«

»

নভে. ২৮

অভিজিতের বানোয়াট হাদিস এবং মজার ধাপ্পাবাজি

ভণ্ড নাস্তিকরা ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে কী বলতে পারে না বলতে পারে, তা ইতোমধ্যে কম-বেশী প্রায় সকলেই অবগত। ফলে এটা কোনো খবর নয়। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে তাদের ভৃত্য-মনোবৃত্তির মুরিদদের নিয়ে। যেমন, এক ছদ্মনামধারী জনপ্রিয়তাকামী মুরিদ দীর্ঘদিন ধরে একেবারে জেনে-শুনে-বুঝে একদিকে ভণ্ড নাস্তিকদেরকে (বিশেষ করে মনাদের দুই বাংলার দুই গুরুজীকে) 'সত্যবাদীতা ও নিরপেক্ষতা'র সার্টিফিকেট দিয়ে আসছে, অন্যদিকে আবার কোনো প্রমাণ ছাড়াই মুসলিমদেরকে মিথ্যুক, ভণ্ডের দল, ইত্যাদি বলে আসছে। এমনকি ভণ্ড নাস্তিকরা ইসলাম ও ইসলামের নবী সম্পর্কে যা কিছুই বলুক না কেন, তাদের অতি বিশ্বস্ত মুরিদরা সেগুলোকে ডিফেন্ড করেছে এই বলে যে, সেগুলো কোরান-হাদিসের সূত্র-সহ বলা হয়েছে। এই ধরণের কিছু অন্তর্ঘাতক মুরিদ সব সময় আশেপাশে থাকলে আর কী লাগে! বিন লাদেনেরও এরূপ কোনো অন্তর্ঘাতক মুরিদ ছিল বলে মনে হয় না।

এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। নিচের মন্তব্যগুলো ক্রমান্বয়ে একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ুন-

mona-hadith1

প্রথমে দেখা যাচ্ছে এক মুক্তমনা মুরিদ তার গুরুজীর লিখা একটি বইয়ে উল্লেখিত একটি বিষয় সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছে যাতে করে ইসলামপন্থীরা কোনো 'তুচ্ছ' ব্যাপার নিয়ে 'উটকো সোরগোল' তৈরী করে বইটির 'আসল উদ্দেশ্য' (?) আড়াল করতে না পারে। এর পর দেখা যাচ্ছে একজন আর্চমুরিদ ব্যাপারটা অনুধাবন করতে পেরে সাথে সাথে তার গুরুজীকে ডিফেন্ড করার জন্য কল্লা এগিয়ে দিয়েছে! তার অতি ধূর্ত গুরুজী এই সুযোগে তার মুরিদের কল্লাকে কোটেশন বক্সের মধ্যে দিয়ে তার নিচে হাদিস-এর নামে কিছু ইংরেজী টেক্সট পোস্ট করে ইনিয়ে-বিনিয়ে আবল-তাবল অনেক কিছু বলার চেষ্টা করেছে, যেন গরু-গাধার দল এত কিছু বুঝবে না! তার নিচে ফুয়াদ সেই হাদিস-এর রেফারেন্স চেয়ে একটি মন্তব্য করেছে। ফুয়াদের মন্তব্যের জবাবে কী কাহিনী ফাঁদা হয়েছে, তা তো দেখতেই পাচ্ছেন। এক্ষেত্রেও ভাবখানা এমন যে, গরু-গাধার দল কিছু বুঝবে না।

এই সূত্র ধরে যেয়ে নিচের দিকে দেখবেন আরেক আর্চমুরিদও তার গুরুজীকে ডিফেন্ড করার জন্য কল্লা এগিয়ে দিয়ে আবল-তাবল বকেছে, অথচ ফুয়াদ যে হাদিস-এর রেফারেন্স চেয়েছে সে বিষয়ে কারো কোনো রকম রা নেই। মুরিদরাই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, গরু-গাধাদের ধর্ম নিয়ে সময় নষ্ট করার মতো সময় তাদের গুরুজীর নাই! কেননা তাদের গুরুজী অ-নে-ক উচ্চ মার্গের বিষয় নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকে। তাদের গুরুজী নিজেও সেটাই বুঝাতে চেয়েছে, যদিও একই কথা তাদের গুরুজী যে কতবার বলেছে তার কোনো হিসাব নাই। এজন্য গরু-গাধাদের 'তুচ্ছ' ব্যাপার-স্যাপারে মুরিদরাই বারংবার এগিয়ে এসে তাদের গুরুজীর হয়ে কল্লা এগিয়ে দেয়।

যাহোক- পাঠকদের কতজন সত্যি সত্যি মনাদের গুরুজীর দিনে-দুপুরে ধাপ্পাবাজি বা পুকুর চুরি ধরতে পেরেছেন, তা নিয়ে অবশ্য সন্দেহ আছে! ভণ্ডরা ধাপ্পাবাজি করতে যেয়ে কতভাবে ধরা খায় দেখুন:

প্রথমত- লক্ষ্য করুন, মনাদের গুরুজী কিন্তু প্রথমেই তার আর্চমুরিদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে হাদিস-এর নামে ইংরেজী টেক্সট পোস্ট করেছে। অথচ সেই হাদিস-এরই রেফারেন্স চাওয়া হলে কাহিনী ফাঁদা হয়েছে এই বলে যে, আমেরিকা আসার সময় হাদিস গ্রন্থটি ফেলে আসতে হয়েছে, কাজেই তার রেফারেন্স মনে নেই। হোয়াট??? কোনো একজন মুরিদ দিনের আলোয় স্পষ্ট ও সামান্য একটা প্রশ্নও করার সাহস পায়নি যে,

"ও গুরুজী! আপনি যদি আমেরিকা আসার সময় হাদিস গ্রন্থটি ফেলে রেখে আসেন তাহলে এইমাত্র হাদিস-এর নামে যে ইংরেজী টেক্সট দিলেন, সেটা পেলেন কোথা থেকে?"

মুরিদদের কারো মাথাতেই এই অতি সামান্য প্রশ্নটাও আসেনি, কিংবা এলেও কল্লা হারানোর ভয়ে বা গুরুজীর মান-সম্মান রক্ষার্থে চেপে যাওয়া হয়েছে। পাঠকদের কাছে তার ধাপ্পাবাজিটা কি পরিষ্কার হয়েছে, নাকি এখনো হয়নি!

দ্বিতীয়ত- যেখানে অনলাইনেই সব হাদিসের ইংরেজী অনুবাদ পাওয়া যায় সেখানে "আমেরিকা আসার সময় হাদিস গ্রন্থগুলো ফেলে রেখে এসেছি"-মার্কা কল্পকাহিনীতে কি কেউ বিশ্বাস করবে? তার মস্তকধোলাই মুরিদরা কিন্তু ঠিকই বিশ্বাস করেছে।

তাহলে ঘটনা কী? হাদিস-এর নামে যেখানে টেক্সট পোস্ট করা হয়েছে সেখানে সেই হাদিস-এরই রেফারেন্স না দিয়ে আবল-তাবল-ছাগল-মার্কা কল্পকাহিনী ফাঁদা হলো কেন? ঘটনাটা আসলে বেশ মজার! হাদিস-এর নামে যে টেক্সট পোস্ট করা হয়েছে সেটি পুরোটা কপি করে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখুন, পিলে চমকে যাবে! নিজেই পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। পাঠকদের সুবিধার্থে নিচে পুরো টেক্সট কপিপেস্ট করা হলো-    

Hazrat Abdullah Muslem asked Muhammad(PBUH): “Ya Rasul Allah! Please tell us, on what does this vast earth stand?” Muhammad(PBUH) replied: “Allah has placed this seven-layered, huge earth on the horn of a cow. This cow has four thousand such horns, and the distance from one horn to another is a journey of five hundred years. This gigantic cow is standing on the back of a giant fish…. আরো কি কি যেন।

দেখেছেন তো? নিজে না দেখলে কিন্তু দারুণ একটা মজা মিস করবেন! উপরের টেক্সট কপি করে যদি গুগলে সার্চ দেন তাহলে দেখবেন মোট ৮টি লিঙ্ক আসে। এই ৮টি লিঙ্কের মধ্যে প্রথম ৭টি লিঙ্ক জায়নবাদী ড্যানিয়েল পাইপের সাইটে যায়! সর্বশেষ তথা বাকি ১টি লিঙ্ক যায় মুক্তমনা ব্লগে মনাদের গুরুজীর সেই পোস্টে, যে পোস্টে উপরের মন্তব্যটি করা হয়েছে। গুগল সার্চ থেকে নিচে পুরো ৮টি লিঙ্কের স্ক্রীনশট দেখুন-

mona-hadith2

প্রশ্ন হচ্ছে: যেখানে হাদিস-এর নামে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, এর পর জোর গলায় সেটিকে সত্য হিসেবে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করা হয়েছে, অথচ সেটি কোনো একটি হাদিসের সাইটে না যেয়ে সবগুলো লিঙ্ক ড্যানিয়েল পাইপস-এর সাইট আর মুক্তমনা ব্লগে যায় কেন? এবার ড্যানিয়েল পাইপস-এর সাইটের একটি পোস্ট দেখা যাক [সূত্র]-

mona-hadith3

দেখলেন তো! ড্যানিয়েল পাইপস-এর সাইটে কেউ একজন Infidel আইডি থেকে ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে এই লেখাটা পোস্ট করেছে। মনাদের গুরুজী এই লেখা থেকেই হুবহু কপিপেস্ট (চুরি) করেছে। কিন্তু ড্যানিয়েল পাইপস-এর সাইটের রেফারেন্স দিলে যে জনসম্মুখে তার কাপড় খুলে যাবে, এই ভয়ে গরু-গাধা-ভৃত্যদেরকে বিশ্বাস করানোর জন্য কল্পকাহিনী ফাঁদা হয়েছে। ভালো করে মিলিয়ে দেখুন। তবে অর্ধেকটা কপিপেস্ট করে শেষে "আরো কি কি যেন" লিখা হয়েছে, যেন গরু-গাধা-ভৃত্যের দল কিছু বুঝবে না! পাঠক নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন, Infidel-এর পোস্টে হাদিস-এর নামে যা বলা হয়েছে সেখানেও কিন্তু কোনো রেফারেন্স নাই। 

প্রশ্ন হচ্ছে:

– মনাদের অতি বিশ্বস্ত দেবগুরুজী ড্যানিয়েল পাইপস-এর সাইট থেকে হাদিস-এর নামে কপিপেস্ট (চুরি) করে সেই রেফারেন্স না দিয়ে এত মিথ্যাচার-ধাপ্পাবাজির আশ্রয় নিলেন কেন?

– এত মুরিদের মধ্যে কোনো একজন মুরিদ তার গুরুজীর এতবড় একটি ধাপ্পাবাজি ধরতে পারেনি কেন? মুরিদরা কি ধরতে পেরেও ভয়ে চেপে গেছে, নাকি ভাইরাসে আক্রান্ত তাদের মস্তিষ্ক দিনের আলোয় এতবড় একটি ধাপ্পাবাজিও ধরতে সক্ষম হয়নি?

– মনাদের গুরুজীর ক্যানাডা-প্রবাসী আর্চমুরিদ যেখানে সারা বিশ্ব জুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন মুসলিমদের অন্তরের মধ্যে উঁকি দিয়ে বিন লাদেনকে দেখতে পায়, সেখানে চোখের সামনে থেকে হাতি মিস হয়ে গেল কী করে?

৪ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. এস. এম. রায়হান

    পরের পোস্টের বিষয়বস্তু: মনাদের ওপার বাংলার গুরুজী নবীজীর নামে ডাহা মিথ্যা হাদিস বানিয়ে এপার বাংলার গুরুজীর বিদ্বেষমূলক একটি লেখাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেছে। সাথে থাকুন।

  2. @এস এম রায়হান ভাই, আমি জানতে চাই যে মুক্তমনারা কি এটা মানে যে ১৪শ বছর আগে নবীজি সা কোরআন লিখেছেন?

  3. আরিফ

    এ তো দেখছি কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ—

    টান টান ঊত্তেজনা নিয়ে পরের পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম।

  4. সত্যবাদী

    হুম। সব ভণ্ডের দল। deniel pipes ত আমেরিকার টাকা খাওয়া কুত্তা। 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।