«

»

জানু. ২৪

হিজাবকে “হ্যাঁ” বলুন, নিকাবকে নিরুৎসাহিত করুন।

যেকোনো বিষয়কে ডিফেন্ড করতে হলে সেই বিষয়টার পক্ষে একটা যৌক্তিক অবস্থান দাঁড় করিয়ে সেই অবস্থান থেকে সেটিকে ডিফেন্ড করতে হয়। কোনো বিষয়ের পক্ষে যদি যৌক্তিক কোনো অবস্থান না থাকে তাহলে সেটিকে যেমন ডিফেন্ড করা যায় না, তেমনি আবার বিরুদ্ধবাদীরা সেই বিষয়টা নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করে। মুসলিম নারীদের পোশাক এমনই একটি বিষয়, যে বিষয়ে ইসলামের আলোকে মুসলিমদের সুস্পষ্ট কোনো অবস্থান নেই। মুসলিমদের একাংশ হিজাবকে সমর্থন করে, আরেকটা অংশ নিকাবকে "আল্লাহ্‌র ফরয বিধান" হিসেবে চালিয়ে দিয়ে মুসলিম নারীদেরকে নিকাব পরাতে চায়। এ প্রসঙ্গে কিছু কথা:

– ইসলামকে হেয় করার জন্য বড় অস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ইসলামকে 'নারী-বিদ্বেষী' হিসেবে উপস্থাপন করা। আর এটা করতে যেয়ে মূল অস্ত্র হিসেবে যত্রতত্র নিকাবী নারীদের ছবি দেখানো হয়। একটি ছবি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে যতটা সহজে বুঝানো সম্ভব, ডজন ডজন কোরআন-হাদিসের আয়াত দিয়েও সেটা কিন্তু সম্ভব হবে না। কেননা অধিকাংশ লোকজন চোখে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়, পড়ে নয়! ইসলাম-বিরোধীরা এই সুযোগটাই নিয়েছে। তারা যেখানে সেখানে আপাদমস্তক ঢেকে রাখা নিকাবী নারীদের ছবি দেখিয়ে ইসলামকে একটি 'নারী-বিদ্বেষী' ধর্ম প্রমাণ করার চেষ্টা করে। অথচ কোরআন-হাদিসের কোথাও মুসলিম নারীদেরকে মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে চলাফেরা করার কথা বলা হয়নি। তাহলে ইসলাম-বিরোধীদের হাতে ইসলামকে হেয় করার জন্য এই ধরণের উটকো অস্ত্র তুলে দেওয়ার দায়ভার কার?

arba

(অভিজিৎ রায় সুকৌশলে মুসলিম নারীদের পোশাক নিয়ে ব্যঙ্গ করলেও নারীদের পোশাক কেমন হওয়া উচিত, সে ব্যাপারে কিছুই বলেনি। তার মস্তকধোলাই পূজারীরাও তাকে এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করার সাহস পায়নি! কাজেই তার চেপে যাওয়া কাজটা আমাকেই করতে হলো, কী আর করা! তার পোস্টের মধ্যে 'প্রকৃত স্বাধীন নারী'র একটি ছবি যোগ করে পোস্ট'টাকে পরিপূর্ণতা দেওয়া হয়েছে যাতে করে সকলেই ব্যাপারটা বুঝতে পারেন।)

– বাইবেলে সরাসরি নারীদের মাথা ঢেকে রাখার কথা বলা হয়েছে। এমনকি মাথা ঢেকে না রাখার জন্য নারীদেরকে 'নেড়া মাথা' বলে ব্যঙ্গও করা হয়েছে (1 Corinthians 11:5-6, 13)। অন্যদিকে কোরআনে পোশাকের জন্য নারীদেরকে হেয় করা কিংবা মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার কথা বলা তো দূরে থাক, এমনকি সরাসরি মাথা ঢেকে রাখার কথাও বলা হয়নি। সূরা নূরের ৩১ নং আয়াতে ব্যবহৃত একটি শব্দের কনটেক্সট অনুযায়ী ব্যাখ্যার মাধ্যমে মাথা ঢাকার কথা আসে। অথচ নারীদের মুখমণ্ডল ঢেকে রাখাকেও "আল্লাহ্‌র ফরয বিধান" হিসেবে চালিয়ে দিয়ে নারীদেরকে নিকাব পরিধান করতে এক প্রকার চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এটাকে অধঃপতন ছাড়া আর কী-ই বা বলা যেতে পারে! তবে আমি হিজাবকে সমর্থন করি এজন্য যে, একজন নারীর মাথায় যতক্ষণ পর্যন্ত হিজাব থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তার শরীরে শালীন পোশাকও থাকে। বাস্তবে অর্ধনগ্ন হিজাবী নারী দেখা যায় না। কাজেই শালীন পোশাকের পক্ষে হিজাব একটি প্রোটেকশন হিসেবে কাজ করতে পারে।

– পশ্চিমা বিশ্বের নারীরা যেহেতু অর্ধ-উলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করে সেহেতু মুসলিম নারীদেরকে মুখমণ্ডল পর্যন্ত ঢেকে রেখে চলাফেরা করতে হবে – এইটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। দুইটাই বরং এক্সট্রিম কেস। এক এক্সট্রিমের সমালোচনা করতে যেয়ে আরেক এক্সট্রিমের দিকে ঝুঁকে পড়া কোনো সমাধান হতে পারে না। উল্লেখ্য যে, নিকাবকে ডিফেন্ড করার জন্য কেউ কেউ অর্ধ-উলঙ্গ নারীদের উদাহরণ দেয়।

– কেউ "আল্লাহ্‌কে খুশী করার জন্য" মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার দাবি করলেই কি তার দাবিকে ইসলামের নামে মেনে নিতে হবে? তাহলে তো ইসলামের সংজ্ঞাই পাল্টে যাবে – নিজ নিজ ইচ্ছা-অনিচ্ছাই হয়ে যাবে 'ইসলাম'! আল্লাহ্‌ কি কোথাও বলেছেন যে, নারীরা মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে চলাফেরা করলে তিনি খুশী হোন? না।

– যাদের দাবি অনুযায়ী রাস্তা ঘাটে চলাফেরা করার সময় কোনো মেয়ের মুখমণ্ডল দেখার সাথে সাথে তাদের অন্তরের মধ্যে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে সেই মেয়েকে যৌন হয়রানী বা ধর্ষণ করার মনোবাসনা জাগ্রত হয়, তাদেরকে আসল নাম ও ছবি-সহ এই কথা বলতে হবে। অন্যথায় মুসলিম নারীদেরকে ইসলামের নামে নিকাব পরানোর উদ্দেশ্যে ছুপা আইডি থেকে এই ধরণের 'ধর্ষকামী যুক্তি' গ্রহণযোগ্য হবে না। তাদের কাছে হয়তো নিজ পরিবারের বোন-ভগ্নিরাও নিরাপদ নয়!

– মুখমণ্ডল হচ্ছে মানুষের আইডেন্টিটি। একজন মানুষের মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে পুরো শরীরও যদি খোলা রাখা হয় তথাপি তাকে সহজে চেনা যাবে না। অন্যদিকে কারো মুখমণ্ডল খোলা রেখে পুরো শরীর ঢেকে রাখলেও তাকে সহজেই চেনা যাবে। কাজেই মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে চলাফেরা করা মানে আইডেন্টিটি গোপন করা বা হারিয়ে ফেলা।

niqab

(নিকাবের কারণে একজন মানুষ তার আইডেন্টিটি হারিয়ে ফেলে)

– কেউ যখন মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে চলাফেরা করে তখন কিন্তু সে আশেপাশের সবাইকে দেখতে পায়। অথচ আশেপাশের কেউই তাকে দেখতে পায় না! এজন্য মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে চলাফেরা করে একবার কেউ মজা পেয়ে গেলে আর মুখমণ্ডল খোলা রাখতে চায় না। মজা পাওয়ার ব্যাপারটা সকলের জন্য প্রযোজ্য না হলেও কারো কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তাছাড়া আমি আশেপাশের সবাইকে দেখতে পাচ্ছি অথচ আমাকে কেউই দেখতে পাচ্ছে না – এইটা তো এক প্রকার অন্যায়।

– ইসলাম যেহেতু একটি সার্বজনীন দ্বীন সেহেতু ইসলামের কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে পুরো বিশ্বের মানুষকেই বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমান বিশ্বে প্রায় তিন বিলিয়ন নারী আছে। চিন্তা করে দেখুন আগামীকাল থেকে যদি তিন বিলিয়ন মানুষ মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা শুরু করে দেয় তাহলে সামাজিক অবস্থাটা কেমন দাঁড়াবে! বাস্তবে এটা আদৌ সম্ভব কি-না?

– বর্তমান যুগে নারীদেরকে বিভিন্ন কাজে ছবি তুলতে হয় এবং অনেক জায়গায় নিরাপত্তার কারণে সিসি ক্যামেরাও ফেস করতে হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রেও যেতে হয়। এই অবস্থায় মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা বাস্তবসম্মত কি-না? তাছাড়া মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে স্পষ্ট করে কথা বলাও যায় না। পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা তো আছেই। পুরুষদের মধ্যে যারা নিকাবকে সমর্থন করে তারা মাত্র এক সপ্তাহ নিকাব পরিধান করে চলাফেরা করে দেখুন তো কেমন লাগে!

নিকাবের অযৌক্তিকতা দেখাতে আরো কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করা যেত। তথাপি উপরোল্লেখিত পয়েন্টগুলোর আলোকে আমি মনে করি মানব সমাজে নিকাব (Face veil) বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করছে, এবং সেই সাথে ইসলাম-বিরোধীরা নিকাবী নারীদেরকে দেখিয়ে ইসলামকে হেয় করার সহজ সুযোগও পাচ্ছে। কাজেই বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলিম নারীদের জন্য হিজাব-সহ শালীন পোশাকই সর্বোত্তম পোশাক হওয়া উচিত বলে মনে করি। তাছাড়া হিজাব-সহ শালীন পোশাক ইসলামের বিধানকে কোনোভাবে লঙ্ঘনও করে না।

নোট: আল-অ্যারাবিয়া নিউজ অনুযায়ী সুন্নী ইসলামের অগ্রদূত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯ সালে নিকাবকে ব্যান করা হয়েছে। তাছাড়া আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যান্ড শেখ-সহ অধিকাংশ ইসলামিক স্কলারের মতে নিকাব ইসলামের কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়, এবং নিকাব আসলে ইসলাম-পূর্ব যুগের একটি প্রথা মাত্র।

২৪০ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. সত্য সন্ধানী

    সুন্দর লেখা। পড়ে খুব ভাল লাগল। এর আগেও সদালাপে নিকাব নিয়ে বিস্তারিত একটা লেখা পড়েছিলাম-

    http://www.shodalap.org/munim/23017/

    আসলে মধ্য পথটাই মুসলিমদের জন্য সঠিক বলেই মনে করি; আল্লাহ তায়ালা মধ্য পথেই চলতে বলেছেন আমাদের। আমরা নিজেরাই অযথা অনেক ক্ষেত্রেই বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথ দেখান, আমীন।

  2. মুহাম্মদ হাসান

    মানুষ যখন তার নিজের জ্ঞানের সিমাবদ্ধতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেনা ঠিক তখনই তার "জ্ঞানের" অজ্ঞানতা প্রকাশ করতে থাকে । এই পোস্টের লেখকেরও ঠিক একই অবস্থা হয়েছে ।  

    1. ২.১
      এস. এম. রায়হান

      আপনি কোথা থেকে এসেছেন বুঝতে পারছি। তা কোরআন-হাদিসে অহংকারীদের সম্পর্কে কী লিখা আছে একটু বলেন দেখি।

      1. ২.১.১
        মুহাম্মদ হাসান

        আসসালামুয়ালাইকুম, 

        আমি কোথা থেকে এসেছি এর সাথে আমি কি বলছি তার কোন সম্পর্ক আছে বলে মনে হচ্ছে না । আমি অহংকার করে কিছু বলিনি, যা বলেছি সেটা বর্তমানের মুসললমানদের, বিশেস করে যারা ইসলাম সম্পর্কে লেখালেখি করে তাদের বাস্তব নমুনা । কোন বিসয়ে আলোচনা করার মত পর্যাপ্ত জ্ঞান আছে কি নেই আলোচনা করার সময় সেই দিকে মনোযোগটা অনেক সময় হারিয়ে যায় ফলে নিজের অজান্তেই ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হয় । আমি সরাসরি কথা বলি, দুঃখজনক হলেও আপনার এই পোস্টটি এই ভুলেরই প্রতিফলন ।   প্রথমতঃ আপনি শুরু করেছেন 

        যেকোনো বিষয়কে ডিফেন্ড করতে হলে সেই বিষয়টার পক্ষে একটা যৌক্তিক অবস্থান দাঁড় করিয়ে সেই অবস্থান থেকে সেটিকে ডিফেন্ড করতে হয়। 

        As a side note- ইসলামের মূল ভিত্তি হল কুরআন এবং সুন্নাহ, যুক্তি ইসলামের কোন মূলনীতির মধ্যে পড়েনা । "এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য । যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে" । সুতরাং, ইসলামে যুক্তির অবকাশ খুবই সরু এবং নিয়ন্ত্রিত । 

        যাইহোক, এরপর আপনি বলেছেনঃ   

        মুসলিম নারীদের পোশাক এমনই একটা বিষয়, যে বিষয়ে মুসলিমদের সুস্পষ্ট কোনো অবস্থান নেই।

        এর দ্বারা কি বুঝাতে যাচ্ছেন? শুধু নারীদের পোশাক কেন, পুরুষদের পোশাকের ব্যাপারেও ইসলামের সুস্পষ্ট অবস্থান বা বিধান আছে ।     

        মুসলিমদের একাংশ হিজাবকে সমর্থন করে, আরেকটা অংশ নিকাবকে "আল্লাহ্‌র ফরজ বিধান" হিসেবে চালিয়ে দিয়ে মুসলিম নারীদেরকে নিকাব-বন্দী করতে চায়।

        একদল বিশেষজ্ঞদের মতে কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে নিকাব পড়া ফরজ, আরেক দলের মতে এটা ফরজ নয় তবে মুস্তাহাব । ফরজ হোক বা মুস্তাহাব হোক দুটোই ইসলামের বিধানের আওতার অন্তর্ভুক্ত । আপনি এই বিসয়ে আরও ভাল করে জ্ঞান অর্জন করে আলোচনা করলে ভাল হত এবং আমার প্রথম মন্তব্যের উদ্দ্যেশ্য এটাই ছিল ।আপনি যে মন্তব্য করেছেন এতে আপনি ইসলামের চৌদ্দশ বছরের ইতিহাসে সাহাবা থেকে শুরু করে যত আলেম আছেন সবাইকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছেন, শুধু তাইনা আপনি তাদেরকে নারীদেরকে নিকাব-বন্দী করার অভিযোগেও অভিযুক্ত করেছেন । এটা যদি আপনার অজ্ঞতার কারনে হয়ে থাকে তাহলে এ ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করে নিজের ভুল সংশোধন করে নিন । 

        কুরআন সম্পর্কে আপনার চরম অজ্ঞতার প্রকাশ পায় আপনার এই মন্তব্যে মধ্যেঃ

        অন্যদিকে কোরআনে পোশাকের জন্য নারীদেরকে হেয় করা কিংবা মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার কথা বলা তো দূরে থাক, এমনকি সরাসরি মাথা ঢেকে রাখার কথাও বলা হয়নি।

        কুরআনে যদি সরাসরি মাথা ঢেকে রাখার কথা না থাকে তাহলে চৌদ্দ্যশত বছর ধরে পর্দাশীল মুসলিম নারীরা এমনিতেই মাথা ঢেকে রাখছে?  সুবাহানাল্লাহ! এমনকি মহিলা সাহাবিরাও মাথা ঢেকে রেখেছেন না বুঝেই? আমার ধারনা এটার কারন কুরআনের অনুবাদ । কুরআনের আরবি জানা থাকলে এটা হত না বা কোন তাফসিরের বই দেখলেও এটা হত না । সুরা নুরের ৩১ নং আয়াতে خُمُرِ শব্দের অর্থ – ওড়না যা মাথাকে ঢেকে রাখে । নোমান আলী খান খুব সহজ ভাষায় এটা উপস্থাপন করেছেন এখানে দেখুন    ।

        কেউ যখন মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে চলাফেরা করে তখন কিন্তু সে আশেপাশের সবাইকে দেখতে পায়। অথচ আশেপাশের কেউই তাকে দেখতে পায় না! 

        প্রয়োজন ছাড়া নারীদের মুখ দেখার দরকারটা কি? রাস্তা দিয়ে কে যাচ্ছে না যাচ্ছে সেটা নিয়ে আপনার মাথা ব্যাথা হবে কেন ভাই? 

        বর্তমান যুগে নারীদেরকে বিভিন্ন কাজে ছবি তুলতে হয় এবং অনেক জায়গায় নিরাপত্তার কারণে সিসি ক্যামেরাও ফেস করতে হয়। এই অবস্থায় মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা বাস্তবসম্মত কি-না?

        প্রয়োজনের সময় মুখ দেখাতে ইসলামে কোন নিষেধ আছে কি? নিকাব কতটুকু বাস্তব সম্মত এটা আপনার আমার মত জন্মসুত্রে মুসলমানরা না বুঝলেও প্রাশ্চাত্তের অনেক নারীরাই বুঝতে পারে । 

        তাছাড়া মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে পরিষ্কার করে কথা বলাও যায় না। পাশাপাশি অক্সিজেনের অভাব তো আছেই।

        এটা কি কোন নারীর কথা নাকি আপনার মত নাকি কোন গবেষকের মত? পরিচিতদের মধ্যে যারা নিকাব পড়েন তাদের কাছে এমন কথা কখনও শুনিনি । অক্সিজেনের অভাব! এটাত মারাত্মক ব্যাপার- নিকাবিদের মধ্যে সবারত তাহলে শ্বাস কষ্টে বিভিন্ন রোগের উপদ্রব দেখা দিত! সত্যকথা বলতে আমি এরকম যুক্তি কোন নাস্তিকের কাছ থেকেও শুনিনি । আপনি হয়ত শুনেছেন । 

        পুরুষদের মধ্যে যারা নিকাবকে সমর্থন করে তারা মাত্র এক সপ্তাহ নিকাব পরিধান করে চলাফেরা করে দেখুন তো কেমন লাগে

        গরমের সময় আপাদমস্তক(নিকাব না হয় বাদই দিলাম) ঢেখে রাখাও নারীদের অত্যন্ত কষ্ট হয় এবং এটা কোন যুক্তি না এটা বাস্তবতা তারপরেও মুমিন নারীরা পর্দা করেন, এখন কি তাহলে গরমের দিনে বা গরমের দেশে পর্দা না করেলেও চলবে বা একটু কম করলেও চলবে? নাকি যেসব পুরুষ নারিদেরকে হিজাব করতে বলেন সেসব পুরুষদেরকে এক সপ্তাহ গরমের মধ্যে পর্দা করে দেখতে হবে কেমন লাগে?  

        নিকাবের অযৌক্তিকতা দেখাতে আরো কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করা যেত।

        আপনি কুরআন বা সুন্নাহ থেকে কোন কিছুই উল্লেখ করেন নি । অথচ কুরআন হাদিসে নিকাবের পক্ষে অনেক প্রমান  পাওয়া যায় । যাইহোক, আপনার যুক্তির কোন দালিলিক ভিত্তি নেই, সবটাই আপনার মনগড়া । আমার কথাগুলো সরাসরি বললাম , ভাল করে পড়ে দেখুন কি বলছি, এখানে অহংকার বা অন্য কোন উদ্দ্যেশ্য নেই । আপনি অনেক লেখালেখি করেন, আপনার লেখা অনেকেই পড়েন, it's up to you how you take it; I have said my part. ওয়াসসালাম । 

        1. ২.১.১.১
          এস. এম. রায়হান
          As a side note- ইসলামের মূল ভিত্তি হল কুরআন এবং সুন্নাহ, যুক্তি ইসলামের কোন মূলনীতির মধ্যে পড়েনা।

          যুক্তি ও বিজ্ঞানের কথা শুনলে আপনার মতো কারো কারো গায়ে যে জ্বালা ধরে, এ সম্পর্কে আমি ইতোমধ্যে অবগত। এই লেখায় 'যৌক্তিক অবস্থান' বলতে কোরআন ও সুন্নাহ্‌র আলোকেই যৌক্তিক অবস্থান বুঝানো হয়েছে। এজন্য লেখার একদম শেষে বলেছি-

          হিজাব-সহ শালীন পোশাক ইসলামের বিধানকে কোনোভাবে লঙ্ঘন করে না।

          আপনি কোরআন-সুন্নাহ্‌ থেকে সরাসরি রেফারেন্স দিয়ে আমার এই দাবিকে আগে ভুল প্রমাণ করেন, তারপর বাকি কথা হবে। তার আগ পর্যন্ত আপনার কোনো মন্তব্যের জবাব দেওয়া হবে না।

          1. মুহাম্মদ হাসান

            যুক্তি এবং বিজ্ঞানের কথা শুনলে আমার গায়ে জালা করে? ভালই বুঝেছেন, অসাধারণ আপনার মেধা । আমার কথা সোজা যদি আপনি বুঝতে না পারেন বা বুঝেও না বুঝার ভান করেন তাহলে মায়াসসালাম । 

            হিজাব বা শালিন পোশাক ইসলামের বিধানকে লংঘন করে এমন কথা কি আমি বলেছি বা এর সাথে কি দিমত পোষন করেছি? যে কথার সাথে দিমত করিনি সেটা কুরান হাদিস দিয়ে প্রমান করার কি আছে ।   যেসব কথার সাথে দিমত করেছি শুধু সেগুলোই উল্লেখ করেছি এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে রেফারেন্স দিয়েছি । বুঝার হলে বুঝে নিন । 

    2. ২.২
      এম ইউ আমান

      ঠিক কোন কোন জায়গায় লেখকের অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে, অথবা এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য বা জ্ঞান আসলে কি, মুহাম্মদ হাসান সাহেবের মন্তব্য পড়ে বুঝতে না পেরে কিছুটা র‍্যাটল্ড লাগছিল। রায়হান সাহেবের দেয়া উত্তরটি পড়ে ভাল লাগলো- বিউটিফুল রিপ্লাই।

    3. ২.৩
      সত্য সন্ধানী

      হাসান সাহেব, আমি সদালাপের সাধারন একজন পাঠক, এবং অযাচিত ভাবে আপনাদের দুজনের বিতর্কে নাক গলাবার জন্যে মাফ চেয়ে নিচ্ছি আগেই। এত বিতর্কের চেয়ে কুরান এবং সুন্নাহ থেকে সরাসরি রেফারেন্স দিয়ে লেখকের যুক্তি খন্ডন করাই কি সবচেয়ে ভাল হয় না? এতে আমরাও ব্যাপারটা সম্পর্কে জানতে পারতাম আরো ভাল ভাবে?

      মুসলিমদের মধ্যে মতবিরোধ কমাতে না পারলে আমার মনে হয় অন্যেরা এ থেকে সুযোগ নিতে পারে যেটা মুসলিমদের জন্য ভাল হবে না। এমনিতেই অনলাইন ফোরামগুলো ইসলামকে নিয়ে বডড বেশি কাটাছেড়া করছে উদ্দেশ্যমুলক ভাবে। আমার মনে হয় তারা যেন সুযোগ নিতে না পারে আমাদের নিজেদের ভিতরের কোন মতবিরোধ থেকে। ভাল থাকবেন।

      1. ২.৩.১
        মুহাম্মদ হাসান

        এত বিতর্কের চেয়ে কুরান এবং সুন্নাহ থেকে সরাসরি রেফারেন্স দিয়ে লেখকের যুক্তি খন্ডন করাই কি সবচেয়ে ভাল হয় না? 

        কোন বিতর্ক করার ইচ্ছা বা সময় কোনটাই নেই ভাই । আমার কমেন্টে যেখানে রেফারেন্সের দেওয়ার সেখানে দেওয়া হয়েছে । 

         

        কেউ যখন মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে চলাফেরা করে…………আমি সবাইকে দেখতে পাচ্ছি অথচ আমাকে কেউই দেখতে পাচ্ছে না – এইটা তো এক প্রকার অন্যায়।  তাছাড়া মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে পরিষ্কার করে কথা বলাও যায় না। পাশাপাশি অক্সিজেনের অভাব তো আছেই। 

         এগুলিওকি কুরআন হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে খণ্ডন করতে হবে? আমি কোন নাস্তিকের সাথে ডিবেট করছিনা আমি একজন মুসলমান ভাইয়ের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি, এখানে হার জিতের কোন প্রশ্ন নেই । আমার কমেন্টে যদি মনে হয় আমি ডিবেট করতে এসেছি তাহলে ক্ষমা চাচ্ছি । যাইহোক, সাহাবাদের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত যত আলেম আছেন সবাই কুরআন এবং হাদিসের ভিত্তিতে নিকাবকে হয় ফরজ বলেছেন অথবা মুস্তাহাব বলেছেল (এখানে দেখতে পারেন) । এখন কেউ যদি এই দুই মতের কোনটাই না মানে পরন্তু হেয় প্রতিপন্ন করে এবং এটাকে অধঃপতন মনে করে তাহলে আমার মনে হয় উনার এই বিসয়ে জ্ঞান নেই  । আর জ্ঞান থাকার পরেও যদি এরকম মনে করেন তাহলে উনি "অন্য কোন বিশেষ জ্ঞানে আলোকিত হয়ে মহাজ্ঞানীতে" রূপান্তরিত হতে যাচ্ছেন যেটা উনার জন্য যেমনটা ভয়ংকর, যারা উনার লেখা পড়ে উদবুদ্ধ হচ্ছেন তাদের জন্য ভয়ংকর ।    

        1. ২.৩.১.১
          সরোয়ার

          আপনার সহমত। ইসলাম সম্পর্কে বলা যায় আমরা অজ্ঞ। এখানে হার-জিতের কিছু নেই।

          রায়হান ভাই,

          জানার উদ্দেশ্যে আপনার শিরোনাম অন্যরকম হতে পারত। এই শিরোনাম সাধারন মানুষকে ভুল ধারনা দিতে পারে। আমি এত কনফিন্ডেল্টি সিদ্ধান্ত না দিলে ভাল হতো। আলোচনা আর বিতর্ক ভিন্ন জিনিস। আপনি আবার আমাকে ভুল বুঝবেন না। ধন্যবাদ।

  3. সরকার সানজিদ আদভান

    খুব ভালো একটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন। জাযাকাল্লাহ খায়ির

  4. এম ইউ আমান

    গুরুত্ত্বপুর্ণ একটি বিষয় নিয়ে সময়োপযোগী লেখা। যতটুকু বুঝেছি, পর্দা প্রথার প্রচলনের প্রধান একটি আর্গুমেন্ট ছিল যাতে নারী-পুরুষ উত্তম পরিবেশে (ডিস্ট্রাক্টেড না হয়ে) রেস্পেকটেড ওয়েতে কমুনিকেট বা ইণ্টারাক্ট করতে পারে। ঘরে তো পর্দার প্রয়োজন হয় না। আর এমন কোন মুসলিম নর-নারীর কথা জানি না, যে ওয়াশ রুমের মধ্যে পর্দা করে বা করার সামর্থ্য রাখে। অর্থাৎ পর্দার মূলতঃ প্রয়োজন বাইরের কাজে। যেখানে নারীদের ন্যায় পুরুষেদের জন্যেও পর্দা করার বিধান রয়েছে। এখন এরকম সম্পূর্ণ চোখ মুখ ঢেকে কেউ যদি আসে, তিনি পুরুষ না মহিলা সেটাই বা বুঝবো কি করে? আর নিরাপত্তার জন্য, যেহেতু এই পোশাকের আড়ালে যে কেউ লুকিয়ে থাকতে পারে, পশ্চিমে নিকাবকে নিরুৎসাহিত করা যৌক্তিক হবে বলেই মনে হয়।

    মডেষ্টির (মনে ও ড্রেসে) মানে শেষ পর্যন্ত নিকাবে এসে ঠেকেছে। তাতে আবার অনেকে মনে করছেন, হিজাব ইসলামিক কিন্তু নিকাব আর একটু বেশী ইসলামিক। কে কত ভালো মুসলিম সেটি খুব সম্ভবত পোশাক, দাড়ি, অথবা কথার দৈর্ঘ্য দ্বারা নির্ধারিত হয় না।

    1. ৪.১
      md. akhter

      যিনি পর্দার মত হুকুমকে সেক্যুলারদের মত 'প্রথা' বলতে পারেন, তার কাছ থেকে এর বেশি কি বা আশা করা যায়।

      1. ৪.১.১
        এস. এম. রায়হান

        'প্রথা' শব্দটা দেখেই মাথা গরম হওয়ার কিছু নাই। 'প্রথা' মানেই খারাপ কিছু বুঝায় না।

        1. ৪.১.১.১
          মাহফুজ

          'প্রথা' মানে-
          custom = প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি , বহুদিনের অভ্যাস
          fashion = ঢং , ধরন , রীতি , রেওয়াজ , প্রচল , ফ্যাশন

          "পর্দা" নিছক কোন প্রথা অর্থাৎ প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি/ বহুদিনের অভ্যাস/ ঢং/ রীতি/ রেওয়াজ/ ফ্যাশন নয়, বরং এটি আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। সুতরাং এই আইন উপেক্ষা বা অতিরঞ্জন না করে সঠিকভাবে মেনে চলা ও বাস্তবায়ন করা মুসলিমদের জন্য ফরজ।

      2. ৪.১.২
        সত্য সন্ধানী

        যিনি পর্দার মত হুকুমকে সেক্যুলারদের মত 'প্রথা' বলতে পারেন, তার কাছ থেকে এর বেশি কি বা আশা করা যায়।

        মন্তব্যটা কি লেখাটা না বুঝেই করেছেন? সেটাই ধরে নেব কারন বুঝে করলে তো সেটার অন্য অর্থ করা যায়!!

        কারন এই লেখায় কোথাও পর্দাকে প্রথা বলা হয়নি, আবার পড়ুন এই লেখায় কোথাও পর্দাকে প্রথা বলা হয়নি, বরং কিছু প্রথাকেই পর্দা বানিয়ে মুসলিন সমাজে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে সেই বাড়াবাড়িটা করতেই, অন্তত ইসলামের নাম ভাঁড়িয়ে সেই বাড়াবাড়ি করতে মানা করা হয়েছে। 

        যেখানে নিকাবকে কেউ কুরান শরীফ এবং সুন্নাহ থেকে প্রমান দিয়ে পর্দার অন্তর্ভুক্ত প্রমান করতেই পারেননি সেখানে পর্দাকে প্রথা বলছে কে ভাই? আপনারাই কি সেটা বলছেন না?

        কোরানে নিকাব না সরাসরি হিজাবের উল্লেখ আছে এবং সেটাই পর্দা। আপনারা নিকাবকে পর্দার অন্তর্ভুক্ত বলে চালিয়েছেন যুগ যুগ ধরে! কোনটা মানব ভাইজান? আপনার কথা নাকি আল্লাহর কথা?

        কারা আল্লাহর আইনকে প্রথা বলে চালাচ্ছেন ভাইজান? আপনারা নাকি লেখক সহ আপনাদের বিপক্ষে যারা কুরান শরিফের রেফারেন্স দিচ্ছে তারা?

        দয়া করে সাফ জবাব দিলে খুশি হব আমার প্রশ্নের, আবার করি, আর সেটা হল আমি মুসলিম এবং সঠিক ভাবে ইসলাম মানতে চাই, সেখানে আমি কি কুরানের সুস্পষ্ট আয়াত মানব, নাকি আপনার কথা মতো চলব যেহেতু আপনাদের মত যুগ যুগ ধরে চলে আসছে???

        আল্লাহ আমাদের সঠিক ভাবে ইসলামী বিধান জানার সুযোগ করে দিন আমীন। এই দোয়া করা ছাড়া নাচীজ আর কিবা করতে পারে ভাইজান বলেন।

        1. ৪.১.২.১
          md. akhter

          যতটুকু বুঝেছি, পর্দা প্রথার প্রচলনের প্রধান একটি আর্গুমেন্ট ছিল… এখানে আর অন্য কি বুঝার আছে? আপনি কি বুঝিয়েছেন – সেটা মূল না। বরং আপনার লেখায় মানুষ কি বুঝবে, সেটা বিষয়।

          1. সত্য সন্ধানী

            আপনি কি বুঝিয়েছেন – সেটা মূল না। বরং আপনার লেখায় মানুষ কি বুঝবে, সেটা বিষয়।

            এটা কোন কথা হল ভাইজান? কোরান হাদিস পড়েও মানুষ বুঝে না অনেক ক্ষেত্রেই, সেটা মানুষের বুঝার ভুল নাকি আল্লাহ এবং রসুল স: এর ভুল (নাউজুবিল্লাহ)। অবশ্যই মানুষের বোঝার ভুল থাকলে সেটা নিয়ে আলাপ করা যেতে পারে।

            তেমন ভাবেই লেখক রায়হান ভাই কিন্তু খুব সহজ ভাবেই নিকাবের প্রমান চেয়েছেন, পর্দার কোন প্রমান চাননি! এমনকি শিরোনামটাও কিন্তু সেটাই, "হিজাবকে হ্যা বলুন, নিকাবকে নিরুতসাহিত করুন।"

            এখানে যদি আপনার মনে হয় যে লেখক পর্দাকে প্রথা বলেছেন সেটা আপনার বুঝার ভুল। বুঝার ভুল হওয়াটা অন্যায় নয়, আবার পড়ুন লেখাটা সব ক্লিয়ার হয়ে যাবে!

            ভাই কিছু মনে করবেন না, আসলে আমাদের মুসলিম সমাজের একটা বড় অংশের মধ্যে নিকাবকে পর্দার অন্তর্ভুক্ত বলে দাবী করা হয় যা আদৌ কুরান হাদিস দ্বারা সুস্পষ্ট ভাবে প্রমানিত নয়, কিন্তু যেহেতু এই ভুল প্রথাটা (নিকাব শুধু!) চলে আসছে যুগ যুগ ধরে কাজেই নিকাব নিরুতসাহিত কথাটা পড়েই আপনি উপসংহারে চলে গেছেন বলেই আমার ধারনা। প্লিজ লেখাটা এবং মন্তব্যগুলো আবার পড়েন মন দিয়ে।

            পরিষ্কার ভাবে আলোচনার বিষয় হল নিকাব আদৌ পর্দার অন্তর্ভুক্ত কিনা সেই নিয়ে। কাজেই এখানে পর্দার বিরুদ্ধে কিছুই বলা হয়নি। হলে নিশ্চই এখানে সব মুসলিম বিরোধিতা করতেন যেখানে ইসলামে পর্দা ফরজ!

            ধন্যবাদ।

          2. md. akhter

            আরে ভাই, রায়হান ভাইয়ের পোষ্টের ব্যাপারে ঐ কমেন্ট করা হয়নি। কমেন্ট করা হয়েছে এম ইউ আমান সাহেবের কমেন্টের প্রেক্ষিতে।

          3. সত্য সন্ধানী

             

            আরে ভাই, রায়হান ভাইয়ের পোষ্টের ব্যাপারে ঐ কমেন্ট করা হয়নি। কমেন্ট করা হয়েছে এম ইউ আমান সাহেবের কমেন্টের প্রেক্ষিতে। 

            আসলে আমি ভেবেছিলাম যে নিকাব প্রথা নাকি পর্দার অন্তর্ভুক্ত সেটা নিয়ে বলতে চেয়েছিলেন। দুঃখিত ভুল বোঝার জন্য। 

  5. মাহফুজ

    ভাাল প্রচেষ্টা, মহান আল্লাহতায়ালা যেন আপনার এ উদ্যোগকে কবুল করেন।

    আপনার পোষ্টের সাথে আমার একটি লিংকও জুড়ে দিলাম। আশাকরি কিছু মনে করবেন না- আপাদমস্তক ঢাকা মানেই কি পর্দা?

  6. এনায়েত

    নিকাব পড়ে নামাজ পড়াও অপছন্দনীয়। অনেকের মতে নিকাব পড়ে নামাজ পড়া যাবে না যদি না পাবলিক প্লেসে নামাজ পড়ে।

    http://islamqa.org/shafii/shafiifiqh/30086

    1. ৬.১
      md. akhter

      নিকাব পড়ে নামাজ পড়াও অপছন্দনীয়। অনেকের মতে নিকাব পড়ে নামাজ পড়া যাবে না যদি না পাবলিক প্লেসে নামাজ পড়ে।

      পাবলিক প্লেসে কেন নিকাব পড়তে হবে? কারণ পাবলিক প্লেসে সাধারণত গায়রে মাহরমরা থাকে। এই হুকুমের ভিত্তি পাবলিক প্লেস  না, বরং গায়রে মাহরম। সুতরাং যে ভিত্তির কারণে হুকুম অর্থাৎ গায়রে মাহরমের জন্য নিকাব পড়তে হবে। এখন গায়রে মাহরম পাবলিক প্লেসে থাকুক কিংবা বাড়ির ভিতরে থাকুক, তাকে নিকাব পড়তে হবে।

  7. এস. এম. রায়হান

    ফেসবুকে নিকাবপন্থী পুরুষদের বেশ কিছু মন্তব্য দেখেছি। তাদের বক্তব্য হচ্ছে- মুখমণ্ডল খোলা রেখে সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রেখে কী লাভ? অত্যন্ত ভয়ঙ্কর কথা। তারা নারীদের মুখমণ্ডলকে 'যৌনাঙ্গ'-র সাথে তুলনা করে! নারীদের মুখমণ্ডল দেখলেই নাকি তাদের মধ্যে যৌন উন্মাদনা শুরু হয়ে যায়!

    এমনকি কোথাও ইভ-টিজিং বা ধর্ষণের ঘটনা ঘটার সাথে সাথে তারা নারীদের পোশাককে দায়ি করে একের পর এক পোস্ট দেওয়া শুরু করে। অর্থাৎ ইভ-টিজিং ও ধর্ষণের জন্য নারীদের পোশাক দায়ি! এর দ্বারা ইভ-টিজার ও ধর্ষকদেরকে উৎসাহ বা সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে কি-না, ভেবে দেখুন।

    আরো মজার বিষয় হচ্ছে ইভ-টিজিং বা ধর্ষণের ঘটনায় নাস্তিক ও অমুসলিমরা নারীদের পক্ষ নেয়, অন্যদিকে এক শ্রেণীর ইসলামপন্থী ব্লগার ইভ-টিজার ও ধর্ষকদের পক্ষ নেয়!!! অথচ তাত্ত্বিকভাবে বেপারটা বরং উল্টো হওয়ারই কথা ছিল। মুসলিমদের অধঃপতন লক্ষণীয়।

    1. ৭.১
      md. akhter

      কার পক্ষ নেয় আর কার বিপক্ষ নেয়- সেটা মূল না।

      আপনি বলেছেন

      তারা নারীদের মুখমণ্ডলকে 'যৌনাঙ্গ'-র সাথে তুলনা করে! নারীদের মুখমণ্ডল দেখলেই নাকি তাদের মধ্যে যৌন উন্মাদনা শুরু হয়ে যায়!

       প্রথম শুনলাম যে পুরুষ শুধুমাত্র যৌনাঙ্গ দেখে উত্তেজিত হয়। ভাই, আপনার হরমোন টেস্ট করেন। হালাল অথবা হারামভাবে একজন পুরষ আর একজন মহিলার মধ্যে যে শারীরিক সম্পর্ক হয়, তার প্রথম স্টেজ হচ্ছে মেয়েদের ঠোট। এটাই প্রমাণ করে যে ঠোট যেহেতু মুখের অংশ, সেহেতু মুখ ঢেকে রাখাই শরীয়তের হুকুম। এখান কোন বাড়াবাড়ি নাই। এত সহজ জিনিস না বুঝার কোন কারণ দেখি না। অবশ্য দ্বীন শুধুমাত্র বুঝার জিনিস না যেরকম ম্যাথ, স্ট্যাট, ফিজিক্স বুঝে থাকি। দ্বীন তো বক্ষকে প্রশস্ত করার নাম। ওল্লাহু আ'লাম

  8. এস. এম. রায়হান

    কোরআনের একটি আয়াতই নিকাবপন্থীদের তৈরি করা 'আল্লাহ্‌র ফরজ বিধান'-কে ভুল প্রমাণ করে। যেমন, কোরআনে পুরুষদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ্‌ বলেছেন-

    "মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।" (আন-নূর ২৪:৩০)

    আল্লাহ্‌ যদি নারীদেরকে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার কথাই বলবেন (কোরআনে আসলে এমন কথা বলা হয়নি) তাহলে তিনিই আবার পুরুষদেরকে দৃষ্টি নত রাখতে বলবেন কেন?

    1. ৮.১
      md. akhter

      "মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।" (আন-নূর ২৪:৩০)

      ১। আল্লাহতাআলা অত্র আয়াতে শুধুমাত্র পুরুষদেরকে দৃষ্টি নত রাখতে বলেননি, বরং নারীদেরকেও বলেছেন। খেয়াল করুন, মু'মিন বলা হয়েছে। আর মু'মিন তো নারী পুরুষ সবাই। নারীদেরকে মুমিনদের কাতার থেকে কেন বাদ দিলেন বুঝলাম না। নারীদেরকে আলাদাভাবে বলা হয়েছে পরের আয়াতে। এখানে কিন্তু কোন মোল্লা বা হুজুরদের রেফারেন্স দেওয়া হয়নি।

      ২। দৃষ্টি নত রাখার হুকুম পুরুষ, নারী সবার জন্যই প্রযোজ্য। নারীও যেমন পরপুরুষদের সামনে দৃষ্টি নত রাখবে, পুরুষরাও পরনারীদের সামনে নিজের দৃষ্টি নত রাখবে। আমি সবাইকে দেখতে পাচ্ছি অথচ আমাকে কেউই দেখতে পাচ্ছে না – এইটা তো এক প্রকার অন্যায়।  – এই অজুহাতে নিকাব বাদ। হাস্যকর। অথচ নিকাব যিনি পড়ছেন, তার উপর কিন্তু আল্লাহর হুকুম অলরেডি আছে যে সে দৃষ্টি নত রাখবে। সুতরাং কেউ যদি নিকাব পড়েও চুপিচুপ তাকায় – সেক্ষেত্রে সে ঐ হুকুম লঙ্ঘনের অপরাধে অপরাধী হবে। এইজন্য নিকাব পড়ার হুকুম বাদ হচ্ছে না।

      ৩। একটা উদহারণ দিই। কেউ নামায পড়ছে। নামাযের মধ্যে এদিক সেদিক তাকানো নিষেধ। এখন কেউ যদি এদিক সেদিক তাকায়, তাহলে তাকানোর কারণে সে অপরাধী হবে। এই জন্য নামায পড়ার হুকুম রহিত হবে না। ঐ হুকুম নিজ জায়গায় আছেই।

      আল্লাহ যদি নারীদেরকে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার কথাই বলবেন (কোরআনে আসলে এমন কথা বলা হয়নি) তাহলে তিনিই আবার পুরুষদেরকে দৃষ্টি নত রাখতে বলবেন কেন?

       ৪। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আর্গুমেন্টটা যারা শাড়ি পড়ে আর সামান্য পেট খোলা রাখে, তাদের পক্ষেও যাবে। তারাও বলতে পারে, আমি মাথায় হিজাব পড়েছি , কিন্তু পেট খোলা রেখেছি, যেহেতু পেট খোলা রাখার ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা কুরানে নাই। তারাও বলতে পারে 'আল্লাহ যদি নারীদেরকে পেট ঢেকে রাখার কথাই বলবেন (কোরআনে আসলে এমন কথা বলা হয়নি) তাহলে তিনিই আবার পুরুষদেরকে দৃষ্টি নত রাখতে বলবেন কেন?"

       

      1. ৮.১.১
        সত্য সন্ধানী

         কিন্তু পেট খোলা রেখেছি, যেহেতু পেট খোলা রাখার ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা কুরানে নাই।

        অনর্থক অপ্রাসংগিক মন্তব্য করা উচিত না।আমার প্রথম মন্তব্যে আমি মুনিম সিদ্দিকি সাহেবের একটা লেখার লিংক দিয়েছি,পরে নিচে উনিও দিয়েছেন।

        যতদুর মনে পড়ে সেখানে লেখায় বা মন্তব্যে লেখক বা অন্য রা কুরান শরীফের সুস্পষ্ট সুরার রেফারেন্স দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে ইসলামে কি খোলা রাখা যাবে আর যাবে না,কোথায় থেকে কোন পর্যন্ত আবৃত করা ফরজ মানে পর্দার অন্তর্ভুক্ত সেটা পরিষ্কার করে বলা আছে।

        লেখাটি দেখে নিন দয়া করে। এখানে হিজাব আর নিকাবের বাইরে না আলাপ করাই ভাল,এই বিষয়ে লেখক প্রথমেই বলে দিয়েছেন।

        এখানে চুল চেরা ভাবে সব কিছু নিয়ে আলাপ করার সুযোগ নেই,করার চেষ্টা করলে এটা অপ্রাসংগিক হবে। আর একটা আলোচনা বিষয় বস্তু হারালে সেটায় কাদা ছোড়াছড়ির আশংকা আছে যেটা মোটেই ভাল দেখাবে না।

        অন্য স্থানে বা নিজে একটা পোষ্ট দিয়ে সেই আলোচনা করছেন না কেন? এতেও এই লেখার কথা আসার সম্ভাবনা নেই কারন এই এই লেখায় শুধু মাত্র নিকাব পর্দার অন্তর্ভুক্ত না সেটাই বলা হয়েছে।

        এখানে শব্দজাল বিছিয়ে শুধুমাত্র আলোচনা কে অন্যখাতে প্রবাহিত করার প্রয়াস করা উচিত না।

        1. ৮.১.১.১
          md. akhter

          কিছু মনে করবেন না। যার কমেন্টের উত্তর দেওয়া আছে, তিনিই কমেন্ট করলে ভাল হয়। যেটা বলা হয়েছে, সেটা প্রাসঙ্গিক কিনা – সেই ব্যাপারে হাস্যকর কথা না বলে যাকে বলা হচ্ছে, তাকেই বলতে দিন। তিন একটা হাস্যকর আর্গুমেন্ট দিয়েছেন আর সেটা যে কোন ওয়েট রাখে না, সেটাকে বুঝানোর জন্যই ঐ একই ধরনের আর্গুমেন্ট দেওয়া হয়েছে। আশা করি বুঝবেন।

  9. এস. এম. রায়হান

    নিকাবপন্থীদের প্রতি কিছু প্রশ্ন:

    – ধরা যাক, বিয়ের জন্য লোকজন নিয়ে মেয়ে দেখতে গেছেন। মেয়েটা নিকাব-পরিহিত অবস্থায় আপনাদের সামনে হাজির হয়েছে। এই অবস্থায় তাকে কি নিকাব খুলতে বলবেন? কেন? মেয়েটা যদি নিকাব খুলতে রাজি না হয় সেক্ষেত্রে তাকে বিয়ে করবেন কি-না? না করলে কেন নয়?

    – ধরা যাক, নিকাব-পরিহিত কেউ আপনার বাসার দরজায় নক করলো। এই অবস্থায় তার মুখমণ্ডল না দেখে দরজা খুলে তাকে ভেতরে ঢুকতে দেবেন কি-না?

    – ধরা যাক, আপনার একটি প্রতিষ্ঠান আছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে মূল ফটকের সামনে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছেন। এই অবস্থায় নিকাব-পরিহিত কেউ আপনার প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে চাইলে অনুমতি দেবেন কি-না?

  10. ১০
    Syeda Lutfunnesa

    আমি একজন কর্মজীবি নারি। আমি হিজাব পরিধান করি। এখানে কাজের প্রয়োজনেই নিকাব পরিধান সম্ভব নয়। তার মানে কি আমি যদি ইসলামিক পন্থায় জীবন যাপন করতে চাই তাহলে আমাকে চাকুরী ছেড়ে বাসায় বসে থাকতে হবে? কথায় কথায় ইসলাম থেকে বাইরে বের করে দেয়ার রীতিটা বোধহয় পরিবর্তন করার সময় এসেছে। কিছু অশিক্ষীত, মূর্খ লোকেরাই ইসলাম পালন করে, আধুনিক মুক্তচিন্তার মানুষেরা নয়- এ ধরণের ধারণা পরিবর্তনের জন্য আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। ইসলাম অত্যন্ত আধুনিক এবং বাস্তবমুখী ধর্ম। বাস্তবতার বাইরে গিয়ে ইসলাম কখনোই কোন বিধান আরোপ করেনি।

    ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে হলে দুনিয়াদারি সব ত্যাগ করে ঘরের মধ্যে বসে থাকতে হবে- এটা ভ্রান্ত ধারণা। নারিদেরকে ইসলাম কখনোই পিছিয়ে থাকার কথা বলেনি, পুরুষদের চাইতে কম যোগ্যতাসম্পন্নও বলেনি। বলেছে কতিপয় ধার্মিক ব্যক্তিরা যারা ইসলামকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করে এবং তাদের পছন্দের বাইরে বা সার্থের বাইরে গেলেই চড়মভাবে ক্ষেপে উঠে। ইসলামের নামে এরা আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে নানারকম তরিকা তৈরি করে। ওনারা ছাড়াও যে একজন সাভাবিক মানুষেরও অধিকার আছে ইসলাম সম্পর্কে জানার, কথা বলার, আলোচনা করার সেটা ওনারা মানতে চাননা। ভাবটা এমন এটাতো আমাদের ডিপার্টমেন্ট তোমরা কারা কথা বলার? অথচ ইসলামের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত। সকল মানুষ ইসলামের পতাকাতলে আসুক এটাই তো একজন মুসলিমের কাম্য।

    1. ১০.১
      md. akhter

      ১। হিজাব পরিধান করেন, আলহামদুলিল্লাহ। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে নিকাবও পড়া শুরু করবেন।

      ২। আপনার যদি কিছু বলার থাকে তাহলে কুরান ও সুন্নাহ থেকে বলুন। নচেৎ ব্যাপারটা এরকম যে 'আমি দ্বীন মানতে পারছি না, তাই উপায় হচ্ছে আমার অপরিপূর্ণ আমলকে জাস্টিফাই করা বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে'।

      কিছু অশিক্ষীত, মূর্খ লোকেরাই ইসলাম পালন করে, আধুনিক মুক্তচিন্তার মানুষেরা নয়- এ ধরণের ধারণা পরিবর্তনের জন্য আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে।

      ৩। কিছু অশিক্ষীত, মূর্খ লোকেরাই ইসলাম পালন করে, আধুনিক মুক্তচিন্তার মানুষেরা নয়- এ ধরণের ধারণা কিছু অশিক্ষীত, মূর্খ লোকেরাই মনে করে এবং তাদের সেই ধারণা পরিবর্তন করার জন্য তাদের মত চিন্তাভাবনা করার কোন মানে হয় না।

      নারিদেরকে ইসলাম কখনোই পিছিয়ে থাকার কথা বলেনি, পুরুষদের চাইতে কম যোগ্যতাসম্পন্নও বলেনি। বলেছে কতিপয় ধার্মিক ব্যক্তিরা যারা ইসলামকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করে এবং তাদের পছন্দের বাইরে বা সার্থের বাইরে গেলেই চড়মভাবে ক্ষেপে উঠে।

      ৪। ধার্মিক ব্যাক্তিরা নিজের স্বা'র্থ নিয় কথা বলে না।

      ৫। তারা তাদের মত প্রকাশ আগে করেননা, বরং আগে কুরান ও সুন্নাহ থেকে দলীল দেন এবং এর আলোকে মতামত প্রকাশ করেন।

    2. ১০.২
      সত্য সন্ধানী

      তারা তাদের মত প্রকাশ আগে করেননা, বরং আগে কুরান ও সুন্নাহ থেকে দলীল দেন এবং এর আলোকে মতামত প্রকাশ করেন।

      ঠিক কথা ভাইজান, আমি একমত আপনার সামনে। কাজেই লেখাটায় প্রথম থেকেই নিকাব যে পর্দার অন্তর্ভুক্ত সেটার স্বপক্ষে কোরান শরীফের আয়াত পেশ করতে বলা হয়েছে। দয়া করে সেটা করুন এবং পরে মতামত প্রকাশ করেন। সেটা করলেই কিন্তু এত ঝামেলা এনং ভুল বুঝাবুঝি থাকে না।

      সুস্পষ্ট জিনিস চাই আমরা, "এই লেখায় আছে তার মানেই এই" এসব বললে হবে না। কারন দেখেন আপনাকে আমি নিচে বলেছি যে আপনার কথাকে কি সহজ ভাবেই অন্য ভাবে চিন্তা করা যায় যেটা কিনা কোরানের নির্দেষের বেশি কাছাকাছি।

      কাজেই তালগাছবাদী না হয়ে নিকাব যে পর্দার অন্তর্ভুক্ত এর সপক্ষে কুরানের আয়াত দ্বারা রেফারেন্স দিন। ধন্যবাদ।

      1. ১০.২.১
        md. akhter

        না, তালগাছী কে সেটা ইনশাআল্লাহ স্পষ্ট হবে। তার আগে বলুন, আপনার কাছে শরীয়তের দলীলের উৎস কি কি? এটা জানা দরকার। ফিরকাগুলোর মধ্যে আবার অনেকে আছে, যারা শুধু কুরান মানে, কেউ কেউ আবার কুরান ও সহীহ হাদীস মানে (হাসান হাদিস যে কেন বাদ গেল), কেউ কেউ আবার কুরান ও বুখারী-মুসলিম মানে। সুতরাং আপনি মশাই আগে বলুনতো, আপনার কাছে দলীলের উৎস কি কি। কারণ আমি যখন দলীল দিব, পরে তখন বলবেন যে আমি তো অমুক জিনিস মানি না।

        1. ১০.২.১.১
          সত্য সন্ধানী

          আপনার কাছে শরীয়তের দলীলের উৎস কি কি?

          কুরান শরীফ এবং রসুলুল্লাহর সুন্নাহ। একজন মুসলিমের জন্য এর চেয়ে বেশি কিছুর দরকার নেই, এবং এটার নির্দেশ হুজুর সঃ সুস্পষ্ট ভাবে বলে গেছেন।  

          "তোমাদের জন্য আমি ২টা জিনিস রেখে গেলাম, একটা কুরান, অপরটি সুন্নাহ, যতদিন তোমরা এটাকে আঁকড়ে ধরে রাখবে তোমরা পথভ্রুষ্ট হবে না" – সুত্র বিদায় হজ্বের ভাষন, দয়া করে আবার চোখ বুলিয়ে নেবেন।  

          ফিরকাগুলোর মধ্যে  

          ভাইজান ফিরকা শব্দের বাংলা কি দয়া করে বলুন 🙂 ধন্যবাদ।

          1. মাহফুজ

            I have left among you that which if you take it, you will never stray after me: the Book of Allah.
            Farewell Sermon
            ………………………………..
            আমি তোমাদের কাছে এমনই একটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যেন তোমরা পথভ্রষ্ট না হও, অবশ্য যদি তোমরা এটার উপর কায়েম থাক- এটা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।

            বিশ্ব মানবতার মুক্তি সনদ

        2. ১০.২.১.২
          সত্য সন্ধানী

          আমার ফিরকা একটাই আর সেটা হল আল্লাহ আর তার রসুল যেটা বলে গেছেন। আল্লাহ আর তার রসুলের বানীই একজন মুসলিমের জন্য যথেষ্ট। এ দুটার বাইরে যা কিছু আছে সব মানব রচিত প্রথা। কাজেই সেগুলোর বিরোধিতা করাই একজন মুসলিমের জন্য উত্তম।

    3. ১০.৩
      md. akhter

      মা আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে ইহরামে থাকা অবস্থায় ছিলাম। পথচারীগণ আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত। তারা আমাদের নিকট আসলে আমরা মাথার উপর থেকে খিমার চেহারার উপর ফেলে দিতাম। তারা চলে গেলে সেটা উঠিয়ে নিতাম।

      সুনানে আবু দাউদঃ ১৮৩৩, ফাতহুল বারী ৩/৪৭৪।

      এখন কিছু পন্ডিত হয়ত বলতে পারে যে আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য শুধু মাত্র এই হুকুম। কিন্তু হাদিসে ‘আমরা’ শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। আর এই আমরা যে সকল মু’মিনিন নারীদের জন্য প্রযোজ্য, সেটাও কুরান বলছে-

      “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিন নারীদেরকে বলুনঃ তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।”

      সুরা আল-আহজাব, আয়াত ৫৯।

  11. ১১
    shahriar

    একদল বিশেষজ্ঞদের মতে কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে নিকাব পড়া ফরজ, আরেক দলের মতে এটা ফরজ নয় তবে মুস্তাহাব । ফরজ হোক বা মুস্তাহাব হোক দুটোই ইসলামের বিধানের আওতার অন্তর্ভুক্ত

    Fully agreed , 100% true. This is the beatuy of Islam.

    1. ১১.১
      সত্য সন্ধানী

      সম্পুর্ন একমত আপনি হতেই পারেন,অথবা দ্বিমতও কেউ করতেই পারে। তবে কোন কিছুকে ১০০% সত্য বলার চেষ্টা করলে অবশ্যই সেটার প্রমান দিতে হয়।

      এখানে কুরান শরিফ এবং সুন্নাহ থেকে প্রমান চাওয়া হয়েছে। সেটা না দিয়ে শুধু ১০০% সত্য বলাটা জাহেলীর লক্ষন বলেই মনে হয়।

      ইসলামে কোরান আর সুন্নাহের আলোকে যেটা প্রমান করা যেয় সেটাকেই শতভাগ সত্য বলে ধরতে হবে,তাছাড়া অন্য কিছুই শতভাগ কেন কোন ভাবেই সত্য/সঠিক নয়।কাজেই সবার উচিত চ্যালেঞ্জের মুখে নিজের অবস্থান কে ডিফেন্ড করা , সেটা না করে শুধু লিপ সার্ভিসে কোন লাভ হবে না কারো।

      1. ১১.১.১
        shahriar

        100% mean that Islam allow both things(either you wear nikab or not) that's it. for this there are nothing wrong/rite with those 02 options. It’s up to personal choice what she likes.

    2. ১১.২
      1. ১১.২.১
        md. akhter

        The beauty of of Islam is that first type of woman. You cannot see such dressed woman is dating with boyfriend, But the second type of 'hijabi juliet' is everywhere in haram activities. with boyfriend, in restaurant, free mixing etc.

        1. ১১.২.১.১
          এস. এম. রায়হান

          হিজাব ও নিকাব নিয়ে আপনার দাবির প্রেক্ষিতে বলছি, এই লেখায় একজন ইসলামপন্থী ব্লগার নিকাবের বেশ কিছু ভয়াবহ অপব্যবহার তুলে ধরেছেন-

          নেকাব পড়ে আর কী ধরনের কাজ হয় :

          ১. নেকাব অনেক অপরাধমূলক কাজ করার সহায়ক।

          ২. অনেক দুধর্ষ চোরাকারবারীরা নেকাব ব্যবহার করে।

          ৩. পতিতারা নিজ পেশার সুবিধার্তে রাস্তায় চলাফেরা করার সময় নেকাব পড়ে। সমাজ তাদের চিনতে পারছেনা। হোটেলে আর পতিতালয়ে যাওয়ার সময় নেকাব ব্যবহার করে।

          ৪. বখাটে ছেলে ও অবৈধ প্রেমিকের সাথে খারাপ কাজ করার জন্য স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ও মাদ্রাসার অনেক মেয়েরা নেকাব ব্যবহার করে।

          ৫. স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সৌখিন পতিতারা অপরাধ গোপনের জন্য নেকাব পড়ে থাকেন। এজন্য আমরা প্রায়ই এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন মৌসুমে কিছু মেয়েকে নেকাব ও বোরকা পড়তে দেখি।

          ৬. পরীক্ষার হলে নকল করার জন্য কিছু মেয়ে নেকাব পড়ে থাকে। নকল করার জন্য নেকাব পড়া মেয়েরা প্রচন্ড সুযোগ নেয়। শিক্ষকরা এবিষয়টি লক্ষ্য করে থাকেন।

          ৭. অনেক মেয়ে রাস্তাঘাটে পার্কে জিনা করা জন্য নেকাব ব্যবহার করে থাকে।

          https://www.youtube.com/watch?v=Vh4cLS7Ja24

          ৮. ভাল পরিবারের অনেক মেয়ে বাড়ির লোকজন ও পরিচিত সমাজের চোখে ধুলো দিয়ে সিনেমা দেখার জন্য নেকাব পড়ে।

          ৯. পার্কে ও হোটেলে অবৈধ প্রেম করার জন্য অনেক মেয়ে নেকাব করে।

          ১০. অনেক মহিলা পকেটমার চুরি করার সুবিধার জন্য নেকাব পড়ে থাকে।

          ১১. অনেক মেয়ে নিজেকে অসুন্দর মনে করে নিজেকে আড়াল করার জন্য নেকাব পড়ে।

          ১২. অনেক বড় বড় মহিলা মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রব্যবসায়ী নেকাব ব্যবহার করে থাকেন।

          ১৩. সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নেকাব ব্যবহার করে থাকে।

          ১৪. অনেক ধার্মিক লোক ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে নেকাব পড়ে থাকেন। যদিও এটা ধর্মের অবিচ্ছেদ্য বিষয় নয়। সওয়াবের উদ্দেশ্যে নেকাব পড়া বিদাত হবে কিনা ভাবার অবকাশ আছে।

          আমি সূত্র দিয়ে দিয়েছি। চাইলে তার সাথে যেয়ে বিতর্ক করেন। আপনার সাথে আমি এ বিষয়ে বিতর্কে যেতে পারবো না।

          1. md. akhter

            ১। হজ্জ অনেক অপরাধমূলক কাজ করার সহায়ক

            ২। অনেক দুধর্ষ চোরাকারবারীরা হজ্জ্ব এর নাম করে দুই-নম্বরী জিনিস কেনা বেচা করে।

            ৩। আরব দেশে অনেক পতিতা হজ্জ্ব করার নাম করে বাইরে গিয়ে ফিরছে না, পরে ইউরোপে পাড়ি দিচ্ছে।

            ৪। মানুষের কাছে সম্মানিত হওয়ার জন্য হজ্জ্ব করে।

            ৫। দেশের দূর্ণীতিবাজরা হজ্জ্ব করার নাম করে নিজেদের ইসলামিক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।

            ৬। হজ্জ্ব এর কারণে অনেক এজেন্সি মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।

            ৭। হজ্জ্ব এর নাম করে অনেকে এইসব এজেন্সির কাছে প্রতারিত হচ্ছে।

            ৮। হজ্জ্ব এর নাম করে অনেকে অবৈধ সোনা পাচার করে নিয়ে আসছে।

            ৯। নামাষ পড়ার নাম করে অনেকে স্যান্ডেল চুরি করে।

            ১০। যাকাতের কথা বলে অনেকে টাকা মেরে দেয়।

            ১১। নামাযের কথা বলে অনেকে অফিসের কাজ বাদ দিয়ে বাইরে এসে আড্ডা দেয়।

            ১২। মসজিদে দান করে অনেকে ভোট চাওয়ার ছলচাতুরিতে আশ্রয় নেয়।

            ১৩। দু’আর নাম করে অনেকে টাকা ইনকাম করে।

            ১৪। তারাবীহ এর কথা বলে অনেকে রমযান মাসে ইনকাম করার চান্স খুজে।

            ১৫। কুরআনের আয়াতের বিনিময়ে অনেকে পারিশ্রমিক নেয়।

            ইত্যাদি ইত্যাদি…

            তো নামায, যাকাত, হজ্জ্ব এগুলো বাদ দিয়ে দেওয়া হোক, কারণ এগুলো না থাকলে ওগুলো থাকতো না।

          2. md. akhter

            এখানে দুইটা ব্যাপার আছে।

            ১। দ্বীনের জন্য নিকাব পড়ে ২। অসৎ কাজের জন্য নিকাব পড়ে। যেমনঃ

            স্মাগলিং করা, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি।

            আবার নিকাব ছাড়া আছে অর্থাৎ যারা হাত, মুখ, পা খোলা রাখে। এদের মধ্যেও দুইরকম আছে।

            ১। দ্বীনের জন্য মাথায় কথিত হিজাব পড়ে ২। অসৎ কাজের জন্য কথিত হিজাব পড়ে। এদের মধ্যেও পতিতা আছ (বরং বেশি), প্রেম করা, অন্যের চোখে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলা।

            আমি কমেন্ট করেছি মূলত ১। দ্বীনের জন্য নিকাব পড়ে আর ১। দ্বীনের জন্য ‘কথিত’ হিজাব পড়ে। এই দুই ক্যাটাগরির মধ্যে কাদের বিয়ে ইসলামিক পদ্ধতিতে হচ্ছে, কাদের বিয়ে নিজে থেকেই আগে ঠিক করা যুবকের সাথে হচ্ছে, কাদেরকে রেস্টুরেন্টে দেখা যাচ্ছে, কারা ইসলামিক ওয়ে অফ লাইফ থেকে ইউটার্ন করছে, কারা এন্টি ইসলামিক কর্মকান্ডের সাথে কম্প্রোমাইজ করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। সামাঝদার আদমি কি লিয়ে ইশারাই কাফি।

  12. ১২
    সত্য সন্ধানী

     

    This is a test comment to check if one can copy from a comment and paste this when replying using an android mb phone. Seems it is possible. This comment has been made using a Samsung mb phone.    

     

     ধন্যবাদ, মন্তব্য অংশে একবার কি দুবার স্পেস দেবার পর পেস্ট হল। আসলে আমিই বুঝতে পারছিলাম না হয়ত। ফেস বুক বা গুগল সার্চ এ এমন স্পেস দিতে হয় না। 

  13. ১৩
    মাহফুজ

    ইসলাম লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতা পছন্দ করে নো এবং পায়ে বেড়ি পড়ানোরও পক্ষপাতি নয়। বরং নারী ও পুরুষ উভয়েই যেন আল-কোরআন ও হাদিছে বর্ণিত নির্ধারিত সীমার ভেতরে থেকে ঘরে-বাইরে সর্বত্র তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সুশৃঙ্খলভাবে ফেলতে পারেন, ইসলাম প্রকৃত অর্থে সব সময় সে শিক্ষাই দেয়।

    (২৪:৩১) ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জা-স্থানের হেফাযত করে। তারা যেন যা আপাত প্রতীয়মান হয়, তা ছাড়া ('জীনাতাহুন্না') তাদের দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, তারা যেন গোপন করে রাখা বা ঢেকে রাখা দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

    (২৪:৩১) নং আয়াতে ব্যবহৃত 'জিনাত' শব্দটি স্ত্রী-বাচক বিশেষ্য পদ (genitive feminine noun)। রং-বেরঙের সুন্দর ও শালীন পোষাক কিংবা অলঙ্কারাদিকে বোঝানোর জন্য এটি প্রযোজ্য নয়। বরং এক্ষেত্রে 'জীনাতাহুন্না' শব্দটি শুধুমাত্র নারীদের দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্যকে বোঝাবার জন্যই ব্যবহৃত হয়েছে। কারন রং-বেরঙের সুন্দর পোষাক ও অলঙ্কারাদি পড়ে নারীরাই তো সাজবে এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে বেহায়াপনা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এই 'জীনাত' অর্থাৎ 'নারীদের দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্যকে' কিভাবে ঢাকতে হবে বিস্তারিতভাবে সেই শিক্ষাও দেয়া হয়েছে। শুধু ঢাকলেই হবে না, ঢেকে রাখা/ গোপন করে রাখা সেই বিশেষ সৌন্দর্য প্রদর্শনের জন্য জোর পদক্ষেপে বিশেষ বিশেষ অঙ্গসমূহ হেলিয়ে দুলিয়ে প্রকাশ করার চেষ্টা যেন করা না হয় সে ব্যাপারেও সাবধান করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং রং-বেরঙের পোষাক ও অলঙ্কার পড়লে সেটাও ঢেকে রাখতে হবে- এমন কোন নির্দেশ এখানে দেয়া হয়নি। বরং আম জনতার সামনে নারীদের দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্য প্রদর্শন না করার এবং ঢিলেঢালা পোষাক পরিধান করার সাথে সাথে শালীনভাবে চলাফেরা করার নির্দেশই দেয়া হয়েছে।

    (৩৩:৫৯) হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে ও কন্যাগণকে এবং বিশ্বাসীদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

    ["জিলাবি'বু" শব্দটির অর্থ- মেয়েদের লম্বা পোষাক, ঢিলাঢালা পোষাক, চাদর- ১৬০ পৃষ্ঠা- "কোরআনের অভিধান"- মুনির উদ্দীন আহমদ।]

    পরহেজগারী/ ধর্মপরায়ণতার পোষাক (০৭:২৬) কেমন হবে তা জানতে হলে হাদিছের আশ্রয় গ্রহণ করা প্রয়োজন রয়েছে। তবে নারীদের পর্দা সম্পর্কে যেহেতু দুটি মতামত রয়েছে, তাই আপন বিবেক ও অভিরুচি অনুসারে এর মধ্যে থেকে যে কোন একটি বেছে নেয়ার অবকাশ রয়েছে। আমি প্রতিটি ক্ষেত্রেই মধ্যপন্থা অবলম্বন করাকেই বেছে নিয়েছি। তাই আমি এই মতের সাথে একমত পোষন করি যে, কখনই এমন পোষাক পড়া উচিত নয় যাতে নারীদের/ পুরুষদের দেহের আকর্ষনীয় অঙ্গসমূহ প্রকাশ হয়ে পড়ে। তাই সাবার সামনেই [বিশেষ মূহুর্তে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে (০২:২২৩) নং আয়াত অনুসারে শীথিলতা রয়েছে] ঢিলেঢালা শালীন পোষাক পড়ে যাওয়াই ধর্মপরায়ণতার পরিচায়ক। 

    শিথিলতা প্রদর্শন বা অতিরিক্ত আরোপ না করে এই নির্ধারিত সীমানা মেনে চলাই ইসলামের দাবি। মহান স্রষ্টা সৃষ্টিগতভাবেই নারীদেরকে গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্য (জিনাত) দান করেছেন এবং তাদের নিজেদের স্বার্থেই তা ঢেকে রাখতে বলেছেন। সুতরাং এর বাহিরে নারীদের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে হাত মোজা ও পা-মোজা পড়া এবং নাক-চোখ সহ সম্পূর্ণ মুখমন্ডল ঢেকে রাখার ব্যাপারে কেউ একমত নাও হতে পারেন।

    আবার কেউ যদি স্বেচ্ছায় আপাদমস্তক ঢেকে রাখতে চান বা একচোখ ঢেকে উদ্ভট সাজতে চান এবং সব সময় ঘরে  বসে থাকতে  চান, তাহলে সেটা  তার অতিশয় পরহেজগার মনোভাব কিংবা নিজস্ব চিন্তাধারা হতে পারে। তবে তা জোর কোরে চাপিয়ে দেয়া মোটেই উচিত হবে না।

    আমি এই মতের সাথে একমত পোষন করি যে, কখনই এমন পোষাক পড়া উচিত নয় যাতে নারীদের/ পুরুষদের দেহের আকর্ষনীয় অঙ্গসমূহ প্রকাশ হয়ে পড়ে। তাই সাবার সামনেই [বিশেষ মূহুর্তে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে (০২:২২৩) নং আয়াত অনুসারে শীথিলতা রয়েছে] ঢিলেঢালা শালীন পোষাক পড়ে যাওয়াই ধর্মপরায়ণতার পরিচায়ক।

    সেই সাথে নারীদের ক্ষেত্রে (২৪:৩১) মাথার ওড়না দিয়ে গলা ও বুক ঢেকে রাখতে হবে। যাদের সাথে বিয়ে (৪:২৩) বৈধ নয়, তাদের সামনে অতিরিক্ত হিসেবে ঘরের মধ্যে চাদর না জড়ালে দোষের কিছু নেই। আর যে সব পুরুষের সাথে বিয়ে বৈধ, তাদের সামনে বা বাহিরে যাবার সময় গায়ে (৩৩:৫৯) চাদর জড়িয়ে তা মাথার উপর টেনে নিতে হবে। (২৪:৩১) জাক-জামকের সাথে অতিরিক্ত সেজেগুজে ও নিজের গোপন অঙ্গগুলো প্রদর্শন করার মতলবে চলাফেরা করাও বৈধ নয় অর্থাৎ গুনাহ। অযথা একাকী রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা করা ও যাদের মধ্যে বিয়ে বৈধ তাদের সাথে (একজন পুরুষ ও একজন নারী একাকি) নির্জনে কথা বলা বা সময় কাটানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

    ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় শক্ত ও সক্ষম প্রশাসনের পাশাপাশি পর্দার সঠিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরী। কারণ সমাজ থেকে অনাচার ও অশ্লীলতা দূর করার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা এবং যার কোন বিকল্প নেই। আপাতত পর্দা সম্পর্কে সংক্ষেপে আমার জানা-জানি ও মতামত তুলে ধরছি। আল-কোরআনের নির্দেশাবলী পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। অনুগ্রহকরে পর্দার বিধান সম্পর্কিত আল-কোরআনের বাণীগুলো ভাল করে লক্ষ্য করবেন এবং এর সাথে আপন আপন জ্ঞান ও বিবেককেও কাজে লাগানোর অনুরোধ রইল।

    1. ১৩.১
      Shahriar

      @mahfuz bhai,

      jajak-allah.. very well explained.

    2. ১৩.২
      md. akhter

      আচ্ছা,আপনারা যারা বিশ্বাস করেন যে চেহারা, হাত, পা এগুলো পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়, তাদের কাছে আসলে মাহরাম আর গায়ের মাহরামের পার্থক্যটা কী বা কতটুকু? যেমন ভাই,বাবা,চাচা বা শ্বশুরের মত মাহরামদের সামনে তো মুখমন্ডল,হাত পা এসব প্রদর্শন জায়েজ, তো এখন বাইরের মানুষদের সামনেও যদি এগুলো প্রদর্শন করাটা পর্দার খেলাফ না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে পর্দাটা প্রকৃতপক্ষে আসলে কী দাঁড়াচ্ছে? বা মাহরাম আর গায়ের মাহরামের পার্থক্যটুকু কী?

      1. ১৩.২.১
        মাহফুজ

        সেই সাথে নারীদের ক্ষেত্রে (২৪:৩১) মাথার ওড়না দিয়ে গলা ও বুক ঢেকে রাখতে হবে। যাদের সাথে বিয়ে (৪:২৩) বৈধ নয়, তাদের সামনে অতিরিক্ত হিসেবে ঘরের মধ্যে চাদর না জড়ালে দোষের কিছু নেই। আর যে সব পুরুষের সাথে বিয়ে বৈধ, তাদের সামনে বা বাহিরে যাবার সময় গায়ে (৩৩:৫৯) চাদর জড়িয়ে তা মাথার উপর টেনে নিতে হবে। (২৪:৩১) জাক-জামকের সাথে অতিরিক্ত সেজেগুজে ও নিজের গোপন অঙ্গগুলো প্রদর্শন করার মতলবে চলাফেরা করাও বৈধ নয় অর্থাৎ গুনাহ। অযথা একাকী রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা করা ও যাদের মধ্যে বিয়ে বৈধ তাদের সাথে (একজন পুরুষ ও একজন নারী একাকি) নির্জনে কথা বলা বা সময় কাটানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আর বৃদ্ধাদের ক্ষেত্রে কিছু (২৪:৬০) শীথিলতা থাকলেও সাবধানতা অবলম্বনই উত্তম বলা হয়েছে।

        1. ১৩.২.১.১
          md. akhter

          আর যে সব পুরুষের সাথে বিয়ে বৈধ, তাদের সামনে বা বাহিরে যাবার সময় গায়ে (৩৩:৫৯) চাদর জড়িয়ে তা মাথার উপর টেনে নিতে হবে।

           ১। চাদর জড়িয়ে তা মাথার উপর টেনে নিতে হবে – এর মানে কি?

          ২। আপনারা যারা বিশ্বাস করেন যে চেহারা, হাত, পা এগুলো পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়, তাদের কাছে আসলে মাহরাম আর গায়ের মাহরামের পার্থক্যটা কী বা কতটুকু? যেমন ভাই,বাবা,চাচা বা শ্বশুরের মত মাহরামদের সামনে তো মুখমন্ডল,হাত পা এসব প্রদর্শন জায়েজ, তো এখন বাইরের মানুষদের সামনেও যদি এগুলো প্রদর্শন করাটা পর্দার খেলাফ না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে পর্দাটা প্রকৃতপক্ষে আসলে কী দাঁড়াচ্ছে? বা মাহরাম আর গায়ের মাহরামের পার্থক্যটুকু কী?
          পর্দা ও সতরের মধ্যে পার্থক্য কি?

          1. মাহফুজ

            মাহরাম- যে সব পুরুষের সাথে বিয়ে বৈধ নয়
            গায়ের মাহরাম- যে সব পুরুষের সাথে বিয়ে বৈধ

            বিবাহ করার ক্ষেত্রে বিষয়টি যেভাবে স্রিক্টলি ফলো করার কথা  এসছে, পর্দার ক্ষেত্রে এটি তেমনভাবে প্রযোজ্য না হলেও কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আর কিভাবে করতে হবে তা মাহন স্রষ্টাই শিখিয়ে দিয়েছেন-

            (৩৩:৫৯) অর্থ- হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে ও কন্যাগণকে এবং বিশ্বাসীদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

            এই আয়াতে স্পষ্টভাবে যেখানে বলা হচ্ছে- (তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে।)

            তাই সাবার সামনেই [বিশেষ মূহুর্তে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে (০২:২২৩) নং আয়াত অনুসারে শীথিলতা রয়েছে] ঢিলেঢালা শালীন পোষাক পড়ে যাওয়াই ধর্মপরায়ণতার পরিচায়ক। সেই সাথে নারীদের ক্ষেত্রে (২৪:৩১) মাথার ওড়না দিয়ে গলা ও বুক ঢেকে রাখতে হবে। যাদের সাথে বিয়ে (৪:২৩) বৈধ নয় অর্থাৎ মাহরাম, তাদের সামনে অতিরিক্ত হিসেবে ঘরের মধ্যে চাদর না জড়ালে দোষের কিছু নেই। আর যে সব পুরুষের সাথে বিয়ে বৈধ অর্থাৎ গায়ের মাহরাম, তাদের সামনে বা বাহিরে (অচেনা পুরুষের সামনে বিশেষ করে যেখানে উত্যক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে) যাবার সময় গায়ে (৩৩:৫৯) চাদর জড়িয়ে তা মাথার উপর টেনে নিতে হবে। (২৪:৩১) জাক-জামকের সাথে অতিরিক্ত সেজেগুজে ও নিজের গোপন অঙ্গগুলো প্রদর্শন করার মতলবে চলাফেরা করাও বৈধ নয় অর্থাৎ গুনাহ। অযথা একাকী রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা করা ও যাদের মধ্যে বিয়ে বৈধ তাদের সাথে (একজন পুরুষ ও একজন নারী একাকি) নির্জনে কথা বলা বা সময় কাটানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

            অথচ শেষ পর্যন্ত 'জিলবাবের' যে অর্থ দাঁড় করানো হলো তা অহেতুক বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছুই নয়। মূলত 'জিলবাব' অর্থ (33:59:11) jalābībihinna- their outer garments) এমন একখানা চাদর, বাহিরে বের হবার সময় যা দিয়ে সহজে নারীরা তাদের 'জিনাত' অর্থাৎ শরীরের যে গোপন ও আকর্ষণ করার মত বিশেষ অঙ্গগুলো রয়েছে (বক্ষ, গ্রীবা, পাছা ইত্যাদি) সেগুলো যেন ভালভাবে ঢেকে নিতে পারেন। এখানে সেই চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপরে টেনে নেবার কথাও বলা হলো। অর্থাৎ আমাদের দেশের অনেক মা, বোন ও কন্যারা ভালভাবে শরীর ঢেকে মাথায় যেভাবে ঘোমটা টেনে নেন সেটাই যথেষ্ট। যদি কেউ বোরখা পড়তে চান সেটাও পড়তে পারেন। কিন্তু তাই বলে হাতে পায়ে মোজা পড়ে মুখমন্ডল সহ নারীদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে কিম্ভূতকিমাকার সাজার কোন নির্দেশই এখানে দেয়া হয়নি। বরং ‘এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে’ এই বক্তবব্যের মাধ্যমে তাদের মুখমন্ডল খোলা রাখার পারমিশনই দেয়া হয়েছে। কারন মুখমন্ডল খোলা না রাখলে চেনার প্রশ্নই আসে না। অথচ আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত বিধানের বাড়াবাড়ি করার কারনে মুখমন্ডল ঢাকার অযুহাতে সমাজে যে অনেক ধরনের ক্রাইম হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

    3. ১৩.৩
      md. akhter

      আপনি কি প্রশ্ন বুঝেন না, নাকি না বুঝার ভান করছেন। কুরান শরীফে, হাদিসে আর বিভিন্ন রেওয়াতে এই যে এত পর্দার কথা বলা হচ্ছে, তো সেই প্রেক্ষিতে বলছি। যারা বলেন যে হাত, পা, চেহারা খোলা রাখা যাবে পরপুরুষের সামনে অর্থাৎ এগুলোর পর্দা করতে হবে না। তো মাহরমের সামনে তাহলে কোন পোষাক পড়ে যাবে? মাহরমের সামনেও তো হাত, পা, চেহারা খোলা রাখা যাবে। তাহলে মাহরম ও পরপুরুষের মধ্যে পর্দার পার্থক্যটা আসলে কি?

  14. ১৪
    আল-আমীন আব্দুল্লাহ্‌

    হা! এমন কোন কোরআনে বা হাদীসে সুস্পষ্ট উল্লেখ্য নেই যে মুখ ঢাকতেই হবে। 
    তবে চুল সম্পূর্ন ঢেকে রাখতে হবে। 
    তবে নারীর পর্দার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত আলেম (ইমামদের) মতে পুরো শরীর ঢাকা ফরজ। 
    ফিতনার আশংকা থাকলে সর্বসম্মতিক্রমে মুখ ও হাতের তালুদ্বয় ঢাকাও পর্দার অন্তর্ভুক্ত। (কোন ইমামই এতে দ্বিমত করেনি)
    কেননা একটি মেয়ের সর্ব পথম যেটি দেখে আপনি তাকে স্ত্রী করার চিন্তা করবেন ( বা আকৃষ্ট হবেন)  তা হল মুখমন্ডল এবং গায়ের রং!
    উদাহরণ হিসেবে বলা যায়ঃ রাস্তায় একটি পর্দাশীল মেয়ে দেখলাম কিন্তু তার মুখুমন্ড খোলা এবং সে অনেক সুন্দর তাকে দেখে সাধারন ভাবেই পুরুষ আকৃষ্ট হবেই। 
    তবে মুমিন পুরুষ চোক্ষু নিচু করে ফেলবে এইটা পুরুষের জন্য ফরজ। 
    আর এই ক্ষেত্রেই ফিতনার আশংকা থাকলে সর্বসম্মতিক্রমে মুখ ও হাতের তালুদ্বয় ঢাকাও পর্দার অন্তর্ভুক্ত।

    যায়হোক! এস এম রায়হান ভাইয়ের লেখা ভাল লাগে। কিন্তু ইসলাম কে বুঝতে হলে ইসলামের নিয়ম পদ্বতির মাধ্যমেই বুঝতে হবে।

    যাদের পর্দা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার ইচ্ছে আছে তার সকলে এই বইটি পড়তে পারেন। 
    কোন বিষয়ে লিখতে হলে সকল দিক এবং ঐ বিষয়ে সকল প্রকারের জ্ঞান ল্যাভ করে লিখতে হয়।
    আল্লাহ আমকে এবং সকলকে সঠিক জানার বুঝার এবং আমল করার তাওউফিক দান করুক। আমীন!

    কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে পর্দা
    শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে সালেহ আল উসাইমীন র. (ব্যক্তির পরিচয়) –এর একটি মূল্যবান গ্রন্থ। 
    এ-গ্রন্থে তিনি পর্দার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার প্রয়াস পেয়েছেন। 
    নারীর চেহারা পর্দার অংশ – এ-বিষয়টিকে তিনি যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনায় তুলে ধরেছেন বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে। 

    ডাউনলোড লিংক এখনেঃ>>> .DOC

    ডাউনলোড লিংক এখনেঃ>>>.PDF

     

    1. ১৪.১
      সত্য সন্ধানী

       ফিতনার আশংকা থাকলে সর্বসম্মতিক্রমে মুখ ও হাতের তালুদ্বয় ঢাকাও পর্দার অন্তর্ভুক্ত। 

      উপরে মাহফুজ সাহেব ২টা ছবি দিয়েছেন। হিজাব-পরিহিত ভদ্র মহিলা কি কারো কারো কাছে এতই উত্তেজক (!) মনে হতে পারে যে এতে ফিতনার আশংকা করা যায়?

      যদি সেটাই হয় তবে যেকোনো বিকৃত মানসিকতার লোকের তো নিকাব-পরা কাউকে দেখেও একই সমস্যা হতে পারে এবং ফিত্নার আশংকা থাকতে পারে, তখন কি হবে বলতে পারেন? সেক্ষেত্রে কি পাকাপাকি ভাবে মেয়েদের ঘরে আটকে রাখতে হবে?

      না, কোন কিছু নিয়েই বেশি বাড়াবাড়ি আর যাই হোক মধ্য পথ হতে পারে না।

      1. ১৪.১.১
        এস. এম. রায়হান
        যদি সেটাই হয় তবে যেকোনো বিকৃত মানসিকতার লোকের তো নিকাব-পরা কাউকে দেখেও একই সমস্যা হতে পারে এবং ফিত্নার আশংকা থাকতে পারে, তখন কি হবে বলতে পারেন? সেক্ষেত্রে কি পাকাপাকি ভাবে মেয়েদের ঘরে আটকে রাখতে হবে?

        যারা (পুরুষরা) নিকাবকে অন্ধভাবে সমর্থন দিচ্ছে তারা আসলে এটাই চায়, কিন্তু সেটা সরাসরি না বলে ফিত্‌নার অজুহাত দেয়।

        1. ১৪.১.১.১
          সত্য সন্ধানী

          যারা (পুরুষরা) নিকাবকে অন্ধভাবে সমর্থন দিচ্ছে তারা আসলে এটাই চায়, কিন্তু সেটা সরাসরি না বলে ফিত্‌নার অজুহাত দেয়।  

          খুব দুর্ভাগ্য আমাদের মুসলিমদের যে আমাদের ভিতরের অনেকেই কুরানের সুস্পষ্ট আয়াত দেখিয়ে দেয়ার পরেও বিভিন্ন অজুহাত দিয়েই চলেছেন। এটা খুবইই দুর্ভাগ্যজনক এবং বিপদজনক!

          আল্লাহ রব্বুল আলামীন উনাদের সঠিক ভাবে কুরান শরিফের আয়াতকে বুঝার তৌফিক দান করুন আমীন।

        2. ১৪.১.১.২
          md. akhter

          যারা (পুরুষরা) নিকাবকে অন্ধভাবে সমর্থন দিচ্ছে তারা আসলে এটাই চায়, কিন্তু সেটা সরাসরি না বলে ফিত্‌নার অজুহাত দেয়।

          যারা নিকাবকে সমর্থন করেন, সেইসব পুরুষদের মধ্যে অবশ্য সাহাবারাও আছেন।

          আর হাকিকত তো এই যে যাদের মেয়েদের চেহারা না দেখার কারণে অসুস্থ শয়তানি দ্বিলে কষ্ট হয়, তাদের একটা বড় অংশই চেহারা খুলে রাখতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক।

           

          1. সত্য সন্ধানী

             আর হাকিকত তো এই যে যাদের মেয়েদের চেহারা না দেখার কারণে অসুস্থ শয়তানি দ্বিলে কষ্ট হয়, তাদের একটা বড় অংশই চেহারা খুলে রাখতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক

            বিতর্ক ভাল জিনিস কিন্তু মাত্রা জ্ঞান বোধহয় হারানো উচিত না। যারা নিকাবের সমর্থক তাদের কে কিন্তু এখানে কেউ এইসব কথা বলছে না। বরং বলা হচ্ছে যে,যদি কোন বিকৃত মস্কিকের লোকের কারনে নিকাব পরিহিতা মেয়েকে দেখেও শয়তানী জাগ্রত হয় সেখানে কি করা হবে? 

            আপনি কিন্তু সরাসরিই যারা নিকাবের বিরোধী তাদের দিকে ইংগিত করে কথাটা বলেছেন। আপনার কি ধারনা আছে যে আপনি কি বলছেন? আপনি কি জেনে বুঝে বলছেন এইসব কথা? জেনে বুঝে বললে বুঝতে হবে আপনার উদ্যশ্য খবই খারাপ। মুসলিম সমাজ কে আপনি কি দোষারোপ করতে চাইছেন যৌন বিকৃতির দায়ে?

            নিচে দেখেন মাহফুজ ভাই জাকির নায়েকের এর ভিডিও লিংক দিয়েছেন। তারাও কিন্তু কেউ মুখ ঢেকে রাখার পক্ষ পাতি নন। তার মানে আপনার ভাষায় তাদের দিলও অসুস্থতায় ভরা।

            নাকি আপনার বয়স খুবই কম এবং না বুঝেই কথা বার্তা বলেন? সেটা হলে আমি পরমর্শ দেব যে অনেক সময় পড়ে আছে আপনার,পড়াশুনা করে জানুন ইসলাম কে। অনর্থক কু যুক্তি দিয়ে কাদা ছোড়াছড়ি করে কারোরি কোন লাভ হবে না।

          2. md. akhter

            তাদের একটা বড় অংশই

            সবাইকে বলা হয়নি। বড় অংশ মানে একজন দুইজন নয়, বরং এদের সংখ্যা বেশ।

  15. ১৫
    আবদুর রহিম

    অনেকের মন্তব্য পড়লাম। কারোটা পড়ে ভালো লাগল আবার কারোটায় অবাক হলাম। অবাক হলাম একারণে যে ইসলামের বিধানের বৈধতার যুক্তি দেয়া হচ্ছে মনগড়া এবং বিরুদ্ধবাদীদের খোড়া যুক্তিকে ডিফেন্ড করার মানসে। অথচ হওয়া উচিত ছিল এমন যে, পর্দা সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত অনুযায়ী মহিলা সাহাবী (রাঃ) যেভাবে আমল করেছেন সেটাই মানদন্ড।

    একটা কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে ইসলামের বিধান কখনোই অযুক্তিক নয়, তবে যুক্তি নির্ভরও নয়। কারো যদি মন মতো যুক্তি না পাওয়া যায় তবে ইসলামের বিধান চেঞ্জ করে যৌক্তিক করার সুযোগ নেই। ইসলামের বিধান হবে কোরআন ও হাদিস নির্ভর এবং তার নির্ণায়ক হবেন ওলামা মাশায়েখগণ। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুক।

  16. ১৬
    এস. এম. রায়হান

    যারা 'ফিত্‌নার আশংকা'র অজুহাত দিয়ে নিকাবকে অন্ধভাবে সমর্থন দেয় তারা নিদেনপক্ষে একটি প্রমাণ বা এমনকি কোনো যুক্তিও দিতে পারেনি যার দ্বারা প্রমাণ হয় যে, নিকাব সত্যি সত্যি ফিত্‌নাকে প্রতিহত করছে। অন্যদিকে এই পোস্ট ও মন্তব্যের ঘরে বেশ কিছু যুক্তি দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নিকাব-ই বরং সমাজে ফিত্‌না ও বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করছে এবং সেই সাথে ইসলামকে পচানোর একটি অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

    1. ১৬.১
      md. akhter

      এক রাজকুমার ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ এক রাজ্যে পৌছে গেছে। কিন্তু ঐ রাজ্যে কোন মানুষের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। একজনও না। অবশ্য রাজপ্রাসাদ আছে। রাজপ্রাসাদে ঢুকলো, কিন্তু সেখানেও তেমন কেউ নেই, শুধুমাত্র রাজা আর কিছু সাঙ্গপাঙ্গ বসে আছে। রাজা তাকে দেখে বলল, তোমার ডান হাতটা উপরে তুলো তো। ডান হাত তুলল। এবার বলল ‘ডান হাত দিয়ে বাম হাতে কয়েকবার জোরসে মার। মার দিল আর হাততালি বেজে উঠল। রাজা বলল, ‘বাহ, রাজ্যবাসী আমার এত প্রশংসা করে’।

  17. ১৭
    মজলুম

    এই বিষয় নিয়ে দুই গ্রুপেরই বাড়াবাড়ি হচ্ছে। কোরান ও হাদিসের রেফারেন্স অনুযায়ী দেখা যায় যে হিজাব ও পরা যাবে এবং নেকাব ও পরা যাবে। দুটোর পক্ষেই ইসলামের রেফারেন্স পাওয়া যায়। এখন কথা হলো, কেউ হিজাব ও পরতে পারে বা নেকাব ও পরতে পারে। আর নেকাব পরা মানে সবসময় নেকাব পরে থাকা এমন নয়। সে ছবি তোলার সময়, কোর্টে সাক্ষ্য দেওয়ার সময়, আরো বিভিন্ন সময় এই নেকাব খুলতে পারে।

    কিন্তু যখনি বাড়াবাড়ি করা করা হয় যে না আপনাকে এই নিকাব ছাড়তে হবে, যেমন ফ্রান্স আইন করেছে বা শুধু নেকাবই পরতে হবে যেমন তালিবান বা আইএস এইএস করে, সেখানেই সমস্যা। ইসলাম ধর্মে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নিষেধ করতে বলা হয়েছে।

    ঠিক এই সমস্যা দেখা যায় মাজহাবি এবং লা-মাজহাবিদের মধ্যে। আপনি মাহজাব মানতে পারেন তাতে ইসলাম বিরোধী কিছু নেই, তেমনি আপনি মাহজাব নাও মানতে পারেন, তাতেও ইসলাম বিরোধী কিছু নেই। কিন্তু এই দুই পক্ষের মধ্যে দেখা যে এরা মাজহাব এবং সালাফি মতবাদ মানুষের উপর চাপিয়ে দেবেই, এবং মাজহাব মানাই ইসলাম বা মাজহাব না মানাই ইসলাম এটা প্রয়োগ করবে।

    আল্লাহ রাব্বুল আল-আলামিন মুসলিমদের এসব অবস্হা  জানতেন, তাই তিনি বলেছেন, ধর্মে কোন জোর জবরধস্তি বা বাড়াবাড়ি  নেই। সূরা বাকারাহ, আয়াত ২৫৬। 

    1. ১৭.১
      শাহবাজ নজরুল

      আমিন!!! সুন্দর বলেছেন।

    2. ১৭.২
      Shahriar

      "কোরান ও হাদিসের রেফারেন্স অনুযায়ী দেখা যায় যে হিজাব ও পরা যাবে এবং নেকাব ও পরা যাবে। দুটোর পক্ষেই ইসলামের রেফারেন্স পাওয়া যায়। এখন কথা হলো, কেউ হিজাব ও পরতে পারে বা নেকাব ও পরতে পারে। আর নেকাব পরা মানে সবসময় নেকাব পরে থাকা এমন নয়। সে ছবি তোলার সময়, কোর্টে সাক্ষ্য দেওয়ার সময়, আরো বিভিন্ন সময় এই নেকাব খুলতে পারে। কিন্তু যখনি বাড়াবাড়ি করা করা হয় যে না আপনাকে এই নিকাব ছাড়তে হবে, যেমন ফ্রান্স আইন করেছে বা শুধু নেকাবই পরতে হবে যেমন তালিবান বা আইএস এইএস করে, সেখানেই সমস্যা। ইসলাম ধর্মে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নিষেধ করতে বলা হয়েছে।"

      jajak-allah … very well said.

    3. ১৭.৩
      এস. এম. রায়হান

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। তবে এখানে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

      প্রথমত- লক্ষ্য করলে দেখবেন শিরোনামটা নির্বাচন করা হয়েছে প্রথম অংশের সাথে দ্বিতীয় অংশ মিলিয়ে। তার মানে এই নয় যে, এখানে জোর-জবরদস্তি বা বাড়াবাড়ির কিছু আছে। শিরোনামটা দিতে চেয়েছিলাম এরকম-

      হিজাবকে “হ্যাঁ” বলুন, নিকাবকে নিরুৎসাহিত করুন

      শিরোনাম এডিট করা যায় কি-না দেখি।

      দ্বিতীয়ত- ফ্র্যান্সে আইন করে শুধু নিকাব-ই নিষিদ্ধ করা হয়নি, সেই সাথে নিরাপত্তার জন্য সকল প্রকার মুখোশকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখানে দেখুন। কিন্তু এই পোস্টে আইন করে কিছু নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়নি।

      তৃতীয়ত- কোরআন ও হাদিসের রেফারেন্স অনুযায়ী যদি হিজাব ও নিকাব উভয়ই পরিধান করা যায়, সেক্ষেত্রে যেকারো অধিকার আছে দুটোর মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে যেটি সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশি যৌক্তিক ও বাস্তবিক সেটিকে প্রমোট করা এবং অন্যটিকে নিরুৎসাহিত করা। মোটের উপর মুসলিমদের মধ্যে যেখানে অনেক বিষয় নিয়েই মতবিরোধ আছে (যেটি আপনি নিজেই উল্লেখ করেছেন) সেখানে যেটি বেশি যৌক্তিক সেটিকে যুক্তি দিয়ে প্রমোট করা অন্যায় বা বাড়াবাড়ি হতে পারে না নিশ্চয়। আশা করি সংক্ষেপে বুঝাতে পেরেছি।

  18. ১৮
    কিংশুক

    জাজাকাল্লাহ খায়ের। অনেকেই দেখি জোর করে নিকাবকে ফরজ, দাড়িকে ওয়াজিব বানিয়ে দেয়। তারা আবার তাদের ইসলামি রাষ্ট্রে জোর করে তা আল্লাহর আইন বলে প্রতিষ্ঠিত করে এর লংঘনকারীদের দোররা মারে, কঠিন শাস্তি দেয়। ওদের কারণেই ইসলামি শাসনকে ভীতিপ্রদ সাজানো যায়। তবে যাঁরা নিকাব ব্যবহার করেন/লম্বা দাড়ি রাখেন উনাদেরকে বেশী সম্মান করি। আপনার দাড়ি, টুপি, পাঞ্জাবি, নিকাবের বিষয়ে আপনার সাথে একমত পোষণকারী অসংখ্য সৌদি, মিসর, আরবী, এশিয়ান আলেম রয়েছেন।

    1. ১৮.১
      এস. এম. রায়হান
      আপনার দাড়ি, টুপি, পাঞ্জাবি, নিকাবের বিষয়ে আপনার সাথে একমত পোষণকারী অসংখ্য সৌদি, মিসর, আরবী, এশিয়ান আলেম রয়েছেন।

      অথচ কারো কারো কথা শুনে মনে হতে পারে এই দুনিয়াই আমি একা!

      উল্লেখ্য যে, ইন্দোনেশিয়াতে মুসলিমদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেই ইন্দোনেশিয়া-সহ মুসলিম-অধ্যুষিত মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের মুসলিম নারীরা নিকাব পরিধান করে না। তবে তাদের প্রায় সকলেই হিজাব-সহ শালীন পোশাক পরিধান করে। তাছাড়াও মুসলিম বিশ্বে খুব কম নারীই নিকাব পরিধান করে। নিকাব যদি ফরজ-ই হয় তাহলে অধিকাংশ মুসলিম নারী জেনেবুঝে ফরজের বরখেলাপ করছেন কি-না!

      1. ১৮.১.১
        মজলুম

        ইন্দোনেশিয়া-সহ মুসলিম-অধ্যুষিত মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের মুসলিম নারীরা হিজাব পরে, কারন ওদের আলেমরা নেকাব পরতেই হবে বলে বাড়াবাড়ি করেন না। ওরা সবাই শাফি মাযহাবের লোক। হানাফি মাজহাবের লোকেরাও একই রকম, যেমন তুরস্ক-সহ বসনিয়া, কসভো, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, জর্ডান, মিশর, চেচনিয়া। এরা সবাই হানাফি মাজহাবের লোক। কিন্তু বেশীরভাগই শুধু হিজাব পরে। নারীরা মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে। নারীদের জন্যে মসজিদে আলাদা নামাজের স্থান আছে।

        কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের এই উপমহাদেশে। এখানে দেওবন্দী এবং বেরেলভী গ্রুপ যারা হানাফি মাজহাবেরই, কিন্তু এরা এই উপমহাদেশে হানাফি মাজহাবটাই পরিবর্তন করে ফেলেছে। এরা নারীদের নিকাব পরতে বাধ্য করবে, মসজিদে নারীদের নামাজ পড়তে বাধা দিবে। এদের অনুসারীরাও একই রকম। কোরান, হাদিস কি বললো, তা না দেখে তাদের কোন আলেম কোন তাজখেরাতুল মাজখেরাত বইয়ে কি লিখলো, সেটাই তাদের কাছে প্রাধান্য পায়।

        1. ১৮.১.১.১
          md. akhter

          কে কি করল এর প্রেক্ষিতে হুকুমের পরিবর্তন কি আসবে? মালয়েশিয়া কেন, মুসলমানদের কোটির মধ্যে যদি একজনও একটা হুকুম মানে আর বাকীরা না মানে, এর দ্বারা কি তাদের না মানাটা জায়েয হয়ে যাবে?

    2. ১৮.২
      সত্য সন্ধানী

       অনেকেই দেখি জোর করে নিকাবকে ফরজ, দাড়িকে ওয়াজিব বানিয়ে দেয়। 

      ভাই, উগ্রপন্থী কিছু মানুষের সাথে পারিবারিকসুত্রে পরিচয় ছিল। এদের অনেকের কাছেই শুনতাম যে দাড়ি না রাখলে নাকি সঠিক মুসলমানই হওয়া যায় না। আকারে ইংগিতে এরা দাড়ি রাখাকে ফরজ বলেও দাবী করার চেষ্টা করেছে (১৫/১৬ বছর আগে তাদের সাথে আমার শেষ কথা হয়েছিল)।

      এদের সংগঠনের নাম 'আহলে হাদিস আন্দোলন' যেটা রাজশাহী থেকে আসাদুল্লাহ আল গালিব সাহেবের নেতৃতে পরিচালিত হত, যদিও ইনাদের মধ্যে এখন নানা দল উপদল তৈরী হয়েছে বলেই শুনেছি।

      আমি নিজেও আহলে হাদিস পরিবারের সদস্য (শুধু পরিচয়ের সুবিধার জন্য এটা বললাম, হানাফী আহলে হাদিস বিষয় না, আমি মুসলিম এটাই আসল), কিন্তু পারিবারিক ভাবে কখনই এই শিক্ষা পাইনি। কাজেই যারা সেটা বলেছেন তারা অবশ্যই ভিন্ন সম্প্রদায় হবেন!

      আসলে মুসলিমদের মধ্যে এত বেশি দল উপদলের সৃষ্টি হয়েছে আর সাথে এত বেশি মতৈক্য, আর সবাই নিজেকে সঠিক দাবী করছে অন্যকে সরাসরি বাতিল করে দিচ্ছে। খুবই বিপদজনক সময় পার করছি আমরা সন্দেহ নেই।

      1. ১৮.২.১
        md. akhter

        ইসলামে ওয়াজিব কাকে বলে?

        1. ১৮.২.১.১
          md. akhter

          কি ব্যাপার ভাই? ওয়াজিব যেন কি?

          1. md. akhter

            হুম, বুঝলাম। কোথায় আঘাতটা লেগেছে, সেটাও বুঝতে পেরেছে। এই মোল্লাদের কারণে ঠিকমত বাংলিশ পড়ে ফতোয়া দেওয়া যায় না। কি মুশকিল।

        2. ১৮.২.১.২
          সত্য সন্ধানী

          আমি কিংশুকের কথার কোট করেছি মাত্র। কাজেই ওয়াজিব কি প্রশ্নটা উনাকেই করেন। এই প্রশ্নের জবাব নিয়ে যখন অন্যদিকে আলোচনা ডাইভার্ট হবে সেই দায় আমি নিতে রাজী না।

          কারন এরপর আপনি প্রশ্ন করবেন যে নামাজে  সুরা ফাতিহা পড়া ফরজ না ওয়াজীব। আমি যদি বলি ফরজ তবে বলবেন যে যারা জামাতের নামাজে ইমামের পিছনে সুরাহ ফাতিহা পড়েন না তাদের নামাজ হয় কিনা, আমি কি বলতে চাচ্ছি কিনা যে সুরা ফাতিহা যারা ইমামের পিছনে পড়ে না তাদের নামাজ হয় না এইসব আরো অনেক কথা।

          পরে বলবেন যে আমীন জোরে বলা ওয়াজীব কিনা। না বললে গুনাহ হবে কিনা, ঈদের নামাজে ৬ তকবীর না ১২ তকবীর, যারা ৬ তকবীর দেন তারা ওয়াজীব মানছেন না যারা ১২ তকবীর দেন তারা। এরপর বলবেন যে ৪ মাজহাব মানা ওয়াজীব নাকি হারাম, যারা মাহজাব মানে তারা মুসলিম কিনা, অথবা যারা মানে না তারা বাতিল কিনা। বাতিল না হলে তারা ওয়াজীব পালন করছে না কেন। এইসব হাজার কথার অবতারনা করবেন আপনি। এতে আলোচনার বারোটা বাজবে।

          আপনার উদ্যেশ্য ভাল না। আপনি এসেছেন ফিতনা ছড়াতে। অন্য কোন উদ্যেশ্য আপনার নেই। আপনার কাছ থেকে দূরে থাকাই ভাল।

          1. মজলুম

            ওরে ফেরকাবাজ ফেরেকবাজ, আপনাকে আর দিসনে লাজ(লজ্জা)।  কবি নজরুল কত আগে বলে গেছেন 🙂

          2. md. akhter

            পরে বলবেন যে আমীন জোরে বলা ওয়াজীব কিনা। না বললে গুনাহ হবে কিনা, ঈদের নামাজে ৬ তকবীর না ১২ তকবীর, যারা ৬ তকবীর দেন তারা ওয়াজীব মানছেন না যারা ১২ তকবীর দেন তারা। এরপর বলবেন যে …

            ভুল জায়গায় হাত দিয়েছেন।

  19. ১৯
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    বেশ জমজমাট বিতর্ক হচ্ছে – যদিও শুরুতে কিছু মন্তব্য বাড়াবাড়ি ধরনের হয়ে গেছে। পোষাক কে কিভাবে পড়বে তার একটা চমৎকার গাইড লাইন কোরানে দেওয়া আছে। যেহেতু কোরান সার্বজনীন – তাই সবাই সেই গাইড থেকেই নিজেদের রুচী এবং সংস্কৃতি অনুসারে পোষাক বেছে নিতে পারেন বলেই আমার বিশ্বাস।    

    আর সেই আয়াতটা হলো –  "হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতের অন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।" (৭: ২৬) 

    O children of Adam, We have bestowed upon you clothing to conceal your private parts and as adornment. But the clothing of righteousness – that is best. That is from the signs of Allah that perhaps they will remember.

    বলাই বাহুল্য – তাকওয়ার পোষাকই সর্বোত্তম – তাই যার তাকওয়ার স্থর যেখানে তার পোষাকও হবে সেই ধরনেরই। এখন কোরানের একটা শব্দ নিয়ে নেকাব পড়বো কি-না তার বিতর্কে লক্ষ লক্ষ শব্দের বয়ান তৈরী হয়েছে। যাই হোক – নেকাব পড়া যাবে না এমনটা বলা ঠিক না। এইটা যার যার নিজস্ব পছন্দের বিষয় – কেউ যদি তার সৌন্দর্য্য ঢেকে রাখার সীমানা মুখমন্ডল পর্যন্ত বিবেচনা করে – উনি অবশ্যই মুখ ঢেকে রাখবেন। এই জন্যে যেমন তাকে নিষেধ করা যাবে না – তেমনি কেউ যদি মুখ না ঢেকে শুধু মাথা ঢেকেই মনে করেন উনি তাকওয়ার পোষাক পরেছেন – তাই ঠিক আছে। 

    রায়হানের দৃষ্টি আকর্ষন করি একটা বিষয়ে – বাইবেলে যা আছে তা মুসলিমদের জন্যেও পালনীয় – যদি না তা সুষ্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়ে থাকে। শেষ কথা হলো – বিষয়টা পুরোপুরি বোনদের বিষয়ে – তাদের আলোচনায়ই এই বিতর্কটা সীমিত থাকলে ভাল হয়। কারনতো বলাই হয়েছে – পর্দার প্রথম শর্ত – তোমাদের দৃষ্টি অবনত রাখো – তাই কে কি পোষাক পড়লো তা দেখাই তো সমস্যা – আলোচনাটা পরের কথা। তবে আশা করি ভবিষ্যতে পুরুষদের পোষাক নিয়ে সদালাপে একটা আলোচনা হবে।

    ধন্যবাদ সবাইকে।    

    1. ১৯.১
      এস. এম. রায়হান

      জিয়া ভাই,

      গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনি নারীদের পোশাকের ব্যাপারে যেভাবে বলেছেন সেভাবে কিন্তু আমিও বলতে পারতাম। সত্যি বলতে, এই পোস্ট'টা না দিলেও পারতাম। বরঞ্চ কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একটি পোস্ট দিয়ে যেমন অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি (যাদের মধ্যে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়ারাও আছেন!), এই পোস্টের মাধ্যমে বিরাগভাজনের মাত্রা হয়তো তিনগুন হয়ে যাবে! তবে সবাই যেমন একভাবে ভাবেন না, তেমনি আবার সবার ভাবনা কোনো এক জায়গায় স্থির নাও থাকতে পারে। আমি আর দশজনের চেয়ে দু-এক ধাপ এগিয়ে চিন্তা করি বলেই বিশ্বাস। এজন্য এই ধরণের আচমকা পোস্ট দেখে অনেকেই হয়তো অবাক কিংবা বিরক্ত হবেন।

      যাহোক, এই পোস্ট'টা দেওয়ার পেছনের কারণগুলো প্রথম মন্তব্যে নোট আকারে দিতে চেয়েছিলাম। পরে আর দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে বিচরণের সুবাদে নিকাবের পক্ষে অসংখ্য পোস্ট দেখেছি। সবগুলো পোস্ট দিয়েছে পুরুষ ব্লগাররা। নিকাবের পক্ষে কোনো নারীর পোস্ট নজরে পড়েনি। শুধু তা-ই নয়, বেশ কিছু পোস্টে নিকাবী নারীদের ছবি দিয়ে ক্যাপশনে "জান্নাতের যাত্রী" লিখা হয়েছে। নিকাব কবে থেকে জান্নাতের টিকিট হলো, কে জানে! যারা নিকাব পরিধান করে না তারা কি তাহলে জাহান্নামের যাত্রী! দীর্ঘদিন ধরে এগুলো দেখতে দেখতে এই পোস্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

      এবার আপনার মন্তব্য থেকে দু-একটি প্রসঙ্গে আসা যাক-

      বিষয়টা পুরোপুরি বোনদের বিষয়ে – তাদের আলোচনায়ই এই বিতর্কটা সীমিত থাকলে ভাল হয়। কারনতো বলাই হয়েছে – পর্দার প্রথম শর্ত – তোমাদের দৃষ্টি অবনত রাখো – তাই কে কি পোষাক পড়লো তা দেখাই তো সমস্যা – আলোচনাটা পরের কথা।

      এই কথাগুলো শুনতে ভালোই লাগে। অতীতে দু-এক জায়গায় আমিও হয়তো বলেছি। কিন্তু এখানে একটু সমস্যা আছে। কে কী পোশাক পরলো – তা হয়তো আপনার-আমার জন্য কোনো সমস্যা না। কিন্তু অনেকের জন্যই এটা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন, নিজ নিজ পছন্দ অনুযায়ী নারীরা যদি অশ্লীল বা অর্ধ-নগ্ন পোশাকে রাস্তাঘাটে চলাফেরা শুরু করে দেয়, তখন নিকাবের সমর্থনকারীরা তা মেনে নেবে কি-না? ফেসবুকে এমনকি হিজাব-পরিহিত নারীদেরকেও আক্রমণ করতে দেখেছি এই অজুহাত দিয়ে যে, তারা আঁটো-সাটো ও পাতলা কাপড় পরেছে!

      আশা করি ভবিষ্যতে পুরুষদের পোষাক নিয়ে সদালাপে একটা আলোচনা হবে।

      ওয়েল, পুরুষদের পোশাক নিয়ে কোথাও তর্ক-বিতর্ক বা আলোচনা কিংবা আইন করে নিষিদ্ধের কথা শোনা যায় না। এ পর্যন্ত এগুলো শুধু নারীদের পোশাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। তবে ভবিষ্যতে যদি পুরুষদের পোশাক নিয়েও তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা, নিষিদ্ধকরণ শুরু হয়ে যায় তখন এ বিষয়ে পোস্ট আসতেও পারে।

  20. ২০
    মজলুম

    আল-আজহারের ফতোয়া বোর্ড ইতিমধ্যে নিকাব পরার বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছে, এটা বাড়াবাড়ি। কেউ চাইলে নিকাব পরতে পারে, বিশেষ করে মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে কোন সমস্যা দেখিনা। এই ডিবেট দেখুন, এখানে কিন্তু নারীবাদি মোনা (সেও কিন্তু মুসলিম) নিকাবীর সাথে ডিবেটে হেরে গেছে। 

    https://www.youtube.com/watch?v=4KabbzQXbZM

    আবার ফ্রান্স স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তথ্য মতে প্যারিসে মাত্র ২০০০ মুসলিম নারী নেকাব পরে। তাদের মধ্যে আবার অর্ধেকেরও বেশী ফ্রান্সের সাদা নও মুসলিম নারী। ফ্রান্সের নেকাব ব্যান সিকিউরিটির চেয়ে রেসিজমের কারনে বেশী হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স সবচেয়ে বেশী রেসিস্ট। 

    আর যারা হিজাব দেখলে উত্তেজিত হয়ে পড়ে, উনারা ৬ বছরের মেয়ে/ছেলে শিশু দেখলেও উত্তেজিত হয়ে ধর্ষন করে। তাই মাঝে মাঝে শুনবেন বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তবে ৬ বছরের ছেলে/মেয়ে ধর্ষিত হয়, মোলেস্টেড হয় মোল্লা, মৌলভি, হুজুরদের দ্বারা।

    আবার অনেকে ছেলে মানুষ দেখলেও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। যারা দীর্ঘদিন ধরে পরিবার হতে বিচ্ছিন্ন বা বিয়েই করেনি, চারদিকে শুধু ছেলে দেখে মাদ্রাসার ভিতর, তখন ছেলে দেখলেই এরা কামাতুর হয়ে পড়ে, অবশ্য সবাই কিন্তু না। হাটহাজারি মাদ্রাসায় একবার মারামারি হয়েছিলো ঐ মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে ব্যভিচার হওয়ায়।

    তাছাড়া যারা দেশের বাইরে আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের পাঠানদের সম্পর্কে জানেন, তারা ভালো করেই জানেন যে এদের সবাই ছেলে দেখলে কামোত্তজিত হয়ে পড়ে। এরা তাদের নারীদের বোরকার নামে বস্তা পরিয়ে, ঘরের মধ্যে বন্দী করে রাখবে। আর ছেলে বিশেষ করে দাড়ি গোপ না গজানো ছেলেদের দিয়ে  তাদের কামোত্তজনা মেটাবে। এরা মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের দেখলে বেশী কামভাব জাগ্রত হয়।

    এক ব্যভিচার হতে বাঁচতে গিয়ে এরা আরও বড় ভয়ংকর ব্যভিচারে জড়িয়ে পরে, যা লূত (আঃ) জাতিরা করেছিলো।

    এমনিতেই মুসলিমরা অনেক চাপের মধ্যে আছে বিশ্বজুড়ে, তাই হিজাব/নিকাব নিয়ে চাপাচাপি না করাই ভালো হবে।

    গত ১৪০০ বছরের মধ্যে এমন কঠিন সময় মুসলিমদের সামনে আর হয় নাই। সকল পরাশক্তি, চুপা শক্তি, শিয়া এম্পায়ার, ক্যাপিটালিস্ট, কম্যুনিষ্ট সবাই এক হয়ে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের কচুকাটা করতেছে। আর মুসলিমরা বিতর্কে লিপ্ত আছে "আমিন" কি আস্তে বলবো নাকি জোরে বলবো।

    1. ২০.১
      md. akhter

      আর যারা হিজাব দেখলে উত্তেজিত হয়ে পড়ে, উনারা ৬ বছরের মেয়ে/ছেলে শিশু দেখলেও উত্তেজিত হয়ে ধর্ষন করে। তাই মাঝে মাঝে শুনবেন বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তবে ৬ বছরের ছেলে/মেয়ে ধর্ষিত হয়, মোলেস্টেড হয় মোল্লা, মৌলভি, হুজুরদের দ্বারা।

      হিজাব দেখলে নাকি মুখের চেহারা দেখলে – কি বুঝালেন বুঝলাম না। আর উত্তেজিত হওয়ার বিভিন্ন স্তর আছে।

      আচ্ছা, এইসব মোল্লা, মৌলভি, হুজুরদের ঠিক কত পার্সেন্ট দ্বারা ছোট ছোট ছেলে/মেয়ে ধর্ষিত হয়? যাক গে, আপনার কষ্ট একটু কমিয়ে দিই্‌,কি বলেন। ২০১৫ সালে এরকম কয়টা ঘটনা ঘটেছে এবং সেইসব রিপোর্টের সোর্স যেন কি কি?

      আবার বলিয়েন না যে প্রথম আলো পত্রিকার রেওয়াত অনুযায়ী… ইত্যাদি ইত্যাদি।

  21. ২১
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    এমনিতেই মুসলিমরা অনেক চাপের মধ্যে আছে বিশ্বজুড়ে, তাই হিজাব/নিকাব নিয়ে চাপাচাপি না করাই ভালো হবে।

    – সম্পূর্ন একমত। হিজাব নেকাবের চেয়েও ভয়াবহ বিষয়গুলোর দিকে নজর দেওয়া জরুরী – সেইটা হলো শিরক – যা খুবই সাধারন ভাবে মুসলিম সমাজে ঢুকে গেছে। বাংলাদেশে নাকি সবার পর্সোনাল পীর আছে – গতকাল দেখলাম একুশে টিভি দেওয়ানবাগীর বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। খুবই ভয়াবহ এই শিরক। 

     

    গত ১৪০০ বছরের মধ্যে এমন কঠিন সময় মুসলিমদের সামনে আর হয় নাই। সকল পরাশক্তি, চুপা শক্তি, শিয়া এম্পায়ার, ক্যাপিটালিস্ট, কম্যুনিষ্ট সবাই এক হয়ে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের কচুকাটা করতেছে। আর মুসলিমরা বিতর্কে লিপ্ত আছে "আমিন" কি আস্তে বলবো নাকি জোরে বলবো।

    – আমার মনে হয় এর চেয়েও খারাপ অবস্থা গেছে চেংগিস খানের আক্রমনের পর – বাগদাদেই এতো মানুষ হত্যা করা হয়েছিলো যে মঙ্গলরা শহর থেকে বাইরে গিয়ে তাবু গেড়েছিলো – কারন গলিত মৃতদেহের দূর্গন্ধ আর রোগবালাই প্রবল ভাবে ছড়াচ্ছিলো। 

     

    1. ২১.১
      মজলুম

      হালাকুর বাগদাদে গনহত্যা এবং জেরুজালেমে প্রথম  ক্রুসেডের সময় ভয়ংকর গনহত্যা হয়েছিলো। কিন্তু প্রথম ক্রুসেডের সময় বাদবাকি মুসলিম রাজ্যগুলো শক্তিশালি ছিলো, উদয় হয়েছিলো নুরুদ্দিন জণ্কি এবং সালাদিনের মত বীরদের।

      বাগদাদে হালাকুর গনহত্যার সময় মিশরের শক্তিশালী মামলুক সুলতান ছিলো, সিরিয়া শক্তিশালী ছিলো। এরাই হালাকুর গনহত্যা রোধ করে দেয়। এবং তাতারীদের পরাজিত করে।
      কিন্তু বর্তমানে ইরাক সম্পূর্ন ধংস, সিরিয়াও শেষ। অবস্হা খুবই ভয়াবহ সিরিয়ার। কুল্লু কুফফার ওয়াহেডুন। আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স সবাই মিলে কার্পেট বোম্বিং করে সিরিয়াকে সমান করে দিচ্ছে। শিয়াদের মধ্যে দ্বাদশী, নুসাইরী, ইসমাইলি, এবং এদের মধ্যে বিরোধ থাকলেও মুসলিমদের বিরুদ্বে সবাই এক। ইরান পাকিস্তানি শিয়া, আফগানি হাজারা শিয়া, ইরাকি শিয়া, হুতি শিয়া, লেবাননের শিয়া সবাইকে ট্রেনিং দিয়ে সিরিয়ায় পাঠাচ্ছে মুসলিম হত্যার জন্যে।

      এর সাথে  যোগ হয়েছে আই এস নামক বিষঁপোড়া। এদের ভাবলাম ইরাকি সুন্নিদের প্রটেকশান দিবে, উল্টা এরাও ইরাক এবং সিরিয়ার মুসলিমদের উপর গনহত্যা চালিয়ে একাকার।
      অবস্হা এখন এমন এক পর্যায়ে দাড়িয়েছে যে মধ্যেপ্রাচ্যে কেউ কোন গনহত্যা করতে চাইলে সমস্যা নাই, শুধু বলবে যে আমি আই এস এর বিরুদ্বে লড়াই করছি।

      যখন পৃথিবীর সকল কুফফার এক হয়ে মুসলিম নিধন করে যাচ্ছে, সেই সময়ে মিশরের মামলুক বা সালাদিনের মত কেউই নেই, কোন মুসলিম দেশই নেই যে এদের রুখবে। ৫৭ টা মুসলিম দেশ এবং এদের আর্মি সবই হিজড়া।

      তার উপর আছে মুসলিমদের ফেরকাবাজি। দেখুন লিবিয়াতে, সেখানে গাদ্দাফি নেই, কিন্তু ইসলাম পন্হিরা বিভিন্ন গ্রুপে দেশটা শাসন করে। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের লোকদের নির্মম ভাবে হত্যা করে।
      সিরিয়ার অবস্হা আরো ভয়াবহ। সকল কুফফার যখন এক তাদেরকে হত্যা করতে, তখন তারা তারা চেয়ে ও বেশী বিভক্ত। বিভিন্ন গ্রুপে, বিভিন্ন দলে, বিভিন্ন শেখের ছায়াতলে, বিভিন্ন শারীর তত্বাবধোনে চলে এই ফেরকা। কোনটা মডারেট রেবেল, কোনটা সেমি মডারেট রেবেল, কোনটা হাফ মডারেট রেবেল, কোনটা চরমপন্হী, সেমি, কোয়াটার, হাফ চরমপন্হী।

      তো মুসলিমদের যখন এই অবস্হা, বিশেষ করে খিলাফতহীন ১০০ বছরে যত ফেরকা তৈরী হয়েছে মুসলিমদের মধ্যে তা গত ১৩০০ বছরেও হয় নাই।
      এ জন্যেই বলেছি গত ১৪০০ বছরের মধ্যে এই রকম কঠিন সময় আর আসে নাই।

       

      1. ২১.১.১
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        যখন পৃথিবীর সকল কুফফার এক হয়ে মুসলিম নিধন করে যাচ্ছে, সেই সময়ে মিশরের মামলুক বা সালাদিনের মত কেউই নেই, কোন মুসলিম দেশই নেই যে এদের রুখবে।

         

        – যা দেখছি তাতো আমাদের কর্মেরই ফল। আল্লাহ পথ থেকে সরে গিয়ে নানান বিভক্তি – সব্‌ই দূর্বল তাকওয়ার লক্ষন। তবে আল্লাহ ইসলামকেই বিজয়ী করবেন – এবং এই জন্যে কাদের দায়িত্ব দেবেন তা আল্লাহর এখতিয়ার। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে টরন্টোয় হয়ে গেলো রিজ সন্মেলন – সেই সন্মেলন দেখলো বুঝা যায় ঈশান কোণে কোথাও একটা আলোর আভাস – সন্মেলনে আসা লোকজনের মধ্যে তরুনরাই বেশী – তারাই আশা। ইনশাল্লাহ ভাল সময় আসবেই। 

  22. ২২
    md. akhter

    আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব ও হাতমোজা পরিধান না করে। (সহীহ বুখারী ৪/৬৩, হাদীস : ১৮৩৮)

    এখানে কি এটাই প্রমাণ করে না যে ইহরামের বাইরে নেকাব ও হাতমোজা পরিধান করাটাই আল্লাহর রাসূলের সময় প্রচলন ছিল। আর সে কারণেই ইহরামে এর ব্যাতিক্রম করতে বলা হয়েছে।

    যেমন আমি বললাম জান বাঁচানোর জন্য ঐ বিশেষ মুহুর্তে শুকুরের গোস্ত খেতে পারবে। এর মানে এই নয় যে অন্য সময়ও খেতে পারবে। বরং হারাম।

    1. ২২.১
      এস. এম. রায়হান
      আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব ও হাতমোজা পরিধান না করে। (সহীহ বুখারী ৪/৬৩, হাদীস : ১৮৩৮)

      ১মত- সহীহ বুখারীতে এই রেফারেন্সে কোনো হাদিস নাই। এখানে দেখুন।

      ২য়ত- রাসূল (সাঃ)-এঁর সময় নারীদের প্রতি কোনো বিধান কি সকল সময়ের নারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়ে যায়?

      1. ২২.১.১
        মুহাম্মদ হাসান

        ১মত- সহীহ বুখারীতে এই রেফারেন্সে কোনো হাদিস নাই। এখানে দেখুন।

        এই হাদিস বুখারিতে আছে এখানে এবং এখানে ভাল করে দেখুন । বিভিন্ন প্রকাশনীর ভিন্নতার কারনে রেফারেন্স হেরফের হতে পারে  । 

    2. ২২.২
      এস. এম. রায়হান
      আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব ও হাতমোজা পরিধান না করে। (সহীহ বুখারী ৪/৬৩, হাদীস : ১৮৩৮)

      এখানে কি এটাই প্রমাণ করে না যে ইহরামের বাইরে নেকাব ও হাতমোজা পরিধান করাটাই আল্লাহর রাসূলের সময় প্রচলন ছিল। আর সে কারণেই ইহরামে এর ব্যাতিক্রম করতে বলা হয়েছে।

      এই হাদিসকে সত্য ধরে নিয়েঃ

      ১মত- বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরা যাক কোনো অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হলো যে, এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হলে নারীরা নিকাব পরতে পারবে না। তার মানে এটা ধরে নেওয়া যায় না যে, বাংলাদেশের সব নারীই নিকাব পরিধান করে। রাসূলুল্লাহ্‌র সময়ও হয়তো কিছু নারী নিকাব পরতেন।

      ২য়ত- এই ধরণের হাদিস মুসলিম নারীদের নিকাবের পক্ষে জাস্টিফিকেশন হতে পারে না। সেই সময়ের নারীরা বা কিছু নারী যা কিছু করেছেন সেগুলো সকল সময়ের নারীদের জন্য ফরজ/সুন্নাহ্‌ হতে পারে না। তাহলে মুসলিম নারীদের জন্য আরো অনেক কিছুই ফরজ/সুন্নাহ্‌ হয়ে যাবে। সকল সময়ের জন্য কোনো কিছু প্রযোজ্য হতে হলে সে বিষয়ে নারীদের উদ্দেশ্যে জেনারেলাইজড হাদিস থাকতে হবে। এই ধরণের কোনো হাদিস কেউ দেখাতে পারেনি।

      ৩য়ত- এর বিপরীত হাদিসও দেখেছি যেখানে রাসূলুল্লাহ্‌ জেনারেলাইজডভাবে নারীদের চেহারা ও হাতের অংশবিশেষ খোলা রাখতে বলেছেন-

      আয়েশা রাঃ বর্ণনা করেন যে, আসমা বিনতে আবী বকর রাঃ পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় রাসূল সাঃ-এর নিকট প্রবেশ করলেন। রাসূল সাঃ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বললেন, হে আসমা! নারী যখন যৌবনে পদার্পণ করে তখন তার এটা ওটা ব্যতীত প্রকাশ করা বৈধ নয়। তিনি চেহারা ও দু’কব্জির দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন। আবু দাঊদ হা/৪১০৬; মিশকাত হা/৪৩৭২, সনদ সহীহ।

      এই হাদিসটা একজনের পোস্ট থেকে নেওয়া হয়েছে, যাচাই করে দেখা হয়নি।

      1. ২২.২.১
        md. akhter

        ১। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের সাথে রাসূল সাঃ এর সময়ের তুলনা। আজীব। বাংলাদেশে এখন কত পার্শেন্ট পর্দা করে, আর তখন কয়জন পর্দা করতো না? মুসলমানদের মধ্যে কি আদৌ এমন ছিল। সুতরাং রাসূল সাঃ একটা বিশেষ অবস্থায় যেটা করতে নিষেধ করেছেন, সেটা যে স্বাভাবিক অবস্থায় সবার মধ্যে প্রচলন ছিল, সেটাই প্রমাণ করে।

        ২। ইসলামে যুক্তি আছে, কিন্তু যুক্তিনির্ভর নয়। আপনার এই যুক্তির অবস্থা মাকড়সার জালের মত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরা যাক কোনো কোম্পানীর পক্ষ থেকে বলা হলো যে, এই কোম্পানীতে যোগ দিতে হলে ডিউটি বাদ দিয়ে নামায পড়া যাবে না । তার মানে এটা ধরে নেওয়া যায় না যে, বাংলাদেশের সবাই কাজ কর্ম ফেলে নামায পড়ে। (কথা তো এতদুর পর্যন্ত সত্যি)। কিন্তু তাই বলে কি এই প্রেক্ষাপটকে রাসূলুল্লাহর সময়ের সাথে কানেক্ট করে বলা যাবে যে  রাসূলুল্লাহ্‌র সময়ও হয়তো কিছু মানুষ নামায পড়তেন। হাস্যকর।

        ৩। (ক) হাদীসটি মুনকাতা। যে বর্ণনাকারীর মধ্যস্থতায় হাদীসটি বর্ণনা করা হয়েছে, তার নাম উল্লেখ নাই।
            (খ) সনদ সহীহ? কিভাবে? এখানে তো রাবী সাঈদ ইবনে বশীর আল বসরী রহঃ আছেন, যাকে ইমাম আহমেদ ইবনে মঈন ইবনে মাদিনী এবং ইমাম নাসায়ী রহঃ দূর্বল বলেছেন। ইবনে মাহদী তাকে অনুপযুক্ত মনে করে পরিত্যাগ করেছেন।

             (গ) তাছাড়া হযরত আসমা বিনতে আবুবকর রাঃ এর বয়স ঐ সময় সাতাশ ছিল। এই বয়স্কা নারী রাসূলের সামনে পাতলা কাপড় পরিধান করে যাবে, যাতে তার হাত ও চেহারা ব্যাতীত অন্যান্য অঙ্গের আকৃতিও প্রকাশ পাবে, এটা সুস্থ বিবেকসম্পন্ন ব্যাক্তিবর্গের নিকট গ্রহনযোগ্য নয়। একজন মহিলা সাহাবীয়ার সাথে এই আচরণ মিলে না।

             (ঘ) তর্কের খাতিরে যদি মেনে নেওয়ায় যায় যে হাদীসটি '''শুদ্ধ''', তাহলে সেক্ষেত্রে এই অবকাশ আছে যে বলার যে ঐ ঘটনা পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পূর্বে। আর পর্দার আয়াত নাযিল হয়ে পূর্বের অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে।

        ৪। বুখারীর ঐ হাদীসের ব্যাখ্যায় কাযী আবু বকর ইবনে আরাবী রহঃ বলেন, নারীর জন্য বোরকা দ্বারা মুখমন্ডল আবৃত রাখা ফরয। তবে হজ্বের সময়টুকু এর ব্যতিক্রম। কেননা, এই সময় তারা ওড়নাটা চেহারার উপর ঝুলিয়ে দিবে, চেহারার সাথে মিলিয়ে রাখবে না। পরপুরুষ থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখবে এবং পুরুষরাও তাদের থেকে দূরে থাকবে। (আরিযাতুল আহওয়াযী ৪/৫৬)

        দুঃখিত মোল্লাদের রেফারেন্স দেওয়ার জন্য।

        1. ২২.২.১.১
          মুহাম্মদ হাসান

          ২। ইসলামে যুক্তি আছে, কিন্তু যুক্তিনির্ভর নয়। আপনার এই যুক্তির অবস্থা মাকড়সার জালের মত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরা যাক কোনো কোম্পানীর পক্ষ থেকে বলা হলো যে, এই কোম্পানীতে যোগ দিতে হলে ডিউটি বাদ দিয়ে নামায পড়া যাবে না । তার মানে এটা ধরে নেওয়া যায় না যে, বাংলাদেশের সবাই কাজ কর্ম ফেলে নামায পড়ে। (কথা তো এতদুর পর্যন্ত সত্যি)। কিন্তু তাই বলে কি এই প্রেক্ষাপটকে রাসূলুল্লাহর সময়ের সাথে কানেক্ট করে বলা যাবে যে  রাসূলুল্লাহ্‌র সময়ও হয়তো কিছু মানুষ নামায পড়তেন। হাস্যকর।

           চমৎকার বলেছেন ভাই । যুক্তির কোন আদি অন্ত নাই-আপনি আজকে এক যুক্তি দিয়ে একটা জিনিসকে বৈধ করবেন আগামীকাল আরেকজন এসে আপনার যুক্তিকে খন্ডন করে আবার সেটাকে অবৈধ করবেন, এভাবে চলতেই থাকবে । লেখক কুরআন হাদিসকে যেভাবে উনার যুক্তির আলোকে মানা যাবে কি যাবেনা বলে একের পর এক ফাতওয়া দিচ্ছেন এটা অত্যন্ত বিস্ময়কর । উনার মতে কুরআনে নাকি সরাসরি মাথা ঢাকার কথা উল্লেখ নাই! ভেবে ছিলাম উনি বুঝার চেষ্টা করবেন কিন্তু উনি উনার যুক্তির উপর অটল এবং তার সাথে আরও অনেক নতুন নতুন হাস্যকর যুক্তি খাড়া করছেন । আলেমদের মধ্যে কোন কোন বিসয়ে কয়েক ধরনের মত পাওয়া যায় এবং রাসুল সাঃ এর জীবদ্দশায়ও সাহাবারা একই বিষয়ের উপর দ্বিমত এবং ভিন্ন আমল করেছেন কিন্তু রাসুল সাঃ এটাকে "অধপতন" বলে আখ্যায়িত করেননি । এটা বুঝতে হলে ইসলামি শরিয়ার মূল নীতিকে ভালোভাবে জানতে হবে, দুই চারটি ডাক্তারি বই পড়ে যেমন ডাক্তার হওয়া যায়না  তেমনি শুধু কুরআন হাদিসের অনুবাদ পড়ে  মুজতাহিদ হওয়া যায়না । 

          1. Shahriar

            @hasan bhai,

            jajak-allah for your comments and explanation.

        2. ২২.২.১.২
          সত্য সন্ধানী

           সুতরাং রাসূল সাঃ একটা বিশেষ অবস্থায় যেটা করতে নিষেধ করেছেন, সেটা যে স্বাভাবিক অবস্থায় সবার মধ্যে প্রচলন ছিল, সেটাই প্রমাণ করে।

          স্বাভাবিক অবস্থায় সবার ভিতর প্রচলিত ছিল এই সিদ্ধান্তে চলে আসলেন এক লাফ দিয়ে। ব্যাপারটা অতি সরলীকরন হয়ে গেল। এ থেকে যেটা সবচেয়ে বেশি প্রমানিত হয় সেটা হল অনেকের মধ্যে এটা (নিকাব) প্রচলিত ছিল আর তাই বিশেষ অবস্থায় যেন মানুষ সেটা না করে। কাজেই আপনার ধরে নেয়া কথাটি-

          বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরা যাক কোনো কোম্পানীর পক্ষ থেকে বলা হলো যে, এই কোম্পানীতে যোগ দিতে হলে ডিউটি বাদ দিয়ে নামায পড়া যাবে না । তার মানে এটা ধরে নেওয়া যায় না যে, বাংলাদেশের সবাই কাজ কর্ম ফেলে নামায পড়ে। (কথা তো এতদুর পর্যন্ত সত্যি)। কিন্তু তাই বলে কি এই প্রেক্ষাপটকে রাসূলুল্লাহর সময়ের সাথে কানেক্ট করে বলা যাবে যে  রাসূলুল্লাহ্‌র সময়ও হয়তো কিছু মানুষ নামায পড়তেন। 

          আমি একটু অন্যভাবে ধরি কেমন?

          ★★★আজকাল অনেকেই কাজের (জব বা ব্যবসা) ফাকে ফাকে মোবাইলে ভিডিও গেম যেমন ক্ল্যাশ অব ক্ল্যান খেলেন। যেটা অবশ্যই লুকিয়ে করা হয় কারন অনেক কোম্পানীই মোবাইল অ্যালাউ করে না কাজের সময়।

          কিন্তু তবু ফেসবুক ব্যবহার ভলে, সাথে গেম খেলাও।

          যে ব্যবসা করে এমন বাধ্যবাধকতা তার নেই। কোম্পানী এটা আলাউ করেনা কারন এতে কাজের ক্ষতির আশংকা থাকে এবং নিজেদের লসের ভয়ে তারা সেটার অনুমতি দেয় না।

          তার মানে এই না যে বাংলাদেশের সবাই কাজের সময় অবধারিত ভাবে ভিডিও গেম খেলবেই বা ফেসবুক ব্যবহার করবেই।

          কিছু লোক কাজের সময় এটা করে, এবং যেন তারা না করেন কাজের সময় সেই জিনিসগুলো সেজন্যই কোম্পানী মানা করেছে।★★★

          কাজেই এভাবেই বিষয়টা চিন্তা করলেই কিন্তু সুন্দর ভাবেই বুঝা যায় যে কিছু মহিলা নিকাব পড়তেন, কিন্তু তারা যেন বিশেষ অবস্থায় সেটা না করেন (নিকাব না পড়েন) সে জন্যেই বিশেষ অবস্থায় করতে নিষেধ করেছেন। এভাবে চিন্তা করাটাই বাস্তবসম্মত কারন কুরানে সরাসরি পর্দার সীমা টেনে দেয়া হয়েছে।  

          কাজেই যুক্তির তখনি দরকার হয় যেখানে জিনিসটা অস্পষ্ট থাকে, সুস্পস্ট যেখানে উল্লেখ করা আছে পর্দা কি এবং সেটা কুরান শরীফেই আছে, সেখানে যুক্তি তর্কের সুযোগ নেই। কুরান আল্লাহ পাকের কথা কাজেই এটা সম্পুর্নই যৌক্তিক, কাজেই এখানে ব্যখ্যা বিশ্লেষনের সুযোগ কম যদি সেটা সুস্পষ্ট আয়াত হয়।

          1. md. akhter

            ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব ও হাতমোজা পরিধান না করে। (সহীহ বুখারী ৪/৬৩, হাদীস : ১৮৩৮)

            তার মানে এইনা যে একজন নারী ইহরাম অবস্থায় তার নেকাব বা বোরখা খুলে একজন গায়ের মাহরাম পুরুষের সামনে তার চেহারা উন্মুক্ত রাখবেন। বরং তিনি নেকাব বা বোরখা ছাড়া অন্য কোনো কিছু দিয়ে পর্দা করবেন, যেমনটা আয়িশাহ (রাঃ) এর হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে।

            মা আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে ইহরামে থাকা অবস্থায় ছিলাম। পথচারীগণ আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত। তারা আমাদের নিকট আসলে আমরা মাথার উপর থেকে খিমার চেহারার উপর ফেলে দিতাম। তারা চলে গেলে সেটা উঠিয়ে নিতাম।

            সুনানে আবু দাউদঃ ১৮৩৩, ফাতহুল বারী ৩/৪৭৪।

            এখন কিছু পন্ডিত হয়ত বলতে পারে যে আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য শুধু মাত্র এই হুকুম। কিন্তু হাদিসে ‘আমরা’ শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। আর এই আমরা যে সকল মু’মিনিন নারীদের জন্য প্রযোজ্য, সেটাও কুরান বলছে-

            “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিন নারীদেরকে বলুনঃ তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।”

            সুরা আল-আহজাব, আয়াত ৫৯।

  23. ২৩
    এস. এম. রায়হান

    এখানে একটি প্রশ্ন করা হচ্ছে। প্রশ্নটা শুনে কেউ হেসে উড়িয়ে না দিয়ে পারলে জবাব দেবেন। প্রশ্ন হচ্ছে পুরুষদের জন্য নিকাব পরিধান ইসলামের কোনো বিধানকে লঙ্ঘন করে কি? 'হ্যাঁ' অথবা 'না'। উত্তর যদি 'হ্যাঁ' হয় তাহলে কোরআন-সুন্নাহ্‌ থেকে প্রমাণ দিতে হবে যেখানে বলা আছে পুরুষরা নিকাব পরতে পারবে না। আর উত্তর যদি 'না' হয় তাহলে মুসলিম পুরুষদের কেউই নিকাব পরিধান করে না কেন, বিশেষ করে যারা নারীদেরকে নিকাব পরাতে চায়?

    1. ২৩.১
      এস. এম. রায়হান

      কী ব্যাপার, কারো কোনো সারাশব্দ নেই যে! পুরুষদের জন্য চেহারা ঢেকে রাখা কি হারাম বা না-জায়েজ?

  24. ২৪
    মাহফুজ

    আপনারটার সাথে আরেকটি প্রশ্ন-

    অনেক আলেম/হুজুর/ইমাম সাহেবদেরকে মাথায় ঘোমটা হিসেবে স্কার্ফ/গামছা/সাদা কাপড় দিতে দেখা যায় কেন?

    এটি কার নির্দেশ?

    1. ২৪.১
      md. akhter

      মাথা ঢেকে রাখা সুন্নাত। সেই হিসেবে অনেক আলেম/হুজুর/ইমাম স্কার্ফ বা গামছা বা সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন। ব্যাস এটুকুই। তাছাড়া উনারা কি বলেছেন যে এই স্কার্ফ বা গামছা বা সাদা কাপড় মাথায় দেওয়া ফরয? সবাই তো পড়েন না। শুধু টুপি পড়ে অনেকেই।

      আর এটি কার নির্দেশ?

      মাথা ঢেকে রাখা আল্লাহর রাসূলের সুন্নাত। এখানে আল্লাহর রাসূলের ভালবাসায় একজন মু’মিন এটা করতেই পারে। অবশ্য অনেকের জন্য সেটা বুঝাটাও তার ক্যাপাসিটির বাইরে।

  25. ২৫
    এস. এম. রায়হান

    এই পোস্টের উপর ভিত্তি করে একজন সহি নিকাবপন্থীর স্ট্যাটাস

    সদালাপ ব্লগের কতিপয় তথাকথিত ইসলামিস্ট (?) ব্লগারদের লেখা পড়লে মনে হয় কোন "ঈমানদার শাহবাগি"র লেখা পড়ছি। এদের আইডিওলোজি আসলে কী তা বুঝাই টাফ। আম্রিকি মডারেইটদেরও দেখি এরা হার মানাবে। এরা নাস্তিকতার বিরুদ্ধে লিখে আবার থাবা বাবা, অভিজিতের জন্যও নাকের জল, চোখের জল এক করে ফেলে। নাস্তিক, কুফফার ও সেক্যুলার মুরতাদরা যেন ইসলামকে খারাপ(!) চোখে না দেখে সেজন্য এরা বদ্ধপরিকর। এজন্য কোন বরকতময় ঘটনা ঘটার সাথেই এরা ম্যা ম্যা শুরু করে দেয় আর জিকির জপে “ইসলামের সাথে এর সম্পর্ক নেই”, ইসলামে এমন নেই, তেমন নেই। অথচ নিজেদের মাঝে ইসলাম আছে কিনা সন্দেহ আছে! এদের একজনের ছবি দেখলাম ক্লিনশেইভড! পিএইচডি করা জনৈক ব্লগারের একটা লেখার শিরোনাম দেখলাম গতকাল “হিজাবকে হ্যাঁ বলুন, নিকাবকে না বলুন”। হেফাজতের আন্দোলনের সময়ও এরা ইনিয়ে বিনিয়ে হুজুররা কী কী জায়গায় ভুল তা খুঁজতেই ব্যস্ত ছিল। আর কিছু বেকুব ভ্রাতা নাস্তিকতার বিরুদ্ধে এরা লেখে বলে এদেরকে মাথায় তুলে নাচেন। ভার্চুয়াল জগতে "ইসলাম" শব্দটি দেখেই বিভ্রান্ত হবেন না, হক চেনার জন্য ইলম অর্জন করুন, হকপন্থী আলিমদের সোহবতে থাকুন আর আল্লাহ্‌ সুবহানু তায়ালার কাছে হক পথ পাওয়ার জন্য চাইতে থাকুন। আল্লাহ্‌ যেন এই নব্য ফিতনাবাজদের হাত থেকে সবাইকে হিফাজত করেন। আল্লাহু মুসতায়ান।

    এদের হাতে কোনোভাবে ক্ষমতা গেলে বাংলাদেশকে জীবন্ত নরক বানিয়ে ফেলা হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাসময়ে এদের লাগাম টেনে ধরা না হলে সবার কপালেই দুঃখ আছে।

    1. ২৫.১
      মজলুম

      আপনার খবর আছে! জলদি হাটহাজারি গিয়ে শফি সাহেবের হাতে বাইয়াত নিয়ে মুরিদ হন। হ্ক্কানি আলেমদের সোহব্বতে থাকেন। নইলে বরকতময় ঘটনা আপনার উপরও ঘটার সম্ভাবনা আছে! আপনাদের খালি দোষায়, হেফাজতের কেন্দ্রীয় মুখপাত্রও ৭১ টিভিকে বলেছিলো এক নাস্তিককে হত্যার পর যে বেআইনি হত্যা ইসলাম সমর্থন করেনা।

      1. ২৫.১.১
        এস. এম. রায়হান

        আপনার ছবি দেখে আপনাকে 'ক্লিনশেইভড' বলা হয়েছে। আপনিও সাবধান হয়ে যান। 🙂

        হেফাজতের কেন্দ্রীয় মুখপাত্রও ৭১ টিভিকে বলেছিলো এক নাস্তিককে হত্যার পর যে বেআইনি হত্যা ইসলাম সমর্থন করেনা।

        তাহলে তো ঐ হুজুরেরও খবর আছে!!!

        1. ২৫.১.১.১
          মজলুম

          এইটা ম্যালকম এক্সের ছবি। বেচারা ঐ জামানায় ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে মুসলিম হইছে। এই জামানায় থাকলে আর এই জামানার মুসলিম দেখলে সে হয়তো আর মুসলিমই হইতোনা। তার উপর সে দাঁড়ি রাখতনা।  

          ভার্চুয়াল জগতে "ইসলাম" শব্দটি দেখেই বিভ্রান্ত হবেন না, হক চেনার জন্য ইলম অর্জন করুন, হকপন্থী আলিমদের সোহবতে থাকুন

           

          এইটা পইড়া কম্বলের নিচে আমি হাসতে হাসতে শেষ। 

          1. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

            সোহবত বিষয়টা কি? 

          2. মজলুম

            পেয়ার হলো হিন্দী শব্দ, প্রেম হলো সংস্কৃত শব্দ, কিন্তু দুটোর মানে হলো শুধু লাভ। ফার্সি ইশক শব্দটার মানে শুধু লাভ নয় বরং এক্সট্রিম ফর্ম অব লাভ। আর মোহাব্বাত শব্দটা আরবী মোহাব্বা বা লাভ শব্দ হতে এসেছে ফার্সী/তুর্কি ভাষায়, যার মানে হলো রোমান্স। অনেকের মতে এই ইশক এবং মোহাব্বাতের মিশ্রনে হয়েছে সোহব্বত শব্দটা। যার মানে হলো স্পর্শ/ সংস্পর্শের রোমান্টিক লাভ। এটার আবার অনেকগুলো মিনিং পাওয়া যায়, কেউ ব্যবহার করে কাছে থেকে আদর সোহাগ করার জন্যে, যা স্বামী স্ত্রী বলতে পারে যে আসেন আপনাকে সোহাব্বাত করি।

            তেমনি অনেক পীর বন্ধ্যা নারীদের সোহাব্বাত! করে যেন তাদের  সন্তান হয়। কেউ আবার এটার মিনিং করে কাছে থাকার।

    2. ২৫.২
      সত্য সন্ধানী

      ভাই, অবস্থা বেশ গুরুতর। আমি স্টাটাসের লিংক্টা আজকেই প্রথম চেক করলাম! একজন তো সদালাপকে ইসলাম বিদ্বেষীদের আখড়াও বানিয়ে দিয়েছে, যেখানে সদালাপে সবসময় ইসলামের বিষয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ইসলাম বিদ্বেষীদের মুখোশ উন্মচোন করেছে।

      আসলে যারা এই স্টাটাসে ভয়াবহ সব মন্তব্য করছে আমি এখন এদের উদ্যেশ্য নিয়ে সন্দিহান। এরা সবাই কি ধর্মান্ধ মুসলিম নাকি এদের ফাকে (এদের পাশাপাশি) কিছু ছদ্মনাস্তিক বানরও ইসলামিক নামের আড়ালে ফিতনা সৃষ্টির তালে আছে কিনা বুঝতে পারছি না। এমন কি আপনাকে ইনবক্সেও সাইজ করার পরামর্শ দিয়েছে একজন সেটাই দেখলাম।

      কোন কিছু ধংস করতে হলে নাকি তাদের একজন হয়েই ভালভাবে ধ্বংস করা যায়। এদের মধ্যেও অনেকে আকাশ মালিকের মত হাড় বজ্জাত টাইপের কিনা বুঝতে পারছি না!

      শয়তান যে কিভাবে কোন মাধ্যমে আক্রমন চালায় সেটা আল্লাহই ভাল জানেন!

      1. ২৫.২.১
        md. akhter

        থামুন মশাই, থামুন। আপনাকে বেশ উত্তেজিত দেখাচ্ছে।

        আসলে যারা এই স্টাটাসে ভয়াবহ সব মন্তব্য করছে আমি এখন এদের উদ্যেশ্য নিয়ে সন্দিহান।

        ভয়াবহ সব মন্তব্যগুলো দেখতে চাচ্ছিলাম।

        1. ২৫.২.১.১
          সত্য সন্ধানী

           মানুষ যখন না পড়েই সিদ্ধান্ত নেয় অথবা চোখ বন্ধ রেখে দেখার চেষ্টা  তখন এমন হয়। উপরে দেখছেন না যে রায়হান ভাইয়ের দেয়া লিংকটার প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেছি? লিংক ফলো করেন মন্ত্যব্য গুলো দেখতে পাবেন।

          ওটা একটা ফেসবুক লিংক।

          1. md. akhter

            সেখানে এমন কোন ভয়াবহ কমেন্ট পাইনি বলেই বলছি, ভয়াবহ কমেন্টগুলো কোথায়?

        2. ২৫.২.১.২
          সত্য সন্ধানী

          সেখানে এমন কোন ভয়াবহ কমেন্ট পাইনি বলেই বলছি, ভয়াবহ কমেন্টগুলো কোথায়?

          https://mobile.facebook.com/91miracle/posts/10205238919194361?refsrc=http%3A%2F%2Fwww.shodalap.org%2Fsmraihan%2F31328%2F&_rdr 

          দেখেন আখতার সাহেব। আগেও দেখেছিলেন নাকি দেখেও না দেখার ভান করছিলেন আল্লাহ ভাল জানেন।

          সদালাপ সবসময় ইসলাম বিদ্বষীদেরযায়গা, লেখক রায়হান ভাইকে ইনবক্সে সোজা করা হবে, এরা কাফেরদের সন্তুষ্টি আদায়ে ব্যস্ত, এইসব আরকি। এইসব কি আপনার সাধারন কথা মনে হয়? এইগুলা কি মুসলিম সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করবে না?

          অবশ্য আপনাকে এইসব জিজ্ঞেস করে লাভ নাই, কারন আপনিও একই নায়ের যাত্রি বলেই মনে হচ্ছে।

          আমি আর কথা বাড়াতাম না, কিন্তু সমানে হিট করেই চলেছেন বলেই মন্তব্য লিংক আবার কপি করলাম।

  26. ২৬
    মজলুম

    এদের হাতে কোনোভাবে ক্ষমতা গেলে বাংলাদেশকে জীবন্ত নরক বানিয়ে ফেলা হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাসময়ে এদের লাগাম টেনে ধরা না হলে সবার কপালেই দুঃখ আছে।

    ধরেন বাংলাদেশে হাসিনা, খলেদা নাই হয়ে গেলো। ইসলামি দলগুলো ক্ষমতায় আসলো, তখন দেখবেন দেশে একটা ফুল স্কেলে গৃহযুদ্ধ হবে শুধু ইসলামিস্টদের মধ্যেই। মওদুদি জামাত শিবির বনাম দেওবন্দি/কওমি বনাম বেরেলভি/রেজবি বনাম নব্য আহলে হাদিস সালাফি গ্রুপদের মধ্যে চতুর্মুখি যুদ্ধ। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে কাফির ঘোষণা দিয়ে নিজ নিজ এলাকায় নিজস্ব শরিয়া গঠন করে হত্যাকাণ্ড শুরু করবেন।

    দেওবন্দি, বেরেলভি, সালাফিদের মধ্যে আবার অনেকগুলো সাব সাব গ্রুপ আছে, আছে কোন্দল। ঐ সময় এইসব কোন্দল আরো প্রকাশ্যে রুপ নেবে। এই বড় চার গ্রুপ ছাড়াও আরো শত শত ফেরকা গ্রুপ আছে। ওরা তখন যোগ দিবে ঐ কোন্দলে, কারো সাথে কেউ হয়তো জোট করবে বা জোট জোট ছাড়া লড়াই করবে।

    তারপর এই দলগুলোর মতে দেখা যাবে যে বাংলাদেশে মুসলমান নাই, সব কাফির। ধীরে ধীরে মানুষ সব মইরা ছাপ শরিয়ার আন্ডারে। অতপর দেখা গেলো শরিয়াহ ঠিকই আছে কিন্তু ওদের এলাকায় মানুষ নাই। কিছু মানুষ মারছে, কিছু মানুষ ভাগছে, কিছুরে না খাওয়াইয়া হাড্ডিসার কইরা রাখছে। সাধারণ মানুষ এই ইসলামীদের শরিয়াহ আইন হতে বাঁচার জন্যে ভারত, মিয়ানমার বর্ডার দিয়া ভাগতেছে। কিছু লোক মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডে ভেগে যাওয়ার সময় বঙ্গপসাগরে ডুবে মরছে। বিভিন্ন দেশের সমুদ্র সৈকতে ভেসে উঠছে বাঙালি শিশুর মৃত লাশ।

    তারপর দেখা গেলো দেশে ইসলামিস্টদের নিজেদের মধ্যে মারামারি আছে, আছে ইসলামি শরিয়াহ আইন, কিন্তু মানুষ আর নাই।

    1. ২৬.১
      মুহাম্মদ হাসান

      বাস্তবতাকে খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন । ইসলামি শিক্ষায় কম শিক্ষিত বা অর্ধ শিক্ষিত বা জাহিল কিন্তু ইসলামের বিধিবিধানের উপর দস্তুর ফাতওয়া দিয়ে যাচ্ছেন  এই দলেরও কিন্তু আবির্ভাব হচ্ছে যেটা ঐসব দলের চেয়েও কোন আংশে কম না ।  এদের মধ্যেও আবার অনেক দলাদলি আছে ।  দলাদলি যত কমানো যায় ততই মংগল । 

    2. ২৬.২
      এস. এম. রায়হান

      আমি দুই লাইনে যা বুঝাতে চেয়েছিলাম তার চমৎকার ব্যাখ্যা আপনি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। এটাই দেশের ভবিষ্যত বাস্তবতা যা এড়িয়ে যাওয়া হলে পুরো দেশবাসীকে চরম মাশুল দিতে হবে।

  27. ২৭
    এস. এম. রায়হান

    নিকাবপন্থীদের কেউ কেউ অন্ধভাবে মাসিক আল কাউসারের একটি লেখার লিঙ্ক শেয়ার দিচ্ছেন। সেই লেখা থেকে সবার সুবিধার জন্য নিকাব বিষয়ে শুধু কোরআনের অংশটা নিচে কপিপেস্ট করা হলো-

    এক.

    হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব : ৫৯)

    আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদেরকে আদেশ করেছেন যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে তখন যেন মাথার উপর থেকে ওড়না/চাদর টেনে স্বীয় মুখমন্ডল আবৃত করে। আর (চলাফেরার সুবিধার্থে) শুধু এক চোখ খোলা রাখে।- ফাতহুল বারী ৮/৫৪, ৭৬, ১১৪

    ইবনে সীরিন বলেন, আমি (বিখ্যাত তাবেয়ী) আবীদা (সালমানী রাহ.)কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, কাপড় দ্বারা মাথা ও চেহারা আবৃত করবে এবং এক চোখ খোলা রাখবে

    লক্ষণীয়- উভয় ব্যাখ্যায় শুধু এক চোখ খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। যারা নিকাব পরিধান করেন তারা কি এক চোখ খোলা রাখেন? নিকাবপন্থী হুজুররা কি এক চোখ খোলা রাখার কথা বলেন!? যারা মাসিক আল কাউসারের এই লেখাকে অন্ধভাবে সমর্থন করেন তাদের মতামত কী?

    দুই.

    তোমরা তাঁদের (নবী পত্নীদের) নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাও। এই বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। তোমাদের কারো জন্য আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়া সংগত নয় এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পত্নীদেরকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য কখনো বৈধ নয়। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা ঘোরতর অপরাধ। (সূরা আহযাব (৩৩) : ৫৩)

    এই আয়াত থেকেও বোঝা যায়, নারীর দেহের কোনো অংশই পর্দা-বিধানের বাইরে নয়। উম্মুল মুমিনীনগণের আমলও তা প্রমাণ করে। এই আয়াতে যখন পর্দার বিধানকে সাহাবায়ে কেরাম ও উম্মুল মুমিনীনদের জন্যও অধিকতর পবিত্রতার উপায় বলা হয়েছে তখন উম্মতের আর কে আছে যে এই বিধানের বাইরে থাকতে পারে?

    লক্ষণীয়- এই আয়াত কিন্তু বিশেষভাবে নবী পত্নীদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। তাছাড়া এখানে চেহারা ঢেকে রেখে চলাফেরা করার কোনো প্রসঙ্গ নেই। বাড়ির মধ্যে পর্দার আড়াল থেকে কথাবার্তা বা লেনদেন করা হলে তো এমনিতেই কেউ কাউকে দেখতে পাওয়ার কথা নয়।

    তিন.

    (হে নবী!) মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। তারা যেন সাধারণত যা প্রকাশ থাকে তা ছাড়া নিজেদের আভরণ প্রদর্শন না করে। (সূরা নূর : ৩১)

    হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, ‘সাধারণত যা প্রকাশিত’ অর্থ হচ্ছে কাপড়।- তাফসীরে তাবারী ১৮/১১৯

    এই ব্যাখ্যা অনুসারে প্রতীয়মান হয় যে, গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর মুখমন্ডলসহ পূর্ণ দেহ আবৃত রাখা অপরিহার্য।

    লক্ষণীয়- ‘সাধারণত যা প্রকাশিত’ অর্থ যদি 'কাপড়' হয় তাহলে নারীরা কী পরিধান করে বাইরে বের হবে? কাপড় না দেখানোর জন্য তাহলে পোশাকের উপর ছালার বস্তা জাতীয় কিছু পরতে হবে নিশ্চয়!

    চার.

    তারা যেন গ্রীবা ও বক্ষদেশ মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে। … (সূরা নূর : ৩১)

    উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন,

    আল্লাহ তাআলা প্রথম শ্রেণীর মুহাজির নারীদের প্রতি দয়া করুন। আল্লাহ তাআলা যখন

    وليضربن بخمرهن على جيوبهن

    আয়াত নাযিল করলেন তখন তারা নিজেদের চাদর ছিঁড়ে তা দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করেছিলেন।-সহীহ বুখারী ২/৭০০

    উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন-‘ফাখতামারনা’ অর্থ তারা মুখমন্ডল আবৃত করেছেন।-ফাতহুল বারী ৮/৩৪৭

    আল্লামা আইনী রাহ. বলেন-‘ফাখতামারনা বিহা’ অর্থাৎ যে চাদর তারা ছিঁড়ে ফেলেছিলেন তা দিয়ে নিজেদের মুখমন্ডল আবৃত করলেন। (উমদাতুল কারী ১৯/৯২)

    আল্লামা শানকীতী রাহ. বলেন, এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, উপরোক্ত মহিলা সাহাবীগণ বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মুখমন্ডল আবৃত করারও আদেশ করেছেন। তাই তারা আল্লাহ তাআলার আদেশ পালনার্থে নিজেদের চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে মুখমন্ডল আবৃত করেছেন।

    কার মধ্যে কী সব ঢুকিয়ে দিয়ে নিকাবের পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়েছে!

    পাঁচ.

    তারা যেন তাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা নূর :  ৩১)

    এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, পরপুরুষকে আকৃষ্ট করে এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকা ঈমানদার নারীর কর্তব্য। কারণ পরপুরুষকে নুপুরের আওয়াজ শোনানোর উদ্দেশ্যে সজোরে পদবিক্ষেপ যখন নিষেধ করা হয়েছে তখন যে সকল কাজ, ভঙ্গি ও আচরণ এর চেয়েও বেশি আকৃষ্ট করে তা নিষিদ্ধ হওয়া তো সহজেই বোঝা যায়। মুসলিম নারীদের জন্য এটি আল্লাহ রাববুল আলামীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

    এত ইনিয়ে-বিনিয়ে ব্যাখার পরও কোরআনে নারীদের চেহারা ঢেকে রাখার বিধান পাওয়া গেল কি?

    নোট: এতদিন ধরে জেনে এসেছি কোরআনের ব্যাখ্যা হচ্ছে রাসূল (সা)-এঁর হাদিস। অথচ কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যায় হাদিসের উদ্ধৃতি না দিয়ে কিছু মানুষের ব্যাখাকে ‘আল্লাহ্‌র বিধান’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে! আরো মজার বিষয় হচ্ছে সেই ব্যাখ্যাগুলোকেও পুরোপুরি অনুসরণ করা হচ্ছে না! যেমন, সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতের প্রেক্ষিতে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও ইবনে সীরিনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এক চোখ খোলা রাখতে হবে। অথচ বাস্তবে নিকাবী নারীরা দুই চোখই বন্ধ বা খোলা রাখে! নিকাবপন্থী পুরুষরাও এ নিয়ে কিছুই বলে না! ঘটনা কী? ইসলামের নামে এই দ্বিচারিতা আর গোঁড়ামির শেষ কোথায়?

    1. ২৭.১
      এস. এম. রায়হান

      এবার একই লেখায় হাদিস দিয়ে নিকাবকে কীভাবে 'ফরজ' বানানো হয়েছে তা একে একে দেখা যাক-

      পর্দার বিধান হাদীস শরীফে

      ১. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

      নারী হল সতর তথা আবৃত থাকার বস্ত্ত। নিশ্চয়ই সে যখন ঘর থেকে বের হয় তখন শয়তান তাকে মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকে। আর সে যখন গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করে তখন সে আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বেশি নিকটে থাকে।-আলমুজামুল আওসাত, তবারানী

      এই হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া উচিত নয়।

      – এখানে হাদিসের কোনো রেফারেন্স দেওয়া হয়নি। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া উচিত নয়। কিন্তু 'বিনা প্রয়োজনে' কথাটার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কাজেই শিক্ষা ও চাকুরির জন্য ঘর থেকে বের হওয়া 'বিনা প্রয়োজন'-এর মধ্যে পড়বে কি-না, এইটা হচ্ছে মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন! তবে এই হাদিসে নারীদের চেহারা ঢেকে রাখার কোনো বিধান নেই। নিকাবকে ডিফেন্ড করার জন্য ইচ্ছেমতো হাদিস কোট করে ইচ্ছেমতো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে!

      ২. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
      ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব ও হাতমোজা পরিধান না করে। (সহীহ বুখারী ৪/৬৩, হাদীস : ১৮৩৮)
       

      কাযী আবু বকর ইবনে আরাবী বলেন, নারীর জন্য বোরকা দ্বারা মুখমন্ডল আবৃত রাখা ফরয। তবে হজ্বের সময়টুকু এর ব্যতিক্রম। কেননা, এই সময় তারা ওড়নাটা চেহারার উপর ঝুলিয়ে দিবে, চেহারার সাথে মিলিয়ে রাখবে না। পরপুরুষ থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখবে এবং পুরুষরাও তাদের থেকে দূরে থাকবে। (আরিযাতুল আহওয়াযী ৪/৫৬)

      – রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব ও হাতমোজা পরিধান না করে। এর ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে- নারীর জন্য বোরকা দ্বারা মুখমন্ডল আবৃত রাখা ফরয। ক্যামনে কী! এভাবে কোনো কিছুকে কি সকল সময়ের সবার জন্য ফরয বানানো যায়?

      ৪. ওকবা ইবনে আমের জুহানী রা.-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-তোমরা নারীদের নিকট যাওয়া থেকে বিরত থাক। এক আনসারী সাহাবী আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! স্বামী পক্ষীয় আত্মীয় সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললে, সে তো মৃত্যু। -সহীহ বুখারী ৯/২৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২১৭২; জামে তিরমিযী, হাদীস : ১১৭১; মুসনাদে আহমাদ ৪/১৪৯, ১৫৩

      এই হাদীসে বেগানা নারী-পুরুষের একান্ত অবস্থানকে নিষেধ করা হয়েছে এবং এ প্রসঙ্গে স্বামী পক্ষীয় আত্মীয়-স্বজন যেমন দেবর-ভাসুর ইত্যাদির সাথে অধিক সাবধানতা অবলম্বনকে অপরিহার্য করা হয়েছে।

      – এখানে নারীদের জন্য চেহারা ঢেকে রাখার বিধান কোথায়!

    2. ২৭.২
      এস. এম. রায়হান
       ৫. হযরত আয়েশা রা. ইফ্কের দীর্ঘ হাদীসে বলেছেন- আমি আমার স্থানে বসে ছিলাম একসময় আমার চোখ দুটি নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল আসসুলামী ছিল বাহিনীর পিছনে আগমনকারী। সে যখন আমার অবস্থানস্থলের নিকট পৌছল তখন একজন ঘুমন্ত মানুষের আকৃতি দেখতে পেল। এরপর সে আমার নিকট এলে আমাকে চিনে ফেলল। কারণ পর্দা বিধান অবতীর্ণ হওয়ার আগে সে আমাকে দেখেছিল। সে তখন ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলে ওঠে, যার দরুণ আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি এবং ওড়না দিয়ে নিজেকে আবৃত করে ফেলি।
      অন্য রেওয়ায়েতে আছে, আমি ওড়না দিয়ে আমার চেহারা ঢেকে ফেলি।-সহীহ বুখারী ৫/৩২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৭৭০; জামে তিরমিযী, হাদীস : ৩১৭৯

      – বিশেষ একটি মুহূর্তে আয়েশা রা. হঠাৎ করে ঘুম থেকে জেগে উঠে ভয় পেয়ে ওড়না দিয়ে নিজেকে আবৃত করেছিলেন বা চেহারা ঢেকে ফেলেছিলেন। ভয় বা লজ্জা পেলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেই কাপড়/রুমাল দিয়ে চেহারা ঢাকে। কিন্তু আয়েশা রা.-এর বিশেষ একটি ঘটনার দ্বারা কী করে সকল সময়ের নারীদের জন্য চেহারা ঢেকে রাখা ফরয হয়ে গেল! এভাবেই কি ফরয নির্ধারণ করা হয়?

      ৬.  উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. বলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। উম্মুল মুমিনীন মায়মুনা রা.ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম উপস্থিত হলেন। এটি ছিল পর্দা বিধানের পরের ঘটনা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার সামনে থেকে সরে যাও। আমরা বললাম, তিনি তো অন্ধ, আমাদেরকে দেখছেন না?! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরাও কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখছ না?-সুনানে আবু দাউদ ৪/৩৬১, হাদীস : ৪১১২; জামে তিরমিযী ৫/১০২, হাদীস : ২৭৭৯; মুসনাদে আহমাদ ৬/২৯৬; শরহুল মুসলিম, নববী ১০/৯৭; ফাতহুল বারী ৯/২৪৮

      ৭. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম তখন আমাদের পাশ দিয়ে অনেক কাফেলা অতিক্রম করত। তারা যখন আমাদের সামনাসামনি চলে আসত তখন আমাদের সকলেই চেহারার ওপর ওড়না টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার তা সরিয়ে নিতাম।-মুসনাদে আহমাদ ৬/৩০; ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২৯৩৫

      – এই দুটি হাদিসও নবী পত্নীদের নিয়ে। নবী পত্নীদের নিয়ে তো অনেক ঘটনাই আছে। সেগুলোও কি তাহলে মুসলিম নারীদের সকল সময়ের জন্য প্রযোজ্য হবে?

    3. ২৭.৩
      এস. এম. রায়হান
      ৮. আসমা বিনতে আবু বকর রা. বলেন, আমরা পুরুষদের সামনে মুখমন্ডল আবৃত করে রাখতাম। …-মুসতাদরাকে হাকেম ১/৪৫৪

      এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, সাহাবা-যুগের সাধারণ মহিলারাও গায়র মাহরাম পুরুষ থেকে নিজেদের চেহারা আবৃত করতেন। কারণ আসমা বিনতে আবি বকর রা. এখানে বহুবচন ব্যবহার করেছেন। যা প্রমাণ করে উম্মুল মুমিনগণ ছাড়া অন্য নারীরাও তাদের মুখমন্ডল আবৃত রাখতেন।

      ৯. ফাতিমা বিনতে মুনযির রাহ. বলেন, আমরা আসমা বিনতে আবু বকর রা.-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় থাকাকালে আমাদের মুখমন্ডল ঢেকে রাখতাম।-মুয়াত্তা, ইমাম মালেক ১/৩২৮; মুসতাদরাকে হাকেম ১/৪৫৪

      রাসূল (সাঃ)-এঁর সময় তাঁর পত্নীগণ ও আশেপাশের পরিচিত নারীরা পর-পুরুষদের সামনে মুখমণ্ডল আবৃত করতেন। ইহরাম অবস্থায় থাকাকালে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখতেন।

      কিন্তু কোনো হাদিসেই মুসলিম নারীদের চেহারা ঢেকে রাখার জন্য জেনারেলাইজড কোনো বিধান পাওয়া গেল না!

      1. ২৭.৩.১
        মাহফুজ

        বিভিন্ন ধরনের বাড়াবাড়ি ও বিদাতের প্রচলন সব যুগেই কম-বেশি ছিল। সেই সূত্র ধরেই হয়ত সে সময় থেকেই মুসলিম সমাজ তথা পরিবারের কর্তা ব্যক্তিরা তাদের নারীদেরকে নিকাব ও কুফ্ফাযাইন পরিধান করানোর প্রচলন শুরু করেছিলেন। কিন্তু অন্তত হজের সময় যেন মুসলিম নারীরা পবিত্র কোরআনের নির্দেশ সঠিকভাবে পালন করতে শেখেন সেই উদ্দেশ্যেই হয়ত ইহরাম অবস্থায় চেহারা আবৃতকারী (নিকাব) এবং হাত আবৃতকারী (কুফ্ফাযাইন) ব্যবহার না করার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।  

      2. ২৭.৩.২
        md. akhter

        আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহু তো আর উম্মুল মু’মিনিনদের মধ্যে না। তো উনি কেন ঢেকে রাখতেন? উনি বোধ হয় হুকুম বুঝতে পারেননি। উনি আমার আপনার মত পাবলিক তো যে সমাজে সবাই যেহেতু কিছু একটা করছে, সেহেতু আমিও করি। তা না হলে কেমন কেমন লাগে। উদ্ভট, হাস্যকর ও ফালতু দাবি।

    4. ২৭.৪
      md. akhter

      লক্ষণীয়- উভয় ব্যাখ্যায় শুধু এক চোখ খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। যারা নিকাব পরিধান করেন তারা কি এক চোখ খোলা রাখেন? নিকাবপন্থী হুজুররা কি এক চোখ খোলা রাখার কথা বলেন!? যারা মাসিক আল কাউসারের এই লেখাকে অন্ধভাবে সমর্থন করেন তাদের মতামত কী?

      আজ্ঞে মশাই, এখানে মাসিক আলকাউসারকে দলীল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি

      হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব : ৫৯)

      আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদেরকে আদেশ করেছেন যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে তখন যেন মাথার উপর থেকে ওড়না/চাদর টেনে স্বীয় মুখমন্ডল আবৃত করে। আর (চলাফেরার সুবিধার্থে) শুধু এক চোখ খোলা রাখে।- ফাতহুল বারী ৮/৫৪, ৭৬, ১১৪

      আমার মনে হয়, কুরানের কোন আয়াতের ব্যাখ্যা বর্তমান সময়ের কোন পন্ডিতের কাছে থেকে না নিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছ থেকেই নেওয়া ভাল। অন্তত একজন প্রকৃত মুসলমানের তাই করা উচিত।

      1. ২৭.৪.১
        md. akhter

        লক্ষণীয়- এই আয়াত কিন্তু বিশেষভাবে নবী পত্নীদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। তাছাড়া এখানে চেহারা ঢেকে রেখে চলাফেরা করার কোনো প্রসঙ্গ নেই। বাড়ির মধ্যে পর্দার আড়াল থেকে কথাবার্তা বা লেনদেন করা হলে তো এমনিতেই কেউ কাউকে দেখতে পাওয়ার কথা নয়

        নবীর স্ত্রীরা হলেন উম্মুল মু’মিনীন অর্থাৎ মু’মিন বা বিশ্বাসীদের মা। আপনি যেই আয়াতের কথা বলছেন সেখানে পর্দার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে এটা যেন এজন্য পালন করা হয় যেন মানুষের মনে খারাপ কোন চিন্তা না আসে। আর যেখানে মু’মিনদের মায়েদেরকেই পর্দার জন্য বলা হয়েছে সেখানে অন্য নারীদের জন্য তো এটা একটা অবশ্য কর্তব্য হয়ে পড়ে। যেটা নবীর স্ত্রীদের জন্যই ফরয করে দেয়া হয়েছে সেটা অন্য নারীদের জন্য তো নিঃসন্দেহে একটি ফরয কাজ। কারণ মায়েদের সম্পর্কে কারো মনে খারাপ কিছু আসে না কিন্তু অন্য নারীর বিষয়ে তো আসতেই পারে।

        আর আপনি যদি বলেন পর্দা করার বিষয়টি শুধুমাত্র নবীর স্ত্রীদের জন্য দায়িত্ব ছিল তাহলে প্রশ্ন আসে শুধুমাত্র তাদের জন্যই কেনো হবে? নবীর স্ত্রী হিসেবে আলাদা সম্মান হিসেবে? তাহলে পর্দা করার ব্যাপারটি যদি নবীর স্ত্রীদের জন্য সম্মানের বিষয়ই হয়ে থাকবে তাহলে তো আপনি মেনেই নিচ্ছেন যে পর্দা তথা হিজাব নারীদের জন্য অপমানের কোন বিষয় নয় বরং সম্মানের নিদর্শন। তাহলে এক্ষেত্রে তো বলাই যায়, যেই সম্মান আল্লাহ নবীর স্ত্রীদের দিয়েছেন সেই সম্মান আল্লাহ সাধারণ মুসলিম নারীদেরকেও দিয়েছেন।

      2. ২৭.৪.২
        md. akhter

        লক্ষণীয়- ‘সাধারণত যা প্রকাশিত’ অর্থ যদি 'কাপড়' হয় তাহলে নারীরা কী পরিধান করে বাইরে বের হবে? কাপড় না দেখানোর জন্য তাহলে পোশাকের উপর ছালার বস্তা জাতীয় কিছু পরতে হবে নিশ্চয়!

        কি সুন্দর টুইস্টেড ব্যাখ্যা দিলেন। কাপড় পড়েই বের হবে – সমস্যা কি। কাপড় তো ‘সাধারণত যা প্রকাশিত’ এর অন্তর্ভুক্ত আছেই। আর তাছাড়া হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, ‘সাধারণত যা প্রকাশিত’ অর্থ হচ্ছে কাপড়। উনি বোধ হয় মোল্লা সাহাবী ছিলেন, জোর করে চাপিয়ে দিয়েছেন।

      3. ২৭.৪.৩
        md. akhter

        কার মধ্যে কী সব ঢুকিয়ে দিয়ে নিকাবের পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়েছে!

        বাতিলের মধ্যে হক্ব ঢুকলে কারো কারো সমস্যা হবেই।

        উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন,

        আল্লাহ তাআলা প্রথম শ্রেণীর মুহাজির নারীদের প্রতি দয়া করুন। আল্লাহ তাআলা যখন

        وليضربن بخمرهن على جيوبهن

        আয়াত নাযিল করলেন তখন তারা নিজেদের চাদর ছিঁড়ে তা দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করেছিলেন।-সহীহ বুখারী ২/৭০০

        উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন-‘ফাখতামারনা’ অর্থ তারা মুখমন্ডল আবৃত করেছেন।-ফাতহুল বারী ৮/৩৪৭

        এখানে তো কোন ইদানিংকালের মোল্লাদের কথা বলা হয়নি। স্ট্রেট বুখারী শরিফের হাদিস। আর এখান উম্মুল মু’মিনিনদের কথা বলে পাশ কাটার সুযোগ নাই। মুহাজির নারীদের ব্যাপারে বলা হয়েছে।

         

      4. ২৭.৪.৪
        md. akhter

        এত ইনিয়ে-বিনিয়ে ব্যাখার পরও কোরআনে নারীদের চেহারা ঢেকে রাখার বিধান পাওয়া গেল কি?

        কোন প্রেক্ষিতে কোন প্রশ্ন আসে, সেটাও বুঝা দরকার। এখানে প্রশ্ন আসা উচিত ছিল যে চেহারা দেখার দ্বারা পরপূরুষ আকৃষ্ট হয় নাকি হয় না। যদি হয়, তাহলে তো ব্যাখ্যা বিলকুল ঠিক। আর যদি আকৃষ্ট না হয় – সেক্ষেত্রে তাদের হরমোন টেস্ট করা উচিত।

      5. ২৭.৪.৫
        md. akhter

        আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহু ঐ হাদীসের ঘটনা যে সবার জন্য প্রযোজ্য, সেটা ঐ হাদীসেই আছে। হাদীসের মধ্যে শব্দগুলো খেয়াল করুন। “এটি ছিল পর্দা বিধানের পরের ঘটনা” – এই কথা বলার পর উনি ঐ ঘটনা উল্লেখ করলেন।

        তারা যখন আমাদের সামনাসামনি চলে আসত তখন আমাদের সকলেই চেহারার ওপর ওড়না টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার তা সরিয়ে নিতাম।

        এখানে আমি বলা হয়নি, বরং বহুবছন ‘আমাদের সকলেই’ ব্যাবহার করা হয়েছে। আমাদের বলতে যে শুধু উম্মুল মু’মিনিনদের বুঝিয়েছে, তাও নয়। কারণ অনেকে মুহাজির ও আনসার মহিলারাও আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে থাকতেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানে ‘আমাদের সকলেই’ শব্দ ব্যাবহার করার কারণ হয়ত এটাও যে, ভবিষ্যতে যেন কোন উজবুক টাইপের কেউ এসে পর্দার সহজ বিধান নিয়ে আপত্তি করতে না পারে।

        “এরপর সে আমার নিকট এলে আমাকে চিনে ফেলল। কারণ পর্দা বিধান অবতীর্ণ হওয়ার আগে সে আমাকে দেখেছিল”। আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহু অহেতুক তাহলে এখানে পর্দার বিধান অবতীর্ণ শব্দগুলো বলেছেন।

        আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

        ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব ও হাতমোজা পরিধান না করে। (সহীহ বুখারী ৪/৬৩, হাদীস : ১৮৩৮)

        তার মানে এইনা যে একজন নারী ইহরাম অবস্থায় তার নেকাব বা বোরখা খুলে একজন গায়ের মাহরাম পুরুষের সামনে তার চেহারা উন্মুক্ত রাখবেন। বরং তিনি নেকাব বা বোরখা ছাড়া অন্য কোনো কিছু দিয়ে পর্দা করবেন, যেমনটা আয়িশাহ (রাঃ) এর হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে।

        মা আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে ইহরামে থাকা অবস্থায় ছিলাম। পথচারীগণ আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত। তারা আমাদের নিকট আসলে আমরা মাথার উপর থেকে খিমার চেহারার উপর ফেলে দিতাম। তারা চলে গেলে সেটা উঠিয়ে নিতাম।

        সুনানে আবু দাউদঃ ১৮৩৩, ফাতহুল বারী ৩/৪৭৪।

        এখন কিছু পন্ডিত হয়ত বলতে পারে যে আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য শুধু মাত্র এই হুকুম। কিন্তু হাদিসে ‘আমরা’ শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। আর এই আমরা যে সকল মু’মিনিন নারীদের জন্য প্রযোজ্য, সেটাও কুরান বলছে-

        “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিন নারীদেরকে বলুনঃ তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।”

        সুরা আল-আহজাব, আয়াত ৫৯।

        1. ২৭.৪.৫.১
          shahriar

          Alhamdulillah.. akhter bhai.. very well explain.

  28. ২৮
    ফজলে হাসান সিদ্দিকী

    রায়হান ভাই,

    আপনার বক্তব্যের সাথে প্রবল বিরোধিতা করছি, আপনি ১০০% নিশ্চিত না হয়ে ইসলামের একটি বিধান কে প্রথমে না পরে নিরুৎসাহিত করতে বলছেন। আলেম রা দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। একদল অবশ্য জরুরী বলেছেন, আরেকদল জরুরী বলেন নাই। কিন্তু আমার জানামতে কেউ নিষিদ্ধ বলে নাই। আপনি সেরকম কিছু বলতে চাচ্ছেন। শুধু সমস্ত কিছুর উরদ্ধে থেকে চিন্তা করুন, যদি এটা বিধান হয়ে থাকে, তাহলে আপনি নিষেধ/ নিরুৎসাহিত  করতে চাচ্ছেন, ব্যপারটা কিন্তু খুব সাধারণ নয়। আর যারা বললেন, শুধু উপমহাদেশে এটা দেখা যায়, দয়া করে সউদি আরব এ যান, সেখানেও নিকাব দেখতে পাবেন, এ সম্মন্ধে একটা উক্তি শুনেছিলাম, " এই তোদের সব বোনরা যে মুখ ঢেকে কলেজ থেকে বের হয়, এত জনের মধ্যে চিনিশ কি করে"? "কি করে চিনি তা জানি না, তবে চিনতে পারি।" এই ছিল তাঁর জবাব।

    1. ২৮.১
      সত্য সন্ধানী

      আলেম রা দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। একদল অবশ্য জরুরী বলেছেন, আরেকদল জরুরী বলেন নাই। 

      যেখানে কুরান শরিফে স্পষ্ট করে বলে দেয়া আছে সেখানে আলেম বা মাশায়েখদের ভিন্ন বক্তব্য দেয়ার সুযোগ কোথায়? কুরান এবং সুন্নাহই মুল জিনিস। আলেম মানে জ্ঞানী আর ইসলামিক জ্ঞানের আলেম তারাই যারা প্রথমে কুরান সুন্নাহর জ্ঞানে আলোকিত। এবং এই ভাবে আলেম যে কেউ হতে পারে, আপনি অথবা আমার মত নাচীজ কেউ। কাজেই আলেম বলতে আমরা যা বুঝি বর্তমানে তাদের অন্ধভাবে অনুসরন করা তাকলিদের পর্যায়ভুক্ত।

      যেখানে কোরানের আয়াতে স্পষ্ট করে বলা আছে সেখানে আর কোন কিছু বুঝার দরকার নাই। আলেম ওলামা দরকার সেখানে যদি কোন কিছু অস্পষ্ট থাকে। কাজেই

      আপনি ১০০% নিশ্চিত না হয়ে ইসলামের একটি বিধান কে প্রথমে না পরে নিরুৎসাহিত করতে বলছেন।

      নিকাব ততক্ষন পর্যন্ত ইসলামের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না, যতক্ষন না সেটাকে কেউ কুরান শরিফের আয়াত দিয়ে সন্দেহাতিত ভাবে প্রমান করতে পারছেন। আর যদি সেটা ইসলামের বিধানই না হয় তবে সেটাকে না বললে বা নিরুতসাহিত করাটা মোটেই ইসলামী বিধানকে না করা, বা নিরুতসাহিত করা বুঝাচ্ছে না।

      নিকাবকে কে বা কারা ইসলামী বিধান বানালো কে বা কারা কুরান শরীফের চেয়ে আল্লাহর কথার চেয়ে নিজেদের ঔচিত্য বোধকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ইসলামের বিধান হিসাবে চালাবার মত ধৃষ্টতা দেখাতে পারল সেটা নিয়ে প্রশ্ন করার এবং জানার সময় আমাদের এসেছে বলেই মনে করি। কি উদ্দ্যশ্যে নিয়ে সেসব জিনিসকে ইসলামী বিধান বানানো হয়েছে এবং রেফারেন্স চাইলে সেই পন্থীরা কেন রেফারেন্স না দিয়ে ওয়ার্ড গেম খেলে চলেছেন সেটা জানা মুসলিমদের জন্য খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। এসবের মানে কি?

      প্রথম থেকেই লেখক সহ অনেকেই এই একটা জিনিসের রেফারেন্স চাচ্ছেন কিন্তু সেটাকে এড়িয়ে গিয়ে নানা মনগড়া বক্তব্য দিয়ে শুধুই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে যেটা আদৌ সমর্থন করা যায় না। ফিতনা বলতে এটাকেই বুঝানো হয়েছে।

      কাজেই রেফারেন্স চাচ্ছি আমি একজন মুসলিম হিসাবে-

      শুধুমাত্র কুরান থেকে অথবা সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশ, কোন আলেম ওলামা মাশায়েখদের রেফারেন্স মুসলিমদের কাছে গ্রহনযোগ্য হওয়া অনুচিত, সেটা যদি কুরান শরীফের সুস্পষ্ট আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক হয়।

    2. ২৮.২
      সত্য সন্ধানী

        দয়া করে সউদি আরব এ যান, সেখানেও নিকাব দেখতে পাবেন,

      সৌদি আরবে পুরুষরাও তাঁদের জাতীয় পোশাক জুব্বা পরেন। তার মানে এই না যে সেটা ইসলামি বিধানের আওতাভুক্ত।

      1. ২৮.২.১
        ফজলে হাসান সিদ্দিকী

        =====এখানে সউদি আরব কে কে রেফারেন্স বলেছে আমার জানা নাই। আমি শুধু বলেছি, নিকাব সউদি আরব এও দেখা যায়, শুধু উপমহাদেশে নয়। কেননা, এই আলোচনায় কেউ কেউ বলেছেন, এটা নাকি শুধু উপমহাদেশের হুজুরদের বানানো। আপনি কিভাবে এটাকে রেফারেন্স হিসেবে ধরলেন আমার বুঝে আস্তেছে না। 

        ===নিকাবকে কে বা কারা ইসলামী বিধান বানালো কে বা কারা কুরান শরীফের চেয়ে আল্লাহর কথার চেয়ে নিজেদের ঔচিত্য বোধকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ইসলামের বিধান হিসাবে চালাবার মত ধৃষ্টতা দেখাতে পারল সেটা নিয়ে প্রশ্ন করার এবং জানার সময় আমাদের এসেছে বলেই মনে করি। কি উদ্দ্যশ্যে নিয়ে সেসব জিনিসকে ইসলামী বিধান বানানো হয়েছে এবং রেফারেন্স চাইলে সেই পন্থীরা কেন রেফারেন্স না দিয়ে ওয়ার্ড গেম খেলে চলেছেন সেটা জানা মুসলিমদের জন্য খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। এসবের মানে কি?—–

        আপনার সাথে তর্কে যেতে চাচ্ছিনা, তাহলে, তর্কের ক্ষেত্র এতদুর চলে যাবে যে তাঁর রেশ টানা সম্ভব হবে কিনা জানা নাই।কে বা কারা বিধান বানাল/বানাল না, তাঁর সমাধান এখন আর পাওয়া যাবে না। সুদীর্ঘ কাল ধরে নিকাবের বিধান চলে আসছে, কেউ পড়ে, কেউ পড়ে না। এই বিধানের সাধারণ সমাধান নেই। আমার বুঝে আসে না, আমরা আরো অনেক বিষয় বাদ দিয়ে এই বিষয় নিয়ে কেন তর্ক করতেছি? কারন, এই বিষয়ের সাধারণ কোন সমাধান নাই, কেউ নিকাব পড়বে, কেউ পড়বএ না। এই বিষয়ে কেন এখানে তর্ক হচ্ছে , এটাই আমি বুজছি না। আমাদের আলোচনা হওয়া দরকার, অন্যান্য অনেক বিষয় নিয়ে যা মুসলমানদের সাধারণ প্রয়োজন। 

        1. ২৮.২.১.১
          মাহফুজ

          ভাই ফজলে হাসান সিদ্দিকী,

          আপনি বলেছেন- //এই বিষয়ে কেন এখানে তর্ক হচ্ছে , এটাই আমি বুজছি না। আমাদের আলোচনা হওয়া দরকার, অন্যান্য অনেক বিষয় নিয়ে যা মুসলমানদের সাধারণ প্রয়োজন।//

          ঠিক বেলেছেন, আলোচনা হওয়া দরকার অন্যান্য অনেক বিষয় নিয়েই। কিন্তু এ বিষয়টিকেও খাঁট করে দেখা উচিত কি?

          আমাদেরই একজন বোন কিন্তু এই আলোচনার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং খুব সুন্দভাবে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

    3. ২৮.৩
      এস. এম. রায়হান
      আপনি ১০০% নিশ্চিত না হয়ে ইসলামের একটি বিধান কে প্রথমে না পরে নিরুৎসাহিত করতে বলছেন।

      ইসলামের কোনো বিধানকে এখানে না বা নিরুৎসাহিত করা হয়নি। বরঞ্চ ইসলামের নামে কিছু হুজুরের তৈরি করা অযৌক্তিক ও অবাস্তব (অনেক ক্ষেত্রেই) একটি বিধানকে নিরুৎসাহিত করে তার পরিবর্তে ইসলামের আলোকেই মুসলিম সমাজে ইতোমধ্যে বহুল প্রচলিত ও বাস্তবসম্মত একটি বিধানকে (হিজাব-সহ শালীন পোশাক) প্রমোট করা হয়েছে। আমি নিজে কোনো বিধান দেই নাই। বুঝা গেল কি?

      আলেম রা দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। একদল অবশ্য জরুরী বলেছেন, আরেকদল জরুরী বলেন নাই। 

      আলেমরা একই বিষয়ে দুই ধরণের বক্তব্য দেবেন কেন? তার মানে আলেমদের মধ্যেই মতবিরোধ আছে। সাধারণ মানুষ তাহলে কাকে অনুসরণ করবে?

      1. ২৮.৩.১
        ফজলে হাসান সিদ্দিকী

        দেখুন প্রথম কথা, আমি এখানে বিতর্ক করতে আসি নি, আমি শুধু আমার মন্তব্য দিয়েছি। আমি আপনার মতকে সমর্থন করি না। 

        === আলেম রা কেন দু ধরনের বক্তব্য দিয়েছে, এটা নতুন কথা না। রক্ত গড়িয়ে পড়লে অজু থাকবে নাকি যাবে, তা দুই মাজহাব এ দুই রকম ফতোয়া। কাজেই আলেমদের মতপার্থক্য কোন আলচনার বিষয় না। এটার সমাধান আলোচনা করে হবে না। এই ক্ষেত্রে আলেমরা দুই বক্তব্য দিয়েছেন, কিন্তু একজন আরেকজন কে কেটে দেন নাই। কেউ জরুরী বলেছেন, কেউ জরুরী বলেন নাই। কাজেই, এটা ইস্লামের বাইরের বিধান-এ কথা বলার সুযোগ নাই। এখন কোন বোন নিকাব পড়ল এটা তাঁর ব্যাপার, আর কেউ পড়ল না এটাও তাঁর ব্যাপার। আমার বক্তব্য একটা বিধান কে না বলা/ নিরুৎসাহিত করা আমার এখতিয়ারের বাইরে। সাধারণ মানুষ তাঁর যোগ্যতা, তাকওয়া অনুযায়ী বিধান অনুসরণ করবে। আবুবকর (রা) ত তাঁর জিবনের সমস্ত সম্পদ ইসলামের জন্য দান করছেন, তাই এখন সাধারন মানুষ সবাই কি তাই করবে?

        ===  বরঞ্চ ইসলামের নামে কিছু হুজুরের তৈরি করা অযৌক্তিক ও অবাস্তব (অনেক ক্ষেত্রেই) একটি বিধানকে নিরুৎসাহিত করে তার পরিবর্তে ইসলামের আলোকেই মুসলিম সমাজে ইতোমধ্যে বহুল প্রচলিত ও বাস্তবসম্মত একটি বিধানকে (হিজাব-সহ শালীন পোশাক) প্রমোট করা হয়েছে। আমি নিজে কোনো বিধান দেই নাই। 

              আপনি বার বার এটাকে কিছু হুজুরের তৈরী করা বলছেন।—অথচ এরই মধ্যে আপনি চেহারা পর্দা দ্বারা ঢাকার অনেক রেয়ায়েত খন্ডন/অস্বিকার করে এসেছেন।  অর্থাৎ চেহারা ঢেকে রাখার বিধানের অনেক  রেয়ায়েত আছে। কাজেই, এটাকে হুজুরদের তৈরী বলা কি যৌক্তিক? 

         

         

        1. ২৮.৩.১.১
          md. akhter

          এদের কথা শুনে মনে হল কিছু হুযুর বলতে আপাতদৃষ্টিতে সাহাবাদেরকেই বুঝাচ্ছে, পোষ্ট ও মন্তব্য পড়ে যা বুঝলাম

  29. ২৯
    Kanika Farzana

    রায়হান ভাই অসংখ্য ধন্যবাদ এই অতি প্রয়োজনীয় পোস্ট এর জন্য। 'diplomatic' or 'politically correct' না হওয়ায় কিছু অযৌক্তিক reactionary response আসবে এটাই স্বাভাবিক।  

    পশ্চিমা বিশ্বের নারীরা যেহেতু অর্ধ-উলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করে সেহেতু মুসলিম নারীদেরকে মুখমণ্ডল পর্যন্ত ঢেকে রেখে চলাফেরা করতে হবে – এইটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। দুইটাই বরং এক্সট্রিম কেস। এক এক্সট্রিমের সমালোচনা করতে যেয়ে আরেক এক্সট্রিমের দিকে ঝুঁকে পড়া কোনো সমাধান হতে পারে না। উল্লেখ্য যে, নিকাবকে ডিফেন্ড করার জন্য কেউ কেউ পশ্চিমা অর্ধ-উলঙ্গ নারীদের উদাহরণ দেয়।

    এই extreme position or interpretation একটা কাজে লাগে আর তাহলো middle পথ চিনতে সাহায্য করে।

    যাহোক 'নিকাব' অর "বুরকা (যেখানে চোখ দেখা যাবেন বা খুব বেশি হলে এক চোখ দেখা যাবে)-কে নিরুৎসাহিত করার পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হল পবিত্র কুরান (verse 7:26, verse 24:31, verse 33:59). নিকাব এর কোন remote reference-ও পাওয়া যায়না।

    The purpose of modest clothing is to provide a cover and adorment of out body, to facilitate necessary, inevitable human interaction between men and women in a respectful, dignified and professional manner (much like conservative professional look of a workplace, even in western society  people {men and women} are expected to not wear provocative clothing in workplace) and to ward off offensive attention from strangers. Also intentioanlly attractng attention through mannerism or attire should be avoided. সবচেয়ে modest dress  is ofcourse the spiritual hijab or taqwa (God conciousness) of ALLAH (SWT) and that is the highest degree whe should strive to reach.

    {In pre-Islamic times, the customary attire of the Arab tribal woman consisted of an ornamental head covering that hung down her back and show her hair in front, a loosely worn tunic that was cut low in front leaving her chest  in view, and a skirt tied at the waist, together with various pieces of jewelry, such as rings, earrings arm and ankle bracelets. This style of dress, which was not only alluring but aso compensated for the intense desert heat could still be found amongh certai bedouin women in Arabia up to the trun of this century and was phographed by certain European travelers. The Quran's instruction to the beleving women to draw their head coverings (khimar) over theirs bosoms(24:31) and to put on their outer garments when they were in public (33:59), imposed with the minimum of inconvenience, a modest standard of dress for Muslim women. As 24:31 goes on to say, they can resume the customary attire in their own homes n the presence of their immediate families and household servants. It becomes clear from the Prophetic traditions associated with these verses, in particular those related to (33:59), that sexual abuse is the concern here. And since society is always more apt to exploit women sexually rather than men, special emphasis is placd on the dress of the former.} page 172-173, Struggling to surrender by Jeffrey Lang, Yusuf al Qaradawi, the Lawful and Prohibited in Islam, Wifred Thesiger, Arabian Sands

    নিকাব কারো personal preference, cultual বা area specific (যেখানে lower your gaze বলে কোন concept nai) সাময়িক প্রয়োযন হতে পারে। কিন্তু তা কখনই ideal or higher spiritual value হিসাবে দেখা যাবেনা। আমার একটি পারসনাল অভিজ্ঞতা বলি, মফঃস্বলের এক মার্কেট এরিয়া (বাজার) যাওয়ার  দরকার হয়েছিল কয়েক বছর আগে। আমি একটা বোরকা ধার করে মুখ ঢেকে গিয়েছিলাম (felt more comfortable as staring at a woman is the norm there). এই অবস্থা  আমাদের দেশে নরমাল হতে পারে কিন্তু আমাদের ত solution খুঁজতে হবে, নাকি শুধু cycle of ignorance continue korte hobe. 

    মুখমণ্ডল হচ্ছে মানুষের আইডেন্টিটি। একজন মানুষের মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে পুরো শরীরও যদি খোলা রাখা হয় তথাপি তাকে সহজে চেনা যাবে না। অন্যদিকে কারো মুখমণ্ডল খোলা রেখে পুরো শরীর ঢেকে রাখলেও তাকে সহজেই চেনা যাবে। কাজেই মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে চলাফেরা করা মানে আইডেন্টিটি গোপন করা বা হারিয়ে ফেলা।

    Simply because muslim men are failing to observe there hijab obligation, we women must stay at home and if at all go out somehow become invisible under a full cover sounds very unjust and one sided. We have a God given right to fully participate in private and public place as an equal (sometimes different but complementary way) and as a human being. Without educated, intelligent, contributing and self confident mothers we dont have much hope of makng progress and we need serious reflecton on this. "Objectification of women through nakedness" যেমন degrading, তেমনি মেয়েদের মুখ দেখলেই সমস্যা এই concept খুব সম্মানজনক নয়। যে ভাইরা বলছেন হাত, পা বা মুখ দেখলে সমস্যা তাদের নিজেদের (muslim men) basic human decency অর্জন করার দিকে নজর দেয়া উচিত। দুঃখের কথা হল আমাদের দেশ মুসলিম-অধ্যুষিত হলেও রাস্তা ঘাটে চলা সবচে inconvenient compared to Singapore, Zurich and Qatar (এই তিনটা দেশে থেকেছি তাই বলতে পারছি)। এইসব দেশে মেয়েদের পোশাক by far আমাদের দেশের চেয়ে অনেক খোলামেলা এমনকি কাতার এও অনেক নন-মুসলিম মেয়ে তাদের মত চলছে, but এখানে "lower your gaze" concept ভালমতই বহাল। সুতরাং মেয়েদের পোশাক নয় বরং আমাদের অন্য কিছু lacking, may be শিক্ষা, আইনের প্রয়োগ আর একে অপরের অধিকার এর প্রতি সম্মানবোধ।

    যেকোন ভাল কিছু প্রতিষ্ঠা করতে হলে ভাই আর বোনদের একসাথে কাজ করতে হবে as just, respectful and equal. We are all in this together and should try our best to make each others' life peacful and easy, not the other way round.

    "And the believing men and believing women are protectors of each other. They enjoin the right and forbid the wrong, and they observe regular salah and give zakah and obey God and His Messenger. On them God will have mercy. Truly, God is All Mighty; All Wise." (9:71)

    AND ALLAH (SWT) KNOWS BEST.

    রায়হান ভাই আবারো ধন্যবাদ। আমার ইংলিশ বাংলার মিশ্রণ আর বেশি বড় কমেন্ট এর জন্য দুঃখিত।

    1. ২৯.১
      md. akhter

      মুসলমানরা ৫ ওয়াক্ত নামায পড়ে। আবার অনেকে আছে এক ওয়াক্তও নামায পড়ে না। আল্লাহতাআলা মধ্যমপন্থি হতে বলেছেন। তো এখন মধ্যমপন্থা অবলম্বন কিভাবে করা যায়। ৫ ওয়াক্তও পড়বো না, আবার একেবারে নামায বাদ – সেটাও করবো না। আড়াই ওয়াক্ত নামায পড়বো। কি বলেন? হায়রে মধ্যমপন্থার তাফসীর…

      1. ২৯.১.১
        shahriar

        Haaaaa… really funny ..

        jajak-allah Akther bhai. Please keep continue .

      2. ২৯.১.২
        Kanika Farzana

        কিসের সাথে কিসের তুলনা করছেন? পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে স্কলারদের মধ্যে কোন দ্বিমত নেই বলেই আমি জানি…আর নিকাব হচ্ছে disputed topic, যার কোন বেসিস কোরান শরীফে নাই। নামাজ নিয়ে যে কৌতুক করার চেষ্টা করলেন এটা কি ঠিক হল? আমার মধ্যমপন্থার তাফসীর ত বলে অন্যকে মক (mock) করা গুনাহ (সিনফুল)। আপনাদের আদর্শ তাফসীর কি বলে কে জানে।

        'O you who have believed, let not a people ridicule (another) people; perhaps they may be better than them." Quran 49:11

        অহেতুক তর্কে আমি আগ্রহী না। কাজেই the conversation ends here. ভাল থাকবেন।

  30. ৩০
    কিংশুক

    ইসলামের সাথে কুফর শিরক বিদআতের সমঝোতা হবেনা তা চিরসত্য। কিন্তু ছোটখাটো মতানৈক্য নিয়েও একদল আরেকদলের বিরুদ্ধে হাজার হাজার বই, প্রবন্ধ, বক্তৃতা করে; এমনকি নানান ফতোয়াও দেয়। মুসলমানরা মুনাফিক, মুরতাদ, কাফেরদের ষড়যন্ত্র কি ঠেকাবে উনারাতো 90% সময় একে অপরের বিরুদ্ধেই লড়াই করে। এমনকি এক আকিদার 5 টা রাজনৈতিক দল হলে 5 দল বাকি 4 দলকেও গোমরাহ বলে দেয়। এমন অবস্থায় রায়হান ভাই এসব টপিক বাদ দিয়ে অন্য বিষয়ে লেখলে ভাল হয়। কত বড় বড় ইসলামি পন্ডিত পর্যন্ত এসব বিষয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমনে মুনাফিক, গোমরাহ, কাফেরদের দালাল সাব্যস্ত হয়েছে, অনেকে বোমায় অক্কা পেয়েছেন। এই পথে চলে লাভ নাই।

  31. ৩১
    কিংশুক

    আপনি নিজের বিষয় আস্তিকতা-নাস্তিকতা, ডারউইনবাদ ইত্যাদি বিষয়ে লিখে মানুষকে ঈমান হারানোর ফাঁদ থেকে রক্ষার কাজ করে যান। আলেমগণ সাধারণ মানুষকে ইমান আমল আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দিয়ে দোযখ থেকে রক্ষার চেষ্টা করেন। এসব বিতর্কে লাভ নাই। এক সময় আফগানিস্তানে যাঁরা নাস্তিক কম্যুনিষ্টদের বিরুদ্ধে এক হয়ে জিহাদ করেছিল, সেই তারাই একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ইরাকেও তাই করে। সিরিয়াতেও একই। দশ রকম সালাফি নিজেরা লড়াই করে। সহিহ মুসলমান না হবার অপরাধে আফ্রিকায় মসজিদে বোমায় মরতে হয়। এসব দেখে সেকুলার মুনাফিক মুরতাদ বিধর্মীরা হাসে, নিজেদেরকে সঠিক ভাবে!! অতএব আর ঝগড়া বাড়াইয়েন না। ঈমান আমলের কথা বলেন।

    1. ৩১.১
      মজলুম

      আপনার এই দুইটা কমেন্ট অসাধারন হইছে। ছোট জিনিস নিয়ে বিবাধে জড়িয়ে মুসলিমরা বড়ো গুলো হারিয়ে ফেলে।

      1. ৩১.১.১
        সত্য সন্ধানী

        ছোট জিনিস নিয়ে বিবাধে জড়িয়ে মুসলিমরা বড়ো গুলো হারিয়ে ফেলে।

        আসলে বিষ বৃক্ষের বীজ ছোট থেকেই আস্তে আস্তে বড় হয়ে মহীরূহে পরিনত হয়, এবং তখন সেটাকে মোকাবেলা করাটা বেশ কষ্টসাধ্য, এবং মাঝে মাঝে প্রায় অসম্ভব হয় দাঁড়ায়। তবে কিংশুক সাহেবের পয়েন্ট খুব সঠিক আর সেটা হল-   

         কত বড় বড় ইসলামি পন্ডিত পর্যন্ত এসব বিষয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমনে মুনাফিক, গোমরাহ, কাফেরদের দালাল সাব্যস্ত হয়েছে, অনেকে বোমায় অক্কা পেয়েছেন। 

        খুবই পরিতাপের ব্যাপার এটিই। জান হাতে করে ভাল কাজ অনেকেই করতে চাইবে না। এই লেখাটা খুব সময়োপযোগী কিন্তু অনেক মুসলিম ভাইয়েরাই ভুল বুঝেছেন। আসলে আমাদের মধ্যে এখন একটা অদ্ভুত জিনিস কাজ করছে আর সেটা হল প্রথা হিসাবে চলে আসা কিছু জিনিস যার পক্ষে সুস্পষ্ট কোন প্রমান না থাকলেও সেগুলোকে ধর্মীয় বিধান হিসাবে অতীতে মেনে নেয়া হয়েছে, কাজেই এর বাইরে যাবার চিন্তা করতেই আমরা আঁতকে উঠি, কুরানের আয়াত সামনে আসার পরেও আমরা সেটাকে দেখতে পাই না এই ভেবে যে, "আলেম ওলামা বা বুজুর্গদের চোখে এটা পড়েনি কেন, আমাদের চোখে কেন এগুলা পড়ছে, নিশ্চয়ই আমাদের চিন্তা চেতনার ভুল!" আসলে পীর পূজার একটা কালচার অনেক দিন আগে থেকেই উপমহাদেশে আছে এবং অতীতে অনেক পীরের কথাকেও আল্লাহর বিধান হিসাবে নেয়া হয়েছে। আজ সেই অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু কিছু সাহসী মানুষ (আমি আলেম ওলামাদের বাদ দিয়ে বলছিনা, কিন্তু উনারাও যে আমাদের মতই সাধারন মানুষ সেটা প্রায়শ আমাদের মনে থাকে না) সংগ্রাম করে লেখালেখির মাধ্যমেই সমাজে পরিবর্তন এনে কু-প্রথাগুলিকে দূর করেছেন।

        কিন্তু আমাদের জন্য বিষয়গুলি এতটাই স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, আমরা এ নিয়ে কোন সুন্দর আলোচনাকেও সঠিক ভাবে নিতে পারছি না বলে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু ইসলাম যদি শুধু মাত্র প্রথার ভিতরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে সেটা কোন ভাবেই ভাল লক্ষন না। কারন এক অঞ্চলের প্রথা অন্য অঞ্চলে সঠিক বলে মনে হবে এর কোন কারন নাই। আর ইসলাম সব জাতির জন্য, কাজেই শুধু মাত্র কোন বিশেষ প্রথা যেটা অনেক দিন ধরে চলে আসছে সেটাকেই যদি বিধান হিসাবে নিয়ে অপেক্ষাকৃত উত্তম বলে কৌশলে চাপিয়ে দেয়া হয়, তাহলে সেটা ইসলাম এবং মুসলিম জাতির জন্য মোটেও ভাল হবে না। তবে আসল কথা হল যুগে যুগে এমনকি খোলাফায়ে রাশিদিনের যুগ থেকেই যে ভুল বুঝাবুঝির জের ধরে বিশৃংখলা চলে এসেছে এবং কিছু নৃশংসতার হাত থেকে হজরত উসমানের মত খলিফা রেহাই পান নি সেখানে অন্যদের কথা আর কি বলব। জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্তদের একজন ৩য় খলিফা, যিনি রসুলুল্লাহর জামাতাও ছিলেন, তিনি যদি রেহাই না পান তবে আমাদের মত অতি সাধারন মানুষরা তো নস্যি!

        কিংশুক ভাই যেটা বলেছেন, আমিও এর বাস্তবতা উপলব্ধি করছি। কিন্তু তাই বলে কি শুধুই প্রথাকে ইসলামের বিধান হিসাবে মেনে নিতে হবে? এর বিরুদ্ধে কি আমাদের কিছুই করার নেই? এর উত্তর আমার জানা নেই। এখানেই আমার যুক্তি বা চিন্তা এসে থেমে গেছে!! আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথ দেখান। আমীন

      2. ৩১.১.২
        মাহফুজ

        //ছোট জিনিস নিয়ে বিবাধে জড়িয়ে মুসলিমরা বড়ো গুলো হারিয়ে ফেলে।//

        কিন্তু ভাই ছোট ছোট বিভেদ দূর না করতে পারলে তো আবার বড় কিছু অর্জনের পর সবই ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে।

        আপনিই তো বলেছেন- //ইসলামি দলগুলো ক্ষমতায় আসলো, তখন দেখবেন দেশে একটা ফুল স্কেলে গৃহযুদ্ধ হবে শুধু ইসলামিস্টদের মধ্যেই।——–তারপর দেখা গেলো দেশে ইসলামিস্টদের নিজেদের মধ্যে মারামারি আছে, আছে ইসলামি শরিয়াহ আইন, কিন্তু মানুষ আর নাই।//

        কিন্তু তাই বলে তো হাতে তাই তাই বাজিয়ে বাই বাই বলা কোন চক্ষুষ্মান মানুষের কর্ম হতে পারেনা।

        আর কারো কারো চোখে বিষয়গুলো ছোট ঠেকলেও অনেকের কাছেই হয়ত এগুলো ধর্মেরই এক একটি অংশ। তাছাড়া আল্লাহতায়ালার কোন হুকুমকে ছোট ভেবে উপেক্ষা করা কিংবা অতিরঞ্জন করা ইমানদারের কাজ নয়। তাই ছোট হোক বা বড় হোক, সঠিকভাবে কোন বিষয়কে উস্থাপন করাই যারা জানেন তাদেরই উপরে বর্তায়। বড় কিছু হাছিল করতে হলে তো মুসলিমদের মাঝে বিরাজিত ম্যানমেইড ছোট ছোট মতভেদ দূর করে একাট্টা হওয়া অতিব জরুরী- তাইনা? এজন্য আল্লাহর বাণী আল-কোরআনকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে।

        আসুন! ছোট হোক বা বড় হোক, সকল মতভেদ দূর করার জন্য আল্লাহর বাণী অনুধাবন ও সেই অনুযায়ী বলার ও পথ চলার চেষ্টা করি। এতেই সবার জন্য শান্তি, মুক্তি ও মঙ্গল নিহিত।

        ধন্যবাদ-

        1. ৩১.১.২.১
          সত্য সন্ধানী

          তাছাড়া আল্লাহতায়ালার কোন হুকুমকে ছোট ভেবে উপেক্ষা করা কিংবা অতিরঞ্জন করা ইমানদারের কাজ নয়। 

          অসাধারন কথা মাহফুজ ভাই, শতভাগ সহমত।

  32. ৩২
    মুনিম সিদ্দিকী

    বাহ! এত কমেন্ট! সব কমেন্ট পড়া সম্ভব হচ্ছেনা কাজেই আলোচনায় অংশ নেয়া যাচ্ছেনা।

    আমার মনে হয় আমি হিযাব আর নিকাবের উৎপত্তির ইতিহাস এবং ইসলামে কি কারণে তা গ্রহণ করা হয়েছিলো সে বিষয়ের ইতিহাস তুলে ধরে একটি ব্লগ এই সদালাপে পোস্ট করেছিলাম।

    আমার সে পোস্টের সারমর্ম ছিলো হিজাব হচ্ছে নারীদের জন্য ইবাদত আর নিকাব হচ্ছে আদত। হিযাব সব মুসলিম নারীর জন্য ফর্জ হলেও নিকাব সমাজের সব নারীদের জন্য নয়। নিকাব হচ্ছে বিশেষ নারীদের মর্যাদা জ্ঞাপক।

    যারা আমার কথা বুঝতে কষ্ট হবে তারা আমার সেই ব্লগটি পড়ে দেখতে পারেন। ধন্যবাদ।

    নিকাব কি ইসলামের বাধ্যতামূলক বিধান?

    1. ৩২.১
      md. akhter

      পড়লাম। ঐ পোষ্টের কমেন্টে কিন্তু ঠিকই ফতোয়া দিয়ে দিয়েছেন।

  33. ৩৩
    এস. এম. রায়হান

    মুসলিম সমাজে যদি সর্বসম্মতিক্রমে ছোট-বড় সমস্যাগুলোর একটা লিস্ট থাকতো তাহলে না-হয় সেই লিস্ট ধরে লিখা যেত। কিন্তু এমন কোনো লিস্ট যেহেতু নেই সেহেতু ছোট-বড় ব্যাপারটা আপেক্ষিক এবং ব্যক্তিবিশেষের উপর নির্ভরশীল। কাজেই কোনো সমস্যাকে ছোট বা বড় হিসেবে সংজ্ঞায়িত না করে যে বিষয় নিয়ে লিখা হয়েছে সেই বিষয়ের উপর মনোযোগ দেওয়াই মনে হয় ভালো হবে। তাছাড়া ব্যাপারটা তো এমন না যে, এই বিষয়টা নিয়ে আমিই প্রথম লিখে মুসলিমদের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করছি! যারা চোখ-কান খোলা রাখেন তারা খুব ভালো করেই জানেন যে, এইটা একটা বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়। কাজেই এখানে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টির কিছু নেই। আলেমদের মধ্যে বুক ও নাভির নিচে হাত বাঁধা জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে কী মল্লযুদ্ধটাই না চলছে!

  34. ৩৪
    কিংশুক

    কোন বিষয়ে দ্বিমত থাকলে আলোচনায় সীমাতিক্রম করা উচিত নয় । ফরজ/ওয়াজিব না হতে পারে তবে উত্তম তো অবশ্যই । মনে রাখা উচিত  দেওবন্দি বা ক্বওমীদের দুই একটি বিষয়ে দ্বিমত পোষন করার সূযোগ থাকলেও উনাদের মতো ইলম, ত াকওয়া, যুহদ, ফুল টাইম মুসলমান এ যুগে বিরল। জানার নাম ঈমাণ না বরং মানার নামই ঈমাণ । আমরা যাঁরা এখানে ওনাদের বিষয়ে বলছি তারা কোরআন তেলাওয়াত, আরবী জ্ঞান, আমলের দিক দিয়ে উনাদের তুলনায় শিশু। বিশেষত শেষ্ঠ ক্বারী, হাফেজে কোরআন, বিশুদ্ধ ইলম, বিশুদ্ধ আকিদা শিক্ষায় এখনও ক্বওমী মাদ্রাসা শ্রেষ্ঠ । জীবনটাই যাঁদের আল্লাহর জন্য উৎসর্গীত এমন হিজবুল্লাহ দের সামান্য ভুলের সমালোচনায় বহু অবার্চীণ নিপীড়িত নামধারীরা হক্বপন্থীদের ব্যাপারে চরম বেয়াদবিপূর্ণ আচরন 'সদালাপ এ কয়েক বছর যাবৎ করে যাচ্ছে ।  এভাবে আলেমদের প্রতি ঘৃণা ছড়ানোর কাজটা শয়তানের খুব পছন্দের। সীমা অতিক্রম করার মাধ্যমে মুসলিমদের পরস্পরের মধ্যে চরমপন্থী শত্রুতার জম্ম দেয় কেবল।

    1. ৩৪.১
      মুহাম্মদ হাসান

      ভাল বলেছেন ভাই । মানুষ যখন তার নিজের জ্ঞানের সিমাবদ্ধতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেনা ঠিক তখনই তার "জ্ঞানের" অজ্ঞানতা প্রকাশ করতে থাকে । এই পোস্টের লেখকেরও ঠিক একই অবস্থা হয়েছে । যেই বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই বা স্বল্প জ্ঞান আছে সেই বিসয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে সেটার উপর আঁটল থাকা সেটা একধরণের অহংকার । আমার আরবির জ্ঞান নেই, তাফসীরের জ্ঞান নেই, হাদিসের জ্ঞান নেই, ফিকহের জ্ঞান নেই কিন্তু আমি দিব্যি ইজতিহাদ করে যাচ্ছি । এই হল বর্তমানের ইসলাম পন্থী অনেক লেখকদের অবস্থা । এরা আলেমদেরকে অবজ্ঞা করেও কেমন যানি একধরণের আত্ততৃপ্তি পায় । 

    2. ৩৪.২
      এস. এম. রায়হান

      কিংশুক,

      এই পোস্টে তো দেওবন্দি বা ক্বওমীদের প্রসঙ্গে কিছু আসেনি। নিকাব যদি আল্লাহ্‌র বিধান হয় তাহলে তো এটা সারা বিশ্বের মুসলিমদেরই ইস্যু হওয়ার কথা। আর সদালাপে যদি হক্বপন্থীদের ব্যাপারে কয়েক বছর যাবৎ চরম বেয়াদবিপূর্ণ আচরণ করা হয়ে থাকে তাহলে সেটা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করলে সবার পক্ষে বুঝতে সুবিধা হতো এবং সদালাপ সম্পাদক এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারতেন। অন্যথায় মুহাম্মদ হাসান সাহেব সুযোগ বুঝে আপনার এই মন্তব্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে এই পোস্টে একই ভাষায় তৃতীয়বারের মতো নিজের অহংবোধ থেকে আমাকে ব্যক্তি আক্রমণ করেছেন। 'মুহাম্মদ হাসান' নামে কারো সাথে আমার কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা শত্রুতা নেই। এ বিষয়ে সদালাপ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

      1. ৩৪.২.১
        মুহাম্মদ হাসান

        এস. এম. রাইহান সাহেব আপনার সাথেও আমার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা শত্রুতা নেই । আপনার পোস্ট এবং কমেন্টের মধ্যে যে অহংবোধ প্রকাশ করেছেন সেটার দিকে একটু নজর দিন তাহলে আপনারই ভাল হবে ইনশাআল্লাহ্‌ । আর আমি কোথায় অহংবোধ প্রকাশ করেছি একটু উল্লেখ করুন দয়াকরে । আমাকে নিয়ে আপনার মন্তব্য 

        যুক্তি ও বিজ্ঞানের কথা শুনলে আপনার মতো কারো কারো গায়ে যে জ্বালা ধরে, এ সম্পর্কে আমি ইতোমধ্যে অবগত।

        এটা কি আপনার অহংবোধের প্রকাশ না? আপনি কিভাবে অবগত হলেন এটাই বুঝতে পারছিনা । সদালাপে আমার প্রথম লেখাই ছিল যুক্তি আর বিজ্ঞান ভিত্তিক । আমি আবারো বলছি- আপনার ইসলামের জ্ঞান বিশেষ করে এই পোস্টের বিষয়ের উপর অত্যন্ত কম এবং এর প্রমান আমি আপনার লেখা থেকেই দিয়েছি আর এটা বরং আপনারই অহংকার কারন আপনি ইসলামের একটি বিধানকে(হোক সেটা ওয়াজিব বা মুস্তাহাব) সরাসরি না করতে বলেছেন এবং পরবর্তীতে নিরুৎসাহিত করতে বলছেন । ইসলামের বিধানকে নিয়ে ধৃষ্টতা করার জন্য এই পোস্টের লেখকের প্রতি আমিও সদালাপ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি । 

        মুসলিমদের একাংশ হিজাবকে সমর্থন করে, আরেকটা অংশ নিকাবকে "আল্লাহ্‌র ফরজ বিধান" হিসেবে চালিয়ে দিয়ে মুসলিম নারীদেরকে নিকাব-বন্দী করতে চায়।

        এখানে অবজ্ঞাসূচক এবং বিদ্রূপাত্মক  "নিকাব-বন্দী" কথার দ্বারা উনি সাহাবাদেরকেও আপমান করেছেন কারন সাহাবাদের অনেকেই নিকাব পড়ার কথা বলেছেন । এদের মধ্যে ইবনে আব্বাসের রাঃ মত সাহাবিও আছে । এখানে আরেকটা হাদিসে  ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহ্ তা‘আলা প্রাথমিক যুগের মুহাজির মহিলাদের উপর রহম করুন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াত ‘‘তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা আবৃত করে’’ অবতীর্ণ করলেন, তখন তারা নিজ চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে মুখমন্ডল ঢাকল। [৪৭৫৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)  

        কোরআনে পোশাকের জন্য নারীদেরকে হেয় করা কিংবা মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার কথা বলা তো দূরে থাক, এমনকি সরাসরি মাথা ঢেকে রাখার কথাও বলা হয়নি।

        এখানে লেখক কুরআনের নামে মিথ্যাচার করেছেন ।   সুরা নুরের ৩১ নং আয়াতে خُمُرِ শব্দের অর্থ – ওড়না যা মাথাকে ঢেকে রাখে যা দ্বারা আল্লাহ কুরআনে সরাসরি মাথা ঢাকার নির্দেশ দিয়েছেন । 

        1. ৩৪.২.১.১
          এস. এম. রায়হান

          আমার লেখার কোথাও কাউকে বারংবার 'অজ্ঞ-মূর্খ' হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। কাজেই অহংবোধের প্রশ্নই আসে না।

          এখানে লেখক কুরআনের নামে মিথ্যাচার করেছেন ।   সুরা নুরের ৩১ নং আয়াতে خُمُرِ শব্দের অর্থ – ওড়না যা মাথাকে ঢেকে রাখে যা দ্বারা আল্লাহ কুরআনে সরাসরি মাথা ঢাকার নির্দেশ দিয়েছেন ।

          এখানে এক প্রকার অসততার আশ্রয় নিয়ে আমার বিরুদ্ধে 'কোরআনের নামে মিথ্যাচার' করার অভিযোগ করা হয়েছে। আমি বলেছি-

          কোরআনে পোশাকের জন্য নারীদেরকে হেয় করা কিংবা মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার কথা বলা তো দূরে থাক, এমনকি সরাসরি মাথা ঢেকে রাখার কথাও বলা হয়নি।

          উপরের বক্তব্যে 'সরাসরি' শব্দটা লক্ষণীয়। কোরআনে যে সরাসরি মাথা ঢাকার কথা বলা হয়নি, এটা বুঝানোর জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাইবেলের একটি রেফারেন্স দিয়েছি। এ প্রসঙ্গে বাইবেলে কী লিখা আছে দেখা যাক-

          But every woman who prays or prophesies with her head uncovered dishonors her head – it is the same as having her head shaved. For if a woman does not cover her head, she might as well have her hair cut off; but if it is a disgrace for a woman to have her hair cut off or her head shaved, then she should cover her head. (1 Corinthians 11:5-6)

          যেকেউ দেখতে পাচ্ছেন যে, বাইবেলে সরাসরি-ই মাথা ঢাকার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে সূরা নূরের ৩১ নং আয়াতের একটি অনুবাদ দেখা যাক-

          And say to the believing women that they should lower their gaze and guard their modesty; that they should not display their beauty and ornaments except what (must ordinarily) appear thereof; that they should draw their veils over their bosoms and not display their beauty except to their husbands, their fathers, their husband's fathers, their sons, their husbands' sons, their brothers or their brothers' sons, or their sisters' sons, or their women, or the slaves whom their right hands possess, or male servants free of physical needs, or small children who have no sense of the shame of sex; and that they should not strike their feet in order to draw attention to their hidden ornaments. And O ye Believers! turn ye all together towards Allah, that ye may attain Bliss. – (Yusuf Ali)

          লক্ষণীয়, পুরো আয়াতের কোথাও সরাসরি মাথা ঢাকার কথা নেই। ঠিক এই কথাই আমি বলেছি। কোরআনে যে শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে তার ব্যাখ্যায় মাথা ঢাকার প্রসঙ্গ আসে – অর্থাৎ কোরআনের ক্ষেত্রে কনটেক্সট অনুযায়ী ব্যাখ্যার মাধ্যমে মাথা ঢাকার কথা আসে, যেটি আমার লেখায় অস্বীকার করা হয়নি। আর অস্বীকার করা হয়নি বলেই একদম শিরোনাম থেকে শুরু করে একেবারে শেষ পর্যন্ত হিজাব তথা মাথা ঢাকাকে সমর্থন করা হয়েছে। কাজেই মাথা ঢাকা নিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে পাঠকদেরকে বিভ্রান্ত করার কিছু নাই।

          1. মুহাম্মদ হাসান

            উপরের বক্তব্যে 'সরাসরি' শব্দটা লক্ষণীয়। কোরআনে যে সরাসরিমাথা ঢাকার কথা বলা হয়নি

             আগের কমেন্টে একটা হাদিস উল্লেখ করেছিলাম  ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহ্ তা‘আলা প্রাথমিক যুগের মুহাজির মহিলাদের উপর রহম করুন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াত ‘‘তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা আবৃত করে’’ অবতীর্ণ করলেন, তখন তারা নিজ চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে মুখমন্ডল ঢাকল। [৪৭৫৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ) । যখন সুরা নিসার ৩১ নং আয়াত নাযিল হল তখন "তখন তারা নিজ চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে মুখমন্ডল ঢাকল" । সরাসরি না বললে তারা তাদের চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে মুখমন্ডল ঢাকল কেন? এখানে তারা কি প্রথমে এই আয়াতের ব্যাখ্যার জন্য কাউকে জিজ্ঞেস করেছিল নাকি এই আয়াত নাযিল হওয়ার সাথে সাথে তারা তাদের মাথা এবং মুখ ঢেকেছিল?। আরবরা এই শব্দের অর্থ জানতেন সে জন্য তাদের ব্যাখ্যার দরকার হয়নি । যে শব্দের অর্থ সরাসরি মাথা ঢাকা সেখানে এর চেয়ে সরাসরি আর কি বলার আছে? আরও লক্ষণীয় যে এই হাদিসে মুখ ঢাকার কথাও বলা হয়েছে ।   

            কোরআনে যে শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে তার ব্যাখ্যায় মাথা ঢাকার প্রসঙ্গ আসে – অর্থাৎ কোরআনের ক্ষেত্রে কনটেক্সট অনুযায়ী ব্যাখ্যার মাধ্যমে মাথা ঢাকার কথা আসে

             যেখানে মুহাজির মহিলাদের ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়নি সেখানে আপনি কিভাবে বলছেন যে এটা ব্যাখ্যার মধ্যামে মাথা ঢাকার কথা আসে? 

          2. md. akhter

            উনারা মোল্লা সাহাবী ছিলেন বোধহয়।

  35. ৩৫
    এস. এম. রায়হান

    আমি যদি নিকাব নিয়ে এরূপ কোনো পোস্ট না দিতাম তাহলে নিকাবের সমর্থকরা (সকলেই পুরুষ!) স্বাভাবিকভাবেই আমার উপর মনঃক্ষুণ্ণ বা চড়াও হতেন না। এটা আমি আগে থেকেই জানতাম। ধরা যাক, এখন এসে এই পোস্ট'টা মুছে দেওয়া হলো। তাতে নিকাবের (পুরুষ) সমর্থকরা নিঃসন্দেহে খুশী হবেন। সেই সাথে আমিও বিশাল একটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচে যাবো! কিন্তু তাতে কি নিকাব "আল্লাহ্‌র ফরয বিধান" হিসেবে বলবত থেকে যাবে? তারপর থেকে নিকাব নিয়ে আর কোথাও কোনো রকম কথা উঠবে না? এই দুটি ব্যাপারে কেউ কি নিশ্চয়তা দিতে পারবেন? একটু চিন্তা করে কথা বলেন। আমি কিন্তু আগ-পিছ অনেক চিন্তাভাবনা করেই পোস্ট'টা দিয়েছি। ধন্যবাদ।

    1. ৩৫.১
      মুহাম্মদ হাসান

      নিকাবের সমর্থকরা (সকলেই পুরুষ!) 

      এটাও আরেকটা ভূল তথ্য, যেসব মহিলারা নিকাব পড়েন তাদের কি আপনি ইন্টারভিও নিয়েছেন? তারা সমর্থন না করলে পড়ছে কেন? যারা পড়েন না তারাও সমর্থন করেন ।   নিকাব ইসলামের বিধান এটা কারো কাছে বলবত থাকুক বা নাই থাকুক, এটা নিয়ে কোথাও কোনো রকম কথা উঠুক বা নাই উঠূক এতে কি ইসলামের বিধানের কোন কিছু যায় আসে?  

      1. ৩৫.১.১
        এস. এম. রায়হান
        নিকাবের সমর্থকরা  (সকলেই পুরুষ!) 

        এখানে এই পোস্টের কথা বলা হয়েছে। অযথায় নাচানাচি করার কোনো মানে নেই।

        1. ৩৫.১.১.১
          মুহাম্মদ হাসান

          যখন লিখেন তখন একটু চিন্তা করে লিখলেই পারেন । লিখেছেন জেনারেল ভাবে কিন্তু উদ্দ্যেশ্য করেছনে শুধু এই পোস্টের পুরুষদেরকে! ভাল, যেটা উদ্দ্যেশ্য করেন সেটা লিখলেই আর অযথা নাচানাচির করার দরকার হবে না । আশাকরি পোস্টাও নিশ্চয় শুধু সদালাপের পাঠকদের উদ্দ্যেশ্য করে লিখেন নাই?  

  36. ৩৬
    এস. এম. রায়হান
    Egypt's top Islamic school, al-Azhar, issued on Thursday a ban on wearing the "niqab" or face veil in classrooms and dormitories of all its affiliate schools and educational institutes.

    While a vast majority of Egyptian women wear the headscarf, only a few wear the niqab.

    The Grand Sheikh of al-Azhar Mohamed Sayyd Tantawi has created a heated controversy in Egypt earlier this week when he told a middle school student in a class he was visiting to take off her niqab while in school.

    Commenting on the incident, Tantawi told Al Arabiya that he had explained to the girl that the niqab was only a tradition and said she was required to wear only the school uniform at al-Azhar, the world's leading school of Sunni Islam.

    The majority of Islamic scholars say the face veil is not obligatory in Islam and is merely a custom that dates back to tribal, nomadic societies living in the Arabian desert before Islam began.

    http://www.alarabiya.net/articles/2009/10/08/87407.html

    নিকাবকে নিরুৎসাহিত করে আমি পোস্ট দিয়েছি ২০১৬ সালে। অথচ সুন্নী ইসলামের অগ্রদূত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯ সালে নিকাবকে ব্যান করা হয়েছে! তাছাড়াও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যান্ড শেখের দাবি অনুযায়ী নিকাব একটি ট্র্যাডিশন (প্রথা) মাত্র! শুধু তা-ই নয়, উক্ত নিউজ অনুযায়ী অধিকাংশ ইসলামিক স্কলারের মতে নিকাব ইসলামের কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়, এবং নিকাব আসলে ইসলাম-পূর্ব যুগের স্রেফ একটি প্রথা মাত্র!

    অথচ আমার লেখায় বাস্তবতার নিরিখে মুসলিম নারীদের জন্য নিকাবকে "না" বা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে মাত্র। এই যখন বাস্তবতা, তখন সদালাপে আমার পোস্টে এসে একজন অত্যন্ত দাম্ভিকতার সুরে বারংবার বলেছেন-

    মানুষ যখন তার নিজের জ্ঞানের সিমাবদ্ধতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেনা ঠিক তখনই তার "জ্ঞানের" অজ্ঞানতা প্রকাশ করতে থাকে। এই পোস্টের লেখকেরও ঠিক একই অবস্থা হয়েছে।

    দিনে দুপুরে সবার সামনে এতবড় অসততার বিচারের ভার পাঠকদের উপর দিয়ে রাখা হলো।

    1. ৩৬.১
      এস. এম. রায়হান

      নিকাবের সমর্থকদের প্রতি প্রশ্ন:

      ১. আল্লাহ্‌র একটি ফরয বিধানকে সুন্নী ইসলামের অগ্রদূত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যান করা হয় কী করে। আপনারা এই ব্যানের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করেছিলেন কি-না।

      ২. আল্লাহ্‌র একটি ফরয বিধান সম্পর্কে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যান্ড শেখ-সহ অধিকাংশ ইসলামিক স্কলার কোন্‌ যুক্তিতে বলেছেন যে, এটি ইসলামের কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয় এবং এটি আসলে ইসলাম-পূর্ব যুগের স্রেফ একটি প্রথা মাত্র?

      ৩. আপনারা কি মনে করেন তারা আমার মতোই আরবী ও ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ-মূর্খ? তা-ই যদি হয় তাহলে আরবী ও ইসলাম সম্পর্কে বিজ্ঞ-শিক্ষিত কারা এবং সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে কী করে?

    2. ৩৬.২
      মুহাম্মদ হাসান

      ইন্টারনেটে ২০০৯ সালে এই বিসয়ের উপর লেখগুলো একটু পড়ে নিলেই আপনার মনে এই প্রশ্ন আসত না । শায়খ ইউসুফ আল কারযাভি এধরণের ফাতয়াকে ignorant = মুর্খ , জ্ঞানহীন বলেছিলেন । ২০০৭ সালে  Dr. Izzat Atiya, head of Al Azhar University's Department of Hadith পুরুষদেরকে তাদের নারী সহকর্মিদের দুধ পান করার ফাতওয়া দিয়েছিলেন । উনিও আল আজহার ইউনিভার্সিটির অনেক বড় আলেম । উনার কথামত কি আমল শুরু করে দিবেন নাকি?  আর উপরে যে হাদিস উল্লেখ করেছি সেটা ভাল করে পড়লেও আপনার মনে এত প্রশ্ন জাগত না । যেখানে সাহাবাদের কথা এবং আমল আছে সেখানে অন্য কারো এধরণের কথার কোন গুরুত্ত নেই ।  

    3. ৩৬.৩
      এস. এম. রায়হান

      নিকাব যে ইসলাম-পূর্ব যুগের একটি প্রথা তার পক্ষে উইকিতেও প্রমাণ আছে-

      It is claimed that the face-veil was originally part of women's dress among certain classes in the Byzantine Empire and was adopted into Muslim culture during the Arab conquest of the Middle East.[2] However, although Byzantine art before Islam commonly depicts women with veiled heads or covered hair, it does not depict women with veiled faces. In addition, the Greek geographer Strabo, writing in the first century AD, refers to some Persian women veiling their faces;[3][not in citation given] and the early third-century Christian writer Tertullian clearly refers in his treatise The Veiling of Virgins to some "pagan" women of "Arabia" wearing a veil that covers not only their head but also the entire face.[4] Clement of Alexandria commends the contemporary use of face coverings.[5][6] There are also two Biblical references to the employment of covering face veils in Genesis 38.14 and Genesis 24.65, by Tamar and by Rebekah, Jacob and Abraham's daughters-in-law respectively.[7][8][9] These primary sources show that some women in Egypt, Arabia, Canaan and Persia veiled their faces long before Islam. In the case of Tamar, the Biblical text, 'When Judah saw her, he thought her to be a harlot; because she had covered her face' indicates customary, if not sacral, use of the face veil to accentuate rather than disguise her sexuality.[10]

      https://en.wikipedia.org/wiki/Niq%C4%81b

    4. ৩৬.৪
      md. akhter

      পর্দার হুকুম কি আগে থাকতে পারে না। ১৪০০ বছরের আগে ইসলাম কি ছিল না যে ঐ সময়ে পর্দার হুকুম থাকতে পারবে না।

      এরা কুরান ও সুন্নাহ ছাড়া নাকি কিছু মানে না। অথচ কুরান ও সুন্নাহ থেকে দলীল দেওয়ার পরেও এদের আদর্শ হচ্ছে কোথাকার উইকিপিডিয়া, পশ্চিমারা কিভাবে ভাবছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখে তো আর বলে না, কিন্তু কর্মকান্ডে ঠিকই এদের পাশ্চাত্য প্রিয়তা ফুটে উঠছে। উইকিপিডিয়াতে তো এও লেখা আছে। তো এখন এটাও বিশ্বাস করতে হবে বুঝি…

      According to Hossein Nasr, the earliest European literature often refers to Muhammad unfavorably. A few learned circles of Middle Ages Europe – primarily Latin-literate scholars – had access to fairly extensive biographical material about Muhammad. They interpreted the biography through a Christian religious filter; one that viewed Muhammad as a person who seduced the Saracens into his submission under religious guise.[16] Popular European literature of the time portrayed Muhammad as though he were worshipped by Muslims, similar to an idol or a heathen god

  37. ৩৭
    1. ৩৭.১
      মুহাম্মদ হাসান

      ভাই, শুরুতেই বলেছি একদল আলেমদের মত নিকাব ফরজ আরেকদলের মতে এটা মুস্তাহাব এবং এই দুটি মতের তুলনামূলক পর্যালচনামুলক একটা ওয়েবসাইটও উল্লেখ করেছিলাম ।  এখানে নিকাবকে ইসলামের বিধান থেকে বের করে দেওয়ার কোন সুযোগ নেই কারন কিছু হাদিস নিকাব ফরজের ইংগিত করে আবার কিছু হাদিস এটা মুস্তাহাব হওয়ার ইংগিত বহন করে ।  

      1. ৩৭.১.১
        Shahriar

        jajak-allah.. mojlum & hasan bhai for sharing video and clarification respectively.

        1. ৩৭.১.১.১
          মুহাম্মদ হাসান

          বারাকাল্লাহু ফিক, মজলুম যে নিকাব ফরয নাকি ফরয নয়, জাকির নায়েক বনাম মোহাম্মাদ সালেহ এর ভিডিও লিংক দিয়েছেন তাতে শুধু এক পক্ষের যুক্তি দেখানো হয়েছে । দুই জনেরটা দিলে মনে হয় আরও ভাল হত । তাহলে দুই পক্ষের অবস্থান যানা যেত । লক্ষণীয় বিসয় হল উনাদের কেউ কিন্তু নিকাবকে নিয়ে কটাক্ষ বা এটা ইসলামের কোন বিধান না বা এটা ইসলাম-পূর্ব যুগের একটি প্রথা মাত্র এসব বলেন নি । আলোচনা হল এটা ফরজ নাকি মুস্তাহাব । 

      2. ৩৭.১.২
        মাহফুজ

        ধরে নিলাম কোন নারী জেনেবুঝে নিকাব করলে অতিরিক্ত সোয়াব পাবেন।

        কিন্তু তিনি নিকাব না করলে কি ফরজ পালনে অবহেলা করার সাজা পাবেন বলে আপনি বিশ্বাস করেন?

        কোন সহী হাদিস কি নিকাব ফরজ হওয়ার ইংগিত করে? করলে অনুগ্রহ করে সেই হাদিছের বক্তব্য ও সূত্র স্পষ্টভাবে এখানেই উল্লেখ করবেন।

        1. ৩৭.১.২.১
          মুহাম্মদ হাসান

          মাফ করবেন ভাই, আমার সীমিত জ্ঞান নিয়ে যা বলেছি এর চেয়ে বেশি আর কিছু বলার নেই ।  রেফারেন্স যা দেওয়ার তাও দিয়েছি ।  এখন আপনি আপনার বুঝ বুঝে নিন ।  

          1. মাহফুজ

            তাহলে এবার খুব ভাল করে লক্ষ্য করবেন-

            (وُجُوهُ) – faces

            (وُجُوهُهُمْ)- উজু’হুহুম- Their faces

            উজু’হুহিন্না – Their faces

            بِخُمُرِهِنَّ – Their Necks

            جُيُوبِهِنَّ‏ – Their Bosoms

            এই হাদিছে (http://sunnah.com/urn/44370) (بِخُمُرِهِنَّ – Their Necks) এবং (جُيُوبِهِنَّ‏ – Their Bosoms) কথাগুলো কিন্তু স্পষ্টভাবেই আছে। কিন্তু (উজু’হুহিন্না – Their faces) ‘তাদের মুখমণ্ডল’ ঢাকার কথাটি সরাসরি কোথাও আছে কি? না নেই। অথচ তা জোর করে জুড়ে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ফরজ হিসেবে আখ্যায়িত করার স্পর্ধা দেখানো হচ্ছে।

            মহান আল্লাহতায়ালা যেন সকলকে সত্য জানার ও সে অনুসারে আমল করার তৌফিক দান করেন।

  38. ৩৮
    মজলুম

    আর সেক্যুলার সেক্যুলার কি! সেক্যুলার মুসলিম, সেক্যুলার ইসলাম হলো অক্সিমরন টার্ম। এটা উদ্ভট চিন্তা চেতনা, যেমন কম্যুনিস্ট মুসলিম বা কম্যুনিজম ইসলাম। শুধু কারো মতের সাথে না মিললে তাকে সেক্যুলার বলা, হেন তেন বলা চরম পাপ। কাউকে অভিযুক্ত করার আগে প্রমান নিয়ে আসেন। ইসলাম নিয়ে কারো রুটি রুজি, ধান্ধাবাজি ধরিয়ে দিলেই কি এইসব অক্সিমরন টার্ম ইউজ করতে হবে।

    1. ৩৮.১
      মুহাম্মদ হাসান

      ভাই, কথা আর বাড়াতে চাচ্ছিলাম না । আগের কমেন্টে রিপ্লাই অপশনটা নেই তাই এখানে কমেন্ট করলাম । 

      তাহলে এবার খুব ভাল করে লক্ষ্য করবেন-

      (وُجُوهُ) – faces

      (وُجُوهُهُمْ)- উজু’হুহুম- Their faces

      উজু’হুহিন্না – Their faces

      بِخُمُرِهِنَّ – Their Necks

      جُيُوبِهِنَّ‏ – Their Bosoms

       

       بِخُمُرِهِنَّ –  এর অর্থ Their Necks কোথায় পেলেন? আর কত পাণ্ডিত্য দেখাবেন বুঝতে পারছি না । এখন আবার বলে বসবেন যে আমি অহংকার করছি!!! যা খুশি বলেন- আমি বারবার বলছি যে আমাদের জ্ঞানের পরিমাপ অনুযায়ী কথা বলা উচিৎ । আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারনে আমিও আপনার আগের প্রশ্নের কোন জবাব দেইনি যেটা আমি পরিস্কার ভাষায় বলে দিয়েছি । যেটা জানি না সেটা স্বীকার করলে ছোট হওয়ার কিছু নেই । আপনি এই সাধারণ শব্দের অর্থটাও বুঝতে পারেন না অথচ ইসলামের বিধান নিয়ে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করছেন! এটা কি ঠিক? আমি এই শব্দের অর্থ কয়েকবার এখানে উল্লেখ করেছি, আপনি কি একবারও সেটা দেখেন নি? যেকোন word for word translation দেখলেও এটা বুঝতে এত বেগ পেতে হত না । بِخُمُرِهِنَّ এর অর্থ خمَرَت المرأةُ : رأسَها غطّته وسترته بالخِمار অর্থাৎ যে কাপড় দিয়ে মাথা আবৃত করা হয় headcovers এর দ্বারা আমি লেখককে বুঝাতে চেয়েছি যে কুরআনে মাথা ঢাকার কথা সরাসরি আছে এবং এর আরও প্রমান সরূপ এই হাদিস উল্লেখ করেছি । 

      শুধু তাই নয়, ফরজ হিসেবে আখ্যায়িত করার স্পর্ধা দেখানো হচ্ছে।

      ভাই, স্পর্ধা যে দেখাচ্ছে সেটাই আসলে বুঝার বিসয়, মুহাজির সাহাবিরা নাকি আপনি? আয়শা রাঃ নাকি আপনি? ইবনে আব্বাস রাঃ নাকি আপনি?  

      ……..পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে তিনি আমাকে দেখেছিলেন। তিনি আমাকে চিনতে পেরে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাযিউন’ পড়লে আমি তা শুনে জেগে উঠলাম এবং চাদর টেনে আমার চেহারা ঢেকে ফেললাম– فَخَمَّرْتُ وَجْهِي بِجِلْبَابِي  ……….(সহীহ বুখারী  হাদিস নাম্বার:৪১৪১ )

      এই হাদিসে আয়শা রাঃ بِجِلْبَابِي অর্থাৎ যিলবাব বা চাদর দিয়ে  وَجْهِي  চেহারা ঢেকে দিয়েছেন ।  অর্থাৎ যিলবাব দ্বারা যে চেহারাও ঢাকা হয় এই হাদিসই সেটার প্রমান এবং কুরআনে এর বহুবচন جَلَابِيبِهِنَّ ব্যাবহার করা হয়েছে । এগুলো হল তাদের দলিল যারা নিকাবকে ফরজ মনে করেন ।  যাইহোক, আমি শেষবারের মত বলছি ভাই, স্পর্ধা,  জোর করে জুড়ে দেয়া হয়েছে, অধঃপতন এই শব্দগুলো ব্যাবহার করে আপনারা নিজের অজান্তেই সাহাবাদের হেয় প্রতিপন্ন করছেন । এখন ক্ষ্যান্ত দেন, তর্কের খাতিরে হয়ত আরও অনেক কিছু বলে ফেলতে পারেন । আমিও হয়ত একটু শক্তভাবে আমার বক্তব্য উপস্থান করেছি । মাফ করবেন ।  

      1. ৩৮.১.১
        মুহাম্মদ হাসান

        দুঃখিত মজলুম, আমার রিপ্লাইটা মাহফুজ সাহেবের জন্য।

        1. ৩৮.১.১.১
          মাহফুজ

          @মুহাম্মদ হাসান

          আপনি বলেছেন-//بِخُمُرِهِنَّ –  এর অর্থ Their Necks কোথায় পেলেন? আর কত পাণ্ডিত্য দেখাবেন বুঝতে পারছি না ।//

          কোন বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরাকে যদি পাণ্ডিত্য দেখানো বলে দমিয়ে দিতে চান, তাহলে তো কিছু বলার থাকেনা। এটাই আমাদের বড় দোষ।

          অনেক কথাই বললেন, তাপরও কিছু না বলে পারছিনা-

          بِخُمُرِهِنَّ – (Their) Necks (আরবীটি কপি করে এখান থেকে দেখে নিন), এখানে ঘাড়গুলো বলতে কাদের ঘাড় তা প্রকাশ করার জন্য নারী বাচক শব্দ (hinna -3rd person feminine plural possessive pronoun) ব্যবহার করা হয়েছে। এর দ্বারা নারীদের ঘাড় ঢাকার কাপড় অর্থাৎ ওড়নাকেই উল্লেখ করা হয়েছে এবং তা দিয়ে নারীদের বক্ষদেশ ঢাকার জন্য (جُيُوبِهِنَّ‏ – ‘juyūbihinna-Their Bosoms- ‘hinna’-3rd person feminine plural possessive pronoun) ‘যুইয়ুবি-হিন্না’ কথাটিও ব্যবহৃত হয়েছে।

          পবিত্র কোরআনে সরাসরি ঘাড় ঢাকার কথা না বলা হলেও (৩৩:৫৯) নং আয়াতে যেহেতু [হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে ও কন্যাগণকে এবং বিশ্বাসীদের স্ত্রীগণকে বলুন, ‘তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।’ এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।]

          চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। মুসলিম নারীরা আগে থেকেই যেহেতু ওড়না দিয়ে ঘাড় ও বক্ষদেশ ঢাকা শুরু করেছিলেন, তাই এখানে কাপড় দিয়ে হিজাব করার জন্য ঘাড় ও বক্ষদেশ সহ মাথাও ঢেকে নেয়ার বিষয়টি কেউই অস্বীকার করেন না। অনেক বিজ্ঞজনও এই সত্য বুঝে ঠিক এভাবেই অনুবাদ করেছেন।

          এবার নিচের অনুবাদগুলো দেখে নিন-

          //তাদের ঘাড় ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় (ওড়না বা চাদর) দ্বারা আবৃত করে।// (বাংলা তফসীর-কুর’আনুল করীম- অনুবাদঃ প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ মুজীবুর রহমান)

          //আর যেন তারা মাথার কাপড় দিয়ে তাদের বুকের উপরটা ঢেকে রাখে// (আল্-কুরআনঃ বাংলা অনুবাদ- ডাঃ জহুরুল হক)

          আপনার উল্লেখিত হাদিছটিতে (সহীহ বুখারী  হাদিস নাম্বার:৪১৪১) একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এই হাদিছের বর্ণনা অনুসারে নির্জনে একাকি একজন মহিলা বসে থাকলে চাদর কেন, আরও অনেক কিছু মুরি দিয়েও রক্ষা পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়তে পারে। আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমত যে সেখানে সে সময় ইবন মুত্তয়াত্তাল (রা.) এর মত একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অথচ এটির রফোরেন্স দিয়ে সাধারন পরিস্থতিতে মুখ ঢাকা ঢাকি করাকে আপনারা ফরজ বানিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে মূল বিষয়কে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলে তাদেরকে বোঝানো সম্ভব নয়। তারপরও চেষ্টা করলাম, যদি আল্লাহতায়ালা সুমতি দেন।

           

          1. মুহাম্মদ হাসান

            بِخُمُرِهِنَّ – (Their) Necks (আরবীটি কপি করে এখান থেকে দেখে নিন), 

            google translator দিয়ে কুরআনের অর্থ বুঝার চেষ্টা! খুব ভাল প্রয়াস । google translator  بِخُمُرِهِنَّ এর অর্থ করেছে Necks। (Their) Necks করেনি । google translator যেভাবে অর্থ করেছে সেভাবেই এখানে উল্লেখ করলে ভাল হত, ব্র্যাকেটের মধ্যে Their দেওয়ায় google translator এর স্বকীয়তা একটু হলেও ক্ষুন্ন হয়েছে । هِنَّ এর অর্থ আপনি দিয়েছেন সেটা ঠিক আছে । বুঝাতে চাচ্ছি যে google translator আপনাকে পুরো সঠিক অর্থ দেয়নি । এখানে মূলত তিনটি শব্দ- بِ + خُمُرِ +  هِنَّ আর এই তিনটি শব্দের অর্থ করেছে শুধু Necks! আরও মজা দেখার জন্য শুধু Necks লিখে   google translator এ পেস্ট করে দেখুন আরবিতে কি আসে!!! দেখেছেন? أعناق যার অর্থ হল Necks. এবার শুধু خُمُرِ কপি পেস্ট করুন । কি পেলেন?  vintage wine etc!!! । কিছুদিন আগে google translator এ  " son of a bitch" লিখলে এর বাংলা অর্থ করত গোলাম আযম পুত্র! এই হল আপনার শায়খের অবস্থা আরও দেখুন আপনার বুঝ আনুযায়ি এর অর্থ যদি Necks ধরি তাহলে এই আয়াতের অর্থ কি দাঁড়ায়-  بِ অর্থ দ্বারা خُمُرِ অর্থ গলা هِنَّ অর্থ তাদের(স্ত্রীবাচক) এখন এই অর্থ দ্বারা আয়াতটির অর্থ হবে وَلْيَضْرِبْنَ -And let them draw  بِخُمُرِهِنَّ their necks عَلَى  over جُيُوبِهِنَّ their bossoms!!! যাইহোক, আমি  خُمُرِ শব্দের অর্থটি কয়েকবার এখানে আরবি ডিকশনারি থেকে রেফারেন্স সহ উল্লেখ করেছি যেহেতু এটা আপনাদের মতপুত হচ্ছেনা সেজন্য  google translator থেকে আজগবি এক অর্থ করে নিয়ে আসলেন যাতে করে আপনার যুক্তি ঠিক থাকে । আল্লহকে ভয় করুন ভাই । তর্কে জিতার জন্য কুরআনকে এভাবে অপব্যাখ্যা করেবন না । আমার জানামতে خُمُرِ এর অর্থ গলা কোন ডিকশনারিতে পেলাম না, থাকলে জানাবেন । خُمُرٌ হল বহুবচন এর একবচন হল خِمار যার প্রথমিক অর্থ হল كلُّ ما ستَرَ অর্থাৎ যেকোন কিছু যা দ্বারা কোন কিছুকে ঢাকা হয় । আর এটা যখন নারীদের সাথে ব্যাবহার করা হয় তখন এর অর্থ হয় خمار المرأة : ثوب تغطّي به رأْسَها চাদর যা দ্বারা কোন নারী তার মাথা ঢেকে রাখেন । যখন পুরুষ বাচক শব্দের সাথে ব্যাবহার করা হয় خِمَارُ الرَّجُلِ তখন এর অর্থ হয় মাথার পাগড়ি । সুতরাং সুরা নুরের ৩১ নং আয়াতে وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ এর অর্থ হল তারা যেন তাদের মাথার ওড়না(خُمُرٌ)  বক্ষ দেশে(جُيُوبِهِنَّ) ফেলে রাখে । এর চেয়ে বেশী ভেংগে বুঝানোর ক্ষমতা আমার নেই ।   

            এর দ্বারা নারীদের ঘাড় ঢাকার কাপড়   

            এটা নারীদের মাথা ঢাকার কাপড় ঘাড় ঢাকার কাপড় না এবং এই মাথা ঢাকার কাপড় দিয়ে মাথা সহ ঘাড় এবং বক্ষদেশ ঢাকার নির্দেশই আল্লাহ সুরা নুরে ৩১ নং আয়াতে দিয়েছেন । এটাকে ভুল অর্থ করে আপনি এর প্রাথমিক অর্থ করেছেন ঘাড় ঢাকার কাপড় এবং এই ভুল অর্থের উপর ভিত্তি করেই আপনি বলছেন যে কুরআনে সরাসরি মাথা ঢাকার কথা নেই! 

            পবিত্র কোরআনে সরাসরি ঘাড় ঢাকার কথা না বলা হলেও (৩৩:৫৯) নং আয়াতে যেহেতু [হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে ও কন্যাগণকে এবং বিশ্বাসীদের স্ত্রীগণকে বলুন, ‘তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।’ এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।]

            সরাসরি মাথা ঢাকার কথা না থাকলেত মাথা খুলে চলাফেরা করা জায়েয । এই আয়াতে কথাও সরাসরি মাথা ঢাকার কথা উল্লেখ নেই ।  

            চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

            যেহেতু সারাসরি এখানে মাথা ঢাকার কথা নেই । চাদর উপরে কিভাবে কোন অংশ ঢাকতে হবে সেটাও সরাসরি বলা হয়নি ।   

            মুসলিম নারীরা আগে থেকেই যেহেতু ওড়না দিয়ে ঘাড় ও বক্ষদেশ ঢাকা শুরু করেছিলেন,

            আগে থেকেই বলতে কি বুঝাচ্ছেন?  

            তাই এখানে কাপড় দিয়ে হিজাব করার জন্য ঘাড় ও বক্ষদেশ সহ মাথাও ঢেকে নেয়ার বিষয়টি কেউই অস্বীকার করেন না।

            এখানে দ্বিমুখী পন্থা অবলম্বন করলেন কেন? কে কি স্বীকার করলা না করল সেটাত আপনার কাছে গুরুত্ত পুর্ন না । কুরআন হাদিসে আছে কি এটাই হল মূল ব্যাপার । ঠিক কি না? তানাহলেত সাহাবাদের অনেকের মতে নিকাব যে ফরজ সেটাও আপনাকে মেনে নিতে হবে! 

            আপনার উল্লেখিত হাদিছটিতে (সহীহ বুখারী  হাদিস নাম্বার:৪১৪১) একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।

             এই হাদিস দ্বারা কোন বিচ্ছিন্ন ঘঠনা উল্লেখ করিনি তাহলে পুরো হাদিসটাই তুলে ধরতে পারতাম । এখানে মূল অংশটুকু হলঃ "পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে তিনি আমাকে দেখেছিলেন"- তার মানে পর্দার বিধানের আগে চেহারা দেখানো জায়েজ ছিল । "তিনি আমাকে চিনতে পেরে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাযিউন’ পড়লে আমি তা শুনে জেগে উঠলাম এবং চাদর টেনে আমার চেহারা ঢেকে ফেললাম"- তারমানে পর্দার বিধানের পর চেহারা দেখানো জায়েয ছিল না । এই সহজ কথাটা কারো বুঝতে সমস্যা হবে না কিন্তু স্বীকার করতেই যত সমস্যা ।  

            এই হাদিসের সাথে আপনার মনগড়া ব্যাখ্যা কোন মিল নেই । 

            এই হাদিছের বর্ণনা অনুসারে নির্জনে একাকি একজন মহিলা বসে থাকলে চাদর কেন, আরও অনেক কিছু মুরি দিয়েও রক্ষা পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়তে পারে।  

             গুঁজামিল আর কত দিবেন? 

        2. ৩৮.১.১.২
          মাহফুজ

          একটু ভুল ছিল-

          পবিত্র কোরআনে সরাসরি (ঘাড় হবেনা) মাথা ঢাকার কথা না বলা হলেও (৩৩:৫৯) নং আয়াতে যেহেতু [হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে ও কন্যাগণকে এবং বিশ্বাসীদের স্ত্রীগণকে বলুন, ‘তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।’ এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।]

          1. মাহফুজ

            @মুহাম্মদ হাসান

            আপনার জবাবটি আমার উপরের এই মন্তব্যটির পরে দেয়াই উচিত ছিল। কারণ আমি এখানে আমার মিসটেকটি স্পষ্টভাবেই ঠিক করে দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনি দেখার পরও ইচ্ছে করেই চালাকির আশ্রয় নিয়েছেন-

            …………………………………………..

            ধরে নিলাম কোন নারী জেনেবুঝে নিকাব করলে অতিরিক্ত সোয়াব পাবেন।

            কিন্তু তিনি নিকাব না করলে কি ফরজ পালনে অবহেলা করার সাজা পাবেন বলে আপনি বিশ্বাস করেন?

            কোন সহী হাদিস কি নিকাব ফরজ হওয়ার ইংগিত করে? করলে অনুগ্রহ করে সেই হাদিছের বক্তব্য ও সূত্র স্পষ্টভাবে এখানেই উল্লেখ করবেন।

            ……………………………………………..

            আমার উপরোক্ত প্রশ্নের জবাব কি আপনার শায়খ এখনো দিতে পারেন নাই? নাকি তর্কে জেতার মত জবাব এখনো জুটাতে পারেন নাই?

            মানে রাখবেন, শুধু ইলমুল তাজবিদের জ্ঞান রাখালে আর কুরআন কিভাবে সহি শুদ্ধভাবে পড়তে জানলেই চলবে না, অন্তর্চক্ষু দিয়ে অনুধাবন করার চেষ্টা নিতে হবে। তা না হলে অনেক প্রশ্নের উত্তরই না জানাই থেকে যাবে।

            আমার শায়থ যিনিই হোন না কেন- google translator  আমার কাছে অচ্ছুত নয়। এক সময় মসজিদে মাইক ব্যবহার, নামাজের জন্য নারীদের মসজিদে গমন, ইংরেজি শিক্ষা ইত্যাদি কত কিছুই না কত শায়খদের চোখে হারাম ছিল। আস্তে আস্তে সবই হজম করতে হয়েছে।

            আমিও্র জানি যে, google translator এর সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু তারপরও অনেক শায়খ নামধারীদের তুলনায় এটি নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে থাকে।

            অনেক কসরতের পর আপনি আয়াতটির যথার্থ অর্থটিই বের করেছেন ( وَلْيَضْرِبْنَ -And let them draw  بِخُمُرِهِنَّ their necks عَلَى  over جُيُوبِهِنَّ their bossoms) [And let them draw their necks over their bossoms]। এখানে ঘাড় অর্থাৎ গ্রীবাদেশ থেকে কোন কিছু বক্ষদেশের উপর টেনে নিয়ে ঢেকে রাখার কথাই যে বোঝানো হয়েছে তা পরিষ্কার। আর নারীদের ঘাড়ে/ গ্রীবাদেশে যে ওড়না থাকে তা সবারই জানা। সুতরাং ঘাড়ের ওড়না টেনে বক্ষ ঢাকার নির্দেশই এখানে দেয়া হয়েছে।

            (৩৩:৫৯) নং আয়াতে চাদর দিয়ে দেহ ঢাকার কথা ও বাহিরে যাবার সময় তার কিছু অংশ নিজের (মাথার) উপরে টেনে নেয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে (২৪:৩১) নং আয়াতে 'জীনাত' অর্থাৎ 'তাদের দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্যকে' আরও ভালভাবে ঢাকার পদ্ধতি জানিয়ে দেয়ার জন্য স্পষ্টভাবে বলে দেয়া হলো যে, (৩৩:৫৯ নং আয়াতে উল্লেখিত) চাদর/ কাপড় দিয়ে দেহ ঢাকার পাশাপাশি কাপড়ের অংশ/ ওড়না দিয়ে (হিজাব করার জন্য) মাথা ঢেকে তা দিয়ে ঘাড় ও বক্ষদেশও ঢেকে নিতে হবে। তাই ঢিলেঢালা পোষাক বা কাপড় দ্বারা শরীর [যা আপাত প্রতীয়মান হয়, তা ছাড়া তাদের দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্য অর্থাৎ মুখমণ্ডল, হাস্তদ্বয় (কব্জি ও তালু) এবং পদদ্বয় (গোড়ালি ও পায়ের পাতা) ব্যতীত সম্পূর্ণ শরীর] এবং ওড়না দ্বারা ঘাড় ও মাথা ঢাকার মাধ্যমে হিজাব করাকে তো অবশ্যই বিশ্বাসী মাত্রই ফরজ হিসেবে স্বীকার করতেই হবে। আর অস্বীকার করলে এবং পালনে অবহেলা করলে গোনাহগার হতে হবে।

            কিন্তু মুখমণ্ডল ঢাকার বিষয়টি ফরজ হিসেবে বিশ্বাস করাটা উচিত হবে কিনা তা বিজ্ঞ পাঠকই বিচার করুন। আর কোন নারী অতিরিক্ত হিসেবে মুখমণ্ডল, হস্তদ্বয় ও পদদ্বয় না ঢাকলে পাপের ভাগিদারই বা হতে যাবেন কেন?

            আসুন! মহান আল্লাহ আমাদেরকে যখন যতটা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন তা উপেক্ষা বা অতিরঞ্জন না করে যথাযথভাবে যথাসাধ্য প্রচার ও পালন করার চেষ্টা করি।

  39. ৩৯
    এস. এম. রায়হান

    @md. akhter বলেছেন-

    ১। হজ্জ অনেক অপরাধমূলক কাজ করার সহায়ক

    ২। অনেক দুধর্ষ চোরাকারবারীরা হজ্জ্ব এর নাম করে দুই-নম্বরী জিনিস কেনা বেচা করে।

    ৩। আরব দেশে অনেক পতিতা হজ্জ্ব করার নাম করে বাইরে গিয়ে ফিরছে না, পরে ইউরোপে পাড়ি দিচ্ছে।

    ৪। মানুষের কাছে সম্মানিত হওয়ার জন্য হজ্জ্ব করে।

    ৫। দেশের দূর্ণীতিবাজরা হজ্জ্ব করার নাম করে নিজেদের ইসলামিক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।

    ৬। হজ্জ্ব এর কারণে অনেক এজেন্সি মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।

    ৭। হজ্জ্ব এর নাম করে অনেকে এইসব এজেন্সির কাছে প্রতারিত হচ্ছে।

    ৮। হজ্জ্ব এর নাম করে অনেকে অবৈধ সোনা পাচার করে নিয়ে আসছে।

    ৯। নামাষ পড়ার নাম করে অনেকে স্যান্ডেল চুরি করে।

    ১০। যাকাতের কথা বলে অনেকে টাকা মেরে দেয়।

    ১১। নামাযের কথা বলে অনেকে অফিসের কাজ বাদ দিয়ে বাইরে এসে আড্ডা দেয়।

    ১২। মসজিদে দান করে অনেকে ভোট চাওয়ার ছলচাতুরিতে আশ্রয় নেয়।

    ১৩। দু’আর নাম করে অনেকে টাকা ইনকাম করে।

    ১৪। তারাবীহ এর কথা বলে অনেকে রমযান মাসে ইনকাম করার চান্স খুজে।

    ১৫। কুরআনের আয়াতের বিনিময়ে অনেকে পারিশ্রমিক নেয়।

    ইত্যাদি ইত্যাদি…

    তো নামায, যাকাত, হজ্জ্ব এগুলো বাদ দিয়ে দেওয়া হোক, কারণ এগুলো না থাকলে ওগুলো থাকতো না।

    আপনি মনে হচ্ছে নিকাবের ব্যাপারটা নিয়ে কোনো চিন্তা না করেই নিকাবকে 'আল্লাহ্‌র ফরয বিধান' বানানোর জন্য বেশ উত্তেজিত হয়ে হজ্জ, যাকাত, নামায, ও কোরআনকে পচানোর চেষ্টা করেছেন।

    ১মত- কোরআন হচ্ছে আল্লাহ্‌র বাণী। আর হজ্জ, যাকাত, ও নামায হচ্ছে কোরআন-সুন্নাহ্‌ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত ফরয বিধান। আপনি এগুলোকে বাদ দিতে বলছেন?

    ২য়ত- আপনি চেহারা খোলা রেখে কোনো অপরাধ করতে গেলে কোনো-না-কোনো ভাবে ধরা খেয়ে যাবেন। অন্যদিকে চেহারা ঢেকে রেখে কোনো অপরাধ করলে ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম, অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধ করে সবার চোখে ধূলা দিয়ে খুব সহজেই পার পেয়ে যাবেন। কাজেই নিকাব অপরাধীকে রক্ষা করার একটি কবচ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। আমি এর বেশি কিছু বলতে চাই না। আপনি নিকাবকে ডিফেন্ড করার জন্য হজ্জ, যাকাত, নামায, ও কোরআনকে পচাতেই থাকেন।

    1. ৩৯.১
      md. akhter

      যে কেউ বুঝবে এখানে কি বুঝাতে চেয়েছি। আপনি নিকাব পড়ে এই এই সমস্যা হচ্ছে – এই কথার উপর আপনার ভিত্তি দাঁড় করিয়েছেন। তাই আপনার কথার প্রেক্ষিতে বললাম যে মাথা ব্যাথা করলে মাথা কাটার কোন মানে হয় না।

      1. ৩৯.১.১
        এস. এম. রায়হান
        যে কেউ বুঝবে এখানে কি বুঝাতে চেয়েছি। আপনি নিকাব পড়ে এই এই সমস্যা হচ্ছে – এই কথার উপর আপনার ভিত্তি দাঁড় করিয়েছেন। তাই আপনার কথার প্রেক্ষিতে বললাম যে মাথা ব্যাথা করলে মাথা কাটার কোন মানে হয় না।

        আপনি অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। এজন্য নিকাবের প্রসঙ্গে হজ্জ, যাকাত, নামায, ও কোরআনকে পচানোর চেষ্টা করেছেন। কীসের সাথে কীসের তুলনা করতে হয়, তাও জানেন না।

        মাথা ব্যাথার জন্য এই দুনিয়ার কেউই মাথা কেটে ফেলার পরামর্শ দেয় না, দেয় কি? অন্যদিকে কারো হাত-পায়ের নখ বা চুল অতিরিক্ত বড় হওয়ার কারণে সেগুলো যদি নিজের ও অন্যের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় সেক্ষেত্রে প্রায় সকলেই বা অনেকেই তার নখ ও চুল কেটে ছোট করার পরামর্শ দেবে। কিন্তু নখ ও চুল কেটে ছোট করাকে কেউ যদি মাথা কেটে ফেলার সাথে তুলনা করে তাহলে বুঝতে হবে তার মাথাতেই সমস্যা আছে। এই সহজ-সরল যুক্তিটা যদি না বোঝেন তাহলে আপনার সাথে কোনো আলোচনা চলতে পারে না।

        1. ৩৯.১.১.১
          md. akhter

          অহেতুক বিতর্ক করার ইচ্ছা আমারও নাই। তাই চেহারা খোলা রাখা যাবে – এই বাপারে কোন কুরান ও সুন্নাহর দলীল এখন পর্যন্ত দেখলাম না।

          1. এস. এম. রায়হান
            চেহারা খোলা রাখা যাবে – এই বাপারে কোন কুরান ও সুন্নাহর দলীল এখন পর্যন্ত দেখলাম না।

            হাতের তালু ঢেকে রাখতে হবে – এই ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহ্‌তে কি কোনো দলিল আছে? এখন কেউ যদি হাতের তালু ঢেকে রাখাকে 'আল্লাহ্‌র ফরয বিধান' বলে দাবি করে সেক্ষেত্রে প্রমাণ দেওয়ার দায়িত্ব কার?

          2. md. akhter

            ১। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

            যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশত কাপড় ঝুলিয়ে রাখে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না। তখন উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে মহিলারা তাদের কাপড়ের ঝুল  কীভাবে রাখবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এক বিঘত ঝুলিয়ে রাখবে। উম্মে সালামা বললেন, এতে তো তাদের পা অনাবৃত থাকবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে এক হাত ঝুলিয়ে রাখবে, এর বেশি নয়। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪১১৭; জামে তিরমিযী ৪/২২৩; সুনানে নাসাঈ ৮/২০৯; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ১১/৮২

            উম্মে সালামা বললেন, এতে তো তাদের পা অনাবৃত থাকবে।

            (ক) উম্মে সালামা রাঃ এর এই কথা 'এতে তো তাদের পা অনাবৃত থাকবে' দ্বারা কি বুঝা যায়? পা অনাবৃত থাকা জায়েয নয় বলেই উনি জিজ্ঞাস করলেন যে 'এতে তো তাদের পা অনাবৃত থাকবে।'। ঐটা যদি জায়েয হত, তাহলে উনার জিজ্ঞাসা করার কোন প্রয়োজন ছিল না।

            (খ) এখানে উম্মে সালামা রাঃ এই কথা বলেননি যে আমি কি করবো, বরং বলেছেন মহিলারা কি করবে? অর্থাৎ এটা সার্বজনীন হুকুম ছিল।

            (গ) এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে পা ঢেকে রাখার হুকুম আছে, কিন্তু হাতের কব্জি ঢেকে রাখার হুকুম কোথায়। এর উত্তর সহজ। পা অনাবৃত না রাখার হুকুম থাকলে হাতের ব্যাপারেও ঐ একই হুকুম প্রযোজ্য হবে। কারণ ঐ হাদীস, যে হাদীসে ইহরাম অবস্থায় হাত মোজার কথা বলা হয়েছে।

            চামাচিকা যদি দেখতে না পায়, তাহলে সূর্যের কি দোষ। ওল্লাহু আ'লাম।

        2. ৩৯.১.১.২
          সত্য সন্ধানী

          আপনি নিকাবকে ডিফেন্ড করার জন্য হজ্জ, যাকাত, নামায, ও কোরআনকে পচাতেই থাকেন।

          রায়হান ভাই, কিছু মানুষ তর্ক করে শুধু তর্ক করার খাতিরে,এবং এই আখতার সাহেব হচ্ছেন তেমনই একজন। দেখেন তিনি তার কথার মাত্রাজ্ঞান এতটাই ছাড়িয়ে গেছেন যে উপরে যারা নিকাবকে সমর্থন করছেন না তিনি তাদের সম্পর্কে কি মন্তব্য করেছেন দেখেন-

          ★★★আর হাকিকত তো এই যে যাদের মেয়েদের চেহারা না দেখার কারণে অসুস্থ শয়তানি দ্বিলে কষ্ট হয়, তাদের একটা বড় অংশই চেহারা খুলে রাখতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক।★★★

          যে লোক নিকাবের প্রতিষ্ঠার জন্য এই রকম কথাবার্তা বলতে পারে তিনি আসলে কোথা থেকে এসেছেন সেটা খুব সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

          ইনারা ভবিষ্যতে আরো অনেক অনেক খেল দেখাবেন এটা বুঝাই যাই। আজ তিনি মুসলিমদের চরিত্র নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছে পরোক্ষ ভাবে, কাল বলা শুরু করবেন প্রত্যক্ষ ভাবে।

          আজ তিনি কথায় কথায় কুযুক্তি দিয়ে পার পেয়ে গেলে পরে আরো ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যাবেন। ইসলামকে পন্য করে পয়সা কামানো পার্টি এসব করবে এটাই স্বাভাবিক, কারন ইসলামের সঠিক বিধানগুলো মানুষ জানলে তো উনাদের না মেনে সেই সব বিধানগুলোই মানতে থাকবে। এতে অসুবিধা না? পেটে টান পড়বে যে! যদিও আল্লাহ এবং তার রসুল পেট চালাতে বলেছেন পরিশ্রম করে এবং হালাল রুজী উপার্জনের মাধ্যমে। এটাও মানুষ জেনে গেলে যে ধর্ম ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। কাজেই ব্যবসা ঠিক রাখতে গেলে ইসলামকে যেভাবে পন্য হিসাবে ব্যবহার করা যায়, তেমনি ইসলামকে পচানোও যায়।

          কিন্তু এসব চলতে থাকলে সাধারন মুসলিমরা বিপন্ন বোধ করবে যেটা মুসলিম সমাজের জন্য ভাল হবে না।

          সহনশীলতারো একটা সীমা থাকা উচিত বলেই মনে হয় আমার। তিনি সরাসরি চরিত্রে হাত দিয়েছেন। সদালাপ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

          1. md. akhter

            আজ তিনি কথায় কথায় কুযুক্তি দিয়ে পার পেয়ে গেলে পরে আরো ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যাবেন। ইসলামকে পন্য করে পয়সা কামানো পার্টি এসব করবে এটাই স্বাভাবিক।

            তাই তো এখন পর্যন্ত কুরান ও সুন্নাহর কথা ছাড়া শুধু বকবকানি পড়ে আসছি। আপনার এইধরনের কথা এখন বাসি হয়ে গেছে। পারলে কুরান ও সুন্নাহ থেকে কিছু নিয়ে আসেন।

  40. ৪০
    md. akhter

    আপনারা যারা বিশ্বাস করেন যে চেহারা, হাত, পা এগুলো পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়, তাদের কাছে আসলে মাহরাম আর গায়ের মাহরামের পার্থক্যটা কী বা কতটুকু? যেমন ভাই,বাবা,চাচা বা শ্বশুরের মত মাহরামদের সামনে তো মুখমন্ডল,হাত পা এসব প্রদর্শন জায়েজ, তো এখন বাইরের মানুষদের সামনেও যদি এগুলো প্রদর্শন করাটা পর্দার খেলাফ না হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে পর্দাটা প্রকৃতপক্ষে আসলে কী দাঁড়াচ্ছে? বা মাহরাম আর গায়ের মাহরামের পার্থক্যটুকু কী? শুধু মাথার চুল ঢাকাটুকু!! অর্থাৎ পর্দার মানে দাঁড়াচ্ছে শুধু মাথার চুল ঢাকা। পর্দা যে একটা ফরজ বিধান,এর জন্য যে এত এত আয়াত,হাদিস আর বিধি বিধান দিয়ে হুলুস্থুল কান্ড তার সবই ঐ বেচারা চুলটুকু নিয়েই?? ভাবার মত একটা বিষয় বটে,তাই না?

    1. ৪০.১
      মাহফুজ

      @md. akhter

      অনুগ্রহ করে আপনার ও আরও অনেক প্রশ্নের জবাব এখান থেকে দেখে নিতে পারেন-  পর্দা সম্পর্কিত মন্তব্য ও প্রশ্ন-উত্তর

      1. ৪০.১.১
        md. akhter

        এই লিংক ধরিয়ে দেওয়ার কাজটা একদম বিরক্তিকর। পারলে এখানে কিছু বলুন।

  41. ৪১
    এস. এম. রায়হান

    নিকাব প্রসঙ্গে আমার বক্তব্য সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

    ১মত– কোরআনে আল্লাহ্‌ মুসলিম নারীদের মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে চলাফেরা করার বিধান দেননি।

    ২য়ত– কোনো সহীহ্‌ হাদিসে রাসূল (সাঃ) নিজে মুসলিম নারীদেরকে জেনারেলাইজডভাবে মুখমণ্ডল ঢেকে রেখে চলাফেরা করার কথা বলেননি।

    কোরআন বা সহীহ্‌ হাদিসে এমন কোনো প্রমাণ থাকলে নিকাবকে ডিফেন্ড করার জন্য এতো ত্যানা পেঁচানোর দরকার পড়ত না নিশ্চয়!

    ৩য়ত- অধিকাংশ ইসলামিক স্কলারের মতে নিকাব ইসলামের কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়, এবং নিকাব আসলে ইসলাম-পূর্ব যুগের একটি প্রথা (সূত্র)। এই দাবির পক্ষে উইকিতেও প্রমাণ আছে। ইসলামের কোনো ফরয বিধান সম্পর্কে অধিকাংশ ইসলামিক স্কলার তো দূরে থাক, দু-এক জনও এমন কথা বলতে পারেন না।

    ৪র্থত- নিকাবের কারণে মানুষ তার আইডেন্টিটি হারিয়ে ফেলে। এজন্য বাস্তব জীবনে (কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে) নারীরা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। তাছাড়া আইডেন্টিটি গোপন করার জন্য অসৎ উদ্দেশ্যেও নিকাব ব্যবহার করা হতে পারে, হচ্ছেও।

    ৫মত- রাস্তা-ঘাটে নিকাব-পরিহিত কাউকে দেখলে অনেকের মনেই সন্দেহ জাগতে পারে- যেহেতু চেহারা দেখা যাচ্ছে না সেহেতু নিকাবের আড়ালের মানুষটা ছদ্মবেশী কেউ না তো! এই ধরণের সন্দেহমূলক প্রশ্ন ভালো নারীদেরকেও বিপদে ফেলে দিতে পারে। তাছাড়া এটা ভালো নারীদের জন্য অবমাননাকরও বটে।

    ৬ষ্ঠত- নিকাব-পরিহিত নারীদের ছবি দেখিয়ে অসচেতন লোকজনের কাছে ইসলামকে একটি 'নারী-বিদ্বেষী' ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    কাজেই এ'রকম একটা কিছুকে 'আল্লাহ্‌র ফরয বিধান' হিসেবে চালিয়ে দিয়ে মুসলিম নারীদেরকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিকাব পরতে বাধ্য করা ঠিক হচ্ছে কি-না, ভেবে দেখার বিষয়।

  42. ৪২
    Syeda Lutfunnesa

    @md. akhter

    আপনি ধরেই নিয়েছেন একজন মহিলা বাসা থেকে বের হবেন শুধুমাত্র যাতায়াত করার জন্য অথবা কেনাকাটা করার জন্য। এ ক্ষেত্রে নেকাব কোন সমস্যা নয় অবশ্যই। তবে কারো যদি জরুরি কোন business meeting attend করতে হয় এবং সবার সাথে কথা বলে decision make করতে হয় তাহলে অবশ্যই facial expression show করাটা খুব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়াবে। আমার বস কি চাচ্ছেন সেটা কিন্তু তার body language থেকে অনেকটা জেনে নিতে হয়। মানুষের ক্রোধ, বিরক্তি, সন্তুষ্টি বেশির ভাগই ফুটে উঠে তার চেহারায়। চেহারা মানুষের মনের দর্পন। এটাকে শুধুমাত্র চিত্তাকর্ষক ক্ষেত্র হিসাবে দেখার কোন সুযোগ নেই। অবশ্য আপনি এখনই দেখাবেন আপনার দৃষ্টিভংগী ছোট নয়, ইসলামের দৃষ্টিভংগীই এমন, যদিও তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইসলাম কখনোই এত ক্ষুদ্র সংকীর্ণ চিন্তায় আবদ্ধ নয়। আপনারা আলোকিত হোন, ইসলামকে সবাই অত্যন্ত মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করবে।

    1. ৪২.১
      shahriar

      So far no one(hasan or akhter bhai) said that nikab is farz. they just wanted to say it's a part of Islam (whatever it is farz or sunna or mustahab) .

      @ hasan & akhter bhai , please correct me if i wrong.

      Jajak-allah.

      1. ৪২.১.১
        মুহাম্মদ হাসান

        You're right brother; this is my position. 

    2. ৪২.২
      মুহাম্মদ হাসান

      তবে কারো যদি জরুরি কোন business meeting attend করতে হয় এবং সবার সাথে কথা বলে decision make করতে হয় তাহলে অবশ্যই facial expression show করাটা খুব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়াবে। আমার বস কি চাচ্ছেন সেটা কিন্তু তার body language থেকে অনেকটা জেনে নিতে হয়। মানুষের ক্রোধ, বিরক্তি, সন্তুষ্টি বেশির ভাগই ফুটে উঠে তার চেহারায়। চেহারা মানুষের মনের দর্পন। এটাকে শুধুমাত্র চিত্তাকর্ষক ক্ষেত্র হিসাবে দেখার কোন সুযোগ নেই। 

      Syeda Lutfunnesa

       তাহলে দাঁড়ালো কি? আপনি আমার বস; আপনি যখন আমার সাথে কথা বলবেন আমাকে তখন আপনার চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে আপনার মনের দর্পন দেখার জন্য? সুরা নুরের ৩০ আয়াতটি "মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে" তাহলে আমি কিভাবে মানব? এই হাদিসগুলো কিভাবে মানব? 

      Jarir said I asked the Apostle of Allaah(ﷺ) about an accidental glance (on a woman). He (ﷺ) said “Turn your eyes away.” Sunan Abi Dawud 2148

       ইসমাঈল  ইবন  মতহসা  আল ফাযারী ……….. আবূ  বুরায়দা  (রহঃ)  তাঁর  পিতা  হতে  বর্ণনা  করেছেন।  তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ)  আলী  (রাঃ)  কে  বলেন,  হে  আলী!  তোমার প্রথম  দৃষ্টিপাতকে  (বেগানা  স্ত্রীলোকের  প্রতি  অনিচ্ছা  সত্বে  হয়েছে)  তোমার  দ্বিতীয়  দৃষ্টি  (যা  ইচ্ছাকৃত)  যেন  অনুসরণ  না  করে।  কেননা,  প্রথমবার  দৃষ্টিপাত  তোমার  জন্য  জায়িয,  আর  দ্বিতীয়বার  (ইচ্ছাকৃতভাবে)  দৃষ্টিপাত  করা  তেমার  জন্য  বৈধ  নয়।  সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ) হাদিস নাম্বার:২১৪৬ 

       

    3. ৪২.৩
      md. akhter

      প্লেনে ট্রে-চামচ পরিষ্কার করে যে নারী – বিমানবালা

      বাসায় ট্রে-চামচ পরিষ্কার করে যে নারী – বুয়া।

       

    4. ৪২.৪
      md. akhter

      একজন গীবত করে। কেউ তাকে বলল যে তুমি তো গীবত করছো আর কুরানে গীবত হারাম করা হয়েছে। তখন সে বলল 'তুমি ভুল বলছ, এই টুকটাক এগুলো বললে গীবত হয় না'।

      এটাকে বলে কুফরি গীবত।

      অর্থা আগে শুধু গীবত করছিল, কিন্তু আল্লাহ যেটাকে গীবত বলেছেন, সেটাকে সে অস্বীকার করল। এর ফলে সে কুফরি করল। কারণ আল্লাহর হুকুমকে সে না বুঝে অস্বীকার করে বসলো।

      * business meeting attend' বা " আমার বস কি চাচ্ছেন সেটা কিন্তু তার body language থেকে অনেকটা জেনে নিতে হয়" এগুলোরে প্রেক্ষিতে বলতে বাধ্য হচ্ছি, 'গুনাহ করা এক জিনিস, আর তার চেয়ে মারাত্মক হচ্ছে সেটাকে গুনাহ মনে না করে তার পক্ষে নিজের অবস্থান জাস্টিফাই করা'।

      আল্লাহ বুঝ দিক। আ'মিন।

      1. ৪২.৪.১
        shahriar

        Jajak-allah. well explained.

  43. ৪৩
    md. akhter

    শরীয়তের সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে বড় দলীল হল কুরআন কারীম। এরপর সুন্নাহর স্থান। কিন্তু সুন্নাহের ব্যাপারে কতিপয় মানুষের এই ধারণা আছে যে, যেসব হাদীস সুস্পষ্টভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বা কাজ হিসেবে সহীহ বর্ণনা-পরম্পরায় এসেছে শুধু তাই সুন্নাহ। এই ধারণা ঠিক নয়। সুন্নাহ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা ও নির্দেশনাবলির নাম। এই শিক্ষা ও নির্দেশনা আমাদের কাছে সাধারণত মৌখিক বর্ণনা সূত্রে পৌঁছে থাকে এবং সাধারণ পরিভাষায় এইসব মৌখিক বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত রেওয়ায়েতগুলোকেই ‘হাদীস’ বলে। কিন্তু অনেক সময় এমন হয় যে, রাসূলে কারীম সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ কোনো শিক্ষা বা নির্দেশনা আমাদের কাছে মৌখিক বর্ণনার স্থলে কর্মের ধারাবাহিকতায় পৌঁছায়। অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম নবীজী থেকে কর্মের মাধ্যমে তা গ্রহণ করেছেন; তাদের নিকট থেকে তাবেয়ীগণ গ্রহণ করেছেন। এভাবে প্রত্যেক উত্তরসূরি তার পূর্বসূরি থেকে কর্মের মধ্য দিয়ে নবীজীর সেই শিক্ষাকে গ্রহণ করেন। নবী-শিক্ষার এই প্রকারটিকে পরিভাষায় ‘আমলে মুতাওয়ারাস’ বা ‘সুন্নতে মুতাওয়ারাসা’ বলে।

    নবী-শিক্ষা ও নবী-নির্দেশনার অনেক বিষয় এই পথেই পরবর্তীদের হাতে পৌঁছেছে। এইসব শিক্ষা-নির্দেশনা যদি মৌখিক বর্ণনাসমূহের মধ্যেও তালাশ করা হয় তাহলে অনেক সময় এমন হয় যে, হয়ত এ ব্যাপারে কোনো মৌখিক বর্ণনা পাওয়া যায় না অথবা পাওয়া গেলেও সনদের দিক থেকে তা হয় যয়ীফ। এখানে এসে স্বল্প-জ্ঞান কিংবা স্বল্প-বুঝের লোকেরা বিভ্রান্ত হয়। তারা যখন বিশুদ্ধ মৌখিক বর্ণনাসূত্রে বিষয়টি খুঁজে পায় না তো নবীজীর এই শিক্ষাটিকেই অস্বীকার করে বসে। অথচ মৌখিক সাধারণ বর্ণনা-সূত্রের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী সূত্র তাওয়ারুস তথা ব্যাপক ও সম্মিলিত কর্মধারার মাধ্যমে বিষয়টি সংরক্ষিত।

    তদ্রূপ নবী-শিক্ষার একটি অংশ হল যা আমাদের কাছে সাহাবায়ে কেরামের শিক্ষা-নির্দেশনার মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত আছে। সাহাবায়ে কেরামের অনেক নির্দেশনা এমন আছে যার ভিত্তি শরীয়তসম্মত কিয়াস ও ইজতিহাদ। এগুলো শরীয়তের দলীল হিসেবে স্বীকৃত। আবার তাদের কিছু নির্দেশনা ও কিছু ফাতওয়া এমন আছে যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো কথা বা কাজ থেকে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু অন্যকে শিখানোর সময় এর উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। কেননা প্রেক্ষাপট থেকে এ কথা স্পষ্ট ছিল যে, তাঁরা নবীজীর শিক্ষা ও নির্দেশনার ভিত্তিতেই তা শিক্ষা দিচ্ছেন। এজন্য দ্বীনের ইমামগণের সর্বসম্মত নীতি হল, সাহাবায়ে কেরামের যে ফাতাওয়া বা নির্দেশনার ব্যাপারে এটা সুনির্দিষ্ট যে, এটি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা-নির্দেশনা থেকেই গৃহীত, এতে সাহাবীর ইজতিহাদ বা কিয়াসের কোনো প্রভাব নেই তা মারফূ হাদীসেরই অন্তর্ভুক্ত। কোনো মাসআলায় এর মাধ্যমে প্রমাণ দেওয়া মারফূ হাদীসের দ্বারা প্রমাণ দেওয়ার শামিল। পরিভাষায় একে মারফূ হুক্মী বলে। নিঃসন্দেহে এর ভিত্তি কোনো মারফূ হাকীকী বা স্পষ্ট মারফূ। তবে এটা জরুরি নয় যে, হাদীসের কিতাবসমূহে সেই স্পষ্ট মারফূ হাদীসটি সহীহ সনদে বিদ্যমান থাকবে। এখানেও স্বল্প-বুঝের লোকেরা পদস্খলনের শিকার হয় এবং নবীজীর শিক্ষাটিকেই অস্বীকার করে বলতে থাকে যে, এর কোনো ভিত্তি পাওয়া গেল না, অথচ মারফূ হুকমীর সূত্রে প্রমাণিত হওয়াও দলীল হিসাবে যথেষ্ট।

    উদাহরণস্বরূপ ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রাহ.-এর হাওয়ালা উল্লেখ করা যায়। তিনি তাকবীরে তাশরীকের উপর আলোচনা করে লেখেন, তাকবীরে তাশরীক মশরূ হওয়ার বিষয়ে আলিমগণ একমত। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো সহীহ মরফূ হাদীস নেই। শুধু সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের পরবর্তী ব্যক্তিদের থেকে কিছু আছর বর্ণিত হয়েছে এবং এর উপর মুসলমানদের আমল রয়েছে। এরপর লেখেন-

    وهذا مما يدل على أن بعض ما أجمعت الأمة عليه لم ينقل إلينا فيه نص صريح عن النبي صلى الله عليه وسلم، بل يكتفي بالعمل به.

    অন্য কিছু হুকুমের সাথে এই হুকুমটিও প্রমাণ করে যে, যেসব বিষয়ে উম্মতের ইজমা হয়েছে তন্মধ্যে কিছু বিষয় এমনও আছে, যে সম্পর্কে আমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্পষ্ট কোনো নস বর্ণিত হয়ে আসেনি; বরং এ বিষয়ে শুধু আমলে (মুতাওয়ারাছ-এর) উপরই নির্ভর করতে হয়।

    ( -ফাতহুল বারী ফী শরহি সহীহিল বুখারী, ইবনে রজব হাম্বলী (৭৩৬হি.-৭৯৫হি.) খ. ৬, পৃ. ১২৪ )

    1. ৪৩.১
      মুহাম্মদ হাসান

      নবী-শিক্ষার এই প্রকারটিকে পরিভাষায় ‘আমলে মুতাওয়ারাস’ বা ‘সুন্নতে মুতাওয়ারাসা’ বলে।

      এর অনেক উদাহরন আছে-যেমন ইলমুল তাজবিদ । তাজবিদের প্রত্যেকটা নিয়ম কোন হাদিসের মধ্যে রাসুল সাঃ বর্ননা করেছেন বলে আমার জানা নেই কিন্তু কুরআন কিভাবে সহি শুদ্ধভাবে পড়তে হবে এটা রাসুলের সাঃ আমল থেকে সাহাবারা শিখেছেন এবং সাহাবাদের কাছ থেকে পরবর্তি যুগের আলেমরা আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমরা এভাবেই আমল করি । 

  44. ৪৪
    মুহাম্মদ হাসান

    মাহফুজ 

    কিন্তু আপনি দেখার পরও ইচ্ছে করেই চালাকির আশ্রয় নিয়েছেন-

    কোন চালাকির আশ্রয় নেইনি কারন এখানে করলেও  একই জিনিস লিখতাম । আমি মন্তব্য করছি আপনার মন্তব্য পবিত্র কোরআনে "সরাসরি  মাথা ঢাকার কথা নেই" এটার উপরে । সুতরাং আমার বক্তব্য একই । 

    আমার উপরোক্ত প্রশ্নের জবাব কি আপনার শায়খ এখনো দিতে পারেন নাই? নাকি তর্কে জেতার মত জবাব এখনো জুটাতে পারেন নাই?  

    আপনাকে কি আমি কথা দিয়েছিলাম যে আমি আমার শায়খ কে জিজ্ঞেস করে তারপর আপনাকে জানাবো? 

    অনেক কসরতের পর আপনি আয়াতটির যথার্থ অর্থটিই বের করেছেন 

    সুবহানাল্লাহ! আপনিত মনে হয় আমার কমেন্ট ঠিক মত পড়েন নাই । আমি বলেছি- আপনার বুঝ আনুযায়ি এর অর্থ যদি Necks ধরি তাহলে এই আয়াতের অর্থ কি দাঁড়ায়-  بِ অর্থ দ্বারা خُمُرِ অর্থ গলা هِنَّ অর্থ তাদের(স্ত্রীবাচক) এখন এই অর্থ দ্বারা আয়াতটির অর্থ হবে وَلْيَضْرِبْنَ -And let them draw  بِخُمُرِهِنَّ their necks عَلَى  over جُيُوبِهِنَّ their bossoms!!!  এর বাংলা করলে হবে-  তারা যেন তাদের ঘাড় (Necks) তাদের বক্ষ দেশে ফেলে রাখে । এটা হল আপনার অর্থ অনুযায়ী এই আয়াতের অর্থ । কোন নারীকে কি দেখেছেন তাদের ঘাড় তাদের বক্ষ দেশে ফেলে রাখতে? এরপর আমি এই আয়াতের সঠিক অর্থ দিয়েছি যেটা আপনি বিশেষ কারনে দেখতে পাননি – সুতরাং সুরা নুরের ৩১ নং আয়াতে وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ এর অর্থ হল তারা যেন তাদের মাথার ওড়না(خُمُرٌ)  বক্ষ দেশে(جُيُوبِهِنَّ) ফেলে রাখে । এর চেয়ে বেশী ভেংগে বুঝানোর ক্ষমতা আমার নেই ।  এভাবে প্রত্যেকটা শব্দ ভেংগে ভেংগে অর্থ করার পরেও আপনি আপনার ভুলের উপর অনড় আবিচল ।  আপনি যদি আলোচনা করতে চান তাহলে এখানে স্পষ্ট করে বলুন خُمُرٌ এর অর্থ কি? 

    1. ৪৪.১
      মাহফুজ

      মি. মুহাম্মদ হাসান

      ভাই, প্রকৃত অর্থে ‘মাথার ওড়না’ কথাটা ঠিক না। যদিও সহজে ভাব প্রকাশের জন্য অনেকেই এভাবেই বলে থাকেন। মহান স্রষ্টা কিন্তু সঠিক অর্থ প্রকাশের জন্য সঠিক স্থানে সঠিক শব্দটিই চয়ন করেছেন, যেন যারা সত্য জানতে চান তারা তা সহজেই বুঝতে পারেন। ওড়না সাধারনত নারীদের ঘাড়েই থাকে। তবে যেহেতু কোরআনে (৩৩:৫৯) লম্বা পোষাক/ কাপড়/ চাদর দিয়ে শরীর (সতর) ঢেকে তা নিজের উপর টেনে নেয়ার হুকুম আছে। তাই মুসলিম নারীরা ঢিলেঢালা পোষাক পরেন এবং লম্বা ওড়না/ কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে তা দিয়ে ঘাড় ও বক্ষদেশও ঢাকেন।

      আপনাকে আর কষ্ট দিতে চাইনা। এখানে ওখানে অনেক হাতড়েছেন। ফলাফল কি তা পাঠকগণই ভাল জানেন। কোরআন চর্চা করতে হলে হাতের কাছে কিছু পুস্তক রাখা চাই। বিশেষ করে কোরআনের অভিধান খুবই জরুরী। এবার নিচের দিকে লক্ষ্য করুন-

      খেমারুন- চাদর, ওড়না, দোপাট্টা (আল-কাওসার-আধুনিক আরবী-বাংলা অভিধান- মদীনা পাবলিকেশন্স)

      খুমুরুন- চাদরগুলো (কোরআনের অভিধান-১৮৪ পৃষ্ঠা- মুনির উদ্দীন আহমদ)

      এরপরও না বুঝলে তো সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা মহান স্রষ্টার কাছেই বিষয়টি ন্যাস্ত করতে হবে।

      ধন্যবাদ-

       

      1. ৪৪.১.১
        মুহাম্মদ হাসান

        ধন্যবাদ, যেহেতু প্রকৃত অর্থ মাথা ঢাকার ওড়না না তাহলে মাথা ঢাকার সরাসরি কোন আয়াত থাকলে এখানে উল্লেখ করেন দয়াকরে ।  মুসলিম নারিরা কি করল বা কে কি ব্যাখ্যা দিল সেটা কোন যায় আসে না । 

        1. ৪৪.১.১.১
          মাহফুজ

          না, পবিত্র কোরআনে যে সরাসরি মাথা ঢাকার কোন নির্দেশ/ আয়াত নেই তা আমি আগেই উল্লেখ করেছি।

          (৩৩:৫৯) নং আয়াতে নারীদের বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে মেয়েদের লম্বা পোষাক/ ঢিলাঢালা পোষাক/ চাদরগুলো তাদের নিজেদের উপরে টেনে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখানে কতটা লম্বা ও কতটা ঢিলা হবে তার সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। তবে এর মাধ্যমে যে দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্যকে আড়াল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা পরবর্তীতে আরও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। (২৪:৩১) নং আয়াতে বলা হলো, [ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জা-স্থানের হেফাযত করে। তারা যেন যা আপাত প্রতীয়মান হয়, তারা যেন তাদের ('জীনাতাহুন্না') দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, তা ব্যাতীত- এর থেকে যাকিছু আপাত দৃশ্যমান/ প্রকাশিত হয়। আর তারা যেন (গ্রীবা থেকে) তাদের ওড়না/ চাদর/ দোপাট্টা টেনে নিয়ে বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তাদের দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে- তবে তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌন কামনামুক্ত পুরুষ ও বালকদের মধ্যে নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞরা ব্যতীত; আর তারা যেন গোপন করে রাখা বা ঢেকে রাখা দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্য জানান দেয়ার/ অবগত করানোর করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।]

          সুতরাং এমন পোষাক পড়া উচিত নয় যাতে দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্যকে প্রকাশ হয়ে পড়ে। তবে যাকিছু আপাত দৃশ্যমান/ প্রকাশিত হয় (মুখমণ্ডল, হাত, পা এমনকি মাথাও) তা প্রকাশ হলে কোন অসুবিধা নেই। তাই সাবার সামনেই ঢিলেঢালা শালীন পোষাক পড়ে যাওয়াই (০৭:২৬) ধর্মপরায়ণতার পরিচায়ক। স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌন কামনামুক্ত পুরুষ ও বালকদের মধ্যে নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞদের সামনে অতিরিক্ত হিসেবে ওড়না/ চাদর/ দোপাট্টা দিয়ে গ্রীবা ও বক্ষদেশ না ঢাকলে দোষের কিছু নেই অর্থাৎ শীথিলতা রয়েছে। এদের ছাড়া অন্যদের সামনে ঢিলা ও লম্বা পোষাক পরতে হবে এবং অতিরিক্ত হিসেবে ওড়না/ চাদর/ দোপাট্টা দিয়ে গ্রীবা ও বক্ষদেশ ঢেকে রাখতে হবে। তবে বিশেষ মূহুর্তে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে (০২:২২৩ নং আয়াত অনুসারে) বিশেষ শীথিলতা রয়েছে। ঢিলা পোষাক বলতে এমন ঢিলা নয় যাতে বেখাপ্পা দেখায়। আবার লম্বা পোষাক মানেই এর দ্বারা সরাসরি মাথা, নাক-মুখ সহ মুখমণ্ডল এবং হাতের তালু ও পায়ের পাতা অর্থাৎ পা থেকে মাথা পর্যন্ত সম্পূর্ণ শরীর ঢাকা নয়, বরং নারী দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্য ঢাকার জন্য যতটা ঢিলা ও লম্বা হলে শালীনতা বজায় থাকে সেটা নির্ধারণের ভার বিশ্বাসীদের উপরেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। মাথার একটি চুলও যেন দেখা না যায় সেই অযুহাত দেখিয়ে সম্পূর্ণ মাথা ঢেকে গরমের দিনে কান-মাথা গরম হয়ে অসুস্থ হওয়ার মত কিংবা সাভাবিক হাটাচলায় ও কাজেকর্মে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এমন লম্বা পোষাক পরিধানের মত সামান্যতম কোন ইংগিতও দেয়া হয়নি।তবে নিচের দিকে গোড়ালির উপর ও হাতের কব্জির উপর পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিয়ে ও উপরের দিকে ঘাড়ের উপরে মাথার খানিকটা ঢেকে নিলেই লম্বা পোষাকের মাধ্যমে দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্য ঢাকার হক আদায় হয়ে যাবে। এরূপ পোষাকই ধর্মপরায়নতার পোষাক হিসেবে গন্য হবে- ইনশাল্লাহ। এছাড়াও জাক-জামকের সাথে অতিরিক্ত সেজেগুজে ও নিজের গোপন অঙ্গগুলো প্রদর্শন করার মতলবে জোর পদক্ষেপে চলাফেরা করাও বৈধ নয় অর্থাৎ গুনাহ। সুতরাং চালাফেরার ব্যাপারেও সাবধনতা অবলম্বন করতে হবে যেন শালীনতা ক্ষুন্ন না হয়।

          সালাম-

           

          1. মুহাম্মদ হাসান

            না, পবিত্র কোরআনে যে সরাসরি মাথা ঢাকার কোন নির্দেশ/ আয়াত নেই 

            যেহেতু মাথা ঢাকার কথা সরাসরি বলা হয়নি সুতরাং মাথা ঢাকা ইসলামের কোন বিধান না । 

            মাথার একটি চুলও যেন দেখা না যায় সেই অযুহাত দেখিয়ে সম্পূর্ণ মাথা ঢেকে গরমের দিনে কান-মাথা গরম হয়ে অসুস্থ হওয়ার মত কিংবা সাভাবিক হাটাচলায় ও কাজেকর্মে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এমন লম্বা পোষাক পরিধানের মত সামান্যতম কোন ইংগিতও দেয়া হয়নি।

            আরও পরিষ্কার ভাবে বলার জন্য ধন্যবাদ । আপনার জন্য আমার আর বলার কিছু নাই, আল্লাহ তার কুরআনে চমৎকার ভাষায় আপনাদেরকে কি বলতে হবে সেটা বলে দিয়েছেন । 

            রহমান-এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মুর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে, সালাম।  (সূরা আল-ফুরকান আয়াত সংখ্যা 77)

             Case closed!!! 

          2. Shahriar

            agreed with hasan bhai,

            for women she can chose either ware nikab or not but her head/hair must cover with cloths.

            jajak-allah.

  45. ৪৫
    shahriar

    One group try to remove niqab system from Islam & other group try to impose that nikab is farz.

    Really funny effort.

    The simple anser is it's part of Islam & not farz tha't it.

     

    Jajak-allah.

    1. ৪৫.১
      মাহফুজ

      আপনি বললেন- //So far no one(hasan or akhter bhai) said that nikab is farz. they just wanted to say it's a part of Islam (whatever it is farz or sunna or mustahab)//

       

      স্বার্থবাদীদের কবলে পড়ে ইসলাম যে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু ইসলামের সেবক হিসেবে a part of Islam কথাটা বলা কি ঠিক হলো?

       

      অথচ আল্লাহতায়ালা বলেন-

      (৬:৫১) অর্থ- এবং এ (কোরআন) দ্বারা তাদেরকে সতর্ক কর যারা ভয় করে যে, “স্বীয় পালনকর্তার নিকটে/ সামনে তাদেরকে একত্রিত হতে হবে, তাদের জন্য তাঁর বিপরীতে/ পরিবর্তে অর্থাৎ তাঁকে বাদ দিয়ে (তাঁর  সমকক্ষ) কোন রক্ষক/ অভিভাবক নেই এবং নেই কোন সুপারিশকারী”- যেন তারা ন্যায়নিষ্ঠ হতে পারে।

      (৬:১৫৬) এটি এমন একটি গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি, খুব মঙ্গলময়, অতএব, এর অনুসরণ কর এবং ভয় কর-যাতে তোমরা করুণাপ্রাপ্ত হও।            

      (৪১:৩৩) অর্থ- আর কথাবার্তায় তার চাইতে উত্তম কে, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, "নিশ্চয় আমি তো তাদেরই মধ্যকার- যারা মুসলিম"?  

      (৩:১০৩) আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুন্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শনসমুহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার।    

      (৩:১০৪) আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহবান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম।       

      (৩:১০৫) আর তাদের মত হয়ো না, যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নিদর্শন সমূহ আসার পরও বিরোধিতা করতে শুরু করেছে-তাদের জন্যে রয়েছে ভয়ঙ্কর আযাব।          

       

      সুতরাং বিছিন্ন/ বিভক্ত নয়, বরং দল মত নির্বিশেষে আল-কোরআনকে আকড়ে ধরেই আমাদেরকে একত্র হতে হবে।

      1. ৪৫.১.১
        shahriar

        It's true that no body can prove 100% that niqab is out side of Islam or farz. because there are lot of things in Islam which either we can do that way or other way (as both way are allowed). for example : In salat there are lot of veriation (like: ameen said loud or not, etc ). but Only Farz & Haram are clearly defind and we have to strictly follow those things. For some sunnah we have some flexibility (like: head cover for man, Beard, etc)

        Anyway Jajak-allah for your post.

        1. ৪৫.১.১.১
          মাহফুজ

          The innovators have innovated Nikab as Farz in Islam. It is a custom only. It is not haram & can be applied if needed by any woman whether Muslim or not..

          Thank u for your comment.

          Allahu-akber

          1. md. akhter

            আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে ইহরামে থাকা অবস্থায় ছিলাম। পথচারীগণ আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত। তারা আমাদের নিকট আসলে আমরা মাথার উপর থেকে খিমার চেহারার উপর ফেলে দিতাম। তারা চলে গেলে সেটা উঠিয়ে নিতাম।

            সুনানে আবু দাউদঃ ১৮৩৩, ফাতহুল বারী ৩/৪৭৪।

            এটা কি শুধু আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য হুকুম। অথচ হাদিসে ‘আমরা’ শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। আর এই আমরা যে সকল মু’মিনিন নারীদের জন্য প্রযোজ্য, সেটাও কুরান বলছে-

            “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিন নারীদেরকে বলুনঃ তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।”

            এই আয়াতের ব্যাখ্যা আমি সাহাবাদের কাছ থেকে নিব নাকি সদালপের বাংলিশ ফতোয়াদাতাদের কাছ থেকে নিব, সেটাই আসল ব্যাপার।

            নোটঃ কুরানের কোন শব্দের অর্থ অভিধান থেকে আগে না, বরং সেটার প্রসঙ্গ, কুরানের অন্যান্য আয়াত, হাদীসে কি বুঝানো হয়েছে, সাহাবারা কি বুঝেছেন – সেটাই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। তাই মুখ ঢাকার বিধানকে যারা বিদআত বলতে পারে, তাদের বুঝা উচিত যে এটা সাহাবাদের আমল ছিল এবং তারা সেটাকে পর্দার অন্তর্ভুক্ত মনে করেই করতেন। খুব সম্ভবত এইসব সংকীর্ণমনারা সাহাবাদের মর্যাদা বুঝতে পারেনি।

          2. shahriar

            @akther bhai,

            Very good explanation with hadis. jajak-allah.

  46. ৪৬
    এস. এম. রায়হান

    নিচের পোস্টের ছবিটা খুব ভালো করে সবাই দেখুন। এখানে বোরখা, নিকাব, হিজাব, ও চাদর পরিহিত চারজন নারীকে চার শ্রেণীতে (তথা চার বর্ণে) ভাগ করা হয়েছে!!! ছবিটা না দেখলে কিন্তু বুঝা যাবে না।

    https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1655217391412160&set=a.1479402795660288.1073741829.100007717456139&type=3 

  47. ৪৭
    এস. এম. রায়হান

    "যারা বলে হিজাব ফরজ- মুখ ঢাকা ফরজ নয়, তারা হয় বোকার স্বর্গে বাস করছে অথবা বিভ্রান্তিতে পতিত আছে।" [সূত্র]

  48. ৪৮
    Human Being

    রায়হান ভাই কী আর টপিক পাননি? কেন সময় এবং শক্তির অপচয় করছেন?

  49. ৪৯
    মাহফুজ

    @md. akhter

    আপনার উল্লেখিত হাদিছ- //উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম তখন আমাদের পাশ দিয়ে অনেক কাফেলা অতিক্রম করত। তারা যখন আমাদের সামনাসামনি চলে আসত তখন আমাদের সকলেই চেহারার ওপর ওড়না টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার তা সরিয়ে নিতাম।-মুসনাদে আহমাদ ৬/৩০; ইবনে মাজাহ, হা//

    এবার নিচের হাদিছটি লক্ষ্য করুন-

    ১৮৩৮. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইহরাম অবস্থায় আপনি আমাদেরকে কী ধরনের কাপড় পরতে আদেশ করেন? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জামা, পায়জামা, পাগড়ী ও টুপী পরিধান করবে না। তবে কারো যদি জুতা না থাকে তাহলে সে যেন মোজা পরিধান করে তার গিরার নীচ হতে এর উপরের অংশটুকু কেটে নিয়ে তোমরা যাফরান এবং ওয়ারস্ লাগানো কোন কাপড় পরিধান করবে না। মুহরিম মহিলাগণ মুখে নেকাব এবং হাতে হাত মোজা পরবে না। মূসা ইবনু ‘উকবাহ, ইসমা‘ঈল ইবনু ইবরাহীম ইবনু ‘উকবাহ, জুওয়ায়রিয়া এবং ইবনু ইসহাক (রহ.) নিকাব এবং হাত মোজার বর্ণনায় লায়স (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) وَلاَ الْوَرْسُ এর স্থলে وَلاَ وَرْسُ বলেছেন এবং তিনি বলতেন, ইহরাম বাঁধা মেয়েরা নিকাব হাত মোজা ব্যবহার করবে না। মালিক (রহ.) নাফি‘ (রহ.)-এর মাধ্যমে ইবনুউমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, ইহরাম বাঁধা মেয়েরা নিকাব ব্যবহার করবে না। লায়স ইবনু আবূ সুলায়ম (রহ.) এ ক্ষেত্রে মালিক (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (১৩৪)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭০৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭১৬)

     ১৮৩৮. নং হাদিছের বর্ণনায় বলা হলো- //ইহরাম বাঁধা মেয়েরা নিকাব হাত মোজা ব্যবহার করবে না।।//

    কিন্তু আপনার উল্লেখিত হাদিছের বক্তব্যে বলা হলো- //উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম তখন আমাদের পাশ দিয়ে অনেক কাফেলা অতিক্রম করত। তারা যখন আমাদের সামনাসামনি চলে আসত তখন আমাদের সকলেই চেহারার ওপর ওড়না টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার তা সরিয়ে নিতাম।//

    ১৮৩৮. নং হাদিছে ইহরাম অবস্থায় নারীরা চেহারা আবৃতকারী (নেকাব) এবং হাত আবৃতকারী (কুফ্ফাযাইন) পরবে না বলে নির্দেশ দেয়া হল। সুতরাং এই নির্দেশ পালন করতে হলে ইহরাম অবস্থায় মুখমণ্ডল ঢাকার আর প্রশ্ন আসেনা। অথচ আপনার উল্লেখিত অপর হাদিছের বক্তব্যে স্পষ্টভাবেই তা অমান্য করার (চেহারার ওপর ওড়না টেনে দিতাম) বিষয়টি প্রকাশ পাচ্ছে। এক হাদিছের সাথে অন্য হাদিছের বক্তব্যের স্ববিরোধিতা এবং আল-কোরআনের বিধানের সাথে অসামঞ্জস্যতা থাকার কারণে এই হাদিছগুলো সহী কিনা কিংবা এগুলোর বক্তব্য সঠিকভাবে পেশ করা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে খটকা লাগাটাই স্বাভাবিক নয় কি?

    1. ৪৯.১
      shahriar

      There are no confusion regarding those hadis. Basically it means both (niqab or hizab) are allowed in Islam. But it also sure that "face cover" not mendatory/farz. In islamic way it's called "muba(up to her choise)"

       

      1. ৪৯.১.১
        মাহফুজ

        আল-কোরআনের কোন আয়াতে বিশেষভাবে নারীদের ক্ষেত্রে ‘হিজাব’ কিংবা ’নিকাব’ শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়েছে কি?

         

        পুরুষ এবং নারী উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখার ও লজ্জাস্থান হেফাযত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর সেজন্য তাকওয়া/ ধর্মপায়ণতা/ ন্যায়নিষ্ঠতার পোষাককে সর্বোত্তম বলা হয়েছে-

        (০৭:২৬) অর্থ- হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবতীর্ণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর/ধর্মপরায়ণতা/ ন্যায়নিষ্ঠতার পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতের অন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।

         

        সুতরাং লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা সবার জন্য পোষাক পরিধান করা ফরজ। অথচ হিজাব করার অর্থ নিজেকে আড়াল করে রাখা। আল-কোরআনে এমন কোন আয়াত নেই যেখানে বলা হয়েছে যে, পুরুষ এবং নারীকে পরস্পর থেকে একেবারে আড়াল করে রাখার জন্য ‘হিজাব’ করতে হবে কিংবা মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার জন্য ‘নিকাব’ পরতে হবে। তবে শালীনতা ও লজ্জাশীলতা যেন লঙ্ঘিত না হয় সেজন্য উভয়কেই একটা সীমা রক্ষা করতে বলা হয়েছে। দৃষ্টি সংযত রাখার মাধ্যমে মনের পর্দা রক্ষাকে প্রথমেই উল্লেখ করে এর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদেরকে যেহেতু বাহ্যিক অর্থাৎ দেহের গঠনগত বিশেষ সৌন্দর্য দান করা হয়েছে, তাই তা ঢেকে রাখার জন্য কিভাবে পোষাক পরিধান করতে হবে তার নির্দেশনাও স্বয়ং স্রষ্টাই খুব সুন্দরভাবে খুলে খুলে জানিয়ে দিয়েছেন। অহেতুক বাড়াবাড়ি নয়, বরং এটি মেনে চলা ও দৈনন্দিন কাজে কর্মে নিয়োজিত থাকাই বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদের জন্য অবশ্য পালনীয়। সত্যিকার অর্থে চক্ষুষ্মানদের জন্য এরপর মুনুষ্য উদ্ভাবিত প্রথা (হিজাব কিংবা নিকাব) সম্পর্কিত আর কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন পরেনা। আর অনুকরণ করার তো প্রশ্নই আসেনা।

        1. ৪৯.১.১.১
          Shahriar

          “দৃষ্টি সংযত রাখার মাধ্যমে মনের পর্দা রক্ষাকে প্রথমেই উল্লেখ করে এর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।”

          really funny .. I have nothing to say. Allah knows well.

          সত্যিকার অর্থে চক্ষুষ্মানদের জন্য এরপর মুনুষ্য উদ্ভাবিত প্রথা (হিজাব কিংবা নিকাব)..

          haaaaa… funny .. man made  !!!! 
          Allah knows well who is rite and wrong.

          but most of the explanation of Quran and Hadis are goes to Hizab or Niqab. both are rite. Now its up to his/her own decision. It's better no body should  force to it.

          1. মাহফুজ

            Only the ethics of Al-Quran are right. 

            Any explanation and Hadis conflicts with the principles of Al-Quran is wrong.

            Principle of Al-Quran is compulsory to follow & not up to a Muslim's (his/her) own decision.

             

            (২:১৭০) আর যখন তাদেরকে বলা হয়, “আনুসরণ কর যা আল্লাহতায়ালা নাযিল করেছেন”, তখন তারা বলে, “না, আমরা তাই অনুসরণ করব যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি।” যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই অবগত ছিলনা এবং তারা সত্যের পথেও ছিলনা।

            (০৭:০২) এটি একটি গ্রন্থ, যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে তুমি এর মাধ্যমে ভীতি-প্রদর্শন কর। অতএব, এটি পৌছে দিতে তোমার মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ।

            (০৭:০৩) তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। তোমরা তো খুব কম সংখ্যকই উপদেশ গ্রহণ কর।

    2. ৪৯.২
      মাহফুজ

      এখন বিবেকবান মুসলিম ভাই ও বোনেরা নিজেরাই বিচার করুন এবং নিদ্ধান্ত নিন- সন্দেহ মুক্ত নয় এমন কথা/ ব্যাখ্যা গ্রহণ করবেন, নাকি মহান স্রষ্টা প্রেরিত কিতাবের স্পষ্ট বাণী/ নির্দেশকেই সবার উপরে স্থান দেবেন।

      1. ৪৯.২.১
        Shahriar

        So we have 02 options:

        1) As per your own explanation of quran (no need Hizab or Niqab).
        or
        2) The Wives of Prophet(S) and Sahaba's way: Use any one (hizab or Niqab) whatever she like.

        হাদিসর&Quran ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা থাকতে পারে, এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ পাকই ভাল জানেন।

        1. ৪৯.২.১.১
          মাহফুজ

          বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পবিত্র কোরআনের সর্বমোট পাঁচটি আয়াতে ‘হিজাব’ শব্দটি এবং একটি আয়াতে ‘আকিন্নাতিন’ ও ‘হিজাব’ শব্দ দুটি একত্রে ব্যবহার করা হয়েছে-

          (৭:৪৬) উভয়ের মাঝখানে একটি আড়াল থাকবে এবং আরাফের (জান্নত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থান) উপরে অনেক লোক থাকবে। তারা সকলেই তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে। তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে।

          (১৯:১৬) এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন, যখন সে তার পরিবারের লোকজন থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল।

          (১৯:১৭) অতঃপর তাদের থেকে আড়াল অবলম্বন করলো। অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহ প্রেরণ করলাম, সে তার নিকট পুর্ণ মানবাকৃতিতে আত্নপ্রকাশ করল।

          (৩৩:৫৩) হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা আহার্য গ্রহণের জন্য তা প্রস্তুতির অপেক্ষা না করে নবীর গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমরা আমন্ত্রণ করা হলে প্রবেশ করো, অতঃপর যখনই খাওয়া শেষ হয় তখনই চলে যাও, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবীর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্যকথা বলতে সংকোচ করেন না। তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে বা প্রশ্ন করলে আড়াল থেকে চাইবে বা প্রশ্ন করবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ। আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর পত্নীগণকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য কখনও উচিত নয় এবং আল্লাহর কাছে এটা গুরুতর অপরাধ।

          (৪১:৫) তারা বলে তুমি যে বিষয়ের দিকে আমাদেরকে দাওয়াত দাও, সে বিষয়ে আমাদের অন্তর/ হৃদয় (أَكِنَّةٍ – akinnatin) পর্দা/ ঢাকনা/ আবরণের মধ্যে রয়েছে, আমাদের কর্ণে রয়েছে বধিরতা এবং আমাদের ও তোমার মাঝে রয়েছে (حِجَابٌ – ḥijābun) অড়াল। অতএব, তুমি তোমার কাজ কর, নিশ্চয় আমরা আমাদের কাজ করছি।

          (৪২:৫১) কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন- ওহী প্রেরণ করা অথবা কোন আড়ালের আশপাশ থেকে অথবা কোন সংবাদ বাহক প্রেরণ করা ব্যতীত, অতঃপর তিনি (আল্লাহ) যা চান, সে তাঁর অনুমতিক্রমে তা অবতীর্ণ করে। নিশ্চয় তিনি সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাময়।

           

          একটি আয়াতে নবী পত্নীগনকে বা অন্য কোন নারীদেরকে পর্দা কিংবা ঢাকনা পরার নির্দেশ নয়, বরং পুরুষদেরকেই আড়াল অবলম্বন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

           

          1. Shahriar

            Please give some reference (Authentic hadis, Sahaba's explanation or at least 04 Imama's thought) which support your own view/explanation of Qur'an  that no need Hizab or Niqab for women.

            When we follow explanation of Qur'an, we must follow Mohammad (SW) then his sahaba or  his wives's explanation .. (women must follow either Hizab or Niqab)

            But not ganarel people's explanation because it may differ from the actual meaning.

            jajak-allah.

          2. মাহফুজ

            @Shahriar

            //Please give some reference (Authentic hadis, Sahaba's explanation or at least 04 Imama's thought) which support your own view/explanation of Qur'an  that no need Hizab or Niqab for women.//

            ধর্মীয় বিধি নিষেধের ব্যাপারে আল-কোরআনে যে দিকনির্দেশনা দেয়া আছে তার বাহিরে নুতন কোন কিছুই Authentic নয়। যেহেতু আমি আল-কোরআনের দিকনির্দেশনা অনুসারেই বলেছি। কাজেই তা আমার নিজস্ব কোন ব্যাখ্যা নয়। বাড়াবাড়ি কিংবা উপেক্ষা না করে, যা আছে আমি তা স্পষ্ট করে তুলে ধরেছি মাত্র।

            //When we follow explanation of Qur'an, we must follow Mohammad (SW) then his sahaba or  his wives's explanation .. (women must follow either Hizab or Niqab)//

            মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে অনুসরণ করতে হলে পবিত্র কোরআনের দিকনির্দেশনা অনুসারেই করতে হবে। আমি আগেই বলেছি, কোরআনে নারীদের উদ্দেশ্যে হিজাব বা নিকাব নয় বরং দৃষ্টি সংযত রাখার পাশাপাশি লজ্জাস্থান ঢাকার জন্য শালীন পোষাক পরে সংযতভাবে চলাফেরা করার নির্দেশ বেশ পরিষ্কার ভাষাতেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তা মেনে চলাই যে ইহাকলিন ও পরকালিন শান্তি ও মুক্তির জন্য যথেষ্ট, তা আমি হলফ করে বলতে পারি। এরপরে আর কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন নাই।

            শুধুামাত্র পবিত্র কোরআনই ১০০% নির্ভূল। কোন ব্যাখ্যাই ত্রুটির উর্ধে নয়। যে হাদিছ ও ব্যাখ্যা যতটা আল-কোরআন মুখি, তা ততটাই ত্রুটিমুক্ত। সকল সাহাবা ও ইমামগণের উপর শ্রদ্ধা রেখেই বলছি। তাদের অভিমতকে অগ্রাহ্য করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছাও আমার নাই। কালের প্রবাহে তাদের ব্যাথ্যা বিশ্লেষণ যে স্বার্থবাদী মহল বিকৃত করে তাদের নামে চালানোর চেষ্টা করে নাই তা কি অন্ধভাবে বিশ্বাস করা ঠিক হবে? আর এ ধরনের নীতিভ্রষ্টতার কারণেই যে অনেক ভ্রান্ত আকিদার জন্ম হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এমনও অনেক ব্যাখ্যা আছে যা বর্তমান জামানায় অচলই শুধু নয়, হাস্যকরও বটে। সুতরাং মুসলিমদের একতার স্বার্থেই তাদেরকে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা আল-কোরআনকেই প্রাধান ও একমাত্র হিসেবে মেনে নিবেন, নাকি অন্য কিছুকে। তবে আল-কোরআনে যদি কোন বিষয়ে শুধু মৌলিক কিছু ইংগিত দেয়া থাকে, তাহলে সেই বিষয়ে মৌল দিকনির্দেশনার আলোকে ব্যাখ্যা করা যেতেই পারে।

            //But not ganarel people's explanation because it may differ from the actual meaning.//

            যা স্পষ্ট, সে ব্যাপারে ভিন্নমত থাকতে পারেনা। যেমন পবিত্র কোরআনে সালাত কায়েম করতে বলা হয়েছে। আর সালাতের সময় কোরআন পাঠ, রুকু, সিজদা করতে বলা হয়েছে। সুতরাং তা অবশ্যই করতে হবে। কেউ যদি বলেন, রুকু না করলেও চলবে বা সিজদা না করে ডিগবাজি খেলেও হবে, তাহলে তা নিশ্চয় ভুলই হবে। আর রুকু ও সিজদা নুতন কিছু নয়। সকল ধর্মেই তা করা হয়। তবে  তারা মহান স্রষ্টা ছাড়াও অন্যকে উদ্দেশ্য করে এসব করে। কিন্তু আল-কোরআন ও রাসূলের সুন্নাত আমাদেরক সে শিক্ষা দেয়না। এ ব্যাপারে রাসূলের সুন্নত মেনে চলার জন্য সহী হাদিছ তালাশ করার প্রয়োজনীয়তাকে আমি অস্বীকার করিনা। আর আমাদের সলাত তো শুধু আল্লাহরই জন্য নিবেদিত হতে হবে। কিন্তু রাসূল (সাঃ) কে স্মরণ করেও একটা সিজদা করতে হবে বলে কোন মহল যদি প্রচার করে, তাহলে তারা শিরক করার অপরাধে অপরাধী হবে। অথচ অজ্ঞতার কারণে এ ধরনের ভ্রান্ত আকিদারও প্রচলন ঘটেছে। অনেকে তো পীর বাবাজির পায়ের উপরও হুমড়ি খেয়ে সিজদা করছে (নাউযুবিল্লাহ)। আবার কেউ কেউ অফিস আদালতে বসদের অনুকম্পা আদায়ের জন্য শুধু কুর্নিশ নয়, মনোরঞ্জনের জন্য তাদের কাছে মদ, ঘুষ এবং আরো কিছু নিবেদনে ব্যস্ত। এটাও এক ধরনের শিরক। নারীদের জন্য কোরআনে হিজাব কিংবা নিকাব সম্পর্কিত কোন নির্দেশই নেই। সুতরাং এ ধরনের বাড়তি কোন প্রথাকে কেউ মেনে চললে তার পরিনাম স্বরূপ ইহকালে ও পরকালে ভাল নাকি খারাপ ফল মিলবে তা আমার জানা নাই।

            প্রতিটি মুসলিমের জন্য কোরআন পাঠ ও অনুধাবন করে সে অনুসারে জীবন পরিচালনার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা ফরজ করা হয়েছে। আর এই চেষ্টার ফলশ্রুতিতে একজন সাধারণ মুসলিমও যদি পবিত্র কোরআনর বাণী যথাযথভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হন, তাহলে সেভাবে অনুসরণ করাই তার জন্য যথেষ্ট। তবে অপারগ হলে ভিন্ন কথা। কারণ মহান আল্লাহতায়ালা কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপান না। আর কাকে কতটা সাধ্য দেয়া হয়েছে এবং সেই সাধ্য অনুসারে কে কতটা চেষ্টা সাধনা করল তা মহান স্রষ্টাই ভালভাবে অবগত আছেন। তিনি চুলচেরা বিচারই করবেন।

            শুধু অন্ধ অনুকরণ নয়, জেনে বুঝে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই একজন মুসলিমের কাজ।

            //jajak-allah//

            আল্লাহুআকবার-

          3. Shahriar

            "নারীদের জন্য কোরআনে হিজাব কিংবা নিকাব সম্পর্কিত কোন নির্দেশই নেই। " when u not found something in Quran , u must check it with authentic hadis. and for head cover of a women  was proven by some authentic hadis ( like:Muslim,bukhary,etc) but if you confused about those books then I have nothing to say.

            anyway at this century (from 1600 to 2000 & continue) nobody can 100% prove which one is correct or wrong in some cases of Islam like:Hizab/Niqab,  Perform Salah in accurate sunnah way(like say ameen loudly or not,rafaia-yadin, etc.)

            so it's better we stay calm for those cases & not force own decision to others.

            jajak-allah.

        2. ৪৯.২.১.২
          Shahriar

          There are lot of group (like: shia, Kadiany, kharizy, etc) deviated from Islam when they explained Quran their own way/view without taken Mohammad 's(S) explanation of Quran. So we should be very carefull about this. We are just Muslim (no Sunni , shia, ahly hadis or whatever) jajak-allah

          1. মাহফুজ

            Al-Quran explains itself  the basic rituals very well.

            May Allah save us from divition & deviation.

            Salam

  50. ৫০
    dirtroad

    আমি পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু  .. বাবা মা সিলেটের।  বাংলাদেশএর  সব সাইট এই যাওয়া আসা করি  .. ভালো লাগে।  কোনো ধর্ম নিয়ে কিছু বলতে চাই না   কিন্তু palestine এর পোস্টে কমেন্ট পরে না অথচ নিকাবের পোস্টে দুশোর বেশি কমেন্ট তাও নিরাননবই ভাগই ছেলেদের  … মনে হয় না কি কোথাও একটা কিছু গোলমাল হচ্ছে  ?? ভালো থাকুন সকলে

    1. ৫০.১
      মাহফুজ

      আপনার দৃষ্টিকোন থেকে হয়ত আপনি ঠিকই বলেছেন। প্রালেস্টাইনিদের জন্য আপনার সহানুভূতি আছে জেনে ভাল লাগলো। তবে তাদের সমস্যা সমধানের জন্য শুধু সহানুভূতি ও পোষ্টে মন্তব্য নয়, কঠোর সংগ্রামের প্রয়োজন। আর এ জন্য ছোট ছোট বিভেদ দূর কারও জরুরী বটে-

    2. ৫০.২
      মজলুম

      বর্তমান মুসলিমরা বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজতে উস্তাদ। বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের যেই অবস্হা ওরা আসলে তার চেয়ে বেশী কিছু ডিজার্ব  করেনা। কবি নজরুল অনেক আগে বলে গেছেন, বিশ্ব যখন পৌছে গেছে মঙ্গল চাঁদের দেশে, আমরা তখন বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজি কোরান হাদিস চষে। নিজেরা ঠিকমতো ইসলাম না মানলেও বিবিদের উপর পূর্নাঙ্গ ইসলাম কায়েম করিয়াই ছাড়বেন উনারা। এদের অবস্হা আমাদের সমাজের অন্যান্য কিছু মানুষের মতো, যারা নিজেরা ভাল কাজ করেনা কিন্তু অন্যকে ভালো কাজের কথা/উপদেশ দেন।

      1. ৫০.২.১
        মাহফুজ

        তালাক অর্থাৎ ডিভোর্স বিষয়টি অপছন্দের হলেও ক্ষেত্র বিশেষে অনেক সময় এটির বাস্তবায়ন অবশ্যম্ভাবী হয়ে দেখা দিতে পারে।

        বিশ্ব যখন পৌছে গেছে মঙ্গল চাঁদের দেশে, আমরা তখন বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজি কোরান হাদিস চষে।

        1. ৫০.২.১.১
          shahriar

          jajak-allah. yes it's nessary & thanks for the link.

  51. ৫১
    মজলুম

    যাদের জন্যে নজরুলের কবিতার এই লাইন, দূর্ভাগ্য যে ঐ লাইনটা তাদের মাথার উপর দিয়ে গেছে।

    1. ৫১.১
      সত্য সন্ধানী

      ভাই, কাজী নজরুল ইসলাম এ যুগে বেঁচে থাকলে হার্ট ফেইল করে মারা যেতেন মুসলিম সমাজের ওই ফেরকাবাজীর করুন অবস্থা দেখে।

  52. ৫২
    এস. এম. রায়হান

    এতদিন ধরে জেনে এসেছি কোরআনের ব্যাখ্যা হচ্ছে রাসূল (সা)-এঁর হাদিস। অথচ কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যায় হাদিসের উদ্ধৃতি না দিয়ে কিছু মানুষের ব্যাখাকে ‘আল্লাহ্‌র বিধান’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে!

    আরো মজার বিষয় হচ্ছে সেই ব্যাখ্যাগুলোকেও পুরোপুরি অনুসরণ করা হচ্ছে না! যেমন, সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতের প্রেক্ষিতে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও ইবনে সীরিনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী শুধু এক চোখ খোলা রাখতে হবে (২৬ নং মন্তব্য দ্রষ্টব্য)। অথচ বাস্তবে নিকাবী নারীরা দুই চোখই বন্ধ বা খোলা রাখেন! নিকাবপন্থী পুরুষরাও এ নিয়ে কিছুই বলেন না! হচ্ছেটা কী? ইসলামের নামে এই দ্বিচারিতা আর গোঁড়ামির শেষ কোথায়?

    1. ৫২.১
      ফজলে হাসান সিদ্দিকী

      ——-অথচ কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যায় হাদিসের উদ্ধৃতি না দিয়ে কিছু মানুষের ব্যাখাকে ‘আল্লাহ্‌র বিধান’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে!

       এরকম অভিযোগ আপনি কাদের বিরুদ্ধে করছেন?  তাদের (আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও ইবনে সীরিনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী……) ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে আপনার ব্যাখ্যা কে কেন আমি বিধান বলে মেনে নিব?

      তাই আপনার কাছে প্রশ্নঃ "মিম্বরী আইন বাদ দিয়ে মিরাস বণ্টনের বিধান আলোচনা করুন। কারন– এটাও মানুষের ব্যাখ্যা।

       

       

      1. ৫২.১.১
        এস. এম. রায়হান

        ১মত- আমি নিজে থেকে কোনো বিধান দেইনি।

        ২য়ত- আপনি আসল পয়েন্ট'টা চেপে গেছেন। সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতের প্রেক্ষিতে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও ইবনে সীরিনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী শুধু এক চোখ খোলা রাখতে হবে। কাজেই যারা এই দুটি রেফারেন্স দিয়ে নিকাবকে সমর্থন করে তাদের উচিত এক চোখ খোলা রাখার পক্ষে বলা। অথচ বাস্তবে নিকাবী নারীরা দুই চোখই বন্ধ বা খোলা রাখেন। নিকাবপন্থী পুরুষরাও এ নিয়ে কিছুই বলেন না। এতে কি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও ইবনে সীরিনের ব্যাখ্যাকে অবজ্ঞা করা হলো না? এইটা কি তাহলে দ্বিচারিতা নয়?

        1. ৫২.১.১.১
          Fazle hassan siddiqui

          না ভাই, ব্যাপার হল, কে কতটুকু আমল করল এটা এখানে আলোচ্য  না। বিধান কি? এবং এব্যাপারে ব্যাখ্যা কি- এই আলোচনা এখানে হচ্ছে। এক চোখ ঢেকে চলার যোগ্যতা  যদি কারো না থাকে তাকে দোষারোপ করা কেন? 

           

          ভাই আপনি ও আমার প্রশ্নের জবাব দেন নি।

  53. ৫৩
    এস. এম. রায়হান

    নিকাবপন্থীদের মধ্যেই আবার মোটাদাগে ও সূক্ষ্মদাগে একাধিক ফেরকা আছে!

    মোটাদাগে দুটি ফেরকা: এক ফেরকা অনুযায়ী চেহারা ঢেকে রাখা ফরয। আরেক ফেরকা অনুযায়ী চেহারা ঢেকে রাখা ওয়াজেব। কিন্তু একই কাজ ফরয ও ওয়াজেব হয় কী করে, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।

    সূক্ষ্মদাগে দুটি ফেরকা:

    ১. দুই চোখ খোলা রাখা যাবে (মূল পোস্টের দ্বিতীয় ছবির ডান পাশের ছবিটা দ্রষ্টব্য), যদিও তাদের রেফারেন্স অনুযায়ী শুধু এক চোখ খোলা রাখতে হবে! প্রয়োজনে চেহারা দেখানো যাবে এবং ছবিও তোলা যাবে।

    ২. দুই চোখই ঢেকে রাখতে হবে (মূল পোস্টের দ্বিতীয় ছবির বাম পাশের ছবিটা দ্রষ্টব্য) এবং কোনো অবস্থাতেই চেহারা দেখানো বা ছবি তোলা যাবে না। বিশেষ অবস্থাতেও চেহারা দেখানো ও ছবি তোলা হারাম। এই ফেরকার পক্ষে একটি প্রমাণ নিচে দেওয়া হলো।

    ছবি তোলা মানেই বেপর্দা হওয়া : (এ কথাই ঠিক)
    ——————————————
    আজকে প্রায় এক যুগ হলো আমার আহলিয়া(স্ত্রী) তিনি খালিছ পর্দা করছেন। এই সময়ের মধ্যে কখনও কোন পরপুরুষ উনারা চেহারা, এমনকি শরীরের একটি পশমও কোন পরপুরুষ দেখেনি।

    এখন উনাকে আইডি কার্ড করতে হবে। আইডি করতে গেলে প্রথমেই উনাকে পরপুরুষের সামনে বেপর্দা হয়ে ছবি তুলতে হবে, আবার সেই ছবিও অনেক পরপুরুষ দেখতে পাবে।

    ছবি তোলা মানেই তো বেপর্দা হওয়া। একই সাথে দুইটা হারাম কাজ করা।

    এখন অনেকে হয়ত বলতে পারেন- উনি মাজুর হয়ে ছবি তুলছেন ও বেপর্দা হচ্ছেন। আমাদের দেশে ইসলামি দল থাকতে কেন আমাদেরকে মাজুর হয়ে বেপর্দা হতে হবে, কেন হারাম কাজ করতে হবে?

    ইসলামের নামধারি দলগুলোর মধ্যে প্রকৃতপক্ষে ইসলাম আছে কি? ইসলামের নামধারি দলগুলোই তো হারাম ছবি তোলে, বেপর্দা হয়, আরো অনেক হারাম কাজ করে। সঙ্গতকারনেই তারা হারাম কাজের প্রতিবাদ করেনা।

    তাহলে, হারাম কাজ থেকে আমরা কিভাবে বাঁচতে পারব?

    সূত্র: https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=1527855167509191&id=100008541661052

  54. ৫৪
    এস. এম. রায়হান

    অভিজিৎ রায় সুকৌশলে মুসলিম নারীদের পোশাক নিয়ে ব্যঙ্গ করলেও নারীদের পোশাক কেমন হওয়া উচিত, সে ব্যাপারে কিছুই বলেনি। তার মস্তকধোলাই পূজারীরাও তাকে এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করার সাহস পায়নি! কাজেই তার চেপে যাওয়া কাজটা আমাকেই করতে হলো, কী আর করা! তার পোস্টের মধ্যে 'প্রকৃত স্বাধীন নারী'র একটি ছবি যোগ করে পোস্ট'টাকে পরিপূর্ণতা দেওয়া হয়েছে যাতে করে সকলেই ব্যাপারটা বুঝতে পারেন।

  55. ৫৫
    কিংশুক

    ফরজ হতে হলে কোরআন শরীফের অকাট্য আয়াত ও সহীহ ক্ষেত্রবিশেষে মুতাওয়াত্তির হাদিস থাকতে হয়। ওয়াজিব হতে হলেও কোরআন হাদিসের সরাসরি নির্দেশনা থাকতে হয়। আর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে থেকে অনেক শতাব্দী ধরে বিশ্বের নামকরা মেধাবী সব আলেম বের হচ্ছেন। আল আজহারের সিলেবাসও বিশ্বসেরা। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেমদের মতামতকে যাঁরা কোন প্রকার মূল্য দিতেই রাজি নয় তারা কি কোরআন হাদিসের আলোকে আজহারী আলেমদের সাথে প্রাথমিক বিতর্কেরও যোগ্যতা রাখে?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।