«

»

নভে. ২০

কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কিছু কথা ও প্রশ্ন

এই ধরণের লেখার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ক্ষতি ছাড়া ব্যক্তিগত কোনোই লাভ যে হবে না, এটা জেনেবুঝেও একটা দায়িত্ববোধ থেকে লিখতে হচ্ছে। এই লেখায় কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করা হবে। তবে প্রশ্নপর্বে যাওয়ার আগে প্রশ্নগুলো উত্থাপন করার পেছনের কারণগুলো বলে রাখা ভালো। প্রচার করা হচ্ছে এই বলে যে, কওমী মাদ্রাসা হচ্ছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়, সঠিক মানুষ গড়ার কারখানা, জান্নাতের বাগিচা, ইত্যাদি। অন্যদিকে সরকারী (নন্‌-কওমী) প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে ডাক্তার হতে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়। খাদ্যদ্রব্যে বিষাক্ত মেডিসিন দিয়ে সুস্থ মানুষদের বড় বড় রোগে আক্রান্ত করা হয়। রানা প্লাজার মতো হাজার হাজার বিল্ডিং-এর প্রকৌশলী হয়। ঐশী, তসলিমা ও লাকী হয়। ইত্যাদি। কওমী মাদ্রাসার সার্টিফিকেট স্বয়ং আল্লাহ মূল্যায়ন করেন। যার মূল্যের বিনিময় সারা দুনিয়া এবং তদমধ্যস্থিত সকল ধনভাণ্ডার তুচ্ছ ব্যাপার। তাই সরকারী বা পশ্চিমা শিক্ষার (?) চিন্তা না করে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার মূল্যায়ন করুন। ইত্যাদি। একটি নমুনা হিসেবে এই পেজের পোস্টগুলো দেখা যেতে পারে। ফেসবুক জুড়ে কওমীপন্থীদের এই ধরণের পেজ প্রচুর আছে।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, কওমীপন্থীরা আলিয়া মাদ্রাসাকেও সমর্থন করে না। তারা বরং আলিয়া মাদ্রাসার বিরুদ্ধেও একই ধরণের প্রপাগ্যাণ্ডা ছড়ায়। এখানে একটি নমুনা আছে। অর্থাৎ তাদের দাবি অনুযায়ী একমাত্র কওমী মাদ্রাসাই সঠিক মানুষ (আদর্শবান মুসলমান) গড়ার কারখানা। শুধু তা-ই নয়, তাদের দাবি অনুযায়ী কওমীপন্থী ছাড়া বাকি সকলেই বাতিলপন্থী বা মুরতাদ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, সরকারী-বেসরকারী (নন্‌-কওমী) প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, গবেষক, আইনজ্ঞ, ইত্যাদি হয়েও কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থাকে সমর্থন দেওয়ার মতো অনেকেই আছেন। আর রাজনৈতিক দলগুলো তো ভোটের লোভে না-দেখার না-শোনার ভান করে বালির মধ্যে মাথা গুঁজে আছে। কিছুদিন ধরে কওমীপন্থীদের কথাবার্তা নিজ চোখে দেখে আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে: মুসলিমদের মধ্যে নীরবে-নিভৃতে আরেকটি আইসিস সৃষ্টির পথ সুগম হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে আইসিস-এর মতো তাদের হাতেও অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদেরকে ভিন্নপন্থী মুসলিম নিধনে ব্যবহার করা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বিশেষ গুরুত্বসহকারে লক্ষ্যণীয়-

bjr1

bjr2

bjr3

যাহোক, কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের দাবিগুলোর উপর ভিত্তি করে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিচে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করা হলো।

প্রথমত- নিজেরা কওমী মাদ্রাসাতে না পড়ে এবং সন্তানদেরকেও কওমী মাদ্রাসাতে ভর্তি করে না দিয়ে যারা কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থাকে সমর্থন দেয় তাদের উদ্দেশ্যটা সর্বাগ্রে জানা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত- বলা হচ্ছে কওমী মাদ্রাসায় সঠিক মানুষ (আদর্শবান মুসলমান) তৈরী করা হয়। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যারা এই ধরণের দাবি করছে তারাই আবার উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচুর মিথ্যাচার করে। ভিন্নপন্থীদের বিরুদ্ধে গীবত গায় (তাদের কাছে নিজপন্থী ছাড়া বাকি সকলেই বাতিলপন্থী বা মুরতাদ)। ভিন্নপন্থী স্কলারদের বিরুদ্ধে ডাহা মিথ্যা অভিযোগ করে, তাদের নাম বিকৃতি করে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও গালিগালাজ করে। এই ধরণের পোস্টে শত শত লাইক-শেয়ার-সমর্থন পড়ে। তাদের কাউকেই এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। অথচ কোরআনে মিথ্যাচারের জন্য কঠোর শাস্তির কথা লিখা আছে। আর মিথ্যা গীবতকারীদের সম্পর্কে ইসলামে কী বলা আছে, সেটা তো তাদেরই ভালো জানার কথা। কাজেই তাদের দাবির সাথে হিসাব মিলেনা!

– কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা নন্‌-কওমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে বিষোদগার করছে। লেখার শুরুর দিকে কিছু উল্লেখ করা হয়েছে। তার মানে কি তারা রোগ-আপদে ডাক্তারের কাছে যায় না! প্রকৌশলীদের তৈরী করা বাড়িতে থাকে না! বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার করা কোনো কিছু ব্যবহার করে না! তারা কিন্তু কম্পুটার, সেলফোন, ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে এইসব কথাবার্তা বলছে! এইটা তো দিনে-দুপুরে আত্মপ্রতারণা।

– কওমী মাদ্রাসাতে যদি আসল ইসলাম শিক্ষা দেওয়া হয় তাহলে তারা 'মুসলমান', 'মোছলমান', 'নামাজ', 'রোজা', ইত্যাদি টার্মগুলো ব্যবহার করে কেন। কোরআন-হাদিসে তো এই টার্মগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই!

– কওমী মাদ্রাসার সার্টিফিকেট স্বয়ং আল্লাহ মূল্যায়ন করেন এবং সেই সার্টিফিকেটের মূল্যের কাছে সারা দুনিয়া এবং তদমধ্যস্থিত সকল ধনভাণ্ডার তুচ্ছ – এগুলো তারা জেনেছে কী করে! এই ধরণের কোনো কথা কোরআন বা হাদিসে লিখা আছে কি?

তৃতীয়ত- বলা হচ্ছে কওমী মাদ্রাসা হচ্ছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা সবাই জানি ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশী লেখালেখি হয়েছে (হচ্ছে, এবং হবে) ইংরেজীতে। কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা সেই ইংরেজী লেখাগুলো পড়ে বুঝবে কী করে, আর জবাবই বা দেবে কী করে! তারা কিন্তু বাংলা ভাষাটাও ঠিকমতো শিখে না।

– বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক। অভিজিৎ রায়ের মতো অনেকেই বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনকে বিভিন্নভাবে অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। এমনকি বিজ্ঞানের নামে স্রষ্টাকেও 'নাই' করে দেওয়া হয়েছে। সেই লেখাগুলো পড়ে মুসলিম পরিবারের তরুণরা নাস্তিক হচ্ছে। কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা সেই লেখাগুলোর কোনো জবাব দিয়েছে কি-না, কিংবা দিতে পারবে কি-না।

– বিবর্তনবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানের নামে বিবর্তনবাদ দিয়ে ইসলামের সৃষ্টিতত্ত্বকে 'ভুল-মিথ্যা-অসার' দাবি করে প্রচারণা চালাচ্ছে। সেই লেখাগুলো পড়েও অনেকে নাস্তিক হয়েছে। কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা বিবর্তনবাদীদের এই ধরণের অপপ্রচারণার কোনো জবাব দিয়েছে কি-না, কিংবা দিতে পারবে কি-না।

চতুর্থত- বিগত চৌদ্দশ' বছরের ইতিহাসে কওমী মাদ্রাসা বলে কিছু না থাকলে এই পৃথিবীর বুক থেকে ইসলাম 'নাই' হয়ে যেত কি? কিংবা, আগামীকাল থেকে সারা বিশ্বের কোথাও কওমী মাদ্রাসা বলে যদি কিছু না থাকে সেক্ষেত্রেও কি এই পৃথিবীর বুক থেকে ইসলাম 'নাই' হয়ে যাবে? অর্থাৎ, কওমী মাদ্রাসা = ইসলাম? তাছাড়া রাসূল (সাঃ)-এঁর সময় কওমী মাদ্রাসা বলে কিছু ছিল কি?

– ধরা যাক, বিগত চৌদ্দশ' বছরে এই পৃথিবীর বুকে কওমী মাদ্রাসা ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। সেক্ষেত্রে পৃথিবীটার অবস্থা কেমন হতো! আবার ধরা যাক, আগামীকাল থেকে সারা বিশ্বের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কওমী মাদ্রাসায় রূপান্তর করা হলো। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে পৃথিবীটার অবস্থা কেমন হতে পারে?

পঞ্চমত- একটি মাল্টিডিসিপ্লিন্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বছরে পাঁচ হাজার ছাত্র পাশ করে বের হলে তাদের মধ্যে কিছু ডাক্তার, কিছু ইঞ্জিনিয়ার, কিছু আইনজ্ঞ, কিছু অর্থনীতিবিদ, কিছু রাজনীতিবিদ, কিছু সমাজবিজ্ঞানী, কিছু পদার্থবিদ, কিছু রসায়নবিদ, কিছু গণিতজ্ঞ, কিছু প্রযুক্তিবিদ, কিছু গবেষক, ইত্যাদি, ইত্যাদি-সহ কিছু ইসলামিক বিশেষজ্ঞও তৈরী হয়। তাদের সকলেই সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখে। অন্যদিকে একটি কওমী মাদ্রাসা থেকে বছরে পাঁচ হাজার ছাত্র পাশ করে বের হলে তাদের সকলেই মূলত আরবী ও ইসলাম বিষয়ে জানে – যা কওমী মাদ্রাসাতে না পড়েও জানা সম্ভব, অনেকেই জানছে। বরঞ্চ কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা ইসলাম (বিশেষ করে কোরআন) সম্পর্কে কতটুকু জানতে পারে, সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের লেখালেখি দেখে সন্দেহটা আরো ঘণীভূত হচ্ছে। তারা মূলত আরবী জানার অহংবোধ দেখায়, যদিও আরবীটাও কতটুকু শিখে কে জানে! তারা তো আর আরবীভাষীদের চেয়ে ভালো আরবী জানতে পারবে না। তাহলে লাভটা কী হলো, আর অহংবোধেরই বা কী আছে। অধিকন্তু, কোরআনে কিছু আয়াত আছে যেগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করতে হয়। কিছু আয়াতের ব্যাখার জন্য গণিতের জ্ঞানও দরকার হয় (যেমন: পারিবারিক আইন)। এমনকি কিছু আয়াতে প্রকৃতিজগত নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করার কথাও বলা হয়েছে। কওমী মাদ্রাসাতে প্রকৃতিজগত নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করার মতো কোনো ব্যবস্থা আছে কি? কাজেই যেকারো বুঝার কথা যে, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা এমনকি ইসলামকে ব্যাখ্যা করার জন্যও স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়! তাহলে এই ধরণের অত্যন্ত সংকীর্ণ গণ্ডির শিক্ষাব্যবস্থা মুসলিম জাতিকে ধীরে ধীরে পঙ্গু করে দেবে না কি?

নোট: এই পোস্ট'টা দেওয়া হয়েছে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। এখানে অন্যান্য পন্থীদের আলুপোড়া খাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

৯১ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. তাজুল ইসলাম

    @রায়হান ভাই,

    সালাম। ভাল একটি বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছেন। আপনার লিখায় আমার নিজের অভিমত প্রকাশ করছি, অন্য ভাইরা একমত নাও হতে পারেন। বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদ সংলগ্ন এবং মসজিদের ভিতরে এই কওমী মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। মসজিদগুলারে কওমীর ছাত্ররা বোর্ডিং বানিয়ে নিয়েছে।  অনেকবার কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের 'বাড়াবাড়ি" খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করেছি। খুব ভয়ংকর হিংস্রতা দেখেছি। তাদের 'বাড়াবাড়ি' দেখে ধারনা করি,  ISIS- র মত জঙ্গি গোষ্ঠী ভবিষ্যতে তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা।  উনারা মনে করেনে, ইসলামের সকল জ্ঞ্যান ও আমলের ভাণ্ডার নিয়া বসে আছেন, আর অন্য কেউ ইসলাম সম্পর্কে কিছু জানে না। তাদের কাছ থেকে ইসলাম শিখতে হবে, জানতে হবে। এই কওমীর শিক্ষক যে মসজিদে ইমামামতি করেন, সেই মসজিদে প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষ করে, শুরু করেন, তাদের বয়ান, আরম্ভ হয় তাদের জ্ঞ্যান দেওয়া আর ফতোয়া। এটা আগে এত ছিল না কিন্তু ইদানিং তীব্র আকার ধারন করতেছে। সমাজে নিজেদের একটা ইমেজ এবং কতৃতের জন্যে উঠেপড়ে লেগেছে। মিলাদ ও রমযানে উনারা নিজেদের আরও বেশী করে প্রকাশ করেন। আমি ওদের  অন্তরে শয়তান ছাড়া আর কিছু দেখি না, তবে অল্পসংখ্যক ২/৪ জন ব্যতীত। নামাজের দৈঘ্য হয় ৫ মিনিট, মোনাজাত করাবে ১০ মিনিট।  স্কুল ও কলেজ লাইফের একটি অংশ  সৌদি আরবে কাটিয়েছি, কখনও এই সব কওমী মার্কা প্রতিষ্ঠান চোখে পরেনি।

     

  2. মুহাম্মদ মিসবাহ

    ভাই তোমার কিছু যুক্তিগুলো অদ্ভুত মনে হল । এসব লেখালেখি করার আগে ইসলাম ও কওমীয়াদের সম্পর্কে ভাল ধারনা নিয়ে এসো, মূলত তুমি তো কুরআন, হাদীস সম্পূর্ণ পড়নি, অর্থাত্‍ একজন আলেম না হয়ে থাকলে কীভাবে তাদের নিন্দা রটাচ্ছ? একমাত্র কওমী মাদ্রাসাই হকপন্থী অবস্থানে আছে ।

    1. ২.১
      এস. এম. রায়হান

      ইসলামের ঠিকাদারী নেওয়া 'একমাত্র হকপন্থী' দাবিদার কওমীপন্থীদের অনেকের অসভ্যতা, বেয়াদপী, অহংবোধ, ও অসততার অসংখ্য প্রমাণের মধ্যে এই মন্তব্যটিও একটি জ্বলন্ত প্রমাণ হয়ে থাকবে। উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর মতো অসততার এটি একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণও বটে। শুধুমাত্র এই পোস্টের মন্তব্যগুলোতেই তাদের অহংবোধ ও অসততার একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

  3. hidatherhabib

    আচ্ছালামু আলাইকুম
    ভাই. আজই প্রথম সদালাপে মন্তব্য করতে এলাম।
    কারণ, বিষয়টি খুবই গুরুতর,
    প্রথমেই আপনার লেখার একটা অংশের সাথে সম্পুর্ন এক মত হতে পারলামনা- (কিছুদিন ধরে কওমীপন্থীদের
    কথাবার্তা নিজ চোখে দেখে আমার ব্যক্তিগত মতামত
    হচ্ছে: মুসলিমদের মধ্যে নীরবে-নিভৃতে আরেকটি আইসিস
    সৃষ্টির পথ সুগম হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে আইসিস-এর মতো
    তাদের হাতেও অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদেরকে ভিন্নপন্থী
    মুসলিম নিধনে ব্যবহার করা হলে অবাক হওয়ার
    কিছু থাকবে না।) কারন এটি আপনার তাদের(কওমি পন্থি)বিষয়ে একটি ভ্রান্থ ধারণা। আপনি জনাবে মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত ইতিহাস দেখুন, অথবা হাদিছ গুলো দেখুন (অবশ্য আপনি পুরো ইতিহাস জানেন,হয়ত হাদিছ সম্পর্কে পূ্র্ন আয়ওত্য নেই, কিন্তু কোন্ দৃষ্টিভঙি নিয়ে আপনি ইতিহাস চর্চা করেছেন তা আমার জানা নেই। কারন. দৃষ্টিভঙিই এখানে
    সব চেয়ে গুরুত্যপূর্ন বিষয়। যে ইতিহাস পর্যালোচনা করে এক জন বলে, জনাবে মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) পৃথিবীর শ্রেষ্ট মানুষ, সেই একই ইতিহাস পরে আরেক জন তার বিরুদ্ধাচরণ করে।) তার মধ্যে থেকে যাকে, বা যাদেরকে আপনি ইসলামের অনূসরণীয় মনে করেন তাদের ঈমান,আমল, রাজনীতি, অর্থনীতি,সামাজিকনীতি, আল্লাহ এবং রাসুলের অনূসরন, বর্তমান সময়ে তুলনামুলক ভাবে কার মধ্যে সব চেয়ে বেশি পাওয়া যায়?। এখলাছের সাথে, রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় একটু ভাবার জন্য অনুরোধ রইল।
    আর একটি প্রশ্ন হল কে শ্রেষ্ট?
    এখানেও সেই একই কথা? ( দৃষ্টিভঙি)
    আপনি যদি দুনিয়াখ্যাত চিকিৎসক হতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই মেডিক্যাল কলেজে লেখা পড়া করতে হবে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার, কৃষিবীদ,ব্যাবসায়ী,( ইত্যাদি ইত্যাদি) এগুলো প্রতিটির শিক্ষা প্রতিষ্টান, কর্ম,
    কর্মস্থান আলাদা আলাদা। একটির আরেকটির সাথে কোন সম্পর্ক নেই,
    মেডিক্যাল কলেজে লেখা পড়া করে যেমন ব্যারিস্টার হওয়া যায়না! ঠিক তেমনি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলের অনুসরন করতে ইসলামিক শিক্ষাছাড়া
    সম্ভব না। সাড়া দুনিয়ার শ্রেষ্ট ইসলামিক স্কলার, ইসলামিক- রাজনীতিবিদ, যারা নিজেদের সারাজীবন ইসলামের জন্য ব্যায় করেছেন,তারা সকলেই এই বিষয়ে একমত যে, ইসলামের শুরু থেকে চৌদ্দশত বছর পরও আজ, বর্তমান সময়ে আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) এবং সাহাবায়ে কেরামের ( রাঃ) অনুসরন এবং অনুকরনে সব চেয়ে এগিয়ে ভারত উপমহাদেশের কওমি ওয়ালামায়ে কেরাম। যদিও ফিকহি ছোট খাট মাস’আলা মাসায়েল নিয়ে দ্বিমত আছে। আপনি অবশ্যই এটা মানবেন যে? একটি শিক্ষা প্রতিষ্টানের ৫% ছাএ খারাপ হলে যেমন শিক্ষা প্রতিষ্টানকে খারাপ বলা যায়না? তেমনি ৫% ভাল হলে তাকেও ভাল বলা যায়না। আপনি যাদের স্ক্রিনশট দিলেন, তাদের দিয়ে পুরো আলেমসমাজকেই বিচার করলে তাদের প্রতি একটু বেশি অবিচার হয়ে যায়না?। আর তারাওত মানুষ! তাদেরকে ভুল ভ্রান্তি থেকে মুক্ত মনে করার সুযোগ নেই। আর আই এস এর কথা বল্লেন, এটা নিয়ে আজ আর নয়। শুধু আজকের জন্য দুচোখের একটু জল ঝল ফেলে ভুলে গেলাম।
    আশাকরি রাগ করবেন্না, বরং দোয়া করবেন। কারন:ছোটরা বড়দের কাছ থেকে এর থেকে বেশি দামী আর কিছু পাওয়ার নেই। আল্লাহ্‌ যেন আমাদের, রক্ত, ঘাম,জান, মাল, সময় সহ সবকিছুই ইসলামের জন্য কবুল করেন এবং হেদায়াত দান করেন ( আমিন)।

    1. ৩.১
      সরকার সানজিদ আদভান

      আপনার কথার সত্যতা যাচাই করব কীভাবে? কওমীদের আক্বীদা ভালো,সারা বিশ্বের বরেণ্য আলেমরা কওমীদের পক্ষে………… এগুলো ত আপনার ব্যক্তিগত মত।এর সত্যতা যাচাই করার কোনো উপায় আছে কি? বা অন্যের সামনে বিষয়টির সত্যতা প্রমাণ করার?

      1. ৩.১.১
        মাসুদ

        হুম, আমার ও এমন একই প্রশ্ন, উনারা বলে থাকে উনারাই শ্রেষ্ঠ কিন্তু এটার কোন প্রমান আছে কি? এমন ত সবাই দাবি করে, আর যুগ যুগ ধরে মানুষ জেনে আসছে মক্কা, মদিনা , বসরা, কুফা ইত্যাদিই বা তাদের আলেমরাই শ্রেষ্ঠ। অথচ এখন তারা বলছে কি?

         

  4. কিংশুক

    খুব স্পর্শ কাতর এই বিষয়ে মন্তব্য করা কঠিন । আমি সাতাশ বছর ধরে যে গৃহে বাস করি তার ঠিক পাশেই এক ক্বওমী মাদ্রাসা । তাজুল ইসলাম ভাই যা বললেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা । সব মহলের বিশেষত রামপন্থী, বামপন্থী, আল্ট্রা সেক্যুলার, সেকুলার বিরামহীন অপপ্রচারে আমিও এক সময় এরকম মনে করতাম। এখন নিজে মাদ্রাসার সাথে কিছুটা জড়িত থাকায় উনাদের সিলেবাস সহ সব কিছু জানার বুঝবার সূযোগ হচ্ছে । মাদ্রাসার সিলেবাসের সাথে সন্ত্রাসের দূরবর্তী কোন সম্পর্কও নাই। আই এস এ যোগ দেওয়া দুরে থাক আই এস আদর্শ ঠেকিয়ে রাখতে পারে হক্বপন্থী ক্বওমীরা। আদব কায়দা, ইসলামিক আদর্শের দিক দিয়ে সেরা মানুষ ক্বওমীরাই গড়েন। ক্বওমী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী বিষয়ে যে ধরনের গবেষণা হয় তাও বিশ্বেবসেরা।তবে আপনার অন্যান্য সকল অভিযোগ সঠিক । ক্বওমী মাদ্রাসা যখন স্কুল, কলেজ, আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষিত মানুষের কাছ থেকে বিরুপ মন্তব্য শুনছে তখন সবাইকেই প্রতিপক্ষ বানিয়ে প্রত্যুত্তর দিতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন। আসলে সরকারি সুবিধা হীন, আল্লাহর গায়েবী সাহায্যের উপর নির্ভর করা জাগতিক ভাবে দূর্বল গরীব অসহায় দের উপর সর্বমহল যেভাবে হামলে পড়েছে তার বিরুদ্ধে ওনাদের প্রতিরোধ হচ্ছে উল্টাপাল্টা। উনারা উল্টাপাল্টা তিলকে তাল বানানো সমালোচনা করে যাচ্ছেন। এজন্য ইসলাম বিরোধী শক্তিকে বাদ দিয়ে অন্যদের প্রতিপক্ষ না ভেবে বন্ধু ভেবেই জবাব দেওয়া দরকার । সিলেবাসে অনেক পরিবর্তন আনা দরকার। যেমন আগে তো বাংলা ইংরেজি ছিলই না। এখন কিছুটা আছে। সরকার বেশ কয়েকবার সিলেবাসে কিছুটা পরিবর্তন করে বাংলা ইংরেজি গণিত বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছেন। কিন্তু উনারা প্রবল বিরোধী । এখনও একটা চেষ্টা চলছে । তবে উনাদের মধ্যে গোড়া প্রাচীনপন্থী যেমন আছেন তেমনই আপনার মতো করে ভাবা অনেক তরুণ সংস্কার প ন্থীও আছেন যাঁরা অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছেন । মুরুব্বীরা যে বাধা দিচ্ছেন উনারাও দ্বীনের কথা ভেবেই করছেন আবার সংস্কার পন্থীরাও দ্বীনের জন্যই করছেন। প্রাচীনপন্থীরা মাদ্রাসা শিক্ষা কে বিশেষ শিক্ষার ক্যাটাগরির স্বীকৃতি নিয়ে সংস্কারকে পাশ কাটাতে চান। দেখবেন এক সময় পরিবর্তন আসবে ইনশাল্লাহ।

  5. কিংশুক

    ক্বওমী মাদ্রাসা না থাকলে প্রকৃত দ্বীপ উপমহাদেশ থেকে হারিয়ে যেতো। আমাদের পূর্ব পুরুষরা শুইন্যা মুসলমান থেকে নাস্তিক কম্যুনিষ্ট হয়ে যেতো।

    1. ৫.১
      সরকার সানজিদ আদভান

      ক্বওমী মাদ্রাসা না থাকলে প্রকৃত দ্বীপ উপমহাদেশ থেকে হারিয়ে যেতো। আমাদের পূর্ব পুরুষরা শুইন্যা মুসলমান থেকে নাস্তিক কম্যুনিষ্ট হয়ে যেতো।

      যদি আপনি আমাদের ভারত উপমহাদেশের উত্তরসূরী বলেন তাহলে বলব ঘটনাটা পুরোই বিপরীত। কোনো কওমী আলেম (বর্তমানের আক্বীদার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ) সে সময় কোনো অবদান রাখে নি আমাদের (হয়তবা) পূর্বপুরুষদের মুসলিম বানাতে। বরং মুসলিম শাসকদের অবদানের (যেমন তুর্কী সশস্ত্র শাসক ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি, সুলতানি বাদশাহ ইত্যাদি) জন্যই তারা মুসলিম হয়েছিল। আরও একটি কথা এদেশের পূর্ব-পুরুষ যারা মুসলিম হয়েছে বলছেন (হিন্দু) তাদের ইসলামের প্রতি আকর্ষণ অনুভূত হয়েছে তাদের শ্রেণী প্রথা (ব্রাহ্মণ, শূদ্র ইত্যাদি) এবং এর বর্বর নিয়মের জন্য। আর তারা ইসলামের দাওয়াত পেতে শুরু করেছে মুসলিম শাসন আসার পর থেকে। যদি ধরেও নেই কওমী আলেমদের মূল অবদান ছিল (যা ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে ভুল) ইসলাম প্রচারে তবে এতে কীভাবে বর্তমানে তাদের জাস্টিফাই করা যায়?

      1. ৫.১.১
        কিংশুক

        যাঁরা আই এস তারা আহলে সুন্নাহর আক্বিদার বিশেষতঃ হানা ফি মাজহাবের কাউকে দেখতেই পারেনা। কথাবার্তা আপনার মতোই শুনায়। ফিতনার যুগে কে যে কার হেদায়াত চায় তাও বিস্ময়কর! ক্বওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রীক দেওবন্দি আন্দোলন শুরুই আঠার শতকে ইমান আমল হেফাজত ও ইংরেজ তাড়ানোর জন্য । সিপাহী বিপ্লব, দেশ বিভাগ সহ সকল বিপ্লব, আন্দোলন, জিহাদের মাঠে নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্বওমীরা।মাওলানা আজাদ, ভাসানী সহ অসংখ্য ক্বওমী মাওলানারা রাজনীতির অগ্রভাগে ছিলেন। ভারতের আটশ বছরের মুসলিম শাসনের সকল সুলতান, সম্রাট আহলে সুন্নাহর হানা ফি ছিলেন। হানা ফি আলেম সুফিরা সম্রাজ্যের ধর্মীয় দিক দেখতেন। হানাফি আওলিয়ারাই হিন্দুদের মুসলমান বানিয়েছিলেন । উসমানি খিলাফতও হানাফি সুন্নি শাসিত ছিল। নব্য বিদাতি আহলে হাদিস জেএমবি, তথাকথিত সালাফি আইএস রা এই শতকে আবির্ভূত ফিতনা যারা উম্মাহর ঐক্য ধ্বংস করে দিয়ে শয়তানকে খুশী করার কাজ চালাচ্ছে ।

        1. ৫.১.১.১
          সরকার সানজিদ আদভান

          আমি আবারও বলছি,

           

          যদি ধরেও নেই কওমী আলেমদের মূল অবদান ছিল (যা ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে ভুল) ইসলাম প্রচারে তবে এতে কীভাবে বর্তমানে তাদের জাস্টিফাই করা যায়?

           

          আর কারও আক্বীদার সাথে কারও মিল থাকা মানেই উক্ত আক্বীদা সম্পন্ন মানুষদের দোষারোপ করা যায় না।এটা অমানবিক,বর্বর,অযৌক্তিক যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।তাছাড়া কে বেদায়াতি সেটা এখানে বিষয় না।আহলে হাদিস,হানাফি,সালাফী,মাযহাবী,লা-মাযহাবী এগুলো বিষয় নিয়ে কেউই কিছু বলছে না।তাছাড়া আগে অবদান ছিল কি ছিল না তার মাধ্যমে বর্তমান জাস্টিফাইড করা যায় না।

  6. সরকার সানজিদ আদভান

    কওমী মাদ্রাসার ছাত্র,শিক্ষক ইত্যাদি আইএসের মতো একটি সংগঠনে পরিণত হবে কিনা এ নিয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।কিন্তু জ্বি।আমি রায়হান ভাইয়ের সাথে একমত যে তারা ভিন্নমতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে থাকে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাবে তাদের অবদান অনেকটাই কম।কিন্তু এর মূল সমস্যা হচ্ছে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষকদের।যার প্রভাব পড়ছে ছাত্রদের।আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করুক(আমিন)

    আপনার এ লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।

  7. Shahriar

    Very fruitful writing s.m raihan bhai. We need to be more careful about those kind of madrasa (most of them give us wrong information). jajak-allah.

  8. Fazle hassan siddiqui

    ভাই, আপনার বক্তব্য খুবই সাধারণক্রিত (জেনারেলাইযড) হয়ে গেছে। উপমহাদেশের খুব করুণ অবস্থায় ধরমিয় শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে এই কওমী মাদ্রাসা। এর উদ্দেশ্য বুঝে বাকি বিষয়ে মন্তব্য করা যেতে  পারে। আপনার বক্তব্য শুনে কওমী মাদ্রাসা সম্পরকে আপনার জানা-বুঝা যথেষ্ট নয় বলেই মনে হয়। 

    কিছুদিন আগে সুরঞ্জিত বক্তব্য নাকি দিয়েছেন, মাদ্রাসা বন্ধ করা দরকার, কারণ এখান থেকে জংগি হয়। এই লেখাও তার সমার্থক  মনে হচ্ছে। আপনার অন্যান্য লেখা যত টা ভাল লেগেছে, এই লেখা সেই তুলনায় কিছুই না। মাদ্রাসার কিছু ছাত্র কি বলল তা দ্বারা পুরো মাদ্রাসাকে দায়ি করা কোন জউক্তিক বক্তব্য মনে হচ্ছে না। তাহলে ত সে কথাই হল যে, কুরানের আয়াত দ্বারা আই এস তৈরী হচ্ছে,কাজেই এখানে সমস্যা আছে। 

    1. ৮.১
      এস. এম. রায়হান
      কিছুদিন আগে সুরঞ্জিত বক্তব্য নাকি দিয়েছেন, মাদ্রাসা বন্ধ করা দরকার, কারণ এখান থেকে জংগি হয়। এই লেখাও তার সমার্থক  মনে হচ্ছে।

      প্রথমত- সুরঞ্জিত কখনো এই ধরণের কথা বলেননি। এইটা তার নামে কওমীপন্থীদের ডাহা মিথ্যা প্রপাগ্যাণ্ডা। তারা সারা ফেসবুকে এটা ছড়িয়ে দিয়ে তাকে সাম্প্রদায়িক ভাষায় আক্রমণ, গালিগালাজ, ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। কওমীপন্থীরা নিজেদেরকে 'একমাত্র সহি মুসলমান বা হক্কপন্থী' দাবি করে যে দিনে-দুপুরে মিথ্যাচার করে – এই পয়েন্ট আরো জোরালো হচ্ছে।

      দ্বিতীয়ত- আমার লেখার কোথাও কওমী মাদ্রাসা বন্ধের কথা বলা হয়নি। তাছাড়া লেখার কোথাও বলা হয়নি যে, কওমী মাদ্রাসায় জঙ্গি তৈরি হয়।

      মাদ্রাসার কিছু ছাত্র কি বলল তা দ্বারা পুরো মাদ্রাসাকে দায়ি করা কোন জউক্তিক বক্তব্য মনে হচ্ছে না।

      এখানে কোথাও পুরো মাদ্রাসাকে কোনো কিছুর জন্য দায়ি করা হয়নি। এই কাজ আসলে করেছে কওমীপন্থীরা নন্‌-কওমীপন্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

      এই লেখায় কওমীপন্থীদের প্রতারণামূলক মিথ্যাচার ও ভিন্নপন্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ (তাদেরকে বাতিলপন্থী, মুরতাদ, কাফের, ইত্যাদি আখ্যা দেয়া) তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কওমীপন্থীদের কাউকেই এ ব্যাপারে কোনো রকম প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। এ থেকে প্রমাণ হচ্ছে যে, তারাও এগুলোকে সমর্থন করে।

      1. ৮.১.১
        Shahriar

        very well said s.m. raihan bhai.

        jajak-allah.

      2. ৮.১.২
        fazle hassan siddiqui

        কিছুদিন আগে সুরঞ্জিত বক্তব্য নাকি দিয়েছেন, মাদ্রাসা বন্ধ করা দরকার, কারণ এখান থেকে জংগি হয়। এই লেখাও তার সমার্থক  মনে হচ্ছে।
         

                  প্রথমত- সুরঞ্জিত কখনো এই ধরণের কথা বলেননি। এইটা তার নামে কওমীপন্থীদের ডাহা         মিথ্যা প্রপাগ্যাণ্ডা। তারা সারা ফেসবুকে এটা ছড়িয়ে দিয়ে তাকে সাম্প্রদায়িক ভাষায় আক্রমণ,     গালিগালাজ, ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। কওমীপন্থীরা নিজেদেরকে 'একমাত্র সহি মুসলমান বা          হক্কপন্থী' দাবি করে যে দিনে-দুপুরে মিথ্যাচার করে – এই পয়েন্ট আরো জোরালো হচ্ছে।

        বক্তব্যের এই অংশ নিয়ে আমারও সন্দেহ ছিল। তাই আমি ‘নাকি’ শব্দ ব্যবহার করেছি। সন্দেহ দূর করার জন্য ধন্যবাদ।

        মাদ্রাসার কিছু ছাত্র কি বলল তা দ্বারা পুরো মাদ্রাসাকে দায়ি করা কোন জউক্তিক বক্তব্য মনে হচ্ছে না।

            এখানে কোথাও পুরো মাদ্রাসাকে কোনো কিছুর জন্য দায়ি করা হয়নি। এই কাজ আসলে করেছে      কওমীপন্থীরা নন্‌-কওমীপন্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

        এখন দ্বিতীয় অংশে বলছেন আপনি কওমী শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি তুলেননি। আমি ভুল বুঝে থাকলে সেটা ভালই। কিন্তু লেখার শিরোনাম বলছেন, কওমী শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কিছু কথা ও প্রশ্……। আপনার প্রথম প্রশ্ন তাদেরকে নিয়ে যারা এই শিক্ষাব্যবস্থা সমর্থন করে…… এবং চতুর্থ প্রশ্ন এই শিক্ষাব্যবস্থা না থাকলে কি সমস্যা? (!?)।

        যদি খুব প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চিন্তা করেন, এই অত্যন্ত সমাজ-বিচ্ছিন্ন, হীন, দুনিয়ার বিচারে তুচ্ছ লোকগুলোই সারা দেশে তেমন কোন পারিশ্রমিক ছাড়াই দ্বীনের প্রথম সবক আমাদের দিয়ে যাচ্ছে। এরাই না থাকলে নামাজ-কোরানের প্রথম অংশ শিখতে আমাদের কতদিন লেগে যেত আমার জানার বাইরে। আমার মনে হয় এই বক্তব্যে কোন আপত্তি থাকার কথা না। এখন মুল প্রশ্ন, যদি আপনি কওমী শিক্ষাব্যবস্থা এর বিরধী না হন, তাহলে আমার মতে আপনার আপত্তি এই ধরনের প্রচার প্রচারনা নিয়ে। এখন এলেমের সাথে অহংকার অত্যন্ত অঙ্গাওঙ্গিভাবে জড়িত। আবার এও সত্য যে, যে শিক্ষাব্যবস্থার জাগতিক কোন মুল্য নেই, তাঁর অজাগতিক মুল্যের গুরত্ব না থাকলে তার পেছনে সাধনা অনেক কষ্টসাধ্য। কিন্তু  এলেমের গরম কখনও কখনও বিভ্রান্ত করতেই পারে।

        আমার পরিচিতজনের একটি ঘটনা বলি, তিনি দাওরায় হাদিস দরস শেষ করে বড় হুজুরের সাথে দেখা করতে গেছেন। বড় হুজুর উনাকে জিগ্যেশ করলেন, নাম কি? জবাব দিতে গেলেন, “মাওলানা…।“ সপাৎ করে বেতের বাড়ি খেলেন। দ্বিতীয় বার শুরু করে আবার বেতের বাড়ি খেলেন। এভাবে দীর্ঘ সময় পরে যখন মূল নাম- আব্দুল্লাহ…। তখন বেতের বাড়ি থামছে। তো তিনি বুঝাতে চাইলেন, তুমি নিজেকে নিজে মাওলানা বলছ কেন? লোকে বলবে। কাজেই, এটা সত্য যে, এই শিক্ষাব্যবস্থার অজাগতিক মুল্যের গুরত্ব যেমন বোঝান হয়, তেমনি এর সাথে প্রয়োজনীয় বিনয় শিক্ষাও দেয়া হয়। তবে যেহেতু শয়তান অহঙ্কারের অস্ত্র প্রয়োগ করে, তা কার কার ক্ষেত্রে হতেই পারে।

        এখন প্রচার-প্রচারনা কারা চালাচ্ছে? তারা কি কওমী শিক্ষাব্যবস্থার মুখপাত্র? তবে কেন এই শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন? ভবিষ্যতে এ থেকে আই এস হবে কিনা-এই প্রশ্নের জবাবে এটুকু বলা যায় যে, আই এস এ যেমন ধর্মশিক্ষিত লোক আছে, তেমনি প্রচুর দুনিয়ার শিক্ষায় শিক্ষিত লোকজনও আছে। কাজেই, সমস্যাত শিক্ষার ইতিহাস না, সমস্যা পরবর্তী সময়ের বিভ্রান্তিমূলক দ্বীনি বুঝওয়ালা লোকের সান্নিধ্য বা সাহচর্য।

        কেউ একজন প্রচারণা চালালেই তা পুরো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে না। আপনি কার রেফারেন্স দিলেন-"বাতিলের যমদূত রিটার্ন" নামে এক আই ডি এর। এর বক্তব্য কি পুরো কওমী প্রতিষ্ঠানের? এ ধরণের অভিযোগ তোলার আগে আরও তথ্য সংগ্রহের দরকার ছিল। এর জন্য ব্যাক্তি দায়ী না প্রতিষ্ঠান? অভিযোগ বিচারে লেখা দুর্বল। 

  9. এম_আহমদ

    আপনি একটি জটিল বিষয়ে লিখেছেন। আমিও ভাবি এ বিষয় নিয়ে কিছু লিখব কিন্তু মনের ভিতর থেকে সঠিক ভাষা ও উপযুক্ত পদ্ধতি খোঁজে পাই না বলে লিখি না। এখন একটি মন্তব্য করব, তাও কীভাবে করব বুঝতে পারছি না। দেখা যাক, কথা কীভাবে আসে।
    প্রথমত আপনার কিছু কিছু কথায় একমত এবং কিছু কিছু কথায় দ্বিমত পোষণ করি। উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করি।

    কওমি মাদ্রাসা হচ্ছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় … কওমি মাদ্রাসার সার্টিফিকেট স্বয়ং আল্লাহ মূল্যায়ন করেন। … তাদের দাবি অনুযায়ী একমাত্র কওমি মাদ্রাসাই সঠিক মানুষ (আদর্শবান মুসলমান) গড়ার কারখানা। শুধু তা-ই নয়, তাদের দাবি অনুযায়ী কওমিপন্থী ছাড়া বাকি সকলেই বাতিলপন্থী বা মুরতাদ।

    আমি এ ব্যাপারে আপনার সাথে একমত যে এসবের মধ্যে বাড়াবাড়ি রয়েছে। কিছু লোক আছেন যারা অতিরিক্ত কথা বলেন। আগে সোনারবাংলাদেশ ব্লগ নামে একটি ব্লগ ছিল। ওখানে দেখতাম একজন মাওলানা যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল জামাত-শিবির, সালাফি, জাক্কির নায়েক –এদেরকে বিষোদগার করা এবং তাদেরকে হীন ভাষায় চিত্রায়িত করা। এতে কাফুরিও বাদ পড়ত না। তবে এক শ্রেণীর চরমপন্থি সালাফীদের বিপক্ষে আমিও আজকাল কথা বলে থাকি, কেননা ওদের একমাত্র যুদ্ধ হচ্ছে মাযহাবের বিপক্ষে এবং আমার অবস্থান হচ্ছে কেবল এই স্থানকে ঘিরে। কিন্তু মনে করুন সোনারবাংলাদেশ ব্লগের ওই আলিম এবং ‘বাতিলের জমদুত রিটার্ন’ এবং এমন আরও অনেক লুস কেনোন (loose cannons) –এরা কি ‘কাওমি মাদ্রাসার’ রিপ্রেজেন্টেটিভস? অফিশিয়াল ঠিকাদার? তাদের ভিউ (view) কি কাওমি মাদ্রাসারই ভিউ? মনে করুন হাফেজ্জি হুজুরের ‘মাওদূদী ফিতনা’ (চটি পুস্তক), তা কি কাওমি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিউ, না হাফেজ্জি হুজুরের শিক্ষক হুসেইন আহমদ মাদানী ও মাদূদীর মধ্যকার রাজনৈতিক সাংঘর্ষিক দ্বিমতে উদ্ভূত আক্রোশ ফাতোয়ার রূপায়িত হওয়া একটি চটি বই এবং তা একান্ত  তার নিজেরই অভিমত –এতে বিশ্ব মুসলিমের কিছু নেই? আমার কাছে লাগে যে এসব ক্ষেত্রে প্রায়ই ব্যক্তির অবস্থান গোত্রীয় অবস্থানে ঘুলিয়ে যায়। কাওমি মাদ্রাসার অনেক আলেম আমার পরিচিত আছেন তারা এসব ভিউ শেয়ার করেন না। ইংল্যান্ডে আমরা জামাত, হেফাজত, খেলাফত –সবাইকে একত্রে কাজ করতে দেখছি। এর রাজনৈতিক কারণ ছাড়া এটিও হয়ত একটি কারণ যে মানুষ বিদেশ গেলে অনেক কিছু দেখতে পায়, দৃষ্টিকোণ অনেকটা বর্ধিত হয়।
    তবে মনে রাখা দরকার, মানুষের সংগঠন ও দলে কিছু চরমপন্থি লোক থাকে। এরাই সকলের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে। আজকের প্রয়োজন, সকল দলগুলো একত্র হোক, উঠাবসা করুক, একে অন্যকে জানুক, কেননা the unknown is most often the alien. আবার মানুষ কোন নির্দিষ্ট দলে জীবন কাটালে তার চিন্তা অনেকটা insular হয়ে পড়ে। আর রাজনৈতিক আদর্শ হলে তো কোন কথাই নেই। যে ব্যক্তি যে সাঙ্গপাঙ্গদের সাথে নিজের একাত্মতা অনুভব করে, এক সময় সে ভিন্ন সত্য উপলব্ধি করলেও নতুন সত্যের পক্ষে কথা বলা অত্যন্ত কঠিন হয়। এটা এক চরম সত্য।
    তবে আমি এটা মনে করি না কাওমিদের হাতে, আল্লাহ না করুক, অস্ত্র চলে গেলে তারা বকো হারাম বা আইসিসের ভূমিকায় গিয়ে তাদের বিপক্ষের লোক মেরে নিজেদের সত্য প্রতিষ্ঠা করবে। কাওমি mind-set এ আমি এমন কিছুর উপস্থিতি আছে বলে মনে করি না। কিন্তু এই কথা স্পষ্ট করতে দীর্ঘ প্রবন্ধের প্রয়োজন।
    আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন যে যখন তেঁতুল তেঁতুল নিয়ে চিৎকার হচ্ছিল তখন আমি তিন তিনটি ব্লগ মুফতি শফি সাহেবের পক্ষে লিখেছি অথচ কাওমি মাদ্রাসার অনেক বড় বড় আলেমের রাজনৈতিক অবস্থানের সাথে আমার দ্বিমত রয়েছে, যে দ্বিমত আমি সাধারণত আলোচনা করতেও যাই না। শুধু তাই নয় আরও ছোট খাটো বিষয় আছে, যেগুলো আলোচনা করাতে কোন লাভ নেই বলে আলোচনা করি না। কেউ শুনবেও না।
    কাওমি মাদ্রাসায় যেসব সমস্যা রয়েছে তা অনেক কাওমি আলেমরাও জানেন। যারা দেশ-বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন, তারা জগত কোথায় অবস্থান করছে এবং কাওমি মাদ্রাসা কোথায় রয়েছে তারা বুঝেন, কিন্তু তাদের করার কিছু নেই।  
    কেন নেই? কাওমি মাদ্রাসায় ‘অথোরিটেটিভ’ কোন স্ট্রাকচারেল প্রসেস নেই এবং এই ব্যবস্থার কোন মৌলিক কন্ট্রোলের লেজমোড় নেই। ১৯৭৮ সালে নিজেদের মধ্যে বেফাক নামক শিক্ষা বোর্ড গড়া হয়েছে বটে কিন্তু বৃহত্তর পর্যায়ে এর কার্যকারিতা খুবই কম, এটা সকলকে কন্ট্রোল করার মত কোন প্রতিষ্ঠান নয়।  বাংলাদেশের প্রত্যেক মাদ্রাসাই তার আপন আপন অবস্থানে ‘একক’। পাঠ্যক্রমে দেওবন্দী সিলসিলা রয়েছে এবং এতেই ঐতিহাসিকভাবে দেওবন্দি প্রলেপ সংযুক্ত হয়ে এক fraternity তৈরি হয়ে আছে। কিন্তু এক মাদ্রাসা আরেক মাদ্রাসার খায়ও না এবং ধারও ধারে না। আপনি নিজে চাইলেও আপনার গ্রামে একটি কওমি মাদ্রাসা স্থাপন করতে পারেন। আপনি মাদ্রাসা খুলবেন এবং কিছু আলেমের নিয়োগ দেবেন –এই যা। এতে teachers training qualificationও লাগবে না। এই প্রসেসের repercussion and social and religious  impact are enormous! এই কথার কতটুকু ব্যাপক তা বাড়তি ব্যাখ্যা ছাড়াই অনেকে বুঝবেন।  
    ১৮৬৬ সালে, সিপাহি বিপ্লবের পর, পরাজিত প্রেক্ষিতে যে দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার উপযোগী একশ্রেণীর স্কলার তৈরির সিলেবাস সহযোজনের অবকাশ ছিল না। শুধু লিমিটেড ধর্মীয় কাজের লোক গড়ার একটি মাদ্রাসা ছিল। আজকে আমাদের নিজ গ্রামের মাদ্রাসার রূপও তাই (এখানে এক বিরাট দারুল উলুম কাওমি মাদ্রাসা রয়েছে)। এখান থেকে মুসলিম বিশ্বের চাহিদা পূরণের স্কলাস্টিক পাণ্ডিত্য তৈরি হয়ে আসছে না –এখানে সেই পরিমণ্ডল নেই। বেশির ভাগেরই বাংলা, আরবিতে উপযুক্ত জ্ঞান অর্জিত হয় না। তারপর বিভিন্ন জটিল জ্ঞানকে লিখিত আকারে উপস্থাপন করার যোগ্যতাও খুব কম গড়ে উঠে। Largely critical analytical ability grows very little. কিন্তু আমরা এখানে সেখানে বিচ্ছিন্ন কিছু ভাল আলেম দেখি -সেই আলোচনা ভিন্ন –তারা প্রায়ই দেখা যাবে নিজেদের উদ্যোগে এবং ভিন্ন ধরণের প্রয়োজনের তাগিদে নিজদেরকে গড়েছেন। আর কেউ কেউ অত্যন্ত মেধাবীও। কেউ যখন ক্লাসিক্যাল যুগের বড় বড় ওলামাদের লেখা পড়বেন এবং বর্তমানের অবস্থার দিকে তাকাবেন তখন দারুণভাবে বিস্মিত হবেন। তখন মনে হবে, শিক্ষার মান যেন বাড়ার চেয়ে অনেক কমে গিয়েছে।
    আজকের বড় সমস্যা হচ্ছে ইসলামি শিক্ষার সামাজিক awareness এর অপর্যাপ্ততা যে কারণে শিক্ষার বিশেষজ্ঞ অঙ্গনের প্রয়োজন প্রতিভাত হয় না হওয়া এবং আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার মওকা আসলে এই খাতের কথা চিন্তায় আসে না বরং নতুন করে আরেকটি মাদ্রাসা বা মসজিদ বানানোর কথাই এসে যায়।
    মানুষ তার আর্থিক প্রয়োজনকে সামনে রেখে অনেক কাজ করে। চলতি মাদ্রাসা থেকে যারা বের হন তারা আরও মাদ্রাসা গড়েন, it’s like an endless repetition of the same. Whereas, it could have been different.  The existing  madrasas could expand with specialist departments. Money could have been spent on improving and maintaining standard and quality. Educational resources could have been expanded. But these do not happen for lack of appropriate awareness. তাই কয়েকজন আলেম কিছু উদ্যোক্তা নিয়ে যেমন-তেমনভাবে করে একটি মাদ্রাসা শুরু করে দেন। তারপর আল্লাহ রাসূলের নামে ওয়াজ করে এবং আঞ্চলিকতা ও মহল্লার ইসলামী দায়িত্ব দেখিয়ে টাকা সংগ্রহ শুরু করা হয় এবং there is go, you have another madrasa.  আমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পক্ষের লোক কিন্তু পরবর্তী জটিলতা দেখাতে এভাবে বলছি। এখন অবস্থা থেকে কীভাবে উত্তরণ হবে?
    বলেছি যে আমি এ নিয়ে লিখার সঠিক ভাষা পাচ্ছি না। আমি চাই না আমার কথা কোনোভাবে নেতিবাচক হোক। অথবা কেউ আক্রান্ত অনুভব করুক। কিন্তু মনে রাখতে হবে, every wider implication of change will have some implication in regard to  the management of each madrasa and imposition of rules which should be complied with and, that, most heads of existing madrasas will not like.  You can, now, probably now see the wider dimension of the problems. আবার এখানে কোন এক ব্যক্তি বা ১০ ব্যক্তি দায়ী নয়। একটা সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রসেসে সবাই এমন স্থানে এসে দাঁড়িয়েছেন। এখানে এই প্রতিষ্ঠানকে দোষের দৃষ্টিতে না দেখে জটিলতার দৃষ্টিতে দেখা ভাল।  
    কিন্তু finally মনে রাখতে হবে এই কাওমি মাদ্রাসার মাধ্যমেই উনবিংশ শতাব্দী থেকে আমাদের ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণ হয়ে আসছে। ভারত-পাকিস্তান-বাঙ্গালদেশে এর অবদান অনস্বীকার্য। যে ভূমিকা এই প্রাতিষ্ঠানিকতা পালন করে এসেছে এবং এখনও যা করছে তা স্বীকার করেই পরিবর্তনের চিন্তা করতে হবে। এই শিক্ষা ব্যবস্থা নৈতিক চরিত্রের লোক তৈরি করে –এটাতে আমার কোন সন্দেহ নেই। তবে সকল ব্যবস্থাতেই কিছু ব্যতিক্রম থাকে। এখানেও যদি বিচ্ছিন্ন মন্দ কিছু পাওয়া যায় তবে তা বিচ্ছিন্নই ভাবতে হবে।
    কাওমি মাদরাসার পরিবর্তন তার নিজ অভ্যন্তর থেকেই আসতে হবে। প্রকৃত ইসলাম দরদী কোন সরকার চাইলে তা করতে পারত, কিন্তু সিস্টেমের দুর্বলতার অজুহাতে সরকার মহলের কোন নাস্তিক মুরতাদ আলট্রা-সেক্যুলার পক্ষ ইসলাম দরদী সেজে এই কাজ হাতে নেয়া মুসলমানদের জন্য চরম বিপদজনক হবে।
    আমার আলোচনায় কোথাও  ভুল-ত্রুটি থাকলে আল্লাহ আমাকে মাফ করুন।

     

  10. ১০
    সরোয়ার

    কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আমার কিছুটা ধারনা হয়েছে। এবার হজ্জ সফরে আরো কাছ থেকে জানার এবং অবজার্ভ করার সুযোগ হয়েছিল। ভালভাবে যেন হজ্জের আহকাম পালন করতে পারি সেজন্য  আমার পছন্দীয় এক মুফতির (ঢাকার এক বড় আবাসিক এলাকার পেশ ইমাম হিসেবে তার সুনাম রয়েছে) সাথে ছিলাম যিনি এক মাসের বেশী সময় আমার রুমমেট ছিলেন। তাছাড়া আমার একজন ফ্রেন্ড ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে কওমি মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে একজন মুফতি হয়েছেন। তিনিও ঢাকার সুনামধন্য আবাসিক এলাকার কোন মসজিদের পেশ ইমাম। ওর ওয়াইফ (আমাদের ভাবী) হচ্ছেন রাজশাহী মেডিকেল থেকে পাশ করা ডাক্তার।      

    এম আহমদ ভাই অনেক সুন্দর করে বেশ কিছু অবজার্ভেশন তোলে ধরেছেন যেগুলোর সাথে আমি অনেকাংশে সহমত পোষন করি। দেশে অনেক কওমি  মাদ্রাসা থাকলেও উচ্চতর লেভেলে পড়াশুনা করার জন্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশী নয়। কয়েকটি হাতেগুনা মাদ্রাসা ছাড়া কোন মাদ্রাসা স্বাবলম্বী বা সেলফ সাস্টেনেইবল নয়। ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের সাহায্য সহযোগিতায় এগুলো চলে। সর্বোতভাবে খুব কষ্ট করে জীবন-ধারন করা এবং অত্যন্ত কম খরচে এরা সমাজে উন্নত চরিত্রের মানুষ তৈরী করছে যা আমার কাছে বিস্ময়। আল্লাহর ভালবাসা এবং সন্তুষ্টি ছাড়া বর্তমান সমাজ  জীবনে সন্তুষ্ট থাকা অসম্ভব। এদের থাকা-খাওয়া নিয়ে তেমন কমপ্লেইন নেই। 

    মুফতি সাহেবের সাথে হজ্জে যাওয়ার কারনে  মক্কা-মদিনায় বাংলাদেশের  অনেক বড় বড় আলেমের সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। একটা বিষয় খুব নজর কেড়েছে তা হচ্ছে কওমি মাদ্রাসা পড়ুয়ারা শিক্ষকদের প্রচন্ড সন্মান করেন। আমি কোন নেগেটিভ কথা শুনিনি, বরং অনুপস্থিতিতে উনারা শিক্ষকদের নাম উচ্চারনেও এক ধরনের বিনয় প্রকাশ করেন। সেক্যুলার শিক্ষায় শিক্ষিত ধর্মপ্রাণ মুসলিমদেরকে  আলেমরা অন্তর দিয়ে ভালবাসেন।   বাংলাদেশের ম্যাক্সিমাম আলেমরা বিশ্বে কি হচ্ছে তা সম্পর্কে তেমন ওয়াকিবহাল নন। পড়াশুনা এবং মাদ্রাসা চালাতে খরচ জোগার করতেই তাঁদেরকে সারাদিন খুব টেনশনে এবং ব্যস্ত থাকতে হয়। ১০০-২০০ স্টুডেন্টদের একবেলা ফ্রি খাওয়ার সরঞ্জাম জোগার করতে হিমশিম খেতে হয়। তাছাড়া উনারা সেক্যুলার সমাজের মেন্যুপুলেটিভ কমিউনিকেশন বা ডিপ্লোমেসির সাথে অপরিচিত।  এর কারনে বামপন্থী মিডিয়াওয়ালারা অপ-প্রচারের সুযোগ নিয়ে  থাকে।  

    প্রকৃত ইসলামের চর্চা করলে জঙ্গি হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাই কওমী মাদ্রাসায়  জঙ্গি তৈরীতে কোন সম্ভাবনা দেখি না। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তাতে থিংক ট্যাংকদের স্বীকৃতি নেই। বাংলা ভাইদের জংগীবাদী আইডিওলজি সমাজে যাতে প্রসার না করে সেজন্য কওমি মাদ্রাসার বড় ভূমিকা  ছিল, এখনও আছে।  ইসলামে প্রকৃত আঘাত আসলে এরা জীবন বিসর্জন দিতে কার্পূন্য করবে না বলে আমার কাছে প্রতিয়মান হয়। 

    আমার কাছে মনে হয়েছে কওমী মাদ্রাসার আলেমরা পজিটিভ পরিবর্তন চান। এরাও যুগের পরিবর্তনের সাথে ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে এডাপ্ট করতে চান। কিন্তু যারা মিডিয়াতে পরিবর্তন নিয়ে বেশী সোচ্চার থাকেন তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। বর্তমানে সেক্যুলার শিক্ষায় উচ্চশিক্ষতরা কওমী মাদ্রাসায় ছেলে-মেয়েদেরকে পড়াশুনা করাচ্ছেন। যেমন আমিও সিরিয়াসলি চিন্তা করছি আমা্র একমাত্র ছেলেকে ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে। সামনের কঠিন সময় মোকাবেলা করতে অনেক ভালমানের ইসলামিক স্কলার প্রয়োজন। সেক্যুলার শিক্ষায়  শিক্ষিত ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা এগিয়ে আসাতে কিছু  ভালমানের  মাদ্রাসার গড়ে উঠেছে, যেখানে নীজের টাকা খরচ করে পড়তে হয়।  প্রসংগত, বুয়েটের প্রফেসর হামিদুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পাশাপাশি কওমি থেকেও মুফতি (পিএইচডি) পাশ করেছিলেন। তিনি উত্তরায় একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন যেখানে সেক্যুলার সমাজের উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েরা দ্বীন শিখছে। প্রফেসর হামিদুর রহমানকে দেশের একজন শীর্ষ আলেম হিসেবে গণ্য করা হয়। উনার প্রতি অন্যান্য কওমি মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের আলেমদের ভক্তি দেখার মতন।                

  11. ১১
    এস. এম. রায়হান

    মূল পোস্টের এক জায়গায় বলেছি-

    কিছুদিন ধরে কওমীপন্থীদের কথাবার্তা নিজ চোখে দেখে আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে: মুসলিমদের মধ্যে নীরবে-নিভৃতে আরেকটি আইসিস সৃষ্টির পথ সুগম হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে আইসিস-এর মতো তাদের হাতেও অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদেরকে ভিন্নপন্থী মুসলিম নিধনে ব্যবহার করা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

    এই বক্তব্যের পক্ষে কিছু প্রমাণও দেওয়া হয়েছে। এও বলা হয়েছে যে, ফেসবুকে এই ধরণের পেজ আরো আছে। এমনকি এই পোস্টে আইসিস-কে সরাসরি সমর্থন করার প্রমাণও আছে। তবে পয়েন্টস টু বি নোটেড:

    – উপরোক্ত বক্তব্য কওমী মাদ্রাসার ক্যারিকুলামের উপর ভিত্তি করে বলা হয়নি। বরং ফেসবুকে কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের কথাবার্তার উপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে যে, তাদেরকে (অনেকের একাংশ) ভবিষ্যতে ভিন্নপন্থী মুসলিম নিধনে ব্যবহার করা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কেননা তারা প্রকাশ্যে নিজপন্থী ছাড়া বাকি সকলকে বাতিলপন্থী, কাফের, মুরতাদ, ইত্যাদি আখ্যা দিচ্ছে। এই পোস্টেও এ পর্যন্ত কোনো কওমীপন্থীকে এর বিরুদ্ধে কিছু বলতে দেখা যায়নি।

    – এই লেখার কোথাও কওমী মাদ্রাসা বন্ধের কথা বলা হয়নি। তাছাড়া কোথাও বলা হয়নি যে, কওমী মাদ্রাসায় জঙ্গি তৈরি হয়।

    যাহোক, এই লেখার মূল বিষয়বস্তু তো এইটা না। কেউ চাইলে এই অংশটা মুছেও দিতে পারি। অথচ সবাই দেখা যাচ্ছে পুরো লেখা বাদ দিয়ে মূলত এই পয়েন্টের উপর ভিত্তি করে মন্তব্য করছেন। বেশ অবাক করা ব্যাপার।

  12. ১২
    এস. এম. রায়হান

    নিচের পোস্টে এ পর্যন্ত ১৬৩৭ লাইক এবং ১৮৬ শেয়ার পড়েছে-

    জাকির/মতি ভক্তরা পারলে দলিল দাও টিভি দেখা জায়েজ ? মাহারাম মেয়ে ছাড়া অন্য মেয়েদের কে সামনে বসিয়ে দাওয়াত দেওয়া জায়েজ ? আল্লাহর রসূল (সা:) মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের থাপ্পর খেয়ে দাওয়াত দিছে। তোদের মত টিভির পর্দায় দাওয়াত দেয় নাই। আমি বলে দিলাম টিভির পর্দায় দাড়িয়ে দাওয়াত দেওয়া বেদাআত । পারলে এটা দলিল দিয়ে প্রমাণ করে দেখাও ? ওপেন চ্যালেন্স । যে কোন জায়গায় বসতে রাজি আছি আমরা।

    ভিন্নপন্থীদের ব্যাপারটা এক পাশে রেখে স্বয়ং রাসূল (সাঃ)-এঁর ক্ষেত্রে তাদের ভাষা লক্ষণীয়। নিচের পোস্টে এ পর্যন্ত ৪৩৮ লাইক এবং ৩২ শেয়ার পড়েছে-

    এই মৌদুদিবাদী লামাযহাবী আহলে খবিশ জাকির মতির চেলারা , তোমরা শুনে রাখো, আমার পরিচয় আমি দেওবন্দী , আমি দেওবন্দী মুসলমান এর অর্থ হল, আমি কাদিয়ানী নয় , আমি মওদূদীবাদের সমর্থক নয় , আমি লা মাযহাবী নয় , আমি শিয়া নয় , আমি বিদাতী নয় । কেননা যদি আমি শুধু মুসলমান বলি তাহলে এই বাতিলদের সাথে আমার সম্পৃক্ততা রয়ে গেল , এরা সবাই ধাবি করে তারাও মুসলমান । তাই বর্তমানে এই ফিতনার যোগে একজন খাঁটি মুসলমানের পরিচয় হবে আমি দেওবন্দী।

    এখানেও তাদের ভাষা লক্ষণীয়। এগুলো দু-একটি নমুনা মাত্র। কওমী মাদ্রাসাতে নাকি বিশেষভাবে আদব-কায়দা শেখানো হয়। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে।

    1. ১২.১
      shahriar

      এস. এম. রায়হান  bhai, I am fully agree with you. Very well said. Please keep continue.

       

      Jajak-allah.

  13. ১৩
    HM mohsin

    এস.এম.রায়হান ভাই,সালাম(আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন),কওমী মাদ্রাসা সম্পর্কে আপনার দর্শণ একপেশে মনে হচ্ছে।তবে কিছু কিছু বক্তব্যের সাথে সহমত পোষন করি।দেখুন,কওমী শিক্ষাব্যবস্থা আজ থেকে নয়।অনেককাল আগ থেকে এ শিক্ষাপদ্ধতি আমাদেরকে ধর্ম,নৈতিকতা,আধ্যাতিকতা প্রসারের ভার বহন করছে।বর্তমান বিশ্বে মুসলিম দের মধ্যে শতধা আদর্শগত বিভক্তি বিদ্যমান।অনেকে ধর্মের নামে সন্ত্রাস করে।একটু বাস্তবতায় আসি,দেখুন পেছনের দিকে তাহলে এদেশে যত (হ্যা, কিছু রয়েছে তবে সেটা কওমী আদর্শের বাইরে যদিও কওমী মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছে)খুন,সন্ত্রাস,ধর্ষণ,চাদাবাজি এখানে কাদের সংশ্লিষ্টতা?আজকে চাপাতি দর্শণ কারা চর্চা করে?তাই বলে কেউ তো এই প্রতিষ্ঠানকে মন্দ বলেনা।কারন সমস্যা তার দর্শণে, সমস্যা তার শিক্ষাতে।আজ ইসলামে জিহাদের অপব্যাক্ষা দিয়ে কারা নিরীহ মানুষ কে পুড়িয়ে মারে।কই?কওমী পরিচালিত হেফাজত আন্দোলন তো শান্তিপূর্ণ ভাবে করছিল শেষে গোলটা কে বাধিয়েছে?সরকারী মাদ্রাসার অনেকে(সবাই নয় তবে বেশিরভাগ) তো নামাজই পড়েনা। যে খানে সরকারী আইসিস ভুমিকায় ওখানে আইসিসের কি দরকার?তবে ব্যতিক্রম রয়েছে এক সমষ্ঠি যেখানে কওমী ওলামাদের পদচারনা যাদের সাথে এখনো পৃথিবীতে একদল কুরবানীওয়ালা মুসলিম যারা হুজুর সাঃ ওয়ালা আখলাক দ্বারা পৃথিবীতে ছুটছে।যারা ভালোবাসা,মমতা,সৌহর্দ্য ও সহমর্মিতা দ্বারা দ্বীন কে সব শ্রেনীর মানুষের মাঝে ফেলছে।আপনি একবার অংশ নিতে পারেন।দেখবেন,আত্নিক প্রশান্তি অনুভব করছেন।(অনেক কষ্ট করে মোবাইলের মাধ্যমে লিখেছি।)

    1. ১৩.১
      কিংশুক

      সরকারি মাদ্রাসার বেশীরভাগ নামাজ পড়ে না! আমিতো সরকারি মাদ্রাসারও বেশীরভাগের দাড়ি টুপি দেখি। এ ধরনের গাঁজা খুরী মিথ্যা প্রচার না করলে কি ক্বওমী মাদ্রাসা বাঁচবেনা? মানুষের সমালোচনার নামে ঢাহা মিথ্যা প্রচার করা ব্যক্তিরা তো মুসলমান নামের কলংক। এগুলো নিশ্চয়ই হুজুররা শিখায় না। সত্য কথা বলতে আমি নিজের চোখেই ক্বওমী মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রছাত্রীদের প্রেম পি রীতি ও আরো অনেক জঘন্য কাজও করতে দেখেছি। সেগুলো অবশ্যই ব্যতিক্রম ।

  14. ১৪
    HM mohsin

    @কিংশুক ভাই,
    সালাম(আল্লাহ আপনাকে ভাল ওসুস্থ রাখুন),বাস্তবিক আমার ভাষাটা সংযত হয়নি বলে মনে হচ্ছে।আর আপনারা দিকনির্দেশক আছেন বলেই আমরা পথ চলার সঠিক পদ্ধতি খুজে পাই।”আমিতো সরকারী মাদ্রসারও বেশিরভাগের দাড়ি টুপি দেখি” হ্যা, এটা অপনার চোখে দেখা বাস্তবতা।অপনি যেভাবে দেখেছেন সেভাবেই দৃষ্টিভঙ্গি করেছেন।তেমনি আমিও আমার দেখাকেই বর্ণনা করেছি এটা কি আমার দোষ?নাকি আমার দর্শন ভুল?জানার ইচ্ছা রাখি।তাছাড়া আমি তো বলিনি যে সবাই নামাজ পড়েনা।
    এবার বলি,আমি কখনো কওমী মাদ্রাসার দরজায় পা দেইনি।আমার পড়াশোনা আলিয়া মাদ্রাসায়।এখান থেকে আমি আলিম পাশ করার পর ঢাকাতে একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ কর্মে অনার্স করছি।মাদ্রাসা থাকা আবস্থায় যখনি নামাজের(জোহরের) আযান দিত তখনি(বেশিরভাগ তবে সবাই না) আমার সহপাঠিসহ আরো অনেকে কৌশলে পালিয়ে আসতাম।পরে নামাজ হলে হুজুর জিজ্ঞেস করত, কে কে নামাজ পড়েনি।তখন কেউ মিথ্যে বললে যারা নামাজ পড়ত তারা সত্যটা বলে দিত।তখন বেতের ঘা থেকে কেউ রেহাই পেতাম না।এ ছাড়া বাকী চার ওয়াক্ত পড়তামই না। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টাডি করার সময় এক তাবলীগওয়ালা ভাই মাঝে মাঝে ঈমান ও আমলের দাওয়াত দিত।খুব ভালো লাগত পরে ফার্স্ট ইয়ার পরীক্ষা শেষ করে এক চিল্লার জন্য নিয়্যাত করে বের হলাম।সেখান থেকে তিন চিল্লা।আর এখান থেকেই কওমী আলেমদের সোহবতে থেকে তাদের সম্পকে এক ধরনের স্বচ্ছ ধারনা হয়েছিল।

  15. ১৫
    এস. এম. রায়হান

    কওমীপন্থীরা পাঞ্জাব রাজ্যের পাঞ্জাবী আর পাজামাকে 'সুন্নতী পোষাক' বানিয়ে দিয়ে একদিকে ইসলামকে সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে সীমাবন্ধ করে ফেলেছে, অন্যদিকে আবার ভিন্ন পোষাকধারীদেরকে 'ইহুদী-খ্রীষ্টানদের দালাল' আখ্যা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রপাগ্যাণ্ডা চালানো হচ্ছে। তারা কি এতটুকু জ্ঞান রাখে না যে, আল্লাহর সৃষ্টি এই পৃথিবীর অনেক অঞ্চলে শীত মৌসুমে জিন্সের প্যান্ট, উইন্টার বুট, ও ওভারকোট ছাড়া দু-এক মিনিটও বাহিরে চলাফেরা করা যায় না?

  16. ১৬
    HM mohsin

    ((-১,মোবাইল থেকে লিখছি সে জন্য পুরো পয়েন্ট উল্লেখ করতে চাইনি কেননা,তাতে কমেন্টস ও লম্বা হবে আবার লেখার কষ্ট হবে।এতটুকু মার্জনার চোখে দেখবেন বলে আশা রাখি।-২,উদ্ধৃতিচিহ্ন” “মাঝে পোষ্টের বক্তব্য এবং পরে আমার নিজস্ব অভিমত ব্যাক্ত করলাম।)

    ১)”প্রচার করা হচ্ছে এই বলে যে,কওমী মাদ্রাসা হচ্ছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়,সঠিক মানুষ গড়ার কারখানা, জান্নাতের বাগিচা ইত্যাদি ”
    _আমার কাছে এটা নিছক ধারনা মাত্র।আর ধারনা থেকে কোন সিদ্ধান্ত নয়া ঠিক নয়।আপনি(কওমী পন্থীদের মধ্যে যারা বলে) কিভাবে নিশ্চিত হলেন যে কওমী মাদ্রাসাই শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়,জান্নাতের বাগিচা।হ্যা সর্বোচ্চ আশা করতে পারেন।সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না।
    ২)”(নন-কওমী) প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে ডাক্তার হতে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে ঘুষ দিতে হয়।খাদ্যদ্রব্যে বিষাক্ত মেডিসিন দিয়ে সুস্থ মানুষকে বড় বড় রোগে আক্রান্ত করা হয়”
    _হ্যা,কথাটা প্রায় ক্ষেত্রে প্রমানিত হতে দেখেছি।তবে যেখানে ঘুষের বিকল্প নেই আর আপনি অনেক টাকা ও সময় ব্যায় করে শিক্ষানিবাশকাল শেষ করেছেন তখন আপনি ঘুষ দিতে অপারগ।আর খাদ্যদ্রবে বিষাক্ত মেডিসিন কেন দিচ্ছেন ? এরা কারা ? এখানে কেন অনৈতিক? নাকি কালো পাহার বানানোর পায়তারা আঁকছেন?পৃথিবীতে যদি কেউ সহজে বিক্রি হয় তাহলে চোখ বুজে উত্তর দিতে পারি তিনি কে?ব্যাতিক্রমও রয়েছে তাদের কাছে পৃথিবীও কিছু নয়।
    ৩)”ঐশি,তসলিমা ও লাকী হয়”
    _হয়।ধরুন,এ দেশে নামকরা দশজন নাস্তিক বাস করে।এবার আপনি তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখুন,তাদের মধ্যে যে কয়জন কওমী শিক্ষিত আর কয়জন এর বাইরের।একথা কি সত্য নয় ? নাকি মিথ্যাচার ?

    ৪)”কওমীপন্থীরা আলিয়া মাদ্রাসাকে সমর্থন করেনা”

    _কেন করবে ?যেখানে একদিকে যেমন পর্দার আয়াত পড়া হয় আর অন্যদিকে ছেলেমেয়েরা মিলেমিশে ফষ্টি-নষ্টি(হয়ত আরো কিছু )করে।শিক্ষা হয় ১এর আর চর্চা হয় আরেকের।কি মিল!কিন্তু আপনি কি সমর্থন করেন

    প্রমান:আমি আলিয়া মাদ্রাসারই ছাত্র।আমার ও গোটা কয়েক ইতিহাস ছিল।আর আমার বন্ধুরা কেউই বাদ নেই।হয়ত কারো হাফ সেঞ্চুরী হয়ে গেছে।বাব্বা! যে যমানা খারাপ হতেই হবে।
    ৫)”তাদের দাবী অনুযায়ী কওমীপন্থী ছাড়া বাকী সকলেই বাতিলপন্থী বা মুরতাদ”

    _ঠিক ধরেছেন।যতদোষ নন্দ ঘোষ।কেন? যদি লা-মাজহাবীদের প্রশ্ন করেন, যে সত্যের(ইসলামের) উপর কে?উত্তর আসবে আমরা আর বাদবাকী সবাই কাফের,মুরতাদ।যদি জামাতিরা?
    তাহলে একই উত্তর সবাই বাতিল আমরা ছাড়া।এভাবে প্রতেকেই তার নিজের অবস্থান থেকে।এখন সবাইকে অবজার্বেশন করতে হবে।

    ৬)”আমার দৃঢ় বিশ্বাষ যে সরকারী-বেসরকারী(নন কওমী প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে ডাক্তার ,ইঞ্জিনিয়ায়,বিজ্ঞানী,গবেষক, আইনজ্ঞ ইত্যাদি হয়েও কওমী শিক্ষাব্যবস্থাকে সমর্থন দেওয়ার মত আছেন)”
    _তাই! এত লম্বা ফিরিস্থি !তা আপনি বাদ পরলেন কেন?না কোন অপারগতা রয়েছে?আর যদি এটা আপনার বিশ্বাষ তাহলে
    প্রমান ছাড়া বিশ্বাষের মূল্য কি ? প্রমান দিন।
    ৭)”[নিজ চোখে দেখে ]মুসলিমদের মধ্যে নীরবে-নিভৃতে আরেকটি আইসিস সৃষ্টির পথ সুগম হচ্ছে”

    _নিজ চোখে যেহেতু দেখেছেন তাহলে বলুন যে,আইসিস(যদিও আপনার কাছে বাস্তব দর্শন) গোষ্ঠি কতদূর গড়িয়েছে ? নাকি নিছক সন্দেহ ? আর সন্দেহের দাম কি? ইসলামী শরিয়াহ অনীযায়ী সন্দেহের অবস্থান কি?

    ৮)”অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যারা এই ধরনের দাবি করছে তারাই আবার উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচুরমিথ্যাচার করে”

    _উদ্দেশ্যমূলক ভাবে মিথ্যা বলা সহজ নয়।গেয়ান লাগে ,লাগে উচ্চশিক্ষা আর ভাষার গাঠনিক প্রকাশ।অথচ তারা না জানে ভাষা(আপনাদের কথা অনুয়ায়ী ) না অর্জন করেছে উচ্চশিক্ষা (যারা ইন্টারনেটে মিথ্যাচার করে তারাও এক ধরনের জঙ্গি যদি সত্যাচার করে তারা ঠিক আছে) ।আর গীবতের সংজ্ঞা কি? আপনি যেটা করছেন সেটা কোন ধরনের গীবত ?

    ৯)”তারা ‘মুসলমান’,’মোসলমান’,’নামাজ’,’রোজা’ইত্যাদি টার্মগুলো ব্যাবহার করে কেন।কোরআন ও হাদীসে তো এই টার্মগোলোর কোন আস্থিত্বই নাই ”

    _কেন? এগুলো ব্যাবহার করলে কি গুনাহ হবে ? আর যদি হয় তাহলে কুরআন বা হাদীস থেকে সরাসরি প্রমান দিন ? আর আপনি যে এয়ার কন্ডিশন ও টাইলস করা মসজিদে নামাজ পড়েন সেটার কিন্তু প্রমান দিতে হবে।বুঝেছেন?
    ১০)”অভিজিত রায়ের মতো অনেকেই বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনকে বিভিন্নভাবে অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক প্রমান করার চেষ্টা করেছে। এমনকি বিজ্ঞানের নামে স্রষ্টাকেও ‘নাই’ করে দেওয়া হয়েছে।কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা সেই লেখাগুলোর কোন জবাব দিয়েছে কিনা”

    _তবে আমি চাই যে,নাস্তিকতার বিরুদ্ধে সমস্ত মুসলমান অংশ গ্রহন করুক ।এ বিষয়টি সবার ভাবা উচিত।খুব গুরুপ্তপূর্ণ বিষয়।

    ১১)”কওমী মাদ্রসা =ইসলাম”

    _50’/.সহমত

    ১২)”এখানে অন্যান্য পন্থীদের আলীপোড়া খাওয়ার সুযোগ নেই”

    _আলুপোড়া খুব স্বু -সাদু ,দাম কম,ভিটামিনযুক্ত।আলু পুড়তে আবার খরচও নেই।আবার সমস্যাও রয়েছে। যারা খাচ্ছে তাদেরকে বলছি,খাওয়ার সময় সাদা জামা পরবেন তাইলেই কাম ফতে।হুইল পাউডার কিনতে হবে।গিন্নিকে দিয়ে বলবেন এই ধর।যাদের গিন্নি নেই তারা খায় কোন যুক্তিতে?

    1. ১৬.১
      মাসুদ

      ভাই জামাতিরা সবাইকে বাতিল মনে করে তার রেফেরেঞ্চ টা কি দেয়া যাবে? জাস্ট জানা।

  17. ১৭
    AFIA SIRIN SISIR

    @রায়হান ভাইয়া,
    আসসালামু আলাইকুম। মাশাআল্লাহ অনেক ভাল লিখেন।আপনার লেখাগুলো অনেক ভাল লাগে ।তাই সদালাপ ছাড়াও অন্যান্য ব্লগেও আপনার লেখাগুলো খুঁজে বেড়াই।তবে মে বি ওই ব্লগগুলোতে আপনি আর যাননা।তাই রিসেন্ট কোন পোস্ট পাইনা :'( ।আমি ৭ম শ্রেনির ছাত্রী।দোয়া করবেন।ধন্যবাদ।
    –শিশির

  18. ১৮
    এস. এম. রায়হান

    ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):

    ১. আল্লাহ ও নবী-রাসূলে বিশ্বাস (কলিমা), ২. সালাত, ৩. সিয়াম, ৪. হজ্জ, ও ৫. যাকাত।

    এগুলোর সবই কোরআনে সরাসরি ও একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাদিসে তো আছেই।

    অন্যদিকে কওমীপন্থীদের (অলিখিত) পাঁচটি স্তম্ভ:

    ১. টুপি (তাও আবার ভারতীয় উপমহাদেশ স্ট্যাইলে), ২. দাড়ি, ৩. পাঞ্জাবী, ৪. টাখনুর উপর পাজামা, ও ৫. আরবী শিক্ষা।

    কওমীপন্থীরা (সবাইকে ঢালাওভাবে বুঝানো হচ্ছে না, যদিও তাদের সকলেই সম্ভবত একই মত পোষণ করেন) তাদের তৈরি করা এই পাঁচটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে ঈমানদার/বেঈমানদার নির্ধারণ করেন। সেই সাথে ভিন্নপন্থীদেরকে ক্ষেত্রবিশেষে বা ঢালাওভাবে কাফের, মুরতাদ, অমুসলিম, মডার্ণ ইসলামিস্ট, ইত্যাদি আখ্যা দেয়া হয়।

    অথচ সম্পূর্ণ কোরআন ও হাদিসে একটিবারের জন্যও মুসলিম পুরুষদেরকে টুপি পরার কথা বলা হয়নি, সম্পূর্ণ কোরআনে একটিবারের জন্যও দাড়ি রাখার কথা বলা হয়নি (যে হাদিসগুলোতে দাড়ি বড় ও গোঁফ ছোট রাখার কথা বলা হয়েছে সেটির নির্দিষ্ট কনটেক্সট আছে), সম্পূর্ণ কোরআন ও হাদিসে একটিবারের জন্যও পাঞ্জাবী-পাজামাকে 'সুন্নতি পোষাক' বলা হয়নি, সম্পূর্ণ কোরআনে একটিবারের জন্যও টাখনুর উপর কাপড় পরার কথা বলা হয়নি (এটি কিছু হাদিস থেকে এসেছে)। তার মানে কিন্তু কোনোভাবেই বলা হচ্ছে না যে, টুপি পরা, দাড়ি রাখা, পাঞ্জাবী-পাজামা পরা, টাখনুর উপর কাপড় পরা, ও আরবী শিক্ষা ইসলামে নিষিদ্ধ বা খারাপ কিছু। খুব খেয়াল কৈরা।

  19. ১৯
    এস. এম. রায়হান

    আমি জীবনে হাতেগোনা কয়েকবার টাই পরেছি, আর শেষ কবে পরেছি তাও মনে নেই। তবে শিক্ষিত মুসলিমদের মধ্যে অনেকেই কম-বেশি টাই পরিধান করে। কিন্তু কথা সেটা না। কথা হচ্ছে কওমীপন্থীরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে টাই'কে 'খ্রীষ্টান ধর্ম বা ক্রসের প্রতীক' বানিয়ে দিয়ে টাই-পরিহিত মুসলিমদেরকে 'খ্রীষ্টানদের দালাল' বলে। অথচ এ বিষয়ে যাদের ন্যূনতম জ্ঞান আছে তাদের জানার কথা যে, টাই কোনোভাবেই খ্রীষ্টান ধর্ম বা ক্রসের প্রতীক নয়। তথাপি কেউ যদি টাই'কে জোর করে ক্রসের প্রতীক বানাতে চায়, তাহলে পাঞ্জাবী/জুব্বা হবে সবচেয়ে বড় ক্রসের প্রতীক। ক্রসের সাথে টাই ও পাঞ্জাবী/জুব্বার তুলনা করলে যেকারো ব্যাপারটা বুঝতে পারার কথা।

  20. ২০
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    রায়হান, ধন্যবাদ এমন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্যে। বৃটিশদের আগমনের পর পাকভারতের মুসলিম সম্প্রদায় যেভাবে সংরক্ষণবাদী হয়ে নিজেদের ধর্মকে রক্ষা করেছে তারই ছাপ এখনও কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ্য করা যায়। একটা স্বাধীন দেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কওমী ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষাক্রমকে সাজানোর পরিবর্তে কওমী মাদ্রাসাগুলো তাদের নিজস্ব ধারা ধরে রাখতে গিয়ে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

    সবাই উপলদ্ধি করছে এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার। সমস্যা হলো কিছু মানুষের সংকীর্ণ স্বার্থ চিন্তা এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীর কারনে একটা অবিশ্বাস আর সন্দেহের দেওয়াল তৈরী হয়ে গেছে। 

    সবচেয়ে ভাল হয় – যদি পরিবর্তনটা ভিতর থেকেই আসে – এমন পরিবর্তন যা কওমী মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে আসা ছাত্ররা যেন স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। শুধুমাত্র মসজিদে নামাজ পড়িয়ে আর আজান দিয়ে পরান্নভোগী হয়ে বেঁচে থাকার যে পেশা তা মোটেও সন্মানজনক নয় – এই সোজা সত্যটা কওমী মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট সবাইকে বুঝতে হবে এবং অবশ্যই মাদ্রাসায় বিজ্ঞান-ভাষা এবং গণিত শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো যোগ করা দরকার যাতে সেখান থেকে পাশ করা ছাত্ররা সমাজে নিজেদের মেধা আর যোগ্যতার ভিত্তিতে সকল পেশায় যেতে পারে। 

    আবারো ধন্যবাদ।

  21. ২১
    এস. এম. রায়হান

    মন্তব্যের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। এ বিষয়ে বিতর্কে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নাই। তবে আমার কিছু বক্তব্য নিচে তুলে ধরছি:

    – কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা কিয়ামত পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকলেও আমার ব্যক্তিগত কোনো ক্ষতি যেমন হবে না, তেমনি আবার কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার করা হলেও আমার ব্যক্তিগত কোনো লাভ হবে না।

    – কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আমি অনেক আগে থেকেই অবগত ছিলাম। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে ফেসবুকে কওমীপন্থীদের কথাবার্তা শুনে প্রচণ্ড অবাক হয়েছি যেগুলো আগে জানতাম না। মূলত এই কারণেই কয়েকদিন ধরে চিন্তাভাবনা করে এ'রকম একটি পোস্ট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এই পোস্টের সাথে ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব বা ইস্যু জড়িত নেই।

    – দু-চার জন কওমীপন্থীর কথাবার্তার উপর ভিত্তি করে এই পোস্ট দেওয়া হয়নি। ফেসবুকে কওমীপন্থীদের পেজগুলোর সাথে যারা পরিচিত আছেন তারা জানেন যে, হাজার হাজার কওমীপন্থী এগুলোর সাথে জড়িত। তাদের কাউকেই কোনো রকম প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। এই পোস্টে প্রমাণস্বরূপ দু-একটি নমুনা দেখানো হয়েছে মাত্র।

    – কওমীপন্থীদের যে পোস্টগুলোর উপর ভিত্তি করে এই পোস্ট’টা দেওয়া হয়েছে সেই পোস্টগুলোতে যেমন নাস্তিক-বাম-রাম'দের কোনো প্রসঙ্গ আসেনি, তেমনি আবার আমার এই পোস্টেও তাদের কোনো প্রসঙ্গ আসেনি। ফলে এই পোস্টে নাস্তিক-বাম-রাম'দের প্রসঙ্গ আসছে কেন তা কিছুতেই বুঝতে পারছি না। যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, নাস্তিক-রাম-বাম-সেকুলার'রা কওমী মাদ্রাসা নিয়ে প্রপাগ্যাণ্ডা করছে, তাতে কি কওমীপন্থীদের দাবিগুলো জাস্টিফায়েড হয়ে যায়? তাতে কি কওমীপন্থীরা ছাড়া বাকি সকলে বাতিলপন্থী বা মুরতাদ হয়ে যায়?

    – বলা হচ্ছে কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা দুর্বল, গরীব, অসহায়, সহজ-সরল। কওমী মাদ্রাসা সরকারি সুবিধাহীন, তারা জনগণের দান-খয়রাতের পয়সায় চলে। ইত্যাদি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তারা সরকার থেকে সুবিধা নেয় না কেন? জনগণের দান-খয়রাতের পয়সায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানো কি ঠিক? এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে কি-না। তাছাড়া কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা দুর্বল, গরীব, অসহায়, সহজ-সরল, দান-খয়রাতের পয়সায় চলে বলেই কি কওমীপন্থীরা ছাড়া বাকি সকলে বাতিলপন্থী বা মুরতাদ হয়ে যায়? দুর্বল, গরীব, অসহায়, সহজ-সরল ছাত্ররা অত্যন্ত দাম্ভিকতার সুরে বাকি সবাইকে বাতিলপন্থী বা মুরতাদ বলছে! এ কেমন কথা! তাছাড়া তাদের কথাবার্তা ও ভাষা শুনে তাদেরকে কিন্তু দুর্বল, গরীব, অসহায়, সহজ-সরল মনে হয় না। তাহলে সমস্যাটা কোথায় দেখতে হবে।

    – তারা যেহেতু জনগণের দান-খয়রাতের পয়সায় পড়াশুনা করে, সেহেতু পড়াশুনা শেষেও তাদের অনেকের মধ্যে দান-খয়রাতের পয়সায় বাকি জীবন কাটিয়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়। আমরা ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে নিজ নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে কোনো এক ‘অজ্ঞ্যাত’ কারণে আবেগ দিয়ে সেগুলোকে 'পজিটিভ' দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। কিন্তু ব্যাপারটা কি আসলেই তাই? অন্যের দান-খয়রাতের উপর চলাকে ইসলামে কীভাবে দেখা হয়, তা এই মুহূর্তে মনে নেই; তবে এই ধরণের প্রবণতাকে কেউই সু-নজরে দেখে না। তাছাড়া কোনো সুস্থ-সবল ও বিবেকবান মানুষই অন্যের দান-খয়রাতের উপর চলতে চাইবে না।

    – আমরা নিজেরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজ্ঞ, বিজ্ঞানী, গবেষক, ইত্যাদি হয়ে এবং ইসলাম নিয়েও লেখালেখি করে আমাদের হুজুর ও মসজিদের ঈমামকে স্রেফ আরবী-জানা কওমী মাদ্রাসা পাশ হিসেবে দেখতে চাই। চিন্তার বিষয়ই বটে!

    1. ২১.১
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আমরা নিজেরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজ্ঞ, বিজ্ঞানী, গবেষক, ইত্যাদি হয়ে এবং ইসলাম নিয়েও লেখালেখি করে আমাদের হুজুর ও মসজিদের ঈমামকে স্রেফ আরবী-জানা কওমী মাদ্রাসা পাশ হিসেবে দেখতে চাই। চিন্তার বিষয়ই বটে!

      অবশ্যই চিন্তার কথা। এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার। 

  22. ২২
    hidatherhabib

    [Please revise this comment based on the notes: Editor, Shodalap]
    এখন শুধু একটি বিষয়ের উপর কিছু দলিল পেশ করা হল বাকি বিষয়গুলো নিয়ে পরে একদিন লিখা যেতে পারে।

    আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সকল ইমাম গণের সর্বসম্মতি ক্রমে দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব এবং তা কমপক্ষে এক মুষ্টি পরিমান হতে হবে [Include reference that ALL Imams agreed on this edict]। এ ব্যাপারে চার মাযহাবের সকল ইমাম গণের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    ইসলামে দাড়ির প্রমান

    কোরআনের আলোকেঃ-

    কোরআন শরীফে সরাসরি দাড়ি রাখার কথা বলা হয়নি তবে হারুন আঃ এর ঘটনায় দাড়ির কথা উল্লেখ রয়েছে । যথাঃ আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেনঃ- (হারূন আঃ তাঁর ভাই মূসা আঃ কে বললেন ) আপনি আমার দাড়ি ও মাথা ধরবেন না। [State how prophet Haroon’s beard is related for the conclusion? ]

    হাদীসের আলোকেঃ-
    ১/ ইবনে উমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, রাসূল ( সাঃ ) ইরশাদ করেনঃ- তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর, আর দাড়ি লম্বা রাখো এবং গোঁফ খাটো কর।
    (সহীহ মুসলিম হাঃ নং ৬০২ , সহীহুল বুখারী হাঃ নং ৫৮৯২ )

    ইবনে উমর ( রাঃ) সূত্রে অন্য হাদীসে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ-তোমরা গোঁফ ছোট কর এবং দাড়ি লম্বা রাখো। (সহীহুল বুখারীঃ হাঃ নং ৫৮৯৩ , সহীহ মুসলিমঃ হাঃ নং ৬০০)

    এছাড়া বিভিন্ন শব্দে হাদীসে দাড়ি লম্বা রাখার প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দাড়ি লম্বা করা সম্পর্কে হাদীস সমূহে ছয়টি শব্দ বর্ণিত হয়েছে । সে গুলো হল- আরবী শব্দ [ আমাদের আপাতত আরবী লেখার সুবিধা না থাকার কারণে পরবর্তিতে আরবী শব্দ সংযোজন করা হবে ] উপরোক্ত সব কয়টি বাক্যের মর্মাথ্য একই , অর্থাৎ তোমরা দাড়ি লম্বা কর।

    এ বিষয়টি লক্ষ্যণীয় যে, কোন হাদীসেই সরাসরি দাড়ি এক মুষ্ঠি পরিমাণ রাখার কথা উল্লেখ নেই, শুধুমাত্র লম্বা করার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে সাহাবায়ে কেরাম থেকে এক মুষ্ঠি পরিমাণ দাড়ি রাখা প্রামাণিত আছে । দাড়ি সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী আবু হুরাইরা ইবনে উমর (রাঃ) প্রমুখ গণ দাড়ি এক মুষ্ঠি পরিমাণ রাখতেন । তাই এ ব্যাপারে তাঁদের আমল আমাদের জন্য দলীল । এর কারণ হল – যে বিষয়ে হাদীসে সরাসরি পাওয়া যায় না সে বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের আমল শরীয়তের প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত হয়। কেননা তারা হলেন হাদীসে রাসূলের (সাঃ) আমলী নমুনা।
    সুতরাং দাড়ি কমপক্ষে এক মুষ্ঠি পরিমাণ হওয়া প্রত্যক্ষভাবে সাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত হলেও পরোক্ষভাবে তা রাসূল (সাঃ) থেকেই প্রমাণিত [Provide justification for this unwarranted extrapolation].

    বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে-···ইবনে উমর (রাঃ) যখন হজ্ব অথবা উমরা করতেন,তখন তিনি দাড়ি মুঠ করে ধরে মুঠের বেশী অংশটুকু কেটে ফেলতেন। ( সহীহুল বুখারী হাঃ ৫৮৯২)

    এখানে যদিও হজ্ব ও উমরার সময়ের কথা বলা হয়েছে,কিন্তু মুহাদ্দিসীনরা বলেন তিনি তা সব সময়ই করতেন। এ ছাড়াও আবু দাউদ ও নাসাঈর বর্ণনায় ইবনে উমরের (রাঃ) হজ্ব ও উমরা ছাড়া অন্য সময়েও দাড়ি এক মুঠের বেশীটুকু কেটে ফেলার কথা রয়েছে।
    (ফাতহুল বারীঃ খন্ড-১০ পৃঃ ৩৬২)

    হযরত উমর (রাঃ) তো নিজেই এক ব্যক্তির দাড়ি ধরে এক মুঠের অতিরিক্ত অংশটুকু নিজেই কেটে দিয়েছিলেন । (প্রাগুক্ত) ইবনে উমর (রাঃ) ছিলেন রাসূলের (সাঃ) আদর্শের পুঙ্খনুভাবে এবং পূর্ণ অনুসারী। তাই তিনি যা করেছেন তা রাসূল (সাঃ) থেকেই জেনে-শুনে করেছেন। [Are you trying to imply that the Prophet (PBUH) also, at some point of time, held someone’s beard and trimmed it since it was long?]

    উপরোক্ত দু’জন মহান সাহাবী ব্যতীত আবু হুরাইরা ,জাবির (রাঃ) পমুখ সাহাবী থেকে ও দাড়ির এক মুঠের অতিরিক্ত অংশটুকু কেটে ফেলার কথা পাওয়া যায় । এ থেকে দাড়ি কমপক্ষে এক মুঠ পরিমাণ রাখার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

    দাড়ি না রাখা , মুন্ডিয়ে ফেলা বা এক মুষ্ঠির কম রাখা হারাম ও কবীরা গুনাহ। যে দাড়ি মুন্ডায় বা এক মুঠের চেয়েও ছোট করে ফেলে তার আমল নামায় পুনরায় দাড়ি এক মুঠ পরিমাণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত গুনাহ লিখা হতে থাকে। [Is it your conclusion? Please read Shodalap’s policy before making such statements] কেননা শরীয়তের হুকুম হল-দাড়ি কমপক্ষে এক মুঠ পরিমাণ রাখা। তাই এর চেয়ে দাড়ি ছোট করে ফেললে বা মুন্ডিয়ে ফেললে যতক্ষন পর্যন্ত দাড়ি এক মুঠ পরিমাণ না হবে ততক্ষন পর্যন্ত সে শরীয়তের হুকুম অমান্যকারী সাব্যস্ত হবে এবং তার নামে গুনাহ লিখা হতে থাকবে । অন্যান্য গুনাহ সাময়িক ও অস্থায়ী, কিন্তু দাড়ি ছোট করা বা মুন্ডানোর গুনাহ দীর্ঘস্থায়ী [provide reference for this interesting observation], যে ব্যক্তি দাড়ি মুন্ডায় বা ছোট করে (এক মুঠের চেয়ে ) সে ফাসিক। ধন্যবাদ।

    1. ২২.১
      এস. এম. রায়হান

      সদালাপ সম্পাদকের নোটগুলোর জবাব আগে দেন। তারপর আমার কিছু বলার থাকলে বলব। তার আগে নয়।

  23. ২৩
    কিংশুক

    ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাস। ঈমাণ দান করার মালিকও আল্লাহ্। নাহলে কেউ বিলিয়ন ডলার খরচ করে প্রাণপাত করলেও কাউকে ঈমানদার বানাতে পারবে এমন নিশ্চয়তা নাই। মানুষ যে কেন বর্তমানে ইসলাম নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করছে! বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত কিছু যুবক হঠাত্ করে বেশী ধার্মিকতা দেখাতে গিয়ে, রাজনৈতিক দলের সদস্যরা অতি বাড়াবাড়ি করছে। রাজনীতি মানেই নিজের দলের জন্য কানা হয়ে যাওয়া। ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোও ব্যতিক্রম নয়। আস্তে আস্তে সবাই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অবস্থা আরও খারাপ হবার সম্ভাবনা আছে। এর জন্য বিএনপি জামাতের চাইতে নাস্তিকরূপী কিছু দালাল ও আওয়ামী লীগের চরমপন্থা বেশী দায়ী।

  24. ২৪
    কিংশুক

    যার অন্তরে বিন্দুমাত্র ঈমান থাকবে সেও এক সময় জান্নাতে যাবে। কে জান্নাতে যাবে আর কে যাবে না তা জানেন আল্লাহ্। সকল মুসলমানের উচিত সর্বোৎকৃষ্ট পন্থায় মানুষকে ইমানের দাওয়াত দেওয়া, চির দোযখী হওয়ার হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করা। কেউ এমনকি মদ জুয়া হত্যা জিনা করে খাঁটি তওবা করলে মাফ হয়। এসব কবিরা গুনাহ করলেও কাফের হয়না। আর এই যুগে কোত্থেকে যেন নিজের মত-বিরোধী মানুষকে গণহারে কাফের মুনাফিক বানিয়ে দেওয়া হয়, আবার বোমা মেরে মেরে ফেলে বেহেস্ত পাওয়ার আশা করা হয়। আল কায়েদা আইএস বোকো হারাম সহ সকল চরমপন্থী ও জংগিরা মানুষকে ইসলামের পথ থেকে দুরে সরিয়ে দিয়ে চির জাহান্নামি বানানোর মিশন বাস্তবায়ন করছে। জংগিবাদীদের কারনে ইসলামের দাওয়াত দিলে জুতার বাড়ি খাবার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। ইসলামে মানুষের প্রতি ভালবাসা সাম্যের যে শিক্ষা আছে তা আজ জংগিদের কারনে ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

  25. ২৫
    HM mohsin

    =>অন্যের দান -খয়রাতের উপর চলাকে ইসলামে কীভাবে দেখা হয়,তা এই মুহূর্তে মনে নেই; তবে এই ধরনের প্রবণতাকে কেউই সু-নজরে দেখে না।

    ===হুজুর সাঃ দেখেছেন। আপনি একটু হুজুর সাঃ এর সময়কার দিকে তাকালেই উত্তর পেয়ে যাবেন।হুজুর সাঃ এর সময় আহলে সুফফা ওয়ালারা এই দান-খয়রাত।

    এখন আমার প্রশ্ন হল,

    1, যারা এই দান-খয়রাত খেয়ে বাঁচত তারা আপনার দৃষ্টিতে কতটুকু নিচু মানসিকতার ছিল?

    2, দান-খয়রাত যদি নিচু মানসিকতার হয় তাহলে হুজুর সাঃ নিষেধ করেন নি কেন?

    1. ২৫.১
      এস. এম. রায়হান

      প্রথমত- রাসূল (সাঃ) কবে, কোথায়, কাদেরকে ও কী উদ্দেশ্যে দান-খয়রাতের উপর চলাকে সু-নজরে দেখেছেন, এ বিষয়ে কোনোই প্রমাণ না দিয়ে আমার প্রতি উল্টোদিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। এইটা কেমন কথা হলো? 

      দ্বিতীয়ত- আপনি আমার বক্তব্যকে বিকৃতি করেছেন। আমার মন্তব্যের কোথাও তাদেরকে 'নিচু মানসিকতা'র বলা হয়নি।

      তৃতীয়ত- মুসলিম সমাজে রাসূল (সাঃ)-এঁর নামে একটি কথা প্রচলিত আছে। সেটি হচ্ছে-

      নবীর শিক্ষা করোনা ভিক্ষা মেহনত করো সবে।

      এই কথার সত্যতা অবশ্য যাচাই করে দেখা হয়নি। এইটা যদি সত্য হয় তাহলে প্রমাণ হবে যে, রাসূল (সাঃ) দান-খয়রাতের উপর জীবিকা নির্বাহকে নিরুৎসাহিত করেছেন।

  26. ২৬
    hidatherhabib

    আচ্ছালামু আলাইকুম ( ওয়াঃ)

    উপরের লেখা গুলো বিভিন্ন কিতাব থেকে নেয়া। এখানে শুধু মূল হাদিছ গুলোর রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে। পুরো ফতওয়াটিরও ( সকল ইমামদের মতামত সহ) রেফারেন্স দেওয়া সম্ভব, তবে সময়ের প্রয়োজন।
    আর এই লেখাটির পিছনে যে কারণটি রয়েছে, তা হল দারি, টুপি পান্জাবী, এগুলো ইসলামের আলাদা কোন বৈশিষ্ট নয়, বরং এগুলো পূ্র্ণাঙ্গ ইসলামের একটি অংশ মাএ। আর এই সব গুলোই প্রমানিত। কেও যদি পূর্নাঙ্গ দ্বীন মানতে চায়,মানতে পারে,বা অন্যকে মানতে উৎসাহিত করে তাহলে সেই ব্যক্তি আমাদের সকলের পক্ষ থেকেই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। ইনশা’আল্লাহ সময় করে একদিন সমস্ত রেফারেন্স সহ, সদালাপের নীতিমালাগুলোর যথাযত অনুসরন করেই একটি লিখা দেওয়ার ইচ্ছা আছে।সেখানেই হয়ত আলোচনা করা যেতে পারে।(আশা করা যায় অনিচ্ছাকৃত ভুল গুলো সংসোধন হয়ে যাবে)আর এর উদ্যেশ্য এই নয় যে. তার দ্বারা অন্যকে চ্যালেঞ্জ করা। বরং উদ্যেশ্য এটাই যে, উত্তম পন্থায় দাওয়ার কাজ করা। কেহ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
    ভাই… আমাদের সদালাপে আসার উদ্যেশ্যটা না বুজে আগেই যদি যাঠাপেটা করে বের করে দেন, তাহলে আমিইবা কি শিখব? আর আপনাদেরই বা কি লাভ হবে?। আমরা একে অপরের থেকে শিখার জন্যই এখানে আসা। তা নাহলে কি প্রয়োজন ছিল এত বিতর্ক?। আমি মোবাইলের মাধ্যমে লিখি, তাই অনেক সময় লেগে যায়। ইচ্ছা থাকলেও বাধ্য হয়ে লিখা ছোট করতে হয়।
    আশাকরি ভাল থাকবেন.. ধন্যবাদ।

  27. ২৭
    এস. এম. রায়হান

    কোরআনে আল্লাহ্‌ পরহেযগার সম্পর্কে বলেছেন-

    "সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।" (সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১৭৭)

    এই আয়াতটাকে কোরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়াতগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে মনে করি। এবার এই আয়াতের সাথে হুজুরদের (সকলে না হলেও অনেকের) বানানো 'পরহেযগার'-এর সংজ্ঞা মিলিয়ে দেখুন। হুজুরদের বানানো 'পরহেযগার'-এর সংজ্ঞায় প্রথমেই আসে নিজেদের মনমতো বেশভুষা (টুপি/পাগড়ি, নির্দিষ্ট মাপজোখের দাড়ি-গোঁফ, পাঞ্জাবী/জুব্বা, ও টাখনুর উপর পাজামা), তারপর অন্য কিছু।

  28. ২৮
    HM mohsin

    (আপনার বক্তব্য উদ্ধৃতি চিহ্ন দিযে ” ” প্যাকেট করা হল)

    1:-“অন্যের দান-খয়রাতের উপর চলাকে ইসলামে কীভাবে দেখা হয়,তা এই মুহূর্তে মনে নেই;তবে এই ধরনের প্রবণতাকে কেউই সু-নজরে দেখে না”

    ==তাহলে কু-(খারাপ)নজরে দেখে।আপনার দেখাই যথেষ্ট নয়।শরীয়াহ নির্দেশিকা কি?সেটা আগে জানতে হবে।

    2:-“দ্বিতীয়ত -আপনি আমার বক্তব্যকে বিকৃতি করেছেন”

    ==কোথায় করেছি সেইটার প্রমান দেন ? ? ?
    3:-“আমার মন্তব্যের কোথায় তাদেরকে ‘নিচু মানসিকতার ‘বলা হয়নি”

    ==ভালো করে আমার কমেন্টস পড়ে দেখেন।আমি কি বলেছি যে আপনি ‘নিচু মানসিকতার’ বলেছেন।এটা আমার কমেন্টসের জিজ্ঞাসা ছিল।আর এ কথাটা আমি(আমার বুঝ অনুপাতে) বলেছি।এখানে গায়ে টানার কিছু দেখছি না।

    4:-” ‘নবীর শিক্ষা করোনা ভিক্ষা মেহনত কর সবে’
    এই কথার সত্যতা অবশ্য যাচাই করে দেখা হয়নি”

    ==যাচাই না করে কথা বলা ঠিক নয়।এরকম আগডুম-বাগডুম মার্কা নীতি কথার প্রমান দেন তাহলে নির্দ্বিধায় মেনে নেব।

    5:-“এইটা যদি সত্যি হয় তাহলে প্রমান হবে যে,রাসূল (সাঃ) দান-খয়রাতের উপর জীবিকা নির্বাহ কে নিরুত্‍সাহিত করেছেন”

    ==আগে ‘যদি’ কথাটাকে প্রমান করেন। তারপর সিদ্ধান্ত দিন।সন্দেহের বশে আশা করা ঠিক নয়।তাহলে উল্টা হতে পারে আবার পাল্টাও হতে পারে।

    1. ২৮.১
      এস. এম. রায়হান

      আপনার দাবি অনুযায়ী রাসূল (সাঃ) দান-খয়রাতের উপর জীবিকা নির্বাহকে সু-নজরে দেখেছেন। এর পক্ষে আমি প্রমাণ দিতে বলেছি। অথচ আপনি কোনো প্রমাণ না দিয়ে এবং সে প্রসঙ্গে কিছুই না বলে উল্টোদিকে আমাকে প্রমাণ দিতে বলেছেন, যেখানে আমি নিজেই বলেছি যে "নবীর শিক্ষা করোনা ভিক্ষা মেহনত করো সবে" কথাটার সত্যতা যাচাই করে দেখা হয়নি। আপনার এই অ্যাপ্রোচকে আমার কাছে এক প্রকার অসততা মনে হয়েছে। আপনার মন্তব্যের আর কোনো জবাব দেয়া হবে না।

  29. ২৯
    মুনিম সিদ্দিকী

    ব্রিটিশমেড শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে যখন উপমহাদেশে ইসলামের নাম নিশানা মুছে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিলো, তখন আমাদের আলেম সমাজ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা সৃষ্টি করে উপমহাদেশে ইসলামের আলোকে প্রজ্বলিত করে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। আজো আমাদের দেশের স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটিতে ব্রিটিশমেড শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ব্রিটিশমেড শিক্ষা ব্যবস্থার কুফল আমরা ব্লগ আর ফেসবুকে অহরহ দেখতে পাচ্ছি। দিন দিন আমাদের সন্তানরা হয় ইসলাম ত্যাগ করে নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে, না হয় ধর্মে প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ছে। কাজেই এখনো কওমি মাদ্রাসার রক্ষণশীল ভূমিকাকে নেতিবাচক ভাবে না দেখে নাই মামার কানা মামার মত জ্ঞান জ্ঞান করা উচিত।

    ফেসবুকে যারা কওমি মাদ্রাসার পক্ষে কথা বলে থাকেন তারা কওমি মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রদের কি প্রতিনিধিত্ব করে? ক্ষুদে গুটি কয়েক ছেলে পেলে কওমি মাদ্রাসার পক্ষে কথা বললেও তাদেরকে কওমি মাদ্রাসার প্রতিভূ জ্ঞান করা উচিত নয়।

    আমাদের জীবনে একবার সুযোগ হয়েছিলো শুধু কওমি মাদ্রাসা নয় সকল শিক্ষা ব্যবস্থাকে একমুখি করে চালু করার। কিন্তু সে ট্রেন আমরা মিস করেছি। ১৯৪৭ সালে যখন পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিলো  তখন যদি ইরানের শিয়া বিপ্লবের মত এক দুই বছর মাদ্রাসা/স্কুল/কলেজ/ইউনিভার্সিটিগুলো বন্ধ রেখে ইসলাম+বিজ্ঞান-ভিত্তিক নতুন শিক্ষা কারিকুলাম চালু করা যেত (ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থায় যে কারিকুলামের যে বিষয়গুলো ইসলামের মূল নীতির বিপক্ষে নয় সেগুলোকে গ্রহণ করে আধুনিক শিক্ষার সাথে ইসলামী মূল্যবোধকে সংযোজন করে) তাহলে উপমহাদেশের ইতিহাস আজ অন্যরকম হতে পারতো।

    আমাদের দেশে মানচিত্র পরিবর্তন হলেও যেই লাউ সেই কদু মার্কা বিভাজিত অ-ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থা + অবৈজ্ঞানিক শিক্ষা ব্যবস্থা বহাল তবিয়তে আছে। আর এর জন্য দায়ী ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষায় শিক্ষিত রাষ্ট্রীয় উচ্চপদ অধিকারী ব্যক্তিবর্গরা। তারা চায়নি যারা ইসলামকে পছন্দ করে তারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় শরিক হোক। সে ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। ধন্যবাদ।

  30. ৩০
    HM mohsin

    @মুনিম ভাই,সালাম
    আপনার নিরপেক্ষধর্মী প্রায় বক্তব্যের সাথে সহমত।আমরাও চাই কওমী শিক্ষা ব্যবস্থা পরিমার্জণ হোক সময় ও বাস্তবতার সাথে যেখানে ইসলামী শরীয়ার সাথে সাংঘার্ষিক না হয়ে।এই রূপরেখা প্রণয়নে বহুবিদ সমস্যা ফেস করতে হবে। যদি বাস্তবায়ন হয় তা হলে আমি খুশি হই।কিন্তু তারপরও একটা বিষয়ে সংশয়।যারা এ সব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষ করে স্রেফ ধর্মীয় অনুভূতি লালন করত তাদেরকে কি ফিরে পাব ? যাদের দেখলে আল্লাহ তায়ালা ও তার মুহম্মদ সাঃ এর কথা স্বরন হয়।তাদের ? আমার কাছে এগুলো শুধু প্রশ্ন নয় আরও অনেক কিছু।

  31. ৩১
    সাইফুল ইসলাম

    আসসালামু আলাইকুম রায়হান ভাই, কওমী মাদ্রাসায় যুগোপোযোগী সংস্কার দরকার, এটা কওমী মাদরাসার সংশ্লিষ্টরাও জানেন। সেই উদ্দেশ্যেই তাদের সংস্কারপন্থীরা মিলে "কমাশিসা (কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন)" নামে উদ্যোগ নিয়েছেন। সেখানে তাদের বিভিন্ন দাবি সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তাদের মতামতও জানতে পারবেন।
    আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, কওমী মাদরাসা একটি আলোকবর্তিকা। একে নিভিয়ে দেয়ার জন্য নানা চক্র কাজ করছে, তাদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। অবশ্যই তাদের ভুল-ভ্রান্তি থাকতে পারে তবে সকলের প্রচেষ্টায় তা দূরীভুত করা সম্ভব।

    1. ৩১.১
      এস. এম. রায়হান

      ওয়ালাইকুম সালাম।

      কওমী মাদ্রাসায় যুগোপোযোগী সংস্কার দরকার, এটা কওমী মাদরাসার সংশ্লিষ্টরাও জানেন। সেই উদ্দেশ্যেই তাদের সংস্কারপন্থীরা মিলে "কমাশিসা (কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন)" নামে উদ্যোগ নিয়েছেন। সেখানে তাদের বিভিন্ন দাবি সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তাদের মতামতও জানতে পারবেন।

      ভালো কথা। কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই যদি কওমী মাদ্রাসার যুগোপযোগী সংস্কার চায়, যদিও তারা ঠিক কী ধরণের সংস্কার চাচ্ছে সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত না, তাহলে যারা নন্‌-কওমী (জেনারেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, ও মেডিক্যাল) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিফেন্ড করছেন তাদের ব্যাপারে আপনার মতামত কী? 

      আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, কওমী মাদরাসা একটি আলোকবর্তিকা। একে নিভিয়ে দেয়ার জন্য নানা চক্র কাজ করছে, তাদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না।

      আমি কাদের কথায় 'বিভ্রান্ত' হয়েছি তাদের নাম বলেন, এবং কীভাবে 'বিভ্রান্ত' হয়েছি তা উল্লেখ করেন। সেটা যদি না করতে পারেন তাহলে এই ধরণের প্রতারণামূলক কথা কেন বললেন তার ব্যাখা দেন।

  32. ৩২
    এস. এম. রায়হান

    বিশেষভাবে 'আদপ-কায়দা' শেখা কওমীপন্থীদের ভাষার কিছু নমুনা উপরে দেখানো হয়েছে। 'নমুনা' অর্থ হচ্ছে অনেকগুলোর মধ্যে অতি সামান্য কিছু। কওমীপন্থীদের 'ভাষা'র আরো একটি নমুনা

    মতিউর রহমান ফাঁসির মঞ্চে যেতে রাজি আছে।
    কিন্তু বাংলাদেশে এসে সরাসরি বাহাসে বসতে রাজি নাই, ফিরকাবাজী করতে পারে শয়তানের বাক্সে বসেই, এটা অনেকটা হিজরা স্টাইল, হিজরা যেমন মূখে সব পারে কিন্তু কর্মে নাই, ঠিক তেমনি মতিউর ইন্টারনেট আর পীচলা টিভিতে বসে চাপাবাজী করতে পারে কিন্তু শয়তানের বাক্সের বাহিরে এসে তার চাপাবাজীর প্রমান সে করতে পারেনা, ঠিক কিনা ???

    এই পোস্টে এ পর্যন্ত ৪৪৩ জন লাইক দিয়েছে এবং ১১১ জন শেয়ার দিয়েছে। মন্তব্যের ঘরেও অনেকেই সমর্থন দিয়েছে কিন্তু কওমীপন্থীদের কেউই ভাষা নিয়ে কিছু বলেনি। 

    নোট: এই মতিউর রহমান কে বা কোন্‌ পন্থীর, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত না। তার কোনো লেকচার কখনো শুনি নাই। তবে উপরের পোস্ট ও মন্তব্যগুলো থেকে অনুমান করছি যে, উনি খুব সম্ভবত সালাফীপন্থী হুজুর। সালাফীপন্থা সম্পর্কে আমি তেমন কিছুই জানি না। এখানে শুধু কওমীপন্থীদের 'ভাষা'র ব্যবহার দেখানো হয়েছে। কওমীপন্থীরা নিজ পন্থীর হুজুরদেরকে অতি ভক্তি-সম্মান করে, ঠিক; তবে তারা ভিন্নপন্থী হুজুরদেরকে চরমভাবে অপমানই শুধু করে না, সেই সাথে তাদেরকে কাফের, শয়তান, ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের দালাল, খ্রীষ্টানদের দালাল, দজ্জাল, ইত্যাদিও বলা হয়।

  33. ৩৩
    এস. এম. রায়হান

    কোরআন যেহেতু আরবীতে লিখা হয়েছে সেহেতু আরবীভাষীদের দিয়েই একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরা যাক, আরবীভাষী একজন লোক আরবী ভাষা ছাড়া আর কিছুই জানে না। তাকে আরবীতে লিখা একটি কোরআন এবং আরবীতেই লিখা একটি করে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের বই দিয়ে পড়তে বলা হলো। সে কিন্তু আরবী ভাষা জানা সত্ত্বেও পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের বই দুটি পড়ে কিছুই বুঝবে না। পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের বই পড়ে বুঝতে হলে এই দুটি বিষয়ে তাকে কিছু শিক্ষা নিতে হবে। এই শিক্ষা সে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও নিতে পারে, আবার ঘরে বসেও নিতে পারে। তবে এই শিক্ষা অর্জনের জন্য তাকে কম-বেশি শিক্ষকের স্মরণাপন্ন হতেই হবে। শিক্ষকের সাহায্য-সহ একটা ন্যূনতম লেভেলে না পৌছা পর্যন্ত সে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের বই পড়ে কিছুই বুঝবে না। 

    অন্যদিকে সে কিন্তু আরবীতে লিখা কোরআন পড়ে প্রায় পুরোটাই বুঝতে পারবে। নিদেনপক্ষে কোরআনের শিক্ষাগুলো সে সহজেই জানতে পারবে। এজন্য কোরআনের একাধিক আয়াতে কোরআনকে সহজ করে নাজীল করার কথা বলা হয়েছে যাতে করে সকলেই বুঝতে পারে। তবে কেউ যদি কোনো আয়াতের অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে না পারে সেক্ষেত্রেই কেবল তাকে শিক্ষকের কাছে যেতে হতে পারে।

    কাজেই যারা কোরআনকে বিজ্ঞানের গ্রন্থের সাথে তুলনা করে বলতে চায় যে, কোরআন বুঝতে হলে মাদ্রাসাতে পড়তে হবে, আলেমের কাছে যেতে হবে, ইত্যাদি – তারা সাধারণ মানুষকে কোরআন পড়া থেকে বিরত রাখতে চায় কি-না, ভেবে দেখার বিষয়।

  34. ৩৪
    মাহফুজ

    //এই ধরণের অত্যন্ত সংকীর্ণ গণ্ডির শিক্ষাব্যবস্থা মুসলিম জাতিকে ধীরে ধীরে পঙ্গু করে দেবে না ক?//

    এর জবাবে দুটি কবিতা পেশ করলাম-

    'তারা কি জানেনা?'

     

    দীনের খন্ডিত কিছু ইল্‌ম শিখে
    ছলেবলে যারা ধর্মগুরু বনে যায়
    তারা কি জানেনা, আত্মাকে ফাঁকি দিয়ে
    বাহ্যিক বেশ ধারনই আত্মশুদ্ধি নয়?

    ওরা সব আমলই নষ্ট করে রিয়ার ঘোরে
    সৃষ্টির প্রতি হক আদায়ে কৃপণতা করে
    সরল মনাদের অন্তর নিয়ে রাজনীতি করে
    ধর্মের নামে সন্ত্রাস করে স্বার্থের তরে।

    অজ্ঞতার আঁধারে ডুবে ওরা স্রষ্টার সান্নিধ্য চায়
    আলোকিত অন্তর ছাড়া স্রষ্টাকে কি চেনা যায়?
    খোদার অমোঘ বাণী ও জ্ঞান, বিজ্ঞান সাধনায়
    ওরা কেন নিষ্ক্রিয় ও পিছপা হয়ে রয়?

    খাঁটি ধর্মের বাস্তব প্রতিফলনকে বড্ড ভয় পায়
    পাছে ওদের দুরভিসন্ধি ভন্ডুল হয়ে যায়
    তাই স্বার্থ হাসিলে বেদাতি কর্ম জায়েজ বানিয়ে দেয়,
    গতিশীল সময়ের চ্যালেন্‌জ মোকাবেলায়
    ইজ্‌তিহাদের দরজা চিরতরে বন্ধ রাখতে চায়
    গৎবাঁধা জ্ঞানের ক্ষীণ আলোয় সত্য খুঁজে বেড়ায়
    তারা কি জানেনা, স্রষ্টার মহিমা গন্ডিবদ্ধ নয়?
    জ্ঞাত, অজ্ঞাত সকল সৃষ্টি অসীমে ছড়িয়ে রয়
    স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রেমিক সাধকই পীরে-কামেল হয়।

     

     

    'এসো- ধর্মনিষ্ঠ হই'

     
     

    মর্ম বুঝে কুরআন পড়ি
    কুরআনী বিধান আঁকড়ে ধরি
    সহী হাদিছ চর্চা করে
    দ্বীনের শিক্ষা পূর্ণ করি,
    রাসুলুল্লাহর আখলাক মত
    পুত চরিত গঠন করি
    ধর্মান্ধতা অজ্ঞতা ছেড়ে
    স্বচ্ছ-জ্ঞান অর্জন করি,
    খোদার ধ্যানে মগ্ন থেকে
    জ্ঞান-বিজ্ঞান সাধনা করি
    সৃষ্টি মহিমা গবেষণা করে
    বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করি,
    খোঁড়া যুক্তির অহমিকা ছেড়ে
    সত্য-বোধ জাগ্রত করি
    নাস্তিকতার মায়াজাল ছিড়ে
    ঈমানি আলোয় জীবন গড়ি।

     

  35. ৩৫
    এস. এম. রায়হান

    ইসলামের লিখিত ইতিহাস বা মুসলিমদের কাছে কোথাও মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর কোনো ছবি নেই। অথচ ভারতীয় উপমহাদেশের এক শ্রেণীর হুজুর নিজেদের মনমতো কিছু বেশভুষা পরিধান করে সেটিকে 'নবীর সুন্নত' হিসেবে চালিয়ে দেন। তারা বুঝাতে চান যে, মুহাম্মদ (সাঃ) তাদেরই মতো বেশভুষাধারী কেউ ছিলেন!

    শুধু তা-ই নয়, ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমদের একাংশ মুহাম্মদ (সাঃ)-কে 'হুজুর' বলে। এই 'হুজুর' শব্দটাই আবার ধর্মগুরুদের ক্ষেত্রেও ইচ্ছেমতো ব্যবহার করা হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে হুজুরের সংখ্যা গুনে শেষ করা যাবে না। সৌদি আরবে কেউ মুহাম্মদ (সাঃ)-কে 'হুজুর' বলে না। 'হুজুর' একটি পার্সী বা উর্দু শব্দ। এই 'হুজুর' টার্মটা যেকোনো ধর্মগুরুর ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায়।

    অনুরূপভাবে, সৌদি আরবে কেউ মুহাম্মদ (সাঃ)-কে 'হযরত' বলে না। মূলত ভারতীয় উপমহাদেশেই মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর নামের আগে 'হযরত' লাগানো হয়। এটা শুধুমাত্র মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলে না-হয় একটা কথা ছিল। অথচ ভারতীয় উপমহাদেশে কিছু হুজুরের নামের আগেও 'হযরত' লাগাতে দেখা যায়। তার মানে 'হযরত' টার্মটাও মোটামুটি যেকোনো ধর্মগুরুর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।
     
    উল্লেখ্য যে, মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর ক্ষেত্রে 'হুজুর' ও 'হযরত' টার্ম দুটি ব্যবহার করে মূলত কওমীপন্থীরা। এভাবে ভারতীয় উপমহাদেশের এক শ্রেণীর হুজুর মনের অজান্তে নিজেদেরকে মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর কাতারে কিংবা মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিজেদের কাতারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন কি-না, ভেবে দেখার বিষয়।

  36. ৩৬
    এস. এম. রায়হান

    নিচের দৃশ্যগুলো দেখে কারো কি মনে হতে পারে যে, সরকারি সুবিধাহীন ও জনগণের দান-খয়রাতের পয়সায় চলা কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা দুর্বল, গরীব, অসহায়, নিরীহ, সহিষ্ণু, সহজ-সরল, ইত্যাদি। ভালো করে দেখুন তো।

    #ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের ভাংচুড় ও অগ্নিসংযোগ-

    https://www.facebook.com/niloy.sobhan/videos/10207469498969468/

    #ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। হাফেজ মাসুদ হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে রাসুলের সৈনিকেরা-

    https://www.facebook.com/btpnews247/videos/736887139745106/

  37. ৩৭
    মাহফুজ

    (শিক্ষক-ছাত্রদের দাবি : মাদ্রাসায় ঢুকে মাসুদকে গুলি ও পিটিয়ে হত্যা করে পুলিশ-ছাত্রলীগ-

    মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাতে মাদ্রাসার ছাত্ররা ঘুমিয়েছিল। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তালা ভেঙে সেখানে ঢুকে পড়ে। তাদের নির্যাতনে মাসুদুর রহমান মারা যান। এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে অবস্থানে থাকব।’
    আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পুলিশ মাদ্রাসায় আসার পর কিছু ছাত্র জীবন বাঁচাতে ওপরে উঠে পড়ে। তখন পুলিশ তাঁকে পিটিয়ে গুলি করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকরাও ছিলেন।’
    আরেকজন জানান, পুলিশ ও কিছু সাধারণ মানুষ যখন সেখানে আসে, তখন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।
    হাফেজ মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
    নিহত হাফেজ মাসুদের ভাই হাফেজ মোহাম্মদ মামুন ও সহপাঠী মুফতি নিয়ামুল ইসলাম দাবি করেছেন, মাসুদের গায়ে গুলির চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
    বড় মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোবারক উল্লাহ বলেন, ‘এটা ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, সামান্য ঘটনা থেকে এর সূত্রপাত হয়েছে। সে সময় শিক্ষকদের অনেকেই সেখানে ছিলেন না।
    যাঁরা ছিলেন, তাঁরা ছাত্রদের মাদ্রাসায় নিয়ে আসেন। ক্যাচি গেট তালা মেরে দেন। তার পরও ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ছেলেপেলেরা তালা ভেঙে সেখানে ঢুকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ব্যাপক মারধর করে।’
    রাতে মাদ্রাসায় অভিযানের ব্যাপারে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ একজনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। তাদের হাতে ওই শিক্ষার্থী মারা যাননি বলে দাবি করেছে।
    এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
    এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় শহরের জেলা পরিষদ মার্কেটের বিজয় টেলিকমের মালিক রনির সঙ্গে শহরের বড় মাদ্রাসার এক ছাত্রের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ বাধে। পরে এতে ছাত্রলীগ ও এলাকার কিছু লোক যোগ দেয়। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

    আমার      দেশ )

    ………………………………………………………………

        কখনো কখনো অন্যায়ের প্রতিবাদে দুর্বল, গরীব, অসহায়, নিরীহ, সহিষ্ণু, সহজ-সরল মানুষও ফুঁসে উঠতে পারে। তারা কাওমী বা আলীয়া মাদ্রাসার, নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সেটা মুখ্য বিষয় নয়। অন্যায় ও অত্যাচারের প্রতিবাদ না করলেই বরং অন্যায়কারীরা প্রশ্রয় পেয়ে যায়। তখন তারা বড় বড় অন্যায় করতে দ্বীধা করেনা। তবে এরূপ পরিস্থিতিতে প্রতিবাদের ভাষা যেন অহেতুক সন্ত্রাসে রূপ না নেয় সে ব্যাপারে অবশ্যই বিবেককে সজাগ রাখতে হবে।

    1. ৩৭.১
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      মোবাইল কেনা নিয়ে দোকানীর সাথে ঝগড়া থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত বলেই জেনেছি। আমার দেশ প্রচুর মিথ্যাচার করে আগেই তাদের বিশ্বাসযোগত্য হারিয়েছে। যাই হোক – কোন ভাবেই এই ধ্বংসাত্বক চিন্তাকে সমর্থন করা যায় না। বিশেষ করে বাংলাদেশে এই বিশেষ লেবাসধারীদের নেতিবাচক ভাবমূর্তির সাথে আরো কিছু নেতিবাচক চিত্র সংযোজন ছাড়া এই ঘটনা থেকে কি পেলো মাদ্রাসার জেহাদী ভাইরা?

  38. ৩৮
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় মাদ্রাসার ছাত্ররা মিছিল করছে – দৃশ্যত ক্ষুদ্ধ – তাদের মিছিলের শ্লোগান – একশান একশান – ডাইরেক্ট একশান। এইটা নিশ্চয় মাদ্রাসায় পড়ানো হয় না। ১৯৭২ সালের পর দেশে প্রতিবিপ্লবী জাসদ এই ধ্বংসাত্বক শ্লোগান দিয়ে দেশে বিশৃংখলা তৈরী করেছিলো। আজ "জেহাদী" ভাইদের সেই জাসদের শ্লোগান উত্তেজিত করে – সেই উত্তেজনায় ওরা ট্রেন ষ্টেশনের কম্পিউটার রুমে আগুন দেয় – রেল লাইন উপড়ে ফেলে – কিন্তু মাত্র দুইদিন আগে এই ট্রেনে চড়েই ওরা টংগি থেকে এসেছে। 

    সত্যই চিন্তা করার সময় এসেছে – কি পাচ্ছি আমরা এই কওমী মাদ্রাসাগুলো থেকে – সেখানে ট্রেন লাইন মেরামত করার জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া হয় না – কিন্তু ওরা স্বশিক্ষায় সেই লাইন উপড়ে ফেলতে পারে। ইংরেজী শ্লোগান দিয়ে জনগণের সম্পদে আগুন দিয়ে জেহাদ করতে চায়। 

    পুলিশকে ধন্যবাদ দিতে হবে যে শত উষ্কানীতেও ওরা ধৈর্য্য ধরেছে – নতুবা এই ঘটনায় ‌আর দুই একজন মারা গেলে পুরো দেশে দাঙ্গা লাগানোর মতো যথেষ্ট লোকজন ছিলো।

  39. ৩৯
    মজলুম

    নামাজ নিয়ে কওমীদের ইতরামী দেখুন এখানে। আহলে হাদিসদের সাথে তর্ক, আলোচনা সব কর, কিন্তু নামাজ নিয়ে ইতরামি কেন। https://www.facebook.com/al.islam.319452/videos/469017139947613/

  40. ৪০
    নূর

    আমি যতদূর জানি, কওমি মাদ্রাসার আলেমদের মাঝেও বিভিন্ন শ্রেনী বিভাগ রয়েছে বিশেষ করে বিভিন্ন আকীদার  (বিশ্বাসের) ক্ষেত্রে । যেমন কোন কোন কওমি মাদ্রাসা ওয়ালারা বিশ্বাস করেন নবীজী (সাঃ) নূরের তৈরী আবার অন্যরা বিশ্বাস করেন নবীজী (সাঃ) সাধারন মানুষের মতই তৈরি । কোন কোন কওমি মাদ্রাসা ওয়ালারা বিশ্বাস করেন মিলাদ পড়া যাবে আবার অন্যরা বিশ্বাস করেন মিলাদ পড়া যাবে না । এখানে আবার কোন কোন আলেম বিশ্বাস করেন মিলাদে কিয়াম করা যাবে আবার কেহ কেহ বিশ্বাস করেন মিলাদে কিয়াম করা যাবে না । এদের মাঝে আবার কেহ আছেন মাজার পন্থি কেহ আবার মাজার ভাঙ্গার পক্ষে । সূরা ফাতিহার পর কেহ আমিন আস্তে বলবে কেহ বলবে জোরে। কেহ নামাজে  নাভির নিচে হাত বাধার কথা বলবে কেহ বলবে বুকে হাত বাধতে । কেহ বলবে মাজহাব মানতে কেহ বলবে মাজহাব না  মানতে। এরুপ শতধা ভাগে বিভক্ত এই কওমি মাদ্রাসা ওয়ালারা। তারপরেও বলব উপমহাদেশে দ্বীনি আমল, আকীদার সমুন্নত শিক্ষার দীক্ষা কেন্দ্র হিসাবে কওমি মাদ্রাসার প্রতিদ্বন্দ্বী পাওয়া দুষ্কর । সামান্য কিছু ব্যতিক্রম উদাহরণ দিয়ে অনেকে তিল থেকে তাল বানিয়ে দেশীয় কায়দায় ফায়দা হাসিল করার কসরত করতে পারে । ইতিমধ্যেই উপরের মন্তব্যে নিজ নিজ গন্তব্যে অনেকেই পৌছে গেছেন ।

     

    লিল্লাহ বডিংয়ের পানির মত পাতলা ডাউল আর সাধারন সব্জীভাত খেয়ে যাদের জীবন চলে তারা ত আর মানুষ নয়, মানুষের ! ভিড়ে তারা আজ বড় অমানুষ হয়ে গেছে । জুলুমবাজ অমানুষগুলোই আজ বড্ড বেশী দানবীয় আকারের মহামানব সেজে বসে আছে ।  

    আমাদের দেশের শতকরা প্রায় ৮৫% মসজিদের ইমাম এই কওমি মাদ্রাসা পড়ুয়া আলেম । এদের আমল আকীদা সম্পর্কে যদি এতই খারাপ বিশ্বাস হবে তবে এদের পিছনে নামাজ পড়ে শুধু শুধু নিজের আমল গুলো বরবাদ করবেন না । আর যদি এদের মাঝে কতককে ব্যতিক্রম মনে হয় তবে আর ঢালাও ভাবে কওমিদের দোষারোপ না করে নিজ নিজ সাইন বোর্ডের দিকে দৃষ্টি দিন।  

    কওমি মাদ্রাসার লোকজনের লং মার্চের সেই কথা যেন কখনো ভুলবার নয় । নাস্তিক মুরতাদ দের আস্ফালন যখন সীমা অতিক্রম করছে , দেশের কওমি মাদ্রাসার কিছু মুসলমান তরুণ যুবক সমস্ত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে নির্দিষ্ট নাস্তিক মুরতাদদের শাস্তির বিধান কার্যকর করার জন্য নির্দিষ্ট ময়দান পানে ছুটে চলছে তখনো কিছু কলমবাজ লেখক নাস্তিকদের সাথে যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করেই ইসলাম কায়েম করছে ।

    সাহাবি আবু সাইদ খুদরী রা, থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি তোমাদের কেউ অন্যায় অশ্লীল কর্ম দেখলে শক্তি দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি সমর্থ না হও তাহলে কথার দ্বারা প্রতিবাদ করবে এতেও সমর্থ না হলে মন থেকে ঘৃণা করবে। আর এটিই হচ্ছে সবচে দুর্বল ঈমান।

    উপরোক্ত হাদিছ দ্বারাও তো বাহ্যিক দৃষ্টিতে কওমিরা কলমবাজদের একধাপ উপরেই অবস্থান করছে। সেই সময়ে আরো যে খবরটি নাড়া দিয়েছিল তা হল নাস্তিক মুরতাদদের বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ করতে না দেয়ার জন্য বদর বাহিনীর অনুকরণে ৩১৩ জনের শহীদি টিম গঠন করার জন্য নাম লিখিয়েছিলেন যারা তাদের জীবন দিয়ে ওদেরকে প্রতিরোধ করবে । এরাই হচ্ছে সেই কওমি’রা । যা আমার আপনার চিন্তার অনেক বাহিরে ।  

     

    বর্তমান বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আলেম মাওলানা তারিক মুনাওয়ার, তার একটি ওয়াজে শুনেছিলাম “যারা যুক্তি তর্ক দিয়ে ইসলাম কায়েম করতে চায় তারা  শয়তানের দোসর” । যুক্তি তর্ক বেশীরভাগ সময়েই ব্যক্তিকে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যায় যা কখনো কাম্য হতে পারে না। আর যুক্তি তর্কের দোহাই দিয়ে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ইসলাম ধর্মে কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে ।

    সবশেষে মাহফুজ ভাইয়ের সাথে সহমত হয়ে “কখনো কখনো অন্যায়ের প্রতিবাদে দুর্বল, গরীব, অসহায়, নিরীহ, সহিষ্ণু, সহজ-সরল মানুষও ফুঁসে উঠতে পারে। তারা কাওমী বা আলীয়া মাদ্রাসার, নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সেটা মুখ্য বিষয় নয়। অন্যায় ও অত্যাচারের প্রতিবাদ না করলেই বরং অন্যায়কারীরা প্রশ্রয় পেয়ে যায়। তখন তারা বড় বড় অন্যায় করতে দ্বীধা করেনা। তবে এরূপ পরিস্থিতিতে প্রতিবাদের ভাষা যেন অহেতুক সন্ত্রাসে রূপ না নেয় সে ব্যাপারে অবশ্যই বিবেককে সজাগ রাখতে হবে” ।   

     

     

    1. ৪০.১
      মাহফুজ

      ভাই নূর,
      আমার অল্প বক্তব্যের ইশারা বুঝতে পারার ও সহমত প্রকাশের পাশাপাশি বিস্তারিতভাবে আপনার মনোভাব পেশ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
      মহান আল্লাহতায়লা যেন সবাইকে তাঁর ঐশী বাণী অনুধাবন ও পালন করার সাথে সাথে সকল বিভেদ দূর করার তৌফিক দান করেন-

    2. ৪০.২
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      বর্তমান বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আলেম মাওলানা তারিক মুনাওয়ার, তার একটি ওয়াজে শুনেছিলাম “যারা যুক্তি তর্ক দিয়ে ইসলাম কায়েম করতে চায় তারা  শয়তানের দোসর”।

      – খুবই সাংঘাতিক কথা! উনার কথামতো সদালাপের বেশীর ভাগ লেখকইতো “শয়তানে দোসর”।

      এই বিষয়ে কোন দলিল কি দেখানো যাবে?

      1. ৪০.২.১
        এস. এম. রায়হান
        বর্তমান বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আলেম মাওলানা তারিক মুনাওয়ার, তার একটি ওয়াজে শুনেছিলাম “যারা যুক্তি তর্ক দিয়ে ইসলাম কায়েম করতে চায় তারা শয়তানের দোসর”।

        এইটা যদি তারিক মুনাওয়ারের বক্তব্য (?) হয় তাহলে উনি পরোক্ষভাবে কোরআনের অথারকেই আক্রমণ করেছেন। কেননা কোরআনের একাধিক আয়াতে অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে যৌক্তিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে কিছুদিন আগে তারিক মুনাওয়ারের একটি ভিডিও নজরে পড়েছিল। সেখানে কিন্তু উনি তার শ্রোতাদেরকে যুক্তি দিয়ে সবকিছু বিচার করতে বলেছেন।

        কওমীপন্থীরা আসলে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ও ইসলামের নামে মনগড়া বিশ্বাসকে যুক্তি দিয়ে ডিফেন্ড করতে না পেরে এই ধরণের কথা বলে। তারা এমনকি ইসলামের কোনো বিষয়কে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যারও বিরোধিতা করে, যেহেতু কওমী মাদ্রাসাতে বিজ্ঞান পড়ানো হয় না! আশা করি এবার ওদের ছল-চাতুরি ধরতে পেরেছেন।

      2. ৪০.২.২
        নূর

         আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন ভাই – প্রথমেই আমি ক্ষমা প্রার্থী যে, আমি হুবহু তারেক মুনাওয়ারের কথা তুলে ধরতে পারিনি । তিনি যদি ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করেন তবে মনে হয় তার কথা গুলো আমার উল্লেখিত কথা হতে খুব বেশী দূরে নেই । অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার সেই ওয়াজটি পেলাম, সদালাপে অডিও আপলোড করা যায় কিনা জানিনা, বললে হয়ত অডিও আপলোড করা যেত, যেখানে কথাগুলো এমন ছিল-

        "আজকে এখানে আমার নাম ঘোষণার আগে একজন বলতেছিল যুক্তিবাদী, কে ঘোষণা করেছিল এটা? আমি অপোজ করেছি এটা। খবরদার কোন ভাল মানুষের সামনে যুক্তিবাদী ব্যবহার করবানা। যুক্তিবাদী শয়তানের লকব। আল্লাহ দলীল দেন শয়তান যুক্তি দেয়। ঠিক কিনা বলেন? আমরা যুক্তির ধার ধারি না । আমরা আল্লার কোরান নিয়ে চলব। আলহামদু লিল্লাহ বলেন । কিসের যুক্তি আবার। যুক্তি ভিত্তিক আমরা চলি না । অনেক কিছু যুক্তি দিয়ে ধরে না কিন্তু আমাদের করতে হয়। এখন যদি কেউ বলে যুক্তি দেন, যুক্তি হল তারে ধইরা ঝারু দিয়ে পেটানো । কিসের যুক্তি ?"

        1. ৪০.২.২.১
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          ধন্যবাদ।   

          বুঝলাম- উনি নিজের ঢোল পেটাচ্ছিলেন। খুবই মজার কথা বলেন উনি। মাঝে মধ্যে গানও গেয়ে স্রোতাদের মনোরঞ্জন করেন।

          1. মাহফুজ

            কে কি বলেন তা ছেড়ে বরং আল্লাহতায়লা কি বলেন তা অনুধাবনের চেষ্টা করি-
            (২৯:৬৯) অর্থ- আর যারা আমার জন্য চেষ্টা-সাধনা/ সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করবই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন।
            (১৬:৮২) অর্থ- অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার কর্তব্য তো কেবল সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেয়া মাত্র।
            (১৬:১২৫) অর্থ- তোমার পালনকর্তার পথের দিকে আহবান কর প্রাজ্ঞতা, বিচক্ষণতা ও ভাল উপদেশ শুনিয়ে এবং তাদের সাথে আলোচনা কর উত্তম পন্থায়। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তাই ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ ভাবে জ্ঞাত রয়েছেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে।    
            (৩:৬৪) অর্থ- বল ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান-যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না।' তারপর যদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে, ‘সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত।'   

  41. ৪১
    এস. এম. রায়হান

    কওমী মাদ্রাসায় পড়ে যদি আওয়ামী লীগ, বাম, ও হিন্দু নেতা হয় – যাদেরকে আবার কওমীপন্থীরা ঘৃণা বা অপছন্দ করে – তাহলে তো কওমী মাদ্রাসা বিপজ্জনক-ই বটে!!!  🙂  দেখুন-

    "বিপজ্জনক" কওমী মাদ্রাসার এক সময়ের ছাত্র ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তাঁর শিষ্য ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

    "বিপজ্জনক" কওমী মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন মাওলানা তর্কবাগীশ। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের অন্যতম ফাউন্ডার। ১৯৫৫ সালে ছিলেন দলটির সভাপতি।

    "বিপজ্জনক" এই প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসেন মাওলানা ভাসানী। যিনি স্বাধীনতার পক্ষে প্রথমেই ঘোষণা করেন '' আসসালাম – – ''

    "বিপজ্জনক" কওমীতে লেখাপড়া করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। যাকে ছাড়া এই জাতিসত্তা অপূর্ণ থেকে যায়।

    "বিপজ্জনক" কওমী মাদরাসার ছাত্র ছিলেন রামমোহন রায়। যার ভাবশিষ্য ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর!

    "বিপজ্জনক" কওমী মাদরাসার সহযোগী ছিলেন এডভোকেট আবদুল হাফিজ। (মাল সাহেবের বাবা)। যিনি ছাড়া আবুল মাল আবদুল মুহিত মানুষের দুনিয়ায় জন্ম নিতে পারতেন না।

    সূত্র: https://www.facebook.com/poetmusaalhafiz/posts/1587087314882227

    শুধুমাত্র এই পোস্টেই এ পর্যন্ত ৮১১ লাইক, ১১৪ শেয়ার, ও ১০৬টি মন্তব্য পড়েছে। এই পোস্টটা যে আরো কতজন শেয়ার দিয়েছে তার হয়তো কোনো হিসাব নাই।

  42. ৪২
    এস. এম. রায়হান

    নিচের ভিডিওটা কে তৈরী করেছে সে ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা নাই। তার ব্যাপারটা এক পাশে রেখে আমি শুধু জানতে চাচ্ছি এই ভিডিওতে যা দেখানো হয়েছে (বিশেষ করে প্রথম অংশ – মাওলানা আহমদ শফীর হাতে মুরিদদের বায়াত) তা সত্য নাকি বানোয়াট?

    https://www.youtube.com/watch?v=Blixk5x9U_M

    আহমদ শফীর হাতে মুরিদদের বায়াত শুরুর আগে যা বলা হয়েছে তা হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো-

    সর্বপ্রথম হযরত বায়াত করবেন। আমরা যারা বায়াত হওয়ার নিয়ত করেছি অথবা আগে বায়াত হয়েছি, এখন তওবার নিয়তে বায়াত হবো অথবা নতুনভাবে বায়াত হবো। হযরত প্রথম বায়াত করবেন, এর পরে তাক্বলীদ পেশ করবেন। আমরা সকলে আওয়াজ বন্ধ করে দেই এবং সকলে একজন আরেকজনের গায়ে হাত দিব। এখানে থেকে একটা রুমাল দেওয়া হবে যেটা একজন-দু'জনে ধরবে। এর পরে বাকিরা সবাই একজন আরেকজনের পিঠে হাত দিব। তাহলেই কী হবে, হযরতের হাতে হাত দেওয়া হয়ে যাবে। আসলে হযরতের হাতে হাত দেওয়া নয় … কিছু আরবী … হে নবী আপনার হাতে যারা বায়াত হচ্ছে তারা আল্লার হাতে বায়াত হচ্ছে। সুতরাং আমরা সকলে আজকে আহমদ শফীর হাতে বায়াত হচ্ছি না, আল্লার হাতে বায়াত হচ্ছি। সুতরাং সকলে একজন আরেকজনের পিঠে হাত দেব এবং এই রুমালটা আমরা সকলে ধরব যাতে করে আমরা সকলে বায়াত হয়ে যাব। যারা আগে বায়াত হয়েছি এমন লোক আছে আমরাও তওবার নিয়তে বায়াত হবো। আল্লা'তাআলা আমাদের বায়াতকে তওবাকে কবুল করুন।

    এই কথাগুলো বলা হয়েছে আহমদ শফীর সামনে। এরপর আহমদ শফীর বায়াত পর্ব শুরু হয়েছে।

    1. ৪২.১
      Shahriar

      Nauzu-billah.. astagfirullah…

    2. ৪২.২
      মজলুম

      এই ব্যাপারে আপনি শুধু ওদের কথা লিখে দিলেন কিন্তু এ ব্যাপরে আপনার মন্তব্য জানতে চাই। আর যারা কওমী মাদ্রাসা, দেওবন্দ, শফী সাহেবকে ডিফেন্ড করেন তাদেরও এ ব্যাপারে ব্যখ্যা শুনতে চাই।

      1. ৪২.২.১
        এস. এম. রায়হান

        মতামত দেওয়ার আগে ভিডিওটার সত্যতা জানা দরকার। পরে আবার ফেক বলে দাবি করা হতে পারে, যদিও ভিডিওটা দেখলে কারো কাছেই ফেক মনে হওয়ার কথা না। এ ব্যাপারে আহমদ শফীর মুরিদদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। তারা কিছু না বললে ধরে নিতে হবে ভিডিওটা সত্য, এবং তারা জেনেশুনে সত্যকে চেপে গেছে।

        1. ৪২.২.১.১
          নূর

          আমি যদিও আহমেদ শফি হুজুরের মুরিদ না বা তাকে কখনো সরাসরি দেখি নাই। তারপরেও উল্লেখিত ভিডিও টি সত্য ধরে নিয়ে আমি কি আপনার সাথে আলোচনা করতে পারি ? যদি আগ্রহী হোন তাহলে আপনার পরবর্তী অভিযোগ গুলো পয়েন্ট আকারে প্রকাশ করতে পারেন । ধন্যবাদ ।

          1. মজলুম

            মুরিদরা যেহেতু আসে নাই, তাই আপনি চালাইয়া যান। তবে শুধু এটা বললে হবে যে আপনি কি মাদ্রাসা গ্রেজুয়েট নাকি স্কুল গ্রেজুয়েট। অবশ্য আমি জানি কওমীরা এটার কি উত্তর দেয়। মজা লাগে যখন এরা বেরেলভী/ রেজবী গ্রুপকে বেদাতি বলে ডাকে।

  43. ৪৩
    এস. এম. রায়হান

    কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের চরম অহংবোধ দেখুন-

    কালেমাই শুদ্ধ করে বলতে পারে না তার নামের আগে টাইটেল আবার কয়েকটা। কওমি আলেমদের জুতা পরিষ্কার করারও যোগ্য নয় এই ব্যক্তি। তার তেলাওয়াত শুনুন হাসতে হাসে ফিট হয়ে যাবেন। [সূত্র]

    নোটঃ এখানে যেই ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে তিনি একজন ভিন্নপন্থী হুজুর। ফেসবুকের সুবাদে বিভিন্ন পোস্টের সূত্র ধরে এই হুজুরের ইসলামিক বিষয়ে কিছু বক্তব্য শুনেছি। এই ধরণের হুজুরদের বক্তব্য শুনে তাদের অন্ধ মুরিদ ছাড়া অমুসলিমদের কেউ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া তো দূরে থাক, বরং ইসলাম থেকে শত মাইল দূরে থাকবে। কাজেই তাকে ডিফেন্ড করার প্রশ্নই আসে না। এই পোস্টে শুধু কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা অনেকের অন্ধ বিশ্বাসকে ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে।

    1. ৪৩.১
      Shahriar

      This video was edited (don't know who did this). But pls search him also check his lectures (original) .. u can check peace TV also. Then u actually know how knowledgeable the person is.

    2. ৪৩.২
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ মদীনা ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশুনা করেছেন। দেওবন্দীরা সৌদী আরবের বিষয়ে বিশেষ মনোভাব পোষন করে। অনেকে সৌদী শাসকদের এজিদের বংশধর বিবেচনা করে। মদীনা ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের এরা আলেম বিবেচনা করে না। সমস্যা হলো তাদের এই বিষোদ্গার তরুনদের মাঝেও ছড়িয়ে যাচ্ছে – যার মানে মুসলিম আলেমদের মাঝে বিভক্তি পরবর্তী প্রজন্মেও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

      1. ৪৩.২.১
        Shahriar

        jajak-allah ziauddin bhai for clarification.

  44. ৪৪
    এস. এম. রায়হান

    কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা প্রযুক্তিবিদ্যায় পারদর্শী হলো কী করে – কিওরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো। তাছাড়া এই ধরণের প্রযুক্তিবিদ্যা তো 'কাফের'দের আবিষ্কার। ইসলামের আলোয় আলোকিত ও বিশেষভাবে আদব-কায়দা শেখা কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের কান্ড দেখুন।

    https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1558153544504339&set=a.1376210812698614.1073741828.100009291242956&type=3    

    https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1558138674505826&set=a.1376210812698614.1073741828.100009291242956&type=3  

    https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1558138614505832&set=a.1376210812698614.1073741828.100009291242956&type=3

  45. ৪৫
    এস. এম. রায়হান

    লন্ডন-প্রবাসী এক কওমী হুজুরের ফতোয়া-

    আপনার মুখে দাড়ি নাই, আপনার পরনে পাঞ্জাবি নাই, আপনার মাথায় পাগড়ি নাই। আপনাকে দেখতে বুশের মত লাগতেছে। আমি কি ভাবে বুঝবো আপনি মুসলিম.?? শুধু কালিমা পড়লেইতো আর সবাই আপনাকে মুসলিম ভাববে না.?? আমি কি ভাবে বুঝবো আপনি রাসুল সাঃ এর উম্মত.?

    আরে ভাই সমস্ত আম্বিয়া আঃ গণের মুখে দাড়ি ছিল। আমার মায়ার নবী সাঃ এরও দাড়ি ছিল। কিন্তু আপনি নিজের মুখের দাড়ি কেটে রাসূল সাঃ এর কলিজায় আঘাত দিয়ে কি ভাবে নিজেকে মুসলিম দাবী করেন.? কি ভাবে রাসূল সাঃ এর উম্মত দাবী করেন.??

    কোন মুখে কিয়ামতের দিন হাওজে কাওছারের পানি পান করতে চাইবেন রাসুলে সাঃ এর নিকট.? অথচ আপনার চেহারা থাকবে বিল ক্লিনটনের মত, বুশের মত.??

    একবার এক ব্যক্তি রাসুল সাঃ এর নিকট আসল। রাসুল সাঃ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আরে তোমার মুখের দাড়ি কোথায়.? উত্তরে সে বলল, আমাদের পারস্যের বাদশা বলেছেন দাড়ি কেটে দিতে। রাসুল সাঃ নিজের চেহারা মোবারক অন্যদিকে ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, আরে কম্বখত.! আমার বাদশা আমাকে দাড়ি রাখতে আদেশ করেছেন।

    সম্মানিত বন্ধুগনঃ আপনারা যদি নিজেকে মুসলিম দাবী করেন। তাহলে অবশ্যি নিজেকে রাসুল সাঃ এর যোগ্য উত্তরসুরী হিসাবে উপস্থাপন করবেন। শুধু মাদ্রাসা পড়ুয়াদের দাড়ি রাখতে হবে, কথা কিন্তু এমন নয়। কথা হল- আপনি মুসলিম হলেই, আপনাকে দাড়ি রাখতে হবে। এটাই ইসলামের নির্দেশ, রাসুল সাঃ এর নির্দেশ।

    আল্লাহ পাক আমাদেরকে রাসুল সাঃ এর সঠিক উম্মত হওয়ার তৈীফিক দান করুন। আমিন।

    22-01-2016

    https://www.facebook.com/muhammadabul.kalam.16/posts/1684436718492913

    কোরআন-হাদিস থেকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই হুজুরের বিশ্বাস যে, উনি কিয়ামতের দিন নিজেকে একজন 'সহি মুসলিম' প্রমাণ করার জন্য দাড়ি-পাঞ্জাবি-পাগড়ি পরিধান করে আল্লাহ্‌ ও রাসূল (সাঃ)-এঁর সামনে দাঁড়াবেন! কিন্তু কিয়ামতের দিন উনাকে (ভারতীয় উপমহাদেশ স্ট্যাইলে) পাঞ্জাবি-পাগড়ি কে বানিয়ে দেবে, এ ব্যাপারে আমার কোনোই ধারণা নাই! তাছাড়া কিয়ামতের দিন উনার গালে বর্তমান দাড়ি থাকবে কি-না, এই নিশ্চয়তাই বা উনাকে কে দিয়েছেন! জ্ঞানী ভাইয়েরা কোরআন-হাদিসের আলোকে একটু সাহায্য করেন। উনি আরো বলেছেন যে, যারা দাড়ি-পাঞ্জাবি-পাগড়ি পরিধান করে না তাদের চেহারা কিয়ামতের দিন বুশ, বিল ক্লিনটনের মতো থাকবে! কিন্তু উনার নিজের চেহারা ইহুদী র‍্যাবাই, শিখদের মতো থাকবে কি-না, সেটা বলেননি! এক শ্রেণীর হুজুর ইসলামকে যে কতটা সংকীর্ণ ও অযৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, তা ভাবতেই অবাক লাগে।  

    নোট: আমি কিন্তু দাড়ি রাখার বিরুদ্ধে না। অনেক আগে "দাড়ি-বিদ্বেষীদের সৌজন্যে দাড়িওয়ালাদের নিয়ে ব্লগ!" শিরোনামে একটি পোস্টও দিয়েছিলাম।

    1. ৪৫.১
  46. ৪৬
    এস. এম. রায়হান

    কোরআন বা হাদিস থেকে কোনোই রেফারেন্স নাই। এগুলো এরা পায় কোথায়, কে জানে।

    ***দাড়ি রাখার উপকারিতা***

    ১) দাড়ি রাখলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ) খুশি হন।
    ২) দাড়ি রাখা দ্বারা সকল নবীগণের সাদৃশ্য গ্রহণ করা হয়।
    ৩) দাড়ি রাখলে নবীজির শাফায়াত লাভ হবে।
    ৪) দাড়ি রাখলে কবরের আযাব মাফ হবে।
    ৫) দাড়িওয়ালার প্রতি মানুষের ধারণা ভাল থাকে এবং সে মানুষের দোয়া পায়।
    ৬) অপরিচিত স্থানে দাড়িওয়ালা মুসলমান মারা গেলে,মুসলমান কিনা চেনার জন্য উলঙ্গ করে খাতনা দেখতে হয় না।
    ৭) দাড়িতে চেহারার সৌন্দর্য্য বাড়ে এবং এবং বীরত্বের পরিচয় বহন করে।
    ৮) কিয়ামতের অন্ধকারে মুমিনের দাড়ি নূরে পরিণত হবে।
    ৯) ঈমান-আমল ঠিক থাকলে দাড়িওয়ালা ব্যক্তি নবী ও ওলীর সাথে সাক্ষাৎ ও হাশর হবে।
    ১০) দাড়ি রাখলে অনেক পাপ থেকে বেঁচে থাকা যায়।
    ১১) দাড়ি ইসলামী সভ্যতার অন্যতম প্রতীক।
    ১২) দাড়ি রাখলে মুনকার-নাকীরের সুওয়াল-জাওয়াব সহজ হয়।
    ১৩) লম্বা দাড়ি স্বাস্থের ক্ষতিকর জীবানু গুলোকে গলা ও সিনাতে পৌঁছতে দেয় না।
    ১৪) দাড়ি গলাকে শীত ও গরমের বিরুপ প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত রাখে।
    ১৫) দাড়ির অস্তিত্ব যৌনশক্তিকে বৃদ্ধি করে,যা ডাক্তার দ্বারা প্রমাণিত।
    ১৬) দাড়ি রাখলে পাইরিয়ার মত মারাত্বক রোগথেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
    ১৭) দাড়ি রাখলে সেভ করার অনর্থক সময় ও অর্থ অপচয় থেকে বাঁচা যায়।
    ১৮) দাড়ি দ্বারা গুণাহে জারিয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
    ১৯) দাড়ি রাখারদ্বারা শারীরিক সৌন্দর্য্যবৃদ্ধি পায়।
    ২০) দাড়িতে ক্ষুর বা ব্লেড লাগালে,চোখের রগের উপর আঘাত লাগে। ফলে চোখের জ্যোতি কমে যায় এবং মুখের চামড়া শক্ত হয়ে যায়। তাই দাড়ি রাখলে এই ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

    আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে দাড়ি রাখার তৌফিক দান করুক। 
    আমিন।

    https://www.facebook.com/abuTaher.beanibazar/posts/957940290967693

    তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে ক্ষুর বা ব্লেড দিয়ে দাড়ির একাংশ ও গোঁফ খুব সুন্দর করে সেভ করা!

  47. ৪৭
    মজলুম

    কওমীরা আবার ইসলাম, বেহেশত এসব পকেটে নিয়া ঘুরে। কথাবার্তায় মনে হয় বেহেশতে তার কনফার্ম টিকেট আছে, পুলসিরাত সে পার হয়ে গেছে। অথচ এই জিনিসটা বিপরীত ইবনে মাসুদের বর্নিত হাদিস অনুযায়ী। মানে যেই লোক পাপী সে তাকে নেককার/ বেহেশতী  মনে করবে, আর যে নেককার সে তাকে পাপী/জাহান্নামি মনে করবে। 

  48. ৪৮
    এস. এম. রায়হান

    কেউ চাইলে দাড়িকে প্রমোট করতেই পারেন। সত্যি বলতে দাড়ির প্রতি আমার একটা সফ্‌ট কর্ণার আছে, তবে সকল প্রকার দাড়ির প্রতি নয়। যাহোক, কওমীপন্থীরা অন্যদেরকে হেয় করে কীভাবে দাড়িকে প্রমোট করছে দেখুন-

    দাড়িবিহীন যুবক কিশোরীর মত। তাদের শক্তসমর্থ পুরুষ মনে হয়না। যেন বিবাহযোগ্য কোন কিশোরী। প্রমাণঃ পথেঘাটে অহরহ দেখবেন। এসব কিশোরীযুবকই সংখ্যাগরিষ্ট।

    দাড়িওয়ালা গোঁফবিহীন যুবক বাঘের ন্যায়। তার চেহারায় পৌরুষ থাকে। প্রমাণঃ তাও পথেঘাটে কিশোরীযুবকদের মাঝে দেখবেন। বাঘের ন্যায় যেহেতু দামি তাই সংখ্যায়ও কম দেখা যায়। আল'হামদুলিল্লা-হ! ইদানীং যুবক বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে।

    দাড়িবিহীন গোঁফওয়ালা বুড়ো চোরাবিড়ালের মত। যেমনঃ কবির ফ্রায়েড চিকেন বা মুরগি কবির, জাফর ইকবালসহ আরো অনেকে। এদের চাহনিতে সর্বদা চোরা একটা ভাব দেখবেন। ঠিক বিড়ালের মত। যেন এই মাত্র মাছ চুরি করে খেল!

    দাড়িবিহীন ঝুলেপড়া থলথলে চামড়ার বুড়ো কোলা ব্যাঙের মত। কিশোরকাল থেকে শেভ করতে করতে এরা বদভ্যাস ছাড়তে পারেনা। বুড়ো বয়সেও সকালে উঠে মুখে ফোম লাগায়। ফলস্বরুপ এদের চাইতে কদাকার কাউকে মনে হয়না। ঠিক যেন তেলতেলামুখো একখানা বড় সাইজের কোলা ব্যাঙ! প্রমাণঃ দেব না। হাজার হলেও মুরব্বি।

    আর দাড়িওয়ালা গোঁফবিহীন বৃদ্ধ যেন কেশরওয়ালা সিংহ! বয়স হলেও কেশরের কারণে যেমন সুশ্রী, গর্বিত দেখায়। যেমনঃ আল্লামা শাহ আহমদ শফি, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা শাহ মুহাম্মাদ তৈয়ব, আল্লামা নুর হুসাইন কাসেমী দাঃ বাঃ সহ আরো অনেক বুজর্গ উলামায়ে কিরাম। শুধু চেহারাগুলো কল্পনা করুন! সুব'হা-নাল্ল-হ! বয়স ৮০-৯০-১০০'র কাছাকাছি হয়েছে। এখনও কি চেহারা থেকে জ্যোতি কমেছে? প্রতিনিয়ত যেন নুর ঝরে পড়ছে!

    এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিন। কিশোরীই থাকবেন নাকি বাঘের ন্যায় হবেন? বুড়োকালে চোরাবিড়াল, কোলাব্যাঙ হবেন নাকি উন্নতশির কেশরওয়ালা সিংহের ন্যায়?

    একটায় সৌন্দর্যতো নাই'ই মরলে বরং আজাব।

    আরেকটায় সৌন্দর্য, শৌর্যতো আছেই মৃত্যুর পরও পুরস্কারের হাতছানি।

    জলদি সিদ্ধান্ত নিন, আজই!

    https://www.facebook.com/mayawala/posts/1105031239515168

    এখানে কিছু অসততা লক্ষণীয়। বাঘ হচ্ছে দাড়িবিহীন ও হালকা-পাতলা-লম্বা গোঁফওয়ালা প্রাণী। অন্যদিকে সিংহ হচ্ছে কেশরওয়ালা ও হালকা-পাতলা-লম্বা গোঁফওয়ালা প্রাণী। অর্থাৎ উভয় প্রাণীরই লম্বা গোঁফ আছে। অথচ একই সাথে দাড়ি-গোঁফওয়ালা লোকজনের কথা চেপে যেয়ে তুলনাগুলো কেমন অসততার সাথে করা হয়েছে! সত্যি বলতে দাড়িওয়ালা-গোঁফবিহীন লোকজনকে যদি কোনো পশুর সাথে তুলনা করতেই হয় তাহলে ছাগলের সাথে তুলনা করাই সবচেয়ে যৌক্তিক হবে। অথচ উনি মনে হচ্ছে আল্লাহ্‌র সৃষ্টি ছাগল প্রজাতিকে ঘৃণা করেন! অন্ধভাবে অন্যদেরকে হেয় করতে গেলে যা হয় আরকি!

  49. ৪৯
    মজলুম

    সকল কথার শেষ কথা হলো কওমীদের মাথায় তুলে রাখেন, আর কওমী কওমী নাম জপেন। উনারা যাই বলে তাই আইন। উনারা আবরী, উর্দু, ফার্সীতে হাফেজ। কওমীদের কাছ হতে আমি নিজে শুনেছি এবং আমাকে  বলেছে যে এখন মদিনার নূর খোদ মদিনাতেই নাই, বরং আছে দেওবন্দে। উনারাই পৃথিবীর একমাত্র খাঁটি আকিদার, সহীহ তরিকার, বিশুদ্ধ ইমানের অধীকারী। একবার তো কওমীদের মাসিক পত্রিকা আদর্শ নারীতে কভার পেজে মদিনার ছবি এবং দেওবন্দ মাদ্রাসার ছবি অংকন করে সাথে একটা নূরের রশ্মি অংকিত ছিলো। দেখানো হয়েছিলো কিভাবে মদিনার নূর দেওবন্দে এসে পড়তেছে। আর সারাদিন যেভাবে কওমী কওমী নাম জপে মনে হয় ৩৪ দানার তজবীতেও কাজ হবেনা, ১০০ দানার তজবী লাগবে। উনারা আরবী জানেন তাই উনাদেরটাই সঠিক। তাইলে আল-আজহার বা আরবদেশের বেশীরভাগ আলেম যাদের মাতৃভাষা আরবী, তারা কেন শুধু হিজাবের পক্ষে বলে। নাকি মাতৃভাষা আরবী হয়েও উনারা দেওবন্দিদের মত আরবী জানে না।

    দেওবন্দীদের কাছে বাকি সবাইকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার একটা প্রবণতা আছে, সে দেওবন্দি ঘরানা ছাড়া আর যেই হোক না কেন। উনাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবেনা, উনারা অনেক বড়……………………….। সেই ব্রিটিশ আমলে উনারা কি কি করছে সেই সবের লিস্ট দেখায়। আমগো দেশের পঁচা বামগুলোর মতো। হেই সোভিয়েত আমলে কম্যুনিষ্ট চে, ম্যা'রা কি করছে তাই নিয়ে আত্বপ্রসাদে ভোগে। বর্তমানে কি করছেন তাই দেখে ভবিষ্যতের কাজ নির্ধারণ করেন, অযথায় ব্রিটিশ আমল নিয়ে আসে।

    পুরা ইসলাম ধর্মটাকে এই কওমীরা রুটি রুজির উৎস বানিয়ে ফেলেছে। যেখানে প্রায় সব নবী রাসূল ছিলেন মেষের রাখাল, মেষ পালন ছিলো খুবই কঠিন কাজ। আমাদের রাসূল (সঃ)ও ছিলেন মেষের রাখাল, তিনি এবং সাহাবীরা কেউই ইসলাম ধর্মের উপর নির্ভর করে রুটি রুজির ব্যবস্থা করেন নি। সাহাবিরা হলো ইসলামের মাপকাঠি। রাসূলের (সঃ) মেয়ে ফাতিমা (রঃ) যাঁতা পিশতে পিশতে তার হাতে ফোস্কা উঠতো। উনারা সবাই কায়িক পরিশ্রম করে জীবিকা চালাতেন। উনারা কেউই দান খয়রাতের উপর চলতেন না। চার মাহজাবের সব ইমাম কায়িক পরিশ্রম করে খেতেন, টুপি সেলাই করে খেতেন, ব্যাগ বুনতেন।

    কিন্তু এই কওমীদের কোন প্রযুক্তিগত দক্ষতা তো নাই এমনকি এরা কিছু কারিগরী কাজ শিখেও টাকা আয় করেনা, যেমন ইলেক্ট্রিশিয়ান, ফ্রিজ, এসি মেকানিক ইত্যাদি।

    তার উপর এরা কায়িক পরিশ্রমের কাজগুলো যেমন রিকশা চালানো, ইটের ভাটা, মাটি কাটা, রাখাল, কনস্ট্রাকশান লেবার, গার্মেন্ট কর্মী এসব কাজেও নাই। উনারা খালি হাত পাতে মানুষের কাছে। আরে ব্যাটা, যারা সমাজে হাত পাতে, ওরা কি সমাজে সম্মান পায়।

    উনারা চলে ইসলাম ধর্ম বিক্রি দিয়া যা নবী, রাসূল, সাহাবাদের সম্পূর্ণ বিপরীত।

    ভুমিদস্যু বসুন্ধরার মালিক সোবহান মিয়া। কতো লোকের জমি দখল কইরা সে বানালো বসুন্ধরা সিটি। সেও বসুন্ধরার ভিতরে একটা কওমী মাদ্রাসা দিলো মুফতি আবদুর করিম বা রহিমকে দিয়া। এখন ভুমিদস্যু সোবহান মিয়া দুনিয়াতে আছে খুশিতে, আরামে, তার উপর মুফতি আবদুর করিম বা রহিমকে দিয়া বাইনাইলো কওমী মাদ্রাসা, তার মানে তার বেহেশতও নিশ্চিত। মানে দুনিয়া এবং আখেরাত দুটাই পাইলো!!!! এদিকে মুফতি আবদুর করিম বা রহিমও খুশী। তারতো বেহেশত এমনিতেই নিশ্চিত আর দুনিয়াতেও চলার জন্যে, রুটি রুজির জন্যে ভুমিদস্যু সোবহান মিয়া আছে। তার মানে তারও দুনিয়া এবং আখেরাত দুটাই পাইলো!!!! সারা দেশের এই অবস্থা। চোর, বাটপার, ঘুষখোর, সুদখোর সবগুলা মসজিদ, মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি। হুজুররাও খুশি, হেরাও খুশি!!

    এই দৃশ্যটা শুধু দেওবন্দি নয়, বেরেলভি, সালাফিদের মধ্যেও আছে। এগুলো একটা রিসাইকলের মধ্যে চলছে। এজন্যে এই সমাজে সবই আছে। মসজিদ, মাদ্রাসা, চুরি, ডাকাতি, ভুমিদস্যু, হত্যা, ঘুষ, সুদ সবই একই সাথে চলছে। সবাই খুশী, হুজুরও খুশী, চোর ডাকাত, ভুমিদস্যুরাও খুশি।

    কিন্তু প্রশ্ন হলো আল্লাহ কি খুশি????

  50. ৫০
    এস. এম. রায়হান
    ক্বওমী মাদ্রাসায় পড়েন? আরে এ তো জাকাত ফেৎরা, দান খয়রাতের টাকায় চলে! যাদের উন্নত শিক্ষা গ্রহনের ক্ষমতা নেই ফকির মিসকিন তারাই ক্বওমী মাদ্রাসায় পড়ে!

    আস্তে ভাই আস্তে! আপনি কোথায় পড়েন? আলিয়া মাদ্রাসায়? ঢাকা ভার্সিটি? অন্যকোন কলেজে? আরে ভাই ও তো চলে পতিতালয়ের টাকা দিয়ে! মদের টাকা দিয়ে! … [সূত্র]

    উপরে মজলুমের মন্তব্য আর কওমী মাদ্রাসার ছাত্রের এই মন্তব্যের উপর ভিত্তি করে একটি প্রশ্ন- কওমী মাদ্রাসাতে যে’সকল উৎস থেকে দান-খয়রাত আসে সেগুলো হালাল না হারামের টাকা থেকে আসে, সেটা তারা নিশ্চিত হয় কী করে?

  51. ৫১
    এস. এম. রায়হান
    যে শিক্ষা মানবতা শেখায় না, তা কোন শিক্ষা নয় ৷ এ সব শিক্ষা সিলেবাস বদলে কওমীর আদলে শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। [সূত্র]

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বৃদ্ধ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিয়েছেন। অতএব, সময় থাকতে সকলে কওমী মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে যান!

    1. ৫১.১
      Shahriar

      haaaaa…. nice feedback.

      jajak-allah.

  52. ৫২
    মজলুম

    কওমীদের বিরুদ্বে একটা অন্যায় হয়ে যাচ্ছে রায়হান ভাই। ফেসবুকে কোন কওমী কি লিখলো, এটা দিয়ে পুরা কওমীকে বিচার করা যায় না। আর এই রকম মন্তব্য যে সব কওমীরা একবাক্যে মানে তাও না। প্রত্যেক দলে এরকম কিছু কিছু উশৃঙ্খল লোক থাকে। কোন দলকে বুঝতে হলে তাদের বুদ্বিজিবীদের লেখা পড়বেন, ওদের সাথে ব্যাক্তিগতভাবে কথা বলা, ওদের পত্রিকাগুলো পড়া। মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ি, লালবাগ, কামরাঙ্গিরচরের মাদ্রাসা হতে  মাসিক ও পাক্ষিক পত্রিকা বের হয়, তা দেখতে পারেন এবং কিছু কওমী মাদ্রাসা ও ঘুরে দেখতে পারেন।
    আমাদের এই উপমহাদেশে দেওবন্দিদের অবদান অনেক। দেওবন্দিদের ব্রিটিশ বিরোধী লড়াই, তাবলীগ জামাত এবং দ্বীন শিক্ষার জন্যে কওমী মাদ্রাসা, এই তিনটার অনেক ভালো প্রভাব আছে আমাদের সমাজে। এসব নিয়ে লিখতে গেলে বিশাল পোষ্ট হয়ে যাবে। দেওবন্দীরা সারাজীবন ব্রিটিশ বিরোধী যুদ্বের নেতৃত্ব দিলো,কিন্তু পরে তা হাইজ্যাক হয়ে গেলো কংগ্রেস আর মুসলিম লীগের কিছু দূর্নিতীবাজের কাছে। দেওবন্দীদের কিছু ভুলের কারনে  কংগ্রেস আর মুসলিম লীগের কাছে স্বাধীনতা হাইজ্যাক হয়েছে। এগুলো খুবই পীড়াদায়ক। কিন্তু দেওবন্দিরা সেই ভুল হতে কিছুই শেখেনি। এখন এদের দেখলে মনে হয় এরা উল্টা পথে সেই কয়লার রেলের যুগে চলে যেতে চায়।

    1. ৫২.১
      এস. এম. রায়হান
      ফেসবুকে কোন কওমী কি লিখলো, এটা দিয়ে পুরা কওমীকে বিচার করা যায় না।

      এখানে কিন্তু উল্টোটাই দেখানো হচ্ছে- অর্থাৎ কওমীরাই (অনেকেই) দু-একটি করে উদাহরণ দিয়ে নন্‌-কওমী শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্রদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে প্রপাগ্যাণ্ডা ছড়াচ্ছে। মূল পোস্ট ও মন্তব্যের ঘরে কিছু প্রমাণও দেওয়া হয়েছে।

      আর এই রকম মন্তব্য যে সব কওমীরা একবাক্যে মানে তাও না।

      আগেই বলেছি যে, এগুলোর বিরুদ্ধে কওমীদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ দেখা যায় না। বরঞ্চ প্রতিটা পোস্টে অনেকেই অন্ধভাবে সমর্থন দেয়। এই পোস্টেই তাদের মন্তব্যগুলো দেখলে কিন্তু ব্যাপারটা পরিষ্কার হওয়ার কথা।

      প্রত্যেক দলে এরকম কিছু কিছু উশৃঙ্খল লোক থাকে।

      কওমীরা কিন্তু এটা মানতে নারাজ। তাদের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন।

      আমাদের এই উপমহাদেশে দেওবন্দিদের অবদান অনেক। দেওবন্দিদের ব্রিটিশ বিরোধী লড়াই, তাবলীগ জামাত এবং দ্বীন শিক্ষার জন্যে কওমী মাদ্রাসা, এই তিনটার অনেক ভালো প্রভাব আছে আমাদের সমাজে।

      এই পোস্টে মূলত কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত কেউই সেই প্রশ্নগুলোর জবাব দেয়নি। পাশাপাশি কওমী মাদ্রাসায় পড়েও সবার নৈতিকতা যে এক হয় না, বরং আর দশটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো কওমী মাদ্রাসা থেকেও ভালো-মন্দ প্রডাক্ট বের হচ্ছে, সেটাও তুলে ধরা হচ্ছে। আরো দেখানো হয়েছে যে, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা শুধু ইসলামকে ব্যাখ্যা করার জন্যও স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।

      কাজেই এখানে দেওবন্দিদের ব্রিটিশ বিরোধী লড়াই, তাবলীগ জামাত এবং দ্বীন শিক্ষার জন্যে আমাদের সমাজে কওমী মাদ্রাসার প্রভাব, ইত্যাদি প্রসঙ্গ তো আসার কথা না। তাদের কোনো অবদান বা প্রভাবকে তো অস্বীকার করা হয়নি।

      1. ৫২.১.১
        Shahriar

        দেওবন্দিদের, তাবলীগ জামাত system all are in wrong path. They impose their own view/explanation of Islam without reference of the Qur'an and authentic Hadis.

        1. ৫২.১.১.১
          মাহফুজ

          Yes, but there are many highly qualified persons who are blindly supporting them from their wrong belief.

  53. ৫৩
    এস. এম. রায়হান

    গল্প নয়, সত্য!

    গল্প নয়…

    রশীদ৷ কওমী মাদরাসার ছাত্র৷ মেধাবী কিশোর৷ একটু ব্যাতিক্রম। মাদরাসায় চলাচলের সাধারণ পথ ছেড়ে ভিন্ন পথে যাতায়াত করতো৷ সেপথে এক দরবেশ ছিলেন৷ একদিন দরবেশ রশীদকে ডেকে বললেন,
    – তুমি এই দূর্গম পথে চলাচল কর কেন?
    -আমি ছাত্র, তাই সদা চিন্তা করি, আজ দরসে কি পড়লাম৷ পড়া কতঠুকু আয়ত্তে আনতে পেরেছি৷ অন্য পথের নানা জিনিস আমার ফিকির নষ্ট করে দেয় ৷
    – তোমার কাপড় এত ময়লা কেন?
    – দেখুন, আমি সারাদিন কিতাব নিয়ে ব্যস্ত থাকি, কাপড় ধোয়ার সময় পায় না ৷
    আমি ইলমে কিমিয়া জানি, এই পাতাগুলো নিয়ে যাও৷ এগুলো মাটিতে ঘষলেই মাটি স্বর্ণ হয়ে যাবে৷
    রশীদ তা বাড়িতে নিয়ে গেল৷ কিছুদিন পর কাপড়ের ঐ অবস্থা দেখে দরবেশ বললেন,
    – তোমার শরীরেতো ময়লা কাপড়ই দেখছি, স্বর্ণ বানাওনি?
    – হুজুর, আমি ভুলে গেছি৷
    – ঠিক আছে আগামীকাল বানিয়ে নিও৷
    রশীদ বাড়িতে গিয়ে পাতার কথা আবারও ভুলে গেল৷ এভাবেই এক সপ্তাহ দরবেশ স্মরণ করিয়েও ব্যর্থ হলো৷ পরে তিনি নিজ হাতে রশীদকে স্বর্ণ বানিয়ে দিয়ে বললেন, এগুলো বিক্রি করে নতুন জামা কিনবে৷ কিন্তু এক সপ্তাহ পর আবার ময়লা পোশাকে দেখে বললেন, কি হলো স্বর্ণ বিক্রি করনি?
    – হুজুর মাফ করবেন, লেখাপড়ার ব্যস্ততায় স্বর্ণ বিক্রির সুযোগ হয়নি৷

    https://www.facebook.com/triterajon/posts/859279927515319

  54. ৫৪
    anas

    এ লেখাটা সহ আরও বিভিন্ন ব্লগে নানা আঙ্গিকে কওমি মাদ্রাসার বদনাম বিষয়ক আলোচনা পড়লাম এর মাঝে সমলচনার একটা বড় দিক যা দেখতে পেলাম তা হল কওমি মাদ্রাসার সিলেবাসের ব্যপার‍্যতা কওমি মাদ্রাস্রার সিলেবাস নাকি অত্যন্ত সেকেলে এবং নিম্নমানের দ্বিতীয় আরেকটি লক্ষ্য করার মত চোখে পরল যে কওমি মাদ্রাসা থেকে পাশ করা ছাত্ররা পরনির্ভর হয়ে থাকে ; এখানে প্রথম বিষয় টার ব্যপারে কিছু লিখলাম না এ কারণে যে অধিকাংশ ব্লগের লিখকদের কওমি মাদ্রাসার সিলেবাসের গভীরতা ও উদ্যশ্য সম্পরকে কোন ধারনাই নাই অতএব এ বিষয় কিছু লেখা নিষ্ফল বাকি রইল দ্বিতীয় বিষয় তো এ ব্যপারে শুধু এতটুকুই জধ্জ্ঞেয স করতে চাই যে আপনাকে তো কেউ কওমি মাদ্রাসায় পরতে বাধ্য করে নাই তবে কেন আপনারা শুধু শধু তাদের সমালোচনা করছেন আর যদি বলেন যে তাদের প্রতি মমতা বোধ থেকে এ ব্যপারে লেখা তবে বলতে হয় যে কওমি পড়ুয়ারা দুই শ্রেণীর মধ্য থেকে অব্যশ্যই যে কোন এক শ্রেণীর অন্তভুক্ত ১ হয় তারা নিজের ইচ্ছায় কওমি লাইন বেছে নিয়েছে ২ নতুবা তাদের অভিভাবকের চাপের মুখে বাধ্য হয়ে কউমি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে যদি প্রথম অবস্থা হয় তো সেক্ষেত্রে আপনাদের কিছুই বলার অধিকার নাই আর যদি দ্বিতীয় অবস্থা ধরে নেওয়া হয় তবে সেক্ষেত্রে আপনাদের দৃষ্টি ভঙ্গি অনুযায়ী আপনাদের উচিত ছিল তাদের বদনাম করার পরিবর্তে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করা কিন্তু তা না করে কোন যুক্তিতে আপনারা তাদের সমালোচনা করেন দয়া করে বুঝায় বলতে পারবেন??

Comments have been disabled.