হারুণ ইয়াহিয়া ওরফে আদনান ওকতার
বিবর্তনবাদ একশ্রেণীর মানুষের কাছে একটা ডগমার মত। কাকপুচ্ছের মত এর সাথে যুক্ত থাকা ‘বাদ’ই এই তত্বটাকে ডগমার রূপ দিয়েছে। বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করতে হয়! মিলিয়ন বছর আগের প্রাণীর ফসিলে বিজ্ঞানের চেয়ে অনুমানই বেশী থাকে। এটা ২+২=৪ এর হিসাব নয়। ফলে বিবর্তনবাদ নিয়ে সন্দেহ করার অবকাশ থাকে প্রচুর। আর সেটাই হচ্ছে! সন্দেহকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। এই সন্দেহ এখন ডালপালা ছড়িয়ে মহীরূহের আকার ধারণ করেছে। বিবর্তনবাদ নিয়ে সংশয়ে কোন জটিলতায় যাবার দরকার নেই- কারণ হিসেবটাকে সহজ করে দেয়া হচ্ছে। হারুণ ইয়াহিয়া ওরফে আদনান ওকতার সেই সহজ করে দেয়ার কাজটি করেছেন।
হারুন ইয়াহিয়াকে (আদনান ওকতার) নিয়ে বিবর্তনবাদী নাস্তিকদের বিদ্রুপের শেষ নাই। তার ক্যারিকেচার, নানারকম রসাত্নক গল্প ও সর্বোপরি তার প্রতি শ্লেষ ভব্যতার সীমা ছাড়িয়েছে অনেক আগেই। হারুণ ইয়াহিয়ার নিজ দেশেই পাশ্চাত্যপন্থী ধর্মনিরপেক্ষ শাসকশ্রেণীর হাতেও তিনি কম নিগৃহীত হন নাই। যাই হোক এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি তার কাজ ঠিকই করেছেন, কিন্তু তার অপপ্রচারকারীরা কাজের কাজ করতে নারাজ- সহজভাবে বললে অসহায় আত্নসমর্পণ। হারুণ ইয়াহিয়া পৃথিবীর তাবৎ বিবর্তনবাদীদের বিবর্তনবাদ প্রমাণের জন্য শুধুমাত্র একটি ট্রাঞ্জিশনাল ফসিল দেখানোর কথা বলেছেন। আর এর জন্য প্রমাণকারীর জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে ১০ ট্রিলিয়ন টার্কিশ লিরা বা ৪.৪ ট্রিলিয়ন পাউন্ড (!!!) সমমানের মুদ্রার। বিবর্তনবাদীদের কাছে এই প্রমাণ ডালভাত হবার কথা। কারণ বিবর্তনবাদ প্রমাণে এজাতীয় কাহিনীর শেষ নাই। কিছু লিঙ্ক নীচে দেয়া হলঃ
ডারউইনের পর-৭টি প্রধান মিসিং লিঙ্ক
লুইসিয়ানার যাদুঘরে বন্দী আফ্রিকান মানুষ ওটাবেঙ্গা- তাকেও বলা হয়েছিল মিসিং লিঙ্ক
লুইসিয়ানার ব্রঙ্কস যাদুঘরে আফ্রিকান ওটা বেঙ্গাকে মিসিং লিঙ্ক হিসেবে দেখানো হয়েছিল
কোনটা বড়- অর্থ নাকি মতবাদ। এখানে দুটোই পাওয়া যাচ্ছে। আদনান ওকতার অর্থ দিচ্ছেন- ধরে নিলাম বিবর্তনবাদী ভোগবাদী নাস্তিকদের কাছে অর্থ গুরুত্বপূর্ণ না (!), কিন্তু নিজেদের মতবাদটাকে সস্তা উপহাস হবার হাত থেকে বাচাবার জন্য হলেওতো একটু সৎসাহস নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত! বিবর্তনবাদ নিয়ে এতো আবেগ, এই আবেগের সামান্য সুবিচারটুকুও করা হচ্ছে না! ট্রাঞ্জিশনাল ফসিল দেখাতে বললেতো হুট করেই উইকিপিডিয়ার কিছু ফসিল (কিভাবে ট্রাঞ্জিশনাল উত্তর নেই!) ও মনের মাধুরী মিশানো কিছু অঙ্কিত ছবিকে দেখিয়ে “এইতো ট্রাঞ্জিশনাল ফসিল, চোখে দেখা যায় না”-জাতীয় ভুংচুং এর দিন শেষ।
ট্রাঞ্জিশনাল ফসিলের তালিকা- উইকিপিডিয়া
কি বলে গেছেন ডারউইন এই ট্রাঞ্জিশনাল ফসিল নিয়েঃ
“এই তত্ত্ব (বিবর্তনবাদ) অনুযায়ী অগণিত ট্রাঞ্জিশনাল ফসিল বিদ্যমান থাকার কথা, তাহলে আমরা কেন তাদেরকে পৃথিবীর ভূত্বকের নীচে অগণিতভাবে পাচ্ছি না?”
দশ মিলিয়নের মত প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর কয়েকগুণ বেশী থাকার কথা ট্রাঞ্জিশনাল প্রজাতি। এ পর্যন্ত ১০০ মিলিয়নের মত ফসিলের সন্ধান পাওয়া গেছে! দেড়শো বছর পার হয়ে গেছে, ডারউইন তার বিবর্তনবাদ তত্ত্ব দিয়েছেন। অনেক ফসিলকে ট্রাঞ্জিশনাল ফসিল হিসেবে দাবী করা হচ্ছে। হারুণ ইয়াহিয়া কে কি জানার এখানে প্রয়োজন নেই, সেটা এখানে গুরুত্বপূর্ণও না। প্রয়োজন চ্যালেঞ্জটার একটা সুরাহা করা! যতদিন এর সুরাহা না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত বিবর্তনবাদকে ল্যাবোরেটরিতেই সীমাবদ্ধ রাখাটাই যৌক্তিক হবে – বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে!

0 মন্তব্য
এক লাফে মন্তব্যের ঘরে ↓
এম_আহমদ
জুন ৮, ২০১২ at ১০:৪৪ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
যুক্তিসংগত কথা। If the facts are indisputable, and if they are pertaining to science, the evolutionists should be able to collect the money from H. Yahya, sooner rather than later. তারা টাকাগুলো নিয়ে গেলে আমাদেরকে জানাবেন।
শামস
জুন ৯, ২০১২ at ৫:২৫ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
@এম_আহমদ,
আমি নিজেও জানতে উদগ্রীব! যতদূর জানি এখনো কেউ এগিয়ে আসতে সাহস করেনি।
এস. এম. রায়হান
জুন ৯, ২০১২ at ১০:৫০ পূর্বাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে মনে করি যে ডারউইনিয়ান বিবর্তন তত্ত্ব [একটি অণুজীব থেকে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন' নামক মন্ত্রের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পুরো উদ্ভিদজগত ও প্রাণীজগতের বিবর্তন] পুরোপুরি ভ্রান্ত ধারণা, কল্পকাহিনী, অমানবিকতা, মিথ্যাচার, ও চাপাবাজি'র উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। এ-রকম একটি তত্ত্বের প্রস্তাবক এশিয়া বা আফ্রিকার কেউ হলে, কিংবা এই তত্ত্বকে বিজ্ঞানের নামে আব্রাহামিক ধর্ম ও স্রষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়া না হলে, অনেক আগেই তা গার্বেজে নিক্ষিপ্ত হতো। ফলে এরকম একটি তত্ত্বের ল্যাবরেটরিতেও স্থান হতে পারে না।
শামস
জুন ৯, ২০১২ at ৫:৩৩ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
@এস.এম.রায়হান,
আপনি এন্টিক কিছু হিসেবে হলেও একে স্থান দিতে চাইবেন।
এই বিবর্তনবাদের ইতিহাস পড়ার পর, আমার এ নিয়ে সন্দেহ তীব্র। বর্ণবাদী বিজ্ঞান এর প্রসার এই বিবর্তনবাদের হাত ধরেই। আমার ধারণা একে প্রথমে ল্যাবরেটরীতে পাঠাতে পারলে কম না। সে চেষ্টায় সফল হলে তারপর ভাবা যাবে।
ধন্যবাদ।
ইমরান সরকার
জুন ১০, ২০১২ at ১০:১৩ পূর্বাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
বিবর্তনবাদীরা বিবর্তনবাদকে যেভাবে প্রমাণিত সত্য বলে প্রচার চালায় তাতে কেউ কিভাবে এতোটা কনফিডেন্স এর সাথে এমন একটি চ্যালেন্জ ছুড়ে দিতে পারে? কয়েক মিলিয়ন ডলার ছিটিয়ে দিয়ে যে কাকগুলোকে ইসলামের পিছে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে তারা ৪.৪ ট্রিলিয়ন পাউন্ডের জন্য যেকোন কিছু করতে পারে। দুএক দিনের মধ্যে খবর পাওয়া যেতে পারে যে কোন এক বিবর্তনবাদ গবেষনাকেন্দ্রে ডাকাতি হয়েছে।
শামস
জুন ১০, ২০১২ at ৬:৪৪ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
@ইমরান সরকার,
হ্যা কথা সেটাই, এর একটা বিহিত হওয়া দরকার, কি বলেন!
এস. এম. রায়হান
জুন ১০, ২০১২ at ১২:২৫ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদ তত্ত্ব নিয়ে লেখার সঙ্কলন
ফুয়াদ দীনহীন
জুন ১০, ২০১২ at ১২:৩০ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
রায়হান ভাই, আপনার অন্যান্য দরকারি লেখার সংকলন তৈরি করলে মানুষের সুবিধা হবে বলে আমি আশা করি।
শামস
জুন ১০, ২০১২ at ৬:৪২ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
সহমত!
শাহবাজ নজরুল
জুন ১২, ২০১২ at ৮:০৪ পূর্বাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
দশ লক্ষ প্রজাতির জন্যে মাত্র ৭ খানা ট্রাঞ্জিশনাল স্পিশিস… তাও আবার হাড়-হাড্ডি আর ড্রয়িং এ জালিয়াতি করার পরে…
এর নাম তাহলে বিজ্ঞান!!! 
ফুয়াদ দীনহীন
জুন ১২, ২০১২ at ৯:০৯ পূর্বাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
@শাহবাজ নজরুল,
দশ লক্ষ থেকে দশখানে হইলেও একটা মিল থাকত দশ ধস।
এস. এম. রায়হান
জুন ১২, ২০১২ at ১০:২০ পূর্বাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
বিবর্তনবাদী মোল্লারা বিনোদনের এক দারুণ উৎস হয়ে উঠেছে


বিবর্তনবাদী মোল্লাদের নিয়ে যৌক্তিক বিনোদন ব্লগ!
বিবর্তনবাদী মোল্লারা তাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে
এমিনেম
জুন ১২, ২০১২ at ১:৫৪ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
হারুন ইয়াহিয়া ট্রানজিশনাল ফসিল চেনার ক্ষমতা রাখে তো?
শামস
জুন ১২, ২০১২ at ৭:৪৯ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
আপনি রাখেনতো? আপনি রাখলে হারুন ইয়াহিয়াও রাখতে পারে। নিজের উপর আত্নবিশ্বাস ভাল থাকলে এইটারে একটা সুযোগ হিসাবে নিতে পারেন। এতো টাকা একসাথে দেখতে আমার আপনার মত ব্লগারগো কয়েক জন্ম লাগতে পারে। লাইনে কেউই নাই, আপনে ছাড়া। রেজাল্টটা জানাইতে ভুইলেন না।
এস. এম. রায়হান
জুন ১২, ২০১২ at ৯:২০ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
ঠিক কইছেন, ট্রাঞ্জিশনাল ফসিল চেনার ক্ষমতা রাখে শুধুমাত্র জন্মসূত্রে বর্ণ হিন্দুরা।
শাহবাজ নজরুল
জুন ১৩, ২০১২ at ১২:১৯ পূর্বাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
যারা চেনে তারাই তো বলে মোটের উপর ৭-টা [জোরাজুরি করে] অন্তর্বর্তী ফসিল পেয়েছে; কোনো ব্যাখ্যা আছে কি এই প্যারাডক্সের?
eminem
জুন ১২, ২০১২ at ২:০২ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
Religious Differences on the Question of Evolution (United States, 2007)
Percentage who agree that evolution is the best explanation for the origin of human life on earth
Source: Pew Forum[11]
Buddhist
81%
Hindu
80%
Jewish
77%
Unaffiliated
72%
Catholic
58%
Orthodox
54%
Mainline Protestant
51%
Muslim
45%
Hist. Black Protest.
38%
Evang. Protestant
24%
Mormon
22%
Jehovah's Witness
8%
Total U.S. population
শামস
জুন ১২, ২০১২ at ৮:০৮ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
আপনার মূল সুত্রে যাওয়ার দরকার ছিল (এখানে)। তবে আপনার প্রতি প্রশ্ন হলঃ আপনি কি এই রিসার্চের ফলাফলটা পইড়া দিছেন নাকি বিবর্তনবাদের পক্ষে মনে হইছে তাই দিয়া দিছেন? আর এর সাথে আমার এই বিবর্তনবাদকে ল্যাবরেটরীতে সীমাবদ্ধ রাখার মধ্যে পার্থক্য কি? আর লেটেস্ট কোন ডাটা থাকলে জানাবেন। এলেখাতে বিবর্তনবাদের অবস্থানের ব্যাপারে একটু ধারণা পাবেনঃ
ডারউইনের বিবর্তনবাদঃ কিছু পর্যবেক্ষণ- ৯
আবদুল্লাহ সাঈদ খান
জুন ২০, ২০১২ at ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
একটা ছোট ছেলেকে জিজ্ঞাসা করা হল পরীক্ষায় তুমি কত হয়েছ? বলল, তৃতীয়। পরবর্তী প্রশ্ন, তোমাদের ক্লাসে ছাত্র কত? উত্তর, তিন জন। এই ক্লাসের প্রথম হওয়ার হার তেত্রিস শতাংশ। বিশাল সংখ্যা তাই না? কি বলেন এমিনেম?
যাই হোক। আপনি ক্রমান্বয়ে জরিপ প্রকাশ করতে থাকুন। কারণ এটা প্রমাণ করছে যে ধীরে ধীরে অনেক বিজ্ঞানী বিবর্তনবাদের ম্যাজিক স্পেল থেকে বের হযে আসতে শুরু করেছে। এবং এ সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকবে।
ইমরান হাসান
জুন ১২, ২০১২ at ১০:২৫ অপরাহ্ন (UTC 6) Link to this comment
আমাদের মূল কথা হচ্ছে বিবর্তন হচ্ছে বিজ্ঞান কে বোঝা আর গবেষণা করার জন্য একটি অন্যতম তত্ত্ব এটার মূল প্রভাব টা গবেষণাগারে রাখা উচিত আর এটা একটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা সায়েন্টিফিক মেথড এটাকে প্রয়োগ করে ধর্ম কে ঝেটিয়ে বিদায় করার ব্যাপারটা আসে কোথায় থেকে?
আচ্ছা ব্যাপার না আমি আপনাকে একটা হাইপো থিসিস বলি এমিনেম খুব সহজ একটা হাইপোথিসিস
আচ্ছা কুরআনে বর্ণিত মানবসৃষ্টির কাহিনী যদি আমি দার্শনিক তত্ত্ব মনে করি এবং এটাই মনে করি যে এটা মানব উত্তপত্তির বৈজ্ঞানিক না বরং দার্শনিক একটা ক্ষেত্র কে আলোচনা করেছে তখন আপনি আমার ধর্মের টিকিটাও নড়াতে পারবেন? এভাবে যদি একটা তত্ত্বকে আলোচনা করা হয় তাহলে আপনার বিবর্তন কিভাবে আমার ধর্মকে কিছু করতেপারে?
কিন্তু এরপরেও কি এই ব্লগে শামস ভাই যা লিখেছেন তা ভুল সেটা আপনি কিভাবে প্রমান করতে পারবেন?