«

»

Apr ১৪

নাস্তিক-অধ্যুষিত দেশ নিয়ে অভিজিৎ রায়ের প্রতারণা

১. শতকরা হিসাবে প্রথম হিন্দু-অধ্যুষিত দেশ নেপালের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কোনো বিজ্ঞানী বা আবিষ্কারক বা দার্শনিক বা সাহিত্যিক বা এমনকি খেলোয়ার বা অ্যাথলেটেরও জন্ম হয়নি। হিউম্যান ডিভেলপমেন্ট ইনডেক্স (HDI) অনুযায়ী নেপালের অবস্থান ১৫৭। ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অনুযায়ী দূর্নীতির (CPI) দিক দিয়ে নেপালের অবস্থান ১১৬। নেপালীদের বাৎসরিক ইনকাম (per capita income) মাত্র ১,৩০০ ডলার। সত্যি বলতে প্রাকৃতিক হিমালয় পর্বতমালা আর গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান ছাড়া বিশ্বের দরবারে নেপালকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো উল্লেখযোগ্য কিছুই নেই। মোটামুটি সব দিক দিয়েই অনুন্নত দেশগুলোর মধ্যে নেপাল একটি।

অন্যদিকে হিউম্যান ডিভেলপমেন্ট ইনডেক্স অনুযায়ী ভারতের অবস্থান ১৩৬। ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অনুযায়ী দূর্নীতির দিক দিয়ে ভারতের অবস্থান ৯৪। ভারতীয়দের বাৎসরিক ইনকাম প্রায় ৩,৯০০ ডলার।

তাহলে দেখা যাচ্ছে হিন্দু-অধ্যুষিত দুটি দেশের মধ্যে কোনোটাই হিউম্যান ডিভেলপমেন্ট ইনডেক্স, দূর্নীতির ইনডেক্স, ও বাৎসরিক ইনকামের দিক দিয়ে প্রথম সারিতে কিংবা মাঝামাঝিও নেই। তবে তিন পয়েন্টেই নেপালের চেয়ে ভারত কিছুটা এগিয়ে আছে। নেপালে যেখানে আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কোনো বিজ্ঞানী বা আবিষ্কারক বা দার্শনিক বা সাহিত্যিক বা খেলোয়ার বা অ্যাথলেটের জন্ম হয়নি, সেখানে ভারতে প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রে কম-বেশী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কিছু ব্যক্তিত্ব আছে।

প্রশ্ন হচ্ছে পাশাপাশি দুটি হিন্দু-অধ্যুষিত দেশ নেপাল ও ভারতের মধ্যে ভারত সব দিক দিয়ে এগিয়ে গেল কী করে। এর মূল কারণ হতে পারে নেপালে মুসলিম বা বৃটিশদের কোনো অবদান নাই। অন্যদিকে আধুনিক ভারতের নেপথ্যে আছে প্রথমে ইসলামের প্রভাব ও মুসলিমদের অবদান, পরবর্তীতে বৃটিশদের অবদান। ব্যতিক্রম ছাড়া ভারতের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীদের প্রায় সকলেই বৃটিশ আমলের, এবং বৃটিশদের অধীনেই তাঁরা গবেষণা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন বৃটিশ আমলে। অন্যদিকে রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো হিন্দু ধর্মের সংস্কারক ও ব্রাহ্ম সমাজ তৈরীর পেছনে ইসলামের প্রভাব তো মনে হয় কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-সহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পাঁচজন বাঙ্গালী বিজ্ঞানীর (যেমন: স্যার জগদীশচন্দ্র বসু, দেবেন্দ্রমোহণ বসু, শিশির কুমার মিত্র, মেঘনাদ সাহা, ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু) প্রায় সকলেই ব্রাহ্ম সমাজের ছিলেন, আর একেশ্বরবাদী ব্রাহ্ম সমাজ বহুশ্বরবাদী হিন্দু সমাজ থেকে অনেকটাই আলাদা।

এজন্য অভিজিৎ রায় হিন্দু-অধ্যুষিত নেপাল ও ভারতের প্রসঙ্গটা সুকৌশলে এড়িয়ে যেয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোকে 'ধর্মের ভাই' বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার নাস্তিক-কম্যুনিস্ট সেনাদের নিয়ে মুসলিমদেরকে বিভিন্নভাবে হেয় করে আসছে। এই অদ্ভুত ধূর্ত ও প্রতিহিংসাপরায়ণ প্রজাতির উচ্চ শিক্ষিতদের প্রায় সকলেই একই পথে হাঁটছে।

 

২. এবার নাস্তিক-অধ্যুষিত দেশগুলো নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা যাক। নাস্তিক-অধ্যুষিত দেশ বলতে প্রথমেই যে দুটি দেশের নাম আসবে সেই দুটি দেশ হচ্ছে ভিয়েতনাম (৮১% নাস্তিক) ও উত্তর কোরিয়া (৬৪.৩% নাস্তিক)। অথচ মুক্তমনা ধর্মের গুরুজী স্বঘোষিত নাস্তিক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের উন্নত দেশগুলোকে 'নাস্তিকতার টুপি' পরিয়ে 'ধর্মের ভাই' বানিয়ে মুসলিমদেরকে নৈতিকতার উপর যেভাবে ছবক দিয়ে আসছে (নিজ ভাষায়)-

নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, ইত্যাদি দেশগুলো 'নাস্তিক-অধ্যুষিত' হওয়া সত্ত্বেও সেই দেশগুলোতে আস্তিক-অধ্যুষিত দেশগুলোর চেয়ে অপরাধের হার অনেক কম। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে এই দেশগুলোর অবস্থানও প্রথম সারিতে। কাজেই ধর্ম তোমাদেরকে কোনো রকম নৈতিকতা শিক্ষা দিতে পারেনি! এবার তোমরা ইসলাম ত্যাগ করে আমার ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে যাও।

প্রথমত- একজন স্বঘোষিত নাস্তিক হিসেবে নাস্তিক-অধ্যুষিত দেশের উদাহরণ দিতে গেলে প্রথমেই ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়ার নাম আসা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ও ডেনমার্ক-এর মতো ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দেওয়া হয়। অথচ ইউরোপের কোনো দেশই 'নাস্তিক-অধ্যুষিত' নয়। উইকিপিডিয়া থেকে নিচে পরিসংখ্যান দেখুন (ডান পাশের কলাম)-

atheistmajority

উপরের চার্ট অনুযায়ী ইউরোপের কোনো দেশেই পঞ্চাশ ভাগের বেশী নাস্তিক নাই। ফ্রান্সে সর্বোচ্চ ৪০% এবং সুইডেনে ৩৪% নাস্তিক দেখানো হলেও উইকিপিডিয়ার অন্য একটি তথ্য অনুযায়ী ফ্র্যান্সে ২৭% এবং সুইডেনে ২৩% নাস্তিক আছে।

দ্বিতীয়ত- ইউরোপের উন্নত দেশগুলো খ্রীষ্টান-অধ্যুষিত হওয়াতে চার্চ ধর্মের কিছু অসারতার কারণে অধিকাংশ খ্রীষ্টান চার্চে যায় না। কিন্তু চার্চে না যাওয়া মানে এই নয় যে, তারা সকলেই নাস্তিক হয়ে গেছে। চার্চে না গেলেও তারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টান দাবি করে। তাছাড়া যারা নিজেদেরকে নাস্তিক দাবি করে তাদের মধ্যেও পারিবারিক-সূত্রে যীশুর কিছু মৌলিক শিক্ষা রয়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক, আর যীশু তথা ঈশা (আঃ) হচ্ছেন ইসলামের একজন নবী।

তৃতীয়ত- সুইডেন-নরওয়ে'র লোকজনের মধ্যে অপরাধের মাত্রা কম হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে কম জনসংখ্যা ও উন্নত সিস্টেম, যে সিস্টেমের মধ্যে কেউ অপরাধ করতে চাইলেও সহজে পারবে না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ইউরোপের উন্নত দেশগুলো যদি সত্যি সত্যি নাস্তিক-অধ্যুষিত হয় এবং সেই দেশগুলোতে যদি সত্যি সত্যি অপরাধের হার অনেক কম হয়, তাতে মুক্তমনা ধর্মের গুরুজীর নাচানাচি করার কী আছে? বেল পাকিলে তাতে কাকের কী! সে নিজে তো একাধারে জাত ভণ্ড, জাত মিথ্যাবাদী, ধূরন্ধর, আপাদমস্তক ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী। সভ্য সমাজে এগুলোর সবই অপরাধের মধ্যে পড়ে। তার সীমার মধ্যে যে অপরাধগুলো করা সম্ভব, সেগুলোর সবই সে করেছে।

চতুর্থত- বাংলা অন্তর্জাল থেকে দশজন সু-পরিচিত ইসলামে বিশ্বাসী ও দশজন নাস্তিকের লেখাগুলো তুলনা করলে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই নাস্তিকদের লেখায় মিথ্যাচার, ভণ্ডামি, প্রতারণা, আর ঘৃণা-বিদ্বেষ তথা অনৈতিকতার পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেশী হবে। অথচ তারাই আবার সুইডেন-নরওয়ে'র লোকজনের নৈতিকতাকে 'আদর্শ' ধরে নিয়ে মুসলিমদেরকে নৈতকতার উপর ছবক দিচ্ছে। এরা বুঝাতে চাচ্ছে যে, ইসলামে বিশ্বাসের কারণে মুসলিমরা অনৈতিক ও অপরাধপ্রবণ হচ্ছে। প্রমাণস্বরূপ মুসলিম নামধারী জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মতো কিছু দেশের দূর্নীতির পরিসংখ্যান দেখানো হচ্ছে। কাজেই মুসলিমদেরকে সুইডেন-নরওয়ে'র লোকজনের মতো নাস্তিক বা নিধর্মী হতে হবে, যদিও "আমাদের মতো নাস্তিক বা নিধর্মী হতে হবে" বলার মতো সৎ-সাহস তাদের নাই! এই ভণ্ডরা সুইডেন-নরওয়ে'র মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে মনকলা খাচ্ছে আর মুসলিমদের দিকে থুতু ছিটাচ্ছে।

এবার নাস্তিক-অধ্যুষিত প্রথম সারির দুটি দেশ ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়ার উপর কিছু পরিসংখ্যান দেখা যাক:

– হিউম্যান ডিভেলপমেন্ট ইনডেক্স (HDI) অনুযায়ী ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়ার অবস্থান যথাক্রমে ১২৭ ও ১৫৬।

– ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অনুযায়ী দূর্নীতির (CPI) দিক দিয়ে ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়ার অবস্থান যথাক্রমে ১১৬ ও ১৭৫ (সর্বনিম্নে)।

– ভিয়েতনামী ও উত্তর কোরিয়ানদের বাৎসরিক ইনকাম যথাক্রমে ৩,৫০০ ও ৪,০৫৮ ডলার।

– ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো নোবেল লরিয়েট কিংবা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী বা আবিষ্কারক বা দার্শনিকের নাম শোনা যায়নি।

মুক্তমনা ধর্মের গুরুজী পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোকে 'ধর্মের ভাই' বানিয়েছে কেন, তার কারণ ইতোমধ্যে পরিষ্কার নিশ্চয়।

 

৩. অনেকেই হয়তো জানেন যে, বৌদ্ধ ধর্মে স্রষ্টার কোনো ধারণা নাই। আর যে ধর্মে স্রষ্টার কোনো ধারণাই নাই, সেই ধর্মের অনুসারীরা স্বাভাবিকভাবেই নাস্তিক কিংবা আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী বড়জোর অজ্ঞেয়বাদী হিসেবে বিবেচিত হবে। শতকরা হিসাবে বৌদ্ধ-অধ্যুষিত (>৫০%) প্রথম সারির সাতটি দেশ হচ্ছে কম্বোডিয়া (৯৩-৯৬%), থাইল্যান্ড (৯৩%), মায়ানমার (৮০%), ভুটান (৭৫%), শ্রীলঙ্কা (৭০%), লাওস (৬৭%), ও মঙ্গোলিয়া (৫৩%)। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, হিউম্যান ডিভেলপমেন্ট ইনডেক্স, দূর্নীতির ইনডেক্স, ও বাৎসরিক ইনকামের কোনোটাতেই এই দেশগুলোর কোনো একটিও প্রথম সারিতে নেই। এই সাতটি দেশের কোনো একটি থেকেও বিজ্ঞানে নোবেল লরিয়েট কিংবা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী বা আবিষ্কারকের নাম শোনা যায় না।

 

উপসংহার: এই লেখায় তথ্য-উপাত্তসহ দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে যে- বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, হিউম্যান ডিভেলপমেন্ট ইনডেক্স, দূর্নীতির ইনডেক্স, ও বাৎসরিক ইনকামের দিক দিয়ে নাস্তিক, হিন্দু, ও বৌদ্ধ-অধ্যুষিত দেশগুলোর অবস্থান মোটামুটি নিচের সারিতে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একেবারে তলানিতে। ব্যতিক্রম নাই বললেই চলে, থাকলেও উল্লেখযোগ্য কিছু না। উল্লেখ্য যে, এই লেখায় মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোর সাথে কোনো রকম তুলনামূলক আলোচনা করা হয়নি। মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলো সম্পর্কে 'মুক্তমনা'রূপী ছুপারা তো দীর্ঘদিন ধরে বলেই আসছে। তবে তুলনা করতে চাইলেও সমস্যা নাই। হিউম্যান ডিভেলপমেন্ট ইনডেক্স, দূর্নীতির ইনডেক্স, ও বাৎসরিক ইনকামের দিক দিয়ে মুসলিম-অধ্যুষিত কিছু দেশ ভালোই এগিয়ে আছে। কিন্তু নাস্তিকরূপী পরগাছারা ইতিহাসের একটি সন্ধিক্ষণে বসে সুযোগ বুঝে পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোকে 'ধর্মের ভাই' বানিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ও আফগানিস্তানকে 'মুসলিম দেশ' হিসেবে দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনকলা খাচ্ছে আর মুসলিমদের দিকে থুতু-বিষ্ঠা নিক্ষেপ করছে। এজন্য এই লেখায় ছুপা নাস্তিকদের ভণ্ডামী উন্মোচন করার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র।

৮ comments

Skip to comment form

  1. 7
    আমিনুল ইসলাম

    মনারা সব বুঝে কিন্তু বুঝেও না বুঝার ভান করলে তাদের কে বোঝাবে? যে ঘুমিয়ে আছে তাকে ত ঘুম থেকে জাগানো যায় কিন্তু যে ঘুমের ভান ধরে আছে তাকে জাগাবে কে?

  2. 6
    kumar mondol

    If income is the primary criterion for evaluating the worthiness of a religion, then Hinduism is the best religion on the basis of the following income distribution. I am sure they will also score the highest in HDI score in the United States.

     

    Income Distribution Within U.S. Religious Groups

    In his Jan. 20 inaugural address, President Barack Obama said, “The success of our economy has always depended not just on the size of our gross domestic product, but on the reach of our prosperity.” Surveys conducted by the Pew Research Center’s Forum on Religion & Public Life find that income varies greatly within and across American religious groups.

    For more on income and religion, see the full report (PDF) of the U.S. Religious Landscape Survey.

    *Data on Muslims: Muslim Americans: Middle Class and Mostly Mainstream
    All other data: The U.S. Religious Landscape Survey
    Note: Numbers may not sum to 100 due to rounding

  3. 5
    এস. এম. রায়হান

    বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, শক্তি, মুক্তচিন্তা, ও বাকস্বাধীনতার দিক দিয়ে বর্তমান বিশ্বের এগিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমেরিকা। পিউ রিসার্চ (Pew Research) অনুযায়ী সেই আমেরিকার জনগণের মাত্র ৪% নাস্তিক! লে হালুয়া! তবে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নাস্তিকতার হার ৪১%। বিজ্ঞানীদের মধ্যে নাস্তিকতার হার বেশী হওয়ার কারণ হচ্ছে আমেরিকা একটি খ্রীষ্টান-অধ্যুষিত দেশ হওয়াতে বিজ্ঞানীদের অধিকাংশই (হয়তো ৯০ ভাগেরও বেশী) খ্রীষ্টান পরিবার থেকে উঠে আসা। আর খ্রীষ্টান ধর্মে একদিকে গডের বিকৃত ধারণা এবং অন্যদিকে খ্রীষ্টানদের মৌলিক বিশ্বাস ও বাইবেলের কিছু অসারতার কারণে খ্রীষ্টান পরিবারের বিজ্ঞানীদের নাস্তিক বা অজ্ঞেয়বাদী হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে আমেরিকার এই ৪১% নাস্তিক বিজ্ঞানীর মধ্যে মুসলিম পরিবারের বিজ্ঞানী আছে বলে মনে হয় না। কাজেই আমেরিকা যদি মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ হতো তাহলে সেখানে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নাস্তিকতার হার ৫%-এর বেশী হতো কি-না সন্দেহ।

    সূত্র- http://www.pewforum.org/2009/11/05/scientists-and-belief/

  4. 4
    ইনতেহাব হোসাইন জাওয়াদ

    ভাল লাগলো। তথ্যবহুল একটি পোস্ট। নাস্তিকদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী একটি লেখা…

  5. 3
    ডা:নিয়াজ

    মাশাআল্লাহ! আপনার লেখা ব্লগগুলো একত্র করে ইবুক বের করতে পারেন। আর সদালাপে আপলোড করে নিতে পারেন। এ ব্যাপারে সদালাপের মডারেটর এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মুক্তমনাতে ইবুক এর ছড়াছড়ি। কিন্তু সত্য প্রচার করেও সদালাপ পিছিয়ে থাকবে কেন?

  6. 2
    আশরাফ মাহমুদ মুন্না

    কোন এক কালে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অধ্যাবসায়, স্বতঃস্ফূর্ত চিন্তা ভাবনা, ব্যক্তিগত নিষ্ঠা ইত্যাদির মাধ্যমে বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানের তত্ত্ব ইত্যাদি সৃষ্টি হতো। এখন সেই দিন আর নেই।

    বিশ্ব রাজনীতির যারা নিয়ন্ত্রক, বিশ্ব মুদ্রা ব্যবস্থার যারা নিয়ন্ত্রক তাদের হাত ধরেই বিজ্ঞান সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের হাত ধরেই বিজ্ঞানী সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কী বোঝা যায়??? ব্যাপারটা বেশ জটিল। পি.এইচ.ডি থিসিসের বিষয় হতে পারে।

    বিশ্ব মৃদ্রা ব্যবস্থার রহস্য বোঝা গেলে সব কিছু জলের মত পরিষ্কার হয়ে যাবে। এর মূল প্রোথিত আছে আমেরিকার কেন্দ্রিয় ব্যাংক Federal Reserve System সৃষ্টির প্রক্রিয়ার মধ্যে। ও আল্লাহ তাই। সত্যিই তাই।

    নিচের লেকচারটা শুনলে কিছুটা আঁচ করতে পারবেন। আগ্রহী হলে অনেক গভীর যেতে পারবেন। প্রাসঙ্গিক অন্যান্য ভিডিও দেখার ঔৎসুখ্য সৃষ্টি হবে।

    https://www.youtube.com/watch?v=dukczz_kyco

    https://www.youtube.com/watch?v=2PNM_03FKCE

  7. 1
    আশরাফ মাহমুদ মুন্না

    আমি মনে করি --

    -- নাস্তিক হওয়ার জন্য মেধার প্রয়োজন হয় না। এটি একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। যদি না-হতো তাহলে সব বিজ্ঞানীই নাস্তিক হতো। এবং অনেক অনেক বিজ্ঞানী আস্তিক হতো না।

    -- বিজ্ঞানী শুধুমাত্র মেধা দিয়ে সৃষ্টি হয় না। এর সাথে অর্থও লাগে। গবেষণা লাগে। গবেষণার জন্য অবকাঠামো লাগে। ল্যাব, যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধে লাগে। এগুলোর জন্য কাড়িকাড়ি অর্থ লাগে। বাজেট লাগে।

    আমার কাছে পরিসংখ্যান, Facts & Figure নেই। তারপরও অনুমানের ভিত্তিতে বলতে চাই – গত ৫০ বছর সময়কালে নোবেল লরিয়েট বিজ্ঞানীদের তালিকা দেখুন। আমি নিশ্চিত এখানে ইহুদীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এবং তা' অধিকাংশই উন্নত বিশ্বের, যারা গবেষণার জন্য বাজেট ও প্রয়োজনীয় উপযুক্ত অবকাঠামোর যোগান দিতে পারে। বলা বাহুল্য যে ইউরোপ আমেরিকার ব্যাংকগুলোর মালিক কিন্তু ইহুদীরাই। বিশ্বব্যাংক, আই.এম.এফ এর মালিক তারাই। এরাই পেট্রোডলার ছাপানোর মেশিনের একক মালিক। এগুলো দিয়ে তারা যুদ্ধ বাধায়। প্রযুক্তি বানায়। অনুগত দাস বানায়। গবেষণায় টাকা ঢালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নামক শক্তি অর্জন করতে সচেষ্ট হয়।

    একজন ভারতীয় বিজ্ঞানীকে গবেষণার জন্য যেতে হয় ইহুদীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে। মার্কিনীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিংবা ইউরোপের কোন প্রতিষ্ঠানে। তাই না? কেননা তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আছে।

    শেষ কথা --

    "বিজ্ঞানী হওয়া-না-হওয়া" ব্যাপারটা দেশ, ধর্ম, ব্যক্তির উপর যতটা নির্ভর করে তার চাইতে বেশী নির্ভর করে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের উপর। এবং তা' বিজ্ঞান গবেষণার জন্য।

    প্রশ্ন উঠতে পারে --

    সৌদি আরবসহ অন্যান্য মিডল ইষ্টের দেশসমূহে বিজ্ঞানী জন্মাচ্ছে না কেন?

    ঐটা প্রশ্নই থাকলো! কেউ জবাব দিক। আমারটা আমার মতো করে পরে দিতে চেষ্টা করবো।

    1. 1.1
      এস. এম. রায়হান

      বিজ্ঞানী শুধুমাত্র মেধা দিয়ে সৃষ্টি হয় না। এর সাথে অর্থও লাগে। গবেষণা লাগে। গবেষণার জন্য অবকাঠামো লাগে। ল্যাব, যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধে লাগে। এগুলোর জন্য কাড়িকাড়ি অর্থ লাগে। বাজেট লাগে।

      এই চরম বাস্তবতা মুক্তমোল্লাদের বিজ্ঞানীকে কে বুঝাবে! সে বরং ইনিয়ে-বিনিয়ে কাহিনী ফেঁদে তার মুরিদদের মস্তক ধোলাই করছে এভাবে-

      কোরআনে যদি এতই বিজ্ঞান থাকত তাহলে আজ পর্যন্তও মসজিদের ঈমাম ও মুফতি-মাওলানারা বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পায়নি কেন? হেঁ হেঁ হেঁ 😀

      মুরিদরা সমস্বরে কোরাস গাচ্ছে-

      জ্বী গুরুজী! জ্বী গুরুজী! মসজিদের ঈমাম ও মুফতি-মাওলানারা আজ পর্যন্তও বিজ্ঞানে কোনো নোবেল পুরষ্কার পায়নি। হেঁ হেঁ হেঁ 😀

Leave a Reply