«

»

জানু. ১৪

অভিজিৎ রায়ের “ইসলাম উন্মোচন” নামে একটি গোপন পেজ উন্মোচন!

১. "বিশ্বাসের ভাইরাস" নামে অভিজিৎ রায়ের একটি ফেসবুক পেজ ছিল। তার একটি ধর্মগ্রন্থের নামে এই পেজটা খোলা হয়েছিল। পেজটা যেহেতু সে প্রকাশ্যেই চালাতো সেহেতু তার পূজারীদের অনেকেই এই পেজ সম্পর্কে অবগত। তাদের অনেকেই এই পেজের পোস্টগুলোতে লাইক-মন্তব্য-শেয়ার দিত। তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পেজে ডজন ডজন পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। প্রায় সবগুলো পোস্টেই ইসলামকে একটি ভাইরাস, অমানবিক, ও জঙ্গি-সন্ত্রাসী ধর্ম প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর-পরই প্রমাণ গায়েব করার জন্য পেজটা মুছে ফেলা হয়! সেই সময় গুগল মামা থেকে উদ্ধারকৃত এই পেজের একটি শট দেখুন-

avi-virus1

কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারে এই বলে যে, অভিজিৎ রায়ের পেজ অন্য কেউ মুছে ফেললো কী করে। খুব সহজ। অভিজিৎ যেহেতু এই পেজটা প্রকাশ্যে চালাতো সেহেতু তার বিশ্বস্ত কাউকে অ্যাডমিন অ্যাকসেস দিয়ে রাখা হয়েছিল। সে-ই অভিজিতের মৃত্যুর পর পেজটি মুছে ফেলেছে, কিংবা ডি-অ্যাকটিভেট করেও রাখতে পারে। খুব সম্ভবত সেই অ্যাডমিন-ই আগের পেজটা মুছে দিয়ে একই নামে আরেকটি পেজ খুলেছে!

 

২. কেঁচো খুঁড়তে যেয়ে আরেক কালসাপ আবিষ্কার! কিছুদিন আগে মুহাম্মদ (সাঃ) ও কাঁটা বিছানো বুড়ির গল্প নিয়ে একটি পোস্ট লিখতে যেয়ে গুগলে 'কাঁটা বিছানো বুড়ি' লিখে সার্চ দিয়ে প্রাসঙ্গিক পোস্টগুলো পড়ার চেষ্টা করি। পোস্টগুলোর মধ্যে দুটি পোস্ট নজর কাড়ে। একটি হচ্ছে অভিজিৎ রায়ের পোস্ট, আর অন্যটি হচ্ছে "ইসলাম উন্মোচন" নামে একটি পেজে অভিজিৎ রায়ের পোস্ট থেকে অংশবিশেষ হুবহু কপিপেস্ট করা পোস্ট। অভিজিৎ রায়ের লেখা থেকে হুবহু কপিপেস্ট করা হয়েছে অথচ কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি! একটু সন্দেহ হলো। সময় নিয়ে এই পেজের সবগুলো পোস্ট দেখে নিশ্চিত হলাম যে, এই পেজ অভিজিতের ছাড়া অন্য কারো হতে পারে না। পেজটা যেহেতু তার মৃত্যুর মাস কয়েক আগে খোলা হয়েছিল এবং পুরোপুরি গোপন রাখা হয়েছিল সেহেতু এই পেজে তার পরিচিত পূজারীদের কোনো উপস্থিতিও নেই! লাইকও তেমন একটা পড়েনি। মূলত বিশেষ একটি ধর্মের কিছু আইডি থেকে এই পেজের পোস্টগুলোতে লাইক দেওয়া হয়েছে! এই পেজের একদম প্রথম পোস্ট'টা দেখা যাক-

avi-virus2

২৬-শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত একটি পেজ খুলেই ইসলামকে একটি 'মধ্যযুগীয় ভাইরাস' আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ইসলামকে হটানোর জন্য ধর্মযুদ্ধের হাঁক দেওয়ার মতো এই পৃথিবীর বুকে একজন ব্যক্তিই ছিল, আর সে হচ্ছে 'মুক্তমনা' ধর্মের ঈশ্বর অভিজিৎ রায়। এই পেজের বাকি পোস্টগুলোও এক নজর দেখুন। অভিজিৎ রায় সম্পর্কে যারা আগে থেকে অবগত তারা সহজেই চিনতে পারবেন – 'নাস্তিকতা'র মোড়কে ও মুখোশের আড়ালে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ। পেজের আইডিটাও লক্ষণীয়-

https://www.facebook.com/dirtyislam/?fref=nf

যারা অভিজিৎ রায় সম্পর্কে অবগত না তাদের জন্য কিছু পয়েন্ট:

– "ইসলাম উন্মোচন" পেজটা খোলা হয়েছে ২০১৪ সালের মে' মাসে। সেই সমসাময়িক সময়ে তার নিজস্ব ব্লগ-সহ ফেসবুকেও তার বেশ শোচনীয় অবস্থা যাচ্ছিল। এমনকি তার নিজস্ব ব্লগের পোস্টগুলোতেও তেমন একটা মন্তব্য পড়ত না। সেই সময় এই পেজটা খোলা হয়েছে।

– সবগুলো পোস্ট-ই ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রপাগ্যাণ্ডা। এর আগেও অভিজিৎ রায় যতগুলো ছদ্মনামে [, , ] ধরা খেয়েছে সেগুলোতেও একই অবস্থা। অর্থাৎ মুখোশের আড়ালের অভিজিৎ রায় ছিল একজন পুরোপুরি ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী, আর এটাই তার আসল রূপ।

– কিছু কিছু পোস্টে লেঞ্জা লুকানোর জন্য ইচ্ছেমতো বাংলা ভাষাকে 'ধর্ষণ' করা হয়েছে। এর আগের ছদ্মনামের পোস্টগুলোতেও সে একই কু-কাজ করেছে।

– পেজটা খোলার পর থেকে মোটামুটি বিরতিতে পোস্ট দেওয়া হলেও ২৬-শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫ সালের পর থেকে একটিও পোস্ট নেই!!! কারণ, ২৬-শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫ সাল থেকে অভিজিৎ রায় আর এই দুনিয়ার বুকে নেই! পোস্ট দেবে কেডা! লক্ষ্য করে দেখবেন এই পেজটাতে আর কখনোই পোস্ট দেওয়া হবে না!

– ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে এই পেজের ইনবক্সে একটি মেসেজ দেই, "ভাবীজিৎ রায় নাকি! কেমন আছেন?" কোনো উত্তর নেই! তারপর নিচের মেসেজটি দেই-

আমগো সবার প্রিয় ভাবীজিৎ রায় নাকি? ২৬-শে ফেব্রুয়ারীর পর থেকে আর কোনো পোস্ট নেই যে! নিচের পোস্টে আফনার এই পেজের দুটি পোস্টের স্ক্রীনশট দেওয়া হইছে। আফনার মন্তব্য আশা করছি!

http://www.shodalap.org/smraihan/30752/

আজ পর্যন্তও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি!!! অভিজিৎ রায় থাকলে তো উত্তর দেবে! তার মস্তকধোলাই পূজারীরা চাইলে এই পেজের ইনবক্সে মেসেজ দিয়ে, পোস্টে মন্তব্য করে, কিংবা ওয়ালে পোস্ট দিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পারে। অবশ্য যারা জেনেবুঝে একজন 'নাস্তিক-মুক্তমনা'রূপী ভণ্ডকে 'ঈশ্বর' বানিয়ে পূজা করছে তারা হয়তো সত্য জেনে যাওয়ার ভয়ে চেষ্টাই করবে না! কিংবা অ্যাজ ইউজুয়্যাল, চেষ্টা করে সত্য জেনে গেলেও তাদের অভিশ্বরের স্বর্গে যাওয়ার লোভে চোখ-কান বন্ধ করে তার পূজা করা অব্যাহত রাখবে আর মুসলিমদের দিকে গোচনা ছিটাবে! 😛

৩ মন্তব্য

  1. এস. এম. রায়হান

    মুসলিম বিদ্বেষ-

    ইসলাম উন্মোচন

    May 22, 2014 ·

    জিনিসটা এতদিন ধরে দেখেও এভাবে চিন্তা করিনি, ওহ ম্যান!!!!
    সৌদি আরবে MERS নামক এক দুর্ধর্ষ মারাত্মক ভাইরাসের যে আউটব্রেক বা গনবিস্তার দেখা দিয়েছে না?

    গেস হোয়াট, সামনে হজ্জ সিজন!!!!!!!!!!!!!
    এই জিনিস সারা দুনিয়ায় ছড়ায়া পড়বো।…
    অ্যান্ড মুমিনস বিইং দা মুমিনস অ্যান্ড ইসলামিক নেশনস বিইং ইসলামিক নেশনস, ইনফেকশনটাকে ঠেকাতে পদক্ষেপ খুব কম হবে, যদি আদৌ পদক্ষেপই নেওয়া হয়।

    আর, এই রোগের মরনহার জেনে মুমিনরা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রোগটা বাধানোর চেষ্টা করে, যাতে করে পবিত্র ভূমিতে "শাহাদাতবরন" করা যায়, তাহলে………………….

  2. এস. এম. রায়হান

    'মুক্তমনা'দের মহাপরাক্রমশালী অভিশ্বর মহাপরাক্রমশালী আমেরিকায় বসে অন্তর্জালের মধ্যে মাথা গুঁজে নিজেকে সকল প্রকার ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মনে করত! বারংবার হাতেনাতে ধরা খাওয়ার পরও ১২-১৪ বছর ধরে অসংখ্য ছদ্মনামে (মুসলিম ভান করে) ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে চরম মিথ্যা-বিদ্বেষমূলক প্রপাগ্যাণ্ডা চালিয়ে গেছে।

    'মুক্তমনা'দের সেই মহাপরাক্রমশালী অভিশ্বর মুখোশের আড়ালে মাথা গুঁজে ইসলামকে মূলোৎপাটন করার হুঙ্কার দিয়ে অবশেষে সে নিজেই বিবর্তনের ধারায় অনন্ত কালের জন্য বিলুপ্ত হয়ে গেল! অথচ ইসলামের জায়গায় ইসলাম-ই রয়ে গেছে! তার মস্তকধোলাই পূজারীদের এর পরও হুঁশ ফেরে না।

  3. এস. এম. রায়হান

    ভণ্ড নাস্তিক অভিজিতের কোনো অন্ধ পূজারী কি এই পেজে যেয়ে সত্যতা যাচাই করেছে? পূজারীদের কেউ টেস্ট করলেও তাদের ঈশ্বরের ভয়ে মুখ খুলবে না! ইসলামবিদ্বেষী ভণ্ডরা আসলে সত্যকে ভয় পায়।

Comments have been disabled.