«

»

অক্টো. ১৭

ধর্ষণের ‘উদার’ দর্শন: বাঁচতে হলে জানতে হবে

আমাদের সমাজে অনেকেই পাশ্চাত্যের দর্শনে সুর মিলিয়ে বলে থাকেন যে, যৌনতা অন্যায় নয়, সেক্স করা অপরাধ নয়। তবে জোর করাতে অন্যায় হয়, সম্মতিক্রমে করলে ঠিক আছে। কিন্তু কারো সান্নিধ্য থেকে ভালোলাগা নিতে গিয়ে জোর করে ভালোলাগা আদায় করা ধর্ষণ, সুতরাং সেটা অন্যায়।
আসলে বিষয়টি কি এতই সরল? এই দর্শনের নেপথ্যে কী অভিপ্রায়, না না- অভিপ্রায় নয়, কী অভিসন্ধি কাজ করে এবং এর ফল কী হতে পারে সেটা বিবেচনা যদি করি তাহলে দেখব এটি মানুষের শেষ আশ্রয়, সুখ-শান্তির অন্যতম ভিত্তি যে পরিবারব্যবস্থা তার মূলোচ্ছেদকারী মতবাদ। মানুষকে ছিন্নমূল করার জন্য এই মতবাদটি যথেষ্ট। কীভাবে?
সান্নিধ্যসুখ সাময়িক আনন্দের কারণ বলে প্রতিভাত হলেও যখন সেই কর্মের ফল স্বরূপ সন্তানের ভ্রুণ প্রকাশিত হয় তখন কেন সেই সুবর্ণ সুখ বিবর্ণ আর রূপ-রস বিস্বাদ হয়ে যায়? তখন কেন মানুষ ভ্রুণ হত্যাকে বেছে নেয়, অথবা জন্মের পর সন্তান হত্যাকে।
মানুষ নিজেকে বুদ্ধিমান প্রাণী বলে দাবি করে কিন্তু কর্মকে নিয়ন্ত্রণ না করে মূর্খের মতো কর্মফলকে এড়াতে চেষ্টা করে, সে কর্মফলের চিন্তা না করে ভালোবাসা, প্রেম ইত্যাদি শব্দমাধুর্যের অন্তরালে মদন ও কামদেবীর পূজা করে যায়। ভুলে যায়, লোভে পাপ পাপে মৃত্যু। লোভের জন্য কোনো দণ্ড দেওয়া হয় না, দেওয়া হয় পাপের জন্য। তাই পরিণামবিচারে পাপ থেকে বাঁচার জন্য লোভের উপর সেন্সর আরোপ করা অপরিহার্য।
 

গ্রিক কিউপিড ওরফে বাঙালি মদন, হাতে পঞ্চশর।

মানুষের সবচেয়ে বড় অক্ষমতা ও অপরিণামদর্শী কাজ হলো, সে নিরপেক্ষ বিধান দিতে সক্ষম নয়, তবু সে বিধাতার আসনে উপবিষ্ট হয়। প্রতিটি মানুষের সিদ্ধান্তের মধ্যে ষড়রিপুর প্রভাব থাকে। তাই নিজেকে যেন কখনো দণ্ড না পেতে হয় এজন্য সে ন্যায়-অন্যায় সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় নিজের জন্য একটি পেছন দরজা অবশ্যই খোলা রাখে। একজন ‘পরস্ত্রীকাতর’ ব্যক্তি তাই ইন্দ্রিয়বিলাসের জন্য ‘আইল ডেঙ্গাইয়ে ঘাস খাওয়ার’ লাইসেন্স অবশ্যই দেবে। সে চিন্তা করে,
করি মানা কাম ছাড়ে না মদনে, আমি প্রেম রসিকা হব কেমনে।
পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে আদর্শ মেনে নিয়ে সেগুলোকে যারা ন্যায় বলে রায় দেন তাদেরকে অবশ্যই মনে রাখা উচিত যে, যে ব্যক্তি কর্তৃপক্ষ (বিধাতা) সেজে ন্যায় অন্যায়ের মানদণ্ড ঘোষণা করে তাকে অবশ্যই পুরো পরিস্থিতি মাথায় নিয়ে রায় দিতে হবে। আপনি বিপরীত লিঙ্গের সান্নিধ্য লাভের আনন্দকে প্রশ্রয় দিতে গিয়ে সম্মতিপূর্বক যৌনতাকে ন্যায় বলে ঘোষণা করেন আর জোরপূর্বক আনন্দপ্রাপ্তি করাকে ধর্ষণ বলেন। কিন্তু আপনাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এ দুয়ের মাঝামাঝি মানবসমাজে ‘ব্যভিচার’ বলে যে শব্দটি আছে তাকে মুছে দেওয়া। কারণ এই শব্দটি নৈতিক ও ধর্মজাত। আর ধর্মতে আধুনিক-মনস্কদের অশ্রদ্ধা ও অ্যালার্জি। কেননা ধর্মীয় নীতিনৈতিকতা আপদ বা বিবেকের অস্বস্তি হয়ে তাদেরকে পশুর মতো ‘অবাধ’ হতে বাধা দেয়। কিন্তু অবাধ যৌনতাকে ন্যায় বলে ঘোষণা দেওয়ার আগে কেবল ব্যক্তির সুখের চিন্তা নয়, সমাজের-সমষ্টির চিন্তাও অবশ্যই করতে হবে। পরিবারব্যবস্থা আর অবাধ যৌনতার সহাবস্থান একটি ইউটোপিয়া।

মাস্তি করো কিন্তু… মাগার সমাজে যদি অশান্তি হয় একটারও ছাল থাকবে না

একজন পুরুষ শত শত নারীর সঙ্গে সান্নিধ্যসুখ লাভ করুক, তাতে ধর্মের মাথাব্যথার কী কারণ থাকতে পারে? মানুষের ফুর্তি দেখলেই কেন ধর্মের কড়ানাড়া শুরু হয়? জান্নাতে কি অসংখ্য সঙ্গিনীর প্রতিশ্র“তি আল্লাহ দেন নি। ওমর খৈয়াম যৌক্তিক প্রশ্ন রেখেছেন,
পুণ্যবনের কাম্যভূমির মর্ম যদি এমনতর/দোষ কি তবে বরণ করায় আগেই এদের মর্ত্যপরে?
হ্যাঁ, যে যতখুশি সুখভোগ করুক কারো তাতে বাধা দেওয়াকে আমি যৌক্তিক মনে করি না, কিন্তু এই ব্যক্তির সুখভোগ থেকে যদি সমষ্টি-সমাজের শরীরে কোনো দুঃখ নেমে আসে, যদি কোনো অশান্তির জন্ম হয় তাহলে আমার দুইটা কথা আছে। আমি তার দণ্ড অবশ্যই কামনা করি।

I wont my paaaaaaaaaaa!!!!!

একটি শিশুও যদি বলে যে, আমি পিতৃপরিচয়হীন, আমার আশ্রয় নেই, তখন অবশ্যই ঐ ‘অবৈধ পিতা-মাতার’ দণ্ড আমি কামনা করি। পিতার পরিচয়, আশ্রয়, সুরক্ষা ও সম্পত্তি সন্তানের জন্মগত অধিকার। আর হ্যাঁ, সন্তান কখনো অবৈধ হতে পারে না, এ অন্যায় শিশুর নিষ্পাপ সৌন্দর্যকে কলঙ্কে ঢেকে দেয়, এই লাঞ্ছনা আজীবন তাকে বহন করতে হয় যা ঘোর অবিচার।

সন্তান অবৈধ হয় না, অবৈধ হয় পিতা-মাতা

যদি কোনো মহাজন (সুদখোর কীভাবে মহাজন হয় কে জানে?) কৃষককে ভুল বুঝিয়ে তার টিপসই নিয়ে তার জমিজমা লিখে নেয় তবে কি সম্মতিপূর্বক যৌনতার মতো সেটাও ন্যায়সঙ্গত? বিনিময়টি কিন্তু আপাত সম্মতিক্রমেই হয়েছিল কিন্তু পরিণাম অবিচারমূলক। তেমনি অবাধ যৌনাচার বা ব্যভিচারের পরিণামে সবচেয়ে বড় ক্ষতি স্বীকার করতে হয় নারীকে, তার জীবনে বিপর্যয় আসে, শরীরও ধ্বংস হয়। ইউরোপের নারীদের বন্ধ্যাত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন পিআইডি যেটা এসটিডি। আর এটি বিস্তার লাভ করে সান্নিধ্যসুখ ‘অবাধ’ হওয়ার কারণেই। আরো অনেক বাজে অসুখ আছে যেগুলো থেকে বাঁচতে হলে জানতে হবে।
সম্মতিক্রমে ‘সান্নিধ্যসুখ’ দ্বারা যুগলমানুষ তৃপ্ত হলেও সমাজে পরিচয়হীন সন্তানের ছড়াছড়িতে যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হবে সেটাকে তারা কী দিয়ে ম্যানেজ করবেন? ইতোমধ্যে ইউরোপের দেশগুলো এই সংকটে ভুগছে। এটা অবধারিত যে পুরুষ তার লালসা চরিতার্থ করে ভাগবে আর নারী বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করবে কিংবা নিজের গর্ভের সন্তানকে হত্যা করে নিজের আত্মিক মৃত্যুকে আমৃত্যু বহন করবে। এর সমাধান দিতে কেউ কেউ বলে থাকেন যে, মাতৃতান্ত্রিক সমাজ করতে হবে কারণ মা তো আর পালাতে পারবে না। উদোর পিণ্ডি আরামসে বুধোর ঘাড়ে চাপানো যাবে। কার্পেট মুড়ে সিঁড়ির ক্ষত ঢাকার জন্য মায়ের নামে শিশুর পরিচয় যারা চালু করবেন তারা এই শিক্ষাটি কি পশুর মাতৃতান্ত্রিক সমাজ থেকে নিচ্ছেন? এর পরিণামে আগামী প্রজন্মের জাতীয় সঙ্গীত হয়তো হবে, “পিতা আনন্দে মাতিয়া সাগরে ভাসাইয়া, সেই যে চইলা গেল ফিরা আইল না।”

“পিতা আনন্দে মাতিয়া সাগরে ভাসাইয়া, সেই যে চইলা গেল ফিরা আইল না।”

হ্যাঁ, আরেকটি পথ আছে। পশ্চিমা বাবাদের মতো সমকামিতার প্রসার ঘটাতে হবে। তাহলে বাচ্চা-কাচ্চার উপদ্রবটি এড়ানো যাবে এবং নিজেরাও বিশ্বসভার আধুনিক, মুক্তমনা, উদার রংধনু সভ্যরূপে আত্মপ্রসাদ লাভ করতে পারবেন।

৬ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. Rubel

    Muslim men always think about women's rights.But all feminist organizations are against muslim men.

    No woman thinks about it.Also they want to enjoy with men.

    So what is benefits of such types of writting..?

    You are crying for women.But women donot..

    1. ১.১
      রাকীব আল হাসান

      আমার লেখা নারীদের কথা ভেবে নয়, সমাজের কথা চিন্তা করে।

  2. noman

    আমি উপকৃত হলাম খুউব!

    1. ২.১
      রাকীব আল হাসান

      উপকারে আসতে পেরে আমি আনন্দিত হলাম।

  3. মোঃ নাজমুল হুদা

    আমি এগুলো নিয়ে বহুদিন লেখালেখি করেছি । প্রতিবারই নারীবাদীদের কাছ থেকে অবাঞ্চিত প্রতিউত্তর পেয়েছি । পরে লেখা ছেড়ে দিয়েছি । তবে সত্যিই আপনার লেখাটি সতন্ত্র । ধন্যবাদ ।

    1. ৩.১
      রাকীব আল হাসান

      সত্যের পক্ষে যখন কলম ধরেছি তখন তো আর থেমে যাওয়া যাবে না, বিরোধিতা আসবে জানি। আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।