«

»

Jan ১৩

জেনেটিক্স, এম্ব্রায়লজী ও বিবর্তনবাদ (পর্ব-১)

ডারউইন মূলত শারীরিক ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে তার মতবাদকে উপস্থাপন করেছিলেন। বিভিন্ন প্রণীর দৈহিক গঠনগত সাদৃশ্য তাকে প্রভাবিত করেছিল ও তিনি ভেবে নেন ক্রমান্বয়ে লক্ষ-কোটি বছরের ব্যবধানে এক স্পেসিসের প্রাণী ছোট ছোট শারীরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্য একটি নতুন স্পেসিসে পরিণত হতে পারে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে ডারউইনের জেনেটিক্স বা এম্ব্রায়লজী সম্পর্কে কোন ধারণা ছিল না!

সময়ের হাত ধরে এখন আমরা জানতে পেরেছি প্রত্যেকটা প্রাণীর আলাদা আলাদা জেনেটিক মেকআপ আছে, প্রত্যেকটা প্রাণীর নিদৃষ্ট সংখ্যক ক্রমোজম আছে। এই ক্রমোজম সংখ্যা ও জেনেটিক মেকআপ ভীষণভাবে নিদৃষ্ট, প্রত্যেকটা স্পেসিসের জন্য সম্পূর্ণভাবে আলাদা আলাদা।

জেনেটিক এনালাইসিসে দেখা যায় মানুষের ক্রমোজম সংখ্যা ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি, অন্যদিকে শিম্পাঞ্জী ও অন্যান্য এপ জাতীয় প্রাণীর (গরিলা, ওরাংওটান) ক্রমোজম সংখ্যা ২৪ জোড়া বা ৪৮ টি।

সব প্রজাতীর প্রাণীর ক্ষেত্রেই এই ক্রমোজম সংখ্যা একদম নিদৃষ্ট-

যেমন–

ষাঁড়ের ক্রমোজম সংখ্যা ৩০ জোড়া বা ৬০ টি

বিড়ালের ক্রমোজম সংখ্যা ১৯ জোড়া বা ৩৮ টি

কুকুরের ক্রমোজম সংখ্যা ২৯ জোড়া বা ৭৮ টি

ঘোড়ার ক্রমোজম সংখ্যা ৩২ জোড়া বা ৬৪ টি

ভেড়ার ক্রমোজম সংখ্যা ২৭ জোড়া বা ৫৪ টি

যেকোন স্পেসিসের ক্ষেত্রে এই ক্রমোজম সংখ্যা দারুণ ভাবে নিদৃষ্ট ও অপরিবর্তনশীল। জেনেটিক্যালি ক্রমোজম সংখ্যার সামান্যতম পরিবর্তন নানা ধরণের রোগ উৎপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

জেনেটিক্সের ধারণা অনুযায়ী একটা স্পেসিস, আরেকটা স্পেসিসে রূপান্তরিত হতে হলে জেনেটিক মেকআপ ও ক্রমোজমে অনেক পরিবর্তন আসতে হবে। ক্রমোজমের এই পরিবর্তনগুলই মূলত একটা স্পেসিসকে আরেকটা স্পেসিসে রূপান্তরিত করতে পারে।

এখন দেখা যাক জেনেটিক্স ও এম্ব্রায়লজীর দৃষ্টিতে বিবর্তনবাদ কেন গ্রহণযোগ্য নয়, এবং শিম্পাঞ্জী থেকে মানুষের বিবর্তন কেন কিছুতেই সম্ভব নয়।

প্রথম কারণ-

আমরা জানি মানুষের মানুষের ক্রমোজম সংখ্যা ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি, অন্যদিকে শিম্পাঞ্জী বা এপ (Ape) জাতীয় প্রাণীর ক্রমোজম সংখ্যা ২৪ জোড়া বা ৪৮ টি। তাই মানুষে পরিণত হতে হলে ২৪ জোড়া থেকে কমে ২৩ জোড়ায় পরিণত হতে হবে, সেটি কোন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হতে পারে না। সেটি হতে পারে যদি ‘ক্রমোজম ফিউশন (Chromosome fusion)’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২ টি ক্রমোজম যুক্ত হয়ে একটিতে পরিণত হয় তবেই।

যদি তর্কের খ্যাতিরে ধরে নেয়া হয় কোন এক সময় ফিউশনের মাধ্যমে ২৪ জোড়া ক্রমোজম ২৩ জোড়ায় পরিণত হয়েছে, তাহলে এরকম উদাহরণ প্রকৃতিতে এখনো অনেক থাকার কথা। অর্থাৎ বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় থাকা একই স্পেসিসের ভিন্ন ভিন্ন সদস্যের মধ্যে মাঝে মধ্যেই ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক ক্রমোজম পাওয়ার কথা।

কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে একই স্পেসিসের ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক ক্রমোজম সংখ্যার সুস্থ-সবল প্রাণীর একটিও উদাহরণ পাওয়া যায় না।

প্রকৃতিতে একই স্পেসিসের ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক ক্রমোজম সংখ্যা পাওয়া যেতে পারে তবে তারা কখনই সুস্থ নয় বরং তারা নানা ধরণের জেনেটিক রোগে আক্রান্ত হয়।

দ্বিতীয় কারণ-

আবারো তর্কের খ্যাতিরে ধরে নিচ্ছি কোন এক সময় শিম্পাঞ্জীর ২৪ জোড়া ক্রমোজম ২৩ জোড়ায় পরিণত হয়েছে। এখন ধরুন একজন শিম্পাঞ্জী মায়ের গর্ভে শিশু আছে যার ক্রমোজম ২৩ জোড়া, অর্থাৎ শিশুটির মা শিম্পাঞ্জী, কিন্তু গর্ভস্থ সন্তানটি আর শিম্পাঞ্জী নয়, বরং মানুষ। এই মানুষটি যদি তার খালার মেয়েকে যার ক্রমোজম সংখ্যা ২৪ জোড়া, বিয়ে করে তবে কি তাদের সন্তান হবে? এম্ব্রায়লজী ও জেনেটিক্স বলছে তা কখনই হবে না। কেননা, প্রত্যেকটা আলাদা আলাদা স্পেসিসের মধ্যে আছে জেনেটিক ব্যারিয়ার (Genetic barrier) বা বাধা যার কারণে এক স্পেসিসের সাথে অন্য স্পেসিসের হাইব্রীড করা যায় না, বা করা গেলেও স্বাভাবিক কোন প্রাণী জন্মায় না।

তৃতীয় কারণ-

এক দিনেই নিশ্চয় শিম্পাঞ্জীর ক্রমোজম কমে গিয়ে ২৩ জোড়া হয়নি। প্রক্রিয়াটি হয়ত হাজার বা লক্ষ বছর সময় লেগেছে। সেক্ষেত্রে তখন জেনেটিক্যালি অনেক মানুষেরই মা, বাবা, খালা, দাদা শিম্পাঞ্জী হওয়ার কথা। তাহলে কী দাঁড়াল? একই পরিবারের মা, বাবা, সন্তান— কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা স্পেসিস।

একটি চিন্তা করুন। আপনি উন্নত চিন্তা-চেতনার জেনেটিক্যালি মানুষ, আর আপনার মা-বাবা জেনেটিক্যালি শিম্পাঞ্জী, বিশ্বাস করতে কি মন চায়?

কই প্রকৃতিতে আমরা এখন কোন একটি স্পেসিসের মধ্যেও এরকম কোন উদাহরণ দেখি না। বিবর্তবাদীরা কি একই স্পেসিসের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক ক্রমোজমের সুস্থ-সবল প্রণীর একটি উদাহরণও দেখাতে পারবেন?

চতুর্থ কারণ-

শিম্পাঞ্জী থেকে মানুষে রূপান্তরের জন্য শুধু ক্রমোজমের সংখ্যা পরিবর্তন হলেই হবে না, সেই সাথে নতুন নতুন জীন যুক্ত হতে হবে। যেমন- শিম্পাঞ্জীর Y ক্রমোজমে ৩৭ টি জীন আছে, আর মানুষের Y ক্রমোজমে ৭৮ টি জীন আছে। অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুন পরিমাণ জীন।

কিন্তু এম্ব্রায়লজীর নিয়ম অনুযায়ী ডেভেলপমেন্টের সময় নতুন নতুন জীন ক্রমোজমের সাথে যুক্ত হওয়া এবং সেই ক্রমোজমগুলোর মাধ্যমে নতুন ফাংশনাল অংগ তৈরী হওয়া একটি অস্বাভাবিক ব্যাপার।

শিম্পাঞ্জী ও গরিলার সাথে মানুষের বেশ কিছু দৈহিক পার্থক্য আছে। যেমন-

শিম্পাঞ্জীর সমস্ত দেহ লোম দারা আবৃত- সেই লোম পরিবর্তনের জন্য নতুন জীন তিরী হতে হবে।

শিম্পাঞ্জী অর্থপূর্ণ কথা বলতে পারে না। skillful language এর জন্য নতুন জীন লাগবে।

শিম্পাঞ্জীর আইকিউ মানুষের চাইতে অনেক কম। মানুষের মত উন্নত আইকিউ ডেভেলপমেন্টের জন্য নতুন জীন লাগবে।

শিম্পাঞ্জী ও গরিলা ফাইন বা skillful movement এ সমর্থ নয়- এই স্কিলফুল মুভমেন্ট ডেভেলপের জন্য নতুন জীন লাগবে।

আবার শিম্পাঞ্জী থেকে মানুষ হবার জন্য অনেক জীন হারাতেও হবে। যেমন-

শিম্পাঞ্জী খুব সহজেই দ্রুত গাছে চড়তে পারে, জেনেটিক্যালি মানুষের এই বৈশিষ্ট নাই।

শিম্পাঞ্জীর লেজ আছে, মানুষের নেই। লেজ গঠনের জন্য দায়ী জিনকে ক্রমোজম সিকোয়েন্স থেকে হারিয়ে যেতে হবে।

অর্থাৎ মানুষে পরিবর্তিত হতে বেশ কিছু জটিল আর গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে হবে শিম্পাঞ্জীর জেনেটিক মেকআপে।

এখন পর্যন্ত হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের পর্যায়গুলো এনালাইসিস করে নতুন নতুন ফাংশনাল জীন যারা নতুন ফাংশনাল উন্নত অংগ তৈরী করতে পারে, এমন কোন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তাই শিম্পাঞ্জীর ক্রমোজমে কেমন করে বহু সংখ্যক নতুন জীন যুক্ত হল তা এখনও এম্ব্রায়লজীস্টদের কাছে একটা বিরাট প্রশ্ন।

পঞ্চম কারণ-

বিবর্তন যেহেতু একটা চলমান প্রক্রিয়া, তাই একই স্পেসিসের প্রাণীদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ক্রমোজন সংখ্যার প্রাণী প্রায়ই পাওয়া যাওয়ার কথা, কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে তেমনটি পাওয়া যায় না।

একই স্পেসিসের প্রাণীদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ক্রমোজম সংখ্যা কি একেবারেই হতে পারে না?

উত্তর হচ্ছে- পারে, কিন্তু সবক্ষেত্রেই তারা রোগাক্রান্ত হয় ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের প্রজনন ক্ষমতা থাকে না বললেই চলে।

কিছু উদাহরণ দেই- মানুষের ক্রমোজম সংখ্যা ৪৬ টি বা ২৩ জোড়া, প্রতিটি জোড়াকে এক থেকে শুরু করে ২৩ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে সাজান হয়, যদি শুধু ১টি ক্রমোজম যোগ হয় তাহলে বেশ কয়েকটি রোগ হতে পারে-

ডাউন সিন্ড্রোম (down syndrome)- এক্ষেত্রে মোট ক্রমোজম সংখ্যা ৪৭ টি। এরা যেসব সমস্যা ভোগে তা হল-

  • haracteristic facial features, short stature; heart defects
  • susceptibility to respiratory disease, shorter lifespan
  • prone to developing early Alzheimer's and leukemia
  • often sexually underdeveloped and sterile, usually some degree of mental retardation.

পাটাউ সিন্ড্রোম Patau syndrome (trisomy 13):

serious eye, brain, circulatory defects as well as cleft palate. 1:5000 live births. Children rarely live more than a few months.

এড ওয়ার্ড সিন্ড্রোম Edward's syndrome (trisomy 18)

almost every organ system affected 1:10,000 live births. Children with full Trisomy 18 generally do not live more than a few months.

দেখা যাচ্ছে প্রতিটা ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র একটি ক্রমোজম সংখ্যার পরিবর্তন কী ভয়াবহ শারীরিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।

তাই ক্রমোজমের সংখ্যা পরিবর্তন হয়ে নতুন স্পেসিস হওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য আর যৌক্তিক তা ভেবে দেখার বিষয় বৈকি।

কাজেই আমরা উপরের আলোচনা যদি সংক্ষেপে দেখি তাহলে দাঁড়ায়-

  •  একই পূর্ব-পুরুষ থেকে দুটি আলাদা আলাদা সংখ্যার ক্রমোজমের আলাদা আলাদা স্পেসিস জেনেটিক্যালি সম্ভব নয়।
  • মানুষের পূর্ব-পুরুষের যদি ২৪ জোড়া ক্রমোজম থাকে তবে সেখান থেকে ১ জোড়া ক্রমোজম কমে ২৩ জোড়া হতে হবে, অর্থাৎ বিবর্তনের কোন এক পর্যায়ে এপ জাতীয় প্রাণীর গর্ভে মানুষের জন্ম হতে হবে (সেটা শুধু একটি এপের গর্ভে একটি মানুষ জন্ম নিলে হবে না, বহু সংখ্যক এপের গর্ভে বহু সংখ্যক মানুষ জন্ম নিতে হবে, তবেই আস্ত মানব জাতী আসতে পারে)।
  • একই স্পেসিসের গর্ভে ভিন্ন সংখ্যার ক্রমোজমের সুস্থ্য সন্তান জন্মাতে পারে না। জেনেটিক্যালি এটা অসম্ভব।
  • ক্রমোজম সংখ্যার সামান্যতম পরিবর্তন মারাত্নক শারীরিক জটিলতা ও রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় যা থেকে আস্ত একটা নতুন স্পেসিসের বিবর্তন হতে পারে না।
  • জেনেটিক শিম্পাঞ্জীর গর্ভে জেনেটিক মানুষ জন্মানো বাস্তবসম্মত নয়। কেননা এরকম কোন উদাহরণ প্রাণীজগতে নেই।

পরবর্তী পোস্টে আরো কিছু আলোচনার আশা রাখছি।

৬ comments

Skip to comment form

  1. 4
    সানোয়ার

    মন্তব্য টী আমার নয়, কিন্তু আপনাদের উত্তরের জন্য পোস্টকরলাম-

    " একটা ভুল কথা খুব জোড়ের সাথে বলা হয়েছে। সেটি হচ্ছে একই স্পিসিসে ক্রোমোজমের সংখ্যা কখনই ভিন্ন হয় না। এইটা ভুল। রেয়ার হলেও একই স্পিসিসে অনেক সময়ই ভিন্ন সংখ্যাক ক্রমোজমওয়ালা সদস্য পাওয়া যায়। যিনি লিখেছেন, তিনি একজন বিখ্যাত "ক্রিয়েশনিস্ট" এর ব্লগ কপি মেরেছেন। এইকারনে নিজে খুজে দেখেন নাই যে ক্লেইমটা আদৌ সত্য কিনা। 

    একটা উদাহরন দিচ্ছি —

    Lukhtanov, V., Dincă, V., Talavera, G. & Vila, R. Unprecedented within-species chromosome number cline in the Wood White butterfly Leptidea sinapis and its significance for karyotype evolution and speciation. BMC Evol. Biol. 11, 109 (2011).

    এই প্রজাপতির প্রজাতিটিতে ক্রমোজমের সংখ্যা ৫৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত হতে পারে। 

    আর কিভাবে ক্রমোজমের সংখ্যার বিবর্তন হল এটা সাধারনত মলিকিউলার বায়োলজির টেক্সট বইতে ভালো পাওয়া যায়।

    উদাহরন হিসেবে আপনি এই টেক্সট এর 

    Graur, Dan, Wen-Hsiung Li, and Wen-hsiung Li. Fundamentals of molecular evolution. Vol. 2. Sunderland: Sinauer Associates, 2000.
    APA

    অধ্যায় ৮, ৪০২ পৃষ্ঠা দেখতে পারেন। ""
     

  2. 3
    আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    মাশাল্লাহ। দারুণ লিখেছেন। 

    এসব বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করে যান। 

    আপনি লিখেছেন-
     

     তাই মানুষে পরিণত হতে হলে ২৪ জোড়া থেকে কমে ২৩ জোড়ায় পরিণত হতে হবে, সেটি কোন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হতে পারে না। 

    একমত। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটতো তাহলে মানুষের মধ্যেও উক্ত ঘটনায় কোন সমস্যা হতো না। কিন্ত মানুষের জননকোষে যখন এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তখন কি হয়?

    ক্রোমোজোমের সাথে ক্রোমোজোমের লেগে যাওয়ার এ ঘটনাকে বলে ট্রান্সলোকেশন। যদি একটি ক্রোমোজোমের সাথে আরেকটি ক্রোমোজোম একই ক্রমে থেকে শুধু উপরে নিচে লেগে যায় তাকে বলে রবার্টসোনিয়ান ট্রান্সলোকেশন (Robertsonian Translocation) (Davidson's Principle and Practice of Medicine, Chapter: Genetic Disease and Inheritance)

    ক্রোমোজমের মধ্যে সেন্ট্রোমিয়ার নামক একটি সংকুচিত অংশ থাকে। এটির অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ক্রোমজোমকে মেটাসেন্ট্রিক বা এক্রোসেন্ট্রিক, এ দুভাগে ভাগ করা যায়। মেটাসেন্ট্রিকের ক্ষেত্রে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে মাঝখানে এবং এক্রোসেন্ট্রিকের ক্ষেত্রে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে প্রান্তে। রবার্টসোনিয়ান ট্রান্সলোকেশন শুধুমাত্র এক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজমের ক্ষেত্রে হয়। এ ধরণের ট্রান্সলোকেশনে যেহেতু কোন তথ্য যোগ হয় না বা বিয়োগ হয় না, সেহেতু এসব ক্ষেত্রে মানুষের পূর্ণাঙ্গ ব্লুপ্রিন্ট অপরিবর্তিত থাকে। (http://en.wikipedia.org/wiki/Robertsonian_translocation)

    সুতরাং প্রথমে উল্লেখিত শিম্পাঞ্জি সংক্রান্ত উদ্ধৃতির সাথে তুলনা করলে প্রথমেই আমাদের মাথায় যে চিন্তাটা আসবে তাহলো রবার্টসোনিয়ান ট্রান্সলোকেশনে মানুষের বিবর্তন হয়ে আরও উন্নত কোন প্রাণী হওয়ার কথা। সাধারনত মানুষের ১৩ ও ১৪ নং ক্রোমজোমে এই ধরণের ট্রান্সলোকেশন দেখা যায়। প্রতি ১৩০০ মানুষে এরকম একটি Case দেখা যায়। তবে কেসটি মানুষই থাকে। অন্য কোন প্রজাতিতে বিবর্তিত হয় না।  (http://www.ayushveda.com/healthcare/chromosomal-translocation.htm)

    A Robertsonian translocation in balanced form results in no excess or deficit of genetic material and causes no health difficulties. In unbalanced forms, Robertsonian translocations cause chromosomal deletions or addition and result in syndromes of multiple malformations, including trisomy 13 (Patau syndrome) and trisomy 21 (Down syndrome).  (http://en.wikipedia.org/wiki/Robertsonian_translocation)

    ঠিক একই ভাবে শিম্পাঞ্জিতে যদি কোন কারণে এ ধরনে ফিউশন হয় তা শিম্পাঞ্জিতেই পরিণত হবে। কোন হমিনিড স্পিসিসে পরিণত হবে না। 

    1. 3.1
      শামসুল আরেফিন

      ধন্যবাদ, আপনার মন্তব্য পোস্টের সাথে আরো নতুন তথ্য যোগ করল। মুলত এপ জাতীয় প্রাণীর ক্রমোজম সংখ্যার পরিবর্তন আমার আলোচনার মুল ফোকাল পয়েন্ট। একই পুর্বপুরুষ থেকে আসা আলাদা আলাদা সংখ্যার ক্রমোজমের নতুন স্পেসিস হওয়া, মেডিক্যাল সাইন্সের দৃষ্টিকোন কতটা অগ্রহনযোগ্য তাই আমি আলোচনা করতে চাই। আশা করছি পরের পোস্টে আরো তথ্য পরিবেশন করতে পারব।

      ঠিক একই ভাবে শিম্পাঞ্জিতে যদি কোন কারণে এ ধরনে ফিউশন হয় তা শিম্পাঞ্জিতেই পরিণত হবে। কোন হমিনিড স্পিসিসে পরিণত হবে না। ————--হ্যা এটাই  হচ্ছে মুল আলোচনার বিষয়।

  3. 2
    এস. এম. রায়হান

    অন্য একটি ব্লগে দেখলাম কিছু ক অক্ষর গোমাংশ বর্ণবাদী লেঞ্জা লুকিয়ে আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। একই ব্লগে বিবর্তনবাদ নিয়ে পোস্টে অন্য একজনের উপরও তারা একইভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তবে ভালো খবর হচ্ছে বাংলা অন্তর্জালে কতিপয় লেঞ্জাধারী নয়া বর্ণবাদী আর তাদের আদিল টাইপের পুরান ভৃত্য ছাড়া 'গণ্যমান্য' কেউ আর বিবর্তনবাদ নামক কল্পকাহিনী-ভিত্তিক পেগ্যান ধর্মের পক্ষে লিখার সাহস পাচ্ছে না।

  4. 1
    এস. এম. রায়হান

    এতদিন কোথায় ছিলেন? নিয়মিত লিখুন।

    অট: সারা বিশ্বের বিবর্তনবাদী, নাস্তিক, অমুসলিম, ও লাদেন গং-এর মুখপাত্র আঃ মাহমুদ কিন্তু আমাদেরকে অনেক আগেই খেয়ে ফেলেছে। এবার আপনার পালা!

    1. 1.1
      শামসুল আরেফিন

      ধন্যবাদ রায়হান ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য। কেউ যদি নিজেদেরকে বাঁদরের বংশধর ভেবে মনে মনে সুখ পায় তাহলে আমি-আপনি কি করতে পারি বলুন। বিবর্তনবাদ যেহেতু ঠিক ধর্মের মতই বিশ্বাস, তাই এই ধর্ম নিয়ে কুৎসা রচনা করলে, এই ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত লাগবে সেটাই কি স্বাভাবিক নয়?

Leave a Reply