«

»

আগস্ট ২৬

পৌরাণিকতা: বাস্তব ও অবাস্তবের মিশেল এবং এর ধারাবাহিকতা!

খৃষ্টপূর্ব চার শতাব্দীতে গ্রীসে “লোগাস” নামে একটি শব্দ চালু ছিল যার দ্বারা বুঝাতো “সত্যি ঘটনা”। এর বিপরীতে “মিথ” নামে আরেকটি শব্দ ছিল যা মূলত “মিথোস” থেকে এসেছে, বাংলা করলে দাঁড়ায় “পৌরণিক কাহিনী”। এখন উন্নত ছাপাখানা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া আছে, কিন্তু তারপরও কেবল দৃষ্টিভঙ্গির কারণেও একটি ঘটনা কতভাবে বিকৃত হয়ে যায় সেখানে প্রাচীনকালে যখন লেখার ভাল উপায় ছিল না সেখানে ঘটনা যে বিকৃত হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইউরোপের অন্ধকার যুগে প্যাগানিজম, অনাচার ও অবিচারের বিপরীতে আলোকবর্তিকা নিয়ে যে বাইবেল এর আগমন ঘটে প্রথমদিকে তা সবাই পড়তে পারতো না। বাইবেল পড়া সীমাবদ্ধ ছিল সমাজের অল্পকিছু শিক্ষিত ও জ্ঞানী লোকের মধ্যে। এই বাইবেলকে সংরক্ষণ করা হতো খুব স্বযত্নে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে। ছাপাখানার অপ্রতুলতা ছিল। সংরক্ষণটা অবশ্যই খুব বড় একটা সমস্যা ছিল। হাজার বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে ঘুরে ফিরা ব্রিটেনের কিং আরথারকে ইতিহাসে কোথাও খুজে না পাওয়া গেলেও সে পৌরাণিক কাহিনীতে স্থান করে নিয়েছে। ধারণা করা হয় সম্ভবত ৬০০-৭০০ খৃস্টাব্দে সে ইংল্যান্ডে জার্মানিক সাক্সানদের বিরুদ্ধে লড়াইকারী ব্রিটিশ রাজা ছিল। তবে তার জনপ্রিয়তা ইংল্যান্ড ছাড়িয়ে ফ্রান্স, ব্রিটেন এমনকি জার্মানিতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। হিন্দু পৌরণিক কাহিনীগুলো সংরক্ষণের আগে মানুষের মুখে মুখে অনেক দিনই থেকেছে। হিন্দু পুরোহিতরা পবিত্র গান ও মন্ত্রে বেদকে বাচিয়ে রেখেছিল। আরিয়ানদের দ্বারা ভারতবর্ষ আক্রমণ ও জয় ২৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে হলেও বেদ প্রথম সঙ্কলন করা হয় খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে। তবে কেবল সংরক্ষণের অভাবে বাস্তব চরিত্রগুলো মানুষের মুখে মুখে বিকৃত হয়ে পৌরণিক চরিত্র হয়েছে সেটা বললে ভুল হবে। কারণ সংরক্ষতি হওয়া অনেক কাহিনীতেও সেই কাল্পনিক উপস্থাপনা পাওয়া যায়। সবচেয়ে প্রাচীন যে সাহিত্যে মিথের কাহিনী পাওয়া যায় সেটি প্রায় তিন হাজার বছর আগের মধ্যপ্রাচ্যের সুমেরিয়ান সভ্যতার গিলগামেশ। পাথরে খোদাই করা ট্যাবলেটে এই গিলগামেশের কাহিনীকে ধরে রাখা হয়। গিলগামেশ একটি পৌরণিক চরিত্র, ট্যাবলেটগুলোতে তাকে সেভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে। অনেকের মতে এই গিলগামেশ নোয়াহ (হযরত নূহ (আঃ)) এর প্রপৌত্র বিখ্যাত শিকারী নিমরোদ। অবশ্য এ নিয়ে মতভিন্নতা আছে।

Gods_01

ইতিহাসের পরিক্রমায় দেখা যাবে পৌরাণিক কাহিনীগুলো বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। মহাপ্ল্যাবন এর ঘটনা ধর্মীয় পুস্তক কোরান, বাইবেলে বাস্তব হিসেবে এলেও, পৌরাণিক কাহিনীতে কল্পনার মিশেল নিয়ে এসেছে। গ্রীক পৌরণিক কাহিনী ও হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীতে প্রায় কাছাকাহি এই মহাপ্লাবন এর কাহিনী পাওয়া যায়। মিশরীয়রা পরকালে বিশ্বাস করত (আব্রাহামিক ধর্মের সাথে কিছুটা মিল!)। এই পরকালের জীবণ ইহজাগতিক জীবণ ধারণের উপর নির্ভরশীল। পরকালে “ওসিরিস” নামক একজন বিচারকের মুখোমুখি হয়ে জীবণের হিসাব-নিকাশ দিতে হবে। প্রভাবশালী দেবতা ওসিরিসই নীলনদে বন্যা আনেন আর তার দ্বারাই শস্য উৎপাদন ঘটে ও সভ্যতার বিকাশ হয়। তিনি মিশরীয়দের সভ্য করেন, প্রচলিত নরমাংশ খাওয়া নিষিদ্ধ করেন, আইনের প্রচলন করেন ও মানুষকে আইন মানতে শিক্ষা দেন। ঐতিহাসিকদের মতে, সম্ভবত “ওসিরিস” ছিলেন প্রাচীন মিশরের কোন ফারাও সম্রাট কালের আবর্তে একসময় পৌরণিক চরিত্র হয়ে গেছে। ওসিরিস তার যমজ বোন “আইসিস” কে বিয়ে করেন। মাতৃজঠরে থাকার সময় থেকেই “ওসিরিস” তার বোন “আইসিস” কে ভালবাসতে থাকেন। “ওসিরিস” ও তার বোন “আইসিস”এর অজাচার এর ফসল বাজপাখির মাথাবিশিষ্ট মিশরের গুরুত্বপূর্ণ এক দেবতা “হোরাস”। ফেরাউনরা নিজেদের আইসিস ও ওসিরিস এর সন্তান হোরাস এর বংশধর বলে মনে করতেন। দেবতা “হোরাস” অজাচার এর ফসল তবে এই অজাচার এর কাহিনী কল্পনার অংশ নয়,  প্রাচীন মিশরীয় রাজা-বাদশাদের মধ্যে তা স্বাভাবিকভাবেই ছিল। গ্রীক পুরাণের প্রধান দেবতা “জিউস’ও তার বোন “হেরা”কে বিয়ে করেন এবং তা তৎকালীন গ্রীক সমাজব্যবস্থার বাইরে ছিল না।

Horus_01

তবে কিছু কাহিনীকে স্রেফ কল্পনার বাইরে ভাবারও অবকাশ থাকে না। সৃষ্টিতত্ত্বের কথা ধরা যাক। চাইনীজ পৌরণিক কাহিনী অনুযায়ী প্রথম দিককার কালো ডিম সদৃশ মহাবিশ্বে স্বর্গ ও পৃথিবী একসাথেই ছিল। এই ডিম ফেটে সাদা হালকা তরল অংশ থেকে স্বর্গ এবং অপেক্ষাকৃত ভারী অংশ থেকে পৃথিবীর সৃষ্টি হয়। হিন্দু সৃষ্টিতত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্ব ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ পানিতে ভাসমান ডিম ছিল। সেই ভাসমান ডিম থেকে প্রথম দেবতার আগমন আর তিনিই বাকী বিশ্বকে তৈরী করেন আরেকটি কাহিনীতে দেবতা প্রজাপতি নিজেই এক কন্যা ঊষাসহ অনেক ছেলে সন্তান বানান। তিনি তার কন্যা ঊষাকে কামনা করেন, কিন্তু কন্যা বুঝতে পেরে একটি হরিণ হয়ে দৌড়ে পালাতে যায়। কিন্তু প্রজাপতি শিং হিসেবে নিজেকে পরিবর্তিত করে দেন। এই অবস্থাতেই প্রজাপতির বীর্যপাত এবং প্রথম মানবের সৃষ্টি হয়। আরেকটি কাহিনীতে দেখা যায় প্রজাপতি বিভিন্ন প্রাণীর অবয়বে তার কন্যার সাথে মিলিত হন ও তা থেকেই যতসব প্রাণীর সৃষ্টি।

প্যাগানিজম ঝেড়ে ফেলতে সক্ষম না হলেও ক্রিষ্টিয়ানিটির ভিত্তি গড়ে প্যাগানিজমের উপর অমানবিক ও খড়গহস্ত হয়েই। প্রথম দিকে ক্রিষ্টিয়ানিটি নিজেকে প্যাগানিজমের উপর তুলনামূলকভাবে নৈতিক ও আধ্যাত্নিকভাবে শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠীত হলেও কয়েকশত বছরের মধ্যে এই ক্রিষ্টিয়ানিটির উপর ভর করে ইউরোপ ধীরে ধীরে অন্ধকারের দিকে হাটতে থাকে। আলোর জন্য ইউরোপকে আবার তার প্রাচীন অহংকার গ্রীক ও রোমান সভ্যতার অনুগ্রাহী হতে হয়। গ্রীক ও রোমান সভ্যতার প্রতি এই ঝুকে পড়ার সাথে সাথে পৌরণিকতাও নানাভাবে নতুন করে উপজীব্য হয়। এতে প্রথম সারির লেখক ও কবিদের অবদান আছে, আছে চিত্রকরদেরও। ইতালিয়ান লেখক বোকাসিও ১৩৩৮ সালে ট্র্য়ের রাজপুত্র ট্রইলাসকে তার সাহিত্যে নতুন করে উপজীব্য করেন। ১৬০১ থেকে ১৬০২ সালের দিকে শেক্সপিয়ার গল্পটার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ রূপ দেন তার ট্রাজেডি অব ট্রইলাস এবং ক্রেসিডা লিখে। শেক্সপিয়ার এর রোমিও এবং জুলিয়েট গ্রীক মিথোলজীর পাইরামাস এবং থিসব এর গল্প নিয়ে। ইংরেজ লেখক আলেক্সান্ডার পোপ ১৭১৩ থেকে ১৭২০ সালের মধ্যে হোমার লিখিত বিখ্যাত গ্রীক উপন্যাস ইলিয়াড এর অনুবাদ করেন। টেনিসনের দ্যা লোটাস ইটার হল গ্রীক বীর ওডিসাস এর তার বাড়ি থেকে ট্রয়ের দিকে যাত্রার কাহিনী পাওয়া যায়। বিংশ শতাব্দীর সাহিত্যিক দান্তে তার ডিভাইন কমেডিতে ক্রিস্টিয়ান কাহিনীকে গ্রীক ও রোমান পৌরণিক কাহিনী দ্বারা সমৃদ্ধ করেছিলেন। মাইকেলেঞ্জো সিস্টিন চ্যাপেল-এ যে চিত্রকর্ম করেন তাদের প্যাগান দেবতাদের সাথে ক্রিস্টিয়ান মহাপুরুষদেরও স্থান দিয়েছেন। জর্জ বারণারড শ’, আরথার মিলার গ্রীক বীরদের স্তুতি গেয়েছেন। ওয়াল্ট ডিজনীর ক্লাসিক “স্নো হোয়াইট” গ্রীক গল্প পার্সিফোন এর অবলম্বনে।

ইউরোপিয়ান এনলাইটেনমেন্ট এর হাত ধরে এই পৌরণিক উপজীব্যতা কেবল সাহিত্যে ও শিল্পকলাতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ১৯৯০ সালে টয়োটা ট্রইলাস এর বান্ধবী ক্রেসেডার নামে গাড়ির মডেল এর নাম দেয় ক্রেসাডা। ১৯৮৬ সালে মহাকাশযান ভয়েজার যখন ইউরেনাস যায় ও নতুন চাঁদ আবিষ্কার করে তখন তার নাম দেয়া হয়- ক্রেসাডা। মিশরের ফেরাউন রাজা তুতেনখানেম এর পরিধেয় আঙ্খ (ডিম্বাকৃতির ক্রস যা চেইনের সাথে ঝুলানো হয়) এখনও অনেকের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। মিশরের কপটিক ক্রিস্টিয়ানরা এই আঙ্খকে এখনও পরিধান করে। আবিষ্কৃত গ্রহগুলোর নামকরণ গ্রিক পৌরণিক কাহিনী থেকে ধার করা। আমাদের গ্রহগুলোর নামগুলো সব গ্রীক মিথলজী থেকে ধার করা। যেমনঃ বার্তাবাহক দেবতা মার্কারি, ভালবাসার দেবী ভেনাস, যুদ্ধ দেবতা মারস, জুপিটার, দেবতাদের পিতা স্যাটার্ন, সাগরের দেবতা নেপচুন, গগনদেবতা ইউরেনাস, মৃতদের দেবতা প্লুটো। রোমানদের কাছে গ্রীক দেবতা জিউস হল জুপিটার, নেপচুন হল পোসেইডন, জুনো হল হেরা, হাডেস হল প্লুটো, আরটেমিস হল ডায়ানা, হারমেস হল মার্কারি, এরস হল কিউপিড (Cupid) আর আরেস হল মার্স (Mars)। পৃথিবীর নয়টি গ্রহ নয়জন রোমান দেবতার নামেই করা। জানুয়ারী আসছে দুই মুখওয়ালা দেবতা জানুস (Janus) থেকে। ফেব্রুয়ারী- পাপ থেকে নিষ্কৃতির জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে, মার্চ- মার্স (Mars) থেকে, এপ্রিল- দেবতা এফ্রোদিত (Aphrodite), জুনো (Juno) থেকে জুন, রাজা জুলিয়াস থেকে জুলাই, রাজা অগাস্টাস থেকে আগস্ট, সেপ্টেম্বর সপ্তম মাস (যদিও এখন নবম), অক্টোবর নভেম্বর ও ডিসেম্বর যথাক্রমে অষ্টম, নবম ও দশম মাস (পরে পরিবর্তিত হয়েছে)। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রথম মহাকাশ প্রোগ্রামের নাম ছিল “মার্কারি”। জেমিনি নামের ক্যাপসুলগুলো দুজন মহাকাশচারীকে ধারণ করতে পারত বলে গ্রীক মিথলজীর টুইন “জেমিনি”র নামে ঐ ক্যাপসুলের নাম রাখা হয়। আর যে মহাকাশযানে করে চন্দ্রে অবতরণ করা হয় সেটির নাম গ্রীক দেবতা “এপোলো”র নামে। এপোলো প্রধান গ্রীক দেবতা জিউস এর ছেলে। অধিকাংশ গ্রীক দেবতারাই অলিম্পাস পাহাড়ে বাস করত। গ্রীক দেবতা প্রমিথিউস, তার ছেলে হারকিউলিস, পার্টটাইম লাভাড় এড্যোনিস, বীর এজ্যাক্স (গ্রীক আঈয়াশ), প্লেটোর কল্পিত আটলান্টিস এর পরিচিতি অনেকের কাছেই হয়ে থাকবে। তাদের নামে অনেক নামীদামী ব্র্যান্ড এর নাম পাওয়া যায়। আজকের গ্রীসের রাজধানী এথেন্সও আসছে দেবী এথেনার নাম অনুসারে। এথেনা হল যুদ্ধের দেবী। যুক্তরাষ্ট্রের নেভি’র একধরণের বহুমুখী যুদ্ধজাহাজ আছে যা দেবী এথেনার বর্মের নাম এইগিস এর নামে। জিউস এর নাতি এরস হল লিঙ্গের দেবতা। এই এরস থেকে ইংরেজী “এরোটিক” শব্দ এসেছে। উল্লেখ্য হিন্দু ধর্মেও শিবলিঙ্গের পূজা করা হয়। গ্রীসের ডেলফি (Delphi) নামক স্থানে বিজ্ঞ পরামর্শদাতা সন্ন্যাসী ওরাকল (Oracle)দের বাস। দেবতা এপোলোকে উপাসনা করার জন্য বিখ্যাত এই ডেলফি। “ডেলফি” ও “ওরাকল” কম্পিউটার বিজ্ঞানে খুব পরিচিত নাম। দেবী “নাইকি” এর নামে রয়েছে বিখ্যাত জুতা কোম্পানী আছে।

পৌরাণিক কাহিনীকে কল্পনা ছাড়া ভাবাই যায় না। কখনো কখনো এই কল্পনা বাস্তবতার সাথে একেবার লাগামহীন মনে হলেও অনেক কাহিনীতেই রক্তমাংশের কাহিনীও জড়িয়ে আছে। মানুষের মধ্যে ফ্যাক্ট থেকে ফিকশনকে কখনো কখনো প্রাধান্য দেবার একটা সহজাত প্রবণতা আছে। ফলে পৌরণিক কাহিনী ও চরিত্র মানুষের মাঝ থেকে একেবারে হারিয়ে যায়নি। 

সূত্র থেকে সাহায্য নেয়া হয়েছে:

১. বিশ্বের পৌরাণিক কাহিনী, ডঃ হুমায়ুন কবির, রাবেয়া বুক্স, প্রকাশক: রাবেয়া খাতুন।

২. সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাস, ডঃ মুহম্মদ গোলাম রসুল, আলীগড় লাইব্রেরী।

৩. http://www.egyptianmyths.net/horus.htm

৪. The Mythical Creatures Bible by Brenda Rosen

৫. Mythology for Dummies, Dr. Christopher W. Blackwell, Amy Hackney Blackwell

৬. http://www.mythencyclopedia.com/Fi-Go/Floods.html

৭. http://library.thinkquest.org/03oct/00875/text/ChineseC.htm

৬ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. ফাতমী

    @শামস ভাই,

    ফন্ট বড় করেন, বুঝতে কষ্ট হয়। এডিট করে বড় ফন্ট দিতে পারবেন।

  2. সাইফুল ইসলাম

    আসসালামু আলাইকুম ভাই, খুব সুন্দর তথ্যবহুল লেখার জন্য ধন্যবাদ। তবে লেখার ফিনিশিং বা সারমর্ম-টা বুঝে আসে নি। অর্থাৎ লেখাটির মাধ্যমে কি শুধুই তথ্য দিতে চাচ্ছেন নাকি এর সাথে কোন ম্যাসেজও আছে? দয়া করে ব্যাখ্যা করলে ভালো হয়।
    যাঝাকাল্লাহ খায়রান।

    1. ২.১
      শামস

      তেমন কিছু না- হাল্কা ধরণের লেখা। সারমর্মটা আরো গুছালো হতে পারতো, অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে!!

      পৌরণিক কাহিনী নিয়ে একটু পড়ালেখা করে মনে হল এগুলা একেবারে কল্পকাহিনী না, টুইস্টেড কাহিনী যদিও কল্পনার পরিমাণ বেশী। এর আগে এরকম আরেকটি লেখাতেও এব্যাপারে কিছুটা এসেছে যে প্রাচীন বিখ্যাত অনেক লেখকের বইতে পৌরণিক কাহিনী এমনভাবে এসেছে যেন সেগুলো বাস্তব, একসময় মানুষ তাদের তাই মনে করতো হয়তো। আধুনিক সভ্যতা ইউরোপিয়ানদের হাত ধরে গ্রীক সভ্যতার পূণঃজাগরণ। গ্রীক সভ্যতা পৌত্তলিক, ঈশ্বরহীন না! ইউরোপিয়ানরা যখন সভ্যতাটিকে আবার পুনরুজ্জীবিত করে তখন পৌত্তলিকতা এবং তাদের পৌরণিকতাও উঠে আসে, যার কিছু হিন্টসও দেয়া হয়েছে। ভারতীয় হিন্দুরা পৌত্তলিক হলেও সেই পৌত্তলিকতার ওয়ার্ল্ড স্টেজে তেমন কোন গুরুত্ব বহন করে না, যা গ্রীকরা করতে পেড়েছে! 

      আর মানুষের মধ্যে ফ্যাক্ট থেকে ফিকশনের প্রতি দুর্বলতা কাজ করে। ফলে কল্পকাহিনী বাসা বাঁধতে পারে খুব দ্রুত। ধর্মীয় মহামানবদের সাথে কল্পকাহিনী বেশী মানায় এবং এটা করতে বেশীরভাগ মানুষই খুব আগ্রহী। অবশ্য আমাদের দেশে অবস্থা আরো খারাপ, রাজনৈতিক নেতাদের ডিভিনিটি (!) না থাকলেও তাদের গায়ে কোন দুর্বলতা বা তাদের ব্যর্থতার আচড়টিও যাতে না পড়ে সেজন্য তাদের মুরিদরা সক্রিয়! তবে পীর ফকিরের কেরামতির কাহিনীর জনপ্রিয়তা যেকোন কিছুর চেয়ে বেশী, যা একসময় শিরক এর দিকে নিয়ে যায়, যার সাথে পৌত্তলিকতার দূরত্ব খুব একটা না। যথার্থ শিক্ষা অনেক মানুষকে আলোকিত করতে পারলেও, পৌত্তলিক মানসিকতা চাইলেই দূর করা যায় না, জাগতিক ভোগ বিলাস বিষয়টিকে কঠিন করে দেয়!  

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ। 

       

  3. মুনিম সিদ্দিকী

    আজ সময় বের করে পড়ে নিলাম। ভালো লিখেছেন। অনেক অজানা কথা জানা গেল। ধন্যবাদ।

     

    1. ৩.১
      শামস

      ধন্যবাদ মুনিম ভাই।

       

  4. আহমেদ শরীফ

    পোস্ট তথ্যভিত্তিক এবং সুন্দর হয়েছে। 

    ইসলামবিদ্বেষী সনাতনধর্মীদের মাঝে একটা বিশেষ প্রবণতা হলো বয়োপ্রাপ্ত হবার পর আধুনিক শিক্ষাগ্রহণের সাথে সাথে নিজ ধর্মের অসারতা উপলব্ধি করতে করতে এক ধরণের হীনমন্যতায় ভুগতে থাকা। ধর্মবিশ্বাস বস্তুটিকেই একটি যুক্তিগ্রাহ্যতাহীন খেলো অর্থহীন বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে অভ্যস্ত হওয়া। সিংহভাগ শিক্ষিত হিন্দুদের ধর্মাচরণের বালাই না থাকার যে পরিবেশ সেটির প্রভাব তো আছেই। পরবর্তীতে বৈশ্বিক প্রধানতম সম্প্রদায়-ধর্মগুলোর প্রাধান্য প্রভাব-প্রতিপত্তি-প্রযুক্তিগত-সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নত অবস্থান এইসব তাদের মনোআধ্যাত্মিকভাবে একরকম কোণঠাসা করে ফেলার মত অবস্থা হয়। নিজস্ব সামাজিক ধর্মীয় সংকীর্ণতা-সীমাবদ্ধতার কারণে ধর্মান্তর অনেক কঠিন-দুরুহ হওয়ায় নিজ ধর্মে এক যুক্তিসঙ্গত তীব্র অনীহা সত্ত্বেও থেকে যেতে বাধ্য হতে হয় তাদের। এইসব টানাপোড়েনে স্বভাবজাত নিপীড়িত হীনমন্যতা আরো প্রকট আকার ধারণ করায় আত্মরক্ষার সহজাত তাড়না শ্রেষ্ঠতরদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধকামিতা ইত্যাদির সম্মিলিত কৌশলগত ফসল হল আজকের সনাতনধর্মী পরিবার থেকে আসা নাস্তিক নামধারী তথাকথিত নাস্তিক সাজতে বাধ্য হওয়া কোণঠাসা শিক্ষিত হিন্দুগণ।

     

     

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।