«

»

মার্চ ২৭

অভিজিৎ রায়ের দাবির সাথে ইমরান সরকারের একটি পোস্ট ১০০% সাংঘর্ষিক!

১. বিবর্তনের ধারায় বিলুপ্তির আগ পর্যন্ত অভিজিৎ রায়ের লেখালেখির #১ উদ্দেশ্য ছিল কোরআনকে 'সকল প্রকার জঙ্গি-সন্ত্রাসের উৎস' এবং মুসলিম নামধারী জঙ্গি-সন্ত্রাসীদেরকে 'একমাত্র কোরআন-বিশেষজ্ঞ সহি মুসলিম' প্রমাণ করা। অভিজিৎ রায়ের দাবি অনুযায়ীই সে নিজে আর তার পূর্ব-পরিচিত জঙ্গি-সন্ত্রাসীরাই শুধু কোরআন বোঝে। অন্য কেউ কোরআন বোঝে না। সত্যি বলতে, আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে অভিজিতের মানসিকতার সকলেই এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে দাস-মনোবৃত্তির ব্রাহ্মণ-পূজারী খৎনাধারী নাস্তিকরা। অভিজিৎ রায়ের লেখালেখি ও বাংলা অন্তর্জালের সাথে যারা দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত তাদের সকলেরই এটা জানার কথা।

২. একটা সময় ইমরান সরকারের ফেসবুক পেজের কভার ফটোতে বেশ কিছুদিন ধরে একটি 'বাণী' ঝুলানো ছিল – "অভিজিৎ রায়রা হারলে হারবে বাংলাদেশ।" এই ধরণের বাণী ঝুলিয়ে রাখার পেছনে ইমরান সরকারের কী উদ্দেশ্য ছিল, সেটা সে-ই ভালো জানে। তবে অভিজিৎ রায় সম্পর্কে জেনেবুঝে কোনো ইসলামে বিশ্বাসী এই ধরণের কথা বলতে পারে না নিশ্চয়। তাছাড়া অভিজিৎ রায়দের হার-জিতের সাথে বাংলাদেশের হার-জিতেরই বা কী সম্পর্কে থাকতে পারে, সেটাও বোধগম্য নয়।

৩. ফেসবুকে একটু আধটু বিচরণ করলে অনেক কিছুই নজরে পড়ে। আজকে একটি লিঙ্কে ক্লিক করে দেখি ইমরান সরকারের একটি পোস্ট – পোস্টের নিচে 'সংগৃহিত' লিখা।

 

 

একই লেখা অন্যান্য জায়গায় অনেক আগেই দেখেছি। এই ধরণের পোস্টের উদ্দেশ্য ইমরান সরকার নিজে ছাড়া অন্য কারো পক্ষে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে, অভিজিৎ রায়ের উপস্থিতিতে এই ধরণের পোস্ট দেওয়ার আগে সে হাজার বার ভেবে দেখতো! তবে তার উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, পোস্টটা পড়ে সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে 'অভিজিৎ'দের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে, সেটা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে সহজেই অনুমান করতে পারছিলাম! ঔৎসুক্য মন নিয়ে কিছু মন্তব্য পড়তে যেয়ে আমার অনুমান শতভাগ সত্য প্রমাণিত হলো! নিচে তাদের কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হলো (নোট: পোস্টদাতা ইমরান এইচ সরকার হওয়ার কারণে মন্তব্যগুলো অনেক ভদ্র ভাষায় করা হয়েছে!)

Prashun Ghosh Roy আজকের সরকার আগামী দিনের জংগী।

অরবিন্দ চক্রবর্তী ছিঃছিঃ….. এ লোকটাকে একসময় ভালোবাসতাম!

Pranoy DS Sarjon ইসলাম সম্পর্কে তুই জানিস? জানলে তোর স্ত্রীকে ফেসবুক বাজারে ছেরে না দিয়ে পর্দার আড়ালে রাখতিস।

চন্দন ঘোষ শুভ শেষ পর্যন্ত পাছাটা এইভাবে বর্গা দিবেন ভাবিনাই।

উত্তম গোস্বামী এই সব ক‌পি পেস্ট পোস্ট দিয়া কোন বালডা অয়, সত্য স্বীকার ক‌রে নেন।

Sonjit Saha Saju ভাই গাঞ্জাখড়ি উদাহরণ!!!

Mrinal Podder আপনার পোস্ট পড়ে মনে হচ্ছে নিজের গালে নিজেই জুতা মারি।
যাক গিয়ে, পিনাকীর সাথে লাস্ট কবে দেখা করছেন? কফি হুজুরের দোয়া নিয়া সামনের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু কইরা দেন।

Bivas Mondal এই সব সস্তা গল্প পরিবেশ করে ইসলাম রক্ষার জন্য যখন উঠে পড়ে লেগেছেন তখন পরবর্তী ধর্মমন্ত্রী আপনিই হবেন 

Sudipto Dhar Dipto ডাঃ ইমরান এইচ সরকারের পেজটা ইদানিং সময়ে একটা রুমান্টিক আর রেডিওমুন্না টাইপের পেজে পরিণত হয়েছে.. এসব পোষ্ট রেডিওমুন্নাতে মানায়, এ পেজে না… 

Sibu Das " জঙ্গি মুসলিম হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে কাফেরের শিরচ্ছেদ করে, যখন মডারেট মুসলিম চেপে ধরে থাকে কাফেরের পা "
ইসলামের কুকীর্তি ঢাকা দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়া মডারেট মুসলিম হইতে সাবধান।

হৃষিতা মনীষা সব জঙ্গিই মুসলিম কিন্তু সব মুসলিম জঙ্গি নয়।

আরত্ত অরণ্য অবশেষে ইমরান এইচ সরকারও ধীরে ধীরে ইসলামের ছায়াতলে ঢুকে যাচ্ছে।কেউ আমিন না লিখে যাবেন না।

Tapas Singh ধর্মকে মহান বানিয়ে,মানুষকে আর কত বোকা বানাবে। ফেনিয়ে ফেনিয়ে আর কত গল্প বানাবে। আস্তে আস্তে মানুষ মুখ আর মুখোসের পার্থক্য বুঝতে পারচ্ছে।

Jayanta Roy এগুলো তো বাচ্চাদের জোকস্।

রাজিব সেন ইদানিং আপনার ধর্মের প্রতি আনুগত্য বেড়ে গেছে মনে হয়। কি তাবিজ দিলো মন্ত্রীকন্য।

Topan Don যতই ইসলাম তার নৃশংসতাকে বিভিন্ন কথা বলে ধামাচাপা দিতে চাক পৃথিবীর মানুষ কখনো বিশ্বাস করবেনা। জঙ্গিরা নামাজ পড়েনা, রোজা রাখেনা, আল্লাহর নাম ডাকেনা, মাদ্রাসায় পড়েনা। এই সকল ইসলামিক উগ্রবাদী ধার্মিকতা চাপিয়ে যাওয়া।

 

এখানে মাত্র কয়েকটি মন্তব্য দেওয়া হয়েছে। এই ধরণের মন্তব্য আরো অনেক আছে। এদের ধর্মীয় অনুভূতি কতটা প্রবল, ভেবে দেখুন! কোরআন নিয়ে এই ধরণের পোস্ট পড়ে তারা লজ্জায়-ঘৃণায়-হতাশায় জ্বলেপুড়ে মরছে! এমনকি ইমরান সরকারকে 'আগামী দিনের জংগী'ও বলা হয়েছে! 😛 

তাহলে অভিজিৎ রায়ের স্ট্যাইলে বেদ-গীতাকে 'জঙ্গি-সন্ত্রাসের উৎস' বানিয়ে দিয়ে এবং তাদের ধর্মের অবতারদের নিয়ে কটূক্তি-বিষোদগার করে ১৪-১৫ বছর ধরে বিশেষ কোনো ব্লগে একের-পর-এক পোস্ট দেওয়া হলে তারা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এর প্রমাণ বাংলা অন্তর্জালেই অনেক আছে। কিন্তু 'নাস্তিক-মুক্তমনা'রূপী ভণ্ডদের লেখায় এগুলো কখনোই আসে না। তারা বরং নিয়মিত দাবি করে এই বলে যে, সেই বিশেষ ধর্মাবলম্বীরা অনেক আগেই সভ্য হয়ে গেছে। কিন্তু মুসলিমরা অসভ্য-বর্বর-অমানুষই রয়ে গেছে। কাজেই মুসলিমদেরকে 'সভ্য-মানুষ' বানাতে হবে। এইটা বর্ণবাদী মিশন্যারীদের থেকে শেখা। খ্রীষ্টান মিশন্যারীরাও আফ্রিকা-এশিয়ার 'অসভ্য'দেরকে 'সভ্য' বানানোর মিশনে রত।

তাদের ধর্মের পাথরের তৈরী 'লিঙ্গ' নিয়ে কটূক্তির কারণেও তারা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, কতটা অসভ্য-অশ্লীল-বর্বর হতে পারে, কীভাবে হত্যা-ধর্ষণের হুমকি দিতে পারে – তার মাত্র দুটি প্রমাণ নিচের লিঙ্ক দুটিতে দেখা যাবে (এমন প্রমাণ অনেক আছে)। বিশেষ করে মন্তব্যগুলো দেখুন-

শিবলিঙ্গ নিয়ে কটূক্তি, অতঃ পর সারা দেশে মামলা দুই- ইডেন মহিলা কলেজে পড়ুয়া পূজা ভট্টাচার্য্য শিবলিঙ্গকে নিয়ে কটূক্তি কর…

Posted by Nayan Saha on Sunday, February 26, 2017

যে সব কুত্তার বাচ্ছা মোল্লা,সেকু,বেশ্যা হিন্দুদের হিজরা ভাবিস তাদের কপালে সত্যি খুব দুঃখ আছে।প্রতিবাদ প্রতিরোধ করুন সব্ব…

Posted by Raj Chowdhury Raj on Monday, February 27, 2017

এগুলো মুক্তমনা ব্লগে ভুলেও কখনো প্রকাশ করা হয় না! এদের মধ্যেই অভিজিতের মতো ধূর্তরা 'নাস্তিক-মুক্তমনা' সেজে বিজ্ঞানকে ঢাল বানিয়ে কী করেছে আর কী করছে, সেটা ইতোমধ্যে সকলেরই জেনে যাওয়ার কথা।

১১ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. এম_আহমদ

    এই লেখাটি প্রোমোট করতে পাঠকদের আহবান করব। একটি শ্রেণী, এখানে সেখানে ২/৪ বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি ছাড়া, ইসলাম ও মুসলিমদের ব্যাপারে ঐতিহাসিকভাবে কত যে বিদ্বেষী এবং এই বিদ্বেষ তাদের মনোমানসিকতার কত গভীরে প্রোথিত তা তাদের ভাষা ও আচরণ থেকে অনুভব করতে শিহরণ জাগে। ভারতে মুসলমানগণ ক্ষমতা হারানোর মাত্র ৪ দশকের মাথায় তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা চরমভাবে বিপন্ন হয়ে পড়ে এবং হিন্দুদের হাতে তারা যে শুধু নিষ্পেষিত হয়েছে তাই নয় বরং তাদের মানসিকতা চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে। অবজ্ঞা, তির্যা, ব্যাঙ্গ, ঠাট্টা, বিদ্রুপ ইত্যাদির মোকাবেলায় তারা সাহসও হারিয়েছিল। এই সেদিন কবি নজরুলকেও এসব বিদ্রুপের মোকাবেলায় সর্বদা লাইনে থাকতে হয়েছিল। কেবল তার বিদ্রোহী কবিতা নিয়ে শনিবারের চিঠিতে যে কদর্য আক্রমণ হয়েছিল তা দেখলেই সেটা আঁচ করা যায়। এখানে ইমরান সরকারকে হিন্দু ইতরগুলো যে ভাষায় আক্রমণ করেছে, এটা তাদের মানসিক গভীরতা থেকে আসা। এখানে ইমরান সরকারের স্ট্যাটাসের বস্তুনিষ্ঠ কোন সমালোচনা নেই, আছে কেবল ঠাট্টা-বিদ্রুপ আর উপহাস। এর পর সে যেন লাইনে চলে আসে। অভিজিত রায়ও নামে বেনামে এইসব ইতরামিই করত।

    লেখাটি বেশ কয়েক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে উদাহণের সাথে অনেক বিষয় অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়েছে।

  2. সত্য সন্ধানী

    আসসালামু আলাইকুম রায়হান ভাই, বেশ অনেক দিন পর সুন্দর একটা লেখা দিলেন।
    ভাবতে অবাক লাগে এই ইমরান সরকার কে নিয়ে আগে ছুপা রা এবং দাদা রা কতই না নেচেছে!
    যাই হোক ইমরানের এই স্টাটাস টা আগে ইংরেজীতে দেখেছিলাম অ্যাঞ্জেলিনা জোলির পেজে।
    যদিও স্ক্রীন শট নেয়ার দরকার মনে করিনি যদিও।

    অবাক করা ব্যাপার যে কিছু আওয়ামী কাল্টিস্ট ( মুল ধারার আওয়ামী লীগ না) যাদের আজকাল কাজই হয়ে দাড়িয়েছে কথায় কথায় আওয়ামী লীগ ছাড়া বাকি সবাইকে রাজাকার ঘোষনা দেয়ার, তারা একে (ইমরান) নেতার মর্যাদা দিত্য কিন্তু জামায়াত নেতাকে বিচার বহির্ভুত হত্যার প্রতিবাদ করায় এদের অনেকেই ইমরান সরকার কে অপছন্দ করা শুরু করেছে।

    আর হিন্দুত্ব বাদী পশু গুলো আক্রমন করবে এতে অবাক হবার কি আছে। যেহেতু মুক্ত মন= ইসলাম কে পিটাও; সেটা না করলে তুমি প্রথমে মোল্লা এর পর প্রমোশন পেতে পেতে রাজাকার থেকে পাকিস্তানী! কি আর হবে এদেশের।
    যাক লেখাটার জন্য ধন্যবাদ। আপনার কাছ থেকে বেশি বেশি লেখা চাই ভাই। সদালাপ ব্লগ এর সাথে আমার প্রথম পরিচয় ঘটেছে ছুপা নাস্তিক দের বিরুদ্ধে আপনার লেখার মাধ্যমে।
    আল্লাহ আপনাকে ভাল রাখুন এই দোয়া করি আমীন!

  3. শামস

    হাহাহা।…….. অভিজিৎ এর অনুসারীদের দুইভাগে ভাগ করা যায়: খৎনাধারী (আপনার ভাষায়) এবং শিবসেনা/রামসেনা/বজ্রং/বিজেপি (এগুলো এক দল)। যখন কোন প্রগতিশীল, বাম, নাস্তিক কিংবা সেক্যুলার ইসলাম নিয়ে চুলকাতে থাকে তখন শিবসেনা গোষ্ঠী দেশপ্রেম, বাংগালীপ্রেম ইত্যাদির আশ্রয় নিয়ে চুলকানি বাড়াতে থাকে। যখনই শিবসেনাদের ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলা হয় (যদিও সেটা নেহায়েত কম, কারণ প্রগতিশীল, বাম, নাস্তিক এবং সেক্যুলাররা জানে কারা তাদের মূল সমর্থক গোষ্ঠী!) তখন এরা নানাভাবে নিজেদের ধর্মকে ডিফেন্ড করে। এগুলো অনেকদিন ধরে দেখা অভিজ্ঞতা। একটু তিক্ত হতে পারে, দু:খিত!

    তবে খৎনাধারী অনুসারীরা চরম বিপদে আছে। তাদের কিছু আপাতত সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সুখে শান্তিতে ইসলাম নিয়ে চুলকাতে পারছে। তবে বেশিরভাগই দেশে যে আইএস আছে সেটা সরকারের মুখে জোর করে ঢুকাতে ব্যস্ত আছে, সাহায্য করছে আইএস এর ওয়েবসাইট আর রিটা কার্টজ। পশ্চিমাদের মতো আইএস এর কথা বিশ্বাস না করলেও, আইএস এর কথা রিটা কার্টয এর মাধ্যমে ফিল্টার হয়ে আসলে বিশ্বাস করে।

  4. এস. এম. রায়হান

    ‘অভিজিৎ গ্যাং’ দল বেঁধে ইমরান সরকারের উপর এখানেও ঝাঁপিয়ে পড়েছে!

  5. এস. এম. রায়হান

    ইমরান সরকারের এই পোস্টগুলো সিরিয়াস নাকি উদ্দেশ্যমূলক – সেটা বিচার করা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। হয়তো সিরিয়াস, হয়তোবা উদ্দেশ্যমূলক। তবে সেটাকে এক পাশে রেখে তার এই পোস্টগুলোর মন্তব্যের ঘরে 'অভিজিৎ'দের নগ্ন চেহারা দেখতে বেশ মজাই লাগছে! অবশ্য তাদের এহেন নগ্ন চেহারা শত শত বছরের পুরাতনই বলা যায়। এরা ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে মনের গহীনে কী পরিমাণ ঘৃণা-বিদ্বেষ পুষে রাখে – তা কল্পনারও অতীত। অথচ এদেরই কেউ কেউ 'নাস্তিক-মুক্তমনা' সেজে মুসলিমদেরকে নিয়মিত 'সভ্য-মানুষ' হওয়ার সবক দিচ্ছে! উল্টোদিকে মুসলিমদের ঘৃণাবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার দাবি করছে!

    তবে ইমরান সরকারের ভাগ্য ভালো যে, আসল অভিজিৎ আর নেই! অবশ্য আসল অভিজিৎ থাকলে ইমরান সরকার এই ধরণের পোস্ট দেওয়ার সাহস করতো বলে মনে হয় না! যাইহোক, ইমরান সরকারের নিচের পোস্টগুলোতেও 'অভিজিৎ'দের আরো বিনোদন (তাণ্ডব) দেখুন। ইমরান সরকারের পোস্টে 'উগ্র নাস্তিক' লিখা এবং জঙ্গি ও উগ্র নাস্তিকদেরকে একই কাতারে ফেলা দেখলে ইমরান সরকারের উপর অভিজিৎ রায়ের মহা-তাণ্ডব নেমে আসতো!!!

    "যারা মুসলিম নাম দেখলেই মনে করে জঙ্গী, তারাই কি সবচেয়ে বড় জঙ্গী নয়?"

    https://www.facebook.com/imranhsarker.official/posts/1284789624973682

    "জঙ্গীরা বলে একমাত্র তারাই ধর্ম মানে বাকীরা কাফির-মুরতাদ। আবার উগ্র নাস্তিকরা বলে ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ মানেই জঙ্গী এবং ধর্মগ্রন্থ পড়লেই মানুষ জঙ্গী হয়। উভয় গোষ্ঠীর বক্তব্য এক, স্পন্সর এক, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক। উনাদের উৎপাদনের কারখানাও কি এক নাকি?"

    https://www.facebook.com/imranhsarker.official/posts/1294644513988193

    "ধর্মে বিশ্বাস থাকা না থাকা মূল সমস্যা না। ধর্মগ্রন্থ পড়া না পড়াও মূল সমস্যা না। এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। মূল সমস্যা হলো ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো। আর ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য আস্তিকতা-নাস্তিকতার চেয়ে কিছু উগ্র বদমাশের মানসিক বিকৃতিই দায়ী।

    এই ঘৃণার চাষাবাদের নাম জঙ্গীবাদ, উগ্রবাদ। আসুন বিদ্বেষ ও ঘৃণা পরিহার করি, মানবিক সমাজ গড়ি।

    *** এই লেখাটা মুলত সেইসব উগ্র নাস্তিকদের জন্য যারা মনে করেন ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ মানেই জঙ্গী। তারা মনে করেন পৃথিবীর সব মানুষ জঙ্গী, শুধুমাত্র গুটিকতক উগ্র নাস্তিক বাদে। এই উগ্র ভাবনা কি সমাজের জন্য জঙ্গীবাদের মতোই ক্ষতিকর নয়?"

    https://www.facebook.com/imranhsarker.official/posts/1294561717329806

    "আমার পরিচয়, আমি মানুষ; বাঙালি, মুসলিম। কোনো সমস্যা?"

    https://www.facebook.com/imranhsarker.official/posts/1284775248308453

  6. এস. এম. রায়হান

    ইমরান সরকারের সাম্প্রতিক পোস্টগুলো নিয়ে ইসলামবিদ্বেষী খাসি পাড়াতেও মাতম শুরু হয়ে গেছে! স্বাভাবিকভাবেই সেখানে 'অভিজিৎ'দের উপস্থিতিও থাকবে! যেমন-

    "ইমরান সরকারের লজিক সার্কিটে দেখি আসলেই এইডস হইছে। ছাগুদের দেয়া নামই শেষ পর্যন্ত সার্থক হইলো।" [সূত্র]

    খাসিরা অবশেষে ছাগুদেরকে সার্টিফিকেট দিচ্ছে! একই প্রজাতির বলে কথা কি-না! 😀

    "রাজীব অভিজিত অনন্ত নিলয় বাবুর লাশ বিক্রি সমাপ্ত। লাশ বিক্রির টাকায় মন্ত্রীর বাড়িতে প্রবেশ। থাকা খাওয়া ফ্রি। ভবিষ্যত সংসদ সদস্যপদেরও প্রতিশ্রুতি। এখন ভালয় ভালয় হজ্ব করে খোয়ারের ছাগলের খোয়ারে প্রত্যাবর্তন।" [সূত্র]

    খাসিদের কাছে ইমরান সরকার নিজেই এবার ছাগু হয়ে গেছে! ব্যাফক বিনুদুন! 😛 তো ইমরান সরকারই যদি ছাগু হয়ে যায় তাহলে তার কচি খাসি মুরিদদের ছাগু হতে কতক্ষণ!

  7. এস. এম. রায়হান

    বেচারা ইমরান সরকারকে নিয়ে এখানেও খাসি-পাঁঠাদের মজমা বসেছে! ইসলামবিদ্বেষী কিংবা এই ধরণের যেকোনো মজমায় 'অভিজিৎ'দের উপস্থিতি শতকরা হিসাবে আশংকাজনকভাবে অনেক বেশি থাকে!

  8. এস. এম. রায়হান

    ইসলামবিদ্বেষী ‘মুক্তমনা’রা দীর্ঘদিন ধরে কথায় কথায় বলে আসছে যে, বাংলাদেশ পাকিস্তান হয়ে যাচ্ছে। ইদানিং তারা বলছে যে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পাকিস্তান হয়ে গেছে – তাও আবার বাম-আওয়ামী লীগ জোট সরকারের আমলে!

    তো বাংলাদেশ যেহেতু পাকিস্তান হয়েই গেছে – সেই সাথে ইমরান সরকারও ছাগু হয়ে গেছে – সেহেতু তারা কি এখনো পাকিস্তানেই আছে, নাকি তাদের মোদিজীর দেশ মোদিস্তানে চলে গেছে – ঠিক বুঝা যাচ্ছে না! তারা এখনো পাকিস্তানেই রয়ে গেলে সেটা হবে তাদের জন্য চরম অবমাননাকর পরাজয় – হুমায়ুন আজাদের ভাষায় শূয়োরের সাথে সহবাস! তাদের বক্তব্য শোনা দরকার।

  9. এম_আহমদ

    বদ্ধমনারা আসলে বাক-স্বাধীনতা “রুদ্ধকারী”, চরমপন্থি ফ্যাসিস্ট –এটা তাদের চরিত্রে ও কথাবার্তাই দেখা যায়। মানুষ নানান ধারণার এক সমন্বিত প্রাণী, কোথাও কারো ভিন্নতার মাত্রা একটু বেশি আর কারও কম এবং কারো হয়ত অতি কম হতে পারে। কেউ যদি সত্যিকার অর্থে বাক-স্বাধীনতার পক্ষের হয় তাহলে তাকে ব্যক্তির মতভিন্নতা প্রকাশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে হবে। কিন্তু বদ্ধমনা ফ্যাসিস্টগণ কেবল তাদের ধারায় যতক্ষণ কেউ কথা বলবে (বা ঘেউ ঘেউ) করবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে তাদের মত পশুমনাই থাকবে, কিন্তু যে’ই সে ভিন্নতা দেখাবে অমনি ধার্মিকদের মত অপর ব্যক্তি ধর্ম বহির্ভূত হয়ে গিয়েছে বলে হাউমাউ শুরু করবে। ইদানীং ইমরান সরকারের ফেবু-স্ট্যাটাসটি বদ্ধমনা ফ্যাসিস্টদের স্কার্ট/লুঙ্গি খোলে দিয়েছে। ইমরান সরকার আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোন লোক নয়, কিন্তু স্ট্যাটাসটি ছিল নিছক একটি রসিকতামূলক স্ট্যাটাস। কিন্তু এই মামুলি বিষয়টাকে মেনে নিতে না পারাটাই কুত্তামনাদের ইসলাম বিদ্বেষের গভীরতা প্রকাশ করে। তারা ইসলাম নির্মূল করে ইউরোপীয়ান হতে চায়। ইউরোপ নাকি আজ সভ্যতার চরম শিখরে!

    আধিপত্যবাদ, শোষণ-শাসন ও বৈশ্বিক প্রকৃতিকে এক্সপ্লোইট ও দূষিত করণের কর্মকাণ্ডসমূহ, যুদ্ধ-ব্যবসা, অস্ত্র-বাজার এবং তাদের নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্ব এক পাশে রেখেও তাদের আর্থ-সামাজিক সমস্যা https://en.wikipedia.org/wiki/European_debt_crisis এখনও হিমসীম খাচ্ছে। কোন মাত্রায় সভ্যতার চরম শিখরে? নাস্তিকতার? ইউরোপে নাস্তিক থাকলেও ইউরোপ এখনো ধর্মহীন হয়ে যায় নি। আর আমেরিকান ইলেকশন তো এখনো ধর্মীয় মাত্রায় পরিচালিত হয়। অধিকন্তু নাস্তিকতা কি সভ্যতা নির্দেশক কোন মাত্রা? উগ্র-বঙ্গাল নাস্তিকগণ ওয়ান্ডারল্যান্ডে বাস করে।

  10. ১০
    Ivan

    অনেকদিন পরে চমৎকার একটি লেখা। রায়হান ভাই আপনাকে লিখতে দেখে ভালো লাগলো। আশা করি সদালাপে আবার নিয়মিত হবেন।

  11. ১১
    এস. এম. রায়হান

    শিবসেনারা একজন বাম বুদ্ধিজীবীকে 'বামাতী' আখ্যা দিয়ে তার উপর এখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে সেই শিবসেনাদের সাথে যোগ দিয়েছে তাদের দেবী তসলিমা নাসরিন! তসলিমা নাসরিনও কিন্তু একজন বাম নাস্তিক। তাহলে তাদের দেবী কবে যে 'বামাতীনি' হয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।