«

»

এপ্রিল ১০

মিথ্যা ও প্রতারণাপূর্ণ অভিজিৎ বন্দনা!

সূচনা: অভিজিৎ রায়ের অনাকাঙ্খিত ও আকস্মিক মৃত্যুর পর প্রায় মাস দেড়েক অতিবাহিত হলো। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এখনো এই হত্যা রহস্যের তেমন কোনো কুল-কিনারা করে উঠতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন। বিষয়টি বেশ দুঃখজনক। যাইহোক, আমাদের পক্ষ থেকে অতি সত্বর জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো ছাড়া কিছু করার নেই। সেই দাবি জানিয়েই শুরু করছি।

অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুর পরে তার অন্ধ ভক্ত ও অনুসারীদের অযৌক্তিক অতিশয়োক্তি সম্পর্কে আজ কিছু বলার ইচ্ছে রইল। 'মুক্তমনা'র প্রবর্তক, সম্পাদক, আয়োজক ও পুরোধা হিসেবে অভিজিৎ বাংলাদেশে নব্য-নিধর্মীদের মধ্যমনি ছিলেন। তাই তার আকস্মিক মৃত্যু হঠাৎ করেই নব্য-নাস্তিক্যবাদীদের এক গভীর শুন্যতায় ফেলে দেয়। সেই আকস্মিক শুন্যতা, শোক, মনস্তাপ থেকেই হোক কিংবা অন্তরে লুকিয়ে থাকা পৌত্তলিকতা থেকেই হোক – অভিজিতের মৃত্যুর পরে এই নব্য-নিধর্মী অনুসারী ও সমমনা সেক্যুলার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে শুরু হয় অযৌক্তিক আবেগের বিস্ফোরণ। অনেক জায়গাতে দেখলাম অভিজিৎকে সম্বোধন করা হচ্ছে- হাজার বছরের মধ্যে জন্মানো ক্ষণজন্মা এক আলোকিত মানুষ, বিস্তীর্ণ তৃণভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহীরূহ, বামুনদের দেশে এক অতিকায় মানব, অন্ধকারে নিমজ্জিত একপাল মানুষের মধ্যে আলো হাতে এক অগ্রপথিক, একবিংশ শতকের রেনেসাঁ, বাংলার সক্রেটিস, বাংলার গ্যালিলিও, মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, মুক্তচিন্তার মানুষ, আধুনিক-প্রগতিশীল চিন্তার ধারক-বাহক-গবেষক ও বিশ্লেষক, যুক্তিবাদী, গবেষক, বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানমনষ্ক, উদার-বিজ্ঞানমনষ্ক, আমেরিকান প্যাটেন্টধারী, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষক, আমেরিকার কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, … ইত্যাদি হিসেবে। যেখানে মুক্তমনারা নিজেদের যুক্তিবাদী ও প্রমাণ-ভিত্তিক প্রাণী হিসেবে দাবী করে থাকেন – সেখানে তাদের এই অযৌক্তিক অতিশয়োক্তি আসলেই মনে বিস্ময় জাগায়!

অভিজিৎ-এ সার্বিক পরিচিতি খুবই সহজ – সে ছিল বাংলাদেশে নব্য-নাস্তিক্যবাদের পুরোধা। নব্য-নাস্তিক্যবাদী বলতে নিধর্মীদের সেই ধারাকেই বুঝাচ্ছি যারা রিচার্ড ডকিন্সের নেতৃত্বে বিজ্ঞানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নাস্তিক্যবাদের প্রচার ও প্রসারে নিবেদিত ছিল ও আছে – আর অভিজিৎ ছিলেন বাংলাদেশে এই ধারারই পুরোধা। এম আহমদের ভাষায় এদেরকেই বলে 'মিলিট্যান্ট নাস্তিক।'

এই নব্য-নিধর্মীদের আরেকটা গুণ হলো ধার্মিকদের ধরাশায়ী করা, বিশেষত বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে। অভিজিৎও গত ১৪-১৫ বছর ধরে এই-ই করে গেছেন। আর ধর্মের সমালোচক বলে দাবি করলেও সে-সহ মুক্তমনা ছিল মূলত ইসলাম-বিদ্বেষের সূতিকাগার, পাঠশালা ও প্রচারকেন্দ্র। অভিজিৎ-এ মূল পরিচয় আসলে এই দুটিই – অর্থাৎ বাংলাদেশে নাস্তিকতা প্রচারণার পুরোধা ও ইসলাম-বিদ্বেষীতা। এর বাইরের তথাকথিত ক্ষণজন্মা গুণীজন, গবেষক, বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানমনষ্ক, প্যাটেন্টধারী, মানবতাবাদী, ইত্যাদি, ইত্যাদি – এসব পরিচিতি তার আংশিক, অতিরঞ্জন, অসম্পূর্ণ ও মাঝেমধ্যে মিথ্যে পরিচয়। এই পরিচয়গুলোকে আংশিক, অসম্পূর্ণ ও মাঝেমধ্যে মিথ্যে বলার কারণগুলোকে এখানে সাজিয়ে লিখার চেষ্টা করছি।

 

অভিজিৎ বিজ্ঞানী কিংবা গবেষক ছিলেন না

যদিও অভিজিৎ বুয়েট থেকে পাশ করে সিঙ্গাপুরে পিএইচডি শেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ওখানে কোথাও কর্মরত ছিল – কিন্তু ঠিক কী কারণে তাকে নানা জায়গাতে বিজ্ঞানী বলে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে তা বুঝতে কষ্ট হয়। হ্যাঁ, অভিজিৎ উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন – কিন্তু এমন তো বাংলাদেশে অনেকেই নিয়েছেন – আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাত্রই কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন, পিএইচডি করেছেন – কিন্তু তাই বলে তাকে যদি বিজ্ঞানী কিংবা গবেষক বলে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় – তবে সে অর্থে অভিজিৎ দেশে বিদেশে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার গবেষক/বিজ্ঞানীদের একজন মাত্র। কিন্তু তার অন্ধ অনুরক্তরা সেই অর্থে অভিজিৎকে বিজ্ঞানী বলছেন না নিশ্চয়! তাহলে কী অর্থে তারা তাকে বিজ্ঞানী বলছেন? সেই পিএইচডি আমলের পর থেকে অভিজিৎ তেমন কোনো মৌলিক গবেষণার সাথে জড়িত ছিল বলে জানা যায় না। এই দু'টো পেপার [1, 1a] ছাড়া অভিজিতের কোনো পাবলিকেশন খুঁজে পাওয়া যায় না। আর পেপার দু'টো তার পিএইচডি আমলের। তাহলে বিজ্ঞানী হিসেবে তার মৌলিক গবেষণাটি কী ছিল? কেউ কি জানাবেন?

এইখানে এসে অনেকেই হয়তো বলবেন যে, অভিজিৎ যে বিজ্ঞানী ছিলেন, গবেষক ছিলেন – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার দু'টো প্যাটেন্ট থাকাই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কথাটা অবশ্য ফেলে দেয়া যায়না। যুক্তরাষ্ট্রের প্যাটেন্টের আসলেই কদর আছে। যেখানে কোডাক আর নরটেল এর মতো ঢাউস কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় না টিকতে পেরে বসে পড়ল, তখন কেবল তাদের অধীনে থাকা প্যাটেন্টগুলো তারা ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছিল [2, 3] – বাকি স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি নাকি পানির দামে বিক্রি হয়ে গেছে। আদিল মাহমুদের লেখাটি [4] থেকে আমি প্রথম জানতে পারি যে অভিজিৎ-এ আমেরিকান প্যাটেন্ট আছে – যদিও অভিজিৎ নিজে কখনো এ দাবী করেছে বলে মনে পড়েনা। পরে অবশ্য অভিজিৎ-এ অসামান্য বিজ্ঞান বোধিকে প্রমাণ করতে সচলায়তন আর বিডিনিউজ২৪-এ [5] একই দাবি নিয়ে আসে। হয়তো সবার আগে এই দাবী প্রকাশিত হয় অভিজিৎ-এর নামে করা উইকি পেজে [6, লেখাটি প্রকাশিত হবার কিছুদিন পরে অভিজিৎ-এর উইকি পেজ সংশোধিত করে তার যে প্যাটেন্ট আছে সে তথ্যটি সরিয়ে নেয়া হয়। তাই এই লিঙ্কে একটি তুলনামূলক ডিফ দেখা যেতে পারে – যেখানে তথ্যটি সংশোধিত করা হয়। 6a লিঙ্কটি লেখাটি প্রকাশিত হবার আগের – যেখানে অভিজিৎ-এর দু'টি প্যাটেন্ট আছে বলে দাবি করা হয়]। আর এদিকে আমি নেমে পড়ি অভিজিৎ মারা যাবার পরে হঠাৎ করে গড়ে ওঠা এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ে।

AviPatents

 

অভিজিৎ রায়ের কোনো প্যাটেন্ট নেই!

হ্যাঁ, উপরের কথাটি ঠিকই পড়েছেন। অভিজিৎ-এ নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্যাটেন্ট নেই। বিষয়টির প্রমাণ পেতে তেমন বেগ পেতে হয় না। USPTO এর PAIR ওয়েবসাইটে [7] সকল প্যাটেন্টের আদ্যোপান্ত দেখা যায়। অভিজিৎ-এ নামে যে দুটি প্যাটেন্ট আছে বলে দাবি করা হচ্ছে সেগুলোর নাম্বার হচ্ছে US 2011/0136262 ও US 8,209,218. প্রথমটি একটি প্যাটেন্ট পাবলিকেশন আর দ্বিতীয়টি একটি প্যাটেন্ট।

Patents by Avijit Roy

প্যাটেন্ট পাবলিকেশন হচ্ছে মূল প্যাটেন্ট আবেদনের পাবলিকেশন – যা পরবর্তীতে একটি পরিপূর্ণ প্যাটেন্ট হিসেবে গ্র্যান্ট পেতে পারে কিংবা নাও পেতে পারে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে গ্র্যান্টেড পরিপূর্ণ প্যাটেন্ট। যাইহোক, এবার অনুসন্ধানের গভীরে যাওয়া যাক। গ্র্যান্টেড প্যাটেন্টটির উদ্ভাবকের নামের মাঝে কিন্তু অভিজিৎ রায় লিখা আছে – সাথে আছে আরো তিন জনের নাম, অতনু বসু, জয়দীপ বিশ্বাস ও বাপ্পাদিত্য মন্ডল। সন্দেহটা এখানেই ঘণীভূত হলো – উদ্ভাবকের চার জনই হিন্দু নামধারী! ভাবলাম এমন হবার সম্ভবনা তো খুবই কম। বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর কিংবা যুক্তরাষ্ট্র যেখানেই অভিজিৎ এই গবেষণা থেকে প্যাটেন্ট করুক না কেন – একসাথে চার জন উদ্ভাবক কী করে হিন্দু নামধারী হয় – অভিজিৎ ভারত থেকে গবেষণা করলে না হয় একটা কথা ছিল!!! যাইহোক, গুগল প্যাটেন্টস থেকে মূল প্যাটেন্টটি নামাতেই গোমর ফাঁক হয়ে গেল। দেখা গেল এই 'অভিজিৎ রায়' আসলে কোলকাতার লোক, আর সাথের আরো দুই জনও ভারতের!

US 8209218

PAIR থেকে আরো বিস্তারিত নামালাম। ADS (Application Data Sheet) থেকে জানা গেল US 8,209,218 -প্যাটেন্টটির উদ্ভাবক কলকাতার জনৈক অভিজিৎ রায় – যার নিবন্ধিত ঠিকানা হচ্ছে ৭৭/৩/এ সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ, কোলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। লে হালুয়া! কৈ যাই বলেন?

ADS kolkata

প্রথম কিস্তি যখন মাত হলো তখন মনেপ্রাণে চাইছিলাম অন্য প্যাটেন্ট অবেদনটি অন্তত আসল অভিজিৎ রায়ের হোক। গুগল প্যাটেন্টস থেকে দ্বিতীয় প্যাটেন্ট পাব্লিকেশনটি নামালে দেখা গেল যে নাহ্‌ – এই অভিজিৎ রায় অন্তত যুক্তরাষ্ট্রেরই। কিন্তু সন্দেহ থেকেই গেল উদ্ভাবকের ঠিকানা পেনসিলভেনিয়ার স্প্রিংফিল্ড-এ দেখে। যতদূর জানি অভিজিৎ তো জর্জিয়ার আটলান্টাতে থাকতেন।

US20110136262

তথাপি বেনিফিট অব ডাউট দিলাম – ভাবলাম হয়তো অভিজিৎ আসলেই কখনো পেনসিলভেনিয়ার স্প্রিংফিল্ড-এ ছিলেন। কিংবা যে অফিসে সে কাজ করে এই প্যাটেন্টটির জন্যে আবেদন করেছে, তার কর্পোরেট হেড কোয়ার্টার হয়তো পেনসিলভেনিয়ার স্প্রিংফিল্ড-এ। আরো এগিয়ে গেলাম। ADS থেকে দেখলাম এই অভিজিৎ রায়ের পুরো ঠিকানা দেয়া আছে – 219 South Highland Road, Springfield, PA 19064.

ADS 1

ঠিকানাটা গুগলে পাঞ্চ করতেই বেরিয়ে এলো কোম্পানির নাম- Q Bio-Systems LLC. সাথে কোম্পানির যোগাযোগের জন্যে অভিজিৎ রায়ের নামও লিখা আছে

Q Bio LLC

এরপরে ৪১১ পিপল সার্চে গিয়ে দেখলাম স্প্রিংফিল্ড পেনসিলভেনিয়ার অভিজিৎ রায়ের বয়স ৫৫ বছর! তাছাড়া তার পুরো নাম Avijit B Roy! অর্থাৎ সে কোনোভাবেই আমাদের মুক্তমনার ৪৩ বছরের অভিজিৎ রায় হতে পারেনা – তা নিশ্চিৎ হলাম।

ppl srch 411

 

সেই পিএইচডি করার পরে অভিজিৎ-এ না আছে কোনো মৌলিক গবেষণা না আছে কোনো প্যাটেন্ট – তাই আশা করছি অভিজিৎকে বিজ্ঞানী না বলতে পারার অপারগতার জন্যে পাঠকবর্গ আমাকে ক্ষমা করবেন।

 

অভিজিৎ বিজ্ঞানমনষ্ক ছিলেন না

অভিজিৎকে তার অনুসারীরা অবলীলায় বিজ্ঞানমনষ্ক, বিজ্ঞানের ধারক-বাহক হিসেবেই পরিচয় করিয়ে দেয়। কিন্তু এই পরিচিতিটুকু খণ্ডিত, অংশিক কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে প্রতারণাপূর্ণ। এক্ষেত্রে 'মুক্তমনা'দের সাম্প্রতিক সংজ্ঞার আলোকেই অভিজিতের বিজ্ঞানমনষ্কতার বিচার করা যেতে পারে। এই লেখাতে সেক্যুলার ফ্রাইডে বিজ্ঞানচর্চা ও বিজ্ঞানমনষ্কতার সংজ্ঞা দেন এভাবে-

বিজ্ঞানচর্চা আর বিজ্ঞানমনস্কতা সমার্থক নয়; যদিও উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ এবং অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। বিজ্ঞানচর্চা হলো শুধুমাত্র প্রাযুক্তিক জ্ঞানের অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একটি নির্দিস্ট দক্ষতা অর্জন; পক্ষান্তরে বিজ্ঞানমনস্কতা হলো বুদ্ধিবৃত্তি ও বোধশক্তিতে সংস্কারমুক্ত ভাবে ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং বা সমালোচনামূলক চিন্তাধারায় দক্ষতা অর্জন। ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং এর জন্য প্রয়োজন হয় সচেতনতার, যার চরিত্র স্বতঃপ্রণোদিত, সুশৃঙ্খল, স্বসংশোধনমূলক। সচেতন চর্চার অর্থ হচ্ছে মুলত জ্ঞানার্জন, অভিজ্ঞতা এবং অনুভবের মাধ্যমে বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ অনুভুতির বিজ্ঞানমনস্ক অনুধাবন, উপলব্ধি ও প্রয়োগ।

সংজ্ঞাটিকে সহজ করে সাজালে এই ফরম্যাটে আসে-

বিজ্ঞানমনষ্ক ব্যক্তিকে/ব্যক্তির –

১. হতে হবে সংস্কারমুক্ত;

২. থাকতে হবে ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং-এর শক্তি;

৩. চিন্তায় থাকতে হবে সচেতনতা- আর চিন্তা হতে হবে স্বতঃপ্রণোদিত, সুশৃঙ্খল, স্বসংশোধনমূলক; ইত্যাদি।

আদতে অভিজিৎ-এ উপরের কোনো গুণই পরিপূর্ণভাবে ছিলনা। অভিজিৎ-এ চিন্তা-চেতনা ছিল পরাধীন অর্থাৎ সংস্কারযুক্ত – সংস্কারমুক্ত তো নয়-ই। অভিজিৎ-এ বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের চর্চা ছিল একপক্ষীয়, একপেশে, পক্ষপাতদুষ্ট ও সেই অর্থে অ-বিজ্ঞানসুলভ। তিনি বিজ্ঞানে নাস্তিকতা খুঁজতেন মাইক্রোস্কোপ লাগিয়ে – আর খুঁজে পেলে সেটি লিখে সবার কাছে বিক্রি করতেন। তার লেখাগুলো বলতে গেলে নব্য-নাস্তিকদের লেখার অনুবাদ ছাড়া কিছুই নয়। অভিজিৎ-এ নিজের মৌলিক কোনো যুক্তি, অভিমত, মতামত, তত্ত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। বিজ্ঞানের ছাতার তলে থেকে নিজ ধর্মকে জাতে তোলার অভিসন্ধিকে কি আপনারা বিজ্ঞানমনষ্কতা বলবেন? কেন বলবেন? কীভাবে বলবেন? বিজ্ঞানের পথ ধরে চলা মানে হচ্ছে বিজ্ঞান ও যুক্তি যেদিকে নিয়ে যায় সেদিকে যাওয়া। অথচ অভিজিৎ-এ কর্মপদ্ধতি ছিল উপসংহারে আগে এসে তারপরে বিজ্ঞানের ঘাড়ে চড়ে নিজের বিশ্বাসকে প্রমোট করা। এই রীতি কিংবা শৈলীতে বিজ্ঞানমনষ্কতা নেই – আছে বিজ্ঞান-ব্যবসা। আমার মতে অভিজিৎ-এ আসল পরিচিতি ছিল বিজ্ঞান-ব্যবসায়ী।

অভিজিৎ-এ ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং-এর শক্তিও ছিল বলে মনে হয় না। কেউ যদি দেখাতে পারেন যে, অভিজিৎ কোনো একটা বিষয়ে অমুক বা তমুকের মতামত হুবুহু আত্মস্থ করে পুনরাবৃত্তি করা ছাড়া নিজ থেকে অন্য কিছু বলেছেন – তাহলে সত্যই কৃতার্থ হই। অভিজিৎ-এ কিছু ধর্মগুরু ছিলেন। এরা হলেন ডকিন্স, হকিং, ম্লাদিনো, ক্রাউস, গুথ, হ্যারিস প্রমুখ। অভিজিৎ-এ চিন্তাশক্তি ছিল এসব গুরুদের কাছ থেকে হুবহু ধার করে নেয়া। ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং পাওয়ার থাকলে উনি গুরুদের মতামতকে কিছুটা হলেও মাঝেমধ্যে অন্যভাবে চিন্তা/উপস্থাপন করতেন। এমনটা কখনো দেখা যায়না। কোনো বিষয়ে বিপরীত ধারণাটি বেশি শক্তিশালী কিংবা বিজ্ঞানসম্মত হলেও অভিজিৎ কোনোদিনই বিপরীত ধারণাকে প্রশ্রয় দেননি। এই ধরণের মনোভঙ্গিকে কোনোভাবেই সংস্কারমুক্ত, সচেতন কিংবা স্বসংশোধনমূলক বলেনা। তাই মুক্তমনাদের সংজ্ঞা অনুসারেই অভিজিৎ বিজ্ঞানমনষ্ক ছিলেন না।

এবার কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। অনন্ত মহাবিশ্ব আর শূণ্য থেকে মহাবিশ্ব ছিল অভিজিৎ-এ বিজ্ঞানের সাম্প্রতিকতম লেখাগুলোর বিষয়। এই দুটি বিষয় নিয়ে উনি বলতে গেলে বিগত ৫-৬ বছর ধরে লিখেছেন। কিন্তু ভেবে দেখুন সে যদি বিজ্ঞানমনষ্কই হয়ে থাকবে তবে এই বিষয়গুলি নির্বাচন কেন? অনন্ত মহাবিশ্ব এর তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বেশ দূর্বল – কেননা যদি এমন অনেক মহাবিশ্ব পাশাপাশি থেকেও থাকে – আমাদের এই মহাবিশ্ব থেকে সেসব মহাবিশ্বে কোনোভাবেই প্রোব করে এর সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এনিয়ে অনেক বিজ্ঞানী ও পদার্থবিদ নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। পল ডেভিস, জর্জ এলিস, জিম ব্যাগট, ডেভিড গ্রস, পল স্টাইনহার্ডট প্রমুখ অনন্ত মহবিশ্ব তত্ত্বকে সমালোচনা করেছেন। সমালোচকরা বলেছেন মাল্টিভার্স তত্ত্বটি যতটা না বৈজ্ঞানিক তার চাইতে বেশি দার্শনিক – মূলত এর ফলসিফিকেশন টেস্ট করা সম্ভব নয় বলে। অভিজিৎ রায় সবসময়ই অনন্ত মহাবিশ্বের দুর্বলতাগুলোকে এড়িয়ে গেছেন – কেননা এই ধারণাটি ফাইন টিউনিং তত্ত্বকে টেক্কা দিতে পারে। ভেবে দেখেন যেখানে এই মহাবিশ্বেই আমরা ফাইন টিউনিং এর ফলাফল সরাসরি দেখছি – যেখানে আমি আপনি-সহ এই সূর্য, চাঁদ, গ্যালাক্সি থেকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু-পরমাণু'র অস্তিত্ব মহাবিশ্বের ধ্রুবকগুলো ফাইন টিউনিং এর ফলাফল, সেখানে চোখের সামনের এই জলজ্যান্ত প্রমাণকে হালকা করে দিয়ে কল্পিত, বুদবুদীয়, অপ্রামাণ্য অনন্ত মহাবিশ্বের তত্ত্বকে উনি এমনভাবে হাইলাইট করেন – যেন এটাই একমাত্র বিজ্ঞান, আর এভাবে চিন্তা করাটাই বিজ্ঞানমনষ্কতা। আর যখন দেখা গেল যে, স্ট্রিং তত্ত্ব – যা অনন্ত মহাবিশ্ব তত্ত্বকে ভিত্তি দেয় সেটাই মৃতপ্রায় – তখন তো তিনি বিজ্ঞানের তরতাজা খবরগুলো আমাদের জানালেন না [8]। কেন জানালেন না? নিজের ধর্ম বিশ্বাসে টান পড়বে দেখে? সঠিক অর্থে বিজ্ঞানমনষ্ক হলে তো নিজের ধর্মান্ধতা বিজ্ঞানের পথে বাঁধা হবার কথা নয়! তাহলে এহেন বিজ্ঞান চিন্তাকে কী বলবেন? বিজ্ঞানমনষ্কতা না বিজ্ঞান-ব্যবসা?

আর আমার নিজের মনেই স্বগতভাবে প্রশ্ন জাগে – অনন্ত মহাবিশ্বের মডেল বুদবুদীয় কেন? বুদবুদ-গুলোর মধ্যে ইন্টারসেকশন বা কমন এরিয়া নেই কেন? এটা কি ইন্টারসেকশন এর ফিজিক্সের ব্যাখ্যা না দিতে পারার ফলশ্রুতি? কিংবা, একটি মহাবিশ্বের মধ্যে আরেকটা মহাবিশ্ব আছে – অনন্ত মহাবিশ্বের এমন কোনো মডেল নেই কেন? মানে বিশাল বলের মধ্যে আরেকটা বল, তারমধ্যে আরেকটা বল, তারমধ্যে আরেকটা … এমন মডেল। কোয়ান্টাম দোদুল্যময়তার ফলে অসদ বুদবুদ তৈরির মাধ্যমেই যদি শিশু মহাবিশ্ব উদ্ভব হয় – তাহলে সেই শিশু মহাবিশ্ব তো আমাদের এই মহাবিশ্বের মধ্যেই আরেকটি তৈরী হতে পারে – এমনটা হয় না কেন? এই ধরণের প্রশ্ন অভিজিৎকে করতে দেখা যায় না – কেননা এসব প্রশ্ন করলে দুর্বল ভিত্তির উপর গড়ে তোলা দালান সাথে সাথেই ধ্বসে পড়বে।

একইভাবে অভিজিৎকে গত কয়েক বছর ধরে অসম্ভব পরিশ্রম করতে দেখা গেছে 'শূন্য থেকে মহাবিশ্ব''কোনো কিছু না থাকার বদলে কেন কিছু আছে' এই ধরণের বিষয় নিয়ে লেখালিখি করতে। মূলনীতি কিন্তু সেই-ই থাকলো। এগুলো বিজ্ঞানের বিষয় হলেও এখনো আছে তাত্ত্বিক আদলে। ন্যূনতম কমন সেন্স থাকা লোকও বলতে পারবে কিংবা ধারণা করতে পারবে যে ৯৫% অজানার এই মহাবিশ্বে এখনই এই বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলার সময় আসেনি। যেখানে বলা হচ্ছে মহাবিশ্বের ভরের উপাদানের ৮৫ শতাংশই আমাদের অজানা – সেখানে কোয়ান্টাম দোদুল্যময়তায় তৈরী ভরবাহী মহাবিশ্বের মডেলে ভরের হিসেব কতখানি সঠিক হবে? আগেতো জানা-অজানাটুকু সমাধান হোক (ডার্ক ম্যাটার) – এরপরে না অজানা-অজানাটুকু সমাধান করা যাবে (কোয়ান্টাম শুন্যতা থেকে মহাবিশ্বের উৎপত্তি)!!! না, এই ধরণের যৌক্তিক মানসিকতা অভিজিৎ-এ ছিলনা। সে তার সমস্ত শ্রম, মেধা নিয়োগ করেছে অজানা-অজানার গল্পকে সাজাতে – কেননা সেই গল্পটা নাস্তিকতার জয়গান গায়। সেই গান গাইতে যদি বলতে হয় শূণ্যতা মানে আসলে কোয়ান্টাম ফোমের সাগর, কিংবা বিজ্ঞানের মধ্যে দর্শনের জায়গা নেই, কিংবা "কেন?" প্রশ্ন করা যাবে না করতে হবে "কীভাবে?" – তবে তা-ই করা হবে। আর Question Everything এর বিজ্ঞান হয়ে যাবে লরেন্স ক্রাউসের Ask the question what I ask you to ask – এই জাতীয় ছদ্ম-বিজ্ঞান। এই ধরণের আরাধ্য উপসংহারের দিকে নিজের ইচ্ছেমতো বিজ্ঞানের গাড়িকে চালানোকে বিজ্ঞানমনষ্কতা বলেনা – এটাকে বলে বিজ্ঞান-ব্যবসা। নিজের পণ্য বিক্রির ফন্দি ফিকির। আর কিছু নয়। যাইহোক, আপাতত এটুকুই থাক পরে এনিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে রইল।

 

অভিজিৎ রায় বুয়েটের শিক্ষক ছিলেন না

অভিজিতের অন্ধ ভক্তকুল তাকে গবেষক, প্যাটেন্টধারী, বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানমনষ্ক, ইত্যাদি বানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন নাই – এরপরে তাকে বুয়েটের শিক্ষকও বানিয়ে ছেড়েছেন [9, 10, 11, 12]।

এই দাবি যখন দেখলাম তখন থেকেই আমার মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। আমি কখনো কোথাও দেখিনি যে অভিজিৎ নিজে দাবি করেছে যে, সে বুয়েটের শিক্ষক ছিল। আর যদি সে শিক্ষক হয়েই থাকবে তাহলে কোথাও না কোথাও এর আঁচ পাওয়া যেত। না, সেরকমের কোনো দাবির কথা অভিজিৎ-এ মারা যাবার আগ পর্যন্ত শোনা যায়নি। অকস্মাত অভিজিৎ-এ মৃত্যুর পরে এখান ওখান থেকে কথা উঠলো যে, সে বুয়েটের শিক্ষক ছিল। আবার দেশ ছাড়ার আগে সে অটবিতেও কাজ করত। সন্দেহের তীরটা আরো গতি পায় বুয়েট-আর-অটবির সমন্বয়ের কথা শুনে। স্বভাবতই যে বুয়েটে কাজ শুরু করে, সে শিক্ষকতার কাজ ছেড়ে অটবিতে কাজ করতে যাবে এমনটা কোনোভাবেই বিশ্বাস হচ্ছিল না। দেশে খবর লাগালাম এই সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে। আমার সূত্র জানালেন (যিনি একাধিক সূত্র যাচাই করে আমাকে জানান) অভিজিৎ বুয়েটে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে – তবে সে বুয়েটে কখনোই শিক্ষকতা করেনি। সেই সুযোগই সে পায়নি।

আমি আমার সন্দেহের সুরাহা পেলাম। কিন্তু এমনি সময়ে BDNews24 এর সাক্ষাৎকার বাজারে এলো – যেখানে অভিজিৎ-এ পিতা অজয় রায় জানালেন যে অভিজিৎ বুয়েটে কিছুকাল শিক্ষকতা করেছে [13]। আমি আবার পড়ে গেলাম বিভ্রান্তির দোলাচলে – অজয় রায় নিশ্চয় এই ব্যাপারে মিথ্যা বলবেন না। আমি আমার বিভ্রান্তির কথা জানিয়ে পুনর্বার খবর নেবার চেষ্টা করলাম দেশ থেকে – ভাবলাম হয়তো শিক্ষক না হলেও অন্য কোনোভাবে সে হয়তো বুয়েটের কাজের সাথে জড়িত ছিল – আর অজয় রায় হয়তো সে কথাই বলতে চাচ্ছেন (যদিও সাক্ষাৎকারে অজয় রায় পরিষ্কারভাবে শিক্ষকতার কথাই বলেছেন)। আমার সূত্র এবার সরাসরি তার যন্ত্রকৌশলের ব্যাচমেটদের কাছ থেকে খবর নিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তার সাথেই জানালো যে, অভিজিৎ কোনো ধরণের স্কোপেই বুয়েটের শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন না। পরে অবশ্য অজয় রায়েরঅভিজিৎ-এ শিক্ষকতার কথা সাক্ষাৎকারে বলার একটা ব্যাখ্যা নিজে নিজে দাঁড় করালাম। ঘন্টা খানেকের সাক্ষাৎকারে দেখা যাচ্ছে অজয় রায় বেশ ঘরোয়া ও সাবলীল ভাবেই কথাবার্তা বলেছেন সাক্ষাৎকারীর সাথে – কেবল ওই অংশটুকু ছাড়া। অভিজিৎ-এ কর্মজীবনের ওই অংশটুকু (মিনিট খানেক হবে) দেখলাম অজয় রায় পড়ছেন লিখে দেয়া এক পাতা থেকে। ভাবলাম এমনো কি হতে পারে যে, তাকে ওই অংশটুকু লিখে দেয়া হয়েছে আর তিনি তা থেকে পড়ে গেছেন যাতে আগে উঠে আসা বুয়েটের শিক্ষকতার বয়ানের সাথে সাক্ষাৎকারে কোনো গড়মিল না থাকে?!? বিষয়টা যদি আসলেই এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে তা হবে বড়ই হতাশাজনক। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে এই সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে যে – যারা অমিত শাহ সিন্ড্রম আবিষ্কার করলেন, তারা নিজেরাই পরে তা ব্যবহার করলেন।

 

অভিজিৎ রায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন না

অভিজিৎকে মরিয়া হয়ে বিজ্ঞানী বানানোর জন্য তার অন্ধ ভক্তকুল আরো একধাপ এগিয়ে যেয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এক (?) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও বানিয়ে দিয়েছেন [14]! কিন্তু অন্যান্য দাবির মতো এই দাবিও কেবল তার মৃত্যুর পরই শোনা গেছে যা মোটেও সত্য নয়। এ প্রসঙ্গে তার এক অন্ধ ভক্ত বলেছেন-

ব্লগার ও অভিজিৎ ভক্তরা এটাকে জঙ্গিদের কাজ বলেই মনে করছেন। ইতোপূর্বে এভাবে আরো কয়েকজন ব্লগার নিহত হয়েছিল। এ হত্যাকাণ্ড তারই ধারাবাহিকতা বলেই অনেকে মনে করছেন। কিন্তু পূর্বের ব্লগারদের চেয়ে বর্তমানের ব্লগার অভিজিৎ নানা দিক দিয়েই আলাদা ও বিশিষ্ট। তিনি কেবল একজন ব্লগার বা লেখকই নন। তিনি একজন প্রকৌশলী, একজন মেধাবী বাংলাদেশি। তিনি সাধারণ ইন্জিনিয়ার নন। তিনি ইন্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও বটে। 

এ নিয়ে আর বেশী কিছু বলার দরকার নেই। যেখানে অভিজিৎ-এর কাছের সব সুত্রই বলছে যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার প্রকৌশলী ছিলেন – সেখানে এই দাবি যে ডাহা মিথ্যা তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

 

উপসংহার:

 

১. দেখানো হলো যে, অভিজিৎ-এ অন্ধ ভক্তকুলের অযৌক্তিক সীমাহীন বন্দনা সত্ত্বেও অভিজিৎ ছিলেন নিতান্তই সাধারণ মাত্রার একজন গবেষক। পিএইচডি করার পরে অভিজিৎ-এ আর কোনো মৌলিক গবেষণার কথা জানা যায় না।

২. অভিজিৎকে বিজ্ঞানী হিসেবে দেখানোর জন্যে মরিয়া হয়ে কে বা কারা চারিদিকে ছড়াতে থাকে যে, অভিজিৎ-এ দু'টো প্যাটেন্ট আছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই লেখাতে দেখানো হলো যে, অভিজিৎ-এ কোনো প্যাটেন্ট নেই।

৩. হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত অভিজিৎ-এ অন্ধ ভক্তকুল চারিদিকে প্রচার করতে থাকে যে, অভিজিৎ বিজ্ঞানমনষ্ক ছিলেন – আর বিজ্ঞানের দেখানো পথের বাইরে তিনি যেতেন না। এখানে দেখানো হলো যে, অভিজিৎ-এ তথাকথিত বিজ্ঞানমনষ্কতা আসলে ছিল ছদ্ম-বিজ্ঞানমনষ্কতা কিংবা বিজ্ঞান-ব্যবসা। বিজ্ঞানের দেখানো পথে তিনি চলেননি – বরং তার নিজের চলার পথে জোর করে বিজ্ঞানকে টেনে এনেছেন বারংবার।

৪. অভিজিৎ-এ অন্ধ ভক্তকুল তার মৃত্যুর পরে চারিদিকে এও ছড়াতে থাকে যে, তিনি বুয়েট ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও ছিলেন। অভিজিৎ জীবিত থাকাকালে এমন দাবী শোনা যায়নি। এখানে দেখানো হলো যে, অভিজিৎ-এ বাবা'র সমর্থন সত্ত্বেও নানা নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত নিয়ে নিশ্চয়তার সাথেই বলা যায় যে অভিজিৎ কখনো বুয়েট বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন না।

 

অভিজিৎ বলতেন – সত্যিকার মুক্তমনাদের কোন পীর থাকতে নাই। কিন্তু অভিজিৎ-এ অন্ধভক্ত মুক্তমনারা দেখছি তাকে পীর বানিয়েই ছাড়বে!!!

 

১২১ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. এস. এম. রায়হান

    অভিজিৎ রায়ের কোনো প্যাটেন্ট নেই!

    অভিজিৎ রায় বুয়েটের শিক্ষক ছিলেন না

    অভিজিৎ রায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন না

    'মুক্তমনা' অভিজিৎ রায়কে বিজ্ঞানী বানানোর জন্য ভারতীয় অভিজিৎ রায়ের দুটি প্যাটেন্টকে 'মুক্তমনা' অভিজিৎ রায়ের নামে চালিয়ে দিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে মহাসমারোহে প্রচার করা হয়েছে!!! একই উদ্দেশ্যে তাকে বুয়েট ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও বানিয়ে দেয়া হয়েছে! অভি-পূজারীদের কাছে থেকে কাউকে বিজ্ঞানী বানানোর এক অভিনব তরিকা শেখা হলো! দুঃখের মাঝেও হাসি চলে আসে 😀 যেমন গুরু তেমন তার শিষ্যরা। অভি-পূজারীরা এবার তাদের বিজ্ঞানী গুরুকে মরণোত্তর নোবেল পুরষ্কার দেয়ার দাবি তুলবেন বলে আশা করছি। আর অভি-পূজারীরা চাইলে তাদের গুরুকে টেকনিক্যালী ভারতীয় অভিজিৎ রায় বানিয়ে দিতে পারেন যেভাবে:

    – দু'জনের নামই Avijit Roy

    – দু'জনই জন্মসূত্রে ভারতীয়

    – 'মুক্তমনা' অভিজিৎ আসলে মনেপ্রাণে ভারতীয়-ই ছিল

    বয়সের ব্যাপারটা কনসিডার করা যেতে পারে!

    পাশাপাশি অভি-পূজারীরা গুগলে অভিজিৎ রায় ও Avijit Roy লিখে সার্চ দিয়ে এই নামে যত লিঙ্ক আসে সেগুলো থেকে পজিটিভ সবকিছুকে তাদের গুরুজীর নামে চালিয়ে দিতে পারেন। মোটের উপর তারা যেহেতু তাদের গুরুজীকে 'বিজ্ঞানমনষ্ক দেবতা' বানিয়েই ছাড়বেন সেহেতু আমরা না-হয় এটাকে ক্ষমাসুলভ দৃষ্টিতেই দেখব।

    1. ১.১
      সত্য সন্ধানী

      ***অভি-পূজারীরা এবার তাদের বিজ্ঞানী গুরুকে মরণোত্তর নোবেল পুরষ্কার দেয়ার দাবি তুলবেন বলে আশা করছি***

      মালালার নোবেল শান্তি পুরষ্কার আপনি কি চোখে দেখেন রায়হান সাহেব? মালালাকে নাকি একে-৪৭ দিয়ে ঝাঁঝরা করে দেয়া হয়েছিল বলেই শুনেছিলাম, যদিও সত্যি সত্যি এই জিনিস দিয়ে বেশ কিছু গুলি খেলে মানুষের বাঁচার কথা না।

      আমার আশংকা এই যে, না জানি অভিজিৎকেও মরোনোত্তর নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়! নোবেল শান্তি পুরস্কার বড্ড রহস্যময় জিনিস। গান্ধী এই পুরষ্কার পাননি কিন্তু ইসরায়েলের এক প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। পেয়েছে হেনরী কিসিঞ্জারও! ড. ইউনুস অর্থনীতিবিদ হয়েও পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। কাজেই অভিজিৎ পেলেও আমি অবাক হব না।

      বর্তমানে সস্তা আর পচে যাওয়া এই নোবেল শান্তি পুরস্কার সবাই পেতে পারে।

      1. ১.১.১
        এম ইউ আমান

        এটি আনফাউন্ডেড এক্সট্রাপোলেশন তাই অপ্রাসঙ্গিক। মরণোত্তর (posthumously) নোবেল প্রাইজ দেওয়ার কোন বিধান নেই। যেমন, নোবেল প্রাইজ বানর বা ঘোড়া প্রজাতির কাউকে দেওয়া যায় না। মানুষ (Homo sapiens), বা মনুষ্য চালিত কোন প্রতিষ্ঠানকে দিতে হয়। ব্যতিক্রম ২০১১ সালের মেডিসিনের লরিয়েট রালফ স্টাইনম্যান। খবর পাওয়ার তিন দিন আগে তিনি মারা গিয়েছিলেন। যেহেতু তাঁর মারা যাওয়ার আগেই নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, নোবেল প্রাইজ কমিটি সিদ্ধান্তটি বহাল রাখে।

      2. ১.১.২
        এস. এম. রায়হান

        তবে মালালার নোবেল পুরষ্কার পাওয়া আর অভিজিতের মরণোত্তর বিজ্ঞানী হওয়ার মধ্যে একটা মিল আছে। কিন্তু আমার ভাবনা অন্যখানে। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যদি সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো কারণ বেরিয়ে আসে তখন তার পূজারীরা কী করবে! তার আগেই তো তার পূজারীদের লজ্জায় আত্মহত্যা করার মতো অবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে!

    2. ১.২
      এম ইউ আমান

       -দু'জনই জন্মসূত্রে ভারতীয়

      জন্মসূত্রে ভারতীয় মানে বুঝতে পারলাম না। আপনি কি দুজনেই জন্মসূত্রে ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বলতে চেয়েছেন?  

      1. ১.২.১
        এস. এম. রায়হান

        না। অভি'র বাবা'র বক্তব্য অনুযায়ী অভি'র জন্ম ভারতে, সেই অর্থে তাকে জন্মসূত্রে ভারতীয় বলেছি।

  2. এস. এম. রায়হান

    অভি-পূজারীদের মনোবৈকল্যতার আরো কিছু নমুনা:

    ১. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের দেবতুল্য গুরুজী 'বুদ্ধিবৃত্তিক নাস্তিক' (Intellectually fulfilled atheist!) ছিলেন, যদিও তার মৃত্যুর পর কোনো মিডিয়া বা লেখাতেই তাকে 'নাস্তিক' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়নি! যাহোক, অভি-পূজারীদের কাছে 'বুদ্ধিবৃত্তিক নাস্তিক' কী জিনিস আর অভি'র সারা জীবনের লেখাতে নাস্তিকতার পক্ষে এমন কোনো যুক্তি দেয়া হয়েছে কি-না যেটি তার নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত, জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না! তাছাড়া কিছু নির্বোধ নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ২. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'বিজ্ঞানমনস্ক' ছিলেন। কিন্তু কিছু বিজ্ঞান-বিরোধী নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৩. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'যুক্তিবাদী' ছিলেন। কিন্তু কিছু অ-যুক্তিবাদী নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৪. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'অসাম্প্রদায়িক' ছিলেন। কিন্তু কিছু সাম্প্রদায়িক নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৫. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'প্রগতিশীল' ছিলেন। কিন্তু কিছু প্রতিক্রিয়াশীল নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৬. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'মুক্তচিন্তার মানুষ' ছিলেন। কিন্তু কিছু বদ্ধচিন্তার নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৭. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'সেক্যুলার' ছিলেন। কিন্তু কিছু নন্‌-সেক্যুলার নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৮. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'মানবতাবাদী' ছিলেন। কিন্তু কিছু মানবতা-বিরোধী নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৯. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজীর পরিণতি গ্যালিলিওর মতো হয়েছে। কিন্তু কী এমন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ফলস্বরূপ তাদের গুরুজীর এই পরিণতি হলো, তার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়া হয় না!

    ১০. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষী ছিলেন না। কিন্তু কিছু ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষী নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি… ভাইরাসে আক্রান্ত অভি-পূজারীদের দাবির আসলে কোনো শেষ নাই। অভি-পূজারীরা তাদের গুরুজীকে একই সাথে 'সাধু-সন্ন্যাসী' ও 'কৃষ্ণের চেয়েও বড় দেবতা' জাতীয় কিছু একটা বানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। কথায় বলে- লেবু বেশি কচলালে তিতা হয়ে যায়।

  3. এস. এম. রায়হান

    একদিকে মিথ্যাচার, ভণ্ডামী, প্রতারণা, ও যুক্তিবিদ্যায় দুর্বলতা তো ছিলই, তবে এগুলো ছাড়াও অভি আরেক দিক দিয়ে আমাদের কাছে ধরা ছিল। সেটি হচ্ছে নিজেকে (স্বঘোষিত) নাস্তিক দাবি করা। মুসলিমদেরকে 'বিজ্ঞান-বিরোধী' প্রমাণ করার জন্য আগেভাগেই নিজেকে 'নাস্তিক' দাবি করে সবচে' বড় ধরাটা সে খেয়েছিল। কেননা স্রষ্টার ব্যাপারে বিজ্ঞানের অবস্থান হচ্ছে অজ্ঞেয়বাদ (Agnosticism), নাস্তিকতা নয়। এজন্য বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের কেউই স্বঘোষিত নাস্তিক ছিলেন না। যার কারণে অভি তার অন্ধ মুরিদদের সামনে বিজ্ঞানের বুলি আউড়ালেও আমাদের সামনে এসে বিজ্ঞান নিয়ে কিছু বলার সাহস পেত না, যদিও আমাদের অনেকের চেয়ে বিজ্ঞানের কতিপয় বিষয়ে তার পড়াশুনা বা দখল বেশি ছিল। এই বিষয়টা নিয়ে পদার্থবিদ ও অজ্ঞেয়বাদী ড. অপার্থিব জামান এবং ঢাবি'র পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও অজ্ঞেয়বাদী ড. তানভীরের সাথে অভি'র একাধিকবার বিতর্কও হয়েছে। অভি ও অপার্থিব জামানের মধ্যে সর্বশেষ বিতর্ক এক পর্যায়ে অসহিষ্ণুতায়ও রূপ নেয়। তারপর থেকে অপার্থিব জামানকে মনা ব্লগে আর লেখালেখি করতে দেখা যায়নি।

  4. mohammad anamul haque

    জাজাকাল্লাহ খায়ের, আল্লাহ আপনাকে আরো লেখার তৌফিক দান করুন।

  5. এম ইউ আমান

    Oh My God. এতটা ডিগ করেছেন! পরে আবার আসছি।

  6. এস. এম. রায়হান

    উইকি পেজে অভিজিৎ রায় সম্পর্কে লিখা হয়েছে-

    Early life and education[edit]

    Roy born to a highly educated family. His father, Ajoy Roy, was a professor of physics at University of Dhaka who received the nation's most venerated Ekushey Padak award.[6] Roy attended BUET for a bachelor's degree majoring in Mechanical Engineering, where he also worked as a lecturer before leaving Bangladesh.[7][8][9] He earned a master's and doctoral degree in Biomedical Engineering from National University of Singapore.[10] He was the owner of two US patents.[11] Later in 2000, he moved to Atlanta, Georgia and worked as a computer engineer.[12][3][13]

    http://en.wikipedia.org/wiki/Avijit_Roy

  7. এস. এম. রায়হান

    *কাউকে বিজ্ঞানী বানানোর সহি মুক্তমনা তরিকা*

    শর্ত-১: নাস্তিক এবং পাশাপাশি ইসলামবিদ্বেষী হতে হবে।

    শর্ত-২: বিজ্ঞানের উপর চোথা মারা দু-একটি বই থাকতে হবে।

    শর্ত-৩: ইসলামিক জঙ্গিদের হাতে খুন হতে হবে। স্বাভাবিক মৃত্যু হলে কিন্তু হবে না!

    এবার তার নামে গুগল সার্চ দিয়ে একই নামে অন্য কারো দু-একটি আমেরিকান প্যাটেন্ট কিংবা প্যাটেন্ট না পেলে দু-চারটি ভালো জার্নাল পেপার খুঁজে বের করে সেগুলোকে তার নামে চালিয়ে দিয়ে উইকি-সহ বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রচার করতে হবে। ব্যাস, এরপর থেকে সে বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিতি পাবে!

    1. ৭.১
      শাহবাজ নজরুল

      তরিকা পড়ে হাসতে হাসতে শ্যাষ …

      1. ৭.১.১
        এস. এম. রায়হান

        এইটা হচ্ছে মনা স্ট্যাইলে বিজ্ঞানী তৈরীর তরিকা!

  8. শামস

    আপনি যেভাবে সত্যতা যাচাই করেছেন, সেটাকেই বৈজ্ঞনিক পন্থা বলা যায়। নট জোকিং! লেখাটার দরকার ছিল!

    উপসংহারটাকে একটু অন্যভাবে টানা যায়:

    ১. সূর্যের চেয়ে যখন বালির তেজ বেশি, মুরিদের উৎসাহও বেশি হবে। এরা 'বিজ্ঞানমনস্ক', সামান্য যাচাই-বাছাই এর কাজটাও করতে সক্ষম নয়! গুরুকে জাতে তোলার কাজটা তাতে অবশ্য জটিল হয়ে যায়!

    ২. এখানে অভিজিৎ পরোক্ষভাবে দোষী – কী মুরিদ রেখে গেল!

    ৩. আদিল মাহমুদ-সহ যারা এসব করছে তাদের কি মিথ্যাবাদী বলা যায়? যদি মিথ্যাবাদী না হয়, তাহলে 'বিজ্ঞানমনস্কতা'র ঘাটতি আছে সেটা স্বীকার করে নিতে হবে, সাথে এটাই মুক্তমনার বৈশিষ্ট, না জেনে বা কম জেনে 'বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনা' হওয়া যায়!

    ৪. অভিজিৎ রায়ের বাবা অজয় রায়, মিথ্যা কথা বলেছেন বলে মনে হয় না, অন্তত নিজের ছেলেকে নিয়ে এই অবস্থায় তার মৃত্যুর পরে! তাহলে মিথ্যা কথাটা কে বলেছে? 'বিডিনিউজ২৪'। বেশ কিছুদিন ধরে দেখেছি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ দিতে নিউজ পোর্টালটির জুড়ি নাই!

    ৫. ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং এর চর্চার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি আছে। এর জন্য চর্চা করতে হয়। বিষয়টা দাবি করার না, যা মুক্তমনারা অনেক কিছুর মতই করে থাকে।

    ৬. ধর্মব্যবসা, চেতনাব্যবসার মতো আছে বিজ্ঞানব্যবসা!

    ৭. মুক্তমনারা কী চিজ যারা এখনো জানেন না, শাহবাজ ভাইয়ের এ লেখাটির মাধ্যমে তাদের পরিচয় সহজেই পেয়ে যাবেন!

    তথ্যবহুল এবং দারুণ লেখা।

    1. ৮.১
      শাহবাজ নজরুল
      আপনি যেভাবে সত্যতা যাচাই করেছেন, সেটাকেই বৈজ্ঞনিক পন্থা বলা যায়। নট জোকিং! লেখাটার দরকার ছিল!

      ধন্যবাদ। অভিজিতের অন্ধ অনুরক্তদের অযৌক্তিক ও সীমাহীন বন্দনার জ্বালায় একরকম অতিষ্ঠ হয়েই লেখাটা তৈরির সিদ্ধান্ত নেই। 

      উপসংহারটাকে একটু অন্যভাবে টানা যায়:

      ১. সূর্যের চেয়ে যখন বালির তেজ বেশি, মুরিদের উৎসাহও বেশি হবে। এরা 'বিজ্ঞানমনস্ক', সামান্য যাচাই-বাছাই এর কাজটাও করতে সক্ষম নয়! গুরুকে জাতে তোলার কাজটা তাতে অবশ্য জটিল হয়ে যায়!

      ২. এখানে অভিজিৎ পরোক্ষভাবে দোষী – কী মুরিদ রেখে গেল!

      ৩. আদিল মাহমুদ-সহ যারা এসব করছে তাদের কি মিথ্যাবাদী বলা যায়? যদি মিথ্যাবাদী না হয়, তাহলে 'বিজ্ঞানমনস্কতা'র ঘাটতি আছে সেটা স্বীকার করে নিতে হবে, সাথে এটাই মুক্তমনার বৈশিষ্ট, না জেনে বা কম জেনে 'বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনা' হওয়া যায়!

      ৪. অভিজিৎ রায়ের বাবা অজয় রায়, মিথ্যা কথা বলেছেন বলে মনে হয় না, অন্তত নিজের ছেলেকে নিয়ে এই অবস্থায় তার মৃত্যুর পরে! তাহলে মিথ্যা কথাটা কে বলেছে? 'বিডিনিউজ২৪'। বেশ কিছুদিন ধরে দেখেছি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ দিতে নিউজ পোর্টালটির জুড়ি নাই!

      ৫. ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং এর চর্চার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি আছে। এর জন্য চর্চা করতে হয়। বিষয়টা দাবি করার না, যা মুক্তমনারা অনেক কিছুর মতই করে থাকে।

      ৬. ধর্মব্যবসা, চেতনাব্যবসার মতো আছে বিজ্ঞানব্যবসা!

      ৭. মুক্তমনারা কী চিজ যারা এখনো জানেন না, শাহবাজ ভাইয়ের এ লেখাটির মাধ্যমে তাদের পরিচয় সহজেই পেয়ে যাবেন!

      সুপার উপসংহার টেনেছেন। কেউ আগে বিজ্ঞানব্যবসা টার্মটা ব্যবহার না করে থাকলে আমাকে এর প্যাটেন্ট ধারী উদ্ভাবক বানালে আপত্তি করব না … 😀

  9. এস. এম. রায়হান

    অভিজিৎ বলতেন – সত্যিকার মুক্তমনাদের কোন পীর থাকতে নাই। কিন্তু অভিজিতের অন্ধভক্ত মুক্তমনারা দেখছি তাকে পীর বানিয়েই ছাড়বে!!!

    কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে অভিজিতের নিজেরই তো অ-নে-ক পীর ছিলেন! তার পীরের সংখ্যা দুই হাতের আঙ্গুলে গুনে শেষ করা যাবে না!

    1. ৯.১
      শাহবাজ নজরুল

      পীর মুর্শিদের আখড়ায় পূর্ণ উদ্যমে বার্ষিক "ওরস"-মোবারক চলছে। 

      1. ৯.১.১
        এস. এম. রায়হান

        আমরা মনে হচ্ছে পীরের আখড়ার 'লাবড়া-তবারক' মিস করছি! তবে অভিজিৎ কিন্তু তার মস্তকধোলাই পূজারীদের কাছে কৃষ্ণের চেয়েও বড় ঈশ্বর তথা 'বিজ্ঞানমনষ্ক ঈশ্বর' হয়ে গেছে। 'মুক্তমনা-যুক্তিবাদী-বিজ্ঞানমনষ্ক' দাবিদার তার মুরিদদের কেউ কৃষ্ণকে ঈশ্বর হিসেবে বিশ্বাস করে না নিশ্চয়।

  10. ১০
    এম_আহমদ

    ভাই কী আর বলি, লেখাটি অপূর্ব হয়েছে। প্রসঙ্গগতভাবে লেখাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তথ্যসমৃদ্ধ, জোরালো এবং মূল বাস্তবতাকে 'মিথ মেইকিং প্রসেস' (myth making process) থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেখানো হয়েছে। জ্ঞান বিজ্ঞান থেকে মুক্ত ও একপেশে হয়ে যাওয়া মনাগুলো নিজেরদের 'বিশ্বাসকে' প্রচার করতে পৌত্তলিক ধর্মের মিথ তৈরি করছে আর দাবি করছে তারা নাকি 'কল্পকাহিনীর' বিপক্ষে, মুক্তমনা-বিনা বাছবিছ ও যুক্তিতে কোনোকিছু মানে না, কেবল অনুসন্ধানের মাধ্যমে যা বাস্তব ও সত্য তাই মানে। কিন্তু হায়! বিসমিল্লায় গলদ! নিজেদের অভিজিতকেও মুক্তমনে দেখতে ও চিনতে পারেনি!

    শুনেন আরেকটা কথা। সেদিন দেখলাম অভিজিৎ ভক্তের একজন লিখেছে, ‘ওয়াশিংটন ডিসিতে “স্টান্ডিং উইথ অভিজিৎ রায়” শিরোনামে যেদিন প্রতিবাদ সভায় দাঁড়ালাম, সবাই মিলে “আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে” গাইছিলাম।’ এতটুকু পড়ে হাসতে হাসতে যেন মাটিতে গড়াগড়ির উপক্রম। এই গানটি হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস নিয়ে রচিত, বিশেষ করে, মৃত্যু মুহুর্তে অগ্নি-পরশ দেয়া, এর মাধ্যমে দেহ ও আত্মার পবিত্রতা লাভ, তারপর অগ্নি-দহনে শেষকৃত্য সমাপন এবং আত্মার ঊর্ধ্বগামী হওয়া, এসব ধর্মীয় ধারণা সম্বলিত। কিন্তু কথা হল ‘নাস্তিক’ অভিজিতের স্মরণে হিন্দু ধর্মের এই বিশেষ গানটি কীভাবে গাওয়া হল, যারা গাইল তারা কী সত্যিই নাস্তিক? কীরূপ নাস্তিক? এরা কি মুক্তমনে বিষয়টি যাচাই বাছাই করে নাই, যৌক্তিকতা নিরিখ করে নাই? আজব মুক্তমনা!

    এই প্রকৃতির “বিজ্ঞানমনষ্ক”, “মুক্তমনারাই” গলাবাজি করে ফিতনা সৃষ্টি করছে, ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। এদের উপস্থিতি দেশের  শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ইত্যাদিতে কৌশলে বিস্তৃত। তারা খৎনাধারীদেরও থেমেটিক ও আইডিওলজিক্যাল কৌশলে জড়িয়ে নিয়েছে, তাই দেখবেন, তারা অভিজিৎ মিথোলজাইজেশনেও হেয়ালীভাবে  জড়িত, সর্বাগ্রে তারাই অভিজিৎ-স্তম্ভ প্রতিষ্ঠার ঘোষক, কিন্তু এসবের স্ট্রাটেজিক কৌশল সম্পর্কে বেখেয়াল, শুধু হুজুগি। যে দেশটি স্বাধীনতার পর থেকেই সেক্যুলার (অবশ্য ইংরেজ আমল থেকেই), সেই দেশকে তারা ‘ধর্ম-নিরপেক্ষ’ করার জোরদার আহবান জানাচ্ছে -মানিটা কি?

    বাংলাদেশ কি খিলাফতি দেশ? এর শিক্ষা ব্যবস্থা কি ইসলামী? এর রাষ্ট্র-ব্যবস্থা কি শরিয়া-ভিত্তিক? এর সশস্ত্র বাহিনী কি ইসলামী মূল্যবোধে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত? এই রাষ্ট্র, তার শিক্ষা, তার আইনি ব্যবস্থা এগুলো কি যুগ যুগ ধরে সেক্যুলার নয়? তবে আবার সেক্যুলার মানি কি? এর আড়ালে নাস্তিকতাকে রাষ্ট্রীয় রূপ দেয়া? বাংলাদেশে সেক্যুলার সমাজ ব্যবস্থা কী উপহার দিয়েছে? চোর, ডাকাত, ঘুষখোর, হন্তা- এরা কারা? কারা জাতীয় সম্পদের হরিলুট করে? ব্যাঙ্কলুট, স্টক-এক্সচেঞ্জলুট, বনজসম্পদলুট, ভূমিদস্যুপনা, মৎসসম্পদলুট, পতিতা ব্যবসা – এসবের সাথে কি আলেম-উলামারা জড়িত? মাদ্রাসার ছাত্ররা জড়িত? বাংলাদেশের জেলগুলোর বাসিন্দা কারা – মাদ্রাসার লোক, না সেক্যুলার প্রতিষ্ঠানের? এসবের মধ্যে কি ‘মুক্তমনে’ চিন্তা করার কিছু নেই?

    Zero point field নিয়ে দুটি কথা বলার ছিল, দেখব, পারলে অন্য কোনো সময় বলব।

    এই লেখাটিকে আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। এটাকে সদালাপের সব পাঠক নিজের ফেসবুকে শেয়ার দিতে অনুরোধ করি। এর ব্যাপক প্রচার হওয়া দরকার। এই লেখাটি স্টিকি করতে সম্পাদক সাহেবকে অনুরোধ করি।

    আর শাহবাজ ভাই, আপনি নিজে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান খবরের কাগজে পাঠিয়ে দেন, যদিও তারা তাদের নিজেদের আদর্শিক কারণে তা পাবলিশ করতে নাও চাইতে পারে, তবে সেটা অন্য কথা।

    1. ১০.১
      শাহবাজ নজরুল

      ধন্যবাদ আহমেদ ভাই। লেখটা লিখতেই হলো – এই অমূলক হিস্টিরিয়াগ্রস্ত লোকগুলো যদি কিছুটা বুঝতে পারে তাদের নিজেদের বিকারগ্রস্ততা। লেখা তো নানা জায়গাতে পাঠানোই যায় – কিন্তু কেউ ছাপাবে বলে মনে হয়না। মিডিয়া তো সেক্যুলারিস্টদের দখলে। দেখি তাও চেষ্টা করব। তবে আপনারা সবাই শেয়ার করেন নিজ নিজ সার্কেলে। সোশ্যাল মিডিয়াই আজকাল প্রথাগত সংবাদ মাধ্যমের বিকল্প ও ক্ষেত্রবিশেষে বেশি শক্তিশালী। 

      তবে মুক্তমনাদের নব্য-নাস্তিকতাকে বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবেই ট্যাকেল দিতে হবে। আমি আছি ইনশাল্লাহ – এখন থেকে নিয়মিত বিরতিতে লেখা দেব – সামনে এই নব্য-নাস্তিকদের বিজ্ঞান ব্যবসার আরো মুখোশ উন্মোচন করার ইচ্ছে আছে। দোয়া রাখবেন।  

      1. ১০.১.১
        মজলুম

        পোষ্টটা অসাধারণ হয়েছে ভাই, একেবারে শুরু হতে শেষ পর্যন্ত। এভাবে এদের মুখোশ উন্মোচন করুন। এরা ভণ্ডামি, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ ছড়িয়ে পোড়া কপাল ছাড়া কিছুই পাবেনা। ভণ্ডামি, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ দিয়ে কিছু সৃষ্টি হয়না, বরং ওরা নিজেরাই ধংস হয়।

        আল্লাহ আপনাকে লেখালেখির আরো শক্তি দিক, আমীন।

        1. ১০.১.১.১
          শাহবাজ নজরুল

          মজলুম ভাই ধন্যবাদ। 

          এরা ভণ্ডামি, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ ছড়িয়ে পোড়া কপাল ছাড়া কিছুই পাবেনা। ভণ্ডামি, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ দিয়ে কিছু সৃষ্টি হয়না, বরং ওরা নিজেরাই ধংস হয়।

          একেবারে সঠিক বলেছেন।  

  11. ১১
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    এতো দেখছি একটা রিসার্স পেপার।

    মিথ্যাচার করার কারণ দুইটা – অতি আবেগ আর চালাকি করে আবেগ তৈরী। দুইটাই ব্যর্থ হবে।  

    আরেকটা বিষয় জানলাম – অভিজিতের স্ত্রী বন্যার অভিজিতের বাবার বাড়িতে প্রবেশাধিকার ছিলো না। কথাটা সত্য হলে অভিজিতের মুরিদদের জন্যে বিরাট লজ্জার বিষয় হবে।

    1. ১১.১
      শাহবাজ নজরুল
      এতো দেখছি একটা রিসার্স পেপার।

      ধন্যবাদ জিয়া ভাই। সত্য অনুসন্ধানী হয়েই লিখেছি – এই রীতি নিয়েই চলার চেষ্টা করি। 'চিলে কান নিয়ে গেছে' এই দাবি শুনে সত্যতা না যাচাই করে তা মাইকে পুনরাবৃত্তি করে মুক্তমনার ধর্মান্ধ লোকেরা। আমি সবসময় মেথডিক্যাল ভাবে অনুসন্ধান করার চেষ্টা করি। আর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও কিন্তু এটাই। 

      মিথ্যাচার করার কারণ দুইটা – অতি আবেগ আর চালাকি করে আবেগ তৈরী। দুইটাই ব্যর্থ হবে।  

      সুন্দর বলেছেন।

      আরেকটা বিষয় জানলাম – অভিজিতের স্ত্রী বন্যার অভিজিতের বাবার বাড়িতে প্রবেশাধিকার ছিলো না। কথাটা সত্য হলে অভিজিতের মুরিদদের জন্যে বিরাট লজ্জার বিষয় হবে।

      হ্যা ওই তথ্যও পেয়েছি। এই দাবি সত্য হবার মতো অনেক আনুষঙ্গিক প্রমাণও আছে। যদি সত্যি হয়েই থাকে তবে তার ইমপ্লিকেশন ভেবে দেখেন। অভিজিৎ সারা দেশে আলো হাতে ধর্মান্ধতার অন্ধকার দূর করার যুদ্ধে নেমেছেন – সবাইকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন – অথচ নিজ ঘরেই সেই আঁধার দূর করতে পারেননি। 

    2. ১১.২
      নির্ভীক আস্তিক

      অভিজিতের স্ত্রী বন্যার অভিজিতের বাবার বাড়িতে প্রবেশাধিকার ছিলো না।

      জিয়া ভাই তথ্যসূত্র কি দিতে পারেন একটু কষ্ট করে? বিশ্বাসযোগ্য হলে কাজে আসত ভবিষ্যতে।

      1. ১১.২.১
        শাহবাজ নজরুল

        এই জন্যে আপনাকে কিছু ঘটনা কানেক্ট করে মেলাতে হবে … 

        ১. ডাক্তার আইজুদ্দিন প্রথম এই দাবি করেন এখানে। অবশ্য উনার সূত্র কে তা ডাক্তার উন্মোচন করেন নাই। 

        ২. অভিজিৎ নিজে, "তিনি বৃদ্ধ হলেন" ব্লগটিতে লিখে জানিয়েছে যে বিয়ের সময় কেবল পিতা অজয় রায় ছাড়া তেমন কেউ এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না – বিশেষত অভিজিতের মা ও নিকটাত্মিয়েরা আর বন্যার বাবা। (অ.ট. – "তিনি বৃদ্ধ হলেন" – আমার মতে অভিজিতের শ্রেষ্ঠতম একটা রচনা – ও আমার নিজস্ব ফেভারিট অভি-রচনা।)

        ৩. অজয় রায়ের এই সাক্ষাত্কার থেকে জানা যায় যে, অভিজিৎ/বন্যা খুব সম্ভবত বন্যার মামার বাসাতে উঠেছিলেন। আর ২৬ তারিখ রাতেই অজয় রায়ের বাসায় তাদের নেমন্তন্ন ছিল। 

        ৪. অভিজিতের মৃত্যুর পরে বন্যার বাবা কিংবা মায়ের কোনো প্রকার মন্তব্য কোথাও শোনা যায়নি।

        এবার দেখুন ২+২=৪ মিলে কিনা?

  12. ১২
    সরোয়ার

    Shahbaz bhai,

    You have done a great job. You will be rewarded by Alllah. Best wishes.

    1. ১২.১
      শাহবাজ নজরুল

      ধন্যবাদ সরোয়ার ভাই। আপনি তো এমন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে এই মহল্লায় আর দেখা যায়না। আপনার মত লেখকদের লেখা আমাদের খুবই দরকার। একটু সময় বাড়ান এদিকটায়। ভালো। থাকেন।

  13. ১৩
    আব্দুর রহমান আবিদ

    অভিজিৎ রায়ের হত্যাকান্ডের কিছুদিন পর এবং by this time, অভিজিৎ রায়কে নিয়ে জিয়া ভাই ও শামস-এর পরপর দুটো লেখা সদালাপে প্রকাশিত হওয়ার পর আমি অভিজিৎ রায়কে নিয়ে একটা লেখা দিতে চেয়েছিলাম মূলত তার লেখালেখির জীবনের "Dr. Jekyll and Mr. Hyde" স্বভাব নিয়ে। লেখাটার অনুপ্রেরণা ছিল মূলত নানা পত্র-পত্রিকায় ও মিডিয়ায় মরনোত্তর তাকে একধরনের 'অতিমানব' বানানোর অসৎ প্রচেষ্টার পর্যবেক্ষণ। অবশ্য সময়াভাবে লেখাটা শেষপর্যন্ত লিখতে পারিনি।

    অভিজিৎ রায় যে সত্যিকারের বিজ্ঞানমনস্ক মানুষদের কাতারে দাঁড়ানোর উপযুক্ত যোগ্যতা রাখতেননা, তা কমবেশী আমরা সবাই জানতাম। আমাদের জানার খন্ড খন্ড অংশগুলোকে (ডট-গুলোকে) আপনি এ লেখায় আমার হিসেবে চমৎকারভাবে জুড়েছেন (কানেক্ট করেছেন)। আমারও পরামর্শ হবে, আপনার এ লেখাটাকে আরও বৃহত্তর পাঠকশ্রেনীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা করা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ লেখাটাকে প্রকাশ করার মাধ্যমে।

    যে মানুষটার লেখালেখির জীবনের বড় একটা অংশ কেটেছে নানা ছদ্মনাম নিয়ে স্রেফ 'ইসলামবিদ্বেষ' প্রচার করা, মরনোত্তর তাকে পত্র-পত্রিকায় ও মিডিয়াতে 'বিজ্ঞানমনস্ক', 'যুক্তিবাদী', 'মুক্তমনা', 'প্রগতিশীল', ইত্যাদি নানা ভূষনে ভূষিত করায় আমি যতনা disturbed (বিরক্ত) বোধ করেছি, তার চেয়ে অনেক বেশী disturbed (বিরক্ত) বোধ করেছি তাকে  "মানবতাবাদী", "অসাম্প্রদায়িক" ও "ধর্ম-নিরপেক্ষতার স্বপক্ষীয় সৈনিক" হিসেবে প্রচার করায়, যা আমার ব্যক্তিগত বিচারে- 'a completely blunt lie'।

    অভিজিৎ রায়ের জীবদ্দশায় সদালাপের যে সকল লেখকরা তার 'Dr. Henry Jekyll' মুখোশের আড়ালে "evil" 'Mr. Edward Hyde' কে অত্যন্ত সার্থকতার সাথে 'হাংট ডাউন' করেছেন, তারা যেন শাহবাজ নজরুলের অনুকরণে অভিজিৎ রায়ের সত্যিকারের স্বরূপ উন্মোচনে প্রচেষ্ট হন, এবং একইভাবে ওনাদের লেখাগুলোকে যেন বৃহত্তর পাঠকশ্রেনীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা করেন যেন সাধারন মানুষ উপকৃত হন, সে ব্যাপারে তাদেরকে ভেবে দেখার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ।

    1. ১৩.১
      শাহবাজ নজরুল

      আপনারা যারা ব্লগ ও ফোরামের পুরনো সদস্য তারা অভিজিতের Dr. Jekyll and Mr. Hyde চরিত্র ভালোভাবেই জানেন। কিন্তু কিছু তরুণ মস্তিষ্কের দখল সে নিতে পেরেছে তাও ঠিক। ওদের জন্যে বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে এই Dr. Jekyll and Mr. Hyde ধরনের চরিত্রের মুখোশ উন্মোচন  আর তার/তাদের যুক্তির অসারতা তুলে ধরতে হবে। 

      যে মানুষটার লেখালেখির জীবনের বড় একটা অংশ কেটেছে নানা ছদ্মনাম নিয়ে স্রেফ 'ইসলামবিদ্বেষ' প্রচার করা, মরনোত্তর তাকে পত্র-পত্রিকায় ও মিডিয়াতে 'বিজ্ঞানমনস্ক', 'যুক্তিবাদী', 'মুক্তমনা', 'প্রগতিশীল', ইত্যাদি নানা ভূষনে ভূষিত করায় আমি যতনা disturbed (বিরক্ত) বোধ করেছি, তার চেয়ে অনেক বেশী disturbed (বিরক্ত) বোধ করেছি তাকে  "মানবতাবাদী", "অসাম্প্রদায়িক" ও "ধর্ম-নিরপেক্ষতার স্বপক্ষীয় সৈনিক" হিসেবে প্রচার করায়, যা আমার ব্যক্তিগত বিচারে- 'a completely blunt lie'।

      থাম্বস আপ!!!

    2. ১৩.২
      এস. এম. রায়হান

      আবিদ ভাই,

      আপনার থেকে একটি আলাদা লেখা দাবি করছি। সময় নিয়ে হলেও লিখে ফেলুন।

  14. ১৪
    এস. এম. রায়হান

    অভি ছিল বাংলা অন্তর্জাল জগতের সবচেয়ে বড় ধর্ম-ব্যবসায়ী। যেখানে সদালাপের এতগুলো লেখক মিলে দীর্ঘ ১২-১৩ বছরে একটি বইও প্রকাশ করেনি বা করতে পারেনি, সেখানে অভি একাই ১০টি বই (দুটি ম্যাগাজিনের সাথে সম্পৃক্ততা-সহ) প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন ব্লগ-পেজে নামে-বেনামে নিয়মিত সময় দিয়েও এত অল্প সময়ে ১০টি বই প্রকাশ করতে হলে কী পরিমাণ খাটাখাটনি আর সময় ব্যয় করতে হবে, তা সহজেই অনুমেয়। সেই ১০টি বইয়ের মধ্যে ৮-৯টিতেই ধর্মীয় প্রসঙ্গ এসেছে। আর তার লেখায় ধর্মীয় প্রসঙ্গ মানেই হচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে ভুল-ভাল-মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে মুসলিমদের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।

    উল্লেখ্য যে, বৌদ্ধ পরিবারের কেউ তাদের ধর্ম ত্যাগ করে নাস্তিক বা মুক্তমনা হয় না। আজ পর্যন্ত কোনো ইহুদী বা খ্রীষ্টানকে স্ব-ধর্ম ত্যাগের ঘোষণা দিয়ে অভি'র মুক্তমনা মুরিদ হতে দেখা যায়নি। আর হিন্দু ধর্মে তো আস্তিকতা ও নাস্তিকতা উভয়ই আছে – এটা আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে তাদেরই দাবি। কাজেই অভি ছিল মূলত একজন আধুনিক মিশন্যারী, যে বিজ্ঞানের মোড়কে ইসলাম ও বিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ-অসচেতন মুসলিমদেরকে নাস্তিকতায় ধর্মান্তরিত করার মিশনে ছিল।

    সত্যি বলতে, হিন্দুত্ববাদের ইতিহাসে অভি ছিল সবচেয়ে বড় মিশন্যারী। তার মুরিদদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক থেকে শুরু করে শত শত শিক্ষিত খৎনাধারী আছে, যাদের মধ্যে মুসলিম নামধারী অনেক নারীও আছে। এমনকি স্বামী বিবেকানন্দ কিংবা হালের দীপক চোপড়ার মতো বিখ্যাত ব্রাহ্মণ ধর্মগুরুদেরও কোনো খৎনাধারী মুরিদ খুঁজে পাওয়া যাবে না। অভি এটা খুব ভালো করেই জানত। এজন্য সে নাস্তিকতা ও বিজ্ঞানকে পুঁজি করে মিশন্যারী কাজ চালিয়ে গেছে। ফলাফল তো হাতেনাতেই দেখা যাচ্ছে। শত শত শিক্ষিত খৎনাধারীরা আল্লাহ-রাসূল'কে প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়ে তাকে 'প্রভু' বা 'আইকন' হিসেবে মেনে নিয়েছে। দু'দিন বাদে এই খৎনাধারী নাস্তিকরা তার পূজা করা শুরু করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। প্রকৃতপক্ষে, তার খৎনাধারী মুরিদদের জন্য একজন 'বিজ্ঞানমনস্ক দেবতা'র দরকার ছিল। সেটা মনে হচ্ছে তারা পেয়ে গেছে। তাদের কথাবার্তা থেকেও এটা অনুমান করা যায়।

    অভি নিজে অ্যান্টি-বাম হওয়া সত্ত্বেও তাকে এভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে মূলত খৎনাধারী [বাম] নাস্তিকরা-

    অনেক জায়গাতে দেখলাম অভিজিৎকে সম্বোধন করা হচ্ছে হাজার বছরের মধ্যে জন্মানো ক্ষণজন্মা এক আলোকিত মানুষ, যুক্তিবাদী, গবেষক, বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানমনষ্ক, একবিংশ শতকের রেনেসাঁ, বাংলার সক্রেটিস, বাংলার গ্যালিলিও, মুক্তচিন্তার মানুষ, প্রগতিশীল, মানবতাবাদী, আধুনিক-প্রগতিশীল চিন্তার ধারক-বাহক-গবেষক ও বিশ্লেষক, অসাম্প্রদায়িক, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী, বিস্তীর্ণ তৃণভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা মহীরূহ, বামুনদের দেশে অতিকায় মানব, অন্ধকারে নিমজ্জিত একপাল মানুষের মধ্যে আলো হাতে এক অগ্রপথিক, … ইত্যাদি হিসেবে।

  15. ১৫
    এম ইউ আমান

    এটি একটি প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড কাজ। যে বিষয়ে লেখকের দক্ষতা আছে, তিনি সে জিনিসগুলিরই অনুসন্ধান করেছেন। অনুসন্ধানের প্রক্রিয়ায় যতগুলি সংশয় মাথায় আসতে পারে, তার সবগুলির কনভিঞ্চিং উত্তর লেখাটিতে আছে। নিচ্ছিদ্র সিস্ট্যামেটিক ডিসকোর্স। বেহুলা এ সময়ের হলে, তাঁর প্রিয় লখিন্দরের জন্যে নিচ্ছিদ্র লোহার ঘর বানাতে চাইলে শাহবাজ নজরুলের স্মরণাপন্ন হতে পারতেন।

    এই লেখাটির কয়েকটি বৈশিষ্ট্য মন কেড়েছে। পিতা অজয় রায়ের প্রতি লেখকের একান্ত সহানুভূতি লেখাটিতে প্রচ্ছন্নভাবে বিদ্যমান। পিতার কোলে সন্তানের লাশ বড় ভারী জিনিস। আরেকটি বিষয় লেখায় সুস্পষ্টভাবে এসেছে- ‘অভিজিৎ রায় নিজে এই দাবীগুলি করেনি’।

    অব্জেক্টিভলি, রেফারেন্সসহ লেখার এরকম অন্তর্নিহিত স্ট্রেন্থের জন্যেই ‘অসি অপেক্ষা মসী শক্তিশালী’ প্রবাদটি বলা হয়।

    একটি সামান্য খটকা থেকে যাচ্ছে- সমসাময়িক সময়ে একটি জার্নাল-পেপার পাবলিশ করে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করা কিছুটা বেমানান। ডেটাবেজগুলি (ISI web of science, Scopus et al.) চেক করার পাশাপাশি, তার পিএইচডি এডভাইজার-এর কাছে ইমেইল করে ডাবল কনফার্ম করা যেতে পারে।

    ধন্যবাদ।

    1. ১৫.১
      এস. এম. রায়হান

      একটি সামান্য খটকা থেকে যাচ্ছে- সমসাময়িক সময়ে একটি জার্নাল-পেপার পাবলিশ করে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করা কিছুটা বেমানান। ডেটাবেজগুলি (ISI web of science, Scopus et al.) চেক করার পাশাপাশি, তার পিএইচডি এডভাইজার-এর কাছে ইমেইল করে ডাবল কনফার্ম করা যেতে পারে।

      সত্যি বলছি, যেদিন জানতে পারলাম এই একবিংশ শতাব্দীতে খুব ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি শেষে তার মাঝারি মানের একটিমাত্র জার্নাল পেপার আছে সেদিন থেকে আমার মনেও এই খটকাটা জন্ম নিয়েছে। কিন্তু বলা হয়ে ওঠেনি। আপনার মন্তব্যটা দেখে মনে পড়ে গেল। তাকে বেনিফিট অব ডাউট দিয়েই বিষয়টা যাচাই করা উচিত।

      1. ১৫.১.১
        এম ইউ আমান

        কোন জার্নাল-পেপার বাদ পড়লো কিনা সেটা আরো ভালভাবে চেক করে ডাবল কনফার্ম করা যেতে পারে- সেটা বোঝাতে চেয়েছি। অভিজিৎ রায় NUS থেকে M. Eng. ও PhD ডিগ্রি অর্জন করে। মাস্টার্স কমেন্সমেন্ট (কনভকেশন)-এ উপস্থিত ছিলাম। আর, তার পিএইচডি থিসিস পড়ে দেখেছি।

        1. ১৫.১.১.১
          এস. এম. রায়হান

          বছর খানিক বা দেড়েক আগে অভি'র একটি মন্তব্যে শুধু এই জার্নাল পেপারটির কথাই উল্লেখ করা হয়েছিল। কাজেই আর কোনো পেপার আছে বলে মনে হয় না। তাছাড়া তাকে নিয়ে উইকি পেজে যেখানে মিথ্যা তথ্য জুড়ে দেয়া হয়েছে, তার প্রকাশিত সবগুলো বইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে জার্নাল পেপার সম্পর্কে কিছুই নেই। তথাপি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরো ভালোভাবে চেক করা যেতেই পারে।

      2. ১৫.১.২
        শাহবাজ নজরুল

        রায়হান ভাই আপনি দেখি বেশী ক্ষুধার্থ হয়ে পড়েছেন – এবার তার পিএইচডি ও কাইড়া নিতে চান? না ২২ নং কমেন্টে সরয়ার ভাই যা বলেছেন সেটাই সঠিক তার সর্বসাকুল্যে ২ টি পেপার – একটি কনফারেন্স ও একটি জার্নাল। আর পিএইচডি এর বিষয়বস্তু কনফারেন্স পেপার থেকে নেয়া। এটাও বেশ এক্সেপশনাল। ২/৩ টা জার্নাল ছাড়া তো সাধারনত পিএইচডি হয়না। তবে প্রফেসরের উপর নির্ভর করে – উনি যখনই ডিগ্রি দিতে চান – দিতে পারেন।

    2. ১৫.২
      এস. এম. রায়হান

      তাছাড়া একটিমাত্র পেপারেও সে কো-অথার হিসেবে আছে, মূল কন্ট্রিবিউটরও হয়তো না। আর তার পিএইচডি সম্পর্কে উইকিতে লিখা হয়েছে-

      He earned a master's and doctoral degree in Biomedical Engineering from National University of Singapore.[10]

      10. Khan, Mozammel H. (28 February 2015). "A Shocking Crime". The Daily Star. Retrieved 28 February 2015.
       

      আচ্ছা, ডেইলি স্টারের একটি লেখা (28 February 2015) কারো পিএইচডি-র রেফারেন্স হয় কী করে!

  16. ১৬
    Shamsudduha

    তার হত্যাকারীদের বিচার চাওয়ার ব্যাপারে একমত নই, এটা এডিট করুন প্লিজ। এরপর আমি আমার গ্রুপের সবাইকে শেয়ার, কপিপেস্ট কার্টেসিসহ করতে বলব।

    1. ১৬.১
      এম ইউ আমান

      আচ্ছা! কাউকে বিচার বহির্ভূত ভাবে চোরা-গোপ্তা হত্যা করা হবে আর সেটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারও চাইবো না- এরকম আবদার রাখা তো সম্ভব নয়। তাতে যদি আপনি আপনার সমমনাদের সাথে লেখাটি শেয়ার না করতে পারেন তাহলে কি আর করা। কখনো যদি হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে একমত হতে পারেন, তখন না হয় শেয়ার করবেন।

  17. ১৭
    এস. এম. রায়হান

    আরেকটা কথা। উইকি-সহ প্রায় সব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, অভিজিৎ আমেরিকাতে একজন 'সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার' বা 'কম্পুটার ইঞ্জিনিয়ার' হিসেবে কাজ করত। কিন্তু কোনো একটি লেখাতেও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়নি! এমনকি অভিজিতের নিজের লেখাতেও কখনো কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে সেখানে কাজ করার কথা বলা হয়নি। কিঞ্চিত চিন্তার বিষয়ই বটে।

    1. ১৭.১
      শাহবাজ নজরুল

      আমার মাথাতে এটাও এসেছে। এটাও বেশ সন্দেহজনক। যেখানে অভিজিতের সমর্থকেরা তার প্রতিটি কাজের নাম-ধাম সহ সুক্ষাতিসুক্ষ বর্ননা দিচ্ছেন – এবং মাঝেমধ্যে পারলে অতিরিক্ত মিথ্যা তথ্যও যোগ করছেন – সেখানে অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রে এক্সাক্টলি কোন ফার্মে কাজ করতেন সেই নামটা তারা গোপন রেখেছেন। তাই স্বচ্ছতার খাতিরে অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রে কোন কোম্পানিতে কাজ করতেন সেটা তাদের প্রকাশ করা উচিত।      

  18. ১৮
    তাজুল ইসলাম

    Dear Nazrul vai, very nice analyzing article about Avijit. Many many thanks. This mental sick guy always used to write by copy-paste. By Reading his article, easily disclose that he didn’t possess any skill but presentation. Truthfulness was absent in his all articles. Thanks once again. I shared this article to spread all others.

    1. ১৮.১
      শাহবাজ নজরুল

      Thanks for your support. While "Truthfulness is absent in Avijit's articles" – that is our main strength. We always try to stand on the Truth and nothing else. That is the main difference. Thanks for sharing.    

  19. ১৯
    সাদাত

    দারুণ অনুসন্ধান! দেখা যাক ও পক্ষ থেকে কী ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয়?

    1. ১৯.১
      শাহবাজ নজরুল

      দেখি কি বলে  … আমিও অপেক্ষাতে রইলাম।

  20. ২০
    Shahriar

    জাজাকাল্লাহ খায়ের,
    Very good writing.. Keep continue.

  21. ২১
    এস. এম. রায়হান

    Avijit Roy, Avijit, ও Roy নামে নিচের দুটি সার্চ ইঞ্জিনেই অসংখ্য জার্নাল পেপার আছে-

    http://www.sciencedirect.com/science?_ob=ArticleListURL&_method=list&_ArticleListID=-769678750&_sort=r&_st=13&view=c&md5=063bb67c16c689eafd87fb7af058ace1&searchtype=a

    http://www.scirp.org/journal/Articles.aspx?searchCode=Avijit+Roy&searchField=All&page=1

    মাত্র দুটি সার্চ ইঞ্জিনেই এই অবস্থা। অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে আরো কত যে আছে, তার হয়তো কোনো হিসাব নাই। কাজেই মাত্র দুইটা প্যাটেন্ট না থাকলে কী-ই বা এসে যায়! এজন্য কারো কি বিজ্ঞানী হওয়া আঁটকে থাকতে পারে? কী বলেন, শাহবাজ ভাই?

    1. ২১.১
      শাহবাজ নজরুল

      ঠিকই বলেছেন … একটা পড়ে গেলে তৎক্ষণাৎ আরেকটি দিয়ে রিপ্লেস করে দেয়া হবে 😀

       

      লাখে লাখে সৈন্য চলে কাতারে কাতার গনিয়া দেখিল মর্দ চল্লিশ হাজার ।

  22. ২২
    সরোয়ার

    অভিজিৎ রায় পিএইচডি থিসিস জমা দিয়েছেন ২০০৭ সালে। উনার সুপারভাইজর হচ্ছেন প্রফেসর Francis Eng Hock Tay। উনার থিসিস দেখতে ভিজিট করুন- Construction of Physics-based brain atlas and its application। প্রফেসর Francis Eng Hock Tay-র রিসার্চগেট প্রফাইল (http://www.researchgate.net/profile/Francis_Tay/publications) অনুযায়ী অভিজিৎ সাহেব পিএইচডি-র সময় পর্যন্ত (২০০৭ পর্যন্ত) মাত্র দুটি পাবলিকেশন করেন। এগুলো হচ্ছে-

    1. A Roy, W L Nowinski and F E H Tay (2006). Construction of Physics-Based Atlas and its application in Brain Deformation Analysis. Journal of Physics: Conference Series Volume 34 Volume 34

    2. Francis Eng Hock Tay, , Avijit Roy (2003). CyberCAD: a collaborative approach in 3D-CAD technology in a multimedia-supported environment. Computers in Industry (Impact Factor: 1.46). 10/2003; 52(2):127-145. DOI: 10.1016/S0166-3615(03)00100-3 

    প্রথমটি সম্ভবত কনফারেন্স পেপার। দ্বিতীয়টির ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর বেশী নয়। সাধারণ মানের জার্নাল।

    1. ২২.১
      শাহবাজ নজরুল

      সরোয়ার ভাই ঠিকই বলেছেন। এই দুটিই সর্বসাকুল্যে অভিজিতের পেপার। পিএইচডি এর কাজ মনে হয় কনফারেন্স পেপার থেকে মূলত নেয়া। পিএইচডি এর জন্যে সাধারণত ২/৩ টা জার্নাল পেপার করতে হয় – এক্ষেত্রে তা হয়েছে বলে মনে হয়না। পিএইচডি এর মূল কাজ অ্যাপ্লিকেশন ধরণের মনে হচ্ছে – কিভাবে ব্রেন অ্যাটলাস বা অভিধান তৈরি করতে হয় – এধরণের কিছু। তবে ব্রেন ডিফর্মেশন অ্যানালিসিস সম্পর্কে কিছু আছে। প্রফেসরের পিএইচডি এর বার (requirement) তেমন উঁচু বলে মনে হচ্ছেনা।

      তবে কথা সেই-ই থাকল – অভিজিতের সেই পিএইচডি আমলের পর থেকে না আছে কোনো মৌলিক গবেষণা না আছে কোনো প্যাটেন্ট। মানে, তিনি ছিলেন সাধারণ মানের রিসার্চার।

      ধন্যবাদ!!!

      1. ২২.১.১
        এস. এম. রায়হান

        অভিজিৎ আসলে বিজ্ঞান-পূজারী ছিল না। সে ছিল ছদ্মবিজ্ঞান-পূজারী। বিশেষ করে পিএইচডি-র পর গবেষণা ছেড়ে দিয়ে ছদ্মবিজ্ঞান-পূজারী সেজে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে 'বিজ্ঞান-বিরোধী' প্রমাণ করার জন্য বড় একটা সময় ব্যয় করেছে। সেই সময়টা গবেষণার কাজে ব্যয় করলে আরো দু-চারটি জার্নাল পেপার হয়তো প্রকাশ করতে পারত।

    2. ২২.২
      শাহবাজ নজরুল

      আমার প্রথম সার্চে একটি পেপারই আসে – মিনিট বিশেক সার্চ করেছিলাম। আপনি হচ্ছেন পেপার সার্চের এক্সপার্ট – তাই অন্য পেপারটিও বের করে এনেছেন। কাল আরো আধ ঘন্টা সময় ব্যয় করলাম – আমান ভাইয়ের পরামর্শ অনুযায়ী। আপাতত মনে হচ্ছে এই দু'টো পেপারই অভিজিতের আছে সর্বসাকুল্যে। তাই মূল পোষ্ট সে অনুসারে সংশোধিত করা হলো। আর কোনো পেপার থাকার কথা কারুর জানা থাকলে এখানে জানাতে পারেন। 

      ধন্যবাদ। 

      1. ২২.২.১
        শামস

        কনফারেন্স পেপারের ভ্যালু অনেকে তেমন একটা দেয় না, থাকলে ভালো কিন্তু থাকাটা আবশ্যিক নয়। কনফারেন্স পেপার ছাড়াই যদি জার্নাল পেপার এর মান ভালো হয়, ওয়েটেজ বেশী থাকে এবং সুপারভাইজার খুশী থাকে তাহলে একটিতেও পিএইচডি হতে পারে। এটা অবশ্য ডিপেন্ড করে, অনেক সময় সুপারভাইজার কনফারেন্স পেপারও চায়।

        কনফারেন্স পেপারকে যেভাবে জার্নাল পেপার হিসেবে তারা চালাচ্ছে সেটা ঠিক না। 

         

         

    3. ২২.৩
      এস. এম. রায়হান

      মাঝারি মানের একটি জার্নাল পেপার আর একটি কনফারেন্স পেপার – সর্বসাকুল্যে দুটি পেপার। এমন গবেষক বাংলাদেশীদের মধ্যেই হাজার হাজার পাওয়া যাবে। আর পাশের দুটি দেশ ভারত ও চীনে তো লক্ষ লক্ষ হবে! এমনকি সদালাপেই তো কয়েকজনের তার চেয়ে বেশি পেপার আছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্যাটেন্ট-ও আছে (আমার না, বাই দ্য ওয়ে)। অভি-পূজারীরা এবার কী বলে দেখা যাক। অভি তাদের কাছে তবুও 'বিজ্ঞানমনষ্ক দেবতা' হিসেবেই থেকে যাবে!

      1. ২২.৩.১
        আহমেদ শরীফ

        মাঝারি মানের একটি জার্নাল পেপার আর একটি কনফারেন্স পেপার – সর্বসাকুল্যে দুটি পেপার। এমন গবেষক বাংলাদেশীদের মধ্যেই হাজার হাজার পাওয়া যাবে। আর পাশের দুটি দেশ ভারত ও চীনে তো লক্ষ লক্ষ হবে! এমনকি সদালাপেই তো কয়েকজনের তার চেয়ে বেশি পেপার আছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্যাটেন্ট-ও আছে (আমার না, বাই দ্য ওয়ে)। অভি-পূজারীরা এবার কী বলে দেখা যাক। অভি তাদের কাছে তবুও 'বিজ্ঞানমনষ্ক দেবতা' হিসেবেই থেকে যাবে!

         

         

        যে জিনিস কোনখানে কম পাওয়া যায় বা দুষ্প্রাপ্য হয় সেখানে স্বভাবতঃই সে জিনিসের দাম একটু বেশি হয়।

        বিজ্ঞানমনষ্ক মুক্তমনা দাবি করা বঙ্গনাস্তিকদের মাঝে বিজ্ঞানের 'অ আ' না বোঝা লোকই বেশি। অবশ্য না বুঝলেও ভাব ধরতে তো আর বিশেষ পড়াশোনা লাগে না সামান্য কিছু গুগল আর ফাঁকে ফাঁকে আলটপকা দু'একটা শব্দ কায়দামত ব্যবহার করতে পারলেই হলো। এটুকু সাকুল্যে ধরেন ১০%। বাকি ৯০% টা হল অন্ধের মত গুরুঠাকুরদের সমর্থন দিয়ে কোরাসে একঘেয়ে স্লোগান সঙ্গে ইসলাম/মুসলিম/ইসলামপন্থি/সদালাপ সবাইকে পাইকারি হারে অভিযুক্ত/গালিগালাজ/কটুক্তি/বিদ্রুপ করে যাওয়া _ এই হল মুক্তমনার সহজ পাঠ ও দৈনন্দিন কর্মসূচী।

        তুলনামূলক একটু বেশি শিক্ষিত গুরুঠাকুর নানান সাইট ঘেঁটে কপিপেস্ট মেরে অনেক খেটেখুটে জোড়াতালি দিয়ে একটি পোস্ট দাঁড় করাবেন বাকিদের কাজ হল শুধু সেই পোস্টে গিয়ে বাগবন্দনা করা ও কাছা খুলে কেত্তন গাওয়া। যাই বলুন ভীষণ মজা আছে এই মুক্তমনা হওয়ার মধ্যে _ পড়াশোনার বিরাট কোন ঝামেলায় না গিয়ে শুধু নিয়মিত হাজিরা আর অন্ধসমর্থন দিয়ে কেত্তন গেয়েই নিজেকে বিজ্ঞানমনষ্ক/আধুনিক/মুক্তমনা হিসেবে জাহির করার এত সহজতম পথ আর কোন লাইনে আছে বলে মনে হয় না।

         

  23. ২৩
    Mahboob Hossain

    Those who are telling lie about Avijit in the name of respecting him are in fact downgrading him.  

  24. ২৪
    Md Abdullah

    শাহবাজ ভাই। অসাধরণ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আপনার উপোর রহমোত করুন।

  25. ২৫
    এস. এম. রায়হান

    এ পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি আমেরিকাতে গেছে। বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে বা বিভিন্ন পথে গেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আমেরিকান নাগরিকত্ব পেয়েছে। অথচ অভি'কে সব জায়গায় বিশেষভাবে 'আমেরিকান নাগরিক' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে অভি ঠিক কীভাবে আমেরিকাতে গেছে এবং আমেরিকান নাগরিকত্ব পেয়েছে? এ ব্যাপারে অন্য কারো ক্রেডিট ছিল কি-না। অভি-পূজারীরা কী বলেন।

    1. ২৫.১
      শাহবাজ নজরুল

      যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসী/নাগরিক হবার মোটামুটি ৩ টি রাস্তা আছে। এক, এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে পরে চাকরি যুগিয়ে এইচ-১ ভিসাতে পরিবর্তন করে তারপরে কোম্পানির স্পন্সরে গ্রীনকার্ডের আবেদন করা। দ্বিতীয় পথ হচ্ছে লটারীর ডিভি ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা। সবশেষ রাস্তাটি হচ্ছে নিকটাত্মীয়ের স্পন্সরে (যেমন স্পাউস) যুক্তরাষ্ট্রে আসা। 

      এখানকার বেশিরভাগ প্রকৌশলী ও পেশাজীবী প্রথম রাস্তাটিতে আসেন। অভিজিত যুক্তরাষ্ট্রে যে এফ-১ ভিসায় আসেনি তা নিশ্চিত – কেননা তার  পড়াশুনা যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগেই শেষ হয়েছে সিঙ্গাপুরে। তাই ওর আসার সম্ভাব্য রাস্তা দু'টো – এক লটারির ডিভি ভিসা, নয়তো স্পউসাল ভিসায় আসা। যদিও স্পাউসাল ভিসায় সাধারনত দেখা যায় স্বামী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তিনি বিয়ের পরে স্ত্রীকে স্পন্সর করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসতে পারেন। তবে একইভাবে বিপরীত টিও সম্ভব – অর্থাৎ, স্ত্রী যদি যুক্তরাষ্ট্রের  নাগরিক হন তিনিও স্বামীকে স্পন্সর করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসতে পারেন। আমার মনে হয় যেহেতু বন্যা অনেক আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তাই শেষ উপায় টিতে অভিজিতের যুক্তরাষ্ট্রে আসার সম্ভবনা সবচাইতে বেশি। 

      1. ২৫.১.১
        এস. এম. রায়হান

        অভি'র ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আরো দুটি পথ আছে। একটি হচ্ছে এমপ্লয়মেন্ট ভিসা নিয়ে যাওয়া, আর অন্যটি হচ্ছে কনফারেন্স ভিসায় যেয়ে থেকে যাওয়া। আমার এক বন্ধু সিঙ্গাপুর থেকে মাস্টার্স শেষে যুক্তরাষ্ট্রে একটি কনফারেন্সে যোগ দিতে যেয়ে থেকে যায়। পরে সেখানে পিএইচডি করে কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছে শুনেছি। তবে অভি এই দুটির কোনো একটি পথেও যুক্তরাষ্ট্রে গেছে বলে মনে হয় না। তার ক্ষেত্রে স্পাউজাল ভিসায় যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ ব্যাপারে বন্যা সঠিক তথ্য দিতে পারবেন!

        1. ২৫.১.১.১
          আহমেদ শরীফ

          তবে অভি এই দুটির কোনো একটি পথেও যুক্তরাষ্ট্রে গেছে বলে মনে হয় না। তার ক্ষেত্রে স্পাউজাল ভিসায় যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ ব্যাপারে বন্যা সঠিক তথ্য দিতে পারবেন!

          এ ব্যাপারে যদি বন্যা সততার সঙ্গে সত্যভাষণ করেন তাহলে জাতি আসল সত্য জানতে পারবে। নতুবা এই পোস্টের মত কোন এক অফিশিয়াল অনুসন্ধানেই হয়তো একদিন বেরিয়ে আসবে আসল কাহিনী।

      2. ২৫.১.২
        Reza

        There are other kinds for an entry to USA: Political Asylum, religious worker, investment, top level manager, a person of NIW (national interest waiver – a person who has made significant contribution to USA economy primarily based in science & technology) and a person of extraordinary quality (Nobel prize winner or equivalent). As a side note, I got my green card through extra ordinary category (in this case, you do not need any employer or anybody – you can apply by yourself no matter where you live). 

        1. ২৫.১.২.১
          এস. এম. রায়হান

          There are other kinds for an entry to USA: Political Asylum, religious worker, investment, top level manager, a person of NIW (national interest waiver – a person who has made significant contribution to USA economy primarily based in science & technology) and a person of extraordinary quality (Nobel prize winner or equivalent).

          But none of these applies for Avijit. We have mentioned the possible ways of his entry to US.

          1. Reza

            My intention was not to make any justification on Avijit but simply to let you know that in addition to avenues that you and Shahbaz Nazrul mentioned, there are other avenues for an entry to USA.

  26. ২৬
    Shihab Tanvir

    আপনাদের মত বিজ্ঞান?মনষ্ক, প্রগতিশীল, মানবতাবাদীদের কাছ থেকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করি না। মনে হচ্ছে everything is fair in love and war-এ বিশ্বাস আছে। যদি আপনাদের ঈমান (নাস্তিকতা সম্পর্কে) এতই জোড়দার হয় তবে মিথ্যাকে অস্ত্র বানানোর চেষ্টা কেন? আপনাদের ভাষায় আমাদের সামনে বেহেশ্তের মূলা ঝুলানো আছে। আমরা ১৪০০ বছর আগের ধ্যান ধারনা রাখি, গেঁয়ো ভূত, মূর্খ, মৌলবাদী আমরা না হয় মূলার পিছনে ছুটলামই। আপনাদের মত এত এত জ্ঞানের আকাশ গঙ্গা কোন্‌ মূলার পিছনে দৌড়াচ্ছেন?

  27. ২৭
    আহমেদ শরীফ

    গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুসন্ধানের জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করার দরুণ অতি উত্তম প্রতিদান পরম করুণাময় আল্লাহতা'লা লেখককে সময়মত দিয়ে দেবেন বলে আশা করছি।

    এখন আমাদের কাজ _ বলতে গেলে পাঠক মুসলিমদের কাজ হবে এই পোস্ট যত বেশি সম্ভব শেয়ার করতে থাকা। খুব বেশি বেশি, বরং বার বার শেয়ার করে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে এই পোস্ট।

    1. ২৭.১
      শাহবাজ নজরুল

      ধন্যবাদ আহমেদ ভাই উৎসাহ দেবার জন্যে আর সবাইকে লেখাটি শেয়ার করতে উদ্বুদ্ধ করার জন্যে।

  28. ২৮
    zxslimxz

    শাহবাজ ভাই সালাম!!

    ৮৯ এ কলেজের বার্ষিকীতে আপনার TIME TRAVEL নিয়ে একটা লিখা পড়সিলাম। I have to admit, that article helped me learn what actual scientific perspective is. এখন বলছি…। আপনি তো ভাই perpetual development এ আছেন।।

    ইসতিয়াক

     

    1. ২৮.১
      শাহবাজ নজরুল

      ইশতিয়াক কেমন আছে? আশা করি ভালো। কলেজের দিনগুলো এখনো মিস করি। খানিক সময় পেলেই কলেজের সেই স্বর্ণালী দিনগুলোতে হারিয়ে যাই। যাইহোক, লেখাটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। হ্যা ফিজিক্সে না পড়লেও ফিজিক্সের উপর ভালবাসা কমেনি। একটু আধটু পড়ে আপ-টু-ডেট থাকার চেষ্টা করি – এই আর কি!!!

  29. ২৯
    Sayed Mobin

    Hi Shahbaj are you from BUET 89 batch EE, used to live in San Diego? 

    1. ২৯.১
      শাহবাজ নজরুল

      দোস্ত খবর কি? আমি এখন ইস্ট কোস্টে। পারলে ঘুরে যা। I always miss San Diego.

  30. ৩০
    সুজন সালেহীন

    অভিজিতের ভক্ত, পৃষ্টপোষক, সমমনাদের আরেকটা দাবী নিয়ে বিস্মিত না হয়ে পারছিনা! তারা বেশ জোরের সাথে বলছে অভিজিত হারলে নাকি বাংলাদেশ হারবে! অভিজিত নাস্তিক্যবাদ বা নিধর্মবাদের পুরোধা হলে তার এই আদর্শ কি কখনো স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনকল্পে এর পথপ্রদর্শক কিংবা আত্মবিসর্জনকারীদের অভিপ্রায়ে ছিল?

    1. ৩০.১
      শাহবাজ নজরুল

      ভালো বলেছেন …

  31. ৩১
    syeda lutfunnesa

    To tell a lie is a great sin for the believer. A nonbeliever need not bother for "sin" becouse they have no accountibility to anyone else. They have their own "Ethics" which is changable whenever it is necessary. Why should they practice truthfulness? Truthfulness is not mandatory for human life. Life is more smooth and comfortable without so-called honesty and truthfulness.

    1. ৩১.১
      শাহবাজ নজরুল

      You are right sister. Thanks for sharing your thoughts!!!

  32. ৩২
    মুনিম সিদ্দিকী

    শাহবাজ ভাই ফুট্টুস করে অভিজিৎ ঠাকুরের বাতাস বের করে দিলেন? ধন্যবাদ।
     

  33. ৩৩
    আবুযর মুহাম্মাদ

    আমি জ্ঞানী নই, বিজ্ঞানী সে তো প্রশ্নই উঠে না । জ্ঞানীদের সাথে নিজের তুলনা সে তো আমার জন্য জ্ঞানীদের প্রতি বেয়াদবি ছাড়া আর কি হওতে পারে? তবে আল্লাহ আমাকে যতটুকু আকল দিয়েছেন তাতে নাস্তিক বলতে আমি বুঝি এমন একদল মানুষকে যারা সৃষ্টিকর্তার ধারনায় অবিশ্বাসী এবং সকল ধর্মের প্রতি একেবারেই নির্মোহ। নাস্তিক নিজেকে বুদ্ধিমান (!), মুক্তমনা (!), বিজ্ঞানমনস্ক (!) মনে করেন এবং তার সবচেয়ে বড় ও মৌলিক দাবি সে ধর্মহীন। তাকে কেউ সৃষ্টি করেনি, সে প্রকৃতির সন্তান। তার কোন ধর্ম থাকতে নেই, কোন ধর্মের প্রতি কোন আকর্ষণ বা দুর্বলতাও তার জন্য পাপ। 

    এই সত্যের নিরিখে বিচার করে আমি কোন খাঁটি নাস্তিক দেখতে পাই না। যারা নিজেকে নাস্তিক বলতে গর্বে সিনা ফাটিয়ে ফেলার উপক্রম করছেন তাদেরকে আমি কখনো দেখিনাই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ফর্মে, কিংবা জাতীয় পরিচয় পত্র বা পাসপোর্ট এর ফরমে ধর্মহীন বা নাস্তিক লিখতে। আবার মৃত্যুর পরে দেখলাম যারা অত্যন্ত নেতৃস্থানীয় নাস্তিক দাবিদার তাদের জানাজা হতে বা শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে। কোন গুরুর যোগ্যতম শিষ্যদেরকে মাঝে মাঝে দেখা যায় রাস্তায় ব্যানার নিয়ে গুরুজির জন্য শহীদ খেতাব ভিক্ষা করতে। এ সবগুলোই ধর্মীয় টার্মস।  তাহলে কেন বাবা খামোখা এ মিথ্যাচার! কেন নিজের সাথে প্রতারণা! 

    আমাদের সমাজে যারা বর্তমানে নিজেকে নাস্তিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দৌড়-ঝাঁপ, নর্তন-কুর্দন করে গলদঘর্ম হচ্ছেন আসলে তারা সবাই ভেজাল নাস্তিক। সত্যিকার নাস্তিকের কাজ হবে সকল ধর্মের অসারতা ও অসংগতি তুলে ধরা। নিজের অবস্থানের স্বপক্ষে তথ্য-উপাত্ত উপস্থপন করত  যুক্তি-তর্ক তুলে ধরবেন, প্রমাণ করবেন যে তাদের ধর্মহীনতা বা সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসই হোল একমাত্র সঠিক মত, পথ বা ধারনা। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা যেটা করছেন বা করার চেষ্টা করছেন তা হোল অন্য সকল ধর্ম বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করা, এর অসারতা প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা করা। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে তাদেরকে নিজেদের মত ধর্মহীন করা বা অন্য কোন ধর্মে ধর্মান্তরিত করা। 

    আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করছি এই সকল তথাকথিত মুক্তমনা দাবিদার গুরুজীরা ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের অসারতা খুঁজে পান না।

  34. ৩৪
    এস. এম. রায়হান

    সদালাপে সত্য ফাঁস হওয়ার পর উইকি পেজ থেকে অভিজিতের নামে প্রচার করা দুটি ভূয়া প্যাটেন্ট সরিয়ে নিয়ে উইকি পেজ আংশিক সংশোধন করার জন্য অভি-পূজারীদের আংশিক ধন্যবাদ! 😀

    তবে পুরোপুরি ধন্যবাদ দেয়া যাচ্ছে না এজন্য যে, অভি'কে বুয়েটের শিক্ষক হিসেবে চালিয়ে দেয়া অংশটা রয়েই গেছে। তাছাড়া অভিজিতের আসল "নাস্তিক" পরিচয়টাও পুরোপুরি চেপে যাওয়া হয়েছে! পাশাপাশি আরো কিছু ভুল-ভাল বা প্রতারণাপূর্ণ কথাবার্তাও সেখানে আছে।

    যাহোক, অভি-পূজারীরা উইকি পেজ সংশোধন করে তাদের দেবগুরুজীর শিক্ষার পরিপন্থী কাজই করেছেন! কেননা তাদের দেবগুরুজীর লেখায় অনেক মিথ্যাচার ও প্রতারণা ধরিয়ে দেয়ার পরও তাদের দেবগুরুজী কখনোই সেগুলো সংশোধন করেনি। বরঞ্চ একই জিনিসের বারংবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। কাজেই দেবগুরুজীর অনুপস্থিতিতে তার পূজারীদের কিছুটা হলেও যে সুমতি হচ্ছে সেজন্য তারা বিশেষ ধন্যবাদ পেতেই পারেন!

    1. ৩৪.১
      এস. এম. রায়হান

      পুনশ্চ: চুপি চুপি উইকি পেজ আংশিক আপডেট করা হয়েছে! ভালো কথা। কিন্তু তার আগে বিভিন্ন পত্রিকা ও ব্লগ-ফেসবুকের অনেক লেখার মাধ্যমে এই মিথ্যা তথ্য যে হাজার হাজার মানুষ জেনে গেছে, সেটা আপডেট করা হবে কী করে? পত্রিকা ও মুক্তমনা ব্লগের মাধ্যমে এটা জানিয়ে দেয়া হবে, নাকি অভি-পূজারীরা হাজার হাজার মানুষকে তাদের গুরুজী সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য গিলিয়ে অন্ধকারেই রাখতে ইচ্ছুক!

      1. ৩৪.১.১
        শাহবাজ নজরুল

        এই বিষয়গুলোর ব্যাপারে মুক্তমনা থেকে অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট আসা উচিত। প্যাটেন্ট, বুয়েটের শিক্ষকতা, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকতা, যুক্তরাষ্ট্রে অভি ঠিক কোন সংস্থায় কাজ করতো এ বিষয়গুলো আশা করছি মুক্তমনা থেকে অফিসিয়ালি ক্ল্যারিফাই করা হবে। 

  35. ৩৫
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আবারো পড়লাম। সদালাপের পুরোনো দিনের আবহ তৈরী হয়েছে দেখে ভাল লাগছে।
    ধন্যবাদ শাহবাজ নজরুল।

     

  36. ৩৬
    Nayem Hossain

    অভিজিৎকে এত উপাধি দেওয়ার পিছনে যে জিনিসটি ভূমিকা রেখেছে সেটি মিডিয়া। আর বাংলাদেশের প্রায় সব মিডিয়া বামপন্থীদের হাতে। আর বিবিসি সিএনএন এর কথা না হয় বাদ দিলাম।

  37. ৩৭
    এস. এম. রায়হান

    অভিজিৎকে নিয়ে উইকি পেজে আরো প্রতারণা!

    আইনস্টাইনকে নিয়ে উইকি পেজটা দেখুন। সেখানে তাঁর দু'জন স্ত্রীর নামই উল্লেখ করা হয়েছে-

    http://en.wikipedia.org/wiki/Albert_Einstein

    আব্দুস সালামকে নিয়ে উইকি পেজটাও দেখুন। সেখানেও তাঁর দু'জন স্ত্রীর নামই উল্লেখ করা হয়েছে-

    http://en.wikipedia.org/wiki/Abdus_Salam

    অনুরূপভাবে, যাদের নামে উইকি পেজ আছে এবং যাদের একাধিক স্ত্রী ছিল বা আছে তাদের পেজগুলোতে সব স্ত্রীর নামই উল্লেখ আছে। কিন্তু মুক্তমনাদের দেবগুরুজী এখানে ব্যতিক্রম! অভিজিৎকে নিয়ে বাংলা ও ইংরেজী উভয় উইকি পেজেই তার প্রথম স্ত্রীকে বেমালুম 'নাই' করে দিয়ে শুধু মুসলিম নামধারী দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে! এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, অভিজিৎ নিজেও তার হিন্দু পরিবারের প্রথম স্ত্রীর 'অকস্মাৎ' মৃত্যু থেকে শুরু করে তার সম্পর্কে সকল প্রকার তথ্য চেপে গেছে। এমনকি তার প্রথম স্ত্রীর নামটা পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। এজন্য তার পূজারীরাও তাকে নিয়ে উইকি পেজে তার প্রথম স্ত্রীকে 'নাই' করে দিয়েছে! এই ধরণের মানসিকতার কাউকে প্রগতিশীল বলবেন, না গোঁড়া বলবেন? আর তার পূজারীরা তাদের প্রয়াত দেবগুরুজীকে নিয়ে চোর-পুলিশ খেলে ঠিক কী প্রমাণ করতে চায়! কারো বিশ্বাস না হলে নিজেই দেখুন-

    http://en.wikipedia.org/wiki/Avijit_Roy

    http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A7%8E_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC

    1. ৩৭.১
      শাহবাজ নজরুল

      এই বিষয়টা আসলেই অন্ধকারে রয়ে গেলো। এ ব্যাপারটিতে 'মুক্ত' মনের অধিকারীদের মনন ও দৃষ্টিকে 'বন্ধ' করে রেখেছে কেন?  

  38. ৩৮
    আবুযর মুহাম্মাদ

    আমি জ্ঞানী নই, বিজ্ঞানী সে তো প্রশ্নই উঠে না। জ্ঞানীদের সাথে নিজের তুলনা সে তো আমার জন্য জ্ঞানীদের প্রতি বেয়াদবি ছাড়া আর কি হতে পারে? তবে আল্লাহ আমাকে যতটুকু আকল দিয়েছেন তাতে নাস্তিক বলতে আমি বুঝি এমন একদল মানুষকে যারা সৃষ্টিকর্তার ধারনায় অবিশ্বাসী এবং সকল ধর্মের প্রতি একেবারেই নির্মোহ। নাস্তিক নিজেকে বুদ্ধিমান (!), মুক্তমনা (!), বিজ্ঞানমনস্ক (!) মনে করেন এবং তার সবচেয়ে বড় ও মৌলিক দাবি সে ধর্মহীন। তাকে কেউ সৃষ্টি করেনি, সে প্রকৃতির সন্তান। তার কোন ধর্ম থাকতে নেই, কোন ধর্মের প্রতি কোন আকর্ষণ বা দুর্বলতাও তার জন্য পাপ। 

    এই সত্যের নিরিখে বিচার করে আমি কোন খাঁটি নাস্তিক দেখতে পাই না। যারা নিজেকে নাস্তিক বলতে গর্বে সিনা ফাটিয়ে ফেলার উপক্রম করছেন তাদেরকে আমি কখনো দেখি নাই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ফর্মে, কিংবা জাতীয় পরিচয় পত্র বা পাসপোর্ট এর ফরমে ধর্মহীন বা নাস্তিক নিজেকে পরিচয় দিতে। আবার মৃত্যুর পরে দেখলাম যারা অত্যন্ত নেতৃস্থানীয় নাস্তিক দাবিদার তাদের জানাজা বা শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে। আবার যোগ্যতম (!) গুরুজিদের যোগ্যতম (!) শিষ্যদেরকে মাঝে মাঝে দেখা যায় রাস্তায় ব্যানার নিয়ে গুরুজির জন্য 'শহীদ' খেতাব ভিক্ষা করতে। এ সবগুলোই ধর্মীয় টার্মস বা কার্যক্রম, যা মানুষ পরকালের বিশ্বাস বা মৃত্যুর পরের জীবনের বিশ্বাস থেকে করে থাকে। তাহলে কেন বাবা খামোখা এ মিথ্যাচার! কেন নিজের সাথে প্রতারণা! 

    আমাদের সমাজে যারা বর্তমানে নিজেকে নাস্তিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দৌড়-ঝাঁপ, নর্তন-কুর্দন করে গলদঘর্ম হচ্ছেন, তারা আসলে সবাই ভেজাল নাস্তিক। সত্যিকার নাস্তিকের কাজ হবে সকল ধর্মের অসারতা ও অসংগতি তুলে ধরা। নিজের অবস্থানের স্বপক্ষে তথ্য-উপাত্ত উপস্থপন করত যুক্তি-তর্ক তুলে ধরে প্রমাণ করবেন যে তাদের ধর্মহীনতা বা সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসই হোল একমাত্র সঠিক মত, পথ বা ধারনা। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা যেটা করছেন বা করার চেষ্টা করছেন তা হোল অন্য সকল ধর্ম বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করা, এর অসারতা প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা করা। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে তাদেরকে নিজেদের মত ধর্মহীন করা বা অন্য কোন ধর্মে ধর্মান্তরিত করা। 

    ইসলাম বিগত দেড় হাজার বছর যাবত অত্যন্ত মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে অবিকৃত অবস্থায় মানব সভ্যতাকে এর সুশীতল ছায়া দিয়ে চলেছে। কুরআনের একটি শব্দও পরিবর্তন করা হয়নি এবং কিয়ামত পর্যন্ত প্রয়োজন হবে না কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধনের কিংবা সংযোজন বা বিয়োজনের। পবিত্র এ কিতাবের পবিত্রতা ও বিশুদ্ধতা রক্ষার অঙ্গীকার স্বয়ং রব্বুল আলামিনের, যিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। কুরআন জন্ম লগ্ন থেকে সকল আদম সন্তানের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে এটা বিশুদ্ধ কিতাব, কোন ভুল অসংগতি এর মধ্যে তুমি খুঁজে পাবে না। আজ পর্যন্ত কেউ সফল হয়নি ভুল প্রমাণ করার। কুরআনের এ চ্যালেঞ্জ শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়। কিয়ামত পর্যন্ত তা উন্মুক্ত। যে কেউ সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারে যদি সে সত্যকারের হিম্মত ওয়ালা লড়াকু হয়। কেউ কখনই তাতে সফল হবে না। তারপরও তথাকথিত নাস্তিক ও তাদের গুরুজিরা শাশ্বত ধর্ম ইসলামের অসারতা খুঁজার ব্যর্থ চেষ্টা করে নিজেদের দৈন্যতাকে আরও বেশি থেকে প্রকট করে চলেছেন ।

    আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করছি যে, এই সকল তথাকথিত মুক্তমনা দাবিদার নাস্তিক ও তাদের গুরুজীরা ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের অসারতা খুঁজে পান না। দোস্ত – আহবাবদের জন্য একটু উদাহরণ দিতে চাই। বর্তমান জামানার খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা দাবি করেন যীশু (আমাদের নিকট যিনি আল্লাহর একজন সম্মানিত প্রেরিত রসুল হযরত ঈসা আলাইহিওয়াসাল্লাম) ঈশ্বরের বেটা। আবার একই সময়ে তাদের দাবি যীশু ঈশ্বরের অংশ (ত্রিতত্ত্ববাদ)। অথচ উনাদের যীশু, আমাদের ঈসা আলাইহিওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় কখনো সে দাবি করেনিনি। পক্ষান্তরে নিজেকে আল্লার বান্দা ও রসুল হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। আল্লাহ কুরআনে সে কথাই বলছেন, হাদিছে আমরা সেই সাক্ষ্য পেয়েছি। কিন্তু বাইবেলে তারা নিজেদের মনের মাধুরী মিশিয়ে ইচ্ছে মত আল্লাহ ও তার রসুল সম্পর্কে মিথ্যা আরোপ করছেন। বাকি জিনিষ কি পরিমাণ বিকৃতি ঘটেছে তা কল্পনা করার জন্য আপনাকে তাত্ত্বিক হবার কোন প্রয়োজন নেই। এ ব্যাপারে নাস্তিক বা তাদের গুরুজিদের কি ব্যাখ্যা আছে আমার জানা নেই। তবে কোন অসংগতি যে তারা দেখতে পাননি তা আমি হলোপ করে বলতে পারি। আবার ধরুন যে ধর্মের ভিত্তি কল্পকাহিনী নির্ভর, সে ধর্মের দেবতাগণ এতই শক্তিধর যে নিজেকে বা তাঁর ভক্তবৃন্দের দেয়া পূজার প্রসাদটুকু পর্যন্ত তারা মশা-মাছি কিংবা কুকুর-বিড়ালের অত্যাচার থেকে রক্ষা করতে পারে না। এমনকি কুকুর যখন বীরদর্পে  পিছনের এক পা উঁচু করে ওই সকল দেবতাদের মুখের উপরেই প্রাকৃতিক কার্য সম্পাদন করে তখন তা শুধু ভক্তদের দেয়া মাটির চোখে চেয়ে চেয়ে দেখা (!) ছাড়া আর কিছুই তাঁর করতে পারে না। সেই সকল দেবতাদেরকে ভগবান বানিয়ে হাজার হাজার বছর চরম মমতায় পূজা অর্চনা দিয়ে আসছেন। সেখানে উনারা কোন অসংগতি দেখতে পান না। এরকম অনেক উদাহরণ তুলে ধরা যায়। কিন্তু এ ব্যপারে উনারা আশ্চর্য জনক ভাবে নিশ্চুপ বা বাকরুদ্ধ। আপনারা তাদেরকে কি বলবেন আমি জানি না তবে আমি শাহবাজ ভাইয়ের সাথে সুর মিলিয়ে জোর আওয়াজে বলতে চাই এটা প্রতারণা এবং নির্জলা মিথ্যাচার

    অসম্ভব সুন্দর ও তথ্যবহুল লেখা উপহার দেবার জন্য ভাই শাহবাজ নজরুলকে ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন।

    1. ৩৮.১
      শাহবাজ নজরুল

      তাৎপর্যপূর্ণ  মন্তব্যের জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

  39. ৩৯
    আঃ সালাম

    আপনার লেখা খুব ভাল লেগেছে দোয়া করি
    আপনি আরো ভাল লেখবেন

  40. ৪০
    এস. এম. রায়হান

    অনেক জায়গাতে দেখলাম অভিজিৎকে সম্বোধন করা হচ্ছে- হাজার বছরের মধ্যে জন্মানো ক্ষণজন্মা এক আলোকিত মানুষ, বিস্তীর্ণ তৃণভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহীরূহ, বামুনদের দেশে এক অতিকায় মানব, অন্ধকারে নিমজ্জিত একপাল মানুষের মধ্যে আলো হাতে এক অগ্রপথিক, একবিংশ শতকের রেনেসাঁ, বাংলার সক্রেটিস, বাংলার গ্যালিলিও, মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, মুক্তচিন্তার মানুষ, আধুনিক-প্রগতিশীল চিন্তার ধারক-বাহক-গবেষক ও বিশ্লেষক, যুক্তিবাদী, গবেষক, বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানমনষ্ক, উদার-বিজ্ঞানমনষ্ক, আমেরিকান প্যাটেন্টধারী, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষক, আমেরিকার কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, … ইত্যাদি হিসেবে।

    বাপ্রে বাপ!!! এই মরণোত্তর খেতাবগুলো দিয়েছে মূলত তার বাম-মুক্তমনা নাস্তিক পূজারীরা, যদিও তাদের গুরুজী একজন অ্যান্টি-বাম ছিল!

    যাহোক- অভি'র আকস্মিক মৃত্যু প্রমাণ করিল যে, বাকি মুক্তমনা'রা মুখে মুখে নিজেদেরকে 'মুক্তমনা', 'যুক্তিবাদী', 'সংশয়বাদী', 'বিজ্ঞানমনষ্ক', ইত্যাদি দাবি করলেও তারা অভি'কে পীর হিসেবেই মান্য করত। অভি ছিল চালাক পীর, আর বাকিরা ছিল ভেড়ার পাল। ভেড়ার পালের নিজস্ব কোনো চিন্তাভাবনা ছিল না, এখনো নেই, ভবিষ্যতেও হয়তো থাকবে না। পীরবাবা যা কিছু বলত, সেগুলোকেই বাকি সবাই কোনো রকম প্রশ্নবিদ্ধ না করে অন্ধভাবে বিশ্বাস করত। এদিকে অভি'রও কিছু পীর ছিল। অভি তার পীরদের বাণীগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে বিজ্ঞানের মোড়কে প্রচার করত। কাজেই 'মুক্তমনা' আসলে পীর-ভিত্তিক একটি কাল্ট ছাড়া কিছু নয়।

  41. ৪১
    এস. এম. রায়হান

    আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশ' বছর আগের একজন নবীর ১০-১২ জন স্ত্রীর নাম ও বয়স-সহ তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ইসলামিক সোর্স থেকেই অভি-সহ তার মুরিদরা জেনে গেছে। এ নিয়ে তারা দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর ধরে তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ আর ক্যারিকেচার করে আসছে। এমনকি হাজার হাজার বছর আগের অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সেই সব ধর্মের সোর্স থেকেই জানা যায়।

    অথচ এই একবিংশ শতাব্দীর একজন পিএইচডি-ধারী, বিজ্ঞানী(!), অসাম্প্রদায়িক(!), ও প্রগতিশীল(!) ধর্মগুরুর প্রথম স্ত্রী সম্পর্কে বিস্তারিত তো দূরে থাক, এমনকি তার নামটা পর্যন্ত মুক্তমনা সোর্স থেকে জানা যায় না! তবে দ্বিতীয় স্ত্রী মুসলিম নামধারী হওয়াতে তাকে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে এক্সপ্লয়িট করা হয়েছে। এমন একজন গোঁড়া ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার কাল্ট গুরুকে যে'সকল খৎনাধারীরা পূজা করছে তাদেরকে সারা অন্তর্জালে উন্মোচন করতে হবে। তার পূজারীদের মধ্যে মুসলিম নামধারী অনেক মেয়েও আছে (মূলত বাম পরিবারের নাস্তিক)। কী অবাক করা কাণ্ড! অভি ছিল একজন 'লাভ জিহাদী' মিশন্যারী। মুসলিম পরিবারের অনেক মেয়ের সাথে তার ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ ছিল, এবং তার সাথে পরিচয় হওয়ার পরই সেই মেয়েরা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু করে। কিন্তু হিন্দু বা বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টান বা ইহুদী পরিবারের মেয়েদের সাথে তার কোনো রকম যোগাযোগের কথা জানা যায় না। মুক্তমনা ব্লগে লেখিকাদের নামের লিস্ট দেখলেও যেকেউ ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন।

  42. ৪২
    এম_আহমদ

    আজ একটি ব্লগ পড়িয়া আমার মনে একখানা প্রশ্ন জাগিয়াছে। আমার মধ্যে যেহেতু জ্ঞানের অনেক কমতি রহিয়াছে তাই ভাবিলাম আমাকে হয়ত কেহ সেই প্রশ্নের উত্তর সমূলে বুঝাইয়া দিতে পারিবেন। প্রশ্নটি হইল, ‘এপর্যন্ত আধুনিক বিজ্ঞানে কি এমন কোনো যন্ত্র আবিষ্কার হইয়াছে যাহার মাধ্যমে কাহারও নিম্নাঙ্গের কেশের পরিমাণের সাথে অপরের জ্ঞানের পরিমাণ মাপা যাইতে পারে?’ এই প্রশ্নটি কেউ যেন তাচ্ছিল্যভরে উড়াইয়া না দেন, কেননা, হাজার বছরের ক্ষণজন্মা, একবিংশ শতকের রেনেসাঁ, বাংলার সক্রেটিস, বাংলার গ্যালিলিও … আধুনিক-প্রগতিশীল চিন্তার ধারক-বাহক-গবেষক ও বিশ্লেষক, যুক্তিবাদী, গবেষক, বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানমনষ্ক, উদার-বিজ্ঞানমনষ্ক ব্যক্তির নিজ হাতে গড়া কোনো এক শিষ্যের কথা হইতে তাহা প্রতিভাত হইয়াছে।

    1. ৪২.১
      এস. এম. রায়হান

      ঐ শিষ্য সম্ভবত তার প্রয়াত গুরুজীর নিম্নাঙ্গের কেশ নিয়ে গোভেষণা করছে! তার গোভেষণালন্ধ ফলাফল বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশ করার দাবি জানাচ্ছি।

    2. ৪২.২
      শাহবাজ নজরুল

      কিঞ্চিত কৌতুহল, রোমাঞ্চ ও বিস্ময়ের সংমিশ্রিত অনুভুতি হইতেছে। ঘটনা কি একটু খুলিয়া বলিবেন কি?

      1. ৪২.২.১
        এম_আহমদ

        ভাই কী আর বলব? মসনবীতে রূমী বলেন, “ঈঁ না দারাদ আখেরায আগায গো/রাও তামামে ঈঁ হেকায়েত বায গো।” অর্থাৎ এই কাহিনীর তো কোনো শেষ নাই/ চল, ঐ কাহিনীটিরই অপর অংশ আবার শুনিয়ে দাও।

        অভিজিৎকে কে মেরেছে সে বিষয়ে এখনো কোনো কূলকিনারা হয় নি। কিন্তু একটি মহলে মুসলিম বিদ্বেষ, জঙ্গিবাদ, স্কিটসোফ্রেনিয়া, মুসলিম প্রেজুডিস, বাতাসে কিল ঘুষি আর আস্ফালন ইত্যাদি দেদারসে প্রকাশ পাচ্ছে। কোথাও  ট্রাজেডি কমেডিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। কোনো কোনো কথা যেন একান্ত হেমায়েতপুরী। তবে সর্বত্র রবী ঠাকুরের দীপের ‘আলো’ মুক্তমনে ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করছে! অন্ধকারের যাত্রীদের গান হচ্ছে, ‘আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী।’ আর মৃত্যুতে গাওয়া হচ্ছে, ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।’ কার মুখে কার গান শোভা পায়, সেটা আজকাল বুঝা মুস্কিল।

        আপনি নিশ্চয় জানেন, ফ্রেড্রিক নীচশ্যা বিশ্বাস হারিয়ে এক সময় মানসিক সুস্থতা হারিয়েছিলেন। যাদের মন অধিক ‘মুক্ত’ হয়ে পথ হারিয়েছেন, তাদের অনেকের মানসিক সুস্থতাই হয়ত বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সম্প্রদায়ের কেউ কেউ তাদের দেহের নিম্নাংশের কেশে জ্ঞান অনুভব করতে শুরু করেছেন! আমি তো জীব-বিজ্ঞানের ছাত্র নই, না হলে একটু খোঁজ খবর নিয়ে দেখতাম মানব দেহে বিবর্তনের কিছু ঘটে গেল কিনা। কেউ কেউ হাজার খানেক জীবনী পুস্তক পড়ে অভিজিৎ রায়কে বড় বড় র‍্যাডিকাল থিংকার, ফিলোসফার, সমাজ সংস্কারক, বিজ্ঞানী,  লেখকের সাথে তুলনা করে মুক্তমনে ছবি আঁকছেন। কীযে ঘটনা! হাজার খানেক বইপুস্তক পড়তে যে কী পরিমাণ সময় লাগে সেকথা আঁধারের যাত্রীরা বুঝার কি কোনো উপায় আছে?  

        এপর্যন্ত নাস্তিকতা ও alienation এর উপর বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির বিশ্বাস ও আদর্শ যদি সমাজের মূল প্রথা ও সামাজিকতার সাথে অঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে তবে কখনো কখনো বিচ্যুৎ বিশ্বাসীর মানসিক সমস্যার ব্যাপার হতে পারে। নাস্তিকতার সাথে আত্মহত্যার সম্পর্ক নিয়েও কিছু গবেষণা হয়েছে এবং নাস্তিকদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে [লিঙ্ক]। তবে, মানুষ হিসেবে, যার মধ্যেই অশান্তি, স্কিচসোফ্রেনিয়া, রোগ-শোক, (schizophrenia) দেখা দেয়,  তার জন্য কার মন সদয় না হয়? আমারও হয়।

    3. ৪২.৩
      তাজুল ইসলাম

      Ahmed vai, tach-chillo koritesi na, tobe hashi thamaite partesi na. Rourab/Saiful marka type dialogue.

      1. ৪২.৩.১
        এম_আহমদ

        হাসতে থাকুন আর পড়তে থাকুন।
         

  43. ৪৩
    এস. এম. রায়হান

    মুক্তমনা ব্লগে অভি'র প্রফাইলে লিখা আছে-

    লেখক এবং প্রকৌশলী। মুক্তমনার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। আগ্রহ বিজ্ঞান এবং দর্শন বিষয়ে।

    এটা কিন্তু অভি নিজে লিখেছে। যে লোক দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর ধরে মূলত ধর্ম (মূলত ইসলাম) নিয়ে লেখালেখি করেছে, তার আগ্রহ নাকি বিজ্ঞান এবং দর্শন বিষয়ে! এগুলো নিঃসন্দেহে প্রতারণা।

  44. ৪৪
    Md Sahensah

    Jazakallahu khayran.

    Eto sundor vabe bishoy ti upostha pon korar jonno.

  45. ৪৫
    আলইমরান

    অনেক দিন হয় এত লম্বা সময় নিয়ে ব্লগ পড়িনা। আজকে অনেকদিন পর পড়লাম। শুভকামনা রইল ভাই। 

  46. ৪৬
    পাভেল আহমেদ

    নজরুল ভাই, অভিজিৎ যদি জানতো যে সদালাপে তার এত বড় একজন ফলোয়ার আছে তাহলে হয়তো খুশীর চোটে হার্ট এটাক করতো। :3

    তার অন্যান্য ফলোয়ারেরা অবশ্য আপনার উপরে একটু নাখোশ হতে পারে! 😛

    আপনি যে পরিমান ব্যাকগ্রাউন্ড রিসার্চ করেছেন অভিজিৎ রায়ের উপরে এবং সেগুলোকে আবার গুছিয়ে এত সুন্দর করে সকলের সামনে উপস্থিত করেছেন তা রীতিমতো বিস্ময়কর! :O

    আপনাকে আমার পক্ষ থেকে পাভেল প্রাইজ দেওয়া হল!! 😀

    আমাদের সামনে আসল সত্য উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!!! :)

     

    1. ৪৬.১
      Rasel

      পাভেল প্রাইজ!!

  47. ৪৭
    এস. এম. রায়হান

    অভিজিতের বুয়েটে শিক্ষকতা নিয়ে আপনার দাবিটাই শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হলো, যদিও এটা গোপন কিছু ছিল না। এ প্রসঙ্গে অভিজিতের ছোট ভাই অনুজিৎ রায়ের একটি লেখায় বলা হয়েছে-

    আমার এখনো মনে আছে, বুয়েটে অনার্সে তিনি ফার্স্ট ক্লাস সেভেনথ হয়েছিলেন। শিক্ষকতা পেশার প্রতি তত আগ্রহী না হলেও তিনি বুয়েটের লেকচারার পদে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ভাইভায় তার ফলাফল সবচেয়ে ভালো হয়েছে। তাঁর নিয়োগ প্রায় নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে লেকচারার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বুয়েটের একজন শিক্ষকের সাথে পূর্বের কোন একদিনের মতবিরোধের জের ধরে তাকে সে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমি পরে বিষয়টা জানতে পারি। একবার বুয়েটের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু ছেলেদের জন্য কোন শিক্ষকের যাওয়ার প্রয়োজন না পড়লেও মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য একজন শিক্ষক পাঠানোর প্রসঙ্গ উঠেছিল। এই লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনের দ্বিমুখী নীতি সবাই মেনে নিলেও তিনি তা মেনে নেননি এবং প্রতিবাদ করতেও কুণ্ঠিত হন নি। কিন্তু এটিই সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের Prestige Issue হয়ে দাঁড়ালো। সম্ভবত সে কারণে ভাইভা বোর্ডে ঐ শিক্ষক উপস্থিত থাকাতে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মা তাঁকে ঐ শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও তিনি তার কর্ণপাত করেন নি। তিনি বলতেন, অন্যায় মেনে নিয়ে তিনি এ চাকরি করতে পারবেন না।

    অনুজিতের বাকি সব দাবিকে এক পাশে রেখে তার বক্তব্য থেকে যে সত্যটা বেরিয়ে এসেছে সেটি হচ্ছে অভিজিৎ কখনো বুয়েটের শিক্ষক ছিল না। অনুজিতের লেখায় আরেকটি সত্য প্রকাশ পেয়েছে-

    বাবা প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আমার ভাইয়ের লাশ শ্মশানে দেওয়া হবে। কিন্তু আমি তাতে বাদ সাধলাম। কারণ আমি ছোটবেলা থেকেই তাঁকে দেখছি, তিনি স্বঘোষিত নাস্তিক। সমস্ত ধর্মীয় আচারঅনুষ্ঠানের তিনি বিপক্ষে।

    অভিজিৎ সম্পর্কে আদ্যপান্ত জেনেশুনেও ড. অজয় রায় তার ছেলের লাশকে সনাতন ধর্মের প্রথা অনুযায়ী শ্মশানে পোড়াতে চেয়েছিলেন! অথচ 'মুক্তমনা' ধর্মের মুরিদরা ড. অজয় রায়কে তাদের দেবতুল্য স্প্রিচুয়াল গুরু হিসেবে অসীম ভক্তিশ্রদ্ধা করে। মনাদের ঈশ্বরের বাবা বলে কথা!

    দু'দিন আগে পরে হলেও সত্য কোনো-না-কোনোভাবে প্রকাশ পায়-ই। তবে অনুজিৎ রায়ের লেখায় সম্ভবত ইচ্ছে করেই একটি সত্য গোপন করা হয়েছে; সেটি হচ্ছে অভিজিতের প্রথম বিয়ে এবং তার স্ত্রীর 'আকস্মিক' মৃত্যুর ঘটনা। শুধুমাত্র এই সত্যটা প্রকাশ করা হলেই 'মুক্তমনা' ধর্মের সলীল সমাধি ঘটবে।

    1. ৪৭.১
      এম_আহমদ

      তারপর … [Texts in square brackets are mine]

      ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন খুবই চঞ্চল, আবেগী ও অস্থির প্রকৃতির … মাঝে মাঝে সামান্য বিষয়েও রেগে যেতেন, কিন্তু তা মিলিয়ে যেতে কয়েক মুহুর্তও লাগত না। … ছোটবেলা থেকেই তিনি অগোছালো প্রকৃতির, বহির্মুখী, বেপরোয়া, আড্ডাবাজ প্রকৃতির” [এগুলোর বিকাশই দেখা যেতে পারে তার চিন্তায়]।

      … হুমায়ূন আজাদ, প্রবীর ঘোষ, তসলিমা নাসরিন, আরজ আলী মাতুব্বরের বইয়ের তিনি খুব একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন … [সম্ভবত চেপটা জগতের ধারনা ও যুক্তিসহ অনেক কিছু আরজ আলী থেকে প্রাপ্ত]।

      … [অভিজিত] অত্যন্ত অবাধ্য ও বিদ্রোহী মনোভাবের ছিলেন। তাই বলে তিনি অসামাজিক ছিলেন, তা নয়। … ছাত্র জীবনেই তার সৃষ্টিকর্তার প্রতি অবিশ্বাস শুরু হয় [এটাই চঞ্চল, আবেগী, অস্থির, অগোছালো চরিত্রের প্রথম অধ্যায় আর এর সাথে যদি উচ্চাভিলাষ সংযুক্ত হয় -তাহলে?]।

      তিনি ছোটবেলা থেকেই অনেক উচ্চাভিলাষী ছিলেন ও অর্থনৈতিক জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ছিল [সস্তা ইসলাম বিদ্বেষের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া, মুরিদান তৈরি, বই বিক্রি,  ইত্যাদি এক্ষেত্রে কাজ করে থাকতে পারে।]।

      এই চরিত্রগুলো অভিজিতের ব্যাপারে অনেক সত্য বলে যায়।

    2. ৪৭.২
      এস. এম. রায়হান

      উপরের মন্তব্যটা প্রকাশ হওয়ার পর সম্ভবত তড়িঘড়ি করে অভিজিতের নামে ইংরেজী উইকি পেজে উল্লেখিত তার বুয়েটে শিক্ষকতা করার অংশটা মুছে ফেলা হয়েছে! 😀

      দেখুন- https://en.wikipedia.org/wiki/Avijit_Roy

      যদিও বাংলা উইকি পেজে সেই দাবি এখনো রয়েই গেছে-

      https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A7%8E_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC 

      তবে অভিজিতের প্রথম স্ত্রীর নাম এখনো কোথাও যুক্ত করা হয়নি!!! পূজারীদের কাছেও অভি'র প্রথম স্ত্রী 'অচ্ছুৎ' হয়ে গেল কি-না, কে জানে!

    3. ৪৭.৩
      শাহবাজ নজরুল

      হ্যাঁ, অনুজিতের লেখাটিতে সত্য প্রকাশ পেয়েছে। মানে এর আগে তাদের পিতা অজয় রায়ের নিজের উল্লেখ করা অভিজিতের শিক্ষকতার দাবির বিরুদ্ধেই অরিজিতের লেখাটির অবস্থান। এতে আমার নিজের অনুমানটিও – অর্থাৎ, BDNews24 এর লিখে দেয়া বয়ান থেকে হয়তবা অজয় রায় পড়ে গেছেন – আরো শক্ত ভিত্তি পেল। সাথে সাথে এই সত্যটাও প্রতিষ্ঠিত হলো যে – আসল সত্য জানার পরেও প্রকাশ না করে একটা মিথ বানানোর প্রসেস চলছিল ভেতর ভেতর। যাইহোক, অনেক পরে হলেও সত্য কথাটি প্রকাশিত করার সৎ-সাহস দেখানোর জন্যে অনুজিৎকে ধন্যবাদ। 

      তবে অনুজিতের লেখার মধ্যে একটা প্রচ্ছন্ন ডিফেন্সের ছাপ আছে তাদের জন্যে – যারা আগে দাবি করেছিল যে, সে বুয়েটের শিক্ষক ছিল। লেখাটিতে বলা হয়েছে অভিজিৎ আসলে বুয়েটের শিক্ষকতা পেয়েই গিয়েছিল – কেবলমাত্র জনৈক শিক্ষকের জন্যে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এভাবে লিখাতে সে হয়ত অভিকে শিক্ষক দাবিকারী (নিজের বাবা-সহ) লোকদের কিছুটা বেইল দিতে চেয়েছেন। 

      অন্যদিকে বিস্তৃত এই লেখাটিতে অভিজিতের প্রথম স্ত্রীর কথা একেবারেই অনুপস্থিত। রায়হান ভাইয়ের কথাটাই তাহলে মনে হচ্ছে ঠিক – অর্থাৎ, "শুধুমাত্র এই সত্যটা প্রকাশ করা হলেই 'মুক্তমনা' ধর্মের সলীল সমাধি ঘটবে।"

      এখানে আরো কিছু কথার ব্যবচ্ছেদ করা যেতে পারে – যেমন অনুজিৎ বলেছেন –

      ২০০১ সালের সম্ভবত অক্টোবরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে রাফিদা আহমেদ বন্যার সাথে তার পরিচয় হয় এবং তিনি রাফিদা আহম্মেদ বন্যার পারিবারিক ও পেশাগত পরিচয় জানতে পারেন এবং এও জানতে পারেন, রাফিদা আহমেদ বন্যা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নাগরিক। এরপর মাঝে মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের মধ্যে সাক্ষাত ঘটে এবং তাঁদের সম্পর্ক গভীর হতে গভীরতর হয়। পি.এইচ.ডি. কমপ্লিট করার পর তিনি সিঙ্গাপুরে কোন সফটওয়্যার কোম্পানীতে তাঁর চাকরী হয়। যাই হোক, সম্ভবত ২০০৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৭ সালের নভেম্বরে অভিজিৎ রায় ও রাফিদা আহমেদ বন্যা সামাজিক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

      ১. অভিজিতের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু কি ২০০১ সালের আগে ঘটে? আর যদি পরে ঘটে থাকে তবে ২০০১ সাল থেকে বন্যার সাথে অভির ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি প্রথম স্ত্রীর আত্মহত্যার জন্যে কোনভাবে দায়ী কি-না?

      ২. ২০০৭ সালে কিভাবে অকস্মাৎ অভি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়ে যান তা পরিষ্কার হলনা। এক্ষেত্রে দু'টো সম্ভবনার কথা ভেবে দেখা যেতে পারে। এক, অভি হয়ত আসলে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড বা স্থায়ী অভিবাসনের কাগজ পান (গ্রিনকার্ড পাওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া নয় – এটা কেবল স্থায়ী অভিবাসনের অনুমতিপত্র) – কিন্তু অনুজিৎ হয়ত ভুল করে তাকেই "যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন" বলে উল্লেখ করেছেন। 

      ৩. তাহলে ২০০৭ সালে মার্কিন গ্রিনকার্ড পাবার সম্ভবনা কেবল দু'রকমের হতে পারে – এক. লটারি ডিভি ভিসা নয়ত, বন্যার স্পন্সরে স্বামীর গ্রিনকার্ড লাভ। সেক্ষেত্রে কথা থেকে যায় যে হয়ত তারা ২০০৭ সালের আগেই গোপনে বিয়ে করে ফেলেছিলেন – যার কাগজপত্র হয়ত ২০০৭ সালের গ্রিনকার্ড পাবার জন্যে কাজে লেগেছিল। 

      তবে কথা হচ্ছে লুকোচুরি এখনো শেষ হলনা – এখনো স্পষ্ট করে জানা গেলনা –

      ১. অভিজিতের প্রথম স্ত্রীর কথা;

      ২. তিনি কেন আত্মহত্যা করেছিলেন সেই কারণ;

      ৩. অভিজিৎ কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেলেন সে'কথা;

      ৪. অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রে ঠিক কোন্‌ ফার্মে কাজ করতেন সে'কথা।

      1. ৪৭.৩.১
        এস. এম. রায়হান

        এতে আমার নিজের অনুমানটিও – অর্থাৎ, BDNews24 এর লিখে দেয়া বয়ান থেকে হয়তবা অজয় রায় পড়ে গেছেন – আরো শক্ত ভিত্তি পেল।

        ড. অজয় রায় কারো লিখে দেয়া বয়ান থেকে পড়েছেন নাকি নিজেই বলেছেন, এ ব্যাপারে আমরা কিন্তু নিশ্চিত না। তাছাড়া উনি তো আর বাচ্চা ছেলেও না। কাজেই অনুমান না করে উনি যেহেতু নিজের মুখেই এই দাবি করেছেন সেহেতু এটাকে উনার দাবি হিসেবেই ধরে নিতে হবে। আমরা হয়তো উদারতা দেখিয়ে উনাকে বেনিফিট-অব-ডাউট দিচ্ছি। কিন্তু আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, উনি অভির একজন সাইডকিক ছিলেন এবং প্রথম থেকেই ছেলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কার্ডিওলজি জার্নালের বিরুদ্ধে অভির ক্যাম্পেনকে উনি কীভাবে সমর্থন করেছিলেন, তা মনে আছে নিশ্চয়। তাছাড়াও উনি একজন সাম্প্রদায়িক মানসিকতার লোক। উনার লেখাগুলো না পড়ে থাকলে একটু সময় নিয়ে পড়তে পারেন।

        অভিজিতের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু কি ২০০১ সালের আগে ঘটে? আর যদি পরে ঘটে থাকে তবে ২০০১ সাল থেকে বন্যার সাথে অভির ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি প্রথম স্ত্রীর আত্মহত্যার জন্যে কোনভাবে দায়ী কি-না?

        হতে পারে ২০০১ সালেই, হতে পারে কিছু আগে, কিংবা কিছু পরে। তবে ২০০১-এর পরে ঘটার সম্ভাবনাই বেশি। এ ব্যাপারে সরোয়ার সঠিক তথ্য দিতে পারবে, যেহেতু সেই সময় সরোয়ারও NUS-এ ছিল।

        ২০০৭ সালে কিভাবে অকস্মাৎ অভি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়ে যান তা পরিষ্কার হলনা।

        যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্তগুলো আমার জানা নেই। নিদেনপক্ষে কয়েক বছর সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করতে হয় নিশ্চয়। এ ব্যাপারে আপনি ভালো বলতে পারবেন।

      2. ৪৭.৩.২
        এম_আহমদ

        যতই পড়িতেছি ততই যেন সন্দেহ বাড়িয়া যাইতেছে। এক ব্যক্তি উচ্চাভিলাষী, আবেগী, অস্থির, চঞ্চল প্রকৃতির, সৃষ্টিকর্তায় ও পরকালে অবিশ্বাসী, বেপরোয়া স্বভাবের  তাহার স্ত্রী আত্মহত্যা করিয়া মরিল। আত্মহত্যা অস্বাভাবিক বিষয়।  স্ত্রীর এমন কোন পরম দুঃখ হইল অথবা সে এমন কোন জটিল পরিস্থিতিতে উপনীত হইল যে অবস্থা সে সহ্য করিতে না পারিয়া নিজ প্রাণ নিজ হাতেই কাড়িয়া লইতে বাধ্য হইল, এমন বিষয় যে কাউকেই বিস্মিত করিবে।  তাহার পর, এই ঘটনার নিকটবর্তী অথবা মধ্যবর্তী সময়ে স্বামীকে যদি আরেকখানা প্রেমে জড়িত পাওয়া যায় যেখানে আমেরিকায় যাইয়া ‘সুপ্রতিষ্ঠিত’ হইবার সম্ভাবনা দেখা দেয় সেখানে  বিষয়টি যেন আরেকটু অস্বাভাবিক বলে অনুভূত হয়। এই জগতের অনেক বিষয় উপন্যাসকে হার মানায় বলিয়া গুণীজন বলিয়া থাকেন।

      3. ৪৭.৩.৩
        আখতারুল

        অভিজিৎ রায় তো বেঁচে গেছে। এখন রাফিদা আহমেদ বন্যাকে রিম্যান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অভিজিৎ রায়ের প্রথম স্ত্রীর আত্মহত্যার রহস্য উন্মোচিত হতে পারে।

      4. ৪৭.৩.৪
        বাদল

        ঘটনাটার মধ্যে আরো একটা প্যাঁচ আছে। বন্যার আগে অন্য কারো সাথে বিয়ে হইছিল। বন্যার মেয়েটা বন্যার গর্ভে আগের স্বামীর ঔরসজাত সন্তান।

        তাইলে অভিজিতের আগের স্ত্রীর আত্মহত্যা, বন্যার আগের স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি, এবং অভিজিত্‌ ও বন্যার মধ্যে প্রেমকাহিনী/পরকীয়া একই সূত্রে গাঁথা কি না?

  48. ৪৮
    এম_আহমদ

    আরেকটি কথা হয়ত বলা যায়। কিছু লোক মন্দ প্রকৃতির, তবে তা ভাল করে দেখার বিষয়। মন্দ ব্যক্তি জানবে না যে তার প্রকৃতি ও প্রভাব মন্দ। এমন লোকের ওয়াসওয়াসা সাংঘাতিক খারাপ হতে পারে, কিন্তু ব্যক্তি তা অন্যভাবে জাস্টিফাই করে যেতে পারে। তাদের সংস্পর্শে মানুষের ক্ষতি হতে পারে কিন্তু সবই সেই জাস্টিফিকেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। অভিজিৎ রায়ের সাথে যারা সংস্পর্শশীল হয়েছে, তাদের জীবন ও চিন্তায় কি হয়েছে? তারা কি তাদের নিজ ব্যক্তিতে, তাদের পরিবারে, তাদের সমাজে শান্তির উপকরণ উপহার দিতে পেরেছে? আমি যেন ২০১০ সালেই কারও মন্তব্যে পড়েছি যে মুক্তমনার সাথে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে। ভুল হলে কেউ শুদ্ধ করবেন। তার প্রথম স্ত্রী তো আত্মহত্যা করলই। তার বিজ্ঞানের ভাঁওতাবাজিতে ধর্ম নির্মূলের যুদ্ধের ফল কি? অযথা যুদ্ধ ডেকে উত্তেজনা সৃষ্টি করায় সমাজের কি কোন লাভ হয়? এক ব্যক্তি বিজ্ঞানমনষ্ক হলে সে তার বিজ্ঞানকর্মে মনোনিবেশ করবে, আবিষ্কারক হলে তার গবেষণায় আত্মনিয়োগ করবে। ভাল কাজে কেউ কাউকে বাধা দেয় না। কিন্তু বিজ্ঞানের নামে অপরের ধর্ম নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, অপব্যাখ্যা, বাড়া-বাড়ি, মূর্খতা প্রদর্শন ইত্যাদিতে তার ‘বিজ্ঞানময় উদ্দেশ্য’ লাইনচ্যুত হয়ে যায়। সব ধরণের বাড়াবাড়িতে অনিষ্ট থাকে, ধর্মসহ। বিজ্ঞানের নামে সৃষ্ট ধর্মীয় উন্মাদনায় যারা প্রাণ হারাল, এর কি কোন প্রয়োজন ছিল? আমরা সব মন্দকে তাদের আপন আপন distinction এ দেখছি। হত্যারও বিচার চেয়েছি; সকল বিচারবহির্ভূত হত্যার বিপক্ষ নিয়েছি। বলেছি, বিপর্যয়ে শুধু ব্যক্তি আক্রান্ত হয় না বরং তার পরিবারেও অশান্তি আসে, সমাজেও আসে। এসব বিষয় দুঃখজনক। কোন এক ব্যক্তি যদি বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনের যোগ্যতা রাখে, তবে সে অবিশ্বাসী হলেও তার সেই যোগ্যতার বিকাশ ঘটিয়ে মানবতাকে কিছু একটা উপহার দিতে পারে। কিন্তু তার talent যদি নিষ্ফল অথবা unwanted, unwarranted ধারায় নিয়োজিত হয়ে গিয়ে নিঃশেষ হয়, তবে এটা যেন মানবতারই একটি ক্ষতি। অভিজিৎ কবে থেকে ধর্মযুদ্ধে নামল, সে কি নিজেই এই লাইনে এল, না সংশ্লিষ্টতায়, না কোন প্রভাবে, না এর পিছনে আরও কিছু আছে (এখানে নাস্তিকতা ও মিলিটেন্সি আলাদা অর্থে দেখতে হবে)? এসব নিয়ে এখনও কেউ কিছু লিখেনি। যারা লিখে, তারা কেবল ব্যক্তি-পূজার ভাষায় কথা বলে, নৈর্ব্যক্তিক আলোচনায় যেতে পারে না।

  49. ৪৯
    এস. এম. রায়হান

    অভিজিৎ রায়ের ভ্রাতা অনুজিৎ রায়ের প্রতি একটি প্রশ্ন-

    আপনার লেখাতে যেখানে অভিজিৎ রায়ের শিশুকাল থেকে শুরু করে তার হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত পুংখানুপুঙ্খ আলোচনা এসেছে, অভিজিতের সাথে বন্যা আহমেদের পরিচয় ও বিয়ে-সহ বন্যার ব্যক্তিগত পরিচিতিও এসেছে – সেখানে অভিজিতের প্রথম বিয়ে ও প্রথম স্ত্রীর 'আকস্মিক' মৃত্যুর বিষয়টা ঠিক কী কারণে পুরোপুরি চেপে গেছেন?

  50. ৫০
    এস. এম. রায়হান

    জঙ্গিমনারা আমাদের দীর্ঘদিনের কলমের ভাষা তথা সভ্য ভাষা না বুঝলেও জঙ্গিদের তাৎক্ষণিক 'চাপাতির ভাষা' মনে হয় ঠিকই বুঝেছে!

    প্রমাণ: ২৬-শে ফেব্রুয়ারীর পর থেকে মনাব্লগে দু-এক জন ছুপা ছাড়া ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট-মন্তব্য নাই বললেই চলে!

    1. ৫০.১
      শাহবাজ নজরুল

      শক্তের ভক্ত নরমের যম  …

      1. ৫০.১.১
        এস. এম. রায়হান

        এক্ষেত্রে সঠিক প্রবাদ হবে-

        লাঠির মাথায় ভূত দৌড়ে!

        সোজা আঙ্গুলে ঘি ওঠে না!

        যেমন বুনো ওল তেমন বাঘা তেঁতুল!

        যেমন কুকুর তেমন মুগুর!

  51. ৫১
    এস. এম. রায়হান

    অভিজিৎ রায়ের নাস্তিক পূজারীদের কিছু মজার বচন-

    “যেখানেই থাকো, ভালো থেকো অভিজিৎদা।”

    “আমাদের ক্ষমা করো, অভিজিৎদা।”

    “জন্মদিনে আমার শুভেচ্ছা নেবেন, অভিজিৎদা।”

    তার মানে নাস্তিক্য দৃষ্টিকোণ থেকে কারো মৃত্যুর পরও সে কোথাও-না-কোথাও বেঁচে থাকে! সে ক্ষমাও করতে পারে! এজন্য তার ভালো থাকার জন্য প্রার্থনা করা যায়! তার কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়! এমনকি তার জন্মদিনে শুভেচ্ছাও জানানো যায়! 😀 হায়রে ‘নাস্তিক/মুক্তমনা/বিজ্ঞানমনা’রূপী পেগ্যানমনা! তোরা মানুষ হলি না! অভিশ্বর তোদের মস্তক গোবরে ভর্তি করে নাস্তিকগাধা বানিয়ে গেছে, মানুষ বানিয়ে যায়নি।

  52. ৫২
    এস. এম. রায়হান

    স্বঘোষিত নাস্তিকরাও দেখা যাচ্ছে আত্মা এবং আত্মার শান্তিতে বিশ্বাসী-

    আলী আসমান বর জানুয়ারী ১, ২০১৬ at ২:১৯ অপরাহ্ন – Reply – Link

    রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ড মামলার রায়ে দুজনকে ফাঁসি, একজনকে যাব্জজীবন, অন্য দুইজনকে ১০ বছরের জন্য কারাদন্ড এবংআন্স্রুল্লহ বাংলার প্রধান মুফতি মহম্মদ জসিম উদ্দিনকে ৫ বছ্র কারদন্ড দেওয়া হয়েছে। মুফতি মহম্মদ জসিম উদ্দিনএর প্ররোচনায় এই হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছিল, সুতরাং গুরু পাপে লঘু দণ্ড তাকে দেওয়া হল। একে মানা যায়না। আইনির কোন ফাঁকে সে লঘু দণ্ড পেল, তা খাতিয়ে দেখা উচিত এবং এর জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করা উচিত। তা না হলে রাজীব হায়দারের আত্মা শান্তি পাবেনা। হত্যাকারীরা দেশে আরও হত্যাকাণ্ড করার সাহস পাবে। এই রায় মন্দের ভালো, স্কিছুটা হলেও শাস্থি হয়েছে।

    লে হালুয়া! 😛 😀 😛 অভিজিৎ রায় তো এদেরকে নাস্তিকগাধা বানিয়ে গেছে। এখন এই গাধাগুলারে মানুষ করবে কে!

  53. ৫৩
    এস. এম. রায়হান

    অভিজিৎ রায় লেখালেখি শুরু করার আগে বাংলা অন্তর্জালে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী প্রপাগ্যাণ্ডা বলে কিছু ছিল না। আবার তার প্রয়ানের পর থেকে বাংলা অন্তর্জালে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী প্রপাগ্যাণ্ডায় বেশ ভাটা পড়েছে। থাবা বাবা ওরফে রাজীবের প্রয়ানের পর কিন্তু বাংলা অন্তর্জালে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী প্রপাগ্যাণ্ডা এতটুকুও কমেনি, বরং তার হত্যাকে ইস্যু বানিয়ে অভিজিৎ রায়ের নেতৃত্বে তা অনেকগুন বেড়ে গিয়েছিল।

    সিদ্ধান্ত: অভিজিৎ রায় ছিল বাংলা অন্তর্জালে ইসলামবিদ্বেষের হোতা ও অনুপ্রেরণাদাতা। তার অনুপস্থিতিতে বাংলা অন্তর্জালে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী আড্ডা আর কখনোই সেভাবে জমবে না! অভিজিৎ রায় মনে হচ্ছে তার কোনো যোগ্য উত্তরসূরী রেখে যেতে পারেনি। হোড়াস মোল্লা-কাঠ মোল্লা’দের মতো মস্তিষ্কবিহীন পূজারীদের দিয়ে গরু-ছাগলের ঘাস কাটা ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হবে না!

    1. ৫৩.১
      শাহবাজ নজরুল

      হক কথাই কৈছেন ….

  54. ৫৪
    naqib

    এইবাগে হাচা কথা কওয়া উছিত নাহ।

     

  55. ৫৫
    এস. এম. রায়হান

    সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী অভিজিৎ রায় তার বিগ্যানমনস্ক পূজারীদের কাছে 'যীশু' (খ্রীষ্টানদের অবতার) হয়ে গেছে! খ্রীষ্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী যীশু পুরো মানব জাতীর পাপ স্খলনের দায় কাঁধে নিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। অভিজিতের বিগ্যানমনস্ক পূজারীদের বিশ্বাস অনুযায়ী তাদের অবতার উচ্চশিক্ষিত বাঙালীর পাপ স্খলনের দায় কাঁধে নিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন! এই উচ্চশিক্ষিত বাঙালীর মধ্যে ডঃ জাফর ইকবাল, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, ডঃ জাকির হোসেন, ডাঃ আব্দুন নূর তুষার, ডাঃ পিনাকী ভট্টাচার্য, ও পারভেজ আলমের মতো বুদ্ধিজীবীরাও আছেন।

    তাহলে দেখা যাচ্ছে অভিজিৎ রায়ের বিগ্যানমনস্ক পূজারীরা অবতারবাদ, আত্না, পাপ-পূণ্য, মৃত্যুপরবর্তী জীবন, শহীদ, ইত্যাদিতেও বিশ্বাস করে! ঘুরে-ফিরে যাহাই লাউ, তাহাই কদু! মাঝখানে থেকে একজনের 'মূত্রচিন্তার চর্চা'র ফাঁদে পড়ে কয়েকজনের জীবন ঝড়ে পড়েছে এবং সেই সাথে বাংলাদেশে নাস্তিকদের জন্য নারকীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।