«

»

এপ্রিল ০২

উপমহাদেশের ১১ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে ৯ জনই হিন্দু

মুক্তমনাদের [পরোক্ষ] দাবি অনুযায়ী উপমহাদেশের এগারজন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানীর মধ্যে নয়জন হিন্দু, একজন (পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত আবদুস সালাম) আহমেদিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত, আর বাকি একজন (ভারতীয় বংশোদ্ভুত হোমি জাহাঙ্গির ভাবা) জরোয়াস্ট্রিয়ান সম্প্রদায়ভুক্ত।

 

প্রমাণ-১: ড. প্রদীপ দেব "উপমহাদেশের এগারজন পদার্থবিজ্ঞানী" শিরোনামে একটি বই লিখেছেন। সেই এগারজন পদার্থবিজ্ঞানীরা হচ্ছেন-

জগদীশচন্দ্র বসু, দেবেন্দ্রমোহণ বসু, চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন, শিশির কুমার মিত্র, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, কে এস কৃষ্ণান, হোমি জাহাঙ্গির ভাবা, সুব্রাহ্মনিয়ান চন্দ্রশেখর, বিক্রম সারাভাই, ও আবদুস সালাম।

বইটি প্রকাশের আগে মুক্তমনা ব্লগে লেখাগুলো প্রকাশ করা হয়। সেই লেখাগুলোতে দেখা যাচ্ছে একমাত্র আবদুস সালাম ছাড়া অন্য কারো ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা আসেনি। শুধুমাত্র আবদুস সালামের ক্ষেত্রে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অত্যন্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো তুলে এনে বিশাল পরিসরে আলোচনা করা হয়েছে। তার মানে অন্যান্য বিজ্ঞানীদের নাম দেখেই তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় বুঝে নিতে হবে। অন্যদিকে আবদুস সালামের নাম দেখে যেহেতু ধর্মীয় পরিচয় বুঝার উপায় নাই (!) সেহেতু তাঁর ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে পুংখানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়েছে যাতে করে সকলে বুঝতে পারে যে, আবদুস সালাম আসলে আহমেদিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। এমনকি প্রদীপ দেবের তথ্য অনুযায়ী আহমেদিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত বিজ্ঞানী আবদুস সালামের পূর্ব-পুরুষ ছিলেন রাজপুতনার হিন্দু। আবদুস সালামকে নিয়ে প্রদীপ দেবের লেখার শিরোনামটা লক্ষণীয়-

prodipdeb

 

প্রমাণ-২: প্রদীপ দেবের এই বইটির উপর মুক্তমনা ড. অজয় রায় একটি রিভিউ লিখেছেন। ড. অজয় রায়ের লেখাতেও একমাত্র আবদুস সালাম ছাড়া অন্য কারো ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। আবদুস সালামের ক্ষেত্রে ড. অজয় রায় লিখেছেন-

এর পর প্রদীপ … সব শেষে পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত আহমেদিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী আবদুস সালামের বিজ্ঞান গবেষণা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

 

প্রমাণ-৩: সদালাপের এই পোস্টে কুমার মন্ডল নামে একজন ব্লগার বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী সুব্রাহ্মনিয়ান চন্দ্রশেখর ও চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামনকে 'হিন্দু' বলে দাবি করেছেন। প্রদীপ দেবের বইয়ে উল্লেখিত কয়েকজন বিজ্ঞানীকে উইকিপেডিয়ার 'List of Hindus' পেজেও হিন্দু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

প্রমাণ-৪: ড. নৃপেন্দ্র সরকারের দাবি অনুযায়ী হিন্দু পদার্থবিজ্ঞানীরা শিবলিঙ্গে দুধ ঢালে-

 

প্রমাণ-৫: মুক্তমনাদের দাবি অনুযায়ী মুসলিমদের বিজ্ঞানে কোনো অবদান নাই, বর্তমানে মুসলিমদের মধ্যে বিজ্ঞানী নাই বললেই চলে, মুসলিমরা বিজ্ঞান বোঝে না, বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করে না, ইত্যাদি, ইত্যাদি। এমনকি তাদের দাবি অনুযায়ী মুসলিমরা নিজেদের ধর্মটা পর্যন্ত বোঝে না। এজন্য তারা 'মুক্তমনা' সেজে মুসলিম নামক 'অশিক্ষিত-অসভ্য-অবিবর্তিত-সেকেলে' প্রজাতিকে একাধারে বিজ্ঞান, দর্শন, ইসলাম, যুক্তিবাদ, সংশয়বাদ, মানবতাবাদ, ইত্যাদি শেখানোর দায়িত্ব নিয়েছে। তারা প্রদীপ দেবের বইয়ে উল্লেখিত নয়জন বিজ্ঞানী-সহ এই ধরণের নামধারী বিজ্ঞানীদেরকে যদি হিন্দু মনে না করত তাহলে মুসলিমদেরকে উদ্দেশ্য করে তাদের উপহাস-বিদ্রূপ কিন্তু ধোপে টেকে না।

aroy1

 

aroy2

কথা হচ্ছে মুসলিমদের মধ্যে যে বিজ্ঞানী-টিজ্ঞানী নাই, সেটা তো সকলেরই জানা। মুসলিমদের অনেকে আবদুস সালামকেও যে মুসলিম মনে করে না, সেটাও গোপন কোনো তথ্য নয়। কাজেই এই দিনের আলোর মতো সত্যকে এত কসরত করে বুঝানোর কী আছে বাবা! এখানেই 'মুক্তমনা'র আড়ালে সাম্প্রদায়িক মনন কাজ করেছে। "উপমহাদেশের এগারজন পদার্থবিজ্ঞানী" শিরোনাম দিয়ে সেখানে একজন মুসলিম নামধারীকে ঢুকিয়ে দিয়ে নিজেকে 'অসাম্প্রদায়িক' বা 'নিরপেক্ষ' দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও মনে শান্তি আসেনি! নাম দেখে অজ্ঞ লোকজন যদি তাঁকে সত্যি সত্যি মুসলিম মনে করে! এজন্য সেই মুসলিম নামধারী বিজ্ঞানী যে আসলে মুসলিম না, সেটা বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে দিয়ে বুঝাতে চাওয়া হয়েছে যে, উপমহাদেশের এগারজন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানীর মধ্যে একজনও মুসলিম নাই। আর বাকিদের নাম দেখেই তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় বুঝে নিতে হবে।

প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন: উপমহাদেশের এই এগারজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের সকলেই বৃটিশ আমলের কেন? তাঁদের মধ্যে একজনও বৌদ্ধ বা শিখ নাই কেন? আর এগারজনের মধ্যে পাঁচজনই বাঙ্গালী ব্রাহ্ম/হিন্দু সমাজের কেন? বৃটিশ আমলের পর বাঙ্গালী ব্রাহ্ম/হিন্দু সমাজ থেকে উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আর কোনো বিজ্ঞানীর নাম শোনা যায় না কেন?

১ মন্তব্য

  1. আরিফ

    ইসলাম নামক ধর্মটি না থাকলে বোধ করি অভিজিৎ রায়ের রুটি-রুজী বন্ধ হয়ে যেত। এই ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়েই এখন অভিজিতের সংসার চলে। ইনিয়ে, বিনিয়ে নানা ভাবে ইসলামকে জড়াতে না পারলে সম্ভবত তার পেটের ভাত হজম হয় না। তাই বুয়েট পাশ এই ইঞ্জিনিয়ারের মাথায় কেবলই ইসলাম খ্যাদানোর চিন্তায় অস্থির থাকে। অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে ইসলাম নাই তো পেটে ভাতও নাই।

    দিন শেষে অভিজিতের তাই ইসলাম ও আল্লাহর কাছে কিছুটা হলেও কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।