«

»

ফেব্রু. ০৪

প্রসঙ্গ: মুহাম্মদ (সাঃ) ও আয়েশা (রাঃ)-র বিয়ে

হাদিস অনুযায়ী মুহাম্মদ (সাঃ) আনুমানিক ৫৩ বছর বয়সে ৯ বছর বয়সের আয়েশাকে বিয়ে করে ঘরে তোলেন। এর উপর ভিত্তি করে ইসলামবিদ্বেষীরা যে কত রকমের ব্যঙ্গ-চিত্র আর ব্যঙ্গ-কাহিনী ফেঁদে প্রচার করেছে, তার কোনো হিসাব নাই। ইসলামকে হেয় করার জন্য এটি সবচেয়ে বড় অস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে প্রথমেই ব্যাপারটাকে এভাবে চিন্তা করে দেখুন: ধরা যাক, আপনার বাবা'র বিরুদ্ধে স্বয়ং আপনার মা'র কোনো অভিযোগ নেই। আপনার নানা-নানী'র কোনো অভিযোগ নেই। এমনকি পাড়া-প্রতিবেশী ও দেশবাসীরও কোনো অভিযোগ নেই। অথচ আজ থেকে চৌদ্দশ' বছর পর আফ্রিকার কিছু লোক 'নারীবাদী' সেজে আপনার মা'র পক্ষ নিয়ে মায়াকান্না জুড়ে দিয়ে আপনার বাবা'কে বিভিন্নভাবে 'অপরাধী' বানানোর চেষ্টা করছে। ব্যাপারটা কেমন শুনাবে? নিঃসন্দেহে হাস্যকর, পাগলামী, ছাগলামী, মাতলামী – তাই নয় কি?

অনুরূপভাবে- মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর সাথে আয়েশার বিয়ে নিয়ে যেখানে স্বয়ং আয়েশার কোনো অভিযোগ ছিল না, আয়েশার পিতা-মাতা'র কোনো অভিযোগ ছিল না, আয়েশার আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর কোনো অভিযোগ ছিল না, এমনকি সেই সময়ের ইহুদী-খ্রীষ্টান-মুশরিক-নাস্তিকসহ সারা বিশ্বের কারোরই কোনো অভিযোগ ছিল না – সেখানে চৌদ্দশ' বছর পর এসে অভিজিৎ রায়ের মতো দু'পেয়ে হনুরা আয়েশার জন্য মায়াকান্না জুড়ে দিয়ে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে একজন 'মস্তবড় অপরাধী'র কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। হনুদের মাথায় ঘিলু বলে কিছু থাকলে একটা ব্যাপার অন্তত বুঝা উচিত ছিল যে, মুহাম্মদ (সাঃ) যদি আয়েশাকে বিয়ে না করতেন তাহলে ইতিহাসে আয়েশার কোনো অস্তিত্বই থাকত না। অথচ যাঁর মাধ্যমে আয়েশা আজ ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছেন, তাঁকেই হনুরা অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিদ্বেষপরায়ণ হনুরা আসলে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে একই সাথে 'অসৎ', 'লম্পট', ও 'নারীলোভী' ধরে নিয়ে আয়েশার পক্ষে মায়াকান্না করছে। অথচ ব্যাপারটা ঠিক তার উল্টো। মুহাম্মদ (সাঃ) যখন আয়েশাকে বিয়ে করেন তখন তিনি একাধারে সৎ, সত্যবাদী, বিশ্বস্ত, ও নবী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত। কাজেই মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর সাথে বিয়ের সময় আয়েশার বয়স যা-ই হোক না কেন (It doesn't matter), তাতে আয়েশার জন্য এযুগের হনুদের মায়াকান্না স্রেফ কুম্ভিরাশ্রু ছাড়া আর কী হতে পারে! এ যেন মায়ের চেয়ে সৎ-মায়ের দরদ-ই বেশি! এ প্রসঙ্গে হনুদের অভিযোগগুলো দেখা যাক।

অভিযোগ: ইসলামের নবী মুহাম্মদ ৫০+ বয়সে ৯ বছরের আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন। আধুনিক যুগের আইনে তাকে গ্রেফতার করে জেলের ভাত খাওয়ানো যায়। তাছাড়া আধুনিক যুগের আইন দিয়ে বিচার করলে মুহাম্মদ একজন ধর্ষক ও শিশুকামী প্রমাণ হয়।

হনুদের এই 'আধুনিক যুক্তি' অনুযায়ী সবার আগে আধুনিক যুগের রবীন্দ্রনাথ-সহ অনেককেই গ্রেফতার করে জেলের ভাত খাওয়ানো যায়। তাছাড়া একই 'যুক্তি' অনুযায়ী আধুনিক যুগের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিই ধর্ষক ও শিশুকামী প্রমাণ হয়। সেই সাথে হনুদের পূর্ব-পুরুষদেরও অনেকে হয়তো ধর্ষক ও শিশুকামী প্রমাণ হবে। কিন্তু হনুরা যেহেতু শুধুমাত্র ইসলামের নবীকেই আধুনিক যুগের আইনে গ্রেফতার করে জেলের ভাত খাওয়াচ্ছে, 'ধর্ষক' ও 'শিশুকামী' বানিয়ে দিচ্ছে, সেহেতু তারা ইসলামবিদ্বেষী ভণ্ড প্রমাণিত হয়েছে। তবে মুসলিমরা এই ধরণের ছাগলামী-মার্কা যুক্তিতে বিশ্বাস করে না।

কথায় বলে- খলের ছলের কোনো অভাব হয় না। হনুদের মধ্যে অতি ধূর্ত কেউ এই পর্যায়ে এসে 'যুক্তি' দিতে পারে এই বলে যে, মুহাম্মদ যখন আয়েশাকে বিয়ে করেন তখন মুহাম্মদের বয়স ছিল ৫০+ আর আয়েশার বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর। কাজেই তাদের বয়সের পার্থক্য অনেক বেশি। এক্ষেত্রে জবাব হচ্ছে হনুরা যেহেতু আধুনিক যুগের আইন দিয়ে মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর সমালোচনা করছে সেহেতু আধুনিক যুগের আইনে ১৮ বছরের পর আর কোনো পার্থক্য করা হয় না – অর্থাৎ আধুনিক যুগের আইনে ১৮ যা ৫৮-ও তাই। কাজেই আধুনিক যুগের আইনে মুহাম্মদ (সাঃ) ও আরো অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির বিয়ের মধ্যে কোনোই পার্থক্য নেই। উল্লেখ্য যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২২ বছর বয়সে ১০-১১ বছরের মৃণালিনী দেবীকে বিয়ে করেছিলেন। এই ধরণের উদাহরণ ইতিহাসের পাতায় অনেক আছে।

অভিযোগ: ইসলামের নবী মুহাম্মদ যখন আয়েশাকে বিয়ে করেন তখন তিনি একজন নবী ছিলেন, সাধারণ কেউ ছিলেন না।

তাতে কী হয়েছে? আধুনিক যুগের আইনে কি নবীদের বিয়ের বয়সের ব্যাপারে কোনো রকম সীমাবদ্ধতা আছে? হনুরা কী বলে? তবে আয়েশাকে বিয়ের আগে মুহাম্মদ (সাঃ) সর্বপ্রথম ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছর বয়সের এক বিধবা নারীকে বিয়ে করে সেই নারীর স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত (অর্থাৎ দীর্ঘ ২৫ বছর) আর কাউকে বিয়ে করেননি। ইতিহাসে এই ধরণের দৃষ্টান্ত আর কয়টা আছে? এজন্য হনুরা প্রথম বিয়ের কথা বেমালুম চেপে যায়। কেননা এই বিয়ে তাদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে আছে। কাজেই মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর জীবনে যেমন ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছর বয়সের বিধবা নারীকে বিয়ে করে সেই নারীর স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো বিয়ে না করার বিরল নজির আছে, তেমনি আবার ৫০+ বয়সে ৯ বছর বয়সের আয়েশাকে বিয়ে করার ব্যতিক্রমধর্মী নজিরও আছে। আর এগুলোর সবই হাদিস-সিরাত থেকে এসেছে। কোরআনে এগুলোর কিছুই উল্লেখ নেই। তাছাড়া এগুলো ঈমানের কোনো অঙ্গও নয়।

যাহোক- একমাত্র মনুসংহিতা ছাড়া আজ থেকে কয়েক দশক আগ পর্যন্তও কোনো দেশেই বিয়ের ব্যাপারে বয়স-সীমা নির্ধারণ করে কোনো রকম আইন-কানুন ছিল না। তবে বর্তমানে প্রায় সব দেশেই বয়স-সীমা নির্ধারণ করে কিছু আইন করা হয়েছে, যদিও সব দেশের বয়স-সীমা এক নয়। আজ থেকে কয়েক দশক পর হয়তো এই আইনগুলো আবারো সংশোধন করা হবে। যুগের প্রেক্ষাপটে এটা ঠিক আছে। অথচ বর্তমান যুগের কিছু মানুষের তৈরী করা সংজ্ঞা ও আইনের উপর ভিত্তি করে হনুরা মুহাম্মদ (সাঃ)-কে একজন 'শিশুকামী' ও 'ধর্ষক' বানিয়ে দিয়ে প্রচার করছে। হনুদের কথাবার্তা থেকে বুঝাই যায় তারা আসলে ইসলামের নবীর ঘাড়ে বন্দুক রেখে নিজেদের শিশুকামী ও ধর্ষকামী মনোভাব প্রকাশ করে।

মুহাম্মদ (সাঃ) কতগুলো বিয়ে করেছেন, কেমন বয়সী নারীদের বিয়ে করেছেন — ইত্যাদি বিষয়ে সেই সমাজের লোকজন কি কোনো কৈফিয়ত চেয়েছিল? না। তারা কি মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর কোনো বিয়ের বিরুদ্ধে ছিল? না। তাঁর কোনো স্ত্রীর পরিবারের লোকজন কি বিয়ের বিরুদ্ধে ছিল? না। মুহাম্মদ (সাঃ) কি কারো অমতে বা কাউকে জোর করে বিয়ে করেছিলেন? না। মক্কার কাফেরদের কেউ কি মুহাম্মদ (সাঃ)-কে 'শিশুকামী' বা 'ধর্ষক' বলেছিল? না। তাহলে আজ কারা মুহাম্মদ (সাঃ)-কে একজন 'শিশুকামী' ও 'ধর্ষক' বানিয়ে দিয়ে তাঁরই স্ত্রী আয়েশার জন্য মায়াকান্না করে? তাদের উদ্দেশ্যটা কী?

নোট: বিয়ে করা বা না-করা, স্ত্রীর সংখ্যা, স্ত্রীর বয়স, ইত্যাদি বিষয়গুলো নবী হওয়া বা না-হওয়ার কোনো শর্ত নয়। কেউ বিয়ে না করেও নবী হতে পারেন। কারো একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি নবী হতে পারেন। কারো স্ত্রীর বয়স প্রচলিত বয়সের চেয়ে কম-বেশি হওয়া সত্ত্বেও তিনি নবী হতে পারেন। কাজেই যুক্তিবাদী ও সত্য সন্ধানীরা ইসলামবিদ্বেষী মিশন্যারীদের এই ধরণের বিদ্বেষমূলক প্রপাগ্যাণ্ডা থেকে বিভ্রান্ত হবেন না বলেই বিশ্বাস।

৫ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. Shahriar

    Thanks for sharing.

  2. sotto

    যারা বিশ্বাসী তারা বিশ্বাস করেন যে, ৫০ বছরের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্য উপযুক্ত ছিলেন বলেই ৯ মতান্তরে ১৫ বছরের আয়শাকে (রাঃ) আল্লাহতায়ালাই মনোনিত করেন। সুতরাং যারা বিশ্বাসী নয়, তারা তো এটি নিয়ে ত্যানা প্যাচাবেই।

  3. Nazir Hasan

    মাশাআল্লাহ্ সুন্দর লেখা। আল্লাহ আপনাকে জাজায়ে খায়ের দান করুন। আমীন।

  4. আবুযর মুহাম্মাদ

    আলহামদুলিল্লাহ লেখা সুন্দর হয়েছে । যাদের জন্ম হনুমান থেকে তারা এরকম কথা বলবে । আর ঈমান এর পরীক্ষায় আমরা এগিয়ে যাব ইনশাল্লাহ । আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন । আমিন ।   

     

     

  5. Tutul

    মা আয়েশার হাদিস কি নাস্তিক রা পড়ে নাই??পড়ার পরেও কি তারা বোঝে নাই আয়েশা (রাঃ) হ্যাপি ছিলেন কিনা??আজব!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।