«

»

জানু. ১২

কবীর সুমনের উপর অভিজিতের ক্ষোভের নেপথ্যে

বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগ পর্যন্ত যেকোনো বিষয়ে একজন মানুষের মত বা বিশ্বাস পাল্টাতে পারে। কেউই তার জীবদ্দশায় শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে দাবি করতে পারবে না যে, অমুক বা তমুক বিষয়ে তার বিশ্বাস বা মত জীবনেও কখনো পাল্টাবে না। সেলিব্রিটি ও গায়ক কবীর সুমনও যে তার বিশ্বাস আবার পাল্টাবেন না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। কাজেই কবীর সুমনের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারটাকে এক পাশে রেখে এই পোস্টে বরং অভিজিৎ রায়ের ভণ্ডামী ও সাম্প্রদায়িক মুখোশ আরো একবার উন্মোচন করা হবে।

কবীর সুমনের পূর্বের নাম ছিল সুমন চট্টোপাধ্যায়। সুমনের সেই সময়কার একটি গানের বাণী-

আমি চাই হিন্দু নেতার সালমা খাতুন পুত্র বধূ

আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু,

আমি চাই বিজেপি নেতার সালমা খাতুন পুত্র বধূ

আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু।

মুক্তমনাদের প্রভুজী অভিজিতের কাছে সুমনের এই গানের বাণীটা ছিল বেশ প্রিয়। এজন্য সামহোয়্যারইন ব্লগে 'যুঞ্চিক্ত' আইডির প্রোফাইলে এই গানের প্রথম দুই লাইন ঝুলিয়েও রাখা হয়েছিল। বিস্তারিত এখানে

KS1

আর সুমনের এই গানের অনুপ্রেরণাতেই হয়তো তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম হয়েছে 'বন্যা আহমেদ', যদিও 'সালমা খাতুন' নয় অবশ্য! যাহোক, সুমনের এই গান নিয়ে অভিজিতের কোনো সমস্যা তো ছিলই না বরং এই গানের বাণীটা ছিল তার কাছে বেশ প্রিয়। এমনকি সুমনের এই গানের বিরুদ্ধে মুসলিমদের কোনো রকম প্রতিবাদের কথাও কখনো শোনা যায়নি। অন্যদিকে এই সূত্র অনুযায়ী সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে বিয়ের আগে সুমন চার বার বিয়ে করেছিলেন। তাছাড়াও উনি প্রচণ্ড রকম নারীতে আসক্ত ছিলেন। অভিজিতের কাছে এগুলোও কোনো সমস্যা ছিল না। কেননা সেই সময় সুমন ছিলেন অভিজিতের মতোই একজন 'অক্ষত ব্রাহ্মণ', তা আস্তিক বা নাস্তিক যা-ই হোক না কেন।

তাহলে মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হচ্ছে সুমনের উপর অভিজিতের ক্ষোভ শুরু হলো ঠিক কবে থেকে ও কী কারণে? ওয়েল, এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পুরো লেখাটা পড়তে হবে।

অভিজিৎ যেখানে সুমনের একটি গানের বাণী দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নিজে 'অক্ষত' থেকে একজন মুসলিম নামধারী বাম নাস্তিক মেয়েকে বিয়ে করেছে, এমনকি তাকে ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবহারও করা হচ্ছে; সেখানে তার রোল মডেল সুমনের ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক উল্টো ঘটনা! কাঁহাতক আর সহ্য হয়! নাম-না-জানা কেউ কিংবা কোনো দলিত-শুদ্র হলে না হয় একটা কথা ছিল। কিন্তু তাই বলে একেবারে নিজের রোল মডেল! সুমনের উপর অভিজিতের ক্ষোভটা এখানেই। কিন্তু সেই কথা তো আর সরাসরি বলা যায় না।

২০০০ সালের কোনো এক সময় সুমন ইসলাম গ্রহণ করে সাবিনা ইয়াসমিনকে বিয়ে করেন, যদিও সাবিনাকে বিয়ে করার জন্যই উনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন নাকি বিয়ের আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত না। তবে যা-ই হোক না কেন, সুমনের ইসলাম গ্রহণের খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই অভিজিৎ তাকে এক হাত দেখে নেওয়ার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর প্রথম 'সুযোগ' আসে ২০০৭ সালের জুলাই মাসে। সেই সময় সামহোয়্যারইন ব্লগে 'মেজভাবী' আইডি থেকে কবীর সুমনকে কৌশলে হেয় করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেই পোস্টের শিরোনাম ও 'মেজভাবী'র একটি মন্তব্য নিচে দেওয়া হলো।

KS2

সাবিনা ইয়াসমিন যখন ক্যান্সারে মুমূর্ষু অবস্থায়, কবির সুমন তখন 'ব্যস্ত'। — এজন্য আমগো 'মেজভাবী'র 'মানবতাবাদী মন' ডুঁকরে কেঁদে উঠেছে! আর এই সুযোগে লেঞ্জা লুকিয়ে কবীর সুমনকে 'ভন্ড মানবতাবাদী গায়ক' আখ্যা দিয়ে তার গান বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। শুধু কি তাই? কবীর সুমনের উপর আক্রোশবশত পোস্টের শিরোনামে তার নাম বিকৃতি করে 'কবির' লিখা হয়েছে! আর এভাবে লেঞ্জা লুকিয়ে গুঁড় লাগিয়ে দিয়ে মন্তব্যের ঘরে কয়েকজন ব্লগারের দ্বারা কবীর সুমনকে ধোলাইও দিয়ে নেওয়া হয়েছে। 'মেজভাবী'র সেই পোস্টে কিছু মন্তব্য দেখুন-

ঢালী! বলেছেন: দুর বাল! বাতিল মাল!

অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: ভাবী খুব ভালো একটা পয়েন্ট তুলেছেন। এটা নিয়ে বন্ধু মহলে অনেক কথাও হয়েছে কিন্তু ব্লগে হয়নি। গুড জব ভাবী।

মুকুল বলেছেন: শমী কায়সারের কাছ থেকে সাবিনার শিক্ষা নেয়া উচিত ছিলো। দাদারা তো এমনই!!!???

সোনার বাংলা বলেছেন: ভাবী আমি আপনার সাথে ১০০% একমত। এই ভন্ড সুমনের গান বর্জন করা উচিত।

ফজল বলেছেন: শালা ভন্ড!

ঘিরিঙ্গী বলেছেন: কি লজ্জা।

কোপা সামছু বলেছেন: মালু সুমন তো ব্যাস্ত থাকবই। মালু তো এখন নতুন সাবিনা খুজতে ব্যস্ত…. মরা ক্যান্সার রোগী দিয়া ওই কি করব?
 
রাশেদ বলেছেন: ভন্ড কোইলকাইত্তার মানুষজন।

এই পোস্টের দ্বারা কৌশলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, কবীর সুমন 'ব্রাহ্মণ' থেকে 'মুসলিম' হওয়ার পর 'অমানবিক' হয়ে গেছেন! এবার একই পোস্টের সর্বশেষ মন্তব্যটা দেখা যাক-

KS3

এই মন্তব্য অনুযায়ী ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাবিনার জন্য সুমন একটি কনসার্ট করেছিলেন। এই মন্তব্যটা দেখার পরও কিন্তু 'মেজভাবী' ওরফে ভাবীজিৎ রায় কিছু বলেনি। কেননা সুমনের উপর ভাবীজিৎ রায়ের চাপা ক্ষোভ ছিল। সুমনের সেই কনসার্টের গানটা নিচে দেওয়া হলো।

httpv://www.youtube.com/watch?v=iqN8D7iqi20

তাহলে দেখা যাচ্ছে আজ থেকে প্রায় ৮ বছর আগে ২০০৭ সালের জুলাই মাসে একটি 'সুযোগ'-এর সদ্ব্যহার করে অভিজিৎ রায় প্রথম বারের মতো কবীর সুমনকে 'ভন্ড মানবতাবাদী গায়ক' আখ্যা দিয়ে তার গান বর্জনের আহ্বান জানায়। এর পর অভিজিৎ আবারো সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো। কবীর সুমনকে রীতিমতো ওয়াচে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর ২০১৪ সালের শেষের দিকে এসে আরো কিছু 'সুযোগ' হাতের মুঠোয় চলে আসে।

২০০৭ সালে লেঞ্জা লুকিয়ে 'মেজভাবী' সেজে কবীর সুমনের উপর হালকা প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছিল। কবীর সুমনের বিরুদ্ধে কিছু জনমতও গড়ে তোলা হয়েছিল সেই সময়। কিন্তু বর্তমানে যেহেতু মোদিজী ক্ষমতায় আছেন সেহেতু লেঞ্জাটেঞ্জা লুকানোর আর কী দরকার। এবার আসল নামে নিজ ব্লগেই কবীর সুমনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আচ্ছামতো প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে। কীভাবে প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে তার কিছু নমুনা দেখা যাক। মুসলিমদের বিরুদ্ধে বাংলা অন্তর্জালের সবচেয়ে বড় 'অস্ত্র' প্রয়োগ করে কবীর সুমনকে পরোক্ষভাবে 'ছাগু' প্রমাণ করার জন্য যেভাবে শুরু করা হয়েছে-

KS4

এখানে দেখা যাচ্ছে কোনো একজন ব্লগারের পুরো স্ট্যাটাস বা অংশবিশেষ কপিপেস্ট করা হয়েছে। কিন্তু সেই ব্লগার কে? তার নাম-পরিচয় কী? কবীর সুমন কোথায় সেই স্ট্যাটাস শেয়ার দিয়েছেন? এগুলোর কোনোই লিঙ্ক বা সূত্র দেওয়া হয়নি। এর কারণ হচ্ছে: প্রথমত, কবীর সুমন যদি সেই স্ট্যাটাস শেয়ার দিয়েও থাকেন তথাপি সেটি পরে মুছে ফেলা হয়েছে; দ্বিতীয়ত, স্ট্যাটাসটা পড়ে যেকারো বুঝার কথা যে, সেই ব্লগারও একজন ভারতীয়। কিন্তু কোনো লিঙ্ক ছাড়াই স্ট্যাটাসটাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে করে পাঠকরা মনে করে সে একজন বাংলাদেশি এবং জামাতপন্থী। এটা করা হয়েছে তাকে 'ছাগু' বানিয়ে দিয়ে কবীর সুমনকেও পরোক্ষভাবে 'ছাগু' প্রমাণ করা। কিন্তু অভিজিতের কাছে যেহেতু মুসলিম মানেই বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত ছাগু, জঙ্গী, সন্ত্রাসী, ছুপা সন্ত্রাসী, ইত্যাদি, সেহেতু কবীর সুমনের ক্ষেত্রে এত ত্যানা পেঁচানোর কোনোই দরকার ছিল না। সরাসরি বললেই হয়ে যেত। কবীর সুমনকে সেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছেও যেটি তার পুরো লেখাটি পড়লে যেকেউ বুঝতে পারবেন। এমনকি মুসলিম নামধারী ও ইসলামের সমালোচক নাস্তিকদেরও কেউ অভিজিতের লেখার যৌক্তিক সমালোচনা করলে সে 'বামাতী', 'বামছাগু', 'ছুপা ইসলামিস্ট', ইত্যাদি হয়ে যায়। এজন্য নাস্তিকদের কারো ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও এই ধরণের 'ট্যাগ' খাওয়ার ভয়ে তার লেখার কোনো রকম সমালোচনা করে না। অভিজিতের পোস্টে বাংলা নাস্তিকদের প্রায় সকলেই জ্বী হুজুর জ্বী হুজুর করে সমর্থন দেয়। কেননা কেউ 'জ্বী হুজুর' থেকে সামান্য বিচ্যুত হওয়ার সাথে সাথে তার উপর নারকীয় তাণ্ডব নেমে আসে।

যাহোক, তারপর সেই কথিত ছাগুর স্ট্যাটাসের ঘাড়ে বন্দুক রেখে (অর্থাৎ পুরো স্ট্যাটাসটাকে কবীর সুমনের নিজের বক্তব্য হিসেবে চালিয়ে দিয়ে) এবং এর-ওর মুখে ঝাল খেয়ে কবীর সুমনের উপর দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে। এক সময়ের রোল মডেলকে একদিকে একেবারে 'রাস্তার লোক' এবং অন্যদিকে 'বাংলাভাই' পর্যায়ের ক্রিমিনাল বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ থেকে প্রায় ৮ বছর আগে কবীর সুমনকে নিয়ে 'মেজভাবী'র পোস্ট ও মন্তব্যটা লক্ষণীয়। সত্য এভাবেই প্রকাশ পায়। এমনকি একজন ভারতীয় হিসেবে ভারতের রাজনীতি কিংবা ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের কাউকে নিয়ে কবীর সুমন কিছু বললে বাংলাদেশি (?) অভিজিতের অন্তরে চোট লাগে। এজন্য কবীর সুমনের বিরুদ্ধে রীতিমতো খিস্তিখেউর করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, কবীর সুমন যা কিছু বলেছেন এবং যাদের সাথে উনার বাকবিতণ্ডা হয়েছে সেগুলোর সবই কিন্তু ভারত-ভিত্তিক। অথচ অভিজিৎ নিজে 'বাংলাদেশি সংখ্যালঘু' হয়ে ভারতীয় সংখ্যাগুরুদের পক্ষ নিয়ে কবীর সুমনের উপর হামলে পড়েছে। এমনকি ধর্মান্তরিত হওয়ার পর থেকে কবীর সুমন পশ্চিম বঙ্গের কিছু লোকের দ্বারা বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হয়ে সেগুলো নিয়ে আক্ষেপ করে একটি পোস্ট ও দু-একটি গান লিখা সত্ত্বেও অভিজিৎ কিন্তু সেগুলো না দেখার না শোনার ভাণ করে চেপে গেছে। 

কবীর সুমনকে নিয়ে অভিজিতের পোস্টে কিছু মন্তব্যও দেখা যাক-

সুষুপ্ত পাঠক (অভিনব কায়দায় 'মুসলিম নাস্তিক' দাবিদার)

সুমনের “পাগলা সানাই” এ্যালবামের গানগুলো মনে মনে গুণগুণ করি মাঝে মাঝে। এখন ওর গান শুনতে গিয়ে বার বার “কবীর সুমনের” কথাই মনে পড়ে যাবে…। কোলকাতার “তারা বাংলা” টিভিতে এক সময় সুমন “লাইফ দশটায়” নামে একটা টকশোর উপস্থাপনা করতো। শুধু সমুনের কথা শোনার জন্য বাংলাদেশ সময় সাড়ে দশটায় টিভি খুলে বসতাম। একদিন সেই অনুষ্ঠানে একটা দারুণ হোচট খেয়েছিলাম সুমনের কথা শুনে। একজন দর্শক তার নামটি পূর্বের পরিচয়ে “সুমন চট্টপাধ্যায়” ভুল করে বলে ফেলায় সুমন আঙ্গুল তুলে টিভি ক্যামেরায় রেখে অদ্ভূত আবেগ ও অসহিষ্ণুতে বললেন, শুনুন, আমার নাম কবীর সুমন! (কয়েকবার বললেন কথাটা)… চাটুজ্জে আমার নাম নয়। আমি একজন মুসলমান এবং এটি জন্য আমি গর্ববোধ করি…। স্মৃতি থেকে লিখলাম, হুবহু শব্দ চয়ন না হতে পারে কিন্তু বক্তব্য হুবহু এরমমই ছিল। একটা হোচট খেয়েছিলাম কিন্তু সুমনের গানের ও ব্যক্তি সুমনের যে ইমেজ সেখান থেকে তাকে সাম্প্রদায়িক ভাববার প্রশ্নই আসে না। মনে তবু খচখচানি…। আজ মিলিয়ে দেখে মনে হয়, ভাইরাস কাজ করতে শুরু করেছিল… এখন যেটা এই গুণি শিল্পীর মননে ক্যান্সার…।

গীতা দাস

@অভিজিৎ,
সুমন সম্পর্কে পড়লাম, জানলাম এবং আপনার কথা মানলাম। গুরুচন্ডালির লিংকের পত্রটি ও এতে সহায়ক হয়েছে। এভাবেই আপনার লেখা শত্রু চেনাতে অবদান রাখছে।

তামান্না ঝুমু (ফেক আইডি)

নাস্তিক ব্লগার রাজীবকে হত্যা করার পর সুমন গান লিখে গেয়েছিলেন রাজীবের জন্য। আজ সেই নাস্তিক ব্লগারেরা কুলাঙ্গার হয়ে গেল সুমনের কাছে। সুমন গেয়েছিলেন, “আমি চাই হিন্দু নেতার সালমা খাতুন পুত্রবধূ, আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু” সেই সুমনই ধর্মান্তরিত হয়েছেন সাবিনাকে বিয়ে করার জন্য। সুমনের গানের কথাগুলো কি শুধুই ব্যবসা?

Arabinda Chakravarty

দুর্জন শিক্ষিত হলেও পরিত্যাজ্য।
Sumon Kabir is a burning example of this Begali proverb.
This type of people is more dangerous to the society than a simple uneducated anti-social miscreant.

শাখা নির্ভানা

আসলে কোন নান্দনিক সৃষ্টি দেখে আমরা অনেক সময় স্রষ্টার সম্পর্কে একটা উজ্জল ধারনা নিয়ে থাকি এবং অনেক সার্বজনিন কল্যানকর কিছু আশাও করে থাকি। মানুষের পরিচয় থাকে তার মনে, তার চিন্তায়। সুমনের পশ্চাত-বিবর্তন আপনার নিবন্ধের মধ্য দিয়ে সেই কথাটাই প্রকাশ করে দিয়েছে। তসলিমার স্ট্যাটাসে তার পতনের শব্দ কিছুটা পেয়েছিলাম, পুরাটা পেলাম এই লেখাটা পড়ে। এইভাবে অধঃপতিত হয়ে সে যে মুক্তচিন্তার মানুষের কতখানি ক্ষতি করে গেল, হতাশ করে গেল তা ভাষায় প্রকাশ অযোগ্য।

রায়হান আবীর (ধর্মান্তরিত ভৃত্য)

বছর তিনেক আগে সুমনকে মুরাদ টাকলা ভাষায় লেখালেখি না করে অভ্র ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়াতে তিনি পরামর্শদাতাকে যেভাবে অপমান এবং উলটা পালটা কথা বলেছিলেন তখন থেকেই ‘মালটাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছি’। আপনার লেখাটা দরকার ছিলো …

সালমান রহমান (ফেক আইডি)

ঠিক এ কারণটাতেই ফিকশন লেখা আর গিলি না—লম্বা লম্বা কথার গানকবিতাও। যা-তা লেখা আর সঠিক বিষয়টা লেখার মাঝে যেমন তফাৎ আছে, তেমনই যা-মাথায়-আসে লেখা আর অনুধাবন করে লেখার মাঝেও পার্থক্য বিদ্যমান। কবীর সুমনও শেষে সেই বাতিলের দলেই যোগ দিলেন। কষ্ট পেয়েই আর কী হবে! হাজারটা জীবনমুখী গানের হাজার ধান্দাবাজ লেখকের চেয়ে শুদ্ধ চিন্তার একজন লেখক বা অলেখক অনেক বেশি প্রয়োজনীয় এখন। লেখাটার জন্য ধন্যবাদ অভিজিৎ দা।

পুরো বিষয়টা পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে সুমন যতদিন পর্যন্ত 'অক্ষত ব্রাহ্মণ' ছিলেন ততদিন পর্যন্ত উনার কোনো রকম দোষ-ত্রুটি ছিল না। কিন্তু 'ব্রাহ্মণ' থেকে 'ম্লেচ্ছ' হওয়ার কারণে 'মুক্তমনা'রূপী ছুপাদের কাছে উনি একাধারে 'ভণ্ড', 'অমানবিক', 'ছাগু', 'বামছাগল', 'দূর্জন', 'অধঃপতিত', 'বাতিল মাল', 'ময়রা', 'ভাইরাসে আক্রান্ত', 'ক্যান্সারে আক্রান্ত', ইত্যাদি, ও সর্বোপরি 'শত্রু' হয়ে গেছেন। উল্লেখ্য যে, ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের কোনো পেজেও কবীর সুমনকে এভাবে আক্রমণ করার কোনো প্রমাণ আছে বলে মনে হয় না। তার মানে বাংলাদেশি 'মুক্তমনা'রূপীরা ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের চেয়েও বড় হিন্দুত্ববাদী, এবং সত্যিই তাই।

এবার কবীর সুমনের বিরুদ্ধে অভিজিতের অভিযোগগুলো দেখা যাক:

– কবীর সুমন একজন ভণ্ড ও অমানবিক। কারণ, সাবিনা ইয়াসমিন যখন ক্যান্সারে মুমূর্ষু অবস্থায়, কবির সুমন তখন 'ব্যস্ত' ছিলেন! — সেই সময় সাবিনা থাকতেন বাংলাদেশে, আর সুমন ছিলেন পশ্চিম বঙ্গে। এক দেশ থেকে আরেক দেশে দৌড় দিয়ে আসা অনেক সময় সম্ভব নাও হতে পারে। তাছাড়া এই অভিযোগের জবাব 'মেজভাবী'র পোস্টের সর্বশেষ মন্তব্যে একজন দিয়েছেন।

– কবীর সুমন একজন ছাগুর স্ট্যাটাস শেয়ার দিয়েছেন। কাজেই কবীর সুমনও একজন ছাগু। — প্রথমত, সেই কথিত ছাগুর নাম বা তার স্ট্যাটাসের লিঙ্ক কিংবা সুমনের শেয়ার দেওয়া সেই স্ট্যাটাসের লিঙ্ক-টিঙ্ক কিছুই দেওয়া হয়নি। কাজেই পুরো ব্যাপারটা ভাঁওতাবাজী কি-না, কে জানে। দ্বিতীয়ত, অভিজিতের 'যুক্তি' অনুযায়ী কোনো ছাগুর স্ট্যাটাস শেয়ার দিলেই যদি 'ছাগু' হতে হয় তাহলে একই 'যুক্তি' অনুযায়ী মুক্তমনা ব্লগ একই সাথে ভাদাব্লগ ও পাদাব্লগ হয়ে যায়। কেননা মুক্তমনা ব্লগে নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে বেশ কিছু ভারতীয় ও কিছু পাকিস্তানীকে প্রমোট করা হয়েছে এবং হচ্ছে। তৃতীয়ত, একই 'যুক্তি' অনুযায়ী অভিজিৎ সর্বাগ্রে ও সংশয়-সন্দেহহীনভাবে একজন খাস ভাদা প্রমাণ হয়। অভিজিৎ এটা অস্বীকার করলে যথাযথ যুক্তি-প্রমাণসহ আলাদা পোস্ট দেওয়া হবে। তবে 'কেঁচো খুঁড়তে যেয়ে সাপ বেরুতে পারে' এই ভয়ে অস্বীকার করার মতো সৎ-সাহস তার আছে বলে মনে হয় না।

– কবীর সুমন মুসলিম হয়েছেন ভারতীয় আইনে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য এবং পলিগ্যামি চর্চার সুপ্ত বাসনা থেকে। কারণ, সাবিনাকে বিয়ে করার সময় তার জার্মান স্ত্রী তখনো তাকে তালাক দেননি। — প্রথমত, সুমনের জার্মান স্ত্রী যদি তখনো তাকে তালাক না দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে সুমন কি তাকে তালাক দিতে পারতেন না? দ্বিতীয়ত, সাবিনাকে বিয়ের পর সুমন তার জার্মান স্ত্রীর সাথে থেকেছেন কি-না? যদি না থাকেন তাহলে তার 'পলিগ্যামি চর্চা'র প্রমাণ কোথায়? তৃতীয়ত, অভিজিৎ ঠিক কী করে সুমনের মনের খবর (পলিগ্যামি চর্চা) জেনেছে? চতুর্থত, যে দেশের অধিকাংশ মানুষ যাদেরকে দেবতা/অবতার হিসেবে বিশ্বাস করে সেই দেবতা/অবতারদের কত স্ত্রী-সঙ্গীনি ও রগরগে কাহিনী থাকা সত্ত্বেও সেই দেশের কাউকে প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য গ্রেফতার হতে হবে, ভাবতেও অবাক লাগে! তাছাড়া তাদের ধর্মে তো মনে হয় তালাক প্রথাই নাই! আচ্ছা, ধরেই নেওয়া যাক যে তারা তাদের দেবতা/অবতারদের চেয়ে সভ্য হয়েছে এবং ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। কিন্তু সুমন যদি স্রেফ ভারতীয় আইনে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য এবং পলিগ্যামি চর্চার সুপ্ত বাসনা থেকে নামেমাত্র মুসলিম হয়ে সাবিনাকে বিয়ে করতেন তাহলে তো তার ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষে কিছু বলার কথা ছিল না। সেক্ষেত্রে উনি সাবিনাকে বিয়ে করে নীরবে পলিগ্যামি চর্চা করে যেতেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উনি ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষে কিছু কথা বলার জন্য অভিজিৎ গং-এর রোশানলে পড়েছেন। অতএব, সুমনের বিরুদ্ধে 'মুক্তমনা'রূপী ছুপাদের অভিযোগ ধোপে টিকছে না।

নোট: কবীর সুমনের পক্ষে ওকালতি বা সাফাই গাওয়ার জন্য এই পোস্ট নয়। এখানে 'মুক্তমনা/নাস্তিক'রূপী এক ভণ্ডের সাম্প্রদায়িক মুখোশ আরো একবার উন্মোচন করার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র।

১৮ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. নির্ভীক আস্তিক

    পোষ্টে প্লাস থাকল। Wikipedia-তে কবীর সুমন সম্পর্কে যে আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে সেখানে তার বিবাহের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আর্টিকেলটি বলেছে এভাবে:

    He changed his name from Suman Chattopadhay to Kabir Suman (Bangla: কবীর সুমন) when he became a Muslim in order to marry the noted Bangladeshi singer Sabina Yasmin (he was already married to his German wife and polygamy is prohibited in India except among Muslims)

    আর্টিকেল-এর লেখক তার দাবির পক্ষে কোন প্রমাণ দেখাননি বলেই প্রতীয়মান হয়। যাইহোক, কবীর সুমন এর নামে একটি ফেসবুক Account আছে যেখানে একটি Note থেকে:

    It is not true that I converted because I am married to a Muslim. My wife, Sabina Yasmin, is a famous Bangladeshi singer and she never ever asked me to change my religion. I did what I wanted. I followed my heart and paid a price for it. There are intolerant people who despise any change. Trouble followed.

    Once I converted, I lost my business, received threatening phone calls, and abuses were showered upon me. I was determined to adhere to the path I had chosen. There’s no turning back from a decision once taken. And just as there are people who believe in moral policing, there are those, who always stand by you, who believe in you. I met people willing to accept me as just Kabir Suman. They were truly secular.

    ইসলামে Polygamy সম্পর্কে আলোচনা করা যাবে। একজন মুসলিম পুরুষ দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলেও তাকে অনেক শর্ত পূরণ করতে হয় কিন্তু সেগুলো অন্য ধরণের আলোচনা। তবে কিছু কথা বলা দরকার ভারতের Polygamy law নিয়ে। এর উপর অন্য একটি Wikipedia এর "Polygamy in India" শীর্ষক Articleটি দেখুন তাতে বলা আছে: ১৯৩৭ এর হিন্দু বিবাহ ACT অনুযায়ী মুসলমান ব্যতীত অন্যান্য ধর্মেরসহ সকল হিন্দুদের জন্য পলিগ্যামী বিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে ১৯৬১ সালের শেষ করা একটি বিবাহ সংক্রান্ত তথ্য রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে মুসলিমদের মধ্যেই বহু-বিবাহ অনুশীলন সবচেয়ে কম, মাত্র ৫.৭%। আদিবাসীদের মধ্যে এটি ১৫.২৫% এবং হিন্দুদের মধ্যে ৫.৮%।  চন্দ্র মোহন নামক একজন Deputy Chief Minister বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিন্দু থেকে মুসলমান হোন বিয়ে করার উদ্দেশ্যে আবার পুনরায় তিনি হিন্দু হয়ে যান। হিন্দু সাহেব তো হিন্দুই রয়ে গেলেন কিন্তু ইসলামই যেন তার হাতিয়ার- সে বাচ্য চিবানো কিন্তু বন্ধ হয় নাই। সে যে পালাক্রমে দুই দুটো ধর্মীয় মূল্যবোধকেই অসম্মান করল তার দিকে ভারত মাতার সহিষ্ণু সন্তানদের চোখ পড়েনি।

    আমার এখানকার এলাকার মুফতি মোহাদ্দেসদের কাছে একটি প্রশ্ন রেখেছিলাম মুসলিম আলেমদের মধ্যে বহুবিবাহের এই প্রবনতা কীরকম। আশ্চর্যজনকভাবেই উনি আমাকে উনার নিজ মাদ্রাসাসহ আরো কিছু কওমি মাদ্রাসার আলেমদের উদহারণ দেখালেন যেখানে দেখতে পেলাম উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষিত মাদ্রাসার মুফতি মোহাদ্দেসদের মধ্যে বরং বহুবিবাহের প্রবণতা কম। আমি তবলীগ করতে যেয়ে ফরিদপুর শরিয়তপুর, মাদারিপুরসহ অনেক মাদ্রাসা ঘুরেছি। কিন্তু সেখানকার আলেমরাও একই মনোভাব প্রকাশ করলেন। এদের মধ্যে পলীগ্যামি প্র্যাকটিস রয়েছে, কিন্তু খুব কম, ২-৪ জনকে পেয়েছি যাদের আবার একই সাথে স্ত্রী maximum ২ জন। তাদের কথামতে এ ব্যাপারে বেশ কিছু বিধি নিষেধ রয়েছে যার জন্য তারা এড়িয়ে চলেন তবে যুদ্ধের পরবর্তী অবস্থায় সামাজিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে তারা এই ব্যবস্থাটি থাকা বাঞ্ছনীয় হিসেবে মতামত দেন।। এই আলেমদের একটি মন্তব্য বলার মত: গ্রাম্য পর্যায়ের যেসকল লোকদের মধ্যে যেকোন ধর্মীয় জ্ঞানসহ প্রাথমিক শিক্ষা কম তাদের মধ্যেই বরং এই প্রবণতা বেশি। আমি উনার এই কথার সত্যতা আমার নিজ গ্রামেও দেখতে পাই। আমার জেলায় যতজন আলেম আছেন তাদের কেউই বহু বিবাহ practice করেননি। আমার বুঝ হওয়ার ২০ বছরের মধ্যে এরকমটি পাই নাই। কিন্তু সত্য এই যে প্রায় প্রতি এক গ্রামে একজন মুসলিম কৃষক পাওয়া যাবে যার ৪-৫ জন করে স্ত্রী। আবার কেউ কেউ বিয়ে করেছেন আগের স্ত্রীর মৃত্যুর পর যেমন আমার দাদা। মোট বিয়ে করেছেন ৪টি কিন্তু একই সাথে ওনার একের বেশি স্ত্রী ছিলনা।

    সদালাপের মুসলমানদের পেশা হল হিন্দু-মুসলিম এর সাম্প্রদায়িক আবর্জনা পরিস্কার করা। আর fanatic নাস্তিক যারা তাদেরকে ঘৃণা করে তাদের পেশা হল: এতে নোংরা ও আবর্জনা সৃষ্টি করা।

    1. ১.১
      এস. এম. রায়হান

      এই পোস্টে প্রতীকি বা রূপক অর্থে একটি 'নাম' ব্যবহার করা হয়েছিল। এখানে এর বেশি কিছু বলার ইচ্ছা নাই। তাতে মূল প্রসঙ্গটা ডাইভার্ট হতে পারে। এজন্য মূল পোস্ট এডিট করা হলো। আপনি চাইলে আপনার মন্তব্যটাও এডিট করতে পারেন। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      1. ১.১.১
        নির্ভীক আস্তিক

        মন্তব্য এডিট করার Option তো আমি পাচ্ছি না। আপনি যদি এক্তু অপ্রাসাঙ্গিক অংশটুকু কষ্টকরে মুছে দিতেন তাহলে ভাল হত। যাইহোক, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

        চালিয়ে যেন, এদেরকে কুপাইয়া দেন।

  2. কিংশুক

    ওরা মনেপ্রাণে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি। বিজেপির সুশীল উইংগ অঙ্গসংগঠন ‘মুক্তমনা’ ক্যামোফ্লেজ নিয়ে বিজেপির ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রের এজেন্ডা নিয়ে চলে। বিজেপি ছাগুরা মুসলমান, ইসলামকে শেষ করতে চায়। সেখানে ব্রাহ্মণ হিন্দু ইসলামের পক্ষে চলে আসলে তাদের মিশনের ব্যর্থতা হিসাবে ধরা হয়। একারণেই কবীর সুমনকে ছাগু না বানানো পর্যন্ত তাদের বস’রা তাদের উপর সন্তুষ্ট হবেনা।

  3. এস. এম. রায়হান

    কবীর সুমনকে নিয়ে মনাদের প্রভুজীর পোস্টে একজন কথিত ভারতীয় 'ছাগু'র ঘাড়ে বন্দুক রেখে এবং আরো ৪-৫ জনের মুখে ঝাল খেয়ে কবীর সুমনকে একেবারে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে ইচ্ছেমতো কোপানো হয়েছে। যেমন, তসলিমা নাসরিনের বাণী কোট করে সুমনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুৎসা রটানো হয়েছে এভাবে-

    নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন ফেসবুকে সম্প্রতি একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সুমনকে নিয়ে।  সেখানে সুমনের জার্মান স্ত্রী মারিয়ার উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের উল্লেখ তো ছিলোই পাশাপাশি কলকাতায় থাকাকালীন সময়গুলোতে উনি সুমনের যে পরিচয় পেয়েছেন তা মোটেই সুখকর ছিল না। 

    এখানে থেকে একটা ব্যাপার পরিষ্কার, সেটা হচ্ছে মনাদের প্রভুজীর কাছে তসলিমা নাসরিন হয়ে গেছেন একজন 'দেবী' আর কবীর সুমন হয়ে গেছেন একজন 'ডেভিল'। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে জার্মান স্ত্রী মারিয়ার উপর সুমনের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের খবর তসলিমা নাসরিন জানলেন কী করে, আর এই খবর প্রকাশ করাই বা হলো কবে? তাছাড়া তসলিমা দেবীকে কোট করার পেছনে মনাদের প্রভুজীর এখানে উদ্দেশ্য কী?

    তসলিমার কথা শুনে মনে হচ্ছে সুমন তাকে পাত্তা দেননি, আর এজন্যই তার সম্পর্কে কুৎসা রটানো হচ্ছে। আহারে বেচারী!

    1. ৩.১
      নির্ভীক আস্তিক

      নাস্তিক যুক্তি বুঝেনা, তারা কুৎসা রটাতে চায়।

    2. ৩.২
      নির্ভীক আস্তিক

      মুক্ত কুৎসিত সাম্প্রদায়িকমনা অভিজিৎ দাদা বাবুর পোষ্টটির কথাগুলোর স্ট্যাটাস রয়েছে। এখানে লক্ষ্য করুন। সেখানে সাম্প্রদায়িক নাস্তিকদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রিয়ভাজন তসলিমা অই মন্তব্যটি করেছিলেন। কিন্তু তার জবাব একজন বেশ সুন্দরভাবেই দিয়েছিলেন:

      Nilanjan Sayed:
      আমার এখানে একটু অবাক লাগছে। টিভিতে যে অনুষ্ঠানটার কথা তসলিমা বলছেন সে অনুষ্ঠানটি আমি দেখেছি। দ্বিখন্ডিত বইএ হ্জরতের প্রসঙ্গটি কবীর সুমন এনেছিলেন, কিন্তু কিছুতেই লেখাটিতে কি আছে বলেন নি, বলতে চাননি। বারবার বলছিলেন অমন কথা উচ্চারণ করতে পারবেন না।

      তাছাড়া তিনি কি জানতেন না এই ভাবে তসলিমার লেখাটা পাঁচ মিনিট ধরে তুলে ধরলে মুসলমানরা উত্তেজিত হতে পারেন এবং দাঙ্গা লেগে যেতে পারে।

      আমার মনে পড়ছে 'সংবাদ প্রতিদিন 'কাগজে একটা লাইনে মুসলমান সম্পর্কে বাজে উক্তি লেখা ছিল।

      সঙ্গে সঙ্গে দাঙ্গা লাগার উপক্রম হয়েছিল। সংবাদ প্রতিদিন সাত দিন ধরে দুঃখ প্রকাশ করেছিল। এবং দাঙ্গা লাগানোর উশকানোর জন্য সুমন গ্রেফতার হয়ে যেতে পারতেন।

      তাছাড়া ব্যানড বই কি করে সুমন দেখাতে পারেন?
      সাধারণ ভাবে সংখ্যালঘু মানসিকতা ভঙ্গুর। একটুতেই ভেঙ্গে চৌচির হয়। হজরত মহম্মদ সম্পর্কে তো ভীষণ সেনসিটিভ। দাঙ্গা লেগে যেতে পারত ঐ কটি লাইনে। কবির সুমন এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিলেন।

      তসলীমা এমন ভাবে লিখেছেন যে তিনি একজন প্রফেট যাঁকে দেখতে সুমনের মত একজন মানুষ চলে এসেছিলেন। এটি বিশ্বাসযোগ্য?
      আরেকটি লেখায় তসলিমা লিখেছিলেন অমিতাভ বচ্চন সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ আছে কিন্তু তিনি যাবেন না ওঁর কাছে, অমিতাভকে আসতে হবে ওঁর কাছে।
      তসলিমার কোন কথায় আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য ঠেকেনা…

      আমি জানিনা এই নীলাঞ্জন সাঈদ ব্যক্তিটি হিন্দু নাকি মুসলমান। তিনি হিন্দু হলে আমি আশাবাদী এটা ভেবে: ওপারে তাহলে এক ধর্মের লোক হয়েও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মনোভাব বুঝার কিছু মানুষ আছেন। তারা এপারের এই মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক লোকদের মানবতাবাদীর চামড়া লাগিয়ে মিথ্যাচার করেন না। অভিজিৎ ঠিক একইভাবে এই কাজগুলো করেছেন প্রায় সবজায়গায়। এমনকি অনেক ব্লগারদের ক্ষেত্রেও। এরা "মানবতা"  শব্দটির সাথে বেশ্যামি করে চলছেন অহরহ।

  4. এস. এম. রায়হান

    কবীর সুমনের ধর্ম বা নাম পরিবর্তন নিয়ে যাঁদের প্রশ্ন, আপত্তি বা রাগ আছে, এ লেখা তাঁদের জন্য…

    https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=592233644147043&id=128049513898794

  5. এস. এম. রায়হান

    কবীর সুমন হয়তো ভারতীয় মুসলিমদের বেহাল দশা নিয়ে কিছু বলেছেন, যদিও কী বলেছেন তা আমার জানা নেই এবং অভিজিতের লেখাতেও এ বিষয়ে কোনো সূত্র বা উদ্ধৃতি দেয়া হয়নি। অথচ 'বাংলাদেশি সংখ্যালঘু' অভিজিৎ ব্যাপারটাকে লাথি মেরে উড়িয়ে দিয়ে কীভাবে উপস্থাপন করেছে দেখুন-

    কোথায় যেন পড়েছিলাম ব্রাহ্মণ যখন মুসলমান হয়, গরু খাওয়ায় নাকি সবাইকে টেক্কা দেয়। পাকিস্তানী খ্রিস্টান ক্রিকেটার ইউসুফ ইউহানা মুসলিম হবার পর নাকি এক ওয়াক্ত নামাজ বেশি পড়তেন। সুমনেরও মনে হয় একই ধরণের সিন্ড্রোম কাজ করছে। ধর্মান্তরিত হবার পর (সেটা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নাই, ইনফ্যাক্ট সুমন –সাবিনা পরিণয়ে আবদ্ধ হবার পর আমি খুশি হয়েছিলাম সবচেয়ে বেশি সেটা আমার  স্ট্যাটাসেই বলেছিলাম) থেকেই দেখছি ক্রমশ ফরহাদ মাজহারীয় জমজমের পানিতে ক্রমশ মাথা ধুয়ে ফেলছেন তিনি- মুসলিম মানেই এখন তার কাছে ‘নির্যাতিত নিপীড়িত’ জাতির প্রতিনিধি – সেটা রাজিয়া বিবি হোক, বিন লাদেন হোক, ঔরঙ্গজেব হোক, বাদশাহ আকবর হোক, কিংবা হোক না সৌদি কিং আব্দুল্লাহ। মুসলমান যেহেতু, নিশ্চয় পশ্চিমা ইয়াহুদি-নাসারাদের অত্যাচারের শিকার তারা। তাই বর্ধমানে বোমা বানানোয় অভিযুক্ত জিহাদিনী রাজিয়া তার কাছে বিপ্লবী। ফরহাদ মজহারও একসময় লাদেনকে বিপ্লবী বলতেন, জেএমবির সন্ত্রাসীদের বানিয়েছিলেন ‘মুক্তিযোদ্ধা’। সেই মুক্তিযোদ্ধারা নাকি তাদের মত করে ‘সমাজটাকে বদলাতে চায়’।  ছাগতত্ত্ব আর বামতত্ত্বের খিচুড়ি রাঁধলে যা হয় আর কি – ‘সাম্যবাদের ডাক ঘুমে জাগরণে’! ব্লগার চরম উদাস সঠিক কথাই বলেছেন তার ভিন্ন প্রসঙ্গের অবতারণা করতে গিয়ে একটি স্ট্যাটাসে – রামছাগল আর বামছাগলের মাঝে পার্থক্য কেবল তলে একটা ফুটার!

    মনেপ্রাণে একজন ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীর পক্ষেই কেবল এই ধরণের কথা বলা সম্ভব, ঠিক কি না?

  6. এস. এম. রায়হান

    সেই ভারতীয় কথিত ছাগুর স্ট্যাটাসের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলা হয়েছে-

    যে ভদ্রলোকের স্ট্যাটাসটি দর্পভবে সুমন তার নিজের সমর্থনে তাঁর ওয়ালে শেয়ার করেছেন, সেখানে আরো লেখা ছিল –

    ‘খাগড়াগড় কান্ড নিয়ে বঙ্গ রাজনীতি তোলপাড়। প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার খবরের বহর দেখে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক যে- বাংলা বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে। বোমা বানাতে গিয়ে দুজন নিহত। এক শাকিল গাজী এবং অন্যজন স্বপন মন্ডল ওরফে শোভন মন্ডল। ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা সুত্র উল্লেখে মিডিয়া মারফৎ আমরা শাকিলের জীবন বৃত্তান্ত জেনেছি। অজ্ঞাত কারণে জানতে পারিনি- স্বপন মন্ডল ওরফে শোভন মন্ডলের কুণ্ডলী। পত্রপত্রিকার খবরা খবর এবং টিভিতে বিদগ্ধজনদের আলোচনায় মৃত দুজনের মধ্যে শাকিল বহু চর্চিত হলেও ব্রাত্য থেকে গেছেন স্বপন মন্ডল ওরফে শোভন মন্ডল। ঘুণাক্ষরেও তার নামটি উচ্চারিত হয় না।…’

    কিন্তু মুশকিল হচ্ছে যে ‘স্বপন মণ্ডল’কে  সুমন এবং সুমনের দোসর ‘ইসকাপনের টেক্কা’ ভেবেছিলেন, দু’দিন পর তার পরিচয় বের হয়ে গিয়েছে মিডিয়ায়। নিহত স্বপন মণ্ডল আসলে  বীরভূমের কীর্ণাহারের কাফেরপুর গ্রামের আব্দুল করিম (সুবহান আসলে করিম-ই, দেহ দেখে অজ্ঞান বাবা, আনন্দবাজার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৪)। আমি জানি, সন্ত্রাসীর কোন দেশ নেই, নেই কোন ধর্ম। কিন্তু সত্য যখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার, তখন অহরহ  মুসলিম ট্রাম্প-কার্ড ব্যবহার আর স্বপন মণ্ডলের পরিচয় নিয়ে ঘোট পাকানোর খেলা থামিয়ে সুমন কি আজ বাস্তব সত্যটা মেনে নেবেন – ‘চোখ থেকে খুলে ফেলে চশমা, আর মন থেকে মুছে ফেলে চালশে’?

    পাঠক মনে রাখবেন, সেই কথিত ছাগুর স্ট্যাটাসের কিন্তু কোনো লিঙ্ক দেয়া হয়নি। এমনও হতে পারে তার এই দাবির পক্ষে হয়তো কোনো সূত্র দেয়া হয়েছে। তথাপি ধরেই নেয়া যাক যে, নিহত স্বপন মণ্ডল আসলে আব্দুল করিম। সেই কথিত ছাগু হয়তো ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়েছে। কিন্তু তাতে 'বাংলাদেশি' অভিজিতের গায়ে আগুন লেগে যাবে কেন???!!! মনেপ্রাণে একজন ভারতীয় গোঁড়া হিন্দুত্ববাদীর গায়েই কেবল এই ধরণের কথা শুনে আগুন লাগার কথা, তাই নয় কি? আরো মজার বিষয় হচ্ছে খাগড়াগড় ঘটনার সাথে একজন ভারতীয় হিন্দুর নাম আসাতে অভিজিৎ রায় বলেছে-

    আমি জানি, সন্ত্রাসীর কোন দেশ নেই, নেই কোন ধর্ম।

    ????????????????????

  7. এস. এম. রায়হান

    'তামান্না ঝুমু' ছদ্মনামে একজন বলেছেন-

    …সুমন গেয়েছিলেন, “আমি চাই হিন্দু নেতার সালমা খাতুন পুত্রবধূ, আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু” সেই সুমনই ধর্মান্তরিত হয়েছেন সাবিনাকে বিয়ে করার জন্য। সুমনের গানের কথাগুলো কি শুধুই ব্যবসা?

    তার মানে এই 'তামান্না ঝুমু' কি তাহলে কোনো এক হিন্দু নেতার পুত্রবধূ!? কিন্তু অনেকেরই তো ধারণা এই আইডির আড়ালে আছে আমগো 'মেজভাবী'র স্বগোত্রীয় কোনো এক পুং হনু! এই আইডি থেকে দীর্ঘদিন ধরে মনাব্লগ, ধর্মকারী সাইট, ও ফেসবুকে ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত আজেবাজে ও পুরুষালী ভাষায় কুৎসা রটানো হচ্ছে। কোরআনের বিরুদ্ধেও মিথ্যাচার করা হচ্ছে। তাহলে এই 'তামান্না ঝুমু' আসলে কে? কোনো হিন্দু নেতার পুত্রবধূ? নাকি কোনো পুং হনু? নাকি অন্য কিছু? কী মুশকিলে পড়া গেল!

    1. ৭.১
      নির্ভীক আস্তিক

      ব্যাপারটা তো আমিও ভাবছিলাম। তিনি তো তার গানের কথা অনুযায়ীই মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করে বধু বানালেন। চেতনার ব্যবসা তো আর তিনি করেননি। করছে এই মিথ্যাবাদী মৌলবাদী নাস্তিক আর প্যাগান সম্প্রদায়ের লোকেরা। এদের কি ব্যক্তিত্ব বলে কিছু নেই?

  8. এস. এম. রায়হান

    গীতা দাস বলেছেন-

    @অভিজিৎ,
    সুমন সম্পর্কে পড়লাম, জানলাম এবং আপনার কথা মানলাম। গুরুচন্ডালির লিংকের পত্রটি ও এতে সহায়ক হয়েছে। এভাবেই আপনার লেখা শত্রু চেনাতে অবদান রাখছে।

    একজন বাংলাদেশি (?) গীতা দাসের কাছে একজন ভারতীয় কবীর সুমন ঠিক কী কারণে 'শত্রু' হয়ে গেলেন, এর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে কি? গীতা দাস কি একজন হিন্দু হিসেবে নাকি 'মুক্তমনা/নাস্তিক' হিসেবে এই মন্তব্যটা করেছেন?

    উল্লেখ্য যে, এই গীতা দাস একজন বয়স্ক মহিলা। দীর্ঘদিন ধরে মুক্তমনা ব্লগে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী পোস্টগুলোতে উনার সরব উপস্থিতি ও সমর্থন দেখার মতো। অথচ বাংলাদেশে হিন্দু নারীরা যে আজ পর্যন্তও পিতার সম্পত্তির কোনো অংশ পায় না, এমনকি তাদের বিয়ের লিখিত দলিল-পত্রও নাকি থাকে না, অথচ এ নিয়ে উনাকে টু-শব্দটিও কখনো করতে দেখা যায়নি। কী অবাক করা কান্ড!

  9. এস. এম. রায়হান

    পাঠক! হিন্দু নেতার 'মুক্তমনা তামান্না ঝুমু' পুত্রবধূ দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে 'Bibi Khadija'ও সেজেছেন! একই 'মেয়ে' তাহলে কয়জন হিন্দু নেতার পুত্রবধূ হতে পারে! 

    মনাদের প্রভুজীর ভাষায় মুক্তমনা 'তামান্না ঝুমু' ও 'Bibi Khadija'র 'মুক্তচিন্তার চর্চা'ও দেখুন-

    https://www.facebook.com/bibi.khadija.3

    https://www.facebook.com/tamanna.jhumu.5?fref=ts

  10. ১০
    ইবনে আহমাদ

    লেখাটা পড়লাম। বেশ কষ্ট করে লিখেছেন। যাদের নিয়ে লিখেছেন তাদের জন্য করুণা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এদের চিকিৎসা আছে যা বলা যাবে না বা লিখা যাবে না। স্বরূপ উন্মোচন করার জন্য আপনার কষ্ট – আপনাকে ধন্যবাদ।

  11. ১১
    এস. এম. রায়হান

    পাঠকদের কাছে একটা ব্যাপার পরিষ্কার হওয়ার কথা, সেটি হচ্ছে 'মুক্তমনা'রূপী ধার্মিকরা গায়কের নাম বা ধর্মীয় পরিচয় দেখে গান শোনে। তাদের কাছে সুমন চট্টোপাধ্যায়ের গান বেশ প্রিয় ছিল। কিন্তু সুমন চট্টোপাধ্যায় থেকে 'কবীর সুমন' হওয়ার পর অভিজিৎ রায় সামু ব্লগে  'মেজভাবী' সেজে আজ থেকে প্রায় আট বছর আগে তার গান বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই কথার প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় 'সুষুপ্ত পাঠক' নিকে অভিনব কায়দায় নিজেকে 'মুসলিম নাস্তিক' দাবি করা এক ছুপার বক্তব্যে-

    সুমনের “পাগলা সানাই” এ্যালবামের গানগুলো মনে মনে গুণগুণ করি মাঝে মাঝে। এখন ওর গান শুনতে গিয়ে বার বার “কবীর সুমনের” কথাই মনে পড়ে যাবে…

    আশা করি মুসলিমরা এই ধরণের সাম্প্রদায়িক মানসিকতার ঊর্ধ্বে থাকবে।

  12. ১২
    এস. এম. রায়হান

    ইউসুফ ইউহানা সম্পর্কে অভিজিৎ রায় বলেছে- 

    কোথায় যেন পড়েছিলাম ব্রাহ্মণ যখন মুসলমান হয়, গরু খাওয়ায় নাকি সবাইকে টেক্কা দেয়। পাকিস্তানী খ্রিস্টান ক্রিকেটার ইউসুফ ইউহানা মুসলিম হবার পর নাকি এক ওয়াক্ত নামাজ বেশি পড়তেন।

    মুসলিম-অধ্যুষিত দেশের শিক্ষিত অমুসলিমদের এটুকু অন্তত জানার কথা যে, মুসলিমরা কয় ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। অথচ ইউসুফ ইউহানা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানী ক্রিকেটারদের সান্নিধ্যে থেকে এবং ইসলাম গ্রহণ করার পরও এটা জানতেন না! কারো কি বিশ্বাস হবে? কিন্তু অভিজিৎ রায় যেহেতু বলেছে সেহেতু তার অন্ধ ভৃত্যদের সকলেই এটাকে 'বেদবাক্য' হিসেবে বিশ্বাস করেছে।

  13. ১৩
    ওয়ালিদ কবীর

    একটি তথ্যবহুল লেখার জন্য ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।