«

»

ফেব্রু. ০৩

বিবর্তনবাদী হাইয়ারার্কি: বিনোদনমূলক হলেও সত্য

বিবর্তনবাদী পিরামিডের একেবারে পাদদেশে অবস্থিত বাংলা বিবর্তনবাদী আঃ মাহমুদ ও কাট মোল্লার মতো যারা অন্যের কাছে শুনে বিবর্তনবাদকে 'প্রমাণিত সত্য' হিসেবে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে মুসলিমদেরকে আক্রমণ করে, তাদেরকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়- বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে প্রমাণ কোথায়? উত্তরে তারা বলবে, "ওয়েল, হোড়াস মোল্লা (হোমো) ও মগাজিৎ রায় (মরা) নামক আমগো দুই নাস্তিক গুরুজীর কাছে প্রমাণ আছে।" অর্থাৎ তাদের দৌড় হোমো ও মরা পর্যন্ত। এবার যদি হোমো ও মরা-কে একই প্রশ্ন করা হয় তাহলে তারা আঃ মাহমুদ ও কাট মোল্লার চেয়ে অপেক্ষাকৃত চালাক হওয়ায় রিচার্ড ডকিন্স-সহ পশ্চিমা বিশ্বের কিছু বিবর্তনবাদী নাস্তিকের নাম উল্লেখ করে বলবে, "আমগো পশ্চিমা গুরুদের কাছে প্রমাণ আছে।"

এবার অসচেতন লোকজন পড়ে যাবে বিপদে এই ভেবে যে, পশ্চিমা বিবর্তনবাদীদের কথা যেহেতু বলা হয়েছে সেহেতু তাদের কাছে নিশ্চয় প্রমাণ থাকবে! আর আমাদের মতো সাধারণ লোকজনের পক্ষে তো রিচার্ড ডকিন্সের কাছে প্রমাণ চাওয়াও সম্ভব নয়, যেহেতু তার অবস্থান বিবর্তনবাদী পিরামিডের একেবারে চূড়ায়। তবে কোনো ভাবে চূড়ার পাদদেশে যেয়ে যদি রিচার্ড ডকিন্সকেও একই প্রশ্ন করার সুযোগ হয় তাহলে হয়তো প্রথমেই আক্রমণ করা হবে হারুন ইয়াহিয়াকে! চাওয়া হবে বিবর্তনবাদের পক্ষে প্রমাণ, আর আক্রমণ করা হবে হারুন ইয়াহিয়াকে! রিচার্ড ডকিন্সের এহেন এস্মার্ট জবাব শুনে তার অন্ধ ভক্তরা হাত তালিতে ফেটে পড়বে! 😛 এর পর প্রশ্নকারীর ধর্মীয় পরিচয় জানার চেষ্টা করা হবে এবং সে অনুযায়ী আক্রমণ রচনা করা হবে। হয়তো বলার চেষ্টা করা হবে, ৯/১১ ঘটনার জন্য যেহেতু ইসলাম দায়ী সেহেতু এটাই বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে সবচেয়ে বড় প্রমাণ! কিংবা বলা হতে পারে, এই আধুনিক যুগেও আমেরিকান খ্রীষ্টানরাই যেহেতু ছয় হাজার বছরের পৃথিবীতে বিশ্বাস করে সেহেতু বিবর্তন তত্ত্ব সত্য হতেই হবে! এক্ষেত্রেও তার অন্ধ ভক্তরা "জ্বী হুজুর, জ্বী হুজুর" রব তুলে হাত তালিতে ফেটে পড়তে পারে! 😀

তবে রিচার্ড ডকিন্সকে কোনোমতে চেপে ধরে যদি টু-দ্য-পয়েন্টে জবাব দিতে বলা হয় সেক্ষেত্রে কোনো উপায় না দেখে একজন বাকপটু ইংরেজ হিসেবে কঠিন কঠিন শব্দ প্রয়োগ করে আবল-তাবল কিছু বলার চেষ্টা করা হবে, যেগুলো তার অন্ধ ভক্তদের কাছে 'দেববাক্য' হিসেবে বিবেচিত হবে, এবং এক পর্যায়ে হয়তো বলা হবে প্রকৃত প্রমাণ জেরী কয়েন এর কাছে আছে! জেরী কয়েনকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে হয়তো বলা হবে রিচার্ড ডকিন্সের কাছে আছে! এভাবে বিবর্তনবাদী পিরামিডের চূড়ায় অবস্থানরত দু-চার জন পশ্চিমা নাস্তিকের তৈরী একটি লুপের মধ্যে 'আসল প্রমাণ' ঘুরপাক খেতে থাকবে! wp-monalisa icon এই অবস্থায় সাধারণ লোকজন যাবে কোথায়!

এবার ট্রিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হচ্ছে: প্রমাণ তাহলে কার কাছে আছে? পাঠকরা হয়তো ইতোমধ্যে বুঝে গেছেন- প্রমাণ আসলে কারো কাছেই নাই! কারণ, বিবর্তনবাদ একটি চরম হাস্যকর রকমের কল্পকাহিনী-ভিত্তিক তত্ত্ব; আর কল্পকাহিনীর পক্ষে স্বাভাবিকভাবেই কোনো প্রমাণ থাকতে পারে না।

১৬ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. শাহবাজ নজরুল

    সাইক্লিক পিরামিড কিংবা মিউজিক্যাল চেয়ার … http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_yahoo.gif

    1. ১.১
      এস. এম. রায়হান

       যেটাই হোক না কেনো ব্যাপারটা পুরাই কাল্পনিক, আর কাল্পনিক প্রমাণ একটি চক্রের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে

  2. আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    'কাল্পনিক চক্র'টিকে অত্যন্ত সহজ ভাষায় তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ রায়হান ভাই।

  3. আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    বিবর্তনবাদীরা তাদের বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব প্রচার করার জন্য দু-ধরণের মানুষ বেছে নিয়েছে:

    – যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেনি।
    – যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছে কিন্তু বিবর্তনবাদের বিষয়ে আগ্রহী নয় কারণ এটা তাদের গবেষণা বা কাজের সাথে সম্পর্ক রাখে না।
     
    এ দুটো গ্রুপকে বিভ্রান্ত রাখার সহজ উপায় হল বিবর্তনবাদের পক্ষে মিথ্যা রচনাকারী এবং প্রচারকারী কিছু অক্সফোর্ড ও হার্ভার্ড এর বিজ্ঞানীদের অর্থায়ন করে রাখা। ফল হল এমন একটি ধারণা তৈরী হওয়া যে যেহেতু এত বড় বিজ্ঞানীরা এর পক্ষে বলছে (কোন প্রমাণ বা অকাট্য যুক্তি উপস্থাপন করতে না পারলেও) বিবর্তনবাদ সত্য না হয়ে পারে না।
     
    অথচ বিবর্তনবাদের বিপরীতে আনীত সব প্রমাণকে ইচ্ছাকৃত ভাবেই অবজ্ঞা করে চলা হয়।

    1. ৩.১
      শামস

      এ দুটো গ্রুপকে বিভ্রান্ত রাখার সহজ উপায় হল বিবর্তনবাদের পক্ষে মিথ্যা রচনাকারী এবং প্রচারকারী কিছু অক্সফোর্ড ও হার্ভার্ড এর বিজ্ঞানীদের অর্থায়ন করে রাখা। ফল হল এমন একটি ধারণা তৈরী হওয়া যে যেহেতু এত বড় বিজ্ঞানীরা এর পক্ষে বলছে (কোন প্রমাণ বা অকাট্য যুক্তি উপস্থাপন করতে না পারলেও) বিবর্তনবাদ সত্য না হয়ে পারে না।

       
      বাংলা বিবর্তনবাদীদের শেষপর্যন্ত দৌড় ঐ পর্যন্তই। পৃথিবীর বাঘা বাঘা (ওপস) বিজ্ঞানীরা এরে সমর্থন করে! অনেকটা পুরোহিতদের মত, যেন তারা আল্টিমেট অথরিটি কোন কিছুর সত্যমিথ্যা যাচাইয়ে, শুধু ক্ষেত্র ভিন্ন! এখানে বিজ্ঞানের তথ্যের চেয়ে বিজ্ঞানী কত গুরুত্বপূর্ণ! পুরাই দুইনম্বরী!

    2. ৩.২
      এস. এম. রায়হান

      ফল হল এমন একটি ধারণা তৈরী হওয়া যে যেহেতু এত বড় বিজ্ঞানীরা এর পক্ষে বলছে (কোন প্রমাণ বা অকাট্য যুক্তি উপস্থাপন করতে না পারলেও) বিবর্তনবাদ সত্য না হয়ে পারে না।

      সারা বিশ্বের নাস্তিক ও বিবর্তনবাদীদের বিখ্যাত মুখপাত্র এবং মোল্লামনা ধর্মের নব্য নিযুক্ত মুসলিম মনস্তত্ত্ববিদ আজ প্রায় দেড়-দু বছর ধরে এই 'যুক্তি' দিয়ে বিবর্তনবাদকে সত্য দাবি করে মুসলিমদেরকে আক্রমণ করে আসছে।

  4. নজরুল ইসলাম

    বিবর্তনবাদ একটি ডিজিটাল জোক্।

  5. ইমরান হাসান

    বিবর্তনবাদ এর তেমন কোন প্রমাণ আজ পর্যন্ত কেউ হাজির করতে পারেনি, যত নাস্তিক এর সাথেই আমার তর্ক হয়েছে ফেসবুকে তাদের প্রত্যেকের কথা শেষ হয়েছে একটা জায়গাতে এসে আর সেটা হচ্ছে বিবর্তনবাদ এখনও অসম্পূর্ণ। আর ফসিল রেকর্ড ১০০% পাওয়া না গেলে সেটা কোনদিনও সম্পূর্ণ হবে না। আর ফসিল রেকর্ড কখনও ১০০% পাওয়াও যাবে না।

  6. ইশতিয়াক শাহরিয়ার

    রায়হান ভাই,
    একটা ভিডিও ফুটেজ শেয়ার না করে পারলাম না। হয়ত আপনার কমন পড়ে যাবার সম্ভাবনাই বেশি। ড. রিচার্ড ডকিন্সের একটা সাক্ষাৎকারের ছোট্ট একটা অংশ বিশেষ। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হল-

    "Professor Dawkins, can you give an example of genetic mutation or evolutionary process which can be seen to increase the information of the genom?"

    উত্তরটা দেব না। নিচের লিংকের ভিডিও থেকে দেখে নিন। তার পর 'হাসি পেল' না 'কান্না পেল', জানাইয়েন।

    http://www.4shared.com/video/eMwvY606/Dr_Richard_Dawkins.html

    1. ৬.১
      শামস

      এই বিবর্তনবাদী পুরোহিতের মূল ভিডিওটাও দেখেছিলাম। পুরাই হাস্যকর। ওর আসল পরিচয় আরো জানতে পারেন এখানেঃ
       
      রিচার্ড ডকিন্স – খাইছে হেতারে!

    2. ৬.২
      এস. এম. রায়হান

      ভিডিওটা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। সত্যি বলতে এই ভিডিও আমি অনেক আগেই দেখেছি। যা করার তখনই তা সেরে ফেলেছি 😀

  7. আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    এই আর্টিকেলটি পড়ে দেখার অনুরোধ রইল।
     
    Peer-Review and the Corruption of Science

    1. ৭.১
      এস. এম. রায়হান

      লেখাটি পড়লাম। বেশ ইন্টারেস্টিং তথ্য, যদিও জার্নালে কিছু পেপার থাকার সুবাদে এ ব্যাপারে আমি আগে থেকেই অবগত ছিলাম। মূল লেখাটি কেউ অনুবাদ করলে ভালো হতো।

  8. সরোয়ার

    হাসলামhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_yahoo.gif  বিবর্তনবাদের গুরু রিচার্ড ডকিন্স যেভাবে মেহেদি হাসানের (আল- জাজিরা'র ইন্টার্ভিউতে) কাছে নাকানি-চুবানি খেয়েছেন তা সত্যিই উপভোগ করার মতো!

    1. ৮.১
      শাহবাজ নজরুল

      Yes Dawkins seemed very helpless and disoriented for most part of the interview – although he could recuperate a little at the end.

    2. ৮.২
      এস. এম. রায়হান

      ভিডিওটা এখানেও দিয়ে দিলাম-

      http://www.youtube.com/watch?v=U0Xn60Zw03A

      প্রশ্নোত্তর পর্বে (৩২ মিনিট থেকে শুরু) প্রথম প্রশ্নের জবাব শুনে হাসতে হাসতে শেষ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।