«

»

সেপ্টে. ২৪

বাইবেলে কুরবানীর বর্ণনা ও তার অসামঞ্জস্যতা

বাইবেল অনুসারে ইসহাক (আঃ)-কে কুরবানী দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু ইসলামে পরিষ্কারভাবে ইসমাইল (আঃ)-কে কুরবানী দেয়ার কথা বলা হয়। মেরিনার ভাইয়ের এই পোস্টটিতে তাফসিরসহ কোরানের বিভিন্ন আয়াত ও হাদীস একসাথে করে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, বাইবেল আসমানী কিতাবের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ, গ্রন্থটির মূল/আদি-রূপটি আল্লাহ প্রদত্ত। তবে বাইবেলের অনেক বাণী/ভার্স কালেক্রমে সুবিধাবাদী লোকজন বদলে দিয়েছেন বলে কোরান/হাদীসে উল্লেখ আছে। আর এই কারণেই আল্লাহ সুবহানা-তায়ালা কোরানকে প্রামাণ্য/কর্তৃত্ব-বাহী গ্রন্থ ঘোষণা করে আগের কিতাবগুলোর কর্তৃত্ব লুপ্ত করেছেন। এই লেখাতে আমি দেখাতে চাই যে, বাইবেল অনুসারে যেভাবে হযরত ইসহাক (আঃ)-কে কুরবানী দেয়ার কথা বলা হয়, সেটি সহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক ঘটনাবলী স্ববিরোধী ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

পূর্বকথাঃ

ইব্রাহীম (আঃ) সুমেরীয় উর অঞ্চলে জন্মগ্রহন করেন(বর্তমানে ইরাক)। সেখান থেকে আল্লাহর নির্দেশে কানান দেশের উদ্দেশ্য স্ত্রী সারা, ভ্রাতষ্পুত্র লুত (আঃ) ও আরো অল্প কিছু ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন সহ বের হন। পথিমধ্যে হারান দেশে কিছুকাল থাকার পরে উনি কানান-দেশে(বর্তমানের বৃহত্তর ইস্রাইল-প্যালেস্টাইন) আসেন। কানানে থাকার সময় উনি বারকয়েক মিসরে যান। একবার মিসরের সম্রাট হাজেরাকে (ইংরেজীতে Hagar) সারার সেবাদাসী হিসেবে উপহার দেন। অনেক বাইবেল-তাফসিরে হাজেরাকে সম্রাট আবিমেলকের মেয়ে হিসেবে বলা হয়। যাইহোক, যখন সারার গর্ভে সন্তান আসছিলোনা, তখন সারাই স্ব-উদ্যোগে, ইব্রাহীম (আঃ) এর সাথে হাজেরার বিয়ে দেন ও ইব্রাহীম (আঃ) এর ৮৬ বছর বয়সে ইসমাইল (আঃ) এর জন্ম হয়। আর ১০০ বছর বয়সে সারার গর্ভে ইসহাক (আঃ) এর জন্ম হয়। এইটুকু বিবরণে বাইবেল ও মূল ইসলামী স্রোতের ব্যাখ্যাকারীদের মধ্যে বিবাদ নেই। বিবি হাজেরা ও ইসমাইল(আঃ) কে যে ইব্রাহীম (আঃ) জেরুসালেম থেকে মক্কাতে রেখে আসেন তা নিয়েও তেমন মতভেদ নেই; যদিও বাইবেলে প্রথমে বীরশেবা ও পরে ‘পারান’ দেশে ইসমাইল(আঃ) বড় হন বলে বলা আছে। তথাপি, ইসমাইল (আঃ) যে আরব জাতির অন্যতম আদিপিতা সে নিয়ে কোনো বিবাদ নেই। তাই অনেক মুসলিম বিদ্বান ‘পারান’ দেশকেই মক্কা বলে বলেছেন।

সমস্যার শুরু

কিন্তু মূল সমস্যা শুরু হয় ‘কোরবানী’ দেয়ার উদ্দেশ্য ইব্রাহীম (আঃ) কাকে সাথে নিয়েছিলেন এই বিতর্ক থেকে। বাইবেলে বিষয়টা জেনেসিস ২২.২ তে আছে

Then God said, "Take your son, your only son, Isaac, whom you love, and go to the region of Moriah….” (Gen 22.2)

এই ভার্সেই ২ টা অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রথমত, Your only Son” বা “একমাত্র পুত্র” বলা হচ্ছে কেন? একমাত্র পুত্র বললে তো ইসমাইল (আঃ) এর কথাই বলা হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়; কেননা, ইসহাক (আঃ) যেহেতু ছোট ভাই, তাই সে “একমাত্র পুত্র” হতে পারে না। আর দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে region or Moriah” নিয়ে। Moriah কোথায় অবস্থিত তা নিয়ে বাইবেল বিশারদদের মধ্যে অনেক বিবাদ আছে (দেখুন)। বাইবেলে বর্ণিত অন্যান্য স্থান নিয়ে কিন্তু তেমন বিবাদ নেই। অনেক জায়গার নাম এখনো হুবহু বাইবেলের মতোই আছে; যেমন, হেব্রণ, জেরুসালেম, নাযারেথ, গ্যালিলির সাগর, জর্ডান নদী, বেথেলেহেম, বীরশেবা, নেগেভ … ইত্যাদি। তো আমার প্রশ্ন, বাইবেলের বর্ণিত সব স্থানের নাম নিয়ে বিতর্ক না থাকলেও মোরিয়া-অঞ্চল কোথায়, তা নিয়ে এত বিবাদ কেনো? উত্তর মনে হয় সোজা। বাইবেলে কোনো সময় জেনেসিসের ভার্সটাতে ইসমাইল(আঃ) এর নাম বদলে জোর-পুর্বক ইসহাক(আঃ) এর নাম বসানো হয়েছে। উপরের ভার্সে ইসহাকের(আঃ) বদলে ইসমাইল(আঃ) ও মোরিয়ার বদলে ‘মারওয়া’ [মক্কার সাফা-মারওয়া পাহাড় দুটির একটি] পড়লে ইসলামী বিবরনের সাথে বেশ মিলে যায়। তবে পরিপূর্ণতার স্বার্থে বলে রাখা ভালো, যে, অনেক ইসলামী বিশেষজ্ঞ কোরবানীর স্থান মারওয়া পাহাড় বললেও, অনেকে দ্বিমত করেছেন। দ্বিমতকারীদের মতে কোরবানীর স্থান মীনা কিংবা আরাফাত পাহাড়

ইহুদি/খৃষ্টানদের ‘একমাত্র পুত্রে’র ব্যাখ্যা

ইহুদী/খৃষ্টান-রা জেনেসিস ২২.২ তে ইসহাক(আঃ) কে ‘একমাত্র পুত্র’ কথাটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, যেহেতু ইসমাইল (আঃ) এর জন্ম দাসীর ঘরে সুতরাং ঐশ্বরিক আশীর্বাদ কেবলমাত্র ন্যায়সঙ্গত সন্তান, অর্থাৎ ইসহাক (আঃ) পাবেন। এভাবে অদ্বিতীয়-পুত্র/একমাত্র-পুত্র/only son বলতে নাকি ‘প্রতিজ্ঞার সন্তান’ ইসহাক (আঃ) কেই বোঝায়। নীচের জেনেসিস ২১.৮-১২ উপরের কথার ব্যাখ্যা হিসেবে তারা দিয়ে থাকেন।

8 The child grew and was weaned, and on the day Isaac was weaned Abraham held a great feast. 9 But Sarah saw that the son whom Hagar the Egyptian had borne to Abraham was mocking, 10 and she said to Abraham, "Get rid of that slave woman and her son, for that slave woman's son will never share in the inheritance with my son Isaac."

11 The matter distressed Abraham greatly because it concerned his son. 12 But God said to him, "Do not be so distressed about the boy and your maidservant. Listen to whatever Sarah tells you, because it is through Isaac that your offspring [b] will be reckoned.

অনুবাদে দেখা যাচ্ছে, যখন ইসহাক (আঃ) দুধ ছাড়লেন (ইসলামে দুধ ছাড়ার সময় ২-বছর হলেও তখনকার সময়ের শরিয়ত অনুসারে দুধ ছাড়ার সময় ছিলো ৩-বছর), তখন ইব্রাহীম (আঃ) এক ভোজসভা আয়োজন করলেন। সারাহ সেই অনুষ্ঠানে ইসমাইল (আঃ) কে ভেংচি কাটতে দেখে (খুব সম্ভবত ইসহাক(আঃ) এর উদ্দেশ্যে) রাগান্বিত হন ও ইব্রাহীম (আঃ) কে বলেন, “এই দাসী ও তার ছেলেকে ঘর থেকে বের করে দাও; আর ইসমাইল(আঃ) কখনো ইসহাক (আঃ) এর উত্তরাধিকারের ভাগীদার হবেনা।” যদিও সারার সিদ্ধান্তটা ইব্রাহীম (আঃ) কে ব্যাথিত করে, কেননা ইসমাইল (আঃ) ও তাঁর ছেলে; তথাপি আল্লাহ বলেন, “ব্যাথিত হবেনা ইব্রাহীম; সারা যা বলে শোনো, কেননা ইসহাকের বংশ দিয়েই তোমার পরিচিতি পাবে।”

উপরের ব্যাখ্যার অসামঞ্জস্যতা

প্রথম অসামঞ্জস্যতা – “অন্য দাসীর পুত্ররা ‘প্রতিজ্ঞার সন্তান’-ই থাকলেন”

বনী-ইস্রাইল বলতে হযরত ইয়াকুব(আঃ) (ইয়াকুব(আঃ) এর অপর নাম ‘ইস্রাইল’ তাই তাঁর বংশধর দের বনী-ইস্রাইল বলা হয়) এর ১২ পুত্র ও তাঁদের বংশধরদের বোঝায়। ইহুদীরাও শাস্ত্রগত সংজ্ঞা অনুসারে, এই ১২ গোত্রের একজন না হলে তাকে ‘জাত/জন্মগত’ ইহুদী বলেনা। তাদের বিধাণ অনুসারে, এই ১২ গোত্রের সবাই সমান। বাইবেল অনুযায়ী বনী-ইস্রাইলের ১২ টি গোত্রের ৪ টির সুত্রপাত দাসীর ঘরে। এরা হলেন, ডান(Dan), নাফতালি(Naphtali), গাদ(Gad), আশের(Asher)। ডান ও নাফতালি দাসী ও স্ত্রী বিলহাহ এর সন্তান; আর, গাদ ও আশের অপর দাসী ও স্ত্রী জিলফা’র সন্তান (বিস্তারিত জেনেসিস ২৯-৩০)। পরিষ্কার অসামঞ্জস্যতা এখানে দৃশ্যমান। যে অজুহাতে দাসীর ছেলে বলে, ইসমাইল (আঃ) এর সন্তানের অধিকার কেড়ে নেয়া হলো; সেই একই অভিযোগ কিন্ত বনী ইস্রায়েলের ১২ গোত্রের ৪-টির উপর চাপাতে বাইবেল-বিশারদ/ইহুদী/খৃষ্টাণেরা নারাজ।

দ্বিতীয় অসামঞ্জস্যতা – “আল্লাহ আবার ইসমাইলকে(আঃ) ইব্রাহীমের(আঃ) সন্তান বললেন”

যুক্তর খাতিরে নাহয় ধরে নিলাম যে, বাইবেল বিশারদরা “The only son” এর ব্যাখ্যা যেভাবে দেন, তাই ঠিক; অর্থাৎ, জেনেসিস ২১.১১ এর পরে ইসহাক(আঃ) কে ‘only son’ বলে আল্লাহ ঘোষণা দেন ও ইসমাইল(আঃ) আর বৈধ সন্তান নন। অতএব আশা করা যায়, যে জেনেসিস ২১.১১ এর পর থেকে ইসমাইল (আঃ) কে আর son বা পুত্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হবেনা। কিন্ত বাস্তবতা এই যে, এর পরেও son হিসেবেই ইসমাইল (আঃ) কে আবারো আখ্যায়িত করা হয়েছে। জেনেসিস ২৫.৮-৯ এ ইব্রাহীম(আঃ) এর মৃত্যু ও সমাহিত করার কথা বলা আছে;

8 Then Abraham breathed his last and died at a good old age, an old man and full of years; and he was gathered to his people. 9 His sons Isaac and Ishmael buried him in the cave of Machpelah near Mamre,

অর্থাৎ, যখন ইব্রাহীম (আঃ) মারা যান তখন তাঁর সন্তানেরা (sons) তাঁকে মাখফেলাহে সমাহিত করেন। এখানে পরিষ্কারভাবে sons বলা হয়েছে। সুতরাং, এই ভার্সের আলোকে, ইসমাইল(আঃ) ও ইসহাক(আঃ) দুজনেই ইব্রাহীম(আঃ) এর সন্তান/sons।

আরেকটি আনুষঙ্গিক অসামঞ্জস্যতা

উপরের আলোচিত জেনেসিস ২১.৮-১২ ভার্স, যেখানে ইসমাইল (আঃ) এর ‘সন্তানের অধিকার’ শাস্ত্রীয়ভাবে কেড়ে নেয়া হয় বলে বলা হচ্ছে, তার অব্যবহিত পরের ভার্সগুলোর দিকে এখন আমরা মনোযোগ দেব(জেনেসিস ২২.৮-১৯)। পাঠকরা একটু মনোযোগ দিয়ে নিচের অংশটুকু পড়ুন।

8 The child grew and was weaned, and on the day Isaac was weaned Abraham held a great feast. 9 But Sarah saw that the son whom Hagar the Egyptian had borne to Abraham was mocking, 10 and she said to Abraham, "Get rid of that slave woman and her son, for that slave woman's son will never share in the inheritance with my son Isaac."

11 The matter distressed Abraham greatly because it concerned his son. 12 But God said to him, "Do not be so distressed about the boy and your maidservant. Listen to whatever Sarah tells you, because it is through Isaac that your offspring [a] will be reckoned. 13 I will make the son of the maidservant into a nation also, because he is your offspring."

14 Early the next morning Abraham took some food and a skin of water and gave them to Hagar. He set them on her shoulders and then sent her off with the boy. She went on her way and wandered in the desert of Beersheba.

15 When the water in the skin was gone, she put the boy under one of the bushes. 16 Then she went off and sat down nearby, about a bowshot away, for she thought, "I cannot watch the boy die." And as she sat there nearby, she [a] began to sob.

17 God heard the boy crying, and the angel of God called to Hagar from heaven and said to her, "What is the matter, Hagar? Do not be afraid; God has heard the boy crying as he lies there. 18 Lift the boy up and take him by the hand, for I will make him into a great nation."

19 Then God opened her eyes and she saw a well of water. So she went and filled the skin with water and gave the boy a drink.

এই অংশে কিভাবে ইব্রাহীম(আঃ) তাঁর সন্তান ইসমাইল (আঃ) ও মা হাজেরাকে মক্কাতে (যদিও এখানে বীরশেবা বলা হচ্ছে) রেখে আসেন ও পরে কিভাবে ইসমাইল (আঃ) পিপাসার্ত হয়ে মারা যেতে বসেছিলেন তার কথা বলা হচ্ছে। হাদীসেও ঘটনাটির বর্ণনা আছে। আমরা সবাই কমবেশী ঘটণাটি জানি। যাইহোক, সংক্ষেপে, ইব্রাহীম(আঃ) যখন শিশু ইসমাইল (আঃ) ও মা হাজেরাকে মক্কায় রেখে যান তখন সেখানে কোনো জনবসতি ছিলোনা। রেখে যাওয়া অল্প খাবার আর পানি শেষ হয়ে গেলে দুধের শিশু ইসমাইল (আঃ) [বর্ণনা অনুসারে তখনো ইসমাইল(আঃ) মায়ের দুধ পান করেন; তাই আশা করা যায় উনার বয়স তখন ২ বছরের মত হবে] কাঁদতে আরম্ভ করেন। বিচলিত মা হাজেরা ৭ বার সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ে দৌড়াদৌড়ি করার পরে যখন শিশু ইসমাইল (আঃ) এর কাছে আসেন, তখন দেখতে পান যে, জিব্রাঈল(আঃ) তাঁর ডানা দিয়ে জমজমের কূপ খুঁড়ছেন ও একটু পরেই পানি বেরিয়ে আসে।

উপরের বাইবেলের ভার্সগুলোতেও মোটামুটি একই রকম বর্ণনা আছে। এবং ২১.১৮ নং ভার্স অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে আল্লাহ বলছেন ইসমাইল (আঃ) কে কোলে তুলে নিতে। অসামঞ্জস্যটা এখানেই। খুব ভালোভাবে আমরা এখন ঘটনাক্রম পর্যবেক্ষণ করি। আগেই বলা হয়েছে যে বাইবেল অনুসারে ইসমাইল(আঃ) কে যখন ছোটো ভাই ইসহাক (আঃ) এর দুধ ছাড়ার ভোজসভায় সারা ভেংচি কাটতে দেখেন; তার পরেই সারা ক্ষিপ্ত হয়ে ইসমাইল (আঃ) ও হাজেরাকে বাসা থেকে বের করে দেন। সহজ হিসেব অনুসারে দুধ ছাড়ার সময় ইসহাক (আঃ) এর বয়স ৩ আর ইসমাইল (আঃ) এর বয়স ৩+১৪ = ১৭। তো পিপাসার্ত ১৭ বছরের ইসমাইল (আঃ) কে কিভাবে ২১.১৮ অনুসারে মা হাজেরা কোলে তুলে নিলেন? উল্টো বরং ১৭ বছরের জোয়ান যুবক ইসমাইল (আঃ) তাঁর মাকে কোলে তোলার ক্ষমতা রাখার কথা। মূল রহস্য হলো, কোরবানীর ভার্স থেকে ইসমাইল(আঃ) এর নাম মুছতে গিয়ে সবকিছু গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। হারিয়ে গেছে ঘটনার পরম্পরা। ২ বছরের শিশু ইসমাইল (আঃ) হয়ে গেলেন ১৭ বছরের কোলে ওঠা শিশু। আর খেয়াল করে যেহেতু সব জায়গায় ভার্স/শব্দ বদলানো হয়নি, তাই জেনেসিস ২২.২ এ ‘Your only son’ কিংবা ২৫.৯ ‘sons’ ইত্যাদি সঠিক শব্দাবলী রয়ে গেছে। সর্বোপরি সৃষ্টি হয়েছে অসংলগ্নতা/অসামঞ্জস্যতা। আশাকরি, কোরবানীর ঘটনার বিবরনের বাইবেলের অসামঞ্জস্যতা পাঠকরা বুঝতে পেরেছেন।

উপসংহার

১. বাইবেলের জেনেসিস ২২.২ তে ইসহাক (আঃ) কে কুরবানী দেয়ার কথা বলা থাকেলেও ঐ একই ভার্সে ‘Your only son’ ও ‘region of Moriah’-র উল্লেখ আছে।

২. ইসহাক (আঃ) কে কুরবানী দেয়া হলে ‘Your only son’ এর কোন অর্থ থাকেনা, কেননা ছোট ভাই হওয়াতে ইসহাক(আঃ) একমাত্র সন্তান হতে পারেননা। আর ‘মোরিয়া’ অঞ্চল কোথায় তার পুরো ব্যাখ্যা বাইবেল-বিশেষজ্ঞরা দিতে পারেননি। জেনেসিস ২২.২ তে ইসহাকের জায়গাতে ইসমাইল ও মোরিয়ার জায়গায় মারওয়া (মক্কার সাফা-মারওয়া পর্বত) পড়লে, ইসলামী বিবরণের সাথে বেশ মিলে যায়।

৩. ‘Your only son’ এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইহুদী/খৃষ্টাণ বাইবেল বিশেষজ্ঞরা দাসীর ঘরে জন্ম বলে ইসমাইল (আঃ) এর ‘সন্তানের অধিকার’ নেই বলে বলেন। কিন্তু একই বিবেচনায় ইহুদীদের ১২ গোত্রের ৪টি দাসীর গোত্রে জন্মালেও তাদের ‘সন্তানের অধিকার’ তারা কেড়ে নেননা; একটা সুস্পস্ট স্ববিরোধী অবস্থান।

৪. যুক্তির খাতিরে যদি ধরেও নেই যে ইসমাইল (আঃ) এর সন্তানের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে ও সে আর ইব্রাহীম (আঃ) এর সন্তান নন, তাহলে জেনেসিস ২১.১১-১২ এর পরে আর ইসমাইল(আঃ) কে সন্তান/son হিসেবে ডাকার কথা না। কিন্তু জেনেসিস ২৫.৯ অনুসারে ইসমাইল(আঃ) কে আবারো সন্তান/son হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

৫. বাইবেল অনুসারে পিপাসায় কাতর যে ইসমাইল (আঃ) কে কোলে তুলে নিতে মা হাজেরাকে আদেশ দেয়া হলো তাঁর বয়স হিসেব করলে দেখা যায় ১৭ বছর। অতএব, একটা তথ্যকে জোর করে ঢোকাতে গিয়ে বাইবেলে সকল ঘটণার পরম্পরা গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। আর কিছু জায়গায় নাম/তথ্য বদলিয়ে ফেললেও অন্য জায়গা/ভার্স থেকে আমরা ঠিকই জোচ্চুরি ধরে ফেলতে পারছি।

২ মন্তব্য

  1. asad

    ossam ………………………………world    lees boss  just  ossam…………….

     

  2. Khalil

    চমৎকার পোস্ট্
    মহান আল্লাহ আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান করুন।

    – মো. খলিলুর রহমান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।