«

»

Apr ০৪

বিজ্ঞান কিন্তু মুক্তমনা ড. জাফর উল্লাহর জীবনকে ফেরত দিতে পারেনি!

লেখাটির শিরোনাম নির্বাচন করা হয়েছে 'মুক্তমনা' নাস্তিক ড. জাফর উল্লাহর একটি লেখার শিরোনামকে ভিত্তি করে। প্রকৃতপক্ষে, এরূপ কোনো শিরোনামে মুক্তমনা ধর্মের গুরুজী থেকে একটি লেখা প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে ড. জাফর উল্লাহর মৃত্যুর খবর পাওয়ার সাথে সাথে সেই লাশের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিশাল একটি কূটচালের লেখা নামিয়ে ফেলা হয়েছিল। তথাপি এতদিন অপেক্ষা করেও এমন একটি শিরোনামে যখন কোনো লেখা নজরে পড়লই না তখন ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও দু-কলম লিখতেই হলো।

ড. জাফর উল্লাহ একাধারে একজন মুক্তমনা, নাস্তিক, বামপন্থী, র‍্যাশনালিস্ট, ইত্যাদি ছিলেন। তাতে কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু ২০১০-এর শেষের দিকে উনার একটি পোস্ট নজরে পড়ে। কারো বিশ্বাস হবে কি-না জানি না, শুধু শিরোনামটা দেখেই তাৎক্ষণিকভাবে আমার মনে যা এসেছিল তা হচ্ছে: শিরোনামটা দেওয়ার সময় লোকটার মনের মধ্যে সম্ভবত প্রচণ্ড রকমের দাম্ভিকতা কাজ করেছে এই ভেবে যে, বিজ্ঞান হয়তো তাকে অনন্তকাল ধরে বাঁচিয়ে রাখারও সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছে! তার পরের খবর ইতোমধ্যে অনেকেই হয়তো জেনে গেছেন।

যাহোক, ড. জাফর উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। এজন্য লেখালেখিও প্রায় বন্ধ ছিল। বিজ্ঞান উনার চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এটাকে শিরোনাম বানিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ লোকজনকে হেয় করে উনি একটি লেখা পোস্ট করেছিলেন-

jaforullah

 

প্রথমত- আমি নিজে দীর্ঘদিন গ্রামে থেকেছি। চোখের সমস্যার জন্য কাউকেই পীর বাবাদের কাছে যেতে দেখিনি কিংবা আবে(?)-জমজমের পানিও চোখে দিতে দেখা যায়নি। শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে যাদের আর্থিক সামর্থ আছে তারা মোটামুটি যেকোনো অসুখ-বিসুখে ডাক্তারের কাছেই যায়। তবে যাদের সামর্থ নাই তাদের কথা আলাদা। অথচ আমেরিকা-প্রবাসী ড. জাফর উল্লাহ 'বিজ্ঞান-পূজারী' সেজে বাংলাদেশের সাধারণ লোকজনকে হেয় করে নিজেকে 'র‍্যাশনালিস্ট' প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন।

দ্বিতীয়ত- এর মধ্যে উনি আবার মানুষ, শিম্পাঞ্জি, বানর, গরু, ছাগল, মাছের চোখে 'কমন লেন্স' থাকার উদাহরণ দিয়ে যেভাবে ডারউইনের বিবর্তনবাদকে 'সত্য' বলে দাবি করেছেন সেটা আরো হাস্যকর! বিজ্ঞান-ভিত্তিক বিষয়ে একজন ডক্টরেটধারী, গবেষক, ও দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় থাকা 'মুক্তমনা' নাস্তিকেরই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে সাধারণ ও ইন্টার পাশ 'মুক্তমনা' নাস্তিকদের অবস্থা কতটা ভয়াবহ হতে পারে!

যাহোক, মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। বিজ্ঞান উনার চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়াতে উনি বিজ্ঞানের প্রতি নতমস্তকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তা উনি করতেই পারেন, যদিও তাতে 'বিজ্ঞানমনস্কতা'র আড়লে যে 'পেগ্যান মানসিকতা' প্রকাশ পেয়েছে সেটা হয়তো উনি বুঝতেই পারেননি! কিন্তু একই বিজ্ঞান যে উনার জীবন রক্ষা করতে পারেনি কিংবা জীবনকে ফেরতও দিতে পারেনি – এই চরম সত্যকে স্বীকার না করা কি বিজ্ঞানের প্রতি অন্ধ আনুগত্য বা বিজ্ঞান অবমাননা নয়? উনি যেহেতু মারা গেছেন সেহেতু উনার পক্ষে এই লেখার জবাব দেওয়া আর সম্ভব নয়। কিন্তু মুক্তমনা ধর্মের গুরুজী তো জীবিত আছেন। গুরুজী এই সত্যকে স্বীকার করে একটি লেখা পোস্ট দিতে পারবেন কি-না? নাকি মুক্তমনাদের গুরুজী আরেকটি মুক্তমনা নাস্তিকের লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন…!

৬ comments

Skip to comment form

  1. 5
    mahabub

    বিজ্ঞান আল্লাহ দান করেছেন। ড. জাফর উল্লাহর এটা জানার ক্ষমতা হয়নি। আল্লাহ তাকে হেদায়েত করুন। আমীন।

  2. 4
    sotto

    আস্তিকরা যেমন স্রষ্টার কাছে অমর হবার দাবী জানায় না। তেমনি নাস্তিকরাও বিজ্ঞানের কাছে অমর হবার দাবী জানায় না। কারণ সবাই জানে যে এ দাবী পূরণ হবার নয়।

    ধন্যবাদ-

    1. 4.1
      জামশেদ আহমেদ তানিম

      নাস্তিকরা কেন বিজ্ঞানের কাছে অমর হওয়ার দাবী জানাবে না? আমরা আস্তিকরা স্রষ্টার কথা জানি, শেষ পর্যন্ত আমাদের মরতে হবে, স্রষ্টার সামনে কর্মফল নিয়ে দাঁড়াতে হবে যার ফলে আমরা আমদের কার্য্যক্রম ওভাবেই চালাই। নাস্তিকদেরতো মৃত্যুভয় বেশি থাকা উচিত কারণ তাদের কাছে ইহকালই সব, এখান থেকে প্রস্থান মানেই সবকিছুর সাঙ্গ, তাই তারা কেন বিজ্ঞানের কাছে অমর হওয়ার দাবী জানাবে না? তাহলে তো তারা দীর্ঘকাল ভোগ বিলাস, যথেচ্চার চালিয়ে যেতে পারত।

  3. 3
    জামশেদ আহমেদ তানিম

    এসব ভণ্ড বাম নাস্তিকরা এক সময় সওয়ার হয়েছিলো কম্যুনিস্টদের উপর, কম্যুনিজমের পরাজয়ের পরে এরা এখন এদের চরিত্র বদলে হয়েছে চরম ভোগবাদী। ভোগবাদ আর বাম্বুবাদ দুইটাই বস্তুবাদের দুই প্রশাখা, যার ফলশ্রুতিতে পরজীবিগুলোর জন্য দুই বাদই বেশ বড় মাপের পরজীবি পালনকারী।

  4. 2
    আরিফ

    খেয়াল করুন জাফর উল্লাহ সাহেব কিন্তু বিজ্ঞানের কাছে হারানো যৌবন ফিরে পেতে চাইতে পারতেন, তিনি বিজ্ঞানকে বলতে পারতেন -- তুমি আমাকে চোখ দিয়েছ, এবার মৃত্যুর হাত থেকেও বাঁচাও। সেই দাবী কিন্তু বিজ্ঞানের কাছে তিনি করেননি। কিন্তু কেন তিনি তা করলেন না? চোখ ফিরে পাবার পরের দাবীই তো হওয়া উচিত ছিল-- ওহে বিজ্ঞান, এবার আমাকে মৃত্যুর হাত থেকেও বাঁচাও। 

    নাস্তিকরা পরম পূজনীয় বিজ্ঞানের কাছে অমর হবার দাবী জানাক। কারণ মরলেই তো সব দফা-রফা।

  5. 1
    sotto

    "সালামুন আলাইকুম"
    প্রকৃতিবাদী গুরুজীদের জন্ম, মৃত্যু ও বিশ্বাস তো শুধুমাত্র প্রকৃতিগত সীমানার সাথেই সম্পর্কিত। সুতরাং তাদের সীমাবদ্ধ অন্তরদৃষ্টি দিয়ে তারা আপনার বক্তব্যের জবাবও তাদের মত কোরেই দেবেন। যারা জানতে চায় না তাদের কাছে এর বেশি কিছু আশা করা যায় কি?

Leave a Reply