«

»

জুন ২৯

নাস্তিকরা কি আদৌ কার উপাসনা করে?

নাস্তিকদের একটি জোড়াল দাবী হচ্ছে তারা কারো এবাদত, আরাধনা , উপাসনা বা দাসত্ব করে না। শুধুমাত্র যুক্তি-প্রমাণ আর বিজ্ঞানের তথ্য উপাত্তের মাধ্যমে প্রমাণিত বিষয়গুলোকেই তারা গ্রহন আর বিশ্বাস করে। আর বাকি সবকিছু যতক্ষণ নিজের বুদ্ধি-বিবেচনায় লজিক্যাল মনে না হচ্ছে ততক্ষণ গ্রহন করে না । কিন্তু প্রতিটি মানুষের জীবনই কোন না কোন ছক বা কাঠামকে অনুসরন করে আবর্তিত হয়। কেউই বাস্তবিকভাবে জীবন যাপনের জন্য বিজ্ঞানের কোন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকে না।

 

আসলে এবাদত বা আরাধনা কাকে বলে? শুধুমাত্র মসজিদ, মন্দির বা চার্চে গিয়ে আল্লাহ, ভগবান বা যিশূর প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের নাম এবাদত বা উপাসনা নয়। বরং জীবনের আল্লাহ, ভগমান বা যিশূর ইচ্ছার প্রতিফলনের নাম হচ্ছে এবাদত বা আরাধনা। তাই নিজেকে মুসলমান সেই দাবী করতে পারবে যে তার দৈনন্দিন বিশ্বাস আর কর্মে আল্লাহর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে। ঠিক তেমনি জীবনে যিশূ আর ভগমানের ইচ্ছার প্রতিফলনের মাধ্যমে নিজেকে খৃষ্টান বা হিন্দু ধর্মালম্বী বলে একজন নিজেকে দাবী করতে পারে।

 

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কেউ যদি দাবী করে, সে আদৌ কোন ধরনের ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাসী নয় এবং সে কাররই এবাদত বা উপাসনা করে না, তাহলে সেই দাবীটুকু কতটুকু সঠিক? বাস্তবতা হচ্ছে কেউ নাস্তিক বা অবিশ্বাসী হলেও সে আসলে একধরনের বিশ্বাসের উপর ভর করে বেচে থাকে। সেই বিশ্বাসগুলোর মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে – ঈশ্বর, আল্লাহ বা প্রতিপালক বলে কেই নেই, তার কোন উপাসনার প্রয়োজন নেই,পাপ বা পূণ্য বলে কিছু নেই, মৃত্যুর পরে আর কোন জীবন নেই, পৃথিবীর জীবনই একমাত্র শেষ আর চূড়ান্ত বিষয়। পৃথিবীর জীবনের উন্নতি আর প্রয়োজন পুরন করাটাই মানব জীবনের মূল লক্ষ্য। বলা বাহুল্য নাস্তিকদের এই সব বিশ্বাস কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত বা প্রমাণের উপর নির্ভর করে কিন্তু গড়ে উঠেনি। বিজ্ঞানের এমন কোন শাখা বা সূত্র নেই, যার মাধ্যমে আল্লাহ নেই বা মৃত্যুর পরবর্তী কোন জীবন নেই এমনটি প্রমাণিত হয়েছে। তাই নাস্তিকতা এক ধরনের বিশ্বাস, যার উপর ভিত্তি করে তারা বেচে থাকে।

এর পরের প্রশ্নটি হচ্ছে যারা এথিস্ট বা নাস্তিক তারা কি সত্যিই  কার এবাদত বা উপাসনা করে না? এখানে এসে আমাদের একটু মনঃসংযোগ ঘটাই হবে এবং গভীর ভাবে চিন্তা করি তাহলে দেখব তারাও  এবাদত বা উপাসনা করে। কিন্তু সেটি কার এবাদত? উত্তরটি ছোট্ট কিন্তু অনুধাবন করা একটু কঠিন।  উত্তরটি হচ্ছে—তারা শয়তানের পথকে বিশ্বাস করে আর অনুসরন করে। ইংরেজীতে শয়তানের আরেকটি নাম হচ্ছে লুসিফার ( Lucifer).  আদম (আ) কে বিভ্রান্ত এবং স্বর্গ থেকে বিচ্যুত করার পরবর্তি মিশনটি হচ্ছে পৃথিবীর মানুষকে কিয়ামত পর্যন্ত বিভ্রান্ত করতে থাকা এবং আল্লাহর আদেশ আর বিধান থেকে মানব জাতীকে সম্পুর্ন বিমুখ রাখা। শয়তান চায় মানুষ যেন তার প্রতিপালককে ভুলে যায় আর পৃথিবীর জীবনের জন্য সম্পুর্ন আত্ননিয়োগ করে। এবং মানুষ যেন আল্লাহ , রাসূল আর পরকালকে অস্মীকার করে ।  আর এই বিষয়গুলোই হচ্ছে নাস্তিকদের বিশ্বাসের মূল ভিত্তি। বিষয়টা একটু সহজ ভাবে ছকের আকারে দেখা যাক—

 

 

 

শয়তান

নাস্তিক

১।

আল্লাহ নেই বলে প্ররোচণা দেয়

বিশ্বাস করে আল্লাহ বলে কেউ নেই

২।

পরকাল নেই বলে প্ররোচণা দেয়

বিশ্বাস করে পরকাল নেই

৩।

পাপ-পুণ্য বলে কিছু নেই বলে প্ররোচণা দেয়

বিশ্বাস করে পাপ-পূণ্য বলে আসলে কিছু নেই

৪।

দুনিয়ার জীবনই শেষ আর চূড়ান্ত বলে প্ররোচণা দেয়

বিশ্বাস করে দুনিয়ার জীবনই শেষ আর চূড়ান্ত

৫।

মানুষকে আল্লাহ ছেড়ে অন্য বস্তুর পূজায় লিপ্ত করায়।

ব্যাক্তিগত বুদ্ধিমত্তা , নিজস্ব লজিক আর বিজ্ঞানের পূজা করে

৬।

আল্লার বিধান থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে।

কার বিধান মেনে চলে না। নিজের খেয়াল-খুশী মত চলে। অনেক সময় আল্লাহর বিধানের বিরধিতা করে।

lu                                                      ছবি ঃ লুসিফার বা শয়তানের প্রতিমূর্তি

কাজেই পরিষ্কার ভাবে দেখা যাচ্ছে নাস্তিকরা এক প্রকার শয়তানের ভাবশিষ্য। ইবলিশ শয়তানের প্রচলিত পথ আর নাস্তিকদের মত আর পথ প্রায় অভিন্ন। তবে শয়তান মানুষকে চুরি, ডাকাতি, মিথ্যা, প্রতারণা, ধর্ষণ, ব্যাভিচার সহ আরো অনেক ধরনের অন্যায় কাজে লিপ্ত করে, যেগুলোতে নাস্তিক আর আস্তিক সমান ভাবে আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু একজন সত্যিকার অর্থে আস্তিক ব্যাক্তি, যার মধ্যে আল্লাহর ভয়, দোযখের শাস্তির সত্যিকার  ভয় আছে সে অবশ্যই এই সব অন্যায় থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করবে। অথবা অন্যায় করলেও তাতে অনুতপ্ত হবে।

কাজেই আমরা বলতে পারি নাস্তিকরা উপাসনা করে না , এ দাবীটি সম্পুর্ন সত্য নয়। তারা নিজের অজান্তেই শয়তানের পথ অনুসরন করে চলেছে। যদিও তারা সেটি টের পায় না।

৬ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. shahriar

    jajak-allahu khairun.

    1. ১.১
      আরিফ

      পড়া এবং মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  2. করতোয়া

    ১। শয়তান বা ইবলিস কিন্তু কখনও আল্লাহকে তার প্রতিপালক হিসেবে অস্বীকার করেনি। সে কারনেই যখন তাকে বেহেশত থেকে বিদারিত করা হয় তখন সে তার প্রতিপালক আল্লাহ'র কাছেই ক্ষমতা চেয়েছিল। আবার কোরআনের একটা আয়াতে আল্লাহ নিজেও বলেছেন যে, শয়তানের প্রতারনায় প্রতারিত হয়ে যে পাপ কাজ করে, সেই ব্যাক্তি পাপ কাজ করার পরপরই শয়তান তাকে বলে "আমি আমার রব আল্লাহকে ভয় করি। তুমি যা করেছ তার দায় তোমার আমার কিছু নাই। আমি শুধু তোমাকে ধোকায় ফেলেছিলাম আর তুমি আমার ধোকায় কাজ করেছ"। কাজেই আপনার ১ নং পার্থক্য সঠিক না শয়তানের বেলায়।

    ২। শয়তান বা ইবলিস কখনও নিজে পরকালকে অস্বীকার করেনি। বরং সে নিজেও কিয়ামত দিবসের বিষয়টা জানে। সেজন্য সে আল্লাহ'র কাছে যখন ক্ষমতা চেয়েছিল সে কিয়ামত পর্যন্ত তার এই ক্ষমতা চেয়েছিল। এগুলো কোরআনের কথা। কাজেই ২নং শর্তটাও শয়তানের বেলায় সঠিক না।

    ৩। ৩নং শর্তটাও সঠিক না। কারন শয়তান পাপ পূন্য দুটোই জানে এবং বেহেশত দোষকের বিষযটাও জানে। কোরআন অন্তত তাই বলে। সে শুধু পাপকে পরিমার্জিত করে টুইষ্ট করে বান্দার সামনে তুলে ধরে প্রতারনা করার জন্য।

    বাকীগুলো সঠিক। নাস্তিকরা হচ্ছে শয়তানের প্রতারনায় প্রতারিত মানুষ যেমন আদম (আঃ)। নাস্তিক আর আদমের মধ্যে পার্থক্য আদম তার রবের কাছে রিপেন্ট করেছিল নাস্তিকরা করে না। নাস্তিকরা আল্লাহ'র উপাশনা করে না কিন্তু তারা মনের অজান্তে প্রকৃতির উপাশনা করে। তারা আল্লাহ'কে ট্রান্সফরম করেছে বিজ্ঞানের ভিক্তিতে প্রকৃতি হিসেবে। 

    1. ২.১
      আরিফ

      @ করতোয়া। ভাই আপনি কি প্ররোচণা শব্দটির অর্থ বুঝেন? শয়তান আল্লাহর উপর ১০০% ঈমান রাখা সত্ত্বেও মানূষকে বিভিন্ন ভাবে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। এক্ষেত্রে তার ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের কোন ভূমিকা নেই। সে চায় মানুষ নাস্তিক হোক। অথবা আস্তিক হলেও মানুষ যেন আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অমান্য করে।শয়তানের উদ্দেশ্য কিন্তু অনেকটাই নাস্তিকদের জীবনে প্রতিফলিত হয়।

  3. Jukai

    ভাল লাগলো ।

  4. সজীব

    ভাই বিবর্তবাদ নিয়ে নতুন কোনো লেখা পোস্ট করেননা কেন?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।