«

»

Sep ১৫

“বানু কুরাইযা” প্রসঙ্গে ইসলাম বিদ্বেষীদের অপপ্রচারের জবাবে…

১. সূচনা

বানু কুরাইযা গোত্রের ইতিহাস ইদানিং বাংলা ব্লগ-জগতে জনপ্রিয়তা পাওয়া শুরু করেছে; কয়েক বছর আগেও ব্লগে কিংবা মিডিয়াগুলোতে এর প্রতি উৎসাহ ছিল না বললেই চলে। প্রায় সব লেখা কিংবা মন্তব্যগুলোর ধরণ একই রকমের। তাদের অভিযোগ, “নিরপরাধ বানু কুরাইযা ইহুদী গোত্রের সব পুরুষদের বিনা কারণে কেবল ইহুদী-বিদ্বেষীতার কারণে মুহাম্মাদ (সাঃ) হত্যা করেন।” তাদের উত্থাপিত এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার জন্যে এ লেখার প্রয়াস। তবে শুরু করার আগে অভিযোগকারীদের কিছু প্রাক অসামঞ্জস্যতা যা চোখে পড়েছে তা নিয়ে দু-কথা বলে নিই।

বানু কুরাইযা গোত্রের হত্যার ব্যথায় ব্যথাতুর বাংলার এই প্রতিবাদী, বিবেকবান লেখকদের লেখাতে সত্যি সত্যিই অগ্নি-স্ফুলিঙ্গ দেখা যায়। এমনিতে বাংলাদেশের সীমানাতে যাদের বসবাস তাদের সাথে ইহুদীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি থাকার সম্ভবনা নেই বললেই চলে। তবে ব্লগের বিবেক বলে পরিচয় দেয়া কতিপয় মহান লেখকদের কলমের ডগা ফেটে বের হওয়া প্রতিবাদী শোণিত ধারায় লেখা ইহুদীদের বিরুদ্ধে ঘটা বানু কুরাইযা’র হত্যাকাণ্ডের পৌনঃপুনিক উল্লেখ অনেকেরই মাথাকে হয়ত এমনভাবেই ধোলাই করতে সক্ষম হয়েছে যে যেকোনো বিবেকবান লোকেরই মনে হতে পারে, “নিশ্চয়ই বানু কুরাইযার ইতিহাস ইহুদী জাতির বিরূদ্ধে ঘটে যাওয়া অন্যতম বৃহৎ হত্যাকাণ্ডই হবে।” মানবতাবাদী ও অন্যায়ের সোচ্চার প্রতিবাদী এহেন বাংলা লেখকদের লেখা পড়ে মোহাবিষ্ট আমারও ধারণা ছিল, ইহুদী জাতির বিরুদ্ধে ঘটা ইতিহাসের সকল অন্যায়ের তালিকা যদি পাওয়া যায় তাতে তো অবশ্যই বানু কুরাইযা থাকবে – এর পরে না হয় দেখা যাবে অন্যান্য ইহুদী-বিদ্বেষী অন্যায়ের সাপেক্ষে বানু কুরাইযার তুলনামূলক অবস্থানটা কোথায়! সামান্য গবেষণাতেই দেখা যায়, ইহুদী জাতির ওপর ঘটে যাওয়া প্রায় সকল অন্যায় গণহত্যা ও ধ্বংসের যেসব সুত্র পাওয়া যায় সেখানে বানু কুরাইযার ঘটনার অনুপস্থিতি (সূত্র: , , , , , )। অবশ্য রবার্ট স্পেন্সর, ফ্রাঙ্ক গ্যাফনি কিংবা ড্যানিয়েল পাইপস এর মতো পেশাজীবি ইসলাম বিদ্বেষী ও তাদের চ্যালা চামুণ্ডাদের সুবাদে কিছু জায়গাতে হয়ত বানু কুরাইযা’র ঘটনাকে ইহুদী বিদ্বেষ হিসেবে পাওয়া যেতে পারে – তবে নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে ঐসব তালিকা বাদ পড়বে সবার আগে।

মোটামুটিভাবে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ আন্তর্জালিক সূত্র, যেমন উইকি’র Timeline of anti-Semitism History of anti-Semitism, কিংবা ADL (Anti Defamation League) এর An Abridged History of Anti-Semitism এর তালিকাতে ইহুদীদের বিরূদ্ধে ঘটে যাওয়া হাজার বছরের ইতিহাসে’র নথিতেও নেই বানু কুরাইযা’র ঘটনা। এই তালিকাগুলোতে বানু কুরাইযার ঘটনা কেন নেই, তার কারণ অনুমান করতে তেমন আয়াস পেতে হয়না। কারণটা এই যে, বানু কুরাইযার ঘটনা নির্বিচার গণহত্যা নয়, বরং যুদ্ধ-প্রাক্কালে ঘটা বিশ্বাসঘাতকতার স্বাভাবিক পরিণতি। অথচ ব্লগের বিবেকবান, প্রতিবাদী ও অহর্নিশ নিজেদের পক্ষপাতহীন, আপোষহীণ, মানবতার অগ্রদল বলে জানান দিয়ে যাওয়া এই সুশীল-গোষ্ঠীকে কোনোদিনও দেখিনি ষাট লক্ষাধিক নিরীহ ইহুদী নিধনের নৃশংসতার বিরূদ্ধে ২-লাইনের লেখাও লিখতে। দেখিনি টাইটাসের জেরুসালেম আক্রমণে অকারণে এগারো লক্ষ কিংবা ক্রুসেডে মুসলিমদের পাশাপাশি লক্ষ-লক্ষ ইহুদী নিধনের জন্যে দু’কলম স্মারক। ‘মানবতাই ধর্ম’ বুলি আওড়ানো এসব ব্লগ-বুদ্ধিজীবীদের মানবতা কোনো কারণে আঁটকে থাকে কেবল বানু কুরাইযাতে কয়েক’শ ইহুদীর প্রাণদণ্ড দেয়ার তথাকথিত নৃশংসতায়। অথচ তার চাইতে হাজার-লক্ষ গুণ বড় ও আসল গণহত্যার কথা তাদের মানবতার এন্টেনাতে কখনো ধরা পড়েনা। ইহুদী গণহত্যার অসংখ্য উদাহরণ থাকা সত্ত্বেও দেয়া সূত্রগুলোতে না থাকা বানু কুরাইযার ঘটনাকে লাইম লাইটে নিয়ে আসা এহেন কপট প্রতিবাদী, মানবতাবাদীদের মায়াকান্নাকে তাই কংস মামার কুম্ভিরাশ্রু বিসর্জননের বেশী কিছু বলতে পারছি না বলে দুঃখিত।

তথাকথিত এই সুশীল গোষ্ঠীর কাছে মুসলিমরা চক্ষুশূল হলেও, তাদের অন্তর্জ্বালার মূল কারণ রাসুল (সাঃ)। তারা চলনে-বলনে, শ্বাসে-প্রশ্বাসে, অহর্নিশ একনিষ্ঠ ও একাগ্র চিত্তে নিয়োজিত আছেন ইসলাম ও বিশেষত এর নবীকে (সাঃ) হেয় প্রতিপন্ন করায় অভিপ্রায়ে। আর মানবতার লেবাসে মোড়ানো এসব সুশীলরা নিরপেক্ষতার লেন্সে কখনো ঘটনার বিশ্লেষণে প্রত্যয়ী হননা, বরং উনারা ধ্যান ও জ্ঞান অর্জন করে থাকেন উইকি ইসলাম, ইসলাম ওয়াচ জাতীয় মার্কামারা ইসলাম বিদ্বেষী ওয়েবসাইট থেকে। এরই ফলস্বরূপ ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে এরা অ্যান্টি-সেমিটিজমের অভিযোগ আনেন, অথচ অ্যান্টি-সেমিটিজমের ঘটনাগুলোর বিশদ তালিকার মধ্যেই বানু কুরাইযা দেখা যায়না।

অ্যান্টি-সেমিটিজমের অভিযোগের বাইরেও বাংলা ব্লগের এই স্বঘোষিত, স্বনির্বাচিত নব্য ইসলাম বিশেষজ্ঞদের বানু কুরাইযা সম্পর্কে যে কয়টা অভিযোগ দেখা যায় তা হলো,

১। বানু কুরাইযা গোত্র নিরপরাধ।

২। বানু কুরাইযার সকল পুরুষদের হত্যা করা হয়।

৩। কুরাইযা গোত্রের প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ পুরুষকে হত্যা করা হয়।

এই লেখাতে মূলত এই ৩টি সহ আরো কিছু আনুষঙ্গিক দিকে আলোকপাত করার ইচ্ছে আছে।

২. সূত্র ও নিয়মানুগ

অন্যান্য ব্লগ বুদ্ধিজীবীদের মতো নির্মোহ ঘটনার বিশ্লেষণ আমি করবোনা, তা আগেই বলে রাখি। আমি মুসলিম; আর তাই পূর্বসূরী ইসলামী বিশেষজ্ঞের দেখানো পথেই আমি আমার বিশ্লেষণ নিয়ে এগিয়ে যাবো। আর সে সূত্র হচ্ছে কোরান ও সহীহ হাদীস। বোখারী ও মুসলিমের মতো অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য হাদীস বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য হাদীস গ্রন্থ থেকেও সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো আসবে। আর কোরান-হাদীসের পাশাপাশি সীরাতের বইগুলোও আলোচনায় থাকবে, তবে কোরান-হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো ঘটনা সীরাতে থাকলে আমরা তা সত্যি বলে গ্রহণ করবোনা। কোরান, হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক না হলে সীরাতের বর্ননা গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে অবশ্যই সেক্ষেত্রে বর্ণিত ঘটনাটি যৌক্তিক বিশ্লেষণের আওতায় আসবে; আরো আসবে সে সম্পর্কে আসা পূর্বসূরীদের মতামতও।

৩. সীরাত থেকে বানু কুরাইযার সংক্ষিপ্ত ঘটনা

রাসুল (সাঃ) মদিনাতে আসার পরে মুসলিম, ইহুদী ও পৌত্তলিকদের নিয়ে এক অভিনব সাধারণতন্ত্র গড়ে তোলেন। বিপরীত চিন্তা, রুচি ও ধর্মাভাব সম্পন্ন মুসলিম, ইহুদী ও পৌত্তলিকদের দেশের সাধারণ স্বার্থরক্ষা ও মঙ্গলের জন্যে একটি রাজনৈতিক জাতিতে পরিণত করার জন্যে তিনি একটি সনদ তৈরী করেন। সনদে তিন পক্ষই স্বাক্ষর করেন। এই অভিনব ও অশ্রুতপূর্ব চুক্তি বা সনদের কিছু ধারা নীচে দেয়া হলো-

১। ইহুদী ও মুসলিমরা এক জাতি (রাষ্ট্রীক কাঠামোর মধ্যে বসবাসকারী ‘জাতি’)।
২। এই সনদের অন্তর্ভূক্ত কোন গোত্র শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে সবার সমবেত শক্তি নিয়ে তা প্রতিহত করতে হবে।
৩। কেউ কোরাইশদের সাথে কোনো রকমের গুপ্ত সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হবে না ও তাদের সঙ্কল্পকে সাহায্য করবে না।
৪। মদিনা আক্রান্ত হলে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্যে সবাই মিলে যুদ্ধ করবে এবং সম্প্রদায়গুলো নিজেদের যুদ্ধব্যয় নিজেরা বহন করবে।
৫। ইহুদী-মুসলিম সহ চুক্তিবদ্ধ সকল সম্প্রদায় স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মকর্ম পালন করবে, কেউ কারুর ধর্ম-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না।

… ইত্যাদি।

মদিনার সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলে চুক্তি/সন্ধি অনুসারে কুরাইযা সহ সব ইহুদী গোত্র প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল যে তারা মুসলিমদের কোন শত্রুকে কোনরকম সাহায্য করবেনা। কোন বহিঃশত্রু মদিনা আক্রমণ করলে তারাও মুসলিমদের মতো স্বদেশ রক্ষার্থে নিজেদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করবে। কিন্তু সন্ধির শর্ত ও স্বদেশের স্বাধীনতা ও সম্মানকে উপেক্ষা করে কুরাইযা সহ বাকী ইহুদী গোত্র একাধিকবার শত্রুপক্ষের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। বানু কুরাইজার ইহুদীদের এই অপরাধ আগে অন্তত একবার ক্ষমা করে দেয়া হয়। ভেঙ্গে ফেলা প্রতিজ্ঞাপত্র উহুদ যুদ্ধের পরে কুরাইযা গোত্র পুনর্বহাল করে এই শর্তে যে, এরপরে আর কখনোই তারা মুসলিমদের শত্রুদের সাথে কোন রকম যোগাযোগ ও সাহায্য করবেনা। ফলে তখন তাদের বিনাদণ্ডে ও বিনা ক্ষতিপূরণে মাফ করে দেয়া হয়। কিন্তু খন্দকের যুদ্ধের প্রাক্কালে প্রথম সুযোগ পাওয়া মাত্রই তারা এই সন্ধিপত্র ছিঁড়ে ফেলে শত্রুদলে যোগদান করে। কুরাইযা গোত্রের এই বিদ্রোহের খবর পাওয়া মাত্র আওস ও খাযরায গোত্রের প্রধান সাদ বিন উবাদা (রাঃ) ও সাদ বিন মুয়াদ (রাঃ) সহ আর কিছু সাহাবীকে মুহাম্মাদ (সাঃ) খন্দকের প্রান্ত থেকে কুরাইযা পল্লীতে পাঠান। তাঁরা কুরাইযা পল্লীতে উপস্থিত হয়ে আগের পৌণঃপুনিক চুক্তি ভাঙ্গার কথা তুলে ধরেন ও তাদেরকে এই বিশ্বাসঘাতকতার পরিণাম ভালোভাবে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু আহযাবে মুসলিমদের পরাজয় সুনিশ্চিত ও খায়বার থেকেও ইহুদী দল মদিনা আক্রমণে আসছে – এই দুই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তারা উল্টা মুসলিমদের গালাগালি করা শুরু করে দেয়। তাদের দলপতি কাব বিন আসাদ বলে ওঠে, “মোহাম্মদ কে? আমরা তাকে চিনি না। আমরা কোনো সন্ধিপত্রের ধার ধারি না। তোমরা চলে যাও।”

এরপরে তারা খন্দকের যুদ্ধে যোগদান করে। আর কুরাইযা বাহিনীর হাত থেকে মদিনার নারী ও শিশুদের রক্ষা করার জন্যে একদল মুসলিমকে মদিনার দক্ষিণ দিকে নিয়োজিত করা হয়েছিল।

বানু নাদির গোত্রের হোয়াই-বিন-আখতাব মদিনা থেকে বিতাড়িত হবার পরে খাইবারে আসন গেড়ে বসে। সে কুরাইযা গোত্র প্রধান কাব-বিন-আসাদকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে আরবের সকল পৌত্তলিক এখন একত্রিত। গাতাফান আর নজদের পৌত্তলিকরাও সাথে যোগ দিয়েছে। আর ঐদিকে খাইবার থেকে ইহুদীদের কয়েক হাজার সদস্যের বাহিনী খুব তাড়াতাড়ি এসে যোগ দিতে যাচ্ছে আহযাবে। সুতরাং এটাই মুসলিমদের সমূলে উৎপাটন করার সুবর্ণ সুযোগ। কাব প্রথমে নিমরাজী থাকলেও শেষে খন্দকে আহযাব পক্ষে যোগ দিতে রাজী হয়।

খন্দক থেকে ফিরে এসে রাসুল (সাঃ) মদিনায় ফিরে যখন গোসল সারলেন তখন জীব্রাঈল (আঃ) এসে বানু কুরাইযা গোত্রের বিশ্বাসঘাতকতার কথা রাসুল (সাঃ)-কে স্মরণ করিয়ে দেন, ও তার পরপরই মুসলিম বাহিনী কুরাইযা অভিমুখে রওয়ানা হয়। মুসলিম বাহিনী কুরাইযার দূর্গের সামনে এসে পৌঁছলে তারা দূর্গ-তোরণ থেকে রাসুল (সাঃ) ও তাঁর সহধর্মীনিদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য গালিগালাজ করতে থাকে। তাদের ধারণা ছিল খায়বার থেকে খুব তাড়াতাড়ি ইহুদী বাহিনী এসে পড়বে, আর তারপরে দুই ইহুদী বাহিনীর যৌথ আক্রমণে মুসলিমদের বিধ্বস্ত করে ফেলবে। মক্কার কোরাঈশরা যুদ্ধ ছেড়ে চলে গেছে বলে তারা বরং খুশীই ছিল, কেননা মদিনা প্রদেশের বিশাল সাম্রাজ্য এখন কেবল ইহুদীদের হয়ে যাবে। এরপরে যথারীতি অনেকদিন দূর্গের মধ্যে অবরূদ্ধ থেকে যখন তারা দেখলো যে খায়বার থেকে ইহুদী বাহীনির আসার কোনোই সম্ভবনা নেই তখন তারা আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে রাসুল (সাঃ) এর কাছে আত্মসমর্পন না করে তারা তাদের পুরোনো মিত্র সাদ-বিন-মুয়াদের (রাঃ) কাছে নিজেদের ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেয়। সাদ (রাঃ) সিদ্ধান্ত দেন কুরাইযা গোত্রের সকল যোদ্ধাদের প্রাণদণ্ড দেয়া হোক আর মহিলা ও শিশুদের বন্দী করা হোক। [৭-১৩]

উপরে সীরাতের আলোকে বানু কুরাইযার ইতিহাস খুব সংক্ষেপে দেয়া হলো; এখন দেখা যাক বানু কুরাইযা গোত্র কি আসলেই নিরপরাধ?

৪.১ প্রথম অভিযোগ – নিরপরাধ বানু কুরাইযা গোত্রকে হত্যা করা হয়

অভিযোগকারীদের কথা বানু কুরাইযা গোত্র নিরপরাধ, কেননা হাদীস ও সীরাত ইবন ইসহাকেই বলা আছে,

When he returned from the Ditch and laid down his arms and took a bath, the angel Gabriel appeared to him and he was removing dust from his hair (as if he had just returned from the battle). The latter said: You have laid down arms. By God, we haven't (yet) laid them down. So march against them. The Messenger of Allah (may peace be upon him) asked: Where? He poirftad to Banu Quraiza. So the Messenger of Allah (may peace he upon him) fought against them.

অর্থাৎ, খন্দক থেকে ফেরার পরে মুহাম্মাদ (সাঃ) অস্ত্র রেখে গোসল করলেন, এবং তখন জীব্রাঈল (আঃ) এসে বললেন তুমি অস্ত্র নামিয়ে রেখেছ, অথচ আমরা এখনো অস্ত্রত্যাগ করিনি; সুতরাং বানু কুরাইযার দিকে এখনই রওয়ানা হও। হাদীসের এই বর্ণনা পড়ে অভিযোগকারীরা বলেন, বানু কুরাইযা তো সমীকরণেই ছিলোনা, তা এই হাদীস থেকে স্পষ্ট। বরং খন্দক থেকে ফিরে এসে রাসুল (সাঃ) অস্ত্রত্যাগ করে গোসল করছিলেন, আর তখনই জীব্রাঈল (আঃ) এসে বানু কুরাইযার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করলে মুসলিম বাহিনী সেদিকে রওয়ানা হন।

এই ব্যপারে যাথারীতি অভিযোগকারীদের সূত্র বিভ্রাট দেখা দেয়। আমার বিশ্লেষণে এই সমস্যাটা সব-সময়ই দেখেছি। তারা কোরান, হাদীস কিংবা সীরাত থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে অভিযোগ আনেন কিন্তু যখন দেখা যায় এই একই উৎসগুলো দিয়েই তাদের অভিযোগগুলো নাকচ হয়ে যাচ্ছে, তখন তারা সুবিধামতো সেই অংশটুকু ভুলে যান।তাহলে দেখা যাক কোরান, হাদীস ও সীরাত অনুযায়ী কুরাইযা গোত্র নিরপরাধ কিনা।

৪.১.১ প্রমাণ-১, সীরাত অনুযায়ী বানু কুরাইযা গোত্র অপরাধী

সীরাত ইবন ইসহাকে গেলে আমরা দেখি, যখন আয়েশা (রাঃ) কিংবা আবু-সাইদ আল খুদরীর (রাঃ) বর্ণনার আলোকে জীব্রাঈল (আঃ) এর হাদীস দিয়ে বানু কুরাইযার অধ্যায়ের সূচনা হয় তার ২-পাতা আগেই খন্দকের যুদ্ধের প্রাক্কালে খবর আসে যে কুরাইযা গোত্র বিদ্রোহ করে বসেছে [সীরাত ইবন ইসহাক পবেন এখানে],

And news came that the Jewish tribe of Banu Qurayza had broken their treaty with Muhammad.

যে সীরাত ইবন ইসহাকের রেফারেন্স দিয়ে বানু কুরাইযার নিরপরাধতার শক্ত যুক্তি তারা তুলে ধরেন, সেই একই বইয়ের মাত্র ২ পাতা আগে উল্লেখ করা কুরাইযা গোত্রের প্রতারণা আর বিশ্বাসঘাতকতার কথা কেন তারা সুবিধাজনক ভাবে ভুলে যান? তাদের দুর্বল যুক্তিবোধ কি তাহলে সুবিধাজনক ক্ষণস্থাযী স্মৃতিশক্তির ফসল?

৪.১.২ প্রমাণ-২, হাদীস অনুযায়ী বানু কুরাইযা গোত্র অপরাধী

হাদীসে আছে [মুসলিমে বর্ণিত; Book 019, Number 4364:],

It has been narrated on the authority of Ibn Umar that the Jews of Banu Nadir and Banu Quraizi fought against the Messenger of Allah (may peace be upon him) who expelled Banu Nadir, and allowed Quraiza to stay on, and granted favour to them until they too fought against him.

আব্দুল্লাহ ইবন ওমরের (রাঃ) উপরের হাদীস থেকে এটা স্পষ্ট যে কুরাইযা গোত্র একবার না, বরং ২ বার চুক্তি ভংগ করে, প্রথম বার বানু নাদীরের ঘটনার সময় (অর্থাৎ উহুদের যুদ্ধের পরে); যে অপরাধ রাসুল (সাঃ) নিজ মহানুভবতার গুণে ক্ষমা করে দেন ও আগের করা চুক্তিটি আবার ফিরিয়ে আনেন। আর দ্বিতীয়বার চুক্তি ভঙ্গ করে আলোচ্য খন্দকের যুদ্ধ চলার সময়।

৪.১.৩ প্রমাণ-৩, কোরান অনুযায়ী বানু কুরাইযা গোত্র অপরাধী

তবে সবচাইতে স্পষ্ট প্রমাণ আছে কোরানেই। বানু কুরাইযার বর্ণনা আছে সুরা আহযাবের ২৬ নং আয়াতে,

وَأَنزَلَ الَّذِينَ ظَاهَرُوهُم مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِن صَيَاصِيهِمْ وَقَذَفَ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ فَرِيقًا تَقْتُلُونَ وَتَأْسِرُونَ فَرِيقًا

(২৬) কিতাবীদের মধ্যে যারা কাফেরদের পৃষ্টপোষকতা করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দূর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন। ফলে তোমরা একদলকে হত্যা করছ এবং একদলকে বন্দী করছ।

And those of the people of the Scripture who backed them (the disbelievers) Allâh brought them down from their forts and cast terror into their hearts, (so that) a group (of them) you killed, and a group (of them) you made captives.

এখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কুরাইযা গোত্র কোরাঈশদের সাথে চুক্তি করে মুসলিমদের সাথে করা আগের চুক্তি ভেঙ্গে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এত স্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরেও কেন তারা বানু কুরাইযাকে নিরপরাধ বলেন?

৪.১.৪ জীব্রাঈল (আঃ) এর আবির্ভাবের ব্যাখ্যা

তাহলে খন্দক যুদ্ধের পরে জীব্রাঈল (আঃ) আবির্ভূত হয়ে কুরাইযা অভিমুখে যাবার কথা মনে করিয়ে দেবার কারণ কী? সামান্য যুক্তিবোধ থাকা লোক মাত্রই কারণটা অনুমান করা উচিত। খন্দক ছিলো তখন পর্যন্ত মুসলিমদের জীবনে ঘটা সবচাইতে চ্যালেঞ্জিং যুদ্ধ। খন্দকে কুরাইশ বাহিনী সহ, গাতাফান ও নজদ থেকে আসা দশ হাজার লোকের সুবিশাল বাহিনী মুসলিম জাতিকে সর্বাংশে নির্মুলের লক্ষ্যে মদিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বিশাল এই বাহিনীকে মুসলিম বাহিনী মদিনার বাইরে গিয়ে মোকাবিলার কথা ভাবতেও পারেনি, তাই পার্সী মুসলিম সালমানের (রাঃ) পরামর্শ অনুযায়ী খন্দক খুঁড়ে আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধের পরিকল্পনা করা হয়। একে যুদ্ধের আগে অল্প সময়ের মধ্যে বিশালাকায় খন্দক খোঁড়ার জন্যে মুসলিম বাহিনী ছিলেন অসম্ভব ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত; তার উপরে চলে এক মাসব্যাপী আগ্রাসী জোটের অবরোধ। তখনকার চলতি যুদ্ধের প্রেক্ষিতে খন্দক ছিল ব্যতিক্রম। আগের বদর ও ঊহুদ যুদ্ধ চলে কেবল এক বেলা (হয়ত কয়েক ঘন্টা), কিন্তু খন্দকের যুদ্ধের অব্যবহিত আগের বিশালাকায় খন্দক খোড়ার অহর্নিশ অক্লান্ত পরিশ্রমের পরেও মোটের উপর ৫ সপ্তাহের ধকল মুসলিমদের উপর যায়। এমতাবস্থায় ৫ সপ্তাহ পরে কুরাইযা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আগে কিছুটা বিশ্রাম নেয়া [যেমন বাসায় ফিরে অস্ত্র রেখে গোসল করে কিছুটা বিশ্রাম করা] অমূলক নয়। তবে কেবল এই চিত্রকল্পকে আলাদা ভাবে এঁকে, আগের ঘটনাগুলো সুবিধামতো ভুলে গিয়ে, যদি কেউ বোঝাতে চান যে কোনো কারণ ছাড়াই বানু কুরাইযা গোত্রের উপর অন্যায় ভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে তাহলে তার সাথে কীভাবে বিতর্ক করবেন?

আমার মতামত, কুরাইযা বাহিনীর অপরাধ সম্পর্কে সব মুসলিমই অবগত ছিলেন, এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ৫-সপ্তাহ পরে কিছুটা বিশ্রামের পরে অবশ্যই সে ব্যবস্থা নেয়া হতো। কিন্তু এমতাবস্থায় জীব্রাঈল (আঃ) এসে মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে বানু কুরাইযার করা বিশ্বাসঘাতকতার কথা স্মরণে এনে দেন। এতে করে রাসুল (সাঃ) ঘটনার গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝে উঠতে সক্ষম হন ও সবাইকে ডেকে এনে নির্দেশ দেন বানু কুরাইযাতে গিয়ে আসর সালাত পড়তে (অর্থাৎ যথাশীঘ্রই বানু কুরাইযাতে পৌঁছতে)। [৭-১৩]

৪.২ দ্বিতীয় অভিযোগ – বানু কুরাইযার সকল পুরুষদের হত্যা করা হয়

দ্বিতীয় অভিযোগ হচ্ছে সাদের (রাঃ) প্রদত্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুরাইযা গোত্রের সকল পুরুষদের হত্যা করা হয়। এই অভিযোগ খণ্ডনের আগে কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য আলোচনা করা জরুরী। অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয় সীরাত ইবন ইসহাকের বর্ণিত হাদীসটিই। ইবন ইসহাকে আগে উল্লেখ করা জীব্রাঈল (আঃ) এর কুরাইযা অভিমুখে অভিযাত্রার নির্দেশের পরেই বলা হচ্ছে,

When Sad appeared the apostle said to the Muslims, 'Arise in honour of your chief!” Then Sad asked, 'Do you covenant with Allah to abide by my decision?' and they said, 'We do!’ The apostle of Allah also replied, 'Yes.' And Sad pronounced the following sentence, 'I decree that the men be killed, the property be divided, and the women with their children be made captives.'

এই বিষয়টার ব্যাখ্যাকল্পে সেকালের গোত্রভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার দিকে আমাদের চোখ ফেরাতে হবে। সে আমলে যুদ্ধ, শান্তি, চুক্তি, সন্ধি, দৈনন্দিন কিংবা রাষ্ট্রিক সব কার্যাদি ছিল গোত্রভিত্তিক। আর তাই গোত্রের প্রাপ্ত বয়স্ক সবাই স্বভাবতই যোদ্ধা ছিলেন। সে সময়ের ইতিহাস পড়ে আমি এমন কোনো রেফারেন্স পাইনি যেখানে গোত্রের পুরুষ প্রাপ্তবয়ষ্ক হয়েছে কিন্তু সে যোদ্ধা নয়। পুরুষেরা ব্যবসা কিংবা কৃষিকাজ সহ যে সমস্ত মূল কাজে নিয়োজিত ছিলেন, তার বাইরে সবার আরেকটা পরিচয় ছিল, তা হলো গোত্র রক্ষায় সবাই একতাবদ্ধ যোদ্ধা। আজকালকার দিনের মতো নিয়মিত সামরিক বাহিনী সে দিনের আরব সমাজে ছিলনা। তবে যোদ্ধা জাতির উদাহরণ যে কেবল সে দেশেই আর সে কালেই প্রচলিত ছিল তা ঠিক নয়; এমনকি হালের রাষ্ট্র ইসরায়েল, তাইওয়ান, কিউবা কিংবা দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার সকল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষই যোদ্ধা – এটা ঐ সমস্ত দেশের রাষ্ট্রিক নিয়ম। প্রাপ্ত বয়স্ক হলে সকলেরই যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে কিছুকাল সামরিক বাহিনীতে যোগদান করা বাধ্যতামুলক। তাই আরবের সেই রুক্ষ ও গোত্রভিত্তিক সমাজে যুদ্ধে পরাজিত হলে যুদ্ধের পরিণতি সকল পুরুষদের উপরই নেমে আসবে তা স্বাভাবিক – কেননা গোত্রের সব প্রাপ্তবয়ষ্ক পুরুষই যোদ্ধা।

সেজন্যে যদিও ইবন ইসহাকের সীরাতে সকল পুরুষদের হত্যা করার আদেশ দেয়া হয় বলে বলা হচ্ছে কিন্তু প্রাসঙ্গিক হাদীসগুলো মূল আরবীতে পড়লে দেখা যায়, সকল পুরুষদের নয় বরং সকল যোদ্ধাদের হত্যা করা হোক একথা বলা আছে। নীচে আয়েশা (রাঃ) ও আবু সাইদ আল খুদরীর হাদীসের হত্যার আদেশ সংক্রান্ত অংশটুকু পড়ুন,

فقال تقتل مقاتلتهم وتسبي (আবু সাইদ আল খুদরীর হাদীস, লিঙ্ক)
قال فإني أحكم فيهم أن تقتل المقاتلة (আয়েষা (রাঃ) এর হাদীস, লিঙ্ক)

উপরের ২-টি হাদীসেই রাজুল (رجل) বা পুরুষ শব্দের বদলে মোকাতেল (مقاتل) অর্থাৎ যোদ্ধা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আর উপরে আমরা ব্যাখ্যা করলাম কী অর্থে রাজুল ও মোকাতেল সমার্থক হতে পারে। সেই অর্থে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ যোদ্ধা কে কে তা নির্বাচন করার জন্যে যে পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছিল তার একটা বিবরণ আবু-দাউদে বর্ণিত হাদীসে আমরা পাই। সেখানে বলা হচ্ছে,

Narrated Atiyyah al-Qurazi:
I was among the captives of Banu Qurayzah. They (the Companions) examined us, and those who had begun to grow hair (pubes) were killed, and those who had not were not killed. I was among those who had not grown hair.

অর্থাৎ গুপ্তাঙ্গের কেশ দেখে কোন কোন পুরুষ প্রাপ্তবয়ষ্ক ছিল তা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তাহলে প্রশ্ন থাকে গুপ্তাঙ্গে কেশ যাদের ছিল তাদের সবাইকেই কী মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল? এর বাইরে কি কেউ ছিলেন না যাকে মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছিল? উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ। আরো অনেককেই ঐদিন মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছিল। নীচের ইবন ওমরের (রাঃ) হাদীসটা দেখা যাক,

Bani An-Nadir and Bani Quraiza fought (against the Prophet violating their peace treaty), so the Prophet exiled Bani An-Nadir and allowed Bani Quraiza to remain at their places (in Medina) taking nothing from them till they fought against the Prophet again. He then killed their men and distributed their women, children and property among the Muslims, but some of them came to the Prophet and he granted them safety, and they embraced Islam.

এই হাদীসটি সহ অন্যান্য হাদীস, কোরান ও সীরাতের বর্ণনা মিলিয়ে পড়লে ঘটনার যে ধারাবাহিকতা আমরা পাই তা হলো,

১। কুরাইযা গোত্রের নিজেদের নির্বাচিত বিচারক ও প্রাক্তণ বন্ধুগোত্র প্রধান, সাদ বিন মুয়াদ (রাঃ) কুরাইযা গোত্রের কেবল যোদ্ধাদের কতলের নির্দেশ দেন।
২। কে কে যোদ্ধা তা ঠিক করার জন্যে সমবেত কুরাইযা গোত্রের লোকদের প্রতি আহবান জানানো হলে কিছু লোক তাঁর কাছে এসে তাদের যুদ্ধের বিরোধিতার কথা ব্যক্ত করলে রাসুল (সাঃ) তাঁদের ক্ষমা করে দেন ও পরে তারা ইসলাম গ্রহণ করেন।
৩। আহ্বানে সাড়া না দেয়া বাকী পুরুষরা যোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হন ও তাদের মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের গুপ্তাঙ্গে কেশ দেখে ছেড়ে দেয়া হয়।

এছাড়াও ইতিহাস ও হাদীস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে বানু কুরাইযা গোত্রের প্রায় তিনশ লোককে যুদ্ধ করার অপরাধে হত্যা করার পরে বাকী অনেককে মদিনা ত্যাগ করার শর্তে ছেড়েও দেয়া হয়। ইবন-আসাকের বিশিষ্ট মোহাদ্দেস ও ইতিহাসবেত্তা বানু কুরাইযার ঘটনা সম্পর্কে নিম্নলিখিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন,

অতঃপর হযরত তাদের তিন শত পুরুষকে নিহত করলেন এবং অবশিষ্ট লোকদের বললেন – তোমরা সিরিয়া প্রদেশে চলে যাও, অবশ্য তোমাদের গতিবিধির উপর লক্ষ্য রাখবো। অতঃপর হযরত তাদের সিরিয়া প্রদেশে পাঠিয়ে দিলেন। [১১-১৩]

فقتل رسول الله حملعيم منهم ثلث ماىة وقل ليقيتهم انطاقوا الى ارض المحشر قاتانى آثاركم يعنى ارض الشام فسيرهم اليها …

সিরিয়া প্রদেশে পাঠানোর বর্ণনা এখানেও দেয়া আছে। [লিঙ্ক]

৪.২.১ কোরান থেকে প্রমাণ

কোরানের প্রমাণ সেই আগের আলোচিত আয়াতেই (৩৩.২৬) আছে। আয়াতটা আবার পড়ুন,

وَأَنزَلَ الَّذِينَ ظَاهَرُوهُم مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِن صَيَاصِيهِمْ وَقَذَفَ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ فَرِيقًا تَقْتُلُونَ وَتَأْسِرُونَ فَرِيقًا

(২৬) কিতাবীদের মধ্যে যারা কাফেরদের পৃষ্টপোষকতা করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দূর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন। ফলে তোমরা একদলকে হত্যা করছ এবং একদলকে বন্দী করছ।

And those of the people of the Scripture who backed them (the disbelievers) Allâh brought them down from their forts and cast terror into their hearts, (so that) a group (of them) you killed, and a group (of them) you made captives.

এখানে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে একদলকে হত্যা করা হলো ও আরেক দলকে বন্দী করা হলো। এখান থেকে এটা স্পষ্ট যে সবাইকে হত্যা করা হয়নি।

৪.৩ তৃতীয় অভিযোগ – কুরাইযা গোত্রের ছয় থেকে নয় শতাধিক লোককে হত্যা করা হয়

সীরাতের বিভিন্ন বর্ণনা এক করে দেখলে দেখা যায় যে ছয় থেকে নয়’শ কুরাইযা গোত্রের পুরুষ যোদ্ধাদের হত্যা করা হয়। আগে সূত্র ও নিয়মানুগে যেভাবে উল্লেখ করা হয়ছে সে অনুযায়ী হাদীস শাস্ত্রে গেলে আমরা দেখি বোখারী ও মুসলিমে কোথাও কত জনকে হত্যা করা হয় তার সংখ্যা পাওয়া যায়না। কোরানেও কুরাইযা গোত্রের সর্বমোট কতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় তার হিসেব পাওয়া যায়না। সুতরাং কোরান ও বিশ্বস্ত হাদীস গ্রন্থের সাথে সীরাতের বর্ণনার অসামঞ্জস্যতা থাকাতে আমাদের সতর্কতার সাথে এগুতে হবে। দেখতে হবে অন্য কোনো হাদীস গ্রন্থে সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় কিনা। হ্যাঁ, সংখ্যার হিসেব দিয়ে কিছু হাদীস পাওয়া যায় অবশ্য নেসায়ী, তিরমিযী প্রমুখ হাদীস গ্রন্থে [১৩]। ওখানে বলা হচ্ছে যে সাদ বিন মুয়াদ (রাঃ) যখন মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন তখন চারশ’র মতো কুরাইযা গোত্রের পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। এখন যদি ধরাও হয় যে সব পুরুষকেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়, তাহলেও সংখ্যা হাদীসের ইঙ্গিত অনুসারে বলা যায় যে সর্বোচ্চ হয়তবা চারশ লোকের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কোরান কিংবা বুখারী ও মুসলিম প্রমুখ অধিক বিশ্বস্ত হাদীস গ্রন্থের বর্ণনায় এটা আগে প্রমাণ করা হয়েছে যে কুরাইযার সব পুরুষকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি। তবে যাই হোক না কেন সীরাতে বর্ণিত ৬ থেকে ৯ শ লোককে মৃত্যুদণ্ড কিন্তু হাদীস অনুসারেই বিশ্বস্ত বলে প্রতীয়মান হচ্ছেনা। অতএব, কোরান ও হাদীসের অন্যান্য বর্ণনার সাথে এক করে দেখলে সয়ুতির আল জামি আল কুবরা কিংবা আলী ইবন আব্দ-আল-মালিক আল হিন্দী’র কাঞ্জুল ঊম্মালে দেয়া বর্ণনাই অধিকতর যুক্তিপূর্ণ, অর্থাৎ শ’তিনেক কুরাইযা পুরুষকে ঐদিন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় ও অনেককে ছেড়ে দেয়া হয়, যারা সিরিয়ায় চলে যায়। [১১, ১২]

৫. উল্টো ইতিহাস হলে কী হতো? বাইবেলই বা কী বলে?

এটা একটা স্বাভাবিক প্রশ্ন। ঐদিন আহযাবের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী পরাজিতও হতে পারতেন। আর আহযাব বাহিনী যে পুরো মুসলিম উম্মাহকে সমূলে ধ্বংস করতে সেদিন জমায়েত হয়েছিল তাতে কারুর সন্দেহ নেই। পরাজিত হলে জীবিত প্রতিটি মুসলিমকে সেদিন কতল করে ফেলা হতো নিঃসন্দেহে। এতে বানু কুরাইযাও নিশ্চয়ই এগিয়ে আসতেন বাইবেলের নির্দেশ পালন করতে-

Thou shalt smite every male thereof with the edge of the sword: But the women, and the little ones, and the cattle, and all that is in the city, even all the spoil thereof, shalt thou take unto thyself; and thou shalt eat the spoil of thine enemies, which the LORD thy God hath given thee. (Deuteronomy 20:10-14)

কিন্তু ঐদিন আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী মুসলিমরা বিজয়ী হন, আর তোরাহের নিয়ম গিয়ে বর্তায় মূলত বানু কুরাইযা গোত্রের উপর, যে নীতি অনুসরণ করে সাদ (রাঃ) তার রায় ঘোষণা দেন। অতএব, যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করার পরে তাদের নিজেদের বইতে লেখা আইনের আলোকে যখন তাদের শাস্তি দেয়া হয় (আদতে বাইবেলে বর্ণিত আইনের চেয়ে শাস্তি অনেক কম হয়েছিল বলেই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে) তখন কোনো foul play এর অযুহাত তোলা যায়না।

প্রসঙ্গত আরেকটা কথা এখানে বলা দরকার। কুরাইযা গোত্র নিজেরাই সাদ (রাঃ) এর কাছে তাদের ভবিষ্যত এর ভার ছেড়ে দেয়। অনেক মুসলিম আলেমকে বলতে দেখেছি, যদি তারা মুহাম্মাদ (সাঃ) এর কাছে বিচারের ভার সমর্পণ করতেন তাহলে হয়তো রাসুল (সাঃ) সব যোদ্ধাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতেন না [১৩]। এখন কথা হচ্ছে এভাবে ইতিহাস ঘটেনি, তাই কী হতো তা পুরোপরি বলা সম্ভব নয়। তবে রাসুল (সাঃ) এর আগে কাইনুকা ও নাদীর গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা দেননি; তাই যুক্তি উপস্থাপন করা যেতে পারে যে রাসুল (সাঃ) কুরাইযা গোত্রের ক্ষেত্রেও হয়ত আরো অনেককেই রেহাই দিতেন। কিন্তু যেভাবে ইতিহাস এগিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে কৃতঘ্ন কুরাইযা গোত্র শেষ মুহুর্তেও রাসুল (সাঃ) এর উপরে কিছুটা আক্রোশ ঝাড়ে এভাবে যে তারা রাসুল (সাঃ) এর বদলে সাদ (রাঃ) এর কাছে আত্মসমর্পণ করে ও তাকে বিচারক বানায়। পরের ইতিহাস সবার জানা। হাদীস শেষে এও দেখা যাচ্ছে যে রাসুল (সাঃ) সাদ (রাঃ)-কে বলেন, যে সাদ (রাঃ) আল্লাহর ইচ্ছে মতোই রায় দিয়েছেন। ইসলাম বিদ্বেষীরা এখানেও অনুযোগ আনেন যে, রাসুল (সাঃ)-কে বিচারক মানলে একই বিচারই আসতো; কেননা রাসুল (সাঃ) নিজেই তো শেষে বলছেন, যে সাদ (রাঃ) আল্লাহর ইচ্ছে অনুসারেই রায় দিয়েছেন। এটা বেশ দূর্বল যুক্তি; কেননা হতে পারে যে আল্লাহ্‌র ইচ্ছে হচ্ছে এটা, যে যদি তারা সাদ (রাঃ)-কে নির্বাচন করে তবে তাদের রায় হবে চরম –অন্যথায় নয়। এই অংশটা বললাম কেবল যুক্তির খাতিরে, আদতে অন্যপথে ইতিহাস আগালে কী হতো তা আল্লাহই ভালো জানেন।

৬. উপসংহার

এই লেখাতে দেখানো হলো:

১। বাংলা নাস্তিকদের গোয়েবলসীয় আর্তনাদ ও উপর্যুপরি তথ্য সন্ত্রাসে যদিও অনেকে মনে করতে পারেন যে বানু কুরাইযা সম্ভবত ইহুদীদের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া অন্যতম বড় হত্যাকাণ্ড, কিন্তু অ্যান্টি-সেমিটিজমের নিরপেক্ষ তালিকাগুলোতে এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ পাওয়া যায়না। তালিকাতে থাকা ইহুদী নিধনের ইতিহাস বলতে গেলে ৯৯% খৃষ্টান ও পেগানদের বদাণ্যতায় ঘটে।

২। ইহুদীদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া এসব বড় বড় হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে অনেকবারই দেখা গেছে মুসলিমদেরই আহলে কিতাবের কাজিনদের রক্ষাকল্পে এগিয়ে আসার ইতিহাস। মধ্যযুগে ইউরোপের খৃষ্টান চার্চের প্রাতিষ্ঠানিক অত্যাচারে ইহুদীরা নিজেদের রক্ষাকল্পে মুসলিম অধ্যুষিত স্পেন, জেরুসালেম কিংবা অটোম্যান সাম্রাজ্যে পাড়ি জমায়। আর খৃষ্টান শক্তি যখন ক্রুসেড কিংবা রিকনকোয়েস্টা’র মাধ্যমে মুসলিমদের উপর আক্রমণ চালায় তখন দেখা যায় মুসলিমদের ছায়াবরণে থাকা ইহুদীদের বিরুদ্ধে দ্বিগুণ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে [১৪, ১৫]। ইউরোপের হাজার বছরের ‘ইহুদী সমস্যা’র শেষ সমাধান দেন হিটলার নামের জনৈক অ্যারিয়ান খৃষ্টান। হত্যা করেন ৬০ লক্ষ ইহুদী। অথচ আজ হাজার বছরের ইতিহাস ভুলে গিয়ে ইহুদী আর খৃষ্টান (সবাই নয় অবশ্যই; বলছি গোঁড়া দক্ষিণপন্থী ইসলাম-বিদ্বেষী ইভ্যাঞ্জ্যালিক্যাল খৃষ্টান ও গোঁড়া ইহুদীদের কথা) এক হয়েছে রিভিশানিষ্ট ইতিহাস রচনাকল্পে। এই লক্ষ্যে তারা তৈরী করেছে উইকি-ইসলাম, জিহাদ ওয়াচ, ফেইথফ্রীডম নামের ওয়াবসাইটগুলো। আর ওখান থেকেই উচ্ছিষ্ট খেয়ে বাংলার একদল নব্য ইসলাম বিদ্বেষী কুলাঙ্গার একই ধারায় ঐ হিটলারের তথ্যমন্ত্রী গোয়েবেলস’র দেখানো পথে একই মিথ্যা বারংবার উচ্চারণ করে একে সত্য বলে আম জনতার মাথায় প্রোথিত করার কুকাজে লিপ্ত। তবে ভাগ্য ভালো এখনো নিরপেক্ষ সূত্রগুলো টিকে আছে, যেখানে গেলে এই দুষ্টচক্রের ভণ্ডামি ধরা পড়ে সহজেই।

৩। বানু কুরাইযা গোত্র মুসলিমদের সাথে চুক্তি করে যে তারা দেশ রক্ষা করবে সম্মিলিতভাবে, আর তারা কখনো পরাশক্তিকে নিজের দেশের বিরুদ্ধে মদদ ও সাহায্য দেবেনা। মদিনা রক্ষা করার কোনো যুদ্ধে তারা স্বদেশ অর্থাৎ মুসলিম পক্ষে যুদ্ধ করতে যোগ দেয়নি (বদর থেকে খন্দক), যা করতে তারা চুক্তি মোতাবেক বাধ্য ছিল। স্বশরীরে যুদ্ধ করা না হয় বাদই দেয়া গেলো, দেখা যাচ্ছে উল্টো বানু নাদিরের ঘটনার সময় একবার আর আহযাবের সময় দ্বিতীয়বার তারা সরাসরি মুসলিমদের বিরুদ্ধ শিবিরে যোগদান করে। বানু নাদিরের ঘটনার পরে তারা মুসলিমদের সাথে নাকে খত দিয়ে শান্তিচুক্তি নবায়ন করে; কিন্তু প্রথম সুযোগ পাওয়া মাত্রই তারা সেই নবায়িত চুক্তি আবার ভেঙ্গে ফেলে। সাহাবীরা কুরাইযা পল্লীতে গিয়ে চুক্তি ভাঙ্গার পরিণাম সম্পর্কে মনে করিয়ে দিলেও তারা বলে, “মোহাম্মদ কে? আমরা তাকে চিনি না। আমরা কোনো সন্ধিপত্রের ধার ধারি না।” [১-৭]

৪। কোরান, হাদীস, সীরাত, তাফসির সব যায়গাতেই দেখা যাচ্ছে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, আর তাই সে মতে তাদের শাস্তিও তারা পেয়েছে। দেখানো হলো যে সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি। ইবন আসাকেরের হাদীস থেকে দেখা যাচ্ছে যে অনেক কুরাইযা গোত্রের লোককে সিরিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল।

৫। দেখানো হলো যে, ৬০০ থেকে ৯০০ কুরাইযা পুরুষকে হত্যা করার সীরাতে বর্ণনা প্রশ্ন সাপেক্ষ – কেননা হাদীস থেকে বড়জোর ৩ থেকে ৪-শ লোকের মৃত্যুদণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়।

৬। জীব্রাঈল (আঃ) এর আবির্ভাবের কারণ ব্যাখ্যা করা হলো।

৭। দেখানো হলো যে, ইহুদীরা মুহাম্মদ (সাঃ) এর চাইতে তাদের প্রাক্তণ বন্ধুপ্রতিম গোত্রপ্রধাণ সাদ বিন মুয়াদের উপর নিজেদের বিচারের ভার ছেড়ে দেয় – কেননা তারা তাকে বেশী নিরাপদ ভাবছিল। সাদ (রাঃ) যথারীতি সকল যোদ্ধাদের মৃত্যুদণ্ড দেন, যাকে রাসুল (সাঃ) আল্লাহ্‌র ইচ্ছা অনুসারেই রায় দিয়েছেন বলে বলেছেন। এর মানে এই ভাবার কারণ নেই যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর বিচারের ভার ছেড়ে দেয়া হলে তিনি একই রকমের সিদ্ধান্তেই আসতেন।

৮। বিচারের রায় দেয়া হয়েছিল বাইবেলের Deuteronomy এর বিধান অনুসারেই। আর ঐদিন মুসলিমরা পরাজিত হলে তাদেরো একই ধরণের কিংবা আরো খারাপ পরিণতি হতো। অতএব, এনিয়ে অভিযোগ অনুযোগ ও লোক দেখানো মায়াকান্নার সুযোগ নেই।

তো সর্বোপরি আমরা দেখলাম বানু কুরাইযার ঘটনায় নির্দোষ কেউ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন নাই। নিছক ধর্মীয় বৈরীতার কারণেও কেউ মারা যাননি। নিহতরা ছিলেন সেই মরু উপত্যকার পেশাদার যোদ্ধা; আর তাদের ভাগ্যে তাই ঘটেছিল যা সেই কিংবা এই সময়ে যা ঘটে তাই; অর্থাৎ বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি। তারা মুসলিমদের সাথে বেঈমানি করে, তাদের সাথে করা চুক্তির বরখেলাফ করেছিল। আর তাদেরকে এর আগে আরেকবার উহুদ যুদ্ধের পরপর চুক্তিভঙ্গের জন্যে মাফ করে দেয়া হয়েছিল। তারা নবগঠিত রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং নতুন মুসলিমদের সেই ক্ষুদ্র দলকে সমূলে ধ্বংস করার জন্যে আরব আহযাব বাহিনীর সাথে যোগ দিয়েছিল। সেদিন যুদ্ধে মুসলিমরা পরাজিত হলে যে সবাইকেই এই পৃথিবী থেকে যে সরিয়ে ফেলা হতো এ নিয়ে কি কারুর মনে কোনো সন্দেহ আছে? যদি সন্দেহ না থাকে তবে স্বদেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা, রাজাকারী মনোভাবের কৃতঘ্ন কুরাইযা গোত্রের জন্যে এত মায়াকান্না করার মানে কী?

১. http://en.wikipedia.org/wiki/Timeline_of_antisemitism
২. http://www.simpletoremember.com/articles/a/HistoryJewishPersecution/
৩. http://www.bibletopics.com/biblestudy/65.htm
৪. http://en.wikipedia.org/wiki/History_of_antisemitism
৫. http://www.southerninstitute.info/holocaust_education/ds1.html
৬. http://www.adl.org/education/holocaust/holocaust_history.asp
৭. সিরাত ইবন ইসহাক
৮. কিতাবুস সিরাত –ওয়াকিদী
৯. তাবকাতে ইবন সায়াদ ইবন সায়াদ
১০. তারিখ আল রাসুল ওয়া আল মুলকইবন জরীর তাবারী
১১. কাঞ্জুল উম্মালআলী ইবন আব্দ-আল-মালিক আল হিন্দী
১২. আল জামি আল কাবির – আস সয়ুতি
১৩. মোস্তফা চরিত – মাওলানা আকরম খাঁ
১৪. http://en.wikipedia.org/wiki/Persecution_of_Jews_in_the_First_Crusade
১৫. http://en.wikipedia.org/wiki/Marrano

৫৬ comments

Skip to comment form

  1. 33
    Tariqul Bashar Shaown

    বনু করাইযা যদি সাদ মিন মুয়াদ (রাঃ) কে বিচারক না মেনে নবীজী (সাঃ) কে বিচারক মানতেন, তাহলে আমি ব্যক্তিগত ভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত্‌, যে ওই দিন তিনি ক্ষমা করে দিতেন। তিনি যতই বলুন যে সাদ (রাঃ) আল্লহর ইচ্ছা মতই রায় দিয়েছেন। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের পক্ষে প্রমানও রয়েছে। মক্কাবিজয় অভিযানের প্রাক্কালে হুদায়বিয়া স্বন্ধি ভঙ্গের কারনে সুরা তাওবা নাজিল হল, এবং সেখানে আল্লাহ বললেন, মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা কর। যদি তারা তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে ক্ষমা কর। কিন্তু নবীজী (সাঃ) কি করলেন? মক্কা অভিযানে তিনি একটা মশাও মারলেন না। উলটা আবু সুফিয়ানকে এবং তার বউ হিন্দাকে গুপ্তচর অবস্থায় গ্রেপতার করার পরেও চাচা বলে বুকে জড়িয়ে নিলেন, হিন্দা নবীজী (সা:) এর আপন চাচা হামজা (রাঃ) এর কলিজা চিবিয়েছিল ওহুদের যুদ্ধের সময়। তাকেও মাফ করে দিলেন। এত দয়া নবীজী (সাঃ) এর হৃদয়ে। ফলাফল কি হল? এই আবু সুফিয়ান এবং হিন্দার নাতি এজিদের চক্রান্তে নবীজী (সাঃ) এর কলিজার টুকরা দুই নাতি হাসান (রাঃ) ও হোসেন (রাঃ) জীবন দিলেন। আল্লাহই ভাল জানেন, কার উপর কঠোর হতে হয়, এবং কাকে ক্ষমা করা যায়। কিন্তু নবীজী সাঃ তো আসলেই একজন উদার মানুষ। তাঁকে তো আল্লাহ ভবিষ্যত দেখার ক্ষমতা দেন নাই।

    এই কারনেই আমি বিশ্বাস করি, বনু কুরাইযা নবীজী (সাঃ) কে বিচারক না মেনে নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মারছে।

    1. 33.1
      মাহফুজ

      @Tariqul Bashar Shaown,

      আপনি যথার্থই বলেছেন ভাই।

      এ সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি- বনু কুরাইযার অধিকাংশ পুরুষদের কেন হত্যা করা হয়েছিল?

  2. 32
    Tariqul Bashar Shaown

    ভাইয়া, আপনার পোষ্টটা খুবই সুন্দর হয়েছে। কিন্তু আপনার সমর্থক পাঠকদের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে, তারা যেন খুনের লাইসেন্স পেয়ে গেছে। একটা জিনিস তারা হিসাব করে না, সেই সময় মদিনা সনদের আওতাভুক্ত ইহুদী গোত্র শুধু বনি কুরাইযা ই ছিল না। আরো কম পক্ষে ১৫ থেকে ২০ টা ইহুদী গোত্র ছিল। তাদের সবাইকেই কি কতল করা হয়েছে? নবীজী (সাঃ) কি সবাইকে বিশ্বাসঘাতক বলেছেন? এখানে সবাই হিটলারকে জায়েজ করার চেস্টা করছেন? ছি ছি? বনি কুরাইযাকে বিশ্বাসঘাতক গোত্র হিসেবে কেউ দেখছে না। সবাই ইহুদী গোত্র হিসাবে দেখছে। সাদ বিন মুয়াদ (রাঃ) যেটা করেছেন, সেটা হচ্ছে রাস্ট্রদ্রোহ এবং বিশ্বাসঘাতকতার বিচার। ইহুদী হত্যার লাইসেন্স না। আপসোস, নাস্তিক আর আস্তিক, সবাই একই কথা বলছে, কেউ নিন্দা করে একই কথা বলছে, কেউ সমর্থন করে একই কথা বলছে। আপনার এই পোস্ট তাদের অনেকেরই মাথার উপর দিয়ে গেছে।

  3. 31
    Tariqul Bashar Shaown

    আপনি এখানে বাইবেলের Deuteronomy 20:10-14  যে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তার বাংলা অনুবাদ টা দেয়া উচিত ছিল। তাতে বাইবেলে বর্নিত ভয়াবহতা টা বোঝা যেত। বাইবেলের ওই উদ্ধৃতিটা আমি বাংলায় দিলাম। কিন্তু আপনি দিয়েছেন শুধু ১০ থেকে ১৪ পর্যন্ত। আমি দেব ১০ থেকে ১৮ পর্যন্ত।

    10“তোমরা কোন গ্রাম বা শহর আক্রমণ করতে যাওয়ার আগে সেখানকার লোকদের কাছে বিনা যুদ্ধে অধীনতা মেনে নেবার প্রস্তাব করবে। 11যদি তাতে তারা রাজী হয়ে তাদের ফটক খুলে দেয় তবে সেখানকার সমস্ত লোকেরা তোমাদের অধীন হবে এবং তোমাদের জন্য কাজ করতে বাধ্য থাকবে। 12কিন্তু তারা যদি সেই প্রস্তাবে রাজী না হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে তবে সেই জায়গা তোমরা আক্রমণ করবে। 13তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যখন সেই জায়গাটা তোমাদের হাতে তুলে দেবেন তখন সেখানকার সব পুরুষ লোকদের তোমরা মেরে ফেলবে। 14তবে স্ত্রীলোক, ছেলেমেয়ে, পশুপাল এবং সেই জায়গার অন্য সব কিছু তোমরা লুটের জিনিস হিসাবে নিজেদের জন্য নিতে পারবে। শত্রুদের দেশ থেকে লুট করা যে সব জিনিস তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের দেবেন তা তোমরা ভোগ করতে পারবে। 15যে সব শহর তোমাদের দেশ থেকে দূরে আছে, যেগুলো তোমাদের কাছের জাতিগুলোর শহর নয়, সেগুলোর প্রতি তোমরা এই রকম করবে। 16কিন্তু তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু সম্পত্তি হিসাবে যে সব জাতিদের গ্রাম ও শহর তোমাদের দিতে যাচ্ছেন সেখানকার কাউকেই তোমরা বাঁচিয়ে রাখবে না। 17তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আদেশ অনুসারে তোমরা হিত্তীয়, ইমোরীয়, কনানীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় এবং যিবূষীয়দের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে ফেলবে। 18তা না করলে তারা তাদের দেব-দেবতার পূজা করবার সময়ে যে সব জঘন্য কাজ করে তা তোমরাও শিখবে আর তাতে তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করবে।

     

  4. 30
    jahir

    ami bivinno debate e book of duet er logic er kotha shunesi kintu reality holo saad bible er law onujayi shasti dey ni, kuran e apni onekj anti semitic bani paben jar karone banu quraiza muslims der against e chole jay. banu nadir tribe er leader quraiza er leader asad ke convince kore. banu quraiza ke sesh kore dewa hoyesilo jate tara banu nadir tribe er sathe judde jog na dey, banu nadir tribe kaybar e boshe abaro judder preparation nissilo. banu quraiza ke shasti dewati jukti jukto silo.

  5. 29
    ইয়াছির আরাফাত

    ভাই সামু ব্লগে লেখাটা পোস্ট করেন ।অসাধারণ বিশ্লেষন।

  6. 28
    সরকার সানজিদ আদভান

    খুব সুন্দর একটি লেখা।অনেক কিছু জানতে পারলাম

  7. 27
    real mango

    ধন্যবাদ নিন , , আর এখানে লেখকের কাছে জানতে ঐ ঘটনার সময়ে হযরত আলী কোথায় ছিলেন ?

  8. 26
    Rasel

    কুরাইজা গোত্রের মৃত্যুদন্ড সমন্ধে ঐতিহাসিক পিটারসন এবং লিংস-এর দু’টি মন্তব্য এখানে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য:

    পিটারসন বলেন:-

    “the Muslims wanted to deter future treachery by setting an example with severe punishment.” [Peterson, Muhammad: the prophet of God, p. 125-127.]

    অর্থাত, “ভবিষ্যতের বিশ্বাসঘাতকতা রূখতে মুসলিমরা এই কঠোর শাস্তি আরোপ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছিল।”

    আর ঐতিহাসিক লিংস-এর মতে:-

    “Sa'ad feared that if expelled, the Qurayza would join the Nadir in the fight against the Muslims.” [Lings, Muhammad: His Life Based on the Earliest Sources, p. 229-233.]

    অর্থাত, “হযরত সাদ আশংকা করেছিলেন যে, বনু কুরাইজাকে যদি (হত্যা না করে) বহিষ্কার করা হত , তাহলে তারা বানু নাদির গোত্রের সাথে মিলিত হয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধরবে।”

    আর সর্বশেষ কথা হচ্ছে, বানু কুরাইজা বিচারক হিসেবে হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর পরিবর্তে হযরত সাদ (রা.) কে বেছে নিয়েছিল। আর হযরত সাদ (রা.)-ও তোরাহ মোতাবেক তাদের বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেছিলেন। তাই ঘটনা এখানেই শেষ,  এখানে তর্কের আর কোন অবকাশ নেই। 

    শাহবাজ ভাইকে ধন্যবাদ।

  9. 25
    Alam Khan

    “আর রাহিকুল মাখতুম” গ্রন্থে বনু কুরাইযা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে প্রথম যখন পড়ি সত্যি বলতে কি আমার অবচেতন মনে এটাকে নিছক ইহুদি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হয়েছিলো। তবে মনের গভীরে এ বিশ্বাস ছিল যে রাসুল (সঃ) কখনো কারো সাথে কন ধরনের অন্যায় করেন নি, এ ক্ষেত্রেও তার ব্যাত্যয় ঘটেনি। এর পর থেকে যখন যেখানে এ সম্পর্কে কোন লেখা পেয়েছি তা অত্যন্ত মনযোগ দিয়েই পড়েছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অনেক মস্থবড় আলেমের লেখা পড়েও সন্তুষ্ঠ হতে পারিনি যেমন্টি অত্র লেখা পড়ে পশ্নাতীত ভাবে সন্তুষ্ঠ হয়েছি। আমার বিবেচনায় এটি একটি অত্যন্ত তথ্যভিত্তিক, গবেষণাধর্মী, অনন্সাযধারণ লেখা। এ লেখা পড়ে এত বেশি আস্থাশিল হয়েছি যে এখন থেকে ইহুদী-খৃষ্টান কিংবা নব্য জ্ঞানপাপী মুস্লিম নামধারী শয়তান্দের সমালোচনার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে কষট হবে নয়া। লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ। মহান আল্লাহ আপনার জ্ঞানের পরিধী উত্তরোত্তর প্রসারিত করুক এ দোয়াই করছি। যারা এ লেখার চুলছেড়া বিশ্লেষণ করেছে বা করবে তাদের সবাইকেই ধন্যবাদ। আমি সব ধরণের সমালোচনাকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখতে পছন্দ করি।

  10. 24
    শাফিউর রহমান ফারাবী

    ভাইয়া যুদ্ধবন্দী নারী নিয়ে একটা লেখার অনুরোধ রইলো আপনাকে। 

  11. 23
    মোঃ ওয়ালিউল হক

    মহানবী হযরত মুহাম্মদ সঃ বলেছেন যুদ্ধ হবে ন্যায়ের জন্য । এটি একটি ন্যায়ের যুদ্ধ । এখানে যুদ্ধের পর যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা হল যুদ্ধপরাধিদের বিচার । আর যার রায় নেয়া হয়েছিল তিনি সাদ বিন মুয়াদ যিনি কিনা আগে বনি কুরাইজা গোত্রের প্রধান ছিলেন ।

    ঐ যুদ্ধে অনেকে দাসেও পরিণত হয় । এখন অনেকে বলতে পারে ইসলাম দাস প্রথাকে সমর্থন করে । কথা হল আরবে আগে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্হা ছিল না গোত্রীয় ব্যবস্হা ছিল । নবী নিজেও মদিনা সনদ দিয়ে এক প্রকার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্হা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন ।  সাধারণত যুদ্ধপরাধিদের উপর মুক্তিপণ হিসাবে মূল্য নির্ধারণ করা হত । সে হিসাবে দাসে পরিনত হত । নবী তো বলেছেন দাস হল তোমাদের ভাই, তোমরা যা খাবে দাসদের তা খাওয়াবে । এখন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্হা চলে এসেছে, ন্যায় বিচার যত সম্ভব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে । সেই বিবেচনার দিক দিয়ে দাস প্রথা নাই । তবে বর্তমানে আমরা যুদ্ধপরাধীদের বিচার দেখি তা কতই না লজ্জাজনক ।

    অনেক নাস্তিক যুদ্ধকে যেভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরে ঈমান নষ্ট করতে চায় তা দেখে আমার মনে হয় তারা যদি ৭১ এর সময় থাকত তাহলে ভারতের শরণার্থী শিবিরে গিয়ে আত্মগোপন করত ।

    ধন্যবাদ সুন্দর আলোচনা করার জন্য । ভুল হলে সংশোধন করবেন । মদিনা সনদের আদর্শকে আমরা ধরে রাখার চেষ্টা করব । কখনো চুক্তিভঙ্গ করবো না ।

  12. 22
    jamal

    vai onek kichui lekhlen.. kintu amio oder website muktomona te koraner udriti dekhchi..jekhane juddho bondinider shate sohobash kora hoyeche.. akjon arekjonke bahaba dicchen.. arekjon dhonnobad nicchen..muktomano te islamer upor lekha gulote islamee mollara dekhlam teebro mar kacche jukti te.. chokhe angul diye koran ar bukharee shoreef diye islamer moyla gulo ber hoye asche..ekhane ekjon arek jon ke dhonnobad na diye okhane giye torko korun amra dekte cacchi.amader jader gayn seemito..karon torke gayn bare..parben na??

    1. 22.1
      মুনিম সিদ্দিকী

       কেন দাদা এখানে লুচনা চালাতে অসুবিধা কোথায়? আপনি যা-মাল নিক না নিয়ে আসল নামে আসুন, যা জানতে চান তা এখানে নির্দ্বিধায় বলতে পারেন।

  13. 21
    Md. Lutfor Rahman

    Dear all,
     
    Thanks for the valuable information. The Jews still today believe that Bani quraiza was wrong. They betrayed the Prophet before the Ahjab and during Ahjab they were prepared to surround the other side of Medina so that Muslims could be butchered by both Meccan pagans and the Quraiza together. And, finally, they dared to ignore Prophet  (who was the chief of Medina government) and proposed to accept the adjudication of Saad, whom they regarded as their friend. Saad delivered the judgement according the the Jewish Book.  Therefore the Prophet did not own the responsibility for their punishment.

    The Jews even today cannot say that the Prophet was revengeful. They say that Prophet was rude to the Jews as the Jews did not accepted Islam which the prohet expected.

  14. 20
    ইমরান হাসান

    আসলে এই ব্যাপারে আরও সাম্প্রতিক গবেষণাতে বেরিয়ে এসেছে যে বনু কুরাইযাকেও নাকি বনু নাদির এর মত বের করেই দেয়া হয়েছিল। ডঃ সহুল হসাইন সহ আরও ইতিহাস বিদেরা আশেপাশের সব গুলো নিদর্শন পরীক্ষা করে এটাই দেখেছিলেন যে, বনু কুরাইযা এর ক্ষেত্রে ৯০০ বা ৩০০ মানুষকে হত্যা করার কথাটা একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এদের ক্ষেত্রে তারা বর্তমান গবেষণাতে দেখিয়েছেন যে হয়ত ১০০ বা এর আশেপাশের মানুষকে হত্যা করা হয়ে ছিল। এছাড়াও বনু মুস্তালিক আর জুয়াইরিহা(রা)কে নিয়ে যে এদের ম্যাতকার আছে তার খুব ভালো একটা জবাব আছে। আমি সেটা সময় পেলে অবশ্যই দেব যেটা এদেরকে একেবারেই রিফিউট করে দিবে।

    আপনার জন্য লাল গোলাপ।

  15. 19
    সাদাত

    স্বদেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা, রাজাকারী মনোভাবের কৃতঘ্ন কুরাইযা গোত্রের জন্যে এত মায়াকান্না করার মানে কী?

    একদম খাঁটি কথা।  বানু কুরাইযা ছিল মদিনার রাজাকার।

    1. 19.1
      শাহবাজ নজরুল

      একদম খাঁটি কথা। বানু কুরাইযা ছিল মদিনার রাজাকার।

      আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় এদেশের কিছু কুলাঙ্গার পাকিস্তানিদের পক্ষে রাজাকারী করেছে, দেশের বিরূদ্ধে বিদেশীদের সাথে অস্ত্র ধরেছে; আর একই ধারায় বানু কুরাইযা, স্বদেশ মদিনার বিরূদ্ধে বহি:শত্রুর সাথে হাত মিলিয়েছে। এরা আদতেই 'মদিনার রাজাকার'; আর যারা বানু কুরাইযার স্বপক্ষে কথা বলেন তাদের রাজাকারের সমর্থকই বলতে হবে।

  16. 18
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    যদিও এই বিষয়ের উপর আগে অনেক লেখা পড়েছি, তবুও রেফারেন্সবহুল একটি পোস্টের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
     
    ইহুদি জাতিটা সম্পর্কে কিছুই বলার নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি-হলোকস্ট যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে হিটলারকে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টার জন্য কৃতিত্ব দিতেই হবে। এখন হয়ত হিটলারের নাম শুনলে সবাই নাক সিঁটকায়, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে হিটলারের ইহুদি-নিধন কার্যক্রমের প্রশংসা করতেই হবে।

    1. 18.1
      এস. এম. রায়হান

      শুধু এটুকু বলতে পারি-হলোকস্ট যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে হিটলারকে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টার জন্য কৃতিত্ব দিতেই হবে।

      সদালাপে এই মন্তব্যের মাধ্যমে মুসলিম বিদ্বেষীদের হাতে সাধারণভাবে এবং তাদের বিশিষ্ট মুখপাত্র আঃ মাহমুদের হাতে বিশেষভাবে যে ল্যাদানির 'অস্ত্র' তুলে দিলেন তার কী হবে। ইহুদীদের সমালোচনা করার জন্য হিটলারের দ্বারস্ত হওয়ার কোনই প্রয়োজন নাই -- "শত্রু'র শত্রু বন্ধু" নীতি বেশ দৃষ্টিকটু লাগে। একটু চোখ-কান খোলা রেখে মন্তব্য করুন, অন্তত সদালাপে।

      1. 18.1.1
        মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

        কুর্‌আনে আল্লাহ্‌ বলেছেন যে আমাদের এক নম্বর শত্রু মুশরিকদেরও আগে ইহুদিরা।আর সেটার বাস্তব প্রতিফলন তো দেখাই যাচ্ছে।তাই আমার মত অতি অগুরুত্বপূর্ণ কারো ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়ে ইসলামবিদ্বেষীদের ল্যাদানোর কোনো কারণ নেই।আল্লাহ্‌ কি বলেছেন,সেটাকেই তারা ব্যবহার করবে ইসলামকে ঘায়েল করার জন্য।
         
        আমার মন্তব্যের কোনো অংশ থেকে প্রমাণিত হয় না আমি হিটলারকে মুসলিমদের বন্ধু বলেছি।আমি বলেছি মানুষ অচিরেই হিটলারের কাজের অবমূল্যায়ন ছেড়ে মূল্যায়ন করা শুরু করবে।

      2. শাহবাজ নজরুল

        কুর্‌আনে আল্লাহ্‌ বলেছেন যে আমাদের এক নম্বর শত্রু মুশরিকদেরও আগে ইহুদিরা।আর সেটার বাস্তব প্রতিফলন তো দেখাই যাচ্ছে।

        কোরানের আয়াতটা দিন প্লিজ।

        আমি বলেছি মানুষ অচিরেই হিটলারের কাজের অবমূল্যায়ন ছেড়ে মূল্যায়ন করা শুরু করবে।

        হিটলারের কাজের মূল্যায়ন একটাই, আর তা হচ্ছে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যাকারী…

  17. 17
    রাতুল

    সত্যিই অসাধারণ হয়েছে। আপনার লেখাটি এত সাবলীল ও সহজবোধ্য যে, এক নিমেষেই তার মূল ভাবটা পরিষ্কার হয়ে যায়। এর পরেও যারা ত্যানা প্যাঁচানোর চেষ্টা করে তাদেরকে প্যাঁচাতেই দিন। সেখানেই তাদের ঘূর্ণন চলতে থাকবে।

  18. 16
    কিংশুক

    http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif অসাধারণ কাজ করেছেন শাহবাজ নজরুল ভাই। এই এক বানু কোরাইজাকে উপজীব্য করে চরম ইসলামবিদ্বেষী ইহুদি, খ্রিষ্টান গ্রুপের সাথে পাঁড় ইসলামবিদ্বেষী হিন্দু মৌলবাদি গোষ্ঠীও প্রোপাগান্ডা চালায় (তারা সাথে আরো উপমহাদেশে ইসলামের আগমন নিয়ে নানান রূপকথা সাজিয়ে বানু কোরাইজা প্রোপাগান্ডা দিয়ে সত্যায়িত করে)। সঠিক তথ্য না জানলে পৈত্রিক সূত্রে মুসলমান কিন্তু ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ মুসলমানগণ হুমায়ূন আজাদের 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' এর মতো করে ইসলামকে ভাবার পথে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অক্লান্ত পরিশ্রম করে সত্যানুসন্ধান করে লেখাটি দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

    1. 16.1
      শাহবাজ নজরুল

      ধন্যবাদ আপনার কমেন্টের জন্যে। বানু কুরাইযা ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রোপাগান্ডা বৈ কিছু নয়। ইহুদি বৈরীতার নিরপেক্ষ সুত্রগুলোতে এর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়না। অথচ বাংলা নাস্তিকদের ব্লগ পড়লে মনে হয় ইহুদিদের বিরূদ্ধে এটা ছাড়া আর কোনো হত্যাকান্ডই যেন কখনো ঘটেনি। কৈ যাই বলেন!!!
       

  19. 15
    সরোয়ার

    লেখাটি  বাংলা অনলাইন জগতে ইতিহাস হয়ে থাকবে। আল্লাহ আপনাকে উপযুক্ত পুরষ্কার দান করুন। http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gif

    1. 15.1
      শাহবাজ নজরুল

      ধন্যবাদ কমেন্টের জন্যে। লেখার তেমন সময় পাইনা আজকাল। তারপরেও বিবেকের তাড়নায় মাঝে মধ্যে ক্লাসিক ভণ্ডামি উন্মোচনে নামতেই হয়।

  20. 14
    ফুয়াদ দীনহীন

    আগে লাল গোলাপ নিন 

    1. 14.1
      শাহবাজ নজরুল

      নিলাম।
       
      আপনি একটু সচল হোন তো দেখি। কিছু লেখা ছাড়েন তাড়াতাড়ি …

  21. 13
    শামস

    সামান্য গবেষণাতেই দেখা যায়, ইহুদী জাতির ওপর ঘটে যাওয়া প্রায় সকল অন্যায় গণহত্যা ও ধ্বংসের যেসব সুত্র পাওয়া যায় সেখানে বানু কুরাইযার ঘটনার অনুপস্থিতি (সূত্র: )।

     

    মোটামুটিভাবে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ আন্তর্জালিক সূত্র, যেমন ওয়াইকি’র Timeline of anti-Semitism ও History of anti-Semitism, কিংবা ADL (Anti Defamation League) এর An Abridged History of Anti-Semitism এর তালিকাতে ইহুদীদের বিরূদ্ধে ঘটে যাওয়া হাজার বছরের ইতিহাসে’র নথিতেও নেই বানু কুরাইযা’র ঘটনা। এই তালিকাগুলোতে বানু কুরাইযার ঘটনা কেন নেই, তার কারণ অনুমান করতে তেমন আয়াস পেতে হয়না। কারণটা এই যে, বানু কুরাইযার ঘটনা নির্বিচার গণহত্যা নয়, বরং যুদ্ধ-প্রাক্কালে ঘটা বিশ্বাসঘাতকতার স্বাভাবিক পরিণতি।

     
    আসল কাহিনী এখানেই শেষ। যাকে ইহুদীরা ও অন্যান্য নিরপেক্ষ সুত্রগুলো নিজেরাই গণহত্যা বলে না, মুক্তমনার আড়ালে বর্ণহিন্দুরা সেটাই করছে! 
     

    1. 13.1
      শাহবাজ নজরুল

      আসল কাহিনী এখানেই শেষ। যাকে ইহুদীরা ও অন্যান্য নিরপেক্ষ সুত্রগুলো নিজেরাই গণহত্যা বলে না, মুক্তমনার আড়ালে বর্ণহিন্দুরা সেটাই করছে!

       
      আমাদের এক সহব্লগার (বুড়ো শালিক) একসময় বলেছিলেন,

       
      "পৈতা ইজ এ টাফ থিং টু হাইড"

       
      বানু কুরাইযা'র তথ্য সন্ত্রাসে সেই প্রামাণই বারংবার মেলে।
       

  22. 12
    এস. এম. রায়হান

    ইসলাম বিদ্বেষী ভণ্ডদের গাত্রদাহ আরেকটু বাড়িয়ে দেয়া যাক, কী বলেন পাঠক!  

    "Islam can withstand any change in the world… Islam had been led by a leader who received the divine message, and there is no doubt in this… The teachings of Islam has survived, and withstand in the most difficult situations….Islam will be the future of the world, and this is the truth accurately." -- Jewish Rabbi

    rel="nofollow">

  23. 11
    শামস

    বাংলা ব্লগজগতে মুক্তমনা নামধারীই মূলত কুরাইযা নিয়ে মিথ্যাচারের নেতৃত্ব দিচ্ছে। মুক্তমনা মানেই অসৎ, তথ্য বিকৃতকারী, ভণ্ড -- এটা অনেক আগেই প্রমাণিত। এ লেখাটা তাদেরকে আবারো উন্মোচন করল। লেখাটিকে ছড়িয়ে দেয়া হোক!

  24. 10
    শামস

    সুপার্ব। কিংবদন্তী লেখা!
     

  25. 9
    সাদাত

    কুরাইযা গোত্রের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সংখ্যা ৩০০ না ৯০০ ছিল, সব বালেগ পুরুষ নাকি অধিকাংশ বা কিয়দংশের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল, সেটা গুরুত্বপূর্ণ কোন ব্যাপার নয়।

    একইভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা ইহুদি ছিল না খ্রিস্টান ছিল, নাকি মুসলিম ছিল, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ কোন ব্যাপার নয়। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো তাদের কেন এবং কি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

    কুরাইযা গোত্রের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা শুধু অকৃতজ্ঞ, কৃতঘ্নই ছিল না, তারা ছিল চুক্তিভঙ্গকারি, বিশ্বাসঘাতক, রাষ্ট্রদ্রোহি। আর তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বিচারিক প্রক্রিয়ায়।

    কাজেই সংখ্যা এবং ধর্মটা কেবল এটাই নির্দেশ করে যে, কোন্ ধর্মের কত অধিক সংখ্যক চুক্তিভঙ্গকারি, বিশ্বাসঘাতক, রাষ্ট্রদ্রোহি ব্যক্তি বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিল।

    শাহবাজ ভাইকে তার মূল্যবান এবং পরিশ্রমী লেখাটার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

    1. 9.1
      শাহবাজ নজরুল

      কাজেই সংখ্যা এবং ধর্মটা কেবল এটাই নির্দেশ করে যে, কোন্ ধর্মের কত অধিক সংখ্যক চুক্তিভঙ্গকারি, বিশ্বাসঘাতক, রাষ্ট্রদ্রোহি ব্যক্তি বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিল।

       
      http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif …
       
      সারাংশ এটাই। ধন্যবাদ অসাধারণ মন্তব্যের জন্যে।

  26. 8
    শাহবাজ নজরুল

    আমার প্রিয় বিশিষ্ট ব্লগ বুদ্ধিজীবি মুক্তমনা(?)র ক্লাউন, জনাব ভ্যাগাবন্ড কিছুকাল আগে এ’নিয়ে কৌতুকপূর্ণ এক (অ)লেখা প্রসব করেছেন। নীলক্ষেতের প্রাক্তণ এই টাইপিষ্ট বানু কুরাইযা’র ইতিহাসের সত্য উদঘটণের জন্যে নিরপেক্ষ বিচারক সেজেছেন। প্রথমে তিনি প্রাসঙ্গিক কোরানের আয়াত, ৩৩.২৬ দিলেন, এরপরে গেলেন আয়াতের প্রসঙ্গ খুঁজতে ইবন কাথিরের তাফসিরে। তাবৎ তাফসির ঘেঁটে ভ্যাগাবন্ড একটাই লাইন খুঁজে পেলেন – আর তা হলো কা’বের ওপর হুয়াইয়ের যাদু ক্রিয়াশীল হলো।
     
    অন্ধের যষ্টির মতো এই একখানা লাইন পেয়ে ভ্যাগাবন্ড বললেন ‘ইউরেকা;’ এরপর লেগে পড়লেন মনের মাধুরি মেশানো গল্প/স্ব-তাফসির রচনায়। অজস্র মিথ্যা’র টোটকা চিরায়ত স্টাইলে তার গল্পে গুলিয়ে পাঠকদের খাওয়ালেন তিনিআর মনাদের রোবট সদৃশ পাঠককূল ঐ টোটকা খেয়ে যথারীতি সমবেত সঙ্গীত গেয়ে উঠলেন, ‘কী মজার খাওয়াই না খেলুম!!!’

    একটু বিশদে যাই। সবেধন নীলমণি ঐ লাইনটা পেয়ে ভ্যাগাবন্ড গম্ভীর  কন্ঠে বললেন --

    একটা খোড়া যুক্তি দেখিয়ে প্রমান করতে চেষ্টা করা হচ্ছে যে বানু কুরাইযা গোষ্ঠি চুক্তি ভঙ্গ করেছে। না হলে মোহাম্মদের দল বলের আক্রমনকে যৌক্তিক করা যায় না। বানু কুরাইযার লোক জন চুক্তি ভঙ্গ করে যে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে বা মোহাম্মদের বিরুদ্ধ শক্তিকে সাহায্য করেছে তার কোন প্রমান কিন্তু উক্ত কনটেক্সটে নেই। সে রকম কিছু থাকলে উক্ত তাফসির বা হাদিসে সে সম্পর্কে বহু জায়গাতে উল্লেখ থাকতদু:খজনকভাবে না হাদিস না তাফসির কোথাও বনু কুরাইযারা মোহাম্মদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল বা বিরুদ্ধাচরন করেছিল,আর কিভাবেই বা সেটা তারা করেছিল তার কোন উল্লেখ কোথাও নেই। সেকারনেই উক্ত খোড়া যুক্তির অবতারণা করে বলা হচ্ছে- কাবের ওপর হুয়াইয়ের যাদু ক্রিয়াশীল হলো।

    অর্থাৎ, ভ্যাগাবন্ডের ৭ খন্ড কুরাইযা’র ইতিহাসের পর্যালোচনার সার সংক্ষেপ হচ্ছে,

    কোরান, হাদীস, সীরাত, তাফসির কোথাও কুরাইযা গোত্রের চুক্তি ভঙ্গের কথা পাওয়া যায়না, আর তাই ঘটণার প্রায় ৭০০ বছর পরে ইবন কাথির এসে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন।

    শত পর্বের যে সোপ অপেরা তিনি লিখছেন তাতে হাদীস দিয়েছেন মনেহয় হাজারখানেক। তো এত বড় ইসলাম বিশারদ, যার বাংলা সীরাত, কোরান, হাদীস আর তাফসির মুখস্ত তিনি যদি উপরে দেখানো এমন অকাট্য, স্পষ্ট প্রমাণগুলোকে কার্পেটের নীচে ঠেলে দিয়ে বুক ফুলিয়ে বলেন,

    না হাদিস, না তাফসির কোথাও বনু কুরাইযারা মোহাম্মদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল বা বিরুদ্ধাচরন করেছিল,আর কিভাবেই বা সেটা তারা করেছিল তার কোন উল্লেখ কোথাও নেই

    তাহলে তাকে হয় আহাম্মক, গবেট ও ঊণ-মস্তিষ্কের অধিকারী কিংবা চিরায়ত মুক্তমনা স্টাইলের ধূর্ত, অসৎ ও মিথ্যাবাদী হিসেবেই আখ্যা দিতে হয়।

    ভ্যাগাবন্ড আঙ্কেল, আবার বলি, নীচের লাইনটা কিন্তু ইবন ইসহাক থেকে নেয়া,

    And news came that the Jewish tribe of Banu Qurayza had broken their treaty with Muhammad.

    আর এই হাদীসটি আছে মুসলিমে, যেখানে বানু কুরাইযা একবার নয় বরং দুই’বার চুক্তি ভঙ্গ করেছিল বলে স্পষ্ট করেই বলছে,

    It has been narrated on the authority of Ibn Umar that the Jews of Banu Nadir and Banu Quraizi fought against the Messenger of Allah (may peace be upon him) who expelled Banu Nadir, and allowed Quraiza to stay on, and granted favour to them until they too fought against him.

    আর কোরান এত স্পষ্ট বাক্য থাকার পরেও তাফসির থেকে কেন তিনি গূঢ় রহস্য উদঘটনে গেলেন। কাবে’র উপর হুয়াই’র যাদু কার্যকর হোক কিংবা নাই হোক, তাফসিরে কিন্তু শেষ পর্যন্ত লেখা আছে যে তারা চুক্তি ভেঙ্গে যুদ্ধে গেছে। আর শাক দিয়ে মাছে ঢাকতে কেনই বা ইবন কাথির ঘটনার ৭০০ বছর পরে আবির্ভাব হলেন তার ব্যাখ্যা তো দিলেন না কাকা http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_wacko.gif
     

    1. 8.1
      সাগর

      মনে করুন আপনি একজন বাঙ্গালি ইহুদি,তাহলে আজ আপনি যা লিখতেন তা হল; আরবে এক ভন্ডর আবির্ভাব হয়েছিল যার নাম ছিলো মহাম্মদ যে নিজেকে নবী দাবি করেছিলো এবং আরব দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছিলো আর তাই শান্তির জন্য তাকে আর তার ৪০০ অনুসারীকে হত্যা করে শান্তিবাদি ইহুদিরা। বিজয়ীরা চিরকাল নিজেদের মত করে ইতিহাস লিখে।একজন মহান আল্লার শেষ নবি নাকি মোহাম্মাদ, যে নিজে ২৬/২৭ টি যুদ্ধ করেছেন মহান আল্লার এক মহান ধর্ম প্রচারের জন্য।বাহ,ধর্ম একখান। আর আজ ইহুদি হলে এই বনী কুরাইজার গল্প টাই আপনি অন্য ভাবে লিখতেন।

      1. 8.1.1
        শাহবাজ নজরুল

        ইতিহাসে পাওয়া মাল মশলা নিয়েই যৌক্তিক ভাবেই এই ব্লগ লেখা হয়েছে। পারলে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট কথা বলেন। ব্লগের আওতার বাইরে যাবেন না। উপরে সুত্র আর নিয়মানুগ দেয়া আছে যা এই ব্লগ লেখার সময় অনুসরন করা হয়েছে। ঐ সুত্র ও নিয়মানুগ মেনে পারলে বিতর্ক করুন।
         

  27. 7
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আমার ব্লগেতো এক ভন্ড মুক্তিযুদ্ধের সাথে বনু কুরাইজার মিল খুঁজে পেয়ে ভুয়া ছবি নিয়ে ব্লগাইতো। এখন দেখলাম উনি ফটোর  জায়গায় স্কেচ ব্যবহার করছেন --  ফেনাটিক আর কাকে বলে! 
     
    মিথ্যাকে বারবার বলে সত্য বানানোর যে গোয়েবলীয় নীতি তা সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করে বাংলার নাস্তিককুল। নিজেদের কোন জ্ঞান নেই -- সব কিছুই ধার কর্জ করে নানান জায়গা থেকে। 
     
    আব্দুল্লাহ ইবনে সালামের ঘটনা নিয়ে মিথ্যাচারের জবাব দেবার পর সেই নাস্তিক আমাকেই মিথ্যাবাদী বলে যুক্তি দিতে শুরু করলো -- হাসবো না কাঁদবো!

  28. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    চমৎকার কাজ একটা। দারুণ ভাবে উপস্থাপনা করেছেন। কোরানের আয়াতটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করি। এই বাংলার তথাকথিত মানবতাবাদীদের গুড় লাগানোর চেষ্টা মাত্র -- অবশেষে মিথ্যা মিথ্যাই থাকবে।

    অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    1. 6.1
      শাহবাজ নজরুল

      এমন একটা দিন মনে হয় পাওয়া যাবেনা যেদিন ভণ্ডদের ব্লগে বানু কুরাইযা নিয়ে কোনো না কোনো মন্তব্য পাওয়া যাবেনা। তাই একটা সার্বিক রিবাটাল লেখার চেষ্টা করলাম। ওদের আনা সব অভিযোগ গুলোর জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছি। তার পরেও মাইক বন্ধ হবে বলে মনে হয়না। আমার লেখার উদ্দেশ্য পাঠকেরা বুঝলেই চলবে।

  29. 5
    এস. এম. রায়হান

    উভয় দিক তুলে ধরে বিশ্লেষণধর্মী লেখাটি দারুণ হয়েছে।  যুক্তিবাদী ও নিরপেক্ষধর্মী পাঠকরা লেখাটি পড়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
     
    এ বিষয়ে পাঠকদের জন্য কিছু পয়েন্ট:
    -- স্বয়ং ইহুদীরাই যেখানে বানু কুরাইযা'র ঘটনা নিয়ে উচ্চবাচ্য করে না (উচ্চবাচ্য না করার পেছনে কারণও আছে) -- এই ঘটনার জন্য ইসলামের নবীকে দায়ী করে বিভিন্ন সাইট কিংবা মিডিয়াতে বিষোদগারও করে না -- সেখানে দাস মনোবৃত্তির কিছু বাংলাভাষী ব্লগার বানু কুরাইযা গোত্রের কিছু বিশ্বাসঘাতক ইহুদীর জন্য 'মানবতাবাদী মায়াকান্না' করে ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করে। এ যেন মায়ের চেয়ে মাসির দরদ-ই বেশি। এই দাস মনোবৃত্তির বাংলাভাষীরা তো আমেরিকাকে প্রভু হিসেবে মানে, আমেরিকান মিডিয়াগুলোও ইহুদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত; সেই আমেরিকার কিছু মিডিয়াতে হাজির হয়ে ইসলামের নবীকে "ইহুদীদের হত্যাকারী" হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করে 'মানবতাবাদী মায়াকান্না' করে দেখাক না। সেই সৎ-সাহস তো তাদের নেই।
     
    এই সাইটে বিগত ২০০০ বছরের ইতিহাসে ইহুদীদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন ও গণহত্যার বিশাল একটি লিস্ট আছে (An overview of the persecution of Jews for the past 2,000 years)। এতবড় একটি লিস্টেও বানু কুরাইযা'র ঘটনার কথা উল্লেখ নাই। লিস্টটিতে বরঞ্চ বিগত ২০০০ বছরে ইহুদীদের উপর পেগান (মনাদের ভাষায় হিন্দু) ও খ্রীষ্টানদের অত্যাচার-নির্যাতন ও গণহত্যার ঘটনা উল্লেখ আছে -- যা মুসলিম বিদ্বেষীদের লেখায় ভুলেও কখনো উল্লেখ করা হয় না। এই হচ্ছে ইহুদীদের জন্য মায়াকান্না!
     
    -- কৃষ্ণের নেতৃত্বে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে উভয় পক্ষের ৩৯,৩৬,৫৮৮ জন সৈন্য নিহত হয় যাদের মধ্যে বিরোধী পক্ষের সৈন্য সংখ্যা ছিল ২৪,০৫,৬৯৬ জন। এ প্রসঙ্গে হিন্দুদের সবচে জনপ্রিয় ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গীতাতে (কৃষ্ণের বাণী) কৃষ্ণ বলেছেন,
     
    "I am death, the mighty destroyer of the world. I have come here to destroy all these people. I have already destroyed all these warriors. Kill all these great warriors who are already killed by Me. Do not fear. You will certainly conquer the enemies in the battle; therefore, fight!" (Gita 11:32-34)
     
    মূলত কৃষ্ণের কারণে আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে প্রায় চল্লিশ লক্ষ মানুষ হতাহত নিয়ে এবং তার সাথে গীতার লিঙ্ক করে বাংলা নাস্তিকদের লেখায় মানবতার বুলি আউড়িয়ে কখনোই মায়াকান্না করতে দেখা যায়নি, কৃষ্ণের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে দেখা যায়নি। মায়াকান্না বা বিষোদগার বা গীতার সাথে লিঙ্ক করা তো দূরে থাক, এমনকি তাদের লেখার কোথাও এত বড় একটি গণহত্যার কথা উল্লেখ-ই করা হয়নি। অথচ হাজার হাজার মাইল দূরে কিছু বিশ্বাসঘাতক ইহুদী যোদ্ধার জন্য মায়াকান্না করে ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হচ্ছে। ভণ্ডামি আর কারে বলে।

    1. 5.1
      শাহবাজ নজরুল

      অসাধারণ কমেন্ট। আমার লেখাতেও আমি তাই দেখাতে চেয়েছি। ইহুদিদের বিরূদ্ধে ঘটে যাওয়া হত্যাকান্ডের লম্বা লিস্টিতেও বানু কুরাইযা পাওয়া যায়না। আর মনা'দের লিস্টিতে আছে কেবল একটাই গণহত্যার কথা -- সেটা হচ্ছে কুরাইযা। কুরাইযা'র গণহত্যার প্রতিবাদে তারা পারলে গলা থেকে রক্ত বের করে ফেলেন। কিন্তু আপনি যেভাবে বললেন, কুরুক্ষেত্রের কোটি মানব হত্যার প্রতিবাদ নেই এসব মানবতাবাদীদের লেখাতে -- নেই প্রতিবাদ ইহুদিদের বিরূদ্ধে ঘটা আরো হাজার অন্যায়ের!!! আমাদের কাজ কেবল মুখোশ উন্মোচন। পাঠকেরা নেবেন নিজেদের সিদ্ধান্ত।
       

      1. 5.1.1
        এস. এম. রায়হান

        মজার ব্যাপার হচ্ছে স্বয়ং ইহুদীদের তৈরি করা এতবড় একটি লিস্টে বানু কুরাইযার ঘটনা স্থানই পায়নি। অথচ দাস মনোবৃত্তির কিছু ইসলাম বিদ্বেষীর লিস্টে সব বাদ দিয়ে শুধু বানু কুরাইযার ঘটনা স্থান পেয়েছে। এদের ভণ্ডামি একেবারে হাতেনাতে উন্মোচিত হয়েছে। দাস মনোবৃত্তির বর্ণমনারা এবার ইহুদীদেরকে 'ইসলামের দালাল' কিংবা 'পেট্রোডলারখোর' বলে আখ্যা দেয় কিনা, কে জানে!

    2. 5.2
      শামস

      @এস. এম. রায়হান,

      -- কৃষ্ণের নেতৃত্বে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে উভয় পক্ষের ৩৯,৩৬,৫৮৮ জন সৈন্য নিহত হয় যাদের মধ্যে বিরোধী পক্ষের সৈন্য সংখ্যা ছিল ২৪,০৫,৬৯৬ জন। এ প্রসঙ্গে হিন্দুদের সবচে জনপ্রিয় ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গীতাতে (কৃষ্ণের বাণী) কৃষ্ণ বলেছেন,
       
      "I am death, the mighty destroyer of the world. I have come here to destroy all these people. I have already destroyed all these warriors. Kill all these great warriors who are already killed by Me. Do not fear. You will certainly conquer the enemies in the battle; therefore, fight!" (Gita 11:32-34)
       
      মূলত কৃষ্ণের কারণে আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে প্রায় চল্লিশ লক্ষ মানুষ হতাহত নিয়ে এবং তার সাথে গীতার লিঙ্ক করে বাংলা নাস্তিকদের লেখায় মানবতার বুলি আউড়িয়ে কখনোই মায়াকান্না করতে দেখা যায়নি, কৃষ্ণের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে দেখা যায়নি। মায়াকান্না বা বিষোদগার বা গীতার সাথে লিঙ্ক করা তো দূরে থাক, এমনকি তাদের লেখার কোথাও এত বড় একটি গণহত্যার কথা উল্লেখ-ই করা হয়নি।

       
      কাক কাকের মাংস খায় না। বর্ণমনারা সেটা কেমনে করে!!!
       

  30. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    বাংলা ভার্চুয়াল জগতে  আপনার এই  প্রবন্ধ মাইলস্টোন হয়ে থাকবে। আল্লাহ আপনার এই মহৎ কাজের বদলা দিন! আমিন!

    1. 4.1
      শাহবাজ নজরুল

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে। ধন্যবাদ পড়ার জন্যে। আমি নিজে আপনার লেখার অনুরক্ত। আপনার কিছু লেখা আছে যা আসলেই অসাধারণ।
       
      --শাহবাজ

  31. 3
    এম_আহমদ

    আসল কথা হল বানু কোরাইযা আহযাবের যুদ্ধে মুসলিম পক্ষ ত্যাগ করে মিত্রশক্তির সাথে আঁতাতের মাধ্যমে যে গাদ্দারি করে সেটা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ, তাও করেছিল যুদ্ধকালীন সময়ে। এই পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে যদি মুসলমানদের পরাজয় ঘটত তবে মিত্র পক্ষ মদিনায় ঢুকে মুসলমানদেরকে কচু কাটা দিয়ে তাদের পরিবার পরিজনকে দাস/দাসি করে নিয়ে বাড়ি ফিরত। এটাই ছিল সেকালের যুদ্ধের প্রথা। এটা ছিল রোমানদেরও প্রথা এবং পারসিয়ানদেরও। রোমানদের ১০০০ বৎসরের ইতিহাস বাদ দিয়ে শুধু ৭০ খৃষ্টাব্দের প্যালেস্টাইন আক্রমণ দেখা যেতে পারে এবং সেখানে কচু কাটা দিয়ে হাজারো হাজারো লোককে কীভাবে দাস/দাসি বানিয়ে ইউরোপে খেত খামারে নিয়োগের জন্য নিয়েছিল, সেটা বিবেচনা করা যেতে পারে। এটা ছিল সেদিন স্কলের যুদ্ধ প্রথা। যে কোন পক্ষ পরাজিত হলে এই ছিল দশা।

    বানু কোরাইযার ব্যাপারে নীতিগত প্রশ্ন তুলতে হলে প্রথমে ‘নীতিটা’ কি ছিল তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থাৎ বানু কোরাইযায় যাবার আগে সে যুগের রোমান, পারসিয়ান হয়ে কয়েকশো বছরের যুদ্ধ দেখতে হবে এবং সেই যুদ্ধাদির মূলনীতি দেখাতে হবে। তারপরে সেসবের আলোকে দেখাতে হবে যে বানু কোরাইযার সাথে যুদ্ধনীতির ব্যত্যয় ঘটেছিল। কিন্তু দুশমন পক্ষের সেই বিদ্যা নেই। যাদের আছে, তারা এই বিতর্কে নেই। এই বিতর্কে আছে ইতিহাস-মূর্খ ইসলাম বিদ্বেষীরা। এদের কাছে প্রথমত ইসলামের সব সোর্সগুলো মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত, ইতিহাসসহ। কিন্তু কথা হল ইসলামের ইতিহাস যদি মিথ্যা হয় তবে বানু কোরাইযার ঘটনা সত্য হয় কাদের ইতিহাসের উৎস থেকে?

    সেদিন আল্লাহর তরফ থেকে সাইমুম না আসলে এবং এর মোকাবেলায় মিত্রপক্ষ পলায়ন না করলে, আজকে ইসলামের কোন ইতিহাস থাকত না। সব চেয়ে মজার বিষয় হল বানু কোরাইযার ফয়সালা তাদের ইচ্ছায় তাদেরই পুরাতন সন্ধিবদ্ধ গোত্রপতি সা’দ (রা.) করেন। এর পরও নবীর (সা.) উপর দোষ ঢালার কোন মানি হয় না। তারপর সা’দের ফয়সালা প্রচলিত নিয়ম মোতাবেকই হয়েছে।

    যুদ্ধের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত রিস্কি। মুসলমানদের ধ্বংস করতে মিত্রপক্ষে সাথে আঁতাত করা বিরাট রিস্ক ছিল। মিত্র পক্ষ বিজয়ী হলে তাদের রিস্ক সফল হত, পরাজয়ে ব্যর্থতায় পর্যবেশিত হয়েছে। এখানে চিরন্তন নিয়মই দেখা যাচ্ছে। সুতরাং কোরাইযার জন্য কান্নাকাটিতে কোন লাভ নেই।

    এই লেখাটি ভাল হয়েছে, তবে আরও কিছু এডিট করলে আরও ভাল হত।

    1. 3.1
      শাহবাজ নজরুল

      বানু কোরাইযার ব্যাপারে নীতিগত প্রশ্ন তুলতে হলে প্রথমে ‘নীতিটা’ কি ছিল তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থাৎ বানু কোরাইযায় যাবার আগে সে যুগের রোমান, পারসিয়ান হয়ে কয়েকশো বছরের যুদ্ধ দেখতে হবে এবং সেই যুদ্ধাদির মূলনীতি দেখাতে হবে। তারপরে সেসবের আলোকে দেখাতে হবে যে বানু কোরাইযার সাথে যুদ্ধনীতির ব্যত্যয় ঘটেছিল। কিন্তু দুশমন পক্ষের সেই বিদ্যা নেই। যাদের আছে, তারা এই বিতর্কে নেই। এই বিতর্কে আছে ইতিহাস-মূর্খ ইসলাম বিদ্বেষীরা। এদের কাছে প্রথমত ইসলামের সব সোর্সগুলো মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত, ইতিহাসসহ। কিন্তু কথা হল ইসলামের ইতিহাস যদি মিথ্যা হয় তবে বানু কোরাইযার ঘটনা সত্য হয় কাদের ইতিহাসের উৎস থেকে?

       
      http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif
       
      তাদের নিয়মনীতি হচ্ছে কেবল ইসলাম বিদ্বেষ, জ্ঞানের আধার হচ্ছে ওরিয়েন্টালিস্ট লেখকগণ, আর পদ্ধতি হচ্ছে চেরি পিকিং। না আছে তাদের ইতিহাসের জ্ঞান না আছে দর্শনের। এই জ্ঞান গভীরতা নিয়ে অহর্নিশ তারা মাইকিং করে চলেছে 'বানু কুরাইযা'র হত্যাকান্ডের নৃশংসতার!!!

      এই লেখাটি ভাল হয়েছে, তবে আরও কিছু এডিট করলে আরও ভাল হত।

      তা মানি। লেখাটাতে অনেক কিছু টাচ করার চেষ্টা করেছি। বুঝতে পারছি প্যারা ও বিভাগ বিন্যাস হয়তো তেমন গোছানো হয়নি। দেখি পারলে কিছুটা এডিট করে আরেকটু রিডেবল করার চেষ্টা করবো।
       

  32. 2
    নির্ভীক আস্তিক

    এভাবেই সুশিল বোদ্ধারা সারাক্ষণ ইহুদী ইহুদী করে বুক ফাটা আর্তনাদ করেন। তাদের লেখার সময় কলমের তুর্য নিনাদে বিরক্ত কাঠের টেবিল তাদের দিকে How Cow করে চীৎকার করে উঠে, তাদের চাটুকার নির্মোহ কিন্তু কিঞ্চিৎ বিকৃত কুযুক্তির বর্ণনার সাথে মুক্তমনা পাঠকদের চোখের পানির বন্যায় ব্লগের পাতা গুলো ভিজে চুপসে গলে পড়ে যায় তাও যেন তা ফেলবার নয়, শুকিয়ে ভিজিয়ে তার ব্যবহার চলে বারংবার। ধর্মের নামে মানব নিধনের তালিকায় এভারেস্টের চূরায় দাঁড়িয়ে থাকলেও তাইতো তারা মানবতাবাদী। হায় ইহুদী, হায় মুক্তমনা।

    1. 2.1
      শাহবাজ নজরুল

      মনের গভীর থেকে উঠে আসা চমৎকার কমেন্ট। তবে শেষ লাইনে হায় ইহুদি না দিলে ভালো হতো। ইসলাম ইহুদী বিদ্বেষী ধর্ম নয়। এখানেও দেখালাম বানু কুরাইযা'র পরিণতির জন্যে জাতি বিদ্বেষ কোনোভাবেই কাজ করেনি -- তাদের পরিণতি তাদের নিজেদের কুকর্মের ফল বৈ কিছু নয়।  

      1. 2.1.1
        নির্ভীক আস্তিক

        আমি দুঃখিত । আসলে হায় ইহুদী, হায় মুক্তমনা -- দুটো একসাথে বলেছি বানু কুরাইযার ইহুদীদের করা বিশ্বাসঘাতকতা ও তাদের প্রতি বাংলার মুক্তমনাদের গভীর প্রেম ভালবাসা কে উপহাস করার জন্য, বিদ্বেষী অর্থে নয় ।

      2. শাহবাজ নজরুল

        এমনটা আমিও ভাবছিলাম। যাইহোক পরিষ্কার করার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  33. 1
    মহিউদ্দিন

    হাদিস কোরআনের তথ্য ভিত্তিক আপনার এ লিখাটি পড়ে অনেক কিছু জানা গেল। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। বাংলা নাস্তিকদের গোয়েবলসীয় আর্তনাদ ও উপর্যুপরি তথ্য সন্ত্রাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মোহবিষ্ট হয়ে আছেন তাদের উপকারে আসবে আপনার এ লিখাটি।  

    1. 1.1
      শাহবাজ নজরুল

      মহি ভাই,
      সালাম। একটু সার্বিক ভাবে লেখাটা সাজানোর চেষ্টা করেছি। ইচ্ছে ছিল বানু কুরাইযা বিষয়ে ইসলাম বিদ্বেষী আর মুক্তমনা(?) দের অভিযোগ গুলোর একটা সার্বিক রিবাটাল লেখা। এটা নিয়ে কোনোই সন্দেহ নেই যে, মনা'রা গোয়েবলসীয় কায়দায় চারিদিকে তথ্য সন্ত্রাস চালাচ্ছে। আমাদের চেষ্টা কেবল তাদের ভণ্ডামি ধরিয়ে দেয়া। বিচারের ভার পাঠকের উপরেই থাক।
       
      যাইহোক, এই লেখাতে কিছু কালার কোডিং ব্যবহারের চেষ্টা করেছি। আপনার কমেন্টের জবাবে তা জানিয়ে রাখি।
       
      ক. সবুজ রং হাদীস বর্ণনা'র জন্যে
      খ. খয়েরী রং সীরাতের বর্ণনার জন্যে
      গ. লাল রং কোরান এর আয়াতের জন্যে
      ঘ. বেগুনী রং বাইবেলের ভার্সের জন্যে
       
      পড়ার জন্যে ধন্যবাদ।
       

Leave a Reply