«

»

জুন ০৫

বিবর্তনবাদীরা তাহলে ঠিক কোন্‌ প্রাণী থেকে এসেছে?

বিবর্তনবাদের সমালোচকদের মধ্যে কেউ কেউ কৌতুকচ্ছলে কিংবা ধরা যাক না জেনে কখনো বানর থেকে মানুষের বিবর্তনের কথা বলে, কখনো বা আবার বিবর্তনবাদীদেরকে 'বানরের বংশধর' বলে হাসি-ঠাট্টা করে থাকেন। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন এই বলে যে, বানর থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে এখনো অনেক বানর প্রজাতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো থেকে মানুষ বিবর্তিত হওয়ার কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না কেন? (নোট: আমার লেখার কোথাও এই ধরণের কথাবার্তা বা প্রশ্ন পাওয়া যাবে না।) তো এই ধরণের কথাবার্তা বা প্রশ্ন শোনার সাথে সাথে বিবর্তনবাদীরা তেড়ে এসে প্রশ্নকারীকে অজ্ঞ-মূর্খ বলে এক হাত দেখিয়ে দিয়ে মহাবিজ্ঞের মতো যা বলেন তার অর্থ এ'রকম-

হেঁহেঁহেঁ! বিবর্তন সম্পর্কে আপনাদের কোনো ধারণাই নাই! বানর থেকে তো মানুষ বিবর্তিত হয়নি! বরঞ্চ মানুষ ও বানর একটি ‘সাধারণ পূর্ব-পুরুষ’ থেকে এসেছে।

কিন্তু সেই ‘সাধারণ পূর্ব-পুরুষ’ কি মানুষ নাকি বানর নাকি অন্য কোনো প্রাণী ছিল, সেটা কখনোই পরিষ্কার করে বলা হয় না! বরঞ্চ ব্যাপারটাকে ধামাচাপা দিয়ে রেখে উল্টোদিকে বিবর্তনবাদের সমালোচকদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উপহাস-বিদ্রূপ করা হচ্ছে। আর এই উপহাস-বিদ্রূপকারীদের দলে যখন বিজ্ঞানে ডক্টরেটধারী ও পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককেও দেখা যায় তখন জেনেশুনে চুপচাপ থাকাটা এক ধরণের অন্যায় বলেই মনে হয়।

যেমন, ড. ইরতিশাদ আহমদ নামে একজন মুক্তমনা বামপন্থী নাস্তিক ও অমেরিকার কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে তাঁর প্রথম লেখাটি (মূলত বামপন্থী নাস্তিক বন্যা আহমেদের লিখা একটি বইকে 'বেদ-বাক্য' ধরে নিয়ে সেই লেখাটি তৈরী করা হয়েছে) যেভাবে শুরু করেছেন-

dr.irtishad

প্রথমত- লক্ষণীয় একটা ব্যাপার হচ্ছে ড. প্রদীপ দেব ও ড. ইরতিশাদ আহমদ উভয়ের লেখাতেই বিবর্তনবাদের সমালোচকদের (এক্ষেত্রে মুসলিম) নামে গ্রাম্য বা আঞ্চলিক ভাষায় উদ্ধৃতি দিয়ে বুঝাতে চাওয়া হয়েছে যে, মুসলিম মানেই অজপাড়াগাঁয়ের অজ্ঞ-মূর্খ লোকজন যারা আঞ্চলিক ভাষায় ছাড়া কথা বলতে পারে না।

দ্বিতীয়ত- কোনো সূত্র বা পরিসংখ্যান ছাড়াই বলা হয়েছে, "কিন্তু বিবর্তনতত্ত্ব বলতে এখনো অনেকেই মনে করেন ‘আমরা মানুষেরা বানর থেকে এসেছি’ এটাই এই তত্ত্বের মূল কথা।"

পাঠক! আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে বিবর্তনবাদের যৌক্তিক সমালোচনা করে লেখালেখি করছি তাদের কেউই কখনো এই ধরণের কথা বলেননি। ড. ইরতিশাদ সাহেব তাহলে এই ধরণের আজগুবি কথা পেলেন কোথা থেকে! বিবর্তনবাদের সমালোচকদেরকে অজ্ঞ-মূর্খ হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্য ছাড়া আর কী হতে পারে? বাস্তবতা হচ্ছে বিবর্তনবাদীরা নিজেরাই বিবর্তন তত্ত্ব বলতে মূলত বানর জাতীয় প্রজাতি থেকে মানুষের বিবর্তনকেই বুঝিয়ে থাকেন। কেননা তাদের লেখাগুলোতে মানুষের বিবর্তন ছাড়া অন্যান্য লক্ষ লক্ষ প্রাণী ও উদ্ভিদের বিবর্তন নিয়ে তেমন কিছুই দেখা যায় না। কেননা বিবর্তনবাদী নাস্তিকদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে বিবর্তনবাদ দিয়ে আব্রাহামিক ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্বকে 'ভুল-মিথ্যা-অসার' বানিয়ে দিয়ে নাস্তিকতা প্রচার করা। কাজেই ড. ইরতিশাদ সাহেব এখানে জেনেবুঝে অসততার পরিচয় দিয়েছেন।

তৃতীয়ত- ড. ইরতিশাদ সাহেব বলেছেন, "বানরজাতীয় প্রাণী থেকে আমাদের মানুষ প্রজাতির উদ্ভব ঘটেছে এটা বোঝাতে চাইলে কথাটা ভুল নয়। কিন্তু কোন ব্যাখ্যা ছাড়া সরাসরি এভাবে বলার ফলে কমপক্ষে দুটি ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়। এক – হঠাৎ করেই কিছু বানর মানুষ হয়ে গেছে। দুই –  কিছু কিছু বানর এখনো মানুষ হয়ে যেতে পারে। এই ভুল ধারণারগুলোর ভিত্তিতে অনেকেই সম্পূর্ণ তত্ত্বটাকে না বুঝেই খারিজ করে দেন।"

পাঠক! চরম হাস্যকর রকমের কথাবার্তা! উনি লেখার শুরুতেই বিবর্তনবাদের সমালোচকদেরকে 'অজ্ঞ-মূর্খ' হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন এই বলে যে, বিবর্তনবাদের সমালোচকদের দাবি অনুযায়ী "আমরা বান্দর থাইকা আইছি"! অথচ পরক্ষণেই উনি স্বীকার করছেন এই বলে যে, "বানরজাতীয় প্রাণী থেকে আমাদের মানুষ প্রজাতির উদ্ভব ঘটেছে এটা বোঝাতে চাইলে কথাটা ভুল নয়।" এই কথা যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে উনি শুরুতেই বিবর্তনবাদের সমালোচকদেরকে নিয়ে উপহাস-বিদ্রূপ করলেন কেন? অধিকন্তু, আমাদের কারো লেখাতেই উনার দাবিকৃত 'দুটি ভুল ধারণা'র উপর ভিত্তি করে বিবর্তন তত্ত্বকে খারিজ করে দেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের কারো লেখাতে উনার দাবিকৃত 'দুটি ভুল ধারণা'র কোনো একটিও উল্লেখ করা হয়েছে বলে মনে হয় না। কাজেই এক্ষেত্রেও ড. ইরতিশাদ সাহেব নিজেকে মহাবিজ্ঞ হিসেবে দেখিয়ে বিবর্তনবাদের সমালোচকদের মুখে কথা গুঁজে দিয়ে তাদেরকে হেয় করার চেষ্টা করেছেন।

চতুর্থত- ড. ইরতিশাদ সাহেব আরো বলেছেন, "ধর্মে বিশ্বাস হারানোর ভয়ে অনেকে আবার বুঝতেই চান না।"

আবারো নাস্তিক ইরতিশাদ সাহেবের হাস্যকর রকমের দাবি! আমরা যেখানে বিবর্তন তত্ত্বকে আড়াআড়ি-লম্বালম্বি-কোণাকুণি ব্যবচ্ছেদ করে সবার সামনে মেলে ধরেছি, সেখানে কিনা উনার দাবি অনুযায়ী ধর্মে বিশ্বাস হারানোর ভয়ে অনেকে বিবর্তন তত্ত্বকে বুঝতেই চান না! বাস্তবতা হচ্ছে নাস্তিকতায় বিশ্বাস হারানোর ভয়ে উনি নিজেই বিবর্তন তত্ত্বকে বুঝতে চাননি। এজন্য উনি স্বগোত্রীয় নাস্তিক বন্যা আহমেদের লেখাকে 'বেদ-বাক্য' ধরে নিয়ে বসে আছেন।

নোট: ড. প্রদীপ দেব ও ড. ইরতিশাদ আহমদ-সহ বাংলা অন্তর্জালে যারা বিবর্তনবাদকে ডিফেন্ড করে লেখালেখি করছেন তাদের কারো লেখাতেই বিবর্তনবাদের সমালোচকদের (এক্ষেত্রে মুসলিম) লেখা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হয় না। বরঞ্চ 'সৃষ্টিবাদী' বা 'বিবর্তনবিরোধী'দের নামে ঢালাওভাবে আবল-তাবল কথাবার্তা বলে নিজেদেরকে মহাবিজ্ঞ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। এটা কোনো অ্যাকাডেমিসিয়ানের কাজ হতে পারে না। মুক্তমনা সম্প্রদায়ের মনে সম্ভবত 'ব্রাহ্মণ পুরোহিত পুরোহিত' ভাব কাজ করে। এজন্য মুসলিমদের নামে কিছু বলতে হলে কোনো সূত্র-টূত্র দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

যাহোক, এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে অবিশ্বাসীদের মধ্যে অনেক 'ভুল ধারণা' আছে! পুরাই ধর্মের মতো আরকি! সেই ভুল ধারণাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে: বানর থেকে মানুষের বিবর্তন। বিবর্তনবাদীরা বলতে চাচ্ছেন যে, তারা বানর থেকে বিবর্তিত হয়নি। বরঞ্চ বানর ও তারা একটি 'সাধারণ পূর্ব-পুরুষ' থেকে বিবর্তিত হয়েছে। বিবর্তনবাদীদের লেখাতে এই ধরণের দাবি যে কতবার এসেছে তার কোনো হিসাব নাই। মাত্র দু-এক দিন আগেও 'মানবতায় বিশ্বাসী' নিকে এক ছুপা বিবর্তনবাদী একই দাবি করে আমাদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে চম্পট দিয়েছেন-

mb

ভালো কথা। বিবর্তনবাদে অবিশ্বাসীরা না হয় 'অজ্ঞতাবশত' এই ধরণের কথাবার্তা বলছেন। কিন্তু মহাবিজ্ঞ বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে:

– বিবর্তনবাদী পণ্ডিতরা নিজেরা কি কখনো স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তারা অমুক প্রাণী থেকে বিবর্তিত হয়েছেন? না বলে থাকলে এতদিনেও বলা হয়নি কেন? আর সেক্ষেত্রে কেনই বা উল্টোদিকে সমালোচকদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিয়ে উপহাস-বিদ্রূপ করা হচ্ছে?

– বিবর্তন তত্ত্বের কোথাও কি লিখা আছে যে, বানর থেকে মানুষ বিবর্তিত হতে পারে না? অন্য কথায়, বানর থেকে মানুষের বিবর্তন কি বাস্তবে সম্ভব নয়? যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কেন সম্ভব নয় তা সুস্পষ্ট যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে কি?

– বিবর্তনবাদীরা কি নিজেদেরকে 'বানরের বংশধর' হিসেবে দেখতে অপমানিত বোধ করেন? তা না হলে এই ধরণের কথা শুনে ক্ষেপে যাওয়ার কারণ কী! নাকি তারা নিজেরাই বিবর্তনে বিশ্বাস করেন না!

সর্বোপরি- বিবর্তনবাদীরা বান্দর থাইকা আহেনি? ভালো কথা। তাহলে তারা নিজেরাই স্পষ্ট করে বলুক তারা ঠিক কোন্‌ প্রাণী থেকে এসেছে, এবং সেই প্রাণীর তথা 'সাধারণ পূর্ব-পুরুষ'-এর নাম ও ছবি প্রকাশ করে বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে এই 'ভুল ধারণা'র চিরতরে অবসান ঘটানো হোক। বল এখন বিবর্তনবাদীদের কোর্টে।

এই প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়ার পরেও যদি বিবর্তনবাদে অবিশ্বাসীরা একই কথাবার্তা বলে তখন না হয় দেখা যাবে। কিন্তু প্রশ্নগুলোর জবাব না দিয়ে একই বুলি আউড়িয়ে সুকৌশলে মুসলিমদেরকে হেয় করা হলে বুদ্ধিমান পাঠক ঠিকই তাদের বিজ্ঞানের মোড়কে ভণ্ডামী বুঝে যাবেন।

১০ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. mahfuz08

    @ এস. এম. রায়হান :

     

    ডারউইনবাদ এবং অধুনিক বিবর্তনবাদ কি এক জিনিস?

    যদি সেটা না হয়ে থাকে, তবে এই দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য কি?

     

    1. ১.১
      এস. এম. রায়হান

      বিবর্তনবাদীদের লেখায় 'অধুনিক বিবর্তনবাদ' বলে কিছু নজরে পড়েনি, তবে 'নিও-ডারউইনবাদ' নামে কিছু একটা তারা প্রচার করে।  'ডারউইনবাদ' এবং 'অধুনিক বিবর্তনবাদ/নিও-ডারউইনবাদ' এর মধ্যে যদি কোনো পার্থক্য থেকে থাকে তাহলে সেটা তাদেরকেই পরিষ্কার করে বলতে হবে।

  2. এস. এম. রায়হান

    বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: সৃষ্টিবাদীদের দাবি অনুযায়ী আমরা নাকি বান্দর থিকা আইছি!

    যুক্তিবাদী: বুঝলাম, সৃষ্টিবাদীরা খুব খ্রাপ। কিন্তু তোমরা তাহলে কী থিকা আইছ?

    বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: ম্যাঁ ম্যাঁ ব্যাঁ ব্যাঁ!

    যুক্তিবাদী: তার মানে তোমরা ছাগল থিকা আইছ?

    বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: ভ্যাঁ ভ্যাঁ!

    যুক্তিবাদী: তার মানে তোমরা ভেড়া থিকা আইছ?

    বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: হাম্বা হাম্বা!

    যুক্তিবাদী: তার মানে তোমরা গরু থিকা আইছ?

    বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: ঘেউ ঘেউ!

    যুক্তিবাদী: তার মানে তোমরা কুকুর থিকা আইছ?

    বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: ঘোঁৎ ঘোঁৎ!

    যুক্তিবাদী: তার মানে তোমরা শুকর থিকা আইছ?

    বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: ম্যাঁ ম্যাঁ! ভ্যাঁ ভ্যাঁ! হাম্বা হাম্বা! ঘেউ ঘেউ! ঘোঁৎ ঘোঁৎ!

    যুক্তিবাদী: তার মানে তোমরা এক সাথে ছাগল, ভেড়া, গরু, কুকুর, ও শুকর থিকা আইছ?

    বিবর্তনবাদী ধর্মান্ধ: ছেড়ে দে বাপ, কেঁদে বাঁচি!

    যুক্তিবাদী: আচ্ছা যাও, শেষবারের মতো ছেড়ে দেওয়া হলো।

  3. mahamud

    মানুষ থেকে বানর হউয়া সম্ভব।যেমন কোরানে আছে?

  4. Milon

    নাস্তিক মানেই যেন ইসলাম বিদ্বেষী। আর আস্তিক মানেই যেন কোরান বিজ্ঞানী। বোরিং হয়ে গেলাম একই বিষয়ের পুনরুতপত্তির জন্য। বান্দর থেকে মানুষ এসেছিল কি না জানি না। তবে ধর্ম আর বিজ্ঞানের এমন তর্ক যদি চলতেই থাকে, তবে আপনাদের মত আস্তিক আর নাস্তিকগন যে অদূর ভবিষ্যতে বান্দর হতে পারে, তা অনুমান করতে পারছি।

    ডারউইন কোথাও বলেন নি যে, বান্দর থেকে মানুষ এসেছে। বরং এটা বলেছিলেন যে, বানরের মত এক শ্রেনীর প্রানী হতে মানুষের আবির্ভাব হয়েছে। বান্দর থেকে মানুষের আবির্ভাব, এই কথাটা ডারউইন মারা যাবার পরে, তার শিষ্য মজা করে বলতেন, তা সিরিয়াসরুপে বর্তমানে আস্তিকদের কানে প্রতিধ্বনিত হয়ে চলেছে।

    বিবর্তনের পর্যায়ক্রমিক ধারায় দেখা যায় যে, একটা শাখা হতে কয়েকটা প্রশাখার সৃষ্টি হয়, যার একটিতে বানর, একটিতে নর বানর, একটিতে শিম্পান্জি। নর বানরের লেজ ছিল না। তাদের মস্তিষ্কের গঠন, দেহের গঠন, ডি এন এ গঠন, হারের গঠন ও সংখ্যা, সব মিলিয়ে প্রায় মানুষের অনুরুপ। এদেরতে না বলা যায়য় বানর, না বলা যায়য় মানুষ, তাই এদেরকে প্রায় মানুষ বলা হয়। বলতে পারেন, তাহলে মানুষ, বানর কিংবাবা শিম্পন্জি পরিবর্তন হয় না কেনন?
    তাহলে আমি বলবো, বিবর্তন এমন নয় যে, রাতে বানর নিয়ে ঘুমালেন আর সকালে দেখলেন অন্য প্রানী হয়ে গেছে। জাস্ট জোকিং। বিবর্তন যে হচ্ছে না, এটাই কে বলেছে আপনাকে? মানুষ সহ সব কিছু বিবর্তিত হয়ে চলেছে। পরিবর্তন হয়ে চলেছে শারীরিক, মস্তিষ্ক, সহ যাবতীয় কিছুর। সেটা বুঝতে হলে কয়েক হাজার বছরের অতীতে ফিরে যেতেতে হবে, আর মানুষের শারীরিক গঠন নিয়ে গবেষনায় নামতে হবে।

    ধর্ম তো আদমকে মাটি থেকে পুতুল বাঁনিয়ে ফুঁ দিয়েই মানুষের সৃষ্টি তত্ত্বের কাহিনী শেষ করে ফেলেছে। আর বিশ্বাসের কথাথা বলে, তার সত্যতা যাচাই করার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা তো সৃষ্টি রহস্য বের করার চেষ্টা করছে। আর আমরা মানুষ তাকে আগ্রহ না দেখিয়ে, আক্রমনাত্মক কথা বলে, তার গবেষনার পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছি।

    এজন্যই বললাম, বানর থেকে মানুষ হয়েছে, এটা একটা মজার কথা, বাস্তবতা নয়। বাস্তবতা উন্মোচিত হয়েছে জীবাশ্ন বিজ্ঞান, আর শরীর বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা এবং নৃবিজ্ঞানের মাধ্যমে।

    1. ৪.১
      Wings of Fire

      //পরিবর্তন হয়ে চলেছে শারীরিক, মস্তিষ্ক, সহ যাবতীয় কিছুর//

      – ভালো কথা!

      তাই বলে কি মানুষ মিষ্টি কুমড়া, আলু, পটল বা ভেন্ডিতে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে?? বিবর্তন-এর কিছু বুঝেন আপনি?

      বিবর্তন নিয়ে তর্ক করার পূবে এই লিংক হতে একটু ঘুরে আসুন:-

      http://www.shodalap.org/smraihan/9022/

      //আর মানুষের শারীরিক গঠন নিয়ে গবেষনায় নামতে হবে//

      – “গোবেষণা” তো বহুদিন ধরেই চলছে! কি প্রমাণ করতে পেরেছে বান্দর থিওরিতে বিশ্বাসীরা?

      ঠিক আছে, বান্দর থিওরিতে বিশ্বাসী হিসেবে আপনিই না হয় কিছু প্রমাণ দিন? মানুষ যে অতীতে বান্দর ছিল বা বান্দর সদৃশ কোন প্রাণী ছিল তার স্বপক্ষে এখানে কিছু ফসিল রেকড উপস্থাপন করুন। @Milon

    2. ৪.২
      এস. এম. রায়হান

      আপনার মতো লেঞ্জাধারী ছুপাদের জন্য এই পোস্ট দ্রষ্টব্য।

  5. এস. এম. রায়হান

    বিজ্ঞানে পিএইচডি-ধারী ও পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেখানে মুসলিমদেরকে হেয় করতে যেয়ে আমাদের প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে না পেরে ধীরে ধীরে গর্তে লুকাচ্ছেন, সেখানে মাদ্রাসার তিন ক্লাশ পড়ুয়া এক কাঠমোল্লা বিবর্তনবাদের উপর সবক দেয়া শুরু করেছে! পাঠক, হাসবেন না কাঁদবেন! যে বিষয়টা নিয়ে ড. ইরতিশাদ আহমদকে আজ থেকে এক বছরেরও বেশি সময় আগে প্রশ্ন করা হয়েছে, সেই বিষয়টা নিয়েই ধর্মান্ধ কাঠমোল্লার মন্তব্য দেখুন-

    https://www.amarblog.com/nazmul-vai/posts/187959

  6. কিংশুক

    আকাশ মালিকও একজন বিবর্তন বিশেষজ্ঞ আর তেলাপোকাও একটা পাখী।

  7. এস. এম. রায়হান

    ড. ইরতিশাদ আহমদের জবাবের অপেক্ষায় আছি… বিজ্ঞানে পিএইচডি-ধারী ও আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন 'মুক্তমনা প্রগতিশীল নাস্তিক' শিক্ষক সত্যের মুখোমুখি হয়ে পিছুটান দেবেন নাকি সামনে এগোবেন, দেখা যাক…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।