক মিরাকেল আছে, কেউ পারলে এমন করে দেখাও। কিন্তু না তারা তা করেনি। কারন তারা নিজেরাই জান্তো না যে কোরআনে এমন গাণিতিক মিরাকেল আছে। এটা আবিষ্কার হলোই কিছুদিন আগে। মানুষ কোন কালেই বই লেখার সময় এমন সব জটিল গাণিতিক সাদৃশ্য রক্ষা করার কথা চিন্তা করেনি। এত এত বাঘা বাঘা গণিতবিদ ; এত এত মহাবিজ্ঞানী গেলো কারো কোন বইয়ে এমন কোন গাণিতিক মিল পাওয়া যাবে দূরের কথা, কেউ এভাবে করার চিন্তাও করেনি। এমন গাণিতিক মিল বজায় রেখে বই লেখতে গেলে কোন বিজ্ঞানীর আর কোন বই লেখা হতো না। এই গাণিতিক মিলের পিছে পরেই জীবন শেষ হয়ে যেত। 

    ৪- ঐ শুরুর জামানায় কোরআনের আয়াতের শেষে কোন নাম্বার লেখা থাকতো না, শুধু গোল একটা চিহ্ন থাকতো। চিন্তা করেন তাহলে নাম্বারই দেয়নি, তাহলে নাম্বারের মাঝে গাণিতিক মিল রাখবে কি করে? (নেটে হাজার বছর আগের কোরআনের ছবি পাওয়া যায়)

    ৫-বাহ্যিকভাবে কোরআনের বা নবীর বিপক্ষে যায় এমন অনেক তথ্য ইসলামের ইতিহাসে রক্ষিত আছে। কোন মেয়েকে দেখে কিসের নাকি নবীর ভালো লেগে গিয়েছিলো, কোন আয়াত নাকি শয়তান এলকা করেছিলো, কোন আয়াত নাকি ছাগলে খেয়ে ফেলেছে, সাহাবীরা কিভাবে নিজেরা মারামারি করেছে, সূরা তওবার শেষ দুই আয়াত নিয়ে কি ঝামেলা হয়েছিলো ইত্যাদি বহু হাবিজাবি কথাও ইতিহসের পাতায় আছে । আলেমরা এসব কোন কিছুই গোপন করেনি।গোপন করা সম্ভবই ছিলো না। ইসলাম শুরুতেই ,নবীর সাহাবীরা শুরুতেই দুনিয়ার বিভিন্ন কোনায় ছড়িয়ে গিয়েছিলো; একজন লুকালেও আরেক জন ফাঁস করে দিতো, কারণ সাহাবীদের মাঝেও বিরাট মারামারি হয়েছিলো। ইসলামের শুরুতেই মুসলমানরা মুসলমানরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে, নবীর মৃত্যুর পরেই আন্সার ও মুহাজির সাহাবাদের মধ্যে খেলাফত নিয়ে সমস্যা হয়েছে, হযরত আবু বকর(রা) ও ফাতেমা (রা) এর মাঝে বিরাট মনোমালিন্য হয়েছে, মুসলমানরা নবীর নাতিকে হত্যা করতে ছাড়েনি ইত্যাদি ইত্যাদি। সেইজন্যই বলেছি কোন কিছু গোপন করা সম্ভব ছিলোনা,একজন লুকালেও আরেক জন ফাঁস করে দিতো।  তো গাণিতিক মিরাকেলের এত বিরাট কর্মযজ্ঞ যদি হতো তাহলে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ নেই যে, সেটা অবশ্যই ইতিহাসে আসতো। কিন্তু না এটা নিয়ে বিন্দু পরিমাণ কোন আলোচনা ইসলামের ইতিহাসে কখনো হয়নি। এটা মাত্রই আবিষ্কার হলো। 

    ৬- একজন কাতেবে অহী অর্থাৎ কোরআন লেখক নবী (সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে) এর জীবদ্দশাতেই ইসলাম ছেড়ে দিয়েছিলো। কোন গাণিতিক হিসাব নিকাশ যদি নবী সাহাবীরা গোপনে করতেন, তাহলে সে অবশ্যই তা প্রকাশ করে দিতো। 

    তো এই ছয়টি ঐতিহাসিক তথ্য থেকে এবং আরো অনেক তথ্য উপাত্তের আলোকে এটা দিনের আলোর মত পরিষ্কার যে, কোন মানুষ এই গাণিতিক মিরাকেল সৃষ্টি করেনি। এমনকি কি যদি এটা মেনে নেয়া হয় যে, এমন গাণিতিক সাদৃশ্য মানুষের পক্ষে বানানো সম্ভব; তারপরেও এটাই বুঝা গেলো যে, এটা কোন মানুষ করেনি। প্রিয় পাঠক এই কথাটি একটু ভালো করে খেয়াল করুন যে, এসব ঐতিহাসিক তথ্যের আলোকে আমরা এটাই বুঝতে পারলাম যে, এই গাণিতিক মিরাকেল ঐই যামানার কোন মানুষ করেনি; যদিও তাদের পক্ষে সেটা করা সম্ভব ছিলো বলে আমরা ধরে নেই। এদিকে আমরা গাণিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আগেই বুঝেছি যে, এমন গাণিতিক সিস্টেম বানানো কোন মানুষের পক্ষে সম্ভবই ছিলো না। 

    তো যাইহোক, এই মন্তব্যকারী যেসব তথ্য দিলো এর দ্বারা কি আমাদের যুক্তির এই ১ম ভিত্তি বা ২য় ভিত্তি কোনটা খণ্ডন হয়েছে? হয়নি, মোটেই হয়নি। তিনি আমাদের কোন যুক্তিকেই খণ্ডন করতে পারেননি।এখন কথা হলো, আমাদের যুক্তি খণ্ডন হয়নি বুঝলাম, তাহলে মন্তব্যকারীর এইসব কথা দ্বারা কি প্রমাণ হয়? বা আমাদের যুক্তি প্রমাণের সাথে মন্তব্যকারীর কথার সম্পর্ক কি? বলছি শুনুন 

    আমরা চাক্ষুষ অকাট্য গাণিতিক প্রমাণের আলোকে দেখালাম যে, কোরআনের এই গাণিতিক সিস্টেম কোন মানুষ করেনি, আর সিস্টেম যেহেতু রক্ষিত আছে এতে বুঝা গেলো যে, কিতাবে কোন পরিবর্তন হয়নি, যিনি সিস্টেম করেছেন অদৃশ্য থেকে ইতিহাসের সব ঝড়ঝাপ্টার পরেও কোরানকে রক্ষা করেছেন। 

    আর মন্তব্যকারী আমাদের যুক্তির ভিত্তি খণ্ডন না করে নতুন একটা যুক্তি নিয়ে আসলেন।আমাদের যুক্তির ভিত্তি ছিলো গণিত আর তার যুক্তির ভিত্তি হলো ইতিহাস। ইতিহাসের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে উনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, কোরআন পরিবর্তন হয়েছে। তো চাক্ষুষ গাণিতিক ভিত্তির সাথে যখন ইতিহাসের সংঘাত ঘটে তখন আর বুঝতে বাকি থাকেনা যে, এই ইতিহাস ঠিক নয় বা এই ইতিহাস অসম্পূর্ণ বা ইতিহাস বিশ্লেষণ করে যেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেই বিশ্লেষণ ভুল, সিদ্ধান্ত ভুল। এবং আসলেই তাই আমাদের মন্তব্যকারী যেসব ইতিহাস তুলে ধরেছেন বলতে গেলে সবই ভুল বরং কয়েকটা ডাহা মিথ্যা ।   

    উপরের কথাগুলো নেয়া হয়েছে নীচের লিংক থেকে । 

    http://www.somewhereinblog.net/blog/ABDULKADIR1/29894190

     

     

    1. ৪.১
      কবরের ডাক

      অনেকে বলে থাকেন যে, বিসমিল্লাহ কি সূরা ফাতেহার অংশ কি অংশ নয় সেটা নিয়ে মতভেদ আছে; আবার আয়াতের নাম্বারিং পরে করা হয়েছে; অনেক সূরার আয়াত নাম্বার নিয়ে মতভেদ আছে; পুরা কোরআনের আয়াত নাম্বার কত এটা নিয়েও মতভেদ আছে; কোরআনের শেষ দুই সূরা নাকি কোন সাহাবীর মতে কোরআনের অংশ নয় ইত্যাদি ইত্যাদি।  সৈকত চৌধুরী এবং অনন্ত বিজয় দাশের লেখা কোরানের মিরাকল ১৯ -এর উনিশবিশ!' প্রবন্ধে এসব বলে দাবী করা হয়েছে যে, ইত্যাদি কারণে কোরানে ১৯ এর কোন মিরাকেল নেই। 

      এর জবাবে বলছি, এত মতভেদের পরেও কোরান ১৪০০ বছর আগে যেই কোরান ছিলো সেটাই। ঐ কোরানকে ঠিক রেখেই এসব মতভেদ। এমন না যে, একটা লাইন বেশী ঢুকানোর কারণে মতভেদ হয়েছে বা একটা সূরা বেশী ঢুকানোর কারণে মতভেদ হয়েছে। কেরাতের ভিন্নতার কারণে শব্দ যদি কমবেশি হয় , তাহলে সেটাকে পরিবর্তন বলে না। পরিবর্তন তখন বলা যেতো যে শুরুতে বা প্রথমে কোরানে কোন শব্দ ছিলো পরে সেটাকে বাদ দেয়া হয়েছে অথবা আগে কোন শব্দ ছিলোনা পরে ঢুকানো হয়েছে। কিন্তু ব্যাপারতো তা নয় । কেরাতের ভিন্নতা তো শুরু থেকেই ছিলো।শব্দের ১/২টা ভিন্নতা থেকে থাকলে সেটা শুরু থেকেই আছে। নবীর (সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সময় থেকেই আছে। এটাইতো আরো বেশী বিরাট আশ্চর্য যে, শুধু এক কেরাত বা পঠন রীতিই রক্ষিত হয়নি বরং ৭-১০টি  কেরাত রক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি কেরাতের মধ্যে আমরা গাণিতিক মিরাকেল আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি। হয়তো অন্য কেরাত বা হিসাবের মধ্যেও গাণিতিক মিরাকেল আছে, কিন্তু এখনো আবিষ্কার হয়নি। এখন এটা কি কোন যুক্তির কথা যে, এক কেরাতের কোরানে কোন গাণিতিক মিরাকেল আবিষ্কার হলে পর আপনি এসে বলা শুরু করলেন যে, অমুক কেরাতে তো এই গাণিতিক সজ্জা পাওয়া যায়নি। সুতরাং এই কেরাতের গাণিতিক মিরাকেল বাতিল।    

       

      আর এই যে, আয়াত সংখ্যা নিয়ে মতভেদ, এই যে বিসমিল্লাহ নিয়ে মতভেদ, সূরা নিয়ে মতভেদ এগুলোই তো অকাট্য দলীল যে, কোরআনের এই গাণিতিক মিরাকেল নবী বা সাহাবীরা করেনি। এই সম্পরকে তারা মোটেই জানতেন না । জানলে তারা কখনো এসব মতভেদ করতেন না।

      আর আগেও বলেছি যে, এসব তথ্য দ্বারা আমাদের যুক্তির দুই ভিত্তির কোন ভিত্তি খন্ডন হয়নি, বরং আরো বেশী করে কোরআনের অলোউকিকতা প্রকাশ পায়।এভাবে যে, ইতিহাসের এত ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও, এত মতভেদের মধ্যেও কিভাবে এত বিস্ময়কর জটিল গাণিতিক সজ্জাকে অটুট রাখা হলো। নিশ্চিত বুঝা যায়, এটা কোন মানুষের কাজ নয়। ইতিহাসের ঝড় ঝাপ্টা আর মতভেদের তুফানের মধ্যেও অদ্রিশ্য থেকে মহা শক্তিশালী আল্লাহ পাকই কোরআনের এই গাণিতিক মিরাকেলকে অক্ষুন্ন রেখেছেন।

      আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দিন। আমিন। 

       

      1. ৪.১.১
        আরিফ

        কবরের ডাক ভাইকে আবারো ধন্যবাদ। আশা করি আমার আর হাসান ভাইয়ের আলোচনায় যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল, ব্লগার কবরের ডাক সেই বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে পেরেছেন। 

        আল্লাহ আমাদের সঠিক জিনিস বুঝার তৌফিক দান করুন।

  5. আরিফ

    কবরের ডাক ভাইকে আল্লাহ অনেক অনেক যাজায়ে খায়ের দান করুন। আমি আপনার পোস্ট পড়ে উৎসাহিত হয়ে এখানে পোস্ট দিয়েছি। আমার লিংকের ভুল শুধরে দেবার জন্য ধন্যবাদ। 

    আপনি সুন্দর করে ও অত্যন্ত যৌক্তিক ভাবে আমাদের সামনে বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন।

    মুহাম্মদ হাসান ভাইয়ের প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই। যে কোন বিষয়ে আমাদের দ্বি-মত থাকতেই পারে। আমার কমেন্টে যদি হাসান ভাই মনে ব্যাথা পেয়ে থাকেন , তবে আল্লার ওয়াস্তে ক্ষমা করে দিবেন।

    আর কবরের ডাক ভাই যে যুক্তিগুলো উপস্থাপ্ন করেছেন , তার সাথে দ্বি-মত থাকলে দয়া করে যানাবেন।

    1. ৫.১
      মুহাম্মদ হাসান

      আসসালামুয়ালিকুম,

      আমার কমেন্টে যদি হাসান ভাই মনে ব্যাথা পেয়ে থাকেন , তবে আল্লার ওয়াস্তে ক্ষমা করে দিবেন।

      না ভাই এত অল্পতে ব্যাথা পেলেত দাওয়াতি কাজ করা যাবে না । 

      আর কবরের ডাক ভাই যে যুক্তিগুলো উপস্থাপ্ন করেছেন , তার সাথে দ্বি-মত থাকলে দয়া করে যানাবেন।

      আমার মনে হয়না এখানে আর সময় নষ্ট করা উচিৎ ।  কারন আগের পোস্টে ইবনে কাসির থেকে যে রেফারেন্স দিয়েছিলাম সেটাতে যেহেতু হয়নি আর কোন কিছুতে কাজ হবে বলে মনে হয়না । আর তাছাড়া কবরের ডাক(এটা যে কি ধরনের নাম বুঝতে পারছি না, ভাই বলব না বোন বলব বুঝতে পারছিনা । ভাইই বলি যেহেতু আপনি ভাই বলেছেন মনে হয় এটা কোন পুরুষ মানুসেরই নাম হবে । যুগের সাথে সাথে নামেরও অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে, ডিজিটাল যুগ বলে কথা) ভাই অত্যন্ত গভীর জ্ঞানী বরং পৃথিবীর সবচেয়ে মহাজ্ঞানী বললেও ভুল হবে না ।

      কোথায় কোন শায়েখ বা খলীফা কি বললো বা না বললো সেসব না দেখে এখানে  চাক্ষুষ যেটা দেয়া হয়েছে সেটা নিয়ে নিজে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন, যাচাই করুন।  

      এই মন্তব্যের পর আমার আর কিছু বলা শোভা পায়না  । আগের একটা মন্তব্যে বলেছিলাম "এই তথাকথিত পণ্ডিতরা তাদের সুত্রকে মেলানোর জন্য যা করতে হয় তাই করেন, নিজেদের ইচ্ছামত যোগ, বিয়োগ, ভাগ ইত্যাদি করেন " এখন দেখছি প্রয়োজনে খলিফা ও আলেমদেরকেও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে সংকোচ বোধ করেনা ।  

       

      শেষ করার আগে কিছু তথ্য জানার ইচ্ছা করছে ।

      ভাই পুরো সূত্রটা ধ্বসে পরবে হাফিয উসমানের কেরাতে বা গণনা অনুসারে।  প্রচলিত কেরাত বা গণনায় ধ্বসে পরবে না।

      আর সেটা হচ্ছে, এই প্রচলিত কেরাত আর গননা দ্বারা কি একই জিনিষ বুঝায়? এই প্রচলিত কেরাত বলতে কার কেরাত বুঝাচ্ছেন? 

      আমরা যেই কেরাত নিয়ে কথা বলছি…..

      কোন কেরাত নিয়ে কথা বলছেন? আরিফ ভাইয়ের পোস্টে এই তথ্য পড়েছি বলে মনে পড়ছে না । 

       

      ওয়াসসালাম ।

      1. ৫.১.১
        কবরের ডাক

        @ ভাই মুহাম্মদ হাসান, আপনি বলেছেন 

        আমার মনে হয়না এখানে আর সময় নষ্ট করা উচিৎ ।  কারন আগের পোস্টে ইবনে কাসির থেকে যে রেফারেন্স দিয়েছিলাম সেটাতে যেহেতু হয়নি আর কোন কিছুতে কাজ হবে বলে মনে হয়না

        ভাই ! বরং আপনিই আমাদের সময় নষ্ট করছেন কিনা ভেবে দেখবেন। আমরাতো যুক্তির ভিত্তি ও সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি। এখন আপনি আমাদের যুক্তির ভিত্তি খন্ডন না করে অযথাই একটা অস্পষ্ট কথা বললেন যে, তাফসিরে ইবেনে কাসীরের রেফারেন্স দিয়েছেন তাও আবার আগের পোষ্টে। সেখানে কি আমাদের যুক্তির ভিত্তি খন্ডন করা হয়েছে? 

        এই প্রচলিত কেরাত বলতে কার কেরাত বুঝাচ্ছেন? 

        ইমাম হাফস আন আসেমের কেরাতকে বুঝানো হচ্ছে। তার মতে সূরা মায়িদার আয়াত সংখ্যা ১২০। 

        {أوفوا بالعقود} – ১ম আয়াতে আছে 
        {ويعفو عن كثير}  – ১৫ নং আয়াতে আছে 
        {فإنكم غالبون} 

        কেননা তিনি উপরে দেয়া ১ম দুই অংশের পরে ওয়াকফ করেননা। যারা করেন তাদের কাছে মায়িদার আয়াত ১২২টি । আর যারা ৩নং ক্ষেত্রেও থামেন তাদের নিকট ১২৩টি।  আর সময় সংক্ষেপের কারণে আগে বলতে পারিনি যে, হাফিজ উসমানের কোন গণনা নেই বরং তিনি পূর্ববর্তী ইমামদের গণনা উল্লেখ করেছেন তার আলবায়ান কিতাবে। 

         

        কোন কেরাত নিয়ে কথা বলছেন? আরিফ ভাইয়ের পোস্টে এই তথ্য পড়েছি বলে মনে পড়ছে না । 

        তো , তাতে কি হয়েছে? এটাতো এমনিতেই বুঝা যায়। এসব অদরকারী কথা না বলে মেরে ভাই আপনি আমাদের যুক্তির ভিত্তি খন্ডন করুন। 

        কোথায় কোন শায়েখ বা খলীফা কি বললো বা না বললো সেসব না দেখে এখানে  চাক্ষুষ যেটা দেয়া হয়েছে সেটা নিয়ে নিজে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন, যাচাই করুন।

         

        আমি এখানে শায়েখ বলতে আপনার ডক্টর বিলালকে এবং খলিফা বলতে রাশাদ খলিফাকে বুঝিয়েছি।   তাড়াতাড়ি করে লিখতে গিয়ে ভাব প্রকাশে কিছু ত্রুটি হতেই পারে। এগুলো না ধরে প্রকৃত সত্য সন্ধানী হলে কাজের কথা বলুন। ভুল হলে মাফ করবেন। ভালো থাকুন। 

         

         

      2. মুহাম্মাদ হাসান

        আসসালামুয়ালিকুম,

        ভাই ! বরং আপনিই আমাদের সময় নষ্ট করছেন কিনা ভেবে দেখবেন। 

         

        এজন্যই আগেই বলেছিলাম "আমি এবিষয়ে আর কোন কমেন্ট করে আপনার বিশ্বাস এবং পরিশ্রমের উপর আঘাত হান্তে চাচ্ছিনা" । আরও বলেছিলাম "আপনি যদি Kourosh Jamneshan এর এই মিরাকেলের উপর পুরোপুরি convinced হয়ে থাকেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার" "এই " ১৯ মিরাকেল " মানা বা না মানা কোন আকিদাগত বিষয় না । কেউ না মানলে সে কি কাফির বা মুনাফিক হয়ে যাবে? কিন্তু আপনার কমেন্ট পড়ে মনে হচ্ছে এটা সাবাইকে মানতে হবে"  আমার পোস্ট গুলো ভাল করে দেখেন আমি এই আলোচনা কখনই লম্বা করতে চাইনি । এখন জবাব দিচ্ছি শুধু ভুলবুঝাবুঝির একটা ইতি টানার জন্য যদিও এ কাজটা খুব দুরূহ । 

        আমরাতো যুক্তির ভিত্তি ও সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি। 

        আপনাদের যুক্তির ভিত্তি হলঃ

        ইমাম হাফস আন আসেমের কেরাত

        দেখুন, যে সাত বা দশজনের (আরও কয়েকজন আছে) কেরাত(কুরআন পড়ার নিয়ম যাকে তাজবিদ বলা হয়) আছে তাদের সাবারই  ভিত্তি  হল একটা মুসহাফ আর সেটা হল কুরাইশি হরফের উপর ভিত্তি করে উসমান(রাঃ) যেটাকে একত্রিত করেছিলেন । এই সব ক্বারিরা কোন কোন আয়াতের ওয়াকফ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে করেছেন এবং এতে কুরআনের মূল অংশের কোন বিন্দু মাত্র তারতম্য হয়না । আর ঠিক এই কারনেই আলেমরা কুরানের আয়াতের সংখ্যা ছয় হাজারের পরে নির্দিষ্ট কোন নাম্বার করেননি যেটা ইবনে কাসির(রঃ) তার তাফসিরে উল্লেখ করেছেন । ঠিক একই কারনে ভাল করে খেয়াল করলে দেখতে পারবেন বেশীর ভাগ মুছলমানেরা    ইমাম হাফস আন আসেমের কেরাত  অনুযায়ী কুরআন পাঠ করলেও আয়াত সংখ্যার ক্ষেত্রে বিভিন্নতা দেখা যায় । যেমনঃ ইন্ডিয়ার মুসহাফে দেখবেন বিস্মিল্লাহকে সুরা ফাতিহার অংশ হিসাবে গন্য করা হয়নি অথচ তারা  ইমাম হাফস আন আসেমের কেরাত  এর অনুসরণ করেন । যেখানে আয়াত সংখ্যার বিভিন্নতা (অর্থাৎ ভিত্তি শুধু একটা না, অনেক গুলো) আছে সেখানে এধরনের সূত্র কতটুকু প্রযোজ্য সেটা বিবেচ্য বিষয় । এই "মিরাকল" কে মিলানোর জন্য কুরআনের আয়াত সংখ্যাকে নির্দিষ্ট করতে হবে ।  অর্থাৎ শুধু একটা নির্দিষ্ট আয়াত সংখ্যা অনুযায়ী এটা "মিরাকল" কিন্তু অন্য গননা অনুযায়ী এটা "মিরাকল" না ।  কোন যুক্তির ভিত্তিতে যদি মতভেদ থাকে তাহলে সেই যুক্তির গ্রহণযোগ্যতা থাকে না । 

        এইসব নাম্বার "মিরাকল" বিভিন্নভাবে করা যেতে পারে । যেমনঃ একজায়গায় পরাছিলাম

        মুহাম্মাদ(সঃ) এর জন্ম ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে + ১২ই রবিউল আওয়াল + ৩ (তৃতীয় মাস) + ৪ জন মেয়ে = ৫৮৯ = ৩১x১৯!

        মুহাম্মাদ(সঃ) বিয়ে করেন ২৫ বছর বয়সে + নবুওত লাভ করেন ৪০ বছর বয়সে + মারা যান ৬৩ বছর বয়সে + প্রথম ওহীর সংখ্যা ৫ টি = ১৩৩ = ৭x১৯! 

        বুদ্ধি ও সময় দিলে আরও অনেক ভাবে করা যাবে । 

        তো , তাতে কি হয়েছে? এটাতো এমনিতেই বুঝা যায়। এসব অদরকারী কথা না বলে মেরে ভাই আপনি আমাদের যুক্তির ভিত্তি খন্ডন করুন

        বুঝতে পারলে যুক্তির খণ্ডন আমার প্রথম পোষ্টেই হয়েছে, এত দূর আসার দরকার হত না । 

        আমি এখানে শায়েখ বলতে আপনার ডক্টর বিলালকে এবং খলিফা বলতে রাশাদ খলিফাকে বুঝিয়েছি।   

        ডক্টর বিলাল ফিলিপ্স আবার কি করল ভাই? আপনিত দেখি আসলেই মহাজ্ঞানী । 

        তাড়াতাড়ি করে লিখতে গিয়ে ভাব প্রকাশে কিছু ত্রুটি হতেই পারে। এগুলো না ধরে প্রকৃত সত্য সন্ধানী হলে কাজের কথা বলুন।

        এ ধরনের ত্রুটি ধরার জ্ঞান আমার নেই ভাই । আর এটা ত্রুটি হল কি করে? খালিফা না হয় বুঝলাম কিন্তু আপনিত ডক্টর বিলাল ফিলিপ্সকে তুচ্ছ চাচ্ছিল্য করছেন । প্রকৃত সত্য কি এই নাম্বার "মিরাকলে" নাকি ভাই? তাহলে ত রাসুল(সঃ), তার সাহাবারা এবং পরবর্তী যুগের সবাই এই সত্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন! সুবাহাল্লাহ । আমি ভাই ছোটখাট মানুষ, আমি সত্য খুজি কুরআনের শিক্ষার মাঝে যার দ্বারা আল্লাহ একটা জাতিকে পরিবর্তন করেছিলেন । আমি সত্য খুজি কুরআনের ভাষা শৈলীর মাঝে যেটা শুনে আরবের বড় বড় কবি সাহিত্যকরা মাথা নুইয়ে দিয়েছিল । যেটা শুনার জন্য আবু জাহলের মত কাফেরও রাতের বেলায় চুরি করে চলে আসত ।

         

        ওয়াসসালাম ।

      3. মুহাম্মদ হাসান

        আসসালামুয়ালিকুম,

        ভাই ! বরং আপনিই আমাদের সময় নষ্ট করছেন কিনা ভেবে দেখবেন। 

         

        এজন্যই আগেই বলেছিলাম "আমি এবিষয়ে আর কোন কমেন্ট করে আপনার বিশ্বাস এবং পরিশ্রমের উপর আঘাত হান্তে চাচ্ছিনা" । আরও বলেছিলাম "আপনি যদি Kourosh Jamneshan এর এই মিরাকেলের উপর পুরোপুরি convinced হয়ে থাকেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার" "এই " ১৯ মিরাকেল " মানা বা না মানা কোন আকিদাগত বিষয় না । কেউ না মানলে সে কি কাফির বা মুনাফিক হয়ে যাবে? কিন্তু আপনার কমেন্ট পড়ে মনে হচ্ছে এটা সাবাইকে মানতে হবে"  আমার পোস্ট গুলো ভাল করে দেখেন আমি এই আলোচনা কখনই লম্বা করতে চাইনি । এখন জবাব দিচ্ছি শুধু ভুলবুঝাবুঝির একটা ইতি টানার জন্য যদিও এ কাজটা খুব দুরূহ । 

        আমরাতো যুক্তির ভিত্তি ও সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি। 

        আপনাদের যুক্তির ভিত্তি হলঃ

        ইমাম হাফস আন আসেমের কেরাত

        দেখুন, যে সাত বা দশজনের (আরও কয়েকজন আছে) কেরাত(কুরআন পড়ার নিয়ম যাকে তাজবিদ বলা হয়) আছে তাদের সাবারই  ভিত্তি  হল একটা মুসহাফ আর সেটা হল কুরাইশি হরফের উপর ভিত্তি করে উসমান(রাঃ) যেটাকে একত্রিত করেছিলেন । এই সব ক্বারিরা কোন কোন আয়াতের ওয়াকফ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে করেছেন এবং এতে কুরআনের মূল অংশের কোন বিন্দু মাত্র তারতম্য হয়না । আর ঠিক এই কারনেই আলেমরা কুরানের আয়াতের সংখ্যা ছয় হাজারের পরে নির্দিষ্ট কোন নাম্বার করেননি যেটা ইবনে কাসির(রঃ) তার তাফসিরে উল্লেখ করেছেন । ঠিক একই কারনে ভাল করে খেয়াল করলে দেখতে পারবেন বেশীর ভাগ মুছলমানেরা    ইমাম হাফস আন আসেমের কেরাত  অনুযায়ী কুরআন পাঠ করলেও আয়াত সংখ্যার ক্ষেত্রে বিভিন্নতা দেখা যায় । যেমনঃ ইন্ডিয়ার মুসহাফে দেখবেন বিস্মিল্লাহকে সুরা ফাতিহার অংশ হিসাবে গন্য করা হয়নি অথচ তারা  ইমাম হাফস আন আসেমের কেরাত  এর অনুসরণ করেন । যেখানে আয়াত সংখ্যার বিভিন্নতা (অর্থাৎ ভিত্তি শুধু একটা না, অনেক গুলো) আছে সেখানে এধরনের সূত্র কতটুকু প্রযোজ্য সেটা বিবেচ্য বিষয় । এই "মিরাকল" কে মিলানোর জন্য কুরআনের আয়াত সংখ্যাকে নির্দিষ্ট করতে হবে ।  অর্থাৎ শুধু একটা নির্দিষ্ট আয়াত সংখ্যা অনুযায়ী এটা "মিরাকল" কিন্তু অন্য গননা অনুযায়ী এটা "মিরাকল" না ।  কোন যুক্তির ভিত্তিতে যদি মতভেদ থাকে তাহলে সেই যুক্তির গ্রহণযোগ্যতা থাকে না । 

        এইসব নাম্বার "মিরাকল" বিভিন্নভাবে করা যেতে পারে । যেমনঃ একজায়গায় পরাছিলাম

        মুহাম্মাদ(সঃ) এর জন্ম ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে + ১২ই রবিউল আওয়াল + ৩ (তৃতীয় মাস) + ৪ জন মেয়ে = ৫৮৯ = ৩১x১৯!

        মুহাম্মাদ(সঃ) বিয়ে করেন ২৫ বছর বয়সে + নবুওত লাভ করেন ৪০ বছর বয়সে + মারা যান ৬৩ বছর বয়সে + প্রথম ওহীর সংখ্যা ৫ টি = ১৩৩ = ৭x১৯! 

        বুদ্ধি ও সময় দিলে আরও অনেক ভাবে করা যাবে । 

        তো , তাতে কি হয়েছে? এটাতো এমনিতেই বুঝা যায়। এসব অদরকারী কথা না বলে মেরে ভাই আপনি আমাদের যুক্তির ভিত্তি খন্ডন করুন

        বুঝতে পারলে যুক্তির খণ্ডন আমার প্রথম পোষ্টেই হয়েছে, এত দূর আসার দরকার হত না । 

        আমি এখানে শায়েখ বলতে আপনার ডক্টর বিলালকে এবং খলিফা বলতে রাশাদ খলিফাকে বুঝিয়েছি।   

        ডক্টর বিলাল ফিলিপ্স আবার কি করল ভাই? আপনিত দেখি আসলেই মহাজ্ঞানী । 

        তাড়াতাড়ি করে লিখতে গিয়ে ভাব প্রকাশে কিছু ত্রুটি হতেই পারে। এগুলো না ধরে প্রকৃত সত্য সন্ধানী হলে কাজের কথা বলুন।

        এ ধরনের ত্রুটি ধরার জ্ঞান আমার নেই ভাই । আর এটা ত্রুটি হল কি করে? খালিফা না হয় বুঝলাম কিন্তু আপনিত ডক্টর বিলাল ফিলিপ্সকে তুচ্ছ চাচ্ছিল্য করছেন । প্রকৃত সত্য কি এই নাম্বার "মিরাকলে" নাকি ভাই? তাহলে ত রাসুল(সঃ), তার সাহাবারা এবং পরবর্তী যুগের সবাই এই সত্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন! সুবাহাল্লাহ । আমি ভাই ছোটখাট মানুষ, আমি সত্য খুজি কুরআনের শিক্ষার মাঝে যার দ্বারা আল্লাহ একটা জাতিকে পরিবর্তন করেছিলেন । আমি সত্য খুজি কুরআনের ভাষা শৈলীর মাঝে যেটা শুনে আরবের বড় বড় কবি সাহিত্যকরা মাথা নুইয়ে দিয়েছিল । যেটা শুনার জন্য আবু জাহলের মত কাফেরও রাতের বেলায় চুরি করে চলে আসত ।

         

        ওয়াসসালাম ।

      4. আরিফ

        ভাই মুহাম্মদ হাসান , আমরা পৃথিবীতে সব মানুষ এক রকম নই। একই জিনিসকে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে চিন্তা করে। কোরান যে আল্লাহর বাণী সেটি মেনে নেবার জন্য কোন  একজন ঈমাণদার বান্দার কোন প্রমাণপত্রের প্রয়োজন নেই, সুধু আল্লাহর ও রাসূলের উপর ঈমান আনাই যথেষ্ট। কিন্তু এর পরেও কথা থেকে যায়। কারন এই বিজ্ঞানের যুগে মানুষের স্বভাব হচ্ছে , সে সবকিছুকে যুক্তির ভিত্তিতে দ্বার করাতে চায়। তাই কোরানের গাণিতিক বিন্যাস আপনার জন্য খুব বেশী এম্প্রেসিভ কিছু না হলেও অনেককে হয়ত নতুন করে ভাবতে শেখাবে। সে যাগকে, আপনার কাছে শুধু এই পোস্ট নিয়ে কিছু প্রশ্ন রাখতে চাই।

        ১/ আমি মেনে নিচ্ছি কোরানের আয়াতের সংখ্যা বিভিন্ন জন বিভিন্ন রকম করেছেন। আপনি নিশ্চয় মানবেন পোস্টে যে চার্টগুলো দেয়া হয়েছে , এভাবে চার্টগুলো মেলানোর জন্য কোরানের আয়াত কেউ নির্দিষ্ট করেনি। কারন, কোরানের আয়াতের সংখ্যা নিয়েই এর বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। তাই এ ধরনের চার্টের সংখ্যাতাত্ত্বিক মিলের ব্যাপারটা কখনই কারো মাথায় ছিল না। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কোরানের অনেকগুলো বিন্যাসের মধ্যে একটি বিন্যাসে গিয়ে পর পর ৭২ টি ঘরে জোড় এবং বেজোড়ের একটি আবিশ্বাস্য ছন্দ বা মিল পাওয়া যাচ্ছে। আপনার কাছে প্রশ্ন হচ্ছে , পুর্বপরিকল্পিত না হলে কিভাবে পর পর ৭২ টি ঘরে বার বার একই ঘটনার পুনরাবৃতি হতে পারে?

        ২/ আমি যদি বলি ইবনে কাথীর, মারেফুল কোরান, পিকথাল, ইউসুফ এনারা এই গাণিতিক চার্ট মিলাবার জন্যই কোরানে সূরাগুলোর আয়াতের সংখ্যা নির্ধারন করেছেন, সেটি কি আপনি মানবেন?

        ৩/ পুর্ব পরিকল্পনা ছাড়া পর পর ৭২ বার একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে কি না?

         

  6. sotto

    শুধু গাণিতিক মিরাকেলই নয়। আল-কোরআনে আরও অনেক মিরাকেল রয়েছে। বিশেষ কোরে বিশ্বাসী মানুষের জীবনবিধান হিসেবেও এটি একটি মিরাকেল বটে। জীবন পরিচালনার প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে এখানে যে মৌল নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা সকল যুগের জন্য উপযুগী এবং সার্বজনীন। তাছাড়া বিজ্ঞান বিষয়ক নিদর্শনগুলো তো দিনে দিনে অকাট্য সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েই চলেছে।
    তাই শুধু মিরাকেলের আত্মতুষ্টি নয়, বরং সেই সাথে মুসলিম হিসেবে আমাদেরকে অবশ্যই সকল বিষয়ের ফায়সালাকারী ও মাপকাঠি হিসেবে সর্বাগ্রে আল্লাহর কিতাব আল-কোরআনকেই গ্রহণ ও ধারন করার জন্য যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং জীবন গড়ার জন্য দৃপ্ত শপথ নিতে হবে। তাহলেই ইহকালে ও পরকালে প্রকৃত সুখ, শান্তি ও মুক্তি মিলবে।
    ধন্যবাদ

  7. মুহাম্মদ হাসান

    আসসালামুয়ালিকুম,

    আরিফ ভাই, আপনার পোস্টে রিপ্লাই লিঙ্কটা পেলামনা তাই আলাদা করে রিপ্লাই দিলাম । 

    ভাই, আমার আগের পোস্টটা ভাল করে পড়লে এই প্রশ্ন গুলো হয়ত করতেন না । যাইহোক, আমি তারপরও শুধু অতি প্রয়োজনীয় কিছু বিসয়ের জবাব দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ । তার আগে আমার একটা পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করছি । অনেক মুছলমানই কুরআন সম্পর্কে "মিরাকল" নামে কোন কিছু শুনলেই বা পড়লেই সেটাকে কোন বিচার বিশ্লেষণ না করেই গ্রহন এবং তা প্রচার শুরু করে দেয় এবং পরবর্তীতে এরাই আবার এইসব মিরাকলের বিরুদ্ধে কথা বলে যখন এই তথাকথিত "মিরাকলের" মুখোশ উন্মচিত হয়ে যায় যার উদাহরণ ইতিহাস ঘাঁটলে অহরহ পাওয়া যাবে ।  আর এর মূল কারন, আমার মতে, হল self-analysis বা আত্ম- বিশ্লেষণা না করা । অর্থাৎ কোন কিছু গবেষণা করে বের করার পর নিজেকে সমালোচকের ভুমিকা পালন করা । আমাদেরকে ভেবে দেখা দরকার যে বিরোধী পক্ষ সম্ভাব্য কি কি সমালোচনা ও প্রশ্ন করতে পারে যার ফলে আমাদের গবেষণার দুর্বল দিগগুলো চিহ্নিত এবং সংশোধন করা সহজ হয় । আমরা এই জিনিসটা করিনা বলেই আমাদের অনেক গবেষণা নিয়ে নাস্তিক ও অমুসলিমরা হাসা হাসি করে ।

    আপনার কিছু প্রশ্নের জবাবঃ

    কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কোরানের অনেকগুলো বিন্যাসের মধ্যে একটি বিন্যাসে গিয়ে পর পর ৭২ টি ঘরে জোড় এবং বেজোড়ের একটি আবিশ্বাস্য ছন্দ বা মিল পাওয়া যাচ্ছে। 

    অনেকগুলো বিন্যাসের মধ্যে একটার মধ্যে এমন মিল পাওয়া যেতেই পারে যাকে আমরা "মিরাকল" বললেও সমালোচকের দৃষ্টিতে এটা mere co-incidence. এবং এধরনের হিসাবের মিল বের করা খুব একটা কঠিন কাজ না যেটা আমি আগের পোস্টে দুটি উদাহরণের মধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করেছি । আপনি যদি এটাকে মিরাকল বলতে চান তাতে কোন সমস্যা নাই তবে এটা একটা বিতর্কিত "মিরাকল" হিসাবে গণ্য হবে । 

    ২/ আমি যদি বলি ইবনে কাথীর, মারেফুল কোরান, পিকথাল, ইউসুফ এনারা এই গাণিতিক চার্ট মিলাবার জন্যই কোরানে সূরাগুলোর আয়াতের সংখ্যা নির্ধারন করেছেন, সেটি কি আপনি মানবেন?

    ভাই, এটা একটা ভুল তথ্য দিলেন । মারেফুল ও পিকথল এবং ইউসুফ আলীর বিন্যাস এক নয় । ভাল করে তাদের অরিজিনাল অনুবাদ গুলো চেক করে দেখবেন ।

     ৩/ পুর্ব পরিকল্পনা ছাড়া পর পর ৭২ বার একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে কি না?

    ভাই, এটা যদি আল্লাহর পূর্বপরিকল্পনা হত তাহলে আয়াত সংখ্যাটাও আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে নির্দিষ্ট করে দিতেন ।

    আমার শেষ কথাঃ

    আপনারা যদি এটাকে মিরাকল বলে চালাতে পারেন তাহলে চালিয়ে যান । যেহেতু এটা আকিদাগত কোন বিষয় না সেহেতু এটা নিয়ে আর সময় নষ্ট করা আমাদের ঠিক হবে না । 

     

    ওসসালাম । 

  8. কবরের ডাক

    @আরিফ ভাই! যে ঘুমের ভান করে আছে তাকে জাগানো যায়না। বাদ দেন। অযথা পোষ্টের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, লোড হতে বিলম্ব হচ্ছে।

    তবে আরো কিছু ভুল ধারণার অবসান হওয়া জরুরী। এই যে কেরাত নিয়ে মতভেদ বা আয়াতের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ; এটা কিন্তু এই জন্য নয় যে, এই কেরাতের ইমামরা পরবর্তীতে এগুলো গবেষণা করে বের করেছেন। বরং এই সবই নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের থেকে বহু সূত্রে বর্ণিত। ভিন্নভাবে যাকে বলে মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত। যেমন ধরুন সূরা মাইদার কথাই। এই সূরায় উপরে উল্লেখিত তিনটি স্থান ব্যতীত অন্য স্থানগুলোতে নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবসময় থেমেছেন। তাই সেগুলো নিয়ে কোন মতভেদ হয়নি। কিন্তু এই তিনটি জায়গায় কখনো থেমেছেন কখনো থামেননি। কোন সাহাবীকে শিক্ষা দেয়ার সময় থেমেছেন আবার আরেক সাহাবীকে শিক্ষা দেয়ার সময় থামেননি। তো যেসব সাহাবী নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে যেভাবে শিখেছেন তারা সেভাবেই পাঠ করেছেন এবং তাদের শত শত ছাত্রদেরকে শিখিয়ে গিয়েছেন । এরপর এই শত শতরা আবার হাজার হাজার ছাত্রদেরকে শিখিয়েছেন। এভাবেই কোরআন আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এমনিভাবে কোরআনের কিছু শব্দকেও নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুইভাবে পড়েছেন।

    এই সুযোগে কিছু চালাক নাস্তিক সরল মুসলামনদেরকে দুই কেরাতের শব্দের ভিন্নতা দেখিয়ে বলে যে, দেখেছো! দুই রকম কোরআন। এবার বুঝলেতো, কোরানে যে পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমরা আগেই বলেছি  এটা পরিবর্তন নয়। কেননা এটা নবীর যামানা থেকেই  ছিলো। বরং এটাই চরম আশ্চর্যের যে, এতগুলো কেরাত কিভাবে রক্ষিত হলো।

    এখন প্রশ্ন হবে যে, সবগুলো কেরাত বা পঠনরীতি যদি নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়ে থাকে এবং কেরাতগুলো যদি কেরাতের ইমামদের নিজস্ব গবেষণা না হয়ে থাকে, তাহলে কেন একেক কেরাতকে পরবর্তী ইমামদের দিকে সম্পৃক্ত করা হয় আর বলা হয় যে, এটা হাফসের কেরাত , উটা অমুকের কেরাত ইত্যাদি। 

    এর জবাব খুব সোজা। কেরাত তথা পঠনরীতিগুলোকে এই কারণে কয়েকজন ইমামের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়ে থাকে যে, নির্দিষ্ট ঐ কেরাতের হাজার হাজার ক্বারীদের মধ্যে ঐ ইমাম অনেক বেশী খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেছিলেন। তার ছাত্রের সংখ্যা ছিলো অনেক বেশী। যেমন আমরা অনেক সময় বলি যে, এমপি সাহেবের এলাকা, অথচ সেটা কিন্তু আরো অনেক মানুষেরই এলাকা। ইমাম হাফসের কেরাত মানে হলো যে, এই কেরাতের হাজার হাজার ক্বারীদের মধ্যে উনার যশ ও খ্যাতি ছিলো অনেক বেশী। তাই ঐ কেরাতকে উনার দিকে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয়েছে।

    শেষ কথা হলো, যদি কেউ মনে করে যে, কোরআনের সূরা সমূহের সিরিয়াল বা আয়াত নাম্বার সাহাবীরা নিজেরা গবেষণা ঠিক করেছেন, তাতেও আমাদের ১ম যুক্তির ভিত্তি খন্ডিত হবেনা। নাস্তিকেরা এগুলো বলে বলতে চায় যে, এই বিন্যাস এমনি এমনি হয়ে গিয়েছে। বরং এটাই বুঝা যাবে যে, সাহাবীদের এই গবেষণাকেও মহাজ্ঞানী,মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ পাক অদৃশ্যে থেকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এত অকল্পনীয় বিরাট জটিল গাণিতিক বিন্যাস যদি কেউ মনে করে যে, এমনি এমনি হয়ে গিয়েছে, তাহলে এমন লোকের সাথে কথা বলাটাই একটা বোকামী।সে কমপক্ষে অন্য বিলিয়ন বিলিয়ন বই থেকে একটা বইয়ে এমন দৃষ্টান্ত দেখাক যে, সেখানে ঘটনাচক্রে কোরআনের মত বড় পরিসরে, এমন ধারাবাহিক, অতি জটিল গাণিতিক বিন্যাস পাওয়া গেছে।কোরআনের মোকাবেলায় তারা অন্য বইয়ে যেসব খাপছাড়া ছোটখাট গাণিতিক মিল দেখায় সেগুলো কোরআনের মোকাবেলায় নিতান্তই হাস্যকর। যেমন নাকি উপরে হাসান ভাই দিয়েছেন।     

    যাক সংক্ষেপে জটিল কথা বললাম। উপস্থাপনে ভুল থাকতে পারে । আল্লাহ মাফ করুন। সবাইকে বুঝে নেয়ার তওফিক দান করুন। 

  9. মুহাম্মদ হাসান

    যে ঘুমের ভান করে আছে তাকে জাগানো যায়না। বাদ দেন। অযথা পোষ্টের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, লোড হতে বিলম্ব হচ্ছে।

    আপনাদের "মিরাকল" মেনে নিলেই জেগে যাব তাই না?

    তবে আরো কিছু ভুল ধারণার অবসান হওয়া জরুরী। এই যে কেরাত নিয়ে মতভেদ বা আয়াতের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ; এটা কিন্তু এই জন্য নয় যে, এই কেরাতের ইমামরা পরবর্তীতে এগুলো গবেষণা করে বের করেছেন। বরং এই সবই নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের থেকে বহু সূত্রে বর্ণিত।

    আমার পোস্ট গুলো আপনি কখনোই মনোযোগ দিয়ে পড়েন বলে মনে হয়না । পড়লে অযথা সময় নষ্ট করতেন না । আপনার এই পোস্তটা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক । এই আলোচনার কোথায় এই ভুল ধারনাগুলোর উল্লেখ পেলেন?(অবশ্য যদি এমনিতেই লিখে থাকেন তাহলে অন্য কথা) ।কেরাতের মতভেদ যে রাসুলের(সঃ) যুগ থেকে এ ব্যাপারে আমি অবগত আর এটা নিয়ে আমি কি কিছু বলেছি? বরং আমি বলেছি যে এই মতভেদের জন্যই এই "মিরাকলের" ভিত্তি খুবই দুর্বল । যদি সবগুলো বিন্যাসের মধ্যেই এই "মিরাকলকে" প্রমাণ করে যেত তাহলে এটা হত শক্ত যুক্তি । এই সহজ যুক্তিটা যদি না বোঝেন তাহলে করার কিছুই নাই । 

    যেমন নাকি উপরে হাসান ভাই দিয়েছেন।

    আমার এ উদাহরণ দিয়ে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে কোন একটা নম্বর দিয়ে কোন কিছুর মধ্যে মিল খুঁজতে চাইলে সেটা মেলানো খুব একটা কঠিন কাজ না । আর আপনাদের "মিরাকল" অনুযায়ী আমার উদাহরণগুলোত "মিরাকল" হিসাবে গন্য হওয়ার কথা । শুধু আপনারা যেটাকে "মিরাকল" বলবেন সেটাই "মিরাকল" আর অন্যদেরটা হাস্যকর! Just kidding!

    আমার শেষ কথাটা ভাল করে পড়লে আর কোন পোস্ট লেখার প্রয়োজন হত না । আবার পোস্ট করছি । বোঝার চেষ্টা করেন দয়াকরে । 

    আমার শেষ কথাঃ

    আপনারা যদি এটাকে মিরাকল বলে চালাতে পারেন তাহলে চালিয়ে যান । যেহেতু এটা আকিদাগত কোন বিষয় না সেহেতু এটা নিয়ে আর সময় নষ্ট করা আমাদের ঠিক হবে না । 

  10. ১০
    রানা

    ধন্যবাদ 🙂 

    তার পরেও তারা বলে – তারা বলবেই কারন তারা বলে 

  11. ১১
    শরিফুল ইসলাম

    আরিফ ভাই আপনার লেখার শিরোনাম দেখে পড়তে আগ্রহ জাগল। প্রথমেই বলে নেই আমি নাস্তিক নই। আমি অবিশ্বাসীও নই। তবে আমি কিছু বলতে চাই দয়া করে ভুল বুঝবেন না।

    আপনি যে গাণিতিক সৌন্দর্য সংগ্রহ করে আমাদের দেখিয়েছেন তা আমার কাছে খুব হাস্যকর মনে হয়েছে। কোরআন সত্য নাকি মিথ্যা তা প্রমাণের জন্য এটা নিছক সামন্য একটা গাণিতিক প্রমাণ। এখানে আমার মতে অনেক ফাঁক ফোকর রয়েছে।

    1. এখানে সূরার যে ধারাবাহিকতা দেখানো হয়েছে তা প্রকৃত ধারা নয়। যেমন তওবা সূরা এখানে দেখানো হয়েছে 9 নাম্বারে কিন্তু এর প্রকৃত অবস্থান 113 নাম্বারে। সূরা ফাতিহার অবস্থান কখনো 1 নাম্বারে নয়। বাকারা সূরার অবস্থানও 2 নাম্বারে নয়। সূরার প্রকৃত সিরিয়ালে এই হিসাব ঠিক থাকার সম্ভবনা খুব কম।

    2. আপনি এখানে 5-6 টা জোড় বিজোরের গাণিতিক বিষয় দেখিয়েছেন কিন্তু একটার সাথে আরেকটার সম্পর্ক দেখাননি। তাছাড়া এখানে কোন গাণিতিক সমীকরণও নেই। আপনি দেখালেন, দেখো সব জোড় আসছে! সব বিজোর আসছে! কিংবা জোড় বিজোড়ের ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিছুটা অবাক তখন হওয়া যেত যদি আপনি গাণিতিকভাবে (সমীকরণ সহ) দেখাতে পারতেন পরের ধাপে আমরা কি পেতে যাচ্ছি।

    # আর গণিতের সংখ্যা তত্ত্ব হলো গণিতের এমন একটা বিষয় যা সর্বত্র প্রয়োগ করা যায়। আমি ব্যাক্তিগতভাবে আপনার সাথে বাজি ধরতে পারি আমাকে এমন একটা বই দেন যেখানে আমি কোন গাণিতিক সৌন্দর্য বের করতে পারবো না। শুধু তাই নয় আমাকে যতেষ্ট পারিশ্রমিক দেওয়া হলে আমি উক্ত সূরা এবং আয়াতের সংখ্যার উপর এমন গাণিতিক সমীকরণও তৈরি করে দেখাতে পারবো যা দেখে অনেকেরই দাত ভেঙে যাবে।

    # দয়া করে আমার কথাগুলো নেগেটিভলি নিবেন না। আমার মন্তব্য আপনার পোষ্টের প্রতি। কোরআনের প্রতি নয়। গাণিতিক বিষয় বাদ দিয়েও বলতে পারি, কবি নজরুলের ‘সাম্যবাদী‘ বইটার মতো আরেকটা বই লেখাও কোন বাঙলা সাহিত্যিকের কাম্য নয়। কোরআন তো অনেক দূরে। আপনার রিপলাইয়ের অপেক্ষায়…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।