«

»

Oct ১৯

ড. ডকিন্সের দাবি বনাম আল্লাহর দাবি: কোন্‌টা সত্য?

১. অধুনা নাস্তিকদের কাছে ঈশ্বরতুল্য গুরু রিচার্ড ডকিন্স বলেছেন-

The universe we observe has precisely the properties we should expect if there is, at bottom, no design, no purpose, no evil and no good, nothing but blind pitiless indifference.

রিচার্ড ডকিন্সের এই 'বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষালব্ধ সত্য' বাণীকে বাংলা নাস্তিকদের গুরুজী অভিজিৎ রায় তার কোনো এক লেখায় অ্যাপীল-টু-অথরিটি হিসেবে উদ্ধৃতি দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, অ্যাপীল-টু-অথরিটি (কপিপেস্ট যুক্তি) ছাড়া অভিজিৎ রায় নিজ থেকে কোনো যুক্তি দিতে পারে না। তো সেই লেখাকেই আবার তার কোনো এক মুরিদ “বিবর্তনবাদ দ্যা মিরাক্যাল” নামে ফেসবুক পেজে প্রচার করেছে-

rdawkins

তাহলে দেখা যাচ্ছে অধুনা নাস্তিকদের কাছে ঈশ্বরতুল্য গুরু ও অক্সফোর্ড প্রফেসর ড. রিচার্ড ডকিন্সের দাবি অনুযায়ী এই মহাবিশ্বের কোথাও কোনো রকম পরিকল্পনা বা ডিজাইনের চিহ্নমাত্র নেই! পাগোল-ছাগোল নাকি! 😛

 

২. কোরআনের ৯৫:৪ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন (বিভিন্ন অনুবাদ থেকে তুলে দেওয়া হলো)-

Surely We created man of the best stature.

We have created the human being in the best form.

Certainly We created man in the best make.

We have indeed created man in the best of moulds.

Truly, We have created the human being of the fairer symmetry.

আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে।

কোরআনে অনুরূপ আয়াত আরো আছে। আল্লাহর দাবি অনুযায়ী তিনি মানুষকে সুন্দরতম বা সবচেয়ে ভালো অবয়ব (best stature, best form, best of moulds) দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এই আয়াতে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবেই পরিকল্পনা বা ডিজাইনের কথা বলা হয়েছে। আয়াতটির সহজ-সরল অর্থ হচ্ছে: শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিকল্পিতভাবে স্থাপন করে মানুষকে সুন্দরতম অবয়ব দেওয়া হয়েছে।

 

৩. রিচার্ড ডকিন্সের দাবি বনাম আল্লাহর দাবি – কার দাবি সত্য?

এ নিয়ে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ দেওয়া যায়। তবে পাঠকদের বুঝার জন্য এখানে মাত্র একটি বিষয়ে (মানুষের অবয়ব) কয়েকটি চ্যালেঞ্জ দেওয়া হচ্ছে।

সাধারণ চ্যালেঞ্জ: নাস্তিকদের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয়ে বর্তমান যে অবয়ব আছে – সেই অবয়বকে পারমুটেশন-কম্বিনেশন করে কিংবা শরীরে কিছু নতুন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করে কিংবা শরীর থেকে কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বাদ দিয়ে – তার চেয়ে অধিকতর ভালো বা সুন্দর অবয়ব তৈরী করে দেখাতে হবে।

বিশেষ চ্যালেঞ্জ-১: নাস্তিকদের শরীরের যে স্থানে (মুখের ঠিক উপরে) নাক বসানো আছে – সেই স্থান থেকে নাকটাকে সরিয়ে তাদের পায়ু পথের ঠিক উপরে বসিয়ে দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে যে, এটাই নাকের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান! 😛 তারা যদি এটাকে তাদের জন্য অবমাননাকর মনে করে তাহলে বর্তমান স্থান থেকে নাকটাকে সরিয়ে অন্য যেকোনো স্থানে বসিয়ে দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে যে, এটাই নাকের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।

বিশেষ চ্যালেঞ্জ-২: নাস্তিকদের শরীরের যে স্থানে লিঙ্গ আছে – সেই স্থান থেকে লিঙ্গটাকে সরিয়ে অন্য যেকোনো স্থানে বসিয়ে দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে যে, এটাই লিঙ্গের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।

বিশেষ চ্যালেঞ্জ-৩: নাস্তিকদের শরীরের যে স্থানে মাথা আছে – সেই স্থান থেকে মাথাটাকে সরিয়ে অন্য যেকোনো স্থানে বসিয়ে দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে যে, এটাই মাথার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।

মাত্র একটি বিষয়েই যে অনেক চ্যালেঞ্জ দেওয়া সম্ভব সেটা বুদ্ধিমান পাঠক বুঝে গেছেন নিশ্চয়। এজন্য আর এগোচ্ছি না। এই পরীক্ষাগুলোর জন্য তারা যেকোনো একজন সুপরিচিত নাস্তিককে 'গিনিপিগ' হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

এই চ্যালেঞ্জগুলো থেকে বুদ্ধিমান পাঠক আরো বুঝে যাওয়ার কথা যে, বিবর্তনবাদের 'র‍্যাণ্ডম মিউটেশন' স্রেফ ভূতের মন্ত্র ছাড়া কিছু নয়। 'র‍্যাণ্ডম মিউটেশন' নামক ভূতের মন্ত্রের মাধ্যমে শতভাগ (?) প্রাণীর ক্ষেত্রে মুখের ঠিক উপরে নাক এবং নাকের ঠিক উপরে চোখ বসতে পারেনা-রে গর্দভের দল! প্রাণীদের মুখের ঠিক উপরে নাক এবং নাকের ঠিক উপরে চোখ বসতে হলে কাউকে পরিকল্পিতভাবে বসাতে হবে। থাক, আজ আর না এগোই! এতেই যদি গর্দভের দলের মাথা না খোলে, তাহলে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেও তাদের মাথা খোলা যাবে না!

পাঠক! আল্লাহর বাণীর কাছে নাস্তিকরা যে কতটা অসহায় সেটা দেখার জন্য একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। দেখুন তারা চ্যালেঞ্জগুলোর জবাব দেয় কি-না।

৭ comments

Skip to comment form

  1. 5
    সজল আহমেদ

    পাতি নাস্তিকদের দেবতা সমতূল্যর ধূতি এবার সুনাস্তিক পারভেজ আলমই খুল্ল ।
    পারভেজ আলমের লেখা থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ দেয়া হোলঃ

    যুক্তরাষ্ট্রের নারীবাদীদের সাথে নও-নাস্তিকদের সম্পর্ক ভালো নয়, নারীবাদীরা প্রায়ই পুরুষ নাস্তিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিসোজিনির অভিযোগ এনে থাকেন, আর নও-নাস্তিকদের মধ্যে এইসব অভিযোগ নিয়ে সাধারণত ঠাট্টা মস্করা করতে দেখা যায়। কিন্তু মাইকেল শারমারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগকারী নারীর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন অপর বিখ্যাত নাস্তিক, জীববিজ্ঞানী ও ব্লগার পিজে মায়ারস (PZ Myers)।
    মূল ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৮ সালে। এলিসন স্মিথ নামে একজন তরুণী ভক্তকে প্রথম পরিচয়ের দিনই মাইকেল শারমার মদ খাইয়ে মাতাল করেন (এলিসনের অভিযোগ অনুযায়ী, মাইকেল শারমার নিজে মদ খাওয়ার ভান করেছেন মাত্র), এবং তারপর এলিসনের রুমে পৌছে দেয়ার কথা বলে তিনি তাকে নিজ রুমে নিয়ে যান (একটা কনফারেন্সের কারনে দুইজন একি হোটেলে অবস্থান করছিলেন)। এলিসন স্মিথ এইসময় এতোটাই মাতাল ছিলেন যে যৌন সম্পর্কে সম্মতি অথবা বাধা দেয়ার মতো অবস্থা তার ছিল না। এই অবস্থাতেই মাইকেল শারমার তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। এটি একধরণের ধর্ষন। নিজে সজ্ঞানে মাতাল হয়েছেন বিধায় পুরুষতান্ত্রিক বাস্তবতায় এলিসন হয়তো পুলিশ কেইস করতে যান নাই। কিন্তু কনফারেন্স আয়োজকদের তিনি বিভিন্ন সময়ে এই অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন যাতে তারা শারমার’কে বক্তা হিসাবে কখনো না ডাকে। এই অভিযোগ কোন কাজে আসে নাই। ২০১৩ সালে পিজে মায়ারস এই অভিযোগটি জনগণের সামনে আনার পর সবাই নরেচরে বসে। অন্য নারীদের সচেতন করার জন্যেই এলিসন স্মিথ ও পিজে মায়ারস নতুন করে অভিযোগটি সামনে আনেন, পিজে মায়ারসের ভাষায় –“আমি এই ঘটনাটি সবার কাছে শেয়ার করছি সাবধান করার জন্যে, যাতে এই ধরণের পরিস্থিতিতে আর কারো না পরতে হয়”। ২০১৪ সালে অপর জনপ্রিয় মার্কিন লেখক মার্ক ওপেনহেইমার তিনজন নারীর নাম উল্লেখ করে মাইকেল শারমারের এসব কূকির্তি সম্বন্ধে বিস্তারিত লেখেন বাজফিডডটকমে। তবে সব নাস্তিক যে পিজে মায়ারসের ভুমিকা নিয়েছেন তা নয়, আর এইখানেই আমাদের এই গল্পের আসল প্রসঙ্গের অবতারণা করবো। এই সোসাল নেটওয়ার্কিংএর যুগে মাইকেল শারমারের ভক্ত ও ভাই বেরাদারের অভাব নাই। এই ভাই বেরাদাররা মাইকেল শারমারের পক্ষেই দাঁড়িয়েছিলেন। এরমধ্যে সবচাইতে লজ্জাজনক কাজ করেছেন নও-নাস্তিকদের প্রধান গুরুদের মধ্যে সবচাইতে বিখ্যাত যিনি, সেই রিচার্ড ডকিন্স। মার্ক ওপেনহেইমারের আর্টিকেলটির প্রতিক্রিয়ায় তিনি টুইটারে লিখলেন –“অফিসার, আমি মাতাল হয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলাম ইহা আমার দোষ নয়। আমাকে অন্য একজন মাতাল করেছে”।অর্থাৎ ডকিন্স মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো আর মাতাল অবস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়াকে এক পাল্লায় মাপলেন। স্বাভাবিকভাবেই এই টুইটের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ হয়েছে অনেক। প্রতিবাদের জবাবে তিনি এরপর টুইট করলেন,“যদি তুমি কোন পুরুষের বিরুদ্ধে জবানবন্দী দিতে ও তাকে জেলে পাঠানোর অবস্থায় থাকতে চাও, তাইলে মাতাল হইও না”।অর্থাৎ, তখন পর্যন্ত ডকিন্সের মাথা ব্যাথা যৌন নির্যাতন নয়, বরং ভাতৃপ্রতিম নাস্তিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ খন্ডন করা। তার টুইট পড়লে মনে হবে অভিযোগকারী নারীই আসল অপরাধী, পুরুষকে জেলে পাঠানোই তার প্রধান উদ্দেশ্য, নির্যাতনকারী পুরুষই এইখানে ভিক্টিম। এইসব ঘটনার কারনে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নারীবাদীদের অনেকেই এই অভিযোগ তুলেছেন যে, আমেরিকান নাস্তিক সমাজ যথেষ্ট পুরুষতান্ত্রিক, এবং এই সমাজ সেক্সুয়াল প্রিডেটরদের রক্ষা করে চলেছে।
    অর্জিনাল লেখাটা এখানে: http://www.istishon.com/node/11972

  2. 4
    কিবরিয়া হাসান

    প্রাক-ইসলামী যুগের পেগান দেবতা Hubal(চন্দ্রদেবতা) এর দাবী সত্য !

    1. 4.1
      এস. এম. রায়হান

      আপনি মনে হচ্ছে প্রাক-ইসলামী যুগের সেই পেগ্যান দেবতার ওয়ার্শিপার!

  3. 3
    কিংশুক

    তালগাছ বগলে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, ডকিন্সদের কাছে মাথা বিক্রি করে দেয়া ব্যক্তিরা কোন চ্যালেঞ্জের জবাব দেয়ার যোগ্যতা রাখে না। চাপাবাজি আর পাহাড় ঠেলতে পারে। সৃষ্টিকর্তার চাইতে ভালো ডিজাইন তারা পারলে নিজেরা সার্জারী করে কোন একটা প্রমাণ দেখাক। প্রকৃতপক্ষে মানুষ আজ পর্যন্ত মাছি নামক একটা তুচ্ছ প্রাণীও বানাতে পারেনি, বর্তমানের মাছির চাইতে ভালো মাছির ডিজাইন করতেও সক্ষম না, আল্লাহর তৈরী চোখের চাইতে ভালো চোখের ডিজাইন করতে সক্ষম না। অথচ খালি চাপাবাজি করে "নিখুঁত ডিজাইন না, ভালো ডিজাইন না" বলে। এত ম্যাচ করে এক মানুষের কিডনি পর্যন্ত আরেক মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপিত করে প্রতিস্থাপিত-বিহীন স্বাভাবিক মানুষের কিডনির মতো কার্যকর ভাবে রাখতে সক্ষম না। অকৃতজ্ঞের দল। একটা সামুদ্রিক টর্নোডো এলে নিরাপদ আশ্রয়ে পলায়ন করে বাঁচার চেষ্টা করতে হয়, তা থামাতে সক্ষম না; বড় উল্কা টুল্কার খবর পেলে ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি করতে করতে ভাগ্যের আশায় থাকে অথচ এক সূর্যের মধ্যেই কত বিলিয়ন বিলিয়ন পারামানবিক বোমার শক্তিসম্পন্ন বিস্ফোরণ ঘটছে সূনিয়ন্ত্রিত ভাবে। পৃথিবী, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, মহাজাগতিক সবকিছু কত নিখুঁত সূনিয়ন্ত্রিত ভাবে চলছে। আবার সৃষ্টিকর্তা কেন বিশ্বজগতে মানুষ পাঠাতে এত দেরী করলেন, কেন এত গ্রহ নক্ষত্র তৈরী করলেন সেই কৈফিয়ত চায়! সৃষ্টিকর্তার বাস্তব ক্ষমতা দেখ আর তোদের ডকিন্সদের চাপাবাজির ক্ষমতা দেখ গর্দভরা।

    1. 3.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      চাপার কথা বলে লাভ নেই, এদের চাপাবাজিতে অতিষ্ঠ। 

  4. 2
    shahriar

    'র‍্যাণ্ডম মিউটেশন' নামক ভূতের মন্ত্রের মাধ্যমে শতভাগ (?) প্রাণীর ক্ষেত্রে মুখের ঠিক উপরে নাক এবং নাকের ঠিক উপরে চোখ বসতে পারেনা-রে গর্ধবের দল! প্রাণীদের মুখের ঠিক উপরে নাক এবং নাকের ঠিক উপরে চোখ বসতে হলে কাউকে পরিকল্পিতভাবে বসাতে হবে।

    Fantastic write-up. 100% agreed.

  5. 1
    ফুয়াদ দীনহীন

    They don't have answer. 

Leave a Reply