«

»

আগস্ট ২৯

বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রথম ধাপে চ্যালেঞ্জ

বানর জাতীয় লেজওয়ালা প্রজাতি থেকে লেজবিহীন বিবর্তনবাদীদের বিবর্তনের পক্ষে আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবর্তনবাদীরা যে'সকল 'যুক্তি-প্রমাণ' উপস্থাপন করেছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হচ্ছে-

মানুষের আদি পূর্বপুরুষ প্রাইমেটরা গাছে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য লেজ ব্যবহার করতো। গাছ থেকে নীচে নেমে আসার পর এই লেজের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। কিন্তু আমাদের শরীরে মেরুদন্ডের একদম নীচে সেই লেজের হাড়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

উপরে উদ্ধৃত অংশটা রায়হান আবীর নামে এক বিখ্যাত বিবর্তনবাদী নাস্তিকের লেখা থেকে নেওয়া হলেও এটি আসলে পশ্চিমা বিবর্তনবাদী গুরুদেরই উপস্থাপিত যুক্তি-প্রমাণ। তাছাড়া তার নাম 'রায়হান' হওয়াতে সে বাংলা নাস্তিক ও বিবর্তনবাদীদের গুরুজীর কাছেও 'গুরু' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমনকি সে যেখানে যেখানে এই লেখাটি পোস্ট করেছে সেখানে বিবর্তনবাদীরা সকলেই তাকে সমর্থন দিয়েছে। কাজেই এটিকে অগা-মগা কারো ব্যক্তিগত দাবি বলে পার পাওয়ার কোনোই অবকাশ নাই।

যাহোক, বিবর্তনবাদীদের উপরোল্লেখিত যুক্তি-প্রমাণ (?) অনুযায়ী:

– তাদের আদি পূর্ব-পুরুষের প্রথমে লেজ ছিল না (ব্যাকটেরিয়া থেকে যদি বিবর্তন শুরু হয় তাহলে লেজ থাকার প্রশ্নও ওঠে না)। তারপর বনে-জঙ্গলে যেয়ে গাছে গাছে বিচরণের ফলে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে লেজ গজিয়েছে!

– গাছ থেকে নিচে নেমে আসার পর যেহেতু লেজের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে সেহেতু লেজ লোপ পেয়ে বিবর্তনবাদীদের মতো লেজবিহীন প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে!

অর্থাৎ বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রাণীদের প্রয়োজনেই তাদের দেহে লেজ গজায়, আবার প্রয়োজন ফুরালে লেজ বিলুপ্ত হয়ে যায়! অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যেহেতু প্রথম ব্যাকটেরিয়াতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বলতে কিছুই ছিল না। তো গাছে গাছে বিচরণ করলেই যদি ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য লেজবিহীন প্রাণীদের দেহে লেজ গজায় তাহলে লেজবিহীন বিবর্তনবাদীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে-

তারা সকলে কিংবা কয়েকজন মিলে দিন-তারিখ ঠিক করে একটি নির্দিষ্ট বনের মধ্যে যেয়ে পরীক্ষামূলকভাবে গাছে গাছে বিচরণ করা শুরু করে দেক। দাবিটা যেহেতু তাদের সেহেতু তাদেরকেই প্রমাণ করে দেখাতে হবে। নিদেনপক্ষে পরীক্ষা তো শুরু করতে হবে। পরীক্ষা শুরু না করে কোনো রকম অজুহাত চলবে না।

বিবর্তনবাদীরা এই পরীক্ষা শুরু করতে রাজি আছে কি-না সেটা তাদেরকে বলতে হবে। বাংলা অন্তর্জালে যারা দীর্ঘদিন ধরে বিবর্তন তত্ত্বকে ডিফেন্ড করে লেখালেখি করছে তাদেরকে পাঠকরা ইতোমধ্যে চিনে গেছেন নিশ্চয়। ফলে তাদের নাম উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন দেখছি না।

প্রকৃতপক্ষে, একই বিষয় নিয়ে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ দেওয়া যায়। যেমন, প্রাণীদের প্রয়োজনেই যদি শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গজায় কিংবা অপ্রয়োজনে শরীর থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে আজ থেকে বিবর্তনবাদীরা যদি মাথার পেছন দিকে চোখের প্রয়োজন অনুভব করা শুরু করে দেয় তাহলে একদিন-না-একদিন তাদের মাথার পেছনে চোখ গজানোর কথা! শিং-এর প্রয়োজন মনে করা শুরু করলে একদিন তাদের মাথায় শিং গজানোর কথা! অনুরূপভাবে, বিবর্তনবাদীরা যদি মনে করা শুরু করে যে, তাদের বাম হাতের আর কোনো প্রয়োজন নাই এবং তারা যদি বাম হাতের ব্যবহার বন্ধ করে দেয় তাহলে ধীরে ধীরে তাদের বাম হাত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কথা! একইভাবে ডান হাত, দুই পা, লিঙ্গ, ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও শরীর থেকে বিলুপ্ত করা সম্ভব! তবে সবচেয়ে সহজ চ্যালেঞ্জটাই থাক, কী বলেন পাঠক?

৭ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    উঁচু গাছের পাতা খেতে গিয়ে জিরাফের গলা লম্বা হয়েছে- ল্যামার্কীয় যুক্তি। যেটা অনেক আগেই পরিত্যক্ত হয়েছে। এমনকি মুত্রমনারাও তাদের দাবী ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলে যে, উঁচু গাছের পাতা খেতে গিয়ে জিরাফের গলা লম্বা হয়নি; বরং যে জিরাফের গলাগুলো লম্বা ছিল তারা বেঁচে থাকার লড়াইয়ে টিকে গেছে। তাই পর্যায়ক্রমে লম্বা গলাওয়ালা জিরাফ এসেছে।

    মজার ব্যাপার হল, মুত্রমনারা প্রয়োজনমত নিজেদের এই তত্ত্বের হাস্যকর স্ববিরোধীতায় লিপ্ত হয়। বরং অধিকাংশ জায়গায় এই ল্যামার্কীয় লজিকই ব্যবহার করে। এরা কিছু অজ্ঞ সরল সোজা তরুণদের বিভ্রান্ত করে ভাবতে থাকে তাদের মতো সবাই গাঁজা আর মদ গিলে করসাকফ সিনড্রোমে ভুগছে।

    1. ১.১
      এস. এম. রায়হান

      আচ্ছা, একটা সময় তাহলে ছোট গলাওয়ালা জিরাফও ছিল কিন্তু তারা বেঁচে থাকার লড়াইয়ে টিকতে না পেরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে? এটাই কি প্রমাণিত সত্য?

  2. কিংশুক

    দেখার জন্য পিছনেও এক জোড়া চোখ (মাছির পুঞ্জাজ্ঞি আছে), উড়ার জন্য দুইডা পাখনা, দুইটা এক্সট্রা হাত থাকলে খুব ভালো হইতো।

  3. কিংশুক

    রায়হান আবীররা যেমনে মানুষের বিবর্তন নিয়ে লিখে, মনে হয় ডাক্তারী বিদ্যার মতো বায়োলজির মাস্টার তারা। এমন কঠিন কঠিন টার্ম অনায়াসে আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ হয়ে বয়ান করতে থাকেন বুঝাই যায়না যে সব চাপাবাজি। আবার পৃথিবী সৃষ্টির পর প্রাণের উদ্ভবের বিষয়ে এমন ভাবে কোটি কোটি বছরের ইতিহাস গড় গড় করে বলতে থাকেন মনে হয় যে, তারা এসবের প্রত্যক্ষদর্শী না হলেও ফসিল টসিলের কার্বন টেস্টমেস্ট করে নিশ্চিত প্রমাণ নিয়ে প্রমাণের দোকান দিয়ে বসে আছেন। এত উচ্চমার্গের চাপাবাজদের কঠিন টার্মের ব্যবচ্ছেদ করতে, কোটি কোটি বছরের ইতিহাসের খোঁজ করতে (যেখানে সাধারণ মানুষ ৫০-১০০ বছরের ইতিহাসের বিষয়েও নানান ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিভ্রান্ত) সাধারণ মানুষের সাহসে কুলায়না। এভাবেই তাদের বাজিমাত হয়। বলদ কিসিমের কিছু নাস্তিক আছে যারা ঐসব উচ্চমার্গের চাপাবাজি দেখে মনে করে ঐরে ভাইতো পৃথিবীর বিজ্ঞানের বই সব ভাইজ্যা খাইছেন! বিরাট গিয়ানি ভাই! ভাই যা বলেন নিশ্চয় সেটাই বিজ্ঞান। আবালরা নতুন করে বিজ্ঞানের সংজ্ঞা শিখে। রায়হান আবীরদের লেখার সাথে সাথে ঐসব আবাল নাস্তিক অন্ধ ভক্তরা ভাইয়ের প্রশংসা স্তবকীর্তণে পরিবেশ ভারী করে তোলে। এভাবেই শুরু হয় নতুন করে বিজ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার তথা বিবর্তনবাদী নাস্তিক্যবাদের মাধ্যমে নতুন সমাজ গড়ার প্রত্যয়, সংগ্রাম (যেহেতু আবালরা ভাইয়ের মাধ্যমে মাত্রই বিজ্ঞানের খোঁজ পেয়েছে, এতদিন ধর্ম তাদের বিজ্ঞান শিখতে দেয়নি। ভাই না থাকলে তারাতো সারাজীবন বিজ্ঞান-বিহীন থাকতো)।

    ধন্যবাদ এস এম রায়হান ভাই, বিবর্তনবাদী অতীত বর্তমান ভবিষ্যতের দিব্যজ্ঞানধারী নব্য বিজ্ঞানীদের চ্যালেঞ্জ দেয়ার জন্য। কিন্তু তারাতো কোন চ্যালেঞ্জের জবাব দেয়না। কেবল অপ্রাসংগিক আবোল তাবোল কথা বলে, ব্যক্তিগত আক্রমণ করে। এমনকি তাদের বিশ্বসেরা গুরুরাও প্রশ্নের, চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন হলে মাথা খারাপের আচরণ শুরু করেন।

  4. এস. এম. রায়হান

    অন্তর্জালে খোঁজ করলে দেখা যায় অনেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। তবে কোনো কিছুকে "বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য" দাবি করে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ না করা মানে নিঃসন্দেহে পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া। নিচে কিছু চ্যালেঞ্জ এর লিঙ্ক দেওয়া হলো।

    1. James Randi's Million Dollar Challenge:

    http://www.youtube.com/watch?v=sesamjLNHlU

    http://www.youtube.com/watch?v=yqJu8Cqv7vY

    2. Prabir Ghosh's 2.5 Million Dollar Open Challenge:

    http://www.youtube.com/watch?v=rCmqqOCmxtk

    নির্মল বাবা-কে প্রবীর ঘোষ এর চ্যালেঞ্জ

    3. 5 Famous Bets in Scientific History

  5. এস. এম. রায়হান

    পাঠক, আমার লেখাটি শুরুই হয়েছে বিবর্তনবাদীদের লেখা থেকে একটি উদ্ধৃতি দিয়ে। তাদের দাবিটা হচ্ছে-

    মানুষের আদি পূর্বপুরুষ প্রাইমেটরা গাছে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য লেজ ব্যবহার করতো। গাছ থেকে নীচে নেমে আসার পর এই লেজের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। কিন্তু আমাদের শরীরে মেরুদন্ডের একদম নীচে সেই লেজের হাড়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

    তাদের উপরোক্ত দাবির উপর ভিত্তি করেই আমি বলেছি-

    প্রাণীদের প্রয়োজনেই যদি শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গজায় কিংবা অপ্রয়োজনে শরীর থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে আজ থেকে বিবর্তনবাদীরা যদি মাথার পেছন দিকে চোখের প্রয়োজন অনুভব করা শুরু করে দেয় তাহলে একদিন-না-একদিন তাদের মাথার পেছনে চোখ গজানোর কথা! শিং-এর প্রয়োজন মনে করা শুরু করলে একদিন তাদের মাথায় শিং গজানোর কথা! অনুরূপভাবে, বিবর্তনবাদীরা যদি মনে করা শুরু করে যে তাদের বাম হাতের আর কোনো প্রয়োজন নাই এবং তারা বাম হাতের ব্যবহা বন্ধ করে দেয় তাহলে ধীরে ধীরে তাদের বাম হাত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কথা! একইভাবে ডান হাত, দুই পা, লিঙ্গ, ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও শরীর থেকে বিলুপ্ত করা সম্ভব!

    মনে রাখবেন, আমার উপরের বক্তব্য কিন্তু বিবর্তনবাদীদেরই দাবির উপর ভিত্তি করে। এইটা যে ল্যামার্কীয় যুক্তি সেটা কিন্তু প্রথম মন্তব্যে সাঈদ খান বলেছেন, আর আমিও সমর্থন দিয়েছি।

    অথচ এক ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী অতি ধূর্ত হনু (অর্বাচিন) আমার উপরের বক্তব্যকে কোট করে "অসাধু মোল্লার চালাকি" শিরোনামে পোস্ট দিয়ে দাবি করেছে যে আমি নাকি ল্যামার্কীয় যুক্তিকে ডারউইনিয়ান বিবর্তনের নামে চালিয়ে দিয়েছি! হনুরা ছুপা নিকের আড়ালে কতটা অসৎ আর ধূর্ত হতে পারে, ভেবে দেখুন। তার পোস্টটি এখানে পাবেন। ফেসবুকে আরেক অসৎ হনু একই কাজ করেছে। স্বয়ং রায়হান আবীর আর তার গুরুরা যেখানে কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না, সেখানে ধূর্ত হনুরা ছুপা নিকে অসততার আশ্রয় নিয়ে উল্টোদিকে আমার উপর দোষ চাপিয়ে আমাকে হেয় করছে।

    পাঠক একটু সবুর করেন। এই ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী অতি ধূর্ত ও অসৎ হনুর লেঞ্জা উন্মোচন করে পোস্ট দেওয়া হবে। ধূর্ত হনুরা মনে করেছে নাম লুকালেই লেঞ্জা লুকানো যায়। ধূর্ত হনুরা বিবর্তনবাদকে ডিফেন্ড করছে না কী করছে তা দেখতে পাবেন।

  6. md ismail hossaun

    আমি সদালাপের একজন নিয়মিত পাঠক।
    বিষয়টা আমার কাছে খুব ভালো লাগে যে আপনারা ইসলামের ব্যাপারে মানুষের ভূল ধারনাগুলো দূর করার জন্য এবং ইসলামের নানাবিধ বিষয়গুলোকে মানুষের সামনে তুলে ধরার কাজ করে যাচ্ছেন এবং করবেন ইনশাল্লাহ।
    আমি একজন মুসলিম। আর চেষ্টা করছি ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য পাশাপাশি অন্যান্য মতবাদ সম্পর্কেও যাতে করে পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধব মোটকথা নীজের গন্ডির এবং নীজের এর বাইরের মানুষগুলোকে ইসলাম সম্পর্কে জানাতে পারি।
    আমি বিজ্ঞান সম্পর্কে খুবই কম জানা একজন ব্যাক্তি।
    শিক্ষ্যাগত যোগ্যতাও স্বল্প তবুও চেষ্টা করছি।
    আর আমার বিশ্বাস আল্লাহ আমাকে আপনাদের মতো কিছু মানুষ দ্বারা সহযোগিতা করবেন।

    আমি ইদানিং বিবর্তনবাদ নিয়ে জানার চেষ্টা করছি।
    সদালাপে আপনাদের লেখাগুলো পড়ে আমি বেশ উপকৃত হয়েছি অস্বীকার করবো না।
    কিন্তু আমি কিছু যুক্তির ঠিক কূল কিনারা করতে পারছি না যেগুলো কিনা বিবর্তন বাদ সত্য এর স্বপক্ষে ব্যাবহার করা হয়ে থাকে।
    আমি আপনাদের কাছে নিম্মোক্ত যুক্তিগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা আশা করছি..
    আমার বিশ্বাস আপনারা আমাকে এগুলো অযৌক্তিক এটা প্রমান করে দেখাবেন আর আমাকে কৃতজ্ঞ করবেন।

    ♦সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতি উদ্ভূত হলে প্রজাতিগুলোর মধ্যে একটা সম্পর্ক থাকবে, এ সমস্ত কিছুকে জাতিজনি বৃক্ষ (Phylogenetic tree) আকারে সাজানো যাবে।
    সেটাই দৃশ্যমান
    ♦জীবজগত রেপ্লিকেশন, হেরিটাবিলিটি, ক্যাটালাইসিস এবং মেটাবলিজম নামক সার্বজনীন মৌলিক প্রক্রিয়ার অধীন, যা জীবন প্রক্রিয়ার এক অভিন্ন উৎসের দিকে অঙ্গুলি-নির্দেশ করে।
    ♦বিবর্তন তত্ত্ব থেকে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত টানা হয় তা প্রত্নতত্ত্ব, জৈব রসায়ন, আণবিক জীববিদ্যা, কোষ বংশবিদ্যা কিংবা জেনেটিক ট্রেইটের থেকে পাওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সাথে মিলে যায়।
    ♦প্রাণীর ফসিলগুলো এই জাতিজনি বৃক্ষের ঠিক ঠিক জায়গায় খাপ খেয়ে যাচ্ছে। ট্রাঞ্জিশনাল ফসিল বা ‘মিসিং লিঙ্ক’ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বহু ।[৩৯]।
    ♦বহু প্রাণীর মধ্যে অসম্পূর্ণ ডানা, চোখ কিংবা অ্যাপেন্ডিক্সের মত নিষ্ক্রিয় অঙ্গাদির অস্তিত্ব রয়েছে।
    ♦তিমির পেছনের পা, ডলফিনের পেছনের ফিন, ঘোড়ার অতিরিক্ত আঙ্গুল বিশিষ্ট পা কিংবা লেজবিশিষ্ট মানব শিশু প্রকৃতিতে মাঝে মধ্যেই জন্ম নিতে দেখা যায়। এটা বিবর্তনের কারণেই ঘটে। কারণ কোন অঙ্গ লুপ্ত হয়ে গেলেও জনপুঞ্জের জীনে ফেনোটাইপ বৈশিষ্ট্য হিসেবে ডিএনএ সেই তথ্য সংরক্ষণ করে। তার পুনঃপ্রকাশ ঘটতে পারে বিরল কিছু ক্ষেত্রে। ব্যপারটিকে বিবর্তনের পরিভাষায় আতাভিজম বলে ।♦কোলাকান্থ, প্লাটিপাস, রাজকাঁকড়া, অ্যালিগেটর, অপোসাম এবং লাংফিশের মতো জীবন্ত ফসিল বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন।
    ♦জীবজগতে প্রজাতির বিন্যাস বিবর্তনের ইতিহাসের ক্রমধারার সাথে সঙ্গতি বিধান করে। বিচ্ছিন্ন অন্তরিত দ্বীপে এমন সমস্ত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন প্রাণী পাওয়া যাচ্ছে যা মূল ভূখণ্ডে অনুপস্থিত, যা বিবর্তনের প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
    ♦বিবর্তন তত্ত্ব অনুয়াযী পুর্ব বিকশিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকেই নতুন অঙ্গের কাঠামো তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হয়। বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর সামনের হাত বা অগ্রপদের মধ্যে তাই লক্ষ্যনীয় মিল দেখা যায়। ব্যাঙ, কুমীর, পাখি, বাদুর, ঘোড়া, গরু, তিমি মাছ এবং মানুষের অগ্রপদের অস্থির গঠন প্রায় একই রকম। [৪০],[৪১] ।
    ♦একই ব্যাপার খাটে আণবিক স্তরেও। তাই ফ্রুটফ্লাই আর মানুষের মধ্যে বাহ্যিক পার্থক্য যতই থাকুক না কেন, এরা শতকরা সত্তুরভাগেরও বেশি ‘কমন জিন‘ শেয়ার করে। আর যে পূর্বপূরুষের সাথে কাছাকাছি সময়ে কোন প্রজাতি বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তাদের জিনগত নৈকট্যও তত বেশি থাকে। সেজন্যই মানুষের সাথে ওরাং ওটাং -এর ডিএনএ অণুর বেইস জোড়ের মধ্যে পার্থক্য মাত্র ২.৪%, গরিলার সাথে ১.৪%, আর শিম্পাঞ্জীর সাথে মাত্র ১.২%। বিবর্তন তত্ত্ব সঠিক না হলে এই ব্যাপারটি কখনোই ঘটতো না।♦স্বতন্ত্র ভাবে কিংবা সমান্তরাল পথে ঘটা বিবর্তনও পরীক্ষিত। যেমন, পাখি, বাদুর কিংবা পতঙ্গের পাখা উড়তে সহায়তা করলেও এদের গঠন এবং উদ্ভব ভিন্নভাবে হয়েছে ।
    ♦লেন্সকির পরীক্ষা সহ বহু পরীক্ষায় প্রজাতি গঠনের বিভিন্ন উদাহরণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে [৪২],[৪৩]।♦আধুনিক বিজ্ঞানের কোন শাখা থেকে পাওয়া তথ্য বিবর্তনের বিপক্ষে যাচ্ছে ন।।
    (https://bn.m.wikipedia.org/wiki/বিবর্তন)

    আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো ভাইয়া।
    আস্সালামুয়ালাইকুম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।