«

»

জানু. ০৬

“মুক্তমনা” ধর্মের উপর “মা প্রকৃতি”র অভিশাপ

যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো কারণে যেকারো মৃত্যুঘণ্টা বাজতে পারে – এই অমোঘ বাণীকে মাথায় রেখে এখানে একটি চরম সত্যকে তুলে ধরা হচ্ছে। 'মুক্তমনা' ধর্মের (বা ব্লগ-সাইটের) মাত্র ১৫-১৬ বছরের ইতিহাসে এই ধর্মের সাথে জড়িত মৃতের সংখ্যা এতটাই বেশি যে, সারা বিশ্বের দ্বিতীয় কোনো ধর্ম বা ব্লগ-সাইটের এতো অল্প সময়ের ইতিহাসে সেই ধর্ম বা ব্লগ-সাইটের সাথে জড়িতদের মধ্যে সেই ধর্মের ধর্মগুরু ও তার স্ত্রী-সহ এতজন মারা যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। নিচে ক্রনোলজিক্যাল অর্ডারে একটি লিস্ট তুলে ধরা হলো।

– 'মুক্তমনা' ধর্মের যাত্রার শুরুর দিকে সেই ধর্মের ঈশ্বরতুল্য ধর্মগুরুর প্রথম স্ত্রী 'অকস্মাৎ' মারা যায়। সেই ঘটনা পুরোপুরি চেপে যেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে (মুসলিম নামধারী বাম নাস্তিক) বছরের পর বছর ধরে এক্সপ্লয়িট করা হয়। এমনকি তার মুরিদরাও উইকিপিডিয়ার পেজে তার প্রথম স্ত্রীকে গায়েব করে দিয়ে শুধু দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম উল্লেখ করেছে (দেখুন: ,)! দিনে দুপুরে এতবড় প্রতারণা 'মা প্রকৃতি' সহ্য করে কী করে!

– মুক্তমনা ব্লগে একজন গুরু হিসেবে প্রমোট করা (বিশেষ করে অভিজিৎ রায়ের লেখায়) হুমায়ুন আজাদ জার্মানীতে যেয়ে হঠাৎ করে মারা যায়।

– 'ঈশ্বরহীন' ওরফে সামীর মানবাদী নামে মুক্তমনা ধর্মের এক মুরিদ তরুণ বয়সে হঠাৎ করে আত্মহত্যা করে। এই খবরটাও কোনো এক লেখার কোণায় দু-লাইনে প্রকাশ করার পর থেকে পুরোপুরি চেপে যাওয়া হয়েছে!

– ড. এ এইচ জাফর উল্লাহ নামে মুক্তমনা ধর্মের বিশিষ্ট এক মুরিদ ৬৪ বছর বয়সে হঠাৎ করে মারা যায়।

ভিক্টর স্টেঙ্গর নামে পদার্থবিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক ৭৯ বছর বয়সে হঠাৎ করে মারা যায় – যাকে অভিজিৎ রায় 'প্রখ্যাত বিজ্ঞানী' ও 'মুক্তমনা দার্শনিক' আখ্যা দিয়ে মুক্তমনা ব্লগে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রমোট করেছে। অভিজিৎ রায়ের সেই 'প্রখ্যাত বিজ্ঞানী' ও 'মুক্তমনা দার্শনিক'-এর একটি 'বিখ্যাত আবিষ্কার' দেখুন (রতনে রতন চেনে…)-

vs

ড. মীজান রহমান নামে মুক্তমনা ধর্মের ক্যানাডা-প্রবাসী এক বিশিষ্ট মুরিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক – যাকে অভিজিৎ রায় এক্সপ্লয়িট করেছে – ৮২ বছর বয়সে হঠাৎ করে মারা যায়।

– মুক্তমনা ব্লগে প্রমোট করা পল কার্জ নামে একজন বিখ্যাত আমেরিকান নাস্তিক/অজ্ঞেয়বাদী প্রায় ৮৭ বছর বয়সে মারা যায়।

– এর মধ্যে ক্রিস্টোফার হিচেন্স নামে একজন বিখ্যাত আমেরিকান নাস্তিক প্রায় ৬০ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যায়। তাকেও মুক্তমনা ব্লগে প্রমোট করা হয়েছে।

তারপর (অভিজিৎ রায়ের ভাষায়) সহী বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত সহী ইসলামিক জঙ্গিদের সহী চাপাতির কোপে একে একে রাজীব হায়দার (থাবা বাবা), অভিজিৎ রায় (মুক্তমনা ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা), ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলয় নীল, ফয়সাল আরেফিন দীপন, ও নাজিমুদ্দিন সামাদ মারা যায়।

দু-এক জন বাদও পড়তে পারে। এদের সকলেই 'মুক্তমনা' ধর্মের সাথে জড়িত ছিল, কাউকে কাউকে অবশ্য মুক্তমনা ব্লগে প্রমোট করা হয়েছিল। তবে উপরে উল্লেখিত লিস্ট থেকে দেখা যাচ্ছে 'মুক্তমনা' ধর্মের মাত্র ১৫-১৬ বছরের ইতিহাসে সেই ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ধর্মগুরু ও তার প্রথম স্ত্রী-সহ সেই ধর্মের সাথে জড়িত কমপক্ষে ১৫ জন মারা গেছে – বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আসলে বিলুপ্তি ঘটেছে, যদিও 'বিবর্তনবাদী'রূপী ভণ্ডরা কখনোই এটা বলে না!

'মুক্তমনা' ধর্মের উপর 'মা প্রকৃতি'র অভিশাপ ছাড়া এই মহামারীর অন্য কোনো ব্যাখ্যা সেই ধর্মের কোনো মুরিদ দিতে পারবে বলে মনে হয় না। মজার বিষয় হচ্ছে 'মুক্তমনা' ধর্মের বিগ্যানমনস্ক মুরিদরা সবাইকে বাদ দিয়ে বিশেষ একজনকে ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে দিয়ে 'পূজা' করছে! যেমন গুরু, তেমন তার মুরিদ।

১০ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ইমরান সরকার টিভির সামনে বলছিলো – বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অভিজিৎ রায় নিহত হয়েছেন। শুনে খুবই মজা পেয়েছিলাম। বিজ্ঞান কি জিনিস আবার নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরী করছে মিডিয়া।

  2. কিংশুক

    অনেক দিন পর আপনার নতুন লেখা দেখে খুব ভালো লাগলো। অভিজিত্ রায় নিহত হওয়ায় বাংলা মুক্তমণাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। আদিল মাহমুদ এর মতো উচ্চ শিক্ষিত, মেধাবী, বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাও প্রাকৃতিক শক্তিতে নিজে নিজে সব হওয়া বিজ্ঞানী অভিজিত্ রায়কে দেবতার মতো নির্ভুল ব্যক্তি হিসেবে দেখতো। নিজে নিজেই অভিজিত্ রায় অক্কা পেয়েছে। বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই অভিজিত্ রায় তার শরীরের কোষ, অনু, পরমাণুর ভিতরের ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন, কোয়ার্কের শক্তির বন্ধন ভেঙে আরেক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়ে গিয়েছে । হে হে হে খুব মজার ব্যাপার হয়েছে।

    1. ২.১
      এস. এম. রায়হান

      বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক/অধ্যাপক থেকে শুরু করে পিএইচডি-ধারীদেরকেই যেখানে অভিজিৎ রায় নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়েছে – যাদের মধ্যে কেউ কেউ তার পিতার বয়সী – সেখানে মাস্টার্স পাশ ও তার বয়সীরা তো তার কাছে নাচের পুতুলের মতো ছিল! সত্যিই তাই। অভিজিৎ রায় বিজ্ঞানের নামে হাগু-মূত্র পরিবেশন করলেও তার খৎনাধারী পূজারীরা সেগুলোকে ‘হালুয়া-শরাব’ মনে করে চোখ-কান বন্ধ করে খাইতো। এভাবে অভিজিৎ রায় বিজ্ঞানের নামে খৎনাধারীদের মধ্যে থেকে একটি অন্ধ-বধির দাস শ্রেণী তৈরি করে গেছে। এজন্য অভিজিৎকে ক্রেডিট দিতেই হয়।

  3. মহিউদ্দিন

    এই ব্লগের পুরানো লেখকদের অনেকেই ক্লান্ত মনে হচ্ছে এমনকি তারা মন্তব্যেও তেমন একটা অংশগ্রহণ করেন না আজকাল!
    অনেক দিন হয় আপনি লিখছেননা দেখে মনে হচ্ছিল আপনিও সে দলে চলে গেলেন কিনা তাই চিন্তিত ছিলাম। যাক আপনার নতুন লেখা দেখে খুব ভালো লাগলো।
    ভাল থাকুন।

  4. এস. এম. রায়হান

    ফ্লোরিডার বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে যে ব্যক্তি পাঁচ জনকে হত্যা ও বেশ কয়েক জনকে আহত করেছে তার নাম এস্তেবান সান্টিয়াগো (Esteban Santiago)। এই ‘নাম’ দেখে সে ‘মুসলিম’ কি-না, এ ব্যাপারে বর্ণমনারা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। এজন্য তারা গোবরের মধ্যে মাথা গুঁজে অপেক্ষা করছে…! কোনোভাবে সে ‘মুসলিম’ প্রমাণ হওয়ার সাথে সাথে বর্ণমনারা দল বেঁধে ইসলামের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আর বর্ণমনাদের গুরুজী অভিজিৎ রায় থাকলে তো সাথে সাথে “বিশ্বাসের ভাইরাস পাওয়া গেছে” শিরোনামে বৈগ্যানিক প্রমাণ-সহ পোস্ট পড়ে যেত।

    1. ৪.১
      শাহবাজ নজরুল

      @এস. এম. রায়হান:

      যেহেতু মুসলিম নয় তাই সে ‘মানসিক রোগী’। অন্যদিকে অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন অরল্যান্দো’তে হামলাকারীর ক্ষেত্রে মানসিক ব্যাপারটা খাটেনা – যেহেতু সে নামে অন্তত মুসলিম। তবে এখনো এস্তেবানের মুসলিম সম্প্রীতির হালকা ইঙ্গিত শেষ হয়ে যায়নি। গলার প্যালেস্টিনিয়ান চাদর’কে ফিলিস্তিন প্রীতির প্রতীক নিয়ে নতুন তত্ত্ব যেকোনো মুহূর্তে খাড়া হয়ে যেতে পারে।

      রায়হান ভাই আপনার লেখা অনেকদিন পরে দেখতে পেয়ে ভালো লাগছে।

      1. ৪.১.১
        এস. এম. রায়হান
  5. নাঈম উদ্দীন

    //ড. মীজান রহমান নামে মুক্তমনা ধর্মের ক্যানাডা-প্রবাসী এক বিশিষ্ট মুরিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক – যাকে অভিজিৎ রায় এক্সপ্লয়িট করেছে – ৮২ বছর বয়সে হঠাৎ করে মারা যায়।// আপনার হঠাৎ মারা যাওয়ার থিওরীটা ঠিক পছন্দ হলোনা।

  6. pavel

    এস. এম. রায়হান ভাই,
    আপনার কাছে বিবর্তনবাদ নিয়ে কিছু জানার ছিল।

  7. তাজুল ইসলাম

    কাঠমোল্লা ওরফে ভবঘুরে সম্পর্কে কোন ভাই কি কিছু জানেন? এই ছাগলের প্রকৃত পরিচয় জানতে চাই।
    এই বিদ্বেষী ইসলামকে বিকৃত করার জন্য যে পরিমান ষ্টাডি & সময় ব্যয় করে, যেমন অবাক হই, তেমন মজাও পাই। ইসলামের বিরুদ্ধে লিখে টাকা কামায় করে বলে আমার মনে হয়।

Comments have been disabled.