«

»

Jan ০১

বন্যা আহমেদ-সহ বিবর্তনবাদী গুরুদের প্রতি কিছু চ্যালেঞ্জিং প্রশ্ন

বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী এককোষী একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন (Random mutation and natural selection)-এর মাধ্যমে কোটি কোটি বছর ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে উদ্ভিদজগত-সহ পুরো জীবজগত বিবর্তিত হয়েছে। এই অবস্থায় "বিবর্তনের পথ ধরে" বইয়ের লেখক বন্যা আহমেদ-সহ বাংলা অন্তর্জালে যারা দীর্ঘদিন ধরে বিবর্তন তত্ত্বকে বিজ্ঞানের নামে "প্রতিষ্ঠিত সত্য" কিংবা এমনকি "গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়ার মতো চাক্ষুস সত্য" দাবি করে লেখালেখি করছেন তাদের প্রতি নিচে কিছু চ্যালেঞ্জিং প্রশ্ন রাখা হলো। প্রশ্নগুলো আসলে বিবর্তনবাদীদের আধুনিক গুরু রিচার্ড ডকিন্স-সহ সারা বিশ্বের বিবর্তনবাদীদের জন্যও প্রযোজ্য।

১. বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে বিশেষ একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে পুরো জীবজগতের বিবর্তন শুরু হয়েছে। বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে:

– কোটি কোটি বছর আগে যে 'ব্যাকটেরিয়া' থেকে পুরো জীবজগতের বিবর্তন শুরু হয়েছে, সেই 'বিশেষ ব্যাকটেরিয়া'-র অস্তিত্বের পক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি-না? যদি থেকে থাকে তাহলে সেই নির্দিষ্ট একটি ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব কীভাবে প্রমাণ করা হয়েছে? আর যদি না থাকে তাহলে বিবর্তনবাদীরা কী করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, ব্যাকটেরিয়া থেকেই পুরো জীবজগতের বিবর্তন শুরু হয়েছে এবং সেই ব্যাকটেরিয়ার আগে জীব বলতে কিছুই ছিল না? নাস্তিকদের দাবি অনুযায়ী কোনো কিছুর অস্তিত্বের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকা মানে সেটি যদি এমনি এমনি 'কাল্পনিক' হয়ে যায় তাহলে সেই 'বিশেষ ব্যাকটেরিয়া' কাল্পনিক হবে না কেন? আর কোনো তত্ত্বের শুরুই যদি হয় কাল্পনিক কিছু একটা দিয়ে তাহলে সেটিকে বিজ্ঞান-ভিত্তিক বা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নাকি কল্পনা-ভিত্তিক বা কাল্পনিক তত্ত্ব বলা হবে? (নোট: বর্তমান সময়ের ব্যাকটেরিয়ার উদাহরণ দিয়ে যে কোনোই লাভ নাই, সেটা যে কারোরই বুঝার কথা। অন্যথায় আমার লেখাতে এই প্রশ্ন আসতই না।)

– সেই 'বিশেষ ব্যাকটেরিয়া' থেকে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে কবে, কোথায়, কেন, কতদিনে, ও কীভাবে পরের জীব বিবর্তিত হয়েছিল? এক সাথে একটি নাকি একাধিক জীব বিবর্তিত হয়েছিল? প্রথম ব্যাকটেরিয়া ও দ্বিতীয় জীবের মধ্যে কী কী পার্থক্য ছিল? দ্বিতীয় জীব দেখতে কেমন ছিল? মধ্যবর্তী ধাপগুলোই বা কেমন ছিল? দ্বিতীয় জীব বিবর্তিত হওয়ার পর প্রথম ব্যাকটেরিয়া বেঁচে ছিল নাকি মারা গিয়েছিল? একটিমাত্র ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে 'প্রাকৃতিক নির্বাচন'-ই বা কী করে হয়েছিল?

২. মানুষ-সহ বড় বড় প্রাণীদের দেহে যে সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আছে, ব্যাকটেরিয়ার দেহে এগুলোর কিছুই নেই। ব্যাকটেরিয়া মূলত এককোষী আণুবীক্ষণিক জীব। তাহলে অতিরিক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো কীভাবে প্রাণীদের দেহে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে সংযোজিত (?) বা বিবর্তিত (?) হলো? অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো কি যুগপৎভাবে (Simultaneously) নাকি আলাদা আলাদা করে (Separately) বিবর্তিত হয়েছে? উল্লেখ্য যে, বর্তমান প্রাণীদের অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন যুগপৎভাবে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হতে পারে না (কেননা কিছু কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় না থাকলে প্রাণীরা বাঁচতেই পারবে না), তেমনি আবার আলাদা আলাদা করেও বিবর্তিত হওয়া বাস্তবে সম্ভব নয় (কেননা হৃৎপিণ্ড-বিহীন বা মাথা-বিহীন বা এমনকি হাত-পা-বিহীন মনুষ্য প্রজাতি বাস্তবে কখনোই ছিল না)। এর মধ্যে বিশাল উদ্ভিদজগতের বিবর্তন-ই বা হলো কোথা থেকে?

৩. মানব প্রজাতি-সহ অনেক প্রজাতির প্রাকৃতিকভাবে বংশবৃদ্ধি হয় পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ থেকে নির্গত যথাক্রমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের মাধ্যমে। এই ধরণের প্রাণীদের দেহে স্রেফ শুক্রাণু বা ডিম্বাণুর কোনো একটি না থাকলে বংশবৃদ্ধিই হবে না। এমনকি মেডিক্যাল সায়েন্স অনুযায়ী কিছু শর্ত পূরণ করলেই তবে একজন পুরুষকে প্রজননে সক্ষম হিসেবে ধরা হয়। তবে যায়গোট (Zygote) তৈরীর জন্য যেহেতু একটি শুক্রাণু ও একটি ডিম্বাণুই যথেষ্ট সেহেতু আমি সেদিকে যাচ্ছি না। কিন্তু শর্ত হচ্ছে একটি শুক্রাণু ও একটি ডিম্বাণুকে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গরূপে ও পুরোপুরি কার্যক্ষম থাকতে হবে, অন্যথায় যায়গোট বা ভ্রুণ তৈরী হবে না এবং যার ফলে কোনো প্রজননও হবে না। এবার প্রশ্ন হচ্ছে:

– প্রথম ব্যাকটেরিয়ার দেহে যেহেতু শুক্রাণু বা ডিম্বাণু বলে কিছু ছিল না (বর্তমানেও নেই) সেহেতু ঠিক কোন্‌ প্রাণী থেকে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু বিবর্তিত হওয়া শুরু করেছে, এবং কেন? একদম শুরুতেই শুক্রাণু ও ডিম্বাণু কেমন ছিল? পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ছিল নাকি আংশিক অবস্থায় ছিল? পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় থাকলে হঠাৎ করে একটি প্রাণীর দেহে শুক্রাণু বা ডিম্বাণু এলো কোথা থেকে? আর যদি আংশিক অবস্থায় থাকে তাহলে সেই অবস্থায় যায়গোট বা ভ্রুণ তৈরী হয়েছিল কেমন করে? তাছাড়া শুক্রাণু ও ডিম্বাণু কী করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব? এই অবস্থায় প্রাণীদের বংশবৃদ্ধি হবে কী করে? অধিকন্তু, প্রাণীদের দেহে পাশাপাশি বা সমান্তরালে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু বিবর্তিত (?) হলো কীভাবে? সর্বোপরি, শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ছাড়া কিংবা আংশিক শুক্রাণু বা ডিম্বাণু থেকে যদি প্রজনন-ই না হয় তাহলে মানুষ-সহ বিশাল প্রাণীজগত এলো কোথা থেকে in the first place?!

৪. হৃৎপিণ্ড এমন একটি অঙ্গ যেটি পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ও পুরোপুরি কার্যক্ষম না থাকলে প্রাণীরা বেঁচে থাকতেই পারবে না, বংশবৃদ্ধি হওয়া তো পরের কথা। অন্যদিকে প্রথম ব্যাকটেরিয়ার দেহে কোনো হৃৎপিণ্ড ছিল না, বর্তমানেও নেই। এই অবস্থায় প্রশ্ন হচ্ছে:

– প্রথম ব্যাকটেরিয়ার দেহে যেহেতু কোনো হৃৎপিণ্ড ছিল না সেহেতু ঠিক কোন্‌ প্রাণীর দেহে সর্বপ্রথম হৃৎপিণ্ড সংযোজিত (?) বা বিবর্তিত (?) হওয়া শুরু করেছিল? একদম শুরুতেই হৃৎপিণ্ডটা কেমন ছিল? সেই হৃৎপিণ্ড প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে কী করে বিবর্তিত হলো, যেখানে বর্তমান প্রাণীদের দেহে যে হৃৎপিণ্ড আছে সেটি পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় না থাকলে প্রাণীরা বাঁচতেই পারবে না? হৃৎপিণ্ডের মতো জীবন রক্ষাকারী কোনো মেশিন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হতে থাকলে প্রাণীরা যদি বেঁচে থাকতেই না পারে তাহলে এই অবস্থায় আবার বংশবৃদ্ধি হবে কেমন করে? আংশিক (এক শতাংশ বা এক দশমাংশ) অথচ পুরোপুরি কার্যক্ষম হৃৎপিণ্ড বলে বাস্তবে কিছু আছে কি? প্রাণীদের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন ফুসফুস, পরিপাকতন্ত্র, যকৃত, অণ্ডাশয়, মূত্রথলি, অতি সূক্ষ্ম শিরা-উপশিরা, ইত্যাদির ক্ষেত্রেও অনুরূপ প্রশ্ন ও যুক্তি প্রযোজ্য।

৫. সরীসৃপ থেকে যখন পাখির বিবর্তন শুরু হয়েছিল সেই সময় এই পৃথিবীতে একটি নাকি অনেক সরীসৃপ ছিল? একটি থেকে থাকলে সেটি কী ছিল? সেটি এলো কোথা থেকে? একটির ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক নির্বাচন হয়েছিল কী করে? আর অনেক থেকে থাকলে ঠিক কোন্‌ সরীসৃপ থেকে বিবর্তন শুরু হয়েছিল, এবং কেন? বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে সরীসৃপ থেকে পাখি বিবর্তিত হওয়ার আর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না কেন? সরীসৃপ থেকে কতগুলো ধাপ অতিক্রম করার পর পাখি হয়ে আকাশে উড়তে শিখেছিল? সেটি কোন্‌ পাখি ছিল? সেই একটি (?) পাখি থেকে কেমন করে বংশবৃদ্ধি হয়েছিল? সরীসৃপ ও পাখির মধ্যবর্তী ধাপগুলোই বা কেমন ছিল? মধ্যবর্তী ধাপগুলোতে কী করে বংশবৃদ্ধি হয়েছিল? অতঃপর স্তন্যপায়ী বাদুড়-সহ অনেক প্রকারের উড়ন্ত প্রজাতি কোথা থেকে ও কী করে বিবর্তিত হলো?

৬. বিবর্তন তত্ত্ব সত্য হতে হলে অ-স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে স্তন্যপায়ী প্রাণী বিবর্তিত হতে হবে কি-না? উত্তর যদি "হ্যাঁ" হয় তাহলে ঠিক কোন্‌ অ-স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে বিবর্তন শুরু হয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে কোন্‌ স্তন্যপায়ী প্রাণী বিবর্তিত হয়েছিল? একটি অ-স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে বিবর্তন শুরু হয়ে কতগুলো ধাপ অতিক্রম করার পর একটি পূর্ণাঙ্গ স্তন্যপায়ী প্রাণী হয়েছিল? মধ্যবর্তী ধাপগুলো কেমন ছিল? মধ্যবর্তী ধাপগুলোতে প্রজনন হয়েছিল কীভাবে?

৭. 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে কোন্‌ গাছ থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে ডালিম গাছ কিংবা আম গাছ কিংবা তাল গাছ বিবর্তিত হয়েছে? দুটি গাছের মধ্যবর্তী ধাপগুলো কেমন ছিল?

৮. এই পোস্টে কিছু জন্তুর ছবি দেখানো হয়েছে। বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে:

– বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই জন্তুগুলো যৌক্তিক নাকি অযৌক্তিক? উত্তর যদি "অযৌক্তিক" হয় – অর্থাৎ এই জন্তুগুলোর যদি কোনো অস্তিত্ব থাকা সম্ভব না হয়, তাহলে কেন সম্ভব নয় তা সুস্পষ্ট যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে।

৯. বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী মানুষের পূর্বপুরুষ এক পর্যায়ে মাছ জাতীয় জলজ প্রাণী ছিল। অর্থাৎ মাছ জাতীয় জলজ প্রাণী থেকে ধাপে ধাপে মানুষ বিবর্তিত হয়েছে। তা-ই যদি হয় তাহলে যেকোনো যুক্তিবাদী মানুষ স্বীকার করতে বাধ্য যে, মাছ জাতীয় জলজ প্রাণী থেকে মানুষের মতো স্থলচর প্রাণীর বিবর্তনের চেয়ে মৎসকন্যার মতো আরেক জলজ প্রাণী বিবর্তিত হওয়াটা অধিকতর সহজ ও যৌক্তিক হওয়ার কথা। বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে:

– আজ পর্যন্ত কোনো বিবর্তনবাদীকে বিশাল মহাসাগরে মৎসকন্যার অনুসন্ধান করতে দেখা যায়নি কেন? আমি অবশ্য নিশ্চিত না তারা আসলেই অনুসন্ধান করেছেন বা করছেন কি-না। যদি না করে থাকেন তাহলে তারা কোন্‌ যুক্তিবলে নিশ্চিত হয়েছেন যে, মৎসকন্যা বলে বাস্তবে কিছু নাই বা থাকতে পারে না?

creature7

(পাঠকদের জন্য নোট: বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তবে মৎসকন্যার অস্তিত্ব থাকাটা যৌক্তিক বা স্বাভাবিক হলেও মৎসকন্যার অনুসন্ধান করতে গেলে বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনী সাধারণ লোকজনের কাছেও উন্মোচিত হয়ে যাবে – এই ভয়ে বিবর্তনবাদী গুরুরা কখনো মৎসকন্যার অনুসন্ধান করবেন বলে মনে হয় না! এমনকি গোপনে গোপনে অনুসন্ধান চালানো হলেও তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে না! বিবর্তনবাদীদের জবাবের জন্য অপেক্ষা করুন।)

১০. পা-এর উপর ভিত্তি করে প্রকৃতিতে যেমন পা-বিহীন প্রাণী (সাপ, জোঁক, কেঁচো) আছে তেমনি আবার দ্বিপদী প্রাণী (মানুষ, পাখি), চতুষ্পদী প্রাণী (বাঘ, সিংহ, হাতি, ঘোড়া, গরু, ছাগল), ষষ্ঠপদী প্রাণী (কীট-পতঙ্গ), অষ্টপদী প্রাণী (মাকড়সা), এবং বহুপদী প্রাণীও (বিছা পোকা) আছে। বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে:

– বর্তমানেই যেখানে অনেক প্রাণীর কোনো পা নেই, সেখানে ঠিক কী কারণে অন্যান্য প্রাণীদের দেহে পা গজানোর দরকার পড়ল? পা-বিহীন কিছু প্রাণীকে আলাদা করে বিশেষ কোনো পরিবেশে রেখে দেওয়া হলে তাদের দেহে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে পা গজানো শুরু করবে কি-না? কিংবা পা-ওয়ালা কিছু প্রাণীকে বিশেষ কোনো পরিবেশে রেখে দিলে তাদের পা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হওয়া শুরু করবে কি-না? বিবর্তনবাদীরা কোথাও এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন কি? নিদেনপক্ষে পরীক্ষা শুরু করা না হয়ে থাকলে কেন শুরু করা হয়নি?

– ষষ্ঠপদী প্রাণী থেকে চতুষ্পদী প্রাণী কিংবা চতুষ্পদী প্রাণী থেকে ষষ্ঠপদী প্রাণীর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হওয়ার পক্ষে মধ্যবর্তী ধাপগুলো-সহ কিছু প্রমাণ দেওয়া যাবে কি?

১১. বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী মানুষের আদি পূর্ব-পুরুষ প্রাইমেটরা গাছে গাছে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য লেজ ব্যবহার করতো। গাছ থেকে নিচে নেমে আসার পর লেজের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে লেজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাদের এই 'যুক্তি' অনুযায়ী মানুষের আদি পূর্ব-পুরুষদের প্রথমে লেজ ছিল না। এক পর্যায়ে বনে-জঙ্গলে যেয়ে গাছে গাছে বিচরণের ফলে ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনে লেজ গজিয়েছে। গাছ থেকে নিচে নেমে আসার পর যেহেতু লেজের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে সেহেতু লেজ লোপ পেয়ে মানুষের মতো লেজ-বিহীন প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে! অর্থাৎ প্রাণীদের প্রয়োজনেই তাদের দেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গজায়, আবার প্রয়োজন ফুরালে সেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিলুপ্ত হয়ে যায়! তো গাছে গাছে বিচরণ করলেই যদি ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনে লেজ-বিহীন প্রাণীদের দেহে লেজ গজায়, কিংবা গাছে গাছে বিচরণ না করলেই যদি লেজ-বিশিষ্ট প্রাণীদের লেজ বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাহলে বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে:

– তারা কি লেজ-বিহীন কিছু মানুষকে বনের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে গাছে গাছে বিচরণ করার জন্য কোনো পরীক্ষা শুরু করেছেন এটা পর্যবেক্ষণের জন্য যে, তাদের দেহে সত্যি সত্যি লেজ গজানো শুরু করে কি-না? কিংবা কিছু লেজ-বিশিষ্ট প্রাণীকে গাছ-বিহীন জায়গায় রেখে দিয়ে কোথাও কি কোনো পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে এটা পর্যবেক্ষণের জন্য যে, তাদের লেজ ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হওয়া শুরু করে কি-না? এই ধরণের কোনো পরীক্ষা যদি শুরুই করা না হয়ে থাকে তাহলে এতদিনেও তা শুরু করা হয়নি কেন? বিজ্ঞানের নিয়ম হচ্ছে পরীক্ষা আগে শুরু করতে হবে, ফলাফল পরের কথা। কাজেই পরীক্ষা শুরু না করে কোনো রকম অজুহাত চলবে না।

(পাঠকদের জন্য নোট: বিবর্তনবাদীরা কিন্তু অনেক আগে থেকেই আণুবীক্ষণিক জীব ব্যাকটেরিয়া [ই. কোলাই] নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছেন। ব্যাকটেরিয়া থেকে ভিন্ন কোনো প্রজাতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে কি-না, সেটা তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। অথচ তারা বড় কোনো প্রাণী নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন না! বুদ্ধিমানদের জন্য নাকি ঈশারাই যথেষ্ট। তারপরও এর গোপন রহস্য বলে রাখি। ব্যাকটেরিয়ার মতো অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দাবি করে সাধারণ মানুষকে যত সহজে ঘোল খাওয়ানো সম্ভব, বড় কোনো প্রাণীর ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই তা সম্ভব নয়। কেননা বড় প্রাণীকে সকলেই খালি চোখে দেখতে পাবে। অধিকন্তু, বড় প্রাণীদের নিয়ে পরীক্ষা শুরু করলে দেখা যাবে তাদের দেহে কোনো পরিবর্তন আসার আগেই তারা মারা গেছে! কাজেই বড় প্রাণীদের নিয়ে পরীক্ষা করে কোনো রকম চাপাবাজি করতে গেলে সাধারণ লোকজনের কাছেই হাতেনাতে ধরা খেতে হবে! এই কারণেই তারা জেনেবুঝে শুধু আণুবীক্ষণিক জীব ব্যাকটেরিয়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন!)

১২. বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী বিবর্তন একটি চলমান ও অন্ধ প্রক্রিয়া। বিবর্তনের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যও নেই। তো বিবর্তন যদি একটি চলমান প্রক্রিয়া হয় এবং বিবর্তনবাদীরা যদি ভিন্ন কোনো প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়ে থাকে, তাহলে তারা নিজেরাও একদিন বিবর্তিত হয়ে ভিন্ন কোনো প্রজাতিতে রূপান্তরিত হওয়ার কথা। কোনো বিবর্তনবাদীই এই সত্যকে অস্বীকার করতে পারবেন না। কেউ অস্বীকার করলে যৌক্তিক কারণ দর্শাতে হবে। বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে:

– তারা আজ থেকে কোটি কোটি বছর পর বিবর্তিত হয়ে যে ধরণের প্রজাতিতে রূপান্তরিত হতে পারে, তার সম্ভাব্য কিছু ছবি দেখাতে পারবেন কি-না? তাদের দাবি অনুযায়ীই বিবর্তন যেহেতু একটি লক্ষ্যহীন ও অন্ধ প্রক্রিয়া সেহেতু তাদের উত্তর-পুরুষদের যে ছবিগুলো কল্পনা করা হবে, সেগুলোই বাস্তবে রূপ নিতে পারে। কাজেই বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভাব্য বা কাল্পনিক ছবি দিতে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়, যেখানে তারা ইতোমধ্যে তাদের পূর্ব-পুরুষদের অনেক কাল্পনিক ছবি বানিয়েছেন।

(পাঠকদের জন্য নোট: বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয়ে বিবর্তনবাদীদের বর্তমান যে শারীরিক অবয়ব আছে, তার চেয়ে কম-বেশি কিছু তারা কল্পনাও করতে পারবেন না! আর কল্পনা করতে পারলেও তারা লজ্জায় সেটা দেখাতে পারবেন না! এ থেকে প্রমাণ হবে যে, তারা নিজেরাই আসলে বিবর্তনে বিশ্বাস করে না।)

১৩. ধরা যাক, বিবর্তনবাদীদের কেউ এক চোখ কিংবা তিন চোখ কিংবা এক হাত কিংবা পাঁচ হাত কিংবা এক পা কিংবা তিন পা কিংবা শিং-ওয়ালা কিংবা লেজ-ওয়ালা কিংবা সামনে-পেছনে দুই লিঙ্গ-বিশিষ্ট কিংবা লিঙ্গ-বিহীন কিংবা সবকিছুর সমন্বয়ে 'অদ্ভুত' বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি সন্তান প্রসব করলেন। এই ধরণের সন্তান প্রসবের খবর তো মাঝে মাঝেই শোনা যায়। বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে:

– বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সেই শিশু বাচ্চাটি "স্বাভাবিক" নাকি "অস্বাভাবিক" হিসেবে গণ্য হবে? যদি "অস্বাভাবিক" হিসেবে গণ্য হয় তাহলে ঠিক কোন্‌ যুক্তি বা স্ট্যান্ডার্ড-এর ভিত্তিতে সেটিকে "অস্বাভাবিক" হিসেবে গণ্য করা হবে? বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড বা স্বাভাবিক বলে কিছু আছে কি-না বা থাকতে পারে কি-না?

– বিবর্তনবাদীদের নিজের কিংবা নবজাত সন্তানের শরীরে এমন কিছু পরিবর্তনের উদাহরণ দিতে হবে যেগুলো বিবর্তনের চিহ্ন বা উপসর্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অর্থাৎ তারা মানব শরীরে কী ধরণের পরিবর্তন দেখলে সেটিকে বিবর্তনের চিহ্ন বা উপসর্গ ধরে নিয়ে ডাক্তারের কাছে না যেয়ে চুপচাপ থাকবেন, আর কী ধরণের পরিবর্তন দেখলে সেটিকে "অস্বাভাবিক" আখ্যা দিয়ে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে ছুটবেন – এই বিষয় দুটি কিছু উদাহরণ-সহ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

১৪. বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী শিম্পাজীরা তাদের রক্তের সম্পর্কের নিকটতম আত্মীয়। শিম্পাজীদের সাথে তাদের নাকি তেমন কোনো পার্থক্যই নাই! তা-ই যদি হয় তাহলে বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে:

– তারা কি কখনো তাদের নিকটতম আত্মীয়দের কাছে থেকে বিবর্তন সম্পর্কে কিছু জানতে চেয়েছেন? অন্তত চেষ্টা করে দেখেছেন কি? নিদেনপক্ষে চেষ্টাও যদি না করা হয়ে থাকে তাহলে কেন করা হয়নি? কিংবা শিম্পাঞ্জীদের কেউ বিবর্তনবাদীদেরকে বিবর্তন সম্পর্কে কিছু তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সাহায্য করেছে কি-না? তাছাড়া বিবর্তনবাদীদের নিকটতম আত্মীয়রা নিজেদের বিবর্তনে বিশ্বাস করে কি-না – এই প্রশ্ন কি তাদেরকে করা হয়েছে? জিজ্ঞেস না করে নিকটতম আত্মীয়দেরকে অনৈতিকভাবে 'মিসিং লিঙ্ক, টিসিং লিঙ্ক' জাতীয় কিছু বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন?

১৫. যেখানে মানুষের সাথে শিম্পাঞ্জীদের খালি চোখে দেখা যায় এমন অনেক মিল আছে, প্রকৃতপক্ষে জৈবিক কোনো পার্থক্য নাই বললেই চলে, সেখানে বিবর্তনবাদীরা ডিএনএ দিয়ে মানুষের সাথে শিম্পাঞ্জীর সাদৃশ্য দেখানোর চেষ্টা করছেন কেন? মানুষ ও শিম্পাঞ্জীর দেহে সহসা দৃশ্যমান এতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকতে ডিএনএ নামক অদৃশ্য কিছুর মধ্যে মাথা গোঁজার কারণ কী?

১৬. বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী তাদের পূর্ব-পুরুষদের এক সময় লেজ ছিল। পরবর্তীতে সেই লেজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রমাণ হিসেবে তারা কিছু লেজ-ওয়ালা (?) মানব শিশুর উদাহরণ দিয়ে থাকেন। তাদের এ-ও দাবি যে, মানুষের পেছন দিকে লেজের গোড়ার হাড় আছে! কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে:

– যে অঙ্গটি আগে ছিল, এখন সেটি আর নেই। এখানে বিবর্তন কোথায় হলো? কীসের বিবর্তন হলো? প্রাণীদের দেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়াকে কি বিবর্তন বলে?

১৭. বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী তাদের পূর্ব-পুরুষরা এক সময় তৃণভোজী থাকার কারণে তাদের অ্যাপেনডিক্স কার্যকর ও উপকারী ছিল। কিন্তু তৃণভোজী থেকে মাংশাষী হওয়ার পর সেই একই অ্যাপেনডিক্স কার্যকারীতা হারিয়ে নিষ্ক্রিয় ও ক্ষতিকর হয়ে গেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী মানবদেহে এরূপ শতাধিক নিষ্ক্রিয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আছে যেগুলো আগে সক্রিয় ছিল। তার মানে যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো আগে সক্রিয় ও কার্যকর ছিল, সেগুলোই পরবর্তীতে কার্যকারীতা হারিয়ে ফেলে নিষ্ক্রিয় ও ক্ষতিকর হয়ে গেছে। তা-ই যদি হয় তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে:

– একটি ভালো বা কার্যকর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কোনো কারণে তার কার্যকারীতা হারিয়ে ফেলে নিষ্ক্রিয় বা ক্ষতিকর হয়ে গেলে সেটিকে কি বিবর্তন বলা হয়? এখানে বিবর্তন ঠিক কোথায় হলো? কী থেকে কী বিবর্তিত হলো?

১৮. বিবর্তনবাদের সমালোচকদের মধ্যে কেউ কেউ কৌতুকচ্ছলে কিংবা ধরা যাক না জেনে বানর থেকে মানুষ বিবর্তিত হওয়ার কথা বলে হাসি-ঠাট্টা করে থাকেন। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন এই বলে যে, বানর থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে এখনো অনেক বানর থাকা সত্ত্বেও সেগুলো থেকে মানুষ বিবর্তিত হওয়ার কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না কেন? (নোট: আমার লেখার কোথাও এই ধরণের কথাবার্তা বা প্রশ্ন পাওয়া যাবে না।) এই কথা শোনার সাথে সাথে বিবর্তনবাদীরা তেড়ে এসে প্রশ্নকারীকে 'অজ্ঞ-মূর্খ' আখ্যা দিয়ে যা বলেন তার অর্থ হচ্ছে: “হেঃ হেঃ বিবর্তন সম্পর্কে আপনাদের কোনো ধারণাই নাই! বর্তমান যুগের বানর থেকে তো মানুষ বিবর্তিত হয়নি! বরঞ্চ মানুষ ও বানর একটি ‘সাধারণ পূর্ব-পুরুষ’ থেকে বিবর্তিত হয়েছে।” কিন্তু সেই ‘সাধারণ পূর্ব-পুরুষ’ কি মানুষ নাকি বানর নাকি অন্য কিছু ছিল, সেটা কখনোই পরিষ্কার করে বলা হয় না। যাহোক, বর্তমান যুগের বানর থেকে মানুষ বিবর্তিত হোক বা অন্য কিছু থেকে বিবর্তিত হোক – এই বিষয়টাকে এক পাশে রেখে বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে:

– বিবর্তন তত্ত্বের কোথাও কি লিখা আছে যে, বর্তমান যুগের বানর থেকে মানুষ বিবর্তিত হতে পারে না? অন্য কথায়, বর্তমান যুগের বানর থেকে মানুষের বিবর্তন কি সম্ভব নয়? যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কেন সম্ভব নয় তা সুস্পষ্ট যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে।

– রিচার্ড ডকিন্স একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “Monkeys and we come from a common ancestor and that common ancestor would probably have been called the monkey.” রিচার্ড ডকিন্সের দাবি অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে মানুষ আসলে বানর থেকেই বিবর্তিত হয়েছে – অর্থাৎ মানুষের পূর্ব-পুরুষ বানরই ছিল। তাহলে বাংলা অন্তর্জালে যারা এতদিন ধরে এই বিষয়টা নিয়ে সমালোচকদেরকে বিভিন্নভাবে হেয় করে আসছে তারা কি অজ্ঞ না ভণ্ড? তারা এই ধরণের কথাবার্তা (বানর থেকে মানুষের বিবর্তন) কিংবা প্রশ্ন (বানর থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে বর্তমান যুগের বানর থেকে মানুষ বিবর্তিত হচ্ছে না কেন?) শুনে ক্ষেপে যায় কেন? তারা কি নিজেদের পূর্ব-পুরুষকে বানর হিসেবে দেখতে অপমানিত বোধ করেন? তারা কি তাহলে বিবর্তনবাদীরূপী ভণ্ড?

১৯. একটি বনের মধ্যে অনেক বাঘ আর হরিণ একসাথে রেখে দিলে বাস্তবে কী ঘটতে পারে?

১ম সম্ভাবনা: বাঘ আর হরিণ প্রজাতি নিজেদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বংশবৃদ্ধি করতে থাকবে।

২য় সম্ভাবনা: বাঘ প্রজাতি ধীরে ধীরে হরিণ প্রজাতিকে খেয়ে ফেলার কারণে এক সময় হরিণ প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটবে, থাকবে শুধু বাঘ প্রজাতি।

৩য় সম্ভাবনা: শক্তিশালী বাঘগুলো দুর্বলদেরকে হত্যা করে খেয়ে কিছুদিন বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে পারে। তবে এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় সেই বন থেকে বাঘ প্রজাতিও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

৪র্থ সম্ভাবনা (খুবই ক্ষীণ): বাঘ প্রজাতির মধ্যে কেউ কেউ লতা-পাতা-ফল-মূল খেয়ে বাঁচার চেষ্টা করতে পারে, যদিও এ'রকম কোনো প্রমাণ আছে কি-না জানা নেই। এভাবে যদি কিছু বাঘ বেঁচেও থাকে তাহলে সেই বাঘগুলো থেকে শুধু বাঘেরই বংশবিস্তার হবে। তবে খ্যাদ্যাভাস পরিবর্তনের কারণে তাদের আচার-আচরণে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

ক্ষীণ সম্ভাবনা-সহ সবগুলো সম্ভাবনার কথাই বলে দেওয়া হলো। কিন্তু এ ব্যাপারে বিবর্তন তত্ত্ব কী বলে? এখানে থেকে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উদ্ভব হবে কী করে? অকাট্য প্রমাণ-সহ এই অতি সহজ একটি প্রশ্নের জবাব দেবার মতো এই দুনিয়াই কোনো বিবর্তনবাদী আছে কি?

২০. কোনো যুক্তি-প্রমাণ ছাড়াই বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রায় (?) সবগুলো ধর্ম বিশেষ করে আব্রাহামিক ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্ব মিথ বা হাস্যকর রকমের গাঁজাখুরি কল্পকাহিনী। তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে:

– সারা বিশ্বের মিথ বা কল্পকাহিনীগুলোর মধ্যে তাদের কাছে যেটিকে সবচেয়ে অযৌক্তিক ও হাস্যকর বলে মনে হয়, সেটি উল্লেখপূর্বক, সেটি কেন অযৌক্তিক ও হাস্যকর তার পক্ষে যুক্তি দিতে হবে। (নোট: নির্দিষ্ট একটি মিথ বা কল্পকাহিনীর নাম উল্লেখ করতে হবে, এবং সেটি কেন অযৌক্তিক ও হাস্যকর তার পক্ষে যুক্তি দিতে হবে।)

(পাঠকদের জন্য নোট: বিবর্তনবাদীরা যদি এই চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে পারেন তাহলে আমি যুক্তি দিয়ে দেখিয়ে দেব যে, বিবর্তন তত্ত্ব তার চেয়েও অযৌক্তিক ও হাস্যকর রকমের কল্পকাহিনী। বিবর্তনবাদীদের কাপড় রক্ষার্থেই এই চ্যালেঞ্জের জবাব দেওয়া উচিত। এই চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে যাওয়া মানে এটা স্বীকার করে নেওয়া যে, সকল প্রকার কল্পকাহিনীর মধ্যে বিবর্তনবাদ-ই সবচেয়ে অযৌক্তিক ও হাস্যকর রকমের কল্পকাহিনী। কিন্তু তারা যেহেতু উল্টোটাই প্রচার করেছে সেহেতু এই চ্যালেঞ্জের জবাব না দিলে তারা ভণ্ড ও মিথ্যুক হিসেবে গণ্য হবে।)

পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পারছেন বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে অসংখ্য-অগণিত প্রশ্ন করা সম্ভব। বিবর্তন তত্ত্বের যেকোনো একটি দিক নিয়েই অনেক প্রশ্ন করা যায়। কিন্তু অতো কিছু তো আর লিখার মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তার দরকারও নাই। পাতিল ভর্তি ভাতের দু-চারটি টিপলেই বুঝা যায় ভাত রান্না হয়েছে কি-না। এজন্য এখানে কতিপয় মৌলিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হলো। দেখুন তারা জবাব দেয় কি-না।

৫২ comments

Skip to comment form

  1. 34
    Ramjan Hossain

    এই দোষটা মুসলমানদেরকেই নিতে হবে। সঠিক যুক্তি সহকারে ইসলাম প্রচার করলে এত নাস্তিক পয়দা হতোনা বা হকিন্সরা এদেশে হাসির পাত্র হয়েই থাকতো। কিন্তু এদেশে ইসলাম এখন সব সুবিধাবাদী মানুষদের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ছোটবেলা থেকে যদি সবাই ইসলামের ছত্রছায়া পায় তবে নাস্তিকদের এসব যুক্তিহীন কথাবার্তা কেউ বিশ্বাস করত না…..

     

  2. 33
    এস. এম. রায়হান

    বাংলা বিনোদনবাদীদের তাল্গাছবাদী পীরবাবারে জিগাইলাম:

    -- একটি বাগানে হাজার হাজার প্রজাতির ফল-ফুলের বীজ রোপন করা হলেও হাজার হাজার প্রজাতির ফল-ফুলে হাজার হাজার রকমের স্বাদ-ঘ্রাণ হয়। একই বাগানের মাটিতে হাজার হাজার রকমের স্বাদ-ঘ্রাণ এলো কী করে, পীরবাবা?

    পীরবাবা: ফল-ফুলের স্বাদ-ঘ্রাণ তো বীজের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে-রে, মাটি থেকে আসে না।

    -- কিন্তু ফলের বীজ খেলে তো ফলের মতো স্বাদ-ঘ্রাণ পাওয়া যায় না। যেমন, আম ও আমের বীজের স্বাদ-ঘ্রাণ আলাদা। আমের বীজ আসলে বিস্বাদ, খাওয়া যায় না! অন্যান্য ফলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

    পীরবাবা: কোনো কিছুর অতো গভীরে যেতে আমার ধর্মে নিষেধাজ্ঞা আছে-রে।

    -- আচ্ছা ঠিক আছে, পীরবাবা! কিন্তু হাজার হাজার প্রজাতির ফল-ফুলের মধ্যে হাজার হাজার রকমের স্বাদ-ঘ্রাণ এলো কী করে in the first place, পীরবাবা?

    পীরবাবা: ফল-ফুলের স্বাদ-ঘ্রাণ আইছে মঙ্গল গ্রহ থেকে-রে।

    -- কিন্তু মঙ্গল গ্রহে সেগুলো এলো কী করে, পীরবাবা?

    পীরবাবা: বৃহস্পতি গ্রহ থেকে-রে।

    -- কিন্তু বৃহস্পতি গ্রহেই বা সেগুলো এলো কী করে, পীরবাবা?

    পীরবাবা: আমার ধর্ম নিয়ে এতো প্রশ্ন ক্যারে! সব কিছুই সূর্য থেকে আইছে।

    -- কিন্তু সূর্যেই বা সেগুলো এলো কী করে, পীরবাবা?

    পীরবাবা (তাল্গাছটা বগলে নিয়ে): উফ্‌! আমগো দেবতা রিচার্ড ডাঙ্কি জানেন। এইবার হইছে?

    -- কিন্তু আপ্নাগো ডাঙ্কি দেবতা-ই বা জানলেন কী করে, পীরবাবা?

    পীরবাবা: ওয়েল, আমার দৌড় ঐ ডাঙ্কি দেবতা পর্যন্তই-রে! আমার ডাঙ্কি দেবতাকে নিয়ে বেহুদা প্রশ্ন করতে নাই। আমার ডাঙ্কি দেবতা সকল প্রশ্নের ঊর্ধ্বে। Donkey Debota Knows Best.

    1. 33.1
      কিংশুক

      ???? হাসতে হাসতে শেষ। ওরা কি কচি খোকা?

      1. 33.1.1
        এস. এম. রায়হান

        বিনোদনবাদের বাইপ্রডাক্ট অবলা প্রাণীদের নিয়ে মগা করতে নেই। তাতে বিনোদনবাদীদের ডাঙ্কি দেবতা নাখোশ হইবেন। 😛

  3. 32
    Syeda Lutfunnesa

    এই মহাবিশ্ব সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক লিখিত চমৎকার একটি বই। এই বইটি পাঠ করেও কেউ যদি বলে এটা লেখার জন্য কোন লেখকের প্রোয়জন নেই,,লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এটা নিজে নিজেই লিখিত হয়ে গেছে, এলোমেলো শব্দ নিজ থেকেই সজ্জিত হয়ে বাক্য তৈরি করে ফেলেছে, তাহলে আর কি বলার থাকে। যেকোন সৃষ্ট জিনিসের স্রষ্টা থাকতেই হবে; যেমন চাঁদ, সূর্য, মানুষ, পৃথিবী। এগুলো অবশ্যই কেউ না কেউ পরিকল্পিত ভাবে তৈরি করেছে। এখন কথা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তাকে কে তৈরি করলো? সৃষ্টিকর্তা কোন "সৃষ্ট" জিনিস নয় যে ওনার স্রষ্টা থাকবে। সৃষ্টিকর্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে ওনাকে কেউ সৃষ্টি করেননি। সৃষ্টিকর্তা মহাবিশ্বের মত প্রকাশ্যও নয় যে আমরা ওনার বৈষিষ্ট্য সম্পর্কে বিন্দুপরিমান ধারনা করার ক্ষমতা রাখবো। মহাবিশ্ব তো কোন লুকানো জিনিস নয়, এর বৈশিষ্ট্য দেখলে স্পষ্টই বুঝা যায় এটা তৈরিকৃত। সৃষ্টিকর্তার স্রষ্টা থাকার প্রোয়জন নেই, এই উসিলায়, মহাবিেশ্বরও কোন স্রষ্টা থাকার প্রোয়জন নেই, এটা আবার কেমন যুক্তি? সৃষ্টিকর্তা আমাদের কল্পনা বা ধারনার বাইরে, শুধুমাত্র এই যুক্তিতে চোখের সামনে থাকা সৃষ্ট একটা মহাবিশ্ব স্রষ্টাহিন হয়ে যাবে?

    1. 32.1
      মাহফুজ

      হাঁ, এই মহাবিশ্ব সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক লিখিত চমৎকার একটি বই। একটু চিন্তা ভাবনা করলেই যার প্রতিটি পরোতে পরোতে স্রষ্টার তুলির ছোঁয়া অনুভব করা যায়।
      আর এ পৃথিবীতে মহান স্রষ্টা প্রেরিত ঐশীগ্রন্থ আল-কোরআন হলো মানব জাতির জন্য সর্বোত্তম জীবন বিধান এবং মহান স্রষ্টা যে আছেন তার এক জাজ্বল্যমান ও প্রকিষ্ঠ দলিল

      1. 32.1.1
        মাহফুজ

        পবিত্র কোরআনের বিধানই গোটা বিশ্বের মানব জাতির জন্য নিয়ামত স্বরূপ। অথচ মুসলিমদের মধ্যে অনেকে জেনে বুঝেও, আবার অনেকে সত্য জানার চেষ্টা না করে শুনে শুনেই পবিত্র কোরআনের নামে মনগড়া বক্তব্য দেয়া ছাড়াতে পারছেন না। যেমন কোরআনে রজমের হুকুম না থাকা সত্বেও অনেকে অযাচিতভাবে এ ধরনের বক্তব্য (islam biddeshi ra "kuraner rojom" niye lafalafi kore) দিয়ে থাকেন। ইসলাম বিদ্বেষীদের কাজই অহেতুক লাফালাফি করা। এতে বিশ্বাসীদের কিচ্ছু যায় আসেনা। কিন্তু কোরআনের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করাও কিন্তু ইসলামের অনুসারীদের জন্য শোভা পায় না। যা খুবই দুঃখজনক এবং কোরআনের জন্য মান হানিকর!
        কোরআনের নাম নিয়ে অতিরঞ্জিত বক্তব্য দেয়ায় আমি এর ঘোর আপত্তি জানাচ্ছি। এ ধরনের মনগড়া বক্তব্য ত্যাগ করুন ও মুছে ফেলুন। আর যা সত্য তাই স্পষ্ট করে বলতে শিখুন-

         

  4. 31
    এস. এম. রায়হান

    বাংলা বিনোদনবাদীদের বিখ্যাত তাল্গাছবাদী পীরবাবারে জিগাইলাম:

    – আফনার আদি পূর্ব-পুরুষ কয়জন, পীরবাবা?

    পীরবাবা (কিঞ্চিত রাগতস্বরে): বাচ্চাদের মতো প্রশ্ন ক্যান? একজন।

    – সেইটা কী?

    পীরবাবা (শান্তভাবে): একটি ব্যাকটেরিয়া -- এককোষী একটি অণুজীব।

    – তো সেই ব্যাকটেরিয়া থেকে আফনে আইলেন কী করে? আফনে নিজেও কি ব্যাকটেরিয়া শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত?

    পীরবাবা (বিজ্ঞতার ভঙ্গিতে): আমার আদি পূর্ব-পুরুষ একটি ব্যাকটেরিয়া হলেও আমি তো ব্যাকটেরিয়া থেকে সরাসরি আসি নাই-রে, আমি আইছি বানোর জাতীয় প্রাইমেটস থেকে।

    – আফনে বলতে চাচ্ছেন দুইটা বানোর জাতীয় প্রাইমেটের মিলনে আফনে আইছেন? অর্থাৎ আফনেও তাহলে বানোর জাতীয় প্রাইমেট?

    পীরবাবা: না-রে-না। দুইটা বানোর জাতীয় প্রাইমেটের মিলনে আমার গ্রেট-গ্রেট-গ্রেট গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস আইছিল।

    – তার মানে আফনের গ্রেট-গ্রেট-গ্রেট গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস বানোর জাতীয় প্রাইমেটস ছিল নিশ্চয়। কেননা বানোর থেকে তো বানোরই হয়; গরু থেকে গরুই হয়; ছাগল থেকেও ছাগলই হয়; ইত্যাদি। সেই প্রাকৃতিক সূত্রমতে আফনেও তো বানোরই হওয়ার কথা, তাই নয় কি?

    পীরবাবা (বিরক্তির সুরে): ব্যক্তিগত প্রশ্ন আমি মোটেও পছন্দ করি না কইলাম।

    – আচ্ছা ভুল হয়ে গেছে, পীরবাবা! কিন্তু সেই ব্যাকটেরিয়া থেকে বানোর জাতীয় প্রাণী-ই বা আইলো কী করে?

    পীরবাবা (হাঁফ ছেড়ে!): বানোর জাতীয় প্রাণীও তো সরাসরি ব্যাকটেরিয়া থেকে আসে নাই-রে, বানোর জাতীয় প্রাণী আইছে টানোর জাতীয় প্রাণী থেকে।

    – তো সেই ব্যাকটেরিয়া থেকে টানোর জাতীয় প্রাণী-ই বা আইলো কী করে, পীরবাবা?

    পীরবাবা: টানোর জাতীয় প্রাণীও সরাসরি ব্যাকটেরিয়া থেকে আসে নাই-রে, টানোর জাতীয় প্রাণী আইছে চানোর জাতীয় প্রাণী থেকে।

    – সেই চানোর জাতীয় প্রাণী-ই বা আইলো কী করে, পীরবাবা?

    পীরবাবা: চানোর জাতীয় প্রাণীও সরাসরি ব্যাকটেরিয়া থেকে আসে নাই-রে, চানোর জাতীয় প্রাণী আইছে ছানোর জাতীয় প্রাণী থেকে।

    – সেই ছানোর জাতীয় প্রাণী-ই বা আইলো কী করে, পীরবাবা?

    পীরবাবা: ছানোর জাতীয় প্রাণীও সরাসরি ব্যাকটেরিয়া থেকে আসে নাই-রে, ছানোর জাতীয় প্রাণী আইছে জানোর জাতীয় প্রাণী থেকে।

    – সেই জানোর জাতীয় প্রাণী-ই বা আইলো কী করে, পীরবাবা?

    পীরবাবা: জানোর জাতীয় প্রাণীও সরাসরি ব্যাকটেরিয়া থেকে আসে নাই-রে, জানোর জাতীয় প্রাণী আইছে ঝানোর জাতীয় প্রাণী থেকে।

    – কিন্তু সেই ব্যাকটেরিয়া থেকে ঝানোর জাতীয় প্রাণী-ই বা আইলো কী করে, পীরবাবা? এর মধ্যে আবার আফনার বিখ্যাত তাল্গাছ, বটগাছ, হাতি, ঘোড়া, সিংহ, পাখি, তিমি, হাঙ্গর, রিচার্ড ডকিন্স, ইত্যাদি প্রজাতি আইলো কী করে?

    পীরবাবা (তাল্গাছটা বগলে নিয়ে): উফ্‌! ড্যাম্‌ শিট্‌! বিজ্ঞানের মায়েরে বাপ! ছাগালাপীদের প্রশ্নের জ্বালায় হয়রান হয়ে গর্তে লুকিয়েও শান্তি নাই-রে বাবা!

    – বিজ্ঞানকে গালি দিচ্ছেন কেন, পীরবাবা? বিজ্ঞানেরও 'মা-বাপ' আছে নাকি?

    পীরবাবা (রেগেমেগে আগুন হয়ে): শাট্‌ আপ্‌, বেয়াদ্দপ! ঐ ছোট মুখে আর একটা প্রশ্ন করলে আমার ফুল-টাইম সাঙ্গাতকে লেলিয়ে দেব কইলাম!

  5. 30
    Zakir

    মিলন uncle, মিষ্টি কুমড়ার বদলে দ্রব্যমূল্যের উদাহরণও দিতে পারতেন। শায়েস্তা খাঁর আমলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। এখন ওই আট মণের দাম বিবর্তিত হয়ে অনেক বেশি হয়ে গিয়েছে।

  6. 29

    বিবর্তন প্রক্রিয়া এতোটাই ধীর গতি সম্পন্ন যে, তা আপাত দৃষ্টিতে বুঝার কোনই উপায় নাই। উদাহরনস্বরুপ মিষ্টি কুমরা নামক সবজির কথা বলতে পারি। আমরা কয়েক বছর আগেই দেখেছি, একটা মিষ্টি কুমরা সর্বোচ্চ কত বড় হতে পারে। কিন্তু এখন দেখছি কত বড় সাইজের হতে পারে, যা কল্পনারও অতীত। বড়ই কত বড় হয়, তা আমরা জানি। কিন্তু এখন একেকটা বড়ই কত বড় সাইজের হয়, সেটাও জানি। একটা সময় হয়তো এমন আসবে যে, ছোট আকারের কোন বড়ই, মিষ্টি কুমড়া, পেয়ারা, সকল ফলের আকার এখনকার তুলনায় ৫০ গুন বড় হবে। আগামী প্রবন্মের মানুষ জানতেই পারবে না, বিশ্বাসই করতে পারবে না যে, এই সব ফল একটা সময় এতো ছোট আকারের ছিল। এগুলো যদিও মানুষের হাতে কৃত্রিম ভাবে ঘটানো ঘটানো হয়েছে। কিন্তু এমন বদ সাইজের হবার ক্ষমতা তাদের মধ্যে লুকিয়ে ছিল। হয়তো আগামী ৩ হাজার পরে আর কৃত্রিম ভাবে বড় করতে হত না, অটোমেটিক বড় হয়ে যেত। সত্য মিথ্যা জানা নাই, কয়েক বছর পূর্বে শুনেছিলাম যে, কলমের মাধ্যমে গ্রাম অন্চলে জিগা গাছ নামক এক প্রকার গাছে কলমের মাধ্যমে আমড়া ধরানোরর প্রক্রিয়া সফল হয়েছে। যদি এমনটাই হয়, তাহলে যে আগামীতে জিগা গাছে কলমের মাধ্যমে আমড়া ধরানো হবে না, আর পরবর্তীতে সেই কলমের অংশ হতে আমড়া ফল জন্ম নেবে না, সেটা অসম্ভব বলে মনে হয়য় না আমার। এসব কি বিবর্তনের মধ্যে পড়ে না? মানুষের দেহের গড়নও পরিবর্তন হয়ে চলেছে। ধর্ম মতে মানুষ নাকি আরো ছোট হবে। বেগুন গাছে উঠে বেগুন পারতে হবে। জানি না সত্য কতখানি। তবে অনেক দেশের মানুষ আছে যারা আমাদের তুলনায় অনেক লম্বা, আবার চীন দেশে খাটো। এসব কি বিবর্তনের ফল বললে ভুল হবে?

    1. 29.1
      Wings of Fire

      @মিলন:

      মিষ্টি কুমড়ার উদাহরণ দিলেন। মিষ্টি কুমড়া আকৃতিতে না হয় পরিবর্তন হবে বুঝলাম, কিন্তু বিবর্তন থিওরির মত মিষ্টি কুমড়া  ধীরে ধীরে বিবর্তিত হয়ে চাল কুমড়া, মিষ্টি লাউ, পটল, আলু, ভেন্ডি বা গরু-ছাগলে পরিবর্তিত হওয়ার মত আজগুবি গল্প কী আপনি বিশ্বাস করেন? (করলেও করতে পারেন, কারণ আপনার বিশ্বাস আপনার কাছে!)

      1. 29.1.1
        রিজভী আহমেদ খান

        হা হা হা

    2. 29.2
      শামস

      @Milon,

      ঝি, এতো ধীরে ঘটে, অনেকটা ক্রিকেট খেলায় স্লো স্পিনের মতো. এতো স্লো যে উইকেট পর্যন্ত আসে না!!! 

    3. 29.3
      শাহবাজ নজরুল

      ছোটো না বড় কুমড়া তা নিয়ে তো আমাদের দ্বিমত নাই -- ভ্যারিয়েশন যে স্পিশিস এর মধ্যে আছে একথা তো কেউ অস্বীকার করছেনা। সমস্যা হচ্ছে কুমড়া থেকে লাউ, কদু কিংবা বেগুনে বিবর্তিত হওয়া। দেখছেননি কখনো?

       

      1. 29.3.1
        Wings of Fire

        হেহে

  7. 28

    আপনার পোষ্ট মোতাবেক আমার মনে হয়েছে, বিবর্তনবিদ্যাকে আপনি সমর্থন করেন না। সেটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু, কোন একটা প্রক্রিয়াত। তো অবশ্যই প্রান এবং প্রানীর সৃষ্টি হয়েছেই। এটাকে তো অস্বিকার করার কোন উপায় নাই। সৃষ্টি তত্ত্ব এবং প্রক্রিয়া সম্বন্ধে দুইটি মত আমার জানা আছে, ধর্ম গ্রন্থের মত, এবং বিজ্ঞানের অভিমত। আপনি কোন মতবাদকে সমর্থন করেন, জানালে উপকৃত হতাম। আপনার লেখাটা অনেক ভালো লেগছে, কারন, আপনার প্রশ্নগুলো যুক্তিপূর্ন। যদি প্রশ্নের পরিমান অল্প হত, তবে সেসবের অনেক ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করতাম। কিন্তু আপনার প্রশ্নের পরিধি এতোটাই ব্যাপক যে, মোবাইল টিপে সেসবের ব্যাখ্যা প্রদান সম্ভব নয়। আমার জ্ঞান আমার কাছে থাক, আর আপনারটা আপনার নিকট। তবে আপনি সৃষ্টি সম্পর্কে এবং সৃষ্টি প্রক্রিয়া সম্পর্কে যা জানেন, তা জানালে উপকৃত হতাম, হয়তো অনেক অজানা কিছু জানতে পারতাম। ধন্যবাদ।

  8. 27

    বিজ্ঞান ধারনা মতে, প্রথমে একটি মাত্র কোষ কিংবা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমেই পৃথিবীতে প্রানের আবির্ভাব। এটা কোন প্রমান নয়, একটা ধারনা, যার পেছনে যেসব যুক্তি এবং তত্ত্ব হাজির করা হয়েছে, যা একেবারে অযৌক্তিক হিসাবেও উড়িয়ে দেয়া যায় না। প্রান হিসাবে বিজ্ঞান যা বোঝাতে চায়, তা নেহতাই কিছু রাসায়নিক সংমিশ্রন ব্যতিত আর কিছু নয়। কারন, সেই সময়কার পরিবেশ কেমন ছিল, তা অনুমান করে কৃত্রিম ভাবে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করে সেসব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় আদি প্রান হিসাবে যাকে চিহ্নিত করা হয়, তা সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এটা নিশ্চয় আপনার জানার কথা। সেই প্রোটিন ক্রমান্বয়ে বড় হয়েছে এমন কি দ্বি বিভাজন প্রক্রিয়ায় আরেকটি প্রোটিন অনুর জন্ম দিতেও সক্ষম হয়েছে। আমি বলছি না যে সেখান থেকেই আকার আকৃতি পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ বা অন্য প্রানীর জন্ম নিয়েছে।

    আমি শুধু এটা বলতে চাইছি যে, বিজ্ঞান যাকে জড় বলে অভিহিত করে, ধর্মও যাকে জড় বলে অভিহিত করে, আমার নিকট জড় বলেই কিছু নাই। কারন, পরমানুর বিশ্লেষনে দেখা যায় যে, প্রতিটি পরমানুতেই ইলেক্ট্রন কিভাবে প্রোটনকে এবং প্রোটন ইলেক্ট্রনকে আকর্ষন করে। একটা পদার্থ কিভাবে অপর পদার্থকে আকর্ষন করে। পদার্থ যদি জড় হত, তবে এই আকর্ষন কিরুপে সম্ভব? কিভাবে হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন পারস্পারিক আকর্ষনে পানির রুপ ধারন করে। লোহা আর চুম্বক পাশাপাশি রাখলে, একটা আরেকটাকে নিজের দিকে টেনে নেয়। জড় বা মৃত হলে তা কিভাবে সম্ভব? প্রান ববলতে আপনি ঠিক কি বুঝেন, আমার জানা নাই। আমার দৃষ্টিতে পৃথিবী প্রানময়, প্রান পৃথিবীময়। কোষ বলেন আর মানুষ বলেন, তা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের সমন্বিত রুপ, আর প্রান হল তার সমন্বিত শক্তি। হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন যেহেতু দুটি আলাদা গুন, বৈশিষ্ট্য এবং আকারের হয়েও তাদের একত্রিকরনে ভিন্ন আরেকটি গুন বৈশিষ্টের পানি সৃষ্টি করে, তদ্রুপ অন্যন্য প্রানীও সময়ের স্রোতে ভাঁসতে ভাঁসতে এবং বিভিন্ন ক্রিয়া বিক্রিয়ায় এবং সংযোজন বিয়োজনেই সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই কোষ বা ব্যাকটেরিয়ার আদিতে প্রান বা প্রানী কিরুপ ছিল, এমন প্রশ্নটা অবান্তর।

  9. 26

    সৃষ্টি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারনত আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে দুই ধরনের ব্যাখ্যা পাই। ১। বিজ্ঞান ভিত্তিক বিবর্তন ব্যাখ্যা ২। ধর্ম ভিত্তিক স্রষ্টার ব্যাখ্যা। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান বলে যে, বিবর্তন অবশ্যই চলমান প্রক্রিয়া। তবে সেটা এক প্রানী থেকে অন্য প্রানীতে রুপান্তর কতটা যৌক্তিক, তা জানা নাই। তবে সাধারন ভাবে এটা বলতে পারি যে, পৃথিবীর ভূ পৃষ্ঠের মাটির একটার উপর আরেকটা স্তরে সজ্জিতত এবং প্রতিনয়ত স্তর অতি ধীর গতিতে তৈরি হয়ে চলেছে। একটা স্তর তৈরি হতে আবার সময় লেগেছে হাজার হাজার নয়তো লক্ষ বছর। কাজেই, নিচের একটি স্তরের বয়স যদি ১০ হাজার বছর হয়, এবং সেখানে যদি একটি মানুষের কংকাল পাওয়া যায় ৩ ফুট লম্বা। মনে করুন ১০ টি কংকাল একই উচ্চতার পাওয়া গেল, যাদের গঠন, আকৃতি, সব আধুনিক মানুষের মতই, শুধু মাত্র উচ্চতায় খাটো। তবে কি এই সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারবো না যে, দশ হাজার বছর পূর্বের মানুষ তিন ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ছিল? একজন মানুষ বেঁচে থাকে মনে করুন ৬০ বছর। এই বছরের মানুষ কি করে ৬০ হাজার বছরের বিবর্তন ব্যাখ্যা করবে? আর এই ব্যাখ্যা পেতে প্রশ্ন করাটাই বা কতখানি যৌক্তিক বলে আপনি মনে করেন?

    এক সময় প্রযুক্তি ছিল না বলে মানুষকে অনেক পরিশ্রম করে বেঁচে থাকতে হত। দীন হীন দরিদ্র পরিবারে এখনো অনেক পরিশ্রম করতে হয় অনেক মানুষদের। আর আরেক শ্রেনীর মানুষ আছে, যারা অনেক ধনী। যাদের বর্তমানে শুধু শুয়ে বসেসে হুকুম করলেই কাজ সমাধান হয়ে যায়। উক্ত দুই শ্রেনীর মানুষদের শরীরের প্রতি নজর দিলে দেখতে পাবেন যে, কঠোর পরিশ্রম না করার দরুন, ধনী লোকের শরীর নরম প্রকৃতির। কিন্তু দরিদ্র কঠোর পরিশ্রমী লোকের শরীর অনেক শক্ত সামর্থ্য। তাদের চর্বিও জমে না, মোটাও হয় না। কিন্তু ধনী লোকদের দেখুন। তাদের ভূড়ি একদিকে আর হাত পা অন্যদিকে। প্রযুক্তির দরুন মানুষ অলস হচ্ছে, হচ্ছে তাদের শারীরিক পরিবর্তন। এভাবেই মানুষ ক্রমান্বয়ে অলস হবার দরুন চেন্জ হচ্ছে শরীর। হয়তো এমন একটা দিন অপেক্ষা করছে, যেদিন চিকন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায় হয়ে যাবে। এসব কি বিবর্তন মনে হয় না?

  10. 25
    রিজভী আহমেদ খান

    অসাধারণ লেখা।

  11. 24
    Hasan

    মানুষ নামের এই প্রজাতিটি বিবর্তিত হচ্ছে কিনা? যদি বিবর্তিত হচ্ছে বলে ধরা হয় তবে একই সময় একি সাথে বিবর্তিত হচ্ছে কিনা? একই সময় বিবর্তন সম্ভব কিনা? একি সাথে একই সময় বিবর্তন কেন সম্ভব নয়? বিবর্তনের আদিকাল টা নির্দিষ্ট নাকি অনির্দিষ্ট ? সকল মানুষের লেজ একই সময় একি সাথে খসে পরেছে কিনা? কার লেজ আগে খসে পরেছে কার পরে খসে পরেছে? বিবর্তনটা কি এক থেকে বহু নাকি বহু থেকে বহু? ………… ইত্যাদি। 

    জানার আগ্রহে জিজ্ঞাসা।লেখকের প্রতি শুভেচ্ছা রইল। 

  12. 23
    এস. এম. রায়হান

    যদি প্রশ্ন করা হয়- একজন মানুষের শরীরে কয়টি মাথা, কয়টি কান, কয়টি চোখ, কয়টি নাক, কয়টি মুখ, কয়টি হাত, কয়টি পা, ও প্রত্যেক হাত-পায়ে কয়টি করে আঙ্গুল থাকে? এই প্রশ্নের জবাবে যেকেউ চোখ বন্ধ করে বলবে- ১টি মাথা, ২টি কান, ২টি চোখ, ১টি নাক, ১টি মুখ, ২টি হাত, ২টি পা, ও প্রত্যেক হাত-পায়ে ৫টি করে আঙ্গুল থাকে।

    কিন্তু বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিতে পারবে না! বিবর্তনবাদীদের জবাব হবে নিচের মতো-

    ওয়েল, বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাভাবিক বা স্ট্যান্ডার্ড বলে কিছু নাই। আর বিবর্তন যেহেতু একটি চলমান প্রক্রিয়া সেহেতু আজ থেকে লক্ষ লক্ষ বছর আগে একজন মানুষের শরীরে এই অঙ্গগুলোর সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না! কেননা বর্তমান মানুষের পূর্ব-পুরুষ এক সময় বানর জাতীয় প্রাইমেটস ছিল। তার আগে মানুষের পূর্ব-পুরুষ ছিল জলজ মাছ। আর একেবারে শুরুতেই মানুষের পূর্ব-পুরুষ ছিল একটি ব্যাকটেরিয়া। আবার আজ থেকে লক্ষ লক্ষ বছর পর মানুষের শরীরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সংখ্যা বাড়বে নাকি কমবে নাকি অপরিবর্তিত থাকবে, তাও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না। অতএব, মানুষের শরীরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সংখ্যা সময়ের উপর নির্ভরশীল। কেননা বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে  সময়ের সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি হয়। 😀

  13. 22
    কামরুল ইসলাম

    অসাধারণ একটি পোস্ট পড়ে খুব ভালো লাগলো।

  14. 21
    এস. এম. রায়হান

    বিবর্তন তত্ত্বের বিরুদ্ধে সংক্ষেপে দুটি অকাট্য যুক্তি

    যুক্তি#১: আমাদের চারিপাশে অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের মধ্যে কোনো একটি উদ্ভিদ বা প্রাণীকেও বিবর্তিত হয়ে ভিন্ন কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীতে রূপান্তরিত হতে দেখা যায় না। এমনকি মানব জাতির কয়েক হাজার বছরের লিখিত ইতিহাসের কোথাও এই ধরণের ঘটনার কথা উল্লেখ নেই। বিজ্ঞানের একটি সংজ্ঞা হচ্ছে পর্যবেক্ষণলব্ধ জ্ঞান। বিজ্ঞানের এই সংজ্ঞা অনুযায়ীই বাস্তবে বিবর্তনের (এক প্রজাতি থেকে ভিন্ন প্রজাতিতে রূপান্তর) কোনো অস্তিত্ব নেই।

    যুক্তি#২: বিজ্ঞানের সংজ্ঞা অনুযায়ীই বাস্তবে যেহেতু বিবর্তনের কোনো অস্তিত্ব নেই সেহেতু বিবর্তনবাদীরা এই হতভম্বতা এড়াতে সূক্ষ্ম প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া শুরু করেছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী-

    বিবর্তন একটি অত্যন্ত ধীর প্রক্রিয়া। একটি দৃশ্যমান বা চোখে পড়ার মত বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য সাধারণত লক্ষ লক্ষ বছর লেগে যায়। একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হওয়ার জন্য একটি জীবগোষ্ঠীকে হাজার হাজার অন্তর্বতী অবস্থা (transitional forms) পার করতে হয়। [সূত্র: মুক্তমনাদের তৈরী বাংলা উইকিপিডিয়া]

    বিবর্তনবাদীদের এই শুভঙ্করের ফাঁকির বিরুদ্ধে অকাট্য যুক্তি হচ্ছে মানুষ-সহ বড় বড় প্রাণীদের দেহে এমন কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আছে যেগুলো অত্যন্ত ধীর প্রক্রিয়ায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হওয়া বাস্তবে অসম্ভব। যেমন: শুক্রাণু, ডিম্বাণু, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, পরিপাকতন্ত্র, যকৃত, অণ্ডাশয়, মূত্রথলি, অতি সূক্ষ্ম শিরা-উপশিরা, রক্ত কণিকা, ইত্যাদি। এগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হতে গেলে প্রাণীরা বেঁচে থাকতেই পারবে না, এবং যার ফলে প্রজননও হবে না। অন্য কথায়, এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো যেহেতু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হওয়া বাস্তবে সম্ভব নয় সেহেতু বিশাল প্রাণীজগতের কোনো অস্তিত্বই থাকার কথা না। কিন্তু বাস্তবে যেহেতু বিশাল প্রাণীজগতের অস্তিত্ব আছে সেহেতু এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো বিবর্তিত হয়নি। আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো যদি বিবর্তিত না হয়ে থাকে তাহলে প্রাণীদেরও কোনো বিবর্তন হয়নি।

    উপসংহার: প্রথমত, বিজ্ঞানের একটি সংজ্ঞা (পর্যবেক্ষণলব্ধ জ্ঞান) অনুযায়ীই বাস্তবে বিবর্তনের কোনো অস্তিত্ব নেই। দ্বিতীয়ত, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে প্রাণীদের বিবর্তন হওয়াও বাস্তবে সম্ভব নয়। অতএব, বিবর্তন তত্ত্ব একটি কল্পকাহিনী-ভিত্তিক তত্ত্ব ছাড়া বেশী কিছু নয়। এই ধরণের একটি তত্ত্বকে বিজ্ঞানের নামে "গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়ার মতো সত্য" কিংবা "বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য" হিসেবে চালিয়ে দেওয়া আর গোমূত্রকে বিজ্ঞানের নামে "খাঁটি দুধ" হিসেবে চালিয়ে দেওয়া একই কথা।

  15. 20
    এস. এম. রায়হান

    বিবর্তন তত্ত্বকে কাঁচকলা দেখিয়ে অতি সম্প্রতি ভারতে এক কিশোরের মুখ থেকে অস্ত্রোপচার করে ২৩২টি দাঁত অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা! অথচ বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপারটা ভিন্ন কোনো প্রাণীতে বিবর্তিত হওয়ার একটা আলামতও হতে পারত। ২৩২টি দাঁত-বিশিষ্ট সেই কিশোর হয়তো অনেক জেনারেশন পর সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন কোনো প্রাণীতে রূপান্তরিত হতে পারত। বিবর্তন তত্ত্বের বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের কাজ করার আরো অনেক উদাহরণ আছে। কিছুদিন আগে ভারতে লেজওয়ালা একটি ছেলের লেজ কেটে ফেলার জন্যও চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়েছিলেন। অথচ এমনও তো হতে পারে যে, সেই ছেলেটি হয়তো বিবর্তনের ধারায় লেজ-বিশিষ্ট ভিন্ন কোনো প্রাণীতে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে? চিকিৎসকেরা কি তাহলে বিবর্তন তত্ত্বের বিরুদ্ধে কাজ করছেন না? এ ব্যাপারে বিবর্তনবাদীরা চুপ কেন!?!?!?

    তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও অন্যান্য সূত্র

  16. 19
    আমি তৃষ্ণার্ত পথিক

    যারা বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করে তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী মহাবিশ্ব এমনিই সৃষ্টি হয়েছে। কেউ সৃষ্টি করেনি। তাহলে তাদের জন্মওতো এমনিতেই হওয়ার কথা। তাদের জন্ম হওয়ার জন্য পিতার প্রয়োজন হয়না। যদি তারা পিতা ছাড়াই জন্ম নিতে পারে তবে বিশ্বাস করা যায় যে, এ জটিল মহাবিশ্ব ও তার মাঝে অবস্থিত আরও জটিল প্রাণীজগৎ এমনিতেই জন্ম হয়েছে। তাদের জন্মের জন্য পিতার দরকার পড়ার কথা না।

  17. 18
    আর এম নছিম

    ধন্যবাদ ভাই৷ এ লেখাটা শেয়ার করতে চাই৷ অনুমতি পেলে করব৷ এরকম আরো লেখা ছড়িয়ে দিন৷ অন্ততঃ ইবাদত মনে করে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরী৷ অবশ্যই সকল যুগের সকল প্রশ্নের জবাব কোরআন করিমে আছে৷ অজ্ঞতার কারণে আমরা বুঝে নিতে পারছি না৷ ততাকথিত অজ্ঞ বিবর্তনবাদী নাস্তিকদের উপযুক্ত জবাব আপনার এই লেখা।

    1. 18.1
      এস. এম. রায়হান

      অবশ্যই শেয়ার করবেন। ব্লগের লেখা শেয়ার করার জন্য অনুমতির দরকার হয় না।

  18. 17
    Shamsul Arifin

    Brother S. M. Raihan,

    Ami 2013 theke shodalap porchi….i'm just being a fan and also a well wisher of "SHODALAP". Really ei lekhata awesome! alhamdulillah!! Allah will give you the best reward in this life and life after death. Apnar facebook id te jukto korsen…thanks…i will request all the readers and writers of "SHODALAP" that you people should abide all the orders of Allah and Rasul (puh) pros and cons in your practical life in every moment, in every sphere than it will give a true spirit of ISLAM…..then Atheist stupid's cannot tell about the life of the Muslims….Allah hafej (AVIJIT ROY TA KE? AMDER DHAKA UNIVERSITY-TE EKTA AVIJIT ROY ACHE….MAY BE TEACHER…IS THAT PERSON SAME?)

    1. 17.1
      এস. এম. রায়হান

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। তবে মন্তব্যে উল্লেখিত দু-জন ব্যক্তি এক নয়।

  19. 16
    Maruf

    পুরো লেখাটা অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে পড়লাম। অনেক ভাল লাগলো।

  20. 15
    shaiful

    আমরা জানি, সবচেয়ে টেকসই প্রাণী হচ্ছে তেলাপোকা। কারণ ডাইনোসর বিলুপ্ত হলেও তেলাপোকা বিলুপ্ত হয় নাই।  আমার প্রশ্ন, এত প্রাচীন প্রাণী তেলাপোকা এত দিনেও বিবর্তিত হয়ে বুদ্ধিমান তেলাপোকায় পরিণত হল না কেন? পৃথিবীতে মানুষের কাছাকাছি আর একটাও বুদ্ধিমান প্রাণী নাই কেন? বিবর্তন কি শুধুই বানর আর মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ?????

  21. 14
    shaiful

    দারুণ হয়েছে লিখাটি।

    বিবর্তনবাদীদের অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে একটি ভিডিও:

    rel="nofollow">

    1. 14.1
      এস. এম. রায়হান

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। বাংলা বিবর্তনবাদীদের কাছে নমস্য আম্রিকানদের অবস্থাই যদি এই হয়, তাহলে বাংলা বিবর্তনবাদীদের অবস্থা কেমন হতে পারে একবার ভেবে দেখুন 😛

  22. 13
    সনেট

    আমার প্রশ্ন হইলো এই ব্যাকটেরিয়াটারে পয়দা করল কেডা?

  23. 12
    এস. এম. রায়হান

    বিবর্তনবাদের কী কুদরত, ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে শুক্রাণু-ডিম্বাণু 😛

    ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে কোনো এক পর্যায়ে দৈবক্রমে শুক্রাণু-ডিম্বাণু না এলে কিন্তু মানুষ-সহ বিশাল প্রাণীজগতের কোনো অস্তিত্বই থাকত না।

    কেউ জমজমের পানিতে শুক্রাণু খুঁজে পায়, আবার অনেকে ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উভয়ই খুঁজে পায়। প্রথম খবরের সত্যতা জানা যায়নি। এটা ইসলাম বিদ্বেষী ধর্মান্ধমনাদের দাবি। তবে দ্বিতীয় খবর দিনের আলোর মতো সত্য। কাজেই দ্বিতীয় গ্রুপ যে কুসংস্কারে বিশ্বাসী ধর্মান্ধ সেটাও দিনের আলোর মতো সত্য।

  24. 11
    শুভ

    মাশাআল্লাহ ভাল লিখেছেন। এগুলোর উত্তর ওদের কাছে নাই। ওদের অবস্থা হলো চিলে কান নেবার মত, তারা আসলে সব কিছু বুঝে শুনেও 'তাল গাছ আমার' তত্ত্বে আগ্রহী, ভাল কিছু করার ক্ষমতা নাই, তার বিপরীতে সাংঘর্ষিক কিছু বলে আলোচনায় থাকাটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

  25. 10
    শাফিউর রহমান ফারাবী

    অসাধারণ একটা লেখা ভাইয়া।

  26. 9
    Fayshal Khan

    ভালো লিখেছেন…. ইক্কেবারে “মু তোড় জাবাব” (মুগেম্বো খুশ হুয়া 😉 😀 )

  27. 8
    pollob

    একটি অসাধারণ বই (The Biggest Secret) শেয়ার করতে চাই কিন্তু
    http://techtunes.userecho.com/topic/363012-the-biggest-secret-id/

    David Icke এর মেধাবী ও বেস্ট সেলিং একটি বই এটি । এই গ্রহের প্রতিটি পুরুষ, নারী, শিশু আক্রান্ত যেভাবে তা ই এই লেখক প্রকাশ করেছেন । কিভাবে এই গ্রহ হাজার হাজার বছর ধরে নিয়ন্ত্রিত হছে । এই গ্রহের বাসিন্দারা কিভাবে মানসিক, অধাত্তিক, কারিগরী ভাবে একধরনের জেল এ বন্দী । কিভাবে টাকা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে ।

    এই গ্রহ কিভাবে স্বাধীন হতে পারে, মানুষ কিভাবে প্রকৃত স্বাধীনতা পেতে পারে  । এই বইটা হছে এই গ্রহের হাজার বছরের ইতিহাস । কিভাবে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ কে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ।

    এই বইটা সকল প্রযুক্তি প্রেমীদের  পড়া উচিত । আমর রিকোয়েস্ট এখানে অনেক বুদ্ধিমান লোক আছেন, যে কেউ এটার বাংলা ভার্সন বানান ও আবার শেয়ার করুন এখানে । কারণ এই বইটা এই গ্রহের বাসিন্দাদের খুব দরকার ।

    ডাউন লিংক :  মিরর সহ ডাউন লিংক বানান: কারণ ডাউন লিংক যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে ।

    http://www.mediafire.com/download/zarz7ku7pb07u0o/Biggest+World+Secrets.pdf

    1. 8.1
      Sujan Fahad

      @pollob: brother esober janar dorkar nai karon amra soboi jani tai notun kore tara janbe jara asole pondit-murkho.

  28. 7
    বালার্ক

    "একটি ব্যাকটেরিয়া" — অলীক বিশ্বাসে শুরু করে ফ্যান্টাসির রঙ্গিন জগতে বিচরণ হল বিবর্তনবাদ। খুব ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।

  29. 6
    এস. এম. রায়হান

    বিবর্তনবাদীদের উত্তর-পুরুষরা কেমন হতে পারে?

    বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী: তাদের পূর্ব-পুরুষদের আগে লেজ ছিল, এখন আর নেই। তাদের পূর্ব-পুরুষদের গায়ে আগে পশম ছিল, এখন আর নেই। তাদের পূর্ব-পুরুষদের অ্যাপেনডিক্স সক্রিয় ও উপকারী ছিল, এখন সেটি নিষ্ক্রিয় ও ক্ষতিকর হয়ে গেছে। তাদের পূর্ব-পুরুষদের আরো শতাধিক সক্রিয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও এখন নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। ইত্যাদি।

    তার মানে তাদের পূর্ব-পুরুষদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর কিছু কিছু বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আর অধিকাংশই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। অর্থাৎ আগে যা ছিল, এখন তা আর নেই। আগে যেটি সক্রিয় ছিল, এখন সেটিই নিষ্ক্রিয় বা ক্ষতিকর হয়ে গেছে। অর্থাৎ একটি প্রাণীর শরীর থেকে কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কমিয়ে যাওয়া এবং অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় ও ক্ষতিকর হয়ে যাওয়াকে বিবর্তন বলা হয়! তা-ই যদি হয় তাহলে বিবর্তনবাদীদের উত্তর-পুরুষরা যেমন হতে পারে:

    -- তাদের নিকটতম উত্তর-পুরুষদের হয়তো দেখা যাবে একটি হাত নেই!

    -- তার পরের কোনো প্রজন্মের হয়তো দেখা যাবে দুটি হাত-ই নেই!

    -- তার পরের কোনো প্রজন্মের হয়তো দেখা যাবে একটি পা নেই!

    -- তার পরের কোনো প্রজন্মের হয়তো দেখা যাবে দুটি পা-ই নেই!

    হাত ও পা ছাড়া মনুষ্য প্রজাতি দেখতে কেমন হবে? 😀

    -- তার পরের কোনো প্রজন্মের হয়তো দেখা যাবে মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে!

    -- ইত্যাদি, ইত্যাদি।

    বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনী দারুণ মজার তো 🙂 বিবর্তনবাদীদের উত্তর-পুরুষদের নিয়ে ইচ্ছেমতো কার্টুন তৈরী করলে তারা লজ্জায় কিছু কইতেও পারবে না, আবার সইতেও পারবে না!

    1. 6.1
      Zelal

      হাত-পা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বাদ যেতে যেতে একসময় ফুটবল কিংবা গোল-আলু টাইপের কিছু হবে হয়তো। এরপর আবার ব্যাক টু দ্যা ব্যাকটেরিয়া। চক্রিক বিবর্তনবাদ।

  30. 5
    এস. এম. রায়হান

    বিবর্তন তত্ত্বের প্রস্তাবক স্বয়ং চার্লস ডারউইন যেখানে তার তত্ত্বের সত্যতা নিয়ে সংশয় করেছেন, যেখানে বাংলা নাস্তিকদের কাছে আদর্শ দুটি দেশ আমেরিকা ও বৃটেনের প্রায় অর্ধেক মানুষ এই তত্ত্বে বিশ্বাস করে না (প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হওয়ার কথা। আর যারা বিশ্বাস করে তাদের অধিকাংশই যে না বুঝে কিংবা হুজুগে পড়ে বিশ্বাস করে, তাতে কোনো সন্দেহ নাই) -- সেখানে বাংলা অন্তর্জালে কোনো একজন নাস্তিক বা অন্য কোনো ধর্মে বিশ্বাসীকে আজ পর্যন্তও বিবর্তন তত্ত্বের সত্যতা নিয়ে ন্যূনতম সংশয় পর্যন্ত করতে দেখা যায়নি!

    বরঞ্চ নাস্তিকরা তো বটেই এমনকি অন্যান্য ধর্মে বিশ্বাসীরাও বিবর্তনবাদকে ডিফেন্ড করার নামে মুসলিমদেরকে আক্রমণ আর হেয় করছে। দিনে-দুপুরে এতবড় একটা শুভঙ্করের ফাঁকি মুসলিমদের কতজন বোঝে, কে জানে! অথচ বাংলা অন্তর্জালে বিবর্তনবাদীদের যদি একে একে পরীক্ষা নেওয়া হয় তাহলে তাদের একজনও পাশ করতে পারবে না। তারা শুধুমাত্র ইসলাম ও মুসলিম বিরোধীতার জন্য বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনীকে ডিফেন্ড করছে।

  31. 4
    Reza

    Neither Bonna Ahmed nor Dr. Avijit can answer your questions, let alone others. You might need to wait years for their future product who can answer your questions. By the way, you are a convert (atheist to theist) because of primarily Dr. Avijit and few others. So, you should be grateful and thankful to them. I guess, I am following the same path but it is taking long time. The reason might be, I stopped visiting MM site since 2006 when Dr. Avijit did not publish one of your writings. While my inclination is towards Islam but I need to start practicing Islam more often. Please pray for me. As a side note, I am taking back all my stupid questions that hurt many people and please forgive me.

  32. 3
    কিংশুক

    রায়হান ভাই বেরসিকের মতো কিসব প্রশ্ন যে করেন! আপনার একটা প্রশ্নের উত্তর বন্যা আহমেদতো কোন্‌ ছার, স্যার রিচার্ড ডকিন্সের পক্ষেও দেয়া সম্ভব নয়। প্রশ্নগুলো দেখলেই তাদের মাথায় আগুন ধরে যাবে, তাদের বিশ্বাসের উপর এমন নিদারুন আঘাত সহ্য করা যায়না!

    1. 3.1
      এস. এম. রায়হান

      আপনার একটা প্রশ্নের উত্তর বন্যা আহমেদতো কোন্‌ ছার, স্যার রিচার্ড ডকিন্সের পক্ষেও দেয়া সম্ভব নয়।

      আপনার সাহস দেখে তাজ্জব হয়ে যাচ্ছি! আপনার এই মন্তব্যটা সারা বিশ্বের বিবর্তনবাদীদের মুখপাত্র আঃ মাহমুদের চোখে পড়লে আপনার-আমার দু-জনেরই খবর আছে কইলাম! সাবধানে থাইকেন।

      এবার সিরিয়াসলি বলি। আপনার মতো করে যদি ১০% শিক্ষিত মুসলিমও ব্যাপারটা বুঝত তাহলে বিবর্তনবাদ অনেক আগেই বৃটিশ মিউজিয়ামে শোভা পেত। কেননা একমাত্র মুসলিমদের পক্ষেই সম্ভব বিবর্তনবাদকে মিউজিয়ামে পাঠানো। খ্রীষ্টান ধর্মের কিছু অসারতার কারণে তারা বিবর্তনবাদীদের সাথে পেরে উঠছে না। এদিকে হিন্দু-বৌদ্ধরা তো পুরাই সুবিধাবাদী।

      1. 3.1.1
        কিংশুক

        যেভাবে বিশ্বের প্রায় সকল মিডিয়া বিবর্তনবাদের পক্ষে প্রচারণা চালায় তাতে সাধারণ মানুষের ঘুণাক্ষরেও বিবর্তনবাদ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করার কথা না। বিজ্ঞান জগতে এরকম জোচ্চুরী সবার নাকের ডগায় হতে পারে, তাও কোন মানুষের মাথায় আসার কথা না। আমিও এইচ.এস.সি-তে পড়ার সময় জীববিজ্ঞানে ডারউইনের বিবর্তনবাদ বিষয়ে পড়েছিলাম। পদার্থ, রসায়ন বিজ্ঞানের বিভিন্ন সূত্রের প্রায়োগিক প্রমাণ, সুফল মানুষ চোখের সামনেই দেখতে পায়। এজন্য এত অধিক বন্দিত, নন্দিত একটি তত্ত্বের বিষয়ে ধর্মীয় বিরোধ না থাকলে বোধ হয় কেউই খুঁটিয়ে দেখতো না। এই একটি থিয়োরীকে বিশ্বের শত শত কোটি কম্যুনিষ্ট নাস্তিক তাদের এজেণ্ডায় কাজে লাগিয়েছে, এখনও কাজে লাগানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, রাষ্ট্রিয়, প্রভাবশালী গোষ্ঠি কর্তৃক প্রতিনিয়ত সহযোগিতা পাচ্ছে। বাংলা ব্লগে আপনি সহ বর্তমানে অনেক তরুণ ডারউইনের বিবর্তনবাদের ফাঁপরবাজি ফাঁশ করা বিষয়ে লেখালেখি না করলে এই বিষয়ে জানতে পারতাম না। বিতর্কে দেখা যায়, নাস্তিকরা ডারউইনের বিবর্তনবাদ মাধ্যাকর্ষণের মতো প্রমাণিত সত্য দাবী করে ধর্মের উপর হামলে পড়ে কিন্তু বিবর্তনবাদ বিষয়ে প্রমাণের ব্যাপারে চেপে ধরলে হাসাহাসি, কাশাকাশি, গালাগালি, অপ্রাসংগিক আলতু ফালতু কথা বলা শুরু করে দেয়। এমনকি ডকিন্স গংদেরও একই অবস্থা। ভালো মতো পর্যবেক্ষণ করলে যে কেউই ফাঁকিবাজি ধরে ফেলবে। কিন্তু বিবর্তনবাদের ফাঁকিবাজি মানুষকে জানানোর মতো প্রচার যন্ত্রের, পরিবেশের খুবই অভাব।

  33. 2
    শামসুল আরেফিন

    রায়হান ভাই, দয়া করে বিবর্তনবাদের উপর ঈমান আনুন। এতসব প্রশ্ন করে এতক্ষণে আপনি নাস্তিক ধর্মমত অনুযায়ী মুর্তাদ হয়ে গেছেন। নবী ডারউইনের অভিশাপে মানুষের পরবর্তী স্পেসিসের কিন্তু আবারো বানরে পরিণত হবার বিরাট সম্ভাবনা আছে। কাজেই খুব খেয়াল কৈরা।

    অফ টপিক-- মানূষের পরবর্তী স্পেসিসের কি একটা কাল্পনিক ছবি দাঁড় করানো যায় না? আমাদের লেজ খসে পড়েছে, ধীরে ধীরে এপেন্ডিক্স খসে পড়ছে, তারপর আর কী কী খসে পড়বে খুব জানতে ইচ্ছা করে।

    মাঝে মাঝে খুব ভয় করে, পুরুষ জাতীর তো সামনের দিকে ল্যাঞ্জা জাতীয় কিছু একটা আছে। সেটাও যদি খসে পড়ে, তখন ক্যামতে কী হইব——

    1. 2.1
      এস. এম. রায়হান

      দয়া করে বিবর্তনবাদের উপর ঈমান আনুন।

      ঈমান নিয়ে আসার তো যথেষ্ট চেষ্টা করছি। কিন্তু বিবর্তনবাদীদের কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেনা যে! তারা এখন মিশন্যারীদের মতো অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত লোকজনকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছে।

      এতসব প্রশ্ন করে এতক্ষণে আপনি নাস্তিক ধর্মমত অনুযায়ী মুর্তাদ হয়ে গেছেন।

      তার চেয়েও বেশি কিছু হয়ে গেছি! ওদের মন্তব্যগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন।

      নবী ডারউইনের অভিশাপে মানুষের পরবর্তী স্পেসিসের কিন্তু আবারো বানরে পরিণত হবার বিরাট সম্ভাবনা আছে। কাজেই খুব খেয়াল কৈরা।

      অবশ্যই! বিবর্তনবাদীদের কেউ তা অস্বীকারও করতে পারবে না।

      মানূষের পরবর্তী স্পেসিসের কি একটা কাল্পনিক ছবি দাঁড় করানো যায় না?

      যাবে না কেন। ইচ্ছে করলেই যায়, আর চ্যালেঞ্জটা তো এখানেই!

  34. 1
    Rafez Ahmed

    খুব সুন্দর লিখেছেন রায়হান ভাই। কিন্তু লাভ নাই -- ওরা বান্দর আছে বান্দরই থাকবে। অসাধারণ লেখার জন্য ধন্যবাদ।

    1. 1.1
      এস. এম. রায়হান

      সদালাপে স্বাগতম, এবং সেই সাথে মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply